Categories
অনলাইন প্রকাশনা গল্প বঙ্গিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বিনোদন ব্যঙ্গকৌতুক

কমলাকান্তের জবানবন্দী (জোবানবন্দী)

–বঙ্গিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

–প্রথম প্রকাশ- বঙ্গদর্শন, ফাল্গুন সংখ্যা, ১২৮৮ বঙ্গাব্দ

বঙ্কিমের বিখ্যাত রম্যব্যঙ্গ সংকলন ‘কমলাকান্তের দপ্তর’-এর সর্বশেষ রচনার নির্বাচিত অংশ।

মূলপাঠে (বঙ্কিমের দেয়া নাম) রচনাটির নাম ছিলো ‘কমলাকান্তের জোবানবন্দী’। সংকলিত অংশের নামের বানানে একটু পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘কমলাকান্তের জবানবন্দী’।

এটি একটি নকশা জাতীয় রচনা।

চরিত্র

কমলাকান্ত- প্রধান চরিত্র। আফিংখোর। ব্রাহ্মণ। পুরো নাম- শ্রীকমলাকান্ত চক্রবর্তী। বয়স-৫১ বছর ২ মাস ১৩ দিন। বাসা নেই, কোন পেশাও নেই।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও উদ্ধৃতি

এজলাসে, প্রথামত মাচানের উপর হাকিম বিরাজ করিতেছেন। হাকিমটি একজন দেশী ধর্মাবতার- পদে গৌরবে ডেপুটি।

কমলাকান্ত আসামী নহে- সাক্ষী।

মোকদ্দমা গরুচুরি।

ফরিয়াদী প্রসন্ন গোয়ালিনী।

————–

সেই আফিঙ্গখোর কমলাকান্তের অনেক দিন কোন সম্বাদ পাই নাই। অনেক সন্ধান করিয়াছিলাম, অকস্মাৎ সম্প্রতি একদিন তাহাকে ফৌজদারী আদালতে দেখিলাম। দেখি যে, ব্রাহ্মণ এক গাছতলায় বসিয়া, গাছের গুঁড়ি ঠেসান দিয়া, চক্ষু বুজিয়া ডাবায় তামাকু টানিতেছে। মনে করিলাম, আর কিছু না, ব্রাহ্মণ লোভে পড়িয়া কাহার ডিবিয়া হইতে আফিঙ্গ চুরি করিয়াছে-অন্য সামগ্রী কমলাকান্ত চুরি করিবেনা-ইহা নিশ্চিত জানি। নিকটে একজন কালোকোর্ত্তা কনষ্টেবলও দেখিলাম। আমি বড় দাঁড়াইলাম না-কি জানি যদি কমলাকান্ত জামিন হইতে বলে। তফাতে থাকিয়া দেখিতে লাগিলাম যে, কাণ্ডটা কি হয়।

কিছুকাল পরে কমলাকান্তের ডাক হইল। তখন একজন কনষ্টেবল রুল ঘুরাইয়া তাহাকে সঙ্গে করিয়া এজ্লাসে লইয়া গেল। আমি পিছু পিছু গেলাম। দাঁড়াইয়া, দুই একটি কথা শুনিয়া ব্যাপারখানা বুঝিতে পারিলাম।

এজ্লাসে, প্রথমত মাচানের উপর হাকিম বিরাজ করিতেছেন। হাকিমটি একজন দেশী ধর্ম্মাবতার-পদে ও গৌরবে ডিপুটি। কমলাকান্ত আসামী নহে-সাক্ষী। মোকদ্দমা গরুচুরি। ফরিয়াদি সেই প্রসন্ন গোয়ালিনী।

কমলাকান্তকে সাক্ষীর কাটরায় পূরিয়া দিল। তখন কমলাকান্ত মৃদু মৃদু হাসিতে লাগিল। চাপরাশী ধমকাইল- “হাস কেন?”

কমলাকান্ত যোড়হাত করিয়া বলিল. “বাবা, কার ক্ষেতে ধান খেয়েছি যে, আমাকে এর ভিতর পূরিলে?”

চাপরাশী মহাশয় কথাটা বুঝিলেন না। দাড়ি ঘুরাইয়া বলিলেন, “তামাসার জায়গা এ নয় –হলফ পড়।”

কমলাকান্ত বলিল, “পড়াও না বাপু।”

একজন মুহুরি তখন হলফ পড়াইতে আরম্ভ করিল। বলিল, “বল আমি পরমেশ্বরকে প্রত্যক্ষ জানিয়া…”

কমলাকান্ত। (সবিস্ময়ে) কি বলিব?

মুহুরি। শুন্‌তে পাও না-“পরমেশ্বরকে প্রত্যক্ষ জেনে__”

কমলা। পরমেশ্বরকে প্রত্যক্ষ জেনে! কি সর্বনাশ!

হাকিম দেখিলেন, সাক্ষীটা কি একটা গণ্ডগোল বাধাইতেছে। জিজ্ঞাসা করিলেন, “সর্বনাশ কি?”

কমলা। পরমেশ্বরকে প্রত্যক্ষ জেনেছি-এ কথাটা বল্‌তে হবে?

হাকিম। ক্ষতি কি? হলফের ফারমই এই।

কমলা। হুজুর সুবিচারক বটে। কিন্তু একটা কথা বলি কি, সাক্ষ্য দিতে দিতে দুই একটা ছোট রকম মিথ্যা বলি, না হয় বলিলাম-কিন্তু গোড়াতেই একটা বড় মিথ্যা বলিয়া আরম্ভ করিব, সেটা কি ভাল?

হাকিম। এর আর মিথ্যা কথা কি?

কমলাকান্ত মনে মনে বলিল, “তত বুদ্ধি থাকিলে তোমার কি এ পদবৃদ্ধি হইত?” প্রকাশ্যে বলিল, “ধর্ম্মাবতার, আমার একটু একটু বোধ হইতেছে কি যে, পরমেশ্বর ঠিক প্রত্যক্ষের বিষয় নয়। আমার চোখের দোষই হউক, আর যাই হউক; কখনও ত এ পর্য্যন্ত পরমেশ্বরকে প্রত্যক্ষ দেখিতে পাইলাম না। আপনারা বোধ হয় আইনের চসমা নাকে দিয়া তাঁহাকে প্রত্যক্ষ দেখিতে পারেন-কিন্তু আমি যখন তাঁহাকে এ ঘরের ভিতর প্রত্যক্ষ পাইতেছি না-তখন কেমন করিয়া বলি-আমি পরমেশ্বরকে প্রত্যক্ষ জেনে__”

ফরিয়াদীর উকিল চটিলেন-তাঁহার মূল্যবান সময়, যাহা মিনিটে মিনিটে টাকা প্রসব করে, তাহা এই দরিদ্র সাক্ষী নষ্ট করিতেছে। উকীল তখন গরম হইয়া বলিলেন, “সাক্ষী মহাশয়!” Theological Lecture টা ব্রাহ্মসমাজের জন্য রাখিলে ভাল হয় না? এখানে আইনের মতে চলিতে মন স্থির করুন।”

কমলাকান্ত তাঁহার দিকে ফিরিল। মৃদু হাসিয়া বলিল, “আপনি বোধ হইতেছে উকীল।”

উকীল । (হাসিয়া) কিসে চিনিলে?

কমলা। বড় সহজে। মোটা চেন আর ময়লা শামলা দেখিয়া। তা মহাশয়! আপনাদের জন্য এ Theological Lecture নয়। আপনারা পরমেশ্বরকে প্রত্যক্ষ দেখেন স্বীকার করি-যখন মোয়াক্কেল আসে।

উকীল সরোষে উঠিয়া হাকিমকে বলিলেন, “I ask the protection of the Court against the insults of this witness.”

কোর্ট বলিলেন, “O Baboo! the witness is your own witness, and you are at liberty to send him away if you like.”

এখন কমলাকান্তকে বিদায় দিলে উকীল বাবুর মোকদ্দমা প্রমাণ হয় না-সুতরাং উকীল বাবু চুপ করিয়া বসিয়া পড়িলেন। কমলাকান্ত ভাবিলেন, এ হাকিমটা জাতিভ্রষ্ট-পালের মত নয়।

হাকিম গতিক দেখিয়া, মুহুরিকে আদেশ করিলেন যে, “ওথের প্রতি সাক্ষীর objection আছে-উহাকে simple affirmation দাও।” তখন মুহুরি কমলাকান্তকে বলিল, “আচ্ছা, ও ছেড়ে দাও-বল, আমি প্রতিজ্ঞা করিতেছি-বল |”

কমলা। কি প্রতিজ্ঞা করিতেছি, সেটা জানিয়া প্রতিজ্ঞাটা করিলে ভাল হয় না?

মুহুরি হাকিমের দিকে চাহিয়া বলিল, “ধর্ম্মাবতার! সাক্ষী বড় সেরকশ্ |”

উকীল বাবু হাঁকিলেন, “Very obstructive.”

কমলা। (উকীলের প্রতি) শাদা কাগজে দস্তখত করিয়া লওয়ার প্রথাটা আদালতের বাহিরে চলে জানি-ভিতরেও চলিবে কি?

উকীল । শাদা কাগজে কে তোমার দস্তখত লইতেছে?

কমলা। কি প্রতিজ্ঞা করিতে হইবে, তাহা না জানিয়া, প্রতিজ্ঞা করা, আর কাগজে কি লেখা হয় তাহা না দেখিয়া, দস্তখত করা, একই কথা।

হাকিম তখন মুহুরিকে আদেশ করিলেন যে, “প্রতিজ্ঞা আগে ইহাকে শুনাইয়া দাও-গোলমালে কাজ নাই |” মুহুরি তখন বলিল, “শোন, তোমাকে বলিতে হইবে যে, আমি প্রতিজ্ঞা করিতেছি যে, আমি যে সাক্ষ্য দিব, তাহা সত্য হইবে, আমি কোন কথা গোপন করিব না-সত্য ভিন্ন আর কিছু হইবে না |”

কমলা। ওঁ মধু মধু মধু।

মুহুরি। সে আবার কি?

কমলা। পড়ান, আমি পড়িতেছি।

কমলাকান্ত তখন আর গোলযোগ না করিয়া প্রতিজ্ঞা পাঠ করিল। তখন তাঁহাকে জিজ্ঞাসাবাদ করিবার জন্য উকীল বাবু গাত্রোত্থান করিলেন, কমলাকান্তকে চোখ রাঙ্গাইয়া বলিলেন, “এখন আর বদ্‌মায়েশি করিও না-আমি যা জিজ্ঞাসা করি, তার যথার্থ উত্তর দাও। বাজে কথা ছাড়িয়া দাও |”

কমলা। আপনি যা জিজ্ঞাসা করিবেন, তাই আমাকে বলিতে হইবে? আর কিছু বলিতে পাইব না?

উকীল । না।

কমলাকান্ত তখন হাকিমের দিকে ফিরিয়া বলিলেন, “অথচ আমাকে প্রতিজ্ঞা করাইলেন যে, ‘কোন কথা গোপন করিব না |’ ধর্ম্মাবতার, বে-আদবি মাফ হয়! পাড়ায় আজ একটা যাত্রা হইবে, শুনিতে যাইব ইচ্ছা ছিল; সে সাধ এইখানেই মিটিল। উকীল বাবু অধিকারী-আমি যাত্রার ছেলে, যা বলাইবেন, কেবল তাই বলিব; যা না বলাইবেন, তা বলিব না। যা না বলাইবেন, তা কাজেই গোপন থাকিবে। প্রতিজ্ঞা ভঙ্গের অপরাধ লইবেন না |”

হাকিম। যাহা আবশ্যক বিবেচনা করিবে, তাহা না জিজ্ঞাসা হইলেও বলিতে পার।

কমলাকান্ত তখন সেলাম করিয়া বলিল, “বহুৎ খুব |” উকীল তখন জিজ্ঞাসাবাদ আরম্ভ করিলেন, “তোমার নাম কি?”

কমলা। শ্রী কমলাকান্ত চক্রবর্ত্তী।

উকীল । তোমার বাপের নাম কি?

কমলা। জোবানবন্দীর আভ্যুদয়িক আছে না কি?

উকীল গরম হইলেন, বলিলেন, “হুজুর! এ সব Contempt of Court.” হুজুর, উকীলের দুর্দ্দশা দেখিয়া নিতান্ত অসন্তুষ্ট নন-বলিলেন, “আপনারই সাক্ষী |” সুতরাং উকীল আবার কমলাকান্তের দিকে ফিরিলেন, বলিলেন, “বল। বলিতে হইবে |”

কমলাকান্ত পিতার নাম বলিল। উকীল তখন জিজ্ঞাসা করিলেন, “তুমি কি জাতি?”

কমলা। আমি কি একটা জাতি?

উকীল । তুমি কোন্ জাতীয়।

কমলা। হিন্দু জাতীয়।

উকীল । আঃ! কোন্ বর্ণ?

কমলা। ঘোরতর কৃষ্ণবর্ণ।

উকীল । দূর হোক ছাই! এমন সাক্ষীও আনে! বলি তোমার জাত আছে?

কমলা। মারে কে?

হাকিম দেখিলেন, উকীলের কথায় হইবে না। বলিলেন, “ব্রাহ্মণ, কায়স্থ, কৈয়বর্ত্ত, হিন্দুর নানা প্রকার জাতি আছে জান ত-তুমি তার কোন জাতির ভিতর?”

কমলা। ধর্ম্মাবতার! এ উকীলের ধৃষ্টতা! দেখিতেছেন আমার গলায় যজ্ঞোপবীত, নাম বলিয়াছি চক্রবর্ত্তী-ইহাতেও যে উকীল বুঝেন নাই যে, আমি ব্রাহ্মণ, ইহা আমি কি প্রকারে জানিব?

হাকিম লিখিলেন, “জাতি ব্রাহ্মণ |” তখন উকীল জিজ্ঞাসা করিলেন, “তোমার বয়স কত?”

এজ্লাসে একটা ক্লক ছিল-তাহার পানে চাহিয়া হিসাব করিয়া কমলাকান্ত বলিল, “আমার বয়স একান্ন বৎসর, দুই মাস, তের দিন, চারি ঘণ্টা, পাঁচ মিনিট ___”

উকীল । কি জ্বালা! তোমার ঘণ্টা মিনিট কে চায়?

কমলা। কেন, এইমাত্র প্রতিজ্ঞা করাইয়াছেন যে, কোন কথা গোপন করিব না।

উকীল । তোমার যা ইচ্ছা কর! আমি তোমায় পারি না। তোমার নিবাস কোথা?

কমলা। আমার নিবাস নাই।

উকীল । বলি, বাড়ী কোথা?

কমলা। বাড়ী দূরে থাক, আমার একটা কুঠারীও নাই।

উকীল । তবে থাক কোথা?

কমলা। যেখানে সেখানে।

উকীল । একটা আড্ডা ত আছে?

কমলা। ছিল, যখন নসী বাবু ছিলেন। এখন আর নাই।

উকীল । এখন আছ কোথা?

কমলা। কেন, এই আদালতে।

উকীল । কাল ছিলে কোথা?

কমলা। একখানা দোকানে।

হাকিম বলিলেন, “আর বকাবকিতে কাজ নাই-আমি লিখিয়া লইতেছি, নিবাস নাই। তারপর?

উকীল । তোমার পেশা কি?

কমলা। আমার আবার পেশা কি? আমি কি উকীল না বেশ্যা যে, আমার পেশা আছে?

উকীল । বলি, খাও কি করিয়া?

কমলা। ভাতের সঙ্গে ডাল মাখিয়া, দক্ষিণ হস্তে গ্রাস তুলিয়া, মুখে পুরিয়া গলাধঃকরণ করি।

উকীল । সে ডাল ভাত জোটে কোথা থেকে?

কমলা। ভগবান্ জোটালেই জোটে, নইলে জোটে না।

উকীল । কিছু উপার্জ্জন কর?

কমলা। এক পয়সাও না।

উকীল । তবে কি চুরি কর?

কমলা। তাহা হইলে ইতিপূর্ব্বেই আপনার শরণাগত হইতে হইত। আপনি কিছু ভাগও পাইতেন।

উকীল তখন হাল ছাড়িয়া দিয়া, আদালতকে বলিলেন, “আমি এ সাক্ষী চাহি না। আমি ইহার জোবানবন্দী করাইতে পারিব না |”

প্রসন্ন বাদিনী, উকীলের কোমর ধরিল; বলিল, “এ সাক্ষী ছাড়া হইবে না। এ বামন সত্য কথা বলিবে, তাহা আমি জানি-কখনও মিছা বলে না। উহাকে তোমরা জিজ্ঞাসা করিতে জান না-তাই ও অমন করিতেছে। ও বামনের আবার পেশা কি? ও এর বাড়ী ওর বাড়ী খেয়ে বেড়ায়, ওকে জিজ্ঞাসা করিতেছ, উপার্জ্জন কর! ও কি বলবে?”

উকীল তখন হাকিমকে বলিল, “লিখুন, পেশা ভিক্ষা |”

এবার কমলাকান্ত রাগিল, “কি? কমলাকান্ত চক্রবর্ত্তী ভিক্ষোপজীবী? আমি মুক্তকণ্ঠে হলফের উপর বলিতেছি, আমি কখনও কাহারও কাছে এক পয়সা ভিক্ষা চাই না |”

প্রসন্ন আর থাকিতে পারিল না-সে বলিল, “সে কি ঠাকুর! কখন আফিঙ্গ চেয়ে খাও নাই?”

কমল। দূর মাগি ধেমো গোয়ালার মেয়ে! আফিঙ্গ কি পয়সা! আমি কখন একটি পয়সাও কাহারও কাছে ভিক্ষা লই নাই।

হাকিম হাসিয়া বলিলেন, “কি লিখিব কমলাকান্ত?”

কমলাকান্ত নরম হইয়া বলিল, “লিখুন, পেশা ব্রাহ্মণভোজনের নিমন্ত্রণ-গ্রহণ” সকলে হাসিল-হাকিম তাই লিখিয়া লইলেন।

তখন উকীল মহাশয় মোকদ্দমায় প্রবৃত্ত হইলেন। জিজ্ঞাসা করিলেন, “তুমি কি ফরিয়াদীকে চেন?”

কমল। না।

প্রসন্ন হাঁকিল, “সে কি ঠাকুর! চিরটা কাল আমার দুধ দই খেলে, আজ বল চিনি না?”

কমলাকান্ত বলিল, “তোমার দুধ দই চিনি না, এমন কথা ত বল্‌তেছি না-তোমার দুধ দই বিলক্ষণ চিনি। যখনই দেখি এক পোয়া দুধে তিন পোয়া জল, তখনই চিনিতে পারি যে, এ প্রসন্ন গোয়ালিনীর দুধ; যখনই দেখ্‌তে পাই যে, ঘোলের চেয়ে দই ফিকে, তখনই চিনতে পারি যে, এ প্রসন্নময়ীর দুধ। দুধ দই চিনি নে?”

প্রসন্ন নথ ঘুরাইয়া বলিল, “আমার দুধ দই চেন, আর আমায় চিনিতে পার না?”

কমলাকান্ত বলিল, “মেয়েমানুষকে কে কবে চিনিতে পেরেছে, দিদি? বিশেষ, গোয়ালার মেয়ের কাঁকালে যদি দুধের কেঁড়ে থাকিল, তবে কার বাপের সাধ্য তাকে চিনে উঠে?”

উকীল তখন আবার সওয়াল করিতে লাগিলেন, “বুঝা গেল; তুমি বাদিনীকে চেন-উহার সঙ্গে তোমার কোন সম্বন্ধ আছে?”

কমল। মন্দ নয়-এত গুণ না থাকিলে কি উকীল হয়!

উকীল । তুমি আমার কি গুণ দেখিলে?

কমল। বামনের ছেলে গোয়ালার মেয়েতেও আপনি একটা সম্বন্ধ খুঁজিয়া বেড়াইতেছেন।

উকীল । এমন সম্বন্ধ কি হয় না? কে জানে তুমি ওর পোষ্যপুত্র কি না?

কমল। ওর নয়, কিন্তু ওর গাইয়ের বটে।

উকীল । বুঝা গেল, তোমার সঙ্গে বাদিনীর একটা সম্বন্ধ আছে, একেবারে সাফ বলিলেই হইত-এত দুঃখ দাও কেন? এখন জিজ্ঞাসা করি, তুমি এ মোকদ্দমার কি জান?

কমল। জানি যে, এ মোকদ্দমায় আপনি উকীল, প্রসন্ন ফরিয়াদী, আমি সাক্ষী আর এই নেড়ে আসামী।

উকীল । তা নয়, গোরুচুরির কি জান?

কমল। গোরুচুরির আমার বাপ-দাদাও জানে না। বিদ্যাটা আমায় শিখাইবেন?-আমার দুধ দধির বড় দরকার।

উকীল । আঃ-বলি গোরুচুরি দেখিয়াছ?

কমল। একদিন দেখিয়াছিলাম। নসী বাবুর একটা বক্‌না-এক বেটা মুচি-

উকীল । কি যন্ত্রণা! বলি, প্রসন্ন গোয়ালিনীর গোরু যখন চুরি যায়, তখন তুমি দেখিয়াছ?

কমল। না-চোর বেটার এত বুদ্ধি হয় নাই যে, আমাকে ডাকিয়া সাক্ষী রাখিয়া গোরুটা চুরি করে। তাহা হইলে আপনারও কাজে সুবিধা হইত, আমারও কাজের সুবিধা হইত।

প্রসন্ন দেখিল, উকীলকে টাকা দেওয়া সার্থক হয় নাই –তখন আপনার হাতে হাল লইবার ইচ্ছায়, উকীলের কাণে কাণে বলিয়া দিল, “ও বামুন সে সব কিছুর সাক্ষী নয়-ও কেবল গোরু চেনে |”

উকীল মহাশয় তখন কূল পাইলেন। গর্জ্জিয়া উঠিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “তুমি গোরু চেন?”

কমলাকান্ত মধুর হাসিয়া বলিল, “আহা চিনি বই কি-নহিলে কি আপনার সঙ্গে এত মিষ্টালাপ করি?”

হাকিম দেখিলেন, সাক্ষী বড় বাড়াবাড়ি করিতেছে-বলিলেন, “ও সব রাখ |” প্রসন্ন গোয়ালীর শামলা গাই আদালতের সম্মুখে মাঠে বাঁধা ছিল-দেখা যাইতেছিল। ডিপুটি বাবু সেই দিকে চাহিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “তুমি এই গোরুটিকে চেন?”

কমলাকান্ত যোড়হাত করিয়া বলিল, “কোন্ গোরুটি, ধর্ম্মাবতার?”

হাকিম বলিলেন, “কোন্ গোরুটি কি? একটি বই ত সাম্‌নে নাই?”

কমল। আপনি দেখিতেছেন, একটি-আমি দেখিতেছি অনেকগুলি।

হাকিম বিরক্ত হইয়া বলিলেন, “দেখিতে পাইতেছ না-ঐ শামলা?”

কমলাকান্ত শামলা গাইয়ের দিকে না চাহিয়া উকীলের শামলার প্রতি চাহিল। বলিল, “এ শামলাও চুরির না কি?”

কমলাকান্তের নষ্টামি হাকিম আর সহ্য করিতে পারিলেন না-বলিলেন, “তুমি আদালতের কাজের বড় বিঘ্ন করিতেছ-Contempt of Court জন্য তোমার পাঁচ টাকা জরিমানা |”

কমলাকান্ত আভূমিপ্রণত সেলাম করিয়া যোড়হাত করিয়া বলিল, “বহুৎ খুব হুজুর! জরিমানা আদায়ের ভার কার প্রতি?”

হাকিম। কেন?

কমল। কিরূপে আদায় করিবেন, সে বিষয়ে তাঁহাকে কিছু উপদেশ দিব।

হাকিম। উপদেশের প্রয়োজন কি?

কমল। ইহলোকে ত আমার নিকট জরিমানা আদায়ের কোন সম্ভাবনা নাই- তিনি পরলোকে যাইতে প্রস্তুত কি না জিজ্ঞাসা করিব।

হাকিম। জরিমানা না দিতে পার, কয়েদ যাইবে।

ক। কত দিনের জন্য, ধর্ম্মাবতার?

হাকিম। জরিমানা অনাদায়ে এক মাস কয়েদ।

কমল। দুই মাস হয় না?

হাকিম। বেশী মিয়াদের ইচ্ছা কর কেন?

কমল। সময়টা কিছু মন্দ পড়িয়াছে-ব্রাহ্মণভোজনের নিমন্ত্রণ আর তেমন সুলভ নয়-জেলখানায় যাহাতে মাস দুই ব্রাহ্মণভোজনের নিমন্ত্রণ হয়, সে ব্যবস্থা যদি আপনি করেন, তবে গরীব ব্রাহ্মণ উদ্ধার পায়।

এরূপ লোককে জরিমানা বা কয়েদ করিয়া কি হইবে? হাকিম হাসিয়া বলিলেন, “আচ্ছা, তুমি যদি গোল না করিয়া সোজা জোবানবন্দী দাও, তবে তোমার জরিমানা মাপ করা যাইতে পারে। বল-ঐ গোরু তুমি চেন কি না?”

হাকিম তখন একজন কনষ্টেবলকে আদেশ করিলেন যে গোরুর নিকট গিয়া প্রসন্নের গাই দেখাইয়া দেয়। কনষ্টেবল তাহাই করিল। বিষণ্ণ উকীল বাবু তখন জিজ্ঞাসা করিলেন, “ঐ গোরু তুমি চেন?”

কমল। সিংওয়ালা গোরু-তাই বলুন।

উকীল । তুমি বল কি?

কমল। আমি বলি শামলাওয়ালা-তা যাক্-আমি ও সিংওয়ালা গোরুটা চিনি। বিলক্ষণ আলাপ আছে।

উকীল । ও কার গোরু?

কমল। আমার।

উকীল । তোমার!

কমল। আমারই।

হরি হরি! প্রসন্নের মুখ শুকাইল! উকীল দেখিল, মোকদ্দমা ফাঁসিয়া যায়। প্রসন্ন তখন তর্জ্জন গর্জ্জন করিয়া বলিল, “তবে রে বিটলে! গোরু তোমার!”

কমলাকান্ত বলিল, “আমার না ত কার! আমি ওর দুধ খেয়েছি, ওর দই খেয়েছি-ওর ঘোল খেয়েছি, ওর ছানা খেয়েছি-ওর মাখন খেয়েছি, ওর ননী খেয়েছি-ও গোরু আমার হলো না, তুই বেটী পালিস্ ব’লে কি তোর বাবার গোরু হলো!”

উকীল অতটা বুঝিলেন না। বলিলেন, “ধর্ম্মাবতার, witness hostile! permission দিন আমি ওকে cross করি |”

কমল। কি? আমায় cross করিবে?

উকিল। হাঁ করিব।

কমল। নৌকায়, না সাঁকো বেঁধে?

উকিল। সে আবার কি?

কমল। বাবা! কমলাকান্ত-সাগর পার হও, এত বড় হনূমান্ তুমি আজও হও নাই।

এই বলিয়া কমলাকান্ত চক্রবর্ত্তী রাগে গর্ গর্ করিয়া কাটরা হইতে নামিয়া যায়-চাপরাশী ধরিয়া আবার কাটরায় পূরিল। তখন কমলাকান্ত আলু থালু হইয়া নিশ্চেষ্ট হইল-বলিল, “কর বাবা ক্রস্ কর!-আমি অগাধ সমুদ্রে পড়িয়া আছি-যে ইচ্ছা লম্ফ দাও-‘অপামিবাধারমনুত্তরঙ্গং!-উকিল মহাশয়! এ প্রশান্ত মহাসমুদ্র তরঙ্গ বিক্ষেপ করে না আপনি স্বচ্ছন্দে উল্লম্ফন করুন |”

উকীল তখন কোর্টকে বলিলেন, “ধর্ম্মাবতার, দেখা যাইতেছে যে, এ ব্যক্তি বাতুল; ইহাকে আর ক্রস্ করিবার প্রয়োজন নাই। বাতুল বলিয়া ইহার জবানবন্দী পরিত্যক্ত হইবে। ইহাকে বিদায় দেওয়া হউক |”

হাকিম কমলাকান্তের হাত হইতে নিষ্কৃতি পাইলে বাঁচেন, বিদায় দিতে প্রস্তুত, এমত সময়ে প্রসন্ন হাত যোড় করিয়া আদালতে নিবেদন করিল, “যদি হুকুম হয়, তবে আমি স্বয়ং উহাকে গোটা কত কথা জিজ্ঞাসা করি, তার পর বিদায় দিতে হয়, দিবেন |”

হাকিম কৌতূহলী হইয়া অনুমতি দিলেন। প্রসন্ন তখন কমলাকান্তের প্রতি চাহিয়া বলিল, “ঠাকুর! মৌতাতের সময় হয়েছে না?”

কমল। মৌতাতের আবার সময় কি রে বেটী –“অজরামরবৎ প্রাজ্ঞঃ বিদ্যাং নেশ্চাঞ্চ চিন্তয়েৎ |”

প্রসন্ন । অং বং এখন রাখ –এখন মৌতাত করিবে?

কমল। দে!

প্রসন্ন । আচ্ছা, আগে আমার কথার উত্তর দাও –তার পর সে হবে।

কমল। তবে জল্‌দি জল্‌দি বল – জল্‌দি জল্‌দি জবাব দিই।

প্রসন্ন । বলি, গোরু কার?

কমল। গোরু তিন জনের; গোরু প্রথমে বয়সে গুরুমহাশয়ের; মধ্যবয়সের স্ত্রীজাতির; শেষ বয়সে উত্তরাধিকারীর; দড়ি ছিঁড়িবার সময়ে কারও নয়।

প্রসন্ন । বলি, ঐ শামলা গাই কার?

কমল। যে ওর দুধ খায় তার।

প্রসন্ন । ও গোরু আমার কি না?

কমল। তুই বেটী কখন ওর এক বিন্দু দুধ খেলি নে, কেবল বেচে মর্‌লি, গোরু তোর হলো? ও গোরু যদি তোর হয়, তবে বাঙ্গাল বেঙ্কের টাকাও আমার। দে বেটী, গোরুচোরকে ছেড়ে দে-গরীবের ছেলে দুধ খেয়ে বাঁচুক।

হাকিম দেখিলেন, দুই জনে বড় বাড়াবাড়ি করিতেছে-আদালত মেছো-হাটা হইয়া উঠিল। তখন উভয়কে ধমক দিয়া জিজ্ঞাসাবাদ নিজহস্তে লইলেন। জিজ্ঞাসা করিলেন, “প্রসন্ন এই গোরুর দুধ বেচে?”

কমল। আজ্ঞে, হাঁ।

“উহার গোহালে এই গোরু থাকে?”

কমল। ও গোরুও থাকে, আমিও কখন কখন থাকি।

“ওই খাওয়ায়?”

কমল। উভয়কে।

বাদিনীর উকীল তখন বলিলেন, “আমার কার্য্য সিদ্ধ হইয়াছে-আমি উহাকে জিজ্ঞাসা করিতে চাই না”। এই বলিয়া তিনি উপবেশন করিলেন। তখন আসামীর উকীল গাত্রোত্থান করিলেন। দেখিয়া কমলাকান্ত জিজ্ঞাসা করিলেন, “আবার তুমি কে?”

আসামীর উকীল বলিলেন, “আমি আসামীর পক্ষে তোমাকে ক্রস্ করিব”।

কমল। একজন ত ক্রস্ করিয়া গেল, আবার তুমি কুমার বাহাদুর এলে না কি?

উকীল । কুমার বাহাদুর কে?

কমল। রাজপুত্রকে চেন না? ত্রেতা যুগে আগে ক্রস্ করিলেন, পবনাঙ্গজ মহাশয়। তার পর ক্রস্ করিলেন, কুমার বাহাদুর।20

উকীল । ও সব রাখ-তুমি গোরু চেন বলেছ-কিসে চেন?

কমল। কখন শিঙ্গে-কখন শামলায়!

উকীল রাগিয়া উঠিয়া, গর্জ্জন করিয়া টেবিল চাপড়াইয়া বলিলেন, “তোমার পাগলামি রাখ-তুমি এই গোরু চিনিতে পারিতেছ কিসে?”

কমল। ঐ হাম্বা-রবে।

উকীল হতাশ হইয়া বলেন, “Hopeless” উকীল মহাশয় বসিয়া পড়িলেন-আর জেরা করিবেন না। কমলাকান্ত বিনীতভাবে বলিল, “দড়ি ছেঁড় কেন বাবা?”

উকীল আর জেরা করিবেন না দেখিয়া হাকিম কমলাকান্তকে বিদায় দিলেন। কমলাকান্ত উর্দ্ধ্বশ্বাসে পলাইল। আমি কিছু কাজ সারিয়া বাহিরে আসিয়া দেখিলাম যে, কমলাকান্ত থেলো হুঁকা হাতে করিয়া বসিয়া আছে-চারি দিকে লোক জমিয়াছে-প্রসন্নও সেখানে আসিয়াছে। কমলাকান্ত তাহাকে তিরস্কার করিতেছে আর বলিতেছে, “তোর মঙ্গলার বাঁটের দিব্য, তোর দুধের কেঁড়ের দিব্য, তোর ঘোলমউনির দিব্য, তোর ফাঁদি-নথের দিব্য, তুই যদি চোরকে গোরু ছেড়ে না দিস্!”

আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, “চক্রবর্ত্তী মহাশয়! চোরকে গোরু ছাড়িয়া দিবে কেন?”

কমলাকান্ত বলিল, “পূর্ব্বকালে মহারাজ শ্যেনজিৎকে এক ব্রাহ্মণ বলিয়াছিল যে, ‘বৎস, গোপস্বামী ও তস্কর, ইহাদের মধ্যে যে ধেনুর দুগ্ধ পান করে, সেই তাহার যথার্থ অধিকারী। অন্যের তাহার উপর মমতা প্রকাশ করা বিড়ম্বনা মাত্র।21 এই হলো ভীষ্মদেব ঠাকুরের Hindu Law, আর ইহাই ইউরোপের International Law। যদি সভ্য এবং উন্নত হইতে চাও, তবে কাড়িয়া খাইবে। গো শব্দে ধেনুই বুঝ, আর পৃথিবীই বুঝ, ইনি তস্করভোগ্যা। সেকন্দর হইতে রণজিৎ সিংহ পর্য্যন্ত সকল তস্করই ইহার প্রমাণ। Right of Conquest যদি একটা right হয়, তবে Right of theft, কি একটা right নয়? অতএব, হে প্রসন্ন নামে গোপকন্যে! তুমি আইনমতে কার্য্য কর। ঐতিহাসিক রাজনীতির অনুবর্ত্তী হও। চোরকে গোরু ছাড়িয়া দাও |”

এই বলিয়া কমলাকান্ত সেখান হইতে চলিয়া গেল। দেখিলাম, মানুষটা নিতান্ত ক্ষেপিয়া গিয়াছে।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা গল্প সুকুমার রায়

এক বছরের রাজা

–সুকুমার রায়

এক ছিলেন সওদাগর— তাঁর একটি সামান্য ক্রীতদাস তাঁর একমাত্র ছেলেকে জল থেকে বাঁচায়। সওদাগর খুশি হয়ে তাকে মুক্তি তো দিলেনই, তা ছাড়া জাহাজ বোঝাই ক’রে নানা রকম বাণিজ্যের জিনিস তাকে বকশিশ দিয়ে বললেন, “সমুদ্র পার হয়ে বিদেশে যাও— এই সব জিনিস বেচে যা টাকা পাবে, সবই তোমার।” ক্রীতদাস মনিবের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে জাহাজে চড়ে রওনা হল বাণিজ্য করতে।

কিন্তু বাণিজ্য করা আর হল না। সমুদ্রের মাঝখানে তুফান উঠে জাহাজটিকে ভেঙ্গে-চুরে জিনিসপত্র লোকজন কোথায় যে ভাসিয়ে নিল, তার আর খোঁজ পাওয়া গেল না।

ক্রীতদাসটি অনেক কষ্টে হাবুডুবু খেয়ে, একটা দ্বীপের চড়ায় এসে ঠেকল। সেখানে ডাঙ্গায় উঠে সে চারিদিকে চেয়ে দেখল, তার জাহাজের চিহ্নমাত্র নাই, তার সঙ্গের লোকজন কেউ নাই। তখন সে হতাশ হয়ে সমুদ্রের ধারে বালির উপর বসে পড়ল। তারপর যখন সন্ধ্যা হয়ে এল, তখন সে উঠে দ্বীপের ভিতর দিকে যেতে লাগল। সেখানে বড় বড় গাছের বন— তারপর প্রকাণ্ড মাঠ, আর তারই ঠিক মাঝখানে চমৎকার শহর। শহরের ফটক দিয়ে মশাল হাতে মেলাই লোক বার হচ্ছে। তাকে দেখতে পেয়েই সেই লোকেরা চীৎকার ক’রে বলল, “মহারাজের শুভাগমন হোক। মহারাজ দীর্ঘজীবী হউন।” তারপর সবাই তাকে খাতির ক’রে জমকালো গাড়িতে চড়িয়ে প্রকাণ্ড এক প্রাসাদে নিয়ে গেল। সেখানের চাকরগুলো তাড়াতাড়ি রাজপোশাক এনে তাকে সাজিয়ে দিল।

সবাই বলছে, ‘মহারাজ’,’মহারাজ’, হুকুম মাত্র সবাই চট্‌পট্‌ কাজ করছে, এসব দেখেশুনে সে বেচারা একেবারে অবাক। সে ভাবল সবই বুঝি স্বপ্ন— বুঝি তার নিজেরই মাথা খারাপ হয়েছে তাই এরকম মনে হচ্ছে। কিন্তু ক্রমে সে বুঝতে পারল সে জেগেই আছে আর দিব্যি জ্ঞানও রয়েছে, আর যা যা ঘটছে সব সত্যিই। তখন সে লোকদের বলল, “এ কি রকম হচ্ছে বল তো? আমি তো এর কিছুই বুঝছি না। তোমরা কেনই বা আমায় ‘মহারাজ’ বলছ আর কেনই বা এমন সম্মান দেখাচ্ছ?”

তখন তাদের মধ্যে থেকে এক বুড়ো উঠে বলল, “মহারাজ, আমরা কেউ মানুষ নই— আমরা সকলেই প্রেতগন্ধর্ব— যদিও আমাদের চেহারা ঠিক মানুষের মতো। অনেক দিন আগে আমরা, ‘মানুষ রাজা’ পাবার জন্য সবাই মিলে প্রার্থনা করেছিলাম; কারণ মানুষের মতো বুদ্ধিমান আর কে আছে? সেই থেকে আজ পর্যন্ত আমাদের মানুষ রাজার অভাব হয়নি। প্রতি বৎসরে একটি ক’রে মানুষ এইখানে আসে আর আমরা তাকে এক বৎসরের জন্য রাজা করি। তার রাজত্ব শুধু ঐ এক বৎসরের জন্যই। বৎসর শেষ হলেই তাকে সব ছাড়তে হয়। তাকে জাহাজে ক’রে সেই মরুভূমির দেশে রেখে আসা হয়, সেখানে সামান্য ফল ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায় না— আর সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে বালি না খুঁড়লে এক ঘটি জলও মেলে না। তারপর আবার নূতন রাজা আসে— এই রকমে বৎসরের পর বৎসর আমাদের চলে আসছে।”

তখন দাসরাজা বললেন, “আচ্ছা বল তো— এর আগে তোমাদের রাজারা কি রকম স্বভাবের লোক ছিলেন?” বুড়ো বলল, “তাঁরা সবাই ছিলেন অসাবধান আর খামখেয়ালি। সারাটি বছর সবাই শুধু জাঁকজমক আমোদে আহ্লাদে দিন কাটাতেন— বছর শেষে কি হবে সে কথা ভাবতেন না।”

নতুন রাজা মন দিয়ে সব শুনলেন, বছরের শেষে তাঁর কি হবে এই কথা ভেবে ক’দিন তাঁর ঘুম হল না।

তারপর সে দেশের সকলের চেয়ে জ্ঞানী আর পণ্ডিত যারা, তাদের ডেকে আনা হল, আর রাজা তাদের কাছে মিনতি ক’রে বললেন, “আপনারা আমাকে উপদেশ দিন— যাতে বছর শেষে এই সর্বনেশে দিনের জন্য প্রস্তুত হতে পারি।”

তখন সবচেয়ে প্রবীণ বৃদ্ধ যে, সে বলল, “মহারাজ, শূন্য হাতে আপনি এসেছিলেন, শূন্য হাতেই আবার সে দেশে যেতে হবে— কিন্তু এই এক বছর আপনি আমাদের যা ইচ্ছা তাই করাতে পারেন। আমি বলি— এই বেলা রাজ্যের ওস্তাদ লোকদের সে দেশে পাঠিয়ে, সেখানে বাড়ি ক’রে, বাগান ক’রে, চাষবাসের ব্যবস্থা ক’রে চারিদিক সুন্দর করে রাখুন। ততদিনে ফলে ফুলে দেশ ভরে উঠবে, সেখানে লোকের যাতায়াত হবে। আপনার এখানকার রাজত্ব শেষ হতেই সেখানে আপনি সুখে রাজত্ব করবেন। বৎসর তো দেখতে দেখতে চলে যাবে, অথচ কাজ আপনার ঢের; কাজেই বলি, এই বেলা খেটে-খুটে সব ঠিক ক’রে নিন।” রাজা তখনই হুকুম দিয়ে লোকলস্কর, জিনিসপত্র, গাছে চারা, ফলের বীজ, আর বড় বড় কলকব্জা পাঠিয়ে, আগে থেকে সেই মরুভূমিকে সুন্দর ক’রে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখলেন।

তারপর বছর যখন ফুরিয়ে এল, তখন প্রজারা তাঁর ছত্র মুকুট রাজদণ্ড সব ফিরিয়ে নিল, তাঁর রাজার পোশাক ছাড়িয়ে এক বছর আগেকার সেই সামান্য কাপড় পরিয়ে, তাঁকে জাহাজে তুলে সেই মরুভূমির দেশে রেখে এল। কিন্তু সে দেশ আর এখন মরুভূমি নেই— চারিদিকে ঘর বাড়ি, পথ ঘাট, পুকুর বাগান। সে দেশ এখন লোকে লোকারণ্য। তারা সবাই এসে ফুর্তি ক’রে শঙ্খ ঘণ্টা বাজিয়ে তাঁকে নিয়ে সিংহাসনে বসিয়ে দিল। এক বছরের রাজা সেখানে জন্ম ভরে রাজত্ব করতে লাগলেন।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা আত্ম উন্নয়ন ভালবাসা/প্রণয়লীলা যৌন জ্ঞান ও সম্পর্ক সৃজনশীল প্রকাশনা

দাম্পত্য জীবনে গোপনীয়তা ও বিশ্বস্ততা

সফল, সুখী ও সৌহার্দ্যপূর্ণ দাম্পত্য জীবনের জন্য অনেক কিছুকেই গুরুত্ব দিতে হয়।
এসবের মধ্যে সততা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয়। সে জন্যই হয়তো বলা হয়ে থাকে, দাম্পত্য জীবনে গোপনীয়তা ও বিশ্বস্ততা একসঙ্গে চলতে পারে না।
আবার অনেক সময় দেখা যায়, সামান্য একটু বিষয় ফাঁস হয়ে গেলেই দীর্ঘদিনের মধুময় বিবাহিত জীবন মুহূর্তের মধ্যেই বিষিয়ে ওঠে। তাই বিষয়টি নিয়ে সমাজবিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানীদের গবেষণার যেন অন্ত নেই। বিষয়টিকে বিভিন্নজন বিভিন্ন ব্যাখ্যা করেছেন।
লাইট হাউজ এরাবিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোচিকিৎসক সালিহা আফ্রিদি মনে করেন, স্বামী ও স্ত্রী নিজেদের মধ্যে স্বচ্ছতা বিধানের চেষ্টা করলেও কখনও কখনও গোপনীয়তার প্রয়োজন রয়েছে। যেমন কেউ যদি বিশ্বাস করে আপনাকে কোন গোপন কিছু বলে থাকে তাহলে তা আপনার জীবনসঙ্গী অথবা অন্য কাউকেই বলা ঠিক নয়। তেমনি নিজের অতীত সম্পর্কে মিথ্যা বলার চেয়ে সবকিছু শেয়ার না করাই ভাল।
গোপনীয়তার আরেকটি দিক হচ্ছে অর্থনৈতিক বিষয়াদি। স্ত্রী রোজগার করুক আর নাই করুক তার এ বিষয়ে জানার অধিকার রয়েছে।
অন্যদিকে, অনেককেই তাদের জীবনসঙ্গীর কাছে কিছু বিষয় গোপন রাখতে দেখা যায়। কারণ, তারা এসব বিষয় অন্যকে জানাতে লজ্জা পান। যদি তাদের এ গোপনীয়তা দাম্পত্য জীবনকে আঘাত করার মতো না হয় তবে তা দোষের কিছু নয়।
কোন সত্য যদি বিবাহিত জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো হয় তাহলে তা গোপন রাখা উচিত বলে মনে করেন ‘দ্য সিক্রেট লাইফ অব ওয়াইভস’ বইয়ের লেখক আইরিস ক্রাসনো।
তিনি এ বইয়ে দাম্পত্য জীবন সম্পর্কে প্রায় ২০০ মহিলার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। এতে তিনি বলেছেন, মিথ্যা এবং গোপনীয়তা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
সবারই কিছু গোপন বিষয় থাকে। আফ্রিদির মতে, কোন বিষয় গোপন করার আগে মানুষকে দাম্পত্য জীবনে ওই বিষয়টির নিরাপত্তাহীনতা অথবা গ্রহণযোগ্যতার অভাব রয়েছে কিনা তা ভেবে দেখতে হবে।
জোসেফ ফ্রিটল ও টাইগার উডসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মানুষকে তার দাম্পত্য জীবনে আমি, তুমি এবং আমরা- এ তিনটিকে সম্পূর্ণ আলাদা অস্তিত্ব হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এ বিষয়গুলোকে একাকার করে ফেলা উচিত নয় বলে তিনি মত দিয়েছেন।
Categories
অনলাইন প্রকাশনা ভালবাসা/প্রণয়লীলা যৌন জ্ঞান ও সম্পর্ক সৃজনশীল প্রকাশনা

স্বামী বশীভূতকরণ মন্ত্র

– নিশাত ইয়াসমিন

মানুষের জীবনে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হচ্ছে বিয়ে। আর বিয়ের পর সুখী দাম্পত্য জীবন কে না চায়? দাম্পত্য জীবনে ছোটখাটো অনেক ভুলভ্রান্তি হয়। ফলে দাম্পত্য জীবনে আসে অশান্তি। সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য এই ভুলগুলোকে আমাদের এড়িয়ে চলা উচিত। সুখী দাম্পত্য জীবন গড়তে মেয়েদের জন্য রইলো কিছু টিপস।

* স্বভাবতই আপনার স্বামী চান যে আপনি তাকে একটু বেশি ভালবাসবেন এবং যত্ন নিবেন। চেষ্টা করুন তাকে তার প্রতিদিনের টুকিটাকি কাজগুলোতে সাহায্য করতে। অফিস যাওয়ার আগে তার কাপড় ইস্ত্রী করে রাখলেন, অফিসে যাবার ব্যাগটা গুছিয়ে দিলেন ইত্যাদি। এতে আপনি ছোট হবেন না বরং আপনি যে তাকে ভালোবাসেন এবং তার প্রতি যত্নবান, সেটা তারই বহিঃপ্রকাশ ।

* স্বামীর চাওয়া পাওয়া বুঝতে চেষ্টা করুন। দেখবেন প্রথম প্রথম যদি বুঝতে কিছুটা সমস্যা হয় তাহলেও কিছু দিন পর পুরোপুরি বুঝে যাবেন তার পছন্দ অপছন্দ। এতে করে তার সাথে সবকিছু মানিয়ে নিতে বেশ সহজ হয়ে যাবে সময়ের ব্যবধানে।

* অনেক মেয়ের মধ্যেই একটি সাধারণ প্রবণতা দেখা যায়। সেটা হলো স্বামীকে আপাদমস্তক পাল্টে ফেলা। প্রথম প্রথম এসবে সে অনেক খুশি হলেও একসময় বিরক্ত হয়ে ওঠে। ফলে হিতে বিপরীত হয় প্রায় সবারই। সুতরাং তার টুকটাক খারাপ অভ্যাস ছাড়াতে চেষ্টা করলেও পুরো নতুন করে গড়বেন এরকম ভাবনা মাথায় না রাখাই ভালো। চেষ্টা করুন টুকটাক সমস্যাগুলো মানিয়ে নিতে।

* কারো প্রশংসা করতে পারা একটি বড়ো গুণ। সবাই সেটা পারে না। ছোটখাটো কাজের জন্যও তাকে ধন্যবাদ দিন। চা বানিয়ে খাওয়ালে, লন্ড্রি থেকে কাপড় নিয়ে আসলে বা রান্নার কাজে সাহায্য করলেও তাকে ধন্যবাদ দিন। দেখবেন তার কাজ করার আগ্রহ বেড়ে গেছে। পাশাপাশি তাকে খুশিও দেখাবে অনেকটা।

* ঘরের গীত বাইরে গাইবেন কেন? আপনাদের দুজনের ব্যাপার বাইরের কেউ জানবে কেন? বাইরে কারো সামনে কখনো স্বামীকে নিয়ে এমন কোন কথা বলবেন না যা শুনলে সে কষ্ট পাবে। অন্যের সামনে স্বামীকে নিয়ে আলোচনা করলেও সবসময় চেষ্টা করবেন তার ভালো দিকগুলো নিয়ে কথা বলার ।

* সুখী বৈবাহিক জীবনের সবচেয়ে বড় ভিত হলো বিশ্বাস। স্বামীকে বিশ্বাস করুন, সম্মান করুন, সহযোগিতা করুন তার কাজে, মন থেকে ভালবাসুন তাকে। দেখবেন বিনিময়ে আপনিও তার কাছ তাই পাচ্ছেন ।

* তিনি যেটা পছন্দ করেন সেটা করার চেষ্টা করুন আর যেটা তিনি অপছন্দ করেন সেটা না করার চেষ্টা করুন। তবে নেহাত তার মতের বিপরীতে যেতেই হলে যুক্তি দিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরুন। দেখবেন তিনিও আপনার মতামতের মূল্য দিচ্ছেন আস্তে আস্তে।

* যোগাযোগ সম্পর্কের অন্যতম মাধ্যম। দুজনের বন্ধুত্ব গাঢ় করুন। একে অন্যের সুখ দু:খের গল্প ভাগাভাগি করে নেবার চেষ্টা করুন। নিজের কথাই শুধু না বলে তার কথাও শুনুন। তাকে গুরুত্ব দিন।

* উপভোগ করতে শিখুন। যে কোনো বিশেষ দিনে তাকে ছোটোখাটো উপহার দিন। আবার তিনি যদি আপনার জন্য কোন বিশেষ উপহার নিয়ে আসেন তাহলে সেটা সাদরে গ্রহণ করুন। পছন্দ না হলেও কখনো সেটা বুঝতে দেয়া মোটেও উচিত নয়। এতে সঙ্গী মনে আঘাত পেতে পারেন।

* মানুষ মাত্রই ভুল করে। তাই আপনার সঙ্গী যদি কোন ভুল করেও বসে তাহলে চিৎকার করে রাজ্য মাথায় করবেন না। প্রথমে তার ভুলটা চিহ্নিত করুন। বুঝতে চেষ্টা করুন,ব্যাপারটিতে তার সম্পৃক্ততা কতটা। তারপর সেটা নিয়ে তার সাথে আলোচনা করুন। তাকে শান্তভাবে বোঝান। রেগে কখনো কোন সঠিক সিদ্ধান্তে আসা যায়না। সূত্র: ইন্টারনেট।

 

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কৌতুক সৃজনশীল প্রকাশনা

জসীম উদ্দীনের হাসির গল্প

হাটে একটি প্রকাণ্ড বোয়াল মাছ উঠিয়াছে। এক ফকীর ভাবিল, এই বোয়াল মাছটার পেটি দিয়া যদি চারটি ভাত খাইতে পারিতাম! সে মাছের দোকানের কাছে দাঁড়াইয়া রহিল। একজন চাষী আসিয়া মাছটি কিনিয়া লইল। মুসাফির তাহার পিছে পিছে যাইতে লাগিল। লোকটি যখন বাড়ির ধারে আসিয়াছে তখন মুসাফির তাহার নিকটে যাইয়া বলিল, ‘সাহেব! আমি মুসাফির লোক। ভিক্ষা করিয়া খাই। কোনোদিন ভালো খাওয়া হয় না। আজ হাটে যাইয়া যখন ঐ বড় মাছটি দেখিলাম, মনে বড় ইচ্ছা হইল এই মাছটির পেটি দিয়া যদি চারটি ভাত খাইতে পারিতাম! তাই আপনার পিছে পিছে আসিয়াছি। দয়া করিয়া যদি আমার মনের ইচ্ছা পূরণ করেন বড়ই সুখী হইব।’

লোকটি বড়ই দয়ালু। সে খুব আদর করিয়া মুসাফিরকে আনিয়া বৈঠকখানায় বসাইল। তারপর মাছটি ভিতরে লইয়া গিয়া তাহার বউকে মুসাফিরের সমস্ত ঘটনা বলিয়া হুকুম করিল, ‘এই মাছটির পেটি বেশ পুরু করিয়া কাটিবে। পেটিখানা মুসাফিরকে দিতে হইবে।’
এমন সময় লোকটির একটি গরু ছুটিয়া গেল। সে তাড়াতাড়ি গরুটির পিছে পিছে দৌড়াইল।
মাছ কুটিতে কুটিতে চাষীর বউ ভাবিল, ‘বাড়িতে ভালো কিছু খাবার পাক করিলে আমার স্বামী এমনি করিয়া মুসাফির লইয়া আসে। মুরগীর রানটা, মাছের পেটিটা সব সময়ই মুসাফিরদের দিয়া খাওয়ায়। এই বড় মাছের পেটিখানাও মুসাফিরকে খাওয়াইবে। যেমন করিয়াই হোক মুসাফিরকে আজ তাড়াইব।’
এই কথা ভাবিয়া বউটি খালি পাটার উপর পুতাখানা ঘষিতে আরম্ভ করিল আর সুর করিয়া কাঁদিতে লাগিল।
অনেকক্ষণ কান্না শুনিয়া মুসাফির ভাবিল, না জানি বউটির কি হইয়াছে। সে বাড়ির ভিতর আসিয়া জিজ্ঞাসা করিল, ‘মা জননী! তুমি কাঁদিতেছ কেন? তোমার কি হইয়াছে?’
বউটি বলিল, ‘বাবারে! সে কথা তোমাকে বলিবার নয়। আমার স্বামী মানা করিয়াছেন।’
মুসাফির বলিল, ‘মা! আমি তোমার ছেলে। আমার কাছে কোনো কথা গোপন করিও না।’
বউটি তখন আধেক কাঁদিয়া আধেক কাঁদিবার ভান করিয়া বলিল, ‘আমার স্বামী বাড়ির ভিতরে আসিয়া আমাকে বলিল, এই মুসাফির বড়ই লোভী। আমাদের পুতাখানা পাটায় ধার দিয়া চোখা করিয়া রাখ। মুসাফিরের গলার ভিতর দিয়া ঢুকাইয়া দিব। যাহাতে সে আর কাহারও মাছ দেখিয়া লোভ করিতে না পারে। তাই আমি কাঁদিতেছি। হায়! হায়! আমার স্বামী এই মোটা পুতা তোমার গলার ভিতরে ঢুকাইলে নিশ্চয় তুমি মরিয়া যাইবে, তাই আমি কাঁদিতেছি। কিন্তু স্বামীর হুকুম তো আমাকে মানিতেই হইবে।’

শুনিয়া মুসাফিরের তো চক্ষুস্থির। সে বলিল, ‘মা জননী! তুমি একটু আস্তে আস্তে পুতা ঘষ। আমি এখনই চলিয়া যাইতেছি।’ এই বলিয়া মুসাফির তাড়াতাড়ি লাঠি-বোঁচকা লইয়া দে চম্পট। এমন সময় বাড়ির কর্তা ফিরিয়া আসিয়া দেখে কাছারি ঘরে মুসাফির নাই। বউকে জিজ্ঞাসা করিল, ‘মুসাফির চলিয়া গেল কেন?’
বউ নথ নাড়িতে নাড়িতে বলিল, ‘তুমি বাড়ি হইতে চলিয়া গেলে মুসাফির বলে কি, ‘তোমাদের পুতাটা আমাকে দাও।’ দেখ তো, আমাদের একটা মাত্র পুতা। তা মুসাফিরকে দেই কেমন করিয়া? পুতা দেই নাই বলিয়া মুসাফির রাগিয়া চলিয়া গেল।’ স্বামী বলিল, ‘সামান্য পুতাটা দিলেই পারিতে। আমি না হয় বাজার হইতে আর একটি পুতা কিনিয়া আনিতাম। শিগ্গীর পুতাটা আমাকে দাও, আর মুসাফির কোন্ দিকে গিয়াছে বল!’
বউ পুতাটি স্বামীর হাতে দিয়া বলিল, ‘মুসাফির এই দিক দিয়া গিয়াছে।’ পুতাটি হাতে লইয়া সে সেই দিকে দৌড়াইয়া চলিল। খানিক যাইয়া দেখিল, মুসাফির অনেক দূর হন্ হন্ করিয়া চলিয়াছে। সে ডাকিয়া বলিতে লাগিল, ‘ও মুসাফির, দাঁড়াও—দাঁড়াও—পুতা লইয়া যাও।’ শুনিয়া মুসাফির উঠিয়া পড়িয়া দৌড়। চাষী যতই জোরে জোরে বলে, ‘ও মুসাফির! পুতা লইয়া যাও!—পুতা লইয়া যাও! মুসাফির আরও জোরে জোরে দৌড়ায়। সে ভাবে সত্যই চাষী তাহার গলায় পুতা ঢুকাইতে আসিতেছে। বোঁচকা-বুঁচকি বগলে ফেলিয়া সে মরিয়া হইয়া দৌড়ায়।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা চিকিত্সাশাস্ত্র এবং বিজ্ঞান যৌন জ্ঞান ও সম্পর্ক

নিরাপদ যৌনজীবন ও আমরা

ডা. মোঃ জাহিদুল ইসলাম

এই সংসার রঙ্গমঞ্চে আবির্ভূত হয়ে মানুষ রচনা করতে চায় ছোট একটা সুখের নীড়। সুখের নীড় রচনায় যারা সার্থক, জীবনের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছা তাদের জন্য অনেক সহজ, সমান্তরাল এবং ছন্দময়। ছন্দময় জীবনে তাদের চলার পথে ছড়ানো থাকে রাশি রাশি গোলাপ। একই দৃষ্টিভঙ্গিতে যারা ব্যর্থ, তাদের জীবন চলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাস। নিয়তির এই নিষ্ঠুর পরিহাস দলিতা কালভূজঙ্গিনীর ন্যায় প্রবেশ করে মানুষের আজন্ম বাসনায় সাজানো নন্দন কাননে। এই ব্যর্থ মানুষগুলোর জীবনের পথচলা সংগ্রামী। এরা পরিণতির সমাপ্তে এসে, শোক বৃশ্চিক বিষে জর্জরিত ও ক্ষতবিক্ষত হয়ে দাঁড়ায় মরণ সমুদ্রের বেলাভূমিতে।

জীবনের এই পথচলার ভিন্নতর মূলে অনেক কারণের মধ্যে যৌনতাকে একটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে ধরা যায়। এবার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের মাধ্যমে সুখ নীড় রচনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে নিরাপদ, সার্থক ও সফল যৌন জীবনের গুরুত্ব কতটা সেদিকে দৃষ্টি প্রদান করি। প্রতিটি মানুষকে সৃষ্টিকর্তা প্রদান করেছেন যৌন ক্ষমতা। সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত এই ক্ষমতা সম্পর্কে সচেতনতা, জ্ঞান এবং এর ব্যবহার ও অপব্যবহারের ওপর নির্ভর করছে নিরাপদ, সার্থক ও সফল যৌন জীবন। কিভাবে একটা সুন্দর সাজানো আলোকবর্তিকাময় জীবন নষ্ট হয়, কেন একজন মানুষ সুখের বাসর সাজাতে গিয়ে উপবিষ্ট হয় মরণ সমুদ্রের বেলাভূমিতে, কেন স্বপ্নীল সাজানো জীবন এলোমেলো হয় এসব প্রশ্নের বাস্তবভিত্তিক কিছু যুক্তি এই লেখার মধ্যে খুঁজে পাবেন। ‘নিরাপদ যৌন জীবন ও আমরা’ হেডলাইনে এ লেখার মধ্যে আমরা চেষ্টা করব আপনার বিবেককে নাড়া দিতে এবং সাথে সংকলিত করব আপনার সমস্যার সমাধান দিতে, যে সমাধানের মধ্যে খুঁজে পাবেন চিকিৎসা বিজ্ঞানের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিগত নির্দেশনা।

যৌন অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ কৈশোর থেকেই শুরু হয়। কৈশোরের শুরু থেকে যৌবনে পদার্পণের পূর্বক্ষণ পর্যন্ত একটা সীমাহীন দুরন্তপনা ছেলেমেয়েদের হৃদয়কে উদ্বেলিত করে। এ সময় চারদিকে ছড়ানো যৌন অনুভূতিমূলক যা কিছু সামনে উপস্থিত হয়, তা অধীর আগ্রহে গ্রহণ করে ছেলেমেয়েরা। নগ্ন ছবি ও নগ্ন কাহিনীমূলক ম্যাগাজিন, ইন্টারনেটে নগ্ন ছবি উপভোগ করা থেকে শুরু করে বর্তমানে বিজ্ঞাপনগুলো পর্যন্ত যৌন অনুভূতিসম্পন্ন। ফলে কৈশোরের শুরু থেকেই যৌনতার মধ্যে নিজেকে জড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। ‘মৈথুন’ প্রক্রিয়ায় যৌন স্বাদ গ্রহণ শুরু হয় সেই সুদূর কৈশোর থেকে। কেউ ইচড়ে পাকা খারাপ বন্ধুর সহযোগিতায় অন্ধকার গলি পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এভাবে জীবনের পথচলা থেকে কৈশোরের সোনালী সূর্য পশ্চিম দিগন্তে ঢলে পড়ে, পূর্ব দিগন্তে উদিত হয় সম্ভাবনাময় যৌবন। কৈশোরের যৌন অনুভূতি থেকে যারা ভালো কিছু গ্রহণ করেছিল যৌবনে এসে তাদের পথভ্রষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে অনেক কম। প্রতিপক্ষরা যৌবনে পদার্পণের সাথে আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। নিরাপদ যৌন জীবনের পথ থেকে তারা নিক্ষিপ্ত হয়ে পৌঁছে যায় সেই অন্ধ গলিতে। আর যারা নিজেকে সংযত রাখতে সক্ষম হয়, তারা অন্তত ওই অন্ধ গলির সঙ্গী হয় না। যারা ওই অন্ধ গলিতে ডুব দেয়, তাদের অনেকেই সিফিলিস ও গনোরিয়ার মতো যৌন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে এবং কোনো এক সময় তারা যৌন অক্ষমতার শিকারও হয়।

যৌবনের প্রারম্ভ থেকে এমনকি কৈশোর থেকেও শুরু হয় কর্মজীবনের। তবে কর্মজীবনের শুরুটা নির্ভর করে পারিবারিক, অর্থনৈতিক সচ্ছলতার ওপর। যৌবনের প্রারম্ভ থেকে এবং কর্মজীবনের ঠিক উর্বর মুহূর্তে বিয়ের ঘণ্টা বেজে ওঠে। পুরুষের জীবনের অর্ধাঙ্গিনী হয়ে আসে এক নারী, আর বিয়ের মাধ্যমেই নারী খুঁজে পায় তার আরাধনার বস্তু, নারী জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পর্কটা। বিয়ের ঠিক পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত নিরাপদ যৌন জীবনভিত্তিক যতটুকু শিক্ষা একটা ছেলে বা মেয়ে গ্রহণ করে থাকে, ওই সময় পর্যন্ত যৌনভিত্তিক মূল্যবোধের অনুভূতি তাদের মধ্যে যেভাবে করায়ত্ত হয় তার বহিঃপ্রকাশ শুরু হয় বিয়ের দিন থেকে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের যৌন বিজ্ঞানীগণ মানব জীবনের বাসর রাতকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। অনেক আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন এই রাত। বাসর রাত থেকে তার পরবর্তী জীবন কেমন কাটবে, জীবন ধারা কোন গতিতে প্রবাহিত হবে- এ ধরনের অনেক বিষয় এই রাত থেকেই পরিবর্তিত রূপ নেয়। সুখের নীড় রচনার সূচনার রাত, এই বাসর রাত আবার মরণ সমুদ্রের বেলাভূমিতে উপনীত হওয়ার রাতও। তাই বিয়ে এবং বাসর রাত দুটি বিষয়ে প্রয়োজন পূর্ব প্রস্তুতি। নিরাপদ যৌন জীবন গঠনে এ দুটি বিষয়কে কোনোভাবেই ছোট করে দেখা ঠিক নয়। পাত্র-পাত্রী নির্বাচন থেকে বাসর রাত পর্যন্ত নানাবিধ পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ অত্যাবশ্যকীয়, যা পরবর্তী জীবনের স্বপ্নীল সম্ভাবনাগুলোর রূপায়নে এক অদৃশ্য শক্তির মতো কাজ করে। পাত্র-পাত্রী নির্বাচন থেকে বাসর রাত পর্যন্ত পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণে ব্যক্তিভেদে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে, তবে নিম্নলিখিত দিকগুলোর প্রতি গুরুত্বারোপে অবশ্যই কিছু সুফল পাওয়া যাবে পাত্র-পাত্রী নির্বাচন থেকে।

বাসর রাত পর্যন্ত করণীয় বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করুন এবং আপনার সমস্যাবলী অনুযায়ী প্রদেয় সমাধান আপনি নিজেই খুঁজে বের করুন এবং সমমুখে শক্তিশালী মানসিকতা এবং সচেতনতার সাথে অগ্রসর হোন।

পাত্র-পাত্রী নির্বাচন বিষয়ক
প্রেমঘটিত সম্পর্ক তৈরির মাধ্যমে যদি আপনি বিয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকেন, সেক্ষেত্রে আপনার প্রতি আমাদের অনুরোধ, আপনি আপনার সুদূরপ্রসারী চিন্তা-চেতনা এবং অনুভূতির প্রয়োগ করে, একে অপরকে যাচাই করবেন। যাচাই-বাছাইয়ের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে আপনার হাতে, যেহেতু আপনাদের সম্পর্ক প্রেমঘটিত। যদি আপনার বহুগামিতার অভ্যাস থাকে সেটাকে এক পর্যায়ে পরিহার করবেন। তবে উক্ত বহুগামিতায় অভ্যস্ত থাকাকালীন সময়ে সবচেয়ে পছন্দের অনুভূতিগুলো আপনি আপনার আপনজনের ওপর প্রয়োগ করবেন। ইতিবাচক ফলাফল আপনাকে পেতেই হবে, তাহলে পরবর্তীকাল বা জীবন নিঃসন্দেহে গোলাপ ছড়ানো পথের মতো মনে হবে। ইতিবাচক ফলাফল না পেলে খুব কৌশলে কেটে পড়ুন, প্রেম ভালোবাসার শেষ পর্বটা কিন্তু দৈহিক কামনা-বাসনার পর্ব। তাই সব ভালো তার শেষ ভালো যার। নিরাপদ যৌন জীবন গঠনে মনঃ দৈহিক উভয় বিষয়েই গুরুত্বপূর্ণ। তাই আপনি যদি বহুগামী হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার ঘুমন্ত অনুভূতিগুলো আপনাকে স্মরণ করাবে সঙ্গী-সঙ্গিনীর সাথে মিল-অমিলের দিকগুলো। অবশেষে সিদ্ধান্ত একান্তই আপনার ব্যক্তিগত। যৌন জীবনে আপনি যদি বাস্তব জ্ঞানহীন কোনো নতুন মানুষ হয়ে থাকেন। যদি আপনি সেই ভাগ্যবান/ভাগ্যবতী হয়ে থাকেন দুজনাই প্রথম। সেক্ষেত্রে আপনি আপনার সঙ্গিনীকে কতটুকু তৃপ্তি দিতে সক্ষম হয়েছেন সেটা সঠিকভাবে উপলব্ধি করার চেষ্টা করুন এবং সঙ্গিনী হিসেবে আপনার দেয়া আদর-সোহাগে আপনার সঙ্গীটি কতটুকু তৃপ্ত তা বিচার-বিশ্লেষণ করুন। একে অপরের এই আন্তরীণ বিশ্লেষণ থেকে আপনারা বুঝতে পারবেন আপনাদের ত্রুটিজনিত দিকগুলো সম্পর্কে এবং পরিশেষে প্রয়োজনে সমস্যার সমাধানমূলক ব্যবস্থাটি বেছে নিন। ধরে নিন আপনাদের বাসর রাতের অভিজ্ঞতার বিচার-বিশ্লেষণে আপনি একজন পুরুষ হিসেবে আপনার একান্ত আপন এবং জীবনের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত বস্তুটিকে যতটুকু তৃপ্তি দিয়েছেন, সেটা যথেষ্ট নয়। আপনি বাসর রাতে চরমভাবে পুলকিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন, ব্যর্থ হয়েছেন আপনি চরম আনন্দ দিতে। এক্ষেত্রে বাসর রাতের এই তিক্ত অভিজ্ঞতা আপনাকে ভেতরে যন্ত্রণা দেবে। প্লিজ ঘাবড়াবেন না। মনের যন্ত্রণা ঝেড়ে মুছে কয়েকদিন সঙ্গিনীর সাথে আরো নিবিড় হতে চেষ্টা করুন এবং তার সহযোগিতা আরো বেশি প্রার্থনা করুন। আপনার মানসিক শক্তি যদি সবল হয়, সেক্ষেত্রে ক্রমাগত উন্নতি নিজেই উপলব্ধি করবেন। যদি আপনি ভাবাবেগের মানুষ হয়ে থাকেন এবং দুর্বল মানসিকতা আপনাকে যদি বেশি করে ব্যথাতুর করে তোলে তাহলে অবস্থার ক্রম অবনতি দেখবেন। এ অবস্থায় চিকিৎসা শাস্ত্রের দিকে নিজেকে এগিয়ে দিন। আপনি নিঃসন্দেহে ভালো ফল লাভ করবেন।

নিম্নের সমস্যাগুলো বিচার-বিশ্লেষণ করলেই আপনার জন্য সমাধান গ্রহণ সঠিক হবে
(ক) আপনার লিঙ্গের আকার-আকৃতি নিয়ে বিশেষ ভাবনার কিছু নেই। কারণ আড়াই ইঞ্চির লিঙ্গের একজন পুরুষও ইচ্ছা করলে তার সঙ্গিনীকে চরম তৃপ্তি দিতে পারে।

(খ) আপনার লিঙ্গোত্থান হয় কি-না? যদি লিঙ্গোত্থানে সমস্যা থাকে এবং উত্থিত হলেও আবার লিঙ্গ ঢলে পড়ে এবং আপনার লিঙ্গ যদি মজবুত, শক্তিশালী আকার ধারণ না করে, তাহলে অবশ্যই আপনাকে ইরেকটাইল ডিসফাংশনজনিত চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। এতে আপনার সমস্যা দূর হবে এবং মনোবল সুদৃঢ় হবে। এছাড়া সঙ্গিনীর চরম তৃপ্তি দেয়ার পূর্বেই বীর্যপাত ঘটে যায়, কারো কারো যৌন আকাঙ্ক্ষা অত্যন্ত কম। অর্থাৎ মনের ভেতরে জাগ্রত ইচ্ছাশক্তিই আপনার দৈহিক উত্তেজনার উৎস। দুর্বল মানসিকতা এবং Hormonal insufficiency জনিত কারণে এই ইচ্ছাশক্তির অবনতি ঘটে থাকে। এক্ষেত্রেও যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ অত্যাবশ্যকীয়।

(গ) আপনি এমন একজন যৌন অক্ষম ব্যক্তি হতে পারেন, মূলত আপনার সবই ঠিক আছে কিন্তু কোনো অজানা আশঙ্কা, মানসিক ভীতি আপনার হার্টবিট বাড়িয়ে দেয়। মনস্তাত্ত্বিক এই অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে আপনার লিঙ্গোত্থানে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। এক্ষেত্রে আপনার চিকিৎসা প্রয়োজন।

(ঘ) কৈশোরে এবং যৌবনে হস্তমৈথুন, স্বপ্নদোষ এবং বিপথগামিতাজনিত অনুশোচনাবোধও আপনার বর্তমান নিরাপদ যৌন জীবনের অন্তরায় হিসেবে কাজ করতে পারে। এক্ষেত্রে উপদেশ হলো অতীত নিয়ে ভাবা যাবে না, অতীতে এ ধরনের ঘটনা সবার জীবনেই কমবেশি ঘটে থাকে। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তাই মন থেকে এগুলো ঝেড়ে-মুছে পবিত্র মনে নতুন যাত্রা শুরু করুন।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা গল্প বিনোদন ভালবাসা/প্রণয়লীলা সৃজনশীল প্রকাশনা

নারীর আট কলা হেকমত

নারীর আট কলা হেকমত

—pantha_nazrul

কয়েকদিন পূর্বে এক সন্ধ্যায় জরুরী কথা আছে বলে আমার আবাল্য বন্ধু রনি আমাকে ডেকে নিয়ে যায় মতিঝিলের একটি রেস্তোরায়। রনির চোখে-মুখে চিন্তার রেখা। মলিন চেহারা। মুখোমুখি বসে জানতে চাইলাম ‘‘কি হয়েছে তোর?’’

কষ্টের দীর্ঘ নিশ্বাস ছেড়ে সে বললো, ‘‘দোস্ত হেরে গেছি! সেই মেয়েটির কাছে হেরে গেছি!’’ মৃদু হেসে বললাম, ‘‘এতে লজ্জার কিছু নেই। নারীর কাছে হারাতেই গৌরব!’’ সে রেগে বললো, ‘‘মারুফ শয়তানি করবি না। তুই সবকিছুতেই শয়তানি করিস।’’

এদিক সেদিক পর্যবেক্ষণ করে রনি বললো, ‘‘মারুফ এখানে মাঝখানটায় না বসে চল আমরা ঐ ‘এসি রুমটায় গিয়ে বসি।’’ মারুফ বললো, ‘‘না, যারা লেডিস নিয়ে আসে তারা সাধারণত ঐখানে বসে। ঐটার ভিতরে আবার ছোট ছোট কেবিন আছে।’’ ‘‘তাইলে চল ঐ কর্নারে গিয়ে বসি’’ বললো রনি।

বাচ্চা বয়সের এক ওয়েটার মারুফের মুখের দিকে চেয়ে বলে, ‘‘মামা কী খাবেন।’’ রনি বলে, ‘‘এই বেটা, ‘নান’ নিয়ে আয়, যা।’’ এবার রনির মুখে দিকে চেয়ে ওয়েটার বলে, ‘‘মামা সাথে কি গ্রীল দিবো না শিক?’’ হালকা রেগে রনি বলে, ‘‘এই বেটা ‘বস’ দিছে বাঁশ আর তুই দিবি শিক?’’ রনির কথা শুনে বেচারা ওয়েটার ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। মারুফ হাসতে হাসতে বলে, ‘‘মামা হাফ গ্রীল নিয়ে এসো।’’

‘নান’ খেতে খেতে রনি বললো, ‘‘আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি ব্যাংক শিফ্ট করবো। কাজের প্রতি আমার ডিভোশন, ডেডিকেশন, সিন্সিয়ারিটি সবই গেল বৃথা। মেয়েটি সারাদিন থাকে ইজি মুডে তারপরও সে-ই পেল কনফার্মেশন লেটার!

তাছাড়া সে তো আমার পরে জয়েন করেছে। যেখানে বস প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিল আমার পারফর্মেন্সে তিনি ওভার সেটিসফাইড সেখানে তিনি চূড়ান্ত কাজটি করলেন মেয়েটির ফেভারে। আমার মন খারাপ দেখে বস ডেকে নিয়ে বললেন, মেয়েটি একজন ডাইরেক্টরের আত্মীয় তাই আমার কিছুই করার ছিল না।’’

মারুফ ঝলসানো মাংশখন্ড মুখের কাছে নিয়েও মুখে না দিয়ে হাত নীচে নামিয়ে ইষত রেগে তীক্ষ কণ্ঠে বলে, ‘‘শালা তুই আসলেই একটা গাধা। মেয়েটি কারোরই আত্মীয় নয়। নিশ্চয় সে আট কলার যে কোন এক কলা দিয়ে কাজ বাগিয়েছে!’’

মারুফের কথা শুনে রনি যেন আকাশ থেকে পড়ে! বিস্ফারিত নয়নে প্রশ্ন ছুড়ে দিলো, ‘‘আট কলা মানে?’’ বড়ো বড়ো চোখে রনির মুখের দিকে চেয়ে মারুফ বললো, ‘‘বেটা বলদ ইউনিভার্সিটি লাইফে তো শুধু সবরি কলা খেয়েছিস আর হলে বসে বসে অঙ্ক কষেছিস কোন দিন কি সন্ধ্যার পর টিএসসিতে গিয়েছিস? তুই নারীর আট কলা বুঝবি কিভাবে?’’

ভেংচি কেটে রনি বললো, ‘‘তুই মনে হয় খুব জ্ঞানী হয়ে গেছিস?’’ ‘‘না তা নয় তবে আমি বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে-ফিরে নারীর আট কলা হেকমতের তাণ্ডব দেখে পাকা হয়ে গেছি!’’ বললো মারুফ।

ওয়েটারকে ডেকে চা’র অর্ডার দিয়ে, মরুফ বললো, ‘‘দোস্ত, কয়েকটি ফার্মে কাজ করার সুবাদে লক্ষ্য করেছি, ছেলেরা প্রচুর পরিশ্রম করে, খাটুনি করে, দৌড়া-দৌড়ি করে কাজ করে। যখন-তখন অর্থাত ঝড়-বৃষ্টি, রোদ-খরা, শীত-গরম যাই থাকুক না কেন অফিসের কাজে বাইরে ছুটাছুটি করে। তারপরও দেখতাম ছেলেরা বসের মন পেতো না। ছেলেদের প্রতি বসের চোখ সবসময় রাঙ্গানোই থাকতো! অপর দিকে নারী সহকর্মীরা সৌন্দর্য চর্চা আর পর চর্চায় ব্যস্ত থেকেও বসের সদয় কৃপায় থাকতো দুধে-ভাতে। ওদের প্রতি বসের ভাবখানা এমন যে, ‘তোর বদনখানি মলিন হলে . . . . আমি নয়ন জলে ভাসি’!’’

রনি নড়েচড়ে বসে খুশীভাব নিয়ে বললো, ‘‘তুই একেবারে সত্যি কথা বলেছিস।’’ চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে মারুফ বললো, ‘‘দেখ দোস্ত. মাজার ব্যাপার হলো, কিছুদিন হলো একটি কর্পোরেট অফিসে জয়েন করেছি। কাজের চাপ প্রচুর। দম বন্ধ হয়ে আসে। ছেলেরা রীতিমত গলদঘর্ম। এ অবস্থায়ও মেয়েরা গায়ে বাতাস লাগিয়ে ঘুরে বেড়ায়!

দ্বিতীয় স্তরের কয়েকজন বস সুযোগ পেলেই বলাবলি করে, ‘কেন যে কর্তৃপক্ষ মেয়েদেরকে নিয়োগ দেয়! আসে সবার পরে আবার যায় সবার আগে। কাজের লোড নিতে চায় না।’ মনে মনে ভাবি যাক্ বাবা তাহলে এখানকার বসেরা বিষয়টি বুঝতে পেরেছে। হায় খোদা! এন্ড অব ইয়ারে যখন এই বসেরা এসিআর দিলো তখন দেখা গেলো বেশ কয়েকজন ছেলে ফেল! আর মেয়েরা সর্বোচ্চ নাম্বার নিয়ে ফার্স্ট পজিশনে থেকে পূর্ণিমার চাঁদের মতো হাসছে! রবিন্দ্রনাথের ‘আমি কী দেখেছি মধুর হাসি’র মতই প্রাণ জুড়ানো হাসি! এই হাসিও কি নারীর আট কলার এক কলা যা দেখে পুরুষদের প্রাণ জুড়িয়ে যায়?

প্রথম স্তরের একজন বস যাকে সিংহের সাথে তুলনা করা যায়। তাঁর শাসন গাদ্দাফির মতই লৌহ-কঠিন। বিন্দু পরিমাণ দয়া মায়া নেই। ছেলেদের কোন কাজে য্তকিঞ্চিত ত্রুটি কিংবা কোন একটি অফিস নোটে সামান্য ভুল পেলেই ডেকে নিয়ে কর্কশ ভাষায় চেচামেচি করেন এবং বলদ, গাধা, অকর্মা ইত্যকার কান গরম করা শব্দে বকা-ঝকা করেন।

কিন্ত সেই বসের সামনে যখন সম অপরাধে কোন নারী অফিসারকে হাজিরা দিতে হয় তখন তিনি মুনালিসার সেই বিখ্যাত হাসি দিয়ে, মোমের মতো গলে, মোলায়েম কন্ঠে বলেন, ‘এই ভুলগুলো কারেকশান করে ফাইনাল প্রিন্ট নিয়ে আসুন।’

এদিকে সামান্য ভুলের জন্য বসের ধমক আর বকা-ঝকা খেয়ে গোমড়া মুখে বসে থাকা ছেলেরা অসহায়ের মতো চেয়ে চেয়ে দেখে, নারীর প্রতি বসের ‘কী স্নেহ, কী মায়া গো – !’ কেউ কেউ মনে মনে নিজের উপর রাগ করে বলে, ‘শালা কেন যে নারী হয়ে জন্ম নেই নি’!

জোসের সাথে রনি বলে উঠে, ‘‘আরে দোস্ত আমিই তো মনে মনে নারী না হওয়ার জন্য নিজের উপর রাগ করতে ছিলাম! তবে সত্য বলতে কি আমার বস আবার একটু অন্যরকম মানুষ। খুব কঠিন প্রকৃতির লোক। তার মাঝে রসবোধ বলতে কিছু নেই। কাজ ছাড়া কিচ্ছু বুঝেন না। মেয়েদের প্রতি তার দূর্বলতা আছে এমন কথা কেউ বলতে পারবে না।’’

মারুফ বলে, ‘‘আমার লৌহ কঠিন বস, যার দাপটে ছেলেরা বিড়ালের মতো ঘাড় নুয়ে মাটির সাথে মিশে চলে অথচ সেই বসই কিনা একজন নারী কর্মী সামনে গেলে বরফের মতো গলে যায়! বিশাল সরোবরের নীল শান্ত পানির মতো ঠান্ডা হয়ে যায়!

পল্লী কবির গল্পের বই ‘বাঙ্গালীর হাসির গল্পে’ পড়ে ছিলাম, নারীর নাকি আট কলা হেকমত আছে। সাপুড়েরা মন্ত্রবলে যেভাবে বিষধর সাপকে পোষ মানিয়ে রাখে তেমনি নারীরা এই আট কলা হেকমত দিয়ে পুরুষকে কাবু করে রাখে! সিংহপুরুষ তুল্য বস কি তাহলে নারীর আট কলা হেকমতের প্রভাবে এমনভাবে বিগলিত হয়ে পড়েন?’’

রনির চোখের দিকে চেয়ে মারুফ বলে, ‘‘নাকি ময়মনসিংহের বাউল কবি জালালের নিম্নোক্ত গানের ‘চুলা’র তাপে বিগলিত হয়ে পড়েন? ‘’চুলা বানাইলে কি কৌশলে/কলের চুলায় জল দিয়ে আগুণ জ্বলে/যেখানে ঐ কলের চুলা, দুনিয়ার সব ওলামেলা/ধনী-মানীর পান্থশালা, আসে যায় দলে দলে/ . . . . . সেই চুলাতে সবই রান্ধা, এই দুনিয়ার যত বান্দা!’’

গানটা বলার সাথে সাথে তারা দু’জনে একসাথে হেসে উঠে। রনি বলে, ‘‘দোস্ত তুই তো দেখি পুরোদস্তর নারী বিদ্বেষী!’’ ‘‘আরে না, পাবনা কলোনীর রিদওয়ানাকে পাবার আশায় ক্যারিয়ার গঠনের পিছনে ছুটতে ছুটতে জীবনটার বারোটা বাজিয়ে দিয়েছি! আর তুই আমাকে বলিস নারী বিদ্বেষী!’’ বললো মারুফ। রনি বললো, ‘‘দোস্ত আমারও তো একই অবস্থা, চাকুরীটা পাকাপোক্ত না হলে তানিয়াকে তো ওর ‘কর্তৃপক্ষ’ বিয়েই দিবে না। কতো সিরিয়াস হয়ে যে, অফিসে কাজ করি, তারপরও বসের মন পেলাম না।’’

মারুফ মুচকি হেসে বলে, ‘‘এক কাজ কর ঐ মেয়েটাকে বিয়ে করে ফেল। তাহলে তোর ভাগ্যও ফিরে যাবে।’’ রনি বলে, ‘‘শালা, তানিয়া জানতে পারলে, এ পরামর্শের জন্য তোর আক্কেল দাঁত তুলে ফেলবে!’’

হঠাত রনির মুখ ফ্যাকাসে হয়ে উঠে। হোটেলের প্রবেশ পথের দিকে নির্বাক চেয়ে আছে সে। রনির চোখের সামনে হাত নেড়ে মারুফ বলে, ‘‘কীরে কী হয়েছে?’’ কিছুটা তুতলিয়ে তুতলিয়ে রনি বলে, ‘‘দোস্ত পিছনে চেয়ে দেখ আমার বস, সাথে ঐ মেয়েটা!’’

রনির বস মেয়েটার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হাসতে হাসতে হোটেলে প্রবেশ করে সোজা ‘এসি রুম লেখা’ দরজা দিয়ে ভিতের চলে যায়। মারুফ রনির দিকে কঠিন চোখে চেয়ে বলে, ‘‘কীরে তুই না বললে, তোর বসের রসবোধ বলতে কিছু নেই। এখন তো দেখি, রস উপচে পড়ছে!’’

Categories
অনলাইন প্রকাশনা ইতিহাস

ঈসা খাঁ-মানসিংহের যুদ্ধ

ঈসা খাঁ-মানসিংহের যুদ্ধ

১৫৯৬ সালে বার ভূঁইয়াদের অন্যতম ঈসা খাঁর সঙ্গে মোগল সেনাপতি রাজা মানসিংহের দ্বন্দ্ব যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ যুদ্ধ হয় ব্রহ্মপুত্র ও শীতলক্ষ্যা নদীর সঙ্গমস্থলে বর্তমান ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার সর্ব দক্ষিণ প্রান্তের টাঙ্গার গ্রামে। সে সময় শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব তীরে ছিল রাজা মানসিংহের রাজধানী টোক নগরী। এটির অবস্থান গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার উত্তর-পূর্বাংশে। রাজা মানসিংহ ১৫৯৫ সালে রাজস্থান থেকে তার রাজধানী টোক নগরীতে সরিয়ে আনেন। ব্রহ্মপুত্র ও শীতলক্ষ্যার সঙ্গমস্থলে ব্রহ্মপুত্রের দক্ষিণ তীরে ছিল টাঙ্গাব গ্রাম ও টোক নগর। ব্রহ্মপুত্র নদের অপর পাড়ে ছিল ঈসা খাঁর বিখ্যাত দুর্গ এগারসিন্দু। ইতিহাস মতে, ঈসা খাঁর অনুপস্থিতিতে মানসিংহ এগারসিন্দু আক্রমণ করেন। সংবাদ পেয়ে দুর্গ রক্ষায় ছুটে আসেন। কিন্তু তার সৈন্যরা এতোই ক্লান্ত ছিল যে, তারা যুদ্ধ করতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে ঈসা খাঁ মানসিংহকে দ্বন্দ্ব যুদ্ধের আহ্বান করেন। মানসিংহ এ প্রস্তাবে রাজি হন। যুদ্ধে এক পর্যায়ে মানসিংহের তরবারি ভেঙে গেলে ঈসা খাঁ তাকে আঘাত না করে নিজের তরবারি মানসিংহকে দেন কিন্তু মানসিংহ তরবারি না নিয়ে ঘোড়া থেকে নেমে আসেন। ঈসা খাঁ তখন মানসিংহকে মল্লযুদ্ধে আহ্বান করেন। কিন্তু মানসিংহ তা গ্রহণ না করে ঈসা খাঁকে আলিঙ্গন করেন। তার সাহস ও মহানুভবতায় মুগ্ধ হয়ে তার সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করেন। মানসিংহ ঈসা খাঁকে নিয়ে সম্রাট আকবরের দরবারে গেলে তিনি ঈসা খাঁকে ২২ পরগনার শাসক নিয়োগ করেন ও তাকে মসনদ-ই আলা উপাধিতে ভূষিত করে স্বদেশে ফেরত পাঠান।

গ্রন্থনা: তাহ্মীদুল ইসলাম