Categories
অনলাইন প্রকাশনা

কে যে আমার মনের মণি?

কে যে আমার মনের মণি?
——————————- রমিত আজাদ

তোমরা সবাই জানতে চেলে,
কে যে আমার মনের মণি?
আমি বলি থাকনা সওয়াল,
নাইবা তাকে চিনি জানি!

তোমার মণি তোমার কাছে,
আমার মণি মোর।
মনে মনেই মণি মোদের,
স্বপ্ন, নিশা, ঘোর!

মণির সাথে মন বিনিময়,
কে করেনাই বলো?
বিনি টাকায় বিকিকিনি,
মণির সাথেই হলো।

মণি দিয়েই মণি মেলে,
মনেই মেলে মণি।
মনের বাগান মণিই সাজায়,
মণিই বাজায় ধ্বনি।

মনের ঘরে প্রতিধ্বনি,
রুপ ধাঁধানো মণি!
এত রুপের পান্না-পলা,
মনের দামেই কিনি।

প্রবাল বলো, কোরাল বলো,
কিংবা পদ্মরাগ।
পান্না কিবা পার্ল-ফিরোজা,
যেই মণিতেই থাক।

সব মণিতেই রুপের ঝলক,
মনের ঘরে ঝলকায়!
মণির শোভা মনের মাঝে
সব ঋতুতেই চমকায়!

রত্ন-শোভায় চিনি তাকে,
সেই যে মোদের হীরা-চুনী।
আমরা সবাই দিনের শেষে

মণির কাছেই থাকি ঋণী!

রচনাতারিখ: ১০ই ফেব্রুয়ারী, ২০২১ সাল
রচনাসময়: রাত ১২টা ২০ মিনিট (বাংলাদেশ)

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

কে বলে তুমি পাশে নাই?

কে বলে তুমি পাশে নাই?
——————————- রমিত আজাদ

কে বলে তুমি পাশে নাই?
তুমি পাশে আছো বলে গান লিখি তাই।
দুটি চোখে চোখ রেখে সুর সেধে যাই,
আঁখি বলে, পাখি উড়ে নীড় খুঁজে পাই।

ওগো মোর প্রিয়তমা থাকো কিবা নয়,
স্মৃতির পাতায় আছো, এই ভালো হায়!
বনের ছায়ায় আছো, আছো নীলিমায়,
তোমার সুবাস ভাসে দক্ষিণা হাওয়ায়।

কৃষ্ণচূড়া সাজে তোমার তৃষায়,
চন্দ্রপ্রভা লাজে হারালো দিশায়!
স্বপ্নবিলাস কিসে ঘুমের ঘোরে?
নির্ঘুম রাত ঢলে আলোর ভোরে।

না ফোটা ফুলের কলি ঝরেও থাকে,
না গাওয়া গানের ডালি সুরেও ডাকে।
মিলনে পেলাম কিনা, এতো বড় নয়!

বিরহেও কভু কভু সব পাওয়া যায়।

রচনাতারিখ: ০৯ই ফেব্রুয়ারী, ২০২১ সাল
রচনাসময়: রাত ১১টা ০৯ মিনিট (বাংলাদেশ)

Who Says You’re Not There?
———————— Ramit Azad

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

নদীটিরে বলে দিও

নদীটিরে বলে দিও
————————- রমিত আজাদ

নদীটিরে বলে দিও তার সাথে কথা নাই,
তীরে তীরে হেটে হেটে আর কত দূরে যাই?
সখা তার তৃষা নিয়ে জল ছুঁতে চেয়েছে,
অত জল বুকে ধরে নদী কোথা ছুটেছে?

তীর ধরে হেটে হেটে আমি বড় ক্লান্ত,
তাও তীর ভাঙ্গে নাকো নদীটার প্রান্ত।
জলে তার সুগভীর আবেগের হাতছানী,
ঝাঁপ দিলে ঐ জলে হবে ঠিক প্রাণহানী।

ভাবছি কি দেব প্রাণ, অভিমানে অভিমানে?
তাও যদি নদী বোঝে ছুটেছে কে তার পানে।
জলে তার ছায়া পড়ে মোর দেহ আত্মার,
ছায়া দোলে ঢেউ তালে নদীটির সত্তার।

নদী তুমি যাও কোথা এই বেলা ফিরে চাও,
পাশাপাশি চলছি যে এইটুকু টের পাও?
তীর ছেড়ে একদিন ঠিকঠিক দেব ঝাঁপ,

দিক লোকে ধিক্কার, হয় হবে হোক পাপ।

রচনাতারিখ: ০৫ই ফেব্রুয়ারী, ২০২১ সাল
রচনাসময়: দুপুর ০১টা ৪৯ মিনিট (বাংলাদেশ)

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

তৃষ্ণার মায়াজলে চাঁদ

তৃষ্ণার মায়াজলে চাঁদ
———————– রমিত আজাদ

তৃষ্ণার মায়াজলে ডুবে থাকা নদীরা,
জোছনার সুরা পানে তীব্রতা মদিরা।
শিশিরের বিম্বে চাঁদ হাসে মমতায়,
চাঁদ আর জল মিশে লীন হয় দ্রাঘীমায়।

চাঁদেরও তো তৃষা আছে, জলপানে অস্থির,
জলঢেউ আলোড়নে চাঁদ কাঁপে তিরতির।
অভিসারী শর্বরী চাঁদটাকে দেয় ঘোর,
তমসাতে তাই চাঁদ পেতে চায় বাহুডোর।

হবে কিবা মেপে মেপে গভীরতা নদীদের,
তার চেয়ে ছায়া মাপো চাঁদ দেখা পথিকের।
কালাপানি কয়েদীর দোষটা কি ছিলো জানো?
চাঁদ ছুয়ে দেখেছিলো, মানো কিবা নাই মানো।

চাঁদ কেনো এসেছিলো চুপি চুপি তার ঘরে?
পরশের হরষণে সুখ নিতে বুক ভরে।
আকাশের চাঁদ তাই ধরণীতে আসে ছুটি,

এই ভাবে জলে ডুবে চাঁদ হয় কুটি কুটি!

রচনাতারিখ: ০৫ই ফেব্রুয়ারী, ২০২১ সাল
রচনাসময়: রাত ০১টা ০৯ মিনিট

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

মোহনীয় মণি

মোহনীয় মণি
————————— রমিত আজাদ

জন্মের দিনটিতে মণি বেশ সাজলো,
কাজল আর টিপ দিয়ে ঝংকারে বাজলো!
এত রুপ নিয়ে মণি ধরণীতে এসেছে,
আজকের দিনটিতো তার রুপে সেজেছে!

জন্মটা নাই হলে মণিকে কি দেখতাম?
ঐ চোখে চোখ রেখে আবেগে কি ভাসতাম?
আমরা তো সুখী তার জন্মটা হলো বলে,
তাই তাকে দেই ফুল, শিশিরের ভেজা জলে।

কালোকেশী মণি আজ লাল জামা পড়লো,
আল্পনা কারুকাজে রংধনু ঝরলো।
মুক্তোর মণিহারে মণি যেন মহারাণী!
মোহনীয় হাসি হেসে, দিলো কি সে হাতছানি?

ফুলে ফুলে প্রাণঢালা দেই অভিনন্দন,
কপালেতে মেখে দেই জোছনার চন্দন!
সাগরের ঐ পারে মণি আজ হেসেছে,

এই পারে কেউ তাকে ভেবে ভেবে কেঁদেছে!

রচনাতারিখ: ৪ঠা ফেব্রুয়ারী, ২০২১ সাল
রচনাসময়: বিকাল ৪টা ২৫ মিনিট (বাংলাদেশ)

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

কুহেলিকা তুমি আমি
——————————— রমিত আজাদ

সংসারের চতুর্মুখী চাপে পড়ে তোমাকে ভুলে যাই,
পেটের ক্ষুধার চিরন্তন যাতনায় তোমাকে ভুলে যাই,
রুটি-রুজীর চিন্তায় পড়ে তোমাকে ভুলে যাই,
অফিস পলিটিক্সের ঊর্ণনাভ জালে পড়ে তোমাকে ভুলে যাই,
তারপরেও তোমাকে স্বপ্নে দেখি।

স্ত্রীর সাথে কলহ করতে গিয়ে তোমাকে ভুলে যাই,
বাড়ী ভাড়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে তোমাকে ভুলে যাই,
সন্তানের আবদার মেটাতে গিয়ে তোমাকে ভুলে যাই।
প্রতিবেশীর সাথে বিবাদ করতে গিয়ে তোমাকে ভুলে যাই।
তারপরেও গভীর রাতে তোমাকে মনে পড়ে।

ফেসবুকে রূপসীদের স্টোরী দেখতে দেখতে তোমাকে ভুলে যাই,
কলিগ দম্পতীর সূখী ছবি দেখতে দেখতে তোমাকে ভুলে যাই,
নতুন প্রজন্মের গাওয়া গজল শুনতে শুনতে তোমাকে ভুলে যাই,
পুরাতন বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে দিতে তোমাকে ভুলে যাই,
তারপরেও কাকডাকা ভোরে তোমাকে মনে পড়ে।

রাজনীতির কূটিল আলোচনা করতে করতে তোমাকে ভুলে যাই,
গণিতের জটিল সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে তোমাকে ভুলে যাই,
গবেষণার নতুন ম্যাটেরিয়াল সন্ধান করতে করতে তোমাকে ভুলে যাই,
আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের সেশন চেয়ারে বসে তোমাকে ভুলে যাই,
তারপরেও মন উদাস করা বিকেলে তোমাকে মনে পড়ে।

ধনী বন্ধুর আদুরে মেয়ের জন্য যোগ্য বর খুঁজতে গিয়ে তোমাকে ভুলে যাই,
পদস্থ ব্যাক্তিদের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন করতে গিয়ে তোমাকে ভুলে যাই,
ঢাকার অসহনীয় জ্যামে ঘামতে ঘামতে তোমাকে ভুলে যাই,
শীতকালীন গ্রাম বাংলার ঘন কূয়াশা দেখতে দেখতে তোমাকে ভুলে যাই।
তারপরেও ঐ কুয়াশাই তোমাকে মনে করিয়ে দেয়।

তুমি তো আমার জীবনের কুয়াশাই ছিলে,

অথবা আমি ছিলাম তোমার জীবনের কুয়াশা!!!

রচনাতারিখ: ১১ই জানুয়ারী, ২০২১
রচনাসময়: রাত ১০টা ৩৬ মিনিট

Misty You and I

———————– Ramit Azad

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

ভাইরালে তার মাইরালা মন

ভাইরালে তার মাইরালা মন
———————————- রমিত আজাদ

টিনের চালে ঢিল পড়িলে বুঝবে আমার ডাক,
এই ডাকাতে ঘাপলা হলে, পাঠিয়ে দেব কাক।
পাতিকাকের ঝাঁকের ভীড়ে যেমন আছে থাক,
চাতক পাখীর মতই অধীর একখানা দাঁড়কাক!

বসন্ত দিন রং ছড়ালে কোকিল ডাকে ডাকবো কুহু,
ডাক শুনিলেই বুঝে নিও, প্রেমের সমীর বইছে হুহু!
আরো পারি করতে নকল শেয়াল মামার হুক্কা হুয়া,
তবে সে ডাক শুনলে চাচা বুঝতে পারে শব্দ ভুয়া!

চুঙ্গা ফুকার দিনতো কবেই ফুরিয়ে গেছে গাঁয়ের পথেই,
ঢোল পিটিয়ে ডাকার রেওয়াজ গত হলো তাহার সাথেই!
কৃষ্ণরাধা বংশী সুরে কদম তলায় বাঁজিয়ে বাঁশি,
ডাকটা মধুর হোকনা দূরে, করতে পারি তোমায় খুশি!

মুঠোফোনে ডাকার আবার, রিস্ক রয়েছে একশো খানা,
আঁড়িপেতে রেকর্ড করে নেট ছড়িয়ে দিচ্ছে হানা!
ভাইরালে তার মাইরালা মন, প্রেমের মুখে মাররে ছাই,

প্রাইভেসি আজ উঠলো শিকেয় প্রেম করাতেও শান্তি নাই!

রচনাতারিখ: ২রা জানুয়ারী, ২০২১
রচনাসময়: রাত ১২টা ১৩ মিনিট

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

পাগলার গোলে ঘোল

পাগলার গোলে ঘোল
———————————— রমিত আজাদ

পাগল দেখে পাগল বল, তোমরা কোন পাগল?
সব পাগলের সেরা পাগল, সেয়ানা পাগল!
ভক্তরা তার নামে পাগল, ভক্তিরসে ভাসে,
পাগল বেশে ভেক ধরে সে, মনে মনে হাসে!

সেয়ান পাগলার মুখে মধু অন্তরে গরল,
বুঝানোর মেথড জটিল, হিসাব তার সরল!
জটিল মেথড না বুঝে সব হয়েছে পাগল,
সেয়ান পাগলায় হিসাব কইরা খাওয়াইছে যে ঘোল!

ঘোল খাইয়া সব ঘুরতে আছে পাগলের পাশে,
সেয়ান পাগলায় এইসব দেইখা মিটিমিটি হাসে!
মাঝে মাঝে পাগলায় বাধায়, বিষম গন্ডগোল;
তারই মধ্যে ঘুরপাক খাইয়া সকলে পাগল!

ভক্তরা তার ভাত না পাইলেও লাফায় আধমরা,
সেয়ান পাগলার ভাতের থালা বারো মাসই ভরা।
ঢোলে বাড়ি পড়লে সবাই নিজের ঘরে দেয় অনল!

সব পাগলের সেরা পাগল, সেয়ানা পাগল!

রচনাতারিখ: ২৩শে নভেম্বর, ২০২০
রচনাসময়: রাত ০২টা ৩২ মিনিট

The Cunning Mad

————————— Ramit Azad

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

কলিকালের ভেলকিবাজি

কলিকালের ভেলকিবাজি
———————————- রমিত আজাদ

কোনটা প্রলাপ, কোনটা বিলাপ? কোনটা কথা? বলতে থাকো;
ঘাস-বিচালী বাঁশ দিয়া তাই, হইলো খাড়া কাষ্ঠসাঁকো!
ভেক ধরিয়া সেয়ান পাগোল বিল সেচিয়া মৎস্য নিলো।
ঠোঁট মিলাইয়া বোবায় তবু মঞ্চে গিয়া ভাষণ দিলো!

অন্ধব্যাটায় চশমা লাগায়, জন্ম কালায় ঘন্টি বাজায়,
লোকের ঘরে আগুন দিয়া, তালকানাটায় বাসর সাজায়।
বাইট্টারে কও চাঁন ধরিতে, বকেরে দাও থালায় ভাত,
কলশী ভরা তারি দিয়া, যাত্রাপালায় দেও দাওয়াত!

ঘরভাঙা এক পোড় কপালী, নও জোয়ানীর প্রেম শিখায়!
শিয়াল মামায় মুরগী নিয়া, প্রেমের ঘাটে নাও ভিড়ায়।
মূর্খ তাহার পাঠশালাতে পরীক্ষা নেয় অভিজ্ঞতার,
ঘাসের চাষের উদ্বোধনে আসর জমে লাখ জনতার!

ওলট-পালট মেঠো পথে মাতাল হাটে শীস দিয়া,
চিন্তা বিহীন ফুর্তি ওয়ালায় ডিগবাজী দেয় মদ পিয়া।
লাগ ভেলকি, লাগ ভেলকি, চোখের তারায় নেশার আগ!

এই গেরামের ভেলকিবাজি ভাল্লাগে না? যা তুই ভাগ!

রচনাতারিখ: ২১শে নভেম্বর, ২০২০ সাল
রচনাসময়: রাত ৪টা ২৩ মিনিট

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

অসময়ে বৃষ্টি এলে?

অসময়ে বৃষ্টি এলে?
————————— রমিত আজাদ

চোখ জুড়ে তার স্বপ্ন সুধা, হাত বাড়ালেই যায় মিলিয়ে!
এমন দিনে বৃষ্টি এলো, ঝরলো বারি, মন ভুলিয়ে।
বৃষ্টি এলো বন মাতিয়ে, জমকালো সাজ, মেঘলা আকাশ;
ঝরছে পাতা, আশান্বিতা, ঠান্ডা হাওয়ায় শীতের আভাস।

বৃষ্টি তুমি পথ ভেজালে, মন মাতালে, মৃত্তিকা গায় মিষ্টি সুবাস;
বৃষ্টি তোমার জলের ফোটায়, দৃষ্টি ছোটে; মত্ত হলো ঝড়ের বাতাস।
বৃষ্টি তোমার ছলাকলায়, হৃদয় দোলায়, মন ময়ূরী বানভাসী হয়;
ভাবটা এমন মেঘ কেঁদেছে বৃষ্টি হয়ে, ছুটছে নদী মেঘের ছায়ায়।

বর্ষা গেলো সেই কবে যে, এর পরে তো শরৎ গেলো;
হেমন্তের এই শুষ্ক দিনে, হঠাৎ করেই বৃষ্টি এলো!
কাশফুল আর ঘাসফুলেরা এমনতরো চায়নি যেন!
চোখ জুড়ে তাই জিজ্ঞাসা এক, এই অবেলায় বৃষ্টি কেন?

প্রতীক্ষা সে প্রতিজ্ঞাতে ছিলোই যেন নিখিল ভুবন,
পূবের পবন বন ছুঁয়েছে, সংকোচে তাই মন শিহরণ।
হোক না প্রকাশ অসময়ে, তাও তো তাহার আসা হলো,

বৃষ্টি তোমার আসার আশায়, থাকবো না তা হয়কি বলো?

রচনাতারিখ: ২১শে নভেম্বর, ২০২০ সাল
রচনাসময়: রাত ৩টা ১৬ মিনিট

When it rains untimely!
———————– Ramit Azad

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

পরের ঘরে আগ লাগাইয়া

পরের ঘরে আগ লাগাইয়া
——————————– রমিত আজাদ

আমার ঘরে আগ লাগাইয়া, রইলা তুমি ঘুমাইয়া;
ফিরিবে ফিরিবে আগুন তোমারে জাগাইয়া।
পরের ঘরে আগুন দিয়া থাকবা তুমি কোন সুখে?
এই আগুন লাগবে আবার, তোমার অসার দীন বুকে!

আমার দিলে দুখ কান্দাইয়া হাসলা তুমি ধুমাইয়া,
জাইনা রাইখো একদিন তুমি চোখ মুছিবা লুকাইয়া!
আইজকা তোমার শরীল গরম, টাকার গরল খ্যামোতায়;
সব হারাইয়া একদিন তুমি ঘুরবা রাস্তায় কোন মজায়?

কান্দে মতিন, কান্দে যতিন, রাইতে কান্দে কুত্তার ছায়!
দিনে কান্দে জাউল্যা মাতবর, চউক্ষের পানি গাঙে যায়!
ফজল মিঞায় আবোল-তাবোল বইকা চলে সারাক্ষণ,
ইমাম সাবে জিকির করেন, হাত তুইলাছে আকুল মন!

দীন-ভিখারি করলা যাগো, তাগো দিলের বদ দোয়ায়,
ভাইসা যাইবা আন্ধার রাইতে, অশরীরির ত্রাস ছোঁয়ায়।
উপরওয়ালায় ছাইড়া দেয় না, সময় শুধু মাইপা দেয়;

সময় পাইয়াও মাফ না চাইলে, ঐ দুনিয়ায় নাই উপায়!

রচনাতারিখ: ২০শে নভেম্বর, ২০২০ সাল
রচনাসময়: রাত ০১টা ৫৫ মিনিট

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

পুরুষ দিবসে

পুরুষ দিবসে
——————– রমিত আজাদ

আমি একলা আছি জেনেই তুমি একলা এসেছিলে,
একলা পেয়েও সেদিন তোমায়, চাইনি কোন ছলে!
কুণ্ঠিত এক পুরুষ সেদিন একলা ঘরেই ছিনু,
সুযোগ পেয়েও তাই মাখিনি, নও ষোড়শীর রেণু!

প্রথম প্রেমের বানভাসী মন, নও জোয়ানীর টানে,
আমার যাওয়া-আসার পথে থাকতে বাতায়নে।
আড়চোখে তাই দেখে নিতাম, সদ্য ফোটা ফুল,
আবেগ মাখা ঐ বয়সে ভাসতো মনের কূল!

আমার মুখের কথা হতো তোমার গলার মালা,
তোমার কথার যাদুর সুরে কর্ণে সুধা ঢালা।
তৃষ্ণাতুরা ছিলে তুমি মন তিয়াসী উমা,
ঝলমলানো ভোরের শিশির, একাকিনী ঝুমা।

একলা থাকার অমন দিনে উঠলো আবেগ রাশি,
একলা থাকা আমরা দুজন, চাইলে দিতাম ফাঁসি!
ইচ্ছে হলেই হয়তো সেদিন বান ভাসাতো কূল।

আজ ভেবে যাই, কেন সেদিন না করিলাম ভুল?

রচনাতারিখ: ২০শে নভেম্বর, ২০২০ সাল
রচনাসময়: রাত ১২টা ৫৮ মিনিট

Happy Men’s Day
——————— Ramit Azad

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

কবির প্রেমে পইড়ো না কেউ

কবির প্রেমে পইড়ো না কেউ
———————————– রমিত আজাদ

কাব্য লিখি, রুবাই বানাই, পয়সা আমার নাই,
বৌ তো আমার কান্দে নিতি, হাঁড়িতে ভাত নাই!
“কোন সে মরার পদ্য লেখো? পাঠ করো ছাইপাশ?
পোলায় উপাস, মাইয়ায় উপাস কান্দে বারো মাস!”

“কোন যাদুতে তোমার প্রেমে খাইছি হাবুডুবু?
অভাব নামের নদীতে আজ ডুইবা মরি তবু!
তোমার কথার ছন্দ সুধায়, দেখছিলাম তো মধু!
এখন বুঝি ওসব কথায় বিষই ছিলো শুধু!”

সুন্দরী সেই বান্ধবী আজ কবির ঘরের বধু,
সব ছেড়ে সে ধরছিলো হাত, দেইখা চোখে ধুধু!
এখন তাহার ঘোর ভাঙিছে, অভাব তাড়নায়;
‘কার ঘরে সে শরণ নিলো, চক্ষু গেলো হায়!’

কবি এক ভয়াল ওঁঝা, টানে পিরিত পথে,
আসলে সে নিজের তালে, ছোটে ভাবের রথে!
কবিতা সব সস্তা কথা, ফাঁকা বুলির ফুলঝাড়া।

কবির প্রেমে পইড়ো না কেউ, বুইঝ্যো মাইয়ারা।

রচনাতারিখ: ১৯শে নভেম্বর, ২০২০ সাল
রচনাসময়: রাত ০৩টা ০১ মিনিট

Do Not Fall in Love of a Poet
———————————— Ramit Azad

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

কার জমীনে ঘর বান্ধাইছো?

কার জমীনে ঘর বান্ধাইছো?
——————————————- রমিত আজাদ

কার জমীনে ঘর বান্ধাইছো? কার গাছেরই কাঠ দিয়া?
কার খ্যাতেরই খর বিছাইয়া চাল বানাইয়াছো ঘর ছাইয়া?
কার ঝাঁড়েরই বাঁশ কাটিয়া বানছো বেড়া, সাইড নিয়া,
হিসাব কইরা ভিটার মাটি, ডাইকো তারে মন দিয়া!

যার ত্যালে তায় জ্বালছো পিদিম, পাইছো আলো আন্ধারে,
তার শোকরে হইয়ো গুজার, আমরা যাহার বান্দারে!
যার গাছেরই ফল খাইয়াছো, মাখছো ভাতে সবজীরে,
তার জিকিরে দিল ভিজাইয়ো, তুইলা দুইখান কবজি রে!

নাচলো অলি দিনের শোভায়, রাইতে জ্বোনাক ঝলমলায়,
মৎস্য শামুক সায়র জুড়ে ঢেউয়ের তালে ছলছলায়।
যার ফুলে তায় ছুটলো সুবাস তোমার ভিটার শান্ত বায়,
চাঁদ সূরুয আর লক্ষ তারায়, তার মহিমায় গুণগুণায়!

ধার কইরা তার জায়গা-জমিন, ঋণ নিয়া তার মাল-দৌলত,
দেহের ভিতর জান বাঁচাইলা, চইরা খাইলা এই জগত।
সাত মহলা বাদশাহী তাজ, করবে না কেউ অসীম ভোগ,

একদিনেই তা ধ্বইসা দিবেন, শেষ বিচারের বিচারক।

রচনাতারিখ: ১৯শে নভেম্বর, ২০২০ সাল
রচনাসময়: রাত ০২টা ১১ মিনিট

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

অনিয়মের অভিসার

অনিয়মের অভিসার
—————– রমিত আজাদ

সে খুব গোপনেই এসেছিলো,
এসেছিলো সন্ধ্যা নামার পরে।
তখন আঁধার সব কিছু ঢেকে ফেলেছে!
তার চোখের উতলা অঞ্জনের মতই কৃষ্ণাভা চারিপাশ।
উৎসুক চোখগুলো চাইলেও আর কিছু দেখতে পাবে না!
তাছাড়া কোভিড মহামারীর ভয়ে,
পুরো নগরীটিই ছিলো গৃহবন্দী!

স্ট্রীট ল্যাম্পের আবছা আলোয়,
একটা প্রাণী হেটে গেলেও ভয়ে কেউ তাকাতো না,
ঐ ছায়ামূর্তির দিকে।
যেন সান্ধ্য আইনে থমকে যাওয়া স্থবিরতায়
সাক্ষাৎ যমদূত আনাগোনা করছে,
তাকালেই চোখ গলে রক্তে প্রবেশ করবে!

আমি তখন রূপের তীর্থে এক চাতকী পথিক,
অফুরাণ লঘুভারে অনুরাগী, নিবিড় তিয়াসী।
আমরা দু’জন নিশ্চিন্তেই হাটছিলাম
নগরীর জনশূন্য রাজপথে।
কোভিড মহামারীর ভয়ে ফাঁকা হয়ে যাওয়া পথঘাটে
কেউ ছিলো না আড়চোখে তাকানোর!
কেউ ছিলো না ঘটনা রটনা করার।

ঐ আঁধারে আমরা কোন সবুজ ঘাস দেখিনি,
কোন সাদা কাশ-ও দেখিনি।
নিয়মের ছকে বাঁধা জীবনের ছোটাছুটিও দেখিনি।
নৈমত্তিক যানজট?
একেবারেই উবে গিয়েছিলো, মহামারির আতংকে!
বৃক্ষ-পল্লবে শিশির জমেছিলো কিনা জানি না।
তবে তার আঁখিতারায় শবনমের আবেশ ছিলো!

নগরীর মোলায়েম মাটি ফুঁড়ে খাড়া উঠে যাওয়া
ভুতুরে অট্টালিকাগুলোকে ছাড়িয়ে,
একবার চাঁদ দেখতে চেয়েছিলাম,
আকাশপানে তাকিয়ে আবিষ্কার করলাম,
আজ আকাশ মেঘলা।
একটু পরে টিপটিপ বৃষ্টি নামলো!
প্রকৃতির কি এক খেয়াল!
বৃষ্টি চাইলে চাঁদ পাবে না;
চাঁদ চাইলে বৃষ্টি পাবে না।
আজ আমি চাঁদই দেখতে চেয়েছিলাম
তারপর ভাবলাম, থাক চাঁদ দেখে আর কি হবে?
চাঁদ তো আমার পাশেই হাটছে!

আমি বৃষ্টি আর চাঁদ একসাথে পেলাম।

রচনাতারিখ: ১৭ই নভেম্বর, ২০২০ সাল
রচনাসময়: রাত ০২টা ৫৬ মিনিট