Categories
অনলাইন প্রকাশনা আইন কানুন আত্ম উন্নয়ন গল্প জীবনী ও স্মৃতিকথা সাকি বিল্লাহ্ সৃজনশীল প্রকাশনা

তিতা কথাঃ পর্ব-১০ অভাবে চোর আর স্বভাবে চোর !!!

— সাকি বিল্লাহ্
 
সকালে সংবাদপত্রটা হাতে নিলাম, না আমাদের দেশের না । জার্মানীর একটা পত্রিকা । শিরোনাম হচ্ছে “রাস্তায় গাড়ী দুর্ঘটনায় কুকুর নিহত”
এবার আসি আমাদের দেশের পত্রিকাগুলোর শিরোনামে,
“১১ ঘন্টায় রাজধানীতে দুই জোড়া খুন”
“বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও মাদকের ছোবল”
“অপারেশন হিট ব্যাকঃ বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন সাত লাশের চারটিই শিশুর”
“পুরনো রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের অনাগ্রহ”
“খাদ্যদ্রব্যের লাগাম ছাড়া দামে জনজীবন বিপর্যয়ের মুখে”
“শব্দদূষণ, বায়ুদূষণ, পানি দূষণ, যানজট, লোডশেডিং সমস্যায় শহরজীবন দুর্বিষহ”
 
এ রকম ভয়ঙ্কর পরিস্থিতে বাংলাদেশ আগে কখনও পড়েছে বলে আমার মনে পড়ে না । তারপরও অনেক অন্ধ সরকার পন্থীরা বলে বেড়াচ্ছে দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে আছে(!) । একটা দেশ কতটা ভাল অবস্থায় আছে তা তার সংবাদ শিরোনামগুলো দেখলেই আসলে বোঝা যায় ।
যে দেশের মানুষদের নিয়ে আমরা স্বপ্ন দেখি তার একটা বড় অংশ অত্যন্ত নির্দয় এবং সুযোগ পেলে তাদের ভয়ঙ্কর রুপটা দেখিয়ে দেয় ।
দুমাস আগে একজন খুব কাছের মানুষের হঠাৎ পরিবর্তন দেখে বিস্মিত হয়েছিলাম । ২১ আগস্ট শেখ হাসিনার উপর বা দুদিন আগে খালেদা জিয়ার উপর আক্রমন দেখে সত্যিই অবাক হই মানুষরুপী জানোয়ারদের জন্য; আমরা আসলে সভ্য কবে হব ।
 
এ ধরনের মানুষের নির্মমতা দেখে কিছুটা মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম কিছুদিন আগে । ছোটবেলার একটা ঘটনা মনে পড়ল,
তখন যতদূর মনে পড়ে সবেমাত্র ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে ভর্তি হয়েছি । একদিন সকাল ৫টার দিকে একজন চোর ধরা পড়ল । তিন রাস্তার মাথায় বিদ্যুতের খুটিঁর সাথে তাকে অত্যন্ত নির্মমভাবে শক্ত করে বাঁধা হল । এর মধ্যে যে যেভাবে পেরেছে তাকে বেধরক মারধর, লাথি, কিল, ঘুসি দিয়ে আধ মরা করে ফেলেছে । মানুষের শোরগোল শুনে বাসা থেকে বের হতে গেলাম, মা বললেন, “বাবা, ছেলেটাকে মারধর করিস না”, আমি বললাম, কোন ছেলেটা? মা বললেন, মানে চোর ছেলেটা, সেও তো কোন মায়ের সন্তান, হয়ত অভাবের তাড়নায় চুরি করেছে”
-কি বলব, বুঝতে পারলাম না
 
ইতোমধ্যে শুনতে পেলাম, চোরটা এক গ্লাস পানি পান করতে চাইলো । কেউ একজন বলল, ওকে পানি দেয়া যাবে না, কেউ বলল, ওর চোখ উপরে ফেলতে হবে, কেউ বলল, হাত পা ভেঙ্গে দিলে আর চুরি করতে পারবে না । আমার একমাত্র খালার বাড়ী আর আমাদের বাড়ী পাশাপাশি । খালা আর মা দুজনেরই অসহায় মানুষদের প্রতি মমত্ববোধটা অনেক বেশি । খালা আর মা দুজনেই বললেন চোরটাকে ছেড়ে দিতে । এরই মধ্যে আমার মা দেখি এক গ্লাস পানি হাতে আমাকে বললেন চোরটাকে দিয়ে আসতে, অবাক না হয়ে পারলাম না; একই রক্তে মাংসের মানুষ আমরা অথচ কেউ বলছে চোর টাকে পানি না দিয়ে, বরং চোখ উপরে ফেলতে আর কেউ পানি হাতে বলছে চোরটাকে পুলিশে দিতে বা ছেড়ে দিতে ।
পানির গ্লাস হাতে সামনে গেলাম, আমাকে পানির গ্লাস হাতে দেখে আমাদের বাড়ীর এক ভাড়াটিয়া খুবই বিরক্ত হলেন, উনার হাতে ছোটখাট একটা বাঁশের টুকরো, মারমুখী পৈশাচিক একটা ভয়ঙ্কর চেহারা নিয়ে উনি দাড়িয়ে আছেন । অন্যরা তেমন কিছু বলল না, শুধু উনি বললেন, আরে চোরকে এত সমাদর করার দরকার কি, শালায় গত মাসে আমার মোবাইল চুরি করছে আজকে আরেকজনেরটা চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ছে, ওর জান শেষ করে ফেলতে হবে মারতে মারতে” ।
 
অবাক হয়ে সেই লোকটার দিকে তাকিয়ে ছিলাম, সমাজে কত বড় বড় চোর প্রতিনিয়ত চুরি করে যাচ্ছে, হলমার্কস, ডেসটিনি, শেয়ার বাজার, ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ, ঘুষ, কালোবাজারি, ভোট চুরি, গম চুরি, গরীবদের ত্রান চুরি, আরো কত ধরনের চুরি ।
ক্ষুধার তাড়নায় যারা চুরি করে তারা তো অভাবে পড়ে করে, আর যাদের টাকা পয়সা বা খাবার দাবারের অভাব নেই তারা করে আসলে নিকৃস্ট স্বভাবের কারনে । অভাবে চুরি করা মানুষগুলোকে আমরা সুযোগ পেলে মেরে আধমরা করে ফেলি বা চোখ উপরে ফেলি কিন্তু যারা স্বভাবে চোর তাদের বেলায় সবাই নির্জীব ।
 
পানি পান করার পর চুরির অপবাদে দুস্ট ছেলেটা কিছুটা প্রাণ ফিরে পেল । সবাইকে উদ্দেশ করে বলল, ভাই, আমাকে পুলিশে দেন । জনসমাবেশের একজন বলল, তার আগে তোকে মেরে হাত পা ভেঙ্গে ফেলতে হবে । বাকী সবাই বলল, হ্যাঁ একদম ঠিক । আবারও একজন বলে উঠল, এর চাইতে ভাল হবে চোখ তুলে ফেললে তাহলে আর চুরি করতে পারবে না ” । ভয়ঙ্কর নির্মম কথায় হতবাক না হয়ে পারা যায় না ।
ফাঁসির আসামী যখন বুঝতে পারে, তার ফাঁসি নিশ্চিত তখন সে কিছুক্ষণের জন্য নির্বাক হয়ে যায়, আর একটা সময় সে আর কোন উপায় নেই ভেবে মৃত্যুর জন্য মানসিক ভাবে প্রস্তুতি নিতে থাকে । এক সময় সে এ বিষয়টা মেনে নেয় । ফাঁসির মঞ্চে অত্যন্ত শান্তভাবেই সে ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় । তার হাত বাঁধতে গিয়েও কোন সমস্যা হয় না কিন্তু যখন তার মুখে কালো কাপড়ে দিয়ে ঢেকে দেয়া হয় তখন সে শেষ বারের মত বাঁচার আদিম প্রবৃত্তিতে শেষ চেস্টা করতে থাকে ।
মানুষের আচড়ন আসলে সত্যিই ব্যতিক্রম ।
 
চোর যখন বুঝতে পারল তার মার খাওয়া নিশ্চিত বা চোখ উপরে ফেলা নিশ্চিত তখন এক পর্যায়ে সে সবাইকে অনুরোধ করলে, ভাই, আস্তে মাইরেন । ”
তবে এই নির্মমতা আমার অভিজ্ঞতায় তৃতীয় বিশ্বের মানুষদের ভিতর সবচাইতে বেশি । বাঙ্গালী জাতি হিসেবে আমরা আসলে এতটা নির্মম ছিলাম না । ব্রিটিশদের দুশ বছরের নির্মম অত্যাচারে, ইংরেজদের কৃত্তিম দুর্ভিক্ষের পর বিরাট ধনী জাতি থেকে যখন রাতারাতি গরীব হয়ে গেলাম আমরা তখন থেকেই আসলে আমাদের স্বভাব আর চরিত্র খারাপ হতে থাকে । কথায় আছে অভাবে স্বভাব নস্ট । আর যাদের স্বভাব একবার নস্ট হয় তখন অবস্থা ভাল হলেও স্বভাবটা থেকে যায় ।
 
ইতোমধ্যে আমার খালা ও মা সবাইকে বললেন কোন ধরনের মারধর না করতে, আর পুলিশকে ফোন করা হয়েছে । পুলিশ এসে চোরকে থানায় নিয়ে গেল । পুলিশের চোর নিধনে বর্থ্যতায় কেউ কেউ বললেন, আপনারা থাকতেও চুরি হয়, শান্তিতে কেউ ঘুমাতে পারে না । একজন পুলিশ অফিসার স্বগৌরবে বলে উঠলেন, দু একটারে চোখ উপরে দিয়ে পরে আমাদের ডাকবেন; দেখবেন চুরি বন্ধ হয়ে গেছে ।” আইন রক্ষাকারী একজন মানুষ যদি এ ধরনের উস্কানীমূলক কথা বলে তাহলে সে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সহজেই অনুমেয় ।
 
কিন্তু যারা দিব্যি কোটি টাকা চুরি করে যাচ্ছে তাদের তো কেউ কিছু করতে পারছে না বা করছেও না । ভয়ঙ্কর মানসিকতার এইসকল মানুষ গুলো আসলে দেখতে মানুষ হলেও এরা পশুর চাইতে অধম ।
এরা সুযোগ পেলে নির্মম হয়ে যায় আর অভাব না থাকলেও স্বভাবের কারণে সারাজীবন চুরি করতেই থাকে, তাই “কেউ অভাবে চোর আর কেউ স্বভাবে চোর” !
Categories
অনলাইন প্রকাশনা আত্ম উন্নয়ন ইসলামধর্মীয় খ্রীষ্টধর্মীয় গবেষণামূলক প্রকাশনা ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতা বৌদ্ধধর্মীয় হিন্দুধর্মীয়

আমাদের ধর্ম ও সৌহার্দতা

— সাকি বিল্লাহ্

 

ইদানিং কালে একটা ব্যাপার লক্ষ্যনীয়, কিছু অতি উচ্চমর্গীয় বা উচ্চবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ বলছে, জীব হত্যা বা ভক্ষণ করা যাবে না, গো হত্যা বন্ধ করতে হবে ইত্যাদি । যারা বলেন তারা জীব হত্যার বিপক্ষে অথবা নিরামিষভোজী বলা যেতে পারে ।

ভাল কথা ।

তবে বিষয়টা নিয়ে বাংলাদেশী বিজ্ঞানী (আমাদের গৌরব) জগদীশ চন্দ্র বসু স্যারের কথা মনে পড়ে গেল । গাছের প্রাণ আছে এবং তারাও মানুষ বা অন্যান্য প্রাণীর মত সকল জৈবিক কাজ করতে পারে এটা তিনি-ই প্রথম প্রমাণ করেছেন । বলা বাহুল্য তিনি একজন হিন্দু (বেদান্ত) ছিলেন ।

 

ডা. জাকির নায়েকের মত তাহলে বলতে হয় গাছের তো প্রাণ আছে তাহলে তাদেরও তো খাওয়া যাবে না । মনুষ্য জাতি তাহলে কি খাবে? বরং জীব হত্যার চাইতে গাছ হত্যা আরো বেশি শাস্তিযোগ্য অপরাধ । জীবের চাইতে গাছ বেশি কস্ট সহ্য করে যেমন, সে কথা বা শব্দ অথবা নড়াচড়া করতে পারে না, ধরুন আপনার দুইজন ভাই আছে, একজনের শারীরিক কোন সমস্যা নাই আর অন্য জনের শরীর পক্ষাঘাতগ্রস্ত বা বিকলাঙ্গ, কথা বলতে পারে না, চলতে পারে না, খাবার দিতে হয় সেলাইনের মাধ্যমে, কানে শোনে না; এই দুই ভাই এর ভিতর যদি সুস্থ ভাইকে কোন খুনী হত্যা করে তাহলে আপনি যতটুকু কষ্ট পাবেন তার চাইতে অসুস্থ বোবা ভাইকে হত্যা করলে অনেক বেশি কষ্ট পাবেন এটাই স্বাভাবিক বরং আদালতে গিয়ে আপনি বিচারকের কাছে বলবেন, আমার অসহায় প্রতিবন্ধী ভাইকে বিনা কারনে হত্যা করা হয়েছে তাই এর দৃস্টান্ত মূলক শাস্তি চাই ।

 

গাছের বেলায়ও তাই, পশু হত্যার চাইতে গাছ হত্যা করা আরো বড় অপরাধ(নিরামিষভোজীদের মতে যেহেতু জীব হত্যা পাপ) । তাহলে জীবন রক্ষার জন্য আমরা জীব হত্যা করবো নাকি গাছ হত্যা করবো সেটা একটা বিবেচ্য বিষয় ।

 

জ্ঞানীরা চুপ থাকে আর মূর্খরা তর্ক করে ।

বাঘ কখনও ঘাস বা লতাপাতা খেয়ে জীবন ধারণ করতে পারবে না, অন্যদিকে হরিণ তৃনভোজী প্রাণী । বাঘকে বেঁচে থাকতে হলে মাংস খেতে হবে আর হরিণ খাবে তৃণজাতীয় উদ্ভিদ এটাই প্রাকৃতিক নিয়ম । তেলাপোকা সর্বভূক প্রাণী মানে সে সব কিছু খেতে পারে অনেকটা মানুষের মত । যেসকল প্রাণী সব কিছু খেতে পারে তাদের পৃথিবীতে টিকে থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে ।

ছোটবেলায় বই পুস্তকে সবাই পড়েছেন খাদ্য শৃঙ্খল বা খাদ্য চক্র । কে কাকে খাবে সেটা প্রাকৃতিক ভাবে নিয়ন্ত্রিত আরো স্পষ্টভাবে বলতে গেলে স্রস্টার দ্বারা নির্ধারিত ।

 

স্রস্টা যদি বাঘের উপর সুবিচার করে তাহলে হরিণকে জীবন দিয়ে বাঘের ক্ষুধা তথা জীবন বাঁচাতে হবে আর যদি হরিণের উপর দয়া করে তাহলে হরিণের জীবন বাঁচে কিন্তু বাঘের জীবন বিপন্ন হবে । তাই স্রস্টা একটি খাদ্যচক্র তৈরী করে দিয়েছেন আর সে চক্রে মানুষও একটি জীব । সে মাংশ খাবে অথবা গাছ খাবে এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার বা ধর্মীয় ব্যাপার । তবে বিজ্ঞানীদের মতে মানুষের বুদ্ধির বিকাশ হয় আগুনে ঝলসে যাওয়া মাংস খাওয়ার পর থেকে । মাংসে বেশ কিছু ভিটামিন ও অন্যান্য উপকারী উপদান আছে যেগুলো উদ্ভিদ থেকে পাওয়া যায় না, যেমন ভিটামিন বি-১২, ক্রিয়েটিন, কারনোসাইন, ওমেগা-৩( DHA & EPA), বিশেষ কিছু এমাইনো এসিড(প্রোটিন) ইত্যাদি ।

অনেক সময় নিরামিষভোজীদের শরীরে উপরোক্ত খাদ্য উপাদানগুলোর অভাব দেখা দেয় আর তখন তারা স্বরনাপন্ন হয় ডাক্তারের কাছে, ডাক্তার তাদের কৃত্তিম যে ভিটামিন বা খনিজ উপাদানের বড়ি বা ট্যাবলেট দিয়ে থাকে তা আসলে তৈরী হয় এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার গাঁজন প্রক্রিয়ায় আর কিছু আসে মাছ ও পশু থেকে । আর এই ভিটামিন বড়ি গুলো তৈরী করা হয় বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান দ্বারা; যেহেতু আপনার মস্তিষ্ক ও শরীর ঠিক রাখতে হলে এই ভিটামিন গুলো প্রয়োজন, তাই হয় সরাসরি প্রাণীর মাংস খেয়ে বা কৃত্তিম ভিটামিন খেয়ে (যা ব্যাকটেরিয়া ও প্রাণী হতে আসে) আপনাকে সুস্থ থাকতে হবে । যদি কৃত্তিম ভিটামিন বড়ি খান তাহলে ক্যানসার, কিডনির সমস্যা, স্নায়ুবিক দুর্বলতাসহ নানা ধরনের প্রদাহ দেখা দিতে বাধ্য । আবার উভয় ক্ষেত্রেই কিন্তু পশু হত্যা হচ্ছে ।

 

মূল প্রসঙ্গে ফেরা যাক, কে কি খাবে না খাবে এটা যার যার ব্যাক্তিগত বিষয় তবে অন্যেরা কি খাবে না খাবে তা নিয়েও হাস্যকর কাজ বা মন্তব্য করা উচিত নয় ।

 

হাজার বছর ধরে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানদের নিয়ে একসাথে বসবাস করা আমাদের এই বাংলাদেশ আর বাঙ্গালী সংস্কৃতি ।

এখানে কিছু কুচক্রী ধর্মীয় সৌহার্দ নস্ট করার অপচেস্টা করছে, আমাদের উচিত ঐসকল মানুষদের এড়িয়ে চলা । ১৯৪৭ সনে যখন দেশ ভাগ হয় তখন, পাকিস্তানী ও ভারতীয় কিছু স্বার্থাণ্বেষী রাজনীতিবিদ আমাদের দেশটাকে চিরে টুকরো টুকরো করে দিয়েছিল ধর্মীয় দাঙ্গা লাগিয়ে । হাজার হাজার বছরের বাংলাদেশকে, ছিন্নভিন্ন করে দেয়া হল । সেভেন সিস্টার নামে যে অংশগুলো বাংলার সাথে ছিল সেগুলো সমেত যদি দেশ হয় তাহলে তা পাকিস্তান কিংবা ভারতের চাইতে আকারে অনেক বড় হয়ে যায় তাই ব্যাপারটা গান্ধী কিংবা জিন্নাহ কেউই মেনে নিতে পারেনি । শেরে বাংলা অবিভক্ত বাংলাদেশ এর কথা উপস্থাপন করলেও তা ধোপে টেকেনি ।

 

ভারতে কিছুদিন পর পরই হিন্দু মুসলিম দাঙ্গায় নিরীহ মানুষ প্রাণ হারায় । দুস্ট রাজনীতিবিদদের হিংসাকে চরিতার্থ করতে ধর্মযুদ্ধ একটি হাতিয়ার মাত্র ।

বাংলাদেশে সকল ধর্মের মানুষ একসাথে কোন ধরনের সমস্যা ছাড়াই ভালভাবে থাকছে, চাকুরী করছে, ব্যাবসা করছে এটা কিছু হিংসুকের বিশেষত প্রতিবেশী দেশগুলোর সহ্য হচ্ছে না । আমাদের কিছু দালালদের মাথা কিনে তাদের দিয়ে দেশের মানুষের ভাই ভাই সম্পর্ক নস্ট করার অপচেস্টা চালানো হচ্ছে । সে অপচেস্টাকে কিছুতেই সমর্থন করা যায় না ।

বাংলাদেশের মানুষ শান্তি প্রিয় এবং সকল ধর্মের মানুষ আমরা সবাই বাংলাদেশী এটাই হোক আমাদের প্রথম পরিচয় । আর সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, যার যার ধর্ম তার তার কাছে । নিজের ধর্মকে সবাই বড় মনে করে তাতে দোষের কিছু না কিন্তু অন্যের ধর্মকে ছোট করা ক্ষমাহীন অপরাধ ।

যে অন্যের ধর্মকে শ্রদ্ধা করতে জানে না সে নিজের ধর্মকেও শ্রদ্ধা করতে শেখেনি ।

 

তাই সকল ধর্মের বাঙ্গালীদের বলছি, অন্যের ধর্মকে শ্রদ্ধা করুন তাহলে সে বা তারাও আপনার ধর্মকে শ্রদ্ধা করতে শিখবে আর মনুষ্যরূপী শয়তান হতে সাবধান থাকবেন যারা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করে কারণ ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করা হয়েছে প্রায় সকল ধর্মেই । ইসলাম ধর্মেও আছে তোমরা কখনও ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না বা অবিশ্বাসীদের সাথে কুতর্কে লিপ্ত হইও না ।

 

পরিশেষে কোরআ’নের আলোকে ধর্ম ও আমাদের সৌহার্দতা নিয়ে কিছু আয়াত উপস্থাপন করছি যাতে বিষয়টা আরো সুস্পস্ট হয়ঃ

সূরা আল বাক্বারাহ এর ২৫৬ নাম্বার আয়াতে উল্লেখ আছে,

“দ্বীনের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি বা বাধ্য-বাধকতা নেই। নিঃসন্দেহে হেদায়াত গোমরাহী থেকে পৃথক হয়ে গেছে। এখন যারা গোমরাহকারী ‘তাগুত’দেরকে মানবে না এবং আল্লাহ‘তে বিশ্বাস স্থাপন করবে, সে ধারণ করে নিয়েছে সুদৃঢ় হাতল যা ভাংবার নয় । আর আল্লাহ সবই শুনেন এবং জানেন।” ।

এ ছাড়াও কোরআ’নের বিভিন্ন আয়াতে উল্লেখ আছে,

“আহবান করো সকলকে তোমার বিধাতা প্রতিপালকের পথে- পান্ডিত্যপূর্ণ সুন্দরতম বাগ্মীতার সাথে। আর যুক্তি প্রমাণ দিয়ে আলোচনা করো তাদের সাথে এমনভাবে, যা সর্বোত্তম (এবং সে আহবান হতে হবে এমন হৃদ্যতাপূর্ণ যেন কোন পাষাণ হৃদয়ের কাছেও তা গ্রহণযোগ্য হয়)।” আল কুর’আন (১৬:১২৫)

“…যারা ধর্ম সম্পর্কে নানা মতের সৃষ্টি করেছে ও বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে তাদের কোন কাজের দায়িত্ব তোমার নেই, তাদের বিষয় আল্লাহর এখতিয়ারভুক্ত।…” –আল কোরআন (সুরা আনআমঃ১৫৯)

“…হে কিতাবিগণ! তোমরা তোমাদের ধর্ম নিয়ে অন্যায় ভাবে বাড়াবাড়ি করোনা…” –আল কোরআন (সুরা মায়িদাঃ৭৭)

“…(ধর্ম সম্পর্কে) বিদ্রূপকারীদের বিরুদ্ধে আমিই (আল্লাহ) আপনার জন্য
যথেষ্ট…” –আল কোরআন (সুরা হিজরঃ৯৫)

“…যদি তারা আত্মসমর্পণ (আল্লাহর কাছে) করে তবে নিশ্চয়ই তারা পথ পাবে। আর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তোমার কাজ তো কেবল প্রচার করা। আল্লাহর দৃষ্টিতে রয়েছে সকল বান্দা।”–আল কোরআন
(সুরা আল ইমরানঃ২০)

“…তারপর ওরা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তোমার কর্তব্য তো শুধুমাত্র স্পষ্ট বাণী পৌঁছে দেয়া…”–আল কোরআন (সুরা নাহলঃ৮২)

“…তুমি মানুষকে হিকমত ও সৎ উপদেশ দিয়ে তোমার প্রতিপালকের (আল্লাহর)পথে ডাক এবং তাদের সাথে ভালভাবে আলোচনা কর। তাঁর (আল্লাহর) পথ ছেড়ে যে বিপথে যায় তার সম্পর্কে আল্লাহ্ই ভাল জানেন, আর যে সৎ পথে আছে তা-ও তিনিই ভাল করে জানেন”
– আল কোরআন (সুরা নাহলঃ১২৫)

“…তোমাদের কাজ তো কেবল প্রচার করা, আর হিসাব-নিকাশ তো আমার কাজ…” –আল কোরআন (সুরা রাদঃ৪০)

“…আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য এবাদতের নিয়ম কানুন নির্ধারিত করে দিয়েছি যা ওরা পালন করে… তুমি ওদেরকে তোমার প্রতিপালকের দিকে ডাক… ওরা যদি তোমার সাথে তর্ক করে তবে বল, ‘তোমরা যা কর সে সম্পর্কে আল্লাহ্ ভাল করেই জানেন। তোমরা যে বিষয়ে মতভেদ করছ আল্লাহ্ কিয়ামতের দিন সে বিষয়ে তোমাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেবেন…” –আল কোরআন (সুরা হজঃ৬৭-৬৯)

 

সুতরাং দেখা যাচ্ছে, কোরআ’নে কঠোরভাবে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং কাউকে ইসলাম সম্পর্কে বোঝাতে হলে বিনয়ী হতে বলা হয়েছে । যদি কেউ ইসলামকে বিদ্রুপ করে, বিমুখ হয় বা কেউ নাস্তিকতা প্রদর্শন করে তাহলে তার ব্যাপারে আল্লাহ নিজে ব্যাবস্থা নিবেন বলে হুঁশিয়ারী করে দিয়েছেন তথাপি আমাদের ভিতর কিছু অতি উৎসাহী কট্টর পন্থী আছে যারা কোরআ’ন তথা আল্লাহর বানীকে মানতে নারাজ । যদিও আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন অন্য ধর্মের মানুষদের সাথে বিনয়ী হতে তবুও তারা তাদের প্রতি কঠোর ।

পাঠকগণ নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিবেন কোনটা ভাল আর কোনটা খারাপ আমি শুধু সবাইকে স্বরণ করিয়ে দিলাম যে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি কোন সুফল বয়ে আনতে পারে না ।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা আত্ম উন্নয়ন কবিতা পরিবেশ ও বন সৃজনশীল প্রকাশনা

একজন এক’শ বছরের বুড়ো

–সাকি বিল্লাহ্

আমি একজন এক’শ বছরের বুড়ো
বুড়ো থুড় থুড়ো,
হাতের কুঁচকানো শুকনো চামড়,
ঝুলে আছে থুতনির ভাজে পড়া অসাড় ।
মস্তকের গুটি কয়েক চুলের উঁকি দেয়া,
প্রান্তিক ভাগে আছে শেওলা ধরা ছাঁয়া ।

আমি দেখেছি শত পাখির উড়ে যাওয়া,
দেখেছি শত বুনো হাঁসের জলকেলি খেওয়া;
আমি বুড়ো এক’শ বছরের বুড়ো,
চামড়া কুঁচকানো বুড়ো থুড়থুড়ো ।

রাতের অভিসারে গাছের সাথে মাখামাখি,
বাতাসের ভেলা যেন মুঁদেছে দুটি আঁখি;
ঘন বনে দেখেছি কত জোনাকির খেলা,
সারারাত গান গেয়ে ক্লান্ত ভোর বেলা;
বাঁশ ঝাড়ের পেঁচাটা কেঁদেছে ঘনঘন,
সাক্ষী শুধু এই বুড়ো, পেঁচার প্রিয়জন ।

শত বছরে আমি দেখেছি শত মানুষ,
দেখেছি তাদের ধ্বংস লীলা আর ফানুস;
মানুষ নামের ধারক হয়ে বধেছি কত প্রাণ,
ধ্বংস করেছি মনুষত্ব আর আত্মসম্মান;
প্রকৃতি গ্রাসী নরমাংসী এই মানুষী,
শত বছরে বদলায়নি একটুখানি অমানুষী;
আমি তাই একজন অতীকায় বুড়ো,
মানুষ না পরিচয়ে বলি বুড়ো থুড়থুড়ো ।

আমি দেখেছি স্বদেশী, দেখেছি একাত্তর,
দেখেছি মায়ের রক্ত ত্রিবেদী ১৯৫২’র;
অগ্নি ঝরা দুপুরে কিংবা রাতের নিঃশব্দে,
দেখেছি দামাল মুক্তি সেনাদের যুদ্ধশত অব্দে;
অরুন তরুণ দামাল ছেলে দেখেছি তাদের যুদ্ধ,
মায়ের মান রাখতে যারা বরণ করেছে মৃত্যু ।

শত বছরের বয়সের ভারে হয়েছে দেহ অসাড়,
জ্ঞান আর ইতিহাসে হয়েছে নত শির আমার;
জ্ঞানের ডালে বসে সে ইতিহাসের পাখি,
কথা বলে আজও মুক্ত পাতার আঁখি ।

হাজার দিনে উঠেছি সকালে মোরগের ডাক শুনে,
ঘরে ফিরেছি সান্ধ্য আযানের আহবানে;
হাজার ক্রোশ হেঁটেছি আমি যেতে বহুদূরে,
দুপাশে ছিল মুক্ত বনের গাছের সারি জুড়ে;
এখন মানুষ জ্ঞান আহড়নে পুজিছে কলকব্জা,
পুজিবে গাছেরে সময় কোথায় নীতিহীন এই রাজা ।

বিংশ অব্দে জ্ঞান সমুদ্রে ভেসে ভেসে,
শত বছরের বুড়োর ঝাপসা চোখের দৃশ্যে,
দেখছি আমি ধুলো মাখা প্রিয় ধরণীকে,
সবুজ হারিয়ে নরক ধুসর রং-এ তোমাকে;
দেখছি আর ভাবছি তোমার ধৈর্যশৈলী মনটি,
গো গ্রাসে কেন গিলছো না সবের নরমুন্ডি ।

আজ এত বছর পর যখন পথে পথে ঘুরি,
দেখি না বনের সবুজ আর গাছ গাছারি,
ঝোপের আড়ালে বসে থাকা কাকাতুয়া,
হারিয়ে গেছে বনের সাথে গোধূলির সাজ নিয়া ।

এখন শুধু বসতির বন চারিদিকে,
সবুজ মিশিয়া ইটের দালান সবদিকে;
ঝাপসা চোখের ঝাপসা চাহনিতে,
দেখছি আমি ধ্বংস হচ্ছে মানুষ অহমিতে;
মোরগের ডাক শুনিনা এখন গাড়ির হর্ণ বাজে,
তোমাদের কাছে সুমধুর লাগে, আমার লাগে বাজে;
তাই আমি ভুলতে চাই তোমাদের মায়া,
ভগ্ন শরীরে অপেক্ষায় আছে আমার কায়া;
শূন্য দাঁতের হাসি দিতে করি না কার্পণ্য,
আমি বুড়ো থুড়থুড়ো, নতুনের কাছে নগণ্য ।

এখনও সময় আছে, এখনও আছে উপায়,
পোঁড়ামাটি ছেড়ে ভুলো সজীব মাটির মায়ায়;
আমি একজন এক’শ বছরের বুড়ো, অতীব বুড়ো,
বুড়ো থুড় থুড়ো ।।

folk singer of bangladesh by Syeda Oishee

Categories
আত্ম উন্নয়ন

প্রাক্তন প্রেমকে ভুলতে চাইলে করুন এই ৫টি কাজ !

 

প্রেম অনেক মধুর অনেকটাই স্বর্গীয় যদি সেটাকে সুন্দর ও সাবলীল ভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয। কিন্তু প্রেম ততটাই কষ্টের যদি ভোলা না জায় তাকে।  খুব গভীর এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রেমে ভাঙন সত্যিকার অর্থেই হুট করে মেনে নেয়া কঠিন। আর এই ধরণের ব্রেকআপের ফলে মানুষ অনেক সময়েই ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ভুল পথে পা বাড়িয়ে থাকেন যা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। অনেকেই বলেন এই সকল ভুল সিদ্ধান্তের ফলে প্রাক্তন প্রেমকে ভুলে থাকা সম্ভব, কিন্তু আসলেই কি তাই? প্রাক্তন প্রেমকে ভোলার কিন্তু বেশ ভালো এবং সঠিক উপায়ও রয়েছে। যদি ব্রেকআপের পর একেবারে ভুলে যেতে চান নিজের প্রাক্তন প্রেমকে তাহলে নিয়ম মেনে করুন এই কাজগুলো।

১। সম্পূর্ণভাবে যোগাযোগ বন্ধ করে দিনঃ

অনেক কষ্ট লাগে দীর্ঘদিনের যোগাযোগের অভ্যাসটিকে হুট করে বন্ধ করে ফেলতে কিন্তু তারপরও চেষ্টা করতে হবে। প্রাক্তন প্রেম ভুলতে চাইলে একেবারে যোগাযোগ বন্ধ করে ফেলুন, আপনি চাইলেও যাতে তার সাথে যোগাযোগ করতে না পারেন এমন কিছু করুন এবং তিনিও আপনার সাথে যাতে পুনরায় যোগাযোগ না রাখতে পারেন সেই ব্যবস্থা নিন সবার প্রথমেই।

২) নিজেকে ব্যস্ত রাখুন কাজের মধ্যে
মানুষ তখনই ভাবতে বসেন যখন অবসর সময় কাটান। অতীত অনেক সুখ দুঃখের স্মৃতি অবসর সময়েই মনে পড়ে যা ভুলতে দেয় না একেবারেই। তাই এই স্মৃতিগুলো থেকে যতোটা সম্ভব দূরে থাকুন। নিজেকে কাজের মধ্যে নিয়ে যান যাতে ভাবার ফুরসত না মেলে।

৩) রাত জাগা বন্ধ করুন
রাতের অন্ধকার অনেকের মনেই আঁধার ডেকে আনে। দিনের বেলা কাজ করে, অন্যান্য সকলের সাথে কাটিয়ে একটু হলেও ভুলে থাকা যায় যা রাতে একেবারেই সম্ভব হয় না, কারণ রাতে সচরাচর সকলে একাই থাকে। তাই যতো রাত কম জাগবেন ততোই আপনার জন্য মঙ্গল। মনে পড়বে না এবং খারাপ লাগাও কমে যাবে।

৪) নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস নিয়ে আসুন
অনেকেই ব্রেকআপের পর সব দোষ নিজের ঘাড়ে নিয়ে মনোকষ্টে ভুগে একেবারেই আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন। কিন্তু ভেবে দেখুন, একহাতে কখনোই তালি বাজে না। আপনার যদি দোষ থেকে থাকে তাহলে তারও ভুল ছিল। নিজের আত্মবিশ্বাস হারাতে দেবেন না। এতে ক্ষতি আপনারই।

৫) জেদের বশে নয় নিজের জন্য সঙ্গী খুঁজুন
সঙ্গী ছেড়ে চলে গিয়েছে বা ব্রেকআপ হয়েছে সে কারণে জেদ করে, প্রতিশোধ নেয়ার কারণে নতুন কাউকে খুঁজবেন না। নিজের আত্মবিশ্বাস ফিরে এলে নিজের জীবনে নতুন আরেকজনের জায়গা করে নিন। নতুন মানুষটিকে চেনার পেছনে সময় দিতে গিয়ে দেখবেন অতীতের সব কিছুই ফিকে হয়ে আসবে।

 

Categories
অনলাইন প্রকাশনা আত্ম উন্নয়ন খাদ্য ও স্বাস্থ্য গবেষণামূলক প্রকাশনা চিকিত্সাশাস্ত্র এবং বিজ্ঞান

কি খাচ্ছি? ফল, খাবার নাকি বিষ? পর্ব-১ (একটি গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ)

কি খাচ্ছি? ফল, খাবার নাকি বিষ? পর্ব-১ (একটি গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ)

–সাকি বিল্লাহ্

আসলে একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে এটা বোঝা খুবই কঠিন বিষয় যে কোন ফলে বা খাবারে বিষ আছে আর কোনটাতে নেই ।

ধারাবাহিক এ পর্বে আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান দিয়ে আলোচনা করব বিভিন্ন খাবার ও ফল নিয়ে; কোন কোন খাবার বা ফলে কি কি বিষাক্ত রং বা কেমিক্যাল মেশানো হচ্ছে আর এর প্রতিকার কি?

আজকের আলোচ্য বিষয় “তরমুজ”:

তরমুজ সবারই প্রিয় সবজী জাতীয় ফল । প্রচন্ড এই গরমে আমরা তরমুজ খাব এটাই স্বাভাবিক কিন্তু এক শ্রেনীর অসাধু ব্যাবসায়ী তরমুজ পরিপক্ক না হওয়ার আগেই বাজারজাত করছে আর অপরিপক্ক তরমুজের রং সাদা হতে লাল করার জন্য বা স্বাদে মিস্টি করার জন্য ইনজেকশন বা ঔষধসুচেঁর মাধ্যমে দিচ্ছে বিভিন্ন কেমিক্যাল ।

তরমুজের রং লাল করার জন্য দেয়া হচ্ছে কৃত্রিম রং বাইক্সিন বা রেড ডাই -২(bixin dye or red dye-2) এবং মিস্টি করার জন্য দেয়া হচ্ছে সোডিয়াম সাইক্লোমেট(sodium cyclamate) ও স্যাকারিন ( Sacharin) ১০:১ হারে । যা সাধারণ চিনির চাইতে ৩০-৫০ গুন বেশি মিস্টি আর শুধু স্যাকারিনের ক্ষেত্রে যা ৫০০-৭০০ গুন । আজকাল বেশির ভাগ ভোগ্য পন্যেও দেয়া হচ্ছে এ কেমিক্যাল যা এক দীর্ঘ মেয়াদী বিষ বা স্লো পয়জন ।

এবার চলুন দেখি এ বাইক্সিন ডাই, রেড ডাই-২, স্যাকারিন বা সোডিয়াম সাইক্লোমেট খেলে কি কি ক্ষতি হতে পারে মানব শরীরে ।

#সোডিয়াম সাইক্লোমেটঃ দীর্ঘদিন এ বিষ খেলে মানুষের নিম্নোক্ত প্রদাহ হতে বাধ্য,

১. ব্লাডার(মুত্রথলি) ক্যান্সার

২. টিউমার

৩. পুরুষ্ত্ব বিনস্ট হওয়া(Male fertility System or Sperm Problem)

৪. উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধি পাবে

৫. মহিলাদের ব্রেস্ট ক্যান্সার হতে পারে

ইত্যাদি ।

#স্যাকারিনঃ দীর্ঘদিন স্যাকারিন খেলে যা যা ক্ষতি হতে বাধ্য,

১. অস্থিরতাঃ বিশেষত হাত ও পা কাঁপা যা ইংরেজীতে restless leg or hand syndrome বলে

২. মাথা ও পেশীতে ব্যাথা অনুভূত হওয়া

৩. পার্কিনসন্স ডিজিজ (Parkinson’s disease)

পার্কিনসনের অসুখের লক্ষণ:

– মাসল শক্ত হয়ে যাওয়া।
– হাত-পা কাঁপা।
– চলা-ফেরার গতি স্লথ যাওয়া।
– হাঁটা-চলার ধরণ পাল্টে যাওয়া।
– ব্যালেন্সের অভাব – ফলে মাঝে মাঝে মাটিতে পড়ে যাওয়া, ইত্যাদি।

৪. জয়েন্ট পেইন বা অস্থিসংযোগ স্থলে ব্যাথা

৫. বিষন্নতা বা depression ইত্যাদি

সর্বশেষে আসা যাক কৃত্রিম রং বাইক্সিন ডাই বা রেড ডাই-২ বা bixin dye or red dye-2

#বাইক্সিন ডাইঃ

১. কিডনী প্রদাহ বাড়বে এবং কিডনী নস্ট হয়ে যেতে পারে

২. ব্লাডার বা মুত্রথলিতে পাথর হতে পারে

৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পাবে

৪. অনিদ্রা বা insomnia হতে পারে

৫. শরীরের বিভিন্ন অংশে এলার্জি দেখা দিতে পারে

এবার আসুন আমরা কিভাবে এ ধরনের কেমিক্যাল দেয়া তরমুজ থেকে বেঁচে থাকতে পারব,

১. তরমুজ কৃষকের ক্ষেত থেকে সরাসরি আহরন করা যেতে পারেঃ এ ক্ষেত্রে কৃষকের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ রাখতে পারেন আর ১০-১৫ দিনের তরমুজ একসাথে কিনে নিয়ে আসতে পারেন নিজেই অথবা কয়েকজন বন্ধু ও আত্মীয় একসাথে; দামও অনেক কম পড়বে (গড়ে ১০০ তরমুজ এর দাম পড়বে ১০০০/- থেকে ১৫০০/- টাকা) প্রতিটি ১০ থেকে ১৫ টাকার মধ্যে আর পাঠিয়ে দিতে পারেন কোন মালবাহী বাস বা ট্রাকে, এক্ষেত্রে অনেকে এসএ পরিবহনের সাহায্য নিয়ে থাকেন ।

২. সরকারকে আরো কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে

৩. সাধারণ মানুষদের কাছে স্বল্পমূল্যে পরীক্ষন যন্ত্র, পরীক্ষা করার কেমিক্যাল বা উপাদান ও তাদের প্রসিক্ষণ দেয়া যেতে পারে যাতে করে বাজারে যেকোন পন্য কেনার আগে নিজেই তা যাচাই করে নিতে পারেন ।

৪.  এ ক্ষেত্রে সাইখ সিরাজ ভাই বা তৃতীয়কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অর্গানিক কোন ফার্ম খুলতে পারেন যেখানে প্রাকৃতিকভাবে সব ফসল উৎপাদিত হবে । আর ঘোষণা করা হবে কেউ কোন ধরনের কৃত্রিম কেমিক্যাল এর প্রমান পেলে তাকে ১ কোটি টাকা পুরষ্কার দেয়া হবে ।

এবং ৫. সকল ব্যাবসায়ী ভাইবোন ও সাধারণ মানুষদের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং সর্বোপরি ব্যাবসায়ীদের সততা বোধ জাগ্রত করতে হবে বিভিন্ন টিভি এডের মাধ্যমে ।

এ বছর আমি তরমুজ খাওয়া বাদ দিয়েছি । সামনের বছর উপরের ১ নং উপদেশ গ্রহন করব বলে মনস্থির করেছি । কেমিক্যাল মুক্ত ফল ও খাবার খান, সবাই ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন ।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা আত্ম উন্নয়ন বিনোদন ভালবাসা/প্রণয়লীলা যৌন জ্ঞান ও সম্পর্ক সৃজনশীল প্রকাশনা

বাইরের সাহায্য ছাড়া যুবক-যুবতীদের প্রেম নিবেদন

যখন কোনও তরুণী তার হাবভাবে বা ব্যবহারে আর এক যুবকের প্রতি আসক্তি দেখায়, তখন ঐ যুবক আর কোনবও ঘটক বা মধ্যবর্ত্তী দূতের সাহায্য না নিয়ে নিজেই ঐ যুবতীকে লাভ করবার ব্যবস্থা করবে।
পাশা খেলা বা তাস খেলতে খেলতে ছলনা করে যুবক যুবতীর সঙ্গে ঝগড়া আরম্ভ করতে পারে। তখন যুবতী নিশ্চয়ই তার আকারে প্রকারে নানা রকম কামক্রিয়ার সূচনা করতে পারে।
অবসর পেলেই ঐ প্রেমিক যুবক যুবতীকে আল্‌গা আল্‌গা ভাবে অঙ্গ স্পর্শ করবে। তখন সে হয়তো এমন ছবি ঐ নায়িকাকে দেখাতে পারে যাতে দুটি মূর্ত্তি (একটি নারী একটি পুরুষ) পরস্পর আলিঙ্গন অবস্থায় অঙ্কত।
কোন মিলনের ছবি দেখিয়ে নায়িকাকে নায়ক তার মনের ইচ্ছা বোঝাতে পারে। অথবা নদীতে বা দীঘিতে দু’জনে স্নান করার সময় নায়ক একটু তফাতে ডুব মেরে একেবারে নারীর অঙ্গ ঘেঁসে উঠতে পারে। গা ঘেঁসে দূরে যেয়েও উঠতে পারে। এতে প্রেমাকর্ষণ বাড়ে।
বসন্ত উৎসবের সময় কোনও পাতায় তার মনের ইচ্ছার ছবি এঁকে তা ঐ প্রেমিকাকে দেখিয়ে তার মনের কথাটা জানাতে পারে।
ঐ যুবক তার প্রেমিকাকে বলতে পারে যে তাকে না পেলে বড় মন খারাপ হয়ে যায়। ঘুম আসে না, ঘুমোলে সে তাকে স্বপ্ন দেখে।
থিয়েটার বা যাত্রা দেখতে গিয়ে কোনও ছল করে সে ধীরে ধীরে তার অঙ্গ স্পর্শ করবে। খুব আসে- আসে- তার পায়ের বুড়ো আঙ্গুল নিজের আঙ্গুলে দিয়ে চেপে ধরবে। যে কোন নিশানাতেই নিজের মনের ভাব নায়িকাকে জানাবে-আমি তোমাকে ভুলতে পারি না। এসো দু’জনে একসঙ্গে থাকি।
যখন নায়ক বুঝবে-নায়িকা সত্যিই তার প্রতি আসক্ত তখন সে অসুখের ভান করবে। নায়িকাকে ডেকে পাঠাবে-নায়িকা হয়ত এসে মাথায় গায়ে হাত বুলাবে।
তখন নায়ক বলবে-উঃ কি আরাম। এত ওষুধ খাওয়া হলো, তাতে কিছুই হলো না। তোমার সামান্য স্পর্শে আমি খুব আনন্দ পেলাম, আমি অনেক সুস্থ।
তারপর সে নায়িকার অনেক প্রশংসা করবে। এইভাবে ধীরে ধীরে নায়িকা আকৃষ্ট হ’লে দু’জনে কোনও দিন নিভৃতে থাকাকালে নায়ন যৌন কার্যের কথা বলবে। এটি অন্ধকারে করা উচিত-কারণ অন্ধকারে নায়িকাদের প্রেম কামনা বৃদ্ধি পায়।
একান্ত কিছুতেই স্বীকৃতি না পেলে নায়িকার কোন সখী বা সাথীদের সাহায্য নেওয়া উচিত।
যখন কোনও তরুণী সাধারণ কোন জায়গায়, দেব মন্দির কিংবা উৎসবের জায়গায় কোনও তরুণের প্রতি ভালবাসা দেখায় (যমন চাউনি, হাসি খুশি ইত্যাদি) তখন বুঝতে হবে ঐ তরুণ ইচ্ছুক হলেই তরুণীটিকে সে লাভ করতে পারে। শুধু চাই ধৈর্য্য, কৌশল ও অধ্যবসায়।

ইচ্ছুক নারীদের কর্তব্য
যখন কোনও নারী তার মনের মত পুরুষ পেতে ইচ্ছুক হয়, তখন এমনও হতে পারে যে ঐ তরুণীকে সে কিছুতেই যোগাড় করতে পারে না।
এরূপ ঘটনা নিম্নলিখিত ক্ষেত্রগুলিতে ঘটতে পারে। যথা-
১। কোন সম্ভ্রান্ত কন্যা, সুন্দরী, গুণবতী কিন্তু আর্থিক অভাবগ্রস্ত।
২। নারী গুণবতী, সুন্দরী কিন্তু উচ্চবংশের নয়।
৩। পিতৃমাতৃহীন, মাতুলালয়ে প্রতিপালিত।
৪। স্বামী জোগাড় করে দেবার লোকের অভাব।
৫। বয়সে বিবাহ যোগ্যের হয়ে বেশি।
এইসব ক্ষেত্রে হলে নিজের চেষ্টা করে তার মনোমত প্রতি যোগাড় করে নেবে।
সে তখন একজন পরিশ্রমী, উদ্যমশীল ও সুশ্রী তরুণকে মনে মনে ঠিক করে নেবে।
হয়তো বাল্যকালে যে সব বালকের সঙ্গে সে খেলাধূলা করেছিল, তাদের একজনকে ঠিক করে নিতে পারে। অথবা এমন যুবককে মনে মনে ঠিক করবে-যে তার প্রতি কিছু কিছু ইশারায় আসক্ত হয়েছে।
সেই যুবক এমন চিহ্ন প্রকাশ করেছে যে, নায়িকার মত পেলে সে তাকে বাবা মার মতের বিরুদ্ধেই বিয়ে করতে পারে। তাকে পাবার জন্যে নিজের পৈতৃক ধন্তসম্পত্তিও বিসর্জন দিতে পারে। এমন কি সমাজের নিন্দা বা নিষেধাজ্ঞা সে অগ্রাহ্য করতে পারে।
মনে মনে এমনি পাত্র ঠিক করে সে সেই তরুণের সঙ্গে নিভৃতে দেখা করবে। হাব ভাব ইঙ্গিতে সে তাকে আকর্ষণ করতে চেষ্টা করবে।
সুযোগ পেলে সে গোপনে নায়ককে ফুলের মালা বা গন্ধ দ্রব্য উপহার দিতে পারে।
নায়িকা নিভৃতে নায়ককে মনের ভাব জানাবে-তার কাণের কাছে মুখ নিয়ে ফিস্‌ফিস্‌ করে গল্প করবে, দেখবে, নায়ক তাকে চায় কিনা।
যদি নায়ক তা চায় সে তখন নায়িকার দেহ স্পর্শ বা আলিঙ্গণ করবে।
নায়িকা আগে বুঝবে, নায়ক তাকে গ্রহণ করতে সত্যি রাজী কিনা। যদি দেখে নায়ক তাকে গভীর ভাবে ভালবাসে-তখন সে নায়কের চুম্বন বা আলিঙ্গনের উত্তর দেবে।
নায়ক যদি যৌন মিলনের প্রস্তাব করে নায়িকা তাতেও রাজী হবে।
তারপর দু’জনে চুম্বন, আলিঙ্গন করবে। নায়ক তার দেহ মর্দন করলে সে তা উপভোগ করবে। কিন্তু আগে দেখা উচিত নায়ক যেন বিশ্বাসী হয়-অর্থাৎ উপভোগ করে ত্যাগ করতে না পারে।
মিলনের সময় নায়ক চাইলে, নায়িকা তার বাম হাত দিয়ে নায়কের লিঙ্গ স্থানে চাপ দিতে পারে।
নায়িকার যোনিতে হাত দিয়ে নায়কের লিঙ্গ স্থানে চাপ দিতে পারে।
নায়িকার যোনিতে হাত দিয়ে চাইলে, সে মৃদু আপত্তি করবে, তাতে বাধা দেবে না।
কিন্তু প্রত্যক্ষ যৌন মিলনে রাজী হওয়া উচিত-যতক্ষণ অন্ততঃ গান্ধর্ব বিয়ে অনুষ্ঠিত না হচ্ছে।
এ বিষয়ে পরে বলা হবে।

নারী কিরূপ পুরুষ চায়
১। বলিষ্ঠ, স্বাস্থ্যবান ও যুবক।
২। সুন্দর গাত্রবর্ণ, সুদর্শন ও সুশ্রী।
৩। যার মধ্যে নিজস্ব স্বকীয়তা বা বিশেষ দৃঢ়তা আছে।
৪। যে কিছুটা অহঙ্কারী, গর্ব্বিত।
৫। যার প্রচণ্ড আত্নবিশ্বাস আছে।
৬। যার বিশেষ ব্যক্তিত্ব ও দৃঢ়তা আছে।
৭। যে পুরুষের নিজস্ব উপার্জন যথেষ্ট এবং সে তাকে প্রতিপালন করার যোগ্য।
৮। যে পুরুষের অন্য স্ত্রী নাই-বা অন্য নারীর প্রতি গভীর আসক্তি নাই।
৯। যে নির্ভরযোগ্য ও তাকে সারা জীবন আশ্রয় দিতে পারবে।
১০। নায়ক সুশিক্ষিত, মার্জিত ও রুচি সম্পন্ন হলে খুব ভাল হয়।
১১। খেয়ালী ও কল্পনা প্রবণ পুরুষকেও অনেক নারী পছন্দ করে থাকে।
১২। যে পুরুষের নানা গুণ আছে-যেমন,গান, বাজনা, শিশুসাহিত্য, কাব্য ইত্যাদি। কোনও বিশেষ গুণের অধিকারী যে পুরুষ।
১৩। যে পুরুষ উচ্চ বংশ উদ্ভুত।
১৪। বয়সে নারীর চেয়ে কিছুটা অন্ততঃ পাঁচ-ছয় বছরের বড়।
১৫। যে পুরুষ নারীকে সত্যিই গভীর ভাবে ভালবাসে।
১৬। খুব কামুক বা লম্পট পুরুষকে চায় না।
১৭। বয়স্ক বা অনাসক্ত পুরুষকে চায় না।
১৮। জুয়াড়ি বা বেশ্যাসক্ত পুরুষকে চায় না। এই ধরণের অন্যান্য গুণ থাকলেও তাকে নারী ঘৃনা করে।
১৯। যে পুরুষ হৃদয়হীন বা অত্যাচারী ও স্বেচ্ছাচারী হয় তাকে নারী চায় না।
২০। যে পুরুষ পৌরুষত্বহীন বা দৃঢ়তাহীন তাকেও নারী চায় না।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা আত্ম উন্নয়ন বিনোদন ভালবাসা/প্রণয়লীলা সৃজনশীল প্রকাশনা

আজিমের বউ

– কাজী আনোয়ার হোসেন

১.

আপন মনে গুনগুন সুর ভাঁজছে মিতা শাহনাজ, তৈরি হচ্ছে স্কুলের জন্য। কাল একটু রাত জেগে পরীক্ষার খাতাগুলো দেখে রাখায় সকালে কাজের চাপ একদম নেই। সদ্য পাটভাঙা, লালপেড়ে, সুন্দর একটা সুতির ছাপা শাড়ি পরেছে ও আজ; আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে এলোখোঁপায় গোটা কয়েক কাঁটা গুঁজে নিয়ে পাউডারের পাফ বুলাচ্ছে নাকে-মুখে। মর্নিং শিফটে বাচ্চাদের দুটো ক্লাস নিয়ে ফিরে আসবে, গোসল-খাওয়া সারবে বাসায়, তারপর আবার ডে শিফটে সেভেন-এইটের দুটো ক্লাস নেবে দুটো থেকে চারটে পর্যন্ত। ব্যস, ছুট্টি। খাতা-কলম, র‌্যাপিড রিডার, সবুজ সাথী, ড্রইংবক্স সব ওর বুটিক-ব্যাগে পুরে ওটা কাঁধে ঝুলাতে যাবে, এমনি সময় ঝনঝন শব্দে বাজল টেলিফোন। কেন জানি ওর মনটা আগাম গাইল: হয়তো খারাপ কোনও খবর। ভয়ে ভয়ে রিসিভার কানে তুলল ও। ‘কে কও? মিতা?’ নানীজির কাঁপা গলা। এই রসিক বৃদ্ধাকে ওর ভারি পছন্দ। এ-শহরে টিচার হয়ে এসে প্রথম ছয়টা মাস পেয়িং গেস্ট হিসেবে ছিল ও এঁদের পরিবারে, বিশেষ করে এঁর মধুর, ঘনিষ্ঠ সাহচর্যে। এখনও নানীজির বাড়িতে যখন-তখন ওর অবাধ যাতায়াত। ও-বাড়ির সবকিছুতে ওকে থাকতেই হবে, কোনও অনুষ্ঠানে যদি না যায়, নানীজি নিজে চলে আসেন নিতে। মিতার সাড়া পাওয়ামাত্র রেলগাড়ি ছুটালেন নানীজি। ‘কী বিয়াপার, মিতা, ভুইলা গেছো নিকি আমাগো? আহো না যে? অসুক-বিসুক অইল নিকি আবার? এক সাপ্তা গেল গা, পাত্তাই নাই!’ প্রথমে বাঁধা-ধরা অনুযোগ সেরে নিয়ে এইবার শুরু করলেন নানীজি পুরো খবর, ‘এইদিকের গটনা জানো না, মিতা? আজিম তো আইতাছে। সইন্ধ্যার গাড়িতে আইব, আগামী কাইল।’ একটু ইতস্তত করলেন তিনি, তারপর বলে ফেললেন আসল খবর, ‘বউ নিয়া আইতাছে আজিম।…কী কইলা?…হ, বউ নিয়া। ঢাকা থেইকা ফোন করছিল আমারে কাইল অনেক রাইতে। হাতে এক্কেরে সময় নাই। কও দেহি, তারাহুরা কইরা আমরা অহন কী ব্যবস্তা করি! বাড়ির হগলতে এক্কেরে পেরেশান হইয়া পড়ছে। আইজ বিকালে পারিবারিক মীটিন। তুমি আইজ ইসকুল থেইকা সিদা আমাগো এইহানে আইসা পড়ো। হগলতে মিলা বুদ্দি-পরামশ্য কইরা দেহি কী করা যায়।…কী কইলা?…হ, এই বাড়ির হগলতে তো থাকবই, কয়জন আপ্তীয়-স্বজনরেও ডাকুম।…কী কইলা?…পিট্টি লাগামু কইলাম! তুমি আপ্তীয়রও বেশি, তুমি একটুও দেরি করবা না, মিতা। একটা আয়োজন করতে হইলে…’ বলেই চললেন নানীজি। বাড়িঘর গোছগাছ করা, নাতি-নাতবৌয়ের জন্য সুন্দর করে একটা ঘর সাজানো, বাড়ির বাইরের আলোকসজ্জা, খানাপিনার ব্যবস্থা, ডেকোরেটরের সঙ্গে কথা বলা-হ্যাঁ, অনেক কাজ পড়ে রয়েছে, সময় কম। রিসিভার কানে ধরে জানালা দিয়ে বাইরে চেয়ে আছে মিতা। বাগানের লাল-নীল-হলুদ ফুলগুলো রঙ হারিয়ে কেমন মলিন হয়ে গেছে, এক রঙ অন্য রঙে মিলেমিশে ঝাপসা। ফোন ছেড়ে জানালার সিক ধরল মিতা। মনে হচ্ছে কণ্ঠনালীর কাছে এসে লাফাচ্ছে হৃৎপিণ্ডটা, চিন্তাগুলো অস্পষ্ট। ধীরে ধীরে কিছুটা রঙ ফিরে এলো ফুলে, মাতালের মত ঢলাঢলি কমল ওদের। মাথাটা একটু পরিষ্কার হয়ে আসতে নির্জলা, নিষ্ঠুর, বাস্তব সত্যটা স্পষ্ট হয়ে উঠল ওর কাছে: ব্যাপারটা ঘটল তা হলে, বিয়ে করে ফেলল আজিম। ভয় ছিল, এমনটা হতে পারে-কিন্তু সত্যি সত্যি ঘটেই গেল! আগে থেকে বলল না, মানসিক প্রস্তুতি নেওয়ার একটু সুযোগও দিল না ওকে! একটু ভাবল না ওর কথা! সঙ্গে-সঙ্গে উত্তর এলো নিজেরই মন থেকে। কেন ভাববে? বিরাট ব্যবসায়ীর একমাত্র পুত্র, নিজেও গতবছর এমবিএ পাশ করে নেমে পড়েছে ব্যবসায়, অল্পদিনের মধ্যেই দাঁড় করিয়ে ফেলেছে আলাদা নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান; উনত্রিশ বছরের তরতাজা, স্বাস্থ্যবান যুবক; যেমন দেখতে-শুনতে, তেমনি ছোট-বড় সবার সঙ্গে ভদ্র, স্বতঃস্ফূর্ত, মিষ্টি ব্যবহার; পরিবারের সবার আদরের ধন, চোখের মণি, কলজের টুকরো-সে কেন ওর মত সাধারণ এক স্কুল টিচারের কথা ভাবতে যাবে? কিন্তু তা হলে আগে যেখানে ঢাকা থেকে বছরে একবার বেড়াতে আসত, গত দেড়টা বছর প্রতিমাসেই ছুটে এসেছে কেন ও নানা-বাড়িতে? আর এসেই কেন হই-হই করে খোঁজ করেছে মিতার? ছুটির কটা দিন ওর সঙ্গে হাসি-গল্পে মহানন্দে কাটিয়ে দিয়ে কেন প্রতিবার মন খারাপ করে ফিরে গেছে ঢাকায়? এর উত্তর জানা নেই মিতার। ও অবশ্য বরাবর ভদ্র দূরত্ব বজায় রেখেছে, এরকম একটা ভয় ছিল বলেই তীক্ষ্ন উপস্থিতবুদ্ধির কাঁটাতার দিয়ে ঘিরে রেখেছে নিজেকে, সহজ বন্ধুত্ব হিসেবে হালকা করে দেখেছে সম্পর্কটাকে। বিকেলে হাঁটতে হাঁটতে চলে গেছে ওরা নদীর তীর ধরে অনেক, অনেকদূর-কিন্তু হাত ধরেনি কেউ কারও। মুখ ফুটে কেউ বলেনি কিছু। কিন্তু বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে মিতা, মনের গভীরে কোন আশাই দানা বাঁধেনি ওর? ফোঁস করে দীর্ঘশ্বাস পড়ল।-না, তা বলতে পারবে না। যাক, এখন কিছুতেই কিছু এসে যায় না। টেনিসনের লাইনটা মনে পড়ছে: ‘সুখের দিনগুলো স্মরণ করলে চরমে পৌঁছবে তোমার দুঃখ।’ ভুলে যাও, ভুলে যাও।

২.

স্কুলের ঘণ্টা পড়তেই সচকিত হলো মিতা। কর্তব্য যখন বেদনার কাঁধে হাত রেখে সান্ত্বনা দিয়ে বলে: ‘আরে, দূর, বাদ দাও তো! কাজ পড়ে আছে না তোমার!’ তখন সে-কথায় কান দেওয়াই ভালো। বেরিয়ে পড়ল ইতি। ইঁট বসানো সরু পথের ওপর ঘন হয়ে বিছিয়ে রয়েছে ইউক্যালিপ্টাসের শুকনো ঝরা পাতা। একটু এগিয়ে বামে বাঁক নিয়ে একশো গজ গেলেই স্কুল। দু’বছর হলো বিধবা মাকে গ্রামের বাড়িতে রেখে চাকরি নিয়ে এসেছে ও এখানে। এখন মনে হয় কত যুগ ধরে যেন আছে ও এই শহরে। ছোট্ট একটা মেয়ে ইউক্যালিপ্টাসের ফরসা গায়ে হেলান দিয়ে অপেক্ষা করছিল তার প্রিয় আপার জন্য, মিতা কাছে আসতেই দৌড়ে এসে ভেজা-ভেজা কচি হাত দিয়ে ধরল ওর হাত। ‘আচ্ছা, মিতাপা, ঘাসফড়িংগুলো লাফিয়ে লাফিয়ে কোথায় যায়?’ ‘আমি জানি না তো, বেনু সোনা।’ আনমনে জবাব দিল মিতা। অতীতে চলে গেছে ওর মন। বি.এ. পাশ করে চাকরি নিয়ে ও যখন পাকশিতে আসে, ওর তখন তেইশ, আজিমের সাতাশ। একমাসও হয়নি নানীজির বাড়িতে পেয়িং গেস্ট হিসেবে আছে, এমনি সময়ে ঢাকা থেকে এলো সবার প্রিয়, পরিবারের হিরো আজিম আহমেদ। এসেই সন্ধ্যায় দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে ‘ভউ’ করে ওকে ভয় দেখিয়ে নতুন মানুষ দেখে নিজেই ভয় পেয়ে গিয়েছিল। লজ্জায় লাল। দৃশ্যটা মনে পড়ায় হাসি এসে গেল ঠোঁটে। মিতার হাসি দেখে ছোট্ট মেয়েটা ওর হাতটা নিয়ে নিজের গালে ঠেকাল। ‘আচ্ছা, আপা, তুমি লাল রসগোলা বানাতে পারো?’ ‘না, সোনা।’ ছোটবেলায় মা হারিয়ে আজিম আর ওর বড় বোন শান্তা নানীবাড়িতে মানুষ হয়েছে সাত-আট বছর। তারপর ওদের বাবা এনাম আহমেদ দুজনকে ঢাকায় নিয়ে যান। শান্তার বিয়ে হয়ে যায় সেই বছরই, আজিম মন দেয় লেখাপড়ায়। কিন্তু নানীবাড়ির হাসিখুশি খোলামেলা পরিবেশের আকর্ষণে প্রতি বছরই গরমের ছুটিতে ছুটে চলে আসে ও এখানে। গত সতেরো বছর ধরে এর কোন হেরফের হয়নি। কিন্তু মিতার সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর থেকে প্রায় প্রতি মাসেই এসেছে ও পাকশিতে, হাসি-গল্পে মাতিয়ে দিয়ে গেছে সবাইকে। গল্প করতে গিয়ে দুজনেই আবিষ্কার করেছে অদ্ভুত মিল রয়েছে ওদের দুজনের রুচিতে, চিন্তায়, মন-মানসিকতায়। ‘মিতাপা, আমার জন্মদিন জুলাই নাকি জুনমাসে ভুলে গেছি।’ ‘ভাল করেছ, সোনা।’ গত বছর এমবিএ পাশ করে বাবার ব্যবসায় যোগ না দিয়ে নিজেই আলাদা ব্যবসায় নেমে এক বছরে অনেক উন্নতি করেছে আজিম। গত ছ’টা মাস প্রতিবার যখন এসেছে, ওর জন্য কিছু না কিছু উপহার নিয়ে এসেছে, ওর কাছে সেটা ভাল লাগলে মনে হয়েছে ধন্য হয়ে গেছে আজিম। নানাবাড়ির জমজমাট গল্পের আসরে ইদানীং মাঝেমাঝেই মামা-মামী-খালা-খালুরা ওর বিয়ের প্রসঙ্গ তুলেছেন, আজিম কোন জবাব দেয়নি, লাজুক হেসেছে, আর চোরা চোখে তাকিয়েছে মিতার দিকে। ‘আচ্ছা, আপা, এই শহরে কি বাঘ আছে?’ ‘না, সোনা।’ ‘ভালুক?’ ‘নাহ্!’ এই তো কদিন আগে হঠাৎ আজিমের একটা দীর্ঘ চিঠি এলো মিতার বাসার ঠিকানায়। ওতে নানান কথার শেষে লেখা ছিল কী যেন বলবে ও মিতাকে আগামীবার পাকশি এসে। এখন বোঝা গেল কী বলতে চেয়েছিল। অথচ ও ভেবেছিল, হয়তো…রাগ হচ্ছে মিতার নিজের ওপর, আঘাত লাগছে আত্মসম্মানে, কেন খুশি হয়ে উঠেছিল ওর গোটা অ¯স্তিত্ব? কী ভেবে? ভাগ্যিস কোন উত্তর লিখে নিজেকে খেলো করে ফেলেনি ও! ক্লাসে পৌঁছে রুটিন কাজের মধ্যে কিছুটা স্ব¯স্তি খুঁজে পেল মিতা। প্রথমেই ব্যাগটা ডেস্কের ওপর নামিয়ে বই-খাতা বের করে সাজিয়ে রাখল। গত কদিন ধরেই ছাত্র-ছাত্রীদের ‘কাজলা দিদি’ কবিতাটি মুখস্থ করাচ্ছে, বলল, ‘জাহাঙ্গির, যেটুকু শিখিয়েছি খাতা না দেখে বলো তো শুনি!’ সোৎসাহে শুরু করল জাহাঙ্গির: বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই, মাগো, আমার শোলক-বলা কাজলা দিদি কই? এটুকু বলতেই উঠে দাঁড়াল বেনু। ‘আপা, আমি বলি?’ ‘ওর বলা হয়ে যাক, বেনু, তারপর। কেমন?’ বেনুর আবৃত্তি শেষ হতেই ‘গুড’ বলে চক নিয়ে ব্যাকবোর্ডের সামনে গিয়ে দাঁড়াল ইতি। আজ আরও দুটো চরণ লিখল: ভুঁইচাঁপাতে ভরে গেছে শিউলি গাছের তল, মাড়াসনে মা, পুকুর থেকে আনবি যখন জল।

৩.

প্রায় সবাই হাজির। দোতলায় নানীজির শোবার ঘরে কেউ চেয়ারে, কেউ লম্বা বেঞ্চে, কেউ খাটে, কেউ টুলে-যে যেখানে পেরেছে বসেছে। মিতা পৌঁছতে ওকে ডেকে নিজের ইজিচেয়ারের পাশে একটা গদি আঁটা মোড়ায় বসালেন নানীজি। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে গেল আলোচনা। ছোটখালার ইচ্ছে সামনের আঙিনায় প্যান্ডেল টাঙানো হোক। মেজোখালার ইচ্ছে শহরের সবাইকে দাওয়াত করা হোক। মেজো মামা আপত্তি করলেন: ভোজ লাগানোর কোন দরকার নেই, বিয়ে হয়ে গেছে, এখন শুধু আত্মীয়-বন্ধুদের নিয়ে চা-বিস্কিটের একটা সম্বর্ধনা হলেই যথেষ্ট। নানীজি বললেন: মোরগ পোলাওয়ের লগে আর কী-কী থাকবো, হেইটা নিয়া চিন্তা করো। বড়খালা বললেন: টিকিয়া, বোরহানী আর খাসীর কালিয়া। আর মুরগীর রোস্ট-জিভ টেনে বলল ছোট্ট ইরিনা। এইবার ছোটরা কাঁইমাই শুরু করল। পুবের বড় বেডরূমটা সাজানো হবে আজিম ভাই আর ভাবীর জন্য। ফুলের দায়িত্ব থাকবে অলকের ওপর, কাগজ-কাটা সাজসজ্জার ভার নিতু ভাবীর ওপর। সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকবে ছোটখালু। কেনা-কাটা, প্যান্ডেল, বাবুর্চি-বেয়ারা এসবের ভার নিলেন বড়মামা। ‘ডিনার সেট, পেট, গাস এসব ভাড়া না করে নানুর আলমারি থেকে-’ এর বেশি আর বলতে পারল না মেজখালার মেয়ে নাসিমা; বাঙাল ভাষায় ফুঁসে উঠলেন নানীজি। ‘খবরদার! আমার কইলজা হাতরাইয়া কিছু যদি বাইর করবি, নলী বাইঙ্গা ফালামু কোলাম!’ ‘ধরতে পারলে তো!’ বলল অলক। ‘দৌড়ে তুমি পারবে আমাদের সঙ্গে?’ হাসলেন নানীজি, তারপর ভুরু কুঁচকে কপট রাগ দেখিয়ে বললেন, ‘আলমারিতে চোখ দিবি না, ব্যস, কোইয়া দিলাম!’ ‘আচ্ছা, চায়নিজ করলে কেমন হয়?’ নতুন এক প্রস্তাব তুলল বড়খালার ছোটমেয়ে রুবি। ‘হল ভাড়া নিয়ে-’ ‘খুব খারাপ হয়,’ জবাব এলো তারই মায়ের কাছ থেকে। ‘কেন?’ জানতে চাইল তাঁর আরেক মেয়ে। ‘আমি তো উপর-নিচ করতে-’ বলতে নিয়েছিলেন নানীজি, কিন্তু কথা শেষ করবার আগেই প্রস্তাব উইথড্র করে নিল রুবি। ‘আমি ভাবছিলাম, যদি ঢাকার পশ্ এলাকার আল্ট্রা মডার্ন মেয়ে হয়,’ ব্যাখ্যা দিল রুবি, ‘তা হলে আমরা ভাবীকে দেখিয়ে দিতে পারতাম, এখানে আমরাও খুব একটা পিছিয়ে নেই।’ নতুন আইডিয়া খেলল তরুণ ফটোগ্রাফার বাবলুর মাথায়: ‘গেটের ওপর আজিম ভাইয়ের একটা ছবি এনলার্জ করে টানিয়ে দিলে কেমন হয়?’ ‘খুব ভাল হয়,’ বলল মিতা। ‘কাবাবঘরের গেটে যেমন খাসীর ছবি টাঙানো থাকে, তাই না?’ সবাই হো-হো করে হেসে ওঠায় লজ্জা পেয়ে মিতা আপারই আঁচল তলায় লুকাল বাবলু। ওর পিঠে হাত বুলিয়ে দিল মিতা। চা-নাস্তার ফাঁকে-ফাঁকে ঘণ্টা দুয়েক আলোচনা, হাসি-তামাশা আর গল্প-গুজব চলল, সবার সঙ্গে সমান তালে আড্ডা দিল মিতাও। প্রত্যেককে যার-যার দায়িত্ব বেঁটে দিলেন নানীজি, এমন কি ছোট্ট ইরিনাও পেল একটা পান-সুপারী সাজানো থালার দায়িত্ব। মিতার ওপর পড়ল বাদাম-পেস্তা দেওয়া শরবত তৈরি করা এবং সবাই ঠিক মত পেল কিনা দেখবার দায়িত্ব। পরদিন দুপুরে আসবে কথা দিয়ে বাসায় ফিরে গেল ও।

৪.

পরদিন শুক্রবার। স্কুল নেই। সন্ধের আগেই নানীজির প্রশস্ত রান্নাঘরের কোণে টেবিলের উপর রাখা একটা কল লাগানো ড্রামে কুচি করা বাদাম-পেস্তা দেওয়া মিষ্টি দইয়ের শরবত বানিয়ে ফেলল মিতা। বড় দেখে তিনটে বরফের চাঁই ছাড়ল ওতে। বর-কনে পৌঁছে গেলেই গাসে-গাসে ঢালা হবে শরবত। তখনও ওর হাজির থাকতে হবে, কারণ কল খুলে ঢালার আগে বড় হাতা দিয়ে আচ্ছামত গুলাতে হবে, দেখতে হবে মিষ্টি ঠিক হয়েছে কি না। কাপড় পাল্টে আসছি বলে ঘরে ফিরে বিছানায় লুটিয়ে পড়ল মিতা। কিচ্ছু ভাল লাগছে না, উঠে দাঁড়াবারও শক্তি নেই শরীরে। বুক ভেঙে উঠে আসতে চাইছে কাঁপা-কাঁপা দীর্ঘশ্বাস। আধঘণ্টা শিথিল ভঙ্গিতে পড়ে থেকে, নিজেকে চোখ রাঙিয়ে অনেক কষ্টে তুলল ও বিছানা থেকে। শথ ভঙ্গিতে সাদামাঠা একটা শাড়ি পরল ও, কাজল দিল চোখে, মুখে হালকা পাউডার বুলিয়ে, কপালে ছোট্ট একটা লাল টিপ পরেই রওনা হলো আলো-ঝলমল বাড়িটার দিকে। অভ্যাগতরা আসতে শুরু করেছেন। দূর থেকে ট্রেনের সিটি কানে আসতেই ধক্ করে উঠল মিতার বুকের ভিতরটা। ওই, আসছে ওরা! বড় মামা গাড়ি নিয়ে গেছেন ওদের আনতে। ওর ইচ্ছে হলো ঝোপে-জঙ্গলে কোথাও লুকিয়ে পড়ে, এমন কোথাও, যেখান থেকে ওদেরকে দেখা যায়, কিন্তু ওকে কেউ দেখতে না পায়। মাথা নেড়ে বাজে চিন্তা দূর করে দিল মিতা। এখন ভেঙে পড়লে চলবে না, মনটাকে শক্ত করে নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তৈরি থাকতে হবে। কেউ যেন ঘুণাক্ষরেও টের না পায় ওর ভিতরে কী চলছে। গম্-গম্ করছে বাড়িটা ঠিক বিয়ে-বাড়ির মতই। সবাই চারদিকে এমন ভাবে ছুটোছুটি করছে, যেন পিঁপড়ের বাসায় খোঁচা দিয়েছে কেউ। ‘আরে, মিতা আপা! তুমি এতক্ষণে আসছ?’ নিচতলার বারান্দায় উঠতেই বলল ছোটখালার বড় মেয়ে ঝর্না, ‘সেই কখন থেকে পাগল হয়ে খুঁজছে নানু তোমাকে! জলদি ওপরে যাও, নইলে চেঁচিয়ে বাড়ি মাথায় করবে তোমার নানীজি!’

৫.

প্রাচীন বাড়িটাকে আর চেনাই যাচ্ছে না। ছোটরা সত্যিই সুন্দর করে সাজিয়েছে কাগজের ফুল আর নকশা দিয়ে। সিঁড়ির ধাপে আর ল্যান্ডিঙে আলপনা আঁকা হয়েছে। সুন্দর লাগছে। দোতলায় উঠে গেল মিতা। সিঁড়ি বেয়ে পিলপিল করে উঠছে-নামছে উৎসবের বাহারি সাজ-পোশাক পরা নানান বয়েসী চেনা-অচেনা অসংখ্য ছেলেমেয়ে। ওকে দেখে মিষ্টি করে হাসলেন ছোটখালা। ‘বাহ্! ভারি সুন্দর লাগছে তো তোমাকে আজ!’ মৃদু হেসে পাশ কাটাল মিতা। নানীজির কাছে যেতে হাত ধরে বসালেন তিনি পাশে। কেন খোঁজ করছেন জিজ্ঞেস করায় বললেন, ‘কী কইলা?’ ‘আমাকে খুঁজছিলেন বলে?’ ‘হ।’ ‘কেন?’ কেন খুঁজছিলেন মনে নেই নানীজির। নিজ দায়িত্বের কথা ভেবে সচকিত হলো মিতা। ‘আমার একটা টুল দরকার ছিল যে, নানীজি। ওর ওপর চড়ে শরবত ঘুঁটতে হবে ঢালার সময়।’ ‘ঠিক কইছ। তোমার বড়খালা আছে রান্নাঘরে, অরে কইলেই একটা টুলের ব্যবস্তা কইরা দিব।’ রান্নাঘরে চলে এলো মিতা। টেবিলের ধারে একটা টুল রাখা, তার ওপর বসেই অপেক্ষা করছেন বড়খালা ওর জন্য। ওকে দেখেই উজ্জ্বল হয়ে উঠল তাঁর চোখদুটো। ‘দারুণ লাগছে তোমাকে, মিতা!’ ওর চিবুক স্পর্শ করে আঙুলে চুমো খেলেন বড়খালা। ‘আজিমটা একটা আস্ত গাধা! কাছের মানুষটাকে মনে ধরল না, হুট করে বিয়ে করে বসল কোথাকার কোন্ মেয়েকে। অথচ আমরা সবাই জানি একমাত্র তোমাকেই সত্যি-সত্যি মানায় ওর পাশে।’ ‘শরবতটা এখন একবার ভাল করে ঘুঁটে বরফ দিয়ে রাখলে হতো না, খালা? মিষ্টি ঠিক হয়েছে কি না কে জানে!’ টুল ছেড়ে উঠে পড়লেন বড়খালা। ‘ঠিক বলেছ। তুমি নাড়ো, আমি একটা গাসে নিয়ে চেখে দেখি।’ টুলে উঠে দাঁড়াল মিতা ইয়া বড় এক কাঠের ঘুঁটনি নিয়ে। বড়-বড় আরও কয়েকটা বরফের চাকা ছাড়া হলো টবে। মিনিট পাঁচেক ঘাঁটাঘাঁটির পর চেখে দেখা গেল মিষ্টি বেশি লাগছে, তার মানে বরফ গললে একদম ঠিক হবে। আবার ঢাকনা বন্ধ করে রাখা হলো, সার্ভ করবার আগে আবার একবার ঘাঁটতে হবে, ব্যস। এবার দোতলার বারান্দায় চলে এলো মিতা বড়খালার সঙ্গে। এখান থেকে দেখা যাবে বর-কনেকে গেট দিয়ে ঢুকবার সময়। ফুলের তোড়া নিয়ে তিন-চারটে বাচ্চা মেয়ে দাঁড়িয়েছে গেটের দু’পাশে। বিরিয়ানী আর টিকিয়ার গন্ধ ভেসে আসছে নীচ থেকে।

৬.

বড়মামার গাড়ির টানা হর্ন শুনে বুক কাঁপতে শুরু করল মিতার। দোয়া-দরুদ পড়ে ফুঁ দিল বুকে, যাতে ভেঙে পড়ে সবার সামনে বেইজ্জত না হয়। গেটে এসে থামল গাড়ি। ওই তো, নামছে আজিম! সেই ঋজু, সুঠাম দেহ, চিতানো বুক, ব্যাকব্রাশ করা চুল; সেই স্বতঃস্ফূর্ত, উজ্জ্বল হাসি। আর পাশে-ওহ্, ভারী মিষ্টি তো মেয়েটা!-ঠিক যেন ফুটফুটে এক লালপরী। বয়সটা যদিও একটু কম-টেনেটুনে বড়জোর সতেরো হবে। কমনীয় চেহারাটা টুকটুকে লাল কাতান শাড়িতে কেবল সুন্দর না, অপূর্ব সুন্দর লাগছে দেখতে। ফোঁস করে একটা দীর্ঘশ্বাস পড়ল মিতার নিজেরই অজান্তে। চট্ করে ঘাড় ফিরিয়ে চাইলেন বড়খালা। মনটা শক্ত করল মিতা। দায়িত্বের কথা মনে পড়ল ওর। আজিম তখন মামা-খালুদের সালাম করে পরিচিতদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে। মিষ্টি হাসি মুখে নিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে ওর বউ। মুখ নাড়া দেখে কেন যেন মনে হলো আজিম জিজ্ঞেস করল: মিতা কই? মিতা আসেনি? তারপর হাতের ইশারায় এগোতে বলল বউকে। হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে গেছে মিতার, গরম ভাপ বেরোতে চাইছে দুই গাল আর কান দিয়ে। ও জানে না, ওর হিংসে করবার কোন কারণই নেই: ওর ফরসা গালের লালচে আভা, কোমর ছাড়িয়ে নেমে যাওয়া মেঘবরণ চুল, আর কাজল-কালো আয়ত চোখ এ-মুহূর্তে ওকে নববধূর চেয়ে অনেক-অনেক বেশি আকর্ষণীয় করে তুলেছে। এগিয়ে আসছে আজিম বউ নিয়ে। সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়তে চাইছে ওদের ওপর। কী যেন বলল আজিম, হো-হো করে হেসে উঠল সবাই। খালা-খালুরা হাসছে, হাসছে মামা-মামীরাও, হেসে গড়িয়ে পড়ছে ছোটদের দল। কে যেন বলল, ‘একদম মায়ের চেহারা!’ এখনি খোঁজ পড়বে শরবতের। রান্নাঘরের দিকে ছুটল মিতা। সাদামাঠা শাড়ি পরে চলে এসেছে ও, লজ্জায় কুঁকড়ে যাচ্ছে ভাবতে যে, একটু পরেই ওর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবে আজিম ওর বউকে। হাসবে মেয়েটা মেকাপবিহীন মিতার গ্রাম্যতা দেখে। হাসুক, সাধারণ এক স্কুল টিচার আর কত ভাল কাপড় পরবে। রান্নাঘরের দিকে যেতে যেতে আজিমের গমগমে গলা শুনতে পেল মিতা, ‘মিতা কোথায়? মিতাকে দেখছি না যে! মিতা গেল কোথায়?’ কে কী উত্তর দিল শোনার জন্য অপেক্ষা না করে হাঁটবার গতি বাড়িয়ে দিল মিতা। দৌড়ে পালিয়ে এলো রান্নাঘরের নিরাপদ আশ্রয়ে। ওখানে অলক আর রুবিকে দেখে বলল, ‘আমি শরবত গুলাচ্ছি, তোমরা কলটা ছেড়ে দিয়ে ট্রে-র গাসগুলো ভরে নিয়ে ছুট দাও, ঠিকাছে? দেখো, কেউ যেন বাদ না পড়ে।’ ছুটল ওরা ট্রে-ভর্তি শরবতের গাস নিয়ে। টুলের ওপর দাঁড়িয়ে শরবত গুলাতে গুলাতে আরও কয়েকবার আজিমের গলা শুনতে পেল মিতা। ‘মিতা গেল কই? কোথায় মিতা?’ ক্রমেই কাছে চলে আসছে গলাটা। কোথাও লুকাতে পারলে হতো, ভাবছে মিতা। কিন্তু তার আগেই দেখল নীল জিন্স পরা একজোড়া পা ব্যস্ত ভঙ্গিতে এগিয়ে আসছে রান্নাঘরের দিকে।

৭.

মাথা নিচু করে ঢুকল আজিম রান্নাঘরের মেয়েলি-সাইজ দরজা দিয়ে। টুলের ওপর দাঁড়ানো মিতাকে দেখল আপাদমস্তক। একগাল হেসে বলল, ‘কি ব্যাপার, মিতা? সারা বাড়ি খুঁজে কোত্থাও পাচ্ছি না তোমাকে! শেষে নানু বলল: দেখ্ গিয়ে, রান্নাঘরে থাকতে পারে। আমি এলাম, খুঁজে মরছি তোমাকে, আর এখানে লুকিয়ে রয়েছ তুমি?’ ‘লুকিয়ে কোথায়?’ বলল মিতা। ‘আমি তো সম্বর্ধনার কাজে ব্যস্ত!’ আরেক টুকরো বরফ ড্রামে ফেলবে কি না ভাবছিল ও, কথা বলতে গিয়ে হাত ফসকে পড়ে গেল ওটা ড্রামে। ‘এইয-যাহ্! আজিম ভাই, এতবড় বরফের চাঁই তো পানসে করে দেবে শরবত!’ বরফ তুলতে গিয়ে মিতার গায়ে ছিটকে এলো শরবত। হা-হা করে হেসে উঠল আজিম। ‘তোমার হাতের তৈরি শরবত, কিচ্ছু ভেবো না, মিষ্টিই থাকবে।’ এই বলে রুমাল বের করে সোৎসাহে মুছিয়ে দিল ও মিতার হাত, শাড়ি, কপাল। হঠাৎ মিতার চোখে চোখ পড়ল আজিমের। চট্ করে হাতটা ছেড়ে দিয়ে আড়ষ্ট ভঙ্গিতে হাসল ও। ‘তোমার চিঠি পেয়েছি,’ টুল থেকে নেমে বলল মিতা। ‘কী বলতে চেয়েছিলে বুঝতে পেরেছি। সত্যিই, দারুণ! অপূর্ব সুন্দরী মেয়েটা!’ ‘সত্যিই! তাই না?’ বলল আজিম। ‘যেমন দেখতে, তেমনি ওর ব্যবহার, চালচলন। ঠিক যেন মাঝবয়েসী গিন্নি একটা। আমি পাকশি আসছি শুনে কিছুতেই ছাড়ল না। এখন চুটিয়ে গল্প করছে নানীদের সঙ্গে। কিন্তু-হোয়াট ডু ইউ মীন বাই বুঝতে পেরেছি? কী বুঝতে পেরেছ? তুমি জানতে তোমার জন্যে কী নিয়ে ছুটে আসছি আমি ঢাকা থেকে?’ ‘ছুটে আসছ…আমার জন্যে! মানে?’ ‘অনেক ভেবে দেখলাম, মিতা। মাঝে হাসপাতালে ছিলাম বেশ কিছুদিন। এতদিন ভেবেছিলাম আমাদের সম্পর্কটা বুঝি শুধুই বন্ধুত্বের, কিন্তু হাসপাতালের বেডে শুয়ে-শুয়ে হঠাৎ বুঝতে পারলাম, তোমাকে আমার চাই-ই চাই। বুঝে গেছি, তোমাকে ছাড়া সত্যিই আমি বাঁচব না, মিতা।’ কিন্তু ততদিনে যা হবার হয়ে গেছে, বিয়ে করে বসেছে একটা কচি মেয়েকে। মিতা বুঝতে পারছে আজিমের মনের অবস্থাটা। যখন পরিষ্কার বুঝল সব, তখন দেরি হয়ে গেছে অনেক। আজিমের একটা হাত ধরল মিতা। নরম চোখে চাইল ওর চোখে। বলল, ‘এসব কথা থাক, আজিম ভাই। আর কখনও উচ্চারণ কোরো না একথা। আমিও কি ছাই জানতাম তুমি আমার কী ছিলে? এখন মন থেকে ঝেড়ে ফেলো সব স্মৃতি। সব এখন অতীত। ভুলেও ভেবো না আর, কী হতে পারত। তুমি-’ ‘এসব কী বলছ তুমি, মিতা?’ তাজ্জব হয়ে গেছে আজিম। ফ্যাকাসে হয়ে গেছে ওর হাসিখুশি মুখটা। ‘বলছি, বিয়ের পর এসব নিয়ে আর ভাবতে নেই।’ এতক্ষণে হাসিতে উদ্ভাসিত হয়ে উঠল আজিমের মুখ। বলল, ‘অ্যাঁ? বিয়ের পর মানে? কে বলেছে আমি বিয়ে করেছি? তুমিও বুঝি তাই বিশ্বাস করেছ?’ ‘কেন? করোনি বিয়ে?’ দিশেহারা মিতার চেহারা। হাসি আসছে, কিন্তু মিতার মনের অবস্থা বুঝতে পেরে মন খুলে হাসতেও পারছে না আজিম। বলল, ‘মউ? মউয়ের কথা বলছ? ও তো আমার আপন ভাগ্নী!’ ‘কী বললে?’ ‘তাই তো! সঙ্গে মউকে নিয়ে আসছি বলায় নানু শুনেছে বউকে নিয়ে আসছি। ও হলো শান্তা আপুর মেয়ে, এসএসসি দিয়ে বসে ছিল, চেপে ধরল মামার সঙ্গে ও-ও যাবে ওর মা’র নানীবাড়ি। গেটের কাছে সবার ভুল ভেঙে দেওয়ায় কি রকম হাসির হুলোড় উঠল-তুমি শোনোনি?’ শুনেছে, কিন্তু বুঝতে পারেনি মিতা। হঠাৎ করে বড্ডো দুর্বল বোধ করছে, অবশ লাগছে শরীরটা। আজিমের চোখে চোখ রেখেই নামিয়ে নিল দৃষ্টি। ওর চিবুক ধরে মুখটা উঁচু করল আজিম, কিন্তু চোখ তুলল না মিতা। নিচু গলায় জিজ্ঞেস করল, ‘কী এনেছ আমার জন্যে?’ পকেট থেকে ছোট্ট একটা বাক্স বের করল আজিম, লাজুক ভঙ্গিতে হাসছে। বাক্সটা খুলতেই বেরিয়ে পড়ল বড়সড় হীরে বসানো ঝকঝকে একটা সোনার আংটি। ওটা দেখেই কাঁপা শ্বাস টেনে দম আটকে ফেলল মিতা। ওর বামহাতটা তুলে নিল আজিম তার শক্ত, পুরুষালি হাতে। ‘দিই পরিয়ে?’ বলে অনুমতির অপেক্ষা না করেই পরিয়ে দিল ওটা মিতার অনামিকায়। দুটো দিনের অসহ্য মানসিক চাপ আর সামলাতে পারল না মিতা, ডুকরে কেঁদে উঠে মুখ লুকাল আজিমের বুকে।

৮.

এমনি সময়ে রান্নাঘরে ঢুকলেন নানীজি। ‘অই, ছ্যারা! কী করছত অরে? আমার মিতা কান্দে ক্যান?’ ‘আমি কিচ্ছু করিনি, নানু। বিশ্বাস করো। এইটা পরিয়ে দিতেই কেঁদে উঠল!’ মিতার হাতের দিকে চাইলেন নানীজি। ‘আংটি! কীয়ের আংটি?’ ভুরুজোড়া কপালে তুললেন নানীজি। তারপর একগাল হাসলেন। ‘আইচ্ছা! এই বিয়াপার? আমিও তো এরই লেইগা নিচে নামলাম। আমরা আইজই কামটা সাইরা ফালাইতে চাই।’ নানীজির পিছন থেকে কথা বলে উঠলেন মেজো মামা, ‘কিন্তু ওদের বাপ-মাকে না জানিয়ে…’ চমকে ঘাড় ফিরিয়ে দেখল ওরা পুরো ব্যাটেলিয়ান নানুর পিছনে খাড়া। চট্ করে সরে দাঁড়াল মিতা। ‘খলিল, তুই চুপ র্ক! অই, ফজল, তুই লৌরায়া গিয়া কাজী সাবেরে লইয়া আয়। শুব কামে জলি জলি! ঘর রেডি, সাজানি কমপিলিট, খানাপিনা তৈয়ার, আমরা হ¹লতে হাজির-তাইলে আর দেরি কীয়ের?’ মায়ের আদেশ পেয়ে ছুটলেন বড় মামা। ‘আর খলিল, যা তো, বাপ-বাবুর্চিগো কইয়া দে, অহনি জানি খাওনটি বাইরা না ফালায়।’ ছুটলেন মেজো মামাও। ছোটখালা বললেন, ‘কিন্তু, মা, এই কাপড়ে মিতার বিয়ে হবে কী করে? ফটো উঠলে কেমন দেখাবে?’ ‘আরে রাখ্! তগো বাবলু ক্যামেরাম্যান আর কী ফোটু তুলব! আর, এই কাপড়ে বিয়া হইব মাইনি? আমার বেনারসি পইরা বিয়া হইব মিতার। নাত-বৌয়ের লেইগা আলাদা কইরা গয়না রাইখা দিছি না-হেইটি পইরা বিয়া হইব।’ একটু চিন্তায় পড়লেন নানীজি, ‘অহন এই ছ্যারারে কী পরাই? মনে অইতাসে কইত্তে বাদাইম্যা একটারে দইরা আইনা আমোগো রাজকইন্যার লগে-’ ‘এক কাজ করলেই তো হয়,’ বুদ্ধি জোগাল রুবি। ‘নানার শেরোয়ানি আর পাগড়ি দেখেছিলাম না, নানু, তোমার স্টীলের আলমারিতে?’ ‘ঠিক কইছে তো ছেমরি!’ সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেল। নানীজি হুকুম করলেন, ‘এইবার পোলা আর মাইয়ার দল ফারাক যাও। পোলারা এই ছ্যারারে লইয়া যাওগা, ঠিকঠাক মথন রেডি কইরা আনবা। রাইত আটটায় বিয়া। আমরা আমাগো মাইয়া লইয়া দোতালায় গেলাম।’ হই-হই করে আজিমকে ঘিরে ধরল ছোটরা। ছোটমামার নেতৃত্বে চলল ওরা দহলিজঘরের দিকে। ঘাড় ফিরিয়ে মামা বললেন, ‘মা, হাতে বেশি সময় নেই; আমাদের আচকান-পাগড়ি পাঠিয়ে দিয়ো তাড়াতাড়ি।’ গলা নামিয়ে আজিমকে বললেন, ‘তোর বাপকে একটা খবর দেওয়া দরকার ছিল না?’ ‘বলেই এসেছি, মামা। বাবা বলল: তোর মামারা আছেন ওখানে, কোনও অসুবিধে হবে না; এই সুযোগে আমি আরও দুটো টাকা কামিয়ে নিই।’ ‘দুলাভাইয়ের খালি সবতেই ঠাট্টা!’ ‘আসলে মাইল্ড একটা স্ট্রোক হয়ে গেছে তো, বেশি নড়াচড়া নিষেধ।’

৯.

অবাক লাগছে মিতার, মনে হচ্ছে স্বপ্ন দেখছে জেগে-জেগে। সবাই মিলে সত্যিসত্যিই ওকে রাজকন্যে বানিয়ে দিল আধ ঘণ্টার মধ্যে। বড়খালা ওর চিবুক নেড়ে কপালে চুমু দিলেন। নানীজির বিয়ের বেনারসি একদম নতুন হয়ে আছে। দারুণ মানিয়েছে গহনাগুলোও। বিয়ের আসরে ওকে দেখে প্রথমে চিনতেই পারেনি আজিম, হাঁ করে চেয়ে ছিল বোকার মত। ঠিক আটটায় বিয়ে হয়ে গেল ওদের। সবাই তৃপ্তির সঙ্গে খেয়েদেয়ে ঢেকুর তুলে ইরিনার থালা থেকে পান তুলে নিয়ে যে-যার বাড়ি চলে গেল। সব শেষ হয়ে গেলে সন্তুষ্টচিত্তে হাসলেন নানীজি। ভাবলেন, তাঁকেও কি এই শাড়ি পরে এমনই সুন্দর লেগেছিল আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগে? বিড়বিড় করে আপনমনে বললেন, ‘কী কপাল! পাইয়া গেলাম মনের মথন নাত-বৌ! কিন্তুক, আসলেই কি ‘মউ’রে ‘বউ’ হুনছিলাম?’ দুষ্টু হাসি খেলে গেল তাঁর ঠোঁটে।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা আত্ম উন্নয়ন ভালবাসা/প্রণয়লীলা যৌন জ্ঞান ও সম্পর্ক সৃজনশীল প্রকাশনা

দাম্পত্য জীবনে রোমান্স বাড়াতে..

জীবনে আরেকটু রোমান্স চাচ্ছেন ? আরো কিছু সুন্দর মুহূর্ত যোগ করতে চান আপনার রঙ্গিন মাহিন্দ্র ক্ষণে ? তাহলে এই টিপসগুলো শুধুই আপনার জন্য
প্রতিদিনের সেই একই রুটিন ও অভ্যাস থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করুন। ঘরের পুরনো কক্ষটি রেখে এবার অন্তত এক রাত্রির জন্য হলেও মনোরম কোন স্থানে ভালো কোন হোটেলের একটি রুম ভাড়া করতে পারেন। তারপর সে কক্ষের লাইটটি বন্ধ রেখে, আপনি জ্বালাতে পারেন একটি মোমবাতি ! এরপর হেটেলের ওয়েটার, অথবা সঙ্গিনীকে বলুন, আলতো করে শরীরে তেল মালিশ করে দিতে।
একটু সচেতন হলেই এভাবে জীবনকে উপভোগ করতে পারেন আপনি। দাম্পত্য জীবনের যৌন সম্পর্কই কেবল আপনার সুখের একমাত্র উপাদান হতে পারে না। সুখ র্খুঁজে নিতে হবে ছোট্ট-ছোট্ট অনুষঙ্গ থেকে।
সুযোগ পেলে প্রশংসা করতে ভুল করবেন না আপনার জীবন সঙ্গি বা সঙ্গিনী। এরা আপনার কাছে কতখানি গুরুত্বপর্ণ, কতটা সুন্দর- এগুলো বলুন না এক সময়। দেখবেন, সময়গুলো কত মধুময় হয়ে উঠছে! চেষ্টা করবেন, সব অবস্থায় জীবনকে উপভোগ করতে।
বেডরুমে নতুন কিছু করার চেষ্টা করতে ভয় পাবেন না। একই খাবার যেহেতু আপনি প্রতিদিন খান না, সুতরাং বেডরুমে সেই পরনো ধারাটাই বা কেন রেখে চলবেন? এ রাজ্য নতুনত্ব চায়। তাই মজাদার নতুন পদ্ধতি গ্রহণ করুন। আর এমন কিছু করুন, যেটি আপনার সঙ্গি বা সঙ্গিনীকে মজা দেবার সাথে সাথে অবাক করে দিতে বাধ্য হয়।
এছাড়া, আপনার বেডরুম শয্যাশায়ী হওয়া ও সময় কাটানোর জন্য আরামদায়ক কিনা, আরেকবার দেখে নিন। মনে রাখবেন, রোমান্টিক পরিবেশই রোমান্স সৃষ্টিতে সহায়তা করে থাকে। তাই ঘরটিকে আরেকটু গুছিয়ে রাখা ভালো।
Categories
অনলাইন প্রকাশনা আত্ম উন্নয়ন ভালবাসা/প্রণয়লীলা যৌন জ্ঞান ও সম্পর্ক সৃজনশীল প্রকাশনা

দাম্পত্য জীবনে গোপনীয়তা ও বিশ্বস্ততা

সফল, সুখী ও সৌহার্দ্যপূর্ণ দাম্পত্য জীবনের জন্য অনেক কিছুকেই গুরুত্ব দিতে হয়।
এসবের মধ্যে সততা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয়। সে জন্যই হয়তো বলা হয়ে থাকে, দাম্পত্য জীবনে গোপনীয়তা ও বিশ্বস্ততা একসঙ্গে চলতে পারে না।
আবার অনেক সময় দেখা যায়, সামান্য একটু বিষয় ফাঁস হয়ে গেলেই দীর্ঘদিনের মধুময় বিবাহিত জীবন মুহূর্তের মধ্যেই বিষিয়ে ওঠে। তাই বিষয়টি নিয়ে সমাজবিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানীদের গবেষণার যেন অন্ত নেই। বিষয়টিকে বিভিন্নজন বিভিন্ন ব্যাখ্যা করেছেন।
লাইট হাউজ এরাবিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোচিকিৎসক সালিহা আফ্রিদি মনে করেন, স্বামী ও স্ত্রী নিজেদের মধ্যে স্বচ্ছতা বিধানের চেষ্টা করলেও কখনও কখনও গোপনীয়তার প্রয়োজন রয়েছে। যেমন কেউ যদি বিশ্বাস করে আপনাকে কোন গোপন কিছু বলে থাকে তাহলে তা আপনার জীবনসঙ্গী অথবা অন্য কাউকেই বলা ঠিক নয়। তেমনি নিজের অতীত সম্পর্কে মিথ্যা বলার চেয়ে সবকিছু শেয়ার না করাই ভাল।
গোপনীয়তার আরেকটি দিক হচ্ছে অর্থনৈতিক বিষয়াদি। স্ত্রী রোজগার করুক আর নাই করুক তার এ বিষয়ে জানার অধিকার রয়েছে।
অন্যদিকে, অনেককেই তাদের জীবনসঙ্গীর কাছে কিছু বিষয় গোপন রাখতে দেখা যায়। কারণ, তারা এসব বিষয় অন্যকে জানাতে লজ্জা পান। যদি তাদের এ গোপনীয়তা দাম্পত্য জীবনকে আঘাত করার মতো না হয় তবে তা দোষের কিছু নয়।
কোন সত্য যদি বিবাহিত জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো হয় তাহলে তা গোপন রাখা উচিত বলে মনে করেন ‘দ্য সিক্রেট লাইফ অব ওয়াইভস’ বইয়ের লেখক আইরিস ক্রাসনো।
তিনি এ বইয়ে দাম্পত্য জীবন সম্পর্কে প্রায় ২০০ মহিলার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। এতে তিনি বলেছেন, মিথ্যা এবং গোপনীয়তা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
সবারই কিছু গোপন বিষয় থাকে। আফ্রিদির মতে, কোন বিষয় গোপন করার আগে মানুষকে দাম্পত্য জীবনে ওই বিষয়টির নিরাপত্তাহীনতা অথবা গ্রহণযোগ্যতার অভাব রয়েছে কিনা তা ভেবে দেখতে হবে।
জোসেফ ফ্রিটল ও টাইগার উডসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মানুষকে তার দাম্পত্য জীবনে আমি, তুমি এবং আমরা- এ তিনটিকে সম্পূর্ণ আলাদা অস্তিত্ব হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এ বিষয়গুলোকে একাকার করে ফেলা উচিত নয় বলে তিনি মত দিয়েছেন।
Categories
অনলাইন প্রকাশনা আত্ম উন্নয়ন গবেষণামূলক প্রকাশনা বিজ্ঞান সৃজনশীল প্রকাশনা

জ্ঞানদীপন (Enlightenment) কি? এই প্রশ্নের উত্তর (পর্ব – ২)

—————— মূলঃ ইমানুয়েল কান্ট
(কোনিগ্সবার্গ, প্রুশিয়া, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ১৭৮৪ সাল)

——————অনুবাদঃ ডঃ রমিত আজাদ

(পূর্ব প্রকাশিতের পর থেকে)

১ম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন ।

কোন একটি বিশেষ পদক্ষেপ আইন হিসাবে গৃহিত হবে কি না তা পরীক্ষা করতে চাইলে, আমাদের শুধু জনতাকে (বা কোন জাতিকে) প্রশ্ন করতে হবে তারা ঐ আইনটি নিজের উপর প্রয়োগ করতে পারবে কিনা? ঐ আইনটিকে একটি সংক্ষিপ্ত সময়কালের জন্য চালু করা যেতে পারে, যতক্ষণ পর্যন্ত না শ্রেয়তর শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত না হয়। এর মানে, প্রত্যেক নাগরিককে, প্রথমতঃ ধর্মযাজকদেরকে স্বাধীনতা দিতে হবে যাতে তারা সর্বসমক্ষে মন্তব্য করতে পারেন, অর্থাৎ নিজের লেখায় তারা যেন প্রচলিত প্রতিষ্ঠানগুলির সমালোচনা করতে পারেন। এদিকে নব্য প্রতিষ্ঠিত শৃঙ্খলাগুলো (আইনগুলো) ভাল থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত, যতক্ষণ না জনতার দৃষ্টিভঙ্গির উন্নয়ন হয় ও প্রমাণ করে, যেখানে সর্বসম্মতিক্রমে রাজমুকুটের কাছে কোন প্রস্তাব দেবে। এই ঘটনা সেই ধর্মসভাকে নিরাপদ রাখার পথ খুঁজবে যারা একমতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে বদলাতে চায়, তাদেরকে যারা পুরাতণকে ধরে রাখতে চায়, তাদের বাধা না দিয়ে। কিন্তু কোন একটি স্থায়ী ধর্মীয় সংবিধানের বিষয়ে সম্মত হওয়া একেবারেই অসম্ভব (এমনকি একটি ব্যক্তির একক জীবনকালের জন্যও) যাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যায়না। কারণ তা মানব জাতির উর্ধ্বঃমুখী প্রগতিকে থমকে দেবে, এবং তা হবে নিষ্ফল ও পরবর্তি প্রজন্মগুলির জন্য ক্ষতিকারক। একজন মানুষ যে বিষয় সম্পর্কে জানা তার কর্তব্য সে বিষয় সম্পর্কে নিজেকে জ্ঞানদীপ্ত করা থেকে সাময়ীকভাবে বিরত রাখতে পারে। কিন্তু জ্ঞানদীপন সম্পুর্ণরূপে বন্ধ রাখা তা সে নিজের জন্যই হোক বা পরবর্তি প্রজন্মের জন্যই হোক, এর অর্থ হবে মানবজাতির পবিত্র অধিকার পদদলিত করা।

কিন্তু কোন জাতি যা নিজের জন্য গ্রহন বা আরোপ করতে পারেনি রাজা তা আরোপ করার অধিকার আরো কম রাখে। যেহেতু তার বিধান কর্তৃত্ব নির্ভর করে জনতার সমন্বিত অভিলাষের উপর। যখন পর্যন্ত রাজা দেখবেন যে সকল সত্য অথবা কল্পিত উন্নয়ন রাজ-আইনের সাথে অসঙ্গতিপুর্ণ নয়, ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি তার প্রজাদের তাদের মুক্তির জন্যে যা যা করতে হয় তাই করতে দেবেন, কারণ এতে তার কিছু যায় আসে না।

উনার দায়িত্ব হলো কেউ যেন অন্যের কাজে (মুক্তির জন্য) বাধা দিতে না পারে সেই দিকে লক্ষ্য রাখা। তিনি তার Highness-কেই ক্ষতিগ্রস্ত করবেন যদি তিনি ঐ সকল কাজে নাক গলান, যেখানে তিনি তার রাজসভা (সরকার)-কেই পূর্ণ বিশ্বস্ততার সাথেই এই দায়িত্ব দিয়েছেন। আর যখন তিনি এটা তার নিজস্ব উচ্চ বিবেচনার ভিত্তিতে করেন তখন তিনি ভর্ৎসনা কামাই করেনঃ Caesar non est supra Grammaticos (Caesar is not superior to the grammarian)। এবং নিজের Highness-এর ক্ষতি আরো বেশী হবে তখনই যখন নিজের দেশে জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রীয় আধ্যাত্মিক স্বৈরতন্ত্র’-কে প্রতিষ্ঠা (সমর্থন) করবেন (সেই স্বৈরতন্ত্র যদি হয় কতিপয় নিপীড়কের)।

যদি প্রশ্ন করা হয় যে, “বর্তমানে কি আমরা জ্ঞানদীপ্ত যুগে বসবাস করছি?” উত্তর হবে, “না, তবে আমরা জ্ঞানদীপনের যুগে বসবাস করছি।” এখন যেমন আছে তাতে আমাদের আরো অনেক পথ পারি দিতে হবে, সেই সময় পর্যন্ত পৌঁছাতে যখন মানুষ তার উপলদ্ধিকে আত্মবিশ্বাসের সাথে ব্যবহার করতে পারবে, এবং বাইরের অভিভাবকত্ব (নির্দেশনা) ছাড়াই ধর্মীয় বিষয়ও খুব ভালো বুঝবে। তবে আমাদের কাছে এখন স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে যে, ঐ অভিমুখে মুক্তভাবে কাজ করার পথ এখন পরিষ্কার আছে, এবং স্ব-প্রসূত অপরিপক্কতা থেকে বেরিয়ে এসে জ্ঞানদীপ্ত হওয়ার বাধাগুলো ধীরে ধীরে কমে আসছে। এই হিসাবে বর্তমান যুগ জ্ঞানদীপনের যুগ, ফ্রেডরিকের শতাব্দী।

যে যুবরাজ জানেনা যে ধর্মীয় বিষয়ে জনতার প্রতি তার কর্তব্য কি, কিন্তু জনতাকে সে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে, এইরূপে সেই যুবরাজ যদি গৌরাবান্বিত ধর্মীয় সহনশীলতার খেতাব ফিরিয়ে দেয়, সেই যুবরাজই জ্ঞানদীপ্ত। সেই যুবরাজই বর্তমান জনতা ও তাদের ভবিষ্যৎ বংশধরদের কৃতজ্ঞতা পাওয়ার যোগ্য, কারণ তিনিই মানবজাতিকে অপরিপক্কতা থেকে মুক্তি দিয়েছেন। এবং তিনিই সকল মানুষকে স্বাধীনতা ও সুযোগ দিয়েছেন তাদের নিজ নিজ বুদ্ধিকে (যুক্তিকে) স্ববিবেকে ব্যবহার করার। এমন রাষ্ট্রনায়কের দেশে ধর্মযাজকরা নিজ ধর্মীয় কর্তব্যের কোন ক্ষতিসাধন না করেই শিক্ষিত মানুষের মত নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গী ও মতামত প্রকাশ্যে ব্যক্ত করতে পারেন, যদি সেটা কোন না কোন ভাবে অর্থডক্স ডকট্রাইন থেকে পৃথক পৃথক হয়েও থাকে। এবং একইভাবে অন্যেরাও মত প্রকাশ করতে পারে, যারা কোন প্রকার পেশাগত কর্তব্যের দ্বারা শৃঙ্খলিত নয়। স্বাধীনতা (Freedom)-র এই স্পিরিট বাইরের দেশগুলোতেও কাজ করতে শুরু করেছে, এমনকি সে সমস্ত দেশেও যেখানে তাদের বহিঃবাধাসমূহের সাথে সংগ্রাম করতে হচ্ছে (এই বাধাসমুহ সেই দেশগুলোর সরকার কর্তৃকই আরোপিত)। ঐ সরকারকে বুঝতে হবে যে, তাদের সামনেই এমন উদাহরণ আছে যে, ঐ জাতীয় ফ্রীডমে জনতার ঐক্য বা নিরাপত্তা বিপন্ন হওয়া কোন কারণই নেই। জনতা নিজেরাই অজ্ঞতা থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষমতা রাখে, যদিনা কেউ জোরপূর্বক (বা কৌশলে) তাদেরকে ঐ অজ্ঞতায় ধরে রাখে।

আমি জ্ঞানদীপনের ফোকাল পয়েন্ট (Focal point) হিসাবে ধর্মের বিষয়গুলোকে চিত্রিত করেছি, অর্থাৎ স্ব-প্রসুত অপরিপক্কতা থেকে মানুষের বেরিয়ে আসা। এটা প্রথমত এই কারণে যে, শিল্পকলা ও বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে আমাদের শাসকদের তাদের প্রজাদের উপর অভিভাবকত্বের ভূমিকার উপর কিছু অনুমান করার আগ্রহ নেই। দ্বিতীয়তঃ ধর্মের ক্ষেত্রে অপরিপক্কতা শুধু অনিষ্টকারীই নয়, আবমাননাকরও। কিন্তু যে রাষ্ট্রপ্রধান ফ্রীডমকে আনুকুল্য দিলেন শিল্পকলায়, বিজ্ঞানে এমনকি আরো অন্যান্য বিষয়ে, যেহেতু তিনি বুঝতে পারলেন যে এতে কোন ক্ষতি নাই। এমনকি তার (রাষ্ট্রপ্রধানের) ব্যবস্থাপনায়ও কোন ক্ষতি হবেনা, যদি তিনিতার প্রজাদের নিজস্ব যুক্তি জনসমক্ষে প্রকাশ করার সুযোগ দেন, এবং জনগণ যদি আইন ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের বিষয়ে খোলাখুলি চিন্তাভাবনা করতে শুরু করেন এবং বর্তমান চলমান আইনব্যবস্থাপনার প্রকাশ্য সমালোচনাও করেন। আমাদের সামনে এমন চমৎকার উদাহরণ রয়েছে, যেখানে একজন রাজাও আমরা যাকে সশ্রদ্ধ প্রশংসা করতে পারবো এমন গুনাগুন অর্জন করতে পারেননি। কিন্তু একজন শাসক যিনি নিজেই জ্ঞানদীপ্ত এবং যার কোন জুজুর (ভুতের) ভয় নাই, এবং যার হাতে রয়েছে একটি সুশৃঙ্খল সেনাবাহিনী যারা জনতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে, এবং তাই বলতে পারবে যা বলার সাহস কোন প্রজাতন্ত্রের হয়নিঃ “তর্ক করো, যে কোন বিষয়ে, যত খুশি পারো, কিন্তু মান্য করো।’

এটি মানব কর্মের একটি অপ্রত্যাশিত প্যটার্ন আমাদের সামনে উন্মোচিত করে (এবং আমরা যখন তাদেরকে সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করবো) তখন মনে হবে যে তারা কূটাভাসিক (paradoxical)। উচ্চ মাত্রার নাগরিক স্বাধীনতা (civil freedom) অধিকতর সুবিধাজনক বুদ্ধিগত স্বাধীনতা (intellectual freedom)-র চাইতে, যদিও তা অনতিক্রম্য বাধা সৃষ্টি করে। বিপরীতক্রমে নিম্নমাত্রার নাগরিক স্বাধীনতা বুদ্ধিগত স্বাধীনতাকে পূর্ণমাত্রায় বিকশিত হওয়ার জন্য যথেষ্ট প্রসস্ত জায়গা করে দেয়। যেহেতু প্রকৃতি একটি শক্ত খোলসের মধ্যে একটি ভ্রূণ সৃষ্টি করেছে, যার যত্ন সে নিজেই নিচ্ছে, ‘চিন্তার স্বাধীনতার দিকে ঝোঁক ও ডাক’ এই ভ্রূণটিই ক্রিয়া করছে জনতার মানসিকতার উপর, যার গুনে জনতা ধীরে ধীরে তার কর্মের স্বাধীনতায় আরো সক্ষম হয়ে উঠছে। এমনকি এটা সরকারের নীতিমালায়ও প্রভাব ফেলছে, যারা অবশেষে নিজের লাভের জন্যই বুঝতে পেরেছে যে, মানুষকে যন্ত্রের চাইতেও বড় কিছু মনে করে মানুষ হিসাবেই মর্যাদা দিতে হবে।

(সমাপ্ত)

(ইমানুয়েল কান্ট-এর সংক্ষিপ্ত জীবনীঃ প্রখ্যাত জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট ১৭২৪ খ্রিস্টাব্দের ২২ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন। কান্টের জন্মস্থান পূর্ব প্রুসিয়ার কোনিগসবের্গে, যা বর্তমানে রাশিয়ার অন্তর্গত ও কালিনিনগ্রাদ নামে পরিচিত। ইউরোপের আলোকিত যুগের শেষ গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক হিসেবে স্বীকৃত তিনি। তার যুক্তি ছিল প্রাকৃতিক বিধির সমন্বয়েই মানুষের উপলব্ধি বিগঠিত, যা নৈতিকতারও উত্স। সমসাময়িক চিন্তাধারায় তার অপরিসীম প্রভাব ছিল, বিশেষ করে অধিবিদ্যা, নীতিশাস্ত্র, রাজনৈতিক দর্শন এবং কান্তিবিদ্যায়। কান্টের একটি প্রধান সৃষ্টি ক্রিটিক অব পিওর রিজনের উদ্দেশ্য ছিল যুক্তিকে অভিজ্ঞতার সঙ্গে একত্রিত করে তার দৃষ্টিতে গতানুগতিক দর্শন এবং অধিবিদ্যার ব্যর্থতাগুলো অতিক্রম করা। বস্তুর বাহ্যিক অভিজ্ঞতার বিষয়টি তিনি অন্তঃসারশূন্য তত্ত্ব হিসেবে দেখতেন এবং এ ধরনের পর্যবেক্ষণের যুগের অবসান আশা করতেন।
কান্টের জন্ম একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারে। তার বাবা ছিলেন ঘোড়ার জিনের ব্যবসায়ী।
কান্ট প্রথম একটি পাইটিস্ট স্কুলে লেখাপড়া করেন। ১৭৪০ খ্রিস্টাব্দে তিনি কনিসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। স্কুল জীবনেই তার নিয়মানুবর্তিতা, সময়নিষ্ঠা, মিতব্যয়িতা ও কঠোর পরিশ্রমের অভ্যাস গড়ে ওঠে। ল্যাতিন ও গ্রিক ভাষায় দখলসহ গণিত, ভূগোল ও পদার্থবিদ্যায় ব্যাপক ব্যুত্পত্তি অর্জন করেন। ১৮০৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রুশিয়ার কনিসবার্গে পরলোকগমন করেন তিনি।)

Categories
অনলাইন প্রকাশনা আত্ম উন্নয়ন গবেষণামূলক প্রকাশনা বিজ্ঞান সৃজনশীল প্রকাশনা

জ্ঞানদীপন (Enlightenment) কি? এই প্রশ্নের উত্তর (পর্ব – ১)

—————— মূলঃ ইমানুয়েল কান্ট
(কোনিগ্সবার্গ, প্রুশিয়া, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ১৭৮৪ সাল)

——————অনুবাদঃ ডঃ রমিত আজাদ

(খ্যাতিমান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট লিখেছিলেন জার্মান ভাষায়, আমি পড়েছি ইংরেজীতে, সেখান থেকে আবার বাংলায় অনুবাদ করেছি, অর্থাৎ এটি অনুবাদের অনুবাদ। অনুবাদের কাজটা খুব কঠিন, আমি নিজে ভাষাবিদ্যা বা দর্শন কোনটারই এক্সপার্ট নই, তাই নিজেকে এই অনুবাদের যোগ্য মনে করিনা। তারপরেও কাজটি করলাম। মনে হলো অনুবাদটি হওয়া উচিৎ। ইংরেজী Enlightenment শব্দটির অর্থ আলোকায়ন বা জ্ঞানদীপন দুটোই হতে পারে, আমি জ্ঞানদীপনটিই ব্যবহার করলাম। পাঠকদের অনুরোধ করবো অনুবাদের ত্রুটি বা দুর্বলতা পেলে, তা নিজ গুনে ক্ষমা করে সঠিকটি আমাকে জানাবেন আমি সংশোধন করে নেবো।)

(আরেকটি কথাঃ এখানে আমি নিজস্ব কোন মতামত প্রকাশ করিনি, কান্টের লেখাটির অনুবাদ করেছি মাত্র।)

জ্ঞানদীপন হলো মানুষের স্ব-প্রসুত (Self-incurred) অপরিপক্কতা (Immaturity) থেকে বাইরে বেরিয়ে আসা (Emergence), আর অপরিপক্কতা হলো অন্যের অভিভাবকত্ব ছাড়া নিজের উপলদ্ধি (Understanding)-কে ব্যবহার করতে না পারার অক্ষমতা। এই অপরিপক্কতা স্ব-প্রসুত হবে যদি এর কারণ উপলদ্ধির অভাব না হয়ে অন্যের অভিভাবকত্ব ছাড়া তা ব্যবহার করার সমাধান-ক্ষমতা বা সাহসের অভাব থাকে। এইরূপে জ্ঞানদীপনের ব্রত হলো Sapere aude! – নিজের উপলদ্ধিকে ব্যবহার করার পৌরুষ রাখো।

যদিও প্রকৃতি দীর্ঘকাল মানবজাতিকে বহিস্থঃ (Alien) অভিভাবকত্ব থেকে মুক্ত রেখেছিলো, তৎসত্তেও ভীরুতা ও কাপুরুষতার কারণে এক বিশাল সংখ্যক মানুষের দল সানন্দেই অপরিপক্ক থেকে গেলো। ঠিক একই কারণে কোন একটি পক্ষের (গোষ্ঠি, দল, চক্র) পক্ষে অন্যের উপর অভিভাবকত্ব করা খুব সহজ হয়ে গিয়েছে। অপরিপক্ক হওয়া এতই সহজ!

একটি পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেখুনঃ আমার জায়গায় আমার উপলদ্ধির জন্য যদি একটি বই থাকে, আমার বিবেক জাগ্রত করার জন্য যদি একজন আধ্যাত্মিক উপদেষ্টা থাকেন, আমার দৈনন্দিন খাদ্য তালিকা বেধে দেয়ার জন্যে যদি একজন ডাক্তার থাকেন, ইত্যাদি, ইত্যাদি, তাহলে আমাকে আর কোন কষ্টই করতে হবে না। আমার আর চিন্তা করার কোন প্রয়োজন থাকবে না, যতদিন পর্যন্ত আমি তাদের পারিশ্রমিক দেয়ার সামর্থ্য রাখবো, ততদিন পর্যন্ত আমার পক্ষ হয়ে এই ক্লান্তিকর কাজগুলি তারাই করে যাবেন।

যে সকল অভিভাবকরা দয়াপরবশ হয়ে সুপারভিসনের দায়িত্ব নিয়েছেন, তারা খুব শীগগীরই দেখতে পাবেন যে, মানবজাতির বিশাল অংশটিই (স্ত্রীলোকগণ সহ) পরিপক্ক হওয়াটাকে কেবল কঠিনই মনে করে না, উপরন্তু তাকে অতিমাত্রায় বিপজ্জনকও মনে করে।

এখন এই বিপদ আসলে তত বড় নয়, আদতে কয়েকবার পতনের পর তারা ঠিকই হাটতে শিখবে। কিন্তু এই জাতীয় উদাহরণ সাধারণতঃ ভীতিকর যা তাদের পরবর্তি প্রয়াসগুলো নিতে ভীতির সঞ্চার করবে।

এভাবে প্রত্যেক পৃথক ব্যক্তিসত্তার জন্যে অপরিপক্কতা থেকে বাইরে বেরিয়ে আসা কঠিন হয়ে পড়ে, যা তার দ্বিতীয় প্রকৃতি (second nature)-তে পরিণত হয়েছে। এবং সে এই প্রকৃতি নিয়ে এমনভাবে বড় হয়েছে যে, সাময়িকভাবে সেখান থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষমতা তার নেই, অর্থাৎ নিজের উপলদ্ধি সে কাজে লাগাতে পারছে না, কারণ এই প্রচেষ্টা করার অনুমতি তাকে কখনোই দেয়া হয়নি।

Dogma ও formula ইত্যাদিই হলো যৌক্তিক ব্যবহারের mechanical instrument, অথবা নিজের প্রকৃতি প্রদত্ত ক্ষমতার ক্ষতিকর অপব্যবহার – যা হলো স্থায়ী অপরিক্কতার বল ও চেইন। যদি কেউ তা ছুঁড়ে ফেলেও দেয়, তারপরেও তার পক্ষে একটি সরু পরিখার উপর দিয়ে লম্ফ দেয়াও খুব অনিশ্চিত হবে, যেহেতু সে এই জাতীয় মুক্ত চলাচলে একেবারেই অনভ্যস্ত। এভাবে খুব অল্প সংখ্যক মানুষই আছেন যারা নিজেদের মস্তিষ্ককে কর্ষণ করে অপরিপক্কতা থেকে নিজেদেরকে মুক্ত করতে পেরেছেন, এবং সাহসিকতার সাথে ঐ পথে নিরন্তর চলতে পেরেছেন।

এই সম্ভাবনা বেশি, এমনকি প্রায় অনিবার্য্য যে জনতা নিজেই নিজেকে জ্ঞানদীপ্ত করবে, যদি তাকে স্বাধীনতা (freedom) দেয়া হয়। সব সময়ই জনতার মধ্য থেকে কিছু সংখ্যক অভিভাবক পাওয়া যাবে যারা মুক্তচিন্তা করেন, যারা অপরিপক্কতার জোয়াল কাঁধ থেকে ফেলে দিয়েছেন এবং তারা ব্যক্তি মূল্যায়নের ও তাদের প্রতি সকল মানবের কর্তব্যবোধ সম্পর্কে যৌক্তিক শ্রদ্ধাবোধ-এর স্পিরিটের গুরুত্ব সম্পর্কে প্রচারণা চালাবে এবং জনতাকে মুক্ত চিন্তা করার ডাক দেবে। এটা উল্লেখ্য যে এই জনতা যাদের কাধে একদিন জোয়াল চেপেছিলো তারা ঐ অভিভাবকদেরই কারো কারো দ্বারা (যারা জ্ঞানদীপ্ত হয়নি) প্রয়োজনানুরুপভাবে আন্দোলিত হবে। কুসংস্কার সঞ্চালিত করে দেয়া অত্যন্ত ক্ষতিকর কেননা যারা এটা চালু করেছিলো একসময় এটা তাদের (অথবা তাদের উত্তরপুরুষদের) দিকে প্রতিশোধ হয়ে ফিরে আসতে পারে। এভাবে একটি জনতা জ্ঞানদীপ্ত হতে পারে ধীরে ধীরে। কোন স্বেচ্ছাচারী স্বৈরতন্ত্র ও জুলুমবাজ ক্ষমতালোভী শাসকের দমন-পীড়নের যুগের ইতি টানতে পারে একটি বিপ্লব। তবে বিপ্লবের মাধ্যমে মানুষের চিন্তাধারায় একটা সত্যিকারের সংস্কার আসবে না। বরং তা জনতার যে বিশাল অংশটি চিন্তাভাবনা করেনা তাদের নিয়ন্ত্রণের জন্যে প্রতিস্থাপিত কিছু নতুন কুসংস্কারের জন্ম দেবে।

জ্ঞানদীপনের জন্য মূলত যা দরকার তা হলো স্বাধীনতা (freedom)। এবং কারো বুদ্ধিকে (যুক্তিকে) সর্বজনের ব্যবহারযোগ্য করে তোলার স্বাধীনতাটি হলো সবচাইতে অক্ষতিকর স্বাধীনতা। কিন্তু আমার চতুর্দিকে আমি কেবলই চিৎকার শুনতে পাইঃ ” তর্ক করোনা! সেনাপতি বলেন, “তর্ক করোনা, প্যারেডে মিলো”, কর-কর্মকর্তা বলেন, “তর্ক করোনা, কর দাও”, ধর্মযাজক বলেন, “তর্ক করোনা, বিশ্বাস করো!” (কেবল একজন শাসক আছেন, যিনি বলেন, তর্ক করো যত খুশি, যা নিয়ে খুশি, কিন্তু মান্য করো!)

এই সব কিছুর মানে হলো সর্বক্ষেত্রে স্বাধীনতার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কোন ধরণের নিষেধাজ্ঞা জ্ঞানদীপনকে প্রতিরোধ করে, কোন ধরণের নিষেধাজ্ঞা জ্ঞানদীপনকে নিবারণ না করে তাকে উত্তরণ করে? আমি উত্তর দিচ্ছিঃ সর্বজনের মধ্যে মানুষের বুদ্ধির (যুক্তির) ব্যবহার (public use of reason) উন্মুক্ত হওয়া উচিৎ, এবং সেটাই মানুষকে জ্ঞানদীপ্ত করতে পারবে। কিন্তু বুদ্ধির (যুক্তির) ব্যক্তিগত ব্যবহার (private use of reason) প্রায়শঃই নিষিদ্ধ হওয়া উচিৎ। যাতে জ্ঞানদীপনের উন্নয়ন বাধাপ্রাপ্ত না হয়। সর্বজনের মধ্যে মানুষের বুদ্ধির (যুক্তির) ব্যবহার (public use of reason) বলতে আমি বুঝি যা যেকোন শিক্ষিত ব্যক্তি তৈরী করতে পারে যেকোন পাঠক মানবের জন্য। আর বুদ্ধির (যুক্তির) ব্যক্তিগত ব্যবহার (private use of reason) মানে হলো যা কোন একজন ব্যক্তি বাস্তবায়ন করে থাকেন কোন একটি দফতর বা মহলের স্বার্থে কারণ তিনি ঐ মহলের বিশ্বস্ত।

এখন কিছু বিষয় আছে যা জনরাষ্ট্রের (commonwealth)-এর স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, সেখানে আমাদের এমন কোন মেকানিজম খুঁজে বের করতে হবে যেখানে কমনওয়েলথ-এর কিছু সদস্যের আচরণ হবে নিষ্ক্রিয়, যেন, কোন কৃত্রিম কমন চুক্তির দ্বারা তারা সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হতে পারে জনতার স্বার্থে (অথবা নিদেনপক্ষে তাদের অকার্যকর করা থেকে নিরস্ত করতে পারবে)

এটা নিঃসন্দেহে অনুমোদনযোগ্য নয় কতগুলি বিষয়ে তর্ক করা যেমনঃ আনুগত্য আবশ্যক। যে পর্যন্ত কোন স্বতন্ত্র ব্যক্তি যে ঐ মেশিনের অংশ হিসাবে ক্রিয়ারত এবং নিজেকে ঐ কমনওয়েলথ-এর একজন পূর্ণাঙ্গ সদস্য বলে মনে করে এমনকি নিজেকে বিশ্বজনীন (Cosmopolitan) সদস্য মনে করে এবং একজন শিক্ষিত মানুষ (A man of learning) হিসাবে তিনি তার লেখার মাধ্যমে জনতাকে উদ্দেশ্য করে, সত্যিকার অর্থে, তিনি পারবেন তার নিয়োগ কর্তার ক্ষতি না করেও তার সাথে দ্বিমত পোষণ করতে। কিন্তু ঐ অফিসার যদি নিয়োগ কর্তার কাছ থেকে আদেশ পাওয়ার পরও ঐ আদেশের যথাযোগ্যতা বা সঙ্গতি সম্পর্কে খোলামেলা বিতর্কে উপনিত হয়, এটা হবে ক্ষতিকর। তাকে আনুগত্যই প্রকাশ করতে হবে। কিন্ত একজন শিক্ষিত মানুষ হিসাবে সামরিক পেশার ত্রুটিগুলি সম্পর্কে মন্তব্য করা থেকে তিনি বিরত থাকতে পারেন না। আর সেই ত্রুটিগুলো বিচারের জন্য জনসমক্ষে তুলে ধরাও বন্ধ করতে পারেনা।

একজন নাগরিক তার উপর আরোপিত কর দিতে অস্বীকার করতে পারেন না। এই জাতীয় কর আরোপের স্ব-অনুমেয় সমালোচনা যিনি করবেন, জুলুম হিসাবে তার শাস্তি হতে পারে, যা আবার গণ-অবাধ্যতার জন্ম দেবে। আবার সেই নাগরিক তার নাগরিক দায়িত্ব লঙ্ঘন করে না যদি, একজন শিক্ষিত মানুষ হিসাবে তিনি এই অর্থনৈতিক অবিচারের বিরুদ্ধে তার মতামত জনসমক্ষে উপস্থাপন করেন। একইভাবে একজন গীর্জার পাদ্রী তার ধর্মসভা ও ছাত্রদেরকে ঐ চার্চের ডকট্রাইন অনুযায়ী পথপ্রদর্শনা দিতেই বাধ্য থাকেন, যেহেতু ঐ শর্ত অনুযায়ীই তাকে চাকুরীতে নিয়োগ দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু একজন পন্ডিত ব্যক্তি হিসাবে ডকট্রাইনগুলোর ত্রুটি সম্পর্কে তার নিজস্ব চিন্তাধারা জনসমক্ষে তুলে ধরতে ধর্মীয় ও যাজকীয় বিষয়ে অপেক্ষাকৃত ভালো ব্যবস্থার প্রস্তাব করতে একদিকে বাধ্য আরেকদিকে সম্পূর্ণ স্বাধীন। আর এতে বিবেকের দংশনে দংশিত হওয়ার কিছু নাই। আমি; অথবা তিনি গীর্জার একজন সাধক হিসাবে যা শিখান তা হলো অন্য কেউ তাকে যা শিখানোর জন্য প্রেসক্রাইব করে দিয়েছে। তিনি নিজ বিবেচনায় যা বোঝেন তা শিখানোর ক্ষমতা বা স্বাধীনতা তাকে দেয়া হয়নি। তিনি বলবেন আমাদের গীর্জা এই এই বিষয় শিক্ষা দেয়, এবং এর পিছনে এই হলো আমাদের যুক্তি। তারপর তিনি তার ধর্মসভার জন্য এক্সট্রাক্ট করেন যতদূর সম্ভব ব্যবহারিক অর্ঘ ঐ অবস্থান থেকে যাকে সে দন্ডাজ্ঞা দেবেনা, কিন্তু তা প্রচার করতে সে বাধ্য, যেহেতু একথা কেউ হলপ করে বলতে পারবে না যে তার মধ্যে সত্য নিহিত নাই। যে কোন অবস্থায়ই ধর্মের সারমর্মের বিরোধীতা করে এমন কিছু ঐ ডকট্রাইনগুলোতে উপস্থিত নাই। যদি তিনি তেমন মনেই করতেন তবে তিনি তার বিবেকের দংশনে ঐ দায়িত্ব পালন করতে পারতেন না ও অচিরেই ইস্তফা দিতেন। এইভাবে কোন ধর্মযাজকের জ্ঞানবুদ্ধি যা ধর্মসভার সামনে ব্যবহৃত হয় তা স্বকীয় (private), যেহেতু ধর্মসভা সে যত বড়ই হোক না কেন, একটি ঘরোয়া সমাবেশের বেশি কিছু নয়। এই দৃষ্টিকোন থেকে দেখলে, একজন ধর্মযাজক হিসাবে তিনি মোটেও স্বাধীন নন, বিপরীতপক্ষে একজন জ্ঞানী ব্যক্তি হিসাবে যিনি জনতাকে সম্ভাষণ করে লেখা লিখছেন এমন ধর্মযাজক তার যুক্তির Public use করছেন, এবং নিজের মনের কথা বলছেন। আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রে তিনি সমাজের অভিভাবক হবেন, তিনি অপরিপক্ক (immature) হবেন এটা একেবারেই এ্যাবসার্ড।

যাজকদের একটি সমাজ, উদাহরণস্বরূপ যাজকীয় সন্মেলন (Synod ) অথবা পূজনীয় প্রেসবিটরী (Presbytery), (ডাচরা যেমন বলে থাকে) সদস্যদের উপর সর্বকালীন অভিভাবকত্ব পেতে এবং তাদের মাধ্যমে পুরো জনগণের উপর অভিভাবকত্ব পেতে, কিছু অসংশোধনীয় ডকট্রাইন পালন করতে বাধ্য থাকবেন কি?

আমার উত্তরঃ এটা অসম্ভব, এই জাতীয় চুক্তি স্বাক্ষর মানবজাতিকে পরবর্তিকালীন জ্ঞানদীপন থেকে বিরত রাখে, যা একেবারেই অকার্যকর, যদি তা সর্বচ্চো ক্ষমতার দ্বারা ও অনুমোদিত হয় বা কোন জাঁকজমকপূর্ণ শান্তিচুক্তির মাধ্যমেও গৃহিত হয়। একটি যুগ আরেকটি যুগকে এমন অবস্থানে নিতে বাধ্য করতে পারেনা যে, সে তার জ্ঞানকে সংশোধন ও প্রসারিত করতে পারবে না, বিশেষ করে সেই বিষয়ে যেখানে জ্ঞানদীপনের পথে অগ্রসর হওয়া যাবেনা। এটা হবে মানব প্রকৃতির বিরুদ্ধে একটা অপরাধ, যার মূল প্রথমত নিহিত রয়েছে এই প্রগতীতে। পরবর্তি প্রজন্মের পূর্ণ অধিকার রয়েছে এই জাতীয় সিদ্ধান্তগুলোকে খারিজ করার ও অবৈধ ঘোষণা করার।

(চলবে)

(ইমানুয়েল কান্ট-এর সংক্ষিপ্ত জীবনীঃ প্রখ্যাত জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট ১৭২৪ খ্রিস্টাব্দের ২২ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন। কান্টের জন্মস্থান পূর্ব প্রুসিয়ার কোনিগসবের্গে, যা বর্তমানে রাশিয়ার অন্তর্গত ও কালিনিনগ্রাদ নামে পরিচিত। ইউরোপের জ্ঞানদীপনের যুগের শেষ গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক হিসেবে স্বীকৃত তিনি। তার যুক্তি ছিল প্রাকৃতিক বিধির সমন্বয়েই মানুষের উপলব্ধি বিগঠিত, যা নৈতিকতারও উৎস। সমসাময়িক চিন্তাধারায় তার অপরিসীম প্রভাব ছিল, বিশেষ করে অধিবিদ্যা, নীতিশাস্ত্র, রাজনৈতিক দর্শন এবং কান্তিবিদ্যায়। কান্টের একটি প্রধান সৃষ্টি ‘ক্রিটিক অব পিওর রিজন’-এর উদ্দেশ্য ছিল যুক্তিকে অভিজ্ঞতার সঙ্গে একত্রিত করে তার দৃষ্টিতে গতানুগতিক দর্শন এবং অধিবিদ্যার ব্যর্থতাগুলো অতিক্রম করা। বস্তুর বাহ্যিক অভিজ্ঞতার বিষয়টি তিনি অন্তঃসারশূন্য তত্ত্ব হিসেবে দেখতেন এবং এ ধরনের পর্যবেক্ষণের যুগের অবসান আশা করতেন। কান্টের জন্ম একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারে। তার বাবা ছিলেন ঘোড়ার জিনের ব্যবসায়ী। কান্ট প্রথম একটি পাইটিস্ট স্কুলে লেখাপড়া করেন। ১৭৪০ খ্রিস্টাব্দে তিনি কনিসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। স্কুল জীবনেই তার নিয়মানুবর্তিতা, সময়নিষ্ঠা, মিতব্যয়িতা ও কঠোর পরিশ্রমের অভ্যাস গড়ে ওঠে। ল্যাতিন ও গ্রিক ভাষায় দখলসহ গণিত, ভূগোল ও পদার্থবিদ্যায় ব্যাপক ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। ১৮০৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রুশিয়ার কনিসবার্গে পরলোকগমন করেন তিনি।)

২য় পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন ।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা আত্ম উন্নয়ন সৃজনশীল প্রকাশনা

হাফ-প্যান্ট পড়া ভদ্রলোক-১: “সাহিত্য চর্চা ও পেশা বিড়ম্বনা”

–সাকি বিল্লাহ্

সেদিন এক মুরুব্বী জিজ্ঞেস করলেন আসলে তুমি কি হতে চাও? তোমার তো “মাথাই নষ্ট” একবার যাত্রাবাড়ির রোডে হাটো একবার গাবতলী । আমি বললাম, আংকেল বুঝলাম না । মুরুব্বী উত্তর দিলেন, তুমি একবার প্রোগ্রামার, একবার ওয়েবসাইট ডেভলাপার, এক বার লেখক, একবার কবি, একবার বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে কাজ করো আসলে তুমি কি করতে চাচ্ছ??
আমি মৃদু হাসলাম আর উত্তর দিলাম, আংকেল, একজন মানুষ কি বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন প্রেক্ষিতে কাজ করতে পারে না, চেগুয়েভারের ১৭টা পরিচিতি ছিল আর আমার যদি ৭/৮ টা থাকে তাহলে প্রবলেম কোথায় !

ধরুন আপনি আপনার অফিসে কলিগ, বন্ধুদের কাছে ভাল বা খারাপ বন্ধু, মা-বাবার কাছে সন্তান, স্ত্রীর কাছে স্বামী, সন্তানের কাছে পিতা, ভাইবোনদের কাছে ভাই বা সহোদর, শশুরবাড়ির কাছে টাকার মেশিন, দোকানদারের কাছে খদ্দের ইত্যাদি । তাহলে আপনি একজন মানুষ আর পরিচিতি অনেকগুলো তাই একই মানুষের বিভিন্ন ইন্টারেস্ট থাকতেই পারে কারন যে রাধেঁ সে চুলও বাধেঁ ।

যদি নিজের গাড়ী না থাকে তাহলে আপনি ড্রাইভারের কাছে জিম্মি মানে পাবলিক ট্রান্সপোর্টে উঠলে আপনার নিজের মতে গাড়ী চলবেনা সেখানে গাড়ী টা যদি গাবতলীর হয় তাহলে গাবতলী নামতে হবে আর যদি যাত্রাবাড়ির হয় তাহলে যাত্রাবাড়িই নামতে হবে, চাইলেও উত্তরা নামতে পারবেন না । অন্যদিকে যদি নিজের গাড়ী হয় তাহলে যা খুশি তাই করতে পারবেন মানে আপনি স্বাধীন, যেখানে খুশি চলে যেতে পারেন, কখনও গাবতলী আবার কখনও আমতলী, নো প্রবলেম ।
আংকেল মনে হল কিছুটা বিরক্ত হলেন, বললেন, আজকালকের ছেলেমেয়েদের মোটিভ বোঝাই মুশকিল । আমি উত্তর দিলাম, আংকেল রাগ করবেন না, এটা বাংলাদেশ, এখানে অনেক পেশায় কাজ না করলে না খেয়ে মরতে হবে আর গন্তব্য তো একটা আছেই, একটা পরিচিতি হচ্ছে প্রধান আর বাকি গুলো সাধারন ।

যদি শুধু লেখা লেখি করি তাহলে কয়েকদিন পর না খেয়ে মরতে হবে তাই তার পাশাপাশি অন্যকাজ করি ।
কারন এটা বাংলাদেশ, এখানে প্রকৃত মেধার মূল্যায়ণ হয় না, মূল্যায়ণ হয় সুরেশ খাটিঁ সরিষার তৈল আর মামা কাকার ।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা আত্ম উন্নয়ন ইতিহাস

যেভাবে আমাদের দেশ ও জাতিকে ধ্বংস করা হয়েছিলো। আমরা কি ঘুরে দাঁড়াবো না?

———————————– ডঃ রমিত আজাদ

 

কিছুদিন আগে ফেইসবুকে একটা কমেন্ট পড়ে হতবাক হয়ে গেলাম, সেখানে একজন বাংলাদেশী, বৃটিশ কর্তৃক বাংলা দখল, বাংলায় বৃটিশ শাসন ও উপনিবেশিক আমলে বাংলা্য বৃটিশদের কার্যক্রমের জন্য তাদের ধন্যবাদ দিচ্ছে। এরকম মনোভাবসম্পন্ন ব্যাক্তি আমি ইতিপূর্বেও অনেকবার দেখেছি। স্বভাবতঃই মনে প্রশ্ন জাগে, – এইরূপ মনোভাব সৃষ্টি হওয়ার কারণ কি?

মানুষের সাথে মানুষের যোগাযোগের মূল মাধ্যম ভাষা । এই ভাষার উপর ভিত্তি করেই গড়ে ওঠে কোন একটি জাতির সংস্কৃতি-ঐতিহ্য, আদর্শ-আধ্যাত্মিকতা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, ইত্যাদি। এবং সেই কারণে একটি দেশে উপনিবেশ স্থাপন প্রচেষ্টার সাফল্যে ভাষার একটি বড় প্রভাব আছে। একটি জাতি বা দেশের উপর অপর একটি জাতি বা দেশের নিয়ন্ত্রণ লাভ করার এটি একটি মজবুত হাতিয়ার। উদাহরণ হিসাবে আমাদের দেশকেই দেখানো যেতে পারে ব্রিটিশ, ফরাসি, এবং পর্তুগীজ সকলেই ভারত উপমহাদেশে উপনিবেশ স্থাপন করার চেষ্টা করেছিলো। তবে সফল হয়েছিলো বৃটিশরা। এ প্রসঙ্গে ইংরেজ লর্ড ম্যাকলে ১৮৩৫ সালের ২রা ফেব্রুয়ারী ব্রিটিশ পার্লামেন্টে যে বক্তৃতা দিয়েছিলো তা লক্ষ্যণীয়।

“আমি ভারত উপমহাদেশের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ বরাবর এক মাথা থেকে অপর মাথা পর্যন্ত ভ্রমণ করেছি এবং আমি সেখানে একটি চোর অথবা একটি ভিখারীও দেখিনি। কিযে সম্পদশালী সেই দেশ! সেখানকার মানুষ এত উচ্চ নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন, কিযে তাদের ধীশক্তি! আমি মনে করি যে এই সকল কারণে ঐ দেশ আমরা কোনদিনও জয় করতে পারব না। এটা সম্ভব হবে কেবল তখনই, যদি আমরা তাদের মেরুদন্ড ভেঙে দিতে পারি। তাদের মেরুদন্ড হলো তাদের সমৃদ্ধ আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। এইজন্য আমি এই প্রস্তাব রাখছি যে, আমাদের করণীয় হবে, তাদের প্রাচীন ও ঐতিহ্যময় শিক্ষাপদ্ধতি ও সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে ফেলা। এটা এমনভাবে করতে হবে যেন ভারত উপমহাদেশবাসীরা মনে করে যে, যা কিছু পরদেশী ও ইংরেজী তা সবই ভালো এবং তাদেরগুলোর চাইতে উন্নততর। এভাবে তারা তাদের আত্মসম্মান হারিয়ে ফেলবে, আরও হারিয়ে ফেলবে তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি। আর এভাবে তারা গড়ে উঠবে ঠিক তেমনটি করেই, যেমনটি আমরা চাই – একটি সত্যিকারের বশীভুত পরাধীন জাতি.”

(“I have traveled across the length and breadth of India and I have not seen one person who is a beggar, who is a thief. Such wealth I have seen in this country, such high moral values, people of such calibre, that I do not think we would ever conquer this country, unless we break the very backbone of this nation, which is her spiritual and cultural heritage, and, therefore, I propose that we replace her old and ancient education system, her culture, for if the Indians think that all that is foreign and English is good and greater than their own, they will lose their self-esteem, their native self-culture and they will become what we want them, a truly dominated nation.” – Lord Macaulay)

লর্ড ম্যাকলে ভারত উপমহাদেশের আধ্যাত্মিকতা ও সংস্কৃতির ক্ষমতা শনাক্ত করতে পেরেছিলো। বৃটিশ সরকার ম্যাকলের প্রস্তাবকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেছিলো। এবং সেই অনুসারে পলিসিও তৈরী করে। ১৮৩৫ থেকে ১৯৪৭ এই সুদীর্ঘ ১১২ বছর ছিলো মূলতঃ ঐ পলিসিরই বাস্তবায়নের যুগ। যার ফলে আমাদের উপর জোর করে চাপিয়ে দেয়া ইংরেজী ভাষার ব্যাপক প্রভাবে আমরা আমাদের জ্ঞান-বিজ্ঞান, সংস্কৃতি-ঐতিহ্য, আদর্শ-আধ্যাত্মিকতা, এক কথায় স্বকীয়তা হারিয়েছি। পাশাপাশি হারিয়েছি নৈতিক মূল্যবোধ ও ধীশক্তি! পরাধীনতার শৃংখলটাকেই আমাদের ভাগ্য বলে মনে নিয়েছি। নৈতিক মূল্যবোধ ও মনোবলের অভাবে আমরা মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াবার শক্তি অর্জন করতে পারিনি বহুকাল। সেই সুযোগে চলেছে আমাদের দেশে প্রচলিত পুরাতন শিক্ষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, সংস্কৃতি-ঐতিহ্য, আদর্শ-আধ্যাত্মিকতা, ইত্যাদির ধ্বংসযজ্ঞ। যাতে আমরা সচেতন হয়ে উঠলেও খুব সহজে তাকে আর ফিরে পেতে না পারি।

আমাদের নিজেদের জ্ঞান-বিজ্ঞান, সংস্কৃতি-ঐতিহ্য, আদর্শ-আধ্যাত্মিকতা সব কিছুই বিলুপ্ত হয়ে তার স্থান দখল করে নিয়েছে ভীনদেশী সবকিছু। ফলে আমাদের কাছে পরের দেশ হয়েছে স্পষ্ট, আর নিজের দেশ হয়েছে অস্পষ্ট। আমাদের পূর্বপুরুষদের ঘাম আর রক্তের বিনিময়ে ঔপনিবেশিক অভিশাপ থেকে আমরা মুক্ত হয়েছি সত্য, কিন্তু পরিপূর্ণ মুক্তি আমাদের আসেনি। লর্ড ম্যকলে-এর ধারাবাহিকতা এখনো বজায় রয়েছে।

এই সবকিছু নীরব অবলোকন করে যাওয়াই কি আমাদের ভাগ্য? আমরা কি ঘুরে দাঁড়াবো না?

Categories
অনলাইন প্রকাশনা আত্ম উন্নয়ন ইতিহাস ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতা

ক্ষমা, শাস্তি – শাস্তি, ক্ষমা

ক্ষমা, শাস্তি – শাস্তি, ক্ষমা
—————– ডঃ রমিত আজাদ

মাথার ভিতর কয়েকদিন যাবৎ বিষয়টা ঘুরপাক খাচ্ছে। কোনটা ঠিক? ক্ষমা না শাস্তি ? শাস্তি না ক্ষমা?

আমার এক বন্ধুকে প্রশ্ন করলাম কোনটা ঠিক? ক্ষমা না শাস্তি ? তিনি বললেন
ঃ দুটোই ঠিক।
ঃ দুটোই কি করে ঠিক হয়? এটা তো কনট্রাডিকটোরি!
ঃ না, মানে পরিস্থিতি বুঝে। কখনো ক্ষমা করা ঠিক, কখনো শাস্তি দেয়া ঠিক।
ঃ কোন পরিস্থিতিতে ক্ষমা করা ঠিক, কখন শাস্তি দেয়া ঠিক?
তিনি অনেকক্ষণ ভাবলেন, তারপর কোন উত্তর খুঁজে না পেয়ে শেষ পর্যন্ত নিরুত্তর রইলেন।

ছাত্ররা শিক্ষককে বললো, ” স্যার ঐ ভুলটার জন্য নাম্বার কেটেন না, এবারের মত ক্ষমা করে দিন।” শিক্ষক বললেন, “না, ক্ষমা করা যাবে না, আমরা ক্ষমায় বিশ্বাসী না, শাস্তিতে বিশ্বাসী।” ছাত্ররা ম্রিয়মান হয়ে গেল।

ইতিহাসে যুগে যুগে দুটাই দেখা গিয়েছে। যাবতীয় ধর্ম দর্শনেও দুটোই এসেছে। প্রায় সব ধর্মেই রয়েছে বেহেশত ও দোযখের বর্ণনা। ভালো কাজের পুরষ্কার হিসাবে বেহেশত, আর খারাপ কাজের শাস্তি হিসাবে দোযখ।

আবার পাশাপাশি অনেক ক্ষমার নিদর্শন দেখা গিয়েছে। জিউস প্রথমে প্রমিথিউসকে শাস্তি দিয়েছিলো, পরে তাকে ক্ষমা করে দেয়।

বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের বিশ্বাসের একটি বড় অংশ হলো ‘করুণা’।

পবিত্র বাইবেলের ওল্ড টেস্টামেন্ট ঈশ্বরকে “দয়ালু এবং মঙ্গলময়” বলা হয় এবং এর জন্য তিনি প্রশংসিত, যেমন সাম 103 (8). রহমত গুরুত্ব দেয় নিউ টেস্টামেন্টেও একাধিক স্থানে ক্ষমার উপর অনেক জোর দেয়া হয়েছে, এর উদাহরণ অনেক অংশে প্রদর্শিত হবে, যেমন, Beatitudes in Matthew 5:7: “Blessed are the merciful: for they shall obtain mercy” : “​​আশীর্বাদ প্রাপ্তরা ক্ষমাশীল, যার জন্য তারাও ক্ষমাপ্রাপ্ত হইবে”

ক্যাথলিক চার্চ ক্ষমাকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়, রোমান ক্যাথলিক শিক্ষা অনুসারে ঈশ্বরের রহমত (ক্ষমা) পবিত্র আত্মার কাজের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়।

পবিত্র ইসলাম ধর্মে বলা আছে, “সৃষ্টিকর্তা ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু । আর-রহ়ীম নামের অর্থ সবচাইতে ক্ষমাশীল ।

উইলিয়াম শেক্সপীয়ার রচিত জগৎ বিখ্যাত সাহিত্য কর্ম মার্চেন্ট অফ ভেনিস-এ ক্ষমার নৈতিক বিষয়ের প্রভাবের আইনগত দিকের উল্লেখ করা হয়েছে। যখন পোরশিয়া (Portia) শাইলককে করুণা প্রদর্শন (বা ক্ষমা করতে) বললো। শাইলক উত্তর দিলো “কোন বাধ্যবাধকতা থেকে, আমি তা করব? তিনি উত্তর দিলেন:

The quality of mercy is not strain’d.
It droppeth as the gentle rain from heaven
Upon the place beneath. It is twice blest:
It blesseth him that gives and him that takes.

মহাবীর আলেকজান্ডার পরাজিত কুরুকে মুক্ত (ক্ষমা) করে দিয়েছিলেন।
ক্রুশবিদ্ধ যীশু তার রক্ত দিয়ে মানবজাতির পাপ ধুয়ে দিয়েছিলেন। রসুলুল্লাহ্‌ (স) তার চাচা হযরত হামযা (রা)-র হত্যাকারী ওয়াশিহ্‌ ইবনে হার্ব (Wahshi ibn Harb)-কে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। মক্কা বিজয়ের পর আবু সুফিয়ান সহ সকল কাফেরকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। ক্ষমা মহতের গুন।

রাসুল (স) বিদায় হজ্বের ভাষণে বলেছিলেন – একজনের অপরাধে অন্যকে দণ্ড দেয়া যায় না। অতঃপর পিতার অপরাধের জন্য পুত্রকে এবং পুত্রের অপরাধের জন্য পিতাকে দায়ী করা চলবে না। জাহেলিয়াতের সকল রক্ত-দাবী বাতিল করা হল। আর সর্বপ্রথমে আমি আমার বংশের রাবিয়া ইবনে হারেসের রক্ত-ঋণ বাতিল ঘোষণা করলাম।
জাহেলি যুগের সকল সুদ বাতিল ঘোষণা করা হল। সকলের আগে আমাদের গোত্রের আব্বাস ইবনে আব্দুল মোত্তালেবের সকল সুদ আজ আমি রহিত করে দিলাম। এখন থেকে সকল প্রকার সুদ শেষ করে দেয়া হল।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গৃহযুদ্ধের পর President of the United States, Andrew Johnson, সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন। কাজটা কি ঠিক ছিলো? এরকম আরো অনেক ক্ষমার নিদর্শন ইতিহাসে রয়েছে।

তাহলে কি ক্ষমাই সঠিক?

আবার ভাবি অপরাধিরা যদি একের পর ক্ষমাই পেতে থাকে তাহলে তারা লাই পেয়ে মাথায় উঠে যাবে। অন্যান্য অপরাধিরা ঐ দেখে ভাববে, আরে ভারী মজা তো, অপরাধ করলে তো কোন সমস্যাই নেই, সহজেই ক্ষমা পাওয়া যায়। ফলে সমাজে অপরাধ বাড়তেই থাকবে।

বুঝতে পারিনা, কোনটা সঠিক ক্ষমা না শাস্তি!!!

Categories
অনলাইন প্রকাশনা আত্ম উন্নয়ন পরিবেশ ও বন সৃজনশীল প্রকাশনা

গুরুচন্ডালী-১: “প্রাত ভ্রমন, আমি ও কয়েকটি কাকতাড়ুয়া”

শিরোনামঃ গুরুচন্ডালী-১: “প্রাত ভ্রমন, আমি ও কয়েকটি কাকতাড়ুয়া”

উপ-শিরোনামঃ “আবারও প্রাতভ্রমন (জগিং) ও কিছু কথা (চলিত ও সাধুভাষায় লিখিত(গুরুচন্ডালী))

পূর্বে সামুতে ও টেকটিউনসে লিখিতাম কিন্তু সরকার যেইভাবে বাকরুদ্ধ করিয়া রাখিতে চাহিতেছে তাহাতে ফেসবুকে লিখা ছাড়া আর গতি নাই । তাই এইখানেই এখন থেকে লিখিব বলিয়া ঠিক করিলাম । তথাপি ইজি পাবলিশনসেও এর একখানা কপি প্রকাশ করিলাম ।

সকাল ৫ টায় ঘুম থেকে উঠিয়া দন্ত মাজন শেষে মা’কে বলিলাম, “দরজাটা বন্ধ করিয়া দাও, আমি প্রাতভ্রমনে যাইতেছি” । মা বলিলেন, “দেশের অবস্থা ভাল না এত সকালে জগিং না করিলে কি নয়? আবার তুই ইন্টারনেটে কি সব যা-তা লিখিস, না জানি কবে তোকে পুলিশ ধরিয়া লইয়া যায়” ।

মা জানেন আমি কারো বাধ্য নই, সেনানিবাসের মহাবিদ্যালয়ের(কলেজ) কঠোর নিয়মই আমাকে বশ করিতে পারে নাই আর মামুলি কয়েকটা পুলিশ কি করিবে ! হস্তে সময় কম কারন আগে আগে না বাহির হইলে পরে সুরজ খানা পূব গগনে উদিত হইলে আর রক্ষা নাই, প্রাতভ্রমন এইখানেই শেষ করিয়া বাসায় ফিরিতে হইবে নতুবা গা গরম হইয়া শরীরে পানিশূন্যতা তৈয়ার হইতে পারে ।

আমি বলিলাম, “পুলিশের তো আর কোন কাজকর্ম নাই আমার মতন একটা কানামাছিকে ধরিয়া নিয়া যাইবে, উহাদের কোন লাভ হইবে বলিয়া আমার ধারনা হয় না, যদিওবা ধরিয়া নিয়া যায় তাহা হইলে বড়জোড় কানামাছি কানামাছি খেলা ছাড়া আর কোন কিছু করিতে পারিবে বলিয়া মনে হয় না” । মা কিছুটা বিরক্ত হইয়া, “ঠিক আছে কথা না বাড়াইয়া সাবধানে যাস, গেটের চাবি তোর বাবার কাছে, নীচে মনে হয় ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’ পাঠ করিতেছেন” । আমি বলিলাম, “না দরকার হইবে না, আমার কাছে একখানা চাবি আছে । তুমি ঠান্ডা পানি দিয়া দুইখানা রুটি তৈয়ার করিও আর একটা অর্ধ ভাঁজা (হাফ পোজ) ডিম রাখিও যদি শরীর ভাল বোধ করো, আমি প্রাতভ্রমন শেষে নাস্তা সারিব আর যদি শরীর অসুস্থবোধ করো তাহা হইলে বুয়াকে তৈয়ার করিতে বলিও” ।

 

বুয়ার তৈয়ারী খাবার আমি ইদানিং জোরপূর্বক গলাধকরণ করাৱবার চেষ্টা করিতেছি কারন আমি জমিদারের নাতি বৈকি । বশিরউদ্দিন খান (পরে সরকার নাম ধারন করেন) আমার বাবার নানা, যিনি ভাওয়াল(জয়দেবপুর ও গাজীপুর) রাজার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, নথিপত্র ঘাটিলে এখনও গাজীপুর আদালতের ভাওয়াল যাদুঘরে তাহার নাম ও প্রমান পাওয়া যাইবে । তাহার মেয়ে মোসাঃ হাছনা খানম কালীগঞ্জ জমিদার পচাব্দী গাজী’র ছেলে এম,এ, ওহাব সরকার(পরে মুনসী নাম ধারন করেন) এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন । পচাব্দী গাজী ও বশিরউদ্দিন সরকার উভয়ই বিভিন্ন পরগনায় ভাওয়াল রাজার নিকট হইতে জমিদারী পাইয়া ছিলেন এবং ওনারা আমার শ্রদ্ধেয় প্র-পিতামহদ্বয় । ব্রিটিশ আমলে জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত হইলে আমার দাদাজান এম,এ,ওহাব সরকার, সরকারী ল্যান্ডলর্ড নিযুক্ত হন (বর্তমানে পূর্বাচল টাউন)। সরকারী কাজ করার দরুন তাহার নামের পরে সরকার যুক্ত হয় কিন্তু পরবর্তীতে মসজিদে ইমামতি করার কারনে তাহা পরিবর্তিত হইয়া মুনসী প্রচলিত হয় । মানুষের ধান ক্ষেতে ঘোড়া দৌড়ানোই তাহার সারাদিনের রুটিন ছিল কিন্তু পরে তিনি অনুতপ্ত হইয়া কলকাতা হইতে ডাক্তারী পড়িয়া মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেন ।তাহার গুণকীর্তন করা আমার উদ্দেশ্য নহে বরং নিজের পরিচিতিও এইখানে তুলিবার ইচ্ছা ছিল না কিন্তু কেন বলিলাম তাহা বোধ করি নিচের বাক্যগুলি পাঠে বুঝিতে পারা যাইবে ।জমিদারের নাতি হইয়া জমিদারী দেখানো আমি পছন্দ করি না কিন্তু বলার উদ্দেশ্য হইতেছে জমিদাররা ছিল অত্যাচারী আবার অনেকে কথায় কথায় বলে আমার দাদা জমিদার ছিল কিন্তু বাস্তবিক কোন প্রমাণ দিতে বলিলে বলে অনেক জমি ছিল আমার দাদার তাই জমিদার কিন্তু জমিদারী আমলে সাধারণ কাহারও নিজের জমি ছিল বলিয়া আমার ধারনা নাই; সকল জমিই জমিদারদের ছিল আর বাকিরা তার ভোগ দখলের খাজনা দিত অতি উচ্চহারে, তাই জমিদার পরিচয় দিয়া নিজেকে বড় ভাবিবার কোন অবসর আমি পাই নাই কারন জমিদারগণ অতিব অত্যাচারী ছিলেন । অন্যদিকে যেহেতু আমাদের দেশে বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষই ব্যাবসা করিতে আসিত আবার অনেকে বিবাহ করিয়া থাকিয়া যাইত তাই বার জাতের রক্ত মিশিয়া আমাদিগকের রক্ত একখান ষান্ডার কিংবা জোঁকের রক্তে পরিনত হইয়াছে যাহার কারনে না চাইলেও মানুষকে কষ্ট দিতে স্বীয় রক্তবিন্দু গুলি টগবগ টগবগ করিতে থাকে ।

যাহা হোক মূল বিষয়ে আসা যাক,

বাসা হইতে ইজতেমা ময়দান খুব বেশি দূরবর্তী নহে । ইজতেমা ময়দান মোট ১৬০ একর জমি বা ৭০ লক্ষ বর্গফুটের এক বিশাল মাঠ, একপাশে উত্তরা আধুনিক শহর ও অন্যপাশে বাংলাদেশের প্রথম শিল্পনগরী টংগী(যাহার গোড়া পত্তন হয় ব্রিটিশ আমলের শেষের দিকে ); মধ্যিখানে কোলঘেঁষে বয়ে গেছে তুরাগ নদী যার ৩০ বছর পূর্বেকার নাম ছিল কহর দরিয়া । এই নদীতেই প্রাত ভ্রমন শেষে স্নান করিতেন এক সময়কার মহারানী সোনাবানু, তাহার কিছু ধ্বংসাবশেষ ও রুপকথা মানুষের মুখে এখনও শুনিতে পাওয়া যায় ।

হাটিতে লাগিলাম, অবশেষে ইজতেমার প্রধান গেইটে প্রবেশ করিলাম, পিচঢালা পথ সোজা মাঠ পর্যন্ত চলিয়া গেছে, একপাশে বাটা সু কোম্পানী লিমিটেড অন্যপাশে আশরাফ টেক্সটাইল মিলস, এক সময় এই প্রধান ইজতেমার রাস্তায় সারিবদ্ধ কড়ই গাছ ছিল পাশে ছিল আশরাফ টেক্সটাইলের পুকুর । দিনগুলি আজ কোথায় হারাইয়া গেল তাহাই ভাবিতে লাগিলাম, সেই পুকুরে কত গোসল করিয়াছি, মাঝে মাঝে দারোয়ানকে ফাকিঁ দিয়া বড়শির ছিপ ফেলিয়া কত মাছও ধরিয়াছি আর আজ সেইখানে এক সুবিশাল মার্কেট ‘আশরাফ সেতু’ । যাহাই হোক হাটিতে লাগিলাম কারন এই পিচঢালা পথে দৌড়ানো বোকামি হইবে কারন হোচট খাইলে পুরো রক্তারক্তি হইতে বাধ্য । সামনেই রাস্তাটা শেষ হইল, কিছু দাড়ি টুপির আর আরবের পোষাক পরিচ্ছদে ঢাকা বুজুর্গান চোখে আসিল, তাহারা মেছওয়াক করিতেছিল মনে হয় এইমাত্র নামাজ শেষ করিয়া মেছওয়াক করিতেছে । জানি না এই সত্য কথা টা লেখা ঠিক হইবে কিনা, ইহাদের ব্যাপারে?, ইহারা সর্বদা এইরূপ মেছওয়াক বা দন্তমাজন করিয়া থাকেন নিবারক নিম গাছ দিয়া কিন্তু তাহার পরও আমি দেখিয়াছি তাহাদের মধ্যে বেশিরভাগেরই মুখে দুর্গন্ধ, তাই তীব্র আতঁর জাতীয় সুগন্ধী মাখিয়া থাকেন সর্বক্ষণ; শাক দিয়া জ্যান্ত মাছ ঢাকিবার প্রয়াস আরকি । মেছওয়াক করা সুন্নত বৈকি কিন্তু তার মানে এ্ই না যে ব্রাশ আর টুথপেষ্ট ব্যাবহার করিলে তাহা সুন্নত হইবে না বা ব্রাশ ব্যাবহার করা হারাম । আসুন দেখি কেনই বা সুন্নত বলা যাইবে না, মহানবী(সাঃ) একজন অতি উচ্চ পর্যায়ের বিজ্ঞানী ছিলেন, তিনি মেছওয়াক করিতে বলিয়াছেন গাছের ডাল দিয়া আর আধুনিক সময়ে উহার সংস্করণ হইল ব্রাশ আর টুথপেষ্ট; যাহা মেছওয়াকেরই ভিন্নরুপ, এক হিসাবে বলিতে পারেন তিনি ব্রাশের আবিষ্কারক । কেহ যদি আযান দেওয়ার জন্য মাইক ব্যাবহার করিতে পারেন, মসজিদে আলোর জন্য বৈত্যুতিক বাতি আর আরামের জন্য পাখা বা এসি ব্যাবহার করিতে পারেন, দ্রুত যাতাওয়াতের জন্যে ঘোড়া না ব্যাবহার করিয়া যানবাহন ব্যাবহার করিতে পারেন, যোগাযোগের জন্য কবুতর ব্যাবহার না করিয়া মোবাইল ব্যাবহার করিতে পারেন, খড়ম না পরিয়া জুতা পরিতে পারেন, হজ্জ্বের জন্য উট ব্যাবহার না করিয়া উড়োজাহাজ ব্যাবহার করিতে পারেন তাহা হইলে কেন ব্রাশ ব্যাবহার করা যাইবে না?? যাই হোক কাহারো সাথে কুতর্কে যাইতে চাহি না । “ইহা যার যার বুঝ, দাড়ি ফেলিয়া রাখিয়াছে মোছ” । আবার আরেক ব্যাপার উপস্থিত হইল, মোছ বা গোফ রাখিব নাকি দাড়ি? আমাদের দেশের অনেকেই আমার সাথে একমত হইবেন না জানি তবে আমি দাড়ি বা গোফ এর ব্যাপারে বিশদ গবেষণা করিয়া দেখিয়াছি আরবদের হিংস্র মাংসাসী ও রাজকীয় প্রাণী হইতেছে সিংহ । সিংহের দাড়িসদৃশ কেশর থাকে যাহা পুরুষত্বের ধারক বলিয়া আরবে হাজার বছর ধরিয়া চলিয়া আসিতেছে । পূর্বে দাড়ি ছাড়া পুরুষদের লেজকাটা বানর বলিয়া ধারনা করা হইত । তাহলে আমাদের সংস্কৃতি কি বলে?? আমাদের হাজার বছরের সংস্কৃতি ঘাটাইলে যা পাওয়া যাইবে তাহা হইল আমাদের সমগ্র বাংলাদেশেই এক সময় সবর্ত্র বিচরণ করিয়া বেড়াইত এখনকার রাজকীয় বাঘ রয়েল বেঙ্গল টাইগার, বলাবাহুল্য ইহাদের দাড়ি নাই তবে যেহেতু বিড়াল প্রজাতি তাই গোফ আছে যাহা হাজার বছর ধরিয়া আমাদের পুরুষগন পুরুষত্ব দেখাইবার জন্য গোফ রাখিয়া আসিতেছেন এই বাঘের গোফের অনুকরণে । আসলে দাড়ি বা গোফ কিংবা মেছওয়াক কোনটাই আমার উদ্দেশ্য নহে, যাহার যা করিতে মন চায় সে উহাই করুক তাতে অন্যের এত ভাবনার বিষয় কেন? যাহা হোক, হুজুরকে পাশ কাটাইয়া জগিং শুরু করিলাম । আমাকে দেখিয়া তাহার চোখমুখ কুঞ্চিত হইয়া গেল, হয়ত মনে মনে ভাবিতেছে, “ইহারা জাহান্নামের খড়ি, সাত সকালে নামাজ না পড়িয়া ইংরেজ ফিরীঙ্গীদের লেবাসে(পোষাকে) আসিয়াছে পবিত্র ময়দানে ফালাফালি করিতে” আমি অন্যদিকে চোখ ফিরাইয়া নিলাম কারন আমি নিয়মিত না হইলেও প্রায়শই নামাজ আদায় করি । যাহাই হোক, শ্লথ গতিতে দৌড়াইয়া নদীর তীরে কিছুক্ষণ থামিয়া আবার হাটিতে লাগিলাম । নদীর মিশকালো জল ও নাক ঝাঁঝালো গন্ধে নাসারন্ধ্র বন্ধ হইবার যোগাড় । দম বন্ধ করিয়া আবার হাটিতে লাগিলাম হঠাৎ লক্ষ্য করিলাম একজন মাঝি বা জেলে ডিঙ্গি নৌকা সমেত নদীর কিনারায় কি যেন করিতেছেন, ভাবিলাম এই জলে মাছ কিভাবে ধরিবে, মাছ তো দূরে থাকিবে এই নদীতে এখন ব্যাঙও পাইবে না, তাহা হইলে সে কি করিতেছে?? অত্যন্ত উৎসাহের সহিত নিকটে গেলাম, সে একজন মাঝি না তবে মহিলা মাঝি বা জেলে বলা যাবে কিনা বুঝিতে পারিলাম না কারন সে মাছ না ধরিয়া বিভিন্ন বোতল ও আবর্জনা কুড়াইতেছিল (ধরিতেছিল) । হয়ত ভবিষ্যতে তাহার নাম হইবে মাঝি বা জেলে কিন্তু সংজ্ঞা খানা বদলাইয়া এইরকম হইবে: জেলে ও মাঝির সংজ্ঞাঃ “যাহারা নৌকায় চড়িয়া খাল বিলে বা পুকুরে (পূর্বে নদী ছিল) পুনঃব্যাবহার করা যায় এমন সব আবর্জনা ছিপ বা জাল দিয়া ধরিয়া থাকেন উহাদের মাঝি বা জেলে বলা হয়, যেমন পদ্মা বিলের মাঝি বা জেলে, তুরাগ  খালের মাঝি বা জেলে কিংবা বুড়ীগঙ্গা পুকুরের মাঝি বা জেলে ইত্যাদি” ।

প্রাতভ্রমন আর কি করিব, মনখানা সাত সকালেই খারাপ হইয়া গেল, মহিলা মাঝি আমাকে দেখিয়া কিছুটা অপ্রস্তুত হইয়া বলিল, “কিছু বলিবা বাবাজি?” আমি উত্তর দিলাম, “না চাচী, দূর থাকিয়া দেখিয়া ভাবিয়াছিলাম আপনি মাছ ধরিতে ব্যস্ত কিন্তু কাছে আসিয়া যাহা দেখিলাম তাহা মানিয়া লইতে পারিতেছি না” ।

মহিলা উত্তর দিলেন, “কি আর করিব বাবাজি, এই দেশে কত গুলা কুত্তা আর শকুনের জাতেরে প্রতিবার ভোট দেই আর ক্ষমতায় আইলে গরীব মানুষের কথা, নদীগুলার কথা সব ভুইল্যা যায়” ।

আমি মাথা নাড়িয়া সায় দিলাম আর মুখে বললাম, “হুম্, আচ্ছা আপনি কাজ করেন আমি যাই”, বলে সামনে হাটতে থাকলাম ।

বিশাল মাঠ, দুবার চক্কর দিলাম আজকে, প্রায় ৫ থেকে ৬ কি.মি. হাটার সমান হবে । পূর্বপাশে সোর্ড ব্লেড ফ্যাক্টরী ও সোনাবানুর শেষ ধ্বংসাবশেষ, সম্মুখে হাটিতে থাকলাম, কিছু শালিক আর দাড় কাক সোর্ড ব্লেড ফ্যাক্টরীর ভিতরের কাঁঠাল গাছে বসিয়া ডাকিতেছে । ছোট বেলায় এই মাঠে কত অজানা পাখি দেখিয়াছি তাহার অনেকগুলো আর দেখি না, উহাদের মধ্যে ঘুঘু, বক, চিল, শঙ্খচিল, মাছরাঙা, দোয়েল, কোকিল আরো কত পাখি ছিল অনেকগুলার নাম জানিতাম না । আর এখন শুধুই কাক আর শালিক কিংবা চড়ুই; ভাবিতে ভীষণ কষ্ট লাগিল শৈশবে এই নদীতে ঝিনুক কুড়াইতাম মুক্তা পাওয়ার আশায় আজ ঝিনুক তো দূরে থাকিবে পানি টুকুও ধ্বংস হইয়াছে ।

তুরাগ নদীর এক সময়কার নাম ‘কহর দরিয়া’ ছিল বৈকি, তবে অনেকেই নদী, নদ আর দরিয়ার মধ্যে পার্থক্য বুঝিয়া উঠিতে পারে না, তাহাদের জন্য বলিতে হয় নদ বলতে বোঝায় যাহা হইতে দ্বীতিয় কোন স্রোত বা শাখা নদীর জন্ম হয় নাই যেমন ব্রহ্মপুত্র একটি নদ, অন্যদিকে নদী বলিতে বোঝায় যাহার থাকিয়া এক বা একাধিক নদ/নদীর জন্ম হইয়াছে যেমন পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ইত্যাদি, আবার যেসকল নদীতে বছরের সব ঋতুতে পানির স্রোত থাকে উহাদের দরিয়া বলা হইয়া থাকে । তবে ইহা নিয়া নানান মুনীষির নানান মতবিভেদ রহিয়াছে ।

বাংলাদেশে সর্বমোট ৮০০ এর উপরে নদ-নদী থাকিলেও ভারতের পানি চুরির কারণে তাহা ক্রমশ কমিতেছে । এই তুরাগ নদী এক সময় স্রোতস্বিনী ছিল সারা বছর তাই এর নাম ছিল কহর দরিয়া কিন্তু আজ নিথর কালো বিষের পেয়ালা মাত্র । ভারত আমাদের নদ/নদী গুলি যেইভাবে ধ্বংস করিয়া দিতেছে তাহার বিরুদ্ধে বর্তমানে বা অতীতে কোন রাজনীতিবিদ কিংবা মন্ত্রী আমলা কেহই কিছু করিতে পারিতেছেন না ।

মোটা অংকের টাকা খাইয়া অনেক পুলিশ কিংবা হর্তাকর্তারা দেদারসে দূষিত পানি আমাদের নদীতে ফালাইতে দ্বিধাবোধ করিতেছেন না, অন্যদিকে ভারত পানি বন্ধ দিয়া ৬৮ টা খাল খনন করিয়া পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষ্যা, বিহার ও অন্যান্য রাষ্ট্রে চাষভাষ করিয়া তাদের অর্থনীতি স্বচ্ছল করিতেছে বৈকি, এহেন সমস্যা যেনো কাহারও চক্ষুগোচর হয় না, বিশেষত গণমাধ্যম ও রাজনীতিবিদ’দের ।

কিছুদূর হাটিতেই একখানা তিলা-ঘুঘু চোখে পড়িল; বাটার সংরক্ষিত বনের ভিতরের এক দেবদারু গাছে । মনে কিছুটা আশার সঞ্চার হইল ভাবিলাম এখনও আমাদের ঘুরিয়া দাড়াইবার সুযোগ আছে, এই দেশের নদী, প্রাকৃতিক বন আর পশুপাখিদের বাঁচাইবার নিমিত্তে এখনও সময় আছে । জানি আপনারা বলিবেন, শুধুমাত্র একটা লেখা দিয়া আর কি হইবে, তবে আমি বলিব আর কিছু না হোক কিছু লোক যাহারা আমার লেখা অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে পাঠ করিয়াছেন তাহাদের কেউ কেউ যদি মনেপ্রাণে মাতৃভূমির পরিবেশ, নদ-নদী ও পশুপাখি বাচাইবার নিমিত্তে চিপস খাওয়ার পর উহার প্যাকেটটা ডাস্টবিনে ফেলে ইহাই-বা কম কিসের ।

তাহা ছাড়া আপনাদের মধ্যে কেউ কেউ কলকারখানায় চাকুরী করেন বা করবেন অথবা কলকাখানার ব্যাবসা করেন বা করবেন; তখন আমার এই একখানা লেখা পড়িয়া থাকিলে অন্তত নদী বা পরিবেশ দূষিত হয় এইরূপ কর্ম হইতে বিরত থাকিবেন আশা করি এবং অন্য কাউকে করিতে দেখিলে তাহা ফিরাইবার চেষ্টা করিবেন, যাহাতে কয়েকটি কাক না সাজিয়া কাকতাড়ুয়া হইয়া সকল কাকনামের ধারক কুলাঙ্গারদের দেশ থাকিয়া তাড়াইতে পারি ।

পাঠককে অশেষ ধন্যবাদ।

——–সাকি বিল্লাহ্