Categories
অনলাইন প্রকাশনা

রমজান মাহিনা

রমজান মাহিনা
————————— রমিত আজাদ

নাজাতের মাস এলো নাম তার রমজান,
বান্দার জিন্দিগে মালিকের সেরা দান!
মাগফেরাত মাহিনাতে ধরণীতে বাহালুল,
ইফতার ও সেহেরিতে বান্দারা মশগুল।
এ মাসের দশ দিনে আরো আছে ফজিলত,
মালিকের দয়া হলে মিলে যাবে রহমত।

কোরানের বাণী এলো কদরের রাত্রি,
সেই থেকে মোমিনেরা আলোকের যাত্রী।
ধার্মিক আদমীরা ভয় করে মরণের।
তাওহীদি জনতারা কথা বলে কোরানের।

মসজিদে নামাজীরা ছুরা পড়ে কায় মনে,
আখেরাতে বিশ্বাসী হাদিসের কথা মানে।
গুণাহগার ভয়ে কাঁদে, হাত তুলে মাফ চায়,
রোজাদার মাস জুড়ে, সিজদাতে পড়ে রয়।

দোযখের ভয় যার দিলে ঢোকে একবার,
সব দায় মেনে নিয়ে, মাফ চায় বারবার।
মোমিনের কান্নাতে জান্নাতে ফোটে ফুল,
রোজাদার দিনভর এবাদতে মশগুল।

তাও কিছু পাপাচারী ভুলে থাকে ধর্ম,
দুনিয়াবী টাকা-কড়ি সেই তার কর্ম।
ক্ষমতার মোহে থাকে চোখ তার বন্ধ,
ওপারের ভয় নাই, দিল তার অন্ধ।

রমজান মাস এলে কাজ বাড়ে জালিমের !
বেশ পারে মূল্যটা বাড়াতে সে দ্রব্যের!
মওজুদ মুনাফায় ভরে নেয় দুই হাত,
কালো টাকা দিয়ে কিগো কেনা যাবে আখেরাত?

দুটি হাত তুলি কাঁদে নিপীড়িত মজলুম,
জালিমের পেষণেতে রাত কাটে নির্ঘুম!
রমজান মাহিনাতে দোয়া করে হরদম,
জালিমের কালো হাত ভেঙে যাক একদম।

তারাবীর নামাজেতে সওয়াবের আশ্বাস,
এ মাসের বরকতে নামাজীর বিশ্বাস।
ধনবান হলে তার দায় আছে কিছু বেশি,
যাকাত আর ফিতরাতে গরীবেরে করে খুশী।

আজান আর ইফতারে কেটে গেলে সার মাস,
হেলাল ওঠে আশমানে শাওয়ালের প্রতিভাস।
মিলনের ঈদগাহে দলে দলে যাবে সব,

তাওহীদি তাকবীরে শুরু হবে উৎসব!

রচনাতারিখ: ২৭শে এপ্রিল, ২০২১ সাল
রচনাসময়: সকাল ০৬টা ২৫ মিনিট

The Holy Ramadan
—————————– Ramit Azad

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

ডান্ডি কার্ড চেকিং – ৩,৪,৫

ডান্ডি কার্ড চেকিং – ৩
ডান্ডি কার্ড চেকিং-এর উপর আগে দুইটা লেখা দিয়েছিলাম। আজ আরেকটি দিচ্ছি।
বাইরে বের হলে আইডি কার্ড অথবা পাসপোর্ট সাথে নেয়ার বিড়ম্বনায় বহু বছর ছিলাম পরাশক্তি রাশিয়াতে।
খুবই অস্বস্তিকর ও বিড়ম্বনাময় ছিলো বিষয়টি। দিনের মধ্যে কয়েকবার পুলিশের মুখোমুখী হতে হতো, আর তারা আইডি কার্ড/পাসপোর্ট চেক করতো। কিছু পুলিশ ভদ্রসভ্য ছিলো, কিছু ছিলো রাফ! অনেকেরই মাথায় থাকতো যে, কোনভাবে মক্কেল-কে আটকাতে পারলে টু-পাইস ইনকাম হবে! এই নিয়ে বহুবার বহু ভালো/মন্দ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। সবগুলো লিখতে গেলে মহাকাব্য হয়ে যাবে!
আগে চারটা লিখেছিলাম। আজ একটা লিখছি:
ঘটনা ৫:
আমি ও আমার সদ্য বিবাহিতা স্ত্রী গিয়েছি বাজার করতে। তা বাজারের সামনেই আমাদেরকে আটকালো দুই ইয়াং পুলিশ কনেস্টেবল। সরাসরি বললো, “ভাশে দকুমেন্তি ইয়েস্ত?”। এর ঊর্দু তর্জমা করলে দাঁড়াবে, “ডান্ডি কার্ড হ্যায়?” আমরা দু’জনাই তখন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র জীবন সমাপ্ত করে পি.এইচ.ডি. গবেষণা করছি। আমি আমার পাসপোর্ট বাড়িয়ে দিলাম। হাতে নিয়ে চেক করলো কনস্টেবল। আমার স্ত্রীর সাথে তখন পাসপোর্ট ছিলো না, কারণ, পাসপোর্ট ছিলো বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসে কোন একটা কাজে। এই রকম সিচুয়েশন হলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটা ‘বলপত্র’ দেয়া হয়, যেখানে ব্যাক্তির ছবিসহ স্পষ্ট লেখা থাকে যে, ‘এই নাম্বারের পাসপোর্টধারী এই নামের ব্যাক্তি, অমুক দেশের; তার পাসপোর্ট আমাদের দফতরে অমুক কাজে রাখা আছে, এত তারিখ পর্যন্ত থাকবে।’ আমার স্ত্রী বলপত্র-টি দেখালেন। ঐ দেখে কনস্টেবল পেয়ে বসলো! বললো, “না, না, এতে কাজ হবে না। এই বলপত্রের কি মূল্য আছে? পাসপোর্ট-ই লাগবে। যাহোক, আপনি থাকেন, মেয়েটিকে আমাদের সাথে থানায় যেতে হবে।” ব্যাটার কথা শুনে আমার মাথায় আগুন ধরে গেলো। আমি ঢাকার ছেলে হলেও, পূর্বপুরুষের বাড়ী বরিশাল। ঐ তেজ আছে কিছু এখনো! রেগে গেলে মেজাজ ঠিক থাকে না!
আমি বললাম, “বলপত্রে তো স্পষ্ট-ই সব লেখা আছে। এরপরেও কথা কিসের?”
কনস্টেবল : আমাদের দরকার পাসপোর্ট। ঐ ‘বলপত্র’ সন্দেহজনক। বিষয়টা ক্লিয়ার করতে হবে। তাই মেয়ে-কে থানায় যেতে হবে।
আমি: মেয়ে-কে নিলে আমাকেও থানায় নিতে হবে। চলেন গাড়ীতে উঠি।
কনস্টেবল : আপনার কাগজ তো ঠিকই আছে। আপনি যাবেন কেন?
আমি: কারণ মেয়েটি আমার বিবাহিতা স্ত্রী। ওকে আমি একা ছেড়ে দিতে পারিনা।
কনস্টেবল এই পর্যায়ে একটু দমে গেলো।
কনস্টেবল: আপনার স্ত্রী? উনার ভিসা/রেজিস্ট্রেশন সব ঠিক আছে কিনা, চেক করা দরকার। পাসপোর্ট-টা কোথায় আছে সেটাও ক্লিয়ার করা দরকার।
আমি: পাসপোর্ট-টা কোথায় আছে সেটা ঐ বলপত্রে ভালোভাবেই লেখা আছে। তাছাড়া উনার ভিসা/রেজিস্ট্রেশন ইত্যাদির ইনফর্মেশনও ঐ বলপত্রে আছে। বলপত্র কি আমরা বানাই? দেখছেন ওখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সীল-ছাপ্পড় সবই আছে?
কনস্টেবল : বিশ্ববিদ্যালয়?
আমি: হ্যা। আমরা ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক। যদি বলপত্র-তে আপনাদের সন্দেহ থাকে তাহলে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টরকে বিষয়টি জানাবো। তাছাড়া আমাদের রেক্টর এখন পুরো রাশিয়ার ‘শিক্ষামন্ত্রী’।
কনস্টেবল : (একটু ধাক্কা খেয়ে) জ্বী, কি বললেন? মন্ত্রী?
আমি: জ্বী, মন্ত্রী। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর বর্তমানে এই দেশের ‘শিক্ষামন্ত্রী’।
এবার দু’জন কনেস্টেবল মুখ চাওয়াচাওয়ি করলো।
আসলে ক্ষমতা দিলে একজন কনস্টেবলও প্রমাণ করতে চায় যে, সে-ই সর্বচ্চো ক্ষমতার অধিকারী। কাউকেই সে কোন সম্মান করতে চায় না। ব্যাক্তির মেধা, পেশা, বয়স কোন কিছুরই তোয়াক্কা করে না।
কনস্টেবল: আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর বর্তমানে রাশিয়ার ‘শিক্ষামন্ত্রী’?
আমি: জ্বী।
কনস্টেবল: কোন বিশ্ববিদ্যালয়?
আমি: রুশ গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়, মস্কো। এখান থেকে এক-দেড় কিলোমিটার হেটে গেলেই আমাদের মেইন ক্যাম্পাস।
কনস্টেবল দুজন কয়েক মিনিট নীরবে দাঁড়িয়ে রইলো।
আমি: তা এখন কি আমরা গাড়ীতে উঠবো?
কনস্টেবল: না থাক। আপনাদের কথা বিশ্বাস করলাম। এই নিন ‘বলপত্র’। যেখানে যাচ্ছিলেন যান।
উল্লেখ্য: রেফারেন্স ও তেজে বহু দেশেই কাজ হয়!

ডান্ডি কার্ড চেকিং – ৪
রাষ্ট্রদূত মান্যবর ডেকে নিয়ে গেলেন তার বাসায়। বাংলাদেশ থেকে উনার বড় মেয়ে আর মেয়ে জামাই এসেছেন মস্কো-তে বেড়াতে। পিতৃতুল্য মান্যবর রাষ্ট্রদূত একজন ভালো মানুষ ছিলেন। পাশাপাশি ছিলেন সুবিবেচক। আমি ভোট দেই না, এমন একটি রাজনৈতিক দলের নেতা ছিলেন তিনি। আমার রাজনৈতিক অবস্থান তিনি ভালোভাবে জানতেন, দুইএকসময় এই নিয়ে বিতর্কও হয়েছে আমাদের মধ্যে। তারপরেও তিনি নানা প্রয়োজনে আমাকে ডাকতেন। আমার সকল অনুরোধও রাখতেন।
উনার স্ত্রী-ও ভালো মানুষ ছিলেন। দুপুর বেলায় উনার নিজ হাতে রান্না ভাত খাওয়ালেন। বড় বড় গলদা চিংড়ি মাছ উনার হাতের রান্না বেশ চমৎকার। সেই স্বাদ এখনও মনে আছে। লাঞ্চ শেষ হলে তিনি বললেন, “বাবা, আমার মেয়ে আর মেয়ে জামাই এসেছেন বেড়াতে। ওদেরকে একটু মস্কোটা ঘুরে দেখাবেন, প্লিজ।” পিতৃ-মাতৃতুল্য ব্যাক্তিদের অনুরোধ কি না রেখে পারা যায়?
যাহোক, উনাদেরকে নিয়ে গাড়ীতে উঠালাম। মেয়ে জামাই আমাদের দেশে বরাবরই একটা ইমপর্টেন্ট পোস্ট, তাই উনার খাতির যত্নের ত্রুটি করতে হয় না। তবে এই দুলাভাই-টি খুব মাই ডীয়ার টাইপের মানুষ। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সখ্যতা হয়ে গেলো উনার সাথে। বললাম, ” — ভাই, পাসপোর্ট-ভিসা সাথে নিয়েছেন তো? এই দেশে কিন্তু পথেঘাটে ‘ডান্ডি কার্ড’ চেকিং হয়! জামাই বলে খাতির করবে না কিন্তু!” তিনি হেসে ফেললেন, বললেন, “হ্যাঁ, আমি শুনেছি। সবকিছু আছে সাথে।” বললাম, “চলেন। প্রথমে ক্রেমলিন ও রেড স্কয়ার-টা ঘুরে আসি। ওটাই মস্কোর প্রাণকেন্দ্র!”

গাড়ী থামলো রেড স্কোয়ার থেকে কিছুটা দূরে। হেটে কিছুদূর সামনে এগিয়ে গিয়ে দেখি, অনেক ভীড়! কি ব্যাপার? আমি উনাদেরকে নিয়ে ঠেলেঠুলে আরো সামনে গেলাম। দেখি পুরো রেড-স্কয়ার ব্যারিকেড দিয়ে ঘেরা। অনেক ইংলিশ-আমেরিকান ট্যুরিস্টও হা করে দাঁড়িয়ে আছে, ভিতরে ঢুকতে পারবে না বলে আফসোস করছে! ব্যারিকেডের ওপাশে উদ্ধত ভঙ্গিতে পুলিশ দাঁড়ানো। আমি একেবারে ব্যারিকেডের সামনে গিয়ে একজন পুলিশ অফিসার-কে প্রশ্ন করলাম, “কি বিষয়? রেড-স্কয়ারে ঢোকা যাবে না?” উত্তরে পুলিশ নিরস বদনে বললো, “না, ভিতরে ঢোকা যাবে না। অনুষ্ঠান আছে আজ বিকালে। তাই সকাল থেকেই ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে।” শুনলাম, দুইজন আমেরিকান মহিলা, বিড়বিড় করে কি যেন বলছে। আমি যতটুকু পারা যায়, দূর থেকে বোন-দুলাভাইদেরকে রেড-স্কয়ার আর ক্রেমলিনটা দেখিয়ে, মন খারাপ করে ওখান থেকে সরে আসলাম।
— ভাই আমাকে বললেন, ঐ আমেরিকান মহিলা দুজন কি বলছিলো শুনেছেন?” আমি বললাম, “না। ঠিক খেয়াল করিনি।”
— ভাই আমাকে বললেন, “একজন মহিলা বললো, ‘ব্যাড লাক, উই কান্ট গো ইনসাইড টুডে!’ আর অপর মহিলাটি বলেছিলো, ‘ওহ! দে আর কম্যুনিস্টস। বি হ্যাপী, দ্যাট ইউ আর স্টিল এ্যালাইভ!”
এই এক্সপ্রেশনের ভাবার্থ হলো, ডান্ডি কার্ড চেকিং-ফেকিং তো কিছুই না। তুমি যে বেঁচে আছো, এটাই তো বড় কথা!
আমরা সবাই উচ্চস্বরে হেসে উঠলাম! পর মুহূর্তে আবার ভাবলাম, ‘হোয়াট ইজ কলড হিউম্যান রাইট?”

ডান্ডি কার্ড সমাচার -৫
জনৈকা মহিলা সাংবাদিক কাম অধ্যাপিকা একবার একটি টক শো-তে মরহুম ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহ্‌-কে প্রশ্ন করেছিলেন যে, “ঢাকা শহরে ভাসমান মানুষদের আইডি কার্ড থাকা দরকার, অনেক দেশেই তো এটা আছে! আপনি কি বলেন?”
উত্তরে জনাব হান্নান শাহ্‌ সাফ সাফ বলে দিয়েছিলেন, “হ্যাঁ, ঐ আইডি কার্ড বিড়ম্বনা বিষয়টি অনেক দেশেই আছে। তবে সেটা মূলত আছে সোসালিস্ট কান্ট্রীগুলোতে আছে। একটা গণতান্ত্রীক রাষ্ট্রে, মুক্ত চিন্তার রাষ্ট্রে এমনটা থাকার কোন সুযোগ নেই।”

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

শহরটা কি এতই বড়?

শহরটা কি এতই বড়?
——————————- রমিত আজাদ

শহরটা কি এতই বড়? সাগর সম, বিশালতার অকূল পাথার?
এত্তগুলো বছর গেলো, রাহুর গ্রাসে সূর্য গেলো কয়েকটিবার,
ছোট্ট শিশু উঠলো বেড়ে, নতুন করে, উন্মেষিত প্রজন্মটার!
এক শহরে থেকেও কভু হয়নি দেখা একটিবারও তোমার-আমার!

জানি তুমি পাশ করেছ, লেখাপড়া শেষ করেছ,
প্রকৌশলীর সনদ নিয়ে আজ গ্রাজুয়েট;
চাকরী নিয়ে কর্মজীবী, অফিস করো ঘড়ি ধরে নিয়মিত।
এই শহরেই দিব্যি আছো, ওয়েল-এমপ্লয়েড।

প্রাণোচ্ছাসে উদ্বেলিত তুমি ছিলে সদ্য ফোটা গোলাপ প্রসূন।
আমি তখন মাঝবয়সী স্বার্থবাদী, নিজ ক্যারিয়ার করছি সৃজন।
জানি তুমি অধীর ছিলে ভালোবাসায়, প্রণয়-সুখের অস্থিরতায়;
আমার কাছে তুমি ছিলে প্রমোদসাথী, ঐটুকুনই, আর কিছু নয়!

মোহের বশে এমন জনে বাসলে ভালো, যে জন ছিলো প্রেম-বিমুখী,
স্বার্থপরে প্রেম বোঝেনা, কাম বোঝে, আর হেলায় ঠেলে পূণ্য তিথি।
শরাবী চায় নতুন নেশা, নয় বঁধুয়া; অনুরাগের বুঝবে সে কি?
লালসাতে মগ্ন যেজন, পাপীই সেজন, পূণ্যস্নানে তার অরুচি!

সেই যে হলো ছাড়াছাড়ি, হারিয়ে গেলাম ক্রমান্বয়ে, সম্ভবত তাড়াতাড়িই;
তাও সে ভালো, যাক যা হলো, নীরব ধারায়, হয়নি কোন বাড়াবাড়িই!
সেই থেকে আর হয়নি দেখা, হয়নি লেখা পত্র কোন, হয়নি কথা টেলিফোনেও;
যদিওবা মোবাইলটাতে আজও আছে, তোমার টাচে লিখে দেয়া সংখ্যাগুলোও!

জানি তোমার নতুন ভূবন, পরিক্রমার কালের চাকায় ঘর বেধেছ পেয়েই সুজন;
আমি ছিলাম শুধুই কূজন, হংস মিথুন থেকেও মোরা, দ্বিধান্বিত ছিলাম দু’জন,
প্রতিক্ষাতে নাই বা ছিলাম, আজ এতকাল পরে তোমায়, পড়ছে মনে নতুন মায়ায়,

কোন কূহকী জাদুর ছোঁয়ায়, নতুন করে কাঁদছে হৃদয়, মন চাইছে দেখতে তোমায়।

রচনাতারিখ: ২৬শে এপ্রিল, ২০২১ সাল
রচনাসময়: রাত ০৩টা ০১ মিনিট

Is the City So Big?
———————— Ramit Azad

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

The Storm of Love Letters (প্রেমপত্রের ঝড়)

The Storm of Love Letters
——————————— Ramit Azad

Suddenly that came today, a Kalboshekhi storm;
Dreams seem to be flying on the head.
Letters of love are flying one after another,
They say, “Did you forget? Look and see!”

That is the first letter there, the first love stain!
The first affection at the touch of a trembling hand!
The first time I saw her, the first flute sounded;
She smiled and ran away, oh! smiling pearls!

I wrote that letter a little later, when I already knew her well
After the school, when the last bell of the day rang,
Standing by the side of the road, I waited to see her;
As she walked on that road returning home in her school uniform.

The blue letter was written much later, a couple of years later;
I wrote, she also wrote, letters one after another
As if there was a competition of letter writing!
Sometimes in the afternoon I saw her on the river bank,
I felt the scent of the wind blew from her waving hands.

And that letter is her madness, she wrote it when she was angry!
We were showing meaningless anger to each other at that time.
Crying eyes, wet eyelids.
Wet letter, wet reading book.

The letter written on that lined paper,
At that time, we met time to time.
When there were family programs, we had the chance to meet.
Whenever the opportunity arose, we talked and talked.

I was then nineteen, she was sweet sixteen,
We spoke in all ways, in silent and loud languages.
Letter after letter we wrote an epic of love,
I carve across the heart, who will think for who?

I wrote that red letter, when I was leaving the homeland,
Call came from abroad, I will go to study somewhere unknown!
That letter was never delivered to her, so
I asked my friend, “Deliver it to her, brother.”

After that no one wrote a letter for many years,
I thought of her in my mind, I saw her in my dreams.
After a few years, I suddenly saw something on the table!
Her letter came to me crossing seven seas!

She also went to another country, to build her fortune there,
Like me, she also embraced the sacrifice of exile!
Our homeland remains as it was, we are just far away;
We purchased one-way tickets, and living far away from each other.

Now the people do not write paper letters,
Now everyone write emails, through the sky.
But I still write letters like an old man.
Even today I am writing a letter in the form of a poem!


Date of composition: April 22, 2021
Writing time: At 12:20

প্রেমপত্রের ঝড়
—————————— রমিত আজাদ

হঠাৎ করে আজ যে এলো, কালবোশেখী ঝড়;
স্বপ্নগুলো কেমন যেন উড়ছে মাথার পর।
প্রেমের চিঠি উড়ছে যেন একের পরে এক,
বলছে তারা, “ভুলেই গেলি? দেখরে চেয়ে দেখ!”

ঐ তো সেথায় প্রথম চিঠি, প্রথম প্রেমের দাগ!
কাঁপা কাঁপা হাতের ছোঁয়ায় প্রথম অনুরাগ!
প্রথম যেদিন দেখি তারে, বাজলো প্রথম বাঁশি;
মুচকি হেসেই পালিয়ে গেলো, মুক্তো ঝরা হাসি!

ঐ চিঠিটা একটু পরের তখন তারে চিনি,
ছুটির পরে তার আশাতেই ঘন্টাধ্বনি গুনি।
পথের ধারে দাঁড়িয়ে থাকি, দেখবো তাকে বলে;
বিদ্যালয়ের পোশাক গায়ে ঐ পথে সে চলে।

নীল চিঠিটা আরো পরের, বছর দুয়েক গেলে;
আমি লিখি, সেও লেখে, পাল্লা দিয়ে চলে!
মাঝে মাঝে বিকেল বেলায় নদীর তীরে দেখি,
দূর থেকে তার হাত নাড়ানোর বাতাস গায়ে মাখি।

আর ঐ চিঠিটা পাগলামী তার, রাগ করেছে মন!
মান-অভিমান চলছে তখন, বৃথাই সারাক্ষণ।
বৃষ্টিসম ঝরছে আঁখি, ভিজছে চোখের পাতা।
তারই সাথে ভিজলো চিঠি, ভিজলো পড়ার খাতা।

রুলটানা ঐ কাগজটাতে যেই চিঠিটা লেখা,
সেই বেলাতে মাঝে-সাঝে হচ্ছে মোদের দেখা।
পারিবারিক মিলন কিবা ঈদ-মিলাদে দাওয়াত পেলে।
সুযোগ হলেই কাছাকাছি, বলছি কথা মনটা খুলে।

আমার তখন বয়স উনিশ, তার ফুরলো ষোল,
সরব-নীরব সব ভাষাতেই মনের কথা হলো।
চিঠির পরে চলছে চিঠি প্রেমের মহাকাব্য,
হৃদয় জুড়ে খোদাই করি, কার কথা কে ভাববো?

লাল চিঠিটা যখন লিখি তখন যাবো অনেক দূর,
বিদেশ থেকে ডাক এসেছে, পড়তে যাবো অচিনপূর!
ঐ চিঠিটা ওর হাতে আর হয়নি দেয়া তাই,
বন্ধু হাতেই গুঁজে দিলাম, “পৌছে দিও ভাই।”

এরপর তো অনেক বছর কেউ লিখিনি চিঠি,
মনে মনেই তাকে ভাবি, মনের পটেই দেখি।
বছর কয়েক ফুরিয়ে গেলে হঠাৎ দেখি একি!
সাত সাগরের ওপার থেকে আসলো তাহার লিপি!

সেও গিয়েছে আরেক দেশে, গড়বে সেথায় ভাগ্য,
আমার মত সেও নিয়েছে নির্বাসনের যজ্ঞ!
দেশ তো আছে যেমন ছিলো, আমরা শুধু দূরে দূরে;
একমুখী এক টিকিট কেটে, যে যার মত আছিই সরে।

চিঠি লেখার চল তো কবেই উঠে গেছে জগৎ থেকে,
এখন সবাই ইমেইল করে, আকাশ জুড়ে জালক পেতে।
আমিই শুধু রইনু পড়ে সেকেলে এক বুড়োর মত,

আজও তারে লিখছি চিঠি কাব্য কথার ছলে যত!

রচনাতারিখ: ২২শে এপ্রিল, ২০২১ সাল
রচনাসময়: আত ১২টা ২০ মিনিট

May be an illustration of 1 person and indoor
Categories
অনলাইন প্রকাশনা

পরিপাটি ঘরেই বিষাদ

পরিপাটি ঘরেই বিষাদ
—————————————- রমিত আজাদ

জানলা গলে আসছে ছুটে, তাজা রোদের দারুণ ধারা;
ফুলদানীটির রঙের ছটা রোদ মেখে আজ আত্মহারা!
চায়ের সেটে মিষ্টি সুবাস, মস্ত টেবিল শোভন খাঁটি
শৌখিন এই খাবার ঘরে, সবকিছু বেশ পরিপাটি!

এই ছবিটা দেখেশুনে ভাবতে পারেন শিল্পরসী,
জানলা পাশে বসে সে যে ঘরের কাজেই মনোবেশী।
সেই শুধু তার সত্য জানে, আনমনা সে কোন ভাবনায়!
অনেক বছর আগের স্মৃতি, ফিরে ফিরে শুধুই কাঁদায়।

সেই কবে যে খেলার মোহে দুজন ছিলো কাছাকাছি,
তাজা রোদের কিরণ মেখে ঘাস গালিচায় লুটোপুটি!
কখনো তার কাঁধে মাথা রেখে হতো বেজায় সুখী,
হাত দুটি তার বক্ষে রেখে, দেখতো তাকে মুখোমুখী।

কানন-ছায়ে কেমন তারা থাকতো চেয়ে আকাশ পানে,
মেঘের গায়ে আল্পনা তার আঁকতো মনের তুলির টানে!
ঝাউগাছে কেউ দেখলে পতগ, খুঁজতো আঁশে পাখির ভিড়,
আঁখির কোনে দেখতো দু’জন, পাখির মতই বাঁধবে নীড়।

তারপরে কোন ঝড়ের তোড়ে, স্বপ্নগুলো ভেসেই গেলো!
এতকালের গড়া খোয়াব, এক নিমিষেই বিদায় নিলো।
ধোঁয়ার মতই মিলিয়ে গেলো, নয়ন-পাতার সব অভিলাষ
শ্রান্ত হলো প্রেমিক মিথুন, ভ্রান্ত হলো আশা-বিলাস!

মিলনমালা গাঁথলো না কেউ, সুতোয় ফুলে বেঁধে বেঁধে;
পরিপাটি ঘরেই কাটে, নিঝুম রাতি জেগে জেগে!
খুইয়েছে সব সেই বিকেলে, অস্তাচলের ধুলির সাথে!

এরপরে সব বিকেলগুলোয় বুক ফেটে যায় আর্তনাদে!

রচনাতারিখ: ২৪শে এপ্রিল, ২০২১ সাল
রচনাসময়: রাত ০২টা ১৪ মিনিট

Unhappiness in a Tidy House
—————————— Ramit Azad

May be an illustration of indoor
Categories
অনলাইন প্রকাশনা

একজন নির্লিপ্ত পুরুষ ও একটি অধীর মেয়ে

একজন নির্লিপ্ত পুরুষ ও একটি অধীর মেয়ে
———————————————- রমিত আজাদ

তানপুরাটির ছয়টি তারে সাতটি সুরের কেমন মেলা!
এই জীবনেও এমনতরো জটিল-কঠিন চলছে খেলা!
ঐ যে সেদিন ঐ মেয়েটি বাসলো ভালো হঠাৎ করেই,
বিবাহিত পুরুষকে এক, রীতিমত যে সংসারী!

মেয়েটিতো কম বয়সের, সদ্য ফোটা গোলাপ সে যে!
পাপড়ি মেলে দিচ্ছে ধরা, আকাশ ঝরা রোদের কাছে।
এই তো সেদিন পুতুল খেলে ভাঙতো মাটি খেলনাগুলার।
এখন সে তার আঁচল টেনে লুকিয়ে রাখে লাবণ্য তার।

মেয়েটি কি জানতো ভুলেও এমনতরো ঘটবে আহা?
টুপ করে তার হৃদয় মাঝে ডুব দেবে ঐ শাহেনশাহা!
শাহেনশাহ্‌ না হতচ্ছাড়া! কি আছে ওর গল্প-কথায়?
বয়স যে তার অনেক হলো, তাও মজালো অল্প কথায়!

মেয়েটি নয় একটু অসৎ, যায়নি কোন গোল বাধাতে;
জোর করে সে মন বাধেনি, চায়নি তাহার মন রাঙাতে।
ছিলো না তার একটুখানি, মন্দ কোন লক্ষ্য বিলাস,
কষেনি সে অংক কোন, মিটাতে তার হীন্‌ অভিলাষ!

অজান্তে সে বাসলো ভালো বিবাহিত একটি পুরুষ,
একান্তে তার অশ্রুজলে, মুক্ত আঁখি রইলো বেহুশ!
কার কাছে যে পড়বে বাধা, কার মন যে কেমন করে?
কার নয়নে লাগবে ভালো কোন মানুষে চুপটি করে!

আছে কোন যুক্তি-লজিক ভালোবাসার এই আবেগের?
থাকলেও তা সুক্ষ এত, সাধ্যি বোঝার কোন মানুষের?
তোমরা শুধু বকতে জানো, বলতে পারো, “বুদ্ধু কেন!”
দরদ মাখা হাত বাড়িয়ে, দিতে পারো বুদ্ধি কোন?

মেয়েটি তো জানায়নি তার ভালোবাসার কথা তারে,
নিজের মনেই গুমরে মরে, কাঁদলো শুধু ব্যাথার ভারে!
তবুও সে পুরুষটি আজ জেনেছে তার মনের কথা,
ভাববে কি সে? পাতক মেয়ে? বেশর্মিলা বুনোলতা?

স্বর্ণলতার কি দোষ বলো? কোমল যে তার মন-অবয়ব!
তাই তো সে যে লুটিয়ে পড়ে, তৃষ্ণাতুরা অবুঝ পতগ।
গৃহী পুরুষ, বয়স হলো; তাছাড়া তার মন টানেনা পথে;
বালিকা তা ঠিকই জানে, গৃহের স্বপন বৃথাই তাহার সাথে।

এখন মেয়ে করবে কি যে? এমন করেই কাটিয়ে দেবে বেলা?
জীবন নিয়ে খেলবে সে এক ব্যার্থ পথিক, অর্থহীনা ছিনিমিনি খেলা?
উপেক্ষিতা থেকে থেকে, ব্যাকুলতায় ভেসেই যাবে যেন!

মায়ার জালেই বাধলে যদি, এত রুপের পৃথিবীটা, এতই নিঠুর কেন?

রচনাতারিখ: ২৩শে এপ্রিল, ২০২১ সাল
রচনাসময়: রাত ০১টা ০১ মিনিট

An Aged Man and a Young Girl
—————————————— Ramit Azad

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

Буря любовных писем (প্রেমপত্রের ঝড়)

Буря любовных писем
—————————– Рамит Азад

Вдруг что пришла сегодня, Калбошехи шторм;
Мечты словно летают за головой.
Письма любви летят один за другим,
Они говорят: «Ты забыл? Посмотри и увидишь!»

вот первое письмо там, первое пятно любви!
Первые ласки от прикосновения дрожащей руки!
Когда В первый день я ее увидел, заиграла первая флейта;
улыбнулась и убежала, жемчужнная улыбка!

Я написал это письмо немного позже, тогда я уже знаю ее
После школы чтобы увидеть ее я рассчитал звонок.
Стоя на дороги, я Я ждал ее,
в школьной форме она ходила на этой дороге।

Синяя письмо гораздо позже, пару лет спустя;
Пишу я, пишет она, идет соревнование!
Иногда днем ​​я вижу ее на берегу реки,
Я мазаю ветер, идущий из ее рук

И это письмо – ее безумие, от обиды!
Когда происходит обидчивость, все время напрасно.
Дождь в ее глазах, мокрые веки.
Мокрое письмо с ним, мокрая книга для чтения.

Тот Письмо написанное в линованной бумаге,
В то время время от времени мы встречаемся.
В семейных посиделках или по праздникам,
Когда появляется возможность, мы общались много.

Мне тогда было девятнадцать, ее было шестнадцать,
Мы говорил на всех языках . На тихом языке, и на на громком языке
письмо за письмом – эпичные поэзия любви,
Я прорезаю сердце, кто будет думать за кого?

Когда я написал красную письмо, я далеко улетаю,
Вызов из-за границы, поеду учиться там
Письмо ей так и не мо доставит, поэтому
Я дал в руке моего друга: «Доставь, брат».

После этого много лет никто не кому ни писал письма,
Я думал о ней в своей голове, Я видел ее во сне
Через несколько лет я вдруг вижу что то!
Ее письмо из-за границы।

Он тоже уехал в другую страну, там удача будет строить,
Как и я, она тоже принесла жертву изгнания!
Страна такая есть, какая она была, просто нас там нет;
Купили билет в один конец, живем по своим.

В настоящее время никто не пишет письма
Теперь все пишут по электронной почте,
А Я как старик, даже современное время я пишу письма по старому,

пишу ей письма во виде стихов!

Дата составления: 22 апреля 2021 г.
Время написания: 12:20

প্রেমপত্রের ঝড়
—————————- রমিত আজাদ

হঠাৎ করে আজ যে এলো, কালবোশেখী ঝড়;
স্বপ্নগুলো কেমন যেন উড়ছে মাথার পর।
প্রেমের চিঠি উড়ছে যেন একের পরে এক,
বলছে তারা, “ভুলেই গেলি? দেখরে চেয়ে দেখ!”

ঐ তো সেথায় প্রথম চিঠি, প্রথম প্রেমের দাগ!
কাঁপা কাঁপা হাতের ছোঁয়ায় প্রথম অনুরাগ!
প্রথম যেদিন দেখি তারে, বাজলো প্রথম বাঁশি;
মুচকি হেসেই পালিয়ে গেলো, মুক্তো ঝরা হাসি!

ঐ চিঠিটা একটু পরের তখন তারে চিনি,
ছুটির পরে তার আশাতেই ঘন্টাধ্বনি গুনি।
পথের ধারে দাঁড়িয়ে থাকি, দেখবো তাকে বলে;
বিদ্যালয়ের পোশাক গায়ে ঐ পথে সে চলে।

নীল চিঠিটা আরো পরের, বছর দুয়েক গেলে;
আমি লিখি, সেও লেখে, পাল্লা দিয়ে চলে!
মাঝে মাঝে বিকেল বেলায় নদীর তীরে দেখি,
দূর থেকে তার হাত নাড়ানোর বাতাস গায়ে মাখি।

আর ঐ চিঠিটা পাগলামী তার, রাগ করেছে মন!
মান-অভিমান চলছে তখন, বৃথাই সারাক্ষণ।
বৃষ্টিসম ঝরছে আঁখি, ভিজছে চোখের পাতা।
তারই সাথে ভিজলো চিঠি, ভিজলো পড়ার খাতা।

রুলটানা ঐ কাগজটাতে যেই চিঠিটা লেখা,
সেই বেলাতে মাঝে-সাঝে হচ্ছে মোদের দেখা।
পারিবারিক মিলন কিবা ঈদ-মিলাদে দাওয়াত পেলে।
সুযোগ হলেই কাছাকাছি, বলছি কথা মনটা খুলে।

আমার তখন বয়স উনিশ, তার ফুরলো ষোল,
সরব-নীরব সব ভাষাতেই মনের কথা হলো।
চিঠির পরে চলছে চিঠি প্রেমের মহাকাব্য,
হৃদয় জুড়ে খোদাই করি, কার কথা কে ভাববো?

লাল চিঠিটা যখন লিখি তখন যাবো অনেক দূর,
বিদেশ থেকে ডাক এসেছে, পড়তে যাবো অচিনপূর!
ঐ চিঠিটা ওর হাতে আর হয়নি দেয়া তাই,
বন্ধু হাতেই গুঁজে দিলাম, “পৌছে দিও ভাই।”

এরপর তো অনেক বছর কেউ লিখিনি চিঠি,
মনে মনেই তাকে ভাবি, মনের পটেই দেখি।
বছর কয়েক ফুরিয়ে গেলে হঠাৎ দেখি একি!
সাত সাগরের ওপার থেকে আসলো তাহার লিপি!

সেও গিয়েছে আরেক দেশে, গড়বে সেথায় ভাগ্য,
আমার মত সেও নিয়েছে নির্বাসনের যজ্ঞ!
দেশ তো আছে যেমন ছিলো, আমরা শুধু দূরে দূরে;
একমুখী এক টিকিট কেটে, যে যার মত আছিই সরে।

চিঠি লেখার চল তো কবেই উঠে গেছে জগৎ থেকে,
এখন সবাই ইমেইল করে, আকাশ জুড়ে জালক পেতে।
আমিই শুধু রইনু পড়ে সেকেলে এক বুড়োর মত,

আজও তারে লিখছি চিঠি কাব্য কথার ছলে যত!

রচনাতারিখ: ২২শে এপ্রিল, ২০২১ সাল
রচনাসময়: আত ১২টা ২০ মিনিট

The Storm of Love Letters
————— Ramit Azad

(একজন রুশ অধ্যাপিকা বাংলা কবিতাটা পড়ে মন্তব্য করেছিলেন, “খুবই হার্ট টাচিং কবিতা।”
আমি বললাম, “আপনি কি বাংলা বোঝেন?”
তিনি বললেন, “না। আমি ট্রান্সলেটর ইউজ করে পড়েছি।”
আমি দেখলাম যে, ট্রান্সলেটর অত ভালো অনুবাদ করতে পারে না।
তাই এখন আমি কাঁচা হাতে নিজেই অনুবাদ করছি।
অনুবাদের ত্রুটি থাকলে বলবেন। সংশোধন করে দেব)

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

প্রেমপত্রের ঝড়

প্রেমপত্রের ঝড়
—————————- রমিত আজাদ

হঠাৎ করে আজ যে এলো, কালবোশেখী ঝড়;
স্বপ্নগুলো কেমন যেন উড়ছে মাথার পর।
প্রেমের চিঠি উড়ছে যেন একের এক,
বলছে তারা, “ভুলেই গেলি? দেখরে চেয়ে দেখ!”

ঐ তো সেথায় প্রথম চিঠি, প্রথম প্রেমের দাগ!
কাঁপা কাঁপা হাতের ছোঁয়ায় প্রথম অনুরাগ!
প্রথম যেদিন দেখি তারে, বাজলো প্রথম বাঁশি;
মুচকি হেসেই পালিয়ে গেলো, মুক্তো ঝরা হাসি!

ঐ চিঠিটা একটু পরের তখন তারে চিনি,
ছুটির পরে তার আশাতেই ঘন্টাধ্বনি গুনি।
পথের ধারে দাঁড়িয়ে থাকি, দেখবো তাকে বলে;
বিদ্যালয়ের পোশাক গায়ে ঐ পথে সে চলে।

নীল চিঠিটা আরো পরের, বছর দুয়েক গেলে;
আমি লিখি, সেও লেখে, পাল্লা দিয়ে চলে!
মাঝে মাঝে বিকেল বেলায় নদীর তীরে দেখি,
দূর থেকে তার হাত নাড়ানোর বাতাস গায়ে মাখি।

আর ঐ চিঠিটা পাগলামী তার, রাগ করেছে মন!
মান-অভিমান চলছে তখন, বৃথাই সারাক্ষণ।
বৃষ্টিসম ঝরছে আঁখি, ভিজছে চোখের পাতা।
তারই সাথে ভিজলো চিঠি, ভিজলো পড়ার খাতা।

রুলটানা ঐ কাগজটাতে যেই চিঠিটা লেখা,
সেই বেলাতে মাঝে-সাঝে হচ্ছে মোদের দেখা।
পারিবারিক মিলন কিবা ঈদ-মিলাদে দাওয়াত পেলে।
সুযোগ হলেই কাছাকাছি, বলছি কথা মনটা খুলে।

আমার তখন বয়স উনিশ, তার ফুরলো ষোল,
সরব-নীরব সব ভাষাতেই মনের কথা হলো।
চিঠির পরে চলছে চিঠি প্রেমের মহাকাব্য,
হৃদয় জুড়ে খোদাই করি, কার কথা কে ভাববো?

লাল চিঠিটা যখন লিখি তখন যাবো অনেক দূর,
বিদেশ থেকে কল এসেছে, পড়তে যাবো অচিনপূর!
ঐ চিঠিটা ওর হাতে আর হয়নি দেয়া তাই,
বন্ধু হাতেই গুঁজে দিলাম, “পৌছে দিও ভাই।”

এরপর তো অনেক বছর কেউ লিখিনি চিঠি,
মনে মনেই তাকে ভাবি, মনের পটেই দেখি।
বছর কয়েক ফুরিয়ে গেলে হঠাৎ দেখি একি!
সাত সাগরের ওপার থেকে আসলো তাহার লিপি!

সেও গিয়েছে আরেক দেশে, গড়বে সেথায় ভাগ্য,
আমার মত সেও নিয়েছে নির্বাসনের যজ্ঞ!
দেশ তো আছে যেমন ছিলো, আমরা শুধু দূরে দূরে;
একমুখী এক টিকিট কেটে যে যার মত আছিই সরে।

চিঠি লেখার চল তো কবেই উঠে গেছে জগৎ থেকে,
এখন সবাই ইমেইল করে, আকাশ জুড়ে জালক পেতে।
আমিই শুধু রইনু পড়ে সেকেলে এক বুড়োর মত,

আজও তারে লিখছি চিঠি কাব্য কথার ছলে যত!

রচনাতারিখ: ২২শে এপ্রিল, ২০২১ সাল
রচনাসময়: আত ১২টা ২০ মিনিট

The Storm of Love Letters
——————— Ramit Azad

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

আলিঙ্গন যদি করতেই হয়

আলিঙ্গন যদি করতেই হয়
————————– রমিত আজাদ

আলিঙ্গন যদি করতেই হয়,
তুমি আত্মসমর্পন করো।
আমি ছেয়ে দেব তোমার পুরোটা শরীর।
আমি ছুঁয়ে দেব এমন সব স্পর্শকাতর আয়তায়,
যেন তোমার হৃদয় তক পৌঁছে যায়
নিঃশঙ্ক পরশনের অদৃশ্য তরঙ্গ!

প্রেম মানেই তো আলিঙ্গনের উন্মত্ত নিস্পেষণ,
আর অধরে অধর অমিয়ের তপ্ত অমৃত সেবন।
তুমি আঁকড়ে থাকো আমাকে মাধবী লতার মত।
তুমি আঁকড়ে থাকো আমাকে স্বর্ণলতিকার মায়াডোরে।
আমি বুক ভরে নেব সুবাস প্রগলভা বুনো লতার।
বারংবার ছুঁয়ে দেব উত্থিত বৃন্ত।
অদম্য প্রতিটি ইচ্ছা এঁকে দেব মেলেধরা সবগুলো পাঁপড়িতে।

উষ্ণতার তীব্রতায় থাকা নীরব রমণীয় আবাহনে
তুমি খুলে দিও মায়াবী কপাট।
আমিও উদ্ধত হবো অনায়াসে।
অশ্বারোহী বেশে প্রবেশ করবো এতকালের অনাবিষ্কৃত অন্ধ গলিতে।
যেমন যুদ্ধের ময়দানে মুগ্ধতা চায় অবিমৃশ্যকারী যোদ্ধা।
আচ্ছাদন সরিয়ে দেখে নেব পাতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা লাজুক অপরাজিতা।
প্রশ্রয়ের সুযোগ নিয়ে ছুঁয়ে দেব তার মোহনীয় রমণীস্তবক।
বিবস্ত্র শ্রোণীর ব্যঞ্জনায় আল্পনা আঁকবে আমার অধৈর্য দশটি অঙুলি।
নন্দিত সুখ-যন্ত্রনায় শিহরণে শিহরণে জোয়ার জাগবে
তোমার প্রতিটি রন্ধ্রের নেশাতুর আরক্তিম প্রবাহে।

সদ্য উম্নোচিত তন্বীতনুর প্রগাঢ় রহস্য তৃষ্ণার
শিরশিরে কম্পন উপলদ্ধির মর্মোদ্ধার করতেই
মেঘেরা সাড়া দেবে সূর্যের ডাকে।
অতঃপর নামবে ঘোরতর বর্ষণ ।
শ্রাবণের বিরতিহীন বজ্রনিনাদে
সেই বারিপাত হোক সুতীব্র! ছাপিয়ে দিক আপগার একুল-ওকুল!
তোমার মেলে দেয়া শরীরের ভরা ভাদ্রের জোয়ারে
নির্দ্বিধায় দাঁপিয়ে বেড়াবো দুর্বার সমুদ্রের মোহনা,

আমি এক উদ্দাম সাঁতারু!

রচনাতারিখ: ২১শে এপ্রিল, ২০২১ সাল
রচনাসময়: দুপুর ০২টা ৫৭ মিনিট

If I Have to Embrace
———————– Ramit Azad

May be art of one or more people
Categories
অনলাইন প্রকাশনা

আলিঙ্গন যদি করতেই হয়


আলিঙ্গন যদি করতেই হয়

————————– রমিত আজাদ

আলিঙ্গন যদি করতেই হয়,
তুমি আত্মসমর্পন করো।
আমি ছেয়ে দেব তোমার পুরোটা শরীর।
আমি ছুঁয়ে দেব এমন সব স্পর্শকাতর আয়তায়,
যেন তোমার হৃদয় তক পৌঁছে যায়
সুধা পরশনের অদৃশ্য তরঙ্গ!

প্রেম মানেই তো আলিঙ্গনের উন্মত্ত নিস্পেষণ,
আর অধরে অধর অমিয়ের তপ্ত অমৃত সেবন।
তুমি আঁকড়ে থাকো আমাকে মাধবী লতার মত।
তুমি আঁকড়ে থাকো আমাকে স্বর্ণলতিকার মায়াডোরে।
আমি বুক ভরে নেব সুবাস প্রগলভা বুনো লতার।
বারংবার ছুঁয়ে দেব উত্থিত বৃন্ত।
অদম্য প্রতিটি ইচ্ছা এঁকে দেব মেলেধরা সবগুলো পাঁপড়িতে।

উষ্ণতার তীব্রতায় থাকা নীরব রমণীয় আবাহনে
তুমি খুলে দিও মায়াবী কপাট।
আমিও উদ্ধত হবো অনায়াসে।
অশ্বারোহী বেশে প্রবেশ করবো এতকালের অনাবিষ্কৃত অন্ধ গলিতে।
যেমন যুদ্ধের ময়দানে মুগ্ধতা চায় অবিমৃশ্যকারী যোদ্ধা।
আচ্ছাদন সরিয়ে দেখে নেব পাতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা নীল অপরাজিতা।
প্রশ্রয়ের সুযোগ নিয়ে ছুঁয়ে দেব তার মোহনীয় রমণীস্তবক।
বিবস্ত্র শ্রোণীর ব্যঞ্জনায় আল্পনা আঁকবে আমার অধৈর্য দশটি অঙুলি।
নন্দিত সুখ-যন্ত্রনায় শিহরণে শিহরণে জোয়ার জাগবে
তোমার প্রতিটি রন্ধ্রের নেশাতুর আরক্তিম প্রবাহে।

সদ্য উম্নোচিত তন্বীতনুর প্রগাঢ় রহস্য তৃষ্ণার
শিরশিরে কম্পন উপলদ্ধির মর্মোদ্ধার করতেই
মেঘেরা সাড়া দেবে সূর্যের ডাকে।
অতঃপর নামবে ঘোরতর বর্ষণ ।
শ্রাবণের বিরতিহীন বজ্রনিনাদে
সেই বারিপাত হোক সুতীব্র! ছাপিয়ে দিক আপগার একুল-ওকুল!
তোমার মেলে দেয়া শরীরের ভরা ভাদ্রের জোয়ারে
নির্দ্বিধায় দাঁপিয়ে বেড়াবো দুর্বার সমুদ্রের মোহনা,

আমি এক উদ্দাম সাঁতারু!

রচনাতারিখ: ২১শে এপ্রিল, ২০২১ সাল
রচনাসময়: দুপুর ০২টা ৫৭ মিনিট

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

ডান্ডি কার্ড চেকিং – ১, ২

আইডি কার্ড চেকিং সমাচার:

বাইরে বের হলে সাথে আইডি কার্ড অথবা পাসপোর্ট নেয়ার বিড়ম্বনায় বহু বছর ছিলাম রাশিয়াতে।খুবই অস্বস্তিকর ছিলো বিষয়টি। দিনের মধ্যে কয়েকবার পুলিশের মুখোমুখী হতে হতো, আর তারা আইডি কার্ড/পাসপোর্ট চেক করতো। কিছু পুলিশ ভদ্রসভ্য ছিলো, কিছু ছিলো রাফ! এই নিয়ে বহুবার বহু ভালো/মন্দ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। সবগুলো লিখতে গেলে মহাকাব্য হয়ে যাবে!দুই-একটা লিখছি।১। ওখানকার কার্টেসী হলো যেকোন নাগরিক-কেই পুলিশ প্রথম স্যালুট দিবে তারপর তার আইডি কার্ড/পাসপোর্ট চাইবে। একবার দুজন পুলিশ (বয়স পচিশ-ত্রিশ) আমাকে আইডি কার্ড/পাসপোর্ট চেক করার উদ্দেশ্যে থামালো, তারপর স্যালুট দিলো। উত্তরে আমিও স্যালুট দিয়ে তাদের অভিবাদন গ্রহন করলাম। এবার তারা মুখ চাওয়াচাওয়ি করলো। একজন মুচকি হেসে আরেকজনকে বললো, “তিনি স্যালুটের উত্তর দিয়েছেন!” আমি হেসে বললাম, “ভাই মিলিটারী স্কুলে লেখাপড়া করেছি, এই কার্টেসী আমার জানা আছে।” এবার তারা হেসে বললো, “থাক, আপনি যান। আর চেক করতে হবে না।”২। ছাত্রাবস্থায় সাথে পাসপোর্ট নিয়ে বের হওয়াটা বাধ্যতামূলক ছিলো। পুলিশ চেক করতো যে, আমরা ভিসা-রেজিস্ট্রেশন পাওয়া লিগাল বিদেশী, নাকি ইল্লিগাল এলিয়েন। আর যখন চাকুরীতে ঢুকলাম, তখন আর পাসপোর্ট সাথে নিতাম না। আমার সাথে সরকার প্রদত্ত আইডি কার্ড ছিলো, যেখানে স্পষ্ট লেখা ছিলো যে, আমি একটি প্রতিনিধিত্বমূলক বিদেশী অর্গানাইজেশনের কর্মকর্তা। এটাকে পুলিশ ইউজুয়ালী সমীহ করতো। তা একবার এক ঘাড়ত্যাড়া ও অভদ্র টাইপ পুলিশের পাল্লায় পড়লাম। তার র‍্যাঙ্ক ছিলো ক্যাপটেন। সে কিছুতেই এটা মানতে চায় না। বলে, “পাসপোর্ট কই? ভিসা আছে নাকি?” আমার মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো। আমিও ঝকঝকে রুশ ভাষায় ত্যাড়া কথাবার্তা বললাম। কিছুক্ষণ গজগজ করে সে চলে গেলো।৩। একদিন উইকএন্ডে বেরিয়েছি। গ্রোসারী করতে যাবো। তা দুই পুলিশ কনস্টেবল, আমার পাসপোর্ট চাইলো। আমি সরকার প্রদত্ত আইডি কার্ড-টি দেখালাম। তারা কতক্ষণ মুখ চাওয়া-চাওয়ি করে বলে, “এটা বুঝলাম না।”আমি: না বোঝার কি আছে? সব তো লেখাই আছে।পুলিশ: আপনার পাসপোর্ট কোথায়?আমি: পাসপোর্ট বাসায় আছে। সেটা নিয়ে বের হই না। আমাদের ক্ষেত্রে এই আইডি কার্ডই যথেষ্ট!পুলিশ: না ভাই। আপনাকে আমাদের সাথে থানায় যেতে হবে। গাড়ীতে ওঠেন।আমি উঠলাম ওদের গাড়ীতে। যাওয়ার পথে ওরা আমার ঝকঝকে রুশ ভাষা শুনে কিছুটা কনফিউজড হলো। যাহোক, থানায় নিয়ে একটা সোফায় বসতে বললো। এ সময় সেই ঘাড়ত্যাড়া ক্যাপ্টেন সেখানে উপস্থিত হলো। কনেস্টেবল দু’জন তাকে বলে, “ক্যাপ্টেন, দেখেন তো, এই যে উনি। উনার কাগজপত্র সব ঠিক আছে কি না?”আমাকে দেখেই ঐ ক্যাপ্টেন চিনতে পারলো; তারপর কোন কথা না বলেই সোজা থানা থেকে বের হয়ে গেলো, আর ফিরে আসার নাম নাই। এর কিছুক্ষণ পর ডিউটি অফিসার এসে বলে, “নেন ভাই আপনার আইডি কার্ড নেন। ছুটির দিন, যোগাযোগ করে কোথাও কাউকে পেলাম না। আশা করি আপনার সব বৈধতা আছে। যেখানে যাচ্ছিলেন যান।”

ডান্ডি কার্ড চেকিং – ২

গতকাল ডান্ডি কার্ড চেকিং-এর উপর একটা লেখা দিয়েছিলাম। আজ আরেকটি দিচ্ছি।

বাইরে বের হলে সাথে আইডি কার্ড অথবা পাসপোর্ট নেয়ার বিড়ম্বনায় বহু বছর ছিলাম পরাশক্তি রাশিয়াতে।
খুবই অস্বস্তিকর ও বিড়ম্বনাময় ছিলো বিষয়টি। দিনের মধ্যে কয়েকবার পুলিশের মুখোমুখী হতে হতো, আর তারা আইডি কার্ড/পাসপোর্ট চেক করতো। কিছু পুলিশ ভদ্রসভ্য ছিলো, কিছু ছিলো রাফ! অনেকেরই মাথায় থাকতো যে কোনভাবে মক্কেল-কে আটকাতে পারলে টু-পাইস ইনকাম হবে! এই নিয়ে বহুবার বহু ভালো/মন্দ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। সবগুলো লিখতে গেলে মহাকাব্য হয়ে যাবে!
গতকাল তিনটা লিখেছিলাম। আজ একটা লিখছি:

ঘটনা ৪: আমি তখন আর ছাত্র জীবনে নাই। ছাত্রাবস্থায় সাথে পাসপোর্ট নিয়ে বের হওয়াটা বাধ্যতামূলক ছিলো। পুলিশ চেক করতো যে, আমরা ভিসা-রেজিস্ট্রেশন পাওয়া লিগাল বিদেশী, নাকি ইল্লিগাল এলিয়েন। আর যখন চাকুরীতে ঢুকলাম, তখন আর পাসপোর্ট সাথে নিতাম না। আমার সাথে সরকার প্রদত্ত আইডি কার্ড ছিলো, যেখানে স্পষ্ট লেখা ছিলো যে, আমি একটি প্রতিনিধিত্বমূলক বিদেশী অর্গানাইজেশনের কর্মকর্তা। এটাকে রুশ পুলিশ ইউজুয়ালী সমীহ করতো। আমাদেরকে অনেকটা ডিপ্লোম্যাট-দের কাছাকাছিই ধরা হতো। থাকতেও দেয়া হয়েছিলো, ডিপ্লোমেটিক ব্লক-এর এ্যাপার্টমেন্ট-এ।

তা একদিন গিয়েছি অল রাশান এক্সিবিশন সেন্টার-এ। এটা একইসাথে ছিলো বেড়ানো ও কেনাকাটার জায়গা। তাই পুরো রাশিয়ার ছেলেবুড়ো সকলেই এখানে আসতো। সঙ্গত কারণেই পুলিশের আনাগোনা, টহলও ওখানে বেশী ছিলো। তা পুলিশের মধ্যে পুরুষ ও লেডী পুলিশ দুই রকমই ছিলো। অল রাশান এক্সিবিশন সেন্টার-এর একটা বড় ফোয়ারার কাছাকাছি দাঁড়িয়ে আছি। এসময়, হঠাৎ ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে দুইজন টহল পুলিশ আমার দিকে এগিয়ে এলো। এদের একজন ছিলো পুরুষ আর অপরজন লেডী পুলিশ। ঘোড়সওয়ার পুরুষ পুলিশটিকে নায়ক ওয়াসীম-এর মত একদম লাগছিলো না। আমাকে তারা বললেন, “আপনার পাসপোর্ট দেখান।” আমি তখন আর পাসপোর্ট ক্যারি করিনা, আমার আইডি কার্ডটা সাথেই ছিলো। আমি তাকিয়ে দেখলাম যে, লেডী পুলিশটি ইয়াং এবং আগুন রূপসী! আমি ডান্ডি কার্ড-টি ঐ রূপসীর হাতে তুলে দিলাম; সাথে একটা ভূবন ভোলানো হাসিও উপহার দিলাম। আমি জানি, যতই ইউনিফর্মধারী হোক না কেন, নারী তো! চতুর্দিকে শেতাঙ্গ পুরুষ দেখে দেখে সে হয়তো ক্লান্ত। এ সময় একজন শ্যামবর্ণ তরুণের মোহনীয় হাসি, তার হৃদয়ে তোলপাড় ঘটাতেও পারে! সেটা ঘটেছিলো কিনা তা সেই রূপসী তরুণী তার ফেশিয়াল এক্সপ্রেশনে আমাকে বুঝতে দেয়নি। তবে আমার অভিজ্ঞ চোখে তার হাতের রঙিন নখরওয়ালা সরু আঙুলগুলোতে কম্পন আমি ঠিকই লক্ষ্য করেছিলাম!

পিছন থেকে একটা দুষ্ট কিশোর বলে উঠলো, “এই মেয়ে, এই মেয়ে, আমার ডকুমেন্ট-টাও চেক করোনা! আমিও চেকড হতে চাই।”

আমার আইডি কার্ডটি হাতে নিয়ে রূপসী পুলিশ এক মিনিট-ও দেখলো না। দ্রুত ফিরিয়ে দিয়ে বললো, “ধন্যবাদ আপনাকে।” সহকর্মী পুরুষ পুলিশটি অস্থির হয়ে উঠলো, “কি কি? সব ঠিক আছে তো?” উঁকি ঝুঁকি দিয়ে কার্ডটি দেখতে চাইলো। এম্নিতেও পাসপোর্ট না দেখে সে অসন্তস্ট ছিলো। হা করে তাকিয়ে আছে পুরুষ পুলিশটি। আগুন রূপসী লেডী পুলিশ-টি কনফিডেন্স নিয়ে তাকে বললো, “ইটস ওকে! এভরিথিং ইজ নর্মাল। নো প্রব্লেম।”

তারপর দ্রুত ঘোড়া ঘুরিয়ে ওখান থেকে চলে গেলো! আমি কিছুক্ষণ তার চলার পথের দিকে তাকিয়ে ছিলাম! আমি তখনও পুরোপুরি কবি হইনি!!!!!

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

প্রণয়ের পরশন

প্রণয়ের পরশন
—————————– রমিত আজাদ

দুই হাতে আবেগেতে খুলেছি যে বস্ত্র,
আমাকেই সুখ দিতে, হয়েছে সে নগ্ন।
মন থেকে আমাকে সে আপনার ভেবেছে,
কায়া ভরা সুখ নিয়ে কেঁপে কেঁপে উঠেছে!

জানিনাতো, ছিলো কি তা আইনত পরিণয়?
তবে ঠিক জানি আমি, ছিলো না তা অভিনয়।
সুখ নিয়ে সুখ দিয়ে, করেছি কি মহাপাপ?
কই তুমি করোনি তো এতটুকু প্রতিবাদ!

তাও আমি বলেছিতো, “অনুমতি নেব কি?”
উত্তরে বলেছিলে, “প্রয়োজন আছে কি?”
বলেছিলে তুমি তায়, “দুইজন, কি আপন!
আর মোরা নই পর, তুমি আমি একমন।”

যেই সুখ, যে আবেশ ছিলো তব চোখে-মুখে,
বৃষ্টির ধারা যেন ঝরেছিলো নীলিমাতে!
বৈশাখী ঝড় যেন ছেয়েছিলো দু’নয়ন,
সবটুকু ছিলো সে তো ভালোবাসা পরশন।

সেই রাতে, সেই প্রাতে দু’জনার তর্জন!
আষাঢ়ের মেঘে যেন বজ্রের গর্জন!
বিজলীর চমকানি নির্জনে চুপচাপ,
নিউরনে সুর তুলি, রাগিনীর বৈভব।

অশনিতে যদি বাজে বিপদের ডঙ্কা,
প্রণয়ের সেনা আমি, করিনাতো শঙ্কা।
কই তুমি করোনি তো এতটুকু প্রতিবাদ!
সুখ নিয়ে সুখ দিয়ে, করেছি কি মহাপাপ?

সুর হলে অবসান, চোখে চোখে আলাপন,
মাঝে মাঝে বাকহীন মৃদু মৃদু পরশন।
স্বর্গটা আছে কোথা, কভু তাকে দেখিনি,

সেদিনের সুর ছিলো স্বর্গীয় রাগিনী!

রচনাতারিখ: ১৬ই এপ্রিল, ২০২১ সাল
রচনাসময়: রাত ০২টা ৪৭ মিনিট

The Love Touch
———————– Ramit Azad

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

দ্বিতীয় তরঙ্গ

দ্বিতীয় তরঙ্গ
————————————— রমিত আজাদ

দোসরা দফায় ঢেউ জেগেছে ক্ষুদ্র জীবের সৃষ্টিতে,
পিষ্ট যে আজ মানব-দানব নির্যাতনের যষ্টিতে।
মৃত্যু-দূতের নিষ্ঠুরতায় বাড়ছে গোরের খননকাজ,
নিজ মহলে নিজেই কয়েদ, নিজের কাছেই বন্দী আজ!

সংকটে আজ পথের দাবী, পথহারা সব যাত্রীদল,
দিনের আলোয় অন্ধ আকাশ, মৃত্যুপথের অস্তাচল!
ঊষার শিখায় বন্ধ দুয়ার, আশার আলো নিরুদ্দেশ,
বিনিদ্র সব নিদ্রাবিলাস, ক্ষুৎ-পীড়িতের হা-পিত্যেশ!

থমকে গেছে পথিক পথে, পথ চলা তার আজ নিষেধ,
ক্ষুদ্র জীবের আক্রমণে আমীর-ফকির নাই প্রভেদ।
শ্যামল শোভায় মরুর ধুধু, মরিচিকার হাতছানি,
নিরুদ্দেশের যাত্রী সবাই, লুপ্ত ফুলের ফুলদানী।

বলির কাঠে শ্বাপদ ডাকে, ভয়ার্ততার এক ফাঁদে,
ঢলছে পড়ে মাটির কোলে, উৎপীড়িতের প্রাণ কাঁদে!
রাগ-অনুরাগ, গুল্মলতা সব যেন আজ অর্থহীন,

কাল কি হবে? আজ কে জানে? সেই ভাবনায় অন্তরীণ!

রচনাতারিখ: ১৬ই এপ্রিল, ২০২১ সাল
রচনাসময়: রাত ০১টা ২৭ মিনিট

Second Wave COVID-19
———————————– Ramit Azad

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

খোশ আমদেদ রমজান

খোশ আমদেদ রমজান
———————————– রমিত আজাদ

ছিলো অন্ধকারের বন্ধ দূয়ারে অন্ধ মানবজাতি,
সেই আঁধারে জ্বালিলেন তিনি নবীন জ্ঞানের ভাতি।
হেরার গুহায় মহামানবের মহান ভাবের ধ্যান,
উম্মী নবীর নূরাণী চরণে লুটিয়া পড়িলো জ্ঞান।

দানিলেন তিনি জীবন বিধান, তাওহীদ ও খিলাফত,
শেরেকী ঘুচিয়ে বান্দা শিখিলো, রবের দেখানো পথ।
জাহেলিয়া যুগে গুণাহ্‌গার ছিলো পাপাচারে নিশিদিন,
সেই বিনাশীরে দেখাইলো তব, ‘সিরাতুল মুস্তাকিম’।

মরুর সাধক দানিলো নয়নে, তামজীদী নয়া জ্যোতি,
জিন্দেগী তাতে হবে রোশনাই, মুছিয়া সকল ক্ষতি!
যদি নাও মানি তাহার বিধান, দানিলেন যাহা প্রভু,
দ্যুলোক-ভুলোকে মিলিবে উপল, রহিবেনা দুখ্‌ কভু।

পাঁচটি ফরজের অন্যতম সিয়াম সাধনা ভাই,
হিজরী তারিখে আসিলো ফিরিয়া মাহে রমজান তাই।
আশমানে তব দেখিলো হেলাল জাহান-ই-মুসলমান,
খোশ খবরেতে দুলিলো হৃদয়, নাচিয়া উঠিলো প্রাণ!

আবার মিলিলো সুযোগ সবারই কুড়াইতে ফজিলত,
সওয়াব হাসিলে করিবে মোমীন বন্দেগী ইবাদত।
উম্মত তাঁর কাঁদিবে দুচোখে চাহিয়াতে শাফায়াত,
সেহেরী হইতে ইফতার তক শুনিবে দ্বীনের ডাক।

যাকাত ফিৎরা গরীবেরে দিবে, নিজে থাকি অনাহার;
ক্বদরের রাতে, সিজদা রুকুতে লুটাইবে গুণাহ্‌গার।
কাটিবে মোমিনের একটি মাহিনা শুদ্ধ করিতে প্রাণ,

পাইতে নাজাত তুলিবো দুহাত, খোশ আমদেদ রমজান!

রচনাতারিখ: ১৪ই এপ্রিল, ২০২১ সাল
রচনাসময়: রাত ১২টা ৫৬ মিনিট

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

নও বোশেখে নবীন আশা

নও বোশেখে নবীন আশা
——————————— রমিত আজাদ

রুদ্র বোশেখ আসলো ছুটে, আনলো নতুন বছর;
বৈশাখী ঝড় মাতাল হাওয়ায় জমলো নবীন আসর।
খঞ্জনা তার গান শোনালো নাম না জানা বনে,
অঞ্জনারা সাজলো শোভায়, রঙ লাগিয়ে মনে।

পুকুর পারে ধানশালিখের ঝাঁকের কিচিমিচি,
পারুল বনে হাসির রাশি, রোদের ঝিকিমিকি।
ঘরের দাওয়ায় গরম হাওয়ায় হাতপাখাটার দোল,
তাপ তেতেছে বৃক্ষশাখে, ফুটলো আমের বোল।

বাগান বিলাস, ফুল মাধবী মঞ্জুরিত তায়,
গন্ধরাজের শুভ্র শোভায় ছন্দ সুবাস বায়।
পলাশ লালী গুলমোহরের পাঁপড়ি ঝরে হায়,
শিমুল শাখে লক্ষীপ্যাচা বৈশাখী গান গায়।

ইন্দ্রজালী বংশীবাদক সুর তুলেছে গাঁয়ে,
কংস নদীর ধ্বংস স্রোতে পাল তুলেছে নায়ে।
কার হৃদয়ে পূর্ণিমা চাঁদ, কার আঁখিতে আশা?
কোন কুহকী এই বোশেখে, খুঁজবে নিগূঢ় ভাষা।

গ্রীস্মকালীন উষ্ণ বায়ে উড়ছে রঙিন ঘুড়ি,
ছুটছে নদী, ছুটছে তরী, ছুটছে কালের ঘড়ি।
বছর গেলো, বছর এলো, পাল্টাবে কি সুর?

তাও বেঁধেছি নতুন আশা, পথ চলেছে দূর!

রচনাতারিখ: ১৩ই এপ্রিল, ২০২১ সাল
রচনাসময়: রাত ১০টা ২৭ মিনিট