Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা সাকি বিল্লাহ্ সৃজনশীল প্রকাশনা

হরিষে বিষাদ

হরিষে বিষাদ

–সাকি বিল্লাহ্

 

আজ হরিষে বিষাদ মনে, কেন?

যাতনা, কিসের এত বিষের পেয়ালা যেন;

জীবন সায়াহ্নে এত কন্টাকীর্ণ পথ,

যবে বিষাবনীল দেহভারে টানিছো সেই রথ ।

তোমার পথের পরে কন্টক বিছায়েছে কেহ,

কোন সে হৃদয়হীনা তোমারে বঁধেছে প্রিয় মোহ ।

তাই হরিষে বিষাদ নামে বক্ষে,

যখনই পড়ে মনে তাহারে এ অন্তরীক্ষে ।

মরুভূমির বক্ষে এসেছিলে হয়ে এক পসলা বৃষ্টি,

মৃত্তিকা ছেদিয়া অঙ্কুরিত এক নবকৃস্টি ।

প্রখর রৌদ্র খড়তা উপেক্ষিত ছিল সব,

তুমি এসে নামালে পূর্ণিমার বারিত রব ।

চিকচিক বালুকণা গুলোর বিরিরণ,

তুমি থামালে প্রশমিত করে ঘন বরষণ ।

 

যখন হঠাৎ করেই লুকালে অন্ধকারে,

অবিশ্বাসে উপহাস করে সব কিছুরে;

তখন আনন্দ হল বদ্ধ নীরেট প্রস্তরে,

কষ্টের এক সমাধির বক্ষ কুটিরে ।

তাই হরিষে বিষাদ নামে দু চোখে নিমিষে,

চোখের পাতা দুটি ভারি হয়ে আসে অবশেষে ।

পিছনে ফিরে দেখ একপলক, একবার,

কোন অনুশোচনা জাগ্রত হয় কিনা তোমার ।

কি করে হাসি, পর্বত সমান কষ্ট নিয়ে বুকে,

গীরি প্রস্তর অন্তরপূর্ণ অগ্নিকুন্ড গোলকে ।

তাই হরিষে বিষাদ নামে সকল বেদনায়,

ভুলি নাই আমি, ভুলিয়াছো তুমি অন্ধ মোহের নেশায় । ।

 

২১.১২.১৭ ঘটিকা, .৬.১২.১৭ খ্রিস্টাব্দ, কেমনিট্জ, জার্মানী ।

 

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা সাকি বিল্লাহ্ সৃজনশীল প্রকাশনা

অন্দর মহল

অন্দর মহল

–সাকি বিল্লাহ্

তোমার অন্দর মহলে ডেকে এনে,

সর্বনাশ করেছো আমার,

অন্তর অথবা অন্দর যা-ই বলো না কেন,

একই মোহে আকৃষ্ট করেছো,

এই রূপ মাধুর্যের ছলনায়;

ডেকেছো গহীনে গভীরে..

বাঁকা ঠোঁটের চমৎকার হাসিতে,

খুন হয়ে যাই বার বার,

অতপর সেই ঠোঁটের স্পর্শেই হয় পূনর্জনম,

রূপখানা কালের মহাস্রোতে হারালেও,

থেকে যাবে তোমার বাঁকা হাসি ।।

 

এই যে ঘন কালো চুলের ঘ্রানে,

মোহিত করেছো আমায়,

তারপর হঠাৎ জাগিয়ে দিয়েছো,

কোমল কন্ঠের সুরেলা স্রোতে ।।

 

রাগে অভিমানে কখনও বন্ধ করেছো সব,

তারপর অভিমান ভেঙ্গে,

হাতে হাত রেখে, চোখে ছলছল জল নিয়ে,

তাকিয়ে রয়েছো অনেক্ষণ,

সেই মৌন ইশারার চাহনির ভাষা,

আমি ছাড়া আর কে বোঝে !

 

তারপর হঠাৎ একদিন,

নীল আকাশটা হয়ে গেল ফ্যাকাশে,

সবুজ পাতাগুলো শুকিয়ে ধূসর হয়ে গেল,

ধীরে ধীরে মূমূর্ষু হয়ে গেল কৃষ্ণচূড়াটা,

তারপরও পাখিরা গাছটার ডালে বসে,

বসে আনন্দে গান ধরে;

সেই গান শুনে নতুন করে প্রান ফিরে পায়,

মৃতপ্রায় কৃষ্ণচূড়া গাছটা,

নতুন করে কুঁড়ি গজিয়ে উঠে সুউচ্চে,

নতুন করে স্বপ্ন দেখে তোমাকে নিয়ে,

কিন্তু এতদিন পরে আজ আর,

নেই কোমলতা তোমার,

নেই সুরেলা কন্ঠ অথবা সুশ্রীবদন,

একরাশ কালো মেঘে ঢাকা,

তোমার বাঁকা হাসি,

তবুতো তুমি আছো এই হৃদয়ে,

শতশত স্বপ্ন আর অভিমানে,

অথবা হারিয়ে যাওয়া সকল সুখ স্মৃতিতে ।।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা সাকি বিল্লাহ্ সৃজনশীল প্রকাশনা

A Wicked Lizard

A Wicked Lizard

–Saki Billah

 

You are a Wicked Lizard,

Like a dwarf husked Sun,

Like a Shadow from a Sunbeam,

In an ancient meadow.

I am wicked by you,

But I am not weak at all,

I know how to survive,

How to grow like a green stalk;

And becoming as long, as it could be,

Climbing in a long tree.

Dear God, forgive her,

For what she did to me,

For how she black spelled me,

As I forgave her,

You have no rights to proceed.

 

But you can make me strong,

Like a Blacksmith’s hammer,

Like a blowing wind,

So I can wicked her too;

But not like a monster,

I will flourish like a sprinkle,

I will blow besides her,

So she can smelled me,

But cannot see,

I will fly in the Sky,

Like a free Bird,

So I can see her,

But she cannot noticed.

You are a beautiful Species,

But not more than a ‘Wicked Lizard’.

Time of writing: 04.01.2018 7:31 am

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা

সু-সন্তান

সু-সন্তান

–সাকি বিল্লাহ্

 

এমন সন্তান জন্ম দিও-গো মা-জননী,

কাঁপিবে বিশ্ব সত্যসম্ভারে, লুটাবে পায়ে ধরণী ।

অজুত গুনিয়া এমন সন্তান, না হয় ঘরে ঘরে,

তবু দিগ্বীজয়ে শুনি তারই জয় জয়কারে ।

সর্পিল জাত জন্ম দেয় বহু কিংবা কুক্করী,

জন্ম দিয়া সাপের বংশ বিলাপে মর্মবিদারী ।

 

এমন শিশু গড়ে তোলো হে পিতা,

অন্যায় রোধে দৃঢ় চিত্তে, কর্মে সদা সততা ।

দেশ ও দশের সেবায় যেন জীবন করে উৎসর্গ,

অন্যায় রোধিয়া নরককে বানাবে পূণ্য-ভূস্বর্গ ।

কোথায় আছে সে পিতৃকুল এ জগতে,

ছড়াবে আলোর কণা সুসন্তান যার কোলেতে ।

 

হে সন্তান তুমি বড় হও, দীর্ঘ হও, হও মহাশক্তিমান,

দেশ ও জাতির সকল কল্যাণে নিবেদিত করো আত্মপ্রাণ ।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা বিনোদন ভালবাসা/প্রণয়লীলা সাকি বিল্লাহ্ সৃজনশীল প্রকাশনা

কমলা সুন্দরীর স্নান

কমলা সুন্দরীর স্নান
–সাকি বিল্লাহ্
 
সাঁতার না জানলে কন্যা,
নাইমো না ঐ দরিয়ায়,
দরিয়ার পানি চিকচিক করে,
সূর্যের আলোর ঝলমলায় ।।
 
কন্যার বরণ কমলার মতন,
রাগলে হয় মহাগ্নী,
ও গো ময়না নাইমোনা জলে,
এই রাগিনীর স্রোতিস্বিনী ।।
 
রন্ধন শেষে স্নানে এসে,
পদ্মের ন্যায় ভাসো,
গায়ে মাখো চন্দন-তুলসী,
আর, আপন মনে হাসো ।।
 
দরিয়ার জল উজানে চলে,
ভাইসা যায়রে শরীর বসন,
বসন যদি না থাকে গায়,
কেমনে যাইব বাড়ীর চলন ।।
 
সাঁতার না জানলে কন্যা,
নাইয়ো না ঐ দরিয়ায়,
দরিয়ার জল নিঠুর যদি,
ভাসাইয়া নিব এই অবেলায় ।।
Categories
অনলাইন প্রকাশনা আইন কানুন আত্ম উন্নয়ন গল্প জীবনী ও স্মৃতিকথা সাকি বিল্লাহ্ সৃজনশীল প্রকাশনা

তিতা কথাঃ পর্ব-১০ অভাবে চোর আর স্বভাবে চোর !!!

— সাকি বিল্লাহ্
 
সকালে সংবাদপত্রটা হাতে নিলাম, না আমাদের দেশের না । জার্মানীর একটা পত্রিকা । শিরোনাম হচ্ছে “রাস্তায় গাড়ী দুর্ঘটনায় কুকুর নিহত”
এবার আসি আমাদের দেশের পত্রিকাগুলোর শিরোনামে,
“১১ ঘন্টায় রাজধানীতে দুই জোড়া খুন”
“বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও মাদকের ছোবল”
“অপারেশন হিট ব্যাকঃ বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন সাত লাশের চারটিই শিশুর”
“পুরনো রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের অনাগ্রহ”
“খাদ্যদ্রব্যের লাগাম ছাড়া দামে জনজীবন বিপর্যয়ের মুখে”
“শব্দদূষণ, বায়ুদূষণ, পানি দূষণ, যানজট, লোডশেডিং সমস্যায় শহরজীবন দুর্বিষহ”
 
এ রকম ভয়ঙ্কর পরিস্থিতে বাংলাদেশ আগে কখনও পড়েছে বলে আমার মনে পড়ে না । তারপরও অনেক অন্ধ সরকার পন্থীরা বলে বেড়াচ্ছে দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে আছে(!) । একটা দেশ কতটা ভাল অবস্থায় আছে তা তার সংবাদ শিরোনামগুলো দেখলেই আসলে বোঝা যায় ।
যে দেশের মানুষদের নিয়ে আমরা স্বপ্ন দেখি তার একটা বড় অংশ অত্যন্ত নির্দয় এবং সুযোগ পেলে তাদের ভয়ঙ্কর রুপটা দেখিয়ে দেয় ।
দুমাস আগে একজন খুব কাছের মানুষের হঠাৎ পরিবর্তন দেখে বিস্মিত হয়েছিলাম । ২১ আগস্ট শেখ হাসিনার উপর বা দুদিন আগে খালেদা জিয়ার উপর আক্রমন দেখে সত্যিই অবাক হই মানুষরুপী জানোয়ারদের জন্য; আমরা আসলে সভ্য কবে হব ।
 
এ ধরনের মানুষের নির্মমতা দেখে কিছুটা মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম কিছুদিন আগে । ছোটবেলার একটা ঘটনা মনে পড়ল,
তখন যতদূর মনে পড়ে সবেমাত্র ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে ভর্তি হয়েছি । একদিন সকাল ৫টার দিকে একজন চোর ধরা পড়ল । তিন রাস্তার মাথায় বিদ্যুতের খুটিঁর সাথে তাকে অত্যন্ত নির্মমভাবে শক্ত করে বাঁধা হল । এর মধ্যে যে যেভাবে পেরেছে তাকে বেধরক মারধর, লাথি, কিল, ঘুসি দিয়ে আধ মরা করে ফেলেছে । মানুষের শোরগোল শুনে বাসা থেকে বের হতে গেলাম, মা বললেন, “বাবা, ছেলেটাকে মারধর করিস না”, আমি বললাম, কোন ছেলেটা? মা বললেন, মানে চোর ছেলেটা, সেও তো কোন মায়ের সন্তান, হয়ত অভাবের তাড়নায় চুরি করেছে”
-কি বলব, বুঝতে পারলাম না
 
ইতোমধ্যে শুনতে পেলাম, চোরটা এক গ্লাস পানি পান করতে চাইলো । কেউ একজন বলল, ওকে পানি দেয়া যাবে না, কেউ বলল, ওর চোখ উপরে ফেলতে হবে, কেউ বলল, হাত পা ভেঙ্গে দিলে আর চুরি করতে পারবে না । আমার একমাত্র খালার বাড়ী আর আমাদের বাড়ী পাশাপাশি । খালা আর মা দুজনেরই অসহায় মানুষদের প্রতি মমত্ববোধটা অনেক বেশি । খালা আর মা দুজনেই বললেন চোরটাকে ছেড়ে দিতে । এরই মধ্যে আমার মা দেখি এক গ্লাস পানি হাতে আমাকে বললেন চোরটাকে দিয়ে আসতে, অবাক না হয়ে পারলাম না; একই রক্তে মাংসের মানুষ আমরা অথচ কেউ বলছে চোর টাকে পানি না দিয়ে, বরং চোখ উপরে ফেলতে আর কেউ পানি হাতে বলছে চোরটাকে পুলিশে দিতে বা ছেড়ে দিতে ।
পানির গ্লাস হাতে সামনে গেলাম, আমাকে পানির গ্লাস হাতে দেখে আমাদের বাড়ীর এক ভাড়াটিয়া খুবই বিরক্ত হলেন, উনার হাতে ছোটখাট একটা বাঁশের টুকরো, মারমুখী পৈশাচিক একটা ভয়ঙ্কর চেহারা নিয়ে উনি দাড়িয়ে আছেন । অন্যরা তেমন কিছু বলল না, শুধু উনি বললেন, আরে চোরকে এত সমাদর করার দরকার কি, শালায় গত মাসে আমার মোবাইল চুরি করছে আজকে আরেকজনেরটা চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ছে, ওর জান শেষ করে ফেলতে হবে মারতে মারতে” ।
 
অবাক হয়ে সেই লোকটার দিকে তাকিয়ে ছিলাম, সমাজে কত বড় বড় চোর প্রতিনিয়ত চুরি করে যাচ্ছে, হলমার্কস, ডেসটিনি, শেয়ার বাজার, ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ, ঘুষ, কালোবাজারি, ভোট চুরি, গম চুরি, গরীবদের ত্রান চুরি, আরো কত ধরনের চুরি ।
ক্ষুধার তাড়নায় যারা চুরি করে তারা তো অভাবে পড়ে করে, আর যাদের টাকা পয়সা বা খাবার দাবারের অভাব নেই তারা করে আসলে নিকৃস্ট স্বভাবের কারনে । অভাবে চুরি করা মানুষগুলোকে আমরা সুযোগ পেলে মেরে আধমরা করে ফেলি বা চোখ উপরে ফেলি কিন্তু যারা স্বভাবে চোর তাদের বেলায় সবাই নির্জীব ।
 
পানি পান করার পর চুরির অপবাদে দুস্ট ছেলেটা কিছুটা প্রাণ ফিরে পেল । সবাইকে উদ্দেশ করে বলল, ভাই, আমাকে পুলিশে দেন । জনসমাবেশের একজন বলল, তার আগে তোকে মেরে হাত পা ভেঙ্গে ফেলতে হবে । বাকী সবাই বলল, হ্যাঁ একদম ঠিক । আবারও একজন বলে উঠল, এর চাইতে ভাল হবে চোখ তুলে ফেললে তাহলে আর চুরি করতে পারবে না ” । ভয়ঙ্কর নির্মম কথায় হতবাক না হয়ে পারা যায় না ।
ফাঁসির আসামী যখন বুঝতে পারে, তার ফাঁসি নিশ্চিত তখন সে কিছুক্ষণের জন্য নির্বাক হয়ে যায়, আর একটা সময় সে আর কোন উপায় নেই ভেবে মৃত্যুর জন্য মানসিক ভাবে প্রস্তুতি নিতে থাকে । এক সময় সে এ বিষয়টা মেনে নেয় । ফাঁসির মঞ্চে অত্যন্ত শান্তভাবেই সে ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় । তার হাত বাঁধতে গিয়েও কোন সমস্যা হয় না কিন্তু যখন তার মুখে কালো কাপড়ে দিয়ে ঢেকে দেয়া হয় তখন সে শেষ বারের মত বাঁচার আদিম প্রবৃত্তিতে শেষ চেস্টা করতে থাকে ।
মানুষের আচড়ন আসলে সত্যিই ব্যতিক্রম ।
 
চোর যখন বুঝতে পারল তার মার খাওয়া নিশ্চিত বা চোখ উপরে ফেলা নিশ্চিত তখন এক পর্যায়ে সে সবাইকে অনুরোধ করলে, ভাই, আস্তে মাইরেন । ”
তবে এই নির্মমতা আমার অভিজ্ঞতায় তৃতীয় বিশ্বের মানুষদের ভিতর সবচাইতে বেশি । বাঙ্গালী জাতি হিসেবে আমরা আসলে এতটা নির্মম ছিলাম না । ব্রিটিশদের দুশ বছরের নির্মম অত্যাচারে, ইংরেজদের কৃত্তিম দুর্ভিক্ষের পর বিরাট ধনী জাতি থেকে যখন রাতারাতি গরীব হয়ে গেলাম আমরা তখন থেকেই আসলে আমাদের স্বভাব আর চরিত্র খারাপ হতে থাকে । কথায় আছে অভাবে স্বভাব নস্ট । আর যাদের স্বভাব একবার নস্ট হয় তখন অবস্থা ভাল হলেও স্বভাবটা থেকে যায় ।
 
ইতোমধ্যে আমার খালা ও মা সবাইকে বললেন কোন ধরনের মারধর না করতে, আর পুলিশকে ফোন করা হয়েছে । পুলিশ এসে চোরকে থানায় নিয়ে গেল । পুলিশের চোর নিধনে বর্থ্যতায় কেউ কেউ বললেন, আপনারা থাকতেও চুরি হয়, শান্তিতে কেউ ঘুমাতে পারে না । একজন পুলিশ অফিসার স্বগৌরবে বলে উঠলেন, দু একটারে চোখ উপরে দিয়ে পরে আমাদের ডাকবেন; দেখবেন চুরি বন্ধ হয়ে গেছে ।” আইন রক্ষাকারী একজন মানুষ যদি এ ধরনের উস্কানীমূলক কথা বলে তাহলে সে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সহজেই অনুমেয় ।
 
কিন্তু যারা দিব্যি কোটি টাকা চুরি করে যাচ্ছে তাদের তো কেউ কিছু করতে পারছে না বা করছেও না । ভয়ঙ্কর মানসিকতার এইসকল মানুষ গুলো আসলে দেখতে মানুষ হলেও এরা পশুর চাইতে অধম ।
এরা সুযোগ পেলে নির্মম হয়ে যায় আর অভাব না থাকলেও স্বভাবের কারণে সারাজীবন চুরি করতেই থাকে, তাই “কেউ অভাবে চোর আর কেউ স্বভাবে চোর” !
Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা সাকি বিল্লাহ্

জেগে উঠো হে বাঙ্গালী

-সাকি বিল্লাহ্

 

হে নির্বাসিত মন, অর্বাচিন বাঙ্গালী,

জেগে উঠো আজ ঘোর অমানিষায় জ্বেলে দ্বীপালী ।

হেয় করো সকল কুণ্ঠা আর জরা যত,

শক্তিতে হও আগুয়ান হটিয়ে হিংস্র পশু শত শত ।

 

কে বলে তুমি ধারক কোন বিশ্বাসের,

বলো চীরদিন ধরনীর বুকে বীরসন্তান এই দেশের ।

হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ অথবা খ্রিস্টান,

সকলে এক বাংলা বীরের জাত সন্তান ।

ধ্বংস করে যারা এই সৌর্হাদ্রপ্রিয় বাঙ্গালী জাত,

পিছু না হটে দাও ফিরিয়ে তারে সকল প্রতিঘাত ।

 

শতশত নদীর কলকল তাল,

ডাকে দেখো দূর সমুদ্রের ঢেউ উত্তাল ।

শান্ত নদী মোহনায় হয় মাতন্ড প্রায়,

শেষ হওয়ার আগে জানিয়ে শেষ অভিপ্রায় ।

এই বঙ্গদেশের সকল সম্ভার,

রোষানলে হয়েছে পিশাচ আর শকুনের ভাগার ।

বিবেকের দংসনে তাড়ায় মন সারাক্ষণ,

তাই, ক্ষয় হোক তবুও করে যাব দেশের কল্যাণ ।

 

সবুজের মাঝে লাল সূর্যের এই পতাকা,

শতকোটি মানুষের দিগ্বীজয়ী আলোক-বর্তীকা ।

তাই জেগে উঠো কালবৈশাখীর মত,

ছিন্নবিদীর্ণ করে দাও সকল পিশাচের অন্তর যত ।

ছিনিয়ে আনো এই লাল সবুজের নিশানা,

মুক্ত করে দাও সকল শিকলে বাঁধা বিহঙ্গনা ।

বীর বাঙ্গালীর সকল বীরত্বকথন,

জাগিয়ে ধরনী করো  চীর অমলিন । ।

 

Categories
অনলাইন প্রকাশনা ইতিহাস সাকি বিল্লাহ্

বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সম্ভারঃ পর্ব-১

— সাকি বিল্লাহ্

সতেরশ শতকের শুরুর দিকের কথা । ইংল্যান্ডে হঠাৎ করেই চা আর চিনির সংকট দেখা দিল । কিছু গবেষক ও বিজ্ঞানীরা বললেন মস্তিষ্ক সঞ্চালনের জন্য যে বিপুল শক্তির দরকার এবং তা সজীব রাখতে চিনি ও চা এর কোন বিকল্প নেই । বিষয়টা রাজা প্রথম জর্জ কে জানানো হলো । ডাচদের কাছ থেকে অনেক উচ্চদামে চা আর চিনি খরিদ করতে গিয়ে এদিকে রাজ কোষাগার খালি হবার যোগাড় । রাজা তাই সভাসদদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় বসলেন । সে আলোচনায় সবাই সম্মত হল ব্রিটিশ নাবিকদের কয়েকটা দল ইন্দোনেশিয়া, চীন, আমেরিকা ও ভারতবর্ষে চা ও চিনির জন্য সওদা করবে । এই নাবিকরা মূলত সওদাগর, এরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবসাবানিজ্য করার জন্যই মূলত বন্দরে বন্দরে জাহাজের নোঙ্গর ফেলে ।

ব্রিটিশ, ডাচ, পর্তুগীজ বা ওলন্দাজদের অনেক আগেই কিন্তু বাঙ্গালীরা নাবিক হিসেবে জাহাজে সমুদ্র চষে শেষ করেছে । নিজেদের ইতিহাসটা ভাল করে না জানলে যা হয় আর কি, আমাদের ভিতরই অনেকে মনে করে মীর জাফর আর লর্ডক্লাইভরা আমাদের জন্য আশীর্বাদ, সেই ইংরেজ দালাল লুটেরা বা আমাদের সম্পদ চোরা ব্রিটিশদের শেখানো ইতিহাসটাই এ সকল লোকেরা জনে জনে বলে বেড়াবে যে আমাদের সম্পদ নেই বা আমাদের কোন অতীত গৌরবান্বিত ইতিহাস নেই । মূল প্রসঙ্গে ফেরা যাক,
যা বলছিলাম, আমাদের নাবিক মালয়েশিয়া আর শ্রীলংকাতে ভ্রমন করেছে খ্রীস্টপূর্ব ৪০০ বছর পূর্বে তার মানে প্রায় ২৫০০ বছর আগে । ‘চট্টগ্রাম’ এই উপমহাদেশ সহ সমগ্র বিশ্বের মধ্যে অন্যতম একটি পুরাতন বন্দর ও মনুষ্যবসতির আবাসস্থল । প্রস্তর যুগ ও নব্য প্রস্তর যুগের কিছু নিদর্শনও পাওয়া গেছে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সে হিসাবে সভ্যতার আলো দেখা বাঙ্গালী জাতির ইতিহাস ১৫ হাজার বছরেরও বেশি ।
কৃষি, প্রাকৃতিক পরিবেশ, নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু, গ্যাস, তৈল, চুনাপাথর, কয়লা, কঠোর পরিশ্রমী মানুষ আমাদের অন্যতম সম্পদ । এছাড়াও আছে বৃহৎ উপসাগর, বৃহত্তম লোনা পানির বন সুন্দরবন, অন্যতম মিঠাপানির বন রাতারগুল, ৪৬৬ প্রজাতির পাখি, ৬৫০ এর অধিক প্রজাতির মাছ, ২৫০ প্রজাতির সরীসৃপ, কুমীর, হাতি, ময়ূর, ৪ প্রজাতির হরিণ, ৮৯ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী; সবই এখনও আছে শুধু আমাদের জানার আগ্রহটা কমে গেছে আর কপট দেশপ্রেমিকের সংখ্যাটা বেড়ে গেছে অনেকাংশে ।
এখনকার বাংলাদেশ উন্নত ও ধনী রাস্ট্র হতে হঠাৎ করেই তো আর গরীব ও অথর্ব দেশে নেমে আসেনি একদিনে । এই ভিনদেশী দিল্লীর মোঘল আগ্রাসন আর ইংরেজ দস্যুরাই মূলত আমাদের অধপতনের জন্য দায়ী । দেশটাকেও ৩ ভাগে বিভক্ত করে গেছে এই ব্রিটিশ আর জিন্নাহ-গান্ধীর দালালরা, না হলে আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, পূর্ববাংলা, আন্দামান ও নিকোবার দ্বীপ নিয়ে যে বিশাল বাংলাদেশ হত তা ভারত কিংবা পাকিস্তানের চাইতে অনেক শক্তিশালী একটা বাঙ্গালী জাতিতে বিশ্বে পরিচিত হত । ঐ যে বললাম নিজেদের ইতিহাস না জানলে যা হয় ।
ব্রিটিশরা ভারতবর্ষ বলতে তখন বাংলাদেশকেই বুঝত কারণ ভারতবর্ষের পুরাতন বন্দর চট্টগ্রাম ও কোলকাতায় তারা ব্যবসার জন্য আসতো । চা ও চিনির জন্য নাতিশীতোষ্ণ কৃষি প্রধান আবহাওয়া দরকার ছিল তাদের । চা ও চিনি, চীনারা সর্বপ্রথম উৎপাদন করেছে বলে ঐতিহাসিকগণের অনেকে মনে করেন । চীনাদের কাছ থেকে আফিমের বিনিময়ে চা কেনা যেত । আফিম উৎপাদনের জন্যও বাংলাদেশ তথা ভারতবর্ষ খুবই ভাল আবহাওয়া ছিল বা এখনও আছে ।
বাংলাদেশের প্রথম দুর্যোগ নেমে আসে দিল্লীর মুঘলদের আগ্রাসনে । মূলত মুঘল বাদশাদের হেয়ালীপনা এবং বাংলার প্রতি বিমাতাস্বরুপ আচড়নই প্রধানত দায়ী । দিল্লীর মুঘল বাদশারাই বাংলাদেশে ইংরেজদের অবাধে ব্যবসা ও সৈন্যদল তৈরীর অনুমতি দিয়েছিল । মুঘল বাদশা আওরঙ্গজেবের কন্যার আগুনে দগ্ধ হওয়ার চিকিৎসা করেছিলেন ইংরেজ ডাক্তার হোপওয়েল অত্যন্ত সফলতার সাথে । বিনিময়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী বাংলাতে অবাধে ব্যবসা করার অনুমতি পেয়ে যায়, একই বছর সুবেদার শায়েস্তা খানের সহযোগীতায় দিল্লীর বাদশার অনুমতি নিয়ে তারা নিজেদের গোলন্দাজবাহিনী ও সৈন্যঘাটি গড়ে তোলে । পরবর্তীতে অন্যান্য মুঘল সুবেদাররা ইংরেজদের পক্ষেই ছিল শুধু সিরাজ উদদোলা ও শায়েস্তা খান তাদের দূরভিসন্ধি বুঝতে পেরেছিল কিন্তু তাতে শায়েস্তা খান সফল হলেও সিরাজ উদদৌলা হতে পারেননি আমাদের দালালদের দরুন ।

পলাশীর যুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পক্ষে সৈন্য ছিল প্রায় ৬৩ হাজার আর ইংরেজদের পক্ষে ছিল মাত্র ২৭০০ সৈন্য যার ৩০০ ছিল ব্রিটিশ আর বাকি সব নেপালের ভাড়া করা সৈন্য । যেহেতু মীর জাফরের একাই প্রায় ৪৩ হাজার নিজস্ব সৈন্যছিল তাই তার বিস্বাসঘাতকতায় আমাদের ২০০ বছর ব্রিটিশদের অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছিল । ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ইতিহাসে তাই পাওয়া যায়, ইংরেজ লর্ড বলেছিলেন যে পরিমান মানুষ দাড়িয়ে পলাশীর যুদ্ধ দেখেছিল তারা যদি একটি করে পাথরও ছুড়ে মারতো তাহলে আমরা পরাজিত হয়ে যেতাম । ধারণারও বাহিরে যে ২১ গুন বেশি সৈন্য থাকা সত্ত্বেও আমরা হেরেছিলাম শুধু দালালদের জন্য । এই দালালচক্র ১৭৫৭, ১৮৫৭, ১৯৪৭, ১৯৫২, ১৯৬৫, ১৯৭১, ১৯৭৫, ১৯৯০, ২০০৯ কিংবা এখনও সক্রিয় আছে । এরা আসলে বাংলাদেশী কিনা সন্দেহ আছে আমার যারা নিজের দেশের ভাল না দেখে ভিনদেশীদের প্রভু মনে করে ।

যা বলছিলাম,
চা, চিনির উৎপাদনের পাশাপাশি ব্রিটিশরা আফিম, নীল উৎপাদন শুরু করে । নীল ও আফিম উৎপাদনে কৃষকদের উপর অত্যাচারের ইতিহাস জানা যায় দীনবন্ধু মিত্রের নীল দপর্ণ পড়ে । মসলিন, সূতি কিংবা সিল্ক কাপড়ও আমাদের অতীত সম্পদ ছিল । অনেকেই বলে থাকেন আমাদের সম্পদ নেই কারণ তারা হয়ত স্কুলে ইতিহাসের বইটা কখনও ছুঁয়েও দেখেননি বা পড়েছেন শুধু পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য ।

নবাব সিরাজ উদদৌলার অস্টম বংশ ধরকে বঙ্গবন্ধু পিডিবিতে বড় কর্মকর্তার পদবীতে চাকুরী দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছিলেন । উনার ছেলে নবাবের নবম বংশধর জনাব আরেব এর সাথে বেশ কয়েকবার কথা হয়েছিল বাংলাদেশের রাস্ট্রীয় সম্পদের বিষয়ে । ব্রিটিশরা যখন নবাবকে পরাজিত করে তখন বাংলাদেশের রাস্ট্রীয় কোষাগারে বিপুল পরিমান স্বর্ন, রৌপ্য, তাম্য মুদ্রাসহ বিপুল পরিমান হীরক, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য সম্পদে পূর্ণ প্রায় ২২টির অধিক সিন্দুক ছিল । উল্লেখ্য বাংলার বেশিরভাগ রাজা ও জমিদারগণ সৌখিণ ছিল তাই তাদের সম্পদ বলতে ছিল প্রধানত স্বর্ণালংকার ।
ইবনে বতুতা, গ্রীসের টলেমী বা চীনা পর্যটক ও ইতিহাসবিদদের ভ্রমন কাহিনীতে বাংলার বিশাল সম্পদ ভান্ডারের বর্ণনা আছে । আলেকজান্ডার যখন বাংলা আক্রমন করার পরিকল্পনা করছিল তখন আমাদের রাজার ছিল ২ লাখ পদাতিক সৈন্য, ২০ হাজার অশ্বারোহী ও ৫ হাজার হাতিবাহিনী । উপোরন্তু আমাদের পাল্টা আক্রমনে টিকতে না পেরে আলেকজান্ডারের বিশাল বাহিনী দুটি অংশে ছত্রভঙ্গ হয়ে হিমালয় ও সিল্করোড দিয়ে পলায়ন করে । তড়িঘড়ি করে পালানোর সময় তাদের সে সময়কার হারকিউলিস চিহ্নসমেত মুদ্রা ও ব্যবহার্য অনেক কিছুই যা তারা ফেলে গিয়েছিল তা গঙ্গা অববাহিকায় পাওয়া গিয়েছে । বাংলাদেশে যদি বিপুল সম্পদ নাইবা থাকতো তাহলে তো আলেকজান্ডার বা পর্তুগীজ, আরব, ব্রিটিশরা আমাদের দেশকে লুট করতে আসতো না ।

আলেকজান্ডারের ইতিহাসবিদ টলেমীর ম্যাপ ও বইয়ে বাংলাদেশকে উল্লেখ করা হয়েছে গঙ্গাঋদ্ধি বা গঙ্গাহৃদি হিসেবে । দিওদেরাস এর বইয়ে এই নামের অর্থ করা হয়েছে গঙ্গার সম্পদে ভরপুর যা বর্তমান বাংলাদেশ, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে বিস্তৃত ছিল ।
দৈনিক একটা দেশ কখন ২ লাখ সৈন্য আর ৫ হাজার হাতির ভরণপোষণ দিতে পারে যদি বিপুল ধন ও সম্পদে ভরপুর না হয় !
এখনকার জাপান, জার্মানী কিংবা দুবাই এর মত ধনী রাস্ট্রের চাইতে বাংলাদেশ সে সময়ে কোন অংশে কম ছিল বলে মনে হয় না ।
এখনও আমাদের সবকিছুই আছে শুধু নিজেদের মনোভাব উন্নত করতে হবে আর কপট দেশপ্রেমিকদের হাত হতে দেশকে রক্ষা করতে হবে ।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা

শান্তশিষ্ট বালক

–সাকি বিল্লাহ্

হে সকল শান্ত শিষ্ট বালক,
বালিকাদের চেয়ে এখনো তুমি ঢের নাবালক !
ডিজিটাল এই যুগের অবাস্তব জগতে,
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পরতে পরতে,
ফটোশপ আর ক্যামেরার কারসাজিতে,
কাককে বক আর ময়ূরকে দেখায় কাকতাড়ুয়াতে ।।

সুন্দরকে অসুন্দর আর অসুন্দরকে সুন্দর করে,
আমরাই দেখাই মহাবিশ্বের সকল বিস্মৃতিরে ।
সম্যক জ্ঞানে রুদ্ধ করি সব অযাচিত রাগ,
আর ভস্ম করি পুড়িয়ে শত ভাগ ।
তবু তার দ্বারে রহি পড়ে সজ্ঞানে,
শয়নে নিদ্রায় জাগি তার-ই স্মরণে;
কবে যেন কোথায় দেখেছিলাম হঠাৎ,
সেই থেকে কাল হল সকল বিস্বাদ ।

জ্ঞানের পিপাসায় কাতর মস্তিষ্কে,
দিয়েছি শুধু জ্ঞানালোক মর্ত্যকে;
শুধু দেইনি একফোটা প্রনয়ের জল,
হৃদয়ের শত আকুতিরে করে নিস্ফল ।
তবু সবের মুখে শুনি অবারিত বারি,
দিয়েছো যা, তোমারই কল্যাণে তা নিমগ্ন করি ।

হয়ত কোন এক পড়ন্ত সাঁঝবেলায়,
পাখিদের ডানা ক্লান্ত তবু ব্যস্ত পথচলায়;
ভোরের আলো পড়ে চোখের পাতায়,
হয়ত বা জাগাবে না আর তোমায় ।
তাই শান্ত হয়ে, ক্ষান্ত করে দাও সকল অশান্তরে,
প্রকাশ্য দিনালোকে এই সকল নীরেট অন্তরে ।
তুমি হবে মহাপুষ্পীর মান্যবর কোন এক,
তবু সকলের হৃদয় জয়ে তুমি রবে সম্যক ।
কেউ তো তবু বলবে ছিলে এক শান্তবালকে ,
জয় হবে সবার তরে এই মর্ত্যলোকে ।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা

শুনতে চাই না

শুনতে চাই না আমি কবিতা আর গান,

তোমার কণ্ঠে

দেখতে চাই না চাঁদ আর হাসি

তোমার মুখে

তুমি নর পশুর চাইতেও অধম

আমার মনে হচ্ছে

তুমি একটা ভয়ঙ্কর নর পিশাচিনী

তোমায় দেখতে চাই না ।

 

¯পর্শ চাই না শিশির বিন্দু মাখা

দূর্বা ঘাসের মত,

তোমার হাতের,

কারণ তোমার হাতের ¯পর্শে

আমি বিষাক্ত

তুমি বর্বর হায়েনা

কিংবা নরমাংশী পাকিস্তানী সেনা ।

 

তোমার সান্নিধ্য আমি চাই না

তুমি পাষণ্ড, অশিক্ষিত কুলাঙ্গার

তোমার কোন ভয়ঙ্কর রূপ

আমি দেখতে চাই না,

শুনতে চাই না আমি তোমার মুখ থেকে

“ভালোবাসি” শব্দটা

শুনতে চাই না..না….না….না ..।

তোমার সব কথাই আমি আজ

শুনতে চাই না,

কারণ তুমি রাক্ষুসী, অনেকটা

রাক্ষুসী নদীর মত

বুকের ভেতরের সব কুল ভেঙ্গে নিয়েছো তুমি ।

 

তোমার পুলকিত হওয়ার কোনো কারণ নেই

তোমায় ভালোবাসি না আমি

অভিশপ্ত কাউকে ভালোবাসা যায় না

আমি জানি ।

 

হিংস্র পশুর চাইতে অধম তুমি

আমি জানি

কারণ তোমার লোভ আকাশ সীমা পেরিয়েছে

অনেক আগে

অন্ধ হয়েছো তুমি লোভে

শত শত শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা যাচ্ছে না

তোমার সে লোভাতুর মনটাকে ।

 

বন্ধ কর সব পাখির গান কিচিরমিচির শব্দগুলো

শুনতে চাই না এসব , দেখতে চাইনা

তোমার অবয়ব

তোমার অবয়বে মনে পড়ে, কি নিদারুণ

কষ্টের অতীত

আহা ! সে কষ্টে আড়ষ্ঠ দিনগুলি

কত কষ্ট হয়েছিল আমার সে মুহূর্তগুলো

প্রতিটি সেকেন্ড পাড়ি দিতে

এক একটা সেকেন্ড

এর চাইতে ভালো হতো যদি কোনো

রাস্তার কুকুরকে ভালোবাসতাম

কোনো পাগলা কুকুরকে

সবাইকে কামড়ালেও আমাকে কামড়াতে দ্বিধা করতো

অথবা কোনো হায়েনাকে ভালোবাসতাম

ছিন্ন বিদীর্ণ করে আমাকে শেষ করলেও

ক্ষুধা মেটানোর পর

তার দুচোখ বেয়ে এক ফোঁটা

অশ্র“ ঝরতো অন্তত

কারণ সে ক্ষুধার তাড়নায় পশুত্ব গ্রহণ করেছিল

আর তুমি (হা..হা…হা..)

আমার ক্ষতের উপর বরঞ্চও

কিছু লবণ ছিটিয়ে দিতেও দ্বিধা বোধ করোনি ।

 

ভালোবাসার প্রতিদান শুধু ভালোবাসা জানতাম

কিন্তু তুমিই শেখালে প্রথম,

ভালোবাসার প্রতিদান ভালোবাসা নয়

কুৎসিত মনের প্রকাশ হল তোমার

চাঁদের মত তোমার মুখ আর

ভিতরকার তুমি,

কিছুতেই আমি মেলাতে পারছিলাম না

যাই হোক-

একটা পশুকে ভালোবাসলেও

সে বুঝতে পারতো আমার সে

অর্বুদ ভালোবাসা

 

কিন্তু আমি হতবাক হলাম

তোমার পশুর চাইতেও নিকৃষ্ট রূপ দেখে

হঠাৎ তুমি বদলে গেলে

বিচিত্র সে রূপ তোমার

আমার মনে পড়লে এখনও

আঁতকে উঠি

কি অদ্ভুত তোমার সে পরিবর্তন

তোমায় নিয়ে কবিতা লিখছি

ভেবোনা, এটা তোমার জন্য কবিতা,

হ্যাঁ এটা আমার জন্য কবিতা

সবার জন্য কবিতা শুধু

তোমার জন্য একটা দুঃস্বপ্ন বাণী,

 

তোমার ধ্বংসই এখন আমার কাম্য

আমি বলিনি ।

আমি তো তোমার মতো

বিবেকহীন কোনো যন্ত্রমানব নই

তবে তুমি যা করেছো তার শাস্তি

তুমিই পাবে, অন্য কেউ নয়

তোমার ছলনার নাটক এর সমাপ্তি

তোমার রক্তের হলি খেলাতেই

শেষকৃত্য হবে ।

 

ভেবো না , স্রষ্টা কারও প্রতি

অসম বিচার করেন না

তোমার শাস্তি তুমি পাবেই

শীঘ্রই পাবে ।

 

 

নতুন করে তোমার মুখে শুনতে চাই না

আমি সুমধুর ভালোবাসার ডাক

খুবই বিরক্ত লাগছে তোমার সে আকুলতা

বন্ধ কর এসব

নতুবা চিরতরে বন্ধ করে দেব তোমার বাকযন্ত্র,

 

তাই আমি আর শুনতে চাই না

না…না….না….

শুনতে চাই না, দেখতে চাই না

পর্শ চাই না

ভাবতে চাই না তোমায়,

এ কবিতাই তোমায় নিয়ে শেষ ভাবনা

তারপর ভাববো না আর কোন দিনও

তোমায় নিয়ে ।।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

আজ তোমাকে শাড়ীতে দেখেছি

আজ তোমাকে শাড়ীতে দেখেছি,
আর দহনে সিক্ত হয়ে নিজেই কিছুক্ষণ হেসেছি ।
হাতের চুড়ির শব্দে বা মিস্টি হাসির আড়াল,
কিভাবে পারো লুকাতে তোমার শত কস্টের বেড়াজাল ।
ঠোঁটের রংয়ে, বাঁকা হাসি আর চুলের কারুকাজ,
চোখের কাজলে মিশে একাকার সবখানি লাজ ।

সব ব্যাথা উপশম করে তোমার সুশ্রীবদনে,
তাই জড়াব্যধিতে পথ্য পাথেয় শুধু সে মুখ দর্শনে ।
খোঁপাতে তাই গুজে দেই এক শ্বেতশুভ্র ধুতুরা ফুল,
যাতে উৎসুকেরা জানুক তুমি বইছো আমার কুল !
ভুলের মাসুলে মাপিনি তো আমি তোমার ললাট,
তাই ভুলের সাগরে কুল হারা হয়ে খুঁজি চেনা সেই ঘাট ।
কত পথ পাড়ি দিলে বলো, কতটা কস্ট সইলে,
হব আমি তোমার প্রিয়দর্শন, হৃদয়ের মহাসাগর-এ ।

এ পথে তব হেটেছো অনেক, অনেক বেলা হয়েছে,
তাই পথের পাশে না হয় একটু জিরালে এই কুটির-এ ।
মান গেছে, ধান গেছে , বাকী ছিল সতত মননে,
সেটাও না হয় দিলাম সঁপে প্রেম-দেবীর মনোরঞ্জনে ।
কেউ কি ভাবে আমার মতন, এ জগতে আর কেহ?
জানি না তোমার ভাঙ্গবে কবে অহমিত এই মোহ !

অন্য সাজে জাগে না এতটা তুফান মনে,
শাড়ীতেই তাই ভাল লাগে, আবেগতাড়িত আখ্যানে ।
তাই পরতে পারো গোলাপী, বাসন্তী কিংবা নীল শাড়ী,
শুধু খোঁপাতে দিও সাদা ফুলের মঞ্জুরী ।
হাতে মেহেদী কিংবা পায়ে না হয় আলতা নাই দিলে,
তবুও জেনো, শাড়ীতেই তুমি অপ্সরী সাথে হাসতে পরো প্রান খুলে ।
আজ তোমাকে শাড়ীতে দেখে তাই হৃদয়ের সব ব্যথা ভুলি,
হৃদয় তোমার সিক্ত হোক নিয়ে ভালবাসার এ অঞ্জলি ।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা সাকি বিল্লাহ্ সৃজনশীল প্রকাশনা

একটি বটবৃক্ষের আত্মকাহিনী

নরেন্দ্র নারায়ণ যে জমিদার ছিলেন….

-হ্যাঁ তোমাকেই বলছি হে পথিক

আমি একজন বটগাছ

একটি বটগাছ নই, আমারও যে প্রাণ আছে

আছে ভালোবাসার অধিকার

শুধু আমি চলতে পারি না

আর সব কিছুই করতে পারি

তাই আমি একজন বটবৃক্ষ, “একটি নয়” ।

 

তুমি পথিক, কোথাও যাচ্ছ বুঝি ?

খুব ক্লান্ত মনে হচ্ছে তোমাকে

একটু জিরিয়ে নিতে পার

আমার সুশীতল ছায়ায়

এসো, কাছে এসে উঁচু শিকড়টায় হেলান দিয়ে বসো

আমি তোমাকে হাজারো পাতার

পাখায় বাতাস দিয়ে জুড়িয়ে দেব

যদি কিঞ্চিৎ সময় থাকে তাহলে

দু-তিনটে কথা বলতে চাই তোমার সাথে

জানি তুমি ব্যস্ত,

গাছেদের কথা শোনার সময় কোথায় তোমার

মানুষ বড়ই ব্যস্ত, তার জাতি ভাইদের

কথা শোনবার সময় নেই এক বিরাম ।

 

 

একি ঘুমিয়ে পড়লে দেখি

ঠিক আছে, তুমি ঘুমিয়ে থাক

আমি নিরবিচ্ছিন্ন পাতার পাখায়

তোমাকে সুশীতল বাতাসে শীতল করে তুলি আর

তোমার স্বপ্ন ঘোরে এসে

দু-চারটে কথা বলে মনের ভিতরের কষ্টগুলো ভাগ করে নিবো,

 

হ্যাঁ যা বলছিলাম

নরেন্দ্র নারায়ণ, তিনি ছিলেন একজন জমিদার

এ অঞ্চলের সবচাইতে প্রভাবশালী

ইতিহাসে পাবে কিনা জানি না

তা প্রায় ৫০০ বছর তো হবেই

ঠিক ৫০০ বছর পূর্বেকার কথা

আমার ঠিক মনে আছে

গাছেরা কোন কিছু ভুলতে পারে না

এই তো সেদিন

সকালে জমিদার বাবু এ পথ দিয়ে হেঁটে যেতেন আর

হাত বুলিয়ে দিতেন আমার গায়ে পরম আদরে

আমার তখন শৈশব,

 

হা……হা…..

কি বললে ? আমার বয়স কত ?

আমার বয়স আসলে কত হবে

সঠিক বলতে পারবো না

তবে আমার মগডালে বসে থাকা শুকুনীর চাইতেও ঢের বেশি

তোমার দাদার দাদাও আমাকে ঠিক এরকমই দেখেছে

ঠিক এখন যেমন আছি,

মহাকালের সাক্ষী বলতে পারো

তবে অনুমান করে বলতে পারি

আমার বয়স ৬০০ বছর পেরিয়েছে অনেক আগেই ।

 

পথিক, তুমি বিরক্ত হচ্ছ না তো ?

অবশ্য বিরক্ত হওয়ারই কথা

তুমি শান্তিতে ঘুমুচ্ছো আর

আমি বকবক করে তোমার ঘুমকে হালকা করে দিচ্ছি

কি? সমস্যা নেই , শুনতে চাচ্ছ আমার ইতিহাস

তাহলে শোন, সন্ধ্যা হওয়ার আগেই

তোমাকে ডেকে দেব আমি, ভেবো না ।

 

শত শত বছরে আমি শুধু মানুষকে দিয়েছি

আর কত কি যে দেখেছি এ পোড়া চোখে,

 

অভাব আর অত্যাচারিত হয়ে

আÍহত্যা করেছিল জয়নাব

তাও দেখতে হয়েছিল আর

না দেখে কি উপায় ছিল বল

আমারই ডালে দড়ি ঝুলিয়ে

আÍহত্যা করেছিল

স্বামীটা তার এত পাষণ্ড ছিল যে

সরলা রূপবতী মেয়েটাকে

যৌতুকের জন্য বেধড়ক মারধর করতো

চোখের সামনে ছটফট করতে করতে

শেষ নিশ্বাস বাতাসে মিলিয়ে গেল

 

আমি তার পাশে থেকেও বাঁচাতে পারলাম না,

(দীর্ঘশ্বাস……)

শুধুমাত্র কালের সাক্ষী হয়ে থাকলাম ।

 

এই তো সেদিন, ৭১ এর সময়

মুক্তিযোদ্ধা কিছু তরুণ

আমার এ গুড়ির পেছনে আশ্রয় নিয়েছিল

পাক সেনাদের সাথে তাদের সামনাসামনি যুদ্ধ হয়

রমিজ উদ্দিন নামে একজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়

তার বুকে এসে গুলি লাগে,

পাক বাহিনী পরাজিত হয় ঠিকই

কিন্তু রমিজ শহীদ হয়

তার কলকল করে রক্ত পরা আমি

বন্ধ করতে পারিনি

শুধু পাতার আর গুড়ির আশ্রয় দিয়েছি মাত্র

পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা আরজ আলীর পা আর ফেরত দিতে পারিনি

কি পেয়েছে এই মুক্তিযোদ্ধারা তোমাদের কাছে ?

এখনও মাঝে মাঝে আরজ আলী আমার শরীরে

পরম আদরে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে

অতীত স্মরণ করে দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে

তার সেই দীর্ঘ নিশ্বাস আমার হৃদয়কে

ক্ষতবিক্ষত করে..

বিশ্বাস করছো না ?

এই দেখ আমার শরীরে এখনও বুলেটের চিহ্ন বর্তমান

কি, এখন বিশ্বাস হল তো

আমরা গাছ, গাছেরা কখনও মিথ্যা বলে না ।

 

কত রাখাল এসে এখানে গরু চড়ায়

কত পাখি এসে গান গায়

কত শিশুরা এসে খেলা করে

আমি শুধু তাদের আশ্রয় দেই

দেই ছায়া আর ভালোবাসা

মানুষের দুঃখ দেখে ব্যথিত হই

মানুষের সুখ দেখে আনন্দিত হই

কালবৈশাখীর ঝড়ে সে বছর অনেক মানুষ মারা গেল

তোমরা তার নাম দিলে সিডর

 

হাজার ঘরবাড়ি ধ্বংস হল

অনেক মানুষ মারা গেল

অনেক গাছও মারা গেল

আমি কোনরকমে বেঁচে ছিলাম

কিন্তু আমার দুটি ডাল ভেঙ্গে গেল

এই যে দেখ এখনও তার ক্ষত আছে

মানুষদের আমার খুব ভালো লাগে

কারণ এত ঝড়ের পরেও

তারা আবার বাঁচার স্বপ্ন দেখে

নতুন করে ঘর বাঁধে ।

 

কিন্তু মানুষ অনেক স্বার্থপর

তোমাদের এত উপকার করেও

কোন প্রতিদান পাইনি

বরং এখন আমাকে আগুনে পোড়ানো বাকি

হ্যাঁ সত্যিই বলছি

সামনের সপ্তাহে হয়ত আমাকে কেটে ফেলা হবে

কেটে টুকরো টুকরো করে ইটের ভাটায় পোড়ানো হবে

আমিও সেদিনের অপেক্ষায় আছি, ভাবলাম

তোমাদের মাঝে বেঁচে কি লাভ ?

এত উপকার করেও যখন তোমাদের মন যোগাতে পারলাম না

তখন আর হিংস্র স্বার্থপর পৃথিবীতে বেঁচে থেকে লাভ কি, বল ?

 

একি উঠে পড়লে যে,

ঘুম ভেঙ্গে গেল সন্ধ্যার আযানে

আজ চলে গেলেও আরেক দিন এসো

বাকি গল্পটুকু শোনাবো

যদি ততদিনে আমাকে কেটে ইটের ভাটায় পোড়ানো না হয়

শীঘ্রই এসো, ৬০০ বছরের ইতিহাস তো আর

ঘন্টা খানেকে শেষ হবে না

একদিন সময় নিয়ে এসো

তবে শীঘ্রই,

ঐ শানিত কুঠার আমার বুক চিরে ফেলার আগেই।

 

বিদায় পথিক, বিদায়  ।।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা

এপাড় ওপাড়

সাকি বিল্লাহ্

 

আমাকে একটু ওপাড়ে পাঠাতে পারবে, ওপাড়ে,

যেখান থেকে কেউ কখনো না ফিরে,

লম্বা ছুটি, নিরন্তর অবকাশ,

ধ্র“ব সত্য, অদৃশ্য নীল আকাশ ।

 

মাঝি নিশ্চুপ, বৈঠা হাতে এপারে,

তুমি বড়ই দুখী, যদি চাও চলো ওপাড়ে ।

 

হাতের প্রদীপ আমার নিভু নিভু করে, ক্ষণে,

ঝিরি ঝিরি বাতাসে, আর শেষবিন্দু কেরোসিনে,

সলতে পুড়ে পুড়ে শেষ হচ্ছে আমার,

সময় ঘনিয়ে আসছে ওপাড়ে যাবার ।

 

তবুও মাঝি নিশ্চুপ, বৈঠা চলছে না,

থেমে থেমে ঝিঁ ঝিঁঁ’র নিরলস বন্দনা ।

নিকষ কালো অন্ধকার রাতে,

দাড়িয়ে থেকে থেকে পায়ে খিল লেগেছে তাতে ।

 

বিদায় বেলায়, স্বজনের মেলায়,

ভেসে যাচ্ছি অজানার ভেলায় ।

তবুও মাঝি বলছে না কিছুই,

“তোমার সময় শেষে জানবে সবই” ।

 

হঠাৎ বুকের পাঁজরে লাগল কি যেনো,

ভয়ঙ্কর শীতল, শূন্যতায় ভরা অনুভূতি এক কোনো

মুহূর্তে সব ওলট পালট লাগছে আমার,

মৃত্যু ভয়ে জর্জরিত সারা শরীর

শিশু থেকে মৃত্যু অবধি যত কিছু আছে,

চিত্রিত সব কল্পনা আমার কাছে

রং তুলির ছবির মত কত কি যে,

সারাটা জীবন, দৃশ্যপটে, আঁকছে কেউ নিজে ।

 

বুকের সে ব্যথা অনুভূত হচ্ছে না আর,

মাঝি নীরবতা ভেঙ্গে “সময় হয়েছে যাবার”

যাবার জন্য ব্যকুল ছিল হৃদয়,

সমন শুনে মনটা যেন কাঁদে সে যন্ত্রণায় ।

 

কলমের কালি শেষ হলে যখন তাই,

ছুড়ে ফেলে দেয় দুরে সবাই

আমার সে পাড়ে, এমনই কি ছিলো?

আমাকে নয়, আমার সম্পদকে বাসতো ভালো?

আমি এখন মহাকালের ঊর্ধ্বে,

মহাবিশ্বের মহাকালের সান্নিধ্যে ।

 

মাঝি: “তোমার যাবার অনুমতি মিলেছে”

স্রস্টা কিছু চাইছেন তোমার কাছে

আমি অবুঝ দৃষ্টিতে তাকিয়ে,

অন্তরের সব মরুভূমি হচ্ছে শুকিয়ে ।

কেউ কিছুই বলছে না আমাকে,

কিছুই তো নেই, যে, দেখাব স্রস্টাকে

হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা ছাড়া আর,

সাথে তাকে দেখাব কিছুই নেই আমার ।

 

সত্যের পথে, অজানাকে জানতে,

পাড়ি দিয়েছি সারা জীবন øাতে

আমাকে যেতে দাও ওপাড়ে,

ভিড়তে দাও সকল রহস্যের দ্বারে

আমার যাবার অনুমতি নাকি মিলেছে,

তুমিই তো মাঝি পথ চিনেছো ।

 

মাঝি: “আমি আর বেয়ে যেতে পারছিনা,

দুহাত আমার অবশ কোনো পাখির ডানা”

কিন্তু, তুমি তো আদেশ প্রাপ্তা,

তুমি ছাড়া আমার অজানা রাস্তা,

 

মাঝি, তুমি কি শুনতে পাচ্ছ?

আমাকে মাঝ পথে রেখে কোথায় যাচ্ছ?

 

আমি এখন মধ্য পথে,

ভাসমান এক কাল্পনিক রথে

আমি একা, বড় একা, সেই রথে,

কেউ টানছে এপারে কেউ ওপারের পথে

স্রস্টা আর মানুষের ভালোবাসার –

টানাটানি পড়েছে, আমি কার?

তাই আমি এখন মধ্যিখানে,

আমার ইচ্ছায় যেতে পারি, এখানে বা ওখানে ।

 

যখন মানুষের ভালোবাসা শেষ হবে,

অফুরন্ত ভালোবাসা স্রস্টার পড়ে রবে

আমি তখন পাড়ি দেবো উন্মুক্ত ভেলায়,

ভালোবাসি বলে, “হে স্রস্টা তোমায়” ।

 

মঙ্গল তব মঙ্গল হোক হে সৃজিত সৃষ্টি,

মরণ যেন যবনিকা ধারা, সীমাবদ্ধতার কৃষ্টি,

তাই উজাড় করো মনটা তোমার ঊর্ধ্ব করো দৃষ্টি,

মানুষের উপকারে ঝরাও তোমার ভালোবাসার বৃষ্টি।।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা সাকি বিল্লাহ্

মন্ত্রজালে

মন্ত্রজালে
সাকি বিল্লাহ্

শ্যামনগরের রাজপুত্র মাহাতাপ সিং
রাজকর্ম বাদ দিয়া বাউন্ডুলে কাটিত দিন ।
রাজ্য ও সিংহাসন নিয়া তাই রাজা প্রতাপ,
দুঃশ্চিন্তায় ব্যথিত সারাদিন বিলাপ ।

নদীর ধারে বসিয়া ক্ষণকালে মাহাতাপ,
মনোযোগে পশুপাখি মৎস্য হত্যায় মহাপাপ ।
এ কাজে তাহার বাধা হইল এক দরবেশ,
কহিল বাছা, অকারনে কেন ধ্বংসের রেশ?
রাজপুত্রকে কেহ প্রশ্নের ধৃস্টতায়,
সাহস তাহার বড়ই চমক বরদাস্ত করে প্রায় ।

তুমি মূর্খ দরবেশ ! জীবন সুখের পেয়ালা,
তুমি কিভাবে জানিবে কিসে সুখ এই বেলা !
মাহাতাপ তাহার ক্রোধখানি ছুড়ে ধনুকের বানে,
দরবেশ নিপাট বিশ্মিত ঠায়, দাড়ায়ে চাহি তারপানে ।
“ঠিক আছে তবে, তুমি হয়ে যাও এক মৎস্য রুহিত”,
দরবেশ অভিশাপ যাচে, “কর তাহলে এ প্রায়ঃশ্চিত” ।
“আজ থেকে তুমি এক মৎস্য রুহিত এ নদীর কুলায়,
কেহ যদি ভালবাসিয়া তুলে নেয় আপন আলয়,
তথা মৎস্য হইতে মনুষ্য হইবে আবার,
না পারিবে কোন রুহিত ভোজনে আর” ।

অভিশাপে রাজপুত্র নদীর জলে মৎস্য রুপে,
বিচক্ষণ অভাবে জীবন ধ্বংস মহাপাপে ।
দিন যায়, মাস যায়, কেহ না আসে তীরে,
মৎস্য হয়েই জীবন কাটে আহারে !

শুভক্ষণে রাজকন্যা মায়াবতী স্নানে আসে সখীসহ,
বাক জানা মৎস্য দেখে জাগে প্রেমের মোহ ।
জানে, সে এক রাজপুত্র, রইনু পড়ে হয়ে মৎস্য,
নিগাঢ় ভালোবাসা-ই পারে ফিরে যেতে রুপে মনুষ্য ।
প্রণয়ে মাছের জীবন ত্যাগে হয় মনুষ্য আবার,
মায়াবতী মাহাতাপ শুভপরিণয়ে জীবন কাটে এবার ।

কিন্তু সে কথা, মনে থাকে, মৎস্য ভোজনে,
ফিরিয়া পাইবে মৎস্যরুপ পূর্ণ জীবনে ।
মায়াবতী ভুলিলেও মাহাতাপ নাহি ভোলে,
তাই কোন ভোজনে মাছ তাহার পাতে নাহি তোলে ।

একদা এক মধ্যভোজনে মহা-মস্ত আয়োজন,
রাজকন্যা নিজ হাতে করিল রুহিত মাছের রন্ধন ।
ভুলিয়া সে রাজপুত্রকে অনুযোগে বলে বিশ্ময়,
সব রাখিয়া মাছখানা দেখ কেমন স্বাদময় !
মাহাতাপ বলে, “তুমি জানো মৎস্যকূলেরা জাতি ভাই,
আমার পরিনতি ভাইয়ের মাংস ভক্ষণে যাচাই ?” ।
হাসিয়া মায়াবতী, রুপ কথার গল্প না বিশাসে,
বলে, “তুমি মানুষ কিভাবে রুপবদলাও মৎস্য গ্রাসে” ।
এত কস্ট করিয়া রাঁধিলাম এই হল তার উপহাস,
কাঁদিয়া ভাসাইল অভিমানী রাজকন্যা করে উপ-বাস ।

রাজকন্যার মন করিতে খুশি রাজপুত্র মাহাতাপ,
পাতে একখানা রুহিত মাছ মনে বিশদ পরিতাপ ।
জাতি ভাইয়ের মাংস ভক্ষণে দ্বিধা সংকোচ মনে,
নিশ্বাস বন্ধ হইয়া আসে তাহার এক লোকমা ঘ্রানে ।
ছুটিয়া চলে উদ্ভ্রান্তের ন্যায় সেই নদীর তীরে,
পিছনে তাহার প্রিয়তমা আসে ডাকিয়া স্বমস্বরে ।

ভালোবাসার পরীক্ষায় তব পাশ করিলে,
বুকের জ্বালা নিবারনে প্রাণ বাঁচে তার নদীর জলে ।
নদীর বক্ষে রাজপুত্র হয় মৎস্য আবার,
এ জীবন মৎস্য হয়েই থাকবে পড়ে তাহার ।

সকাল থেকে সন্ধ্যা নাওয়া খাওয়া নিবারনে,
মায়াবতী বসে থাকে রুহিত মাছের প্রয়াণে ।
এ জগতে হায়, ভালোবাসার আড়ালে,
নারীদের ছলনা এক অভিলাষী মন্দ্রজালে ।।

০৭.০৬.২০১৭
৫:৩০ ঘটিকা সকাল, কেমনিট্জ, জার্মাানী ।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা আত্ম উন্নয়ন ইসলামধর্মীয় খ্রীষ্টধর্মীয় গবেষণামূলক প্রকাশনা ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতা বৌদ্ধধর্মীয় হিন্দুধর্মীয়

আমাদের ধর্ম ও সৌহার্দতা

— সাকি বিল্লাহ্

 

ইদানিং কালে একটা ব্যাপার লক্ষ্যনীয়, কিছু অতি উচ্চমর্গীয় বা উচ্চবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ বলছে, জীব হত্যা বা ভক্ষণ করা যাবে না, গো হত্যা বন্ধ করতে হবে ইত্যাদি । যারা বলেন তারা জীব হত্যার বিপক্ষে অথবা নিরামিষভোজী বলা যেতে পারে ।

ভাল কথা ।

তবে বিষয়টা নিয়ে বাংলাদেশী বিজ্ঞানী (আমাদের গৌরব) জগদীশ চন্দ্র বসু স্যারের কথা মনে পড়ে গেল । গাছের প্রাণ আছে এবং তারাও মানুষ বা অন্যান্য প্রাণীর মত সকল জৈবিক কাজ করতে পারে এটা তিনি-ই প্রথম প্রমাণ করেছেন । বলা বাহুল্য তিনি একজন হিন্দু (বেদান্ত) ছিলেন ।

 

ডা. জাকির নায়েকের মত তাহলে বলতে হয় গাছের তো প্রাণ আছে তাহলে তাদেরও তো খাওয়া যাবে না । মনুষ্য জাতি তাহলে কি খাবে? বরং জীব হত্যার চাইতে গাছ হত্যা আরো বেশি শাস্তিযোগ্য অপরাধ । জীবের চাইতে গাছ বেশি কস্ট সহ্য করে যেমন, সে কথা বা শব্দ অথবা নড়াচড়া করতে পারে না, ধরুন আপনার দুইজন ভাই আছে, একজনের শারীরিক কোন সমস্যা নাই আর অন্য জনের শরীর পক্ষাঘাতগ্রস্ত বা বিকলাঙ্গ, কথা বলতে পারে না, চলতে পারে না, খাবার দিতে হয় সেলাইনের মাধ্যমে, কানে শোনে না; এই দুই ভাই এর ভিতর যদি সুস্থ ভাইকে কোন খুনী হত্যা করে তাহলে আপনি যতটুকু কষ্ট পাবেন তার চাইতে অসুস্থ বোবা ভাইকে হত্যা করলে অনেক বেশি কষ্ট পাবেন এটাই স্বাভাবিক বরং আদালতে গিয়ে আপনি বিচারকের কাছে বলবেন, আমার অসহায় প্রতিবন্ধী ভাইকে বিনা কারনে হত্যা করা হয়েছে তাই এর দৃস্টান্ত মূলক শাস্তি চাই ।

 

গাছের বেলায়ও তাই, পশু হত্যার চাইতে গাছ হত্যা করা আরো বড় অপরাধ(নিরামিষভোজীদের মতে যেহেতু জীব হত্যা পাপ) । তাহলে জীবন রক্ষার জন্য আমরা জীব হত্যা করবো নাকি গাছ হত্যা করবো সেটা একটা বিবেচ্য বিষয় ।

 

জ্ঞানীরা চুপ থাকে আর মূর্খরা তর্ক করে ।

বাঘ কখনও ঘাস বা লতাপাতা খেয়ে জীবন ধারণ করতে পারবে না, অন্যদিকে হরিণ তৃনভোজী প্রাণী । বাঘকে বেঁচে থাকতে হলে মাংস খেতে হবে আর হরিণ খাবে তৃণজাতীয় উদ্ভিদ এটাই প্রাকৃতিক নিয়ম । তেলাপোকা সর্বভূক প্রাণী মানে সে সব কিছু খেতে পারে অনেকটা মানুষের মত । যেসকল প্রাণী সব কিছু খেতে পারে তাদের পৃথিবীতে টিকে থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে ।

ছোটবেলায় বই পুস্তকে সবাই পড়েছেন খাদ্য শৃঙ্খল বা খাদ্য চক্র । কে কাকে খাবে সেটা প্রাকৃতিক ভাবে নিয়ন্ত্রিত আরো স্পষ্টভাবে বলতে গেলে স্রস্টার দ্বারা নির্ধারিত ।

 

স্রস্টা যদি বাঘের উপর সুবিচার করে তাহলে হরিণকে জীবন দিয়ে বাঘের ক্ষুধা তথা জীবন বাঁচাতে হবে আর যদি হরিণের উপর দয়া করে তাহলে হরিণের জীবন বাঁচে কিন্তু বাঘের জীবন বিপন্ন হবে । তাই স্রস্টা একটি খাদ্যচক্র তৈরী করে দিয়েছেন আর সে চক্রে মানুষও একটি জীব । সে মাংশ খাবে অথবা গাছ খাবে এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার বা ধর্মীয় ব্যাপার । তবে বিজ্ঞানীদের মতে মানুষের বুদ্ধির বিকাশ হয় আগুনে ঝলসে যাওয়া মাংস খাওয়ার পর থেকে । মাংসে বেশ কিছু ভিটামিন ও অন্যান্য উপকারী উপদান আছে যেগুলো উদ্ভিদ থেকে পাওয়া যায় না, যেমন ভিটামিন বি-১২, ক্রিয়েটিন, কারনোসাইন, ওমেগা-৩( DHA & EPA), বিশেষ কিছু এমাইনো এসিড(প্রোটিন) ইত্যাদি ।

অনেক সময় নিরামিষভোজীদের শরীরে উপরোক্ত খাদ্য উপাদানগুলোর অভাব দেখা দেয় আর তখন তারা স্বরনাপন্ন হয় ডাক্তারের কাছে, ডাক্তার তাদের কৃত্তিম যে ভিটামিন বা খনিজ উপাদানের বড়ি বা ট্যাবলেট দিয়ে থাকে তা আসলে তৈরী হয় এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার গাঁজন প্রক্রিয়ায় আর কিছু আসে মাছ ও পশু থেকে । আর এই ভিটামিন বড়ি গুলো তৈরী করা হয় বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান দ্বারা; যেহেতু আপনার মস্তিষ্ক ও শরীর ঠিক রাখতে হলে এই ভিটামিন গুলো প্রয়োজন, তাই হয় সরাসরি প্রাণীর মাংস খেয়ে বা কৃত্তিম ভিটামিন খেয়ে (যা ব্যাকটেরিয়া ও প্রাণী হতে আসে) আপনাকে সুস্থ থাকতে হবে । যদি কৃত্তিম ভিটামিন বড়ি খান তাহলে ক্যানসার, কিডনির সমস্যা, স্নায়ুবিক দুর্বলতাসহ নানা ধরনের প্রদাহ দেখা দিতে বাধ্য । আবার উভয় ক্ষেত্রেই কিন্তু পশু হত্যা হচ্ছে ।

 

মূল প্রসঙ্গে ফেরা যাক, কে কি খাবে না খাবে এটা যার যার ব্যাক্তিগত বিষয় তবে অন্যেরা কি খাবে না খাবে তা নিয়েও হাস্যকর কাজ বা মন্তব্য করা উচিত নয় ।

 

হাজার বছর ধরে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানদের নিয়ে একসাথে বসবাস করা আমাদের এই বাংলাদেশ আর বাঙ্গালী সংস্কৃতি ।

এখানে কিছু কুচক্রী ধর্মীয় সৌহার্দ নস্ট করার অপচেস্টা করছে, আমাদের উচিত ঐসকল মানুষদের এড়িয়ে চলা । ১৯৪৭ সনে যখন দেশ ভাগ হয় তখন, পাকিস্তানী ও ভারতীয় কিছু স্বার্থাণ্বেষী রাজনীতিবিদ আমাদের দেশটাকে চিরে টুকরো টুকরো করে দিয়েছিল ধর্মীয় দাঙ্গা লাগিয়ে । হাজার হাজার বছরের বাংলাদেশকে, ছিন্নভিন্ন করে দেয়া হল । সেভেন সিস্টার নামে যে অংশগুলো বাংলার সাথে ছিল সেগুলো সমেত যদি দেশ হয় তাহলে তা পাকিস্তান কিংবা ভারতের চাইতে আকারে অনেক বড় হয়ে যায় তাই ব্যাপারটা গান্ধী কিংবা জিন্নাহ কেউই মেনে নিতে পারেনি । শেরে বাংলা অবিভক্ত বাংলাদেশ এর কথা উপস্থাপন করলেও তা ধোপে টেকেনি ।

 

ভারতে কিছুদিন পর পরই হিন্দু মুসলিম দাঙ্গায় নিরীহ মানুষ প্রাণ হারায় । দুস্ট রাজনীতিবিদদের হিংসাকে চরিতার্থ করতে ধর্মযুদ্ধ একটি হাতিয়ার মাত্র ।

বাংলাদেশে সকল ধর্মের মানুষ একসাথে কোন ধরনের সমস্যা ছাড়াই ভালভাবে থাকছে, চাকুরী করছে, ব্যাবসা করছে এটা কিছু হিংসুকের বিশেষত প্রতিবেশী দেশগুলোর সহ্য হচ্ছে না । আমাদের কিছু দালালদের মাথা কিনে তাদের দিয়ে দেশের মানুষের ভাই ভাই সম্পর্ক নস্ট করার অপচেস্টা চালানো হচ্ছে । সে অপচেস্টাকে কিছুতেই সমর্থন করা যায় না ।

বাংলাদেশের মানুষ শান্তি প্রিয় এবং সকল ধর্মের মানুষ আমরা সবাই বাংলাদেশী এটাই হোক আমাদের প্রথম পরিচয় । আর সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, যার যার ধর্ম তার তার কাছে । নিজের ধর্মকে সবাই বড় মনে করে তাতে দোষের কিছু না কিন্তু অন্যের ধর্মকে ছোট করা ক্ষমাহীন অপরাধ ।

যে অন্যের ধর্মকে শ্রদ্ধা করতে জানে না সে নিজের ধর্মকেও শ্রদ্ধা করতে শেখেনি ।

 

তাই সকল ধর্মের বাঙ্গালীদের বলছি, অন্যের ধর্মকে শ্রদ্ধা করুন তাহলে সে বা তারাও আপনার ধর্মকে শ্রদ্ধা করতে শিখবে আর মনুষ্যরূপী শয়তান হতে সাবধান থাকবেন যারা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করে কারণ ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করা হয়েছে প্রায় সকল ধর্মেই । ইসলাম ধর্মেও আছে তোমরা কখনও ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না বা অবিশ্বাসীদের সাথে কুতর্কে লিপ্ত হইও না ।

 

পরিশেষে কোরআ’নের আলোকে ধর্ম ও আমাদের সৌহার্দতা নিয়ে কিছু আয়াত উপস্থাপন করছি যাতে বিষয়টা আরো সুস্পস্ট হয়ঃ

সূরা আল বাক্বারাহ এর ২৫৬ নাম্বার আয়াতে উল্লেখ আছে,

“দ্বীনের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি বা বাধ্য-বাধকতা নেই। নিঃসন্দেহে হেদায়াত গোমরাহী থেকে পৃথক হয়ে গেছে। এখন যারা গোমরাহকারী ‘তাগুত’দেরকে মানবে না এবং আল্লাহ‘তে বিশ্বাস স্থাপন করবে, সে ধারণ করে নিয়েছে সুদৃঢ় হাতল যা ভাংবার নয় । আর আল্লাহ সবই শুনেন এবং জানেন।” ।

এ ছাড়াও কোরআ’নের বিভিন্ন আয়াতে উল্লেখ আছে,

“আহবান করো সকলকে তোমার বিধাতা প্রতিপালকের পথে- পান্ডিত্যপূর্ণ সুন্দরতম বাগ্মীতার সাথে। আর যুক্তি প্রমাণ দিয়ে আলোচনা করো তাদের সাথে এমনভাবে, যা সর্বোত্তম (এবং সে আহবান হতে হবে এমন হৃদ্যতাপূর্ণ যেন কোন পাষাণ হৃদয়ের কাছেও তা গ্রহণযোগ্য হয়)।” আল কুর’আন (১৬:১২৫)

“…যারা ধর্ম সম্পর্কে নানা মতের সৃষ্টি করেছে ও বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে তাদের কোন কাজের দায়িত্ব তোমার নেই, তাদের বিষয় আল্লাহর এখতিয়ারভুক্ত।…” –আল কোরআন (সুরা আনআমঃ১৫৯)

“…হে কিতাবিগণ! তোমরা তোমাদের ধর্ম নিয়ে অন্যায় ভাবে বাড়াবাড়ি করোনা…” –আল কোরআন (সুরা মায়িদাঃ৭৭)

“…(ধর্ম সম্পর্কে) বিদ্রূপকারীদের বিরুদ্ধে আমিই (আল্লাহ) আপনার জন্য
যথেষ্ট…” –আল কোরআন (সুরা হিজরঃ৯৫)

“…যদি তারা আত্মসমর্পণ (আল্লাহর কাছে) করে তবে নিশ্চয়ই তারা পথ পাবে। আর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তোমার কাজ তো কেবল প্রচার করা। আল্লাহর দৃষ্টিতে রয়েছে সকল বান্দা।”–আল কোরআন
(সুরা আল ইমরানঃ২০)

“…তারপর ওরা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তোমার কর্তব্য তো শুধুমাত্র স্পষ্ট বাণী পৌঁছে দেয়া…”–আল কোরআন (সুরা নাহলঃ৮২)

“…তুমি মানুষকে হিকমত ও সৎ উপদেশ দিয়ে তোমার প্রতিপালকের (আল্লাহর)পথে ডাক এবং তাদের সাথে ভালভাবে আলোচনা কর। তাঁর (আল্লাহর) পথ ছেড়ে যে বিপথে যায় তার সম্পর্কে আল্লাহ্ই ভাল জানেন, আর যে সৎ পথে আছে তা-ও তিনিই ভাল করে জানেন”
– আল কোরআন (সুরা নাহলঃ১২৫)

“…তোমাদের কাজ তো কেবল প্রচার করা, আর হিসাব-নিকাশ তো আমার কাজ…” –আল কোরআন (সুরা রাদঃ৪০)

“…আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য এবাদতের নিয়ম কানুন নির্ধারিত করে দিয়েছি যা ওরা পালন করে… তুমি ওদেরকে তোমার প্রতিপালকের দিকে ডাক… ওরা যদি তোমার সাথে তর্ক করে তবে বল, ‘তোমরা যা কর সে সম্পর্কে আল্লাহ্ ভাল করেই জানেন। তোমরা যে বিষয়ে মতভেদ করছ আল্লাহ্ কিয়ামতের দিন সে বিষয়ে তোমাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেবেন…” –আল কোরআন (সুরা হজঃ৬৭-৬৯)

 

সুতরাং দেখা যাচ্ছে, কোরআ’নে কঠোরভাবে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং কাউকে ইসলাম সম্পর্কে বোঝাতে হলে বিনয়ী হতে বলা হয়েছে । যদি কেউ ইসলামকে বিদ্রুপ করে, বিমুখ হয় বা কেউ নাস্তিকতা প্রদর্শন করে তাহলে তার ব্যাপারে আল্লাহ নিজে ব্যাবস্থা নিবেন বলে হুঁশিয়ারী করে দিয়েছেন তথাপি আমাদের ভিতর কিছু অতি উৎসাহী কট্টর পন্থী আছে যারা কোরআ’ন তথা আল্লাহর বানীকে মানতে নারাজ । যদিও আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন অন্য ধর্মের মানুষদের সাথে বিনয়ী হতে তবুও তারা তাদের প্রতি কঠোর ।

পাঠকগণ নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিবেন কোনটা ভাল আর কোনটা খারাপ আমি শুধু সবাইকে স্বরণ করিয়ে দিলাম যে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি কোন সুফল বয়ে আনতে পারে না ।