কিছু গল্প লেখা যায় না – ১
——————————– রমিত আজাদ

ইউক্রেণের ইন্না (পর্ব – ধ)

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

জর্জিয়া প্রজাতন্ত্রের রাজধানী তিবিলিসিতে লেখাপড়া করেছিলাম এক বৎসর। আমি যে বৎসর সেখানে গেলাম তার আগের বৎসর (১৯৮৮) সালে একটি ম্যাসাকার হয়েছিলো তিবিলিসিতে। জাতীয়তাবাদী জর্জিয়ানরা একটা প্রতিবাদ সভা করেছিলো। হঠাৎ করেই সেই প্রতিবাদ সভার উপর হামলা চালায় সোভিয়েত মিলিটারি। গুলি করে অনেককেই হত্যা করে। এর ফলে জর্জিয়ান জনগণ ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে, সোভিয়েত মিলিটারি ও কম্যুনিস্ট সরকারের উপর। তাদের এই ঘৃণা ও রোষ আর দূর হয়নি!

১৯৯১ সালের আগস্ট অভ্যুত্থানের পর স্বভাবতই অনুভূত হয়েছিলো যে, নবগঠিত হার্ডলাইনার কম্যুনিস্ট সরকারের প্রতিবাদে জর্জিয়াতে বড় ধরনের ঘটনা ঘটে যেতে পারে। হয়তো সেই নড়াচড়া শুরু হয়ে গিয়েছিলো। তাই ১৯শে আগস্ট দুপুর একটায় জর্জিয়া প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি Zviad Gamsakhurdia (নন-কম্যুনিস্ট) তার দেশের জনগণকে শান্ত থাকার আহবান জানান।

সোভিয়েত ইউনিয়নের বাইরে আমরা যারা ছিলাম, তারা সবাই ভীতির সাথে সাথে টান টান উত্তেজনা অনুভব করছিলাম; কি হয় কি হয়! হঠাৎ জানলাম যে, রুশ রাষ্ট্রপতি বরিস ইয়েলৎসিন সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে হার্ডলাইনার কম্যুনিস্টদের অভ্যুত্থানের বিরোধিতা করেন এবং দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দেন। একটি অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখে আমরা একইসাথে বিস্মিত ও অভিভূত হই; তা হলো, জনাব বরিস ইয়েলৎসিন একটি মিলিটারি ট্যাংকের উপর দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ লিপি পাঠ করেন ও উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। জনাব ইয়েলৎসিন উনার পক্ষ থেকে মস্কো ও লেনিনগ্রাদে পাল্টা জরুরী অবস্থা জারি করেন। এদিকে সারা রাশিয়ার খনিশ্রমিকরা কর্মবিরতি শুরু করে। লিথুনিয়ার রাষ্ট্রপতি Vytautas Landsbergis উনার দেশের জনগণকে সাধ্যমত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বলেন।

অন্যদিকে হার্ডলাইনার কম্যুনিস্ট সরকারের গেকেচেপে (State Committee on the State of Emergency) প্রথমবারের মত প্রেস কনফারেন্স ডাকে। নবগঠিত সরকারের প্রধান গেনাদি ইয়ানয়েভ বলেন যে, জনাব মিখাইল গর্বাচেভ অসুস্থ, এবং তিনি ক্রিমিয়ায় অবস্থান করছেন। তারা বরিস ইয়েলৎসিন-কে উস্কানিমূলক কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকতে বলেন।

একটু পরে দেখা গেলো ট্যাংকের বিরুদ্ধে ট্যাংক। Tamanskaya elite force-এর ট্যাংকগুলো বরিস ইয়েলৎসিন-এর সমর্থনে মস্কো অভিমুখে যাত্রা শুরু করলো। আর মস্কো নগরীতে লক্ষ লক্ষ জনতা রাজপথে বেরিয়ে পড়লো হার্ডলাইনার কম্যুনিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে এবং জনাব মিখাইল গর্বাচভ ও বরিস ইয়েলৎসিন-এর সমর্থনে। বিক্ষুদ্ধ ও প্রতিবাদি জনতা রাশিয়ার পার্লামেন্ট ‘হোয়াইট হাউস’ ঘিরে রেখে গর্বাচভ সমর্থক রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব ও সাংসদদের রক্ষা করতে থাকলো। অল্প সময়ের মধ্যেই দেখা গেলো সারা মস্কো জুড়ে শুধু বিক্ষুদ্ধ ও প্রতিবাদি জনতার ঢল। সকলে একযোগে শ্লোগান দিচ্ছেন, মিখাইল গর্বাচভ-কে তারা ফিরে পেতে চান।

(চলবে)

গল্পের রচনাতারিখ: ০৬ই সেপ্টেম্বর (রবিবার), ২০২২ সাল
রচনাসময়: দুপুর ০২টা ৩৫মিনিট

Some Stories Cannot be Written – 1
————————————– Ramit Azad

পূর্বের পর্বের লিংক:

মন্তব্য করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.