Categories
অনলাইন প্রকাশনা

ভালবাসার কাব্যকথা

ভালবাসার কাব্যকথা

ààà (সুদীপ্ত চক্রবর্তী)

___________________________________________________________________________________________________________

 

মামা আরেককাপ চা দাও তো। আরেককাপ চায়ের অর্ডার দিয়ে আবার বইয়ের পাতায় মনোযোগ দিলাম। বেকার মানুষের এইতো জীবন। খাও দাও অলস সময় কাটাও। মাস্টার্স করেও ঘুষের অভাবে চাকরি জুটছে না। হয়তো চাকরি করতে চাইছিও না। বাবা জোর করে যে দুএকটা  খবর সংগ্রহ করে পাঠাচ্ছে তাই…… নিজের কোন ইচ্ছে নেই। কি দরকার? এইতো বেশ আছি। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই চায়ের দোকানে একের পর এক টাকা  ধ্বংস করে যাচ্ছি আর গল্পের বই পড়ছি। মাঝে মাঝে বাজার করতে বললে করছি। বেকার, বসে বসে অন্ন কতোদিন ধ্বংস করবি? কিছু একটা কর। এ জাতীয় উক্তি শুনে যাচ্ছি। প্রথম প্রথম কেমন একটা লাগতো এখন গা সওয়া হয়ে গেছে। বলছে বলুক। তাই বলে এই আরামের জীবন নষ্ট করে লাভ কি? চায়ের দোকানে মন না বসলে ইচ্ছেমত হেটে বেড়াই। শহর পরিভ্রমন করি। পকেট ভরা টাকা নেই তাই হেটেই জেতে হয়। হাটার মধ্যেও আলাদা মজা আছে।  রাস্তা দিয়ে সুন্দরী  ললনারা হেটে যায়। স্কুল কলেজের থেকে বাড়ি ফেরে। কখনো বা কেউ তাদের পিছু নেয়। আমি শুধু নির্বাক দর্শকের মত চেয়ে দেখি। দুনিয়া দুনিয়ার নিয়মে চলে আমি আমার নিয়মে। ছন্নছাড়া স্বাধীন জীবন।

 

 

আজ মামার দোকান বন্ধ। কিছু হয়েছে কিনা কে জানে। ভাবছি বাসায় গিয়ে একবার দেখে আসব কিনা। বেকার মানুষ সবার নাম ঠিকানা দিয়ে অলস স্মৃতির পাতা ভর্তি করে  রাখাই কাজ। গিয়েছিও দুএকবার। বাইরে বেঞ্চ টা অবশ্য আছে। বসে গল্পের বই ঠিক ই পড়তে পারব। আজকে রাস্তাঘাট ও একটু ফাকা ফাকা।

নাহ। আজকে বরং একটু হাটাহাটি করি। শরীর সুস্থ থাকবে।

রাস্তা দিয়ে  হাটছি উদ্দেশ্যহীন ভাবে। কোন গন্তব্য নেই। শুধু আশেপাশের কর্মব্যাস্ত মানুষ গুলোর মাঝে আমি একাই চিন্তামুক্ত । রোদে ভাজি হচ্ছি আর ঘেমে নেয়ে গেছি। মাঝে মাঝে পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় রিকশাওআলারা আশা নিয়ে তাকাচ্ছে যদি উঠি কিন্তু এই মুহুর্তে আমি ওদের চেয়েও গরীব। পকেটে ২০ টাকার একটা নোট চা খাওয়ার জন্য ছিলো সেটা বেচে গেছে।  সারাদিন হেটেই চলে যাবে? আজ কোন কাজ ই করলাম না। হাটতে হাটতে শহরের এক প্রান্তে চলে এলাম। নগর পরিব্রাজকের মত।  অনেকক্ষন ই হয়ে গেলো এবার বাসায় ফেরার চিন্তা এলো মাথায়। যেখানেই যাই না কেনো শেষ গন্তব্য সবারই এক। নিজ গৃহ।

ভর দুপুর বেলা রাস্তাটা অনেক ফাকা ফাকাই লাগছে। প্রচন্ড গরমে রিকশা গুলোও ফেলে রিকশাওয়ালারা কোন হোটেলে দুপুরের খাবার খেতে গেছে। আমি এখন রিকশা খুজছি। হেটে বাড়ি ফিরতে অনেক দেরি। কিন্তু যারা কিছুক্ষন আগেও আশা নিয়ে তাকাচ্ছিলো তারাই এখন না যাওয়ার অজুহাত খুজছে। সত্যিই আজব মানুষ। ক্ষনে ক্ষনে মন বদলায়। নিতান্ত নীরব স্থানেই এক ললনার দেখা। চুপচাপ অসহায় ভঙ্গিতে রাস্তার কোনায় দাঁড়িয়ে আছে।  আশেপাশে অবশ্য বাড়িঘরও খুব একটা কম। গলি জাতীয় এলাকা। তবে রোদ সবখানেই আছে। তার গতিপথে কেউ বাধা হয়ে নেই এক্সেপ্ট কিছু আকাশ্চুম্বী ইমারত।  হাবভাব দেখেই বুঝলাম নিজেকে আন্সেফ মনে করছে মেয়েটা একা একা। অবশ্য আমি ই বা কতটা সেফ? এখনি এসে পেটে ছুরি বসিয়ে মানিব্যাগ টা নিয়ে গেলে কিই বা করার আছে। অবশ্য তখন মরার আগেও একটা ইন্টারেস্টিং মুহুর্ত দেখতে পাবো। মানিব্যাগ এর বিশ টাকার নোট হাতে হতভম্ব ছিন্তাইকারীর চেহারাটা দেখার মত হবে।   হ য ব র ল ভাবতে ভাবতে কখন মেয়েটার সামনে এসে দাড়িয়েছি বুঝতে পারিনি। আমাকে এমন  বাকা চোখে কেনো দেখছে?

কোন সমস্যায় পড়েছেন? আমিকি কোন হেল্প করতে পারি?

è জ্বী না। ধন্যবাদ।

একটু বিরক্তই মনে হল মেয়েটিকে। মনে হয় আমাকে বিশ্বাস করতে পারছে না। আমি মুচকি হাসি দিয়ে আমার পথে হাটা শুরু করলাম। আমার হাসিটা কেন জানি অনেক অদ্ভুত। সবাইকে অভিভুত করে। হাসির কারনেই হোক অথবা বিশ্বাসের কারনেই হোক আমাকে পিছুডাক শুনতে হল। এই জিনিসটা  আমার খুব অপছন্দ। যে পথ একবার পার করে এসেছি পুনরায় তা অতিক্রম করতে মন চায় না। হোক না সে জীবনের রাস্তা কিম্বা পিচ ঢালা ইটের। কিন্তু এই মুহুর্তে পিছুডাক টাকে অনেকটা অবশ্যম্ভাবী মনে হল। যেন আমি আগেই জানতাম এমন কিছু হবে।

মেয়েটাকে রিকশায় তুলে দিলাম। বড় বিপদে পড়েছে। রাস্তা দিয়ে হাটার সময় হটাত হাতের ব্যাগ নিয়ে দৌড় দিয়েছে এক কিশোর। বাংলাদেশে কিশোর অপরাধ বেড়েই যাচ্ছে।  রোদে মেয়েটি বেশিক্ষন দাড়াতে না পেরে একটু ছায়ায় অসহায়ের মত আশ্রয় নিয়েছিল। তাকে রিকশায় উঠিয়ে  দিয়ে রিকশাওয়ালার দেওয়া ২ টাকার নোটটি পকেটে পড়ে আছে। বাসায় গিয়ে আদৌ খাবার পেলে সন্ধায়। হেটে ফিরতে হবে। মেয়েটির নাম ই তো জানা হল না। মেয়েটি অনেক ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছিল। আর বিভ্রান্ত।  তাই আর বেশি ব্যাস্ত করিনি। আচ্ছা সারাক্ষন মেয়েটির কথাই কেন ভাবছি? একটা মায়া ছিলো বটে মেয়েটার চেহারায়। অবশ্য মেয়েদের সবচেয়ে সুন্দরী রুপের মধ্যে একটি হল অসহায়ত্বের রুপ। তাই বলে মেয়েটির কথাই সারাক্ষন ভাববো? আমার তো এখন খাওয়ার কথা ভাবা উচিত। অবশ্য দুএক বেলা না খেলেও বা কি যায় আসে?

বাসায় পৌছে এখন সন্ধ্যায় দুপুরের খাবার খাচ্ছি। ব্যাপারটা ভাবতেই ইন্টারেস্ট ফীল হচ্ছে।  অবশ্য এর আগে বেশ ভাল রকম ঝাড়ি ও খেয়েছি। যদিও অসব নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। এক কান দিয়ে শুনে অন্য কান দিয়ে বের করে দিয়েছি।  খাওয়া শেষে কাজ একটাই ঘুম। বেকার মানুষের আর কি ই বা কাজ থাকবে? কিন্তু এত তাড়াতাড়ি কি ঘুমাবো? আর সন্ধ্যা হলেও খেলাম তো দুপুরের খাবার। টিভি ও ভরা। বাধ্য হয়েই মোবাইল টা হাতে নিলাম। এই মোবাইল টিপাটিপি কেন জানি আমার খুয়ব একটা পছন্দের না। তবুও মোবাইল হাতে কিছুক্ষন গেম খেললাম। কতক্ষন ই বা গেম খেলা যায়। আচ্ছা এতদিন তো ঠিক ই সবকিছু পার করে দিয়েছি। আজকে হটাত সময় পার হচ্ছে না কেন??

আজকে হাটাহাটির চক্করে দোকানে গিয়ে নতুন বই ভাড়া নিতেও মনে নেই। অগত্যা ছোটখাট একটা ঘুম দিলাম। ঘুমের মধ্যেই একটা অচেনা যায়গায় চলে গেলাম স্বপ্নে। স্বপ্নেও আমি বেকার। হাটাহাটি করছি অচেনা এক রাস্তায়। হটাত সামনে এক মেয়েকে দেখলাম । কেমন জানি পরিচিত মনে হল। তবে কিছুতেই মনে করতে পারলাম না। ইদানিং স্মৃতিশক্তি খুব খারাপ হইয়ে গেছে। তাই বলে স্বপ্নেও?? সব প্রয়োজন ফেলে মস্তিষ্কের ফাইল ভর্তি হয়ে আছে কিছু অপ্রয়োজনীয় স্মৃতিতে। মস্তিষ্ক FORMAT  করা গেলে কেমন হত? কিম্বা অপ্রয়োজনীয় ফাইল delete  করে ফেলতাম যাতে প্রয়োজনীয় স্মৃতিগুলো থাকার জায়গা পায়।

 

স্বপ্নের মধ্যেই এতসব ভাবছি । মেয়েটিকে কোথায় দেখেছি এখন মনে পড়ল না। নামধাম শুনলে মনে পড়তেও পারে। জিগেস করব কিনা ভাবছি। জিগেস করতেই মেয়েটি আমাকে গাধা, অকর্মন্য বলে বকাবকি শুরু করল। একটু পরে সব কেমন ঝাপসা হতে লাগলো আর চোখের সামনে ভেসে উঠল একখানি রাগি মুখ। আমার পিতা। মেয়েটির বকাবকির রহস্য বুঝতে পারলাম। আসলে বাস্তব জগতের কথা কান দ্বারা স্বপ্নেও চলে গেল। ইন্টারেস্টিং। আসলে সব ই ইন্টারেস্টিং ব্যাপার ঘটছে আজকে। আসলে পৃথিবীটাই ইন্টারেস্ট এ ভরা। কেউ  আমার মত সব কিছুর মজা নিতে পারে আবার কেউ পারে না।  কিছুক্ষন বকাবকি শুনে আবার খাবার টেবিলে গেলাম। যদিও  কিছুক্ষন আগেই দুপুরের খাবার খেলাম তবুও আবার নির্বিকারচিত্তে খাওয়া শেষ করলাম। স্বপ্নের মেয়েটির পরিচয় এখন পরিষ্কার হল। সেই রিকশার মেয়েটি। অসহায় মেয়েটি। শেষ পর্যন্ত আমার স্বপ্নেও চলে এসেছে। এভাবে জ্বালাতে থাকলে কপালে দুঃখ আছে বুঝলাম। পরের দুঃখ পরেই দেখব। এতক্ষন ঘুমিয়ে এখন আর ঘুম আসবেনা বুঝতে পারছি। খাতা কলম নিয়ে বসে পড়লাম। যদি কিছু লেখা যায়। এই গল্প কবিতাই বেকার মানুষদের Creative  করে তোলে………………

 

সেই কখন থেকে হাটছি। তবে আজকে গন্তব্য অন্যদিনের মত অজানা নয়। আজকে যাচ্ছি একটি নির্দিষ্ট গন্তব্যে। সেই মেয়েটিকে খুজতে। ওর নামটা জানা হলনা। আমার কিউরিসিটি একটু বেশি কিনা………

প্রায় ১ ঘন্টা ধরে পুরো জাগাটাতে হাটাহাটি করলাম। মেয়েটির ছায়াও দেখলাম না। অবশ্য এই ঘনবসতি পুর্ন দেশে  একজনকে খোজা সত্যি অসম্ভব ব্যাপার।  অবশ্য অসম্ভব জিনিষের প্রতি ই মানুষের আকাঙ্খা বেশি। নাহ মেয়েটির নাম অজানাই রাখতে হবে……………

আর বেশিক্ষন বসলে  চলবে না। বাবা আজকে একটা চাকরির ইন্টারভিউ এর খবর সংগ্রহ করেছেন। ছোটখাট কিন্তু বেকারের চেয়ে তো ভাল। আর আমার মত নগন্য মানুষের জন্য কত বড় চাকরি ই বা থাকবে? ভিক্ষা করাও এই বেকারত্বের চেয়ে ভাল। অবশ্য আমি একপ্রকার সিউর ই আছি এই চাকরি টাও হবেনা। তবুও কিনা নিতান্ত যেতে হয় বলেই যাচ্ছি। নিজের ইচ্ছা না থাকলে চাকরি কে দেবে?

 

ওয়েটিং কেবিনে বসে আছি। আরো কয়েকজন বসে আছে। সবাইকে খুব কনফিডেন্ট মনে হচ্ছে। সবাই  ফরমাল পোশাকে আর আমি সেই চিরাচরিত ঢিলেঢালা পাঞ্জাবীতে। চাকরি যযখন হবেই না শুধু শুধু ফরমাল পোশাকের ঝামেলা উঠাতে যাব কেন?  তবে চাকরি হোক না হোক আমার ইন্টারভিউ দিতে আসা সফল। একঃ আমার অলস সময় পাস হল দুইঃ সেই মেয়েটি এই মাত্র কেবিনে এসে ঢুকল। সেও চাকরির ইন্টারভিউ দিতে এসেছে মনে হল। নামটা জানা যাবে। কিউরিসিটিতে ২ রাত ঘুম হচ্ছে না, স্বপ্নেও জিগেস করেছি নাম দেখা হলে । কিন্তু একবার বাবার জন্য ঘুম ভেঙ্গে গেল অন্যবার হটাত নতুন স্বপ্নে ট্রান্সপোরট হয়ে গেলাম।  যাই হোক এখন যেটা ঘটছে সেটা স্বপ্ন কিনা বুঝতে পারছিনা। যদি আবার ঘুম ভেঙ্গে যায়। তাড়াতাড়ি নামটা জিগেস করে ফেলি। আমি স্বভাবতই কোনার দিক্টার সিটে বসেছিলাম আর দুর্ভাগ্যবশত ( আমার জন্য সৌভাগ্যই) সেই কোনার ই একটা সিট ফাকা ছিলো। মেয়েটিকেও সেখানেই বসতে হল।  মেয়েটি মনে হয় আমাকে চিনতে পারেনি। সেদিন যে হতভম্ব অবস্থায় ছিলো না চেনার ই কথা। তবে সব ফরমালদের মাঝে এই ক্ষ্যাত টাকে দেখে অন্য সবার মত সেও আড়চোখে তাকিয়েছে কএকবার। সে তাকাক। বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে। আর আমি সুন্দর এই ক্ষ্যাত লুকে। আর মুখের সর্বক্ষনিক হাসিটা আমাকে আরো রহস্যময় করে তুলছে সবার সামনে। আমিও রহস্যময় আমিকে উপভোগ করছি। সবার মত না হয়ে একটু আলাদা হয়েছি সবার চোখে এটাই তো মজার।

 

ঃ আচ্ছা আপনার নামটা কি?

è জ্বী?

ঃ বলছি আপনার নামটা কি?

è কেন?

ঃ না এমনি।

মেয়েটির দৃষ্টি দেখে মনে হল পারলে দৃষ্টি দিয়েই আমাকে ভষ্ম করে দিতে চাইছে। তবে এতগুলো লোকের সামনে বলে মনে হয় করল না। চুপচাপ তাকিয়ে রইল।  নাম জানার আশাটা তাহলে অপুর্নই রয়ে গেল। থাক।

যেটা ছিল না ছিল না সেটা না পাওয়াই থাক।

সব পেলে ব্যর্থ জীবন।

কিছু অজানাই থাক।

সিড়ি দিয়ে নামছি। চাকরি হল না। অবশ্য এ আর কি? এত জানাই ছিল। সেই অজানা মেয়েটির চাকরি হয়ে গেছে মনে হয়। আমার মনে হওয়া আবার অনেকসময় ঠিক হয়ে যায়। সিড়ি দিয়ে নেমে হাটা শুরু করতেই আবার কুহেলিকার পিছুডাক। সেই স্বল্প-পরিচিত কন্ঠটা। এবার অবশ্য খানিক্টা বিরক্তই হলাম। তবে মুখের হাসিটা অপ্রিবর্তিত রেখেই জবাব দিলাম জ্বি কিছু বলছেন?

è জ্বি। ধন্যবাদ সেদিনের জন্য। আসলে ভিতরে আপনাকে চিনতে পারি নাই। সরি।

ঃ ইটস ওকে। আমিও তো আপনাকে স্বপ্নের মধ্যে চিনতে পারিনাই।

è জ্বী?

ঃ না কিছু না। আপনার নাম?

è কথা।

ঃ আমি কাব্য।

è ওহ। সুন্দর নাম।

 

রাস্তা দিয়ে হাটছি আর ভাবছি ওই মেয়েটার কথা। আমার সাথে অনেক মিল আছে। মানুষ না চেনা রোগে আক্রান্ত। হাসিটা অনেক সুন্দর। চেহারাটা মায়াবি। মনে হয় প্রেমে পড়েছি। মাথার পেছনে একটা তীক্ষন যন্ত্রনা অনুভব করলাম। প্রেমে পড়েছি কিনা জানিনা তবে আপাতত  হোচট খেয়ে রাস্তার মাঝখানে পড়ে গেছি। ধুর…………

 

 

শুয়ে শুয়ে বোরিং লাগে অন্যদিন যদিও আজ গভীর চিন্তায় মগ্ন। সমগ্র চিন্তাজগত জুড়ে আজ অই মেয়েটি। কথা। নামটাও সুন্দর চেহারাও সুন্দর হাসিও সুন্দর। যার সব সুন্দর তার সাধারন্ত মনটা অসুন্দর থাকে। অহঙ্কারী। কিন্তু এই মেয়ের দেখি মনটাও সুন্দর। একজন মানুষ এত পারফেক্ট কিভাবে হয়? যাহ আমি ওর কথা চিন্তা করছি কেন? এটা সত্যি যে মেয়েটাকে আমার ভাল লেগে গিয়েছে। সর্বক্ষন তার কথাই ভাবছি। তবেকি এটাই ভালবাসা? অলস মানুষের অনেক ধৈর্য থাকে। তাই ধৈর্য ধরে অনেক চিন্তা করার পর ভাবলাম এটা ভালবাসা নয় বোকামো। কারন আমার মত একটা ছেলের সাথে কখনই ওরকম একটা মেয়ের রিলেসন সম্ভব না। হোকনা আমি ক্ষ্যাত। আমার অপছন্দকে বাদ দিয়ে নাহয় পরিধান করলাম জিন্স- টি-শার্ট। সানগ্লাস-হেডফোন সবি সই।  শ্যামবর্নের মায়াবী মুখে খোচা খোচা দাড়ি। দাড়িটাও নাহয় শেভ করলাম। তাও আমাকে পছন্দ করল। কিন্তু যখনি প্রশ্ন আসবে তুমি কি কর? আমি হাটাহাটি করি। ডিজিটাল হিমু আমি। কাজ করতে পছন্দ করিনা। তখন ই বাম গালটা রসালো টমেটোর বর্ন ধারন করবে। আচ্ছা এত কিছু বদলানোর কথা ভাবছি একটু চেষ্টা করলে হয়ত চাক্রিটাও পেতে পারি। Where There is a will, there is  a way. এই ওয়েটাই খুজতে হবে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে এখন ঘুমটাকেই সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন মনে হচ্ছে। দেখি যদি স্বপ্নে কোন ওয়ে পাই………………………

 

 

আজো নিতান্ত গন্তব্যহীন ভাবেই হাটছিলাম কিন্তু বেরোতেই গন্তব্য একটা পেয়ে গেলাম। কোন কাজ নেই। ভাবলাম মেয়েটির কাছে শুনেছিলাম সেখানে চাকরি হয়েছিল ওর। এখন তো পাওয়া সহজ। তাই একটা গন্তব্য ঠিক করে বেরিয়ে পড়লাম। । সেখানেও একটা চায়ের দোকান পেয়েই গেলাম। বসে বসে সারাদিন কাটিয়ে দিলাম। অবশেষে দেখা পেলাম আমার স্বপ্নের রাজকন্যার। সত্যি ই তো স্বপ্নে তো আসে সে। পাশের ক্যান্টিনে গেলো । মনে হয় লাঞ্চ টাইম। আমিও চলে গেলাম। সিট ফাকা দেখে নির্লজ্বের মত বসেও পড়লাম। যদিও পকেটে ফুটোকড়িও নেই। আমাকে দেখেই একটা মিষ্টি হাসি উপহার দিল। তবে এই মিষ্টি হাসির কারনে যেকোন সময় আমার হার্ট এটাক হতে পারে যদিও দুর্বল হার্টের মানুষ নই। তবুও সাবধান থাকতে হবে। প্রেমে তো বড়বড় মানুষের স্ক্রু ঢিলা হয়ে যায়। আমি কোন ছার।

 

è আরে আপনি এখানে।

ঃ হুম। হাটছিলাম এই রাস্তায় ই। ভাবলাম লাঞ্চ করে যাই। লাঞ্চ শেষে বসে ছিলাম। আপনাকে দেখে ভাবলাম দেখা করেই যাই ( লাঞ্চ শেষের কথাটা বললাম না খাওয়ার  অজুহাতে। টাকা তো নেই।)

è ওহ। বসুন। আপনি নতুন কোন চাকরিতে অ্যাপ্লাই  করেননি?

ঃ নাহ। চাকরি করে কি হবে? তবে ভাবছি করব।

ফোনএর রিংটোন বাজিয়ে নিজেই নিজের সাথে কথা বললাম এবং অজুহাত দিয়ে উঠে গেলাম। নইলে ভদ্রতার খাতিরে কথা মানে মেয়েটির লাঞ্চের পে করার কথা বলতে হবে। একবার হ্যা করলেই আমি গেছি।

____________________________________________________________________________________________________

 

চুল আচড়াচ্ছি। অবশ্য আমিও এই পাগল টাইপ থাকতেই পছন্দ করি। কিন্তু আজ কিনা কথার সাথে দেখা করতে যাচ্ছি বিকেলে ঘুরতে বেরচ্ছি। তাই একটু পরিপাটি না হয়ে গেলে হয়?

নাহ। এখন কিছুই হয়নি। প্রতিদিন ক্যান্টিনে কথা বলতে বলতে একদিন ফোন নাম্বার চেয়ে বসেছিলাম। দিয়েও দিয়েছিল। সেই থেকে বন্ধুত্বের শুরু। বন্ধুত্বের খাতিরেই যাচ্ছি। যদিও আমি এখন বেকার। মায়ের কাছে হাত পেতে কিছু নিতেই হল।

প্রকৃতি কে আমার সর্বদাই অনেক সুন্দর লাগে। সবুজ ঘাসের ডগাগুলোর একটু একটু নড়া, গাছের সবুজ পাতার ফাক দিয়ে এক টুকরো সুর্যরশ্মি এসে পড়া সবকিছুই আমার চোখে নতুন ভাবে সৌন্দর্য পায়। তবে আজকে কথার সাথে পার্কে  হাটার সময় সেগুলোর সৌন্দর্যকে ছাপিয়ে কথা মিষ্টি মুখখানি আর অনবরত বলে যাওয়া কথার ফুলঝুরিটা আরো বেশিই সুন্দর লাগছিলো। সত্যি আমিযে প্রতিদিন ক্যান্টিনে তার অপেক্ষা করি। ফোন করার সাথে সাথে রিসিভ করি কথা কি বোঝেনা যে আমি ওকে কত ভালবাসি? নাকি বন্ধুত্বের মাঝেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে সম্পর্কটা চিরকাল। অবশ্য কথা আমাকে ভাল বাসুক না বাসুক আমার কবিতা গুলোকে সে অনেক ভালবাসে। নিত্য নতুন কবিতা তার জন্য লিখতে হয়। আমার কবিতা নাকি তার মন ছুয়ে যায়। আমিও অলস সময় কবিতা লিখে পার করে দেই। তবে একটা জিনিস লক্ষ্য করেছি। কথার সাথে দেখা হওয়ার পর থেকেই আমার কবিতা নতুন ছন্দ লাভ করেছে। প্রত্যেক কবিতায়ই রয়েছে কথার প্রতি আবেগ ভালবাসার ছোয়া। যদিয় সুপ্ত সেই ভালবাসা কথার হৃদয় পর্যন্ত পৌছায় কিনা জানিনা। হয়ত  কাব্যের কবিতায় তা লুকায়িতই থেকে যায়।

_________________________________________________________________________________________________________

আজকাল কথা আমাকে ক্যান্টিনে দেখলে রেগে যায় কথা  । না আমাকে সহ্য করতে পারে না সেজন্য নয়। আমি কাজের খোজে না গিয়ে ক্যান্টিনে বসে আছি সেজন্য। আমার অনেক চিন্তা করে মেয়েটা । নিতান্তই বন্ধুত্বের বসে? নাকি সেও আমার মতই ভালবাসার লুকোচুরির খেলা খেলছে? তবে আজ আর জাওয়া হবে না ক্যান্টিনে। কথাই আমাকে একটা কাজের সন্ধান দিয়েছে। প্রাইমারি স্কুল টিচার। বেতন অবশ্য কম কিন্তু বেকারত্বের চেয়ে ভিক্ষুকতাও ভাল। এই  কদিন একটু পড়াশোনাও করেছি। এবার নিজেরো প্রচন্ড ইচ্ছা আছে চাকরিটা পাওয়ার। অন্যবারের মত অবহেলা নেই। আমার চুল আচড়ানো আর ফরমাল ড্রেস পরতে দেখে মা রীতিমত হাজার ভোল্টের শক খেলো। চশমার ফাক দিয়ে আবেগপুর্ন চোখ দুটি বেরিয়ে আসতে  চাইছে আমারো।  তবে আমার মুখের সার্বক্ষনিক হাসিটা আমার কনফিডেন্স এর পরিচয় দেয়। যা চাকরির  সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। যদিও এই হাতিয়ার এতদিন চাকরি না পাওয়ার জন্য ব্যাবহার করে এসেছি।

 

পরিক্ষা দিয়ে আসলাম। রেসাল্ট নিয়ে খুব ই আশাবাদী। কারন ভালই দিয়েছি। ভাবতেই অবাক লাগে একটি মেয়েই জীবন টাকে পরিবর্তন করে দিল? দরজা খুলতেই মিষ্টি সুগন্ধ ভেসে আসলো। অনেকদিন ভালমন্দ রান্না হয়নি। হটাত ? এমনিতেই মাসের শেষ। তবে ভাবনার অন্ত ঘটালো মা। মায়ের মুখে অবশ্য এতটা খুশি শেষ কবে দেখেছি মনে পড়ছে না। স্মৃতির ফাইল গুলো আবার ধুলোয় ভরে গেছে।  আমার সিরিয়াসনেস দেখেই মা-বাবা মোটামুটি ধারনা করে নিয়েছে যে আমার চাকরি হয়ে গেছে। কি চাকরি দরকার নেই।

বাবার গম্ভীর স্বরটাও কোমল হয়ে গিয়েছে। ঃ কিরে চাকরির জন্য এতো সিরিয়াস ? এবার নিশ্চয় কিছু হবে। আমি জানতাম ।

è বাবা এখন কিছু হয়নি। শুধু পরীক্ষাই দিয়েছি। আর বেতনও এমন আহামরি নয়। প্রাইমারি টিচারকে কতই বা বেতন দিবে? আমাদের দেশে টিচারদের মুল্যায়ন হয়না।

ঃ আরে তাতেই হবে। আমি জানতাম তুই একদিন সিরিয়াস হবি। সেদিন তোর সৌভাগ্য কেউ আটকাতে পারবেনা। আর চাকরি যাই হোক। পিয়নের হলেও তুই যে সিরিয়াস হইছিস তাতেই হবে।

è আমি নিজেই জানতাম না। তুমি কিভাবে  জানলে?

ঃ মানে?

è মানে কিছু না। মা আরেকটু মাংস দাও। রান্নাটা সিরাম হইসে…………………

 

 

 

আজ সত্যি মজার একটা ফীলিং হচ্ছে। প্রথম চাকরিতে তে জইন করতে যাচ্ছি। সব ই একটি মেয়ের পরিশ্রমের ফল। চাকরিটা মজাদার ই হবে। ছোট বাচ্চাদের আমার ভালই লাগে। আর ওরাও আমার প্রতি একটা আকর্ষন অনুভব করে। এটা আমার জন্মগত গুন। বাচ্চাদের খুব ভালই সামলাতে পারি। চাকরিটা হওয়ার পর কথাকে সব মনের কথা খুলে বলব কিনা ভাবছি। তবে ভাবনাতেই ইতি টান্তে হবে কিনা বুঝতে পারছিনা। তবে হাটাহাটির অভ্যাস টা বাদ দিতে পারব না। হেটেই যাব স্কুল। আমার কর্মক্ষেত্র। ইন্টারেস্টিং লাগছে ব্যাপারটা। মুখের হাসিটা ধরে রাখতে হবে। তবে ইংরেজির টিচারকে পাঞ্জাবীতে ঠিক মানাচ্ছে না। আমি নাহয় সবার থেকে ভিন্নই হলাম।

একদিন জিন্স- টি-শার্ট পরে কথার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম। আমাকে দেখেই হাসতে  হাসতে পাগল হয়ে গিয়েছিল> আমাকে নাকি পাঞ্জাবী ছাড়া মানায় না। আমিও ভাবলাম ঠিক ই তো। বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে। কব্যেরা পাঞ্জাবীতে সুন্দর। ভাবতে ভাবতে স্কুলে পৌছে গিয়েছি। বাচ্চাগুলো ভদ্র আছে। ছোটবেলায় টিচারে হাতে কানমলা  খেতে খেতে ভাবতাম আমিও একদিন টিচার হব হয়ে ছোট বাচ্চাগুলোকে পিটিয়ে এর প্রতিশোধ নেব। সে ইচ্ছে মনে হয় অপুর্নই রয়ে যাবে। যাক। কিছু অপুর্নতার মাঝেই সত্যিকারের আনন্দ নীহিত। বাচ্চাগুলো একমনে লিখছে। নিষ্পাপ মায়াবী মুখগুলো দেখে আর প্রতিশোধ নেওয়ার ইচ্ছেটা নেই। তবে এভাবে বসে থাকতে আমার খুব একটা সমস্যা হচ্ছে না। অলস সময় পার করার অনেক অভ্যেস ই আছে। গল্পের বইটা সাথে থাকলে মন্দ হত না। কিন্তু ক্লাসরুমে বসে গল্পের বই পড়া ব্যাপার টা বেমানান। সে ইচ্ছে বাদ দিতে হল…………………………………………

______________________________________________________________________________________________________________

 

 

ইদানিং দিনকাল ভালই যাচ্ছে। জীবন একটা রূটিনের মধ্যে চলে এসেছে সকালে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা করেই বেরিয়ে পড়ি স্কুলের উদ্যেশ্যে। স্কুলে বাচ্চাকাচ্চাদের সাথে সময়টা ভালই কাটে। বাচ্চাগুলোও আমাকে আপন করে নিয়েছে। আর আমিও ওদের। নিষ্পাপ কতগুলো প্রানের মাঝে  থেকে নিজেকেও নিষ্পাপ ভাবতে ইচ্ছা করে। স্কুল শেষে বাসায় গিয়ে খেয়ে রেস্ট নেই। কখন বা বিকালে কথার সাথে ঘুরতে যাই পার্ক এ। হেটে বেড়াই। কখন বা বিকালে একটু পুরনো অভ্যাস মত হাটাহাটি করি একা একাই।  গন্তব্যহীন ভাবে। সন্ধ্যার দিকে বাসায় আসি। একটু পড়াশোনা করি। সামনে একটা ব্যাংক এর চাকরির আশায়। বাবা রিটায়ার করবেন কদিন পর এরপর আমার প্রাইমারি শিক্ষকতার বেতনে সংসার চলবেনা। রাতে খেয়েদেয়ে একটু কবিতা/ গল্প যদি মনে আসে লিখতে বসি। ইদানিং আমার রাত ২/৩ টার আগে ঘুম আসছে না। ভাবছি একবার ডাক্তার দেখাব। আমাকে নির্ঘুমতার রোগে ধরেছে। কিম্বা মনের রোগ কিনা বুজছি না। কথাকে এখন আমার মনের কথা বলা হয়নি। কতবার বলতে গিয়েও থেমে গেছি প্রতিবার থাকে তাকে হারানোর ভয়।  অবশ্য কথার সাথে এখন আমি অনেক ফ্রী। ও ওর সব কথা আমার সাথে শেয়ার করে। আমিও সব ই শেয়ার করি শুধু এই একটা ভালবাসার কথা বাদে। ভাবছি এভাবে কতদিন চলবে? এটাও বলে দেব। তবে এই মেয়েটাই আমার ছন্নছাড়া জীবনটাকে গুছিয়ে দিয়েছে। যদিও এখন লাইফ সম্পর্কে ততটা সিরিয়াস নই।  তবে বাইরে কিম্বা  বাসায়  আর অকর্মন্য, বেকার জাতীয় কথা গুলো আর শুনতে হয়না। সব মিলিয়ে বেশ আছি। বেশ সুখেই। আজ শুক্রবার। ভাবছি ঘুম না আসা নিয়ে ডাক্তার এর কাছে যাব। রেডি হয়ে ডাক্তারের চেম্বারের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। হাটার অভ্যাস আমার কখনই যাবেনা। পকেট খালি থাকুক চাই ভরা।

 

ডাক্তারের চেম্বারের বাইরে বিরাট ভিড়। এত লম্বা লাইন দেখে অনেকেই দেখি ফিরে যাচ্ছে। আমার অবশ্য কোন মাথা বেথা নেই। বসে বসেই সারাটাদিন কাটিয়ে দেব তবু যে কাজে এসেছি সম্পুর্ন করেই যাই। আসতে  আসতে  সন্ধ্যা হয়ে এলো। আমি লাইন এ না দাঁড়িয়ে একটা চায়ের দোকানে বসে আছি। বসে দেখছি মানুষ কে কার আগে যাবে সেই চেষ্টায় ঝগড়া-মারামারি লাগিয়ে দিচ্ছে। আর আমি বসে বসে মজা নিচ্ছি। কি হবে একজনের আগে গিয়ে। কি হবে যদি ১ ঘন্টা পরে ডাক্তার দেখাই। ঝগড়া টা এই ঠেলাঠেলি না করলেই নয়? হটাত মোবাইল রিংটোন বেজে উঠলো। তবে মোবাইল রিসিভ করাটা এতটা ইম্পরট্যান্ট মনে হচ্ছে না এই মুহুর্তে। সামনে ফুটপাতে ধারে কাচা সব্জী বিক্রেতার সাথে দামাদামি নিয়ে ক্রেতার মধ্যে তুমুল ঝগড়া বেধে গিয়েছে। তাকে ঘিরে ভীড় তৈরী হয়েছে। দুইদলে ভাগ হয়ে গিয়েছে জনতাও। আর আমি আবারো নির্বাক দর্শক হয়ে মজা দেখছি। টিভি কেনার কি দরকার। রাস্তায় বেরুলেই তো নানা চ্যানেলের সিনেমা দেখা জায়।  লাইন কমে গিয়েছে। এদিকে রাত ৯ টা বেজে গিয়েছে কখন খেয়াল করিনি। আমি এবার ধীরে সুস্থে ডাক্তারের চেম্বারের দিকে এগুলাম। ডাক্তার সাহেব দেখি বাড়ি যাবার জন্য রেডি হচ্ছে। কিন্তু আমি এতক্ষন অপেক্ষা করলাম ডাক্তার না দেখিয়ে তো যেতে পারিনা।

ঃ ডাক্তার সাহেব আসতে পারি??

  • আপনি কালকে আসুন। আজতো টাইম শেষ।

ঃ দেখুন আমি সেই সন্ধ্যা থেকে বসে আছি। না দেখিয়ে চলে যাব??

  • আচ্ছা আপনার সমস্যা কি?

ঃঘুমের সমস্যা।  শুয়ে থাকি কিন্তু ২/৩ টার আগে ঘুম আসেনা।

ডাক্তার বাবু আমাকে কতগুলো ঘুমের অষুধ দিয়ে তাড়াতাড়ি যাওয়ার জন্য রেডি হলেন।

ঃ ডাক্তার সাহেব।

  • এই ওষুধ গুলো খাবেন । আশাকরি ঘুম এর সমস্যা হবেনা।

ঃ আসলে আমি হস্পিটালে আপনার কাছে গিয়েছিলাম। আপনি এই ওষুধগুলো  দিয়েছিলেন কিন্তু তাও ঘুম আসেনা। ওষুধ খেলে দিনে ঘুম আসে কিন্তু রাতে ঘুম আসেনা।

  • আচ্ছা , দিয়েছিলাম?  মনে হয়।  আপনি আবার খেয়ে  দেখেন আর এই হলো আমার কন্ট্যাক্ট নাম্বার যেকোন সমস্যায় ফোন দিবেন।

আমি আরো একবার সিউর হইলাম ডাক্তারদের স্মৃতিশক্তি খারাপ হয়। কারন আমি কখনই তার কাছে  যাইনাই। তার নিজের স্মৃতির উপর ই ভরসা নাই।

ঃ জ্বী আচ্ছা। যেকোন সময় ফোন করা যাবে?

  • জ্বী রোগিদের জন্য আমি যেকোনো টাইম ফ্রী। যেকোনো সমস্যায় ফোন করতে পারবেন।

 

আমিও জ্বী বলে চলে আসলাম। আগেই বলেছি আমার কিউরিসিটি খুব বেশি। তাই আমার এই মুহুর্তে জানতে ইচ্ছা হল এই ডাক্তার কি আসলে রোগীদের জন্য সবসময় ফ্রী?

 

রাত ৯ টার দিকে ফোন দিলাম।

 

  • হ্যালো……

ঃ হ্যালো ডাক্তার সাহেব আমি কাব্য। ওইজে আজ সন্ধ্যায় আপনার চেম্বার এ…………

  • > দেখুন আমার চেম্বার এ অনেক লোক আসে। কাইন্ডলি আপনার সমস্যাটা বলুন।

ঃ দেখুন আমি রাতে ঘুম আসে না। আপনি আমাকে ওষুধ দিয়েছিলেন। অগুলোকি খাবো?

  • জ্বী খাওয়ার জন্যই তো দিয়েছি। খেয়ে শুয়ে থাকুন। কাজ না হলে পরে জানাবেন।

ঃ জ্বী ওকে।

 

ডাক্তার বলেছে। ওষুধ তো খেতেই হবে। তবে কালকে থেকেই খাই। আজকে টেস্ট করা দরকার ডাক্তার আসলেই যেকোনো সময় ফ্রী কিনা।  রাত ১২ টার দিকে একবার ফোন দিলাম ডাক্তার কে।

কিছুক্ষন বাজার পর ফোন রিসিভ হল।

একটু জড়ানো গলায়………

  • হ্যালো……

 

আমার জানা ছিলো না ডাক্তার রা এত তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে যায়। মনে হয় সকালে উঠে হস্পিটালে যায় আর চেম্বারের জন্য ঘুমানোর টাইম পায় না।

  • হ্যালো । কে বলছেন??

ঃ ডাক্তার বাবু আমার সেই ঘুমের সমস্যা। কাব্য। আমি এখন ঘুমাতে যাচ্ছি। আমিকি ওষুধ টা এখন ই খাব। নাকি এলার্ম দিয়ে কিছুক্ষন পর উঠে খাব?

প্রচন্ড বিরক্তি নিয়ে ঃ আপনার যখন খুশি খান। এখন ই খান। খেয়ে ঘুমান।

 

ফোন কেটে গেলো। রাত্র ২ টায় আবার ফোন দিলাম।

ঃ হ্যালো…………

 

# হ্যালো , আমার ঘুমের সমস্যা। ওষুধ খেয়েছি কিন্তু ঘুম আসছে না।

ঃ আপনি শুয়ে থাকুন কালকে চেম্বারে বলবেন। ( প্রচন্ড বিরক্তি নিয়ে)

#আচ্ছা ডাক্তার বাবু আমার মাথায় একটা চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। সমস্যা না মিটলে মনে হয় ঘুম আসবে না। একটু সাহায্য করুন।

ঃ আপনি দয়া করে ঘুমুবেন?

# না মানে মশাগুলো খুব শব্দ করছে। মনে হয় ওদের ও ঘুম আসছে না। ওদের ও কি একটু ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেব?

 

টুট… টুট… টুট…

 

আমি খুশি মনে বসে রইলাম। ঘুম আমার একার না আসুক ঘুমের ডাক্তার এর ও আসবে না।

আবার ৩ টার সময় দিলাম ফোন

ঃ হ্যালো ডাক্তার বাবু……………

# আপনি দয়া করে ঘুমুতে যান। ঘুম না আসলে জেগে কাটান। আমাকে ঘুমাতে দেন প্লিজ।

ঃ কিন্তু আপনি যে বললেন ঘুম না আসলে যেকোনো সময় পরামর্শ নিতে পারি।

# আমার পরামর্শ কাল দেব। দয়াকরে ঘুমুতে দিন।

ফোন কেটে দিল।

 

আমি আবার ৪ তায় ফোন দিলাম

ঃ কিছুক্ষন বাজার পর ফোন সুইচঅফ দেখাচ্ছে।

বেশ মজাই হল। পরদিন ডাক্তার এর কাছে গেলাম না। আবার সেদিন রাতে ২ টার সময় ফোন দিলাম

ঃ ডাক্তার বাবু। আমার ঘুমের………

ফোন কেটে গেলো আর সুইচ অফ। ব্ল্যাক লিস্ট এ পাঠালো কিনা কে জানে।

পরদিন বিকালে গেলাম ডাক্তার এর চেম্বারে।

দেখেই বুঝলাম ডাক্তারসাহেবের দুরাত ঘুম হয়নি। চোখের নিচে কালি জমেছে। আমাকে দেখেই ডাক্তার সাহেবের মুখে অজানা ভীতি দেখলাম। যাক ডাক্তারএর স্মৃতিশক্তির উন্নতি করেছি আমি। বেশ মজা পেলাম অবশ্য।

 

n  আপনি দয়া করে আমাকে একটু শান্তি দিন। প্লিজ। প্লিজ আমাকে আর ফোন দিবেন না। প্লিজ দুরাত ঘুমাইনি। একটু ঘুমাতে দিন।

-।> কিন্তু ডাক্তার সাহেব আমার ঘুমের কি হবে?

 

n  আপনার ঘুম ঠিক করার ক্ষমতা আমার নাই। প্লিজ আমাকে মাফ করেন।  আপনার জন্য আমার ঘুম হচ্ছেনা। প্লিজ…………

ঃ আচ্ছা ঘুম নাহলে মাথায় কদুর তেল দেবেন। সেদিন টিভিতে Advertise দিচ্ছিলো। ভাল কাজ হয় নাকি।

 

 

অবশেষে বাসায় ফিরছি। অনেক মজা লাগছে। আমার ঘুমের সমস্যা ঠিক করবে যে ডাক্তার তাকেই ঘুমের সমস্যা ঠিক করার পরামর্শ দিয়ে আসলাম।  ডাক্তার এর মুখটা সত্যি দেখার মত ছিলো। ভাবছি উনার বাসায় গিয়ে একদিন চা খেয়ে আসব কিনা। নিশ্চয় মানা করার সাহস পাবেন না। টাকা না থাকলে ফ্রী চা-নাস্তা খাওয়ার দু-একটা ব্যাবস্থা করে রাখা ভাল।

 

বছর শেষে পিকনিক বেশ ভালই একটা উপভোগ্য সময়। আজ সকাল থেকেই আয়োজন চলছে। বেশি দুরেও নয় আবার একেবারে কাছেও নয় । নদী ও নয় পাহাড়ও নয় আবার দুটোই আছে। পাশের ছোট্ট লেক। আর নিচে নেমে যাওয়া ঢাল অনেকটা পাহাড় নদী দুটোর ই আমেজ দিচ্ছে।  আশে পাশে কিছু গাছে পাখির কলতান। আহ! আমার চিরচেনা প্রকৃতিকেই নতুন রুপে দেখছি। কথা কেও ইনভাইট করেছি। ফ্রেন্ড হিসাবেই। অবশ্য এমনিতেও  ফ্রেন্ড এর বেশি কিছু হল কোথায়। তবে মায়ের সে ইচ্ছে শতভাগ যে কথা ফ্রেন্ড এর বেশি কিছু হোক। যে মেয়ে এই ছন্নছাড়া ছেলেটাকে সিরিয়াস করে স্বাভাবিক জীবনের সাথে মিশিয়ে দিয়েছে তার চেয়ে বেশি যোগ্য বোধহয় আর কেউ হবে না। নিতান্ত আমার বারনেই চুপ করে আছে। যদিয় মা দুএকদিন ই কথার সাথে কথা বলছে। আজ প্রথম এতটা সময় একসাথে ঘুরবে। আমার বারন কতটা খাটবে তা নিয়ে চিন্তায় আছি। অবশ্য না খাটলে একদিন দিয়ে ভালই হবে। আমার অপুর্ন কথা মায়ের মাধ্যমে কথার মস্তিস্কে পৌছাবে। যদিয় ফলাফল কি হবে তার উপর নির্ভর করে আমার মুড। তবে এই মুহুর্তে আমি কি চাইছি সেটা নিজেই বুজছি না। কথা সব জানুক নাকি না জানুক। মস্তিস্কের যুক্তিবাদি আমির সাথে হৃদয়ের অযৌক্তিক অবুঝ প্রেমিক আমির যুদ্ধ চলছে। দেখা যাক কি হয়।

 

 

মা পিকনিক এ কথার সাথে অনেক কথাই বলেছে। বলতে গেলে সারাদিন মা আর কথার মাঝে আমি কিম্বা বাবা ঘেষতেই পারিনি। দুইটা আলাদা গ্রুপ হয়ে গেছি যেনো। তাই কি কি বলেছে তার কিছুই জানিনা। তবে কথার মধ্যে অবশ্য নেগেটিভ পজেটিভ কোন রিয়াক্সন ই দেখি নাই। তাই মনে করছি যুক্তিবাদি আমির ইচ্ছাই পুরন হল। মা কিছু বলেনি। মা জাতিটাই অদ্ভুত। কিভাবে যেনো বুঝে যায় ছেলের মনের কথা। কই আমিতো একবারো মাকে বলিনি আমার ভালবাসার কথা  ।  শুধু বলেছি কথা মেয়েটির  কথা। কিন্তু মা ঠিক ই মনের কথা বুঝে ফেলেছে।  মানুষের মন সত্যি আজব। মাঝে মাঝে ইচ্ছা হয় মনস্তত্ব নিয়ে পড়াশোনা করি।  এতক্ষন খেয়াল ই করিনাই মোবাইল টা বেজেই যাচ্ছে। কথার ফোন। সাধারন ভাবেই রিসিভ করলাম।

-।> হ্যালো কথা। কেমন আছো ?

ঃ ভালই। আছি। চলে আসো পার্ক এ।

-।> কোন পার্ক? শহরে পার্কের তো অভাব নেই।

ঃ মনে হচ্ছে সবগুলো পার্ক এই আমাকে ঘুরতে নিয়ে গেছো? যেখানে সবসময় আসো সেখানে।

-।> ও আচ্ছা। আসছি।

ঃ ১০ মিনিটের মধ্যে।

-।> ১০ মিনিট তো শার্ট পরে চুল আচড়াতেই লেগে যাবে।

ঃ আমি কিছু জানিনা।

-।> আরো ৫ মিনিট লাগবে ৩ তলা থেকে নিচে নামতে। পায়ে বেথাতো।

ঃ আমি বললাম তো কিছু জানিনা।

-।> আর তুমিতো জানোই আমার যানবাহন এ চড়া পছন্দ না। তাই হেটেই যাব। তাতে আরো ১৫ মিনিট।

ঃ আচ্ছা মানুষ কে বিরক্ত করতে তোমার এতই ভাল লাগে?

-।> আপাতত তোমাকে বিরক্ত করতেই বেশি ভাল লাগছে।

টুট…টুট…টুট……

 

মনে হল বেশি ই করে ফেলেছি। ১০ মিনিটের মধ্যেই যেতে হবে।

রাস্তাইয় হাটতে হাটতেই মনে হল আজ কথার কথা বলার ভঙ্গিমা একটু ভিন্ন মনে হলনা? অধিকার ফলানো কথাবার্তা। তাহলে কি মা সব বলেই দিয়েছে আর কথা তার কথার বানে বিদ্ধ করতে আমাকে যুদ্ধক্ষেত্রে আহবান করছে? অবশ্য দুএকবার হাতও চলতে পারে। নিশ্চয়তা নেই। আমার স্বভাব কোনকাজে তাড়াহুড়ো থাকলে যতটা সম্ভব ধীরে সুস্থে দেরি করে যাই। আজ কেন যেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব যাচ্ছি।  এই প্রথম বার মনে হচ্ছে যেনো অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছেনা। মনে মনে গাইছি “ এই ছোট্ট ছোট্ট পায়ে চলতে চলতে ঠিক পৌছে যাব।“ পৌছেও গেছি তবে এত তাড়াতাড়ি করেও  পৌছাতে পাক্কা ৪০ মিনিট লেগে গেছে। কথাও দেখি বেঞ্চ এ বসে আছে। আসেপাসের বেঞ্চ এ অনেক কপোত কপোতী দের প্রেমলীলা চলছে। শুধু আমার মহারানী ই একা বসে। মুখটা একটু ফোলা। আচ্ছা আজ সবকিছু প্রেমিক-প্রেমিকা টাইপ হয়ে যাচ্ছে না? শুধুই বন্ধুত্বের সীমা অতিক্রম করছে না? অবশ্য আমার জন্য তো ভালই। কিন্তু আমার কিউরিয়াস মাইন্ড এর কাছে সবকিছুই জানার আকাঙ্খা থেকে যায়। বেশিরভাগ প্রেমিকগুলা মোটামোটা চোখে গরুর মত তাকিয়ে প্রেমের কাহিনি বলছে।  আমি আর কি করি। এক প্যাকেট বাদাম ই কিনে নিলাম………………

 

পাশে গিয়ে বসলাম । মুখে কারো  কথা নেই কোন। এভাবেই ১০ মিনিট চলে গেলো। আশেপাশে একটু অন্ধকার হয়ে এসেছে। বেঞ্চ গুলো অনেক দূরে হওয়ায় প্রেমিকদের Under one’s breath টাইপের কথা কানে আসছেনা। গাছের পাতার সামান্য খসখস আওয়াজ ছাড়া আর কোন কথা কানে আসছেনা। এই নীরবতাটাকেই আমি অনেক উপভোগ করছি। মনে হচ্ছে আরো কিছুক্ষন সব চুপচাপ থাক। গাছের পাথার খসখস আওয়াজ নীরবতাটাকেই উপস্থাপন করছে।  এই উপভোগ বেশিক্ষন চলল না। একটা একটা করে বাদাম খাচ্ছি। কথা মনে হয় এক্সপেক্ট করেছিল আমি ওর রাগ ভাঙ্গাব। কিন্তু শেষ্মেস এই পাগলা ছেলের পাগলামোর কাছে হার মেনে ওই মুখ খুলল।

-।> সব বাদাম একাই খাবা?

ঃ তুমি তো চুপ তাই ভাবলাম খাবা না।

-।> দাও বলতেসি।

সামান্য অবাক হয়ে প্যাকেট টা এগিয়ে দিলাম। ব্যাবহার আবারো সেই প্রেমিকা টাইপ[ অধিকারোয়ালা। কাহিনি কি জানার জন্য কিউরিয়াস মাইন্ড রীতিমত তদন্ত শুরু করল।

তবে তদন্ত শুরুর আগেই তদন্তে ছেদ পড়ল। মেয়েটি বাদাম খাচ্ছে। এই সন্ধ্যার আলো-আধারির খেলায় কানের পাশে মৃদু বাতাসের শব্দের ছন্দে তাল মিলিয়ে বাদাম খাওয়ার দৃশ্য দেখে আবার মেয়েটির প্রেমে পড়ে গেলাম। কারো বাদাম খাওয়ার দৃশ্য এতো সুন্দর হয় না দেখলে বিশ্বাস করতাম না। ভাবছি আজই সব বলতে হবে।

-।> এইভাবে তাকিয়ে আছো কেন?

ঃ বাদাম খাওয়া শেষ?

-।> হুম। আনছো তো ৫ টাকার বাদাম। বেশি করে  আনতে পারো না?

সত্যি আফসোস হচ্ছে কেন বেশি করে আনলাম না। এই দৃশ্য আরো কিছুক্ষন উপভোগ করতে পারতাম। এই মুহুর্তে অবশ্য তা সম্ভব না। বাদাময়ালা চলে গেছে। আশে পাশের প্রেমিক প্রেমিকা গুলার সংখ্যাও কমে এসেছে। আমাদের এই অবস্থায় প্রেমিক-প্রেমিকার মতই অবশ্য লাগছে।

-।> চুপ  কেন?

ঃ না কেন ডাকছো তাইতো বললে না।, বাদাম খেতে নিশ্চই ডাকো নি ।

-।> কেন এমনি ডাকতে  পারিনা? এমনি ঘুরতে পারিনা?

 

কাহিনি দেখি আরো রহস্যময় হয়ে উঠছে। অবশ্য রহস্য আমার সর্বদাই ভাল লাগে।

ঃ না। আজকে তোমার বিহেভ আলাদা লাগছে অন্যদিনের চেয়ে।

-।> মানে? এতদিন ই ভুল ছিলাম। এখন ই ঠিক আছি।

 

কথার অর্থ বোঝার মত মানসিকতা আমার নেই। বাদাম খাওয়ার রুপে আমি মুগ্ধ। ভাগ্যে যা থাকে থাকবে । প্রোপোজ করার সময় এসে গেছে। কালই সব বলে দেব।

আজ নাহয় সামান্য কথা বলেই পার করে দেই………………

 

 

আগে কখন প্রেম করিনি। করার ইচ্ছেও ছিল না। প্রেম জিনিস্টাকেই ঘৃনা করতাম। আশেপাশে পার্কে ঘুরাঘুরি করে মোটামুটি ধারনা জন্মেছিল প্রেম মানেই টাইমপাস। দুদিন পর ব্রেকআপ। নতুন মানুষ। যেখানে মানুষের আবেগ টুকু ফানুষের মত উড়ে যায়। তবে ভালবাসাকে উপেক্ষা করার শক্তি মহাপুরুষদের ই আছে। আর আমি কোন মহাপুরুষ নই। অতি সাধারন নগন্য মনুষ্যপুত্র। তাই তো কথা মেয়েটির ভালবাসায় আজ পাগল। তবে অভিজ্ঞতার অভাবে প্রেমপত্র লিখতে যথেষ্ট সমস্যা হচ্ছে।  যদিও আমি কবিতা গল্পে কথা বার্তা খুব গুছিয়ে লিখি তবু এই প্রেম পত্রে কথাগুলো এতটাই অগোছালো হল যার বর্ননা একটু পরেই দিচ্ছি।

প্রেমপত্র যথারীতি পরদিন কথার হ্যান্ডব্যাগ এ ঢুকিয়ে দিয়ে আসলাম। এটা অবশ্যই আমার জন্য কোন কঠিন কাজ নয়। পরদিন যা ভেবেছিলাম  ফোন আসল কথার। কন্ঠস্বর শুনে মনে হল কিছু একটা লুকানোর প্রচুর চেষ্টা চালাচ্ছে কন্ঠে। যদিয় কি সেটা বুঝলাম না। যথারীতি আবার চলে গেলাম পার্ক আদালতে। যেখানে আজ আমার বিচার হবে। বুঝতে পারছি না বেকসুর খালাস পাব নাকি জাবজ্জীবন কারাদন্ড পাব কথার জীবন জেলখানায়। অবশ্য আমি ভিন্ন টাইপের আসামী। কারাদন্ডই চাইছি মনে মনে।

পার্ক এ পৌছে গেলাম। তবে আমাকে অবাক করে মস্তিষ্ক মহাশয় সকল চিন্তা দূর করে দিয়েছে। আমার এখন জীবন-মরন পরীক্ষা আস্তে চলেছে এই বার্তা স্নায়ু মস্তিস্কে পৌছাতে দিচ্ছে না। মনে খুব একটা চিন্তা অনুভব করছিনা। যেনো যা হবার হোক।

অবশেষে কথার সামনে আসলাম। আমাকে দেখেই কথা মুখে অনেকটা গম্ভির ভাব আনার চেষ্টা করল। তবে সেই বৃথা চেষ্টা কে ভেঙ্গে অট্টহাসিতে ভেঙ্গে পড়ল। আমি আর কিছু বললাম না। হাসি থামার অপেক্ষা করলাম। একটা জিনিস উপলদ্ধি করলাম মেয়েদের অট্টহাসিতে ভাল লাগেনা। মুচকি হাসি ই ভাল। তবে তাকে থামানোর ইচ্ছা বা আগ্রহ কোনটাই অনুভব করছি না। হাসতে হাসতেই বলা শুরু করল………

ঃ বাদাম? …… হিহি আর কিছু পেলে না?? শেষ পর্যন্ত বাদাম খাওয়া ভাল লাগলো? মানুষ কত কিছু বলে চোখের তারায় ডুবে যাই…… মুখের হাসিতে মরে যাই। আর তুমি কিনা বাদাম??

আবার অট্টহাসি। তবে এখন বুঝলাম না। এতে ভুলটা কি লিখলাম? প্রেমপত্রে লিখেছি সত্যি কথাই। তার বাদাম খাওয়া রুপটা দেখে আর নিজেকে প্রপোজ করা থেকে বিরত রাখতে পারিনি।

ঃ এতো গুছিয়ে কথা বল আর শেষ মেশ বাদাম দিয়ে লাভলেটার দিলে??

-।> না মানে সত্যি সত্যি যেটা ভাল লেগেছে সেটাই লিখলাম……

ঃ কি? তু…… আবার হাসি…………

পানি এনে দিবো কিনা ভাবছি। এতো হাসলে পেটে বেথা হয়ে যেতে পারে।

-।> না মানে আগে কখন অভিজ্ঞতা নেই তো। এরপর থেকে ঠিক করে নেবো।

হাসি থেমে গেলো। যাক ওষুধে কাজ করেছে।

ঃ মানে? আরো কাউকে করার ইচ্ছা আছে ভবিষ্যতে?

-।> না মানে। মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছে। আসলে প্রথম তো। ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখলে ভাল হয়………

 

আবার অট্টহাসিতে ভেঙ্গে পড়ল।  নাহ। ওষুধের রিএকসন সম্পর্কে জানা উচিত ছিলো। তবে এই মুহুর্তে খুব খুশি খুশি লাগছে। প্রেম পত্র ঠিক ভাবে না লিখতে পারার ব্যার্থতাতে দুঃখ পাওয়ার বদলে ভালবাসা পুর্নতা পাওয়ার আনন্দে নিজেকে অনেক সুখি মনে হচ্ছে…………………………

( সমাপ্ত)