Categories
অনলাইন প্রকাশনা

ঈদের নামাজ, ঈদ

ঈদের নামাজ, ঈদ
——————————- রমিত আজাদ

ঈদ মোবারক, ঈদ মোবারক, ঈদ মোবারক ঈদ,
হেলাল হাসে নীল আসমানে ভাঙলো তাহার নিদ।
শেষ হলো আজ সিয়াম-রোজা, কালকে হবে ঈদ,
সেই খুশীতে বান ডেকেছে, বেহেশতী উম্মিদ!

যাকাত আদায় করে উম্মত ফিৎরা দিতে যায়,
ফরজ-নফল আদায় করে মুমিন হতে চায়।
কদম কদম মোস্তাকিমের অনুসরণ করে,
মক্কা হতে মদিনাতে মনটা তাহার ওড়ে!

ঈদগাহে আজ মুসল্লীদের বিশাল সমাবেশ!
তাকবির ওঠে সব ছাপিয়ে, বেশ কাঁপিয়ে দেশ।
বান্দা মোমিন তুলছে ধ্বনি লাখো হাজার বার,
জোরসে বলো দ্বীনের জিগির ‘আল্লাহু আকবার’!

ইমাম সাহেব খুৎবা পড়েন, শোনান শাহাদাত,
কোরআন শরীফ মধুর সুরে করেন তেলওয়াত।
ঈদের নামাজ সম্মোহনী, ঘোর লেগে যায় বুকে,
হর নামাজী মন লাগিয়ে পড়ছে সূরা সুখে।

তূড় পাহাড়ে, হেরার গুহায়, পৌঁছে গেছে বাণী,
সিজদাতে যাই বলছে সবাই, এক আল্লাহ্‌কে মানি।
আশমান যার, জমিনও তার, আমরা তাহার দাস,
তাঁর ইশারায় মাখলুকাত-এর দ্বীন দুনিয়ায় বাস।

নামাজ শেষে কোলাকুলি, মহামিলন আজ,
ঈদগাহে আজ শান-শওকত, বাদশাহী তার সাজ!
সাদা কালো নাই ভেদাভেদ বুকে মিলাও বুক,

ধনী গরীব সবাই সমান, এটাই ঈদের সুখ।

রচনাতারিখ: ১০ই মে, ২০২১ সাল
রচনাসময়: রাত ০২টা ২০ মিনিট

Eid Prayer
—————– Ramit Azad

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

লাইলাতুল কদর

লাইলাতুল কদর
————————– রমিত আজাদ

বান্দা পেলো জিন্দেগীতে বিশ্বপ্রভুর দান,
লাইলাতুল কদর দিলেন মালিক মেহেরবাণ।
এ রাত্রিতেই হলো নাজিল পবিত্র কোরআন,
জ্ঞানময় এই কিতাব পেয়ে আমরা ভাগ্যবান।

পবিত্র এক মাহিনা তার নাম হলো রমজান,
এই মাহিনায় করতে হবে কদরের সন্ধান।
মোমিন কেঁদে ইবাদতে কদর খুঁজে পান,
জাহান্নামের ভয় যে মনে, সেইতো পূণ্যবাণ।

ইবাদতের অধিক সুযোগ এই মাহিনায় মেলে,
পূণ্য হাসিল বেশি হবে কদর খুঁজে পেলে।
উম্মতে মোহম্মদী ফেলে চোখের জল,
তওবা করে বুকটি ভাসায়, অশ্রু টলমল।

পবিত্র এ রজনীতে মোমিনের ফরিয়াদ,
জালিমেরে দাও নসিহত, করো হেদায়াত।
তাওহীদেরই বাণী পড়ে, পাইতে রহমত;
জালিম যেন ভুল বোঝে তার, পড়ে শাহাদাত।

ফরজ রোজার সাথে নামাজ, জিকির ও তেলওয়াত;
মুসলমানের ঘরে এ মাস বাড়ায় ফজিলত।
কদর রাতে বন্দেগীতে বান্দা হয় মশগুল,

গুণাহ্‌ থেকে পানাহ্‌ সে চায়, স্বীকার করে ভুল।

রচনাতারিখ: ৯ই মে, ২০২১ সাল
রচনাসময়: রাত ১১টা ৩০ মিনিট

Lailatul Qadar
———————– Ramit Azad

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

ঈদের নামাজ, ঈদ

——————————- রমিত আজাদ ঈদ মোবারক, ঈদ মোবারক, ঈদ মোবারক ঈদ, হেলাল হাসে নীল আসমানে ভাঙলো তাহার নিদ। শেষ হলো আজ সিয়াম-রোজা, কালকে হবে ঈদ, সেই খুশীতে বান ডেকেছে, বেহেশতী উম্মিদ! যাকাত আদায় করে উম্মত ফিৎরা দিতে যায়, ফরজ-নফল আদায় করে মুমিন হতে চায়। কদম কদম মোস্তাকিমের অনুসরণ করে, মক্কা হতে মদিনাতে মনটা তাহার ওড়ে! ঈদগাহে আজ মুসল্লীদের বিশাল সমাবেশ! তাকবির ওঠে সব ছাপিয়ে, বেশ কাঁপিয়ে দেশ। বান্দা মোমিন তুলছে ধ্বনি লাখো হাজার বার, জোরসে বলো দ্বীনের জিগির ‘আল্লাহু আকবার’! ইমাম সাহেব খুৎবা পড়েন, শোনান শাহাদাত, কোরআন শরীফ মধুর সুরে করেন তেলওয়াত। ঈদের নামাজ সম্মোহনী, ঘোর লেগে যায় বুকে, হর নামাজী মন লাগিয়ে পড়ছে সূরা সুখে। তূড় পাহাড়ে, হেরার গুহায়, পৌঁছে গেছে বাণী, সিজদাতে যাই বলছে সবাই, এক আল্লাহ্‌কে মানি। আশমান যার, জমিনও তার, আমরা তাহার দাস, তাঁর ইশারায় মাখলুকাত-এর দ্বীন দুনিয়ায় বাস। নামাজ শেষে কোলাকুলি, মহামিলন আজ, ঈদগাহে আজ শান-শওকত, বাদশাহী তার সাজ! সাদা কালো নাই ভেদাভেদ বুকে মিলাও বুক, ধনী গরীব সবাই সমান, এটাই ঈদের সুখ। ——————————————————- রচনাতারিখ: ১০ই মে, ২০২১ সাল রচনাসময়: রাত ০২টা ২০ মিনিট Eid Prayer —————– Ramit Azad

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

লাইলাতুল কদর

————————– রমিত আজাদ বান্দা পেলো জিন্দেগীতে বিশ্বপ্রভুর দান, লাইলাতুল কদর দিলেন মালিক মেহেরবাণ। এ রাত্রিতেই হলো নাজিল পবিত্র কোরআন, জ্ঞানময় এই কিতাব পেয়ে আমরা ভাগ্যবান। পবিত্র এক মাহিনা তার নাম হলো রমজান, এই মাহিনায় করতে হবে কদরের সন্ধান। মোমিন কেঁদে ইবাদতে কদর খুঁজে পান, জাহান্নামের ভয় যে মনে, সেইতো পূণ্যবাণ। ইবাদতের অধিক সুযোগ এই মাহিনায় মেলে, পূণ্য হাসিল বেশি হবে কদর খুঁজে পেলে। উম্মতে মোহম্মদী ফেলে চোখের জল, তওবা করে বুকটি ভাসায়, অশ্রু টলমল। পবিত্র এ রজনীতে মোমিনের ফরিয়াদ, জালিমেরে দাও নসিহত, করো হেদায়াত। তাওহীদেরই বাণী পড়ে, পাইতে রহমত; জালিম যেন ভুল বোঝে তার, পড়ে শাহাদাত। ফরজ রোজার সাথে নামাজ, জিকির ও তেলওয়াত; মুসলমানের ঘরে এ মাস বাড়ায় ফজিলত। কদর রাতে বন্দেগীতে বান্দা হয় মশগুল, গুণাহ্‌ থেকে পানাহ্‌ সে চায়, স্বীকার করে ভুল। ————————————————————— রচনাতারিখ: ৯ই মে, ২০২১ সাল রচনাসময়: রাত ১১টা ৩০ মিনিট Lailatul Qadar ———————– Ramit Azad

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

বৃক্ষের অভিশাপে

বৃক্ষের অভিশাপে
—————————– রমিত আজাদ

কোন শালারা কাটলো এমন বড় বড় গাছ?
কোন শালারা করলো এমন দেশের সর্বনাশ?
কোন নিঠুরের করাত চলে, গাছের বুকটি চিরে?
কোন ঘাতকের কুঠার ওঠে, ভাঙতে পাখির নীড়ে?

তোদের যেমন জীবন আছে, গাছেরও আছে প্রাণ;
জীববিদ্যা পড়িস নি কি? জানিসনা নির্জ্ঞান?
মূর্খ যারা তারাও তো জানে, গাছের উপকার;
অক্সিজেনের ফ্যাক্টরি গাছ, বাঁচায় জানোয়ার।

ফলের ভারে নুয়ে পড়ে বৃক্ষ ফলবতি,
ফুলের শোভায় হেসে ওঠে তরূ মায়াবতি!
প্রেমিক যুগল বসে সুখে গাছেরো ছায়ায়,
জোড়া পাখি বাধে বাসা শাখীরো মায়ায়।

যে মাঠেতে হত জুয়া, হত ঘোড়ার দৌড়,
জুয়ারীরা কুটতো মাথা, কদাকার হুল্লোড়!
বনায়নে সেথায় আজি হাজার পাখি ওড়ে,
নগরবাসীর জুড়ায় হৃদয়, পাখির গানের সুরে।

কাঁচে-রডে কাঠামোতে রেস্তোরা কি চাই?
গুঞ্জরিবে সেথা ভ্রমর, ফুলে ফুলে যাই?
টাকার লোভে নির্মমতায় উজাড় হলে বন,
কৃত্রিমতার স্থাপনায় কার জুড়াবে মন?

মুহুমুহু কাকলিতে সরব যে উদ্যান,
অঙ্কুরিত স্বর্গীয়তা বিশ্বপ্রভুর দান।
নিষ্পেষিত শ্যামলতা ফেলে চোখের জল,
কাঠুরিয়ার নিঠুরতায় কাঁদে গাছের দল!

গাছের আছে অনুভূতি, শুধু মুখের ভাষা নাই;
আঘাত পেলে কয়না মুখে, “আমি ব্যাথা পাই!”
সারি সারি গাছের লাশের কবর যখন রবে,

বোবা মুখের অভিশাপে, পাপের বিচার হবে।

রচনাতারিখ: ০৮ই মে, ২০২১ সাল।
রচনাসময়: ভোর ০৫টা ৪১ মিনিট

The Curse of the Tree
———————— Ramit Azad

May be a cartoon of tree
Categories
অনলাইন প্রকাশনা

উদ্বেলিত রূপলাবণী

উদ্বেলিত রূপলাবণী
———————————- রমিত আজাদ

তুমি আমার ফুল বাগানে দক্ষিণ হাওয়ায় মন ভাসালে,
চাঁদের মত দীপ জ্বালিয়ে, ঘোর আঁধারে প্রেম জাগালে।
সাঁঝের পরী মিষ্টি নেচে, মন কাননে ফুল ফোটালে;
জোৎস্না ধারার বৃষ্টি ঝেঁপে, কাল বোশেখী ঝড় ওঠালে।

তুমি আমার বনের পাখি, প্রাণের মাঝে গাইলে যে গান,
মিষ্টি সে সুর মন ভাসালো, ডুবলো হৃদয়, অথৈ সে বান!
রঙ দীপনে হইলে ছবি, আমার হাতে রঙ তুলিতে;
এলোচুলের অমন বাহার, বিশ্ব নিখিল চায় ভুলিতে।

বৃষ্টি যেন নূপুর পায়ে, উঠলো নেচে দিল দরিয়ায়,
বাজলো বেজে শ্রাবণ-গীতি, উন্মাদনার হৃদ আঙিনায়।
বিহ্বলতায় মন মাতালো, বন-হরিনী কোন সে ঢালে?
চঞ্চলতায় নিদ জাগালো, রূপ-তটিনী কোন সে কালে?

অমন রূপের এই মধুবন মধুকরের অধীর চাওয়া,
আকুল হৃদয় প্রশ্ন করে, হবে কবে এ রূপ পাওয়া?
মদির নয়ন যায় হারিয়ে, উতলা তার দিনরজনী,

হুশ হারিয়ে দেখছে আঁখি, উদ্বেলিত রূপলাবণী।

রচনাতারিখ: ০৪ঠা মে, ২০২১ সাল
রচনাসময়: দুপুর ১২টা ৫৮ মিনিট

Overflowing Beauty
—————————— Ramit Azad

Diamond Mosaic Picture 5D DIY Cross Stitch Oil Painting Girl Diamond  Painting | Fine art, Art painting, Art
Categories
অনলাইন প্রকাশনা

শিক্ষালয়ের পথ

শিক্ষালয়ের পথ
——————————- রমিত আজাদ

এখানে কেটেছে ধুসর সন্ধ্যা, হেটেছি বিকেল বেলা।
ভোরের আকাশে দেখেছি এ পথে, মোহিনী আলোর মেলা।
দুপুরের রোদে উর্দি চাপিয়ে এই পথে ছিলো চলা,
অভিসারী মনে স্বপ্নিল স্মৃতি, যাবেনা কখনো ভোলা!

এই ছিলো মোর দ্বিতীয় পল্লী, শিক্ষালয়ের পথ,
এরই বুকেতে চলেছে নিয়ত প্রদীপ্ত জ্ঞান-রথ।
পথের দুপাশে ফুল্ল-মলয় সুবাস ছড়াতো বায়,
নিঁখুত সাজের অট্টালিকাও মায়ায় জড়াতো তায়।

কুচকাওয়াজের শব্দ নিনাদে সিংহনাদের গর্জন,
এ পথেই তার ব্যঘ্রশাবকেরা করেছিলো কিছু অর্জন।
কেমন শীতল ছায়ায় ঢাকিত বীথিকার তরুগুলি।
পথটি মোদের চলতে শিখালো আগুয়ান দিনগুলি।

কোমল কিশোর ছয়টি বছর এই পথে হেটে শেষে,
পেয়েছে জওয়ানী, আত্মবিশ্বাসে ভরেছিলো বুক হেসে।
সৈন্যদলের ফৌজি বলের বলে হয়ে বলীয়ান,

পৃথিবীর পথে ছড়িয়ে পড়ে সে, হতে চায় মহীয়ান!

রচনাতারিখ: ০৪ঠা মে, ২০২১ সাল
রচনাসময়: রাত ০১টা ১৮ মিনিট

The Path of My School
——————————Ramit Azad

May be an image of grass and tree
Categories
অনলাইন প্রকাশনা

সাগরিকা, সুদূরিকা

সাগরিকা, সুদূরিকা
——————————– রমিত আজাদ

অমন নয়নো পাতে, বিজলী মাধবী রাতে,
চমকি চমকি ওঠে, নিহারিকা।
মাধুরী কামিনী শাখে, পাপিয়া সুরেতে ডাকে,
ঝলকি ঝলকি ওঠে, সুদূরিকা।

তৃষিত হৃদয়ো সাথে, রিক্ত চাতকী হাতে,
ফিরিয়া ফিরিয়া খোঁজে, বরষার জল।
পিয়াসি আঁখিরো ফাঁদে, মধুরো তিয়াসী চাঁদে
ঘিরিয়া ঘিরিয়া যাচে, বাসনার ছল।

জাগিয়া দেখিছে রাতি, জোনাকি তারারও ভাতি,
ছুটিয়া ছুটিয়া তথা, বলিয়া গিয়াছে কথা,
কুয়াশা মদিরো হেন, কূহকী তমসা যেন
লুটিয়া লুটিয়া সেথা, কাঁদিয়া কহিছে ব্যাথা।

পুড়িয়া পুড়িয়া দীপে, উড়িয়া উড়িয়া নীপে,
নাচিছে মধুপী অলি, কুসুমো বাহুরো ডোরে।
দুলিয়া দুলিয়া বীথি, ঘুরিয়া ঘুরিয়া তিথি,
যাচিছে সুরভি ওরে, বাদলো মুখরো ভোরে।

বাতাসে কেটেছে শিষ, কর্ণে ঢেলেছে বিষ,
দূয়ারে আগল তোল, মালবিকা।
সাগরে জেগেছে বান, জোয়ারে উঠেছে টান,

তীরেতে ভিরাও তরী, সাগরিকা।

রচনাতারিখ: ০৩মে, ২০২১ সাল
রচনাসময়: ভোর ৪টা ১৮ মিনিট

Far Away Marine Girl
————————– Ramit Azad

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

কতবার ফেরাতে চেয়েছি!

কতবার ফেরাতে চেয়েছি!
————————— রমিত আজাদ

জানি,
আমি তোমার মত করে বলতে পারিনা,
আমি তোমার মত করে ভাবতে পারিনা।
আমি তোমার মত করে লিখতে পারিনা,
আমি তোমার মত করে অংক কষতেও পারিনা।

কিন্তু,
আমি কি তোমার মত করে ভালোবাসতেও পারি না?
একথা বিশ্বাস করতে বলোনা প্লিজ!
তুমি যেমনটি চেয়েছিলে,
আমি তো তেমনি করেই ভালোবেসেছিলাম।

জানি,
আমিই বেশি দোষি।
আমার উচিৎ হয়নি অতটা জেদি হওয়া,
আমার উচিৎ হয়নি অতটা একরোখা হওয়া,
আমার উচিৎ হয়নি অতটা অনমনীয় হওয়া।

তবে,
তুমিই একদিন আমাকে বলেছিলে যে,
আমার জেদ ও অনমনীয়তাই তোমাকে মুগ্ধ করে!

থাক আর অভিমান করবো না,
থাক আর অভিযোগ করবো না।
অবসানের পর আর অভিমান করা চলে না।

অলৌকিক রৌদ্রপ্রহরে, কূহকী কৃষ্ণচূড়া জলে,
প্রেমাষ্পদ এক তৃষিত হৃদয়ে, উঁকিঝুঁকি দেয়,
জাদুকরী পানকৌড়ির লুকোচুরি।

ঘুঘু ডাকা দুপুরের রোদে, নিরিবিলি গেয়ে যায় পাখি,
সেই পুরাতন বিষাদের সুরে।
বিষন্ন তুষারের দিনে, নিঃসঙ্গ দাঁড়াবে বেলকুনিতে,
জানো আমি আছি দূরে, অতিদূরে!

ফুরিয়ে গিয়েছে তো সেই কবেই!
কতবার ফেরাতে চেয়েছি,

কই ফিরলে না তো???

রচনাতারিখ: ০৩রা মে, ২০২১ সাল
রচনাসময়: রাত ০২টা ৫৪ মিনিট

I Wanted to Get You Back
——————— Ramit Azad

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

অভাগিনীর দেউলা বাউল

অভাগিনীর দেউলা বাউল
—————————- রমিত আজাদ

একতারা গায় দুখের কথা, বাউলা সুরে সুরে;
লোকসমাজের ডরে ডরে, রইলা দূরে দূরে।
জলকে গেলা নদীর ধারে, পথেই ঘুরে ঘুরে,
আলতা রাঙা পায়ের তালে, ওড়না উড়ে উড়ে।

আউলা বাঁশির সুরে তোমার দিলকে ছলাৎ ছল,
বুক ফাটে তাও মুখ ফোটেনা, চোখ ফেটে ধায় জল।
একতারা তার হেচকা টানে, ছড়ায় সুরের ঢং;
ওড়না ঢাকা মুখটি তোমার, আঁতকে ওঠে টং!

গায়কী তার গানের তালে সামলায় না তো কথা!
কইলজা কাঁপে সোহাগিনীর, চমকে বুকে ব্যাথা!
জানাজানি হইয়া গেলে, হইবে কি হাল অনাথিনীর,
হাহাকারে কান্দে নয়ন, জনম দুঃখী অভাগিনীর!

নিঃস্ব বাউল সুর সেধে যায়, হাটাপথে মুখে মুখে
পিরিত জাগা স্রোতের টানে জোয়ার ওঠে ভাঙা বুকে।
নাও ভাসে তার নদীর জলে, সুর ভাসে তার বায়,

প্রেমের টানে দেউলা বাউলা দুখের সারি গায়।

রচনাতারিখ: ০২রা মে, ২০২১ সাল
রচনাসময়: রাত ০৩টা ০৭ মিনিট

The Baul of an Unfortunate Girl
——————————– Ramit Azad

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

নগ্ন নিশির অমানিশায়

নগ্ন নিশির অমানিশায়
—————————— রমিত আজাদ

তপ্ত দুপুর শিষ কেটে যায়, বিকেলগুলোর গায়;
ঝাঁক বেধে তাই জোনাকিরা উড়ছে সাঁঝের বায়!
মধ্যরাতের চাঁদের আলোয় প্রণয় ওঠে কেঁপে,
কালবোশেখী রুদ্র ঝড়ে বৃষ্টি নামে ঝেঁপে!

ঝড়ের তোড়ে ভালোবাসার বাসর জমে ভালো,
বিজলী জ্বলে মাঝে মাঝে ঢালছে প্রেমের আলো।
বাইরে যে ঝড় শিষ দিয়ে যায়, মেঘের ঝাপাঝাপি,
ঘরের ভিতর প্রণয়লীলায় তেমনি দাপাদাপি!

মিষ্টি কথার সৃষ্টিটাতো, এই লগনের তরেই,
ফিসফিসানি চুপটি স্বরে চলবে মধুর ঘরেই।
মেঘবালিকার কাজল আঁখি, সজল সেতো নয়,
সুবর্ণ এক হাতের ছোঁয়ায় বিবর্ণ না হয়।

টুকটুকে লাল রাঙা ঠোটের লাজুক হাসির আভা,
সভাকবির মন রাঙাতেই আঁধার ঘরের প্রভা।
নগ্ন নিশির অমানিশায় জ্বলছে প্রদীপ ফুল্লরী,
এমন নিশায় নেশার ঘোরে মাতাল হলো শর্বরী।


রচনাতারিখ: ০২রা মে, ২০২১ সাল
রচনাসময়: রাত ০১টা ৩৬ মিনিট

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

ফেইসবুক প্রীতিডোর

ফেইসবুক প্রীতিডোর
———————————– রমিত আজাদ

ইনবক্সে কেন সে রোজ ফুলের ছবি দেয়?
ছবির ভাষায় সে কি আমায় বলতে কিছু চায়?
মাঝে মাঝে পদ্য লেখে, রহস্য তায় রয়,
ছন্দ তোলা মিষ্টি বোলে, কোন সে কথা কয়?

আমার দেয়া ছবির পোস্টে দিচ্ছে ইমো ঝুপঝাপ,
কমেন্ট বক্সে কয়না কিছুই, এক্কেবারে চুপচাপ!
লাইক ইমোটা বেজায় বেশি, লাভ ইমোটা নাই,
কেয়ার ইমোটা মাঝে মাঝে, ওউ ইমোটাও পাই।

স্যাড ইমো তার ভাল্লাগে না, এড়িয়ে বোধহয় যায়,
এ্যাংরী ইমো কক্খোনো নাই, রাগ না তারে পায়!
রাগ না হলো অনুরাগের কথা কিছু বলবে তো?
মৌনব্রতের আর কত দিন? এমন ধারা চলবে তো?

তুমি কি চাও, আমি বলি? ভাবছো আমি আনারকলি?
বিঁধছে বুকে তীরের মতন, তোমার লেখা কাব্যগুলি!
রাত জেগে তাই পড়ছি শায়ের, নয়ন আমার তন্দ্রাহারা।

শেষ কবে এই নীরব খেলার? ভেবেই এ মন দিশেহারা!

রচনাতারিখ: ০১লা মে, ২০২১ সাল
রচনাসময়: রাত ১১টা ৪১ মিনিট

Facebook Romance
————————- Ramit Azad

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

জালিয়াতি প্রেম

জালিয়াতি প্রেম
———————– রমিত আজাদ

আলিঙ্গন আমি করেছি বহুবার, তবে ভালোবেসে নয়,
চুম্বন আমি করেছি বারংবার, তবে ভালোবেসে নয়।
ভালোবেসে আলিঙ্গন করেছিলাম একজনকেই,
ভালোবেসে চুম্বন করেছিলাম একজনকেই।

বাকি সবই ছিলো জালিয়াতি, কেবলই দেহের ক্ষুধায়,
অথবা নিঃসঙ্গতার অস্থিরতায়!

নিরবতা স্পন্দনে জাগানো শিহরণগুলোতে কোন আবেগ ছিলোনা।
ছিলোনা কেন্দ্রীভূত পরমাণু উদ্দীপনায় কোন ফোটনের উৎসার।
বিবর্ণ মরুদ্যানের ঝড়ো হাওয়ায় কেবল তপ্ত ধুলোই ওড়ে,
মরিচিকার কূহক আবাহনে প্রশান্তির কোন আশ্বাস নেই।

লক-ডাউন কঠোর মৃন্ময়ী বাহুডোরে ছিলোনা সোহাগের দীপ্তি।
ঝরা গোলাবের পাপড়িতে আর কতটুকু লাবণ্য থাকে?
কুয়াশার শিশির জ্যোৎস্নায় মিলনে মুখর যামিনীতেও
ছিলো নিস্পন্দ নিস্পৃহতা।
উদাসীন পুরুষ নিশিসঙ্গি হতে পারে, প্রেমিক নয়।

নিরালায় যে নিঃশ্বাস পড়ে তার গ্রীবায়,
তা প্রণয় সমীরণ নয়, নিস্পৃহতার দীর্ঘশ্বাস!
কেশের উত্তেজক সুবাস মাতায়না আমার মন।
যা হয় তা কামোচ্ছাস নয়, কেবলই উত্তেজনা প্রশমন।

নিজেকে উন্মুক্ত করে তুমি উন্মুখ হয়োনা আমার মুক্ত হৃদয় পেতে,
সর্বাঙ্গে শিহরণ নিয়ে তুমি ছুঁয়োনা আমার নিষ্কম্প অধর।
মাধুর্যের খন্ডকাব্য তো আর পূর্ণদৈর্ঘ্য উপন্যাস নয়!

শিৎকারী বিভাবরী পেরোলে ঘুম ভাঙে শীতল সকালে।
সেই সাথে ভাঙে মধুর স্বপ্নটাও।
গণিতের যৌক্তিক মহাকালে, আবেগ মেশে না জলে।
জলছবি, তৈলরঙা ছবি নয় জেনো,
আরেকটু রোদ উঠলেই সে বাষ্পীভূত হবে।

আলিঙ্গন আমি করেছি বহুবার, তবে ভালোবেসে নয়,
চুম্বন আমি করেছি বারংবার, তবে ভালোবেসে নয়।
ভালোবেসে আলিঙ্গন করেছিলাম একজনকেই,
ভালোবেসে চুম্বন করেছিলাম একজনকেই।

আমি ভালোবেসে দ্বিতীয়বার আলিঙ্গন করতে পারবো না।

আমি ভালোবেসে দ্বিতীয়বার চুম্বন করতে পারবো না।

রচনাতারিখ: ০১লা মে, ২০২১ সাল
রচনাসময়: রাত ০৩টা ২৮ মিনিট

Fake Love
——————– Ramit Azad

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

ভালোবাসা পাপ অভিশাপ

ভালোবাসা পাপ অভিশাপ
———————————- রমিত আজাদ

মিথ্যে তোমার ভালোবাসা, মিথ্যে তোমার প্রেম!
মিথ্যে তোমার মধু কথা, মিথ্যে তোমার দেন!
মিথ্যে তোমার সকল পরশ, মিথ্যে তোমার আশা,
মিথ্যে ছিলো তোমার ছোঁয়া, মিথ্যে ছিলো ভাষা!

মিথ্যে ছিলো আদর-সোহাগ, মিথ্যে ছিলো আলিঙ্গন;
মিথ্যে ছিলো তোমার মায়ায় মন ও তনু সমর্পন।
মিথ্যে ছিলো চার অধরের ছোঁয়া-ছুঁয়ির সন্দীপন,
মিথ্যে ছিলো ঢেউয়ের দোলায় দুটি কায়ার সুখ-মিলন।

মিথ্যে তোমার সকল আশ্বাস, মিথ্যে ছিলো হাতছানি,
তোমার কথায় আস্থা রেখে, হয়েছিলেম কলংকিনী!
মিথ্যে তুমি বলেছিলে, করবে আমায় রাজরাণী।
দিনের শেষে বানিয়েছিলে, রঙমহলের ফুলরাণী।

আমি ছিলাম নতুন নেশার, গুলমহলের নও শরাব,
নেশার ঘোরে, রঙ আঁখিতে, গুলবাগিচা ফুল পরাগ।
বাদশাহ্‌জাদার হারেমখানায়, আনারকলি আসবে যাবে,
নূরজাহানের দিলের চোটে, অভাগিনীর কি আর হবে?

তানসেনের ঐ সুরের ঝড়ে, মেঘরা নাকি নাচতো ঘিরে!
তোমার তোলা ঝড়ের তোড়ে, স্বপ্ন আমার গেলোই উড়ে!
মৃত্যুক্ষুধার বহ্নিশোকে, গেলাম আমি পরলোকে,
তুমি থাকো ইহলোকে; জানিনা, কে যায় নরকে?

চোরাবালির নদীর ধারে, কূল-হারা এক অভাগিনী,
রাত গভীরে চুপিসারে, আসবে সেথায় নিশীথিনী।
অশরীরী আত্মা জেনো, ফেলবে নিশ্বাস তোমার বুকে,

কান্না শুনো কান পেতে তার, জবাবদিহি চাইবে দুঃখে।

রচনাতারিখ: ৩০শে এপ্রিল, ২০২১ সাল
রচনাসময়: রাত ১১টা ২৭ মিনিট

Love is the Curse of Sin
————————- Ramit Azad

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

লুকোচুরি চরাচর

লুকোচুরি চরাচর
———————————- রমিত আজাদ

তুমি চেয়েছিলে কাম, আমি চেয়েছিনু প্রেম;
তুমি দেখেছিলে রূপ, আমি দেখেছিনু মন।
তুমি চেয়েছিলে যৌবন মোর, আমি চেয়েছিনু ঘর,
যতই চেয়েছি বাঁধিতে মিলনে, ততই করেছ পর!

মাতাল তোমাতে মিলন খেলাতে, নিজেরে করিয়া উজার,
ডুবিয়া তোমার নেশাতে আমার ভূবনে নামিল আঁধার।
নিজেকে বিলিয়ে তোমাকে দিয়েছি, মৈথুন ও অভিসার।
ভালোবাসিয়াছি তাই তোমার কাছে মানিয়া নিয়াছি হার!

লাজ আবরণ খুলিয়া মেলিয়া তোমারে দিয়াছি শুধা,
প্রখর-দাহনে দহিয়া আমারে মিটাইলে তব ক্ষুধা।
যতই চেয়েছ ততই পুড়েছি, নিজেরে করিয়া ছাই,
তবুও তোমার নেশাতুর চোখে হয়নি আমার ঠাঁই!

তোমার মহলে লুকোচুরি নাচে মাতিয়েছি চরাচর,
শরাবের ঘোর কাটিলো যখন আমারে করিলে পর।
অভিমানি আমি ছাড়িয়া ধরণী, চলিলাম পরপারে,
যদি ভাঙে ভুল, স্মরিও আমারে, নিশিথের অভিসারে!

যদি বলে পাপী আমারে সকলে, দিয়ে দেয় অভিশাপ!
জেনো রেখো জায়া, কন্যা, জননী; রূপসী হওয়াও পাপ!
জ্ঞানপাপী তারা প্রতারক সবে, পাপের নাইতো শেষ,

গোধূলি রঙের কাঁজলে মাখিয়া আঁধারে ঢাকিলো দেশ!

রচনাতারিখ: ২৯শে এপ্রিল, ২০২১
রচনাসময়: সকাল ০৫টা ৪১ মিনিট

Hide and Seek World
————————— Ramit Azad