Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা

আনাড়ী প্রেমিকের কবিতা

আনাড়ী প্রেমিকের কবিতা
————— রমিত আজাদ

অনেকদিন যাবৎ একটা কবিতা
পকেটে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি,
ভাবছি তোমাকে উপহার দেব!

তেমন কিছু নয়,
সামান্য একটা কাব্য মাত্র!
সুবর্ণের কর্ণভূষণ নয়,
রৌপ্যের মণিহার নয়,
হীরক অঙ্গুরীয়-ও নয়!
ছন্দ-অছন্দের এলোমেলো
কথামালার কতক পংক্তিবিশেষ!

যেমন যত্ন করে রত্নকার
সাজায় মাণিক্য সুবর্ণের
ধাতব নকশায়,
তেমন করে সাজানো হয়নি
কোন বাক্যালঙ্কার।
কোন মঞ্চেই তা তুলবে না
প্রলয় ঝংকার!!!

আমিতো আনাড়ি এক
নতুন পথের!
না পারি লিখতে সাজিয়ে কবিতা,
না পারি গুছিয়ে করতে প্রেম!

তাই আজও গুছিয়ে বলা হয়নি
মনের একটি মাত্র কথা!
তবুও দীর্ঘকাল হতাশায় বসবাসকারী
চাতকী রাজনীতিকের
আসন্ন নির্বাচনে
নমিনেশন প্রত্যাশীর মতই
দারুন আশাবাদী আমি।

একটা কবিতা অনেককাল
পকেটে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি,
নিপুন হাতে নির্মিত
কোন ধাঁধানো তাজমহল নয়!
হোক না সে এলোমেলো,
হোক না সে অগোছালো,
তবুও তো মনের মাধুরী!
দেখবে,
হঠাৎ সাহস করে একদিন,
ঠিকই
তোমার হাতে তুলে দেব।

————————————–
তারিখ: ২৭শে নভেম্বর, ২০১৮
সময়: রাত ২টা ৫৪ মিনিট

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা সাকি বিল্লাহ্ সৃজনশীল প্রকাশনা

হরিষে বিষাদ

হরিষে বিষাদ

–সাকি বিল্লাহ্

 

আজ হরিষে বিষাদ মনে, কেন?

যাতনা, কিসের এত বিষের পেয়ালা যেন;

জীবন সায়াহ্নে এত কন্টাকীর্ণ পথ,

যবে বিষাবনীল দেহভারে টানিছো সেই রথ ।

তোমার পথের পরে কন্টক বিছায়েছে কেহ,

কোন সে হৃদয়হীনা তোমারে বঁধেছে প্রিয় মোহ ।

তাই হরিষে বিষাদ নামে বক্ষে,

যখনই পড়ে মনে তাহারে এ অন্তরীক্ষে ।

মরুভূমির বক্ষে এসেছিলে হয়ে এক পসলা বৃষ্টি,

মৃত্তিকা ছেদিয়া অঙ্কুরিত এক নবকৃস্টি ।

প্রখর রৌদ্র খড়তা উপেক্ষিত ছিল সব,

তুমি এসে নামালে পূর্ণিমার বারিত রব ।

চিকচিক বালুকণা গুলোর বিরিরণ,

তুমি থামালে প্রশমিত করে ঘন বরষণ ।

 

যখন হঠাৎ করেই লুকালে অন্ধকারে,

অবিশ্বাসে উপহাস করে সব কিছুরে;

তখন আনন্দ হল বদ্ধ নীরেট প্রস্তরে,

কষ্টের এক সমাধির বক্ষ কুটিরে ।

তাই হরিষে বিষাদ নামে দু চোখে নিমিষে,

চোখের পাতা দুটি ভারি হয়ে আসে অবশেষে ।

পিছনে ফিরে দেখ একপলক, একবার,

কোন অনুশোচনা জাগ্রত হয় কিনা তোমার ।

কি করে হাসি, পর্বত সমান কষ্ট নিয়ে বুকে,

গীরি প্রস্তর অন্তরপূর্ণ অগ্নিকুন্ড গোলকে ।

তাই হরিষে বিষাদ নামে সকল বেদনায়,

ভুলি নাই আমি, ভুলিয়াছো তুমি অন্ধ মোহের নেশায় । ।

 

২১.১২.১৭ ঘটিকা, .৬.১২.১৭ খ্রিস্টাব্দ, কেমনিট্জ, জার্মানী ।

 

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা সাকি বিল্লাহ্ সৃজনশীল প্রকাশনা

অন্দর মহল

অন্দর মহল

–সাকি বিল্লাহ্

তোমার অন্দর মহলে ডেকে এনে,

সর্বনাশ করেছো আমার,

অন্তর অথবা অন্দর যা-ই বলো না কেন,

একই মোহে আকৃষ্ট করেছো,

এই রূপ মাধুর্যের ছলনায়;

ডেকেছো গহীনে গভীরে..

বাঁকা ঠোঁটের চমৎকার হাসিতে,

খুন হয়ে যাই বার বার,

অতপর সেই ঠোঁটের স্পর্শেই হয় পূনর্জনম,

রূপখানা কালের মহাস্রোতে হারালেও,

থেকে যাবে তোমার বাঁকা হাসি ।।

 

এই যে ঘন কালো চুলের ঘ্রানে,

মোহিত করেছো আমায়,

তারপর হঠাৎ জাগিয়ে দিয়েছো,

কোমল কন্ঠের সুরেলা স্রোতে ।।

 

রাগে অভিমানে কখনও বন্ধ করেছো সব,

তারপর অভিমান ভেঙ্গে,

হাতে হাত রেখে, চোখে ছলছল জল নিয়ে,

তাকিয়ে রয়েছো অনেক্ষণ,

সেই মৌন ইশারার চাহনির ভাষা,

আমি ছাড়া আর কে বোঝে !

 

তারপর হঠাৎ একদিন,

নীল আকাশটা হয়ে গেল ফ্যাকাশে,

সবুজ পাতাগুলো শুকিয়ে ধূসর হয়ে গেল,

ধীরে ধীরে মূমূর্ষু হয়ে গেল কৃষ্ণচূড়াটা,

তারপরও পাখিরা গাছটার ডালে বসে,

বসে আনন্দে গান ধরে;

সেই গান শুনে নতুন করে প্রান ফিরে পায়,

মৃতপ্রায় কৃষ্ণচূড়া গাছটা,

নতুন করে কুঁড়ি গজিয়ে উঠে সুউচ্চে,

নতুন করে স্বপ্ন দেখে তোমাকে নিয়ে,

কিন্তু এতদিন পরে আজ আর,

নেই কোমলতা তোমার,

নেই সুরেলা কন্ঠ অথবা সুশ্রীবদন,

একরাশ কালো মেঘে ঢাকা,

তোমার বাঁকা হাসি,

তবুতো তুমি আছো এই হৃদয়ে,

শতশত স্বপ্ন আর অভিমানে,

অথবা হারিয়ে যাওয়া সকল সুখ স্মৃতিতে ।।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা সাকি বিল্লাহ্ সৃজনশীল প্রকাশনা

A Wicked Lizard

A Wicked Lizard

–Saki Billah

 

You are a Wicked Lizard,

Like a dwarf husked Sun,

Like a Shadow from a Sunbeam,

In an ancient meadow.

I am wicked by you,

But I am not weak at all,

I know how to survive,

How to grow like a green stalk;

And becoming as long, as it could be,

Climbing in a long tree.

Dear God, forgive her,

For what she did to me,

For how she black spelled me,

As I forgave her,

You have no rights to proceed.

 

But you can make me strong,

Like a Blacksmith’s hammer,

Like a blowing wind,

So I can wicked her too;

But not like a monster,

I will flourish like a sprinkle,

I will blow besides her,

So she can smelled me,

But cannot see,

I will fly in the Sky,

Like a free Bird,

So I can see her,

But she cannot noticed.

You are a beautiful Species,

But not more than a ‘Wicked Lizard’.

Time of writing: 04.01.2018 7:31 am

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা

সু-সন্তান

সু-সন্তান

–সাকি বিল্লাহ্

 

এমন সন্তান জন্ম দিও-গো মা-জননী,

কাঁপিবে বিশ্ব সত্যসম্ভারে, লুটাবে পায়ে ধরণী ।

অজুত গুনিয়া এমন সন্তান, না হয় ঘরে ঘরে,

তবু দিগ্বীজয়ে শুনি তারই জয় জয়কারে ।

সর্পিল জাত জন্ম দেয় বহু কিংবা কুক্করী,

জন্ম দিয়া সাপের বংশ বিলাপে মর্মবিদারী ।

 

এমন শিশু গড়ে তোলো হে পিতা,

অন্যায় রোধে দৃঢ় চিত্তে, কর্মে সদা সততা ।

দেশ ও দশের সেবায় যেন জীবন করে উৎসর্গ,

অন্যায় রোধিয়া নরককে বানাবে পূণ্য-ভূস্বর্গ ।

কোথায় আছে সে পিতৃকুল এ জগতে,

ছড়াবে আলোর কণা সুসন্তান যার কোলেতে ।

 

হে সন্তান তুমি বড় হও, দীর্ঘ হও, হও মহাশক্তিমান,

দেশ ও জাতির সকল কল্যাণে নিবেদিত করো আত্মপ্রাণ ।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা

সস্তা প্রসাধনীর সাধনা

সস্তা প্রসাধনীর সাধনা
——————— রমিত আজাদ

প্রিয়াঙ্কার প্রসাধনী সস্তা ছিলো।
ওর অধরে অধর রেখে,
কপোলে কপোল ঘষে
নিয়েছিলাম ঘ্রাণ সেই সস্তা প্রসাধনীর।
তবে ওর কাঁচুলি ছিলো দামী,
নগরীর কোন অগ্নিমূল্য বিপণী
থেকে কেনা হতেও পারে।
যার নীচে লুকনো ছিলো,
উন্মত্ত আমার সবটা বিকেলের মায়া!
আর্শীর মসৃন পৃষ্ঠতলে মেলে দিয়ে বিলাসী কায়া,
প্রিয়াঙ্কা দেখিয়েছিলো, সে নয় কেবলই তরুণী,
চাতকী পুরুষের তৃষিত দৃষ্টি স্বীকৃতি দিয়ে বলবে,
“তুমি এক মোহিনী রমণী!”

দীপিকার প্রসাধনীও সস্তা ছিলো।
কাঁচুলিও ছিলো মামুলি।
সস্তা কাঁচুলির নীচে লুকনো
উত্তুঙ্গু পর্বতে ছিলো অদ্ভুত এক মায়া।
পরিণত দীপিকার পুষ্ট বক্ষে ভেসেছিলো খেয়া।
রমণী স্বীকৃতি পাওয়া
তার হয়ে গিয়েছিলো অনেক আগেই।
তবুও সে চেয়েছিলো পুরুষের ছোঁয়া,
আবেগের অভাব ফুরায় না কখনো।
পরিণত অপরিণত সব তৃষিত মনই চায়,
উচ্ছাসে আশ্বাসে উদ্ভাসিত প্যাশন-এর উষ্ণতা।

দীপিকা, প্রিয়াঙ্কা, মাধবী কিংবা মালতী,
সবার মনেই আজ ঘোর অনাবৃষ্টি,
সঙ্গীতের আজ বড়ই অভাব পুরুষের দৃষ্টিতে!
বিপ্লবী-রা পুড়ে ছাই হয়েছে প্রতারণার দাহনে!
পুরুষ নামের পরিচয় দেয়ার আর কেউই নেই বাকি!!!

————————————————————–

তারিখ: ১৩ই জুলাই, ২০১৮
সময়: রাত আট-টা পঁচিশ মিনিট।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা বিনোদন ভালবাসা/প্রণয়লীলা

মোহন বাঁশি

মোহন বাঁশি
©…….সহিদুল

বলতে পারিস কেন তোরে এত ভালবাসি?
তুই যে আমার এই জীবনের মোহন বাঁশি।
শত কষ্ট দূর হয়ে যায় দেখলে তোর হাসি,
তাইতো তোরে ভালবাসি আমি রাশি রাশি

তোর জন্য আনতে পারি আকাশের ঐ তারা,
তুইযে আমার স্বপ্ন আশা তুইযে জীবনধারা,
তোর মুখের ঐ হাসিতে হই আমি পাগলপারা,
শুধু তোর জন্যই হইতে রাজি আমি সর্বহারা।

যদি ” ভালবাসি” এ কথাটি, বলিস একবার,
তোর জন্য “জীবন বাজী” রাখবো শতবার।
তুইযে আমার চাঁদবদনী, তুইযে গলার হার,
তুই ছড়া, আসেনা মোর মাথায় কিছু আর।

ভালবাসিস জানি আমায় গভীর অনুরাগে,
‘ভালবাসি’ তোর মুখে শোনার ইচ্ছা জাগে,
তুই যে আমার সুখের কলি জীবনের বাগে,
তুই বিহনে ভাবতেই জীবন মরুভূমি লাগে।

মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা

কংগো থেকে সলংগা

কংগো থেকে সলংগা
——————- রমিত আজাদ

ঘুম নাই চোখে,
যখন দেখি সাত বৎসরের শিশুকে
হাসি হাসি মুখে ফাঁসীকাষ্ঠে ঝুলানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে মানুষরূপী অমানুষের দল,
অপরাধ ঐ শিশুটির,
তার পিতা সক্ষম হয়নি
পশ্চিমা মানুষদের রাক্ষুসে খাদ্যের চাহিদা মেটাতে,
ফলাতে পারেনি নিজ ক্ষেতে গম,
যতটা চেয়েছিলো দখলদার হানাদারেরা।
যে শিশু তখনো ভালো করে বুঝতেই শেখেনি
কি করে ভূমিষ্ট হলো সে এই ধরণীতে,
তার প্রাণ কেড়ে নিতে উদ্যত হয়েছে হানাদারেরা।
বাইবেলের শ্লোক আউড়ে
নিষ্পাপ শিশুটিকে হত্যা করবে তারা পৈশাচিক উল্লাসে।
ক্ষমা নেই ক্ষমা নেই পিশাচের,
কংগো থেকে সলংগা ভুলবে না তোমাদের অপরাধ।
অভিশাপ, প্রতিশোধ শব্দগুলো এখনো রয়েছে অভিধানে।

This is in 1908. Belgians reading the bible before hanging a 7 year old black child in the Congo under King leopold. The boy was hanged because his father did not produce enough wheat for the colonialists.
——————————————————

তারিখ: ২৪শে জুন, ২০১৮
সময়: রাত ৮টা ৩ মিনিট

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা বিনোদন ভালবাসা/প্রণয়লীলা সাকি বিল্লাহ্ সৃজনশীল প্রকাশনা

কমলা সুন্দরীর স্নান

কমলা সুন্দরীর স্নান
–সাকি বিল্লাহ্
 
সাঁতার না জানলে কন্যা,
নাইমো না ঐ দরিয়ায়,
দরিয়ার পানি চিকচিক করে,
সূর্যের আলোর ঝলমলায় ।।
 
কন্যার বরণ কমলার মতন,
রাগলে হয় মহাগ্নী,
ও গো ময়না নাইমোনা জলে,
এই রাগিনীর স্রোতিস্বিনী ।।
 
রন্ধন শেষে স্নানে এসে,
পদ্মের ন্যায় ভাসো,
গায়ে মাখো চন্দন-তুলসী,
আর, আপন মনে হাসো ।।
 
দরিয়ার জল উজানে চলে,
ভাইসা যায়রে শরীর বসন,
বসন যদি না থাকে গায়,
কেমনে যাইব বাড়ীর চলন ।।
 
সাঁতার না জানলে কন্যা,
নাইয়ো না ঐ দরিয়ায়,
দরিয়ার জল নিঠুর যদি,
ভাসাইয়া নিব এই অবেলায় ।।
Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা সাকি বিল্লাহ্

জেগে উঠো হে বাঙ্গালী

-সাকি বিল্লাহ্

 

হে নির্বাসিত মন, অর্বাচিন বাঙ্গালী,

জেগে উঠো আজ ঘোর অমানিষায় জ্বেলে দ্বীপালী ।

হেয় করো সকল কুণ্ঠা আর জরা যত,

শক্তিতে হও আগুয়ান হটিয়ে হিংস্র পশু শত শত ।

 

কে বলে তুমি ধারক কোন বিশ্বাসের,

বলো চীরদিন ধরনীর বুকে বীরসন্তান এই দেশের ।

হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ অথবা খ্রিস্টান,

সকলে এক বাংলা বীরের জাত সন্তান ।

ধ্বংস করে যারা এই সৌর্হাদ্রপ্রিয় বাঙ্গালী জাত,

পিছু না হটে দাও ফিরিয়ে তারে সকল প্রতিঘাত ।

 

শতশত নদীর কলকল তাল,

ডাকে দেখো দূর সমুদ্রের ঢেউ উত্তাল ।

শান্ত নদী মোহনায় হয় মাতন্ড প্রায়,

শেষ হওয়ার আগে জানিয়ে শেষ অভিপ্রায় ।

এই বঙ্গদেশের সকল সম্ভার,

রোষানলে হয়েছে পিশাচ আর শকুনের ভাগার ।

বিবেকের দংসনে তাড়ায় মন সারাক্ষণ,

তাই, ক্ষয় হোক তবুও করে যাব দেশের কল্যাণ ।

 

সবুজের মাঝে লাল সূর্যের এই পতাকা,

শতকোটি মানুষের দিগ্বীজয়ী আলোক-বর্তীকা ।

তাই জেগে উঠো কালবৈশাখীর মত,

ছিন্নবিদীর্ণ করে দাও সকল পিশাচের অন্তর যত ।

ছিনিয়ে আনো এই লাল সবুজের নিশানা,

মুক্ত করে দাও সকল শিকলে বাঁধা বিহঙ্গনা ।

বীর বাঙ্গালীর সকল বীরত্বকথন,

জাগিয়ে ধরনী করো  চীর অমলিন । ।

 

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা

শান্তশিষ্ট বালক

–সাকি বিল্লাহ্

হে সকল শান্ত শিষ্ট বালক,
বালিকাদের চেয়ে এখনো তুমি ঢের নাবালক !
ডিজিটাল এই যুগের অবাস্তব জগতে,
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পরতে পরতে,
ফটোশপ আর ক্যামেরার কারসাজিতে,
কাককে বক আর ময়ূরকে দেখায় কাকতাড়ুয়াতে ।।

সুন্দরকে অসুন্দর আর অসুন্দরকে সুন্দর করে,
আমরাই দেখাই মহাবিশ্বের সকল বিস্মৃতিরে ।
সম্যক জ্ঞানে রুদ্ধ করি সব অযাচিত রাগ,
আর ভস্ম করি পুড়িয়ে শত ভাগ ।
তবু তার দ্বারে রহি পড়ে সজ্ঞানে,
শয়নে নিদ্রায় জাগি তার-ই স্মরণে;
কবে যেন কোথায় দেখেছিলাম হঠাৎ,
সেই থেকে কাল হল সকল বিস্বাদ ।

জ্ঞানের পিপাসায় কাতর মস্তিষ্কে,
দিয়েছি শুধু জ্ঞানালোক মর্ত্যকে;
শুধু দেইনি একফোটা প্রনয়ের জল,
হৃদয়ের শত আকুতিরে করে নিস্ফল ।
তবু সবের মুখে শুনি অবারিত বারি,
দিয়েছো যা, তোমারই কল্যাণে তা নিমগ্ন করি ।

হয়ত কোন এক পড়ন্ত সাঁঝবেলায়,
পাখিদের ডানা ক্লান্ত তবু ব্যস্ত পথচলায়;
ভোরের আলো পড়ে চোখের পাতায়,
হয়ত বা জাগাবে না আর তোমায় ।
তাই শান্ত হয়ে, ক্ষান্ত করে দাও সকল অশান্তরে,
প্রকাশ্য দিনালোকে এই সকল নীরেট অন্তরে ।
তুমি হবে মহাপুষ্পীর মান্যবর কোন এক,
তবু সকলের হৃদয় জয়ে তুমি রবে সম্যক ।
কেউ তো তবু বলবে ছিলে এক শান্তবালকে ,
জয় হবে সবার তরে এই মর্ত্যলোকে ।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা

শুনতে চাই না

শুনতে চাই না আমি কবিতা আর গান,

তোমার কণ্ঠে

দেখতে চাই না চাঁদ আর হাসি

তোমার মুখে

তুমি নর পশুর চাইতেও অধম

আমার মনে হচ্ছে

তুমি একটা ভয়ঙ্কর নর পিশাচিনী

তোমায় দেখতে চাই না ।

 

¯পর্শ চাই না শিশির বিন্দু মাখা

দূর্বা ঘাসের মত,

তোমার হাতের,

কারণ তোমার হাতের ¯পর্শে

আমি বিষাক্ত

তুমি বর্বর হায়েনা

কিংবা নরমাংশী পাকিস্তানী সেনা ।

 

তোমার সান্নিধ্য আমি চাই না

তুমি পাষণ্ড, অশিক্ষিত কুলাঙ্গার

তোমার কোন ভয়ঙ্কর রূপ

আমি দেখতে চাই না,

শুনতে চাই না আমি তোমার মুখ থেকে

“ভালোবাসি” শব্দটা

শুনতে চাই না..না….না….না ..।

তোমার সব কথাই আমি আজ

শুনতে চাই না,

কারণ তুমি রাক্ষুসী, অনেকটা

রাক্ষুসী নদীর মত

বুকের ভেতরের সব কুল ভেঙ্গে নিয়েছো তুমি ।

 

তোমার পুলকিত হওয়ার কোনো কারণ নেই

তোমায় ভালোবাসি না আমি

অভিশপ্ত কাউকে ভালোবাসা যায় না

আমি জানি ।

 

হিংস্র পশুর চাইতে অধম তুমি

আমি জানি

কারণ তোমার লোভ আকাশ সীমা পেরিয়েছে

অনেক আগে

অন্ধ হয়েছো তুমি লোভে

শত শত শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা যাচ্ছে না

তোমার সে লোভাতুর মনটাকে ।

 

বন্ধ কর সব পাখির গান কিচিরমিচির শব্দগুলো

শুনতে চাই না এসব , দেখতে চাইনা

তোমার অবয়ব

তোমার অবয়বে মনে পড়ে, কি নিদারুণ

কষ্টের অতীত

আহা ! সে কষ্টে আড়ষ্ঠ দিনগুলি

কত কষ্ট হয়েছিল আমার সে মুহূর্তগুলো

প্রতিটি সেকেন্ড পাড়ি দিতে

এক একটা সেকেন্ড

এর চাইতে ভালো হতো যদি কোনো

রাস্তার কুকুরকে ভালোবাসতাম

কোনো পাগলা কুকুরকে

সবাইকে কামড়ালেও আমাকে কামড়াতে দ্বিধা করতো

অথবা কোনো হায়েনাকে ভালোবাসতাম

ছিন্ন বিদীর্ণ করে আমাকে শেষ করলেও

ক্ষুধা মেটানোর পর

তার দুচোখ বেয়ে এক ফোঁটা

অশ্র“ ঝরতো অন্তত

কারণ সে ক্ষুধার তাড়নায় পশুত্ব গ্রহণ করেছিল

আর তুমি (হা..হা…হা..)

আমার ক্ষতের উপর বরঞ্চও

কিছু লবণ ছিটিয়ে দিতেও দ্বিধা বোধ করোনি ।

 

ভালোবাসার প্রতিদান শুধু ভালোবাসা জানতাম

কিন্তু তুমিই শেখালে প্রথম,

ভালোবাসার প্রতিদান ভালোবাসা নয়

কুৎসিত মনের প্রকাশ হল তোমার

চাঁদের মত তোমার মুখ আর

ভিতরকার তুমি,

কিছুতেই আমি মেলাতে পারছিলাম না

যাই হোক-

একটা পশুকে ভালোবাসলেও

সে বুঝতে পারতো আমার সে

অর্বুদ ভালোবাসা

 

কিন্তু আমি হতবাক হলাম

তোমার পশুর চাইতেও নিকৃষ্ট রূপ দেখে

হঠাৎ তুমি বদলে গেলে

বিচিত্র সে রূপ তোমার

আমার মনে পড়লে এখনও

আঁতকে উঠি

কি অদ্ভুত তোমার সে পরিবর্তন

তোমায় নিয়ে কবিতা লিখছি

ভেবোনা, এটা তোমার জন্য কবিতা,

হ্যাঁ এটা আমার জন্য কবিতা

সবার জন্য কবিতা শুধু

তোমার জন্য একটা দুঃস্বপ্ন বাণী,

 

তোমার ধ্বংসই এখন আমার কাম্য

আমি বলিনি ।

আমি তো তোমার মতো

বিবেকহীন কোনো যন্ত্রমানব নই

তবে তুমি যা করেছো তার শাস্তি

তুমিই পাবে, অন্য কেউ নয়

তোমার ছলনার নাটক এর সমাপ্তি

তোমার রক্তের হলি খেলাতেই

শেষকৃত্য হবে ।

 

ভেবো না , স্রষ্টা কারও প্রতি

অসম বিচার করেন না

তোমার শাস্তি তুমি পাবেই

শীঘ্রই পাবে ।

 

 

নতুন করে তোমার মুখে শুনতে চাই না

আমি সুমধুর ভালোবাসার ডাক

খুবই বিরক্ত লাগছে তোমার সে আকুলতা

বন্ধ কর এসব

নতুবা চিরতরে বন্ধ করে দেব তোমার বাকযন্ত্র,

 

তাই আমি আর শুনতে চাই না

না…না….না….

শুনতে চাই না, দেখতে চাই না

পর্শ চাই না

ভাবতে চাই না তোমায়,

এ কবিতাই তোমায় নিয়ে শেষ ভাবনা

তারপর ভাববো না আর কোন দিনও

তোমায় নিয়ে ।।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা সাকি বিল্লাহ্ সৃজনশীল প্রকাশনা

একটি বটবৃক্ষের আত্মকাহিনী

নরেন্দ্র নারায়ণ যে জমিদার ছিলেন….

-হ্যাঁ তোমাকেই বলছি হে পথিক

আমি একজন বটগাছ

একটি বটগাছ নই, আমারও যে প্রাণ আছে

আছে ভালোবাসার অধিকার

শুধু আমি চলতে পারি না

আর সব কিছুই করতে পারি

তাই আমি একজন বটবৃক্ষ, “একটি নয়” ।

 

তুমি পথিক, কোথাও যাচ্ছ বুঝি ?

খুব ক্লান্ত মনে হচ্ছে তোমাকে

একটু জিরিয়ে নিতে পার

আমার সুশীতল ছায়ায়

এসো, কাছে এসে উঁচু শিকড়টায় হেলান দিয়ে বসো

আমি তোমাকে হাজারো পাতার

পাখায় বাতাস দিয়ে জুড়িয়ে দেব

যদি কিঞ্চিৎ সময় থাকে তাহলে

দু-তিনটে কথা বলতে চাই তোমার সাথে

জানি তুমি ব্যস্ত,

গাছেদের কথা শোনার সময় কোথায় তোমার

মানুষ বড়ই ব্যস্ত, তার জাতি ভাইদের

কথা শোনবার সময় নেই এক বিরাম ।

 

 

একি ঘুমিয়ে পড়লে দেখি

ঠিক আছে, তুমি ঘুমিয়ে থাক

আমি নিরবিচ্ছিন্ন পাতার পাখায়

তোমাকে সুশীতল বাতাসে শীতল করে তুলি আর

তোমার স্বপ্ন ঘোরে এসে

দু-চারটে কথা বলে মনের ভিতরের কষ্টগুলো ভাগ করে নিবো,

 

হ্যাঁ যা বলছিলাম

নরেন্দ্র নারায়ণ, তিনি ছিলেন একজন জমিদার

এ অঞ্চলের সবচাইতে প্রভাবশালী

ইতিহাসে পাবে কিনা জানি না

তা প্রায় ৫০০ বছর তো হবেই

ঠিক ৫০০ বছর পূর্বেকার কথা

আমার ঠিক মনে আছে

গাছেরা কোন কিছু ভুলতে পারে না

এই তো সেদিন

সকালে জমিদার বাবু এ পথ দিয়ে হেঁটে যেতেন আর

হাত বুলিয়ে দিতেন আমার গায়ে পরম আদরে

আমার তখন শৈশব,

 

হা……হা…..

কি বললে ? আমার বয়স কত ?

আমার বয়স আসলে কত হবে

সঠিক বলতে পারবো না

তবে আমার মগডালে বসে থাকা শুকুনীর চাইতেও ঢের বেশি

তোমার দাদার দাদাও আমাকে ঠিক এরকমই দেখেছে

ঠিক এখন যেমন আছি,

মহাকালের সাক্ষী বলতে পারো

তবে অনুমান করে বলতে পারি

আমার বয়স ৬০০ বছর পেরিয়েছে অনেক আগেই ।

 

পথিক, তুমি বিরক্ত হচ্ছ না তো ?

অবশ্য বিরক্ত হওয়ারই কথা

তুমি শান্তিতে ঘুমুচ্ছো আর

আমি বকবক করে তোমার ঘুমকে হালকা করে দিচ্ছি

কি? সমস্যা নেই , শুনতে চাচ্ছ আমার ইতিহাস

তাহলে শোন, সন্ধ্যা হওয়ার আগেই

তোমাকে ডেকে দেব আমি, ভেবো না ।

 

শত শত বছরে আমি শুধু মানুষকে দিয়েছি

আর কত কি যে দেখেছি এ পোড়া চোখে,

 

অভাব আর অত্যাচারিত হয়ে

আÍহত্যা করেছিল জয়নাব

তাও দেখতে হয়েছিল আর

না দেখে কি উপায় ছিল বল

আমারই ডালে দড়ি ঝুলিয়ে

আÍহত্যা করেছিল

স্বামীটা তার এত পাষণ্ড ছিল যে

সরলা রূপবতী মেয়েটাকে

যৌতুকের জন্য বেধড়ক মারধর করতো

চোখের সামনে ছটফট করতে করতে

শেষ নিশ্বাস বাতাসে মিলিয়ে গেল

 

আমি তার পাশে থেকেও বাঁচাতে পারলাম না,

(দীর্ঘশ্বাস……)

শুধুমাত্র কালের সাক্ষী হয়ে থাকলাম ।

 

এই তো সেদিন, ৭১ এর সময়

মুক্তিযোদ্ধা কিছু তরুণ

আমার এ গুড়ির পেছনে আশ্রয় নিয়েছিল

পাক সেনাদের সাথে তাদের সামনাসামনি যুদ্ধ হয়

রমিজ উদ্দিন নামে একজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়

তার বুকে এসে গুলি লাগে,

পাক বাহিনী পরাজিত হয় ঠিকই

কিন্তু রমিজ শহীদ হয়

তার কলকল করে রক্ত পরা আমি

বন্ধ করতে পারিনি

শুধু পাতার আর গুড়ির আশ্রয় দিয়েছি মাত্র

পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা আরজ আলীর পা আর ফেরত দিতে পারিনি

কি পেয়েছে এই মুক্তিযোদ্ধারা তোমাদের কাছে ?

এখনও মাঝে মাঝে আরজ আলী আমার শরীরে

পরম আদরে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে

অতীত স্মরণ করে দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে

তার সেই দীর্ঘ নিশ্বাস আমার হৃদয়কে

ক্ষতবিক্ষত করে..

বিশ্বাস করছো না ?

এই দেখ আমার শরীরে এখনও বুলেটের চিহ্ন বর্তমান

কি, এখন বিশ্বাস হল তো

আমরা গাছ, গাছেরা কখনও মিথ্যা বলে না ।

 

কত রাখাল এসে এখানে গরু চড়ায়

কত পাখি এসে গান গায়

কত শিশুরা এসে খেলা করে

আমি শুধু তাদের আশ্রয় দেই

দেই ছায়া আর ভালোবাসা

মানুষের দুঃখ দেখে ব্যথিত হই

মানুষের সুখ দেখে আনন্দিত হই

কালবৈশাখীর ঝড়ে সে বছর অনেক মানুষ মারা গেল

তোমরা তার নাম দিলে সিডর

 

হাজার ঘরবাড়ি ধ্বংস হল

অনেক মানুষ মারা গেল

অনেক গাছও মারা গেল

আমি কোনরকমে বেঁচে ছিলাম

কিন্তু আমার দুটি ডাল ভেঙ্গে গেল

এই যে দেখ এখনও তার ক্ষত আছে

মানুষদের আমার খুব ভালো লাগে

কারণ এত ঝড়ের পরেও

তারা আবার বাঁচার স্বপ্ন দেখে

নতুন করে ঘর বাঁধে ।

 

কিন্তু মানুষ অনেক স্বার্থপর

তোমাদের এত উপকার করেও

কোন প্রতিদান পাইনি

বরং এখন আমাকে আগুনে পোড়ানো বাকি

হ্যাঁ সত্যিই বলছি

সামনের সপ্তাহে হয়ত আমাকে কেটে ফেলা হবে

কেটে টুকরো টুকরো করে ইটের ভাটায় পোড়ানো হবে

আমিও সেদিনের অপেক্ষায় আছি, ভাবলাম

তোমাদের মাঝে বেঁচে কি লাভ ?

এত উপকার করেও যখন তোমাদের মন যোগাতে পারলাম না

তখন আর হিংস্র স্বার্থপর পৃথিবীতে বেঁচে থেকে লাভ কি, বল ?

 

একি উঠে পড়লে যে,

ঘুম ভেঙ্গে গেল সন্ধ্যার আযানে

আজ চলে গেলেও আরেক দিন এসো

বাকি গল্পটুকু শোনাবো

যদি ততদিনে আমাকে কেটে ইটের ভাটায় পোড়ানো না হয়

শীঘ্রই এসো, ৬০০ বছরের ইতিহাস তো আর

ঘন্টা খানেকে শেষ হবে না

একদিন সময় নিয়ে এসো

তবে শীঘ্রই,

ঐ শানিত কুঠার আমার বুক চিরে ফেলার আগেই।

 

বিদায় পথিক, বিদায়  ।।

Categories
কবিতা

হে নেত্রী, আপনি আর কাঁদবেন না
©…….সহিদুল
(মনবতার জননী শ্রদ্ধাভাজন প্রিয় নেত্রীর জন্মদিনে নেত্রীকে উৎসর্গীকৃত)

১৯৭৫ সালের কোন একদিন,
জার্মানির এক বিমান বন্দরে
কাস্টমস কর্মকরতার বিমর্ষ চাহনি,
বঙ্গকন্যার বাংলাদেশী পাসপোর্ট দেখে
কাস্টমস কর্মকরতা ঘৃণা ভরে বলেছিল,
“এতো বড় এক বেইমান জাতি তোমরা!
যে মুজিব দিলো তোমাদের স্বাধীনতা,
আর সেই মুজিবের রক্তেই রঞ্জিত হয়েছে তোমাদের হাত?”

বঙ্গকন্যা সেদিন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি,
নেত্রী কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছিলেন,
প্রিয় নেত্রীর কান্নায়,
খোদার আরশ পর্যন্ত সেদিন, কেঁপে উঠেছিল,
পুরো জার্মান বিমানবন্দরটিই যেন
হয়ে উঠেছিল শোকে বিহ্বল এক খন্ড পাথর।

মা হারিয়েছেন, বাবা হারিয়েছেন,
ভাই হারিয়েছেন,
এ যে কত নির্মম, কত কষ্টের!
কত অনুতাপের, কতটা বিষাদের!
তা একমাত্র শেখ হাসিনা ছাড়া কেউ উপলদ্ধি করতে পারবে না।

হে প্রিয় নেত্রী,
আপনি কতটা ধৈর্যবতী!
তারপরও মাঝে মাঝে,
আপনার চোখে জল দেখা যায়,
তাই বলবো,
হে নেত্রী,
আপনি আর কাঁদবেন না।
আপনার চোখের পানি আমরা সহ্য করতে পারিনা।

আপনি আমাদের শেষ আশা,
আপনি আমাদের প্রত্যাশা,
আপনি আমাদের ভরসা,
আপনি আমাদের আস্থা,
আপনি আমাদের প্রেরণা,
আপনি আমাদের স্পন্দন।

আপনি স্বজন হারিয়েছেন,
আজ ১৭কোটি জনতা আপনার স্বজন,
আমরা ১৭কোটি জনতা
আপনার চোখের পানি মুছে দিব,
১৭কোটি জনতা আপনাকে হাসুবু বলে জড়িয়ে ধরবে।

হে মানবতার জননী,
আপনার মায়াময় সুশীতল স্নেহের ছায়াতলে
আমরা শান্তিতে ঘুমাচ্ছি,
কোথায় পাব এমন শান্তির দূতিকা?
আপনি আছেন বলেই আজ
লক্ষ লক্ষ নীড় হারা পাখির মত
অসহায় মানুষেরা জীবন বাঁচাতে পেরেছে।
আপনি আছেন বলেই
শয়তানের দলেরা ভয় পায়।
আপনি ছাড়া শান্তি অরক্ষিত হয়ে যায়।

হে শান্তি মাতা,
পার্বত্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা
আপনার দ্বারাই সম্ভব হয়েছিল।
আজ শুধু পার্বত্যে নয়,
সারা বিশ্বেই আপনার শান্তির বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে।
যখন পার্বত্যচট্টগ্রামে শান্তির চুক্তি করেছিলেন,
তখনই আমার মন্তব্য ছিল,
নোবেল পুরষ্কার আপনার হাতেই মানায়,
কিন্তু তা হয়নি।
এরপর সমুদ্র জয়, ছিটমহল বিনিময় সহ
বহু শান্তির ইতিহাস গড়েছেন।

এখন আমরা চাই আপনার শান্তিময় দ্যুতি
ছড়িয়ে পড়ুক বিশ্বব্যাপী,
আপনার দৃঢ় ভূমিকায়,
আপনায় মায়াময়তার উসিলায়,
রোহিঙ্গারা ফিরে পাক তাদের আবাসভূমি,
আপনার উসিলায় আরাকান হোক স্বাধীন,
শান্তির পতাকা উড়ুক স্বাধীন কারাকানে।
হাসি ফুটুক শান্তিকামীদের মনে।
শয়তানের বাচ্চা,
মানবতার দুশমন,
অশান্তির বাহকেরা নিপাত যাক।

আজকে অশান্তির বাহকেরা
আপনাকে নোবেল দিতে চায়।
আমরা চাই না এ নোবেল।
অশান্তির ধারকদের যদি শান্তির নোবেল দেয়া হয়,
তবে মানবতার জননী হয়ে
কিভাবে আপনার হাতে শোভা পাবে
ঐ অশান্তির নোবেল?

আল্লাহর দোহাই লাগে,
প্রিয় নেত্রী, আপনি আর কাঁদবেন না,
আমরা চাই আপনি আরো বজ্রের মত কঠিন হোন,
আপনার হাতেই মানার বংলার বৈঠা,
আপনিই পারেন,
রাজাকার আলবদর দুর্নীতিবাজদের বিচার পূর্ণ করতে,
আপনার দীপ্তিময় আভার নিকট ম্লান সারাবিশ্ব,
আপনার নীতির কাছে মলিন বিশ্বের আপোষকারী নেত্রীবৃন্দ!

হে নেত্রী,
বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সোনার বাংলাকে
বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য আপনার কোন বিকল্প নেই,
সোনার বাংলার বৈঠা আপনার হাতেই অটুট থাকুক,
তাই আমাদের নিত্য দিনের শপথ হোক,

আপনার হাতে সোনার বৈঠা চলছে নৌকা অনুক্ষণ,
অবাক হয়ে দেখছে বিশ্ব বাংলাদেশের উন্নয়ন।

মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম
সিঙ্গাপুর

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা

এপাড় ওপাড়

সাকি বিল্লাহ্

 

আমাকে একটু ওপাড়ে পাঠাতে পারবে, ওপাড়ে,

যেখান থেকে কেউ কখনো না ফিরে,

লম্বা ছুটি, নিরন্তর অবকাশ,

ধ্র“ব সত্য, অদৃশ্য নীল আকাশ ।

 

মাঝি নিশ্চুপ, বৈঠা হাতে এপারে,

তুমি বড়ই দুখী, যদি চাও চলো ওপাড়ে ।

 

হাতের প্রদীপ আমার নিভু নিভু করে, ক্ষণে,

ঝিরি ঝিরি বাতাসে, আর শেষবিন্দু কেরোসিনে,

সলতে পুড়ে পুড়ে শেষ হচ্ছে আমার,

সময় ঘনিয়ে আসছে ওপাড়ে যাবার ।

 

তবুও মাঝি নিশ্চুপ, বৈঠা চলছে না,

থেমে থেমে ঝিঁ ঝিঁঁ’র নিরলস বন্দনা ।

নিকষ কালো অন্ধকার রাতে,

দাড়িয়ে থেকে থেকে পায়ে খিল লেগেছে তাতে ।

 

বিদায় বেলায়, স্বজনের মেলায়,

ভেসে যাচ্ছি অজানার ভেলায় ।

তবুও মাঝি বলছে না কিছুই,

“তোমার সময় শেষে জানবে সবই” ।

 

হঠাৎ বুকের পাঁজরে লাগল কি যেনো,

ভয়ঙ্কর শীতল, শূন্যতায় ভরা অনুভূতি এক কোনো

মুহূর্তে সব ওলট পালট লাগছে আমার,

মৃত্যু ভয়ে জর্জরিত সারা শরীর

শিশু থেকে মৃত্যু অবধি যত কিছু আছে,

চিত্রিত সব কল্পনা আমার কাছে

রং তুলির ছবির মত কত কি যে,

সারাটা জীবন, দৃশ্যপটে, আঁকছে কেউ নিজে ।

 

বুকের সে ব্যথা অনুভূত হচ্ছে না আর,

মাঝি নীরবতা ভেঙ্গে “সময় হয়েছে যাবার”

যাবার জন্য ব্যকুল ছিল হৃদয়,

সমন শুনে মনটা যেন কাঁদে সে যন্ত্রণায় ।

 

কলমের কালি শেষ হলে যখন তাই,

ছুড়ে ফেলে দেয় দুরে সবাই

আমার সে পাড়ে, এমনই কি ছিলো?

আমাকে নয়, আমার সম্পদকে বাসতো ভালো?

আমি এখন মহাকালের ঊর্ধ্বে,

মহাবিশ্বের মহাকালের সান্নিধ্যে ।

 

মাঝি: “তোমার যাবার অনুমতি মিলেছে”

স্রস্টা কিছু চাইছেন তোমার কাছে

আমি অবুঝ দৃষ্টিতে তাকিয়ে,

অন্তরের সব মরুভূমি হচ্ছে শুকিয়ে ।

কেউ কিছুই বলছে না আমাকে,

কিছুই তো নেই, যে, দেখাব স্রস্টাকে

হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা ছাড়া আর,

সাথে তাকে দেখাব কিছুই নেই আমার ।

 

সত্যের পথে, অজানাকে জানতে,

পাড়ি দিয়েছি সারা জীবন øাতে

আমাকে যেতে দাও ওপাড়ে,

ভিড়তে দাও সকল রহস্যের দ্বারে

আমার যাবার অনুমতি নাকি মিলেছে,

তুমিই তো মাঝি পথ চিনেছো ।

 

মাঝি: “আমি আর বেয়ে যেতে পারছিনা,

দুহাত আমার অবশ কোনো পাখির ডানা”

কিন্তু, তুমি তো আদেশ প্রাপ্তা,

তুমি ছাড়া আমার অজানা রাস্তা,

 

মাঝি, তুমি কি শুনতে পাচ্ছ?

আমাকে মাঝ পথে রেখে কোথায় যাচ্ছ?

 

আমি এখন মধ্য পথে,

ভাসমান এক কাল্পনিক রথে

আমি একা, বড় একা, সেই রথে,

কেউ টানছে এপারে কেউ ওপারের পথে

স্রস্টা আর মানুষের ভালোবাসার –

টানাটানি পড়েছে, আমি কার?

তাই আমি এখন মধ্যিখানে,

আমার ইচ্ছায় যেতে পারি, এখানে বা ওখানে ।

 

যখন মানুষের ভালোবাসা শেষ হবে,

অফুরন্ত ভালোবাসা স্রস্টার পড়ে রবে

আমি তখন পাড়ি দেবো উন্মুক্ত ভেলায়,

ভালোবাসি বলে, “হে স্রস্টা তোমায়” ।

 

মঙ্গল তব মঙ্গল হোক হে সৃজিত সৃষ্টি,

মরণ যেন যবনিকা ধারা, সীমাবদ্ধতার কৃষ্টি,

তাই উজাড় করো মনটা তোমার ঊর্ধ্ব করো দৃষ্টি,

মানুষের উপকারে ঝরাও তোমার ভালোবাসার বৃষ্টি।।