Categories
অনলাইন প্রকাশনা

আলিঙ্গন যদি করতেই হয়

আলিঙ্গন যদি করতেই হয়
————————– রমিত আজাদ

আলিঙ্গন যদি করতেই হয়,
তুমি আত্মসমর্পন করো।
আমি ছেয়ে দেব তোমার পুরোটা শরীর।
আমি ছুঁয়ে দেব এমন সব স্পর্শকাতর আয়তায়,
যেন তোমার হৃদয় তক পৌঁছে যায়
নিঃশঙ্ক পরশনের অদৃশ্য তরঙ্গ!

প্রেম মানেই তো আলিঙ্গনের উন্মত্ত নিস্পেষণ,
আর অধরে অধর অমিয়ের তপ্ত অমৃত সেবন।
তুমি আঁকড়ে থাকো আমাকে মাধবী লতার মত।
তুমি আঁকড়ে থাকো আমাকে স্বর্ণলতিকার মায়াডোরে।
আমি বুক ভরে নেব সুবাস প্রগলভা বুনো লতার।
বারংবার ছুঁয়ে দেব উত্থিত বৃন্ত।
অদম্য প্রতিটি ইচ্ছা এঁকে দেব মেলেধরা সবগুলো পাঁপড়িতে।

উষ্ণতার তীব্রতায় থাকা নীরব রমণীয় আবাহনে
তুমি খুলে দিও মায়াবী কপাট।
আমিও উদ্ধত হবো অনায়াসে।
অশ্বারোহী বেশে প্রবেশ করবো এতকালের অনাবিষ্কৃত অন্ধ গলিতে।
যেমন যুদ্ধের ময়দানে মুগ্ধতা চায় অবিমৃশ্যকারী যোদ্ধা।
আচ্ছাদন সরিয়ে দেখে নেব পাতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা লাজুক অপরাজিতা।
প্রশ্রয়ের সুযোগ নিয়ে ছুঁয়ে দেব তার মোহনীয় রমণীস্তবক।
বিবস্ত্র শ্রোণীর ব্যঞ্জনায় আল্পনা আঁকবে আমার অধৈর্য দশটি অঙুলি।
নন্দিত সুখ-যন্ত্রনায় শিহরণে শিহরণে জোয়ার জাগবে
তোমার প্রতিটি রন্ধ্রের নেশাতুর আরক্তিম প্রবাহে।

সদ্য উম্নোচিত তন্বীতনুর প্রগাঢ় রহস্য তৃষ্ণার
শিরশিরে কম্পন উপলদ্ধির মর্মোদ্ধার করতেই
মেঘেরা সাড়া দেবে সূর্যের ডাকে।
অতঃপর নামবে ঘোরতর বর্ষণ ।
শ্রাবণের বিরতিহীন বজ্রনিনাদে
সেই বারিপাত হোক সুতীব্র! ছাপিয়ে দিক আপগার একুল-ওকুল!
তোমার মেলে দেয়া শরীরের ভরা ভাদ্রের জোয়ারে
নির্দ্বিধায় দাঁপিয়ে বেড়াবো দুর্বার সমুদ্রের মোহনা,

আমি এক উদ্দাম সাঁতারু!

রচনাতারিখ: ২১শে এপ্রিল, ২০২১ সাল
রচনাসময়: দুপুর ০২টা ৫৭ মিনিট

If I Have to Embrace
———————– Ramit Azad

May be art of one or more people
Categories
অনলাইন প্রকাশনা

আলিঙ্গন যদি করতেই হয়


আলিঙ্গন যদি করতেই হয়

————————– রমিত আজাদ

আলিঙ্গন যদি করতেই হয়,
তুমি আত্মসমর্পন করো।
আমি ছেয়ে দেব তোমার পুরোটা শরীর।
আমি ছুঁয়ে দেব এমন সব স্পর্শকাতর আয়তায়,
যেন তোমার হৃদয় তক পৌঁছে যায়
সুধা পরশনের অদৃশ্য তরঙ্গ!

প্রেম মানেই তো আলিঙ্গনের উন্মত্ত নিস্পেষণ,
আর অধরে অধর অমিয়ের তপ্ত অমৃত সেবন।
তুমি আঁকড়ে থাকো আমাকে মাধবী লতার মত।
তুমি আঁকড়ে থাকো আমাকে স্বর্ণলতিকার মায়াডোরে।
আমি বুক ভরে নেব সুবাস প্রগলভা বুনো লতার।
বারংবার ছুঁয়ে দেব উত্থিত বৃন্ত।
অদম্য প্রতিটি ইচ্ছা এঁকে দেব মেলেধরা সবগুলো পাঁপড়িতে।

উষ্ণতার তীব্রতায় থাকা নীরব রমণীয় আবাহনে
তুমি খুলে দিও মায়াবী কপাট।
আমিও উদ্ধত হবো অনায়াসে।
অশ্বারোহী বেশে প্রবেশ করবো এতকালের অনাবিষ্কৃত অন্ধ গলিতে।
যেমন যুদ্ধের ময়দানে মুগ্ধতা চায় অবিমৃশ্যকারী যোদ্ধা।
আচ্ছাদন সরিয়ে দেখে নেব পাতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা নীল অপরাজিতা।
প্রশ্রয়ের সুযোগ নিয়ে ছুঁয়ে দেব তার মোহনীয় রমণীস্তবক।
বিবস্ত্র শ্রোণীর ব্যঞ্জনায় আল্পনা আঁকবে আমার অধৈর্য দশটি অঙুলি।
নন্দিত সুখ-যন্ত্রনায় শিহরণে শিহরণে জোয়ার জাগবে
তোমার প্রতিটি রন্ধ্রের নেশাতুর আরক্তিম প্রবাহে।

সদ্য উম্নোচিত তন্বীতনুর প্রগাঢ় রহস্য তৃষ্ণার
শিরশিরে কম্পন উপলদ্ধির মর্মোদ্ধার করতেই
মেঘেরা সাড়া দেবে সূর্যের ডাকে।
অতঃপর নামবে ঘোরতর বর্ষণ ।
শ্রাবণের বিরতিহীন বজ্রনিনাদে
সেই বারিপাত হোক সুতীব্র! ছাপিয়ে দিক আপগার একুল-ওকুল!
তোমার মেলে দেয়া শরীরের ভরা ভাদ্রের জোয়ারে
নির্দ্বিধায় দাঁপিয়ে বেড়াবো দুর্বার সমুদ্রের মোহনা,

আমি এক উদ্দাম সাঁতারু!

রচনাতারিখ: ২১শে এপ্রিল, ২০২১ সাল
রচনাসময়: দুপুর ০২টা ৫৭ মিনিট

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

ডান্ডি কার্ড চেকিং – ১, ২

আইডি কার্ড চেকিং সমাচার:

বাইরে বের হলে সাথে আইডি কার্ড অথবা পাসপোর্ট নেয়ার বিড়ম্বনায় বহু বছর ছিলাম রাশিয়াতে।খুবই অস্বস্তিকর ছিলো বিষয়টি। দিনের মধ্যে কয়েকবার পুলিশের মুখোমুখী হতে হতো, আর তারা আইডি কার্ড/পাসপোর্ট চেক করতো। কিছু পুলিশ ভদ্রসভ্য ছিলো, কিছু ছিলো রাফ! এই নিয়ে বহুবার বহু ভালো/মন্দ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। সবগুলো লিখতে গেলে মহাকাব্য হয়ে যাবে!দুই-একটা লিখছি।১। ওখানকার কার্টেসী হলো যেকোন নাগরিক-কেই পুলিশ প্রথম স্যালুট দিবে তারপর তার আইডি কার্ড/পাসপোর্ট চাইবে। একবার দুজন পুলিশ (বয়স পচিশ-ত্রিশ) আমাকে আইডি কার্ড/পাসপোর্ট চেক করার উদ্দেশ্যে থামালো, তারপর স্যালুট দিলো। উত্তরে আমিও স্যালুট দিয়ে তাদের অভিবাদন গ্রহন করলাম। এবার তারা মুখ চাওয়াচাওয়ি করলো। একজন মুচকি হেসে আরেকজনকে বললো, “তিনি স্যালুটের উত্তর দিয়েছেন!” আমি হেসে বললাম, “ভাই মিলিটারী স্কুলে লেখাপড়া করেছি, এই কার্টেসী আমার জানা আছে।” এবার তারা হেসে বললো, “থাক, আপনি যান। আর চেক করতে হবে না।”২। ছাত্রাবস্থায় সাথে পাসপোর্ট নিয়ে বের হওয়াটা বাধ্যতামূলক ছিলো। পুলিশ চেক করতো যে, আমরা ভিসা-রেজিস্ট্রেশন পাওয়া লিগাল বিদেশী, নাকি ইল্লিগাল এলিয়েন। আর যখন চাকুরীতে ঢুকলাম, তখন আর পাসপোর্ট সাথে নিতাম না। আমার সাথে সরকার প্রদত্ত আইডি কার্ড ছিলো, যেখানে স্পষ্ট লেখা ছিলো যে, আমি একটি প্রতিনিধিত্বমূলক বিদেশী অর্গানাইজেশনের কর্মকর্তা। এটাকে পুলিশ ইউজুয়ালী সমীহ করতো। তা একবার এক ঘাড়ত্যাড়া ও অভদ্র টাইপ পুলিশের পাল্লায় পড়লাম। তার র‍্যাঙ্ক ছিলো ক্যাপটেন। সে কিছুতেই এটা মানতে চায় না। বলে, “পাসপোর্ট কই? ভিসা আছে নাকি?” আমার মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো। আমিও ঝকঝকে রুশ ভাষায় ত্যাড়া কথাবার্তা বললাম। কিছুক্ষণ গজগজ করে সে চলে গেলো।৩। একদিন উইকএন্ডে বেরিয়েছি। গ্রোসারী করতে যাবো। তা দুই পুলিশ কনস্টেবল, আমার পাসপোর্ট চাইলো। আমি সরকার প্রদত্ত আইডি কার্ড-টি দেখালাম। তারা কতক্ষণ মুখ চাওয়া-চাওয়ি করে বলে, “এটা বুঝলাম না।”আমি: না বোঝার কি আছে? সব তো লেখাই আছে।পুলিশ: আপনার পাসপোর্ট কোথায়?আমি: পাসপোর্ট বাসায় আছে। সেটা নিয়ে বের হই না। আমাদের ক্ষেত্রে এই আইডি কার্ডই যথেষ্ট!পুলিশ: না ভাই। আপনাকে আমাদের সাথে থানায় যেতে হবে। গাড়ীতে ওঠেন।আমি উঠলাম ওদের গাড়ীতে। যাওয়ার পথে ওরা আমার ঝকঝকে রুশ ভাষা শুনে কিছুটা কনফিউজড হলো। যাহোক, থানায় নিয়ে একটা সোফায় বসতে বললো। এ সময় সেই ঘাড়ত্যাড়া ক্যাপ্টেন সেখানে উপস্থিত হলো। কনেস্টেবল দু’জন তাকে বলে, “ক্যাপ্টেন, দেখেন তো, এই যে উনি। উনার কাগজপত্র সব ঠিক আছে কি না?”আমাকে দেখেই ঐ ক্যাপ্টেন চিনতে পারলো; তারপর কোন কথা না বলেই সোজা থানা থেকে বের হয়ে গেলো, আর ফিরে আসার নাম নাই। এর কিছুক্ষণ পর ডিউটি অফিসার এসে বলে, “নেন ভাই আপনার আইডি কার্ড নেন। ছুটির দিন, যোগাযোগ করে কোথাও কাউকে পেলাম না। আশা করি আপনার সব বৈধতা আছে। যেখানে যাচ্ছিলেন যান।”

ডান্ডি কার্ড চেকিং – ২

গতকাল ডান্ডি কার্ড চেকিং-এর উপর একটা লেখা দিয়েছিলাম। আজ আরেকটি দিচ্ছি।

বাইরে বের হলে সাথে আইডি কার্ড অথবা পাসপোর্ট নেয়ার বিড়ম্বনায় বহু বছর ছিলাম পরাশক্তি রাশিয়াতে।
খুবই অস্বস্তিকর ও বিড়ম্বনাময় ছিলো বিষয়টি। দিনের মধ্যে কয়েকবার পুলিশের মুখোমুখী হতে হতো, আর তারা আইডি কার্ড/পাসপোর্ট চেক করতো। কিছু পুলিশ ভদ্রসভ্য ছিলো, কিছু ছিলো রাফ! অনেকেরই মাথায় থাকতো যে কোনভাবে মক্কেল-কে আটকাতে পারলে টু-পাইস ইনকাম হবে! এই নিয়ে বহুবার বহু ভালো/মন্দ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। সবগুলো লিখতে গেলে মহাকাব্য হয়ে যাবে!
গতকাল তিনটা লিখেছিলাম। আজ একটা লিখছি:

ঘটনা ৪: আমি তখন আর ছাত্র জীবনে নাই। ছাত্রাবস্থায় সাথে পাসপোর্ট নিয়ে বের হওয়াটা বাধ্যতামূলক ছিলো। পুলিশ চেক করতো যে, আমরা ভিসা-রেজিস্ট্রেশন পাওয়া লিগাল বিদেশী, নাকি ইল্লিগাল এলিয়েন। আর যখন চাকুরীতে ঢুকলাম, তখন আর পাসপোর্ট সাথে নিতাম না। আমার সাথে সরকার প্রদত্ত আইডি কার্ড ছিলো, যেখানে স্পষ্ট লেখা ছিলো যে, আমি একটি প্রতিনিধিত্বমূলক বিদেশী অর্গানাইজেশনের কর্মকর্তা। এটাকে রুশ পুলিশ ইউজুয়ালী সমীহ করতো। আমাদেরকে অনেকটা ডিপ্লোম্যাট-দের কাছাকাছিই ধরা হতো। থাকতেও দেয়া হয়েছিলো, ডিপ্লোমেটিক ব্লক-এর এ্যাপার্টমেন্ট-এ।

তা একদিন গিয়েছি অল রাশান এক্সিবিশন সেন্টার-এ। এটা একইসাথে ছিলো বেড়ানো ও কেনাকাটার জায়গা। তাই পুরো রাশিয়ার ছেলেবুড়ো সকলেই এখানে আসতো। সঙ্গত কারণেই পুলিশের আনাগোনা, টহলও ওখানে বেশী ছিলো। তা পুলিশের মধ্যে পুরুষ ও লেডী পুলিশ দুই রকমই ছিলো। অল রাশান এক্সিবিশন সেন্টার-এর একটা বড় ফোয়ারার কাছাকাছি দাঁড়িয়ে আছি। এসময়, হঠাৎ ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে দুইজন টহল পুলিশ আমার দিকে এগিয়ে এলো। এদের একজন ছিলো পুরুষ আর অপরজন লেডী পুলিশ। ঘোড়সওয়ার পুরুষ পুলিশটিকে নায়ক ওয়াসীম-এর মত একদম লাগছিলো না। আমাকে তারা বললেন, “আপনার পাসপোর্ট দেখান।” আমি তখন আর পাসপোর্ট ক্যারি করিনা, আমার আইডি কার্ডটা সাথেই ছিলো। আমি তাকিয়ে দেখলাম যে, লেডী পুলিশটি ইয়াং এবং আগুন রূপসী! আমি ডান্ডি কার্ড-টি ঐ রূপসীর হাতে তুলে দিলাম; সাথে একটা ভূবন ভোলানো হাসিও উপহার দিলাম। আমি জানি, যতই ইউনিফর্মধারী হোক না কেন, নারী তো! চতুর্দিকে শেতাঙ্গ পুরুষ দেখে দেখে সে হয়তো ক্লান্ত। এ সময় একজন শ্যামবর্ণ তরুণের মোহনীয় হাসি, তার হৃদয়ে তোলপাড় ঘটাতেও পারে! সেটা ঘটেছিলো কিনা তা সেই রূপসী তরুণী তার ফেশিয়াল এক্সপ্রেশনে আমাকে বুঝতে দেয়নি। তবে আমার অভিজ্ঞ চোখে তার হাতের রঙিন নখরওয়ালা সরু আঙুলগুলোতে কম্পন আমি ঠিকই লক্ষ্য করেছিলাম!

পিছন থেকে একটা দুষ্ট কিশোর বলে উঠলো, “এই মেয়ে, এই মেয়ে, আমার ডকুমেন্ট-টাও চেক করোনা! আমিও চেকড হতে চাই।”

আমার আইডি কার্ডটি হাতে নিয়ে রূপসী পুলিশ এক মিনিট-ও দেখলো না। দ্রুত ফিরিয়ে দিয়ে বললো, “ধন্যবাদ আপনাকে।” সহকর্মী পুরুষ পুলিশটি অস্থির হয়ে উঠলো, “কি কি? সব ঠিক আছে তো?” উঁকি ঝুঁকি দিয়ে কার্ডটি দেখতে চাইলো। এম্নিতেও পাসপোর্ট না দেখে সে অসন্তস্ট ছিলো। হা করে তাকিয়ে আছে পুরুষ পুলিশটি। আগুন রূপসী লেডী পুলিশ-টি কনফিডেন্স নিয়ে তাকে বললো, “ইটস ওকে! এভরিথিং ইজ নর্মাল। নো প্রব্লেম।”

তারপর দ্রুত ঘোড়া ঘুরিয়ে ওখান থেকে চলে গেলো! আমি কিছুক্ষণ তার চলার পথের দিকে তাকিয়ে ছিলাম! আমি তখনও পুরোপুরি কবি হইনি!!!!!

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

প্রণয়ের পরশন

প্রণয়ের পরশন
—————————– রমিত আজাদ

দুই হাতে আবেগেতে খুলেছি যে বস্ত্র,
আমাকেই সুখ দিতে, হয়েছে সে নগ্ন।
মন থেকে আমাকে সে আপনার ভেবেছে,
কায়া ভরা সুখ নিয়ে কেঁপে কেঁপে উঠেছে!

জানিনাতো, ছিলো কি তা আইনত পরিণয়?
তবে ঠিক জানি আমি, ছিলো না তা অভিনয়।
সুখ নিয়ে সুখ দিয়ে, করেছি কি মহাপাপ?
কই তুমি করোনি তো এতটুকু প্রতিবাদ!

তাও আমি বলেছিতো, “অনুমতি নেব কি?”
উত্তরে বলেছিলে, “প্রয়োজন আছে কি?”
বলেছিলে তুমি তায়, “দুইজন, কি আপন!
আর মোরা নই পর, তুমি আমি একমন।”

যেই সুখ, যে আবেশ ছিলো তব চোখে-মুখে,
বৃষ্টির ধারা যেন ঝরেছিলো নীলিমাতে!
বৈশাখী ঝড় যেন ছেয়েছিলো দু’নয়ন,
সবটুকু ছিলো সে তো ভালোবাসা পরশন।

সেই রাতে, সেই প্রাতে দু’জনার তর্জন!
আষাঢ়ের মেঘে যেন বজ্রের গর্জন!
বিজলীর চমকানি নির্জনে চুপচাপ,
নিউরনে সুর তুলি, রাগিনীর বৈভব।

অশনিতে যদি বাজে বিপদের ডঙ্কা,
প্রণয়ের সেনা আমি, করিনাতো শঙ্কা।
কই তুমি করোনি তো এতটুকু প্রতিবাদ!
সুখ নিয়ে সুখ দিয়ে, করেছি কি মহাপাপ?

সুর হলে অবসান, চোখে চোখে আলাপন,
মাঝে মাঝে বাকহীন মৃদু মৃদু পরশন।
স্বর্গটা আছে কোথা, কভু তাকে দেখিনি,

সেদিনের সুর ছিলো স্বর্গীয় রাগিনী!

রচনাতারিখ: ১৬ই এপ্রিল, ২০২১ সাল
রচনাসময়: রাত ০২টা ৪৭ মিনিট

The Love Touch
———————– Ramit Azad

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

দ্বিতীয় তরঙ্গ

দ্বিতীয় তরঙ্গ
————————————— রমিত আজাদ

দোসরা দফায় ঢেউ জেগেছে ক্ষুদ্র জীবের সৃষ্টিতে,
পিষ্ট যে আজ মানব-দানব নির্যাতনের যষ্টিতে।
মৃত্যু-দূতের নিষ্ঠুরতায় বাড়ছে গোরের খননকাজ,
নিজ মহলে নিজেই কয়েদ, নিজের কাছেই বন্দী আজ!

সংকটে আজ পথের দাবী, পথহারা সব যাত্রীদল,
দিনের আলোয় অন্ধ আকাশ, মৃত্যুপথের অস্তাচল!
ঊষার শিখায় বন্ধ দুয়ার, আশার আলো নিরুদ্দেশ,
বিনিদ্র সব নিদ্রাবিলাস, ক্ষুৎ-পীড়িতের হা-পিত্যেশ!

থমকে গেছে পথিক পথে, পথ চলা তার আজ নিষেধ,
ক্ষুদ্র জীবের আক্রমণে আমীর-ফকির নাই প্রভেদ।
শ্যামল শোভায় মরুর ধুধু, মরিচিকার হাতছানি,
নিরুদ্দেশের যাত্রী সবাই, লুপ্ত ফুলের ফুলদানী।

বলির কাঠে শ্বাপদ ডাকে, ভয়ার্ততার এক ফাঁদে,
ঢলছে পড়ে মাটির কোলে, উৎপীড়িতের প্রাণ কাঁদে!
রাগ-অনুরাগ, গুল্মলতা সব যেন আজ অর্থহীন,

কাল কি হবে? আজ কে জানে? সেই ভাবনায় অন্তরীণ!

রচনাতারিখ: ১৬ই এপ্রিল, ২০২১ সাল
রচনাসময়: রাত ০১টা ২৭ মিনিট

Second Wave COVID-19
———————————– Ramit Azad

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

খোশ আমদেদ রমজান

খোশ আমদেদ রমজান
———————————– রমিত আজাদ

ছিলো অন্ধকারের বন্ধ দূয়ারে অন্ধ মানবজাতি,
সেই আঁধারে জ্বালিলেন তিনি নবীন জ্ঞানের ভাতি।
হেরার গুহায় মহামানবের মহান ভাবের ধ্যান,
উম্মী নবীর নূরাণী চরণে লুটিয়া পড়িলো জ্ঞান।

দানিলেন তিনি জীবন বিধান, তাওহীদ ও খিলাফত,
শেরেকী ঘুচিয়ে বান্দা শিখিলো, রবের দেখানো পথ।
জাহেলিয়া যুগে গুণাহ্‌গার ছিলো পাপাচারে নিশিদিন,
সেই বিনাশীরে দেখাইলো তব, ‘সিরাতুল মুস্তাকিম’।

মরুর সাধক দানিলো নয়নে, তামজীদী নয়া জ্যোতি,
জিন্দেগী তাতে হবে রোশনাই, মুছিয়া সকল ক্ষতি!
যদি নাও মানি তাহার বিধান, দানিলেন যাহা প্রভু,
দ্যুলোক-ভুলোকে মিলিবে উপল, রহিবেনা দুখ্‌ কভু।

পাঁচটি ফরজের অন্যতম সিয়াম সাধনা ভাই,
হিজরী তারিখে আসিলো ফিরিয়া মাহে রমজান তাই।
আশমানে তব দেখিলো হেলাল জাহান-ই-মুসলমান,
খোশ খবরেতে দুলিলো হৃদয়, নাচিয়া উঠিলো প্রাণ!

আবার মিলিলো সুযোগ সবারই কুড়াইতে ফজিলত,
সওয়াব হাসিলে করিবে মোমীন বন্দেগী ইবাদত।
উম্মত তাঁর কাঁদিবে দুচোখে চাহিয়াতে শাফায়াত,
সেহেরী হইতে ইফতার তক শুনিবে দ্বীনের ডাক।

যাকাত ফিৎরা গরীবেরে দিবে, নিজে থাকি অনাহার;
ক্বদরের রাতে, সিজদা রুকুতে লুটাইবে গুণাহ্‌গার।
কাটিবে মোমিনের একটি মাহিনা শুদ্ধ করিতে প্রাণ,

পাইতে নাজাত তুলিবো দুহাত, খোশ আমদেদ রমজান!

রচনাতারিখ: ১৪ই এপ্রিল, ২০২১ সাল
রচনাসময়: রাত ১২টা ৫৬ মিনিট

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

নও বোশেখে নবীন আশা

নও বোশেখে নবীন আশা
——————————— রমিত আজাদ

রুদ্র বোশেখ আসলো ছুটে, আনলো নতুন বছর;
বৈশাখী ঝড় মাতাল হাওয়ায় জমলো নবীন আসর।
খঞ্জনা তার গান শোনালো নাম না জানা বনে,
অঞ্জনারা সাজলো শোভায়, রঙ লাগিয়ে মনে।

পুকুর পারে ধানশালিখের ঝাঁকের কিচিমিচি,
পারুল বনে হাসির রাশি, রোদের ঝিকিমিকি।
ঘরের দাওয়ায় গরম হাওয়ায় হাতপাখাটার দোল,
তাপ তেতেছে বৃক্ষশাখে, ফুটলো আমের বোল।

বাগান বিলাস, ফুল মাধবী মঞ্জুরিত তায়,
গন্ধরাজের শুভ্র শোভায় ছন্দ সুবাস বায়।
পলাশ লালী গুলমোহরের পাঁপড়ি ঝরে হায়,
শিমুল শাখে লক্ষীপ্যাচা বৈশাখী গান গায়।

ইন্দ্রজালী বংশীবাদক সুর তুলেছে গাঁয়ে,
কংস নদীর ধ্বংস স্রোতে পাল তুলেছে নায়ে।
কার হৃদয়ে পূর্ণিমা চাঁদ, কার আঁখিতে আশা?
কোন কুহকী এই বোশেখে, খুঁজবে নিগূঢ় ভাষা।

গ্রীস্মকালীন উষ্ণ বায়ে উড়ছে রঙিন ঘুড়ি,
ছুটছে নদী, ছুটছে তরী, ছুটছে কালের ঘড়ি।
বছর গেলো, বছর এলো, পাল্টাবে কি সুর?

তাও বেঁধেছি নতুন আশা, পথ চলেছে দূর!

রচনাতারিখ: ১৩ই এপ্রিল, ২০২১ সাল
রচনাসময়: রাত ১০টা ২৭ মিনিট

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

মৈথিলীর হাসি

মৈথিলীর হাসি
——————— রমিত আজাদ

মৈথিলীর নগ্ন শরীর কখনোই দেখিনি,
দেখার ইচ্ছেও জাগেনি কোন ক্রমেই!
কি হবে শরীর দেখে?
মৈথিলীর হাসিই তো সব!

নয়মাসী শীতের দেশে কুয়াশার আস্তরন কেটে
হঠাৎ উষ্ণ বসন্ত এলে,
শ্বেতাঙ্গিনী তরুণীদের পোষাকও সংক্ষিপ্ত হয়ে আসে।
তাদের অর্ধ অনাবৃত পরিপুষ্ট স্তনযুগলে
প্রলুদ্ধ দৃষ্টি হেনেছি বহুবার।
তদুপরী মৈথিলীর স্তন কতটা পুরুষ্টু ?
সেটা দেখার আগ্রহ জাগেনি কখনোই।
ওর স্তনের নিচের হৃদয়টার খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করতাম সারাক্ষণ।

রোদেলা সৈকতে আধো উদোম শ্বেতবর্ণ ললনাদের
দেহের উদ্বেল ঢেউ দেখেছি অনেক।
খড়তাপে ছড়ানো তাদের দুবাহুর মসৃণ রোমহীন কাঁক
আমার নিবদ্ধ দৃষ্টিতে ভস্মিভূত হয়েছে বারংবার।

তারপরেও আস্তিনহীন জামায় মৈথিলীকে কেমন দেখাবে
সে কথা একবারও মনে জাগেনি।
আমার বাড়িয়ে দেয়া হাতে মৈথিলীর অঙ্গুলীর স্পর্শই তো
ঝড় তুলেছিলো আমার অস্থির বুকে।

নিদাঘী য়ুরোপীয় রাজপথে হেটে চলা
কাঁচুলিবিহীন ক্ষুদ্র নিচোলী তরুনীদের
অবাধ্য নিতম্বের দুরন্ত স্পন্দন
পলকহীন লোভাতুর দৃষ্টিতে দেখেছি ফিরে ফিরে।

ছোটখাট গড়নের মৈথিলীর নিতম্বের বাড়তি স্ফীতি,
সেই আমাকে মোটেই পুলকিত করেনি।
ওর উপচে পড়া উল্লসিত
আঁখিতেই আমি উচ্ছাসী পুলক খুঁজে পেতাম।

রতিচিত্র দেখা উত্তাল যৌবনের
কনকনে শৈত্যপ্রবাহী নিভৃতবিলাসী মধ্যরাতে,
কামাসক্ত অগ্নিউনানী চোখে একবারও দেখিনি
মৈথিলীর সাথে মৈথুনের স্বপ্ন।

মৈথিলীর শিশির ভেজা কালো চুলগুলো ছুঁয়ে ছুঁয়ে
কেবলই বলতে ইচ্ছে করতো
ঐ আবহমান যুগ্ম-নয়নের ধ্রুপদী ধারায়
তুমি আমার বিস্তৃত সায়র!

কে বলে যে, পুরুষ কেবল নারীর শরীরতত্ত্বেই আসক্ত?

প্রেমের পবিত্রতার নন্দনতত্ত্বে কায়ার ঊর্মিমালা গৌণ।

রচনাতারিখ: ০২রা এপ্রিল ২০২১ সাল।
রচনাসময়: দুপুর ১১টা ২৭ মিনিট।

The Smile of Maithili
—————– Ramit Azad

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

অভিসারে শাড়ি

অভিসারে শাড়ি
——————— রমিত আজাদ

পছন্দের এক পোশাক শাড়ি;
হোক ষোড়শী নয় কিশোরী, পড়লে শাড়ি, তবেই নারী।
যখন হতাম অভিসারী, আসতো নারী, জড়িয়ে শাড়ি!
নারী হলো পুরুষ মনের মহান উপহার,
দৃষ্টি হবে, মুগ্ধ হবো; এই তো অভিসার!

শাড়িই যদি না পড়লো, আমার প্রেমিকা!
কেমন করে মুগ্ধ হবো, কানন বালিকা?
ঝলকে উঠে চমকায় রঙ মিষ্টি গালের কূপ।
ইন্দ্রজালী ঐ পোশাকে উপচে পড়ে রুপ!

জামদানি হোক নওভারী হোক, কিংবা মহিশুরী;
সব শাড়িতেই মানাবে তায়, মেঘনা পারের নারী!
প্রেয়সী মোর ঢাকাই তাঁতেও পরী বাধনহারা!
শাড়ির মায়ায় যাই হারিয়ে, প্রেমিক মাতোয়ারা!

মন মোহনায় সব প্রেয়সীই ছুটে আসা নদী,
সাগর আমি কেমনে হবো, শাড়ি না পাই যদি?
ডুববে নদী সাগর জলে, মিলবে ঢেউয়ে ঢেউয়ে,
শাড়ির ঢেউয়েই দুলবে হৃদয়, আকাশ ছুঁয়ে ছুঁয়ে!

শাড়ির সাথে নারীর আছে প্রাচীন যোগাযোগ,
‘শাড়ি ছাড়া নয় অভিসার’, আমার অনুরোধ!
প্রেয়সীরা আসতো যে তাই, শাড়ির শোভায় সেজে,

ভালোবাসার পান্না হিরে পেতাম শাড়ির ভাজে।

রচনাতারিখ: ৯ই এপ্রিল, ২০২১ সাল
রচনাসময়: দুপুর ১২টা ৫৮ মিনিট

Saree Dating
——————— Ramit Azad

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

মৈথিলী তুমি

মৈথিলী তুমি
——————— রমিত আজাদ

ঢাকার আকাশে বৃষ্টি হতে দেখলে
আমার খুব ভিজতে ইচ্ছে করে!
মন চাইলেই দালানের ছাদে উঠে
ইচ্ছেমত ভিজতে পারি নিশ্চয়ই।

না, এই ভেজা আমি চাইনা।
আমি চেয়েছিলাম,
ঢাকার জনবহুল রাজপথে
অথবা রমনার নির্জন সবুজে,
তোমার হাত ধরে ভিজতে!

বাংলা থেকে গুজরাত-এর দূরত্ব কতটুকু?
চট্টলা থেকে লোথাল-এর ব্যবধান যতটুকু?
জানিনা, মেপে দেখার সুযোগও হয়নি কখনো!
দিল্লীতক গিয়েছিলাম একবার,
ভেবেছিলাম, আরেকটু পশ্চিমে গেলেই তো তোমার শহর।
যাবো নাকি একবার?

তারপর ভাবলাম,
না থাক।
শূণ্যতার শহরে গিয়ে কাজ নেই।
ঘরবাড়ী, দালান-কোঠা, মন্দির-মাজার,
পথ-ঘাট, অফিস-আদালত, রবিবারি বাজার
সবই আছে ঐ শহরে।
শুধু তুমিই নেই!
যেখানে তুমি নেই,
সেই শহর আমার কাছে শূণ্যতার ময়দান!

মহাসাগরের এপারে আমি, আর ওপারে তুমি!
আচ্ছা কি হতো, কলম্বাসের জাহাজটি যদি ডুবে যেত,
হারিয়ে যেত অতলান্তিকের গভীর তলদেশে?
ইন্ডিজ শুধু ইস্টেই রয়ে যেত, তাইনা?
তখন হয়তো তুমি আমি দুজনাই
মহাসাগরের এপারেই রয়ে যেতাম।

তারপর,
কোন এক সুযোগ বুঝে,
আকবর-এর সাম্রাজ্য থেকে
তোমাকে নিয়ে আসতাম ঈসা খাঁ-র দেশে।
এই নিয়ে আরেকটি ট্রয়ের যুদ্ধ হয়তো হত না!
‘ওয়ার ফর প্রিন্সেস’, অর
‘এ লিটল রোমান্স ইন দ্যা ওয়ার!’
এ যুগে বেমানান বোধহয়!
আমি নিশ্চিত, নতুন কোন ডুয়েল যুদ্ধ হলে,
মানসিংহ-রা আবারো পরাজিত হবে।

মৈথিলী,
আমি এখনো অপেক্ষায় থাকি, এই শহর কখন কৃষ্ণচূড়ায় ছেয়ে যাবে।
আমি এখনো অপেক্ষায় থাকি, এই শহর মাধবীলতার সুবাসে ভেসে যাবে।
আমি এখনো অপেক্ষায় থাকি, এই শহর বোশেখের রুদ্র ঝড়ে উত্তাল হবে।
আমি এখনো অপেক্ষায় থাকি, শীর্ণ বালু নদীর বুকে আবারো সাম্পান ভাসবে।

বর্ষার অঝোর ধারায় ভিজে যাবে
আধুনিক ঢাকার রাজপথ, ফ্লাই-ওভার, মেট্রো-রেলের পিলার,
দৈত্যাকার শপিংমল, থীম পার্ক, সিনেপ্লেক্স, সব সবকিছু।
সেদিনের মত, আমাদের হাতের ছাতাদুটো ছুঁড়ে ফেলে দেব,
অঙ্কুরিত ব্যাগ্র শস্যের মত আমরা স্বেচ্ছায় ভিজবো।
আমার কর্কশ হাতে তোমার পেলব হাত।
পাঁচ পাঁচ দশটি আঙুলের সোহাগের ছোঁয়াছুয়ি!
কিই বা এমন বয়স হয়েছে আমাদের?

চাইলে কি আমরা আরেকবার কাছাকাছি হতে পারিনা?

রচনাতারিখ: ৭ই এপ্রিল, ২০২১ সাল
রচনাসময়: রাত ০১টা ৫৭ মিনিট

Maithili You
—————— Ramit Azad

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

মৈথিলীর হাসি

মৈথিলীর হাসি
——————— রমিত আজাদ

মৈথিলীর নগ্ন শরীর কখনোই দেখিনি,
দেখার ইচ্ছেও জাগেনি কোন ক্রমেই!
কি হবে শরীর দেখে?
মৈথিলীর হাসিই তো সব!

নয়মাসী শীতের দেশে কুয়াশার আস্তরন কেটে
হঠাৎ উষ্ণ বসন্ত এলে,
শ্বেতবর্ণ তরুণীদের পোষাকও সংক্ষিপ্ত হয়ে আসে।
তাদের অনাবৃত পরিপুষ্ট স্তনযুগলে
প্রলুদ্ধ দৃষ্টি হেনেছি বহুবার।

তদুপরী মৈথিলীর স্তন কতটা পুরুষ্টু ?
সেটা দেখার আগ্রহ জাগেনি কখনোই।
ওর স্তনের নিচের হৃদয়টার খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করতাম।

রোদেলা সৈকতে আধো উদাম শ্বেতাঙ্গিনীদের
দেহের ঢেউ দেখেছি অনেক।
খড়তাপে ছড়ানো তাদের দুবাহুর পেলব রোমহীন কাঁক
আমার নিবদ্ধ দৃষ্টিতে ভস্মিভূত হয়েছে বারংবার।

তারপরেও আস্তিনহীন জামায় মৈথিলীকে কেমন দেখাবে
সে কথা একবারও মনে মনে জাগেনি।
আমার বাড়িয়ে দেয়া হাতে মৈথিলীর অঙ্গুলীর স্পর্শই তো
ঝড় তুলেছিলো আমার অস্থির বুকে।

নিদাঘী য়ুরোপীয় রাজপথে হেটে চলা
কাঁচুলিবিহীন ক্ষুদ্র নিচোলী তরুনীদের
অবাধ্য দুরন্ত নিতম্বের স্পন্দন
পলকহীন লোভাতুর দৃষ্টিতে দেখেছি বারংবার।

ছোটখাট গড়নের মৈথিলীর নিতম্বের বাড়তি স্ফীতি,
সেই আমাকে মোটেই পুলকিত করেনি।
ওর উপচে পড়া উল্লসিত
আঁখিতেই আমি উচ্ছাসী পুলক খুঁজে পেতাম।

রতিচিত্র দেখা উত্তাল যৌবনের
কনকনে শৈত্যপ্রবাহী নিভৃতবিলাসী মধ্যরাতে,
কামাসক্ত অগ্নিউনানী চোখে একবারও দেখিনি
মৈথিলীর সাথে রতিক্রিয়ার স্বপ্ন।

মৈথিলীর কালো চুলগুলো ছুঁয়ে ছুঁয়ে
কেবলই বলতে ইচ্ছে করতো
ঐ আবহমান যুগ্ম-নয়নের ধ্রুপদী ধারায়
তুমি আমার বিস্তৃত সায়র!

কে বলে যে, পুরুষ কেবল নারীর শরীরতত্ত্বেই আসক্ত?

প্রেমের পবিত্রতার নন্দনতত্ত্বে কায়ার ঊর্মিমালা গৌণ।

রচনাতারিখ: ০২রা এপ্রিল ২০২১ সাল।
রচনাসময়: দুপুর ১১টা ২৭ মিনিট।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

উন্মাদ ঝড়

উন্মাদ ঝড়
—————— রমিত আজাদ

কাল রাতে খুব ঝড় হয়েছিলো!
পুরাকালীন বাংলোয় শুয়ে আমি শুনতে পেয়েছিলাম
উত্তাল ঝড়ের শোঁ শোঁ শব্দ,
আর অসহায় টিনের চালে
রিমঝিম বৃষ্টির সেতারের সুর!

একবার বারান্দায় বেরিয়েছিলাম,
দেখলাম উন্মাদী চৈতালী ঝড় আন্দোলন তুলেছে
বাগানের প্রতিটি বৃক্ষের আতংকিত কায়ায় কায়ায়!

পাখীরা কেন জানি নিস্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলো!
সেই সাথে থেমেছিলো ঝিঁঝিঁ-দের ডাক।
আচ্ছা, ঝড় আসলে ওরা কি বাক-স্বাধীনতা হারায়?

আমিও নির্বাক ছিলাম কিছুটা সময়।
তারপর চিৎকার করে উঠলাম,
“ওরে, তোমরা সবাই জাগো। দেখো ঝড়েরও সৌন্দর্য্য আছে!”

গৃহস্থরা জেগে উঠলো অকস্মাৎ!
ধূপধাপ দৌড়ঝাঁপ শুরু হলো,
সৌন্দর্য্য নয়, ওরা কদর্যতা দেখে এই ঝড়ে!
কেউ টিন সামলায়, কেউ বা গাছ বাঁধে।
হাঁস-মুরগী, গবাদী পশুদেরও নিরাপদে রাখতে হবে।
গৃহস্থের এইটুকুই তো সম্পদ!

অসময়ী ঝড় কাউকে জানান দিয়ে আসে না!
তবুও তাৎক্ষণিক বুক চিতিয়ে দাঁড়ায় গ্রামবাসী।

ঝড়ের মোকাবেলা করতেই হবে!

রচনাতারিখ” ৩০শে মার্চ, ২০২১ সাল
রচনাসময়: দুপুর ২টা ৪৫ মিনিট

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

কে যে আমার মনের মণি?

কে যে আমার মনের মণি?
——————————- রমিত আজাদ

তোমরা সবাই জানতে চেলে,
কে যে আমার মনের মণি?
আমি বলি থাকনা সওয়াল,
নাইবা তাকে চিনি জানি!

তোমার মণি তোমার কাছে,
আমার মণি মোর।
মনে মনেই মণি মোদের,
স্বপ্ন, নিশা, ঘোর!

মণির সাথে মন বিনিময়,
কে করেনাই বলো?
বিনি টাকায় বিকিকিনি,
মণির সাথেই হলো।

মণি দিয়েই মণি মেলে,
মনেই মেলে মণি।
মনের বাগান মণিই সাজায়,
মণিই বাজায় ধ্বনি।

মনের ঘরে প্রতিধ্বনি,
রুপ ধাঁধানো মণি!
এত রুপের পান্না-পলা,
মনের দামেই কিনি।

প্রবাল বলো, কোরাল বলো,
কিংবা পদ্মরাগ।
পান্না কিবা পার্ল-ফিরোজা,
যেই মণিতেই থাক।

সব মণিতেই রুপের ঝলক,
মনের ঘরে ঝলকায়!
মণির শোভা মনের মাঝে
সব ঋতুতেই চমকায়!

রত্ন-শোভায় চিনি তাকে,
সেই যে মোদের হীরা-চুনী।
আমরা সবাই দিনের শেষে

মণির কাছেই থাকি ঋণী!

রচনাতারিখ: ১০ই ফেব্রুয়ারী, ২০২১ সাল
রচনাসময়: রাত ১২টা ২০ মিনিট (বাংলাদেশ)

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

কে বলে তুমি পাশে নাই?

কে বলে তুমি পাশে নাই?
——————————- রমিত আজাদ

কে বলে তুমি পাশে নাই?
তুমি পাশে আছো বলে গান লিখি তাই।
দুটি চোখে চোখ রেখে সুর সেধে যাই,
আঁখি বলে, পাখি উড়ে নীড় খুঁজে পাই।

ওগো মোর প্রিয়তমা থাকো কিবা নয়,
স্মৃতির পাতায় আছো, এই ভালো হায়!
বনের ছায়ায় আছো, আছো নীলিমায়,
তোমার সুবাস ভাসে দক্ষিণা হাওয়ায়।

কৃষ্ণচূড়া সাজে তোমার তৃষায়,
চন্দ্রপ্রভা লাজে হারালো দিশায়!
স্বপ্নবিলাস কিসে ঘুমের ঘোরে?
নির্ঘুম রাত ঢলে আলোর ভোরে।

না ফোটা ফুলের কলি ঝরেও থাকে,
না গাওয়া গানের ডালি সুরেও ডাকে।
মিলনে পেলাম কিনা, এতো বড় নয়!

বিরহেও কভু কভু সব পাওয়া যায়।

রচনাতারিখ: ০৯ই ফেব্রুয়ারী, ২০২১ সাল
রচনাসময়: রাত ১১টা ০৯ মিনিট (বাংলাদেশ)

Who Says You’re Not There?
———————— Ramit Azad

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

নদীটিরে বলে দিও

নদীটিরে বলে দিও
————————- রমিত আজাদ

নদীটিরে বলে দিও তার সাথে কথা নাই,
তীরে তীরে হেটে হেটে আর কত দূরে যাই?
সখা তার তৃষা নিয়ে জল ছুঁতে চেয়েছে,
অত জল বুকে ধরে নদী কোথা ছুটেছে?

তীর ধরে হেটে হেটে আমি বড় ক্লান্ত,
তাও তীর ভাঙ্গে নাকো নদীটার প্রান্ত।
জলে তার সুগভীর আবেগের হাতছানী,
ঝাঁপ দিলে ঐ জলে হবে ঠিক প্রাণহানী।

ভাবছি কি দেব প্রাণ, অভিমানে অভিমানে?
তাও যদি নদী বোঝে ছুটেছে কে তার পানে।
জলে তার ছায়া পড়ে মোর দেহ আত্মার,
ছায়া দোলে ঢেউ তালে নদীটির সত্তার।

নদী তুমি যাও কোথা এই বেলা ফিরে চাও,
পাশাপাশি চলছি যে এইটুকু টের পাও?
তীর ছেড়ে একদিন ঠিকঠিক দেব ঝাঁপ,

দিক লোকে ধিক্কার, হয় হবে হোক পাপ।

রচনাতারিখ: ০৫ই ফেব্রুয়ারী, ২০২১ সাল
রচনাসময়: দুপুর ০১টা ৪৯ মিনিট (বাংলাদেশ)