Categories
অনলাইন প্রকাশনা কৌতুক

কিছু হাসির কৌতুক…..

০১. আমার টাকাটা দিয়ে যাবেন

স্বামী-স্ত্রী রতিক্রিয়ার সময়–

স্ত্রীঃ আজ তোমার কেমন লাগছে গো?
স্বামীঃ দারুন লাগছে ডার্লিং… ইচ্ছে করছে তোমার ভিতর চিরদিনের জন্য ডুকে যাই।
বারান্দায় কাজের বুয়াঃ ডুকে যাওয়ার আগে আমার টাকাটা দিয়ে যাবেন।

০২. আমাদের চিন্তা করার কিছু নেই

ক্লাস টু-তে এক পিচ্চি মেয়ে উঠে দাঁড়িয়ে বলছে, ‘টিচার টিচার, আমার আম্মু কি প্রেগন্যান্ট হতে পারবে?’

টিচার বললেন, ‘তোমার আম্মুর বয়স কত সোনা?’

পিচ্চি বললো, ‘চল্লিশ।’

টিচার বললেন, ‘হ্যাঁ, তোমার আম্মু প্রেগন্যান্ট হতে পারবেন।’

পিচ্চি এবার বললো, ‘আমার আপু কি প্রেগন্যান্ট হতে পারবে?’

টিচার বললেন, ‘তোমার আপুর বয়স কত সোনা?’

পিচ্চি বললো, ‘আঠারো।’

টিচার বললেন, ‘হ্যাঁ, তোমার আপু প্রেগন্যান্ট হতে পারবে।’

পিচ্চি এবার বললো, ‘আমি কি প্রেগন্যান্ট হতে পারবো?’

টিচার হেসে বললেন, ‘তোমার বয়স কত সোনা?’

পিচ্চি বললো, ‘আট।’

টিচার বললেন, ‘না সোনা, তুমি প্রেগন্যান্ট হতে পারবে না।’

এ কথা শোনার পর পেছন থেকে ছোট্ট বাবু পিচ্চিকে খোঁচা দিয়ে বললো, ‘শুনলে তো? আমি তো তখনই বলেছি, আমাদের চিন্তা করার কিছু নেই।’

০৩. আমি এখানে কী করি

এক খামার মালিক শখ করে একটা জেব্রা কিনে এনেছে আফ্রিকা থেকে।

এক ভোরে জেব্রাটা বেরিয়ে এলো তার আস্তাবল থেকে। খামারের ভেতরে ঘুরতে লাগলো সে, আর ভাবতে লাগলো, এখানে তার কাজ কী হতে পারে।

প্রথমে তার দেখা হলো একটা মুরগির সাথে। ‘সুপ্রভাত।’ বললো জেব্রা। ‘তুমি এখানে কী করো?’

মুরগি জবাব দিলো, ‘সুপ্রভাত। আমি আমাদের মালিকের খাবারের জন্যে ডিম পাড়ি।’

এরপর তার দেখা হলো একটা গরুর সাথে। ‘সুপ্রভাত।’ বললো জেব্রা। ‘তুমি এখানে কী করো?’

গরু জবাব দিলো, ‘সুপ্রভাত। আমি আমাদের মালিকের খাবারের জন্যে দুধ দিই।’

তার দেখা হলো একটা শুয়োরের সাথে। ‘সুপ্রভাত।’ বললো জেব্রা। ‘তুমি এখানে কী করো?’

শুয়োর ঘোঁতঘোঁত করে জবাব দিলো, ‘সুপ্রভাত। মালিক আমাকে মেরে আমার মাংস খায়।’

জেব্রা কিছুটা ঘাবড়ে গিয়ে সামনে এগোলো।

এবার তার দেখা হলো একটা ষাঁড়ের। ‘সুপ্রভাত।’ বললো জেব্রা। ‘তুমি এখানে কী করো?’

ষাঁড় জেব্রাকে আপাদমস্তক দেখে মুচকি হেসে জবাব দিলো, ‘সুপ্রভাত। তুমি তোমার পাজামাটা খোলো, আমি তোমাকে দেখাচ্ছি আমি এখানে কী করি।’

০৪. জীবনেও বিয়ে করব না

জজ সাহেবঃ যখন এই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হচ্ছিল তখন কি তুমি সেখানে উপস্থিত ছিলে?
সাক্ষীঃ জী হ্যাঁ।
জজ সাহেবঃ তোমার এই ঝগড়া থেকে কি ধারনা হলো?
সাক্ষীঃ হুজুর আমি জীবনেও বিয়ে করব না ।

০৫. আপনার মেয়েকে ভালোবাসি

এক ডেপো ছোকরা একজন কন্যার পিতার কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন স্যার প্রেম জিনিসটা কেমন ?
কন্যার পিতাঃ প্রেম হলো স্বর্গীয় জিনিস, এর স্বাদ যে জীবনে পায়নি তাকে ঘৃনা করি।
ছোকরাঃ আমি আপনার মেয়েকে ভালোবাসি।

০৬. চিঠি লেখা এবং পায়ে ব্যথা

একদিন এক প্রতিবেশী গোপাল ভাঁড়ের কাছে এসে :
‘আমাকে একটা চিঠি লিখে দাও।’
‘আমি চিঠি লিখতে পারবো না, আমার পায়ে ব্যথা।’
প্রতিবেশী আশ্চর্য হয়ে বললো, ‘চিঠি তো লিখবে হাত দিয়ে, পায়ে ব্যথা তাতে কী হয়েছে?’
‘কারণ আমি অতোদূর হেঁটে যেতে পারবো না।’
‘অতোদূর হাঁটতে পারবে না মানে?’
‘মানে আমার লেখা চিঠি আমি ছাড়া আর কেউ পড়তে পারবে না। আমার হাতের লেখা খুব খারাপ তো। যাকে চিঠি পাঠাবে, তাকে তো আমাকেই পড়ে দিয়ে আসতে হবে, তাই না? পায়ে ব্যথা নিয়ে যাবো কিভাবে?’

Categories
অনলাইন প্রকাশনা বিনোদন ভালবাসা/প্রণয়লীলা যৌন জ্ঞান ও সম্পর্ক সৃজনশীল প্রকাশনা

দাম্পত্য জীবন

– সৈয়দ মুজতবা আলী

কথায় কথায় বিবাহিত জীবন নিয়ে আলোচনা। সায়েব বললে, ‘লন্ডনে একবার স্বামীদের এক আড়াই মাইল লম্বা প্রসেশন হয়েছিল, স্ত্রীদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাবার জন্য। প্রসেশনের মাথায় ছিল এক পাঁচ ফুট লম্বা টিঙটিঙে হাড্ডি-সার ছোকরা। হঠাৎ বলা নেই, কওয়া নেই ছ’ফুট লম্বা ইয়া লাশ এক ঔরত্ দুমদুম করে তার দিকে এগিয়ে গিয়ে তার হাত ধরে এক হ্যাঁচকা টান দিয়ে বললে, “তুমি এখানে কেন, তুমি তো আমাকে ডরাও না। চলো বাড়ি।” সুড়সুড় করে ছোকরা চলে গেল সেই খাণ্ডার বউয়ের পিছনে পিছনে।’
আমার চীনা বন্ধুটি আদব-মাফিক মিষ্টি মৌরী হাসি হাসলেন। সায়েব খুশী হয়ে চলে গেল।
গুটিকয়েক শুকনো নিমপাতা টেবিলের ওপর ঝরে পড়ল। বন্ধু তাই দিয়ে টেবিলক্লথের উপর আল্পনা সাজাতে সাজাতে বললেন, ‘কী গল্প! শুনে হাসির চেয়ে কান্না পায় বেশী।’ তারপর চোখ বন্ধ করে বললেন—
‘চীনা গুণী আচার্য সু তাঁর প্রামাণিক শাস্ত্রগ্রন্থে লিখেছেন, একদা চীন দেশের পেপিং শহরে অত্যাচার-জর্জরিত স্বামীরা এক মহতী সভার আহ্বান করেন। সভার উদ্দেশ্য, কি প্রকারে নিপীড়িত স্বামী-কুলকে তাঁদের খাণ্ডার খাণ্ডার গৃহিণীদের হাত থেকে উদ্ধার করা যায়?
‘সভাপতির সম্মানিত আসনে বসানো হল সবচেয়ে জাঁদরেল দাড়িওলা অধ্যাপক মাওলীকে। ঝাড়া ষাটটি বছর তিনি তাঁর দজ্জাল গিন্নীর হাতে অশেষ অত্যাচারে ভুগেছেন সেকথা সকলেরই জানা ছিল।
‘ওজস্বিনী ভাষায় গম্ভীর কণ্ঠে বজ্রনির্ঘোষে বক্তার পর বক্তা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আপন আপন অভিজ্ঞতা বলে যেতে লাগলেন। স্ত্রীলোকের অত্যাচারে দেশ গেল, ঐতিহ্য গেল, ধর্ম গেল, সব গেল, চীন দেশ হটেনটটের মুল্লুকে পরিণত হতে চলল, এর একটা প্রতিকার করতেই হবে। ধন-প্রাণ সর্বস্ব দিয়ে এ অত্যাচার ঠেকাতে হবে। এস ভাই, এক জোট হয়ে—
‘এমন সময় বাড়ির দারোয়ান হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এসে বলল, “হুজুুররা এবার আসুন। আপনাদের গিন্নীরা কি করে এ সভার খবর পেয়ে ঝাঁটা, ছেঁড়া জুতো, ভাঙা ছাতা ইত্যাদি যাবতীয় মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এদিকে ধাওয়া করে আসছে।”
‘যেই না শোনা, আর যাবে কোথায়? জানলা দিয়ে, পেছনের দরজা দিয়ে, এমন কি ছাত ফুটো করে, দেয়াল কানা করে দে ছুট, দে ছুট! তিন সেকেণ্ডে মিটিঙ সাফ—বিলকুল ঠাণ্ডা!
‘কেবলমাত্র সভাপতি বসে আছেন সেই শান্ত গম্ভীর মুখ নিয়ে—তিনি বিন্দুমাত্র বিচলিত হন নি। দারোয়ান তাঁর কাছে ছুটে গিয়ে বারবার প্রণাম করে বলল, “হুজুর যে সাহস দেখাচ্ছেন তাঁর সামনে চেঙ্গিস খানও তসলীম ঠুকতেন, কিন্তু এ তো সাহস নয়, এ হচ্ছে আত্মহৎযার শামিল। গৃহিণীদের প্রসেশনে সক্কলের পয়লা রয়েছেন আপনারই স্ত্রী। এখনো সময় আছে। আমি আপনাকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাচ্ছি।” সভাপতি তবু চুপ। তখন দারোয়ান তাঁকে তুলে ধরতে গিয়ে দেখে তাঁর সর্বাঙ্গ ঠাণ্ডা। হার্ট ফেল করে মারা গিয়েছেন।’
আচার্য উ থামলেন। আমি উচ্ছ্বসিত হয়ে ‘সাধু সাধু’, ‘শাবাশ’, ‘শাবাশ’ বললুম। করতালি দিয়ে নিবেদন করলুম, ‘এ একটা গল্পের মত গল্প বটে।’ আচার্য উ বললেন, ‘এ বিষয়ে ভারতীয় আপ্তবাক্য কি?’
চোখ বন্ধ করে আল্লা রসুকলকে স্মরণ করলুম, পীর দরবেশ গুরু ধর্ম কেউই বাদ পড়লেন না। শেষটায় মৌলা আলীর দয়া হল।
হাত জোড় করে বরজলালের মত ক্ষীণ কণ্ঠে ইমন কল্যাণ ধরলুম।
শ্রীমন্মহারাজ রাজাধিরাজ দেবেন্দ্রবিজয় মুখ কালি করে একদিন বসে আছেন ঘরের অন্ধকার কোণে। খবর পেয়ে প্রধানমন্ত্রী এসে শুধালেন মহারাজের কুশল তো? মহারাজ নড়েন না। মন্ত্রী বিস্তর পীড়াপীড়ি করাতে হঠাৎ খ্যাঁক খ্যাঁক করে উঠলেন, ঐ রাণীটা—ওঃ কি দজ্জাল, কি খাণ্ডার! বাপরে বাপ! দেখলেই আমার বুকের রক্ত হিম হয়ে আসে।’
মন্ত্রীর যেন বুক থেকে হিমালয় নেমে গেল। বললেন, ‘ওঃ! আমি ভাবি আর কিছু। তাতে অতো বিচলিত হচ্ছেন কেন মহারাজ! বউকে তো সবাই ডরায়—আম্মো ডরাই। তাই বলে তো আর কেউ এ রকমধারা গুম হয়ে বসে থাকে না।’
রাজা বললেন, ‘ঐ তুমি ফের আরেকখানা গুল ছাড়লে।’ মন্ত্রী বললেন, ‘আমি প্রমাণ করতে পারি।’ রাজা বললেন, ‘ধর বাজি।’ ‘কত মহারাজ?’ ‘দশ লাখ?’ ‘দশ লাখ।’
পরদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরে ঢোল পেটানোর সঙ্গে সঙ্গে হুকুম জারি হল—বিষ্যুত্বার বেলা পাঁচটায় শহরের তাবত বিবাহিত পুরুষ যেন শহরের দেয়ালের বাইরে জমায়েত হয়; মহারাজ তাদের কাছ থেকে একটি বিষয় জানতে চান।
লোকে লোকারণ্য। মধ্যিখানে মাচাঙ—তার উপরে মহারাজ আর মন্ত্রী। মন্ত্রী চেঁচিয়ে বললেন, ‘মহারাজ জানতে চান তোমরা তোমাদের বউকে ডরাও কি না। তাই তাঁর হয়ে আমি হুকুম দিচ্ছি যারা বউকে ডরাও তারা পাহাড়ের দিকে সরে যাও আর যারা ডরাও না তারা যাও নদীর দিকে।’
যেই না বলা অমনি হুড়মুড় করে, বাঘের সামনে পড়লে গোরুর পালের মতো, কালবৈশাখীর সামনে শুকনো পলাশ পাতার মতো সবাই ধাওয়া করলে পাহাড়ের দিকে, একে অন্যকে পিষে, দলে, থেঁতলে—তিন সেকেণ্ডের ভিতর পাহাড়ের গা ভর্তি।
বউকে না-ডরানোর দিক বিলকুল ফর্সা। না, ভুল বললুম। মাত্র একটি রোগা টিঙটিঙে লোক সেই বিরাট মধ্যিখানে লিকলিক করছে।
রাজা তো অবাক। ব্যাপারটা যে এ-রকম দাঁড়াবে তিনি আর কল্পনাও করতে পারেননি। মন্ত্রীকে বললেন, ‘তুমি বাজি জিতলে। এই নাও দশ লখা হার।’ মন্ত্রী বললেন, ‘দাঁড়ান মহারাজ। ওই যে একটা লোক রয়ে গেছে।’ মন্ত্রী তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকলেন। কাছে এলে বললেন, ‘তুমি যে বড় ওদিকে দাঁড়িয়ে? বউকে ডরাও না বুঝি?’
লোকটা কাঁপতে কাঁপতে কাঁদো কাঁদো হয়ে বললে, “অতশত বুঝি নে, হুজুর। এখানে আসার সময় বউ আমাকে ধমকে দিয়ে বলেছিল, ‘যেদিকে ভিড় সেখানে যেয়ো না।’ তাই আমি ওদিকে যাই নি।”
আচার্য উ আমাকে আলিঙ্গন করে বললেন, ‘ভারতবর্ষেরই জিৎ। তোমার গল্প যেন বাঘিনী বউ। আমার গল্প ভয়ে পালাল।’
তবু আমার মনে সন্দ রয়ে গিয়েছে। রসিক পাঠক, তুমি বলতে পারো কোন গল্পটাকে শিরোপা দি।

সৈয়দ মুজতবা আলী: আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম রম্যরচয়িতা। তাঁর বিখ্যাত রম্যগ্রন্থ পঞ্চতন্ত্র ও ময়ূরকণ্ঠী। এ ছাড়া দেশে বিদেশে, শবনম, চাচা কাহিনীও পাঠকমহলে ব্যাপক জনপ্রিয়। জন্ম-১৯০৪, মৃত্যু-১৯৭৪।

সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, মে ০৩, ২০১০

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

ধমাধম ধর্মে বিজ্ঞানের সন্ধান-রবীন্দ্র যুগ

লিখেছেনঃ আদিল মাহমুদ

ডিসক্লেমারঃ এই পোষ্ট কেবলমাত্র ক্যাঁচালের জন্য নহে, কেবল মাত্র ধমাধম অনুসারীদের জন্য। ধমাধমে পূর্ন বিশ্বাস বিহীন নরাধমরা এইসব আসমানী কথাবার্তার সঠিক মাজেজা বুঝবে না, নানান রকমের ঠাট্টা তামাশা শুরু করতে পারে। এমনকি আগের বাতিল হয়ে যাওয়া অন্য কোন ধর্ম থেকে কপি পেষ্ট করা হচ্ছে এমন শোরগোলও ওঠানোও বিচিত্র কিছু নয়। তাদের জন্য শুধুই করুনা ও মহেশ্বরের (ধমাধম ঈশ্বর) নিকট তাদের আত্মার মুক্তি কামনা (যদিও বিলক্ষন তাদের কোনই আশা নাই)।

অনেকেই হয়ত জানেন না যে শ্রদ্ধেয় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (ধমঃ) আসলে ধমাধম ধর্মের একজন প্রেরিত পুরুষ ছিলেন। এই কারনেই তিনি পরিনত বয়সে জাহেলী যুগের পৌত্তলিকতা ঘৃণা ভরে পরিহার করে একশ্বেরবাদী ব্রাক্ষ্ম্য ধর্ম গ্রহন করেন। এর মোক্ষম প্রমান হিসেবে তার শ্বশ্রুমন্ডিত বদন খানি একবার কল্পনায় আনুন, তাহলেই কথার সত্যতা জলের মতই পরিষ্কার হয়ে যাবে। ইতিহাস বলে যে ;’৭১ সালে খুনে পাক আর্মিদের মত রক্তলোলুপ হায়েনারাও কারো কারো বাড়িতে হত্যার নেশায় প্রবেশ করে দেওয়ালে টাংগানো বুক জোড়া দাঁড়িওয়ালা রবী ঠাকুরের সুন্নী সফেদ চিত্র দেখে শ্রদ্ধাভরে স্যালুট ঠুকে বেরিয়ে গেছে। এসব ঘটনা অলৌকিক ছাড়া আর কি হতে পারে? এ থেকে আমাদের মুক্তিযুদ্ধেও ধমাধম ধর্ম ও কবিগুরুর অপরিসীম অবাদান প্রমানিত হয়। যাই হোক, প্রেরিত পুরুষ হন আর যাইই হন, ধমাধম এর মূলনীতির ব্যাপারে মহেশ্বর অতি কঠোর; অন্য কোন কোন ধর্মের মত নো প্রেরিত পুরুষ বা বাবাজি মাতাজি স্পেশাল। জীবনের এক পর্যায়ে শয়তানের প্ররোচনায় কবিগুরু পথচ্যূত হয়ে ঘরে বালিকা বধু থাকা সত্ত্বেও তাঁর বউদির প্রেমে মশগুল হয়ে পড়ার মত মহাপাপে লিপ্ত হন। এইসব ইটিশ পিটিশ ধমাধমে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, ফলশ্রুতিতে ধমেশ্বরের এক নির্বাহী আদেশবলে তাঁর প্রেরিত পুরুষ ষ্ট্যাটাস বাতিল হয়ে যায়। তবে প্রেরিত পুরুষ ষ্ট্যাটাস বাতিল হলেও তার মাধ্যমে নাজিল হওয়া নানান সামাজিক, বৈজ্ঞানিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক…সোজা কথায় পূর্নাংগ জীবনের চাবিকাঠির নির্দেশনাগুলি (যেগুলি সাদা চোখে কেবল গান, কবিতা বলে মনে হয়) বাতিল হয়নি।


পূর্ন ঈমানী আকিদায় প্রেরিত মহাপুরুষ কবিগুরু।

আমাদের দূর্ভাগ্য যে আজ আমরা আমাদের ধমাধমীয় ঈমান আকিদা থেকে অনেক দূরে সরে গেছি, তাই জাতির আকাশে আজ দূর্যোগের ঘনঘোর অমানিশা। রবীন্দ্র সংগীত কবিতা নিয়ে অনেকেই মাতামাতি করি, তোতা পাখীর মত গেয়ে যাই বা আবৃত্তি করি। রবী ঠাকুরের সাহিত্য আরো গভীরভাবে গবেষনামূলক মনোভাব নিয়ে অধ্যায়ন করলে আজ কোন নরাধমের সাধ্য ছিল আমাদের হেয় করে? জাতিকে আলোর নিশানা দেখাতেই এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।

আসলে শুধু বিজ্ঞানের কথা কি বলব? রবী ঠাকুরের রচনাতে আধুনিক যুগের চলার পূর্ন জীবন বিধানই আছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। গনতন্ত্রের আধুনিক মডেল আমাদের অতি পরিচিত এক গানের মাধ্যমে উনিই প্রথম জগতকে দিয়ে যান; “আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে”। এখানে আধুনিক গনতন্ত্রে সব মানুষের সম অধিকারের ব্যাপারটি অত্যন্ত পরিষ্কার ভাষায় বর্নিত হয়েছে, মনে রাখতে হবে যে এই গান নাজিলের কালে বিশ্বে গনতন্ত্র শিশু পর্যায়ে। তারপরে ধরেন “রাজার হস্তে করে কাংগালের ধন চুরি” এই বাক্যের মাধ্যমে কি চমতকারভাবে তিনি পূঁজিবাদের কুফল সম্পর্কে কত আগেই জাতিকে সতর্ক করে গেছেন। তখন কোথায় ছিল পূজিবাদী আমেরিকার ধনতন্ত্র? আফসোস, এই সকল গান সকলেই গাই, কিন্তু মর্মার্থ চিন্তা করি কয়জনায়? এ ছাড়া যে ক্ষুদ্র ঋণ প্রথা নিয়ে নান্দাইলের ইউনুস মিয়ার আজকের দিনে এত লাফালাফি, রবী ঠাকুরের মাধ্যমেই সেই ক্ষুদ্র ঋণ প্রথা প্রথম নাজিল হয়েছিল বলে আমাদের দেশের সংবাদপত্রে কোন এক রবীন্দ্র পাঠক জানিয়েছেন বলে এক ধমাধম ভাই এর কাছে জানতে পেরেছি। যাক, আমরা আলোচনা আপাতত বিজ্ঞানেই সীমাবদ্ধ রাখি।

রবী ঠাকুর আজীবনই ছিলেন বিজ্ঞান সাধক। তার গবেষনাকর্ম নিয়ে শেষ বয়সে “বিশ্বপরিচয়” নামক একটি বিজ্ঞান গবেষনামূলক গ্রন্থ রচনা করেন যা পাশ্চ্যতের সব বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয় (দয়া করে কেউ চ্যালেঞ্জ দিবেন না, দিলে বিপাকে পড়ে যাব, তখন আসল চেহারা দেখাতে হবে)। ওনার গভীর বিজ্ঞান সাধনার কথা জানতে পেরেই অভিশপ্ত গোত্রভুক্ত ইয়াহুদী বিজ্ঞানী আইনষ্টাইন ওনাকে মিষ্টি কথায় ভুলিয়ে ভালিয়ে ইউরোপে আমন্ত্রন করে নিয়ে যায়। তারপরের করুন ইতিহাস সকলেরই জানা, রবী ঠাকুরের কোয়ান্টাম মেকানিক্স তত্ত্ব সে চুরি করে নিজ নামে চালিয়ে দেয়। জানি, অতীতের বাতিল হওয়া কিছু ধর্মের পেইড এজেন্টদের দৌরাত্মে ও এই জাতীয় হাস্যকত দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে আমার কথায় অনেকেই বিশ্বাস করবেন না। চৌর্যবৃত্তির সমগ্র বিষয়টি আনন্দ পাবলিশার্স হতে প্রকাশিত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বিখ্যাত পদার্থবিদ দীপঙ্কর চট্টোপাধায়ের লেখা ‘রবীন্দনাথ ও বিজ্ঞান’ বইতে বিস্তারিত আছে, ইয়ার্কি নহে। যাক, দূঃখের কথা বাদ দিয়ে কিছু উদাহরন দেই।


চির অভিশপ্ত চোট্টা বিজ্ঞানী আইনষ্টাইন

মহাকাশবিদ্যা ও আমাদের শক্তি সমস্যাঃ

কবিগুরু ধমেশ্বরের কৃপায় মহাকাশবিদ্যায় ছিলেন অসাধারন। নিরেট গবেটেও জানে যে তার অসংখ্য কবিতা গানে নানান ভাবে চাঁদ সূর্য পৃথিবী আকাশ বাতাস এসব বারে বারে এসেছে। কিন্তু ক্যান এসেছে? তার অবশ্যই কারন আছে। আজ বিশ্ব ভুগছে এক ভয়াবহ শক্তি সমস্যায়। ইন্টারমেডিয়েটে আমরা ইসহাক নুরুন্নবীর পদার্থবিদ্যা পড়তাম, সেই ঈমানী কিতাবেও সতর্ক করা ছিল যে “এমন একদিন আসিবে যেদিন কাজ করিবার মত কোন শক্তি পাওয়া যাইবে না”। হায়, এই অমোঘ বানী আজ বুঝি ফলে যায়! তবে ধমাধম বিশ্বাসীদের অন্তত চিন্তিত হবার কোন কারন নাই। স্মরন করুন কবিজীর সেই অতি পরিচিত গান, “চাঁদের হাঁসি বাঁধ ভেঙ্গেছে, উত্থলে পড়ে আলো…”। এই গানে আসলে চাঁদে সঞ্চিত অপরিসীম শক্তির ব্যাপারেই পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে। মানুষ কখন হাঁসে? শক্তি পেলে তবেই না সে হাঁসে। দূর্বল অবস্থায় পাগল ছাড়া বেহুদা কোন ছাগলে হাঁসতে যাবে? এ ছাড়া বাংলা ভাষার আদিমূল সংস্কৃত ভাষার গভীর গ্রামারে গেলে আমরা দেখতে পাই যে হাঁসি আর শক্তি একই ক্রিয়াপদ থেকে উতপত্তি লাভ করেছে। এ ছাড়া আলো যে শক্তির সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত এটা কে না জানে। শক্তি ছাড়া কি আলোর কথা চিন্তা করা সম্ভব? এবার আধুনিক বিজ্ঞানের দিকে তাকাই। আধুনিক বিজ্ঞান অতি সম্প্রতি আবিষ্কার করতে সমর্থ হয়েছে যে নয়াযুগের শক্তির এক অবারিত উতস হতে পারে হিলিয়াম থ্রী গ্যাস যার অসীম ভান্ডার আছে চাঁদে! । এই শক্তির উতস অত্যন্ত শক্তিশালী; বর্তমানে অতি এনার্জি এফিশিয়েন্ট হলেও দাম অত্যাধিক, ১ টনের দাম নাকি ৪ বিলিয়ন ডলার। তবে ধমাধম নির্দেশিত কবিগুরুর গানের কল্যানে আমরা ১০০ বছর আগেই শক্তির এই অনন্য উতসের কথা সন্দেহাতীতভাবেই জানতে পেরেছি। আর এই গ্যাসের আরেক সুবিধে হল যে এর কোন রেডিয়েশন জনিত ভয় নেই। তাই না কবিগুরু আবারো বলে গেছেন, “ও রজনীগন্ধা তোমার গন্ধসূধা ঢালো”। এই লাইনের মাধ্যমে হিলিয়াম থ্রী যে অতি পরিবেশ বান্ধব এই সত্যই বর্নিত হয়েছে।


ধমাধম নির্দেশিত উপায় চুরি করে চাঁদ থেকে হিলিয়াম থ্রী পাচার করার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র।

আফসোস, আমরা হাতে উচ্চ নম্বরের সিঁড়ি পেয়েও ব্যাবহার করতে পারলাম না, আর এইদিকে কাফের নাছারা ইয়াহুদীগন আমাদের আবিষ্কার চুরি করে এখন চাঁদে হানা দিয়ে আমাদের শক্তি লুটে নেবার কুটিল পাঁয়তারা করছে। তারা নাকি চাঁদের দেশে জমি বিক্রিও শুরু করেছে।

এ ছাড়াও শিশুদের মুখে মুখে প্রচলিত “জল পড়ে পাতা নড়ে” এই ছড়ার মাধ্যমে আসলে হাইড্রো পাওয়ার বা জলবিদ্যুতের কথাই বলা হয়েছে। আধুনিক জলবিদ্যুত প্রকল্প এর পর থেকেই শুরু হয়।

মহাকাশের আগন্তুকের সাথে কবিগুরুর মোলাকাতঃ

কবিগুরু মহাকাশ সম্বন্ধীয় গবেষনার এক পর্যায়ে ভীনগ্রহবাসী এলিয়েনদের সাথে যোগাযোগে সমর্থ হন। অবশ্য তারা ভীনগ্রহবাসী এলিয়েন কিনা তা নিয়ে আধুনিক ধমাধম আলেমদের মাঝে কিছুটা মতপার্থক্য আছে। যেমন এরিক ভন দানিকেনের মত কিছু বিখ্যাত আলেম মনে করেন যে রবী ঠাকুর বর্নিত এলিয়েনরা আসলে নিজেরাই গড ধমেশ্বর কিংবা তার প্রতিনিধি (অন্য গ্রন্থে বর্নিত এঞ্জেল বা ফেরেশতা বা দেবদূত/অসূর এসব)। যাক, আবার আলোচিত ধমাধমীয় আয়াতের দিকে তাকাই।

আমি চিনি গো চিনি তোমারে ওগো বিদেশিনী।
তুমি থাক সিন্ধুপারে ওগো বিদেশিনী॥

এখানে বিদেশিনী বলতে ভীনগ্রহবাসীদের কথাই বলা হয়েছে। সিন্ধুপার মানে যে আসলে মহাকাশের ওপার তা আশা করি আমাকেও ব্যাখ্যা করতে হবে না।


তোমায় দেখেছি শারদপ্রাতে, তোমায় দেখেছি মাধবী রাতে,
তোমায় দেখেছি হৃদি-মাঝারে ওগো বিদেশিনী।

এখানে কবিগুরু যে তাদের সাথে দিন রাত সব সময়ই যোগাযোগ রক্ষা করে চলতেন তা বলা হয়েছে।

আমি আকাশে পাতিয়া কান শুনেছি শুনেছি তোমারি গান,
আমি তোমারে সঁপেছি প্রাণ ওগো বিদেশিনী।

এই লাইন দুটি অতি গুরুত্বপূর্ন। এতে নিশ্চিতভাবেই প্রমান হয় যে রবী ঠাকুর আকাশে কান পেতে, মানে ওয়ার্লেস জাতীয় কোন যন্ত্রের মাধ্যমে ভীনগ্রহবাসীদের গান শুনেছেন অর্থাৎ তাদের সাথে খোশগল্প করেছেন। এরপরে আর কোনই সন্দেহ থাকার কথা নয়।

ভুবন ভ্রমিয়া শেষে আমি এসেছি নূতন দেশে,
আমি অতিথি তোমারি দ্বারে ওগো বিদেশিনী॥

এই লাইন দ্বয়ের মাধ্যমে এইই নিশ্চিত ভাবে প্রমান হয় যে কবিগুরু শুধু যোগাযোগ স্থাপনই নয়, সশরীরে নিজেও ভীনগ্রহবাসীদের আমন্ত্রনে অতিথি হয়ে তাদের দেশে পরিভ্রমন করে এসেছিলেন। এমন উদাহরন অবশ্য অতীতেরও কোন কোন প্রাচীন লোকগাঁথা বা ধর্মগ্রন্থে অবশ্য পাওয়া যায়। হতে পারে নুতন দেশ মানে ভীনগ্রহ নয়, হয়ত বেহেশতের কথাই বলা হয়েছে, আর বিদেশিনী মানে মহান মহেশ্বর। তবে মহেশ্বর স্ত্রীলিংগের কিভাবে হতে পারেন তা নিয়ে আরো দীর্ঘ গবেষনার প্রয়োযন আছে। ভাবতেও অবাক লাগে যে চাঁদে মানুষ নামার ৭৫ বছর আগে সেই ১৮৯৫ সালেই কবিগুরু কিভাবে বিজ্ঞানের কোন রকম প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান ছাড়াই এতটা অগ্রসর হতে পারলেন! মানুষ চাঁদে নামলেও এখনও মহাকাশের কোন এলিয়েনের স্বাক্ষাত পায়নি, যোগাযোগ তো বহু পরের কথা। ধমেশ্বরের অলৌকিক মাজেজা ছাড়া এটা কিছুতেই সম্ভব হত না।

তার মহাকাশ যাত্রার আরো নিশ্চিত প্রমান পাওয়া যায় তার জবানীতেই “অনেক কালের যাত্রা আমার” কবিতায়ঃ

অনেক কালের যাত্রা আমার
অনেক দূরের পথে,
প্রথম বাহির হয়েছিলেম
প্রথম-আলোর রথে |
গ্রহে তারায় বেঁকে বেঁকে
পথের চিহ্ন এলেম এঁকে

কত যে লোক-লোকান্তরের
অরণ্যে পর্বতে |

এরপরে নরাধম বা সংশয়বাদীদের কি বলার থাকতে পারে?

রবীন্দ্র জীবনে সংখ্যাতাত্ত্বিক মিরাকলঃ

কবিগুরুর জন্ম ৭ই মে, ১৮৬১, মৃত্যু ৭ ই আগষ্ট, ১৯৪১। ধমেশ্বরের কি অদ্ভূত মাজেজা। জন্ম মৃত্যু দুটিই মাসের সপ্তম দিবসে, যা সব ধর্ম/কালচারেই শুভ সংখ্যা বলে বিবেচিত। প্রেরিত পুরুষ না হলে এমন হওয়া কিছুতেই সম্ভব ছিল না। গীতাঞ্জলী গ্রন্থের জন্য তিনি নোবেল জয় করেন ১৯১৩ সালে। এবার ১৯১৩ এর সংখ্যাগুলি যোগ করুন, যোগফল ১৪! যা ৭ দ্বারা নিঃশেষে বিভাজ্য! ভাগফল হল ২, তারও মাজেজা আছে। কারন আমাদের প্রানী জগতের সকল প্রানীকেই ধমেশ্বর জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন। এরপরে আর সন্দেহ সংশয় কিছু থাকে? শুধু তার জীবনেই নয়, তার রচিত যে কোন কবিতা, গান, ছোট গল্প, উপন্যাসের অক্ষর সংখ্যা গুনে তার সাথে ৭৭৭৭৭৭৭ যোগ দিন, যোগফল থেকে ৭৭৭৭৭৭৭ বিয়োগ দিন, ফলাফলকে ৭৭৭ দ্বারা ভাগ করুন। এবার ভাগফলকে ০ দিয়ে পূরন করুন। দেখবেন প্রতিবারই ফলাফল শূন্যই পাওয়া যাচ্ছে। কারো বিশ্বাস না হলে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। অতীতে বহু অবিশ্বাসী নরাধম আমার কথায় ঈমান না এনে এই পরীক্ষা করতে গিয়ে লজ্জিত হয়ে ধমাধম ধর্ম গ্রহন করেছে।

রবীন্দ্র সাহিত্যে আধুনিক আইটি বিদ্যা ও কম্পিউটর সিকিউরিটিঃ

আজকের দিনে আইটির যে প্রবল উত্থান আমরা দেখতে পাই, তাও রবী ঠাকুরেরই অবদান। আপনারা সকলেই অবগত আছেন যে আইটির কল্যানে মাশাল্লাহ মান্ধাতার আমলের সেই তালাচাবি সহসাই অচল হয়ে যাবে। এই তত্ত্বও আসলে রবী ঠাকুরেরই রচনা থেকে যথারীতি মারিং করা হয়েছে। লক্ষ্য করুন তার সেই অতি পরিচিত গানঃ “ভেংগে মোর ঘরের চাবি নিয়ে যাবি কে আমারে…” । আজকাল ঘরে ঘরেই কম্পিউটর আছে। সে কথাই ঘর শব্দের মাধ্যমে ভবিষ্যতবানী করা হয়েছে। এই গানে ঘরের চাবি শব্দটি আসলে রূপক। ঘরের চাবির মাধ্যমে কম্প্যুটার পাসওয়ার্ডের কথাই বলা হয়েছে। সিকিউরিটি কোড ভাংগতে লাগে পাসওয়ার্ড, সে কথাই ধমাধমীয় আয়াতে রূপকের মাধ্যমে বলা হয়েছে। শোয়াশ বছর আগে কোন মহাবিজ্ঞানী ভাবতে পেরেছিল কম্পিউটর, পাসওয়ার্ড এইসব আধুনিক বিজ্ঞানের অতি সাম্প্রতিক আবিষ্কার?

বলাই বাহুল্য, এতসব মোক্ষম তথ্য প্রমান পেশ করার পরেও যাদের ব্রেনে আইকা আঠা দ্বারা সীল গালা মারা হয়েছে তারা কিছুতেই ঈমান আনবে না। চোখ বন্ধ করে বলতে পারি যে দুই পাতা বিজ্ঞান পড়ে বিজ্ঞানের ঠিকাদারীর দাবীদার ভূয়া নাস্তিক পুরোহিত হোরাস, সাক্ষাত শয়তানের চ্যালা (চেহারাই তার প্রমান) জংগীদেব, স্বঘোষিত পদার্থবিজ্ঞানী বলে দাবীদার চড়ুইমদন; তাদের আরেক শীষ্য মুক্তমনা ধর্মের প্রধান পুরোহিত গণ ধিকৃত অভিজিতের চ্যালা বাতিল মাহমুদ এরা দাঁত বের করে খ্যা খ্যা হাসছে। এদের হাঁসতে দিন। এক সময় এদের অন্ততকাল বেগুনপোড়া হবার দৃশ্য উপভোগ করে আমরা আরো জোরে হাঁসব। এদের ধমেশ্বরই সীল গালা মেরে অন্ধ কালা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী করে দিয়েছেন, আবার তিনি নিজেই তার নিজের পাপেই এদের অন্ততকাল ভোগাবেন। এদের হাসি মশকরায় থেমে গেলে চলবে না। এরা আমাদের ইয়েও ছিড়তে পারবে না, যুগে যুগেই সে অপচেষ্টা এরা করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে সময় পেলে ধমাধমে বিজ্ঞানের আরো অকাট্য তথ্য প্রমান হাজির করা হবে। আপনারাও নিশ্চয়ই এরপর নিজেরাও আরো অনেক মাজেজা একইভাবে বার করতে পারবেন। বিজ্ঞানের দিনে দিনে আরো উন্নতি হবে, সাথে সাথেও নিয়মানুযায়ী আমরাও সেগুলি কপি পেষ্ট করে ধমাধমের নিত্য নুতন নুতন মাজেজা এভাবেই বার করে ফেলব।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা গবেষণামূলক প্রকাশনা চিকিত্সাশাস্ত্র এবং বিজ্ঞান বিজ্ঞান বিনোদন বিবর্তন

মানুষের কোন নিষ্ক্রিয় অঙ্গ নেই

মানুষের কোন নিষ্ক্রিয় অঙ্গ নেই

 

দাবীটি ভ্রান্ত। মনবদেহে অজস্র নিষ্ক্রিয় অঙ্গের (vestigial organ) অস্তিত্ব আছে, যেগুলো একসময় আমাদের পূর্বপুরুষদের কাজে লাগলেও এখন আর লাগে না। এখন এগুলো একান্ত অবান্তর। মানুষের দেহেই এমন শতাধিক বিলুপ্তপ্রায় অঙ্গাদির অস্তিত্ব আছে।

 

১) এপেনডিক্স

ভারমিফর্ম এপেনডিক্স আসলে সিকাম নামক একটি অঙ্গের অবশিষ্টাংশ, যা মূলত তৃণভোজী প্রাণীদের দেহে অবস্থিত থাকে এবং এই অঙ্গে বসবাসকারী ব্যাক্টেরিয়াগুলো উদ্ভিদ কোষের সেলুলোস প্রভৃতি উপাদান পরিপাকে সাহায্য করে। এই অঙ্গ মূলত সেসব মাংসাশী প্রাণীর দেহে পাওয়া যায় যারা একটু হলেও উদ্ভিদ ভক্ষণ করে।মানুষের তৃণভোজী পূর্বপুরুষেরা এই অঙ্গকে উদ্ভিদ হজম করার কাজে ব্যবহার করত। প্রাচীন নরবানর যেমন অস্ট্রালোপিথেকাস রবাস্টাস তৃণ সহ সেলুলোজ জাতীয় খাদ্য প্রচুর পরিমাণে গ্রহণ করত। এখনো শিম্পাঞ্জীরা মাংশাসী নয়। কিন্তু মানুষ খাদ্যাভাস বদল করে লতা পাতার পাশাপাশি একসময় মাংশাসী হয়ে পড়ায় দেহস্থিত এই অংগটি ধীরে ধীরে একসময় অকেজো এবং নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। তাই এখন অ্যাপেন্ডিক্স আমাদের কাজে না লাগলেও রেখে দিয়ে গেছে আমাদের জন্য ‘বিবর্তনের সাক্ষ্য’। এটি এখন আমাদের কোন উপকারে আসে না, বরং, এপেন্ডিক্সের প্রদাহজনিত এপেন্ডিসাইটিস রোগের বড় উস হচ্ছে এই এপেন্ডিক্স। গবেষণায় দেখা গেছে যে, এপেন্ডিক্স নামের প্রত্যঙ্গটি না থাকলে মানুষের কোন সমস্যা হয় না। কিন্তু এপেন্ডিক্স থাকলে সারা জীবনে অন্ততঃ ৭% সম্ভাবনা থেকে যায় এপেন্ডিসাইটিসে আক্রান্ত হবার।

চিত্রঃ অ্যাপেন্ডিক্স দেহের কোনই কাজে লাগে না, বরং বর্তমানে অ্যাপেন্ডিসাইটিস রোগের বড় উসই হল এই অ্যাপেন্ডিক্স।

 

২) পুচ্ছ অস্থি

Coccyx অথবা পুচ্ছ অস্থি হারানো লেজের অবশিষ্টাংশ। প্রত্যেক স্তন্যপারী প্রাণীরই তাদের বেড়ে ওঠার প্রক্রিয়ার কোন না কোন পর্যায়ে এই লেজ ধারণ করে; মানুষের এমব্রায়োজেনেসিসে ১৪ থেকে ২২তম পর্যায়ে ৪ সপ্তাহ ধরে মানবভ্রুণে এই লেজ পরিলক্ষিত হয়। ৩১-৩৫ দিন বয়স্ক মানবভ্রুণে এই লেজ সবচেয়ে সুপ্রত্যক্ষ হয়।  মানবদেহের মেরুদন্ডের একদম নীচে থেকে যাওয়া  এই হাড়টি আমাদের কোন কাজেই আসে না। আমাদের আদি প্রাইমেট পূর্বপুরুষেরা গাছের ডালে ঝুলে ভারসাম্য বজায় রাখার কাজে একে ব্যবহার করত।  মানুষের জন্য এটি এখন আর ভারসাম্য রক্ষা আর চলিষ্ণুতার কাজে ব্যবহৃত হয় না, তবে পেশির সাথে হাড়ের সংযুক্তি স্থাপনের স্থান হওয়ার কারণেই হয়ত এই অস্থিটির আর অধঃপতন ঘটেনি।

পুচ্ছ অস্থি ছাড়াও, লেজবিশিষ্ট মানব শিশু প্রকৃতিতে মাঝে মধ্যেই জন্ম নিতে দেখা যায়। এটা বিবর্তনের কারনেই ঘটে। কারণ, কোন অংগ লুপ্ত হয়ে গেলেও জনপুঞ্জের জীনে ফেনোটাইপ বৈশিষ্ট্য হিসেবে ডিএনএ সেই তথ্য রেখে দেয়। তার পুনঃপ্রকাশ ঘটতে পারে বিরল কিছু ক্ষেত্রে। ব্যপারটিকে বিবর্তনের পরিভাষায় বলে । ১৮৮৪ সাল থেকে চিকিসা সাহিত্যে এরকম তেইশটি ঘটনা প্রতিবেদিত হয়েছে।

চিত্রঃ মানবদেহের মেরুদন্ডের একদম নীচে থেকে যাওয়া  এই হাড়টি আমাদের কোন কাজেই আসে না।

৩) আঁক্কেল দাঁত

আঁক্কেল দাঁত মানুষের পূর্বপুরুষেরা উদ্ভিদ কলা চর্বণে ব্যবহার করত।সাধারণত বলা হয়ে থাকে যে মানুষের পূর্বপুরুষের বহু দন্ত বিশিষ্ট দীর্ঘকায় চোয়াল ছিল, উদ্ভিদ কোষের সেলুলোস হজমের দুর্বলতার জন্য এই বড় বড় চোয়াল খেসারত দিত। মানুষের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তিত হলে প্রাকৃতিক নির্বাচন ছোট চোয়ালকেই নির্বাচিত করেছিল, তবুও এই বাড়তি দাঁতগুলো এখনো বিদ্যমান রয়ে গিয়েছে।

৪) কান নাড়ানোর পেশী

Macaque বানর সহ অনেক বানরের কর্ণপেশী মানুষের থেকে উন্নত, তাই তারা তাদের কান নাড়িয়ে সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে সাবধানতা অবলম্বন করতে পারে। মানুষ, ওরাংওটাং এবং শিম্পাঞ্জীর মত অন্য প্রাইমেটদের কর্ণপেশী যসামান্য উন্নত এবং অকার্যকর।যে পেশী কর্ণের সাথে যুক্ত কিন্তু কান নাড়াতে পারে না, সেই পেশী নিঃসন্দেহে অকার্যকর। মানুষের ক্ষেত্রে কেউ কেউ বিবর্তনীয় ধারাবাহিকতায় বিলুপ্তপ্রায় অঙ্গের প্রমাণ হিসেবে তাদের কান যেকোন দিকে নাড়াতে পারেন। যেমন, বাংলাদেশের কৌতুক শিল্পী রবিউল কান নাড়াতে পারতেন।   এ ছাড়া প্রাইমেটের একটি নতুন বৈশিষ্ট্য বিবর্তিত হয়েছে আর সেটা হল  আণুভূমিক তলে মাথা ঘোরানোর ক্ষমতা।এক কাঠামোর কাজ এভাবেই আরেক কাঠামোর কাছে হস্তান্তরিত হয়।

৫) চোখের নিক্টিটেটিং ঝিল্লি

চোখের ভেতরে এক কোণায় plicasemilunarisনামক একটি পেঁচানো কলা রয়েছে। এটা nictitating     membrane বা “তৃতীয় নেত্রপল্লব” এর অবশিষ্টাংশ যা পাখি, সরিসৃপ ও মস্যের চোখে উপস্থিত রয়েছে।এই ঝিল্লি দৃষ্টিশক্তিকে অক্ষুন্ন রেখেই চোখকে রক্ষা করে ও আর্দ্র করে।এটা স্তন্যপায়ীদের মধ্যে খুবই দুর্লভ, প্রধানত মনোট্রিম এবং মারসুপিয়ালদের মধ্যে পাওয়া যায়। এর সাথে সংযুক্ত পেশিগুলোও অবশিষ্টাংশ। আফ্রিকান ও আদিবাসী অস্ট্রেলিয়ানদের plicasemilunarisঅন্যদের থেকে খানিকটা বড়। শুধুমাত্র  CalabarAngwantibo প্রজাতির প্রাইমেটদের কার্যকরি নিক্টিটেটিং ঝিল্লি রয়েছে।

৬) পুরুষের স্তনবৃন্ত

স্তন এবং স্তনবৃন্ত মূলতঃ দরকার মেয়েদের। পুরুষদের এটা কোন কাজে আসে না। অথচ সকল পুরুষদের দেহে বিবর্তনের সাক্ষ্য হিসবে রয়ে গেছে স্তনবৃন্তের চিহ্ন।

৭) পুরুষদের ইউটেরাস

পুরুষদেহের অভ্যন্তরে সুপ্ত এবং অব্যবহার্য অবস্থায় স্ত্রী-জননতন্ত্রের অস্তিত্ব আছে।

৮) ঘ্রাণসংক্রান্ত

শিকারী প্রাণীদের হাত থেকে পালানো এবং খাদ্য অনুসন্ধানের জন্য ঘ্রাণশক্তি অনেক প্রাণীর কাছে প্রয়োজনীয় হলেও মানুষের জন্য তা তেমন একটা গুরুত্বপূর্ণ না, মানুষকে খুব কম সময়ই শিকারী প্রাণী নিয়ে মাথা ঘামাতে হয়েছে এবং প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ কৃষিকাজের মাধ্যমে খাদ্য আহরণ করে এসেছে। ঘ্রাণের প্রতি সংবেদনশীলতা মানুষ থেকে মানুষে ভিন্ন হয়, যা সাধারণত অবশিষ্টাংশ বৈশিষ্ট্যগুলোর ক্ষেত্রে ঘটে। দক্ষিণ আমেরিকা, আমেরিকান ইন্ডিয়ান এবং আফ্রিকান মানুষদের ঘ্রাণশক্তি অনেক তীব্র, অনেকে অন্ধকারে গায়ের গন্ধ দিয়ে পরিচয় শনাক্ত করতে পারে। ঘ্রাণশক্তিকে অবশ্যই অবশিষ্টাংশ বলা যায় না কারণ এটি মানুষকে বিষাক্ত গ্যাসের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে, তবে এত উন্নত ঘ্রাণশক্তি আসলেই মানুষের দরকার নেই। এখানে লক্ষণীয় যে কোন বৈশিষ্ট্য উপকারী হওয়া সত্ত্বেও তা ধীরে ধীরে মলিন হয়ে যেতে পারে যদি তার সাথে সংস্লিষ্ট জিনগুলোর উপর কোন নির্বাচনী চাপ কাজ না করে।

৯) ব্যবহার সংক্রান্ত : লোমকূপ ফুলে ওঠা কিংবা হিক্কা তোলা

মানুষের মধ্যে কিছু ভেসটিজিয়াল ব্যবহার এবং প্রতিবর্তী ক্রিয়া রয়েছে। শীতে বা ভয়ে আমাদের শরীর কাঁটা দিয়ে ওঠে। তখন আমাদের দেহের লোমকূপ ফুলে ওঠে। আমাদের পূর্বপুরুষেরা তাদের গায়ের কেশর, লোম বা পালক ফুলিয়ে বিপদ থেকে আত্মরক্ষা করার উপায় খুঁজত। এই আলামত বিবর্তনের কারণেই আমাদের মধ্যে রয়ে গেছে।

চাপের মধ্যে থাকলে মানুষের রোম খাড়া হয়ে যায়, যা আসলে একটা অবশিষ্টাংশ প্রতিবর্তী ক্রিয়া। মানুষের রোমশ পূর্বপুরুষ লোম খাড়া করলে তাদেরকে বিকটাকার ও ভয়ংকর দেখাত, এতে করে শিকারী প্রাণীরা সহজেই ভয় পেয়ে যেত। লোম খাড়া করে বাড়তি বায়ুর স্তর আটকে ফেলা যায়, এতে করে দেহকে গরম রাখা যায়। মানুষের শরীরে লোম যেহেতু অনেক কম, তাই ঠান্ডা লাগলে লোম খাড়া হয়ে যাওয়াটাকে অবশিষ্টাংশ বলা যায়।

Palmer grasp reflexকে মানবশিশুদের অবশিষ্টাংশ প্রতিবর্তী ক্রিয়া বলা হয়। মানবশিশু হাতের কাছে যাই পায় তাই ব্যাপক শক্তির সাথে আকড়ে ধরে।১৯৩২ সালের একটি গবেষণা মতে ৩৭% শিশু রড থেকে ঝুলতে পারে, যে কাজটা একজন পূর্ণ  বয়স্ক মানুষের সম্পন্ন করতে বেশ অনুশীলন করা লাগে। এসব শিশুরা কিন্তু তাদের মায়ের শরীর আঁকড়ে ধরতে ব্যর্থ হয়। এই আঁকড়ে ধরার প্রবনতাটা পায়ের মধ্যেও লক্ষিত হয়। শিশুরা যখন বসে থাকে, তাদের পরিগ্রাহী পা প্রাপ্তবয়স্ক শিম্পাঞ্জীদের মত ভেতর দিকে বেঁকানো অবস্থায় থাকে। প্রাচীন পূর্বপুরুষদের গায়ে আঁকড়ে ধরার মত যথেষ্ট লোম ছিল যার কারণে মা শিকারীদের হাত থেকে পালানোর সময় শিশুটি ঠিকই তাকে আঁকড়ে ধরে রাখতে পারত।

শুধু রোমকূপ ফুলে ওঠা কিংবা শিশুদের হাতের রিফ্লেক্সই নয়, বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন আমরা যে খাবার দ্রুত খেতে গিয়ে অনেক সময়ই হিক্কা তুলি সেটাও আসলে আমরা মস জাতীয় পূর্বপুরুষ থেকে বিবর্তিত হয়েছি তার একটি উজ্জ্বল সাক্ষ্য।  সেই ব্যাপারটিই স্পষ্ট করেছেন অধ্যাপক নীল সুবিন তার সায়েন্টিফিক আমেরিকানে লেখা ‘দিস ওল্ড বডি’ (জানুয়ারি, ২০০৯) নামের একটি প্রবন্ধে।

চিত্রঃ দ্রুত খেতে গিয়ে অনেক সময়ই হিক্কা তুলি সেটা আসলে  মস জাতীয় পূর্বপুরুষের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

১০) বিলুপ্তপ্রায় বংশগতীয় ধারা

মানুষের মধ্যে এখনও অনেক অবশিষ্টাংশ আণবিক কাঠামো রয়েছে যা এখন অকার্যকর হলেও অন্য প্রজাতির সাথে সাধারণ উত্তরসূরিতা নির্দেশ করতে পারে। উদাহরণস্বরুপ, L-gulonolactone oxidase জিনটি বেশিরভাগ স্তন্যপায়ীদের  মধ্যে কার্যকর, এটি একটি  এনজাইম উপন্ন করে যা ভিটামিন সিকে সংশ্লেষ করে। মানুষ এবং অন্যসব প্রাইমেটদের মধ্যে একটি পরিব্যক্তি(mutation) এই জিনটিকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। জিনটার অবশিষ্টাংশ মানব জিনোমে “ছদ্মজিন” নামক এক বিলুপ্তপ্রায় বংশগতীয় ধারা (ভেসটিজিয়াল জেনেটিক সিকোয়েন্স)  হিসেবে বিদ্যমান রয়ে গিয়েছে।

উপরে উল্লিখিত অঙ্গগুলোর বাইরেও  মানব দেহে বহু বিলুপ্তপ্রায় অঙ্গের অস্তিত্ব রয়েছে। Robert Wiedersheim ১৮৯৩ সালে মানবদেহে ৮৬টি বিলুপ্তপ্রায় অঙ্গ শনাক্ত করে The Structure of Man: an index to his past history শিরোনামের একটি বই প্রকাশ করেন। বিলুপ্তপ্রায় অঙ্গগুলো বিবর্তনের পক্ষে অত্যন্ত জোরালো সাক্ষ্য।