Categories
অনলাইন প্রকাশনা

প্রণয়ের পরশন

প্রণয়ের পরশন
—————————– রমিত আজাদ

দুই হাতে আবেগেতে খুলেছি যে বস্ত্র,
আমাকেই সুখ দিতে, হয়েছে সে নগ্ন।
মন থেকে আমাকে সে আপনার ভেবেছে,
কায়া ভরা সুখ নিয়ে কেঁপে কেঁপে উঠেছে!

জানিনাতো, ছিলো কি তা আইনত পরিণয়?
তবে ঠিক জানি আমি, ছিলো না তা অভিনয়।
সুখ নিয়ে সুখ দিয়ে, করেছি কি মহাপাপ?
কই তুমি করোনি তো এতটুকু প্রতিবাদ!

তাও আমি বলেছিতো, “অনুমতি নেব কি?”
উত্তরে বলেছিলে, “প্রয়োজন আছে কি?”
বলেছিলে তুমি তায়, “দুইজন, কি আপন!
আর মোরা নই পর, তুমি আমি একমন।”

যেই সুখ, যে আবেশ ছিলো তব চোখে-মুখে,
বৃষ্টির ধারা যেন ঝরেছিলো নীলিমাতে!
বৈশাখী ঝড় যেন ছেয়েছিলো দু’নয়ন,
সবটুকু ছিলো সে তো ভালোবাসা পরশন।

সেই রাতে, সেই প্রাতে দু’জনার তর্জন!
আষাঢ়ের মেঘে যেন বজ্রের গর্জন!
বিজলীর চমকানি নির্জনে চুপচাপ,
নিউরনে সুর তুলি, রাগিনীর বৈভব।

অশনিতে যদি বাজে বিপদের ডঙ্কা,
প্রণয়ের সেনা আমি, করিনাতো শঙ্কা।
কই তুমি করোনি তো এতটুকু প্রতিবাদ!
সুখ নিয়ে সুখ দিয়ে, করেছি কি মহাপাপ?

সুর হলে অবসান, চোখে চোখে আলাপন,
মাঝে মাঝে বাকহীন মৃদু মৃদু পরশন।
স্বর্গটা আছে কোথা, কভু তাকে দেখিনি,

সেদিনের সুর ছিলো স্বর্গীয় রাগিনী!

রচনাতারিখ: ১৬ই এপ্রিল, ২০২১ সাল
রচনাসময়: রাত ০২টা ৪৭ মিনিট

The Love Touch
———————– Ramit Azad

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

দ্বিতীয় তরঙ্গ

দ্বিতীয় তরঙ্গ
————————————— রমিত আজাদ

দোসরা দফায় ঢেউ জেগেছে ক্ষুদ্র জীবের সৃষ্টিতে,
পিষ্ট যে আজ মানব-দানব নির্যাতনের যষ্টিতে।
মৃত্যু-দূতের নিষ্ঠুরতায় বাড়ছে গোরের খননকাজ,
নিজ মহলে নিজেই কয়েদ, নিজের কাছেই বন্দী আজ!

সংকটে আজ পথের দাবী, পথহারা সব যাত্রীদল,
দিনের আলোয় অন্ধ আকাশ, মৃত্যুপথের অস্তাচল!
ঊষার শিখায় বন্ধ দুয়ার, আশার আলো নিরুদ্দেশ,
বিনিদ্র সব নিদ্রাবিলাস, ক্ষুৎ-পীড়িতের হা-পিত্যেশ!

থমকে গেছে পথিক পথে, পথ চলা তার আজ নিষেধ,
ক্ষুদ্র জীবের আক্রমণে আমীর-ফকির নাই প্রভেদ।
শ্যামল শোভায় মরুর ধুধু, মরিচিকার হাতছানি,
নিরুদ্দেশের যাত্রী সবাই, লুপ্ত ফুলের ফুলদানী।

বলির কাঠে শ্বাপদ ডাকে, ভয়ার্ততার এক ফাঁদে,
ঢলছে পড়ে মাটির কোলে, উৎপীড়িতের প্রাণ কাঁদে!
রাগ-অনুরাগ, গুল্মলতা সব যেন আজ অর্থহীন,

কাল কি হবে? আজ কে জানে? সেই ভাবনায় অন্তরীণ!

রচনাতারিখ: ১৬ই এপ্রিল, ২০২১ সাল
রচনাসময়: রাত ০১টা ২৭ মিনিট

Second Wave COVID-19
———————————– Ramit Azad

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

খোশ আমদেদ রমজান

খোশ আমদেদ রমজান
———————————– রমিত আজাদ

ছিলো অন্ধকারের বন্ধ দূয়ারে অন্ধ মানবজাতি,
সেই আঁধারে জ্বালিলেন তিনি নবীন জ্ঞানের ভাতি।
হেরার গুহায় মহামানবের মহান ভাবের ধ্যান,
উম্মী নবীর নূরাণী চরণে লুটিয়া পড়িলো জ্ঞান।

দানিলেন তিনি জীবন বিধান, তাওহীদ ও খিলাফত,
শেরেকী ঘুচিয়ে বান্দা শিখিলো, রবের দেখানো পথ।
জাহেলিয়া যুগে গুণাহ্‌গার ছিলো পাপাচারে নিশিদিন,
সেই বিনাশীরে দেখাইলো তব, ‘সিরাতুল মুস্তাকিম’।

মরুর সাধক দানিলো নয়নে, তামজীদী নয়া জ্যোতি,
জিন্দেগী তাতে হবে রোশনাই, মুছিয়া সকল ক্ষতি!
যদি নাও মানি তাহার বিধান, দানিলেন যাহা প্রভু,
দ্যুলোক-ভুলোকে মিলিবে উপল, রহিবেনা দুখ্‌ কভু।

পাঁচটি ফরজের অন্যতম সিয়াম সাধনা ভাই,
হিজরী তারিখে আসিলো ফিরিয়া মাহে রমজান তাই।
আশমানে তব দেখিলো হেলাল জাহান-ই-মুসলমান,
খোশ খবরেতে দুলিলো হৃদয়, নাচিয়া উঠিলো প্রাণ!

আবার মিলিলো সুযোগ সবারই কুড়াইতে ফজিলত,
সওয়াব হাসিলে করিবে মোমীন বন্দেগী ইবাদত।
উম্মত তাঁর কাঁদিবে দুচোখে চাহিয়াতে শাফায়াত,
সেহেরী হইতে ইফতার তক শুনিবে দ্বীনের ডাক।

যাকাত ফিৎরা গরীবেরে দিবে, নিজে থাকি অনাহার;
ক্বদরের রাতে, সিজদা রুকুতে লুটাইবে গুণাহ্‌গার।
কাটিবে মোমিনের একটি মাহিনা শুদ্ধ করিতে প্রাণ,

পাইতে নাজাত তুলিবো দুহাত, খোশ আমদেদ রমজান!

রচনাতারিখ: ১৪ই এপ্রিল, ২০২১ সাল
রচনাসময়: রাত ১২টা ৫৬ মিনিট

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

নও বোশেখে নবীন আশা

নও বোশেখে নবীন আশা
——————————— রমিত আজাদ

রুদ্র বোশেখ আসলো ছুটে, আনলো নতুন বছর;
বৈশাখী ঝড় মাতাল হাওয়ায় জমলো নবীন আসর।
খঞ্জনা তার গান শোনালো নাম না জানা বনে,
অঞ্জনারা সাজলো শোভায়, রঙ লাগিয়ে মনে।

পুকুর পারে ধানশালিখের ঝাঁকের কিচিমিচি,
পারুল বনে হাসির রাশি, রোদের ঝিকিমিকি।
ঘরের দাওয়ায় গরম হাওয়ায় হাতপাখাটার দোল,
তাপ তেতেছে বৃক্ষশাখে, ফুটলো আমের বোল।

বাগান বিলাস, ফুল মাধবী মঞ্জুরিত তায়,
গন্ধরাজের শুভ্র শোভায় ছন্দ সুবাস বায়।
পলাশ লালী গুলমোহরের পাঁপড়ি ঝরে হায়,
শিমুল শাখে লক্ষীপ্যাচা বৈশাখী গান গায়।

ইন্দ্রজালী বংশীবাদক সুর তুলেছে গাঁয়ে,
কংস নদীর ধ্বংস স্রোতে পাল তুলেছে নায়ে।
কার হৃদয়ে পূর্ণিমা চাঁদ, কার আঁখিতে আশা?
কোন কুহকী এই বোশেখে, খুঁজবে নিগূঢ় ভাষা।

গ্রীস্মকালীন উষ্ণ বায়ে উড়ছে রঙিন ঘুড়ি,
ছুটছে নদী, ছুটছে তরী, ছুটছে কালের ঘড়ি।
বছর গেলো, বছর এলো, পাল্টাবে কি সুর?

তাও বেঁধেছি নতুন আশা, পথ চলেছে দূর!

রচনাতারিখ: ১৩ই এপ্রিল, ২০২১ সাল
রচনাসময়: রাত ১০টা ২৭ মিনিট

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

মৈথিলীর হাসি

মৈথিলীর হাসি
——————— রমিত আজাদ

মৈথিলীর নগ্ন শরীর কখনোই দেখিনি,
দেখার ইচ্ছেও জাগেনি কোন ক্রমেই!
কি হবে শরীর দেখে?
মৈথিলীর হাসিই তো সব!

নয়মাসী শীতের দেশে কুয়াশার আস্তরন কেটে
হঠাৎ উষ্ণ বসন্ত এলে,
শ্বেতাঙ্গিনী তরুণীদের পোষাকও সংক্ষিপ্ত হয়ে আসে।
তাদের অর্ধ অনাবৃত পরিপুষ্ট স্তনযুগলে
প্রলুদ্ধ দৃষ্টি হেনেছি বহুবার।
তদুপরী মৈথিলীর স্তন কতটা পুরুষ্টু ?
সেটা দেখার আগ্রহ জাগেনি কখনোই।
ওর স্তনের নিচের হৃদয়টার খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করতাম সারাক্ষণ।

রোদেলা সৈকতে আধো উদোম শ্বেতবর্ণ ললনাদের
দেহের উদ্বেল ঢেউ দেখেছি অনেক।
খড়তাপে ছড়ানো তাদের দুবাহুর মসৃণ রোমহীন কাঁক
আমার নিবদ্ধ দৃষ্টিতে ভস্মিভূত হয়েছে বারংবার।

তারপরেও আস্তিনহীন জামায় মৈথিলীকে কেমন দেখাবে
সে কথা একবারও মনে জাগেনি।
আমার বাড়িয়ে দেয়া হাতে মৈথিলীর অঙ্গুলীর স্পর্শই তো
ঝড় তুলেছিলো আমার অস্থির বুকে।

নিদাঘী য়ুরোপীয় রাজপথে হেটে চলা
কাঁচুলিবিহীন ক্ষুদ্র নিচোলী তরুনীদের
অবাধ্য নিতম্বের দুরন্ত স্পন্দন
পলকহীন লোভাতুর দৃষ্টিতে দেখেছি ফিরে ফিরে।

ছোটখাট গড়নের মৈথিলীর নিতম্বের বাড়তি স্ফীতি,
সেই আমাকে মোটেই পুলকিত করেনি।
ওর উপচে পড়া উল্লসিত
আঁখিতেই আমি উচ্ছাসী পুলক খুঁজে পেতাম।

রতিচিত্র দেখা উত্তাল যৌবনের
কনকনে শৈত্যপ্রবাহী নিভৃতবিলাসী মধ্যরাতে,
কামাসক্ত অগ্নিউনানী চোখে একবারও দেখিনি
মৈথিলীর সাথে মৈথুনের স্বপ্ন।

মৈথিলীর শিশির ভেজা কালো চুলগুলো ছুঁয়ে ছুঁয়ে
কেবলই বলতে ইচ্ছে করতো
ঐ আবহমান যুগ্ম-নয়নের ধ্রুপদী ধারায়
তুমি আমার বিস্তৃত সায়র!

কে বলে যে, পুরুষ কেবল নারীর শরীরতত্ত্বেই আসক্ত?

প্রেমের পবিত্রতার নন্দনতত্ত্বে কায়ার ঊর্মিমালা গৌণ।

রচনাতারিখ: ০২রা এপ্রিল ২০২১ সাল।
রচনাসময়: দুপুর ১১টা ২৭ মিনিট।

The Smile of Maithili
—————– Ramit Azad

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

অভিসারে শাড়ি

অভিসারে শাড়ি
——————— রমিত আজাদ

পছন্দের এক পোশাক শাড়ি;
হোক ষোড়শী নয় কিশোরী, পড়লে শাড়ি, তবেই নারী।
যখন হতাম অভিসারী, আসতো নারী, জড়িয়ে শাড়ি!
নারী হলো পুরুষ মনের মহান উপহার,
দৃষ্টি হবে, মুগ্ধ হবো; এই তো অভিসার!

শাড়িই যদি না পড়লো, আমার প্রেমিকা!
কেমন করে মুগ্ধ হবো, কানন বালিকা?
ঝলকে উঠে চমকায় রঙ মিষ্টি গালের কূপ।
ইন্দ্রজালী ঐ পোশাকে উপচে পড়ে রুপ!

জামদানি হোক নওভারী হোক, কিংবা মহিশুরী;
সব শাড়িতেই মানাবে তায়, মেঘনা পারের নারী!
প্রেয়সী মোর ঢাকাই তাঁতেও পরী বাধনহারা!
শাড়ির মায়ায় যাই হারিয়ে, প্রেমিক মাতোয়ারা!

মন মোহনায় সব প্রেয়সীই ছুটে আসা নদী,
সাগর আমি কেমনে হবো, শাড়ি না পাই যদি?
ডুববে নদী সাগর জলে, মিলবে ঢেউয়ে ঢেউয়ে,
শাড়ির ঢেউয়েই দুলবে হৃদয়, আকাশ ছুঁয়ে ছুঁয়ে!

শাড়ির সাথে নারীর আছে প্রাচীন যোগাযোগ,
‘শাড়ি ছাড়া নয় অভিসার’, আমার অনুরোধ!
প্রেয়সীরা আসতো যে তাই, শাড়ির শোভায় সেজে,

ভালোবাসার পান্না হিরে পেতাম শাড়ির ভাজে।

রচনাতারিখ: ৯ই এপ্রিল, ২০২১ সাল
রচনাসময়: দুপুর ১২টা ৫৮ মিনিট

Saree Dating
——————— Ramit Azad

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

মৈথিলী তুমি

মৈথিলী তুমি
——————— রমিত আজাদ

ঢাকার আকাশে বৃষ্টি হতে দেখলে
আমার খুব ভিজতে ইচ্ছে করে!
মন চাইলেই দালানের ছাদে উঠে
ইচ্ছেমত ভিজতে পারি নিশ্চয়ই।

না, এই ভেজা আমি চাইনা।
আমি চেয়েছিলাম,
ঢাকার জনবহুল রাজপথে
অথবা রমনার নির্জন সবুজে,
তোমার হাত ধরে ভিজতে!

বাংলা থেকে গুজরাত-এর দূরত্ব কতটুকু?
চট্টলা থেকে লোথাল-এর ব্যবধান যতটুকু?
জানিনা, মেপে দেখার সুযোগও হয়নি কখনো!
দিল্লীতক গিয়েছিলাম একবার,
ভেবেছিলাম, আরেকটু পশ্চিমে গেলেই তো তোমার শহর।
যাবো নাকি একবার?

তারপর ভাবলাম,
না থাক।
শূণ্যতার শহরে গিয়ে কাজ নেই।
ঘরবাড়ী, দালান-কোঠা, মন্দির-মাজার,
পথ-ঘাট, অফিস-আদালত, রবিবারি বাজার
সবই আছে ঐ শহরে।
শুধু তুমিই নেই!
যেখানে তুমি নেই,
সেই শহর আমার কাছে শূণ্যতার ময়দান!

মহাসাগরের এপারে আমি, আর ওপারে তুমি!
আচ্ছা কি হতো, কলম্বাসের জাহাজটি যদি ডুবে যেত,
হারিয়ে যেত অতলান্তিকের গভীর তলদেশে?
ইন্ডিজ শুধু ইস্টেই রয়ে যেত, তাইনা?
তখন হয়তো তুমি আমি দুজনাই
মহাসাগরের এপারেই রয়ে যেতাম।

তারপর,
কোন এক সুযোগ বুঝে,
আকবর-এর সাম্রাজ্য থেকে
তোমাকে নিয়ে আসতাম ঈসা খাঁ-র দেশে।
এই নিয়ে আরেকটি ট্রয়ের যুদ্ধ হয়তো হত না!
‘ওয়ার ফর প্রিন্সেস’, অর
‘এ লিটল রোমান্স ইন দ্যা ওয়ার!’
এ যুগে বেমানান বোধহয়!
আমি নিশ্চিত, নতুন কোন ডুয়েল যুদ্ধ হলে,
মানসিংহ-রা আবারো পরাজিত হবে।

মৈথিলী,
আমি এখনো অপেক্ষায় থাকি, এই শহর কখন কৃষ্ণচূড়ায় ছেয়ে যাবে।
আমি এখনো অপেক্ষায় থাকি, এই শহর মাধবীলতার সুবাসে ভেসে যাবে।
আমি এখনো অপেক্ষায় থাকি, এই শহর বোশেখের রুদ্র ঝড়ে উত্তাল হবে।
আমি এখনো অপেক্ষায় থাকি, শীর্ণ বালু নদীর বুকে আবারো সাম্পান ভাসবে।

বর্ষার অঝোর ধারায় ভিজে যাবে
আধুনিক ঢাকার রাজপথ, ফ্লাই-ওভার, মেট্রো-রেলের পিলার,
দৈত্যাকার শপিংমল, থীম পার্ক, সিনেপ্লেক্স, সব সবকিছু।
সেদিনের মত, আমাদের হাতের ছাতাদুটো ছুঁড়ে ফেলে দেব,
অঙ্কুরিত ব্যাগ্র শস্যের মত আমরা স্বেচ্ছায় ভিজবো।
আমার কর্কশ হাতে তোমার পেলব হাত।
পাঁচ পাঁচ দশটি আঙুলের সোহাগের ছোঁয়াছুয়ি!
কিই বা এমন বয়স হয়েছে আমাদের?

চাইলে কি আমরা আরেকবার কাছাকাছি হতে পারিনা?

রচনাতারিখ: ৭ই এপ্রিল, ২০২১ সাল
রচনাসময়: রাত ০১টা ৫৭ মিনিট

Maithili You
—————— Ramit Azad

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

মৈথিলীর হাসি

মৈথিলীর হাসি
——————— রমিত আজাদ

মৈথিলীর নগ্ন শরীর কখনোই দেখিনি,
দেখার ইচ্ছেও জাগেনি কোন ক্রমেই!
কি হবে শরীর দেখে?
মৈথিলীর হাসিই তো সব!

নয়মাসী শীতের দেশে কুয়াশার আস্তরন কেটে
হঠাৎ উষ্ণ বসন্ত এলে,
শ্বেতবর্ণ তরুণীদের পোষাকও সংক্ষিপ্ত হয়ে আসে।
তাদের অনাবৃত পরিপুষ্ট স্তনযুগলে
প্রলুদ্ধ দৃষ্টি হেনেছি বহুবার।

তদুপরী মৈথিলীর স্তন কতটা পুরুষ্টু ?
সেটা দেখার আগ্রহ জাগেনি কখনোই।
ওর স্তনের নিচের হৃদয়টার খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করতাম।

রোদেলা সৈকতে আধো উদাম শ্বেতাঙ্গিনীদের
দেহের ঢেউ দেখেছি অনেক।
খড়তাপে ছড়ানো তাদের দুবাহুর পেলব রোমহীন কাঁক
আমার নিবদ্ধ দৃষ্টিতে ভস্মিভূত হয়েছে বারংবার।

তারপরেও আস্তিনহীন জামায় মৈথিলীকে কেমন দেখাবে
সে কথা একবারও মনে মনে জাগেনি।
আমার বাড়িয়ে দেয়া হাতে মৈথিলীর অঙ্গুলীর স্পর্শই তো
ঝড় তুলেছিলো আমার অস্থির বুকে।

নিদাঘী য়ুরোপীয় রাজপথে হেটে চলা
কাঁচুলিবিহীন ক্ষুদ্র নিচোলী তরুনীদের
অবাধ্য দুরন্ত নিতম্বের স্পন্দন
পলকহীন লোভাতুর দৃষ্টিতে দেখেছি বারংবার।

ছোটখাট গড়নের মৈথিলীর নিতম্বের বাড়তি স্ফীতি,
সেই আমাকে মোটেই পুলকিত করেনি।
ওর উপচে পড়া উল্লসিত
আঁখিতেই আমি উচ্ছাসী পুলক খুঁজে পেতাম।

রতিচিত্র দেখা উত্তাল যৌবনের
কনকনে শৈত্যপ্রবাহী নিভৃতবিলাসী মধ্যরাতে,
কামাসক্ত অগ্নিউনানী চোখে একবারও দেখিনি
মৈথিলীর সাথে রতিক্রিয়ার স্বপ্ন।

মৈথিলীর কালো চুলগুলো ছুঁয়ে ছুঁয়ে
কেবলই বলতে ইচ্ছে করতো
ঐ আবহমান যুগ্ম-নয়নের ধ্রুপদী ধারায়
তুমি আমার বিস্তৃত সায়র!

কে বলে যে, পুরুষ কেবল নারীর শরীরতত্ত্বেই আসক্ত?

প্রেমের পবিত্রতার নন্দনতত্ত্বে কায়ার ঊর্মিমালা গৌণ।

রচনাতারিখ: ০২রা এপ্রিল ২০২১ সাল।
রচনাসময়: দুপুর ১১টা ২৭ মিনিট।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

উন্মাদ ঝড়

উন্মাদ ঝড়
—————— রমিত আজাদ

কাল রাতে খুব ঝড় হয়েছিলো!
পুরাকালীন বাংলোয় শুয়ে আমি শুনতে পেয়েছিলাম
উত্তাল ঝড়ের শোঁ শোঁ শব্দ,
আর অসহায় টিনের চালে
রিমঝিম বৃষ্টির সেতারের সুর!

একবার বারান্দায় বেরিয়েছিলাম,
দেখলাম উন্মাদী চৈতালী ঝড় আন্দোলন তুলেছে
বাগানের প্রতিটি বৃক্ষের আতংকিত কায়ায় কায়ায়!

পাখীরা কেন জানি নিস্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলো!
সেই সাথে থেমেছিলো ঝিঁঝিঁ-দের ডাক।
আচ্ছা, ঝড় আসলে ওরা কি বাক-স্বাধীনতা হারায়?

আমিও নির্বাক ছিলাম কিছুটা সময়।
তারপর চিৎকার করে উঠলাম,
“ওরে, তোমরা সবাই জাগো। দেখো ঝড়েরও সৌন্দর্য্য আছে!”

গৃহস্থরা জেগে উঠলো অকস্মাৎ!
ধূপধাপ দৌড়ঝাঁপ শুরু হলো,
সৌন্দর্য্য নয়, ওরা কদর্যতা দেখে এই ঝড়ে!
কেউ টিন সামলায়, কেউ বা গাছ বাঁধে।
হাঁস-মুরগী, গবাদী পশুদেরও নিরাপদে রাখতে হবে।
গৃহস্থের এইটুকুই তো সম্পদ!

অসময়ী ঝড় কাউকে জানান দিয়ে আসে না!
তবুও তাৎক্ষণিক বুক চিতিয়ে দাঁড়ায় গ্রামবাসী।

ঝড়ের মোকাবেলা করতেই হবে!

রচনাতারিখ” ৩০শে মার্চ, ২০২১ সাল
রচনাসময়: দুপুর ২টা ৪৫ মিনিট

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

কে যে আমার মনের মণি?

কে যে আমার মনের মণি?
——————————- রমিত আজাদ

তোমরা সবাই জানতে চেলে,
কে যে আমার মনের মণি?
আমি বলি থাকনা সওয়াল,
নাইবা তাকে চিনি জানি!

তোমার মণি তোমার কাছে,
আমার মণি মোর।
মনে মনেই মণি মোদের,
স্বপ্ন, নিশা, ঘোর!

মণির সাথে মন বিনিময়,
কে করেনাই বলো?
বিনি টাকায় বিকিকিনি,
মণির সাথেই হলো।

মণি দিয়েই মণি মেলে,
মনেই মেলে মণি।
মনের বাগান মণিই সাজায়,
মণিই বাজায় ধ্বনি।

মনের ঘরে প্রতিধ্বনি,
রুপ ধাঁধানো মণি!
এত রুপের পান্না-পলা,
মনের দামেই কিনি।

প্রবাল বলো, কোরাল বলো,
কিংবা পদ্মরাগ।
পান্না কিবা পার্ল-ফিরোজা,
যেই মণিতেই থাক।

সব মণিতেই রুপের ঝলক,
মনের ঘরে ঝলকায়!
মণির শোভা মনের মাঝে
সব ঋতুতেই চমকায়!

রত্ন-শোভায় চিনি তাকে,
সেই যে মোদের হীরা-চুনী।
আমরা সবাই দিনের শেষে

মণির কাছেই থাকি ঋণী!

রচনাতারিখ: ১০ই ফেব্রুয়ারী, ২০২১ সাল
রচনাসময়: রাত ১২টা ২০ মিনিট (বাংলাদেশ)

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

কে বলে তুমি পাশে নাই?

কে বলে তুমি পাশে নাই?
——————————- রমিত আজাদ

কে বলে তুমি পাশে নাই?
তুমি পাশে আছো বলে গান লিখি তাই।
দুটি চোখে চোখ রেখে সুর সেধে যাই,
আঁখি বলে, পাখি উড়ে নীড় খুঁজে পাই।

ওগো মোর প্রিয়তমা থাকো কিবা নয়,
স্মৃতির পাতায় আছো, এই ভালো হায়!
বনের ছায়ায় আছো, আছো নীলিমায়,
তোমার সুবাস ভাসে দক্ষিণা হাওয়ায়।

কৃষ্ণচূড়া সাজে তোমার তৃষায়,
চন্দ্রপ্রভা লাজে হারালো দিশায়!
স্বপ্নবিলাস কিসে ঘুমের ঘোরে?
নির্ঘুম রাত ঢলে আলোর ভোরে।

না ফোটা ফুলের কলি ঝরেও থাকে,
না গাওয়া গানের ডালি সুরেও ডাকে।
মিলনে পেলাম কিনা, এতো বড় নয়!

বিরহেও কভু কভু সব পাওয়া যায়।

রচনাতারিখ: ০৯ই ফেব্রুয়ারী, ২০২১ সাল
রচনাসময়: রাত ১১টা ০৯ মিনিট (বাংলাদেশ)

Who Says You’re Not There?
———————— Ramit Azad

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

নদীটিরে বলে দিও

নদীটিরে বলে দিও
————————- রমিত আজাদ

নদীটিরে বলে দিও তার সাথে কথা নাই,
তীরে তীরে হেটে হেটে আর কত দূরে যাই?
সখা তার তৃষা নিয়ে জল ছুঁতে চেয়েছে,
অত জল বুকে ধরে নদী কোথা ছুটেছে?

তীর ধরে হেটে হেটে আমি বড় ক্লান্ত,
তাও তীর ভাঙ্গে নাকো নদীটার প্রান্ত।
জলে তার সুগভীর আবেগের হাতছানী,
ঝাঁপ দিলে ঐ জলে হবে ঠিক প্রাণহানী।

ভাবছি কি দেব প্রাণ, অভিমানে অভিমানে?
তাও যদি নদী বোঝে ছুটেছে কে তার পানে।
জলে তার ছায়া পড়ে মোর দেহ আত্মার,
ছায়া দোলে ঢেউ তালে নদীটির সত্তার।

নদী তুমি যাও কোথা এই বেলা ফিরে চাও,
পাশাপাশি চলছি যে এইটুকু টের পাও?
তীর ছেড়ে একদিন ঠিকঠিক দেব ঝাঁপ,

দিক লোকে ধিক্কার, হয় হবে হোক পাপ।

রচনাতারিখ: ০৫ই ফেব্রুয়ারী, ২০২১ সাল
রচনাসময়: দুপুর ০১টা ৪৯ মিনিট (বাংলাদেশ)

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

তৃষ্ণার মায়াজলে চাঁদ

তৃষ্ণার মায়াজলে চাঁদ
———————– রমিত আজাদ

তৃষ্ণার মায়াজলে ডুবে থাকা নদীরা,
জোছনার সুরা পানে তীব্রতা মদিরা।
শিশিরের বিম্বে চাঁদ হাসে মমতায়,
চাঁদ আর জল মিশে লীন হয় দ্রাঘীমায়।

চাঁদেরও তো তৃষা আছে, জলপানে অস্থির,
জলঢেউ আলোড়নে চাঁদ কাঁপে তিরতির।
অভিসারী শর্বরী চাঁদটাকে দেয় ঘোর,
তমসাতে তাই চাঁদ পেতে চায় বাহুডোর।

হবে কিবা মেপে মেপে গভীরতা নদীদের,
তার চেয়ে ছায়া মাপো চাঁদ দেখা পথিকের।
কালাপানি কয়েদীর দোষটা কি ছিলো জানো?
চাঁদ ছুয়ে দেখেছিলো, মানো কিবা নাই মানো।

চাঁদ কেনো এসেছিলো চুপি চুপি তার ঘরে?
পরশের হরষণে সুখ নিতে বুক ভরে।
আকাশের চাঁদ তাই ধরণীতে আসে ছুটি,

এই ভাবে জলে ডুবে চাঁদ হয় কুটি কুটি!

রচনাতারিখ: ০৫ই ফেব্রুয়ারী, ২০২১ সাল
রচনাসময়: রাত ০১টা ০৯ মিনিট

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

মোহনীয় মণি

মোহনীয় মণি
————————— রমিত আজাদ

জন্মের দিনটিতে মণি বেশ সাজলো,
কাজল আর টিপ দিয়ে ঝংকারে বাজলো!
এত রুপ নিয়ে মণি ধরণীতে এসেছে,
আজকের দিনটিতো তার রুপে সেজেছে!

জন্মটা নাই হলে মণিকে কি দেখতাম?
ঐ চোখে চোখ রেখে আবেগে কি ভাসতাম?
আমরা তো সুখী তার জন্মটা হলো বলে,
তাই তাকে দেই ফুল, শিশিরের ভেজা জলে।

কালোকেশী মণি আজ লাল জামা পড়লো,
আল্পনা কারুকাজে রংধনু ঝরলো।
মুক্তোর মণিহারে মণি যেন মহারাণী!
মোহনীয় হাসি হেসে, দিলো কি সে হাতছানি?

ফুলে ফুলে প্রাণঢালা দেই অভিনন্দন,
কপালেতে মেখে দেই জোছনার চন্দন!
সাগরের ঐ পারে মণি আজ হেসেছে,

এই পারে কেউ তাকে ভেবে ভেবে কেঁদেছে!

রচনাতারিখ: ৪ঠা ফেব্রুয়ারী, ২০২১ সাল
রচনাসময়: বিকাল ৪টা ২৫ মিনিট (বাংলাদেশ)

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

কুহেলিকা তুমি আমি
——————————— রমিত আজাদ

সংসারের চতুর্মুখী চাপে পড়ে তোমাকে ভুলে যাই,
পেটের ক্ষুধার চিরন্তন যাতনায় তোমাকে ভুলে যাই,
রুটি-রুজীর চিন্তায় পড়ে তোমাকে ভুলে যাই,
অফিস পলিটিক্সের ঊর্ণনাভ জালে পড়ে তোমাকে ভুলে যাই,
তারপরেও তোমাকে স্বপ্নে দেখি।

স্ত্রীর সাথে কলহ করতে গিয়ে তোমাকে ভুলে যাই,
বাড়ী ভাড়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে তোমাকে ভুলে যাই,
সন্তানের আবদার মেটাতে গিয়ে তোমাকে ভুলে যাই।
প্রতিবেশীর সাথে বিবাদ করতে গিয়ে তোমাকে ভুলে যাই।
তারপরেও গভীর রাতে তোমাকে মনে পড়ে।

ফেসবুকে রূপসীদের স্টোরী দেখতে দেখতে তোমাকে ভুলে যাই,
কলিগ দম্পতীর সূখী ছবি দেখতে দেখতে তোমাকে ভুলে যাই,
নতুন প্রজন্মের গাওয়া গজল শুনতে শুনতে তোমাকে ভুলে যাই,
পুরাতন বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে দিতে তোমাকে ভুলে যাই,
তারপরেও কাকডাকা ভোরে তোমাকে মনে পড়ে।

রাজনীতির কূটিল আলোচনা করতে করতে তোমাকে ভুলে যাই,
গণিতের জটিল সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে তোমাকে ভুলে যাই,
গবেষণার নতুন ম্যাটেরিয়াল সন্ধান করতে করতে তোমাকে ভুলে যাই,
আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের সেশন চেয়ারে বসে তোমাকে ভুলে যাই,
তারপরেও মন উদাস করা বিকেলে তোমাকে মনে পড়ে।

ধনী বন্ধুর আদুরে মেয়ের জন্য যোগ্য বর খুঁজতে গিয়ে তোমাকে ভুলে যাই,
পদস্থ ব্যাক্তিদের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন করতে গিয়ে তোমাকে ভুলে যাই,
ঢাকার অসহনীয় জ্যামে ঘামতে ঘামতে তোমাকে ভুলে যাই,
শীতকালীন গ্রাম বাংলার ঘন কূয়াশা দেখতে দেখতে তোমাকে ভুলে যাই।
তারপরেও ঐ কুয়াশাই তোমাকে মনে করিয়ে দেয়।

তুমি তো আমার জীবনের কুয়াশাই ছিলে,

অথবা আমি ছিলাম তোমার জীবনের কুয়াশা!!!

রচনাতারিখ: ১১ই জানুয়ারী, ২০২১
রচনাসময়: রাত ১০টা ৩৬ মিনিট

Misty You and I

———————– Ramit Azad