Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা সাকি বিল্লাহ্

মন্ত্রজালে

মন্ত্রজালে
সাকি বিল্লাহ্

শ্যামনগরের রাজপুত্র মাহাতাপ সিং
রাজকর্ম বাদ দিয়া বাউন্ডুলে কাটিত দিন ।
রাজ্য ও সিংহাসন নিয়া তাই রাজা প্রতাপ,
দুঃশ্চিন্তায় ব্যথিত সারাদিন বিলাপ ।

নদীর ধারে বসিয়া ক্ষণকালে মাহাতাপ,
মনোযোগে পশুপাখি মৎস্য হত্যায় মহাপাপ ।
এ কাজে তাহার বাধা হইল এক দরবেশ,
কহিল বাছা, অকারনে কেন ধ্বংসের রেশ?
রাজপুত্রকে কেহ প্রশ্নের ধৃস্টতায়,
সাহস তাহার বড়ই চমক বরদাস্ত করে প্রায় ।

তুমি মূর্খ দরবেশ ! জীবন সুখের পেয়ালা,
তুমি কিভাবে জানিবে কিসে সুখ এই বেলা !
মাহাতাপ তাহার ক্রোধখানি ছুড়ে ধনুকের বানে,
দরবেশ নিপাট বিশ্মিত ঠায়, দাড়ায়ে চাহি তারপানে ।
“ঠিক আছে তবে, তুমি হয়ে যাও এক মৎস্য রুহিত”,
দরবেশ অভিশাপ যাচে, “কর তাহলে এ প্রায়ঃশ্চিত” ।
“আজ থেকে তুমি এক মৎস্য রুহিত এ নদীর কুলায়,
কেহ যদি ভালবাসিয়া তুলে নেয় আপন আলয়,
তথা মৎস্য হইতে মনুষ্য হইবে আবার,
না পারিবে কোন রুহিত ভোজনে আর” ।

অভিশাপে রাজপুত্র নদীর জলে মৎস্য রুপে,
বিচক্ষণ অভাবে জীবন ধ্বংস মহাপাপে ।
দিন যায়, মাস যায়, কেহ না আসে তীরে,
মৎস্য হয়েই জীবন কাটে আহারে !

শুভক্ষণে রাজকন্যা মায়াবতী স্নানে আসে সখীসহ,
বাক জানা মৎস্য দেখে জাগে প্রেমের মোহ ।
জানে, সে এক রাজপুত্র, রইনু পড়ে হয়ে মৎস্য,
নিগাঢ় ভালোবাসা-ই পারে ফিরে যেতে রুপে মনুষ্য ।
প্রণয়ে মাছের জীবন ত্যাগে হয় মনুষ্য আবার,
মায়াবতী মাহাতাপ শুভপরিণয়ে জীবন কাটে এবার ।

কিন্তু সে কথা, মনে থাকে, মৎস্য ভোজনে,
ফিরিয়া পাইবে মৎস্যরুপ পূর্ণ জীবনে ।
মায়াবতী ভুলিলেও মাহাতাপ নাহি ভোলে,
তাই কোন ভোজনে মাছ তাহার পাতে নাহি তোলে ।

একদা এক মধ্যভোজনে মহা-মস্ত আয়োজন,
রাজকন্যা নিজ হাতে করিল রুহিত মাছের রন্ধন ।
ভুলিয়া সে রাজপুত্রকে অনুযোগে বলে বিশ্ময়,
সব রাখিয়া মাছখানা দেখ কেমন স্বাদময় !
মাহাতাপ বলে, “তুমি জানো মৎস্যকূলেরা জাতি ভাই,
আমার পরিনতি ভাইয়ের মাংস ভক্ষণে যাচাই ?” ।
হাসিয়া মায়াবতী, রুপ কথার গল্প না বিশাসে,
বলে, “তুমি মানুষ কিভাবে রুপবদলাও মৎস্য গ্রাসে” ।
এত কস্ট করিয়া রাঁধিলাম এই হল তার উপহাস,
কাঁদিয়া ভাসাইল অভিমানী রাজকন্যা করে উপ-বাস ।

রাজকন্যার মন করিতে খুশি রাজপুত্র মাহাতাপ,
পাতে একখানা রুহিত মাছ মনে বিশদ পরিতাপ ।
জাতি ভাইয়ের মাংস ভক্ষণে দ্বিধা সংকোচ মনে,
নিশ্বাস বন্ধ হইয়া আসে তাহার এক লোকমা ঘ্রানে ।
ছুটিয়া চলে উদ্ভ্রান্তের ন্যায় সেই নদীর তীরে,
পিছনে তাহার প্রিয়তমা আসে ডাকিয়া স্বমস্বরে ।

ভালোবাসার পরীক্ষায় তব পাশ করিলে,
বুকের জ্বালা নিবারনে প্রাণ বাঁচে তার নদীর জলে ।
নদীর বক্ষে রাজপুত্র হয় মৎস্য আবার,
এ জীবন মৎস্য হয়েই থাকবে পড়ে তাহার ।

সকাল থেকে সন্ধ্যা নাওয়া খাওয়া নিবারনে,
মায়াবতী বসে থাকে রুহিত মাছের প্রয়াণে ।
এ জগতে হায়, ভালোবাসার আড়ালে,
নারীদের ছলনা এক অভিলাষী মন্দ্রজালে ।।

০৭.০৬.২০১৭
৫:৩০ ঘটিকা সকাল, কেমনিট্জ, জার্মাানী ।

Categories
কবিতা

আমার নাম বাংলাদেশ

ট্যাঙ্ক, কামান আর মর্টারের মুহুর্মুহু আঘাতে
আমার নিরস্ত্র সবুজ ঝাঁঝরা বুকের উপর রক্তাক্ত যে মানচিত্র
তার নাম বাংলাদেশ।
শোষন, অপশাসন ও বঞ্চনার উদর ভেদিয়া
সেদিন পৃথিবীর আলো দর্শন করেছিল
এক শিশু,
যে শিশু, বাহান্নের আগুন ঝরা ফাগুনে,
মাতৃ জঠরে, যার ভ্রূণ।
এরপর, ছাপ্পান্ন, ছেষট্টি, ঊনসত্তরে গর্ভকোষে বেড়ে উঠা,
এক সাগর নিষিক্ত রক্তের স্রোতধারায়,
গর্ভিণীর উদরে বুটের প্রহারে প্রহারে যার জন্ম,
তার নাম বাংলাদেশ।
আমার ধূলিমাখা তন্বী সরণির ধারে,
জনশূন্য অঁচলে, গভীর তরূবীথিকায়
কিংবা ছোট্ট জলাশয়ের ধারে,
আলোহিত কৃষ্ণচূড়া কিংবা পলাশ, শিমুলের রক্তিম আভায়,
রমনার প্রান্তরে পুণ্য রক্তের নহর,
অতঃপর সবুজ ঘাসের চাদরে লাল সূর্যের দীপাবলি।
শক্ত হাড় মাংসের বুনিয়াদ,
মাটি-প্রানের তৈলাক্ততা, চটচটে রক্তের জমিয়া-জমান পিণ্ড,
আর এক গর্তে বেশুমার আত্মার অবসন্ন ব্যাকুল কামনা,
এবং একটা স্বপ্নাবেশের নাম
বাংলাদেশ।
অর্জন আর বিসর্জনের রক্তরাগ সমীকরণ,
একটা চরম বিভীষিকাময়,
দুঃস্বপ্নের পরিসমাপ্তি নাম
বাংলাদেশ।
আমার শৃঙ্খল-পরম্পরায় মুক্তির টান,
উচু-নিচু, ভেদাভেদ ভুলিয়া হৃদয়ে হৃদয়ের টান,
তবু মিলেনি মুক্তি,
জীবন্ত আত্মার আকুতি,
নিষ্প্রাণ আত্মার ফুঁপিয়ে ওঠা কান্নার নিদারূণ নীরব আর্তনাদ,
কোটি জনতার কর্ণে বাজে মরা আত্মার ছায়ার নিস্বন।
ক্ষুধার্ত শিশুর চিৎকার
কিংবা শরণার্থী শিবিরে কুকুর শেয়ালে খাওয়া লাশ,
বোবা কান্নায় নির্বাক চেয়ে থাকা নারীর মুখ,
কাক ঠুকরানো বিক্ষত বাঙ্গালীর লাশ,
লাশ নিয়ে কুকুরের টানাটানি,
আশ্রয়ের খোঁজে শত শত নারী-পুরুষের উন্মত্ত আর্তনাদ,
বিবস্ত্র নারীর লাঞ্ছনার ছবি,
পাক জানোয়ারের লোমহর্ষক নির্যাতন, নৃশংসতার পরিসমাপ্তির নাম
বাংলাদেশ।
আমার এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার বর্গমাইলের
প্রতি ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে
দীর্ঘ নয় মাস ধরে লক্ষ লক্ষ পাকি পশুদের
পাশবিক কামনায় রক্তাক্ত মা-বোন
প্রতিনিয়ত বাধ্য হয়ে ইজ্জত বিলিয়ে দেয়া নারী,
হায়েনাদের কামড়ে কামড়ে ছিলে নেয়া নারীর রক্ত মাংস,
বন্দুকের নল-বেয়নট দিয়ে খুচিয়ে ক্ষত বিক্ষত নারীর বুক, উরু, গুপ্তাঙ্গ,
নিদারুন দম বন্ধ করা এই নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে
অচেতন বীরঙ্গনারা হঠাৎ জেগে
আবার আঁতকে উঠেছে,
তার চোখের সামনে, মুখের উপর
বারেবার গলে পড়ছে পাকি মুখনিঃসৃত কামনার লালা।
তবু নির্লিপ্ত আর্তনাদে বীরাঙ্গনাদের বাঁচার আকুলতা,
তার নাম বাংলাদেশ।
ট্যাঙ্ক, কামান আর মর্টারের আঘাত থেমেছে হয়তো,
থামেনি এখনো মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার আঘাত,
এও থামবেই একদিন,
সেদিন নিরদ ঝরাবে সুখের আঁখিজল,
যে জলে ভরে যাবে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা
যে জলে দুকুল ছাপিয়ে প্লাবিত হবে জমিন,
যে জলে সবুজেরা পাবে তার চিরায়ত রূপ।
বাংলার সংস্কৃতিতে মাতবে বাঙ্গালী
জোস্নার অবগাহনে জমে উঠবে রাতের উৎসব,
তারায় তারায় খচিত রজনীতে
মাতবে যেদিন আপন মেহফিলে,
তোমরা ভুলে যেওনা আমাকে,
যার বুলেটে ঝাজরা বুক, বেয়নটে খুঁচানো সম্ভ্রম হারা নারীর বুক,
কামানের আঘাতে ছিন্নভিন্ন দেহ,
নির্বাক নারীর বোবা কান্না,
সহস্র-কোটি অভিমান আর ভালবাসার নাম
অধিকার
স্বাধিকার
স্বদেশ,
বাংলাদেশ।
-০-
মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম
Email_ Sahidul77@gmail.com

Categories
অনলাইন প্রকাশনা ইজি পাবলিকেশনস কবিতা

কবিতা::::::: তোকে মনে পড়ে

খুব বেশি তোকে মনে পড়ে
আজ তুই কাছে নেই বলেে
এমন চিনচিন ব্যাথা লাগেনি আগে
তুই ছিলি যখন আমারই মাঝে।

ভাবিনি কখনো এমন করে
এত ভালবেসেও চলে যাবি
আমাকে ছেড়ে অনেক দুরে।

খুব বেশি তোকে মনে পড়ে
আজ নিজেকে ভীষণ একা লাগে
ফিরে যেতে ইচ্ছে করে
ফেলে আসা সেই সোনালী বিকেলে।

অনন্তকাল থাকবো না কেউ
থেকে যাবে দু’জনের মধুর স্মৃতিগুলো
যদিও আছো চোখের অন্তরালে
ভালবাসি এখনো তোকে আগের মতো করে।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা

জান্নাতের চাবি

জান্নাতের চাবি
মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম
=====================
জান্নাতের চাবি মাগো, মা তুমি বিধির শ্রেষ্ঠ অনুদান,
তোমার সেবা করে জীবন আমার হয় যেন অবসান।
মা যদি হয় কারো বিজাত অনুসারী,
তবু মায়ের, করতে হবে সেবা তোমারি।
থাকতে মা-ধন, কর যতন, দিয়া তোমার মনপ্রাণ,
জান্নাতের চাবি মাগো, মা তুমি বিধির শ্রেষ্ঠ অনুদান।
এই জগতে কত মূর্খ নেয়না মায়ের খবর,
হারিয়ে মা, জিয়ারত করে মায়ের কবর।
মূর্খমানব, লাভ হবেনা করলে মায়ের কবরের সম্মান,
জান্নাতের চাবি মাগো, মা তুমি বিধির শ্রেষ্ঠ অনুদান।
জন্মদাতা মাতা কারো হয় যদি অসতী,
তবু মায়ের সেবা বিনে নাইরে তোমার গতি।
মায়ের সেবা কর আগে, পাইতে বিধির কৃপা দান,
জান্নাতের চাবি মাগো, মা তুমি বিধির শ্রেষ্ঠ অনুদান।
এই সমাজে দেখি কত মূর্খ অকাতরে,
ধার্মিক সেজে বসে আছে মসজিদে, মন্দিরে।
হায়রে মূর্খ! কে বলেছে মাকে বাদে কর প্রভুর সেবা-দান,
জান্নাতের চাবি মাগো, মা তুমি বিধির শ্রেষ্ঠ অনুদান।
মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম

Categories
কবিতা

কবিতা::::::: নীলাচল

অনেক উপরে আমি, বান্দরবনের
সুউচ্চ নীলাচল টিলায়
নিচে বহমান নদীর মতো
আকাঁবাকা হয়ে নেমে গেছে
সরু র্কাপেটের উচু-নিচু রাস্তা।

শহরের বুকে বড় বড় ইমারত
কিংবা খুঁড়ে ঘরগুলোকে মনে হচ্ছে
তরে তরে সাজানো ঠিক বাচ্চাদের খেলাঘর
সৃষ্টি সেরা মানুষগুলোকে উপর থেকে
দেখায় তখন পিঁপড়ার মতো।

যতদুর চোখ যায়, বিস্থীর্ণ প্রান্তর
জুড়ে সবুজের মিলন মেলা
বাতাশের শীতল ঝাপটা আর মেঘের
আলো-ছায়ার মুগ্ধতায় হৃদয়ের
বদ্ধ বাতায়ন খোলে যায়।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা দুঃসাহসিক সৃজনশীল প্রকাশনা

ফাঁসি

——-সাকি বিল্লাহ্

কি কারন কি জানি কি হল
মনের গহীনে অভিশম্পাত ঝরিল
দূর মেঘের গর্জনে
আত্মাহুতি দিল হৃদয় বিসর্জনে
কেন এ ভোগান্তি কেন বিরহ
বুকের আগুন মিটাল তাই আত্মাহুতি সহ
রাতের বেলায়, নিঝুম রাতের বেলায় তাই
কমলা করে তার জীবন উৎসর্গ কেন ?
কেহ জানে নাই ।

কি কারন কেন ফাঁসিরে আসন দিলো
কেহ জানে না তবে অভাগীর বিবেক মানিল
ফাঁসি হয়ে ঝুলে ছিলে কমলা
সহজ সরলা গ্রাম্য মেয়ে এক চঞ্চলা
রাতের নিভূতে যখন সব ঘুমে
জেগেছিলে বিদায় দিতে এই ধরনী সমে
হাতে নিয়েছিলে লম্বা দড়ি
গলে পড়বে বলে
মৃত্যুর দুয়ারে দাড়ায়ে মন কি
কাঁপিল দুর্বলে?

গলায় পড়বে বলে জানি কত অপেক্ষা
কেন এই অভিমান আসলে কিসের অভীক্ষা
ফাঁসির সিংহাসনে তাই কমলা
কমলা গ্রামের মেয়ে সহজ সরলা
ফাঁসি,ফাঁসি, চোখে তার ঘৃনার হাসি
কিসের সে ব্যথা, আর অপমানের রাশি
কিসের সে ক্ষোভ ? না জানি
কেন এ ফাঁসি ?
না মানি ।

হাতের দড়ি সাথে লয়ে তাই
হাটিছে কমলা নীরব রাতে সেই
স্কুলের পাশে বিশাল বটবৃক্ষের কাছে
কমলা হাতে দড়ি, থামিল নীচে
কাঁদিল কমলা, কাঁদিল ভুবন আর
কাঁদিল ঝিঁঝিঁ পোকারা
চোখের পানি শুন্য করে কাঁদিল সব মেঘেরা
হেরিল বাতাস বৃটবৃক্ষের পাতায় মৃত্যুর সমন
শুনশান নীরবতায় হল ছন্দপতন

লক্ষ্মী পেঁচা হুতোম বারণ করেছিল বুঝি
বাদুড়েরা ছিল কাল স্বাক্ষী কমলার ফাঁসি
ঝটপট গাছে উঠি পড়ি
শক্ত করে বেধেঁছে দড়ি
কমলা বুঝি বিদায় নিতে রাজি
কেন এই ফাঁসি, কেন জীবন বাজি
পাতার শব্দে যোগ হল নতুন শব্দ
ধস্তাধস্তি আর নিশ্বাসের শত অব্দ
কতকাল এভাবে কমলা জানে না
ঝুলে ছিল বটডালে
বিদায় নিল কমলা সেই রাতে
যেতে হবে না আর স্কুলে

মা ডাকিছে, বাবা ডাকিছে, চোখ নাহি মেলে
কমলা সবেরে অন্ধ করে দূরে গেল সরে চলে
কি জানি কেন ফাঁসি দিল সে জানতে
পারলাম পরে
রাস্তার ধারে বখাটেদের অতীব অত্যাচারে ।

স্কুলে যেতে হতো তাকে উপদ্রব শুনে শুনে
রাস্তার ধারে মানুষ গুলো মজা দেখে সর্বক্ষণে
বখাটেরা তাই সাহস যোগাল দিনে দিনে
কমলা কে করিল বধ্ আদিমতা বিধানে
কেহ না জানিল কি করিল ক্ষতি সাধন
কমলা সহজ সরলা দান করিল নিজ জীবন
কি কারন ফাঁসি, সবে জানিল ক্ষণে
বখাটেরা কি পাবে শাস্তি সমনে
ধূর্ত সমাজ ধ্বংস করে সব সাদামন
শাসকের আসনে বসায়ে তোরে করেছি জাতিরে অপমান

কমলার ঋণ শোধরানো গেছে
বখাটেদের শাস্তি হয়েছে
কিন্তু হাজার কমলা যারা এই সমাজে আছে
তাদের সবার ঋণ কি শুধরানো গেছে
যদি তা না হয়
তবে কিসের এত ভয়
হাতটি তোমার কলমের জোড়
তুলে নাও তোল সমুদ্রসম ঝড় ।।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা আত্ম উন্নয়ন কবিতা পরিবেশ ও বন সৃজনশীল প্রকাশনা

একজন এক’শ বছরের বুড়ো

–সাকি বিল্লাহ্

আমি একজন এক’শ বছরের বুড়ো
বুড়ো থুড় থুড়ো,
হাতের কুঁচকানো শুকনো চামড়,
ঝুলে আছে থুতনির ভাজে পড়া অসাড় ।
মস্তকের গুটি কয়েক চুলের উঁকি দেয়া,
প্রান্তিক ভাগে আছে শেওলা ধরা ছাঁয়া ।

আমি দেখেছি শত পাখির উড়ে যাওয়া,
দেখেছি শত বুনো হাঁসের জলকেলি খেওয়া;
আমি বুড়ো এক’শ বছরের বুড়ো,
চামড়া কুঁচকানো বুড়ো থুড়থুড়ো ।

রাতের অভিসারে গাছের সাথে মাখামাখি,
বাতাসের ভেলা যেন মুঁদেছে দুটি আঁখি;
ঘন বনে দেখেছি কত জোনাকির খেলা,
সারারাত গান গেয়ে ক্লান্ত ভোর বেলা;
বাঁশ ঝাড়ের পেঁচাটা কেঁদেছে ঘনঘন,
সাক্ষী শুধু এই বুড়ো, পেঁচার প্রিয়জন ।

শত বছরে আমি দেখেছি শত মানুষ,
দেখেছি তাদের ধ্বংস লীলা আর ফানুস;
মানুষ নামের ধারক হয়ে বধেছি কত প্রাণ,
ধ্বংস করেছি মনুষত্ব আর আত্মসম্মান;
প্রকৃতি গ্রাসী নরমাংসী এই মানুষী,
শত বছরে বদলায়নি একটুখানি অমানুষী;
আমি তাই একজন অতীকায় বুড়ো,
মানুষ না পরিচয়ে বলি বুড়ো থুড়থুড়ো ।

আমি দেখেছি স্বদেশী, দেখেছি একাত্তর,
দেখেছি মায়ের রক্ত ত্রিবেদী ১৯৫২’র;
অগ্নি ঝরা দুপুরে কিংবা রাতের নিঃশব্দে,
দেখেছি দামাল মুক্তি সেনাদের যুদ্ধশত অব্দে;
অরুন তরুণ দামাল ছেলে দেখেছি তাদের যুদ্ধ,
মায়ের মান রাখতে যারা বরণ করেছে মৃত্যু ।

শত বছরের বয়সের ভারে হয়েছে দেহ অসাড়,
জ্ঞান আর ইতিহাসে হয়েছে নত শির আমার;
জ্ঞানের ডালে বসে সে ইতিহাসের পাখি,
কথা বলে আজও মুক্ত পাতার আঁখি ।

হাজার দিনে উঠেছি সকালে মোরগের ডাক শুনে,
ঘরে ফিরেছি সান্ধ্য আযানের আহবানে;
হাজার ক্রোশ হেঁটেছি আমি যেতে বহুদূরে,
দুপাশে ছিল মুক্ত বনের গাছের সারি জুড়ে;
এখন মানুষ জ্ঞান আহড়নে পুজিছে কলকব্জা,
পুজিবে গাছেরে সময় কোথায় নীতিহীন এই রাজা ।

বিংশ অব্দে জ্ঞান সমুদ্রে ভেসে ভেসে,
শত বছরের বুড়োর ঝাপসা চোখের দৃশ্যে,
দেখছি আমি ধুলো মাখা প্রিয় ধরণীকে,
সবুজ হারিয়ে নরক ধুসর রং-এ তোমাকে;
দেখছি আর ভাবছি তোমার ধৈর্যশৈলী মনটি,
গো গ্রাসে কেন গিলছো না সবের নরমুন্ডি ।

আজ এত বছর পর যখন পথে পথে ঘুরি,
দেখি না বনের সবুজ আর গাছ গাছারি,
ঝোপের আড়ালে বসে থাকা কাকাতুয়া,
হারিয়ে গেছে বনের সাথে গোধূলির সাজ নিয়া ।

এখন শুধু বসতির বন চারিদিকে,
সবুজ মিশিয়া ইটের দালান সবদিকে;
ঝাপসা চোখের ঝাপসা চাহনিতে,
দেখছি আমি ধ্বংস হচ্ছে মানুষ অহমিতে;
মোরগের ডাক শুনিনা এখন গাড়ির হর্ণ বাজে,
তোমাদের কাছে সুমধুর লাগে, আমার লাগে বাজে;
তাই আমি ভুলতে চাই তোমাদের মায়া,
ভগ্ন শরীরে অপেক্ষায় আছে আমার কায়া;
শূন্য দাঁতের হাসি দিতে করি না কার্পণ্য,
আমি বুড়ো থুড়থুড়ো, নতুনের কাছে নগণ্য ।

এখনও সময় আছে, এখনও আছে উপায়,
পোঁড়ামাটি ছেড়ে ভুলো সজীব মাটির মায়ায়;
আমি একজন এক’শ বছরের বুড়ো, অতীব বুড়ো,
বুড়ো থুড় থুড়ো ।।

folk singer of bangladesh by Syeda Oishee

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা ভালবাসা/প্রণয়লীলা সৃজনশীল প্রকাশনা

অসম্পূর্ন ভালবাসা

image

তুমিতো আমায় কোন দিন ভালইবাসনি ……
করেছ শুধু ই ছলনা ।।।।।।
আমি তোমায় ভালবেসে দিয়েছিলাম পাঁচটি লাল গোলাপ ..
সেগুলো শুধু গোলাপ ছিলনা ,,, গোলাপের প্রতিটি পাপডি্তে আমার ভালবাসার স্পর্শ জডি্য়ে ছিল ।।।।।

গুনিজনরা বলে কাওকে ভালবাসা শেখাতে যেওনা তাহলে কস্ট পাবে ।। সে তোমার কাছ থেকে শিখে অন্যকে সেই ভালবাসা দিবে ।। তোমার পাওনা তুমি কখনোই পাবা না ।। আমি বুঝিনি এ ভুল আমিও করেছি ।। ন্বীশ্বার্থ ভাবে ভালবেসেছিলাম আমি তোমায় ।। তুমি আমায় ছলনা ছারা আর কিছুই দাও নি ।।।

আজও আমি তোমার অপেক্ষায় পথ চেয়ে থাকি ।।।।।।।
হয়ত আসবেনা কোন দিন ।।।।।।
তবুও থাকি ।।।।।।।
থাকতে ভাল লাগে ।।।।।
জানি তুমি খুব ভাল আছ আমাকে ছাড্া ।।।।।।
কামনা করি আরো ভাল থাক ।।।।।।।
তাই বলে ভেবনা আমি ভাল নেই ।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।
আমিও খুব ভাল আছি ।।।।।।।।।।।।
আমি জানি আমি তোমার চেয়ে বেশি ভাল আছি ,, কারন আমি ছলনা করিনি ,,, আমি সত্যিকারের ভালবাসা দিতে জানি ,,,, আমি ভালবাসতে জানি ।।।।।

আমার দেওয়া স্মৃতি গুলো যদি তুমি ভুলে যেতে পার তাহলে তুমি মানুষ না ফেরেস্তা ।। কারন আমি তোমায় ছোট করতে পারব না তাই ফেরেস্তা বললাম ।।।।।।….

তোমার দেওয়া পাঁচটি পদ্ম ফুল আমি রেখে দিয়েছি স্ব-যতনে ।।।।।।। কাওকে ছুঁতে পর্যন্ত দেই না ।।।।।।।
কারন তুমি আমার অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ আর সেখানে প্রবেশ করার অধীকার কারোর নেই ।।।।।।।।

জানি তুমি ফিরে আসবে কোন এক দিন ।।। আমি শুধু সেই অপেক্ষায় আছি ।।। তোমাকে ফিরে আসতেই হবে ।।।।।
কিন্তু ………..,,,,,,…….,,,,,,,,
সেদিন ?????????????
সেদিন তোমায় গ্রহন করার মত কোন পথ খোলা থাকবে না ।।। আর যদিওবা থাকল তবুও আমি তোমায় গ্রহন করব না ।।।। কারন যে ভালবাসার সন্মান দিতে জানেনা তার ভালবাসা পাবার কোন অধিকার নেই ।।।।।।।।।।।
তার প্রাপ্য শুধু করুনা ।।।।।।।
আর।।।।।…..
সেটুকুও আমি তোমায় দিব না ।।।।।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা বিনোদন

কেন আমি ওকে ভুলে যাবো?

Why Should I Forget Her?
———————– Dr. Ramit Azad

 

Many people ask me, “Why can’t you forget her yet?”

I ask the counter, “Why should I forget her at all?”

I did not play-acting, I did not cheat,

I did not lie, did not deceive,

This nerve is not just nerve; it is not only bio-chemistry,

The body is not only the body, there is also heart.

I told you from that heart, “love you”,

I played flutes causing storm over the peacock forest,

Waves come waves go, but there is no erosion of shore,

Days come, days go, and love does not weaken but strengthens.

 

Do the wounds of the heart increases? Let it increase.

Let tatter the heart, like bullets do with a body,

 

Break my body into pieces,

Breaking it down into atoms,

The smallest building block

As ancient wise Kanada described,

But the soul? Can it be broken?

 

Of course not,

“The soul (aatman) cannot be cut, burnt,

suffer any decay or be dried out.”

She is the part of my soul,

Why should I forget her?

 

12th August, 2015

 

কেনআমিওকেভুলেযাবো?
———— ড. রমিত আজাদ

আমাকেঅনেকেইপ্রশ্নকরে, “এখনোওকেভুলতেপারলেনা?”
আমিপাল্টাপ্রশ্নকরি, “কেনআমিওকেভুলেযাবো?”
আমিতোঅভিনয়করিনি, নাকরেছিপ্রতারণা,
আমিতোমিথ্যেবলিনি, নাকরেছিছলনা,
এইস্নায়ুশুধুতোস্নায়ুনয়, নয়শুধুপ্রাণ-রসায়ন,
এইদেহশুধুতোদেহনয়, এখানেআরোআছেমন।
সেইমনথেকেইতোবলেছিলাম, “ভালোবাসি”,
কৃষ্ণচূড়ারবনেঝড়তুলে, বাজিয়েছিলামবাঁশী।
ঢেউআসেঢেউযায়, বেলাভূমীসরেনাবরংগড়ে,
দিনআসেদিনযায়, ভালোবাসেকমেনাবরংবাড়ে।

হৃদয়েরক্ষত, সেওকিবাড়ে? বাড়লেবাড়ুক!
সমস্তহৃদপিন্ডটাকেক্ষতবিক্ষতঝাঁঝরাকরুক!
আমারদেহটাকেওদুমরে-মুচড়েভেঙেফেলো,
ভাঙতেভাঙতেঋষীকণাদেরবর্ণিত
অণু-পরামাণুতেনিয়েযাও।
কিন্তুআত্মা? তাকেকিভাঙাযায়?

না।
এইআত্মাসেইআত্মা, যাকেকাটাযায়না, ছেঁড়াযায়না,
আগুনেদহনকরাযায়না, বায়ুদ্বারাআর্দ্রকরাযায়না।
সেইআত্মায়সত্তাহয়েমিশেআছেও,
কেনআমিওকেভুলেযাবো?

 

১২ইআগস্ট, ২০১৫রাত৩:১২

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা

এই মাঝরাতে

এই মাঝরাতে
——– রমিত আজাদ

এই মাঝরাতে,
মাঝে মাঝে জেগে উঠি আমি,
আরো জেগে ওঠে লুব্ধক
বাকহীন দেহভৃৎ বাগ্বিধি
থেমে থেমে অস্বস্তি গোঙানী
যামিনীর গা বেয়ে নেমে আসা
অসংখ্য অতৃপ্ত প্রেত,
আসন্ন দুঃসময়ের অশনী সংকেত।

এই মাঝরাতে,
নিরাশ্বাস সোম জাগে রোষে
সহস্র বছরের দহন-স্মৃতি পুষে নিয়ে বুকে,
জ্বলন্ত রোমের প্রাসাদের ছাদে বংশীর ধ্বনি
সেতো নিরোর সুর নয়, ক্রন্দন নিরুদ্ধের,
উন্মাদ কালিগুলা, আর উদ্ধত নমরুদ।

এই মাঝরাতে,
কেউ কেউ উল্লাস করে সুখে,
আর নাগ হয় নদী, প্যাচানো সরিসৃপ।
এক পায়ে উদ্ভিদ, অবিচল
মুখ বুজে সয়ে যায় সব,
অসহায় প্রজাপুঁজ সম।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা

অনন্ত পথের যাত্রী_রেহানা জাব্বারী বলছি

আমি রেহানা ইরানী বলছি,
কি! অবাক হচ্ছ? চিনতে পারছ না?
হ্যাঁ, অবাক হবারই তো কথা।
তোমরা ভেবেছ,
ওকে পৃথিবী থেকে ছুড়ে ফেলেছি,
সে তো ২৫ অক্টোবর-২০১৪ এর কথা,
ও আবার কেমন করে ফিরে আসবে?

হ্যাঁ, আমি সেই রেহানা জাব্বারি,
আমি সেই রেহানা ইরানী বলছি,
যাকে খুনের দায়ে পৃথিবী থেকে বিদায় করে
তোমরা দুধে ধোয়া তুলসী সেজেছো।

তোমরা পুরুষ, না না, ভুল বলছি
তোমরা অসীম ক্ষমতার মহাপুরুষ,
নারী দেখলেই তোমাদের থাকেনা যে হুঁশ।
আমি কেন তোমাদের উন্মত্ততায় নিজেকে বিলিয়ে দিলাম না!
এটাই তো আমার একমাত্র দোষ।

আমি রেহানা জাব্বারি বলছি,
তোমরা আমাকে যতই ছুড়ে ফেল,
আমি যুগের পর যুগ বেঁচে থাকবো,
আমি বেঁচে থাকবো ইতিহাসের খাতায়,
আমি বেঁচে থাকবো কবিদের কথায়।
দুনিয়া আমায় ১৯ বছর বাঁচতে দিয়েছে,
এতো নেহায়েত কম নয়!
নিয়তির বিধান তো মানতেই হবে,
অবলার শেষ বানী শুধু রয়ে যাবে,

প্রাণপ্রিয় মা ছোলেহ,
আমি তোমার রেহানা বলছি, এবার শোনো,

আজ জানলাম এবার আমার ‘কিসাস’-এর
সম্মুখীন হওয়ার সময় হয়েছে।
জীবনের শেষ প্রান্তে যে পৌঁছে গিয়েছি,
তা তুমি নিজের মুখে আমাকে জানতে দাওনি,
ভেবে খারাপ লাগছে।
মাগো তোমার কি একবারও মনে হয়নি যে,
এটা আমাকে আগেই জানানো প্রয়োজন ছিল?
তুমি বিমর্ষে ভেঙে পড়েছ,
এতা জেনে নিজেকে আমি খুবি লজ্জিত মনে করছি।
ফাঁসির আদেশ শোনার পর,
তোমার আর বাবার হাতে চুমু খেতে চেয়েছিলাম,
কিন্তু আমায় চুমু দিতে লিলে না, কেন মা?

দুনিয়া আমাকে ১৯টি বছর বাঁচতে দিয়েছিল,
আমার তো সেই অভিশপ্ত রাতেই মরে যাওয়া উচিত ছিল, তাই না?
আমার মৃতদেহ ছুড়ে ফেলার কথা ছিল শহরের কোনো এক অজ্ঞাত স্থানে।
কয়েকদিন পর মর্গে যা শনাক্ত করার কথা ছিল তোমার।
সঙ্গে এটাও জানতে পারতে যে,
হত্যার আগে আমাকে ধর্ষণও করা হয়েছিল।
আর হত্যাকারীরা?
ওরা তো অবশ্যই ধরা পড়ত না,
কারণ আমাদের না আছে অর্থ, না আছে ক্ষমতা।
তারপর, বাকি জীবনটা অন্তহীন শোক ও নিদারুণ লজ্জায় কাটিয়ে
কয়েক বছর পর তোমারও করুণ সমাধি রচিত হতো।
এটাই যে হওয়ার কথা ছিল, মা।
কিন্তু সে রাতের আকস্মিক আঘাত,
সব কিছু ওলটপালট করে দিল,
শহরের কোনো গলি নয়,
আমার দেহটা প্রথমে ছুড়ে ফেলা হল
এভিন জেলের নিঃসঙ্গ কুঠুরিতে,
আর সেখান থেকে নিস্তব্ধ কবরের মতো কারাগারের এক সেলে।
কিন্তু এ নিয়ে অনুযোগ কর না মা,
এটাই নিয়তির বিধান।
আর তুমি তো জানই, মৃত্যুতেই সব শেষ হয়ে যায় না।
মা, তুমিই তো শিখিয়েছ
সূক্ষ্মদর্শিতা এবং সুশিক্ষার জন্যই আমাদের জন্ম।
তুমি বলেছিলে,
প্রতিটি জন্মে আমাদের কাঁধে এক বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া থাকে।
মাঝে মাঝে লড়াই করতে হয়, সে শিক্ষা তো তোমার থেকেই পেয়েছি, মা।
সেই গল্পটা মনে পড়ছে,
চাবুকের আঘাত সহ্য করতে করতে
একবার প্রতিবাদ জানানোর ফলে আরও নিষ্ঠুরতার শিকার হয়েছিল এক ব্যক্তি।
শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়।
কিন্তু প্রতিবাদ তো সে করেছিল!
মা, আমি তোমার রেহানা বলছি,
আমি শিখেছি, সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে হলে ঐকান্তিকতার প্রয়োজন হয়।
তার জন্য যদি মৃত্যুও আসে, তাকেই মেনে নিতে হয়।
স্কুলে যাওয়ার সময় তুমি শিখিয়েছিলে,
নালিশ ও ঝগড়াঝাটির মাঝেও যেন নিজের নারীসত্তাকে বিসর্জন না দিই।
তোমার মনে আছে মা?
কত যত্ন করেই না মেয়েদের খুঁটিনাটি বিষয় শিখিয়েছিলে আমাদের?
কিন্তু তুমি ভুল জানতে মা।
এই ঘটনার সময় আমার সে সব শিক্ষা একেবারেই কাজে লাগেনি।
আদালতে আমায় এক ঠাণ্ডা মাথার খুনি হিসেবে পেশ করা হয়।
কিন্তু আমি চোখের জল ফেলিনি।
আমি জীবন ভিক্ষাও করিনি।
মা, আমি কাঁদিনি কারণ, আইনের প্রতি আমার অবিচল আস্থা ছিল।
কিন্তু বিচারে বলা হল,
খুনের অভিযোগের মুখেও নাকি আমি নিরুদ্যম!
আচ্ছা মা, আমি তো কোনো দিন একটা মশাও মারিনি।
টিকটিকিদের একটুকুও আঘাত না করে শুঁড় ধরে জানলার বাইরে ফেলে দিয়েছি।
সেই আমিই নাকি মাথা খাটিয়ে মানুষ খুন করেছি!
উল্টো ছোটবেলার ওই কথাগুলো শুনে বিচারপতি বললেন,
আমি নাকি মনে মনে পুরুষালি।
তিনি একবার চেয়েও দেখলেন না,
ঘটনার সময় আমার হাতের লম্বা নখের ওপর কী সুন্দর নেল পালিশের উজ্জ্বল দীপ্তি ছিল,
হাতের তালু ছিল কত তুলতুলে মোলায়েম।
এমন বিচারকের হাত থেকে সুবিচারের আশা অতিবড় আশাবাদীও করতে পারে কি?
তাই তো নারীত্বের পুরস্কার হিসেবে মাথা মুড়িয়ে ১১ দিনের নির্জনবাসের হুকুম দেওয়া হল। দেখেছ মা,
তোমার ছোট্ট রেহানা এই কদিনের মধ্যেই কত বড় হয়ে গিয়েছে?
এবার আমার অন্তিম ইচ্ছেটা বলি শোনো।
কেঁদো না মা, এখন শোকের সময় নয়।
ওরা আমায় ফাঁসি দেওয়ার পর আমার চোখ,
কিডনি, হৃদযন্ত্র, হাড় এবং যা কিছু দরকার,
যেন আর কারো জীবন রক্ষা করতে কাজে লাগানো হয়,
তবে যিনাকেই এসব দেওয়া হবে,
তাকে যেন কখনোই আমার নাম না জানানো হয়।
আমি চাই না এর জন্য আমার সমাধিতে কেউ,
ফুলের তোড়া রেখে আসুক।
এমনকি তুমিও নয়।
আমি চাই না আমার কবরের সামনে বসে দুঃখের বশনে কান্নায় ভেঙে পড় তুমি।
বরং আমার দুঃখের দিনগুলো সব হাওয়ায় ভাসিয়ে দিও।
এই পৃথিবী আমাদের ভালোবাসেনি, চায়নি আমি সুখী হই।
এবার মৃত্যুর আলিঙ্গনে তার পরিসমাপ্তি ঘটতে চলেছে।

আমি সেই রেহানা ইরানী বলছি,
তোমরা হযরত আ: কাদের জিলনীর নিশ্চয় শুনেছ!
সে এক বড় কাহিনী, ছোট করে বলছি।
একদিন এক লম্পট ভিক্ষুক বেশে জিলানী মাতার ইজ্জত লুটতে প্রস্তুত,
হযরত আ: কাদের জিলনী তখন মায়ের গর্ভে,
জিলনী মাতার গর্ভ থেকে বাঘের আকার ধারণ করে লম্পটকে হত্যা করলেন।
এটাই তো হওয়া উচিত, তাই নয় কি?
তাইলে আমার ইজ্জত বাঁচিয়ে আমি কেন দোষী?
বলতে পার কেন আমার পরলো গলে ফাঁসি?

তবেকি, আমাকে এমন ভাবে প্রমাণ করতে হতো?
হায়েনাটা আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে খাবলে খাবলে তাজা মাংস খেত,
নরম মাংস আর তাজা রক্ত খেয়ে উল্লাস করত,
আর এক সময় আমি নিস্তেজ হয়ে গেলে,
আমাকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে, রক্ত খেকো হায়েনাটা চলে যেতো,
আর তোমরা আমার ফরসেনিক, ডিএনএ ইত্যাদি ইত্যাদি পরীক্ষা করে বলতে,
হ্যাঁ রেহেনাকে ধর্ষণ করেই হত্যা করা হয়েছে।
এমন বিচারের কি প্রয়োজন?

হে বিচারক, না না, শুধু বিচারক নয়,
তোমরা তো মহামহিম পুরুষের জাত,
তোমাদের কাছে বিচার চাওয়া তো মিছে আর্তনাদ।
তোমাদের নিকট নারীর ইজ্জতের কি কোনই মূল্য নাই?
তবে, জেনে রেখ,
তবে সৃষ্টিকর্তার এজলাসে সুবিচার আমি পাবই।
সেখানে দাঁড়িয়ে আমি অভিযোগের আঙ্গুলতুলব
সেই সমস্তপুলিশ অফিসারের দিকে,
বিচারকদের দিকে,
আইনজীবীদের দিকে,
আর তাদের দিকে যারা আমার অধিকার বুটের নিচে পিষে দিয়েছে,
বিচারের নামে মিথ্যা এবং অজ্ঞতার কুহেলিকায় সত্যকেআড়াল করেছে,
একবারও বোঝার চেষ্টা করেনি,
চোখের সামনে যাদেখা যায় সেটাই সর্বদা সত্যি হতে পারে না।

আমার স্নেহপূর্ণ মা সোলেহ,
মনেরেখো, সেই দুনিয়ায় তুমি আর আমি থাকব অভিযোক্তার আসনে,
আর ওরা দাঁড়াবে আসামির কাঠগড়ায়।
দেখিই না, সৃষ্টিকর্তা কী চান!
তবে একটাই আর্জি,
মৃত্যুর হাত ধরে দীর্ঘ যাত্রা শুরুর প্রাক মুহূর্ত পর্যন্ত
তোমায় জড়িয়ে থাকতে চাই,
মাগো!
তোমায় যে খুব খু-উ-ব ভালোবাসি।

ইতি, তোমার রেহেনা, অনন্ত পথের যাত্রী,
ক্ষমা করো অপরাধ, হে মোর ধাত্রী।

মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম
Sahidul77@gmail.com

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা ভালবাসা/প্রণয়লীলা সৃজনশীল প্রকাশনা

অলীক সুখ

— হাসান ইমতি

আতস কাচের চোখ থেকে আকাশের নীল
ঢেকে দেওয়া বৃষ্টির ঝুম পর্দা সরিয়ে যখন
তুমি নারীসুলভ পেলব ছলনা মেখে পুরনো
অতীতকে ফিরে পাবার অনাবৃত বাসনায়
বহুদিন পর আবার তাকালে আমার পরিত্যক্ত
পৃথিবীর মত বদলে যাওয়া পুরুষ চোখে তখন
আর আগের মত দক্ষিণ মেরুর সব সাদা বরফ
গলে মহাপ্লাবন এলো না নুহের পৃথিবীতে ।

কেবল একাকী রাত কান্নার মত হেসে লুটিয়ে
পড়ল শরীরসর্বস্ব নারীর ক্লান্তিকর অস্তিত্বে উষ্ণতা
খোঁজা বোকা মানুষটির সুখ ভাবনার উদারতায়,
তবু তুমি স্বার্থের হিসেবী শকুন চোখের মোহ হটালে
না আমার তোমার জন্য মৃত পাথর চোখ থেকে,
সব ভুলিয়ে দেয়া মায়াবী কন্ঠে পুরনো সেই মধু
ঢেলে আগের মত জানতে চাইলে “কেমন আছো ?”

তখন ভালো থাকা না থাকার মাঝের কুমারী
পর্দাটা ছিনাল নারীর মত বেফাঁস দুলে উঠে
বলল, প্রিয়তম, আবার দেখা হবে সহরমনে,
ডানা ঝাপটানো মৃত্যুর মত বেশরম কষ্টগুলোকে
ডালপালা সহ ভেসে যাওয়া শারীরিক রাতের
নিজস্ব গল্প শোনাতে শোনাতে ফিরে পাওয়া
গাঙ হরিণের ক্ষুধিত জীবন থেকে আমি ফিরিয়ে
দিলাম স্মৃতির দংশন জর্জরিত কিছু অলীক সুখ ।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা

মমতাজ

    — মারুফ সরদার

একদিন ভাবো বসে আছি একা

তুমি আমি পাশাপাশি

মনের ভিতর ভালবাসা ছিল

পুরোপুরি ঠাসাঠাসি

বায়না ধরে বললে তুমি

হাড়াবে দুজনে আজ ?

ভাবি আমি বসে কোথায় হাড়াবো

নিয়ে এই মমতাজ

রাজ্যহীন শাজাহাণ আমি

তৃপ্ত করী কী ভাবে ?

জিজ্ঞাসীলাম মমতাজ তুমি

বল আজ কোথা যাবে ?

খানিকক্ষণ চুপ থেকে বলে

আমার এই মন চায়

তোমাকে নিয়ে কাটাবো সময়

কোনও এক নিরালায়

ভাবতে থাকি অস্থির হয়ে

কোথা নিয়ে তাকে যাব

এই পৃথিবীর যেখানেই যাই

মানুষের দেখা পাব

মমতাজ সম সঙ্গিনী মোর

কি করে কাঁদাবো তাকে ?

কত শাজাহান তাকে পাইতে

বসে আছে বাঁকে বাঁকে

চিন্তিত হয়ে আকাশের পানে

তাকিয়ে ছিলাম দূরে

একখণ্ড মেঘকে দেখি

যাচ্ছে আকাশে উড়ে

ইশারায় আমি মেঘকে ডেকে

বলি ও মেঘের দূত

জানো কি তুমি কোন সে ভূমি

নিশ্চুপ অদ্ভুত ?

মমতাজ মোর বায়না ধরেছে

নিরালায় কিছুক্ষণ

কাটাবে সময় নিয়ে যাব তারে

করেছি যে আমি পন

মেঘের খণ্ড ইশারায় বলে

উঠে বস মোর পৃষ্ঠে

মেঘের দেশে নিয়ে যাব আজ

দেখবে যুগল দৃষ্টে

খুশিতে হয়ে আত্মহারা

শাজাহান মমতাজে

চড়িয়া বসি নিরালায় যেতে

মেঘের পঙ্খিরাজে

অন্তহীন মেঘের দেশেতে

ভাসার কিছুটা পরে

মমতাজ তার কোমল হাতে

আমার হাতখানা ধরে

শাজাহান আমি কল্পনাতে

ভাবনার খেয়াপারে

মেঘেতে এক তাজমহল গড়ে

উপহার দেই তারে

মেঘ রঙা চুল উরছিল সেথা

মেঘমাখা হাওয়া লেগে

কাশফুল ভেবে চুলের ছোঁয়ায়

উঠলাম আমি জেগে

মমতাজ মোর বুকে মাথা রেখে

মৃদু কণ্ঠে বলে

আমার বুকের ভিতরটা কেন

কয়লার মত জ্বলে ?

বললাম কত কষ্ট দিয়েছি

পুষছিলে এতদিন-ই …

এক মুহূর্ত বুকে মাথা রেখে

করে দিলে মোরে ঋণী

এত দুঃখ দিয়েছি তবু

ভালবাস তারপরও ?

কি এক জাদু আছে তোমাতে

আমাকে পাগল কর

একি অনাবিল সুখ তুমি দিলে

নিরালায় ডাকি  আজ

মেঘের বুকেতে শাজাহান শুয়ে

তার বুকে মমতাজ ।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা বিনোদন ভালবাসা/প্রণয়লীলা

অবশেষে ফিরে এলাম

— সাকি বিল্লাহ্

 

অবশেষে ফিরে এলাম

সাত সমুদ্র আর তের নদী

আর এক বির্স্তীন মরুভূমি পার হয়ে_

কোথাও যেন কেউ নেই

অবশেষে ফিরে এলাম মনের গভীর থেকে

অদ্ভুদ এক চোখের ইশাঁরায়

হাতে একগুচ্ছ রজণীগন্ধা আর-

অবশেষে ফিরে এলাম।

 

তাকিয়ে থেকে থেকে চোখ পাথর হয়েছে আমার,

তোমারই হরিণী চোখের পানে ।

যখন হাতে নিয়ে ছিলাম

এক মুঠো মরুদ্দুর আর তখনই তুমি এলে,

যখন হাতে ছিল একরাশ ক্যামেলিয়া

তখন তুমি এলে

আর আমি _

অবশেষে ফিরে এলাম ক্লান্ত কোনো বিকেলে

হাজারো স্বপ্ন নিয়ে, পাথর চোখে,

নীল বারি স্পর্শ করে করে

আর হাতের কাঁকন রিনঝিন রিনঝিন

আওয়াজে তুমি এলে

তাই আমিও ফিরে এলাম

চৈত্রের দুপুরে কোকিলের কুহু গানে

 

অবশেষে ফিরে এলাম

শান্ত কোনো নদের পাশে

কাকতাড়ুয়ার মত দাড়িয়ে থেকে,

যখন তুমি বললে,

তখনই ফিরে এলাম

পাখি আর গানে, কবিতার তানে

তোমার কোমলতার কারনে

অবশেষে ফিরে এলাম

তোমারই কারনে।

 

আধ রাতে যখন চাঁদ ঝরে পড়ে

অথবা হাসনা হেনার সুবাস বয়

তখন তুমি নিঃস্ব হয়ে বসে

আর আমি ফিরে আসি অবশেষে।

হাতুরির শব্দে, হাপরের নিশ্বাঁসে

যখন বৈশাখের দুপুর হল

তখন অগ্নি স্ফুলিঙ্গে

আমি ফিরে এলাম।

 

তোমার অপেক্ষায় থেকে থেকে,

যখন অরণ্য সব মরুভুমি হল

পোকা মাকড়ে ভরে গেল ঘর

তখন তুমি এলে,

হাতে একটি সবুজ গোলাপ নিয়ে

কিণ্তু আমি আর ফিরে এলাম

নিস্প্রাণ সজীবতার উৎস হয়ে

ঝিরি ঝিরি বাতাসের ভেলায়

বর্ষার প্রথম দিকে, মেঘান্ন বিকেলে

অবশেষে ফিরে এলাম ।

 

ধুমকেতু হয়ে চলে ছিলাম যখন

ধোয়ার কুন্ডুলী পাকিয়ে

তখন বলেছিলাম তোমায় সাথী হতে আর তুমি_

তাই অবশেষে ফিরে এলাম

নিদারুণ এক কষ্ট আর

যন্ত্রণার ভিতর দিয়ে

অদৃশ্য কোনো অবস্থান নিয়ে

দৃশ্যপটে আঁকা তোমার সে ছবি

মিছি মিছি আমি ভাবছিলাম(হা..হা..)

 

তাই তোমার অপেক্ষায়

থেকে থেকে যখন ফিরে এলাম

তখন আমার আর কিছুই থাকল না

চোখের ভিতরে শুধু দুঃস্বপ্ন

মনের ভিতরে বাসা বেধেঁছে কেউ

চোখ নেই, দেখছি না কিছুই,

কঙ্কালসার এই দেহটাকে

নিয়ে ফিরে এলাম

অবিশ্বাস্য সব বিশ্বাস নিয়ে

ফিরে এসে তোমার হাতে

হাত রাখলাম,

তুমি ভাবলে জ্যোছনা

অথবা ভাবলে একপসলা বৃস্টি,

র্স্পশ করলে আমায় এক মুঠো রুদ্দুরে

কোকিলের কুহু গানে অথবা

ভাদ্রের ঝিরি বাতাসকে

র্স্পশ করে তুমি ভাবলে

আমি ফিরে এলাম ।

 

দিনের শুরুতে আর শেষে

সূর্যের উড়াউড়িতে

কার্তিকের ধান গুনে গুনে

বেদনার বিষাদময় পদচারনায়

তুমি ভাবলে, আমি এলাম

পৌঁষের রাতে, অথবা ছায়াবীথির তলে

জড়িয়ে ধরে আমার কঙ্কালটা

তুমি ভাবলে, আমি এলাম

ভাবলে, বিষন্ন চোখে তোমাকে দেখছি,

আর আমি-

অপলক চাহনির ফাঁকে ফাঁকে

তোমারই কারনে ভিজিয়েছি দুচোখ

তুমি জানলেও না

ঐ অজানার কারনে আজ আমি নিঃস্ব হলাম

বেদনার বিষাবনীল দেহ নিয়ে

তোমারই ফিরে আসার অপেক্ষাতে

কিণ্তু যখন তুমি এলে

দেখে গেলে আমায়

কোনো এক কবরে

দুর্বা ঘাসের নাচনীতে আর

শিশিরের ঝলমলতায়

হাতে নিয়ে কবিতার বই,

কিণ্তু আমি ফিরে এলাম রিক্ত হয়ে

কিছুই নেই আমার যেন

শুধু অস্পষ্ঠ চোখের চাহনি,

তোমায় দেখছিলাম

তুমি ভাবলে ধরবে আমায়

আমি হাত বাড়ালাম

আর তুমি?

 

তাই অবশেষে ফিরে এলাম

বিষাদময় কোনো বরবরতায়

হঠাৎ দেখি তোমায়

হাতে একটি লাল অথবা সাদা গোলাপ,

সুমিস্ট বাতাসে ভরে গেল দেহ

তবুও তুমি এলে যখন

ভাবলাম অবশেষে

ফিরে যাই, তোমায় বলি

তুমি কি আমার, হে প্রিয় ?

সাঁজ বেলায় যখন নিঁশুথিরা জাগে

তোমারই পাশে জেগে ছিলাম

তুমি  দেখনি,

তোমারই জন্য ভেবেছিলাম

তুমি ভাবনি,

তোমারই জন্য চেয়েছিলাম

তুমি চাওনি,

আর এখন_

তুমি অবশেষে এলে

ভাবলাম এবার তোমায় বলব

তুমি ভাবলে, আর আমি নেই,

শূন্যের বিশালতার গহীনে ,

তাই তোমার জন্য এ কবিতা

তোমার জন্য এ বিরহ

নাইবা র্স্পশতার মায়ায়

পেলে তুমি আমায়,

ক্ষনে ক্ষনে পেলে যখন সকল উণ্মাদনায়

তখন আমি বলব

অবশেষে ফিরে এলাম ।।

Categories
কবিতা

ছড়ি

সাধুবাদ ছিল আগে

অন্যায়ে প্রতিবাদ,

দর্শনে আজ সেটা

ভয়ানক ক্ষতিবাদ।

 

বুকে জোর, মুখে তোড়,

ঘোরে খুনি, ধর্ষক,

পুলিশেরা ফুলিশের

মত থাকে দর্শক।