Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা বিনোদন ভালবাসা/প্রণয়লীলা

মোহন বাঁশি

মোহন বাঁশি
©…….সহিদুল

বলতে পারিস কেন তোরে এত ভালবাসি?
তুই যে আমার এই জীবনের মোহন বাঁশি।
শত কষ্ট দূর হয়ে যায় দেখলে তোর হাসি,
তাইতো তোরে ভালবাসি আমি রাশি রাশি

তোর জন্য আনতে পারি আকাশের ঐ তারা,
তুইযে আমার স্বপ্ন আশা তুইযে জীবনধারা,
তোর মুখের ঐ হাসিতে হই আমি পাগলপারা,
শুধু তোর জন্যই হইতে রাজি আমি সর্বহারা।

যদি ” ভালবাসি” এ কথাটি, বলিস একবার,
তোর জন্য “জীবন বাজী” রাখবো শতবার।
তুইযে আমার চাঁদবদনী, তুইযে গলার হার,
তুই ছড়া, আসেনা মোর মাথায় কিছু আর।

ভালবাসিস জানি আমায় গভীর অনুরাগে,
‘ভালবাসি’ তোর মুখে শোনার ইচ্ছা জাগে,
তুই যে আমার সুখের কলি জীবনের বাগে,
তুই বিহনে ভাবতেই জীবন মরুভূমি লাগে।

মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

হে নেত্রী, আপনি আর কাঁদবেন না

হে নেত্রী, আপনি আর কাঁদবেন না
©…….সহিদুল
(মনবতার জননী শ্রদ্ধাভাজন প্রিয় নেত্রীর জন্মদিনে নেত্রীকে উৎসর্গীকৃত)

১৯৭৫ সালের কোন একদিন,
জার্মানির এক বিমান বন্দরে
কাস্টমস কর্মকরতার বিমর্ষ চাহনি,
বঙ্গকন্যার বাংলাদেশী পাসপোর্ট দেখে
কাস্টমস কর্মকরতা ঘৃণা ভরে বলেছিল,
“এতো বড় এক বেইমান জাতি তোমরা!
যে মুজিব দিলো তোমাদের স্বাধীনতা,
আর সেই মুজিবের রক্তেই রঞ্জিত হয়েছে তোমাদের হাত?”

বঙ্গকন্যা সেদিন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি,
নেত্রী কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছিলেন,
প্রিয় নেত্রীর কান্নায়,
খোদার আরশ পর্যন্ত সেদিন, কেঁপে উঠেছিল,
পুরো জার্মান বিমানবন্দরটিই যেন
হয়ে উঠেছিল শোকে বিহ্বল এক খন্ড পাথর।

মা হারিয়েছেন, বাবা হারিয়েছেন,
ভাই হারিয়েছেন,
এ যে কত নির্মম, কত কষ্টের!
কত অনুতাপের, কতটা বিষাদের!
তা একমাত্র শেখ হাসিনা ছাড়া কেউ উপলদ্ধি করতে পারবে না।

হে প্রিয় নেত্রী,
আপনি কতটা ধৈর্যবতী!
তারপরও মাঝে মাঝে,
আপনার চোখে জল দেখা যায়,
তাই বলবো,
হে নেত্রী,
আপনি আর কাঁদবেন না।
আপনার চোখের পানি আমরা সহ্য করতে পারিনা।

আপনি আমাদের শেষ আশা,
আপনি আমাদের প্রত্যাশা,
আপনি আমাদের ভরসা,
আপনি আমাদের আস্থা,
আপনি আমাদের প্রেরণা,
আপনি আমাদের স্পন্দন।

আপনি স্বজন হারিয়েছেন,
আজ ১৭কোটি জনতা আপনার স্বজন,
আমরা ১৭কোটি জনতা
আপনার চোখের পানি মুছে দিব,
১৭কোটি জনতা আপনাকে হাসুবু বলে জড়িয়ে ধরবে।

হে মানবতার জননী,
আপনার মায়াময় সুশীতল স্নেহের ছায়াতলে
আমরা শান্তিতে ঘুমাচ্ছি,
কোথায় পাব এমন শান্তির দূতিকা?
আপনি আছেন বলেই আজ
লক্ষ লক্ষ নীড় হারা পাখির মত
অসহায় মানুষেরা জীবন বাঁচাতে পেরেছে।
আপনি আছেন বলেই
শয়তানের দলেরা ভয় পায়।
আপনি ছাড়া শান্তি অরক্ষিত হয়ে যায়।

হে শান্তি মাতা,
পার্বত্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা
আপনার দ্বারাই সম্ভব হয়েছিল।
আজ শুধু পার্বত্যে নয়,
সারা বিশ্বেই আপনার শান্তির বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে।
যখন পার্বত্যচট্টগ্রামে শান্তির চুক্তি করেছিলেন,
তখনই আমার মন্তব্য ছিল,
নোবেল পুরষ্কার আপনার হাতেই মানায়,
কিন্তু তা হয়নি।
এরপর সমুদ্র জয়, ছিটমহল বিনিময় সহ
বহু শান্তির ইতিহাস গড়েছেন।

এখন আমরা চাই আপনার শান্তিময় দ্যুতি
ছড়িয়ে পড়ুক বিশ্বব্যাপী,
আপনার দৃঢ় ভূমিকায়,
আপনায় মায়াময়তার উসিলায়,
রোহিঙ্গারা ফিরে পাক তাদের আবাসভূমি,
আপনার উসিলায় আরাকান হোক স্বাধীন,
শান্তির পতাকা উড়ুক স্বাধীন কারাকানে।
হাসি ফুটুক শান্তিকামীদের মনে।
শয়তানের বাচ্চা,
মানবতার দুশমন,
অশান্তির বাহকেরা নিপাত যাক।

আজকে অশান্তির বাহকেরা
আপনাকে নোবেল দিতে চায়।
আমরা চাই না এ নোবেল।
অশান্তির ধারকদের যদি শান্তির নোবেল দেয়া হয়,
তবে মানবতার জননী হয়ে
কিভাবে আপনার হাতে শোভা পাবে
ঐ অশান্তির নোবেল?

আল্লাহর দোহাই লাগে,
প্রিয় নেত্রী, আপনি আর কাঁদবেন না,
আমরা চাই আপনি আরো বজ্রের মত কঠিন হোন,
আপনার হাতেই মানার বংলার বৈঠা,
আপনিই পারেন,
রাজাকার আলবদর দুর্নীতিবাজদের বিচার পূর্ণ করতে,
আপনার দীপ্তিময় আভার নিকট ম্লান সারাবিশ্ব,
আপনার নীতির কাছে মলিন বিশ্বের আপোষকারী নেত্রীবৃন্দ!

হে নেত্রী,
বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সোনার বাংলাকে
বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য আপনার কোন বিকল্প নেই,
সোনার বাংলার বৈঠা আপনার হাতেই অটুট থাকুক,
তাই আমাদের নিত্য দিনের শপথ হোক,

আপনার হাতে সোনার বৈঠা চলছে নৌকা অনুক্ষণ,
অবাক হয়ে দেখছে বিশ্ব বাংলাদেশের উন্নয়ন।

মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম
সিঙ্গাপুর

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

মোহন বাঁশি

মোহন বাঁশি
©…….সহিদুল

বলতে পারিস কেন তোরে এত ভালবাসি?
তুই যে আমার এই জীবনের মোহন বাঁশি।
শত কষ্ট দূর হয়ে যায় দেখলে তোর হাসি,
তাইতো তোরে ভালবাসি আমি রাশি রাশি

তোর জন্য আনতে পারি আকাশের ঐ তারা,
তুইযে আমার স্বপ্ন আশা তুইযে জীবনধারা,
তোর মুখের ঐ হাসিতে হই আমি পাগলপারা,
শুধু তোর জন্যই হইতে রাজি আমি সর্বহারা।

যদি ” ভালবাসি” এ কথাটি, বলিস একবার,
তোর জন্য “জীবন বাজী” রাখবো শতবার।
তুইযে আমার চাঁদবদনী, তুইযে গলার হার,
তুই ছড়া, আসেনা মোর মাথায় কিছু আর।

ভালবাসিস জানি আমায় গভীর অনুরাগে,
‘ভালবাসি’ তোর মুখে শোনার ইচ্ছা জাগে,
তুই যে আমার সুখের কলি জীবনের বাগে,
তুই বিহনে ভাবতেই জীবন মরুভূমি লাগে।

মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম

Categories
কবিতা

হে নেত্রী, আপনি আর কাঁদবেন না
©…….সহিদুল
(মনবতার জননী শ্রদ্ধাভাজন প্রিয় নেত্রীর জন্মদিনে নেত্রীকে উৎসর্গীকৃত)

১৯৭৫ সালের কোন একদিন,
জার্মানির এক বিমান বন্দরে
কাস্টমস কর্মকরতার বিমর্ষ চাহনি,
বঙ্গকন্যার বাংলাদেশী পাসপোর্ট দেখে
কাস্টমস কর্মকরতা ঘৃণা ভরে বলেছিল,
“এতো বড় এক বেইমান জাতি তোমরা!
যে মুজিব দিলো তোমাদের স্বাধীনতা,
আর সেই মুজিবের রক্তেই রঞ্জিত হয়েছে তোমাদের হাত?”

বঙ্গকন্যা সেদিন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি,
নেত্রী কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছিলেন,
প্রিয় নেত্রীর কান্নায়,
খোদার আরশ পর্যন্ত সেদিন, কেঁপে উঠেছিল,
পুরো জার্মান বিমানবন্দরটিই যেন
হয়ে উঠেছিল শোকে বিহ্বল এক খন্ড পাথর।

মা হারিয়েছেন, বাবা হারিয়েছেন,
ভাই হারিয়েছেন,
এ যে কত নির্মম, কত কষ্টের!
কত অনুতাপের, কতটা বিষাদের!
তা একমাত্র শেখ হাসিনা ছাড়া কেউ উপলদ্ধি করতে পারবে না।

হে প্রিয় নেত্রী,
আপনি কতটা ধৈর্যবতী!
তারপরও মাঝে মাঝে,
আপনার চোখে জল দেখা যায়,
তাই বলবো,
হে নেত্রী,
আপনি আর কাঁদবেন না।
আপনার চোখের পানি আমরা সহ্য করতে পারিনা।

আপনি আমাদের শেষ আশা,
আপনি আমাদের প্রত্যাশা,
আপনি আমাদের ভরসা,
আপনি আমাদের আস্থা,
আপনি আমাদের প্রেরণা,
আপনি আমাদের স্পন্দন।

আপনি স্বজন হারিয়েছেন,
আজ ১৭কোটি জনতা আপনার স্বজন,
আমরা ১৭কোটি জনতা
আপনার চোখের পানি মুছে দিব,
১৭কোটি জনতা আপনাকে হাসুবু বলে জড়িয়ে ধরবে।

হে মানবতার জননী,
আপনার মায়াময় সুশীতল স্নেহের ছায়াতলে
আমরা শান্তিতে ঘুমাচ্ছি,
কোথায় পাব এমন শান্তির দূতিকা?
আপনি আছেন বলেই আজ
লক্ষ লক্ষ নীড় হারা পাখির মত
অসহায় মানুষেরা জীবন বাঁচাতে পেরেছে।
আপনি আছেন বলেই
শয়তানের দলেরা ভয় পায়।
আপনি ছাড়া শান্তি অরক্ষিত হয়ে যায়।

হে শান্তি মাতা,
পার্বত্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা
আপনার দ্বারাই সম্ভব হয়েছিল।
আজ শুধু পার্বত্যে নয়,
সারা বিশ্বেই আপনার শান্তির বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে।
যখন পার্বত্যচট্টগ্রামে শান্তির চুক্তি করেছিলেন,
তখনই আমার মন্তব্য ছিল,
নোবেল পুরষ্কার আপনার হাতেই মানায়,
কিন্তু তা হয়নি।
এরপর সমুদ্র জয়, ছিটমহল বিনিময় সহ
বহু শান্তির ইতিহাস গড়েছেন।

এখন আমরা চাই আপনার শান্তিময় দ্যুতি
ছড়িয়ে পড়ুক বিশ্বব্যাপী,
আপনার দৃঢ় ভূমিকায়,
আপনায় মায়াময়তার উসিলায়,
রোহিঙ্গারা ফিরে পাক তাদের আবাসভূমি,
আপনার উসিলায় আরাকান হোক স্বাধীন,
শান্তির পতাকা উড়ুক স্বাধীন কারাকানে।
হাসি ফুটুক শান্তিকামীদের মনে।
শয়তানের বাচ্চা,
মানবতার দুশমন,
অশান্তির বাহকেরা নিপাত যাক।

আজকে অশান্তির বাহকেরা
আপনাকে নোবেল দিতে চায়।
আমরা চাই না এ নোবেল।
অশান্তির ধারকদের যদি শান্তির নোবেল দেয়া হয়,
তবে মানবতার জননী হয়ে
কিভাবে আপনার হাতে শোভা পাবে
ঐ অশান্তির নোবেল?

আল্লাহর দোহাই লাগে,
প্রিয় নেত্রী, আপনি আর কাঁদবেন না,
আমরা চাই আপনি আরো বজ্রের মত কঠিন হোন,
আপনার হাতেই মানার বংলার বৈঠা,
আপনিই পারেন,
রাজাকার আলবদর দুর্নীতিবাজদের বিচার পূর্ণ করতে,
আপনার দীপ্তিময় আভার নিকট ম্লান সারাবিশ্ব,
আপনার নীতির কাছে মলিন বিশ্বের আপোষকারী নেত্রীবৃন্দ!

হে নেত্রী,
বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সোনার বাংলাকে
বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য আপনার কোন বিকল্প নেই,
সোনার বাংলার বৈঠা আপনার হাতেই অটুট থাকুক,
তাই আমাদের নিত্য দিনের শপথ হোক,

আপনার হাতে সোনার বৈঠা চলছে নৌকা অনুক্ষণ,
অবাক হয়ে দেখছে বিশ্ব বাংলাদেশের উন্নয়ন।

মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম
সিঙ্গাপুর

Categories
কবিতা

আমার নাম বাংলাদেশ

ট্যাঙ্ক, কামান আর মর্টারের মুহুর্মুহু আঘাতে
আমার নিরস্ত্র সবুজ ঝাঁঝরা বুকের উপর রক্তাক্ত যে মানচিত্র
তার নাম বাংলাদেশ।
শোষন, অপশাসন ও বঞ্চনার উদর ভেদিয়া
সেদিন পৃথিবীর আলো দর্শন করেছিল
এক শিশু,
যে শিশু, বাহান্নের আগুন ঝরা ফাগুনে,
মাতৃ জঠরে, যার ভ্রূণ।
এরপর, ছাপ্পান্ন, ছেষট্টি, ঊনসত্তরে গর্ভকোষে বেড়ে উঠা,
এক সাগর নিষিক্ত রক্তের স্রোতধারায়,
গর্ভিণীর উদরে বুটের প্রহারে প্রহারে যার জন্ম,
তার নাম বাংলাদেশ।
আমার ধূলিমাখা তন্বী সরণির ধারে,
জনশূন্য অঁচলে, গভীর তরূবীথিকায়
কিংবা ছোট্ট জলাশয়ের ধারে,
আলোহিত কৃষ্ণচূড়া কিংবা পলাশ, শিমুলের রক্তিম আভায়,
রমনার প্রান্তরে পুণ্য রক্তের নহর,
অতঃপর সবুজ ঘাসের চাদরে লাল সূর্যের দীপাবলি।
শক্ত হাড় মাংসের বুনিয়াদ,
মাটি-প্রানের তৈলাক্ততা, চটচটে রক্তের জমিয়া-জমান পিণ্ড,
আর এক গর্তে বেশুমার আত্মার অবসন্ন ব্যাকুল কামনা,
এবং একটা স্বপ্নাবেশের নাম
বাংলাদেশ।
অর্জন আর বিসর্জনের রক্তরাগ সমীকরণ,
একটা চরম বিভীষিকাময়,
দুঃস্বপ্নের পরিসমাপ্তি নাম
বাংলাদেশ।
আমার শৃঙ্খল-পরম্পরায় মুক্তির টান,
উচু-নিচু, ভেদাভেদ ভুলিয়া হৃদয়ে হৃদয়ের টান,
তবু মিলেনি মুক্তি,
জীবন্ত আত্মার আকুতি,
নিষ্প্রাণ আত্মার ফুঁপিয়ে ওঠা কান্নার নিদারূণ নীরব আর্তনাদ,
কোটি জনতার কর্ণে বাজে মরা আত্মার ছায়ার নিস্বন।
ক্ষুধার্ত শিশুর চিৎকার
কিংবা শরণার্থী শিবিরে কুকুর শেয়ালে খাওয়া লাশ,
বোবা কান্নায় নির্বাক চেয়ে থাকা নারীর মুখ,
কাক ঠুকরানো বিক্ষত বাঙ্গালীর লাশ,
লাশ নিয়ে কুকুরের টানাটানি,
আশ্রয়ের খোঁজে শত শত নারী-পুরুষের উন্মত্ত আর্তনাদ,
বিবস্ত্র নারীর লাঞ্ছনার ছবি,
পাক জানোয়ারের লোমহর্ষক নির্যাতন, নৃশংসতার পরিসমাপ্তির নাম
বাংলাদেশ।
আমার এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার বর্গমাইলের
প্রতি ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে
দীর্ঘ নয় মাস ধরে লক্ষ লক্ষ পাকি পশুদের
পাশবিক কামনায় রক্তাক্ত মা-বোন
প্রতিনিয়ত বাধ্য হয়ে ইজ্জত বিলিয়ে দেয়া নারী,
হায়েনাদের কামড়ে কামড়ে ছিলে নেয়া নারীর রক্ত মাংস,
বন্দুকের নল-বেয়নট দিয়ে খুচিয়ে ক্ষত বিক্ষত নারীর বুক, উরু, গুপ্তাঙ্গ,
নিদারুন দম বন্ধ করা এই নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে
অচেতন বীরঙ্গনারা হঠাৎ জেগে
আবার আঁতকে উঠেছে,
তার চোখের সামনে, মুখের উপর
বারেবার গলে পড়ছে পাকি মুখনিঃসৃত কামনার লালা।
তবু নির্লিপ্ত আর্তনাদে বীরাঙ্গনাদের বাঁচার আকুলতা,
তার নাম বাংলাদেশ।
ট্যাঙ্ক, কামান আর মর্টারের আঘাত থেমেছে হয়তো,
থামেনি এখনো মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার আঘাত,
এও থামবেই একদিন,
সেদিন নিরদ ঝরাবে সুখের আঁখিজল,
যে জলে ভরে যাবে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা
যে জলে দুকুল ছাপিয়ে প্লাবিত হবে জমিন,
যে জলে সবুজেরা পাবে তার চিরায়ত রূপ।
বাংলার সংস্কৃতিতে মাতবে বাঙ্গালী
জোস্নার অবগাহনে জমে উঠবে রাতের উৎসব,
তারায় তারায় খচিত রজনীতে
মাতবে যেদিন আপন মেহফিলে,
তোমরা ভুলে যেওনা আমাকে,
যার বুলেটে ঝাজরা বুক, বেয়নটে খুঁচানো সম্ভ্রম হারা নারীর বুক,
কামানের আঘাতে ছিন্নভিন্ন দেহ,
নির্বাক নারীর বোবা কান্না,
সহস্র-কোটি অভিমান আর ভালবাসার নাম
অধিকার
স্বাধিকার
স্বদেশ,
বাংলাদেশ।
-০-
মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম
Email_ Sahidul77@gmail.com

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা

জান্নাতের চাবি

জান্নাতের চাবি
মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম
=====================
জান্নাতের চাবি মাগো, মা তুমি বিধির শ্রেষ্ঠ অনুদান,
তোমার সেবা করে জীবন আমার হয় যেন অবসান।
মা যদি হয় কারো বিজাত অনুসারী,
তবু মায়ের, করতে হবে সেবা তোমারি।
থাকতে মা-ধন, কর যতন, দিয়া তোমার মনপ্রাণ,
জান্নাতের চাবি মাগো, মা তুমি বিধির শ্রেষ্ঠ অনুদান।
এই জগতে কত মূর্খ নেয়না মায়ের খবর,
হারিয়ে মা, জিয়ারত করে মায়ের কবর।
মূর্খমানব, লাভ হবেনা করলে মায়ের কবরের সম্মান,
জান্নাতের চাবি মাগো, মা তুমি বিধির শ্রেষ্ঠ অনুদান।
জন্মদাতা মাতা কারো হয় যদি অসতী,
তবু মায়ের সেবা বিনে নাইরে তোমার গতি।
মায়ের সেবা কর আগে, পাইতে বিধির কৃপা দান,
জান্নাতের চাবি মাগো, মা তুমি বিধির শ্রেষ্ঠ অনুদান।
এই সমাজে দেখি কত মূর্খ অকাতরে,
ধার্মিক সেজে বসে আছে মসজিদে, মন্দিরে।
হায়রে মূর্খ! কে বলেছে মাকে বাদে কর প্রভুর সেবা-দান,
জান্নাতের চাবি মাগো, মা তুমি বিধির শ্রেষ্ঠ অনুদান।
মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা

অনন্ত পথের যাত্রী_রেহানা জাব্বারী বলছি

আমি রেহানা ইরানী বলছি,
কি! অবাক হচ্ছ? চিনতে পারছ না?
হ্যাঁ, অবাক হবারই তো কথা।
তোমরা ভেবেছ,
ওকে পৃথিবী থেকে ছুড়ে ফেলেছি,
সে তো ২৫ অক্টোবর-২০১৪ এর কথা,
ও আবার কেমন করে ফিরে আসবে?

হ্যাঁ, আমি সেই রেহানা জাব্বারি,
আমি সেই রেহানা ইরানী বলছি,
যাকে খুনের দায়ে পৃথিবী থেকে বিদায় করে
তোমরা দুধে ধোয়া তুলসী সেজেছো।

তোমরা পুরুষ, না না, ভুল বলছি
তোমরা অসীম ক্ষমতার মহাপুরুষ,
নারী দেখলেই তোমাদের থাকেনা যে হুঁশ।
আমি কেন তোমাদের উন্মত্ততায় নিজেকে বিলিয়ে দিলাম না!
এটাই তো আমার একমাত্র দোষ।

আমি রেহানা জাব্বারি বলছি,
তোমরা আমাকে যতই ছুড়ে ফেল,
আমি যুগের পর যুগ বেঁচে থাকবো,
আমি বেঁচে থাকবো ইতিহাসের খাতায়,
আমি বেঁচে থাকবো কবিদের কথায়।
দুনিয়া আমায় ১৯ বছর বাঁচতে দিয়েছে,
এতো নেহায়েত কম নয়!
নিয়তির বিধান তো মানতেই হবে,
অবলার শেষ বানী শুধু রয়ে যাবে,

প্রাণপ্রিয় মা ছোলেহ,
আমি তোমার রেহানা বলছি, এবার শোনো,

আজ জানলাম এবার আমার ‘কিসাস’-এর
সম্মুখীন হওয়ার সময় হয়েছে।
জীবনের শেষ প্রান্তে যে পৌঁছে গিয়েছি,
তা তুমি নিজের মুখে আমাকে জানতে দাওনি,
ভেবে খারাপ লাগছে।
মাগো তোমার কি একবারও মনে হয়নি যে,
এটা আমাকে আগেই জানানো প্রয়োজন ছিল?
তুমি বিমর্ষে ভেঙে পড়েছ,
এতা জেনে নিজেকে আমি খুবি লজ্জিত মনে করছি।
ফাঁসির আদেশ শোনার পর,
তোমার আর বাবার হাতে চুমু খেতে চেয়েছিলাম,
কিন্তু আমায় চুমু দিতে লিলে না, কেন মা?

দুনিয়া আমাকে ১৯টি বছর বাঁচতে দিয়েছিল,
আমার তো সেই অভিশপ্ত রাতেই মরে যাওয়া উচিত ছিল, তাই না?
আমার মৃতদেহ ছুড়ে ফেলার কথা ছিল শহরের কোনো এক অজ্ঞাত স্থানে।
কয়েকদিন পর মর্গে যা শনাক্ত করার কথা ছিল তোমার।
সঙ্গে এটাও জানতে পারতে যে,
হত্যার আগে আমাকে ধর্ষণও করা হয়েছিল।
আর হত্যাকারীরা?
ওরা তো অবশ্যই ধরা পড়ত না,
কারণ আমাদের না আছে অর্থ, না আছে ক্ষমতা।
তারপর, বাকি জীবনটা অন্তহীন শোক ও নিদারুণ লজ্জায় কাটিয়ে
কয়েক বছর পর তোমারও করুণ সমাধি রচিত হতো।
এটাই যে হওয়ার কথা ছিল, মা।
কিন্তু সে রাতের আকস্মিক আঘাত,
সব কিছু ওলটপালট করে দিল,
শহরের কোনো গলি নয়,
আমার দেহটা প্রথমে ছুড়ে ফেলা হল
এভিন জেলের নিঃসঙ্গ কুঠুরিতে,
আর সেখান থেকে নিস্তব্ধ কবরের মতো কারাগারের এক সেলে।
কিন্তু এ নিয়ে অনুযোগ কর না মা,
এটাই নিয়তির বিধান।
আর তুমি তো জানই, মৃত্যুতেই সব শেষ হয়ে যায় না।
মা, তুমিই তো শিখিয়েছ
সূক্ষ্মদর্শিতা এবং সুশিক্ষার জন্যই আমাদের জন্ম।
তুমি বলেছিলে,
প্রতিটি জন্মে আমাদের কাঁধে এক বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া থাকে।
মাঝে মাঝে লড়াই করতে হয়, সে শিক্ষা তো তোমার থেকেই পেয়েছি, মা।
সেই গল্পটা মনে পড়ছে,
চাবুকের আঘাত সহ্য করতে করতে
একবার প্রতিবাদ জানানোর ফলে আরও নিষ্ঠুরতার শিকার হয়েছিল এক ব্যক্তি।
শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়।
কিন্তু প্রতিবাদ তো সে করেছিল!
মা, আমি তোমার রেহানা বলছি,
আমি শিখেছি, সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে হলে ঐকান্তিকতার প্রয়োজন হয়।
তার জন্য যদি মৃত্যুও আসে, তাকেই মেনে নিতে হয়।
স্কুলে যাওয়ার সময় তুমি শিখিয়েছিলে,
নালিশ ও ঝগড়াঝাটির মাঝেও যেন নিজের নারীসত্তাকে বিসর্জন না দিই।
তোমার মনে আছে মা?
কত যত্ন করেই না মেয়েদের খুঁটিনাটি বিষয় শিখিয়েছিলে আমাদের?
কিন্তু তুমি ভুল জানতে মা।
এই ঘটনার সময় আমার সে সব শিক্ষা একেবারেই কাজে লাগেনি।
আদালতে আমায় এক ঠাণ্ডা মাথার খুনি হিসেবে পেশ করা হয়।
কিন্তু আমি চোখের জল ফেলিনি।
আমি জীবন ভিক্ষাও করিনি।
মা, আমি কাঁদিনি কারণ, আইনের প্রতি আমার অবিচল আস্থা ছিল।
কিন্তু বিচারে বলা হল,
খুনের অভিযোগের মুখেও নাকি আমি নিরুদ্যম!
আচ্ছা মা, আমি তো কোনো দিন একটা মশাও মারিনি।
টিকটিকিদের একটুকুও আঘাত না করে শুঁড় ধরে জানলার বাইরে ফেলে দিয়েছি।
সেই আমিই নাকি মাথা খাটিয়ে মানুষ খুন করেছি!
উল্টো ছোটবেলার ওই কথাগুলো শুনে বিচারপতি বললেন,
আমি নাকি মনে মনে পুরুষালি।
তিনি একবার চেয়েও দেখলেন না,
ঘটনার সময় আমার হাতের লম্বা নখের ওপর কী সুন্দর নেল পালিশের উজ্জ্বল দীপ্তি ছিল,
হাতের তালু ছিল কত তুলতুলে মোলায়েম।
এমন বিচারকের হাত থেকে সুবিচারের আশা অতিবড় আশাবাদীও করতে পারে কি?
তাই তো নারীত্বের পুরস্কার হিসেবে মাথা মুড়িয়ে ১১ দিনের নির্জনবাসের হুকুম দেওয়া হল। দেখেছ মা,
তোমার ছোট্ট রেহানা এই কদিনের মধ্যেই কত বড় হয়ে গিয়েছে?
এবার আমার অন্তিম ইচ্ছেটা বলি শোনো।
কেঁদো না মা, এখন শোকের সময় নয়।
ওরা আমায় ফাঁসি দেওয়ার পর আমার চোখ,
কিডনি, হৃদযন্ত্র, হাড় এবং যা কিছু দরকার,
যেন আর কারো জীবন রক্ষা করতে কাজে লাগানো হয়,
তবে যিনাকেই এসব দেওয়া হবে,
তাকে যেন কখনোই আমার নাম না জানানো হয়।
আমি চাই না এর জন্য আমার সমাধিতে কেউ,
ফুলের তোড়া রেখে আসুক।
এমনকি তুমিও নয়।
আমি চাই না আমার কবরের সামনে বসে দুঃখের বশনে কান্নায় ভেঙে পড় তুমি।
বরং আমার দুঃখের দিনগুলো সব হাওয়ায় ভাসিয়ে দিও।
এই পৃথিবী আমাদের ভালোবাসেনি, চায়নি আমি সুখী হই।
এবার মৃত্যুর আলিঙ্গনে তার পরিসমাপ্তি ঘটতে চলেছে।

আমি সেই রেহানা ইরানী বলছি,
তোমরা হযরত আ: কাদের জিলনীর নিশ্চয় শুনেছ!
সে এক বড় কাহিনী, ছোট করে বলছি।
একদিন এক লম্পট ভিক্ষুক বেশে জিলানী মাতার ইজ্জত লুটতে প্রস্তুত,
হযরত আ: কাদের জিলনী তখন মায়ের গর্ভে,
জিলনী মাতার গর্ভ থেকে বাঘের আকার ধারণ করে লম্পটকে হত্যা করলেন।
এটাই তো হওয়া উচিত, তাই নয় কি?
তাইলে আমার ইজ্জত বাঁচিয়ে আমি কেন দোষী?
বলতে পার কেন আমার পরলো গলে ফাঁসি?

তবেকি, আমাকে এমন ভাবে প্রমাণ করতে হতো?
হায়েনাটা আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে খাবলে খাবলে তাজা মাংস খেত,
নরম মাংস আর তাজা রক্ত খেয়ে উল্লাস করত,
আর এক সময় আমি নিস্তেজ হয়ে গেলে,
আমাকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে, রক্ত খেকো হায়েনাটা চলে যেতো,
আর তোমরা আমার ফরসেনিক, ডিএনএ ইত্যাদি ইত্যাদি পরীক্ষা করে বলতে,
হ্যাঁ রেহেনাকে ধর্ষণ করেই হত্যা করা হয়েছে।
এমন বিচারের কি প্রয়োজন?

হে বিচারক, না না, শুধু বিচারক নয়,
তোমরা তো মহামহিম পুরুষের জাত,
তোমাদের কাছে বিচার চাওয়া তো মিছে আর্তনাদ।
তোমাদের নিকট নারীর ইজ্জতের কি কোনই মূল্য নাই?
তবে, জেনে রেখ,
তবে সৃষ্টিকর্তার এজলাসে সুবিচার আমি পাবই।
সেখানে দাঁড়িয়ে আমি অভিযোগের আঙ্গুলতুলব
সেই সমস্তপুলিশ অফিসারের দিকে,
বিচারকদের দিকে,
আইনজীবীদের দিকে,
আর তাদের দিকে যারা আমার অধিকার বুটের নিচে পিষে দিয়েছে,
বিচারের নামে মিথ্যা এবং অজ্ঞতার কুহেলিকায় সত্যকেআড়াল করেছে,
একবারও বোঝার চেষ্টা করেনি,
চোখের সামনে যাদেখা যায় সেটাই সর্বদা সত্যি হতে পারে না।

আমার স্নেহপূর্ণ মা সোলেহ,
মনেরেখো, সেই দুনিয়ায় তুমি আর আমি থাকব অভিযোক্তার আসনে,
আর ওরা দাঁড়াবে আসামির কাঠগড়ায়।
দেখিই না, সৃষ্টিকর্তা কী চান!
তবে একটাই আর্জি,
মৃত্যুর হাত ধরে দীর্ঘ যাত্রা শুরুর প্রাক মুহূর্ত পর্যন্ত
তোমায় জড়িয়ে থাকতে চাই,
মাগো!
তোমায় যে খুব খু-উ-ব ভালোবাসি।

ইতি, তোমার রেহেনা, অনন্ত পথের যাত্রী,
ক্ষমা করো অপরাধ, হে মোর ধাত্রী।

মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম
Sahidul77@gmail.com

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা

জীবন প্রভাতে

ফুল ভেবে কেউ ভুল করোনা
জীবন প্রভাতে,
ভুলের ফুলটি গেঁথোনা কেউ
মনের মালাতে।

এসেছ যেহেতু ফুল কুড়াতে
জীবন পুষ্প বাগে,
ধারিও মনে, ভাবিও গহীনে
ফুল কুড়ানোর আগে।

মেকি ফুলের মোহে পড়োনা
সত্তা মালঞ্চে,
নিখাদ ফুলের সন্ধান নেরে,
জীবনের মঞ্চে।

পাতার তরী আর কাগজের ফুলে,
ছড়াছড়ি আজ পৃথ্বীতলে,
মেকির ভীরে কষ্ট হয় আজ
আসল চিনতে।

ফুল ভেবে কেউ ভুল করোনা
জীবন প্রভাতে,
ভুলের ফুলটি গেঁথোনা কেউ

মনের মালাতে।

মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম
লেখক_ অন্যধারা প্রকাশন
Sahidul_77@yahoo.com

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা

তন্দ্রা আমায় ছেড়ে গেছে

তন্দ্রা আমায় ছেড়ে গেছে
সঙ্গী নিঝুম রজনী,
নির্ঘুম রাত পোহায়না তো
তুমি ছাড়া সজনী।

ঘর থেকে বাহিরে যাই
বাহির থেকে ঘরে,
আমায় দেখে চন্দ্রপ্রভা
লুকায় মেঘের পরে।

রাত্রি এখন অনেক হইছে
নেইতো কেহ সজাগ,
তন্দ্রা কেন আমার সাথে
হচ্ছে এতো বিরাগ?

দক্ষিণের বারান্দায় বসি
ঘুম আসেনা বলে,
চাঁদনী আর কজ্জল দেখি
লুকোচুরি খেলে।

ওদের অমন আহ্লাদে ভাসে
তোমার নিনরণী,
একলা ঘরে কেমনে কাটে
তুমি ছাড়া সজনী।

মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম
লেখক_ অন্যধারা প্রকাশন
Sahidul_77@yahoo.com

Categories
অনলাইন প্রকাশনা ইতিহাস কবিতা

ইতিহাস, সে তো এক বহতা নদী

ইতিহাস, সে তো এক বহতা নদী,
স্বগতিতে বয়ে চলে নিত্য নিরবধি।

কেউ যদি চায় ইতিহাসের গতি
করতে রোধ,
ইতিহাস নেয় তার প্রতি উল্টো
প্রতিশোধ।

আজকে যারা ইতিহাসকে করতে
চাচ্ছে রেপ,
ইতিহাসের আস্তাকুরে হবে ওরা
নিক্ষেপ।

বঙ্কিমচন্দ্রের লেখা হতে, করছি
আমি চয়ন,
বদলায় মানুষ, অবিচল থাকে
প্রজন্মের অয়ন,

“জলের যে পথ নিখাত হইয়াছে,
জল সেই পথেই যাইবে,
সে পথ রোধ কর,
পৃথিবী ভাসিয়া যাইবে।”

ঊনিশ’শ প্রচাত্তুর থেকে ৯০ সন,
সত্যকে যারা দিয়েছিল নির্বাসন।
ইতিহাসের কি নির্মম পরিহাস,
সত্যের অধিষ্ঠানে মিথ্যের সর্বনাশ।

আজো কিছু ভণ্ডের দল, এই
বাংলার মাঠে,
সাময়িক লাভের আশায়, উল্টো
পথে হাটে।

সময় থাকতে ওরা যদি না হয়
সাবধান,
ইতিহাসের আস্তাকুরে ওদের হবে
স্থান।

ইতিহাসকে কলঙ্ক দিয়ে, ক্ষমা কেহ
পায়নি অদ্যাবধি,
ইতিহাস, সে তো এক বহতা নদী,
স্বগতিতে বয়ে চলে নিত্য নিরবধি।

মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম
লেখক_ অন্যধারা প্রকাশন
Sahidul_77@yahoo.comইতিহাস, সে তো এক বহতা নদী,
স্বগতিতে বয়ে চলে নিত্য নিরবধি।

কেউ যদি চায় ইতিহাসের গতি
করতে রোধ,
ইতিহাস নেয় তার প্রতি উল্টো
প্রতিশোধ।

আজকে যারা ইতিহাসকে করতে
চাচ্ছে রেপ,
ইতিহাসের আস্তাকুরে হবে ওরা
নিক্ষেপ।

বঙ্কিমচন্দ্রের লেখা হতে, করছি
আমি চয়ন,
বদলায় মানুষ, অবিচল থাকে
প্রজন্মের অয়ন,

“জলের যে পথ নিখাত হইয়াছে,
জল সেই পথেই যাইবে,
সে পথ রোধ কর,
পৃথিবী ভাসিয়া যাইবে।”

ঊনিশ’শ প্রচাত্তুর থেকে ৯০ সন,
সত্যকে যারা দিয়েছিল নির্বাসন।
ইতিহাসের কি নির্মম পরিহাস,
সত্যের অধিষ্ঠানে মিথ্যের সর্বনাশ।

আজো কিছু ভণ্ডের দল, এই
বাংলার মাঠে,
সাময়িক লাভের আশায়, উল্টো
পথে হাটে।

সময় থাকতে ওরা যদি না হয়
সাবধান,
ইতিহাসের আস্তাকুরে ওদের হবে
স্থান।

ইতিহাসকে কলঙ্ক দিয়ে, ক্ষমা কেহ
পায়নি অদ্যাবধি,
ইতিহাস, সে তো এক বহতা নদী,
স্বগতিতে বয়ে চলে নিত্য নিরবধি।

মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম
Sahidul_77@yahoo.com

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা

বীরের বেশে

কেউবা ভাবে বিদেশ বসে,
আসবে দেশে বীরের বেশে!
ন্যান্সিরা তাই আছে বসে,
বরণ করবেন হেসে হেসে।

কেউবা আবার হেসে কয়,
বীরের বেশে তারেক নয়,
যতই করুক আহাজারি,
তিনি একজন ফেরারি।

হোক না কেহ মহাদোষী,
তবুও সে বাংলাদেশী
জন্ম যদি এই দেশে হয়
ফিরতে কেন লাগে ভয়?

কেউ যদি হয় দেশের দোষী
করবে বিচার দেশবাসী,
দেশে আসতে বাধা কই?
তবে কেন হইচই?

বীর বলি আর চোর বলি,
ফালতু কথা কে কয়?
কাজের মধ্যেই পাওয়া যায়,
আসল বীরের পরিচয়।

মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম
Sahidul_77@yahoo.com

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা

তোমায় পেলেই ধন্য আমি (সহিদীয়া সঙ্গীত_২২)

অনেক দিন ধরেই আমি
তোমায় চিনি চিনি,
তোমায় অনেক ভাল লাগে
ওগো বিদেশিনী।

রাতের ঐ চন্দ্র যেমন
চির দিনের চেনা,
তেমনি যেন তোমার সাথে
ছিল মনের লেনা।

মন নিয়ে নাও প্রেম দিয়ে যাও
কর আমায় ঋণী,
অনেক দিন ধরেই আমি
তোমায় চিনি চিনি।

লাইলী প্রেমে মজনু যেমন
কৃষ্ণে রাধা-রানী,
আমারও তো নাইরে বাকী
হইতে সন্ন্যাসিনী।

চাইনা আমি রাজ সিংহাসন
চাইনা হীরা-মণি,
তোমায় পেলেই ধন্য আমি
তোমায় পেলেই ধনী।

প্রথম যখন তোমার সাথে
হইত আমার দেখা,
জ্যোতিষীরে দেখাইতাম
আমার হাতের রেখা।

তোমায় পাশে পাব কিনা?
আমি চির দিনি,
অনেক দিন ধরেই আমি
তোমায় চিনি চিনি।

ধন্য তোমার পিতা-মাতা
আরো ধন্য তিনি,
এমন সুন্দর করে তোমায়
সৃষ্টি করছেন যিনি।

অনেক দিন ধরেই আমি
তোমায় চিনি চিনি।
তোমায় অনেক ভাল লাগে
ওগো বিদেশিনী।

মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম
Sahidul_77@yahoo.com

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা

শুচিতা মোর চির সাথী

শুচিতা মোর চির সাথী,
সত্য আমার অলঙ্কার।
লাথি মারি মিথ্যার মুখে,
আঘাত করি বারংবার।

মিথ্যা আর গুজবে একদিন,
করেছিল বাংলা গ্রাস।
এসেছে আজ সত্যের জয়,
ভণ্ডদের আজ সর্বনাশ।

সত্য পথের পথিক যারা,
কে কোথায় আছিস তোরা?
সত্যের মালা পর গলে
মিথ্যুকরা আজ রসাতলে।

বঁচকরা আজ দিশেহারা,
যা খুশি তাই বলছে ওরা।
ওদের কথায় ওরা ধরা,
তাইতো সত্য পাগল পারা।

মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম
Sahidul_77@yahoo.com

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা ভালবাসা/প্রণয়লীলা

তোর প্রতিভাস (সহিদীয়া সঙ্গীত_১৭)

তুমি আমার জানরে বন্ধু, তুমি আমার মান,
তোমার জন্য সইতে পারি সকল অপমান।

তুমি আমার জান…
তোমার জন্য বন্ধু আমি হয়েছিলাম নষ্ট,
সেই তুমি আজ উল্টো যদি দাও আমারে কষ্ট।
বলার কিছু নাইরে বিধি ধৈর্য্য কর দান।

তুমি আমার জান…
তুমি আমার জানরে বন্ধু, তুমি আমার মান,
তোমার জন্য সইতে পারি সকল অপমান।

 

কষ্টে আমার জীবন গড়া কষ্টে নাইরে ভয়,
হাসি মুখে কষ্ট যেন করতে পারি জয়।
কি পরিমান কষ্ট নিলে? পাব মনে স্থান,
তুমি আমার জান…
তুমি আমার জানরে বন্ধু, তুমি আমার মান,
তোমার জন্য সইতে পারি সকল অপমান।

 

তোমার জন্যই ধরনীতে আমি বিধির সৃষ্ট,
তোমায় ভালবাসি বলে লোকে বলে ভ্রষ্ট।
ভ্রষ্ট মনে তুমি সদায় করছ অবস্থান,
তুমি আমার জান…
তুমি আমার জানরে বন্ধু, তুমি আমার মান,
তোমার জন্য সইতে পারি সকল অপমান।

 

নষ্ট মনটা কি করে আর করব আমি শিষ্ট?
তুই ছাড়া আর নাইরে মনে কোনো অবশিষ্ট।
মন প্রবাহে তোর ই শোভা।।২।। সদা বহমান,
তুমি আমার জান…
তুমি আমার জানরে বন্ধু, তুমি আমার মান,
তোমার জন্য সইতে পারি সকল অপমান।

 

আমি নষ্ট,আমি ভ্রষ্ট,আমি নিজেই নিজের কেষ্ট,
তোমার জন্যে শুধু আমি হয়েছি বিনষ্ট।
নষ্ট মনে তোর প্রতিভাস চির অস্তিমান।
তুমি আমার জান…
তুমি আমার জানরে বন্ধু, তুমি আমার মান,
তোমার জন্য সইতে পারি সকল অপমান।

 

মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম

Sahidul_77@yahoo.com

 

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা

রক্তে কেনা

বাংলা আমার মায়ের ভাষা,
একুশ আমার মান।
প্রতি বছর তাই দিয়ে যাই,
একুশের সম্মান।

মায়ের ভাষার তরে যারা
দিয়ে গেছে প্রাণ,
শ্রদ্ধার সাথে হৃদয়ে দিই
সেই শহীদের স্থান।

ফেব্রুয়ারীর একুশ তারিখ,
যাদের রক্তে গড়া।
বিশ্ব তাদের স্মরণ করে,
দিয়ে ফুলের তোরা।

আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস,
যাদের রক্তে কেনা।
কি দিয়ে শোধাবো মোরা?
সেই শহীদের দেনা।

রাখতে যারা বাংলার মান,
দিয়েছে জীবন, রেখেছে মান,
ধন্য মোদের বঙ্গ সন্তান,
বিশ্বে আজি তোমরা মহান।

মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম
Sahidul_77@yahoo.com