Categories
অনলাইন প্রকাশনা কৌতুক ভালবাসা/প্রণয়লীলা

সোনাবউ (শুধুমাত্র বিবাহিতদের জন্য)

বিয়ের ৫ বছর পুর্তিতে ভাবছিলম বউ এর সাথে বসে আমাদের বিগত ৫ বছরের দাম্পত্য জীবন রিভিউ করবো। কিন্তু এমন দিনে বউ এর প্রচন্ড মাথা ব্যাথার কারনে একটা মাথা ব্যাথার ট্যাবলেট আর দুইটা ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ছে/:)। এমতাবস্থায় বউয়ের জন্য আনা গোপন গিফট্ নিয়ে মন খারাপ করে বসে আছি। ভাবছি ব্লগারদের সাথেই শেয়ার করি আমার সুখ দুঃখ…

 

বিয়ের পর বউ আমার মোবাইলে কল করলে আমার মোবাইলে ভেসে উঠতো সোনাবউ আর আমি কল রিসিভ করেই বলতাম হ্যালো সোনাবউ কি হয়েছ? আমার সোনাবউ তখন বলতো জানু তুমি কখন বাসায় আসবা:P?

 

তার কিছুদিন পর সোনাবউকে শুধু বউ বলে ডাকতাম। মাঝে মাঝে তো বড় করেই বলতাম– বউ কই গ্যালা খাইতে দাও ক্ষিধা লাগছেতো। তখন সে বলতো এইতো আসছি জান একটু অপেক্ষা করো গোসোল টা করেই তোমাকে ক্ষেতে দিবো। বড় ভাবিরা তো হিংসায় মরতো আমার আদরের ডাক শুনে।

 

৩ বছর পর আমাদের একটি ছেলে সন্তান হলো আর সেই সাথে পাল্টে গেলো আমাদের ডাকা-ডাকির ধরন। শুরু হলো ও বাবুর আম্মু কই গ্যালা এদিকে একটু আসো তো । বউ আমার বলতো বাবুর আব্বু একটু অপেক্ষা করো আসতেছি।

 

ভাবছি ভবিষ্যতে কি ওগো শুনছো? হ্যাগো কই গেলা শুরু করবো কিনা।

 

আর এভাবে চলতে থাকলে বয়স ৪০ হলেই তো বলতে ঐ বুড়ি কই গ্যালা? হয়ত তখন বউ বলবে বুড়ার কি ভীমরতিতে পাইলো নাকি যখন তখন খালি জ্বালায় ক্যান ;)।

 

বিয়ের পরে আমার শালীরা আমার বউকে বলতো আপু দুলাভাই না একদম সালমান শাহ এর মত (কপালের দুইপাশে চুল কম ছিলো তাই)।

 

এখন গেলে সবাই বলে আপু দুলাভাইকে না পুরা দিলদারের মত দেখায় (সারা মাথার শুধু পিছনে কয়টা চুল আছে)

 

ভাবছি কয়দিন পর বলবে দুলাভাইকে তো পুরা আবুল হায়াতের মত লাগে :)।

 

আমার সোনা বউ একদিন বল্লো তার বান্ধবী নীলা’র ম্যারেজ ডে তে দাওয়াত দিছে।nএখনও সাজুগুজু শেষ হয়নাX(। বার বার বলি হলো তোমার? আমর সোনা বউ বলে দেখতো এই শাড়িটা পরবো নাকি এইটা। আমি বলি তুমি যেটা পরবা ওটাতে ই তোমাকে সুন্দর লাগবে। বউ তখন একটু বাকা শুরু বলে তুমি কি সুন্দর চেনো? আমি মনে মনে বলি সুন্দর চিনলে কি তোমাকে বিয়ে করতাম? তাহলে তোমার ছোট বোন কে বিয়ে করতাম (আমার বউ এর থেকে শালি অনেক সুন্দরী:P। অবশ্যই এই কথাটা নাকি সকল পুরুষেই বলে) । অনুষ্ঠানে যাবার জন্য আমার সাজুগুজু শেষ হয়ে গেছে। খয়েরী কালারের পায়জামা পাঞ্জাবী আর একজোড়া নাগরা স্যান্ডেল, চোখে সোনালি কালারের চশমা। বউ আমার সাজ দেখে বলে চশমা পরছো কেন? তুমি যে কানা সেটা কি অনুষ্ঠানের মানুষদের ও জানাতে হবে। চশমা ছাড়া কম্পিউটারে টাইপ করতে পারোনা তাই বলে কি চলতে ও পারোনা? আর চশমা পরলে তোমাকে শিয়াল পন্ডিতের মত দেখায়/:)। বাধ্য হয়ে চশমা ছাড়া রওনা হলাম। অনুষ্ঠানে দেখি নীলার হ্যাজবেন্ড একটি ঘিয়ে কালারের পাঞ্জাবী’র সাথে সোনালী কালারের একটি চশমা পরেছে সত্যিই খুব সুন্দর লাগছে। আমার সোনাবউ আমাকে ডেকে বল্লো দেখছো নীলার হ্যাজবেন্ড কে শাহরুখ খানের মতো লাগতেছে। কাভি খুশি কাভি গাম ছবিতে শাহরুখ খান কে যেরকম লাগছিলো সেরকম নীলার হ্যাজবেন্ড কে নাকি লাগতেছে। চিন্তা করলাম আমি চশমা পরলে আমাকে শিয়াল পন্ডিতের মতো লাগে আর অন্য কেউ পরলে…। আমিও কম না আমার সোনাবউকে বল্লাম নীলাকেও ঐশ্বর্যরাইয়ের মতই লাগতেছে ;)। অমনি চটে গিয়ে আমার সোনা বউ আমাকে বল্লো নিজের বউকে তো কখনও ঐশ্বর্য রাইয়ের মত ভাবতে পারলানা অন্য মেয়েদের দেখলেই তোমার কাছে ঐশ্বর্য রাই আর এ্যাঞ্জেলিনা জলি মনে হয়। এ প্রসংগে একটা গল্প মনে পড়ে গেলো….

 

একটি কলেজের ক্যাম্পাসে কতোগুলো মেয়ে আড্ডা মারতেছে তারা কিছু অশ্লীল বিষয় নিয়ে ই কথা বলতেছিলো। হটাৎ করে একটা মেয়ে তার বান্ধবীদের জিজ্ঞাসা করলো— আচ্ছা আমরা যেমন এই সব অশ্লীল বিষয় নিয়ে কথা বলি, ছেলেরা যখন একসাথে বসে আড্ডা মারে তারাও কি এই রকম খারাপ বিষয় নিয়ে কথা বলে? তখন আর একটি মেয়ে বল্লো বলে না মানে অবশ্যই বলে। প্রশ্নকারী মেয়েটা বল্ল ছিঃ! ছিঃ! ছেলেরা এতো খারাপ। চিন্তা করেন মেয়েরা করলে দোষ নাই- ছেলেরা করলে দোষ।

 

রাত দুইটা বাজে আমার সোনা বউএর ঘুম ভেঙ্গেছে। ঘুম ভাঙ্গার পর দেখে আমি ল্যাপটপ নিয়ে বসে আছি। ঘুম জড়ানো কন্ঠে আমার সোনা বউ আমাকে বল্লো-তোমার যদি একটা ল্যাপটপের সাথে বিয়ে হতো তাও তোমার রাতটা ভালোই কাটতো। আমাকে আর দরকার হতো না। আমি চিন্তা করলাম সোনা বউ তো আমার উপর ক্ষেপেছে। রাত ২টার সময় আমার ১২টা বাজানো যাবেনা। ল্যাপটপ টা শাটডাউন না করেই শাটার টা চেপে দিয়ে বল্লাম তুমিই তো আমার ল্যাপটপ শোনাবউ ………………. তারপর কি হলো আর বলবো না কারন আগেই বলেছি শুধুমাত্র বিবাহিত দের জন্য সুতরাং আপনারা সবাই আমার থেকে অভিজ্ঞ.।

 

 

সর্বোপরি আমার সোনাবউকে নিয়ে ভালো আছি মাঝে ঝগড়া হয়। প্রচন্ড ঝড়বৃষ্টির পর যখন সূর্য ওঠে নতুন আলো নিয়ে তেমনি ঝগড়া শেষে নতুন প্রেম শুরু হয় আমার সোনাবউ আর আমার মাঝে। সবার কাছে দোয়া চাই যেন বাকিটা জীবনটা ও এভাবে কাটাতে পারি।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা গবেষণামূলক প্রকাশনা

বেনারসি শাড়ি ও জন্মনিরোধক বেলুন পর্ব ২

১৬৬৬ সালের সমীক্ষায় দেখা গেল ইংরেজদের জন্মহার কমে যাচ্ছে। ক্যাথলিক তাত্ত্বিক লিওনার্দো লেসিয়াস এ জন্য অনৈতিক কনডম ব্যবহারকে দায়ী করলেন।

 

নারী কনডমের ব্যবহারও বেশ পুরনো। মেয়েরা এক ধরনের বিষ মাখানো কনডম ব্যবহার করে ধর্ষণকারীদের প্রতিরোধ করার জন্য। একবার এ বিষ নাজুক অঙ্গে লাগলে ধর্ষণকারী যন্ত্রণায় আর এগোতে পারত না।

 

একালের কনডম ল্যাটেক্স ও পলিইউরেথেইন থেকে তৈরি হয়। আর পিচ্ছিল পদার্থের সঙ্গে থাকে শুক্র বিধ্বংসী ননঅক্সিনল-৯। কনডম ওয়াটার প্রম্নফ, ইলাস্টিক এবং টেকইস।

কনডমের বাহারি ব্যবহারের একটি উল্লেখযোগ্য হচ্ছে পানীয় জল পরিবহন। এটি বহন করা সহজ। একটি সুনির্মিত ফুল সাইজ কনডম প্রায় ১২ লিটার পানি ধারণ করতে পারে। তবে পানিভর্তি কনডম পরিবহনের সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়।

 

যেকোনও ছোট আকৃতির ইলেকট্রনিক সামগ্রীর পানির ভেতরে বা তলদেশে ব্যবহারের জন্য তা কনডমের ভেতর ঢুকিয়ে নেওয়া হয়। মাইক্রোফোনের ব্যবহার বিশেষভাবে উলেস্নখ করার মতো। বিবিসি এই ব্যবহারকে সুপরিচিত করিয়েছে। কেইপ টাউনে ফুটবল খেলোয়াড়রা মাঠে নামার সময় কনডম নিয়ে নামে। মোজা যথাস্থানে চেপে ধরে রাখার জন্য তারা মোজার ওপর কনডম পরে নেয়। আফ্রিকায় ফুটবলারদের মধ্যে ব্যবহার আরও বাড়ছে।

 

জুতোর বর্ণ উজ্জ্বল করতে বেনারসি তাঁতিদের মতো কনডমের লুব্রিক্যান্ট দিয়ে জুতো পালিশ করা হয়। এই পদ্ধতিটি বেশ বাজার পেয়েছে। জুতোর চাকচিক্য ধরে রাখার জন্য ধুলোবালি কিংবা কাদামাটি অতিক্রম করার সময়, জুতোর উপরে দুপায়ে দুই কনডম পরে নিলেই ব্যাস। পার্টিতে ঢোকার সময় কনডম খুলে নিলেই মনে হবে জুতো এইমাত্র ব্রাশ করা হয়েছে। কঙ্গোতে ৩টি কনডমের দাম ৯ সেন্ট আর জুতোর পালিশের দাম ৬০ সেন্ট।

 

কম্বোডিয়া কনডমের লুব্রিকেণ্ট যৌনকর্মীসহ বিভিন্ন পেশার মেয়েরা মুখে মেখে থাকে- তাতে শোনা যায় ব্রণ হয় না। চুলকানিতেও তা কাজে লাগে বলে নাম্বার ওয়ান প্লাস ব্র্যান্ড কনডমের চাহিদা অনেক বেশি।

 

বিভিন্ন ধরনের প্যাথলজিক্যাল টেস্ট বিশেষ করে ইউরিন টেস্টের সময় কনডমে মূত্র বহনের নজির রয়েছে। এমনকি মৃত্তিকাবিজ্ঞানীরাও কনডমের ভেতর নমুনা মাটি পরীক্ষার জন্য পরিবহন করেছেন বলে শোনা গেছে।

 

দক্ষিণ আফ্রিকায় নগ্ন জল ভ্রমণে বের হলে ক্যানডিরু নামের ক্যাটফিশের আক্রমণ থেকে শিশ্নকে রক্ষা করতে কনডম পরিধানের পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। এই কাটফিশ মূত্রগন্ধের ভক্ত। কাজেই সহজেই টার্গেট শনাক্ত করতে পারে।

 

কনডমের ভেতর চোলাই মদ রাখার নজির ভারতে আছে। ফেনসিডিল পাচার ও সরবরাহে বাংলাদেশে এর ব্যবহার হচ্ছে কি না দেখা দরকার।

 

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় বন্দুকের ব্যারেল সুরক্ষার জন্য কনডম ব্যবহার হতো। এর ভেতর বিস্ফোরক রাখার নজিরও আছে।

 

ট্রান্স ভ্যাজাইনাল আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষায় ডিটেকটরকে কনডমে ঢুকিয়ে নেওয়া হয়। কোকেন চোরাচালানে কনডমের ব্যাপক ব্যবহার ধরা পড়েছে। আলেকজান্ডার সোলঝেনিৎসিনের লেখায় সোভিয়েত গুলাগের একটি চিত্র : কয়েদির মুখে কনডম ঢুকিয়ে সিরিঞ্জের সাহায্যে ভেতরে প্রায় তিন লিটার কড়া এলকোহল ঢুকানো হতো। কনডমের মুখ কৌশলে দাঁতে আটকে রাখতে হতো। ভরে গেলে সহকয়েদিরা তা বের করে পানি মিশিয়ে সাত লিটার কড়া ভদকা তৈরি করত। ব্যাপারটা খুব বিপজ্জনক এবং ফেটে গেলে জীবন সংহারক হলেও কয়েদিরা তা করত। আফ্রিকানদের তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ একবার দাবি জানাল, সব সাদা, ঘিয়ে, ধূসর কনডম নষ্ট করে ফেল। আমরা কালো কালো কনডম চাই।

 

বাজারে এসেছে ম্যাডোনা কনডম। ম্যাডোনা কনডমে ঘর সাজানোর কাজও হচ্ছে। ২০০৩ সালে চীন তৈরি করেছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কনডম। হলুদ পিভিসি (পলিভাইনিল ক্লোরাইড) কনডমটির উচ্চতা ৮০ মিটার এবং ব্যাস ১শ মিটার।

Categories
গবেষণামূলক প্রকাশনা প্রকৌশল ও বিজ্ঞান বিনোদন

বেনারসি শাড়ি ও জন্মনিরোধক বেলুন পর্ব ১

জন্ম নিরোধক বেলুন ‘ডিলাক্স নিরোধ’-এর বিজ্ঞাপন ভারতের শহরে ও গ্রামে- পেয়ার হুয়া, একরারহুয়া, পেয়ার সে ফের কোই ডরতা হ্যায় দিল (প্রেম হয়েছে, সম্মতিও দিয়েছে, তাহলে অন্তরে আর ভয় কিসের?)। সুতরাং পঞ্চাশ পয়সায় তিনটি কিনে এখনই মাঠে নেমে পড়ুন।

মূল্য যত কম, অভাব তত বেশি- অর্থনীতির মূল সূত্রে আঘাত করছে অতি সস্তা জন্মনিরোধক কনডম। এই লক্ষণ কেবল ভারতে নয়, অন্যান্য দেশেও, বাংলাদেশেও।

 

কনডমের বিচিত্র চাহিদা। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ও শিল্পের চাকা ঘোরাতে। জন্মনিরোধক কনডম প্রচলনের প্রথম পর্যায়ে এর অন্যতম ব্যবহার দেখা যেত বেলুন হয়ে আকাশে ওড়ার মধ্য দিয়ে।

পশ্চিম থেকে অনুদান হিসাবে আসা কনডমকেও এক সময় সন্দেহের চোখে দেখা হত- আমাদের জনবল কমিয়ে দেওয়ার পশ্চিমা ষড়যন্ত্র হিসাবে। নিরোধকবিরোধী ধর্মীয় অনুশাসনও ছিল- ক্যাথলিক ‘আপত্তি’ এখনও রয়েই গেছে। সুতরাং মূল কাজকে পাশ কাটিয়ে অন্য কাজে লাগাতে সমস্যা কী? ভর্তুকি দিয়ে সরবরাহ করা এই বেলুনের ‘বেলুন হিসাবে’ ব্যবহার রোধ করা খুব একটা সহজ কাজ ছিল না। ছেলেমেয়ে ঘিয়ে রঙের বেলুন ফুলিয়ে সুতোয় বেঁধে আকাশে ওড়াচ্ছে, আর বাবা-মা ও বিবাহযোগ্য ভাইবোন বিব্রত হচ্ছে- এটা ছিল গত শতকের ষাট ও সত্তর দশকের একটি সাধারণ চিত্র। ভর্তুকির বেলুন কিংবা বিনামূল্যে পাওয়া বেলুন দু-চার পয়সায় বিক্রি করতে পারলেও মন্দ কী- সুতরাং মুদি দোকানদারও একটি বাড়তি বাজার পেয়ে যায়। বেলুনটা টেকসই, দামটা কম এবং দোকানদারও বেচতে রাজি- সুতরাং শখ করে প্রাইমারি স্কুলের ছাত্রও দু-একটা কিনে নিয়েছে।

 

একবার ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের কাছে ভাওয়াল বনাঞ্চলে আবিষ্কৃত হয় বিপুল পরিমাণ কনডম। বিতরণের ঝামেলা এড়াতেই পরিবার পরিকল্পনা কর্মী জঙ্গলে ফেলে এসেছে। আর নিশ্চয় পূর্ণ বিতরণ ও ব্যবহারের প্রতিবেদন সরকারের কাছে দাখিল করা হয়েছে। পুরুষ প্রাণী এসবের সঠিক ব্যবহার জানলে অরণ্যে অনেক আগেই প্রাণীর জন্য হাহাকার পড়ে যেত।

এই নিবন্ধটি জন্ম-শাসন কিংবা ঘাতক ব্যাধি এইডস প্রতিরোধে কনডমের ভূমিকা নিয়ে নয়- কনডমের অপব্যবহার ও বিচিত্র ব্যবহার নিয়ে।

বেনারসি উপাখ্যান

ভারতের সিল্ক রাজধানী বারানসি শহরে কনডমের চাহিদা সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। চাহিদা বিবাহিত সক্ষম দম্পতি এবং অবিবাহিত জোড়ের মোট চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি। কেবল বেনারসি শাড়ির পেছনে প্রতিদিন ব্যবহার করা হচ্ছে ৬ লাখ কনডম। তাঁতে মাকুর চলাচল অবাধ করতে গিয়ে তাঁতিরা ব্যবহার করছে কনডমের পিচ্ছিল লুব্রিক্যান্ট। প্রতিটি তাঁতের প্রতিদিনের চাহিদা চার থেকে পাঁচটি কনডম। পিচ্ছিলকারক এই তরলের একটি বিশেষ গুণ হচ্ছে দামি শাড়িতে এটা কোনও ধরনের দাগ রেখে যায় না।

 

প্রথম দিকে কনডমের ব্যবহার চুপিসারে হলেও এখন তা প্রকাশ্য চর্চা হিসাবে স্বীকৃত হয়েছে। একটি শাড়িতে, একজন দক্ষ তাঁতি মনে করেন, চৌদ্দটির বেশি কনডম লাগা উচিত নয়।

 

ভারতীয় বেনারসি শাড়িতে শরীর পেঁচানো একজন বাংলাদেশি সুন্দরী রমণী একবার কি ভেবে দেখবেন তার শাড়িতে রয়েছে চৌদ্দটি কনডমের স্পর্শ।

 

বেনারসির চাহিদা কমার কোনও লক্ষণ নেই। তাঁতের সংখ্যাও বাড়ছে। কেবল ভারানাস শহরে তাঁতের সংখ্যা দুই লক্ষ। তাঁতিদের মতে এমন সসত্মা ও নিদাগ লুব্রিক্যান্ট আর নেই। বিবিসি কনডম ও বেনারসি শাড়ি নিয়ে একটি দীর্ঘ প্রামাণ্য চিত্রও প্রদর্শন করেছে। চিত্রটির নাম কনডম ঘোরায় শিল্পের চাকা। এক সময় বাংলাদেশ থেকেও ভারতে কনডম চোরাচালান হয়েছে। তাঁতিরা বরাবরই আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসাবে বড় ধরনের মজুদ নিশ্চিত করে। সরকার আইনি হস্তক্ষেপও তেমন কাজে আসছে না।

 

বারানসির তাঁতি বাঁচাও আন্দোলনের একজন অন্যতম আহ্বায়ক মাহফুজ আলম বলেছেন- সরকারের অফিসাররা সতর্ক হলে শাড়িতে কনডমের ব্যবহার কমবে। তারাই পরিবার পরিকল্পনা কর্মীদের বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে সরাবরাহ করে থাকে কিন’ মনিটর করে না।

 

কর্মীরা এনে দোকানে বিক্রি করে দেয় আর তাঁতিরা দশ টাকায় এক ডজন রেটে দোকান থেকে কিনে নেয়। কাজেই পুলিশ দিয়ে তাঁতিদের হয়রানি করার কোনও মানে নেই।

 

পুরনো প্রজন্মের তাঁতিরা অবশ্য কনডম হাতে নিতে চায় না। কিন্তু নতুন প্রজন্মের কাছে এ নিয়ে কোনও সংস্কার নেই। লাভ হলেই হলো। তাঁতিদের কেউ কেউ অবশ্য মনে করেন রমণীরা কনডমের ব্যবহারটা জেনে গেলে হয়তো শাড়ির বাজার ধসে যেতে পারে। বাস্তবতা হচ্ছে ভারতের শিক্ষিত মহিলারা ব্যাপারটা জেনে গেছে। কিন্তু বাজার সঙ্কুচিত হয়নি।

 

বাহারি ব্যবহার

কনডম গবেষকদের ধারণা হাজার বছর আগেই কনডম ব্যবহার হয়েছে কিন্তু ভিন্ন উদ্দেশ্যে। অরণ্যচারী মানুষ বনে-বাদাড়ে ঘুমিয়ে পড়লে বিষাক্ত কীট-পতঙ্গ যাতে এই নাজুক অঙ্গটির ক্ষতি সাধন না করতে পারে সে জন্য শিশ্ন-পেঁচানো ছাল-বাকল ব্যবহার করত। নদী পারাপারের প্রয়োজনে কিংবা মাছ ধরার সময় জোঁকের হাত থেকে এই অঙ্গটি রক্ষার প্রয়োজনে এ ধরনের পোশাকের ব্যবহার হতো।

 

চারশ বছর আগেও ছাগলের অন্ত্র থেকে তৈরি কনডম যৌন প্রয়োজনেই ব্যবহার করা হতো বলে মনে করা হয়। গ্যাব্রিয়েল ফ্যালোপ্পিওর লেখা সিফিলিস বিষয়ক একটি অভিসন্দর্ভে উল্লেখ করা হয়েছে লিলেনের খাপ একটি বিশেষ রাসায়নিক দ্রবণে চুবিয়ে যৌনকর্মের সময় তা ব্যবহার করলে সিফিলিসের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। এই খাপটি ওপরে একটি রিবন দিয়ে বাঁধা হতো। চীনে তৈলাক্ত সিল্ক পেপারে কনডম তৈরি হতো।

Categories
ভেষজ চিকিৎসা স্বাস্থ্য

যে ভেষজ উদ্ভিদ বিভিন্ন রোগ এর মহাওশধ ও ধরে রাখে চিরযৌবন।

এক্সক্লুসিভ ডেস্ক: চটজলদি রোগ নিরাময়ের জন্য আমরা অনেকেই অ্যালোপ্যাথির দ্বারস্থ হয়ে যাই। কষ্ট লাঘবে তখন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয়টা মাথায় থাকে না। বিশেষ করে টাইফয়েড জ্বর, ডায়রিয়া, কলেরার মতো পেটের রোগে অ্যান্টিবায়োটিকও চলে আকছার।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াযুক্ত ওই সব ওষুধগুলির দামও অনেক সময় নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে হয়ে যায়। অথচ আমাদের হাতের কাছেই কিছু ভেষজ গাছ রয়েছে, যেগুলি অত্যন্ত অল্প দামে বা একটু খুঁজলে বিনামূল্যেও পাওয়া যায়, আমরা জানি না। অনেক সময় জেনেও, বিশ্বাস হয় না। তেমনই একটি ভেষজ উদ্ভিদ হল থানকুনি।

থানকুনি আমাদের অতিপরিচিত পাতা। পুকুরপাড় বা জলাশয়ে হামেশাই দেখা মেলে। কথায় বলে, পেট ভালো থাকলে মনও ফুরফুরে থাকে। চিকিত্‍সকরাই বলছেন, থানকুনি পাতার এমন ভেষজ গুণ রয়েছে, মিয়মিত খেতে পারলে, পেটের অসুখে কোনও দিনও ভুগতে হবে না। শরীর-স্বাস্থ্য তো সতেজ থাকেই, ছোট থেকে খাওয়াতে পারলে বুদ্ধিরও বিকাশ হয়। দেখে নেওয়া যাক, যৌবন ধরে রাখতে ও সুস্থ থাকতে থানকুনি পাতার ভেষজ গুণগুলি।
১. পেটের রোগ নির্মূল করতে থানকুনির বিকল্প নেই। নিয়মিত খেলে যে কোনও পেটের রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। একই সঙ্গে পেট নিয়ে কোনও দিনও সমস্যায় ভুগতে হয় না।
২. শুধু পেটই নয়, আলসার, এগজিমা, হাঁপানি-সহ নানা চর্মরোগ সেরে যায় থানকুনি পাতা খেলে। ত্বকেও জেল্লা বাড়ে।
৩. থানকুনি পাতায় থাকে Bacoside A ও B। Bacoside B মস্তিষ্কের কোষ গঠনে সাহায্য করে ও রক্ত চলাচল বাড়ায়। থানকুনি পাতা নিয়মিত খেলে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।
৪. থানকুনি স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।
৫. মৃতকোষের ফলে চামড়ায় অনেক সময়ই শুষ্ক ছাল ওঠে। রুক্ষ হয়ে যায়। থানকুনি পাতার রস মৃতকোষগুলিকে পুনর্গঠন করে ত্বক মসৃণ করে দেয়।
৬. পুরনো ক্ষত কোনও ওষুধেই না সারলে, থানকুনি পাতা সিদ্ধ করে তার জল লাগালে সেরে যায়। সদ্য ক্ষতে থানকুনি পাতা বেটে লাগালে, ক্ষত নিরাময় হয়ে যায়।
৭. থানকুনি পাতা চুল পড়া আটকে দেয়। এমনকি নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করে।
৮. বয়স বাড়লেও, যৌবন ধরে রেখে দেয় থানকুনি পাতার রস। প্রতিদিন একগ্লাস দুধে ৫-৬ চা চামচ থানকুনি পাতার রস মিশিয়ে খেলে, চেহারায় লাবণ্য চলে আসে। আত্মবিশ্বাসও বেড়ে যায়।
৯. দাঁতের রোগ সারাতেও থানকুনির জুড়ি মেলা ভার। মাড়ি থেকে রক্ত পড়লে বা দাঁতে ব্যথা করলে একটা বড় বাটিতে থানকুনি
পাতা সিদ্ধ করে, তারপর ছেঁকে নিয়ে সেই জল দিয়ে কুলকুচি করলে উপকার পাওয়া যায় চটজলদি।
তথ্য সূত্র : ইন্ডিয়া টাইমস।

Categories
আত্ম উন্নয়ন

প্রাক্তন প্রেমকে ভুলতে চাইলে করুন এই ৫টি কাজ !

 

প্রেম অনেক মধুর অনেকটাই স্বর্গীয় যদি সেটাকে সুন্দর ও সাবলীল ভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয। কিন্তু প্রেম ততটাই কষ্টের যদি ভোলা না জায় তাকে।  খুব গভীর এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রেমে ভাঙন সত্যিকার অর্থেই হুট করে মেনে নেয়া কঠিন। আর এই ধরণের ব্রেকআপের ফলে মানুষ অনেক সময়েই ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ভুল পথে পা বাড়িয়ে থাকেন যা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। অনেকেই বলেন এই সকল ভুল সিদ্ধান্তের ফলে প্রাক্তন প্রেমকে ভুলে থাকা সম্ভব, কিন্তু আসলেই কি তাই? প্রাক্তন প্রেমকে ভোলার কিন্তু বেশ ভালো এবং সঠিক উপায়ও রয়েছে। যদি ব্রেকআপের পর একেবারে ভুলে যেতে চান নিজের প্রাক্তন প্রেমকে তাহলে নিয়ম মেনে করুন এই কাজগুলো।

১। সম্পূর্ণভাবে যোগাযোগ বন্ধ করে দিনঃ

অনেক কষ্ট লাগে দীর্ঘদিনের যোগাযোগের অভ্যাসটিকে হুট করে বন্ধ করে ফেলতে কিন্তু তারপরও চেষ্টা করতে হবে। প্রাক্তন প্রেম ভুলতে চাইলে একেবারে যোগাযোগ বন্ধ করে ফেলুন, আপনি চাইলেও যাতে তার সাথে যোগাযোগ করতে না পারেন এমন কিছু করুন এবং তিনিও আপনার সাথে যাতে পুনরায় যোগাযোগ না রাখতে পারেন সেই ব্যবস্থা নিন সবার প্রথমেই।

২) নিজেকে ব্যস্ত রাখুন কাজের মধ্যে
মানুষ তখনই ভাবতে বসেন যখন অবসর সময় কাটান। অতীত অনেক সুখ দুঃখের স্মৃতি অবসর সময়েই মনে পড়ে যা ভুলতে দেয় না একেবারেই। তাই এই স্মৃতিগুলো থেকে যতোটা সম্ভব দূরে থাকুন। নিজেকে কাজের মধ্যে নিয়ে যান যাতে ভাবার ফুরসত না মেলে।

৩) রাত জাগা বন্ধ করুন
রাতের অন্ধকার অনেকের মনেই আঁধার ডেকে আনে। দিনের বেলা কাজ করে, অন্যান্য সকলের সাথে কাটিয়ে একটু হলেও ভুলে থাকা যায় যা রাতে একেবারেই সম্ভব হয় না, কারণ রাতে সচরাচর সকলে একাই থাকে। তাই যতো রাত কম জাগবেন ততোই আপনার জন্য মঙ্গল। মনে পড়বে না এবং খারাপ লাগাও কমে যাবে।

৪) নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস নিয়ে আসুন
অনেকেই ব্রেকআপের পর সব দোষ নিজের ঘাড়ে নিয়ে মনোকষ্টে ভুগে একেবারেই আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন। কিন্তু ভেবে দেখুন, একহাতে কখনোই তালি বাজে না। আপনার যদি দোষ থেকে থাকে তাহলে তারও ভুল ছিল। নিজের আত্মবিশ্বাস হারাতে দেবেন না। এতে ক্ষতি আপনারই।

৫) জেদের বশে নয় নিজের জন্য সঙ্গী খুঁজুন
সঙ্গী ছেড়ে চলে গিয়েছে বা ব্রেকআপ হয়েছে সে কারণে জেদ করে, প্রতিশোধ নেয়ার কারণে নতুন কাউকে খুঁজবেন না। নিজের আত্মবিশ্বাস ফিরে এলে নিজের জীবনে নতুন আরেকজনের জায়গা করে নিন। নতুন মানুষটিকে চেনার পেছনে সময় দিতে গিয়ে দেখবেন অতীতের সব কিছুই ফিকে হয়ে আসবে।

 

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা

কৃষক তুমি সৈনিক

শাকিল আহমেদ

 

সবুজ মাঠের ধানের খেতে বর্ষা দিল জল

রোদের আলো উঁকি মেরে করছে টলমল ,

তাইনা দেখে কৃষক সবাই করছে মাঠে চাষ

যতই আসুক ঝড় বাদল আর জীবন করুক নাশ।

ঝর এলো , বৃষ্টি এলো ছাড়লো না কেও হাল,

সকল দুঃখের পরে ভেবে উড়বে সুখের পাল।

তবু কৃষক স্বপ্ন দেখো মনে জাগায়ে আশা

গোলা ভরবে, উঠোন ভরবে, সোনালী ফসলে ঠাসা।

রোদে পুড়ে, বৃষ্টি ভিজে ফলাও তুমি ধান

তবু জাতি দিবে কি আজ তোমাদের সম্মান­?