Categories
অনলাইন প্রকাশনা পুস্তকসমূহ

বইমেলায় পাওয়া যাচ্ছে সহিদুল ইসলামের“আবীর”

 

“অমর একুশে বইমেলা-২০১৪”-এ মুন্নী প্রকাশনের ৪২৪এবং ৪২৫-নং ষ্টলে পাওয়া যাচ্ছে লেখক এবং প্রাবন্ধিক মোহাম্মদ সহিদুল ইসলামের বই “আবীর”।

“আবীর”বইটিতে লেখকের ভূমিকা বানীতে যা বলা হয়েছেঃ

আবীর মানে পুষ্পিকার শক্তিশালী সৌরভ, যার সুগন্ধে মানুষ আনন্দে আবিষ্ট হয় এবং কিছুক্ষণের জন্য হলেও নির্মলতায় মন ভরে যায় ও পঙ্কিলতা থেকে দূরে থাকে। আবীর মানে সাহসিক, আবীর মানে নির্ভীক যার বীরোচিত প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধের কাছে দুষ্কৃতিকারীরা মাথা নত করতে বাধ্য হয়। আবীর গ্রন্থে আমি করেছি অন্যায়ের শক্তিশালী প্রতিবাদ, শান্তির ধর্ম ইসলামকে নিয়ে করেছি সংক্ষিপ্তাকারে ছন্দ সৃজন।
সর্ব কালের, সর্ব যুগের সেরা যিনি, যার কাজের সীমা এবং স্থায়িত্ব বিবেচনা করলে শুধু মক্কার নবী হিসেবে নয় পৃথিবীর ইতিহাসে যিনি দীপ্তিময়ভাবে জ্বলজ্বল করছেন। যার খ্যাতির কোন মাপকাঠি নেই, যিনি দার্শনিক, বাগ্মী, বার্তাবাহক, আইনপ্রণেতা, নতুন ধারণার উদ্ভাবনকারী,বাস্তব বিশ্বাসের পুনরুদ্ধারকারী, জাগতিক ও আধ্যাত্মিক সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা, যার শ্রেষ্ঠত্বের কোন তুলনা নেই। ঐতিহাসিক ফিলিপ কে. হিট্টি (History of the Arabs, page 3) বলেছেন, পৃথিবীর সব ধর্মের মধ্যে একমাত্র ইসলামই পেরেছিল জাত ও বর্ণের ভেদাভেদ মুছে ফেলতে।

অথচ আমাদের সমাজে আজ মৌলবাদীদের (ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি) উত্থানে দেশটির ধর্মনিরপেক্ষতার ঐতিহ্য ধ্বংসের পথে। সমাজের এই মৌলবাদী গোষ্ঠী ধর্মনিরপেক্ষতার ব্যাখ্যা দিচ্ছে, ধর্মনিরপেক্ষতা নাকি ধর্মহীনতা। তারা আমাদের দেশের সহজ-সরল ধর্মপ্রাণ মানুষদের বিভ্রান্ত করছে। তারা এটা বুঝতে চায়না যে, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। আমি কেন আমার ধর্ম আরেক জনের উপর চাপিয়ে দিব? আমাদের বীর সেনানীরা তো (হিন্দু, বৌদ্ধও, খৃস্টান ও অন্যান্য) নিদৃস্ট কোন ধর্মের জন্য যুদ্ধ করেননি। তাই বলে যে ধর্মকে বাদ দিয়ে তারা যুদ্ধ করেছে তা কিন্তু নয়। তাহলে কেন ধর্ম নিয়ে কেন এত বাড়াবাড়ি? এ বিজয়ের অংশীদার তো ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের। আমরা আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে এমন দেখতে চাই, যেখানে থাকবে সুষম-ন্যায্য সমাজ, যেখানে থাকবেনা অন্যায়-অবিচার, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সকলে শান্তিতে বসবাস করবো। তাই যিনি বিশ্ব মানবতার মুক্তির ধারক ও বাহক, তাঁর দর্শন নিয়ে কবিতা এই বইতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
যাদের ওছিলায় আমারা জগতে এসেছি, সৃষ্টিজগতে মানুষের প্রতি সর্বাধিক অনুগ্রহ প্রদর্শনকারী হচ্ছেন পিতামাতা, এই পিতামাতা কে নিয়ে লেখা কবিতা স্থান পেয়েছে এই বইতে। যে ভালবাসা সৃষ্টি না হলে পৃথিবী সৃষ্টি হতোনা, সেই প্রেমপ্রীতি-ভালবাসা এবং বিরহ বেদনার স্মৃতি নিয়ে লেখা, রাজনীতি ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে বেশ কিছু কবিতা আমার বইতে অধ্যেতা সমীপে নিবেদন করেছি।

একজন মানুষের প্রাত্যহিক জীবনে হৃদয়ঙ্গম করার মত একটি বইয়ের নাম আবীর। আমার শ্রম তখনি সার্থক হবে, যখন কোন পাঠক আমার বই পড়ে অণু পরিমাণ হলেও উপকৃত হবেন।

বিনয়াবত
লেখক,
মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম
Sahidul_77@yahoo.com

বিভাগ:

 

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা সৃজনশীল প্রকাশনা

সমাধিতে দিসনা কভু ফুল

 

মোদের জন্য সারা জীবন,

করেছেন যিনি সন্ধি,

দিবস নামের খাঁচাতে ভাই,

করিস না তারে বন্দী।

 

দেখেছি আমি সিঙ্গাপুরে,

বিভিন্ন দিবসে হায়,

ছেলে-মেয়েরা ফুল নিয়ে,

বাবা-মার সমাধিতে যায়

 

সিঙ্গাপুরীদের আছে ভাবনা,

আছে সরকারী নিয়ম-নীতি,

কেউ কর্মক্ষমতা হারালে পরে,

বৃদ্ধাশ্রম তাদের পরিণতি।

 

থাকতে বাবা-মা পাওনি সময়,

দেখতে তাদের মুখ।

সমাধিতে ফুল দিলে কি!

পাবে তারা সুখ।

 

থাকতে বাবা করতে সেবা,

করিস যদি ভুল,

যাসনে তোরা, সমাধিতে

দিসনা কভু ফুল।

 

তাইতো বলি থাকতে সময়,

কর বাবার সেবা,

মনে রেখ তুমিও একদিন,

হবে কারো বাবা।

 

মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম (সিঙ্গাপুর প্রবাসী)

মেইল_ Sahidul_77@yahoo.com

Categories
অনলাইন প্রকাশনা ইতিহাস কবিতা

মুসাফির

অমাবস্যার রাত, ভয়ানক নিস্তব্ধতা, ভীতিকর আঁধার,
ভয়াল বিরান ভূমিতে শব্দ যেন কোথাও মানবতার,
একজন মুসাফির আগ বাড়িয়ে জিজ্ঞাসা করলেন,
হে আদমের বেটা জনবসতি ছেড়ে কোথা নিয়ে এলেন?
ভয়ানক নিস্তব্ধতা, এ ঘন আঁধারে তুমি হোঁচট খাবে,
তোমার সন্তানদের হিংস্র জন্তুরা থাবা মেরে নিয়ে যাবে।
কাফেলাপতি বল্লেন, হোঁচট খাইতে বাকি নাহি আছে যেন,
হোঁচট না খেলে, কাফেলা এখানে মাথা ঠুকছে কেন?
নিরাপত্তার চিন্তারকথা বলোনা, তোমারা সাথী ভাই,
নিরাপত্তা হল বড়ই কষ্টের, এক বেদনাদায়ক অধ্যায়।
মুসাফির বল্লেন, তুমি কি বলছো? একটু বল খুলে,
আমরা বুঝি এসেছি এক পরাভূত,গভীর রহস্যের কূলে।
কাফেলাপতি শ্বাস নিয়ে বল্লেন, হয়ত কিছু এমনি,
শুনে কি করবে, আমার ব্যর্থতার দুঃখময় কাহিনী?
সত-সহস্র বছর পার করেছি ঘুরে এ উপাত্যকায়,
বহু সহমর্মী পথিক আমাদের সাথে কাটিয়েছে অপেক্ষায়,
বিপদসংকুল বন্দিখানা হতে পাইতে পরিত্রাণ,
তোমার মত সকলেই চেষ্টা করছে অফুরান।
হৃদয়বিদারক -মুসিবতের কষ্ট যখন বলতাম তাদের কাছে,
বলত তারা, এ জখমের ঔষধ মানুষের কাছে নাহি আছে।

তবে যাবার সময়, বলছে যে, অপেক্ষার প্রহর গুন,
তোমার ঔষধ আসমান থেকে হয়ত হবে আচ্ছন্ন।
কাফেলাপতি বললেন শোন মুসাফির, চলে যাও ভাই
আমাদের করুন কাহিনী শুনে পূর্ববর্তীরা করেছিল তাই,
এতটুকু শুনে মনের মধ্যে এমন আগ্রহ হয়েছে, হয়ত বলবে,
দুঃখগাঁথা শুনা ব্যতীত এখান হতে কেউ নড়াতে নাহি পারবে।
আমি হব না ঐ পথিকদের মত, দেখ বিশ্বাসের সাথে বলি,
দুঃখ শুনে যারা তোমাকে সজল নয়নে রেখে গিয়েছে চলি ,
আমি নিজেও দুঃখ-বেদনার দোলনায় হয়েছি পালিত,
তোমার হৃদয়ের ছটফট রহস্য শোনার জন্য হয়েছি  উদ্যত,
চরিত্রে ও স্বভাবে কতইনা মিল আছে মানবের,
ঠিক যেমনটি ছিল তোমার পূর্ববর্তী পথিকের।
আমার কাহিনী শুনতে একগুঁয়ে হয়েছো! তো শুন,
এ আশায় বলছিনা যে, সমস্যার জট খুলে যাবে যেন।
শুধু এ জন্যই, যে কাফেলা হতে ভগ্নান্তর যেন না যাও,
(কাফেলার সর্দার) বলছি এবার, কাহিনী শুনে নাও।
বহুদিনের কথা, তখন ভূপৃষ্ঠে পড়েনি মানুষের আঁচড়,
জগৎস্রষ্টা আসমানে বসালেন বহু বড় এক দরবার।
পর্বতের সারি নিয়ে, কিনারাহীন এক বিস্তৃতি ছিল যার,
অন্য দিকে পড়ে ছিল জমিনের বৃত্ত গোলাকার।
যখন স্রস্টার সমস্ত সৃষ্টি এসে জানান দিল উপস্থিতির।
ঠিক শাহী পদপ্রান্তে মানবাত্মারা যখন করছিল ভিড়।
অদ্বিতীয় প্রভু, আপন মর্যাদা-মাহাত্ম্যের চাঁদরাভ্যন্তর,
বের করে আনলেন তিনি, একটি হীরা চির সুন্দর।
হীরার সৌন্দর্যের চমকের কথা কি বলবো যে আর,
সাধ্য কারো ছিলনা যে, তাকে চোখ তুলে দেখার।
বেশ দৃষ্টিতে তীব্র এক কিরণ পড়ল সবার চোখে,
আঁধারেতে পড়ল সবাই চোখে নাহি কিছু দেখে।
আল্লাহতা’আলা বললেন সকল উপস্থিতিকে করে সম্বোধন,
দেখ! এটি আমার আমানত, কূদরত-খনির অতি মূল্যবান।
এগিয়ে আস, কে পারবে, এটার সংরক্ষণ-দায়িত্ব পালন,
তাহার কাছে এই অতি মূল্যবান হীরা আমি করিব অর্পণ।
তবে,শর্তযোগে যে, এক দীর্ঘ মেয়াদ শেষে একটি বসাব দরবার,
ওই দিন এ আমানত সম্পূর্ণ এ অবস্থায় ফেরৎ দিতে হবে আবার।
এ-ও শুনে নাও যে, এটি আদায়ে যদি বিন্দু মাত্র ত্রুটি হয় তোমার,
অঙ্গীকারের বিনিময় আছে যেমন, তেমনি দন্ডও রয়েছে অবাধ্যতার।

আসমানের চওড়া-সমান বক্ষ তুলে নেবে এ আমানতের ভার,
সাধারণ ভাবে এমনই ধারণা ছিল মনেতে সবার।
আমানত অর্পণের কথা শুনে, আশ্চর্যের সীমা ছাড়িয়ে আসমান,
চওড়া-সমান বক্ষ নিয়েও আমানত ভারে, ভয়ে কম্পমান।
আসমানের অস্বীকৃতির পর শাহী সম্বোধন পেল পর্বত চূর্ণ,
এ আমানত কি রেখে দেব তোমাদের বক্ষ করে বিদীর্ণ ?
এ কথা শুনে পাহাড়ের অহংকারী ললাটে ঘর্ম এসে গেল,
সংকোচিত হয়ে মহান প্রভুর দরবারে আবেদন জানাল।
আমাদের চূড়াকে উচ্চতার মুকুট দানকারী মালিক আমার!
বক্ষ ফাটবে, কোমর টুটবে,দাও যদি এ আমানতের মহিমাভার
এবার জমিনের পালা, এল দরবার হতে সুলতানী ফরমান,
আমার খনির এ হীরা তুমিই রাখবে অন্তরে আপন।
জমিন তার ধূলিধূসর চেহরা শাহী অট্টালিকার দরজা রেখে দিল,
মহাপ্রভাবশীল বাদশাহর নিকট, কাঁপতে-কাঁপতে বলল,
ছোট-বড় সৃষ্টির পদে দলিত-মথিত, আমার কোথায় এত হিম্মত,
আমি কি বহন করতে পারি প্রভু, আপনার এ মহান আমানত!
ওই ভরপুর দরবারে সকলের চেহেরায় যখন বিবর্ণতা,
ইনসান দাঁড়িয়ে তখন করছিল যে চিন্তা।
এ যুক্তিতর্কের সাথে কি সম্পর্ক যে, এক সরল বান্দার,
তার মাঝে কি আছে-কি নেই? আমানতের আদায়ে প্রাপ্যতার।
আল্লাহর ইচ্ছা এ আমানত যদি কাউকে সোপর্দ করতে চায়,
তবে এদিক-সেদিক কেন করা হচ্ছে গ্রহণে তাহায়,
যিনি আমানত দিচ্ছেন, তিনি যোগ্যতাও দিবেন তায়,
ধরি, যদি বন্ধুর কারণে আমাদের সকল ধ্বংসও হয়ে যায়।
তাতে কি ক্ষতি, এ চিন্তা করে মানুষ আগ বাড়িল,
আগ-পিছ, এবং পরিণতি না ভেবেই হীরা তুলে নিল।
দরবারের সকলেই আশ্চর্য হয়ে মানুষের দিকে তাকিয়ে রইল,
তাদের নগ্ন দুঃসাহসে বড়-বড়দের হিয়া কেঁপে ওঠিল।
বিশ্বের পতি, স্বয়ং স্রষ্টা, শঙ্কাহীন মানুষের সাহস দেখে যিনি,
“জালেম এবং পরিণতির খবরহীন মানুষই” বললেন তিনি।
অতঃপর দুনিয়ায় শুরু হল, মানুষের আসা-যাওয়া,
ক্রমান্বয়ে পৃথিবীতে শুরু হল তার বংশ বৃদ্ধি পাওয়া।
যুগে-যুগে পৃথিবীতে বিশেষ কিছু মানব এসেছেন,
যারা ধারাবাহিক ভাবে এ হীরার সংরক্ষণ করেছেন।
সমস্ত মানবের তরে, পুরো জীবন হেদায়েতের খবরদার!
হীরা বিনষ্ঠ হলে, মানবের জন্য বড়ই লজ্জা অনুষ্ঠিতব্য দরবার।

দয়াবান মুসাফির! আজ হাজার হাজার বছর বয়ে গেল,
শাম দেশের এক বৃদ্ধ কর্তা আপন দুগ্ধপোষ্য শিশু ও স্ত্রী নিয়ে এল।
যখন তাদের রেখে গেলেন, তৃণ-বারি হীন পাহাড়ের উপত্যকায়,
তার বড়ই করুণ মুনাজাত ছিল বিদায় বেলায়।
আপন বংশ আবাদ করেছি, এই তৃণ-বারি হীন এক মরুপ্রান্তর,
এখন আপনিই তাদের রক্ষক, হে আমার পরওয়ারদিগার!
সম্মানিত পিতা দুনিয়া হতে চির বিদায়ের বেলায়।
আসমানি হীরা নিজের ওই প্রিয়পুত্রকে সোপর্দ করে যায়।
আমাদের যে কাফেলা তুমি দেখতে পাচ্ছ তাঁরই বংশধারা,
পূর্বপুরুষ নশ্বর পৃথিবী হতে বিদায় নিয়েছিলেন যারা।
বংশের বড়দের  কাছে ডেকে, আশ-পাশে করলেন একত্রিত,
ওই হীরা খানা বের করে বললেন শোন পতি-গোত্র,
দেখ! মৃত্যু আমার শিয়রে আছে দাঁড়া।
অচিরেই সে, বিচ্ছেদের এক প্রাচীর করবে খাঁড়া।
দৃষ্টিশক্তি লোপ পাচ্ছে, এখনি তোমাদের হইতে হইব পর
বংশ পরম্পরায় পাওয়া আসমানী হীরা তোমাদের করব হস্তান্তর।
জীবনের এ শেষ বাক্য তোমরা হৃদয়ের পলকে লিখে নাও,
সকল কথা ভুলিও কিন্তু এ কথা যেন ভুলে নাহি যাও।
দেখ! এ পৃথিবী এখন নিজের শেষ সময় করিতেছে পার,
অচিরেই তা ওই বিন্দুতে পৌঁছবে, যেখানে সূচনা হয়েছে তার।
আমিও ওখানেই যাচ্ছি যেখান থেকে হয়েছি আগত,
কিন্তু আমার পূর্বে লক্ষ মানুষের কাফেলা হয়েছে প্রত্যাগত।
স্বাক্ষী থাক যে, তোমরা পর্যন্ত আমি, পৌঁছিয়ে দিলাম এ আমানত,
এখন তোমাদের হাতে রয়ে গেল মানব জাতির সম্মান-ইজ্জত।
পার হতে হবে তোমাদের জীবনের কঠিন-বিপদজনক তীর,
পদে পদে ওত পেতে বসে আছে ডাকাতের ভিড়।
তোমাদের সফর সফল ও নিরাপদ হোক এই কথা বলি,
আমাদের গোত্রের বৃদ্ধ পিতা চিরদিনের জন্য গেলেন চলি।

এখানে পৌঁছে কাফেলাপতির, চোখে জল, করুণ হল গলা,
অল্প বিরতির পর দীর্ঘশ্বাস নিয়ে ফের শুরু হল বলা,
শোন হে, আমার সহানুভূতিশীল মুসাফির!
ওই হীরা, কাফেলায় হাত বদলিয়েছে, কেটেছে কয়েক শত বছর।
কাটছিল আনন্দে, বইছিল জীবনে আনন্দের গতিধারা,
একদা উপাত্যকা অতিক্রমে, এক পাথরের ধাক্কায় হারাল ঐ হিরা।
আঁধার রাতে হারিয়েছি হিরা, বহু ভাবে খুঁজে বেড়াচ্ছি,
ওই সময় হতে আজ পর্যন্ত, ওই হীরার জন্যই আটকে আছি।
কাফেলা মোদের হয়েছে ঘায়েল, খেয়ে রজনীতে অবিরাম আঘাত,
কতবার আমরা ঘুমিয়ে জেগেছি, আবার কতনা রজনী হয়নি প্রভাত।
আহ! এখন আমরা আসমানি দরবারে হাজির হবো কোন মুখ নিয়ে,
পূর্বে মোদের গিয়েছে যারা, তারা সকলে অপেক্ষায় রয়েছেন চেয়ে ।
আমরা তো আমাদের জীবন-সম্বল হারিয়ে হয়েছি অসহায়,
অনুষ্ঠিতব্য আসমানি দরবারে কি জবাব দিব? আমরা হায়!

কাফেলা পতির  আদ্যোপ্রান্ত কাহিনী শুনে, বললেন মুসাফির,
মাথা তুলে, হৃদয়গ্রাহী ভঙ্গিতে বললেন, শোন কাফেলা বীর,
তোমার জীবনগল্প দুঃখ-কষ্টের সন্দেহ নেই তাতে,
তোমাদের কাফেলা এখন রয়েছে যে উপত্যকাতে।
এ সম্পর্কে এক নিগূঢ় রহস্য আমার বক্ষেও জমা আছে,
শোন তাহা, যাহা প্রসঙ্গক্রমে মুখ থেকে বেরিয়ে এসেছে।
বহু আগে, নিজ গোত্রের ১ পর্যটকের উপত্যকা পারে
হঠাৎ দামান জড়িয়ে গেল তার, এক সূচালো পাথরে।
যখন সে ঝুঁকে গিয়ে ব্যস্ত ছিল, নিজ দামান মুক্ত করতে,
হঠাৎ মসৃণ চতুস্কোণা এক পাথর এসে পড়ল তার হাতে।
পাথরটি সে তুলে নিয়ে, আলোতে এসে দেখতে পায়,
ওটি লোহিত পদ্মরাগমণির ফলক, সবুজ রঙের লেখা গায়।
কুফর ও গোমরাহির অন্ধ ঊপত্যকা, এটি  আঁধারের রাজধানী,
সূর্যের এখানে প্রবেশ নিষেধ, কেউ আজো বিহান দেখেনি।
নিশ্চিত, তোমার জন্য এটি দুঃখ-দুর্দশার বড় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা,
স্বীয় অভিষ্টের ধন তালাশে ব্যাপৃত আছ, বেশ! ঘাবড়িয়োনা।
মুসিবতের এ আঁধার ঘরে কোন আলো অবশ্যই, অবতীর্ণ হবে,
মুসাফির বলে, প্রবোধের সুরে, হারানো হীরা অবশ্যই ফিরে পাবে।
কাফেলাপতি বলে  দুর্ভাগ্যের প্রান্তে এসে, সৌভাগ্য কী করে হবে?
মহারাজের দয়া আর্শের চূড়া হতে আমাদের সাহায্যে কি আসবে!
এতটুকু বলতেই  কাফেলা পতির শব্দ কন্ঠে আটকা পড়ল,
হায় আমার হীরা বলে, হাঁপিয়ে-ফুঁপিয়ে কান্না করতে লাগল।

মুসাফির এ বেদনাবিধুর অবস্থা সহ্য করতে নাহি পারলেন,
জগতপতির দেহধারী দয়া তোমারই সামনে দাঁড়িয়ে,বললেন
মাতম করছো! বলেই তড়িৎ নিজ চেহরার পর্দা তুলে নিল,
পর্দা উল্টাতে না উল্টাতেই চতুর্দিক আলোতে উদ্ভাসিত হল।
নিজ সার্বভৌম দৃষ্টির এক তীব্র কিরণ বিচ্ছুরণ করলেন বালিচরে,
‘ওই দেখ তোমার হীরা চমকাচ্ছে’ বললেন, আঙ্গুলের ইঙ্গিত করে।
কাফেলাপতি এক দৌঁড়ে তাহা হাতে তুলে নিলেন,
এ অত্যাশ্চর্য ঘটনায় কাফেলার সবাই হতচেতন হলেন।
স্বস্ব অবস্থানে সবাই হতবিহ্বলতার দেওয়াল হয়ে রইল দাঁড়িয়ে,
আনন্দ প্রকাশ করতেও ভুলে গেল, হারানো মানিক ফিরে পেয়ে।
কাফেলাপতি এ দিকে হীরা তুলে নিলেন,
ওই দিকে মুসাফির আপন মুখ ঢেকে নিলেন।
মুসাফির বিদায় চাইলেন, “আচ্ছা যাচ্ছি, ওখানেই দেখা হবে,
যেখানে এ মহান আমানত তোমাদের ফেরৎ করতে হবে।”
আমি বিধাতার শেষ নূর, বলে যখন মুসাফির পা বাড়াল,
কাফেলাপতি এগিয়ে এসে তার দামান আঁকড়ে ধরল।
এখন তুমি কোথায় যেতে পার, হে সাহায্যকারী আমার!
আমাদের চোখে তারকারাজি, উৎসর্গ করব কদমে তোমার।
অচেনা এক মুসাফিরের মত এসেছেন আমাদের কাফেলায়,
কিন্তু কর্ম দিয়ে, আমাদের হৃদয়রাজ্য করে নিয়েছেন জয় ।
কি আপনার পরিচয়? রাজধানী ছেড়ে যাচ্ছেন আবার কোথা?
কাফেলা প্রধান অতি বিনম্র সুরে বললেন এ কয়টি কথা।
দামান হেঁচকা দেওয়া রীতি আমার না,
আমি কে? তুমি এটি জানতে চেয়ো না।
তোমার আরাধ্য ধন, পেয়েছ তুমি ফিরে,
বেশ সানন্দে আপন পথ নাও তুমি ধরে।
তোমাদের জন্য যা করেছি আমি, বিনিময় চাই না তাতে,
মুসাফির উত্তর দিলেন, এক পরিপূর্ণ অমুখাপেক্ষীতার ভঙ্গিতে।

কোন ব্যাক্তির পরিচিতি জানাতো মানুষের জন্মগত অধিকার,
রীতিমত তাইতো আপনার পরিচয় জানার প্রচেষ্টা আমার।
আপনি দামান হেঁচকা দেবেন না, আমি দামান নাহি দেব ছেড়ে,
বলুন, আমার এর চেয়ে বড় আনন্দের মুহূর্ত আর কি হতে পারে?
দণ্ড দিয়ে দিন মোরে, অতীত কালের মত সময় দীর্ঘ করে,
কাফেলাপতি কথাগুলো উচ্চারণ করলেন বড়ই মিনতি করে।
কাফেলাপতি হয়ে অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করা তোমার কাজ না,
সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আবশ্যকতার আওতায় পড়েনা।
আমার দামানের সাথে জড়িত,
লক্ষ-কোটি দুর্দশাগ্রস্ত মানবের আকাঙ্খা,
যেতে দাও মোরে,করো না রহিত,
কতইনা সজল আঁখি পথ চেয়ে আছে, করছে অপেক্ষা।
অপ্রাসঙ্গিক কথার উত্তর দেবার, মোটেও সময় নেইতো আমার,
কথাগুলি, অতি গম্ভির সুরে কাফেলা পতিকে বলে মুসাফির।
নাইবা বললেন আপনি কে? কিন্তু মনের ধাঁধা হচ্ছেনা তো দূর,
আপনি ছিলেন পর্দাবৃত, ছিল তখন চতুর্দিকে অন্ধকারের ঘোর,
পর্দা তোলায়, আঁধার হল আলোকিত, আপনার রূপের আলোকে,
এখন আপনিই বলুন, কি মনে করতে পারি আমি আপনাকে?

মানুষ না ফেরেশতা ? অধিকন্ত  ফেরেশতার রূপ তো এরূপ হয়না,
আবার চিন্তা করি, মানবের চেহরা তো কখনো সূর্য হতে পারেনা।
কাফেলাপতির আব্দার, রাগ করবেননা, হে আমার হৃদয় বিজেতা,
আপনি আশ্চর্যজনক এক নূতন সৃষ্টি, বললেন নিয়ে সংকোচতা ,
তোমাকে কতইনা বল্লাম যে,আমি কে? এর পেছনে পড়োনা,
কিন্তু বলতো কেন তুমি তোমার আপন একগুঁয়েমি ছাড়ছ না?
আমি কে? যার উত্তর তোমার বোধ-বুদ্ধির অনেক ঊর্ধ্বস্থিত,
আমার প্রভু ছাড়া কেউ জানেনা, আমি কে, আমার অস্তিত্ব।
এখনও যদি তোমার সান্তনা না আসে তবে বলছি আমি শোন,
আমার প্রকৃত রূপে অনেক পর্দা, সেথায় তোমাদের দৃষ্টিশক্তি সঙ্কীর্ণ।
আমি তোমাদের সমাবেশে পদার্পন করেছি মানবাকৃতির পর্দা পরি,
যাতে আমার মাধ্যমে তোমাদেরকে খোদা পর্যন্ত পৌঁছে দিতে পারি।
মানব দৃষ্টি, রাখেনা শক্তি, দেখতে আমার হাকীকতের মহত্ত্ব।
তাদের বুদ্ধির দৌঁড়, দেখতে কেবল আমার বহ্যিক চমৎকারিত্ব।
এ দৃষ্টিভঙ্গিতেই দুনিয়াবাসী আমাকে মানব বলে, বুঝেছ এবার,
অতঃপর নয়ন ভরে দেখ তুমি, আমি কে? জিজ্ঞাসা করোনা আর।
আমার রূপ-রাজ্য চোখে দেখার অনুমতি আছে, নেই প্রশ্নের অবকাশ ,
সীমা অতিক্রম করোনা, মুসাফির দার্শনিক ভঙ্গিতে করিলেন প্রকাশ।
অধিকন্তু  আপনিতো এ বুনিয়াদি প্রদীপেও মানবীয় গুণের অতীত,
এ সব দৃষ্টির অলৌকিকতা নয়, আপনারই দৃশ্যমান দ্যূতির কেরামত।
আপনার বাহ্যিক আকৃতি, যেটাকে করেছেন স্থির আমার দৃষ্টির সীমান্ত,
তা আপনার হাকিকতের সৌন্দর্যের ইঙ্গিতবাহী, এটি নয়তো দৃষ্টি ভ্রান্ত।
কাফেলাপতির কথাগুলির পরে, মুসাফির কয়, এক বাস্তব হাকিকত!
এটি বহু দুর্বোধ্য!! এ যেন এক মেঘের আড়ালে চন্দ্রিমা রাত!!!
অতঃপর তুমিই চিন্তা করে দেখ , যদি এ সম্ভাবনা হয় ভিত্তিহীন,
তবে প্রভুর মহত্ত্বের কাচারি হতে কেন এ ঘোষণার হল প্রয়োজন।
দৃষ্টি আপন পরিদর্শনে স্বাধীন থেকেও আমাকে মানুষই বুঝেছে,
এখন তুমিই বল, এটি কোন আশঙ্কার দ্বার রুদ্ধ করা হয়েছে।
কথোপকথনের মূল উদ্দেশ্য তুমি বুঝতে পেরেছ, মনে হচ্ছে আমার,
মুসাফির বলে যেতে দাও এবার, সংহার টানছি সকল ধারাবাহিকতার।

আবেগ-আকর্ষণের এ অনিচ্ছাকৃত অপরাধ ক্ষমা করবেন মোরে,
অনেক জ্বালাতন করেছি আপনাকে আমি অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করে।
আপত্তি না থাকলে আপনার, না হয় আর একটু কষ্ট দিলাম,
যাবার কালে আপনার কাছে ক্ষমা চাই, বলবেন কি আপনার নাম!
হয়ত আপনাকে পাবনা, তবে আপনার নাম স্মরণে অন্তর আমার
প্রশান্তি করতে থাকব, কাফেলাপতি কথাগুলি বলল নিয়ে শিষ্টাচার।
বড়ই আশ্চর্য! জমিন-আসমানের এপিঠ ওপিঠ থেকে গোড়াপত্তন,
যার নাম, জন্নাত ও আর্শের দরজার অস্তিত্ব দপ্তরে রয়েছে অঙ্কন।
এর পরেও কি তোমাকে, আমার নাম বলার আছে প্রয়োজনীয়তা,
ধরে নাও, যিনি আপন প্রকৃতিতে নিষ্পাপ, কলঙ্ক মুক্ত এক সত্ত্বা,
যার স্বভাব-প্রকৃতি, চমৎকারিত্ব, মান-মর্যাদা অতি উচ্চ ও সুমহান,
যিনি আপন চেহেরা, সৌন্দর্য ও পূর্ণতায় জমিন থেকে আসমান,
জমিন থেকে আরশ পর্যন্ত সকল সৃষ্টি প্রশংসা কীর্তন করে যার,
এমন সত্ত্বাকে তুমি কি নামে ডাকবে? মৃদু হাস্যে বলে মুসাফির।
কাফেলাপতি বল্ল, তাঁর নাম মুহাম্মদ (সঃ) ছাড়া কি হতে পারে আর!
(হতচকিত হয়ে) তবে কি আপনিই মুহাম্মদ(সঃ)? হায় সৌভাগ্য আমার!
আপনি অভ্রের উজ্জ্বল নক্ষত্র, যার সংবাদ ঈসা (আঃ) দিয়েছিল,
আত্মহারা হয়ে, মত্ততায় ডুবে কাফেলাপতি যখন কথাগুল বলছিল,
গাছপালা, পর্বতমালা ঝুঁকে গেল সবখান হতে এ ধ্বনি  আসতে লাগল।
সবাই হাত বেঁধে দাঁড়িয়ে প্রেম ও ভক্তির এ সভায় শামিল হয়ে গেল,
ফজরের আযানের শব্দ কানে এল, কাফেলাপতির নিদ্রা টুটে গেল।
আযানের পূর্বে নভ-জমিনের সকল কিছু একযোগে গাইতে লাগল
আসসালাতু ওয়াস্ সালামুআলাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ,
আসসালাতু ওয়াস্ সালামুআলাইকা ইয়া নবীয়্যাল্লাহ,
আসসালাতু ওয়াস্ সালামুআলাইকা ইয়া শাফিয়াল মুজলিমিন,
আসসালাতু ওয়াস্ সালামুআলাইকা ইয়া রাহমাতাল্লিল আলামিন।

[আরশাদুল ক্বাদেরী (রহ.)’র জীবনী অবলম্বনে]

মোহাম্মাদ সাহিদুল ইসলাম (সিঙ্গাপুর প্রবাসী)
মেইল_ Sahidul_77@yahoo.com
H/P_6584027281

Categories
অনলাইন প্রকাশনা ইজি পাবলিকেশনস কবিতা

WORLD’S CONSCIENCE, COME FORWARD

Mayanmar

During the day, in the diverse media we can see,
Democracy is starting in the Myanmar, may be,
Muslims are severely persecuted in the country,
It is what kind of Development of Democracy?

Buddhist-Muslim riots going on the Abakan state,
Many Muslim killed in riots by indiscriminate.
It is a repeat as same of Palestine history.
Rohingga are foreigner of his won country.

Hundreds of years, Rohingga lived state of Arakan,
They have won language, culture and won tradition.
Amaze! Refusal them as citizens, their government,
How can Myanmar stop the Buddhist-Muslim fight?

If any country of government refusal them as citizens,
We can say, they are willingly operating the violence.
Can they not consider them as man? Not as a Muslim,
Why, Myanmar people killing arbitrarily of them?

Where is humanity? Where is World Conscience?
World Conscience cannot see Myanmar’s violence!
Sometimes, some organization gives some speech,
Myanmar Government has needed to stop violence.

Reputable for peace in the Afghanistan operate a war
Why never pressures create to stop killing man of Myanmar?
By easy speech, Myanmar killing mission never can be stop.
All way & vantage of  World Organization have need to off.

O, World conscience, comes forward for humanity,
Only by speech, we can not ending Our liability.
Oops! Tormented people, I cannot do nay other,
O, my Creator you may protect the helpless man of Myanmar.

Sahidul Islam (Singapore Expatriates  )
Sahidul_77@yahoo.com

(Note_ Rohingga is one Nation of Myanmar,
Arakan is one state of Myanmar)

[It is my small attempt to stop oppression against persecuted Muslims people of Myanmar.]

Categories
অনলাইন প্রকাশনা ইপুস্তকসমূহ(eBooks) কবিতা সৃজনশীল প্রকাশনা

মানুষ হয়ে আরেক মানুষ কেমনে করে খুন

ভাবতে আমার অবাক লাগে, শোনরে বলি শোন,
মানুষ হয়ে আরেক মানুষ কেমনে করে খুন ।
দাবী করি মানুষ মোরা, কাজের বেলায় পশু,
পশুর চেয়েও অধম, হতে বাধেনা আর কিছু।
তোমার ওছিলায় যদি কেহ জীবন ফিরে পায়,
দ্বিমত বন্ধু করিও না, তাকে সহায়তায়।
মানুষ তুমি, তোমার উপর আর যে কেহ নাই,
তোমার দ্বারা কষ্ট পাবে, কেন তোমার ভাই।
ভাইয়ে ভাইয়ে ঝগড়া করে, আছে অনেক ভ্রষ্ট,
রক্তের বাধন ছিন্ন করে চালায় তারা অস্ত্র।
এ দুনিয়ায় আর কত দিন করবা বাহাদুরী,
কখন যেন ঘাটে তুমার ভিড়বে এসে তরী।
শেষ খেয়াতে পার হইতে, আছেনি ভাই ভাড়া ?
নইলে কিন্তু পারঘাটাতেই পরবে তুমি ধরা।
একবারও কি ভাবছ তুমি, দিয়া তোমার মন,
কোথা হতে আসলে তুমি, কোথায় প্রত্যর্পণ।
ভাবতে আমার অবাক লাগে, শোনরে বলি শোন,
মানুষ হয়ে আরেক মানুষ কেমনে করে খুন ।
আর কতকাল খেলবা তুমি ভবের পুতুল খেলা,
পশ্চিমে তাকিয়ে দেখ ডুবছে তোমার বেলা।
তাইতো বলি বন্ধু সকল, করোনা আর অহংকার,
এক দিন তোমার সকল কিছু হবেই চূরমার ।
সময় থাকতে হুঁশিয়ার, কর তোমার মন,
নইলে কিন্তু ছাড়বেনারে  প্রভু চিরন্তন।
ভাবতে আমার অবাক লাগে, শোনরে বলি শোন,
মানুষ হয়ে আরেক মানুষ কেমনে করে খুন।

মোহাম্মাদ সাহিদুল ইসলাম (সিঙ্গাপুর প্রবাসী )
মেইল_ Sahidul_77@yahoo.com
H/P_6584027281

Categories
ইপুস্তকসমূহ(eBooks) উপন্যাস কবিতা

মা গো তোমার সম্মান

মা গো তোমায় নিয়ে গাইব আমি গান।।
কত কবি তোমায় নিয়ে লিখছে কিবিতা,
তোমায় নিয়ে গান গেয়েছে কত গায়ক-গায়িকা,
আমি কীভাবে করিব মা গো তোমার সম্মান,
মা গো তোমায় নিয়ে গাইব আমি গান।।

গর্ভে থাকতেই মাগো তোমায় দিছি কত জ্বালা,
আমার কথা ভেবে মাগো জ্বালাকে করেছ মালা,
মাগো আমি কি আর দিতে পারব, মা গো……
ও… আমার মা, তোমার জ্বালার যোগ্য প্রতিদান,
মা গো তোমায় নিয়ে গাইব আমি গান।।

তোমায় মৃত্যু সম কষ্ট দিয়ে ত্রিভুবনে আসি,
সিন্ধু তুল্য ব্যথা ভুলে, মুখে তোমার হাসি,
মাগো তোর হাসিতে হাসে বিশ্ব, হাসে রহমান,
আমি কীভাবে করিব মা গো তোমার সম্মান,
মা গো তোমায় নিয়ে গাইব আমি গান।।

অসুখ হলে মাগো আমার শিথানেতে বসি,
তন্দ্রাহীন করেছ পার দিবসের পর নিশি,
আমার জন্যে বিধির তরে সঁপে দিছ প্রাণ,
এই ঋণ কি আর শোধ হবে মা গো……
ও….. আমার মা…., ও… আমার মা…
এ ঋণ কি আর শোধ হবে গো থাকতে আমার জান
আমি কীভাবে করিব মা গো তোমার সম্মান
মা গো…… ও….. আমার মা….,
ও…….. ও………. আমার মা……

মোহাম্মাদ সাহিদুল ইসলাম (সিঙ্গাপুর প্রবাসী )
মেইল_ Sahidul_77@yahoo.com

 

( এক দিন না এক দিন এ পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে, তাই পৃথিবী যত দিন বহাল থাকবে ততদিন সকলের মুখে যেন মায়ের সম্মানে আমার এই গান চির অম্লান হয়ে থাকে।  গান দিয়ে মাকে সম্মান জানানো যায় না, তবে মনের আক্ষেপ প্রকাশ করা যায়। উল্লেখ্য গানটির আমি নিজে সুর করেছি এবং আমার ইউ টিউব একাউন্ট এ আপ-লোড করে এখানে লিঙ্কেজ দিয়ে দিব)
Categories
অনলাইন প্রকাশনা ইপুস্তকসমূহ(eBooks) কবিতা

ইসলামের প্রিয়জন

তোরা আলেমদের কে জালেম বলিস না,

নবীর ওয়ারিশ আলেমগণ, ইসলামের প্রিয়জন,

তাদের মনে তোরা ভাইরে, কষ্ট দিস না,

হায়রে কষ্ট দিস না।

তোরা আলেমদের কে জালেম বলিস না।।

 

কিছু আলেম এ সংসারে হয়েছে জালেম,

দুনিয়ার মোহে পড়িয়া হারায়েছে এলেম।

কিছু পথভ্রষ্টের গ্লানি তোরা সবাইকে দিস না,

ওরে সবাইকে দিস না।

তোরা আলেমদের কে জালেম বলিস না।।

 

যুগে যুগে আলেম-আউলিয়া হয়েছে গত,

কত বীর-বাহাদুর তাদের কাছে মাথা করছে নত,

তাদের গায়ে ভাইরে তোরা, কলঙ্ক দিস না,

তোরা কলঙ্ক দিস না।

তোরা আলেমদের কে জালেম বলিস না।।

 

বিশ্বে আজি আলেম-ওলামা দেখ শত শত,

ইসলামের জন্য জীবন তারা দিচ্ছে অবিরত।

তাদের নিয়ে কভু ভাইরে বিদ্রুপ করিস না,

ভাইরে বিদ্রুপ করিস না।

তোরা আলেমদের কে জালেম বলিস না।।

 

হজরত ইসা (আঃ), বলে কুমবি ইজনিল্লাহ,

সহস্রাব্ধের গতকে যিনি করেছেন জিন্দা,

সেই নবীর ওয়ারিশানদের তোরা নিন্দা করিস না,

তোরা নিন্দা করিস না।

তোরা আলেমদের কে জালেম বলিস না।।

 

যারা দ্বীন কায়েমে যুগে যুগে হয়েছে শহীদ,

যারা যুগ জিজ্ঞাসার জবাব দানে ফকিহে মুজতাহিদ,

তাদের উত্তরসূরি আলেম সমাজকে ঘৃণা করিস না,

তোরা ঘৃণা করিস না।

তোরা আলেমদের কে জালেম বলিস না।।

 

সাড়ে নয়শ’ বছরের দুঃসহ জুলুম যিনি করেছেন গত,

আঃ গাফফার নবী, নুহ নামে যিনি হলেন বিভূষিত,

ইতিহাস হয়ে থাকলেন যিনি, আলেম-ওলামা তারই উপমা,

তোরা তাদেরকে ভাই, ত্রপা করিস না,

হায়রে ত্রপা করিস না।

তোরা আলেমদের কে জালেম বলিস না।।

 

 

রানী বিলকিস যাহার কাছে মাথা করেছে নত,

যিনি ইঞ্জিনবিহীন সুপারসনিকে চলছে অবিরত,

সেই সুলায়মান(আ.) এর উত্তরসুরি, আলেম-ওলামা,

তাদের নিয়ে তোরা ভাইরে ব্যঙ্গ করিস না,

ভাইরে ব্যঙ্গ করিস না।

তোরা আলেমদের কে জালেম বলিস না।।

 

সপ্ত আকাশ, আরশ কুরসী, মাকামে মাহমুদ ভেদ করি

কাবা কাউসাইন গেছেন যিনি, নূরজগত দিয়ে পাড়ি,

যিনি মদিনার তাজ, নূরে মুজাস্সাম,

তিনি রূহে কায়েনাত সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম,

তার যোগ্য ওয়ারিশ, আমাদের আলেম-ওলামা,

আমার নবীর ওয়ারিশানদের কেউ কলঙ্ক দিস না,

তোরা কলঙ্ক দিস না।

তোরা আলেমদের কে জালেম বলিস না।।

 

তাইতো বলি শোন, ওলীর সাথে থাক যদি এক মুহূর্ত,

পর্বত-সম মন তোমার হবে মমের মত,

সেই ওলি-আউলিয়া, আলেম-ওলামাদের হেনস্থা করিস না,

তোরা হেনস্থা করিস না।

তোরা আলেমদের কে জালেম বলিস না।।

 

মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম
Sahidul_77@yahoo.com

 

 

 

Categories
ইপুস্তকসমূহ(eBooks) কবিতা

বিচারের দিন খাইবি ধরা

তোরা যারে-তারে নির্বিচারে নাস্তিক বলিস ক্যান,

তোদের কোরআন-সুন্নায় আছে কিরে জ্ঞান!

 

হও যত বড় রাজনীতিবিদ,

হও না কেন মন্ত্রী-মিনিস্টার,

তাই বলে কি আছে অধিকার,

কোন বিষয়ে ফতোয়া দেবার।

 

ফতোয়া দিবে কারা, শরীয়ায় জ্ঞান রাখেন যারা।

মজলিশে শুরা গঠন করে, ন্যায় কাজী নিয়োগ করে,

দোষীর দোষ প্রমাণ করে, করতে হবে দণ্ডদান,

এটাই ইসলামের বিধান।

তোরা যারে-তারে নির্বিচারে নাস্তিক বলিস ক্যান,

তোদের কোরআন-সুন্নায় আছে কিরে জ্ঞান!

 

ওরে জেনে রাখিস তোরা, কথা বললে মনগড়া,

বিচারের দিন খাইবি ধরা, নাইরে পরিত্রাণ,

ওরে নাইরে পরিত্রাণ,

তোরা যারে-তারে নির্বিচারে নাস্তিক বলিস ক্যান,

তোদের কোরআন-সুন্নায় আছে কিরে জ্ঞান!

 

শরীয়া আইনে কি বলে, কাউকে নাস্তিক বলতে হলে,

কোরান সুন্নাহ অস্বীকারের লাগবে উপযুক্ত প্রমাণ,

লাগবে উপযুক্ত প্রমাণ।

তোরা যারে-তারে নির্বিচারে নাস্তিক বলিস ক্যান,

তোদের কোরআন-সুন্নায় আছে কিরে জ্ঞান!

 

হাদিসে কি আছে শোন, অপবাদ নাহি দিয়ো যেন,

নির্বিচারে নাস্তিক বলে, যদি না করতে পার প্রমাণ,

জেনে রেখ, নাস্তিক হিসেবে তুমি একদিন হবে দণ্ডায়মান,

তুমি হবে দণ্ডায়মান।

তোরা যারে-তারে নির্বিচারে নাস্তিক বলিস ক্যান,

তোদের কোরআন-সুন্নায় আছে কিরে জ্ঞান!

 

মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম
Sahidul_77@yahoo.com

Categories
ইপুস্তকসমূহ(eBooks) কবিতা ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতা

কোরানের প্রহরা

ওরে ও বেকুবের দল,
তোদের কি আছে হায়রে নুন্যতম জ্ঞান,
সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বানী, কোরান পুড়লি ক্যান।

ওরে ও বেহুঁশের দল,
তোদের কি আর আছে হায়রে নুন্যতম হুঁশ
কেঊ যদিও অন্যায় করে, কোরানের কি দোষ।

ওরে ও গবেটের দল,
দাড়ি রেখে টুপি পড়লেই হয় কি  মুসলমান!
মুসলিম হলে তোরা কি আর পুড়াইতি কোরান?

ওরে ও গাড়লের দল,
তোদের কি আর এ জীবনে জ্ঞান হবে না!
বিধর্মীরা কোরান বুঝে তোরা বুঝলি না।

ওরে ও নির্বোধের দল,
জেনে রাখিস তোরা, এটা নয় তো সহজ পুড়া,
লক্ষ-কোটি হাফেজের মনে আছে এটি ভরা।

ওরে ও গর্দভের দল,
বাহাদুরি আর ছলচাতুরী যতই করিস তোরা,
আল্লাহ্‌, স্বয়ং নিজে করবে কোরানের প্রহরা।

(গত ০৫/০৫/২০১৩ তারিখে হেফাজতে ইসলামের ডাকা সমাবেশে ইসলামের শত্রুরা কোরান শরীফ সহ বইয়ের দোকান পুড়িয়ে দেয়_ তারা যেই দলেরই হোক না কেন, তার প্রতিবাদে এবং অপরাধীদের এবং কোরান অবমাননা কারীদের শাস্তির দাবিতে আমার এ কবিতা।)

মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম
Sahidul_77@yahoo.com

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা সৃজনশীল প্রকাশনা

আমার হৃদয় মন্দিরে

অতর্কিতে সে দিন তুমি

বললে যখন এসে,

তোমায় আমি পাগলী নাকি

করছি মিষ্টি হেসে।

 

এই দুষ্টু মেয়ে,

বলনা এমন করি,

অমন করে বললে আমি

লাজে যাই যে মরি

 

তুমিও কি আমার চেয়ে

একটু খানিও কম,

আমি তো দেখি তুমি একটা

হৃদয় চুরির যম।

 

যতই তুমি বল আমায় হিরো,

আমি কিন্তু তোমার কাছে জিরো,

 

যখন আমায় বল তুমি

আমার জানের জান

আমি কি আর আমার

থাকি, উতলা হয় প্রাণ।

 

চুপি চুপি যখন এসে

আমায় তুমি কও,

এখন থেকে, তুমি নাকি,

আমার সনা বউ।

 

এমন করে সখি তুমি,

আর বল না গো মোরে,

তোমায় আমি রাখব

আমার হৃদয় মন্দিরে।

 

এখন আমি আছি শুধু

অপেক্ষাতে বসে।

আসবে কবে আমার ঘরে,

তুমি বধূ বেশে।

 

মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম

Sahidul_77@yahoo.com

 

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা সৃজনশীল প্রকাশনা

তোমায় করব পাগল পারা

আমি তোমার গানের পাখি,

তুমি আমার কলতান,

তোমার জন্য,

সারা জীবন গেয়ে যাব গান।

 

তুমি নৌকা,

আমি হাল,

তোমার আমার জীবন তরী,

বইবে চিরকাল।

 

আমি স্রোত,

তুমি নদী।

তোমার বুকে সারা জীবন,

বইব নিরবধি ।

 

আমি লতা,

তুমি ডাল,

তোমায় বুকে জড়িয়ে রাখব,

আমি চিরকাল।

 

আমি লেখনি,

তুমি খাতা,

লিখে যাব সারা জীবন,

তোমার যত কথা।

 

তুমি ফুল,

আমি সৌরভ,

আমার জন্যই পৃথ্বীতে আজ

তোমার এত গৌরব।

 

তোমার হাসিতে যখন

পাখিরা গায় গান,

আমার সৌরভে ছড়ায়

শান্তি অফুরান।

 

জীবন নামের ফুল মালঞ্চ,

সুখে দিতে ভরি

এসো মোরা পৃথ্বীতলে

সুখের স্বর্গ গড়ি

তোমার হাসিতে তুমি ঝরাবে ঝরনা ধারা,

আমার সৌরভে তোমায় করব পাগল পারা।

 

মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম
Sahidul_77@yahoo.com

 

 

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা সৃজনশীল প্রকাশনা

এখনো তোমার অপেক্ষায়

বিজন,
খুব জানতে ইচ্ছে করছে,
তুমি কেমন আছো?
আমি জানি আমার এ লেখা,
হয়ত বা কোন দিন দেখবে না।
তবু আমার এই অবুঝ মনকে
বুঝিয়ে রাখতে পারিনা।

বিজন,
আমার রক্তে মাংসে
নিঃশ্বাসে বিশ্বাসে শুধু তুমি আর তুমি,
কি কিরে তোমায় ভুলব, বল?
আমার মধ্যে আমি বলতে
কিছুই অবশিষ্ট নেই, সবই শুধু তুমি,
শুধু তুমি আর তুমি।

বিজন,
আমার খুব করে মনে পড়ছে,
তুমি (MRT) মেট্রো রেলে কাজ করতে,
প্রতিদিন অফিসে যাবার সময় দেখা হত
তুমি আমার দিকে অপলক নেত্রে তাকিয়ে থাকতে,
আর আমি তুমাকে পাত্তাই দিতাম না!
তবু কেমন করে, কখন যেন
আমার রক্তের সাথে মিশে গেছ
বুঝতেই পারিনি!

বিজন,
সেই স্মৃতি মনে পড়ে,
চোখে আনান্দ অশ্রু ঝরে,
যে দিন হারিয়ে গিয়েছলাম
দুজন দুজনাতে, এক অজানাতে,
মনের অজান্তেই হয়েছিল দুজনার মিলন।

বিজন,
এক সাইক্লোনের কথা মনে পড়ছে
যে সাইক্লোন শুরু হয়েছে কিন্তু
শেষ কোন দিন হবে কি না আমার জানা নেই।
যে দিন তোমাকে বলেছিলাম

বিজন,
আমি তোমার অস্তিত্ব আমার
দেহে বহন করে চলছি।
আমি তোমাকে বলেছিলাম,
তুমি তোমার বসকে,
আমাদের বিষয়টি খুলে বল।
এর পরের দিন থেকে বেশ কিছু দিন
তোমার খবর ছিলনা।
একদিন হঠাৎ একটি ফোন নম্বর থেকে
আমার নাম্বারে ফোন আসে,
আমি ফোন রিসিভ করি
তুমি শুধু এটুকুই বললে

লিলি,
আমার কোম্পানি আমাকে
বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়েছে, আমাকে
ক্ষমা করে দিয়ো, জীবনে আর কখনো
তোমার সাথে দেখা হবে না।

বিজন,
এই সাইক্লোন এখনো আমাকে
ক্ষত-বিক্ষত করে চলছে_____
রক্তাক্ত করে চলছে আমার হৃদয়কে______
এ সাইক্লোন কি থামার মত বিজন?

বিজন,
আমি অনেক চেষ্টা করেছি
ঐ নাম্বারে, কিন্তু নাম্বারটি ছিল
একটি টেলিকম শপের,
তারা তোমার কোন ঠিকানা দিতে পারেনি।
আমি গিয়েছি তোমার কোম্পানির কাছে,
তারা বলেছে, সিঙ্গাপুরের আইনে
কোন (ভিসা)WP ধারীকে
কোন সিঙ্গাপুরিয়ান বিয়ে করতে পারে না।
বাধ্য হয়েই তারা তোমাকে
দেশে ফেরত পাঠিয়েছে।

বিজন,
আমি তোমার জন্য সিঙ্গাপুর সরকারের কাছে,
তোমার নাগরিকত্বের জন্য
আবেদন করে রেখেছি।
তুমি চলে এসো আমার কাছে।
আমি এখনো তোমার অপেক্ষায়,
তোমার জন্য আমি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত
অপেক্ষা করব।
মৃত্যুর আগেও যদি একনজর তোমায়
দেখে যেতে পারি তবু আমি শান্তি পাব।

বিজন,
তুমি ছাড়া আমার বেঁচে থাকা
আর না থাকা সমান কথা,
তবু বেঁচে আছি, কেন জান?
তুমি আমাকে যে অস্তিত্বের জানান
দিয়ে গিয়েছিলে, ও এখন
পাঁচ বছরের ছেলে।
অন্তত ওর জন্য হলেও
আমাকে বাঁচতে হবে।

কিন্তু বিজন,
ও যখন আমাকে জিজ্ঞেস করে
ওর বাবা কোথায়, তখন
আমি তাকে চোখের অশ্রু ছাড়া
আর কিছুই দিতে পারিনি।

ইতি
তোমার
লিলি বিজন

মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম
Sahidul_77@yahoo.com

(সিঙ্গাপুরের একটি মাসিক ম্যাগাজিনে প্রকাশিত, বাংলাদেশী ছেলে এবং চাইনিজ মেয়ের বাস্তব প্রেমের কাহিনী অবলম্বনে, আজকে আমার এ গদ্য কবিতার আয়োজন। উল্লেখ্য এখানে আমি ওদের ছদ্ম নাম ব্যবহার করেছি।)

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা সৃজনশীল প্রকাশনা

মৃত্যু পথ-যাত্রী শাহিনুর বলছি (সাভার ট্র্যাজেডি অবলম্বনে)

আমি মৃত্যু পথ-যাত্রী শাহিনুর বলছি,
শোনছ কি কেউ মোর কান্নার সুর?
আমি যে মরন শিখায় জ্বলছি,
যেতে বুঝি হবে আমার অচিনপুর।
তারাতারি মুক্ত কর আর যে দেরি সয়না,
আমার জন্যে কাঁদছে বুঝি আমার সোনার ময়না।
দেড় বছরের বাবু আমার, রেখে এসেছি ঘরে,
আমায় ছাড়া বাবু আমার থাকবে কেমন করে।
তোমরা বুঝি শেষ রক্ষা করতে পারলে না,
আমার বুঝি এসে গেছে শেষ পরোয়ানা।
এই বুঝি দেহ থেকে যাচ্ছে আমার প্রাণ,
এক মুহূর্ত, দেখতে মন চায় আমার বাবুর মুখ খান।
এমন ভাগ্য রেখেছিল মোর আপে পরোয়ারে,
অবুঝ বাবু, আমার ছাড়া থাকবে কেমন করে।
প্রভু, যাবার কালে, তোমার কাছে এই মিনতি করি,
বাবুকে মোর সুখে রেখ সারা জীবন ভরি।
বাবু, তোমার জন্য কিছু আমি করতে পারলাম না,
ক্ষমা চাইছি তোমার কাছে হতভাগী মা।

মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম ( সিঙ্গাপুর প্রবাসী)
Sahidul_77@yahoo.com

(বিগতপ ২৪/০৪/২০১৩ তারিখে, সাভার ট্র্যাজেডির নয়তলা ভবনটি মাথার ওপর পড়ার পরও মরতে মরতে বেঁচে ছিলেন শাহীনা আক্তার। ধসের ৮০ ঘণ্টা পর তাঁকে জীবিত খুঁজে পান উদ্ধারকারী কিছু তরুণ। এর পরের ৩০ ঘণ্টা তাঁকে বাঁচানোর মরণপণ লড়াই করেন স্বেচ্ছাসেবক এবং সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয় অপ্রত্যাশিত অগ্নিকাণ্ড। মরণের পূর্বে তার কিছু আকুতি, তার অবুঝ শিশুকে একটি বারের জন্য দেখার যে অভিপ্রায় ছিল সে ঘটনার অবলম্বনে।)

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা সৃজনশীল প্রকাশনা

শ্রমিকের চোখে জল

ঐ যে দেখ বড় বড় অট্টালিকা কত,
ঐ যে দেখ টাওয়ার সারি দাঁড়িয়ে আছে যত,
এসব কিছু তৈরিতে যারা ঝরিয়েছে গায়ের ঘাম,
আমরা কি ভাই দিতে পেরেছি তাদের ন্যায্য দাম!

ঐ যে দেখ দূর দুরান্তে
চলে গেছে রাস্তা আঁকাবাঁকা,
ঐ যে দেখ দিবা-রাত্রে
ঘুরছে কলের চাকা,
এসব কিছু তৈরিতে যারা
দিয়েছে তাদের বল,
মহাসুখে মহারাজারা,
শ্রমিকের চোখে জল।

ঐ যে দেখ রাস্তা-ঘাটে চলছে শত গাড়ি,
যার বিনিয়য়ে, স্বল্প সময়ে ফিরছি মোরা বাড়ি,
এসব চলতে খাটছে যারা, সারা দিনমান
আমরা কি ভাই দিতে পারছি তাদের সম্মান!

ঐ যে দেখ দালানকোঠা, ঐ যে দেখ রঙ্গিন বাড়ি,
ঐ যে দেখ যাচ্ছে নারী, গায়ে তাহার রঙ্গিন শাড়ি
এসব শিল্পে অবদান রেখেছে যাদের কারুকাজ,
আমরা কি ভাই দিচ্ছি তাদের ন্যায্য মূল্য আজ!

এই যে দেখ রঙ্গিন পোশাক দিচ্ছি মোরা গায়,
এই পোশাকের কারিগররা দেখ কত অসহায়।
ধ্বংসযজ্ঞ সাভারে যারা হারিয়েছে প্রাণ,
ইতিহাসে থাকবে মোদের নিষ্ঠুরতার প্রমাণ।

সমাজ-সভ্যতার সকল বিনির্মাণ হয়েছে যাদের ত্যাগে,
হাদিস বলে শোধাও ঋণ তার ঘাম শুকানোর আগে।

সৃষ্টির সেরা হয়ে মোরা
হারিয়েছি সকল বুদ্ধি, লাজ
তাইতো বলি ভাই, সময় বেশী নাই,
দেনা-পাওয়ানার হিসাব-নিকাশের সময় এসেছে আজ।

শ্রমিকের স্বার্থ, শোধাও ন্যায্য অর্থ,
শুধু মে দিবসে এটাকে তুমি রেখ না সীমিত,
সুষম-নাজ্য সমাজ, গঠনের সময় নাই বেশী আজ,
সময় থাকতে শোধাও তুমি, তোমার ঋণ আছে যত।

মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম ( সিঙ্গাপুর প্রবাসী)
Sahidul_77@yahoo.com