Categories
অনলাইন প্রকাশনা গবেষণামূলক প্রকাশনা চিকিত্সাশাস্ত্র এবং বিজ্ঞান প্রকৌশল ও বিজ্ঞান বিজ্ঞান বিনোদন বিবর্তন

তেজস্ক্রিয় ডেটিং দিয়ে কীভাবে ফসিলের সঠিক বয়স নির্ধারণ করা যায়?

তেজস্ক্রিয় ডেটিং দিয়ে কীভাবে ফসিলের সঠিক বয়স নির্ধারণ করা যায়?  

 

 

সুনির্দিষ্টভাবে সময় নির্ধারণের জন্য প্রয়োজন একধরণের ভূতাত্ত্বিক ঘড়ির, যা আমাদেরকে বলে দিবে পৃথিবীর বিভিন্ন শিলাস্তরের কবে তৈরি হয়েছিলো আর কোন প্রাণী বা উদ্ভিদের ফসিলটির বয়সই বা কত। আর বিজ্ঞানীরা সেটাই খুঁজে পেলেন বিভিন্ন ধরণের তেজস্ক্রিয় (Radioactive) পদার্থের মধ্যে, এই ভূতাত্ত্বিক ঘড়িগুলোকে বলা হয় রেডিওমেট্রিক ঘড়ি। কারণ, তারা প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তার মাপ থেকে আমাদেরকে সময়ের হিসেব বলে দেয়। পদার্থের তেজস্ক্রিয়তার ব্যাপারটা ঠিকমত বুঝতে হলে আমাদেরকে একটু জীববিদ্যার আঙিনা পেরিয়ে পদার্থবিদ্যা ও রসায়নবিদ্যার উঠোনে পা রাখতে হবে। আধুনিক বিজ্ঞান আজকে এমনি এক অবস্থায় চলে এসেছে যে, তার এক শাখা আরেক শাখার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে, কোন এক শাখার মধ্যে গণ্ডিবদ্ধ থেকে পুরোটা বোঝা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে যাই হোক, চলুন দেখা যাক, এত যে আমরা অহরহ তেজস্ক্রিয়তা, তেজস্ক্রিয় ক্ষয় (Radioactive decay) অথবা রাসায়নিক বা নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার কথা শুনি তার মুলে আসলে কি রয়েছে। চট করে, খুব সংক্ষেপে, একবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক অণু পরমাণুর গঠন এবং তাদের মধ্যে ঘটা বিভিন্ন বিক্রিয়া এবং তেজস্ক্রিয়তার মূল বিষয়টির উপর।

 

উনবিংশ শতাব্দীর শেষ পর্যন্তও কিন্তু আমরা ভেবে এসেছি যে, কোন পদার্থের পরমাণু অবিভাজ্য, তাকে আর কোন মৌলিক অংশে ভাগ করা যায় না। একশোটির মত মৌলিক পদার্থ রয়েছে – লোহা, সোনা, অক্সিজেন, ক্লোরিন বা হাইড্রোজেনের মত মৌলিক পদার্থগুলোর পরমাণুই হচ্ছে তার সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম অংশ, একে আর ছোট অংশে ভেঙ্গে ফেলা সম্ভব নয়। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান আমাদেরকে নিয়ে গেছে জ্ঞানের এক নতুন দিগন্তে। আমরা এখন জানি যে, প্রত্যেকটি মৌলিক পদার্থের পরমাণুই ইলেকট্রন, প্রোটন এবং নিউট্রনের সমন্বয়ে তৈরি। পরমাণুর মাঝখানে কেন্দ্রে রয়েছে নিউক্লিয়াস যা প্রোটন এবং নিউট্রনের সমন্বয়ে তৈরি আর তার চারপাশের অক্ষে ঘুরছে ইলেকট্রনগুলো। নিউট্রনের কোন চার্জ নেই, সে নিরপেক্ষ, ইলেকট্রন ঋণাত্মক আর প্রোটন ধনাত্মক চার্জবিশিষ্ট। সাধারণতঃ একটি পরমাণুতে ইলেকট্রন, প্রোটনের সংখ্যা  সমান থাকে বলে তাদের ধনাত্মক এবং ঋণাত্মক চার্জ কাটাকাটি হয়ে তার মধ্যে নিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। মৌলিক পদার্থগুলোর বৈশিষ্ট্যের মধ্যে আমরা যে  আকাশ পাতাল পার্থক্য দেখি তার কারণ আর কিছুই নয়, তাদের পরমাণুর ভিতরে  ইলেকট্রন, প্রোটন এবং নিউট্রনের সংখ্যার তারতম্য। অর্থাৎ সোনার পরমাণু বা নিউক্লিয়াস কিন্তু সোনা দিয়ে তৈরি নয়, তাদের মধ্যে সোনার কোন নাম গন্ধও নেই। অক্সিজেন বা হাইড্রোজেন বলুন, সোনা বলুন, রূপা বলুন, হেলাফেলা করা তামা বা সীসাই বলুন সব মৌলিক পদার্থই এই তিনটি মুল কণা, ইলেকট্রন, প্রোটন এবং নিউট্রনের সমন্বয়েই গঠিত। লোহার সাথে সোনার পার্থক্যের কারণ এই নয় যে তার নিউক্লিয়াস সোনার মত দামী বা চকচকে কণা দিয়ে তৈরি! এর কারণ তাদের পরমাণুর ভিতরে এই মুল কণাগুলোর সংখ্যার পার্থক্য- সোনার নিউক্লিয়াসে রয়েছে ৭৯টি প্রোটন এবং ১১৮টি নিউট্রন; আর ওদিকে লোহার নিউক্লিয়াসে রয়েছে ২৬টি প্রোটন এবং ৩০টি নিউট্রন। একই ধরণের ব্যাপার দেখা যায় আমাদের ডিএনএ-এর গঠনের ক্ষেত্রেও। মানুষ, ঘোড়া, ফুলকপি বা আরশোলার জিনের উপাদানে তাদের আলাদা আলাদা কোন বিশেষ বৈশিষ্ট্য খুঁজে পাওয়া যাবে না, তারা সবাই ডিএনএ-এর সেই চারটি নিউক্লিওটাইডের (A=adenine, G= guanine, C=cytosine T=thymine) বিভিন্ন  রকমফেরে তৈরি।

চিত্র : পরমাণুর গঠন

আমাদের চারদিকে আমরা যে সব পদার্থ দেখি তার বেশীরভাগই যৌগিক পদার্থ, সাধারণভাবে বলতে গেলে বিভিন্ন মৌলিক পদার্থগুলোর মধ্যে ইলেকট্রন বিনিময়ের ফলে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমেই এই যৌগিক পদার্থগুলোর উৎপত্তি হয়। একটা ইলেকট্রন কণা শুষে নিয়ে একটা প্রোটন কণা  নিউট্রনে পরিণত হয়ে যেতে পারে, আবার ঠিক উলটোভাবে একটা নিউট্রন তার ভিতরের একটি ঋণাত্মক চার্জ বের করে দিয়ে পরিণত হতে পারে প্রোটন কণায়। কিন্তু  শুনতে যতটা সোজা সাÌটা শোনাচ্ছে  ব্যাপারটা আসলে কিন্তু ঠিক সেরকম নয়। এ ধরণের পরিবর্তন সম্ভব শুধুমাত্র নিউক্লিয়ার বা পারমাণবিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে। এর জন্য প্রয়োজন হয় বিশাল পরিমাণ শক্তির, আর তাই যে কোন পারমাণবিক বিক্রিয়া থেকে যে শক্তি নির্গত হয় তার সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়ার কোন তুলনাই করা সম্ভব নয়। সাধারণ বোমার চেয়ে নিউক্লিয়ার বোমা বহুগুণ শক্তিশালী। হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের ভয়াবহতা তাই আমাদেরকে স্তম্ভিত করে দেয়। নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার ফলে পরমাণুর নিউক্লিয়াসের গঠন বদলে যায়, কিন্তু রাসায়নিক বিক্রিয়ায় নিউক্লিয়াসের কোন পরিবর্তন ঘটে না। আর ঠিক এ কারণেই সেই আরবীয় আ্যলকেমিষ্টরা বহু শতকের চেষ্টায়ও অন্য ধাতুকে সোনায় পরিণত করতে পারেননি, কারণ এর জন্য প্রয়োজন ছিলো নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার। প্রায় হাজার বছর আগে, সে সময়ে পরমাণুর গঠন বা পারমাণবিক বিক্রিয়ার কথা জানা না থাকায় তারা রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমেই মৌলিক ধাতুর পরিবর্তনের ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিলেন যুগ যুগ ধরে ।

 

 

প্রত্যেকটি মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াসেই নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রোটন কণা থাকে, আর নিউক্লিয়াসে প্রোটনের এই সংখ্যাকে বলে পারমাণবিক সংখ্যা (atomic number) যা দিয়ে মুলতঃ মৌলিক পদার্থের বেশীরভাগ রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য নির্ধারিত হয় (পরোক্ষভাবে একে ইলেকট্রনের সংখ্যাও বলা যেতে পারে কারণ  সাধারণভাবে পরামাণুর কক্ষ পথে বিপরীত চার্জবিশিষ্ট ইলেকট্রনের সংখ্যাও সমান থাকে)।  ইলেকট্রনের তুলনায় প্রোটন এবং নিউট্রনের ভার অপেক্ষাকৃত অনেক বেশী, তাই কোন পদার্থের ভর সংখ্যা (mass number) মাপা হয় তার প্রোটন এবং নিউট্রনের সংখ্যা দিয়ে। যেমন ধরুন, সাধারণত কার্বনের নিউক্লিউয়াসে ৬টি প্রোটন এবং ৬টি নিউট্রন থাকে, তাই তার ভর সংখ্যা  হচ্ছে ১২, একে বলে কার্বন-১২। সাধারণভাবে নিউক্লিউয়াসে নিউট্রনের সংখ্যা প্রোটনের সংখ্যার সমান বা কয়েকটা বেশী থাকে।  কিন্তু আবার কখনও কখনও কোন কোন পদার্থের নিউক্লিয়াসে সমান সংখ্যক প্রোটন থাকলেও তাদের বিভিন্ন ভার্শনের মধ্যে নিউট্রনের সংখ্যায় ভিন্নতা দেখা যায়। যেমন, কার্বন-১৩ এ রয়েছে ৭টি নিউট্রন আর কার্বন-১৪এ থাকে ৮টি নিউট্রন, যদিও তাদের প্রত্যেকেরই প্রোটনের সংখ্যা সেই ৬টিই। আর মৌলিক পদার্থগুলোর মধ্যে যখন প্রোটনের সংখ্যা সমান থাকে কিন্তু নিউট্রনের সংখ্যায় তারতম্য দেখা যায় তখন তাদেরকে বলা হয় আইসোটোপ (Isotope)।  তেজস্ক্রিয় ক্ষয় এবং তেজস্ক্রিয় ডেটিং বুঝতে হলে এই আইসোটোপের ব্যাপারটা ভালো করে বোঝা দরকার। এই আইসোটোপগুলোরই কোন কোনটা প্রকৃতিতে অস্থিত অবস্থায় থাকে এবং তারা ধীরে ধীরে ক্ষয়ের মাধ্যমে  নিজেদের নিউক্লিয়াসের গঠনের পরিবর্তনের মাধ্যমে আরেক মৌলিক পদার্থে রূপান্তরিত হয়। আইসোটোপের এই অস্থিরতারই আরেক নাম হচ্ছে ‘রেডিওআ্যকটিভিটি’ বা ’তেজস্ক্রিয়তা’। আর যে পদ্ধতিতে ক্ষয় হতে হতে তারা আরেক পদার্থে পরিণত হয় তাকেই বলে ‘তেজস্ক্রিয় ক্ষয়’।  যেমন ধরুন, সীসার ৪টি সুস্থিত,  কিন্তু ২৫টি অস্থিত আইসোটোপ আছে, আর এই ২৫টি অস্থিত আইসোটোপই হচ্ছে তেজস্ক্রিয় পদার্থ। আবার ইউরেনিয়ামের সবগুলো আইসোটোপই অস্থিত এবং তেজস্ক্রিয়। আর আমাদের এই পরম ডেটিং পদ্ধতির মুল চাবিকাঠিই হচ্ছে পদার্থের এই তেজস্ক্রিয় বৈশিষ্ট্য এবং তার ফলশ্রুতিতে ঘটা তেজস্ক্রিয় ক্ষয়।

 

 

এই তেজস্ক্রিয় ক্ষয় ঘটতে পারে বিভিন্নভাবে। আলফা এবং বেটা ক্ষয়ের কথা অনেক শুনি আমরা।   আলফা ক্ষয়ের সময় আইসোটোপটি একটা আলফা কণা (দু’টো প্রোটন এবং দু’টো নিউট্রনের সমন্বয়ে তৈরি এই আলফা কণা) হারায় তার নিউক্লিয়াস থেকে। অর্থাৎ তার ভরসংখ্যা ৪ একক কমে গেলেও  পারমাণবিক সংখ্যা বা প্রোটনের সংখ্যা কমছে মাত্র ২ একক। কিন্তু এর ফলাফল কি দাঁড়াচ্ছে? আর কিছুই নয়, নিউক্লিয়াসের গঠনের পরিবর্তন হয়ে আইসোটোপটি এক মৌলিক পদার্থ থেকে আরেক মৌলিক পদার্থে পরিণত হয়ে যাচ্ছে।

 

একটা উদাহরণ দিলে বোধ হয় ব্যাপারটা আরেকটু খোলাসা হবে – আলফা ক্ষয়ের ফলে ইউরেনিয়াম ২৩৮ (৯২ টি প্রোটন এবং ১৪৬ নিউট্রনের সমন্বয়ে তৈরি এই মৌলিক পদার্থটি) পরিণত হচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন এক মৌলিক পদার্থ থোরিয়াম ২৩৪-এ (৯০ টি প্রোটন এবং ১৪৪ নিউট্রনের সমন্বয়ে তৈরি)। ওদিকে আবার বেটা ক্ষয়ের ক্ষেত্রে কিন্তু ঘটে আরেক ঘটনা। আইসোটোপের পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন বের করে দিয়ে নিউক্লিয়াসের ভিতরের একটি নিউট্রন প্রোটনে পরিণত হয়ে যায়। আরও বিভিন্ন ধরণের প্রক্রিয়ায় তেজস্ক্রিয় ক্ষয় ঘটতে পারে। তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের মুলে রয়েছে বিভিন্ন আইসোটোপের ভিতরের নিউক্লিয়াসের গঠনের পরিবর্তন বা পারমাণবিক পরিবর্তন এবং তার ফলশ্রুতিতেই এক মৌলিক পদার্থ থেকে আরেক নতুন মৌলিক পদার্থে রূপান্তরিত হয় – এই ব্যাপারটা বোধ হয় এতক্ষণে আমাদের কাছে বেশ পরিষ্কার হয়ে উঠেছে। আর যেহেতু ভূত্বকের বিভিন্ন শিলাস্তরে বিভিন্ন ধরনের আইসোটোপ পাওয়া যায় তাই এই তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের বৈশিষ্ট্যকে কাজে লাগিয়ে শিলা বা ফসিলের বয়স নির্ধারণ করা হয়। চলুন তাহলে দেখা যাক কিভাবে এই তেজস্ক্রিয় আইসোটোপগুলোকে ভূতাত্ত্বিক ঘড়ি হিসেবে ব্যবহার করে পৃথিবী এবং তার প্রাণের বিবর্তনের ধারাবাহিক ইতিহাসের চিত্রটিকে বিজ্ঞানীরা কালি কলমে পরিষ্কারভাবে ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন।

 

বিভিন্ন শিলার মধ্যে বিভিন্ন ধরণের খনিজ পদার্থ বিদ্যমান থাকে, আর এই খনিজ পদার্থের মধ্যেই থাকে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপগুলো। আধুনিক তেজস্ক্রিয় ডেটিং পদ্ধতিগুলোর মধ্যে ইউরেনিয়াম-সিরিজ ডেটিং বহুলভাবে ব্যবহৃত। তেজস্ক্রিয় ইউরেনিয়াম-২৩৮ ক্ষয় হতে হতে সীসা-২০৬ এ পরিণত হয় সুদীর্ঘ সাড়ে চারশো কোটি বছরে। এক এক করে, পূর্বনির্ধারিত একটি নির্দিষ্ট হারে এই তেজস্ক্রিয় আইসোটোপগুলো নতুন এক স্থিত এবং অতেজস্ক্রিয় পদার্থে পরিণত হয়ে যেতে থাকে। দীর্ঘ সময়ের বিস্তৃতিতে ঘটতে থাকলেও এই ক্ষয় কিন্তু ঘটে একটি সুনির্দিষ্ট হারে, আর সেখানেই লুকিয়ে রয়েছে আমাদের রেডিওমেট্রিক বা তেজস্ক্রিয় ডেটিং পদ্ধতির জীয়নকাঠি। অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য এই ক্ষয়ের হার মাপার জন্য আইসোটোপের হাফ-লাইফ বা অর্ধ-জীবন -এর হিসাবটি ব্যবহার করা হয়।  বিজ্ঞানীরা প্রথমে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে, কোন এক আইসোটোপের নমুনার পরমাণুর অর্ধেকাংশের ক্ষয় হয়ে যেতে কত সময় লাগবে তার হিসেবটা বের করে ফেলেন। আইসোটোপের অর্ধ-জীবনের ব্যাপারটা একটা উদাহরণের মধ্যমে ব্যাখ্যা করে দেখা যাক: ধরুন, কোন একটি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ’ক’ -এর অর্ধ-জীবন এক লাখ বছর, সে ধীরে ধীরে তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের মাধ্যমে মৌলিক পদার্থ ‘ক‘ থেকে ‘খ’ এ পরিণত হয় এবং এক লাখ বছরের শুরুতে পরমাণুর সংখ্যা ছিলো ১০০০। এখন প্রথম এক লাখ বছর বা এক অর্ধ-জীবন পার করে দেওয়ার পর আমরা আইসোটোপটিকে কি অবস্থায় দেখতে পাবো? আইসোটোপ ‘ক’ -এর ১০০০ পরমাণুর অর্ধেক ৫০০ পরমাণু এখনও সেই আগের অবস্থা ‘ক’ তেই রয়ে গেছে আর বাকী অর্ধেক বা ৫০০ পরমাণু ’খ’তে পরিণত হয়ে গেছে।  তাহলে কি ২ লাখ বছর ’ক’ -এর সবটাই ‘খ’ তে পরিণত হয়ে যাবে? না, অর্ধ-জীবনের হিসেবের কায়দাটা বেশ সোজা হলেও ঠিক এরকম সরলরৈখিক নয়। দুই লাখ বছর পরে দেখা যাবে যে, ‘ক’ -এর অবশিষ্ট ৫০০ পরমাণুর অর্ধেক অর্থাৎ আরও ২৫০টি ‘খ’ তে পরিণত হয়ে ’খ’ -এর পরমাণুর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫০ এ, আর তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের ফলশ্রুতিতে ‘ক’ তে এখন অবশিষ্ট রয়েছে ২৫০টি পরমাণু। তারপর তিন লাখ বছর পর ‘খ’ -এর পরমাণুর সংখ্যা এসে দাঁড়াবে ৮৭৫ এ। এখন ধরুন, তিন লাখ বছর পর আজকে এখানে দাঁড়িয়ে একজন বিজ্ঞানী খুব সহজেই বের করে ফেলতে পারবেন এই আইসোপটিসহ শিলাটির বয়স কত। আর তার জন্য তাকে জানতে হবে দু’টো তথ্য: আইসোটোপ ’ক’ -এর অর্ধ-জীবন কত (বিজ্ঞানীরা ইতোমধ্যেই তার বিস্তারিত তালিকা তৈরি করে রেখেছেন), আর  ওই শিলায় ‘ক’ এবং ‘খ’ -এর পরিমাণের আনুপাতিক হার কত।

 

 

ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরি ইত্যাদির ফলশ্রুতিতে ভূপৃষ্ঠে লাভা নির্গত হয়। লাভা যে মুহূর্তে ঠাণ্ডা এবং শক্ত হয়ে কেলাসিত হতে শুরু করে,  তখন থেকেই ঘুরতে শুরু করে এই তেজস্ক্রিয় ঘড়ির কাঁটা। তখন থেকেই ক্রমাগতভাবে নির্দিষ্ট হারে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ এবং ক্ষয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এই তেজস্ক্রিয় মৌলিক পদার্থগুলো রূপান্তরিত হতে শুরু করে আরও সুস্থিত অন্য কোন মৌলিক পদার্থে। কিন্তু এই প্রক্রিয়া যখন চলতে থাকে তখন আংশিকভাবে রূপান্তরিত পদার্থটির অংশটিও শিলাস্তরে ভিতরেই রয়ে যায়। তাই এদের দু’টোর পরিমাণের আনুপাতিক হার নির্ধারণ করা কোন কঠিন কাজ নয়। যেমন ধরুন, পটাসিয়াম-৪০ যখন সুস্থিত আর্গন-৪০ এ পরিণত হতে থাকে, তখন আর্গন-৪০ লাভার কেলাসের মধ্যে গ্যাসের আকারে আটকে থাকে। বিভিন্ন শিলার মধ্যে বহুল পরিমাণে পটাসিয়াম-আর্গন পাওয়া যায় বলে বিজ্ঞানীরা বহুলভাবে পটাসিয়াম-আর্গন ডেটিং পদ্ধতি ব্যবহার করেন। ইউরেনিয়াম সিরিজের ডেটিং -এর কথা আগেই উল্লেখ করেছিলাম। ইউরেনিয়াম ২৩৮ -এর অর্ধ-জীবন সাড়ে চারশো কোটি বছর, পটাসিয়াম ৪০ -এর হচ্ছে  ১৩০ কোটি বছর, ইউরেনিয়াম ২৩৫ -এর ৭৫ কোটি বছর, ওদিকে আবার কার্বন ১৫ -এর অর্ধ-জীবন হচ্ছে মাত্র ২.৪ সেকেন্ড। এত বিশাল সময়ের পরিসরে বিস্তৃত অর্ধ- জীবন সম্পন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থগুলো রয়েছে বলেই বিজ্ঞানীরা আজকে একটি দু’টি নয়, বহু রকমের তেজস্ক্রিয় ডেটিং বা অন্যান্য ডেটিং -এর সাহায্য নিতে পারেন কোন ফসিলের বয়স নির্ধারণের জন্য। ফসিলের আপেক্ষিক বয়স সম্পর্কে একটা ধারণা করতে পারলে সেই অনুযায়ী প্রযোজ্য ডেটিং পদ্ধতিটা ব্যবহার করেন তারা।  বিভিন্ন পদ্ধতিতে ক্রস-নিরীক্ষণ করে তবেই তারা নিশ্চিত হন ফলাফল সম্পর্কে। আর তার ফলেই সম্ভব হয়ে ওঠে এত সুনির্দিষ্টভাবে এত প্রাচীন সব ফসিলের বয়স নির্ধারণ করা।  চলুন দেখা যাক বিভিন্ন ধরণের ডেটিং পদ্ধতি ব্যবহার করে কি করে ফসিলের বয়স বের করা হয়।

 

 

অনেক শিলাস্তরে বিশেষ করে আগ্নেয় শিলাস্তরে প্রচুর পরিমাণে ইউরেনিয়াম, পটাসিয়াম জাতীয় তেজস্ক্রিয় পদার্থ পাওয়া যায়। আবার পাললিক শিলার মধ্যে তেমন কোন তেজস্ক্রিয় পদার্থের অস্তিত্বই থাকে না। কিন্তু আমরা জানি যে, আগ্নেয় শিলায় ফসিল সংরক্ষিত হয় না, ফসিল পাওয়া যায় শুধু পাললিক শিলাস্তরে। তাহলে পাললিক শিলাস্তরের এই ফসিলগুলোর বয়স কিভাবে নির্ধারণ করা হয়? এক্ষেত্রে আপেক্ষিক এবং পরম দু’টো পদ্ধতিই ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রথমে পাললিক শিলা স্তরের উপরে এবং নীচে যে আগ্নেয় শিলাস্তর দু’টো তাকে স্যান্ডুইচের মত আটকে রেখেছে, তাদের বয়স নির্ধারণ করা হয়। এখান থেকে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন যে মধ্যবর্তী পাললিক শিলাস্তরে সংরক্ষিত ফসিলের বয়স এই দুই আগ্নেয় শিলাস্তরের বয়সের মাঝামাঝিই হবে। এখন যদি দেখা যায় যে, ফসিলটির নিজের মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণে তেজস্ক্রিয় পদার্থ আটকে গেছে তাহলে তেজস্ক্রিয় ডেটিং -এর মাধ্যমে ফসিলটির বয়স সরাসরিই নির্ধারণ করা যেতে পারে। সরাসরি ফসিলের বয়স হিসেব করার জন্য তেজস্ক্রিয় ডেটিং পদ্ধতিগুলোর মধ্যে রেডিও-কার্বন ডেটিং হচ্ছে অত্যন্ত বহুলভাবে ব্যবহৃত আরেকটি পদ্ধতি। এই পদ্ধতি দিয়ে শিলাস্তরের বয়স নয়, ফসিলের মধ্যে মৃত টিস্যুরই বয়স সরাসরি নির্ধারণ করে ফেলা যায়। কয়েক হাজার বছরের অর্থাৎ ভূতাত্ত্বিক সময়ের বিচারে অপেক্ষাকৃত সাম্প্রতিক কালের ইতিহাস জানার জন্য এই পদ্ধতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে মানুষ এবং তার পূর্বপুরুষদের ফসিলের বয়স নির্ধারণে ব্যাপকভাবে রেডিও কার্বন ডেটিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

 

 

সাধারণত আমরা প্রকৃতিতে যে কার্বনের কথা শুনি তার প্রায় সবটাই সুস্থিত আইসোটোপ কার্বন ১২। তবে খুবই সামান্য পরিমাণে হলেও অস্থিত কার্বন-১৪ -এর অস্তিত্বও দেখতে পাওয়া যায় প্রকৃতিতে। কসমিক রেডিয়েশন বা বিচ্ছুরণের ফলে বায়ুমণ্ডলে অনবরতই একটি নির্দিষ্ট হারে সুস্থিত নাইট্রোজেন ১৪ থেকে এই কার্বন-১৪ তৈরি হতে থাকে। এই কার্বন-১৪ -এর অর্ধ-জীবন  হচ্ছে ৫,৭৩০ বছর, অর্থাৎ প্রতি ৫৭৩০ বছরে কার্বন-১৪ -এর অর্ধেকাংশ তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের মাধ্যমে নাইট্রোজেন-১৪ এ রূপান্তরিত হয়। কার্বন-১৪ -এর অর্ধ-জীবন এত ছোট যে, খুবই অল্প পরিমাণে হলেও ক্রমাগতভাবে নাইট্রোজেন ১৪ থেকে কার্বন ১৪ তৈরি হতে না থাকলে প্রকৃতিতে এর অস্তিত্ব বেশীদিন টিকে থাকতে পারতো না। যাই হোক, এর উৎপত্তি এবং ক্ষয়ের হার ধ্রুব হওয়ার কারণে প্রকৃতিতে কার্বন-১২ আর কার্বন-১৪ -এর আনুপাতিক হার সব সময় সমান থাকে। এই দুই রকমের কার্বন আইসোটোপই বায়ুমণ্ডলে রাসায়নিক-ভাবে অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে কার্বন ডাই অক্সাইডে পরিণত হয়ে যায়। উদ্ভিদ তার খাদ্য তৈরির জন্য এই কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে, আর ওদিকে প্রাণীকুল গ্রহণ করে উদ্ভিদকে তার খাদ্য হিসেবে, আবার তারাই হয়তো পরিণত হয় অন্য কোন প্রাণীর খাদ্যে। উদ্ভিদ যেহেতু কার্বন-১২ আর কার্বন-১৪ দিয়ে তৈরি উভয় কার্বন ডাই অক্সাইডই গ্রহণ করে তাই সমগ্র ফুড চেইন বা খাদ্য শৃঙ্খল জুড়েই এই দুই কার্বন আনুপাতিক হারে সমানভাবেই বিরাজ করে। বায়ুমন্ডল থেকে উদ্ভিদে, উদ্ভিদ থেকে প্রাণীর দেহে সঞ্চারিত হয় এই কার্বন ১২ এবং কার্বন ১৪। কিন্তু এই চক্রের সব কিছুই বদলে যায় যেই মাত্র প্রাণী বা উদ্ভিদের মৃত্যু ঘটে, সে আর নতুন কোন কার্বন ১৪ গ্রহণ করতে পারে না, তখন তার দেহে বিদ্যমান কার্বন-১৪ একটি নির্দিষ্ট হারে নাইট্রোজেন ১৪ এ রূপান্তরিত হতে থাকে। সুতরাং একটা মৃত জীবের দেহে কার্বন-১২ -এর তুলনায় কার্বন ১৪ -এর পরিমাণ আনুপাতিক হারে কমে যেতে শুরু করে। আর সে কারণেই ফসিলের দেহে বিদ্যমান কার্বন-১২ এবং কার্বন-১৪ -এর এই আনুপাতিক হার হিসেব করে সহজেই তার বয়স নির্ধারণ করে ফেলা যায়। তবে রেডিও কার্বন ডেটিং পদ্ধতি দিয়ে শুধুমাত্র অপেক্ষাকৃত সাম্প্রতিক  কালের ফসিলের বয়স নির্ধারণ করা সম্ভব, ৩০ হাজার থেকে খুব বেশী হলে ৫০ হাজার বছরের পুরনো ফসিলের বয়স বের করা সম্ভব এই পদ্ধতিতে। আমরা আগেই দেখেছি, কার্বন-১৪ -এর অর্ধ-জীবন ভূতাত্ত্বিক সময়ের অনুপাতে খুবই ক্ষুদ্র, মাত্র ৫৭৩০ বছর ৬। তাই, ৩০-৫০ হাজার বছরের চেয়েও পুরনো ফসিলে যে অতি সামান্য পরিমাণে কার্বন ১৪ বিদ্যমান থাকে তা দিয়ে আর যাই হোক সঠিকভাবে তার বয়স নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তবে কয়েক হাজার বছরের ফসিলের ডেটিং -এর জন্য এই পদ্ধতির জুড়ি মেলা ভার।

 

তাহলে দেখা যাছে যে, তেজস্ক্রিয় পদার্থগুলোর এই সুনির্দিষ্ট অর্ধ-জীবনের ব্যাপারটি আমাদের সামনে শিলাস্তরের এবং ফসিলের বয়স বের করার এই অনবদ্য সুযোগের দরজাটি খুলে দিয়েছে। বহু আগে থেকেই ধারণা করে আসলেও ১৯২০ সালের দিকেই প্রথম তেজস্ক্রিয় ডেটিং পদ্ধতি ব্যবহার করে দেখানো হয়েছিলো যে, পৃথিবীর বয়স কয়েকশো কোটি বছর। তারপর থেকে বিজ্ঞানীরা নানাভাবেই নানা রকমের তেজস্ক্রিয় পদ্ধতিতে ভূতাত্ত্বিক বয়স নির্ধারণের উপায় বের করেছেন। আর শুধু তেজস্ক্রিয় ডেটিং ই তো নয়, এর সাথে সাথে আরও বিভিন্ন ধরণের আধুনিক পদ্ধতিও আবিষ্কার করা হয়েছে পৃথিবীর এই মহাযাত্রার সময়কাল নির্ধারণের জন্য। যেমন ধরুন, বিজ্ঞানীরা এখন জানেন যে, পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র প্রায়শই তার দিক পরিবর্তন করে। ‘প্রায়শ’ বলতে আমাদের সাধারণ হিসেবে নয়, ভূতাত্ত্বিক বিশাল সময়ের তুলনায় ‘প্রায়শই’ বোঝানো হচ্ছে এখানে। গত এক কোটি বছরে পৃথিবী নাকি মোট ২৮২ বার উত্তর থেকে দক্ষিণে এবং দক্ষিণ থেকে উত্তরে তার চৌম্বক ক্ষেত্রের দিক পরিবর্তন করেছে। আর তার সাথে সাথে আমাদের পৃথিবীর অভ্যন্তরের আগ্নেয়গিরির গলিত শিলার ভিতরের খনিজ পদার্থগুলোও কম্পাসের মতই দিক পরিবর্তন করে এবং তার একটা সুনির্দিষ্ট রেকর্ড রেখে দেয়। তারপর যখন এই লাভাগুলো শক্ত হয়ে শিলাস্তরে পরিণত হয় তখন এই রেকর্ডগুলো অবিকৃত অবস্থায় ওইভাবেই থেকে যায়। এ থেকেও ভূতত্ত্ববিদেরা অনেক শিলাস্তরেরই আপেক্ষিক বয়স নির্ধারণ করতে পারেন। এছাড়া আরও মজার মজার ধরণের কিছু ডেটিং পদ্ধতি রয়েছে, যেমন ধরুন, বড় বড় গাছের কাণ্ডে যে রিং বা বৃত্ত তৈরি হয় তার মাধ্যমেও উদ্ভিদের ফসিলের বা কাঠের বয়স বের করে ফেলা সম্ভব। বাৎসরিক বৃদ্ধির ফলে গাছের গোঁড়ায় যে স্তর বা বৃক্ষ-বৃত্তের সৃষ্টি হয় তা এক ধরণের প্রাকৃতিক নিয়ম মেনেই ঘটে, আর  এর থেকেই বিজ্ঞানীরা হিসেব করে বের করতে পারেন তার বয়স। এরকম আরও বহু ধরণের ডেটিং পদ্ধতি রয়েছে, নীচের ছবিটিতে (চিত্র ৭.৫) এরকম বিভিন্ন ধরণের ডেটিং পদ্ধতি এবং তাদের দিয়ে কোন কোন সময়ের সীমা নির্ধারণ করা যায় তার একটা সংক্ষিপ্ত তালিকা দেওয়া হল। এখন আর আমাদের একটি বা দু’টি ডেটিং পদ্ধতির উপর নির্ভর করে শিলাস্তর বা ফসিলের বয়স নির্ধারণ করার প্রয়োজন হয় না।

চিত্র: পরমাণুর গঠন বিভিন্ন রেঞ্জের সময়ের জন্য বিভিন্ন ধরণের ডেটিং পদ্ধতি

 

আমাদের হাতে আছে বহু রকমের পদ্ধতি যা দিয়ে কোন একটা ফলাফলকে বারবার বিভিন্নভাবে ক্রস চেক বা নিরীক্ষণ করে নিতে পারি। পদ্ধতিগুলো শুধু যে বৈজ্ঞানিক তাইই নয়, প্রয়োজন এবং গুরুত্ব অনুযায়ী বিজ্ঞানীরা এত রকমের পদ্ধতি ব্যবহার করেন যে, এর ফলাফলের সঠিকত্ব নিয়ে আর দ্বিমত বা সন্দেহ প্রকাশ করার তেমন অবকাশ থাকে না। খ্রিষ্টীয় ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন রক্ষণশীল দলগুলো এখনও যখন বাইবেলের সেই ছয় হাজার বছরের পৃথিবীর সৃষ্টির ইতিহাস নিয়ে হইচই করেন এবং এই ডেটিং পদ্ধতিগুলোকে ভুল বলে চালিয়ে দেওয়ার প্রচারণায় লিপ্ত হন তখন তাদের অজ্ঞতা দেখে স্তম্ভিত হয়ে যাওয়া ছাড়া আর কি বা করার থাকে? উট পাখীর মত বালিতে মাথা গুঁজে পড়ে থাকলেই তো আর বাস্তবতাকে অস্বীকার করা যাবে না। সত্যকে মেনে নিয়ে জ্ঞানের সীমাকে প্রসারিত করাই হচ্ছে মানব সভ্যতার রীতি, এভাবেই আমরা এগিয়েছি।

 

 

# উত্তরটি বন্যা আহমেদ, বিবর্তনের পথ ধরে (পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত ২০০৮) হতে সংগৃহীত


# Dawkins, R, 2004, The Ancestor’s tale, Houghton Miffin Company, NY, Boston: USA, pp 516-523.

# TM Berra, 1990, Evolution and the Myth of Creationism, Stanford,University Press, Stanford, California, pp 36-37.

# C Stringer and Andrews P, The Complete Wrold of Human Evolution,  Thames and Hudson Ltd, London, p 32, 2005,

Categories
অনলাইন প্রকাশনা গল্প জীবনী ও স্মৃতিকথা বিনোদন ভালবাসা/প্রণয়লীলা সৃজনশীল প্রকাশনা

স্বপ্নময়ী শীত

— এম,এইচ, জনি

 

শীত মানেই বাঙ্গালী সংস্কৃতিতে আমূল পরিবর্তন, শীতকালে বাংলার গ্রামে শুরু হয় নানান স্বাদের পিঠা তৈরীর তুমুল প্রতিযোগিতা। নতুন নতুন শাক-সবজিতে ভরে উঠে আমাদের ফসলের মাঠ। গাছের ডালে ডালে আমাদের দেশিও পাখি ও অতিথি পাখির কলরবে, মুখরিত হয় আমাদের গ্রামীন জনপথ। পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ ও ঝাকে ঝাকে উন্মুক্ত পাখিদের আকাশের উড়ার দৃশ্য দেখে, তরুন তরুনীর মনেও লাগে রোমাঞ্চের ঢেউ। স্বপ্নময়ী বাসরের দৃশ্য ভেসে উঠে, বাঙ্গালী তরুন তরুনীর আবেগ ভরা হৃদয়ে। তেমনি শীতের এক বিকেলে প্রেমের একটি বিয়েতে যোগ দিলাম আমি। আমি ছিলাম মেয়ে পক্ষের, তাই আমার দায়িত্ব ও কাজ ছিল বেশি। সব কাজ মোটামুটি গুছিয়ে বর যাত্রী আসার অপেক্ষায় ছিলাম। কিছুক্ষন পরেই বর-যাত্রীর গাড়ী এসে উপস্থিত গেটের সামনে। শুরু হলো আমাদের বাধ ভাঙ্গা আনন্দ, বর-যাত্রীদরে বরন করতে গেটের মূল দায়িত্ব দেয়া হলো আমাকে। সাথে কিছু ছেলে মেয়ে নিয়ে বরযাত্রীদরে বরন করতে গেলাম। বর পক্ষের অনেকগুলো তরুন তরুনী আমাদের সাথে কথা কাটাকাটি শুরু করল, সাধারণত বিয়েতে যা হয়। এক পর্যায়ে তুমুল ঝগড়া ও কথা কাটাকাটি শুরু হয়ে গেল। কেউ কারো কথা বুঝতে পারছিলাম না, তাই বর যাত্রীদরে বললাম তাদের পক্ষ থেকে একজন দলনেতা নির্বাচন করার জন্য। তাই তাদের পক্ষথেকে এক ললনাকে নির্বাচন করা হলো, আর কনে পক্ষ থেকে আমি। শুরু হলো দুজনার মধ্যে মধুর যুক্তি-তর্ক। বিষয় ভিত্তিক তর্ক ছেড়ে আমরা চলে গেলাম গল্প কবিতা ও উপন্যাসের দিকে। তর্ক করতে করতে রেগে গিয়ে আমাকে বলল, জানেন আপনি কার সাথে কথা বলছেন। আমি তাকে রাগানোর জন্য বললাম, আপনি রবিন্দ্রনাথের লাবণ্য-ও না, জীবনানন্দের বনলতা সনে-ও না, লিওনার্দো দ্যা ভঞ্চিরি আঁকা ভূবন ভূলানো হাঁসিমাখা মোনালসিা-ও না। এগুলো বলার পর সে কি উত্তর দিবে, কোন ভাষা খুঁজে পাচ্ছিল না। তাই পরিবেশটা স্বাভাবিক করার জন্য, সে আমার জীবন বৃত্তান্ত জানতে চাইল এবং প্রথমেই আমার নাম জিজ্ঞাসা করল। আমি মজা করে বললাম আমার নাম রোমাঞ্চ, তারপর জানতে চাইল আমি কি করি বললাম পড়াশোনা, জিজ্ঞাসা করল কোন ইউনিভার্সিটি, বললাম প্রেম নগর ইউনিভার্সিটি। জানতে চাইল কোন সাবজেক্ট উত্তর দিলাম ভালোবাসা। এগুলো শুনে আমার প্রতি ভীষন ক্ষঁেপে গেল সে। যা-ই হোক অনেক যুক্তিতর্কের পর আমরা স্বাদরে বরন করে নিলাম বরযাত্রীদরে। বিশেষ করে ঐ ললনাকে, কেননা তর্কে হেরে গিয়ে আমার প্রতি তার রাগটা একটু বেশিই মনে হলো। শত হলেও-তো তিনি সম্মানী ব্যক্তি, কারণ তিনি যে বরযাত্রী। তাই তাকে একটু বেশি করে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে বরণ করলাম। তারপর তাদেরকে প্যান্ডেলে বসানো হলো খাবার দেয়ার জন্য। মেয়েটি বসেছিল বরের সঙ্গে, আমারও দায়িত্ব পড়ল বরের ষ্টেজে খাবার পরিবেশনের। খাবারের একপর্যায়ে মেয়েটি আমাকে, এক টুকরো মাংস দিলো খাওয়ার জন্য। আমি মজা করে তাকে আরো রাগানোর জন্য বললাম, আমার নিকট-আতœীয় ছাড়া অন্য কোন মেয়ের হাতে কিছুই খাই না। আবারো সে আমার প্রতি ভীষন রেগে গেল। যাইহোক সব আনুষ্ঠানিকতা সেরে বর যাত্রীদরে বিদায়ের পালা। আমি তার মনটা ভালো করার জন্য বললাম, ম্যাডাম ভালো থাকবেন, আপনার সাথে একটু মজা করলাম। আর বিয়ের অনুষ্ঠানে এ রকম কিছু না হলে বিয়েটা আনন্দের হয় না । উত্তরে সে বলল আপনি স্বাভাবিক মানব নন। আমি বললাম আপনার কথাই ঠিক, কারণ আমি স্বাভাবিক মানব নই, আমি হলাম মহা মানব। আবারো সে রেগে বলল আমি আপনাকে দেখে নেব, এ বলেই চলে গেল বরপক্ষ। আমরাও সব কাজ শেষ করে। সারা দিনের ক্লান্তি নিয়ে ঘুমাতে গেলাম, মুহুর্তেই হারিয়ে গেলাম ঘুমের রাজ্যে। অবিশ্বাস্য! আমার ঘুমের মাঝে স্বপ্নে দেখতে পেলাম সেই মেয়েটিকে। যার সাথে অনেক রোমান্টিক ঝগড়া হয়েছিল। স্বপ্নের এক পর্যায়ে সে আমাকে অনুষ্ঠানের তর্ক-বিতর্কের জন্য সরি বলতে অনুরোধ করল। আমিও তার মন ভালো করার জন্য স্বপ্নের মাঝে সরি বললাম। মূহুতেই সে রাজ্যের সকল সৌর্ন্দয নিয়ে, একটি ভূবন ভুলানো হাঁসি দিল এবং আমার কাছে সে জানতে চাইল এই মূহুর্তে তার কাছে আমি কি চাই। আমি বললাম একটি গান শুনতে চাই। যে কথা সেই কাজ, তার সুরেলা কন্ঠে সে গাইতে লাগলো, “আমি খোলা জানালা, তুমি ঐ দখিনা বাতাস, আমি নিঝুম রাত, তুমিত জাগরি আকাশ…।”  কিন্তু দূভাগ্য গানটি শেষ হতে না হতেই, আমার সেল ফোনটি বেজে উঠলো, আর ভেঙ্গেগেল আমার রোমান্টিক স্বপ্নটি। তাই এখন শীত এলেই মনে পড়ে সেই দিনের বিয়ে ও রোমাঞ্চকর স্বপ্নের কথা।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা গল্প বিনোদন ভালবাসা/প্রণয়লীলা সৃজনশীল প্রকাশনা

নারীর আট কলা হেকমত

নারীর আট কলা হেকমত

—pantha_nazrul

কয়েকদিন পূর্বে এক সন্ধ্যায় জরুরী কথা আছে বলে আমার আবাল্য বন্ধু রনি আমাকে ডেকে নিয়ে যায় মতিঝিলের একটি রেস্তোরায়। রনির চোখে-মুখে চিন্তার রেখা। মলিন চেহারা। মুখোমুখি বসে জানতে চাইলাম ‘‘কি হয়েছে তোর?’’

কষ্টের দীর্ঘ নিশ্বাস ছেড়ে সে বললো, ‘‘দোস্ত হেরে গেছি! সেই মেয়েটির কাছে হেরে গেছি!’’ মৃদু হেসে বললাম, ‘‘এতে লজ্জার কিছু নেই। নারীর কাছে হারাতেই গৌরব!’’ সে রেগে বললো, ‘‘মারুফ শয়তানি করবি না। তুই সবকিছুতেই শয়তানি করিস।’’

এদিক সেদিক পর্যবেক্ষণ করে রনি বললো, ‘‘মারুফ এখানে মাঝখানটায় না বসে চল আমরা ঐ ‘এসি রুমটায় গিয়ে বসি।’’ মারুফ বললো, ‘‘না, যারা লেডিস নিয়ে আসে তারা সাধারণত ঐখানে বসে। ঐটার ভিতরে আবার ছোট ছোট কেবিন আছে।’’ ‘‘তাইলে চল ঐ কর্নারে গিয়ে বসি’’ বললো রনি।

বাচ্চা বয়সের এক ওয়েটার মারুফের মুখের দিকে চেয়ে বলে, ‘‘মামা কী খাবেন।’’ রনি বলে, ‘‘এই বেটা, ‘নান’ নিয়ে আয়, যা।’’ এবার রনির মুখে দিকে চেয়ে ওয়েটার বলে, ‘‘মামা সাথে কি গ্রীল দিবো না শিক?’’ হালকা রেগে রনি বলে, ‘‘এই বেটা ‘বস’ দিছে বাঁশ আর তুই দিবি শিক?’’ রনির কথা শুনে বেচারা ওয়েটার ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। মারুফ হাসতে হাসতে বলে, ‘‘মামা হাফ গ্রীল নিয়ে এসো।’’

‘নান’ খেতে খেতে রনি বললো, ‘‘আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি ব্যাংক শিফ্ট করবো। কাজের প্রতি আমার ডিভোশন, ডেডিকেশন, সিন্সিয়ারিটি সবই গেল বৃথা। মেয়েটি সারাদিন থাকে ইজি মুডে তারপরও সে-ই পেল কনফার্মেশন লেটার!

তাছাড়া সে তো আমার পরে জয়েন করেছে। যেখানে বস প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিল আমার পারফর্মেন্সে তিনি ওভার সেটিসফাইড সেখানে তিনি চূড়ান্ত কাজটি করলেন মেয়েটির ফেভারে। আমার মন খারাপ দেখে বস ডেকে নিয়ে বললেন, মেয়েটি একজন ডাইরেক্টরের আত্মীয় তাই আমার কিছুই করার ছিল না।’’

মারুফ ঝলসানো মাংশখন্ড মুখের কাছে নিয়েও মুখে না দিয়ে হাত নীচে নামিয়ে ইষত রেগে তীক্ষ কণ্ঠে বলে, ‘‘শালা তুই আসলেই একটা গাধা। মেয়েটি কারোরই আত্মীয় নয়। নিশ্চয় সে আট কলার যে কোন এক কলা দিয়ে কাজ বাগিয়েছে!’’

মারুফের কথা শুনে রনি যেন আকাশ থেকে পড়ে! বিস্ফারিত নয়নে প্রশ্ন ছুড়ে দিলো, ‘‘আট কলা মানে?’’ বড়ো বড়ো চোখে রনির মুখের দিকে চেয়ে মারুফ বললো, ‘‘বেটা বলদ ইউনিভার্সিটি লাইফে তো শুধু সবরি কলা খেয়েছিস আর হলে বসে বসে অঙ্ক কষেছিস কোন দিন কি সন্ধ্যার পর টিএসসিতে গিয়েছিস? তুই নারীর আট কলা বুঝবি কিভাবে?’’

ভেংচি কেটে রনি বললো, ‘‘তুই মনে হয় খুব জ্ঞানী হয়ে গেছিস?’’ ‘‘না তা নয় তবে আমি বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে-ফিরে নারীর আট কলা হেকমতের তাণ্ডব দেখে পাকা হয়ে গেছি!’’ বললো মারুফ।

ওয়েটারকে ডেকে চা’র অর্ডার দিয়ে, মরুফ বললো, ‘‘দোস্ত, কয়েকটি ফার্মে কাজ করার সুবাদে লক্ষ্য করেছি, ছেলেরা প্রচুর পরিশ্রম করে, খাটুনি করে, দৌড়া-দৌড়ি করে কাজ করে। যখন-তখন অর্থাত ঝড়-বৃষ্টি, রোদ-খরা, শীত-গরম যাই থাকুক না কেন অফিসের কাজে বাইরে ছুটাছুটি করে। তারপরও দেখতাম ছেলেরা বসের মন পেতো না। ছেলেদের প্রতি বসের চোখ সবসময় রাঙ্গানোই থাকতো! অপর দিকে নারী সহকর্মীরা সৌন্দর্য চর্চা আর পর চর্চায় ব্যস্ত থেকেও বসের সদয় কৃপায় থাকতো দুধে-ভাতে। ওদের প্রতি বসের ভাবখানা এমন যে, ‘তোর বদনখানি মলিন হলে . . . . আমি নয়ন জলে ভাসি’!’’

রনি নড়েচড়ে বসে খুশীভাব নিয়ে বললো, ‘‘তুই একেবারে সত্যি কথা বলেছিস।’’ চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে মারুফ বললো, ‘‘দেখ দোস্ত. মাজার ব্যাপার হলো, কিছুদিন হলো একটি কর্পোরেট অফিসে জয়েন করেছি। কাজের চাপ প্রচুর। দম বন্ধ হয়ে আসে। ছেলেরা রীতিমত গলদঘর্ম। এ অবস্থায়ও মেয়েরা গায়ে বাতাস লাগিয়ে ঘুরে বেড়ায়!

দ্বিতীয় স্তরের কয়েকজন বস সুযোগ পেলেই বলাবলি করে, ‘কেন যে কর্তৃপক্ষ মেয়েদেরকে নিয়োগ দেয়! আসে সবার পরে আবার যায় সবার আগে। কাজের লোড নিতে চায় না।’ মনে মনে ভাবি যাক্ বাবা তাহলে এখানকার বসেরা বিষয়টি বুঝতে পেরেছে। হায় খোদা! এন্ড অব ইয়ারে যখন এই বসেরা এসিআর দিলো তখন দেখা গেলো বেশ কয়েকজন ছেলে ফেল! আর মেয়েরা সর্বোচ্চ নাম্বার নিয়ে ফার্স্ট পজিশনে থেকে পূর্ণিমার চাঁদের মতো হাসছে! রবিন্দ্রনাথের ‘আমি কী দেখেছি মধুর হাসি’র মতই প্রাণ জুড়ানো হাসি! এই হাসিও কি নারীর আট কলার এক কলা যা দেখে পুরুষদের প্রাণ জুড়িয়ে যায়?

প্রথম স্তরের একজন বস যাকে সিংহের সাথে তুলনা করা যায়। তাঁর শাসন গাদ্দাফির মতই লৌহ-কঠিন। বিন্দু পরিমাণ দয়া মায়া নেই। ছেলেদের কোন কাজে য্তকিঞ্চিত ত্রুটি কিংবা কোন একটি অফিস নোটে সামান্য ভুল পেলেই ডেকে নিয়ে কর্কশ ভাষায় চেচামেচি করেন এবং বলদ, গাধা, অকর্মা ইত্যকার কান গরম করা শব্দে বকা-ঝকা করেন।

কিন্ত সেই বসের সামনে যখন সম অপরাধে কোন নারী অফিসারকে হাজিরা দিতে হয় তখন তিনি মুনালিসার সেই বিখ্যাত হাসি দিয়ে, মোমের মতো গলে, মোলায়েম কন্ঠে বলেন, ‘এই ভুলগুলো কারেকশান করে ফাইনাল প্রিন্ট নিয়ে আসুন।’

এদিকে সামান্য ভুলের জন্য বসের ধমক আর বকা-ঝকা খেয়ে গোমড়া মুখে বসে থাকা ছেলেরা অসহায়ের মতো চেয়ে চেয়ে দেখে, নারীর প্রতি বসের ‘কী স্নেহ, কী মায়া গো – !’ কেউ কেউ মনে মনে নিজের উপর রাগ করে বলে, ‘শালা কেন যে নারী হয়ে জন্ম নেই নি’!

জোসের সাথে রনি বলে উঠে, ‘‘আরে দোস্ত আমিই তো মনে মনে নারী না হওয়ার জন্য নিজের উপর রাগ করতে ছিলাম! তবে সত্য বলতে কি আমার বস আবার একটু অন্যরকম মানুষ। খুব কঠিন প্রকৃতির লোক। তার মাঝে রসবোধ বলতে কিছু নেই। কাজ ছাড়া কিচ্ছু বুঝেন না। মেয়েদের প্রতি তার দূর্বলতা আছে এমন কথা কেউ বলতে পারবে না।’’

মারুফ বলে, ‘‘আমার লৌহ কঠিন বস, যার দাপটে ছেলেরা বিড়ালের মতো ঘাড় নুয়ে মাটির সাথে মিশে চলে অথচ সেই বসই কিনা একজন নারী কর্মী সামনে গেলে বরফের মতো গলে যায়! বিশাল সরোবরের নীল শান্ত পানির মতো ঠান্ডা হয়ে যায়!

পল্লী কবির গল্পের বই ‘বাঙ্গালীর হাসির গল্পে’ পড়ে ছিলাম, নারীর নাকি আট কলা হেকমত আছে। সাপুড়েরা মন্ত্রবলে যেভাবে বিষধর সাপকে পোষ মানিয়ে রাখে তেমনি নারীরা এই আট কলা হেকমত দিয়ে পুরুষকে কাবু করে রাখে! সিংহপুরুষ তুল্য বস কি তাহলে নারীর আট কলা হেকমতের প্রভাবে এমনভাবে বিগলিত হয়ে পড়েন?’’

রনির চোখের দিকে চেয়ে মারুফ বলে, ‘‘নাকি ময়মনসিংহের বাউল কবি জালালের নিম্নোক্ত গানের ‘চুলা’র তাপে বিগলিত হয়ে পড়েন? ‘’চুলা বানাইলে কি কৌশলে/কলের চুলায় জল দিয়ে আগুণ জ্বলে/যেখানে ঐ কলের চুলা, দুনিয়ার সব ওলামেলা/ধনী-মানীর পান্থশালা, আসে যায় দলে দলে/ . . . . . সেই চুলাতে সবই রান্ধা, এই দুনিয়ার যত বান্দা!’’

গানটা বলার সাথে সাথে তারা দু’জনে একসাথে হেসে উঠে। রনি বলে, ‘‘দোস্ত তুই তো দেখি পুরোদস্তর নারী বিদ্বেষী!’’ ‘‘আরে না, পাবনা কলোনীর রিদওয়ানাকে পাবার আশায় ক্যারিয়ার গঠনের পিছনে ছুটতে ছুটতে জীবনটার বারোটা বাজিয়ে দিয়েছি! আর তুই আমাকে বলিস নারী বিদ্বেষী!’’ বললো মারুফ। রনি বললো, ‘‘দোস্ত আমারও তো একই অবস্থা, চাকুরীটা পাকাপোক্ত না হলে তানিয়াকে তো ওর ‘কর্তৃপক্ষ’ বিয়েই দিবে না। কতো সিরিয়াস হয়ে যে, অফিসে কাজ করি, তারপরও বসের মন পেলাম না।’’

মারুফ মুচকি হেসে বলে, ‘‘এক কাজ কর ঐ মেয়েটাকে বিয়ে করে ফেল। তাহলে তোর ভাগ্যও ফিরে যাবে।’’ রনি বলে, ‘‘শালা, তানিয়া জানতে পারলে, এ পরামর্শের জন্য তোর আক্কেল দাঁত তুলে ফেলবে!’’

হঠাত রনির মুখ ফ্যাকাসে হয়ে উঠে। হোটেলের প্রবেশ পথের দিকে নির্বাক চেয়ে আছে সে। রনির চোখের সামনে হাত নেড়ে মারুফ বলে, ‘‘কীরে কী হয়েছে?’’ কিছুটা তুতলিয়ে তুতলিয়ে রনি বলে, ‘‘দোস্ত পিছনে চেয়ে দেখ আমার বস, সাথে ঐ মেয়েটা!’’

রনির বস মেয়েটার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হাসতে হাসতে হোটেলে প্রবেশ করে সোজা ‘এসি রুম লেখা’ দরজা দিয়ে ভিতের চলে যায়। মারুফ রনির দিকে কঠিন চোখে চেয়ে বলে, ‘‘কীরে তুই না বললে, তোর বসের রসবোধ বলতে কিছু নেই। এখন তো দেখি, রস উপচে পড়ছে!’’

Categories
অনলাইন প্রকাশনা গল্প বিনোদন ভালবাসা/প্রণয়লীলা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সৃজনশীল প্রকাশনা

সমাপ্তি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

 

প্রথম পরিচ্ছেদ

অপূর্বকৃষ্ণ বি. এ. পাস করিয়া কলিকাতা হইতে দেশে ফিরিয়া আসিতেছেন। নদীটি ক্ষুদ্র। বর্ষা-অন্তে প্রায় শুকাইয়া যায়। এখন শ্রাবণের শেষে জলে ভরিয়া উঠিয়া একেবারে গ্রামের বেড়া ও বাঁশঝাড়ের তলদেশ চুম্বন করিয়া চলিয়াছে। বহুদিন ঘন বর্ষার পরে আজ মেঘমুক্ত আকাশে রৌদ্র দেখা দিয়াছে। নৌকায় আসীন অপূর্বকৃষ্ণের মনের ভিতরকার একখানি ছবি যদি দেখিতে পাইতাম তবে দেখিতাম, সেখানেও এই যুবকের মানসনদী নববর্ষায় কূলে কূলে ভরিয়া আলোকে জ্বলজ্বল এবং বাতাসে ছল্‌ছল্ করিয়া উঠিতেছে। নৌকা যথাস্থানে ঘাটে আসিয়া লাগিল। নদীতীর হইতে অপূর্বদের বাড়ির পাকা ছাদ গাছের অন্তরাল দিয়া দেখা যাইতেছে। অপূর্বর আগমনসংবাদ বাড়ির কেহ জানিত না, সেইজন্য ঘাটে লোক আসে নাই। মাঝি ব্যাগ লইতে উদ্যত হইলে অপূর্ব তাহাকে নিবারণ করিয়া নিজেই ব্যাগ হাতে লইয়া আনন্দভরে তাড়াতাড়ি নামিয়া পড়িল।

নামিবামাত্র, তীর ছিল পিছল, ব্যাগ-সমেত অপূর্ব কাদায় পড়িয়া গেল। যেমন পড়া অমনি কোথা হইতে এক সুমিষ্ট উচ্চ কণ্ঠে তরল হাস্যলহরী উচ্ছ্বসিত হইয়া নিকটবর্তী অশথ গাছের পাখিগুলিকে সচকিত করিয়া দিল।

অপূর্ব অত্যন্ত লজ্জিত হইয়া তাড়াতাড়ি আত্মসংবরণ করিয়া চাহিয়া দেখিল। দেখিল, তীরে মহাজনের নৌকা হইতে নূতন ইঁট রাশীকৃত করিয়া নামাইয়া রাখা হইয়াছে, তাহারই উপরে বসিয়া একটি মেয়ে হাস্যাবেগে এখনি শতধা হইয়া যাইবে এমনি মনে হইতেছে।

অপূর্ব চিনিতে পারিল, তাহাদেরই নূতন প্রতিবেশিনীর মেয়ে মৃন্ময়ী। দূরে বড়ো নদীর ধারে ইহাদের বাড়ি ছিল, সেখানে নদীর ভাঙনে দেশত্যাগ করিয়া বছর দুই-তিন হইল এই গ্রামে আসিয়া বাস করিতেছে।

এই মেয়েটির অখ্যাতির কথা অনেক শুনিতে পাওয়া যায়। পুরুষ গ্রামবাসীরা স্নেহভরে ইহাকে পাগলী বলে, কিন্তু গ্রামের গৃহিণীরা ইহার উচ্ছৃঙ্খল স্বভাবে সর্বদা ভীত চিন্তিত শঙ্কান্বিত। গ্রামের যত ছেলেদের সহিতই ইহার খেলা; সমবয়সী মেয়েদের প্রতি অবজ্ঞার সীমা নাই। শিশুরাজ্যে এই মেয়েটি একটি ছোটোখাটো বর্গির উপদ্রব বলিলেই হয়। বাপের আদরের মেয়ে কিনা, সেইজন্য ইহার এতটা দুর্দান্ত প্রতাপ। এই সম্বন্ধে বন্ধুদের নিকট মৃন্ময়ীর মা স্বামীর বিরুদ্ধে সর্বদা অভিযোগ করিতে ছাড়িত না; অথচ বাপ ইহাকে ভালোবাসে, বাপ কাছে থাকিলে মৃন্ময়ীর চোখে অশ্রুবিন্দু তাহার অন্তরে বড়োই বাজিত, ইহাই মনে করিয়া প্রবাসী স্বামীকে স্মরণ-পূর্বক মৃন্ময়ীর মা মেয়েকে কিছুতেই কাঁদাইতে পারিত না।

মৃন্ময়ী দেখিতে শ্যামবর্ণ; ছোটো কোঁকড়া চুল পিঠ পর্যন্ত পড়িয়াছে। ঠিক যেন বালকের মতো মুখের ভাব। মস্ত মস্ত দুটি কালো চক্ষুতে না আছে লজ্জা, না আছে ভয়, না আছে হাবভাবলীলার লেশমাত্র। শরীর দীর্ঘ, পরিপুষ্ট, সুস্থ, সবল, কিন্তু তাহার বয়স অধিক কি অল্প সে প্রশ্ন কাহারও মনে উদয় হয় না; যদি হইত, তবে এখনো অবিবাহিত আছে বলিয়া লোকে তাহার পিতামাতাকে নিন্দা করিত।

গ্রামে বিদেশী জমিদারের নৌকা কালক্রমে যেদিন ঘাটে আসিয়া লাগে সেদিন গ্রামের লোকেরা সম্ভ্রমে শশব্যস্ত হইয়া উঠে, ঘাটের মেয়েদের মুখরঙ্গভূমিতে অকস্মাৎ নাসাগ্রভাগ পর্যন্ত যবনিকাপতন হয়, কিন্তু মৃন্ময়ী কোথা হইতে একটা উলঙ্গ শিশুকে কোলে লইয়া কোঁকড়া চুলগুলি পিঠে দোলাইয়া ছুটিয়া ঘাটে আসিয়া উপস্থিত। যে দেশে ব্যাধ নাই, বিপদ নাই, সেই দেশের হরিণশিশুর মতো নির্ভীক কৌতূহলে দাঁড়াইয়া চাহিয়া চাহিয়া দেখিতে থাকে, অবশেষে আপন দলের বালক সঙ্গীদের নিকট ফিরিয়া গিয়া এই নবাগত প্রাণীর আচারব্যবহার সম্বন্ধে বিস্তর বাহুল্য বর্ণনা করে।

আমাদের অপূর্ব ইতিপূর্বে ছুটি উপলক্ষে বাড়ি আসিয়া এই বন্ধনহীন বালিকাটিকে দুই চারিবার দেখিয়াছে এবং অবকাশের সময়, এমন-কি, অনবকাশের সময়ও ইহার সম্বন্ধে চিন্তা করিয়াছে। পৃথিবীতে অনেক মুখ চোখে পড়ে, কিন্তু এক-একটি মুখ বলা কহা নাই একেবারে মনের মধ্যে গিয়া উত্তীর্ণ হয়। সে কেবল সৌন্দর্যের জন্য নহে, আর-একটা কী গুণ আছে। সে গুণটি বোধ করি স্বচ্ছতা। অধিকাংশ মুখের মধ্যেই মনুষ্যপ্রকৃতিটি আপনাকে পরিস্ফুটরূপে প্রকাশ করিতে পারে না; যে মুখে সেই অন্তরগুহাবাসী রহস্যময় লোকটি অবাধে বাহির হইয়া দেখা দেয় সে মুখ সহস্রের মধ্যে চোখে পড়ে এবং এক পলকে মনে মুদ্রিত হইয়া যায়। এই বালিকার মুখে চোখে একটি দুরন্ত অবাধ্য নারীপ্রকৃতি উন্মুক্ত বেগবান অরণ্যমৃগের মতো সর্বদা দেখা দেয়, খেলা করে ; সেইজন্য এই জীবনচঞ্চল মুখখানি একবার দেখিলে আর সহজে ভোলা যায় না।

পাঠকদিগকে বলা বাহুল্য, মৃন্ময়ীর কৌতুকহাস্যধ্বনি যতই সুমিষ্ট হউক, দুর্ভাগা অপূর্বর পক্ষে কিঞ্চিৎ কে­শদায়ক হইয়াছিল। সে তাড়াতাড়ি মাঝির হাতে ব্যাগ সমর্পণ করিয়া রক্তিমমুখে দ্রুতবেগে গৃহ-অভিমুখে চলিতে লাগিল।

আয়োজনটি অতি সুন্দর হইয়াছিল। নদীর তীর, গাছের ছায়া, পাখির গান, প্রভাতের রৌদ্র, কুড়ি বৎসর বয়স ; অবশ্য ইঁটের স্তূপটা তেমন উল্লেখযোগ্য নহে, কিন্তু যে ব্যক্তি তাহার উপর বসিয়া ছিল সে এই শুষ্ক কঠিন আসনের প্রতিও একটি মনোরম শ্রী বিস্তার করিয়াছিল। হায়, এমন দৃশ্যের মধ্যে প্রথম পদক্ষেপমাত্রেই যে সমস্ত কবিত্ব প্রহসনে পরিণত হয় ইহা অপেক্ষা অদৃষ্টের নিষ্ঠুরতা আর কী হইতে পারে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

সেই ইষ্টকশিখর হইতে প্রবহমান হাস্যধ্বনি শুনিতে শুনিতে চাদরে ও ব্যাগে কাদা মাখিয়া গাছের ছায়া দিয়া অপূর্ব বাড়িতে গিয়া উপস্থিত হইল।

অকস্মাৎ পুত্রের আগমনে তাহার বিধবা মাতা পুলকিত হইয়া উঠিলেন। তৎক্ষণাৎ ক্ষীর দধি রুইমাছের সন্ধানে দূরে নিকটে লোক দৌড়িল এবং পাড়া-প্রতিবেশীর মধ্যেও একটা আন্দোলন উপস্থিত হইল।

আহারান্তে মা অপূর্বর বিবাহের প্রস্তাব উত্থাপন করিলেন। অপূর্ব সেজন্য প্রস্তুত হইয়াছিল। কারণ, প্রস্তাব অনেক পূর্বেই ছিল, কিন্তু পুত্র নব্যতন্ত্রের নূতন ধুয়া ধরিয়া জেদ করিয়া বসিয়াছিল যে, ‘বি. এ. পাস না করিয়া বিবাহ করিব না।’ এতকাল জননী সেইজন্য অপেক্ষা করিয়াছিলেন, অতএব এখন আর-কোনো ওজর করা মিথ্যা। অপূর্ব কহিল, “আগে পাত্রী দেখা হউক, তাহার পর স্থির হইবে।” মা কহিলেন, “পাত্রী দেখা হইয়াছে, সেজন্য তোকে ভাবিতে হইবে না।” অপূর্ব ঐ ভাবনাটা নিজে ভাবিতে প্রস্তুত হইল এবং কহিল, “মেয়ে না দেখিয়া বিবাহ করিতে পারিব না।” মা ভাবিলেন, এমন সৃষ্টিছাড়া কথাও কখনো শোনা যায় নাই ; কিন্তু সম্মত হইলেন।

সে রাত্রে অপূর্ব প্রদীপ নিবাইয়া বিছানায় শয়ন করিলে পর বর্ষানিশীথের সমস্ত শব্দ এবং সমস্ত নিস্তব্ধতার পরপ্রান্ত হইতে বিজন বিনিদ্র শয্যায় একটি উচ্ছ্বসিত উচ্চ মধুর কণ্ঠের হাস্যধ্বনি তাহার কানে আসিয়া ক্রমাগত বাজিতে লাগিল। মন নিজেকে কেবলই এই বলিয়া পীড়া দিতে লাগিল যে, সকালবেলাকার সেই পদস্খলনটা যেন কোনো একটা উপায়ে সংশোধন করিয়া লওয়া উচিত। বালিকা জানিল না যে, ‘আমি অপূর্বকৃষ্ণ অনেক বিদ্যা উপার্জন করিয়াছি, কলিকাতায় বহুকাল যাপন করিয়া আসিয়াছি, দৈবাৎ পিছলে পা দিয়া কাদায় পড়িয়া গেলেও আমি উপহাস্য উপেক্ষণীয় একজন যে-সে গ্রাম্য যুবক নহি।’

পরদিন অপূর্ব কনে দেখিতে যাইবে। অধিক দূরে নহে, পাড়াতেই তাহাদের বাড়ি। একটু বিশেষ যত্ন পূর্বক সাজ করিল। ধুতি ও চাদর ছাড়িয়া সিল্কের চাপকান জোব্বা, মাথায় একটা গোলাকার পাগড়ি, এবং বার্নিশকরা একজোড়া জুতা পায়ে দিয়া, সিল্কের ছাতা হস্তে প্রাতঃকালে বাহির হইল।

সম্ভাবিত শ্বশুরবাড়িতে পদার্পণ করিবামাত্র মহা সমারোহ-সমাদরের ঘটা পড়িয়া গেল। অবশেষে যথাকালে কম্পিতহৃদয়ে মেয়েটিকে ঝাড়িয়া মুছিয়া, রঙ করিয়া, খোঁপায় রাংতা জড়াইয়া, একখানি পাতলা রঙিন কাপড়ে মুড়িয়া বরের সম্মুখে আনিয়া উপস্থিত করা হইল। সে এক কোণে নীরবে মাথা প্রায় হাঁটুর কাছে ঠেকাইয়া বসিয়া রহিল এবং এক প্রৌঢ়া দাসী তাহাকে সাহস দিবার জন্য পশ্চাতে উপস্থিত রহিল। কনের এক বালক ভাই, তাহাদের পরিবারের মধ্যে এই এক নূতন অনধিকার-প্রবেশোদ্যত লোকটির পাগড়ি, ঘড়ির চেন এবং নবোদগত শ্মশ্রু একমনে নিরীক্ষণ করিতে লাগিল।

অপূর্ব কিয়ৎকাল গোঁফে তা দিয়া অবশেষে গম্ভীরভাবে জিজ্ঞাসা করিল, “তুমি কী পড়।” বসনভূষণাচ্ছন্ন লজ্জাস্তূপের নিকট হইতে তাহার কোনো উত্তর পাওয়া গেল না। দুই-তিনবার প্রশ্ন এবং প্রৌঢ়া দাসীর নিকট হইতে পৃষ্ঠদেশে বিস্তর উৎসাহজনক করতাড়নের পর বালিকা মৃদুস্বরে এক নিশ্বাসে অত্যন্ত দ্রুত বলিয়া গেল, চারুপাঠ দ্বিতীয় ভাগ, ব্যাকরণসার প্রথম ভাগ, ভূগোলবিবরণ, পাটিগণিত, ভারতবর্ষের ইতিহাস। এমন সময় বহির্দেশে একটা অশান্ত গতির ধুপ্‌ধাপ্ শব্দ শোনা গেল এবং মুহূর্তের মধ্যে দৌড়িয়া হাঁপাইয়া পিঠের চুল দোলাইয়া মৃন্ময়ী ঘরে আসিয়া প্রবেশ করিল। অপূর্বকৃষ্ণের প্রতি দৃক্পাত না করিয়া একেবারে কনের ভাই রাখালের হাত ধরিয়া টানাটানি আরম্ভ করিয়া দিল। রাখাল তখন আপন পর্যবেক্ষণশক্তির চর্চায় একান্তমনে নিযুক্ত ছিল, সে কিছুতেই উঠিতে চাহিল না। দাসীটি তাহার সংযত কণ্ঠস্বরের মৃদুতা রক্ষার প্রতি দৃষ্টি রাখিয়া যথাসাধ্য তীব্রভাবে মৃন্ময়ীকে ভর্ৎসনা করিতে লাগিল।

অপূর্বকৃষ্ণ আপনার সমস্ত গাম্ভীর্য এবং গৌরব একত্র করিয়া পাগড়িপরা মস্তকে অভ্রভেদী হইয়া বসিয়া রহিল এবং পেটের কাছে ঘড়ির চেন নাড়িতে লাগিল। অবশেষে সঙ্গীটিকে কিছুতেই বিচলিত করিতে না পারিয়া, তাহার পিঠে একটা সশব্দ চপেটাঘাত করিয়া চট করিয়া কনের মাথার ঘোমটা টানিয়া খুলিয়া দিয়া ঝড়ের মতো মৃন্ময়ী ঘর হইতে বাহির হইয়া গেল। দাসীটি গুমরিয়া গর্জন করিতে লাগিল এবং ভগ্নীর অকস্মাৎ অবগুণ্ঠনমোচনে রাখাল খিল্‌খিল্ শব্দে হাসিতে আরম্ভ করিল। নিজের পৃষ্ঠের প্রবল চপেটাঘাতটি সে অন্যায় প্রাপ্য মনে করিল না, কারণ, এরূপ দেনা-পাওনা তাহাদের মধ্যে সর্বদাই চলিতেছে। এমন-কি, পূর্বে মৃন্ময়ীর চুল কাঁধ ছাড়াইয়া পিঠের মাঝামাঝি আসিয়া পড়িত; রাখালই একদিন হঠাৎ পশ্চাৎ হইতে আসিয়া তাহার ঝুঁটির মধ্যে কাঁচি চালাইয়া দেয়। মৃন্ময়ী তখন অত্যন্ত রাগ করিয়া তাহার হাত হইতে কাঁচিটি কাড়িয়া লইয়া নিজের অবশিষ্ট পশ্চাতের চুল ক্যাঁচ্ ক্যাঁচ্ শব্দে নির্দয়ভাবে কাটিয়া ফেলিল, তাহার কোঁকড়া চুলের স্তবকগুলি শাখাচ্যুত কালো আঙুরের স্তূপের মতো গুচ্ছ গুচ্ছ মাটিতে পড়িয়া গেল। উভয়ের মধ্যে এরূপ শাসনপ্রণালী প্রচলিত ছিল।

অতঃপর এই নীরব পরীক্ষাসভা আর অধিকক্ষণ স্থায়ী হইল না। পিণ্ডাকার কন্যাটি কোনোমতে পুনশ্চ দীর্ঘাকার হইয়া দাসী-সহকারে অন্তঃপুরে চলিয়া গেল। অপূর্ব পরম গম্ভীরভাবে বিরল গুম্ফরেখায় তা দিতে দিতে উঠিয়া ঘরের বাহিরে যাইতে উদ্যত হইল। দ্বারের নিকটে গিয়া দেখে বার্নিশকরা নূতন জুতাজোড়াটি যেখানে ছিল সেখানে নাই, এবং কোথায় আছে তাহাও বহু চেষ্টায় অবধারণ করা গেল না। বাড়ির লোক সকলেই বিষম বিব্রত হইয়া উঠিল। এবং অপরাধীর উদ্দেশে গালি ও ভর্ৎসনা অজস্র বর্ষিত হইতে লাগিল। অনেক খোঁজ করিয়া অবশেষে অনন্যোপায় হইয়া বাড়ির কর্তার পুরাতন ছিন্ন ঢিলা চটিজোড়াটা পরিয়া, প্যান্টলুন চাপকান পাগড়ি-সমেত সুসজ্জিত অপূর্ব কর্দমাক্ত গ্রামপথে অত্যন্ত সাবধানে চলিতে লাগিল।

পুষ্করিণীর ধারে নির্জন পথপ্রান্তে আবার হঠাৎ সেই উচ্চকণ্ঠের অজস্র হাস্যকলোচ্ছ্বাস। যেন তরুপল্লবের মধ্য হইতে কৌতুকপ্রিয়া বনদেবী অপূর্বর ঐ অসংগত চটিজুতাজোড়ার দিকে চাহিয়া হঠাৎ আর হাসি ধারণ করিয়া রাখিতে পারিল না।

অপূর্ব অপ্রতিভভাবে থমকিয়া দাঁড়াইয়া ইতস্তত নিরীক্ষণ করিতেছে, এমন সময় ঘন বন হইতে বাহির হইয়া একটি নির্লজ্জ অপরাধিনী তাহার সম্মুখে নূতন জুতাজোড়াটি রাখিয়াই পলায়নোদ্যত হইল। অপূর্ব দ্রুতবেগে দুই হাত ধরিয়া তাহাকে বন্দী করিয়া ফেলিল।

মৃন্ময়ী আঁকিয়া-বাঁকিয়া হাত ছাড়াইয়া পলাইবার চেষ্টা করিল, কিন্তু পারিল না। কোঁকড়া চুলে বেষ্টিত তাহার পরিপুষ্ট সহাস্য দুষ্ট মুখখানির উপরে শাখান্তরালচ্যুত সূর্যকিরণ আসিয়া পড়িল। রৌদ্রোজ্জ্বল নির্মল চঞ্চল নির্ঝরিণীর দিকে অবনত হইয়া কৌতূহলী পথিক যেমন নিবিষ্ট দৃষ্টিতে তাহার তলদেশ দেখিতে থাকে, অপূর্ব তেমনি করিয়া গভীর গম্ভীর নেত্রে মৃন্ময়ীর ঊর্ধ্বোৎপ্তি মুখের উপর, তড়িত্তরল দুটি চক্ষুর মধ্যে চাহিয়া দেখিল এবং অত্যন্ত ধীরে ধীরে মুষ্টি শিথিল করিয়া যেন যথাকর্তব্য অসম্পন্ন রাখিয়া বন্দিনীকে ছাড়িয়া দিল। অপূর্ব যদি রাগ করিয়া মৃন্ময়ীকে ধরিয়া মারিত তাহা হইলে সে কিছুই আশ্চর্য হইত না, কিন্তু নির্জন পথের মধ্যে এই অপরূপ নীরব শাস্তির সে কোনো অর্থ বুঝিতে পারিল না।

নৃত্যময়ী প্রকৃতির নূপুরনিক্বণের ন্যায় চঞ্চল হাস্যধ্বনিটি সমস্ত আকাশ ব্যাপিয়া বাজিতে লাগিল এবং চিন্তানিমগ্ন অপূর্বকৃষ্ণ অত্যন্ত ধীরপদেক্ষেপ বাড়িতে আসিয়া উপস্থিত হইল।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

অপূর্ব সমস্ত দিন নানা ছুতা করিয়া অন্তঃপুরে মার সহিত সাক্ষাৎ করিতে গেল না। বাহিরে নিমন্ত্রণ ছিল, খাইয়া আসিল। অপূর্বর মতো, এমন একজন কৃতবিদ্য গম্ভীর ভাবুক লোক একটি সামান্য অশিক্ষিতা বালিকার কাছে আপনার লুপ্ত গৌরব উদ্ধার করিবার, আপনার আন্তরিক মাহাত্ম্যের পরিপূর্ণ পরিচয় দিবার জন্য কেন যে এতটা বেশি উৎকণ্ঠিত হইয়া উঠিবে তাহা বুঝা কঠিন। একটি পাড়াগাঁয়ের চঞ্চল মেয়ে তাঁহাকে সামান্য লোক মনে করিলই বা। সে যদি মুহূর্তকালের জন্য তাঁহাকে হাস্যাস্পদ করিয়া তার পর তাঁহার অস্তিত্ব বিস্মৃত হইয়া রাখাল-নামক একটি নির্বোধ নিরর বালকের সহিত খেলা করিবার জন্য ব্যগ্রতা প্রকাশ করে, তাহাতেই বা তাঁহার ক্ষতি কী। তাহার কাছে প্রমাণ করিবার আবশ্যক কী যে, তিনি বিশ্বদীপ-নামক মাসিক পত্রে গ্রন্থসমালোচনা করিয়া থাকেন, এবং তাঁহার তোরঙ্গের মধ্যে এসেন্স, জুতা, রুবিনির ক্যাম্ফর, রঙিন চিঠির কাগজ এবং ‘হারমোনিয়ম-শিক্ষা’ বহির সঙ্গে একখানি পরিপূর্ণ খাতা নিশীথের গর্ভে ভাবী উষার ন্যায় প্রকাশের প্রতীক্ষায় রহিয়াছে। কিন্তু মনকে বুঝানো কঠিন এবং এই পল্লিবাসিনী চঞ্চলা মেয়েটির কাছে শ্রীযুক্ত অপূর্বকৃষ্ণ রায়, বি এ. কিছুতেই পরাভব স্বীকার করিতে প্রস্তুত নহে।

সন্ধ্যার সময়ে অন্তঃপুরে প্রবেশ করিলে মা তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “কেমন রে অপু, মেয়ে কেমন দেখলি। পছন্দ হয় তো ?” অপূর্ব কিঞ্চিৎ অপ্রতিভভাবে কহিল, “মেয়ে দেখেছি মা, ওর মধ্যে একটিকে আমার পছন্দ হয়েছে।”

মা আশ্চর্য হইয়া কহিলেন, “তুই আবার কটি মেয়ে দেখলি !”

অবশেষে অনেক ইতস্ততর পর প্রকাশ পাইল, প্রতিবেশিনী শরতের মেয়ে মৃন্ময়ীকে তাঁহার ছেলে পছন্দ করিয়াছে। এত লেখাপড়া শিখিয়া এমনি ছেলের পছন্দ! প্রথমে অপূর্বর পক্ষে অনেকটা পরিমাণ লজ্জা ছিল, অবশেষে মা যখন প্রবল আপত্তি করিতে লাগিলেন তখন তাহার লজ্জা ভাঙিয়া গেল। সে রোখের মাথায় বলিয়া বসিল, ‘মৃন্ময়ীকে ছাড়া আর-কাহাকেও বিবাহ করিব না।’ অন্য জড়পুত্তলি মেয়েটিকে সে যতই কল্পনা করিতে লাগিল ততই বিবাহ-সম্বন্ধে তাহার বিষম বিতৃষ্ণার উদ্রেক হইল।

দুই-তিন দিন উভয়পক্ষে মান-অভিমান, অনাহার-অনিদ্রার পর অপূর্বই জয়ী হইল। মা মনকে বোঝাইলেন যে, মৃন্ময়ী ছেলেমানুষ এবং মৃন্ময়ীর মা উপযুক্ত শিক্ষাদানে অসমর্থ, বিবাহের পর তাঁহার হাতে পড়িলেই তাহার স্বভাবের পরিবর্তন হইবে। এবং ক্রমশ ইহাও বিশ্বাস করিলেন যে, মৃন্ময়ীর মুখখানি সুন্দর। কিন্তু, তখনই আবার তাহার খর্ব কেশরাশি তাঁহার কল্পনাপথে উদিত হইয়া হৃদয় নৈরাশ্যে পূর্ণ করিতে লাগিল, তথাপি আশা করিলেন দৃঢ় করিয়া চুল বাঁধিয়া এবং জব্‌জবে করিয়া তেল লেপিয়া, কালে এ ত্রুটিও সংশোধন হইতে পারিবে। পাড়ার লোক সকলেই অপূর্বর এই পছন্দটিকে অপূর্ব-পছন্দ বলিয়া নামকরণ করিল। পাগলী মৃন্ময়ীকে অনেকেই ভালোবাসিত, কিন্তু তাই বলিয়া নিজের পুত্রের বিবাহযোগ্য বলিয়া কেহ মনে করিত না।

মৃন্ময়ীর বাপ ঈশান মজুমদারকে যথাকালে সংবাদ দেওয়া হইল। সে কোনো একটি স্টীমার কোম্পানির কেরানি-রূপে দূরে নদীতীরবর্তী একটি ক্ষুদ্র স্টেশনে একটি ছোটো টিনের ছাদ-বিশিষ্ট কুটিরে মাল ওঠানো-নাবানো এবং টিকিট বিক্রয়-কার্যে নিযুক্ত ছিল।

তাহার মৃন্ময়ীর বিবাহপ্রস্তাবে দুই চক্ষু বহিয়া জল পড়িতে লাগিল। তাহার মধ্যে কতখানি দুঃখ এবং কতখানি আনন্দ ছিল পরিমাণ করিয়া বলিবার কোনো উপায় নাই।

কন্যার বিবাহ-উপলক্ষে ঈশান হেড-আপিসের সাহেবের নিকট ছুটি প্রার্থনা করিয়া দরখাস্ত দিল। সাহেব উপলক্ষটা নিতান্তই তুচ্ছ জ্ঞান করিয়া ছুটি নামঞ্জুর করিয়া দিলেন। তখন, পূজার সময় এক সপ্তাহ ছুটি পাইবার সম্ভাবনা জানাইয়া, সে-পর্যন্ত বিবাহ স্থগিত রাখিবার জন্য দেশে চিঠি লিখিয়া দিল। কিন্তু অপূর্বর মা কহিল, “এই মাসে দিন ভালো আছে, আর বিলম্ব করিতে পারিব না।”

উভয়তই প্রার্থনা অগ্রাহ্য হইলে পর ব্যথিতহৃদয়ে ঈশান আর-কোনো আপত্তি না করিয়া পূর্বমত মাল ওজন এবং টিকিট বিক্রয় করিতে লাগিল।

অতঃপর মৃন্ময়ীর মা এবং পল্লীর যত বর্ষীয়সীগণ সকলে মিলিয়া ভাবী কর্তব্য সম্বন্ধে মৃন্ময়ীকে অহর্নিশি উপদেশ দিতে লাগিল। ক্রীড়াসক্তি, দ্রুত গমন, উচ্চহাস্য, বালকদিগের সহিত আলাপ এবং ক্ষুধা-অনুসারে ভোজন সম্বন্ধে সকলেই নিষেধ পরামর্শ দিয়া বিবাহটাকে বিভীষিকারূপে প্রতিপন্ন করিতে সম্পূর্ণ কৃতকার্য হইল। উৎকণ্ঠিত শঙ্কিত হৃদয়ে মৃন্ময়ী মনে করিল, তাহার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং তদবসানে ফাঁসির হুকুম হইয়াছে।

সে দুষ্ট পোনি ঘোড়ার মতো ঘাড় বাঁকাইয়া পিছু হটিয়া বলিয়া বসিল, “আমি বিবাহ করিব না।”

চতুর্থ পরিচ্ছেদ

কিন্তু, তথাপি বিবাহ করিতে হইল।

তার পরে শিক্ষা আরম্ভ হইল। এক রাত্রির মধ্যে মৃন্ময়ীর সমস্ত পৃথিবী অপূর্বর মার অন্তঃপুরে আসিয়া আবদ্ধ হইয়া গেল। শাশুড়ি সংশোধনকার্যে প্রবৃত্ত হইলেন। অত্যন্ত কঠিন মুখ করিয়া কহিলেন, “দেখো বাছা, তুমি কিছু আর কচি খুকি নও, আমাদের ঘরে অমন বেহায়াপনা করিলে চলিবে না।”

শাশুড়ি যে ভাবে বলিলেন মৃন্ময়ী সে ভাবে কথাটা গ্রহণ করিল না। সে ভাবিল, এ ঘরে যদি না চলে তবে বুঝি অন্যত্র যাইতে হইবে। অপরাহ্নে তাহাকে আর দেখা গেল না। কোথায় গেল, কোথায় গেল, খোঁজ পড়িল। অবশেষে বিশ্বাসঘাতক রাখাল তাহাকে তাহার গোপন স্থান হইতে ধরাইয়া দিল। সে বটতলায় রাধাকান্ত ঠাকুরের পরিত্যক্ত ভাঙা রথের মধ্যে গিয়ে বসিয়া ছিল।

শাশুড়ি মা এবং পাড়ার সমস্ত হিতৈষিণীগণ মৃন্ময়ীকে যেরূপ লাঞ্ছনা করিল তাহা পাঠকগণ এবং পাঠিকাগণ সহজেই কল্পনা করিতে পারিবেন।

রাত্রে ঘন মেঘ করিয়া ঝুপ্‌ঝুপ্ শব্দে বৃষ্টি হইতে আরম্ভ হইল। অপূর্বকৃষ্ণ বিছানার মধ্যে অতি ধীরে ধীরে মৃন্ময়ীর কাছে ঈষৎ অগ্রসর হইয়া তাহার কানে কানে মৃদুস্বরে কহিল, “মৃন্ময়ী, তুমি আমাকে ভালোবাস না ?”

মৃন্ময়ী সতেজে বলিয়া উঠিল, “না। আমি তোমাকে কক্খনোই ভালোবাসব না।” তাহার যত রাগ এবং যত শাস্তিবিধান সমস্তই পুঞ্জীভূত বজ্রের ন্যায় অপূর্বর মাথার উপর নিক্ষেপ করিল।

অপূর্ব ক্ষুন্ন হইয়া কহিল, “কেন, আমি তোমার কাছে কী দোষ করেছি।” মৃন্ময়ী কহিল, “তুমি আমাকে বিয়ে করলে কেন।”

এ অপরাধের সন্তোষজনক কৈফিয়ত দেওয়া কঠিন। কিন্তু, অপূর্ব মনে মনে কহিল, যেমন করিয়া হউক এই দুর্বাধ্য মনটিকে বশ করিতে হইবে।

পরদিন শাশুড়ি মৃন্ময়ীর বিদ্রোহী ভাবের সমস্ত লণ দেখিয়া তাহাকে ঘরে দরজা বন্ধ করিয়া রাখিয়া দিল। সে নূতন পিঞ্জরাবদ্ধ পাখির মতো প্রথম অনেকক্ষণ ঘরের মধ্যে ধড়ফড় করিয়া বেড়াইতে লাগিল। অবশেষে কোথাও পালাইবার কোনো পথ না দেখিয়া নিষ্ফল ক্রোধে বিছানার চাদরখানা দাঁত দিয়া ছিঁড়িয়া কুটিকুটি করিয়া ফেলিল, এবং মাটির উপর উপুড় হইয়া মনে মনে বাবাকে ডাকিতে ডাকিতে কাঁদিতে লাগিল।

এমন সময় ধীরে ধীরে কে তাহার পাশে আসিয়া বসিল। সস্নেহে তাহার ধূলিলুণ্ঠিত চুলগুলি কপোলের উপর হইতে তুলিয়া দিবার চেষ্টা করিল। মৃন্ময়ী সবলে মাথা নাড়িয়া তাহার হাত সরাইয়া দিল। অপূর্ব কানের কাছে মুখ নত করিয়া মৃদুস্বরে কহিল, “আমি লুকিয়ে দরজা খুলে দিয়েছি। এসো আমরা খিড়কির বাগানে পালিয়ে যাই।” মৃন্ময়ী প্রবলবেগে মাথা নাড়িয়া সতেজে সরোদনে কহিল, “না।” অপূর্ব তাহার চিবুক ধরিয়া মুখ তুলিয়া দিবার চেষ্টা করিয়া কহিল, “একবার দেখো কে এসেছে।”

রাখাল ভূপতিত মৃন্ময়ীর দিকে চাহিয়া হতবুদ্ধির ন্যায় দ্বারের কাছে দাঁড়াইয়া ছিল। মৃন্ময়ী মুখ না তুলিয়া অপূর্বর হাত ঠেলিয়া দিল। অপূর্ব কহিল, “রাখাল তোমার সঙ্গে খেলা করতে এসেছে, খেলতে যাবে ?” সে বিরক্তি-উচ্ছ্বসিত স্বরে কহিল, “না।” রাখালও সুবিধা নয় বুঝিয়া কোনোমতে ঘর হইতে পালাইয়া হাঁফ ছাড়িয়া বাঁচিল। অপূর্ব চুপ করিয়া বসিয়া রহিল। মৃন্ময়ী কাঁদিতে কাঁদিতে শ্রান্ত হইয়া ঘুমাইয়া পড়িল, তখন অপূর্ব পা টিপিয়া বাহির হইয়া দ্বারে শিকল দিয়া চলিয়া গেল।

তাহার পরদিন মৃন্ময়ী বাপের কাছ হইতে এক পত্র পাইল। তিনি তাঁহার প্রাণপ্রতিমা মৃন্ময়ীর বিবাহের সময় উপস্থিত থাকিতে পারেন নাই বলিয়া বিলাপ করিয়া নবদম্পতিকে অন্তরের আশীর্বাদ পাঠাইয়াছেন।

মৃন্ময়ী শাশুড়িকে গিয়া কহিল, “আমি বাবার কাছে যাব।” শাশুড়ি অকস্মাৎ এই অসম্ভব প্রার্থনায় তাহাকে ভর্ৎসনা করিয়া উঠিলেন, “কোথায় ওর বাপ থাকে তার ঠিকানা নেই ; বলে ‘বাবার কাছে যাব’। অনাসৃষ্টি আবদার।” সে উত্তর না করিয়া চলিয়া গেল। আপনার ঘরে গিয়া দ্বার রুদ্ধ করিয়া নিতান্ত হতাশ্বাস ব্যক্তি যেমন করিয়া দেবতার কাছে প্রার্থনা করে তেমনি করিয়া বলিতে লাগিল, “বাবা, আমাকে তুমি নিয়ে যাও। এখানে আমার কেউ নেই। এখানে থাকলে আমি বাঁচব না।” গভীর রাত্রে তাহার স্বামী নিদ্রিত হইলে ধীরে ধীরে দ্বার খুলিয়া মৃন্ময়ী গৃহের বাহির হইল। যদিও এক-একবার মেঘ করিয়া আসিতেছিল তথাপি জ্যোৎস্নারাত্রে পথ দেখিবার মতো আলোক যথেষ্ট ছিল। বাপের কাছে যাইতে হইলে কোন্ পথ অবলম্বন করিতে হইবে মৃন্ময়ী তাহার কিছুই জানিত না। কেবল তাহার মনের বিশ্বাস ছিল, যে পথ দিয়া ডাকের পত্রবাহক ‘রানার’গণ চলে সেই পথ দিয়া পৃথিবীর সমস্ত ঠিকানায় যাওয়া যায়। মৃন্ময়ী সেই ডাকের পথ ধরিয়া চলিতে লাগিল। চলিতে চলিতে শরীর শ্রান্ত হইয়া আসিল, রাত্রিও প্রায় শেষ হইল। বনের মধ্যে যখন উসখুস করিয়া অনিশ্চিত সুরে দুটো-একটা পাখি ডাকিবার উপক্রম করিতেছে অথচ নিঃসংশয়ে সময় নির্ণয় করিতে না পারিয়া ইতস্তত করিতেছে তখন মৃন্ময়ী পথের শেষে নদীর ধারে একটা বৃহৎ বাজারের মতো স্থানে আসিয়া উপস্থিত হইল। অতঃপর কোন্ দিকে যাইতে হইবে ভাবিতেছে এমন সময় পরিচিত ঝম্‌ঝম্ শব্দ শুনিতে পাইল। চিঠির থলে কাঁধে করিয়া ঊর্ধ্বশ্বাসে ডাকের রানার আসিয়া উপস্থিত হইল। মৃন্ময়ী তাড়াতাড়ি তাহার কাছে গিয়া কাতর শ্রান্তস্বরে কহিল, “কুশীগে আমি বাবার কাছে যাব, আমাকে তুমি সঙ্গে নিয়ে চলো-না।” সে কহিল, “কুশীগ কোথায় আমি জানি নে।” এই বলিয়া ঘাটে-বাঁধা ডাকনৌকার মাঝিকে জাগাইয়া দিয়া নৌকা ছাড়িয়া দিল। তাহার দয়া করিবার বা প্রশ্ন করিবার সময় নাই।

দেখিতে দেখিতে হাট এবং বাজার সজাগ হইয়া উঠিল। মৃন্ময়ী ঘাটে নামিয়া একজন মাঝিকে ডাকিয়া কহিল, “মাঝি, আমাকে কুশীগে নিয়ে যাবে ?” মাঝি তাহার উত্তর দিবার পূর্বেই পাশের নৌকা হইতে একজন বলিয়া উঠিল, “আরে কে ও ! মিনু মা, তুমি এখানে কোথা থেকে।” মৃন্ময়ী উচ্ছ্বসিত ব্যগ্রতার সহিত বলিয়া উঠিল, “বনমালী, আমি কুশীগে বাবার কাছে যাব, আমাকে তোর নৌকায় নিয়ে চল্।” বনমালী, তাহাদের গ্রামের মাঝি ; সে এই উচ্ছৃঙ্খলপ্রকৃতি বালিকাটিকে বিলক্ষণ চিনিত ; সে কহিল, “বাবার কাছে যাবে ? সে তো বেশ কথা। চলো, আমি তোমাকে নিয়ে যাচ্ছি।” মৃন্ময়ী নৌকায় উঠিল।

মাঝি নৌকা ছাড়িয়া দিল। মেঘ করিয়া মুষলধারে বৃষ্টি আরম্ভ হইল। ভাদ্রমাসের পূর্ণ নদী ফুলিয়া ফুলিয়া নৌকা দোলাইতে লাগিল, মৃন্ময়ীর সমস্ত শরীর নিদ্রায় আচ্ছন্ন হইয়া আসিল; অঞ্চল পাতিয়া সে নৌকার মধ্যে শয়ন করিল এবং এই দুরন্ত বালিকা নদী-দোলায় প্রকৃতির স্নেহপালিত শান্ত শিশুটির মতো অকাতরে ঘুমাইতে লাগিল।

জাগিয়া উঠিয়া দেখিল, সে তাহার শ্বশুরবাড়িতে খাটে শুইয়া আছে। তাহাকে জাগ্রত দেখিয়া ঝি বকিতে আরম্ভ করিল। ঝির কণ্ঠস্বরে শাশুড়ি আসিয়া অত্যন্ত কঠিন কঠিন করিয়া বলিতে লাগিলেন। মৃন্ময়ী বিস্ফারিতনেত্রে নীরবে তাঁহার মুখের দিকে চাহিয়া রহিল। অবশেষে তিনি যখন তাহার বাপের শিক্ষাদোষের উপর কটা করিয়া বলিলেন, তখন মৃন্ময়ী দ্রুতপদে পাশের ঘরে প্রবেশ করিয়া ভিতর হইতে শিকল বন্ধ করিয়া দিল।

অপূর্ব লজ্জার মাথা খাইয়া মাকে আসিয়া বলিল, “মা, বউকে দুই-এক দিনের জন্যে একবার বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দিতে দোষ কী।”

মা অপূর্বকে ‘ন ভূতো ন ভবিষ্যতি’ ভর্ৎসনা করিতে লাগিলেন, এবং দেশে এত মেয়ে থাকিতে বাছিয়া বাছিয়া এই অস্থিদাহকারী দস্যু-মেয়েকে ঘরে আনার জন্য তাহাকে যথেষ্ট গঞ্জনা করিলেন।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ

সেদিন সমস্ত দিন বাহিরে ঝড়বৃষ্টি এবং ঘরের মধ্যেও অনুরূপ দুর্যোগ চলিতে লাগিল।

তাহার পরদিন গভীর রাত্রে অপূর্ব মৃন্ময়ীকে ধীরে ধীরে জাগ্রত করিয়া কহিল, “মৃন্ময়ী, তোমার বাবার কাছে যাবে?”

মৃন্ময়ী সবেগে অপূর্বর হাত চাপিয়া ধরিয়া সচকিত হইয়া বলিল, “যাব।”

অপূর্ব চুপিচুপি কহিল, “তবে এসো, আমরা দুজনে আস্তে আস্তে পালিয়ে যাই। আমি ঘাটে নৌকা ঠিক করে রেখেছি।”

মৃন্ময়ী অত্যন্ত সকৃতজ্ঞ হৃদয়ে একবার স্বামীর মুখের দিকে চাহিল। তাহার পর তাড়াতাড়ি উঠিয়া কাপড় ছাড়িয়া বাহির হইবার জন্য প্রস্তুত হইল। অপূর্ব তাহার মাতার চিন্তা দূর করিবার জন্য একখানি পত্র রাখিয়া দুইজনে বাহির হইল।

মৃন্ময়ী সেই অন্ধকার রাত্রে জনশূন্য নিস্তব্ধ নির্জন গ্রামপথে এই প্রথম স্বেচ্ছায় আন্তরিক নির্ভরের সহিত স্বামীর হাত ধরিল; তাহার হৃদয়ের আনন্দ-উদ্বেগ সেই সুকোমল স্পর্শ-যোগে তাহার স্বামীর শিরার মধ্যে সঞ্চারিত হইতে লাগিল। নৌকা সেই রাত্রেই ছাড়িয়া দিল। অশান্ত হর্ষোচ্ছ্বাস সত্ত্বেও অনতিবিলম্বেই মৃন্ময়ী ঘুমাইয়া পড়িল। পরদিন কী মুক্তি, কী আনন্দ। দুই ধারে কত গ্রাম বাজার শস্যক্ষেত্র বন, দুই ধারে কত নৌকা যাতায়াত করিতেছে। মৃন্ময়ী প্রত্যেক তুচ্ছ বিষয়ে স্বামীকে সহস্রবার করিয়া প্রশ্ন করিতে লাগিল। ঐ নৌকায় কী আছে, উহারা কোথা হইতে আসিয়াছে, এই জায়গার নাম কী, এমন সকল প্রশ্ন যাহার উত্তর অপূর্ব কোনো কলেজের বহিতে পায় নাই এবং যাহা তাহার কলিকাতার অভিজ্ঞতায় কুলাইয়া উঠে না। বন্ধুগণ শুনিয়া লজ্জিত হইবেন, অপূর্ব এই-সকল প্রশ্নের প্রত্যেকটারই উত্তর করিয়াছিল এবং অধিকাংশ উত্তরের সহিত সত্যের ঐক্য হয় নাই। যথা, সে তিলের নৌকাকে তিসির নৌকা, পাঁচবেড়েকে রায়নগর এবং মুন্সেফের আদালতকে জমিদারি কাছারি বলিতে কিছুমাত্র কুণ্ঠিত বোধ করে নাই। এবং এই-সমস্ত ভ্রান্ত উত্তরে বিশ্বস্তহৃদয় প্রশ্নকারিণীর সন্তোষের তিলমাত্র ব্যাঘাত জন্মায় নাই।

পরদিন সন্ধ্যাবেলায় নৌকা কুশীগে গিয়া পৌঁছিল। টিনের ঘরে একখানি ময়লা চৌকা-কাঁচের লণ্ঠনে তেলের বাতি জ্বালাইয়া ছোটো ডেস্কের উপর একখানি চামড়ায়-বাঁধা মস্ত খাতা রাখিয়া গা-খোলা ঈশানচন্দ্র টুলের উপর বসিয়া হিসাব লিখিতেছিলেন। এমন সময় নবদম্পতি ঘরের মধ্যে প্রবেশ করিল। মৃন্ময়ী ডাকিল, “বাবা।” সে ঘরে এমন কণ্ঠধ্বনি এমন করিয়া কখনো ধ্বনিত হয় নাই। ঈশানের চোখ দিয়া দর্‌দর্ করিয়া অশ্রু পড়িতে লাগিল। সে কী বলিবে, কী করিবে কিছুই ভাবিয়া পাইল না। তাহার মেয়ে এবং জামাই যেন সাম্রাজ্যের যুবরাজ এবং যুবরাজমহিষী; এই সমস্ত পাটের বস্তার মধ্যে তাহাদের উপযুক্ত সিংহাসন কেমন করিয়া নির্মিত হইতে পারে ইহাই যেন তাহার দিশাহারা বুদ্ধি ঠিক করিয়া উঠিতে পারিল না।

তাহার পর আহারের ব্যাপার – সেও এক চিন্তা। দরিদ্র কেরানি নিজ হস্তে ডাল ভাতে-ভাত পাক করিয়া খায় – আজ এই এমন আনন্দের দিনে সে কী করিবে, কী খাওয়াইবে। মৃন্ময়ী কহিল, “বাবা, আজ আমরা সকলে মিলিয়া রাঁধিব।” অপূর্ব এই প্রস্তাবে সাতিশয় উৎসাহ প্রকাশ করিল।

ঘরের মধ্যে স্থানাভাব লোকাভাব অন্নাভাব, কিন্তু ক্ষুদ্র ছিদ্র হইতে ফোয়ারা যেমন চতুর্গুণ বেগে উত্থিত হয় তেমনি দারিদ্র্যের সংকীর্ণ মুখ হইতে আনন্দ পরিপূর্ণ ধারায় উচ্ছ্বসিত হইতে লাগিল।

এমনি করিয়া তিন দিন কাটিল। দুই বেলা নিয়মিত স্টীমার আসিয়া লাগে, কত লোক, কত কোলাহল; সন্ধ্যাবেলায় নদীতীর একেবারে নির্জন হইয়া যায়, তখন কী অবাধ স্বাধীনতা ; এবং তিন জনে মিলিয়া নানাপ্রকারে জোগাড় করিয়া, ভুল করিয়া, এক করিতে আর-এক করিয়া তুলিয়া রাঁধাবাড়া। তাহার পরে মৃন্ময়ীর বলয়ঝংকৃত স্নেহহস্তের পরিবেশনে শ্বশুর-জামাতার একত্রে আহার এবং গৃহিণীপনার সহস্র ত্রুটি প্রদর্শন-পূর্বক মৃন্ময়ীকে পরিহাস ও তাহা লইয়া বালিকার আনন্দকলহ এবং মৌখিক অভিমান। অবশেষে অপূর্ব জানাইল, আর অধিক দিন থাকা উচিত হয় না। মৃন্ময়ী করুণস্বরে আরো কিছু দিন সময় প্রার্থনা করিল। ঈশান কহিল, “কাজ নাই।”

বিদায়ের দিন কন্যাকে বুকের কাছে টানিয়া তাহার মাথায় হাত রাখিয়া অশ্রুগদ্গদকণ্ঠে ঈশান কহিল, “মা, তুমি শ্বশুরঘর উজ্জ্বল করিয়া লক্ষ্মী হইয়া থাকিয়ো। কেহ যেন আমার মিনুর কোনো দোষ না ধরিতে পারে।”

মৃন্ময়ী কাঁদিতে কাঁদিতে স্বামীর সহিত বিদায় হইল। এবং ঈশান সেই দ্বিগুণ নিরানন্দ সংকীর্ণ ঘরের মধ্যে ফিরিয়া গিয়া দিনের পর দিন, মাসের পর মাস নিয়মিত মাল ওজন করিতে লাগিল।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ

এই অপরাধীযুগল গৃহে ফিরিয়া আসিলে মা অত্যন্ত গম্ভীরভাবে রহিলেন, কোনো কথাই কহিলেন না। কাহারও ব্যবহারের প্রতি এমন কোনো দোষারোপ করিলেন না যাহা সে ক্ষালন করিতে চেষ্টা করিতে পারে। এই নীরব অভিযোগ, নিস্তব্ধ অভিমান, লৌহভারের মতো সমস্ত ঘরকন্নার উপর অটলভাবে চাপিয়া রহিল। অবশেষে অসহ্য হইয়া উঠিলে অপূর্ব আসিয়া কহিল, “মা, কলেজ খুলেছে, এখন আমাকে আইন পড়তে যেতে হবে।”

মা উদাসীনভাবে কহিলেন, “বউয়ের কী করবে।”

অপূর্ব কহিল, “বউ এখানেই থাক্।”

মা কহিলেন, “না বাপু, কাজ নাই; তুমি তাকে তোমার সঙ্গে নিয়ে যাও।” সচরাচর মা অপূর্বকে ‘তুই’ সম্ভাষণ করিয়া থাকেন।

অপূর্ব অভিমানক্ষুন্নস্বরে কহিল, “আচ্ছা।”

কলিকাতা যাইবার আয়োজন পড়িয়া গেল। যাইবার আগের রাত্রে অপূর্ব বিছানায় আসিয়া দেখিল, মৃন্ময়ী কাঁদিতেছে।

হঠাৎ তাহার মনে আঘাত লাগিল। বিষণ্নকণ্ঠে কহিল, “মৃন্ময়ী, আমার সঙ্গে কলকাতায় যেতে তোমার ইচ্ছে করছে না ?”

মৃন্ময়ী কহিল, “না।”

অপূর্ব জিজ্ঞাসা করিল, “তুমি আমাকে ভালোবাস না ?” এ প্রশ্নের কোনো উত্তর পাইল না। অনেক সময় এই প্রশ্নটির উত্তর অতিশয় সহজ কিন্তু আবার এক-এক সময় ইহার মধ্যে মনস্তত্ত্বঘটিত এত জটিলতার সংস্রব থাকে যে, বালিকার নিকট হইতে তাহার উত্তর প্রত্যাশা করা যায় না।

অপূর্ব প্রশ্ন করিল, “রাখালকে ছেড়ে যেতে তোমার মন কেমন করছে ?”

মৃন্ময়ী অনায়াসে উত্তর করিল, “হাঁ।”

বালক রাখালের প্রতি এই বি.এ. পরীক্ষোত্তীর্ণ কৃতবিদ্য যুবকের সূচির মতো অতি সূক্ষ্ম অথচ অতি সুতীক্ষ্ণ ঈর্ষার উদয় হইল। কহিল, “আমি অনেককাল আর বাড়ি আসতে পাব না।” এই সংবাদ সম্বন্ধে মৃন্ময়ীর কোনো বক্তব্য ছিল না। “বোধ হয় দু-বৎসর কিংবা তারও বেশি হতে পারে।”

মৃন্ময়ী আদেশ করিল, “তুমি ফিরে আসবার সময় রাখালের জন্যে একটা তিনমুখো রজাসের ছুরি কিনে নিয়ে এসো।”

অপূর্ব শয়ান অবস্থা হইতে ঈষৎ উত্থিত হইয়া কহিল, “তুমি তা হলে এইখানেই থাকবে ?”

মৃন্ময়ী কহিল, “হাঁ, আমি মায়ের কাছে গিয়ে থাকব।”

অপূর্ব নিশ্বাস ফেলিয়া কহিল, “আচ্ছা, তাই থেকো। যতদিন না তুমি আমাকে আসবার জন্যে চিঠি লিখবে, আমি আসব না। খুব খুশি হলে ?”

মৃন্ময়ী এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বাহুল্য বোধ করিয়া ঘুমাইতে লাগিল। কিন্তু, অপূর্বর ঘুম হইল না, বালিশ উঁচু করিয়া ঠেসান দিয়া বসিয়া রহিল।

অনেক রাত্রে হঠাৎ চাঁদ উঠিয়া চাঁদের আলো বিছানার উপর আসিয়া পড়িল। অপূর্ব সেই আলোকে মৃন্ময়ীর দিকে চাহিয়া দেখিল। চাহিয়া চাহিয়া মনে হইল, যেন রাজকন্যাকে কে রুপার কাঠি ছোঁয়াইয়া অচেতন করিয়া রাখিয়া গিয়াছে। একবার কেবল সোনার কাঠি পাইলেই এই নিদ্রিত আত্মাটিকে জাগাইয়া তুলিয়া মালাবদল করিয়া লওয়া যায়। রুপার কাঠি হাস্য, আর সোনার কাঠি অশ্রুজল।

ভোরের বেলায় অপূর্ব মৃন্ময়ীকে জাগাইয়া দিল; কহিল, “মৃন্ময়ী, আমার যাইবার সময় হইয়াছে। চলো তোমাকে তোমার মার বাড়ি রাখিয়া আসি।”

মৃন্ময়ী শয্যাত্যাগ করিয়া উঠিয়া দাঁড়াইলে অপূর্ব তাহার দুই হাত ধরিয়া কহিল, “এখন আমার একটি প্রার্থনা আছে। আমি অনেক সময় তোমার অনেক সাহায্য করিয়াছি, আজ যাইবার সময় তাহার একটি পুরস্কার দিবে ?”

মৃন্ময়ী বিস্মিত হইয়া কহিল, “কী।”

অপূর্ব কহিল, “তুমি ইচ্ছা করিয়া, ভালোবাসিয়া আমাকে একটি চুম্বন দাও।”

অপূর্বর এই অদ্ভুত প্রার্থনা এবং গম্ভীর মুখভাব দেখিয়া মৃন্ময়ী হাসিয়া উঠিল। হাস্য সংবরণ করিয়া মুখ বাড়াইয়া চুম্বন করিতে উদ্যত হইল কাছাকাছি গিয়া আর পারিল না। খিল্‌খিল্ করিয়া হাসিয়া উঠিল। এমন দুইবার চেষ্টা করিয়া অবশেষে নিরস্ত হইয়া মুখে কাপড় দিয়া হাসিতে লাগিল। শাসনচ্ছলে অপূর্ব তাহার কর্ণমূল ধরিয়া নাড়িয়া দিল।

অপূর্বর বড়ো কঠিন পণ। দস্যুবৃত্তি করিয়া কাড়িয়া লুটিয়া লওয়া সে আত্মাবমাননা মনে করে। সে দেবতার ন্যায় সগৌরবে থাকিয়া স্বেচ্ছানীত উপহার চায়, নিজের হাতে কিছুই তুলিয়া লইবে না।

মৃন্ময়ী আর হাসিল না। তাহাকে প্রত্যুষের আলোকে নির্জন পথ দিয়া তাহার মার বাড়ি রাখিয়া অপূর্ব গৃহে আসিয়া মাতাকে কহিল, “ভাবিয়া দেখিলাম, বউকে আমার সঙ্গে কলিকাতায় লইয়া গেলে আমার পড়াশুনার ব্যাঘাত হইবে, সেখানে উহারও কেহ সঙ্গিনী নাই। তুমি তো তাহাকে এ বাড়িতে রাখিতে চাও না, আমি তাই তাহার মার বাড়িতেই রাখিয়া আসিলাম।”

সুগভীর অভিমানের মধ্যে মাতাপুত্রের বিচ্ছেদ হইল।

সপ্তম পরিচ্ছেদ

মার বাড়িতে আসিয়া মৃন্ময়ী দেখিল, কিছুতেই আর মন লাগিতেছে না। সে বাড়ির আগাগোড়া যেন বদল হইয়া গেছে। সময় আর কাটে না। কী করিবে, কোথায় যাইবে, কাহার সহিত দেখা করিবে, ভাবিয়া পাইল না।

মৃন্ময়ীর হঠাৎ মনে হইল, যেন সমস্ত গৃহে এবং সমস্ত গ্রামে কেহ লোক নাই। যেন মধ্যাহ্নে সূর্যগ্রহণ হইল। কিছুতেই বুঝিতে পারিল না, আজ কলিকাতায় চলিয়া যাইবার জন্য এত প্রাণপণ ইচ্ছা করিতেছে, কাল রাত্রে এই ইচ্ছা কোথায় ছিল; কাল সে জানিত না যে, জীবনের যে অংশ পরিহার করিয়া যাইবার জন্য এত মন-কেমন করিতেছিল তৎপূর্বেই তাহার সম্পূর্ণ স্বাদ পরিবর্তন হইয়া গিয়াছে। গাছের পক্ব-পত্রের ন্যায় আজ সেই বৃন্তচ্যুত অতীত জীবনটাকে ইচ্ছাপূর্বক অনায়াসে দূরে ছুঁড়িয়া ফেলিল।

গল্পে শুনা যায়, নিপুণ অস্ত্রকার এমন সূক্ষ্ম তরবারি নির্মাণ করিতে পারে যে, তদ্বারা মানুষকে দ্বিখণ্ড করিলেও সে জানিতে পারে না, অবশেষে নাড়া দিলে দুই অর্ধখণ্ড ভিন্ন হইয়া যায়। বিধাতার তরবারি সেইরূপ সূক্ষ্ম, কখন তিনি মৃন্ময়ীর বাল্য ও যৌবনের মাঝখানে আঘাত করিয়াছিলেন সে জানিতে পারে নাই ; আজ কেমন করিয়া নাড়া পাইয়া বাল্য-অংশ যৌবন হইতে বিচ্যুত হইয়া পড়িল এবং মৃন্ময়ী বিস্মিত হইয়া ব্যথিত হইয়া চাহিয়া রহিল।

মাতৃগৃহে তাহার সেই পুরাতন শয়নগৃহকে আর আপনার বলিয়া মনে হইল না, সেখানে যে থাকিত সে হঠাৎ আর নাই। এখন হৃদয়ের সমস্ত স্মৃতি সেই আর-একটা বাড়ি, আর-একটা ঘর, আর-একটা শয্যার কাছে গুন্‌গুন্ করিয়া বেড়াইতে লাগিল।

মৃন্ময়ীকে আর কেহ বাহিরে দেখিতে পাইল না। তাহার হাস্যধ্বনি আর শুনা যায় না। রাখাল তাহাকে দেখিলে ভয় করে। খেলার কথা মনেও আসে না।

মৃন্ময়ী মাকে বলিল, “মা, আমাকে শ্বশুরবাড়ি রেখে আয়।”

এ দিকে, বিদায়কালীন পুত্রের বিষন্ন মুখ স্মরণ করিয়া অপূর্বর মার হৃদয় বিদীর্ণ হইয়া যায়। সে যে রাগ করিয়া বউকে বেহানের বাড়ি রাখিয়া আসিয়াছে ইহা তাঁহার মনে বড়োই বিঁধিতে লাগিল।

হেনকালে একদিন মাথায় কাপড় দিয়া মৃন্ময়ী ম্লানমুখে শাশুড়ির পায়ের কাছে পড়িয়া প্রণাম করিল। শাশুড়ি তৎক্ষণাৎ ছলছলনেত্রে তাহাকে বক্ষে চাপিয়া ধরিলেন। মুহূর্তের মধ্যে উভয়ের মিলন হইয়া গেল। শাশুড়ি বধূর মুখের দিকে চাহিয়া আশ্চর্য হইয়া গেলেন। সে মৃন্ময়ী আর নাই। এমন পরিবর্তন সাধারণত সকলের সম্ভব নহে। বৃহৎ পরিবর্তনের জন্য বৃহৎ বলের আবশ্যক।

শাশুড়ি স্থির করিয়াছিলেন, মৃন্ময়ীর দোষগুলি একটি একটি করিয়া সংশোধন করিবেন, কিন্তু আর-একজন অদৃশ্য সংশোধনকর্তা একটি অজ্ঞাত সংপে উপায় অবলম্বন করিয়া মৃন্ময়ীকে যেন নূতন জন্ম পরিগ্রহ করাইয়া দিলেন।

এখন শাশুড়িকেও মৃন্ময়ী বুঝিতে পারিল, শাশুড়িও মৃন্ময়ীকে চিনিতে পারিলেন; তরুর সহিত শাখাপ্রশাখার যেরূপ মিল, সমস্ত ঘরকন্না তেমনি পরস্পর অখণ্ডসম্মিলিত হইয়া গেল।

এই-যে একটি গম্ভীর স্নিগ্ধ বিশাল রমণীপ্রকৃতি মৃন্ময়ীর সমস্ত শরীরে ও সমস্ত অন্তরে রেখায় রেখায় ভরিয়া উঠিল, ইহাতে তাহাকে যেন বেদনা দিতে লাগিল। প্রথম আষাঢ়ের শ্যামসজল নবমেঘের মতো তাহার হৃদয়ে একটি অশ্রুপূর্ণ বিস্তীর্ণ অভিমানের সঞ্চার হইল। সেই অভিমান তাহার চোখের ছায়াময় সুদীর্ঘ পল্লবের উপর আর-একটি গভীরতর ছায়া নিক্ষেপ করিল। সে মনে মনে বলিতে লাগিল, “আমি আমাকে বুঝিতে পারি নাই বলিয়া তুমি আমাকে বুঝিলে না কেন। তুমি আমাকে শাস্তি দিলে না কেন। তোমার ইচ্ছানুসারে আমাকে চালনা করাইলে না কেন। আমি রাক্ষসী যখন তোমার সঙ্গে কলিকাতায় যাইতে চাহিলাম না, তুমি আমাকে জোর করিয়া ধরিয়া লইয়া গেলে না কেন। তুমি আমার কথা শুনিলে কেন, আমার অনুরোধ মানিলে কেন, আমার অবাধ্যতা সহিলে কেন।’

তাহার পর, অপূর্ব যেদিন প্রভাতে পুষ্করিণীতীরের নির্জন পথে তাহাকে বন্দী করিয়া কিছু না বলিয়া একবার কেবল তাহার মুখের দিকে চাহিয়াছিল, সেই পুষ্করিণী, সেই পথ, সেই তরুতল, সেই প্রভাতের রৌদ্র এবং সেই হৃদয়ভারাবনত গভীর দৃষ্টি তাহার মনে পড়িল এবং হঠাৎ সে তাহার সমস্ত অর্থ বুঝিতে পারিল। তাহার পর সেই বিদায়ের দিনের যে চুম্বন অপূর্বর মুখের দিকে অগ্রসর হইয়া ফিরিয়া আসিয়াছিল, সেই অসম্পূর্ণ চুম্বন এখন মরুমরীচিকাভিমুখী তৃষার্ত পাখির ন্যায় ক্রমাগত সেই অতীত অবসরের দিকে ধাবিত হইতে লাগিল, কিছুতেই তাহার আর পিপাসা মিটিল না। এখন থাকিয়া থাকিয়া মনে কেবল উদয় হয়, ‘আহা, অমুক সময়টিতে যদি এমন করিতাম, অমুক প্রশ্নের যদি এই উত্তর দিতাম, তখন যদি এমন হইত।’

অপূর্বর মনে এই বলিয়া ক্ষোভ জন্মিয়াছিল যে, ‘মৃন্ময়ী আমার সম্পূর্ণ পরিচয় পায় নাই।’ মৃন্ময়ীও আজ বসিয়া বসিয়া ভাবে, ‘তিনি আমাকে কী মনে করিলেন, কী বুঝিয়া গেলেন।’ অপূর্ব তাহাকে যে দুরন্ত চপল অবিবেচক নির্বোধ বালিকা বলিয়া জানিল, পরিপূর্ণ হৃদয়ামৃতধারায় প্রেমপিপাসা মিটাইতে সম রমণী বলিয়া পরিচয় পাইল না, ইহাতেই সে পরিতাপে লজ্জায় ধিক্কারে পীড়িত হইতে লাগিল। চুম্বনের এবং সোহাগের সে ঋণগুলি অপূর্বর মাথার বালিশের উপর পরিশোধ করিতে লাগিল। এমনি ভাবে কতদিন কাটিল।

অপূর্ব বলিয়া গিয়াছিল, ‘তুমি চিঠি না লিখিলে আমি বাড়ি ফিরিব না। মৃন্ময়ী তাহাই স্মরণ করিয়া একদিন ঘরে দ্বাররুদ্ধ করিয়া চিঠি লিখিতে বসিল। অপূর্ব তাহাকে যে সোনালি-পাড়-দেওয়া রঙিন কাগজ দিয়াছিল তাহাই বাহির করিয়া বসিয়া ভাবিতে লাগিল। খুব যত্ন করিয়া ধরিয়া লাইন বাঁকা করিয়া অঙ্গুলিতে কালি মাখিয়া অর ছোটো বড়ো করিয়া উপরে কোনো সম্বোধন না করিয়া একেবারে লিখিল, ‘তুমি আমাকে চিঠি লিখ না কেন। তুমি কেমন আছ, আর তুমি বাড়ি এসো।’ আর কী বলিবার আছে কিছুই ভাবিয়া পাইল না। আসল বক্তব্য কথা সবগুলিই বলা হইয়া গেল বটে, কিন্তু মনুষ্যসমাজে মনের ভাব আর-একটু বাহুল্য করিয়া প্রকাশ করা আবশ্যক। মৃন্ময়ীও তাহা বুঝিল; এইজন্য আরো অনেকণ ভাবিয়া ভাবিয়া আর কয়েকটি নূতন কথা যোগ করিয়া দিল – ‘এইবার তুমি আমাকে চিঠি লিখো, আর কেমন আছ লিখো, আর বাড়ি এসো, মা ভালো আছেন, বিশু পুঁটি ভালো আছে, কাল আমাদের কালো গোরুর বাছুর হয়েছে।’ এই বলিয়া চিঠি শেষ করিল। চিঠি লেফাফায় মুড়িয়া প্রত্যেক অক্ষরটির উপর একটি ফোঁটা করিয়া মনের ভালোবাসা দিয়া লিখিল, শ্রীযুক্ত বাবু অপূর্বকৃষ্ণ রায়। ভালোবাসা যতই দিক, তবু লাইন সোজা, অক্ষর সুছাঁদ এবং বানান শুদ্ধ হইল না।

লেফাফায় নামটুকু ব্যতীত আরো যে কিছু লেখা আবশ্যক মৃন্ময়ীর তাহা জানা ছিল না। পাছে শাশুড়ি অথবা আর-কাহারও দৃষ্টিপথে পড়ে, সেই লজ্জায় চিঠিখানি একটি বিশ্বস্ত দাসীর হাত দিয়া ডাকে পাঠাইয়া দিল।

বলাবাহুল্য, এ পত্রের কোনো ফল হইল না, অপূর্ব বাড়ি আসিল না।

অষ্টম পরিচ্ছেদ

মা দেখিলেন, ছুটি হইল তবু অপূর্ব বাড়ি আসিল না। মনে করিলেন এখনো সে তাঁহার উপর রাগ করিয়া আছে।

মৃন্ময়ীও স্থির করিল, অপূর্ব তাহার উপর বিরক্ত হইয়া আছে, তখন আপনার চিঠিখানা মনে করিয়া সে লজ্জায় মরিয়া যাইতে লাগিল। সে চিঠিখানা যে কত তুচ্ছ, তাহাতে যে কোনো কথাই লেখা হয় নাই, তাহার মনের ভাব যে কিছুই প্রকাশ করা হয় নাই, সেটা পাঠ করিয়া অপূর্ব যে মৃন্ময়ীকে আরো ছেলেমানুষ মনে করিতেছে, মনে মনে আরো অবজ্ঞা করিতেছে, ইহা ভাবিয়া সে শরবিদ্ধের ন্যায় অন্তরে অন্তরে ছট্ফট্ করিতে লাগিল। দাসীকে বার বার করিয়া জিজ্ঞাসা করিল, “সে চিঠিখানা তুই কি ডাকে দিয়ে এসেছিস।” দাসী তাহাকে সহস্রবার আশ্বাস দিয়া কহিল, “হাঁ গো, আমি নিজের হাতে বাক্সের মধ্যে ফেলে দিয়েছি, বাবু তা এতদিনে কোন্ কালে পেয়েছে।”

অবশেষে অপূর্বর মা একদিন মৃন্ময়ীকে ডাকিয়া কহিলেন, “বউমা, অপু অনেকদিন তো বাড়ি এল না, তাই মনে করছি, কলকাতায় গিয়ে তাকে দেখে আসি গে। তুমি সঙ্গে যাবে ?” মৃন্ময়ী সম্মতিসূচক ঘাড় নাড়িল এবং ঘরের মধ্যে আসিয়া দ্বার রুদ্ধ করিয়া বিছানার উপর পড়িয়া বালিশখানা বুকের উপর চাপিয়া ধরিয়া হাসিয়া নড়িয়া-চড়িয়া মনের আবেগ উন্মুক্ত করিয়া দিল; তাহার পর ক্রমে গম্ভীর হইয়া, বিষন্ন হইয়া আশঙ্কায় পরিপূর্ণ হইয়া বসিয়া কাঁদিতে লাগিল।

অপূর্বকে কোনো খবর না দিয়া এই দুটি অনুতপ্তা রমণী তাহার প্রসন্নতা ভিক্ষা করিবার জন্য কলিকাতায় যাত্রা করিল। অপূর্বর মা সেখানে তাঁহার জামাইবাড়িতে গিয়া উঠিলেন।

সেদিন মৃন্ময়ীর পত্রের প্রত্যাশায় নিরাশ হইয়া সন্ধ্যাবেলায় অপূর্ব প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করিয়া নিজেই তাহাকে পত্র লিখিতে বসিয়াছে। কোনো কথাই পছন্দমত হইতেছে না। এমন একটা সম্বোধন খুঁজিতেছে যাহাতে ভালোবাসাও প্রকাশ হয় অথচ অভিমানও ব্যক্ত করে; কথা না পাইয়া মাতৃভাষার উপর অশ্রদ্ধা দৃঢ়তর হইতেছে। এমন সময় ভগ্নীপতির নিকট হইতে পত্র পাইল, ‘মা আসিয়াছেন, শীঘ্র আসিবে এবং রাত্রে এইখানেই আহারাদি করিবে। সংবাদ সমস্ত ভালো।’ – শেষ আশ্বাস সত্ত্বেও অপূর্ব অমঙ্গলশঙ্কায় বিমর্ষ হইয়া উঠিল। অবিলম্বে ভগ্নীর বাড়ি গিয়া উপস্থিত হইল।

সাক্ষাৎমাত্রই মাকে জিজ্ঞাসা করিল, “মা, সব ভালো তো ?”

মা কহিলেন, “সব ভালো। তুই ছুটিতে বাড়ি গেলি না, তাই আমি তোকে নিতে এসেছি।”

অপূর্ব কহিল, “সেজন্য এত কষ্ট করিয়া আসিবার কী আবশ্যক ছিল ; আইন পরীক্ষার পড়াশুনা-” ইত্যাদি।

আহারের সময় ভগ্নী জিজ্ঞাসা করিল, ‘দাদা, এবার বউকে তোমার সঙ্গে আনলে না কেন।”

দাদা গম্ভীরভাবে কহিতে লাগিল, “আইনের পড়াশুনা – ” ইত্যাদি।

ভগ্নীপতি হাসিয়া কহিল, “ও-সমস্ত মিথ্যা ওজর। আমাদের ভয়ে আনতে সাহস হয় না।”

ভগ্নী কহিল, “ভয়ংকর লোকটাই বটে। ছেলেমানুষ হঠাৎ দেখলে আচমকা আঁৎকে উঠতে পারে।”

এইভাবে হাস্যপরিহাস চলিতে লাগিল, কিন্তু অপূর্ব অত্যন্ত বিমর্ষ হইয়া রহিল। কোনো কথা তাহার ভালো লাগিতেছিল না। তাহার মনে হইতেছিল সেই যখন মা কলিকাতায় আসিলেন তখন মৃন্ময়ী ইচ্ছা করিলে অনায়াসে তাঁহার সহিত আসিতে পারিত। বোধ হয়, মা তাহাকে সঙ্গে আনিবার চেষ্টাও করিয়াছিলেন, কিন্তু সে সম্মত হয় নাই। এ সম্বন্ধে সংকোচবশত মাকে কোনো প্রশ্ন করিতে পারিল না – সমস্ত মানবজীবন এবং বিশ্বরচনাটা আগাগোড়া ভ্রান্তিসংকুল বলিয়া বোধ হইল। আহারান্তে প্রবলবেগে বাতাস উঠিয়া বিষম বৃষ্টি আরম্ভ হইল।

ভগ্নী কহিল, “দাদা, আজ আমাদের এখানেই থেকে যাও।”

দাদা কহিল, “না, বাড়ি যেতে হবে; আজ কাজ আছে।”

ভগ্নীপতি কহিল, “রাত্রে তোমার আবার এত কাজ কিসের। এখানে এক রাত্রি থেকে গেলে তোমার তো কারও কাছে জবাবদিহি করতে হবে না, তোমার ভাবনা কী।”

অনেক পীড়াপীড়ির পর বিস্তর অনিচ্ছা-সত্ত্বে অপূর্ব সে রাত্রি থাকিয়া যাইতে সম্মত হইল।

ভগ্নী কহিল, ‘দাদা, তোমাকে শ্রান্ত দেখাচ্ছে, তুমি আর দেরি করো না, চলো শুতে চলো।” অপূর্বরও সেই ইচ্ছা। শয্যাতলে অন্ধকারের মধ্যে একলা হইতে পারিলে বাঁচে, কথার উত্তর-প্রত্যুত্তর করিতে ভালো লাগিতেছে না।

শয়নগৃহের দ্বারে আসিয়া দেখিল ঘর অন্ধকার। ভগ্নী কহিল, “বাতাসে আলো নিবে গেছে দেখছি। তা, আলো এনে দেব কি, দাদা।”

অপূর্ব কহিল, “না, দরকার নেই, আমি রাত্রে আলো রাখি নে।”

ভগ্নী চলিয়া গেলে অপূর্ব অন্ধকারে সাবধানে খাটের অভিমুখে গেল। খাটে প্রবেশ করিতে উদ্যত হইতেছে এমন সময়ে হঠাৎ বলয়নিক্বণশব্দে একটি সুকোমল বাহুপাশ তাহাকে সুকঠিন বন্ধনে বাঁধিয়া ফেলিল এবং একটি পুষ্পপুটতুল্য ওষ্ঠাধর দস্যুর মতো আসিয়া পড়িয়া অবিরল অশ্রুজলসিক্ত আবেগপূর্ণ চুম্বনে তাহাকে বিস্ময়প্রকাশের অবসর দিল না। অপূর্ব প্রথমে চমকিয়া উঠিল, তাহার পর বুঝিতে পারিল, অনেক দিনের একটি হাস্যবাধায়-অসম্পন্ন চেষ্টা আজ অশ্রুজলধারায় সমাপ্ত হইল।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা উপন্যাস গল্প জীবনী ও স্মৃতিকথা বিনোদন ভয়ংকর(হরর) ভালবাসা/প্রণয়লীলা ভুতুরে গল্প ভ্রমণ কাহিনী সৃজনশীল প্রকাশনা

বিষন্ন বিরিওজা-১, ২, ৩ ও ৪

বিষন্ন বিরিওজা

———————– ডঃ রমিত আজাদ

Birch_Tree_1

বিষন্ন বিরিওজা – ১
———————–

আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না, আমার কি হয়েছে। আমার কি ঘুম ভেঙেছে, নাকি আমি ঘুমিয়েই আছি? আমার মনে হলো আমি আধো ঘুম আধো জাগ্রত একটা অবস্থার মধ্যে আছি। আমার চোখ কি খোলা? ঠিক তা বুঝতে পারলাম না। আমার মনে হলো আমার চোখ আধো বন্ধ, আধো খোলা। একটু পরে একটা অদ্ভুত অনুভূতি হলো আমার। একটা মেয়ের হাত আমার মুখের উপর। আমার কপালটা স্পর্শ করবে করবে এমন। আমি একটু ভালোভাবে চোখ মেলে দেখার চেষ্টা করলাম। কিন্তু সেটা করতে পারলাম না। চোখ কিছুতেই পুরোপুরি খুলতে পারছিনা। হাতটি আমার মুখের উপর থেকে সরে গেল। আমি ভাবলাম এবার উঠে বসব। কিন্তু কিছুই করতে পারলাম না। যেমন ছিলাম তেমনি শুয়ে আছি। একটু পর আবার হাতটি ফিরে এলো। আবারো আমার কপাল স্পর্শ করবে করবে এমন। ভীষণ অস্বস্তি হচ্ছে, পাশ ফিরতে চাইলাম, তাহলে মেয়েটির পুরো শরীরটা দেখতে পাবো। নাহ্, আবারো কিছুই করতে পারছি না। কি অদ্ভুত! এমন হচ্ছে কেন?

যখন ঘুম পুরোপুরি ভাঙল তখন সকাল নয়টা বাজে। আমি একেবারে ঝরঝরে তরতাজা। ঘুমের মধ্যে কোন সমস্যা হয়েছে এমন অনুভূতিই শরীরে নেই। বিশাল কাঁচের জানালা দিয়ে বাইরে তাকালাম। গ্রীস্মের ঝকঝকে দিন। এই প্রচন্ড ঠান্ডা দেশের গ্রীস্মের দিনগুলি অদ্ভুত সুন্দর হয়। এমনই একটি সুন্দর আগস্ট মাসের দিন। বিছানায় উঠে বসলাম। স্মৃতিতে আবার ফিরে এলো ঘটে যাওয়া অস্বাভাবিক ঘটনাটি। কি ঘটেছিল? ঠান্ডা মাথায় পুরো ঘটনাটি মনে করার চেষ্টা করলাম। সব কিছুই স্পষ্ট মনে করতে পারলাম। কিন্তু তারপরেও বুঝতে পারলাম না, এটা স্বপ্ন ছিল কিনা। আমার মন বলছে এটা স্বপ্ন নয়। আমি খুব বেশী স্বপ্ন দেখি, স্বপ্নহীন রাত আমার জীবনে ছিল মাত্র একবার। স্বপ্নের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতার সাথে আজকের ঘটে যাওয়া ঘটনার কোন মিল নেই। কার সাথে ডিসকাস করব এই বিষয়? সেই মুহূর্তে পাশে কেউ ছিলও না। ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস্ ডরমিটরির ঐ রূমটিতে আমি একাই থাকি।

বাংলাদেশী কারো সাথে ডিসকাস করার সুযোগ এই হোস্টেলে নেই। কারণ এখানে আমি একাই বাংলাদেশী । আমার হোস্টেলটি যেই এলাকায় তার নাম আতাকারা ইয়ারোশা স্ট্রীট। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত এক চেক সৈন্যের নাম আতাকার ইয়ারোশ, তারই সম্মানে স্ট্রীটটির নাম। এটি মূলতঃ একটি স্টুডেন্টস টাউন। স্ট্রীটের দুপাশে ছোট-বড় নানা সাইজের হোস্টেল। ইউক্রেনের পুরাতন রাজধানী খারকভে এত বেশী ইউনিভার্সিটি, ইনস্টিটিউট রয়েছে যে এটাকে ছাত্রছাত্রীদের শহর বলা হয়। আমার হোস্টেলে না থাকলেও আশেপাশের বিভিন্ন হোস্টেলে দু’চারজন করে বাংলাদেশী রয়েছে। তাদের কারো সাথে গিয়ে ডিসকাস করা যেতে পারে।

যাকগে, আপাততঃ বাদ দেই। এত সুন্দর উষ্ণ রৌদ্রজ্জ্বল দিন। তার উপর ভ্যাকেশন চলছে। এত সুন্দর দিনটা মাটি করার দরকার নেই। হাতমুখ ধুয়ে, ব্ল্যাক কফি, অমলেট আর টোস্ট দিয়ে একটা চমৎকার ব্রেকফাস্ট সারলাম। এখন কি করা যায়? ঘরে বসে থাকব না অবশ্যই। সামারে ঘরে বসে থাকার মত বেরসিক আমি নই। বাইরে বের হতে হবে। জিনসের প্যান্টের সাথে মানানসই হালকা নীল রঙের একটা টি শার্ট পড়লাম। তারপর রূমে তালা দিয়ে বেড়িয়ে পড়লাম বাইরে।

খারকভ শহরটি মস্কো বা কিয়েভ-এর তুলনায় সুন্দর না হলেও, ঢাকা বা দিল্লির তুলনায় অনেক অনেক সুন্দর। প্রতিটি রাস্তাই ম্যাকাডাম সড়ক। অর্থাৎ পিচ ঢালা গাড়ী চলার রা্স্তার দুপাশে চওড়া ফুটপাত। ফুটপাতের দুপাশে দুই সারি করে রাস্তার এপাশে ওপাশে চার সারিতে গাছ।বাংলাদেশ গাছের দেশ হওয়ার পরও শহরগুলো বৃক্ষহীন রুক্ষ, একেবারেই নেড়া। আর এখানে অল্প কিছু ভ্যারাইটির গাছ নিয়েই শহরগুলোকে ওরা করে তুলেছে গাছে গাছে ভরপুর। তবে এই গাছের সৌন্দর্য্য সারা বছর দেখার সুযোগ নেই। শীতমন্ডলীয় জলবায়ুর কারণে, বছরে প্রায় ছয়মাসই গাছগুলো থাকে পাতাশূণ্য। চিত্রকরদের আঁকা পত্রপল্লবহীন বৃক্ষরাজী যেমনটি আঁকা থাকে ক্যানভাসে ঠিক তেমনটিই এখানে বাস্তবে দেখা যায়। আর বাকী ছয়মাস উজ্জ্বল সবুজ পাতায় পাতায় ছেয়ে থাকা গাছগুলো ঢেকে ফেলে সমস্ত পথঘাট।

বরফ ঢাকা তুহীন শীতের পর এমন পত্রপল্লবের মায়া আর মৃদু মৃদু উষ্ণ হাওয়ার পরশ মনটাকে সারাক্ষণ ফুরফুরে রাখে। এটা ঘরে বসে থাকার সময় নয়, তাই ছেলে-বুড়ো, তরুণ-তরুনী সবাই বেরিয়ে আসে বাইরে। আমাদের তরুণদের এই সময়ের আরেকটি আকর্ষণ হলো, সংক্ষিপ্ত পোষাকের তরুনীরা। শীতকালে যে তাদের সংক্ষিপ্ত পোষাকে দেখা যায়না তা নয়, তবে সেটা ঘরের ভিতরে। আর সামারে বাইরেই দেখা যায় মিনি স্কার্ট, শর্টস ইত্যাদি পরিহিতা তরুনীদের। পুরুষ মানুষের নারীকায়ার প্রতি আকর্ষণ অস্বাভাবিক কিছু নয়। গ্রীস্মের ঘন সবুজ বৃক্ষরাজী, ফলের শোভা ও উষ্ণ হাওয়ার পাশাপাশি এটাও বেশ উপভোগ করি।
উদ্দেশ্যহীনভাবে কতক্ষণ ঘোরাঘুরি করে তারপর ক্যাফেতে ঢুকে এক কাপ কফি খেলাম। তারপর ভাবলাম কোথাও যাওয়া দরকার। কোথায় যাই? সকালের ঘটনাটি কারো সাথে শেয়ার করতে ইচ্ছে করছিল। শেষমেষ ঠিক করলাম নীলিমার কাছে যাব।

নীলিমা থাকে শহরের ভিতরেই আরেকটি স্টুডেন্টস টাউনে। আতাকারা ইয়ারোশা থেকে দশ-বারো কিলোমিটার দূরে হবে। জায়গাটির নাম ‘ৎেসলিনা গ্রাদস্কায়া’। ও পড়ে খারকভ স্টেট মেডিকেল ইনস্টিটিউশনে। উঠে গেলাম একটি ট্রলিবাসে। সোভিয়েত ইউনিয়নে যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই ভালো। ট্রান্সপোর্টের জন্য কখনো কাউকে কোন কষ্ট করতে হয়না। নানা ধরনের পাবলিক ট্রান্সপোর্ট আছে। বাস, ট্রলিবাস, ট্রাম, মেট্রো ইত্যাদি ট্রান্সপোর্ট খুব ভালো সার্ভিস দেয়। তাও সামান্য খড়চায়। প্রথম দিকে তিন রুবলের একটা মান্থলি কার্ড কিনে নিলেই মাটির উপরের সব পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যাভার করা যেত। আর আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রোসহ হলে পাঁচ রুবলের মত লাগত। এই রেট চলেছে বহু বছর। সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙনের পর ভাড়া কিছুট বৃদ্ধি পেয়েছে সত্য, তারপরেও তেমন কিছু নয়। আর স্টুডেন্ট হিসাবে ৫০% ডিসকাউন্ট তো আছেই। মাসের শুরুতে একটা মান্থলি কার্ড কিনে নেই, তারপর সারা মাস যেখানে খুশী যাই। সালাম এই বিষয়ে পলিসি মেকারদের।

চলতে চলতে বেশ কয়েকটি স্টপেজ পার হয়ে টুয়েন্টি থার্ড অগাস্ট পার হয়ে দুটা রেসিডেন্সিয়াল এরিয়াকে কানেকটিং দুই লেনের একটি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল ট্রলিবাসটি। এখানে রাস্তার দুইধারে ফরেস্ট পার্ক । সেখানে সারি সারি লাগানো আছে, বিরিওজা গাছ। এই গাছটি ইউক্রেন, রাশিয়াতে খুব কমন। ঐ ফরেস্ট পার্ক এরিয়া পেরিয়ে অবশেষে ‘ৎেসলিনা গ্রাদস্কায়া’ স্টপেজে এসে থামলো। আরো কয়েকজনের সাথে আমইও সেখানে নেমে পড়লাম। কিছু খোলা জায়গা পেরিয়ে মেডিকেল ইনস্টিটিউটের ১০ নং হোস্টেলটিতে এসে পৌছুলাম। হোস্টেলের গেটে একজন বসে থাকে, রুশ ভাষায় তাকে ভাখতিওর বলে। সে কর্কশ গলায় বলল, ” তোমার স্টুডেন্ট আইডি কার্ডটা রেখে যাও”। এই দেশে এই একটা সমস্যা সমাজতন্ত্রের কল্যাণে বুরোক্রেসি এত হাই লেভেলে আছে যে, কেউ সামান্য একটু ক্ষমতা পএলএই সেটা শো না করে ছাড়েনা। ওর কাছে কার্ডটি রেখে, উপরে উঠে গেলাম। এখানকার বিল্ডিং কোড অনুযায়ী দালান পাঁচ তলার উপরে হলেই, লিফট রাখতে হবে। এই হোস্টেলটি সাত তলা। নীলিমা থাকে ছয় তলায়। আমি লিফট পারতপক্ষে কম ব্যবহার করার চেস্টা করি। আমি যখন ল্যংগুয়েজ কোর্সে ছিলাম, তখন একটি লিফট্ দুর্ঘটনায় ফাদেল নামে আমার সিরিয়ান এক বন্ধু মারা গিয়েছিল। ও ছিল বারো তলায়। লিফটের ভিতরে ওর সুটকেসটি ঢোকানোর পরপরই লিফটের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। ও তখন দরজা খোলার সুইচে বারংবার চাপ দিতে থাকে, এক পর্যায়ে দরজা খুলে যায়। ফাদেল নিশ্চিন্ত মনে লিফটে পা রাখে। আসলে লিফট তখন আর সেখানে ছিলনা। লিফট চলে গিয়েছিল উপরে। ম্যালফাংশন হয়ে লিফটের দরজা খুলে গিয়েছিল। পা দেয়ার সাথে সাথে ফাদেল বারো তলা থেকে নীচে পড়ে যায়। হাসপাতালে নিতে নিতেই ও মৃত্যুবরণ করে। ঘটনাটি আমার মনে গভীর দাগ কেটেছে। সেই থেকে আমি খুব সাবধানে লিফট ব্যবহার করি।

হেটে হেটে আমি ছয়তলায় উঠে গেলাম। ৬১০ নং রূমের সামনে এসে একটু সময় নিলাম। নীলিমা রূমে নাও থাকতে পারে। যদিও এখন ভ্যাকেশন চলছে, কিন্তু আমারই মতো হয়তো সামারের সুন্দর আবহাওয়া উপভোগ করতে বাইরে গিয়েছে। আবার রূমে থাকলেও, বয়ফ্রেন্ড নিয়ে বিজিও থাকতে পারে। নীলিমা কোলকাতার মেয়ে। ভারতীয় বাঙালী মেয়ে। অবশ্য ওকে দেখলে চট করে বোঝা যায়না যে, ও বাঙালী। ও শরীরে বড়সড়। গায়ের রং একটু বেশীই কালো। আবার ভারতীয় পোষাকেও ওকে আমি কখনো দেখিনি। প্যান্ট-শার্ট, স্কার্ট-টপস এই জাতীয় ইউরোপীয় বা আধুনিক পোষাক ব্যবহার করে। অনেকে ওকে আফ্রিকান বলে ভুল করে। এদিকে ওর বয়ফ্রেন্ডও আফ্রিকান। ওকে নিয়ে ভারতীয় কম্যুনিটিতে বদনামের অন্ত নেইঃ “মেয়েটার কোন কান্ডজ্ঞান নেই, শেষ পর্যন্ত একটা কালুর সাথে লাইন করল! শুধু কি লাইন? রীতিমত লীভ টুগেদার করে! না ভারতীয় মেয়েদের মান সম্মান আর কিছু রাখলো না!” নীলিমা অবশ্য পাল্টা কথা বলে, ” আহারে আমার ইন্ডিয়ান ছেলেরা! নিজেরা যে গন্ডায় গন্ডায় সাদা মেয়েদের সাথে রাত কাটাচ্ছ, লীভ টুগেদার করছ ওটা কিছু না! আর একটা ইন্ডিয়ান মেয়ে একটা আফ্রিকান ছেলের সাথে কিছু করলেই মান গেল? ওরা যদি লাইফ এনজয় করতে পারে, আমি পারব না?”

নীলিমা আমার ব্যাচমেইট। সেকেন্ড ইয়ার থেকেই ওর সাথে আমার পরিচয়। তখন থেকেই ভালো সম্পর্ক। আমি মাঝে মাঝে ওর রূমে যাই, ওও আমার রূমে আসে। কখনো একা, কখনো বয়ফ্রেন্ড নিয়ে। আমি ওর রূমের সামনে দাঁড়িয়ে ওর রূমের ভিতর গানের শব্দ শুনতে পেলাম। একটু কান খাড়া করলাম। মান্না দে’র গান বাজছে, ‘চাইনা পূণ্য করে স্বর্গে যেতে, ঐ স্বর্গকে ধরে ফেলি হাতের মুঠোয়, যদি একবার হাতখানি রাখো এহাতে’। বুঝলাম রূমে আছে। দরজায় মৃদু নক করলাম। দ্বিতীয়বার নক করার আগে একটু সময় নিলাম। তারপর আবার নক করলাম। সাথে সাথে দরজা খুলল নীলিমা।
নীলিমাঃ রিমন! আমি জানতাম এটা তুমি।
আমিঃ কি করে বুঝলে।
নীলিমাঃ তোমাকে কি আমি আজ প্রথম দেখলাম? এতগুলো বছর ধরে তোমাকে চিনি। তুমিই একমাত্র ছেলে যে প্রথমবার নক করে ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করে, দ্বিতীয়বার নক কর। অন্য ছেলেরা পরপর শুধু নক করতেই থাকে // এসো ভিতরে এসো।
ভিতরে ঢুকে একটা সোফা কাম বেডে বসলাম। এখানকার ডরমিটরিতে এই ফার্নিচারটি কমন। দিনের বেলা এটি গুটিয়ে রূমটিকে ড্রইংরুমের মত সাজিয়ে রাখা হয়, আবার রাতে খুলে বেড বানিয়ে ঘুমানো হয়।
আমিঃ তারপর, বংফিম কোথায়?
নীলিমাঃ নাই।
আমিঃ নাই মানে? (মনে মনে ভাবলাম, আবার ওদের কাট আপ হয়ে গেল কিনা)
নীলিমাঃ নাই, মানে নাই। এ্যংগোলা গিয়েছে। সামার ভ্যাকেশন কাটাতে।
আমিঃ ও আচ্ছা। তাই বুঝি বসে বসে বাংলা গান শোনা হচ্ছে?
নীলিমাঃ না না। বাংলা গান তো আমি ও থাকতেও শুনি। তোর খবর কি বল?
আমিঃ উঁ, খবর খারাপ না। ভালোই। তুই দেশে যাবিনা, ছুটি কাটাতে?
নীলিমাঃ নারে, এবছর যাওয়া হবেনা। টিকিটের দাম খুব বেড়েছে। তুই যাবি?
আমিঃ না আমিও ঐ একই কারণে যেতে পারছি না।
নীলিমাঃ কি যে হলো, এই ইকোনমিক ক্রাইসিসে। ভীষণ অর্থনৈতিক সমস্যা।
আমিঃ বংফিম তো ঠিকই যাচ্ছে!
নীলিমাঃ আরে ও তো আর বাপের টাকায় যায়না। ওরা এ্যংগোলিয়ানরা, সরকারের কাছ থেকে মোটা অংকের স্টাইপেন্ড পা্য। তাতেই রাজার হালে আছে।
আমিঃ বেশ ভালো দেশ তো!
নীলিমাঃ বলতে পারিস। আমাদের মতো না। দেশের ছাত্রছাত্রীদের কোন মাথাব্যাথা নেই।
আমিঃ এংগোলার প্রেসিডেন্টতো রাশিয়াতে পড়ালেখা করেছিল।
নীলিমাঃ জানি। সেই কারণেই হয়তো সিমপ্যাথিটা বেশি। দাঁড়া, চা করি। না কি কফি খাবি।

আমিঃ চা/কফি যে কোন একটা কিছু হলেই হবে। তা চায়ের সাথে কি টা থাকবে? না কি কোলকাতা স্টাইলে বলবি, “দাদা কি খেয়ে এসেছেন না কি গিয়ে খাবেন?”
একগাল হাসলো নীলিমা,
নীলিমাঃ ফাজলামো রাখ। সবাই একরকম না। আর তুই তো জানিস, আমরা চিটাগাং থেকে মাইগ্রেট করা। ইস্ট বেঙ্গলীরা কন্জুস হয়না।
আমিঃ তুই তো আর মাইগ্রেট করিস নি। তোর দাদা করেছিল। তোর জন্ম তো কন্জুসের দেশেই।
নীলিমাঃ তা হলেও, ফ্যামিলি ট্রেডিশন থেকেই যায়। আমাকে কখনো কন্জুসামী করতে দেখেছিস?
আমিঃ না, তা দেখিনি। বরাবরই উদার। তা আজকে কি উদারতা। দেখাবি বল।
নীলিমাঃ এই নে বিস্কিট। খুব টেস্টি। নারকেল মেশানো আছে।
আমিঃ বাহ! দে খাই।
চা খেতে খেতে প্রশ্ন করল নীলিমা।
নীলিমাঃ শ্তো নোভিন্কা (নতুন কি আছে)?
আমিঃ কি নতুন চাস?
নীলিমাঃ তোর তো কোনকালে কোন গার্ল ফ্রেন্ড ছিল না। হঠাৎ গার্ল ফ্রেন্ড যদি হয়, সেটা নতুন কিছু হতে পারে।
আমিঃ না সেরকম নতুন কিছু নাই। তবে একটা আশ্চর্য্য নতুন বিষয় আছে।
নীলিমাঃ আশ্চর্য্য নতুন বিষয়! কি সেটা?

আমি সকালের পুরো ঘটনাটা ওকে খুলে বললাম। শুনে কিছুক্ষণ ঝিম মেরে রইলো নীলিমা। তারপর ধীরে ধীরে বলল
নীলিমাঃ আমরা মেডিকেলের সিনিয়র কোর্সের ছাত্রী। আর দুয়েক বৎসর পরেই ডাক্তার হয়ে যাব। বিষয়টাকে মেডিকেল পয়েন্ট অব ভিউ থেকে দেখলেই ভালো হয়। তারপরেও আমার কাছে অন্যরকমই মনে হচ্ছে। তোকে কয়েকটা প্রশ্ন করি।
আমিঃ কর।
নীলিমাঃ তুই ক’দিন হলো ঐ রূমে এসেছিস?
আমিঃ আরে নতুন। এই ভ্যাকেশনেই।
নীলিমাঃ এর আগে তোর কখনো এরকম অভিজ্ঞতা হয়েছিল?
আমিঃ না।
নীলিমাঃ তুই একটু খোঁজ নে তো। ঐ রূমে আগে কারা কারা ছিল। যারা ছিল তাদের ওরকম কোন অভিজ্ঞতা আছে কিনা।রূমটাও একটু ভালো করে চেক করে দেখিস।

আমার ডরমিটরিতে ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে গেল। ফ্রীজ থেকে খাবার বের করে গরম করে নিয়ে খেতে খেতে টিভি সেটটা অন করলাম। প্রাইভেট চ্যানেলে একটা ম্যুভি চলছিল, ‘মিস্তিকা’ – রহস্যরোমাঞ্চ। হঠাৎ নীলিমার কথা মনে হলো – ‘রূমটাও একটু ভালো করে চেক করে দেখিস’। খাওয়া শেষ করে আমি একটু ভালো করে রূমটা দেখতে লাগলাম। রূমে শিফট হওয়ার সময় তো একেবারেই খালি ছিল। তেমন কোন কিছু তো থাকার কথা নয়। হঠাৎ দেয়ালে চোখ পড়ল। জানালার দিকে মুখ করে তাকালে ডান পাশের দেয়ালে ওয়াল পেপার হালকা ক্রীম কালারের উপর কালো আর মেরুন কালারের প্রিন্টের উপর কিছু একটা দেখলাম। ভালো করে দেখার জন্য কাছে এগিয়ে গেলাম। একটা ম্যাচের কাঠি, গাম দিয়ে ওয়াল পেপারে লগানো। ম্যাচের কাঠির রং আর ওয়াল পেপারের মূল রং একই রকম হওয়ায় চট করে চোখে পড়েনা। ম্যাচের কাঠিটার সাথে কি যেন। চোখ খুব কাছে নিয়ে দেখলাম একটা মেয়ের চুল কাঠিটা থেকে নীচের দিকে ঝুলছে। ওয়াল পেপার আর ম্যাচের কাঠির মাঝখানে চুলটা রেখে গাম দিয়ে লাগানো হয়েছে। চুলের রং দেখে বোঝা যাচ্ছে মেয়েটি স্বর্ণকেশিনী।

-birch-trees2-sunshine-in-the-green-forest

বিষন্ন বিরিওজা – ২
—————————-

কার চুল এটা? কে এই মেয়েটি? এই রূমেই কি থাকত মেয়েটি? নাকি কারো বান্ধবী ছিল? স্মৃতি হিসাবে চুলটি রেখে দিয়েছে? কি জানি! এরপর একটা ভয়াল ধারনা আমাকে ঘিরে ধরল, মেয়েটি কি বেঁচে আছে?

রূমে আমি একাই থাকি। বেশ ভয় ভয় করতে লাগলো। রাতটা কাটাবো কি করে তাই ভাবছি। ভয় কাটানোর জন্য রূমের বাইরে করিডোরে বেরিয়ে এলাম। এখন রাত বারোটার মত। কিন্তু ডরমিটরিতে এটা কোন রাত না। করিডোরে লোক চলাচল আছে। মিনি স্কার্ট পরিহিতা একটি মেয়েকে হেটে যেতে দেখলাম। বেশ সাজগোজ করেছে। এখানকার মেয়েরা সবাই খুব ফ্যাশনেবল, অতিরিক্ত সাজগোজটা স্বাভাবিক। কিন্তু মেয়েটাকে পরিচিত মনে হলোনা। আমাদের হোস্টেলের হলে চিনতাম। হোস্টেলে কারো কাছে এসেছে বোধহয়। সাজগোজ দেখে মনে হচ্ছে ডেটিং-এ এসেছে।

কিছুক্ষণ করিডোরে থেকে ভয় কিছুটা কাটলো। রূমে ফিরে গেলাম। টিভি সেট অন করাই ছিল। মিস্তিকা ছবিটি এখনও চলছে – একটি মেয়ে একটি অচেনা শহরে হারিয়ে গিয়েছে, সেখানে অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটছে, এই নিয়ে ছবিটি। মনের এই অবস্থা নিয়ে ছবিটি আর দেখতে ভালো লাগছিল না। চ্যানেল চেইন্জ করলে হয়। নাহ্ একবারে সেটটি বন্ধই করে দিলাম। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালাম, ঘোর অন্ধকার। প্রথম পারমাণবিক পাওয়ার প্লান্ট প্রতিষ্ঠাকারী এই দেশটায়, বিদ্যুৎের সমস্যা হয়না। বরং রাশিয়ানরাই ইউরোপে বিদ্যুৎ রপ্তানী করে। ইউক্রেন বিদ্যুৎ রপ্তানী না করলেও তাদের নিজস্ব চাহিদা বেশ ভালোই মেটে। আমার জানালার বাইরে অন্ধকার থাকার কারণ ভিন্ন। বাইরে কিছুদূর পর্যন্ত কোন বিল্ডিং নেই। ঘন গাছপালা। তারা মধ্যে বিরিওজাই বেশি। আমার ঠিক জানালা বরাবরই সাত-আটটা বিরিওজা আছে।

আমি এম্নিতে সিগারেট খাইনা। মনের অস্বস্তিটা কাটানোর জন্য একটা সিগারেট খাব ঠিক করলাম। আলমারী খুলে মার্লবোরো সিগারেটের প্যকেটটা বের করলাম। এই সিগারেটটি এখানে খুব জনপ্রিয়। কিনে রেখেছি এক প্যকেট। হঠাৎ হঠাৎ খাই। সিগারেট ধরাতে গিয়ে দেখলাম লাইটারটা খুঁজে পাচ্ছিনা। কি করা যায়? কিচেনে গিয়ে দেখি। চুলা জ্বালানো থাকলে সিগারেট ধরানো যাবে।

ফ্লোরে দুটা কিচেন আছে। আমার রূমের কাছের কিচেনটির দিকে গেলাম। কিচেনে ঢুকেই একটা ধাক্কা খেলাম। কিছুক্ষণ আগে দেখা মিনিস্কার্ট পরিহিতা মেয়েটি ওখানে আরেকটি ছেলের সাথে আলিঙ্গনাবদ্ধ অবস্থায়। একে অপরের অধরসুধা পান করছে। ছেলেটি আমাদের ফ্যাকাল্টিরই থার্ড ইয়ারের ছাত্র – ইভান। সেই মুহুর্তে ওরা দুজন গভীর আবেগে একে অপরের সান্নিধ্য উপভোগ করছিল। এসময় আমার ওখানে থাকা মানে ওদের প্রাইভেসি নষ্ট করা। সিগারেট না ধরিয়েই বেরিয়ে এলাম।

করিডোরের অপর পাশের কিচেনটার দিকে এগিয়ে গেলাম। হঠাৎ উপর তলার সিঁড়ি দিয়ে নেমে এলো মেক্সিকোর খোসে। আমাকে দেখেই চিৎকার করে বলল, “আরে রিমন, কেমন আছো? দিনকাল কেমন যাচ্ছে? হা হা হা।” ওর কথার ধরন দেখেই বুঝলাম, মাত্রাতিরিক্ত শরাব পান করেছেন। এই খোসে এম্নিতে ভদ্রলোক, কিন্তু মদের এমনই গুন, যে ভদ্রকেও অভদ্র বানিয়ে ফেলে। এই মদখোরদের দেশে আসার পর থেকে ইসলাম ধর্মের একটি আইনের প্রতি আমার বিশেষ শ্রদ্ধাবোধ তৈরী হয়েছে -‘মদ খাওয়া হারাম’। পায়ে পায়ে সরে গেলাম। খোসে সম্পর্কে প্রচলিত আছে, মাতাল অবস্থায় সে ভয়াবহ হয়ে ওঠে। একবার কার সাথে যেন বেদম মারপিট করেছিল। নাহ সিগারেট ধরানো হলোনা। রূমে ফিরে এলাম।

রাতে ভালো ঘুম এল না। ঘুমটা বারবার ছিঁড়ে ছিঁড়ে যাচ্ছিল। একবার ঘুমের মধ্যেই স্বপ্ন দেখলাম। আবছা আবছা সব কিছু … কী একটা গাছ দেখতে পেলাম, গাছটার পাতা ছোট ছোট, সবুজ সুন্দর পাতাগুলো বাতাসে তিরতির করে কাঁপছিল।

সকালে ঘুম থেকে উঠলাম সাউন্ড স্লিপ হয়নি এমন ভাব নিয়ে। যাহোক হাতমুখ ধুয়ে নাস্তা করলাম। নাস্তায় চা খাওয়ার পরও, আবার এককাপ গরম ব্ল্যাক কফি বানালাম। এখানকার কফির স্বাদ ভালো। রিয়েল বীন কিনতে পাওয়া যায়। আমি সেটা ভাঙিয়ে কফি বানাই। খুব সুন্দর সুঘ্রানে মন ভরে যায়। ধুমায়িত কফির কাপটি হাতে নিয়ে জানালার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। হঠাৎ চোখে পড়ল জানালার বাইরে গাছগুলোর দিকে। আরে ঐতো কয়েকটি বিরিওজা গাছ! এই গাছই তো আজকে রাতে স্বপ্ন দেখেছি। প্রবল অস্বস্তি আমাকে ঘিরে ধরল। কিছু বইয়ে পড়েছিলাম, স্বপ্ন রঙিন হয়না, বরাবরই সাদাকালো। কিন্তু কথাটা আমি বিশ্বাস করিনা, আমি জীবনে বহু রঙিন স্বপ্ন দেখেছি। স্বপ্নে টকটকে লাল গোলাপ দেখেছি, হরেক রঙের বাহারী ফুল দেখেছি, নীল সাগরের ঢেউ দেখেছি, গতরাতেও তো সবুজ পাতা দেখলাম। কিন্তু বিষয়টা কি? বিরিওজা গাছ স্বপ্নে দেখব কেন? আবার ভাবলাম স্বপ্ন স্বপ্নই, কতকিছুই তো স্বপ্নে দেখা যায়। ফ্রয়েডের স্বপ্ন ব্যাখ্যার উপর একটা বই পড়েছিলাম। আমার অবচেতন মনে যা আছে সেটাই স্বপ্ন হয়ে ধরা দেয়। অভিজ্ঞতার বাইরে স্বপ্ন হয়না। হ্যা তাইতো, আমার জানালার বাইরে এই কয়েকদিন যাবৎ তো বিরিওজা দেখছি, তো স্বপ্নে বিরিওজা আসতেই পারে।

হঠাৎ চোখ পড়ল ওয়াল পেপারের গায়ে ম্যাচের কাঠি লাগানো সোনালী চুলটার দিকে। গতরাতে ভালোভাবে চোখে পড়েনি। ম্যাচের কাঠিটি ওখানে একা নয়। একটা চেয়ার টেনে ওটার উপরে উঠে, খুব কাছে গিয়ে দেখলাম, ম্যাচের কাঠিটির সাথেই খুব সুক্ষ একটা কঞ্চি, গাছের ডালের শেষ অগ্রভাগটি। ম্যাচের কাঠিটির সাইজে কেটে তার সাথে লাগানো। এটা বিরিওজা গাছের ডালের সুক্ষ কঞ্চি হতে পাড়ে। কয়েক সেকেন্ডের জন্য স্থির হয়ে গেলাম। ডানা ঝাপটানোর আওয়াজ পেলাম, এক ঝাক পায়রা বিরিওজা গাছগুলো থেকে গ্রীস্মের উজ্জ্বল নীল আকাশে উড়ে গেল। আমি চেয়ার থেকে পড়তে পড়তে সামলে নিলাম। আমার অস্বস্তি আরো ঘনিভুত হলো।

টুক টুক টুক। দরজায় নকের শব্দ হলো। কে আবার এলো? দরজা খুলে দেখলাম, সাশা কাস্তুচেনকা। আমার ক্লাসমেইট এই ছেলেটি খুব ভালো ও ভদ্র। কখনোই কাউকে মনে আঘাত দিয়ে কথা বলে না। আমাকে খুব পছন্দ করে। আমিও ওকে পছন্দ করি।
আমিঃ আরে আরে এসো।
আমার ডিভানটার উপরে বেশ ভদ্রভাবে বসলো সাশা।
সাশাঃ তারপরে কেমন আছো? নতুন রূমে কেমন লাগছে?
আমিঃ তুমিই তো হেল্প করলে ঐদিন, মাল টনাটানি করতে।
সাশাঃ আরে কিছুনা। বন্ধুকে যদি হেল্প করতে না পারি, তো কিসের বন্ধু।
আমিঃ তারপরেও তোমাকে আরেকবার ধন্যবাদ।
সাশাঃ বাদ দাও। তোমার কেমন কাটছে বলো? গতকাল একবার এসেছিলাম বিকালের দিকে। তুমি ছিলেনা বোধহয়।
আমিঃ না, ছিলাম না। ৎেসলিনা গ্রাদস্কায়ায় গিয়েছিলাম।
সাশাঃ তোমার বান্ধবীর কাছে?
আমিঃ আরে আরে আমার বান্ধবীর কাছে না, এ্যাংগোলার বংফিমের বান্ধবীর কাছে। আমার বন্ধু বলতে পারো।
সাশাঃ ওতো তোমার দেশী, তাই না?
আমিঃ না ঠিক দেশী নয়। ইন্ডিয়ান, আমি তো বাংলাদেশের।
সাশাঃ তোমরা একই ভাষায় কথা বলো দেখলাম!
আমিঃ হ্যাঁ ভাষা একই, তবে দেশ ভিন্ন।
সাশাঃ বুঝতে পেরেছি, ও ওয়েস্ট বেঙ্গলের তাইনা?
আমিঃ ঠিক ধরেছ।
সাশাঃ কি যেন নাম?
আমিঃ নীলিমা।
সাশাঃ মানে আছে কোন?
আমিঃ নীল আকাশ।
সাশাঃ সুন্দর নাম তো! মেয়েটা কিন্তু অত সুন্দর নয়। তবে বেশ স্মার্ট।
আমিঃ পছন্দ হয়েছে নাকি?
সাশাঃ নাহ। আমি ভাই তোমার মতই কাঠখোট্টা। কোন গার্ল ফ্রেন্ড-ট্রেন্ড নাই।
আমিঃ নাই কেন? রাশানদের মধ্যে এটা আনইউজুয়াল।
সাশাঃ আসলো না তো কেউ।
আমিঃ তুমি চ্যাম্পিয়ন ওয়েট লিফটার। পেটা শরীর, আলমারীর মত বিশাল, তোমার কাছেই তো আসার কথা।
সাশাঃ কি জানি হয়তো উল্টা ভয় পায়।
এরপর সাশা আমার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল।

সাশাঃ তোমার সব ঠিক আছে তো?
আমিঃ কেন?
সাশাঃ তোমাকে কেমন যেন মনে হচ্ছে। রাতে ঘুম ঠিকমতো হয়েছে তো?
আমি কিছুটা সময় চুপ করে থাকলাম। বুঝতে পারছি না কি বলব। আদৌ কিছু বলব কিনা। পাগল ঠাওরায় যদি।

সাশাঃ আরে সমস্যা হলে বল। বন্ধুর যদি কোন কাজে লাগতে পারি, আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করব।
আমি একটু দ্বিধা নিয়ে আস্তে আস্তে ওকে সব খুলে বললাম। সব কিছু শুনে ওও কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। আমি তখন ভাবছি ও কি বলবে। এই কিছুদিন আগেও এদেশের মানুষজন সব নাস্তিক ছিল। এসব অতিপ্রাকৃত-ফ্রাকৃততে ওদের কোন বিশ্বাস ছিল না। যদিও এখন হুল্লোড় করে একের পর এক গীর্জা গড়ে তুলছে, তারপরেও কিছুটা রেশ তো রয়েই গেছে।

সাশাঃ অতিপ্রাকৃত কিছু হতে পারে।
আমিঃ তুমি অতিপ্রাকৃত বিশ্বাস কর? তোমাদের দেশের মানুষ তো নাস্তিক ছিল।
সাশাঃ না, আমাদের দেশের মানুষ নাস্তিক ছিল না। আমাদের সরকার নাস্তিক ছিল। কম্যুনিস্টরা নাস্তিক হয়। প্রতিটি দেশের সরকারই তাদের নীতিটিকে জনগণের ঘাড়ে চাপাতে চায়। আমাদের দেশেও তাই ঘটেছিল। এর দ্বারা কেউ প্রভাবিত হয়েছিল, কেউ হয়নি।
আমিঃ তুমি কি বিশ্বাস কর?
সাশাঃ আমি একজন খ্রীস্টান। ভাববাদী দর্শনে বিশ্বাসী। আমি ব্যাক্তিগতভাবে মনে করি, প্রকৃতি যেমন আছে, তেমনি অতিপ্রাকৃতও রয়েছে।

আমিঃ এখন আমার বিষয়টার কি হবে তাই বলো?
আবার কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে সাশা বলল।
সাশাঃ দেখি কি করা যায়। বাদ দাও। চলো বেড়াতে যাই।
আমিঃ কোথায় যাবে?
সাশাঃ গ্রীস্মকালে বেড়ানোর একটা ভালো জায়গা আছে।
আমিঃ কি নাম জায়গাটার?
সাশাঃ নামটা কিছু না, জায়গাটার কথা বলছি।
আমিঃ কি জায়গা?
সাশাঃ প্লায়াঝ।
প্লায়াঝ-এর সরাসরি ইংরেজী মিনিংটা বীচ। যেকোন জলাধারের তীর যেখানে গ্রীস্মকালে মানুষ সানবাথ করে, বেড়ায়, ইত্যাদি।

আমিঃ প্লায়াঝ-এ, যাবে?
সাশাঃ আরে সুন্দরী মেয়েদের টু-পিসে দেখতে পাবে, এর চাইতে মজা আর কিসে আছে!
আমিঃ ভুল বলোনাই। চলো যাই।
আমরা দুজনে সাঁতারের পোষাক-আষাক সরন্জাম নিয়ে বেড়িয়ে পড়লাম।

আমাদের ডরমিটরি থেকে তিন-চার কিলোমিটার দূরে একটা লেক আছে। সেখানেই প্লায়াঝ। আমরা প্রথমে ট্রামে চড়লাম। তারপর নির্দিষ্ট স্টপেজে নেমে, কিছুদূর হাটতে হলো। মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ। এদিকটায় বিল্ডিং-টিল্ডিং কিছু নেই। একটা ফরেস্ট পার্কের ভিতর লেক। তারপরেও দুটা বাংলো টাইপ বাড়ী দেখলাম। একটার সামনে চেরী গাছে টসটসে চেরী ফল ধরে আছে। একটু রসনা তৃপ্তির প্রয়োজন অনুভব করলাম।
আমিঃ সাশা, দাঁড়াও।
সাশাঃ কি?
আমিঃ আসো চেরী খাই।
সাশাঃ এটা অন্য মানুষের গাছ।
আমিঃ কিসের অন্য মানুষের। দেখোনা রাস্তার উপরে।
সাশাঃ রাস্তার উপরে ঠিক আছে, তারপরেও মালিক থাকতে পারে। এই বাড়ীর সামনে যেহেতু, ওরাই হয়তো মালিক।
আমি ভালো করে আশপাশ দেখে নিলাম। নাহ্ কেউ নাই। থাকুক মালিক, আমরা এই সুযোগে চেরী খাব। কিশোর বয়সে পেয়ারা চুরীর মত একটা এ্যাডভেঞ্চার মাথায় চাপল। বেচারা সাশা অনিচ্ছা সত্বেও চেরী পারতে শুরু করল। দুজনে মিলে গাছ থেকে পারি আর খাই। টসটসে চেরীগুলো বেশ মজার। পাঁচ-ছয় মিনিট চেরী খেয়েছি, এমন সময় দরজা খোলার আওয়াজ পেলাম। এবার সাশা একটু অস্থির হয়ে গেল।

সাশাঃ চলো চলো তাড়াতাড়ি পালাই। কেউ এদিকে আসছে মনে হয়।
আমরা দ্রুত পা চালিয়ে। ওখান থেকে সরে পড়লাম। মুখে রয়ে গেল তাজা চেরীর স্বাদ।

প্লায়াঝে গিয়ে দেখলাম অনেক পরীর মেলা। কেউ ব্রুনেট, কেউ ব্লন্ড, কেউ রুসী। কেউ দীর্ঘাঙ্গী, কেউ মাঝারী গড়নের।বিস্ময়কর সুন্দরীরা টু-পিস পড়ে তাদের প্রগলভা ফিগার প্রদর্শন করছে প্লায়াঝে। অবশ্য প্রদর্শন করার উদ্দেশ্য তারা এখানে এসেছে এমন নয়। তারা এসেছে তুহীন শীতের পর গ্রীস্মের উজ্জ্বল দিনগুলিতে সোনারোদের উষ্ণতায় পুরো শরীর ভরিয়ে দিতে। এই সোনারোদের আদর পরশে তাদের শুভ্রতনু ধীরে ধীরে তাম্রবর্ণ ধারন করেবে। টুপি বা রূমাল দিয়ে মুখ ঢেকে অনকে পুরো শরীর বিছিয়ে দিয়েছে তপ্ত বালুর উপর। অনেকেই ঝাপিয়ে পড়ছে লেকের জলে। দাপাদাপি করে লেকের শান্ত নির্জন জল অস্থির করে তুলছে।

আমিঃ লেকটা মোটামুটি বড়, কোনদিকে যাব বলতো?
সাশাঃ হাটতে শুরু করি। হাটতে হাটতে যেখানে সবচাইতে সুন্দরী মেয়েদের দেখব, সেখানে থেমে যাব।
আমিঃ হা হা হা, ভালো বলেছ। পুরুষ মানুষের মনের কথা।

দুতিন ঘন্টা সাঁতার কেটে আর সানবাথ করে। ব্যাগ গুছিয়ে আমরা রওয়ানা দিলাম, ডরমিটরির উদ্দেশ্যে। ট্রামে উঠে আমি আর সাশা পাশাপাশি সীটে বসলাম। নিজেদের মধ্যে গল্পগুজব করছি, হঠাৎ লক্ষ্য করলাম আমাদের দুই সীট পরে আমাদের ডরমিটরির ইলেকট্রিসিয়ান ভাসিয়া বসে আছে। ভাসিয়া আমাদের ফ্যাকালটি থেকেই পাশ করছে। যখন পড়ত তখন আমাদের ডরমিটরিতেই থাকত। তারপর পাশ করার পর ডরমিটরির ইলেকট্রিসিয়ান হিসাবে থেকে যায়। একটা রূম পেয়েছে, ওখানেই থাকে বিয়ে-টিয়ে করেনি। বিশ বছর যাবৎ ডরমিটরিতে আছে।

সাশাঃ ট্রাম ফাঁকা আছে, চল ভাসিয়ার পাশে গিয়ে বসি।
আমিঃ ভাসিয়ার পাশে বসার দরকার কি?
সাশাঃ কথা আছে।
গিয়ে বসলাম ভাসিয়ার কাছে। আমাদের দেখে একগাল হাসল ভাসিয়া।
ভাসিয়াঃ আরে তোমরা দেখছি! কোথায় গিয়েছিলে? প্লায়াঝে?
আমিঃ হু, আর তুমি?
ভাসিয়েঃ আমি লেক ছাড়িয়ে আরো তিন স্টপেজ সামনে, একটা দালানে গিয়েছিলাম কাজে। তোমরা কেমন সময় কাটালে?
আমিঃ ভালো।
সাশাঃ তোমার সাথে কথা আছে ভাসিলি।
ভাসিয়াঃ কি কথা?
সাশাঃ তুমি তো বিশ বছর আমাদের ডরমিটরিতে আছি তাইনা?
আমিঃ হ্যাঁ, এই ফল সিজনে একুশ বৎসর হবে। হঠাৎ এ’ প্রশ্ন কেন?
সাশাঃ না একটা বিষয় জানতে চাই। তুমি কি ৩০৫ নং রূমটা সম্পর্কে কিছু জানো?
ভাসিয়াঃ ৩০৫ নং রূমে আবার কি হলো?
সাশাঃ না মানে, ঐ রূমে কারা কারা থাকত?
ভাসিয়াঃ কারা কারা থাকত মানে? এই একুশ বৎসরে তো কত লোকেই এলো-গেলো আমি সবার নাম মুখস্থ করে রেখেছি?
আমিঃ না মানে ওখানে কি অস্বাভাবিক কিছু ঘটেছিল? কোন অঘটন?
ভাসিয়া কিছু সময় চুপ করে থেকে বলল,
ভাসিয়াঃ ওখানে অস্বাভাবিক কিছু ঘটেছে বলে তো মনে পড়েনা। কেউ তো বলে নি কখনো কিছু। তবে…..
সাশাঃ তবে কি?
ভাসিয়াঃ না, মানে, একটা মেয়ে..
আমিঃ একটা মেয়ে কি?
ভাসিয়াঃ আচ্ছা তোমাদের কি হয়েছে বলতো? হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন?
সাশাঃ রিমন কয়েকদিন হলো ঐ রূমে শিফট করেছে।
ভাসিয়াঃ রিমন শিফট করেছে তাতে কি হয়েছে?
সাশা আর আমি দুজনেই চুপ করে রইলাম। কি বলব বুঝতে পারছি না। আমার অভিজ্ঞতা যদি ওকে বলি, আর ও যদি পাগল ঠাওরায়। ভাসিয়া আবার খুব কমন ফিগার। সবার সাথে খাতির। এরপর পুরো ডরমিটরি জেনে গেলে একটা হাসাহাসি পড়ে যাবে।

একটু চুপ থেকে ভাসিয়া নিজেই বলল।
ভসিয়াঃ রিমন কোন অস্বাভাবিক কিছু কি ঘটেছে?
আমিঃ না তেমন কিছু নয়।
ভাসিয়াঃ বুঝতে পেরেছি কিছু একটা তো ঘটেছেই। না বলতে চাইলে না বলো। তবে আমি যা বলছি শোন।
আমি ও সাশা অবাক হয়ে পরস্পরের দিকে তাকালাম।
ভাসিয়াঃ বছর সাতেক আগে, ওখানে পোলিশ একটা মেয়ে থাকত। মেয়েটির নাম ছিল মাগদা।
সাশাঃ ছিল মানে? মেয়েটি কি এখন আর ইউক্রেনে নাই?
ভাসিয়াঃ সেটাই বলছি। শুধু ইউক্রেনে না, মেয়েটি এই পৃথিবীতেই নেই।
ভাসিয়ার কথা শুনে আমাদের বিস্ময় আরো ঘণীভুত হলো।

ভাসিয়াঃ মাগদা পোল্যান্ড থেকে স্কলারশীপ নিয়ে এখানে পড়তে এসেছিল। দীর্ঘাঙ্গী সুশ্রী মেয়েটি ছিল স্বর্ণকেশীনী। সদালাপী হাসিখুশী এই মেয়েটি অনেকেরই চোখে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত মেয়েটির সম্পর্ক হয় মরোক্কোর আবদুর রাজ্জাকের সাথে। রাজ্জাক এখন আর নেই পাশ করে ফ্রান্সে চলে গেছে। মাগদা আর রাজ্জাক খুব সুন্দর একটা জুটি ছিল। দুজনই সুশ্রী দীর্ঘকায় আর উচ্ছল ছিল। ওরা ৩০৫ নং রূমেই লীভ টুগেদার করত। মাগ্দা বিরিওজা গাছ খুব পছন্দ করত। তাই বেছে বেছে ঐ রূমটি নিয়েছিল। লক্ষ্য করেছ নিশ্চয়ই, ঐ রূমের জানালার পাশেই কয়েকটি বিরিওজা গাছ আছে। একবার শীতের ছুটিতে মাগদা পোল্যান্ড গেল। সেখান থেকে আর ফিরে আসেনি। তারপর আমরা দুঃখজনক খবর পেলাম। মাগদা বন্ধু-বান্ধব নিয়ে পাহাড়ে গিয়েছিল আইস স্কী করতে। তারপর সেখানে হারিয়ে যায়। অনেক খুঁজেও ওকে পাওয়া যায়নি।
আমিঃ পাওয়া যায়নি মানে কি? বেমালুম গায়েব হয়ে গেল?
ভাসিয়াঃ আবদুর রাজ্জাক পাগলের মত হয়ে গিয়েছিল। ঐ বছর সামারে ওর পাশ করার কথা ছিল। মাগদা ছিল ওর দু’বছরের জুনিয়র। বেচারা মাগদার শোকে পরীক্ষা ঠিকমতো দিতে পারেনি। পরবর্তি সেমিস্টারে স্পেশাল ব্যবস্থা করে ওর ডিফেন্স এ্যারেন্জ করা হয়। তারপর রাজ্জাক ফ্রান্সে চলে গিয়েছে।
সাশাঃ মাগদার কি হয়েছিল?
ভাসিয়াঃ আমাদের ডরমিটরিতে আরেকটো পোলিশ মেয়ে ছিল, মাগদাদের শহরেরই। একবছর পরে ও জানিয়েছিল, উঁচু পাহাড়ে, বরফের মধ্যে মাগদার মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছিল, এক বৎসর পরে। আরেকটি স্কী টিম মৃতদেহটি আবিষ্কার করেছিল।
সাশাঃ ভয়াবহ। মানুষের জীবনে যে কখন দুর্যোগ নেমে আসে কেউ বলতে পারেনা।

আমিঃ বেচারা আবদুর রাজ্জাক! ভালোবাসার মানুষটিকে হারালো!
ভাসিয়াঃ এবার রিমনের কি হয়েছে বলো। হঠাৎ কেন এতো কিছু জানতে চাইলে?
আমি আবারও চুপ করে রইলাম। এদিকে কথা বলতে বলতে ট্রাম আমাদের স্টপেজে চলে এলো। আমি আর সাশা নামার প্রস্তুতি নিলাম। ভাসিয়া দেখলাম বসেই আছে।
আমিঃ ভাসিয়া তুমি নামবে না?
ভাসিয়াঃ না, আমি একটু বাজারের দিকে যাব।
আমিঃ ও। যাও তাহলে।
ভাসিয়াঃ তুমি কিন্তু বললে না কি হয়েছে।
আমরা নামতে নামতে ভাসিয়া বলল।
ভাসিয়াঃ ঐ ৩০৫ নং রূমে আমিও মাস তিনেক ছিলাম, পরে ছেড়ে দিয়েছি। আমি তখন ট্রামের একেবার দরজায়, নেমে যাব যাব, এই সময় ভাসিয়ার কথা শুনে ঘুরে তাকালাম।
আমিঃ কেন ছেড়ে দিলে কেন?
ভাসিয়াঃ অস্বস্তি লাগত। কি কি সব স্বপ্ন দেখতাম!

birch-tree3-walkway

বিষন্ন বিরিওজা – ৩
—————————-

বিকাল বেলাটা সাশা আমার রূমে কাটালো। আমরা চা নাস্তা খেয়ে গল্পগুজব করে কাটালাম। এদেশে সামারে বিকালটা ভীষণ লেংদি হয়। দশটার দিকে সূর্য ডুবি ডুবি করল। আমাদের হিসাবে এটাকেই সন্ধ্যা বলতে হয়। সেসময় সাশা বলল, “চল আমার রূমে গিয়ে ডিনারটা সেরে নেই। তাই করলাম।

নিরুদ্বিগ্নভাবেই ভাবেই কেটে গেল বিকাল আর সন্ধ্যাটা। সাশার রূম থেকে আমার রূমে ফিরে দরজাটা লক করে ঘুরতেই চোখ আটকে গেল দেয়ালে সাটা সেই চুলটার দিকে। সেই মেয়েটির চুল, পোলশার মেয়ে, মাগ্‌দা যার নাম ছিল। মেয়েটি এখন আর এই পৃথিবীতে নেই। মেয়েটির চুলটি আছে। হয়তো কোন এক আবেগময় মুহুর্তে মেয়েটি তার চুল, তার শরীরের একটা অংশ দেয়ালে গেথে দিয়েছিল। তার ভালোবাসার মানুষটির জন্য। ‘আমি না থাকি, আমার শরীরের একটা অংশ তোমার সাথে থাকবে’। ‘ন হন্যতে হন্যমানে শরীরে’ – শরীরের মৃত্য হলেও আত্মার মৃত্যু হয়না। মানুষ মারা যাওয়ার পর তাকে সমাহিত করা হয় কেন? আবার হিন্দুরা পুড়িয়ে ফেলে। হিন্দু ফিলোসফি বলে, পঞ্চভুত থেকে মানুষের সৃষ্টি আবার যেন সেই পঞ্চভুতেই মিলিয়ে যায়। মুসলিম, ইহূদী আর খ্রীষ্টানরা সমাহিত করে। উদ্দেশ্য পুরো শরীরটিই যেন মৃত্তিকার অংশ হয়ে যায়। কিছুই যেন আর মাটির উপরে না থাকে। লেনিনের দেহ মমি করে রাখা হয়েছে, আজ সত্তুর বছরের উপর। নাস্তিক কম্যুনিস্টরা কাজটি করেছিল। এই নিয়ে এখন অনেক কথা হচ্ছে। ধর্মভীরুরা বলছে, এটা গ্রহনযোগ্য নয়, মৃত মানুষের দেহের স্থান মাটির উপরে নয়, মাটির নীচে। মাটির উপরে মৃতদেহ দীর্ঘকাল রাখলে তা অমঙ্গল বয়ে আনে। মৃত মেয়েটির শরীরের একটা অংশ, এখন আমার সামনে আছে। আমার রুমেই। সাথে সাথে কেমন একটা অস্বস্তি ঘিরে ধরল। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালাম, সেখানে জমাট অন্ধকার। অকারণে গাটা ছমছম করতে লাগলো। অকারণই বা বলছি কেন? এই দুদিন যা ঘটেছে ও শুনেছি তাতে তো ভয় লাগার সুস্পষ্ট কারণই আছে। সাশাকে বললে অবশ্য আমার রূমে এসে ঘুমাতো, কিন্তু সেটা বলতে যাইনি। কেমন যেন নিজেকে কাপুরুষ মনে হয়। আবার আমি একা রুমই ভালোবাসি, তাতে প্রাইভেসি থাকে।

ভয়ভীতি দূর করে নিজের হেফাজত পাওয়ার একটাই পথ – মহান সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করা। তাই করলাম ওযু করে পাক-সাফ হয়ে এশার নামাজের সাথে আরো দুই রাকাত নামাজ পড়লাম। নামাজ পড়ার পর দোয়া করা, শুধু নিজের জন্য দোয়া করলে দোয়া কবুল হয়না, মৃত-জীবিত সবার জন্যই দোয়া করতে হয়, তাই করলাম।

ভয় বা অস্বস্তি যেটাই বলি, অনেকটাই কমে এলো। ডিভানটা খুলে বিছানা তৈরী করে গা এলিয়ে দিলাম। রূমের বাতিটা নিভিয়ে দিলাম। গাঢ় অন্ধকারে রুমটা ভরে গেল। রূমে একা থাকার কারণে এম্নিতেই একাকিত্ব বোধ করি, এখন আবারো অস্বস্তি চেপে বসলো আমার বুকে। নাহ্‌ এভাবে অন্ধকারে থাকা যাবেনা । টিভি সেটটা অন করে দিলাম। একেবারে অন্ধকার না হয়ে কিছুটা হলেও যেন আলো থাকে। শুয়ে শুয়ে টিভি দেখতে থাকলাম। পুরাতন রাশান টিভি, রিমোট সিস্টেম নাই, ভিতরে ভালভ্‌ এ্যারেন্জমেন্ট, খুব ভালো চলে। আমার আগে একজন বাঙালী ভাই ছয় বছর চালিয়েছিলেন, আমি গত চার বছর চালাচ্ছি। তারপরেও বেশ স্মুথ। ফিজিক্স ক্লাসে ডঃ ব্লেশেনকা বলেছিলেন, ভালভ্‌ এ্যারেন্জমেন্ট ইলেকট্রনিক্স ভারী হয় সত্য, কিন্তু টেকশই হয়। ভালো সার্ভিস দেয়। প্রাইভেট টিভি চ্যানেল ‘টনিস’ চলছিল। এটা খারকভ শহরের নিজস্ব চ্যানেল। এবং এটাই সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রথম প্রাইভেট টিভি চ্যানেল। একটি অ্যামেরিকান ফিল্ম চলছিলো। শুরুটাই হলো খুন দিয়ে, তারপর এই হত্যাকান্ডকে ঘিরে নানা কাহিনী। অ্যামেরিকান ফিল্মগুলোর ধরনই বোধহয় এরকম। খুন, সেক্স, টাকা এইগুলোই কাহিনীর উপকরণ। ভালো ছবি যে হয়না তা নয়, কিছু কিছু ছবি এককথায় দুর্দান্ত। কিন্তু বেশীরভাগেরই ঐ টাইপ। সেই তুলনায় রাশান ফিল্মগুলোর বেশীরভাগই অসাধারণ। বিশাল কাঁচের জানালার পর্দাটা খোলা ছিল। বাইরের অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে, একবার ভাবলাম পর্দাটা টেনে দেই। আবার ভাবলাম, না থাক, পর্দা টেনে দিলে নিজেকে আরো বেশী বদ্ধ মনে হবে। বাইরের বিরিওজা গাছগুলোর উপরে দিনের বেলায় নীলাকাশ দেখা যায়। রাতের আকাশ নিঃসন্দেহে কালো। সেই অন্ধকারের বুক চিরে হঠাৎ আলো ফুটে উঠলো। এক বিন্দু আলো। ভুল দেখছি না তো? না ঠিকই দেখছি। একটি তারা খুব ধীরে ধীরে একপাশ থেকে আরেক পাশের দিকে যাচ্ছে।না অবাক হলা না, অলৌকিক কিছু নয়, একেবারেই লৌকিক। দেশে থাকতে একবার এরকম গতিশীল তারা দেখে অবাক হয়েছিলাম, ফিজিক্সের শিক্ষকও বলতে পারেননি। প্রথম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনকারী দেশে এসে এখন আমি জানি ওটা স্যাটেলাইট। নিজের মনে হাসলাম – জানা থাকলে স্বাভাবিক, আর অজানা অনেক কিছুকেই অনেক সময় অলৌকিক মনে হয়। বাইরের অন্ধকার, বিজ্ঞানের অনন্য উপহার টিভির হালকা আলো। সব মিলিয়ে আবছা আলো আধারী পরিবেশে ধীরে ধীরে আমার চোখে রাজ্যের ঘুম নেমে এলো।

একটা অস্পষ্ট আওয়াজ শুনে ঘুম ভেঙে গেল। চোখ মেলতে চেয়েও মেলতে পারলাম না। আমার কি ঘুম ভেঙেছে? এখন কটা বাজে? ঠাহর করার চেষ্টা করলাম ভোরের আলো ফুটেছে কি ফোটে নাই। আওয়াজটা আরেকটু স্পষ্ট হলো। ইলেকট্রিক ক্যাটল চলছে। কেউ কি ওটা চালিয়েছে?

গ্রীস্মের পাগল হাওয়ায় ঝিরঝিরে ভৌতিক শব্দ করছে বিরিওজার পাতা। মনে হলো জানালার বাইরে আলো নেই। তার মানে রাত। ধক করে উঠলো বুকটা। শুনেছি রাতের অন্ধকারেই অশুভ শক্তিরা ঘুরে বেড়ায়। ঢাকায় একবার ২১শে ফেব্রুয়ারীর মধ্যরাতে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলো। ব্যপক তদন্তের পর পুলিশ রিপোর্ট দিল, এটা অশভ শক্তির কাজ ছিল। এবং তারা ২১শে ফেব্রুয়ারীর মধ্যরাতের প্রোগ্রাম বাতিল করে, কেবলমাত্র ঐতিহ্যবাহী প্রভাত ফেরী দিয়েই অনুষ্ঠান শুরু করার সুপারিশ জানিয়েছিল।

মনে হলো ইলেকট্রিক ক্যাটলটা চালু করে কেউ ঘরের ভিতর হাটাহাটি করছে। আমার বুক দুরু দুরু করতে লাগলো। ঘাড় থেকে মেরুদন্ড বেয়ে শিরশির করে নিচের দিকে নেমে গেল ঠান্ডা ভয়ের স্রোত। সাহস সঞ্চয় করে ডাকতে শুরু করলাম, “কে? এখানে কে?” কিন্তু আমার গলা দিয়ে কোন স্বর বের হলো না। আমার ডাকার চেষ্টায় সব শব্দ থেমে গেল। এমনকি বিরিওজার পাতাগুলোও আর কাঁপছে না। নীরবতায় থমথম। আমার উৎকন্ঠা ক্রমেই বাড়ছে। আমি চোখ খোলার চেষ্টা করে কোন কাজ হলোনা, সামান্য খোলা দুটি চোখের পাতার দৃষ্টিপথে পিসিগুলো সব অস্পষ্ট করে দিচ্ছে। অন্ধকারের বুক চিরে ক্ষীণ আলোর আভাস, একি কোন আবছা ভৌতিক আলো। সবটাই কেমন অদ্ভুত আর রহস্যময় ঠেকলো আমার কাছে। এমনভাবে কত সময় পার হয়ে গেল কে জানে?

অনেক পরে পরিপূর্ণরূপে ঘুম ভাঙলো। ইতিমধ্যে রাত পেরিয়ে অন্ধকার কেটে গেছে। পূব আকাশে মেঘের বুকে সবে রঙের ছোপ লাগতে শুরু করেছে। কানে এসে বাজলো মোরগের ডাক। এদেশে আযানের ধ্বনি শোনা যায়না, গীর্জার ঘন্টাও বাজেনা। ভোর বেলা কর্কশ ডাকে ঘুম ভাঙিয়ে দেয় বলে মোরগের উপর ভীষণ রাগ হতো ঘুমকাতুরে আমার। আজ সে ডাক মধুবর্ষণ করলো আমার কানে। ঘুম ভাঙার সাথে সাথে দুঃস্বপ্নটা কেটে গেল। কে জানে সত্যিই স্বপ্ন ছিল কি-না!

নাহ্‌ এই ভৌতিক রূমে আর থাকা যাবেনা। অন্য কোন রূম খুঁজে নিতে হবে। ব্রেকফাস্ট করে হোস্টেলের কমান্ড্যন্ট-এর কাছে যাব। কমান্ড্যন্ট-এর কথা মনে হতেই মেজাজ খিচড়ে গেল। আমার বয়সী ইয়াং একটা মেয়ে। নাম স্ভেতা। গায়ে-গতরে বড়সড় বলে দেখলে বয়স্ক মনে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে ম্যাচিউরড ছেলেমেয়েরা থাকে, পিএইচডি স্টুডেন্টরাও থাকে, দু’একজন ইয়াং টিচারও থাকে। এখানে বয়স্ক দায়িত্বশীল কমান্ড্যন্ট থাকা উচিত। তা না করে দায়িত্ব দিয়েছে এই ছুকরীকে। আসলে ওর দাদা ছিল এর আগের কমান্ড্যন্ট। রিটায়ার করার আগে দাদাই ইউনিভার্সিটির রেক্টরকে রিকোয়েস্ট করে, নাতনিকে চাকরীটা পাইয়ে দেয়। এখন মেয়েটি ধরাকে সরা জ্ঞান করে কাউকে তোয়াক্কা করেনা। ঘুষ ছাড়া কাজ করেনা। আমাকে দুই চোখে দেখতে পারেনা। কারণ দুয়েকবার বাক-বিতন্ডা হয়েছে। এখন আমি গিয়ে রূম চেইন্জ করতে চাইলে রূম তো চেইন্জ করবেই না, উল্টা এই রূমেই পাকা-পোক্ত থাকার ব্যবস্থা করার চেস্টা করবে। আমাকে অন্য কাউকে দিয়ে কাজটা করতে হবে।

প্যালেস্টাইনের খালেদের কাছে গেলাম। ও আমার ক্লাসমেইট। ওর স্ত্রী আবার ইউক্রেণীয়। ইউনিভার্সিটিতেই কি একটা চাকরী করে যেন। লম্বা চওড়া সুদর্শন খালেদ একসময় লেডী কিলার ছিল। এম্নিতেই আরবরা দেখতে সুন্দর হয়। মেয়েদের ভাষ্য মতে (শুধু রুশ মেয়ে নয়, ইউরোপীয়, এশিয়, দক্ষিণ আমেরিকান সব মেয়েদের মুখেই শুনেছি, পৃথিবীর সব চাইতে সুন্দর পুরুষ হলো আরবরা। তাই সব দেশের মেয়েরাই আরবদের সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য উদগ্রীব থাকত।) আরবরাও এই সুযোগের সদ্বব্যবহার করে বেশ। খালেদও করত। হঠাৎ করেই কি হলো, নাতাশা নামের বয়সে অনেক বড় মেয়েটির সাথে ঘর-সংসার করতে শুরু করলো। প্রথমে বিষয়টা বুঝতে পারিনি, পরে ওর দেশীদের মুখেই শুনলাম। খালেদের সাথে সম্পর্কের ফলে নাতাশা হঠাৎ প্রেগনেন্ট হয়ে যায়। এরপর থেকে খালেদ নাতাশার সাথে থাকতে শুরু করে। অল্প সময় পরে ফর্মাল বিয়েটাও সেরে নেয়। ওদের একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। সিরিয়ার রাফাত বলল, “নাহ্‌, খালেদকে বাহবাই দেব, এরকম পরিস্থিতিতে ছেলেরা গাঁ বাচানোর চেষ্টা করে। খালেদ তা না করে নাতাশাকে বিয়ে করেছে, মেয়েটির পিতৃত্ব স্বীকার করে নিয়েছে। ওয়েল ডান!”

সেই খালেদকে গিয়ে বিষয়টা বুঝিয়ে বললাম। আমাদের কথার মাঝখানে নাতাশাও এলো। সব শুনে বলল, “ঠিক আছে কোন অসুবিধা নাই। তুমি আমার স্বামীর বন্ধু, আমি তোমাকে অবশ্যই হেল্প করব।”
আমিঃ কি করে?
নাতাশাঃ বারে! আমি তো এই স্টুডেন্ট টাউনের ডেপুটি ডিরেক্টর। আমি বললেই ডিরেক্টর তোমার সব ব্যবস্থা করে দেবে। স্ভেতার মত কমান্ড্যন্টরাতো সব আমাদের আন্ডারেই কাজ করে।
ধরে প্রাণ ফিরে পেলাম। কাজটা সহজেই হবে তাহলে। গুড!

বিকালের দিকে হোস্টেলের স্টুডেন্ট কমিটির প্রধান সের্গেই গারানঝা এলো।
গারানঝাঃ রিমন, শুনলাম রূম পাল্টাতে চাও?
আমিঃ চাই তো।
গারানঝাঃ স্ভেতা বাধা দিচ্ছে?
আমিঃ জানিনা। এখনো কিছু বলিনি। জানলে বাধা দিতেও পারে।
গারানঝাঃ না বাধা দিতে পারবে না। স্ভেতা কমান্ড্যন্ট হতে পারে, কিন্তু তোমাকে খাটো করে দেখলে হবেনা। তোমার একটা রাইট আছে। তুমি এখানে চার বছর ধরে আছো।
আমিঃ ঠিক। আমিও তাই মনে করি।
গারানঝাঃ চিন্তা করোনা। আমি আছি তোমার সাথে।
আমি মনে মনে ভাবলাম, ভালোই হলো আরেকজন পাওয়া গেল আমার পক্ষে। পরে জানতে পেরেছিলাম সের্গেই-এর সাথে স্ভেতার ঠান্ডা লড়াই চলছে। তারই রেশ ধরে সের্গেই এসেছে আমার সাথে সন্ধি করতে।

সের্গেই চলে যাওয়ার মিনিট বিশেক পর খালেদ এলো।
খালেদঃ ব্যাগ-ট্যাগ গোছাও।
আমিঃ কেন দেশে পাঠিয়ে দেবে নাকি? হা হা হা!!
খালেদঃ না দেশে না। অত ক্ষমতা এখনো হয়নি। আপাততঃ অন্য রূমে।
আমিঃ রিয়েলী।
খালেদঃ হ্যাঁ বন্ধু, আমার ওয়াইফ কল-কাঠি নেড়ে এসেছে। ডিরেক্টরের নির্দেশে স্ভেতা এখন তোমাকে অন্য রূম বরাদ্ধ করবে।
একটা প্রশান্তি বয়ে গেল আমার বুকে।
আমিঃ তোমাকে কি বলে যে ধন্যবাদ দেব!
খালেদঃ ধন্যবাদ দিতে হবেনা। আপাততঃ চা খাওয়াও এক কাপ।
তারপর ডিভানে গা এলিয়ে দিয়ে বলল।

খালেদঃ আরে বন্ধুর জন্য যদি এটুকুই করতে না পারলাম। তাহলে কিসের বন্ধু বল? তুমি আমি একই দেশের না হতে পারি। একই ধর্মের তো! মুসলমান-মুসলমান ভাই-ভাই। আমি প্যলেস্টাইনের মানুষ। আমাদের প্যলেস্টাইনের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের দরদের কথা আমি জানি।
আমিঃ ওহ্‌হো (খুশী ও কৃতজ্ঞতার হাসি হাসলাম আমি)।
চা বানাতে বানাতে বললাম, “তোমাদের ইয়াসির আরাফাতের সাথে তো আমাদের মরহুম প্রেসিডেন্ট ………।” কথা শেষ করতে পারলাম না।
খালেদঃ জিয়াউর রহমানের কথা বলছ তো? আমি জানি ইয়াসির আরাফাত ও জিয়াউর রহমান ঘনিষ্ট বন্ধু ছিল। অনেক ছবি দেখেছি, দেশে থাকতে। তখন কি ভাবতাম জানো?
আমিঃ কি?
খালেদঃ তোমাদের গরীব হলেও একটা দেশ আছে। আমাদের সেটাও নেই।
ওর কথা শুনে আমার মনটা খারাপ হয়ে গেল। বললাম
আমিঃ হবে হবে। একদিন তোমাদেরও দেশ হবে।
আমার মন খারাপটা খালেদ বুঝতে পারলো। তাই পরিবেশ পুনরায় হালকা করার জন্য বলল।
খালেদঃ বাদ দাও, দুই কাপ চা খাব, চিনি বেশী করে দেবে?
আমিঃ মিল্ক দেব?
খালেদঃ নাহ্‌, ইংলিশ টি আমি খাইনা।

খালেদ বসে থাকতে থাকতেই স্ভেতা এলো। প্রবল জ্বরে পড়েছে, এরকম টাইট মুখভঙ্গি নিয়ে বলল।
স্ভেতাঃ এই নাও চাবি, পাঁচতলায় ৮৮ নং রূম তোমার নামে বরাদ্ধ করা হয়েছে। এই রূম ছেড়ে দিয়ে চাবিটা আমার হাতে দিয়ে দিও। দুদিন সময় দিলাম।
আমার হাতে চাবি দিয়ে ঘুরে দাড়ানোর সময় মুখ বেকিয়ে বলল,
স্ভেতাঃ তোমার হাত অনেক দূর পর্যন্ত লম্বা রিমন। উপরওয়ালা তোমাকে দুটা জিনিস দিয়েছে, একটা হলো সৌভাগ্য আরেকটা হলো মাথা। এই দুয়ের কল্যাণে অনেক দূর যেতে পারবে তুমি।

স্ভেতা চলে যাওয়ার পর খালেদ অট্টহাস্য দিয়ে উঠলো।
খালেদঃ হা হা এই প্রথম ঘাট খেয়েছে ও। ঘুষ ছাড়া কোন কাজ করেনা। এখন বুঝবে সবার কাছ থেকে ঘুষ চলেনা।
আমিঃ তোমাকে আর নাতাশাকে ধন্যবাদ।
খালেদঃ আরে রাখো ক’বার ধন্যবাদ দেবে? এখন প্রস্তুতি নাও। কবে যাবে নতুন রূমে?
আমিঃ আজই যাবো। এই ভুতের রূমে আর নয়।
খালেদঃ ঠিক আছে আজই যাও। তোমাকে মাল টানতে হেল্প করব আমি।
আমিঃ আরে না না। তোমাকে কিছু করতে হবেনা। আমি ম্যনেজ করে নেব।
খালেদঃ কাউকে না কাউকে তো লাগবেই। আমি আসবো সমস্যা নেই। ডিনারের পরে করি কাজটা?
আমিঃ ওকে। প্রবলেম সলভ্ড, আমি এখন অন্য কথা ভাবছি।
খালেদঃ কি কথা?
আমিঃ আমি না হয় এখান থেকে রেহাই পেলাম। কিন্তু তারপর? এরপর এখানে কাকে পাঠাবে? যাকে পাঠাবে সেও যদি আমার মত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়?
খালেদঃ তা জানিনা। স্ভেতাকে এখানে পাঠাতে পারলে ভালো হতো। ভুতে যদি চেপে ধরত তাহলে ওর দুর্নীতি কমত।
হা হা হা সমস্বরে হেসে উঠলাম দু’জনেই।

স্যুটকেস গোছাতে শুরু করলাম। দ্রুত করতে হবে। আজ রাতটা কিছুতেই এখানে কাটাতে চাইনা। স্যুটকেস গোছাতে গোছাতে হঠাৎ স্যুটকেসের পকেটে আবিষ্কার করলাম জিনিসটা। একটা কার্ড সাইযের পলিথিনের প্যাকেট, তার ভেতরে পেচিয়ে রাখা একটি লম্বা কালো চুল। লুবনার চুল । বিদেশে আসার সময় এই উপহারটি ও আমার হাতে তুলে দিয়েছিল। সেই থেকে আমার সাথে আছে।

birch-tree4-walkwayবার্চ গাছের সারি

বিষন্ন বিরিওজা – ৪
—————————-

জানালা গলে আলো এসে চোখে পড়ল, নতুন রূমের প্রথম ভোরের আলো। ভোরের কচি রোদ এসে পড়েছে জানালার টবে রাখা রঙিন অর্কিডগুলোর গায়ে। অর্কিডগুলোর কোন কোনটায় রাতের ঝরে পড়া দুএকটা শিশিরবিন্দু এখনো লেগে আছে। সুর্যের সোনালী আলো প্রতিফলিত হয়ে রংধনুর সাত রং ঠিকরে দিচ্ছে ঐ শিশিরবিন্দুগুলো। খোলা জানালা দিয়ে বয়ে আসছে ঝিরঝিরে দক্ষিণা হাওয়া। দূরের আকাশে কিছুক্ষণ আগে উঠেছে গনগনে লাল সূর্যটা। গতরাতটা মোটেও আতঙ্কে কাটেনি, বরং ঘুম হয়েছে বেশ নির্বিঘ্ন। ফুরফুরে মন নিয়ে উঠেছি বলেই বোধহয় সূর্যটাকে এত সুন্দর মনে হলো।

এখানেও জানালার একপাশে কিছু গাছের পাতা চোখে পড়লো। ইন ফ্যাক্ট, পাতাগুলো জানালার উপর হুমরি খেয়ে পড়েছে, হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যাবে। কাছে এগিয়ে বোঝার চেষ্টা করলাম কি গাছ। যা ভেবেছিলাম তাই, একটি বড়সড় বিরিওজা গাছ। এই বিরিওজা গাছ কি আমার পিছু ছাড়বে না? মনে মনে অবশ্য খুশিই হয়েছি। জানালার বাইরে আকাশ অথবা গাছ না থাকলে মন ভালো লাগেনা। এই রুমটির জানালার বাইরে দুটাই আছে।

রূমটার নাম্বার ৮৮ । শুধু নাম্বার দিয়ে চলবে? শুধু নাম্বারে কেমন কাটখোট্টা মনে হয়। রূমটার একটা নাম থাকা দরকার। তাহলে বেশ কাব্যিক হবে। আমাদের কলেজের মাজহারুল হক স্যার এটা শিখিয়েছিলেন, কলেজের যে হোস্টেলের তিনি হাউস মাস্টার ছিলেন, তার প্রত্যেকটা রূমের একটা নাম দিয়েছিলেন। খুব সুন্দর সুন্দর নামে উনার হাউসটা একেবারে কাব্যিক হয়ে উঠেছিলো। আমারও সখ জাগলো এই রূমটির একটা নাম দেয়ার। কি নাম দেয়া যায়? বাস্তবতার সাথে মিল রেখে নামটা দেব? ঢাকায় একটা জায়গার নাম ভুতের গলি। শুনেছিলাম, কোন এক কালে নাকি সেখানে ভুতের উপদ্রব ছিল। আমার আগের রূমটার নাম ‘ভুতের রূম’ দিলে মোক্ষম হবে। এই রূমটার নাম ‘অভুতের রূম’ দিব? হাঃ, হাঃ, হাস্যকর মনে হবে। বাইরে বিরিওজা গাছ আছে, এর সাথে মিলিয়ে নাম দিয়ে ফেলি, ‘জানালার বাইরে বিরিওজা’, না বেশ বড় নাম হয়ে যায়। আরেকটু ছোট করা দরকার। এই কয়দিনের ভয়-ভীতি উৎকন্ঠার পর, এখন মনটা বেশ উৎফুল্ল মনে হচ্ছে। তাহলে নাম দিয়ে ফেলি – ‘উৎফুল্ল বিরিওজা’। খারাপ না আপাততঃ এই নামে চলবে, প্রয়োজন হলে পরে নাম পাল্টে ফেলা যাবে, এতো আর মানুষের নাম না যে পাল্টানো যাবেনা।

টুক টুক টুক। দরজায় নক করার শব্দ পেলাম। কে হতে পারে? এত সকালে! পরিচিত কেউই হওয়ার কথা। বিছানা ছেড়ে উঠে দরজা খুললাম। হাসি হাসি মুখ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সাশা কাসতুচেনকা।

সাশাঃ কি, কেমন ঘুম হলো?
আমিঃ সাউন্ড স্লীপ।
সাশাঃ খারাশো! এতা রাদুয়েত (ভালো, এটা আনন্দের ব্যাপার)।
আমিঃ আসো ভেতরে আসো।
সাশা ভিতরে ঢুকে একটা চেয়ারে বসলো। আমি ডিভানটা গুছানো শুরু করলাম।

আমিঃ ব্রেকফাস্ট করেছ?
সাশাঃ করেছি।
আমিঃ না করলে আমার সাথে কর।
সাশাঃ না না, আমি ব্রেকফাস্ট করেছি।
আমিঃ তাহলে আমার সাথে চা খাও।
সাশাঃ তা খাওয়া যেতে পারে। চা খাওয়ায় আমার কখনো অরুচী হয়না।
আমিঃ হু, হু, তোমাদের রাশানদের বেশীরভাগই বলে, ‘ভদকা খাওয়ায় আমার কখনো অরুচী হয়না’।
সাশাঃ হ্যাঁ, তা ঠিক। তবে আমি যেহেতু এ্যলকোহল খাইনা। সুতরাং ঐ কথা বলার সুযোগ নাই।
আমিঃ এ্যলকোহল শব্দটা কিন্তু আরবী।
সাশাঃ তাই নাকি?
আমিঃ হ্যাঁ। কোহল শব্দের সাথে আল আর্টিকেলটি ব্যবহৃত হয়েছে। পরবর্তিতে শব্দটি বিভিন্ন ভাষায় ঢুকে গিয়েছে। ইংরেজী ও তোমাদের ভাষায় যেমন।
সাশাঃ ইন্টারেস্টিং, জানতাম না।
আমিঃ তুমি কিন্ত বেশ একসেপ্‌শন।
সাশাঃ এ্যলকোহল পান করিনা বলে?
আমিঃ সেরকমই। তোমাদের মধ্যে তো এরকম নেই। কম পান করে এমন অনেককেই জানি। কিন্তু একেবারেই পান করেনা, এরকম তোমাকেই প্রথম দেখলাম।
সাশাঃ আমার বাবাও এ্যলকোহল পান করেন না।
আমিঃ বাহ্‌। যোগ্য পিতার যোগ্য সন্তান।
সাশাঃ অবশ্য আমার ছোটভাইটি পান-টান করে।
আমিঃ তোমার ছোটভাই আছে নাকি?
সাশাঃ আছে তো।
আমিঃ কোথায় থাকে?
সাশাঃ গ্রামেই। ওখানে কাজ করে।
আমিঃ পড়েনা?
সাশাঃ না। স্কুল শেষ করেছে। তারপর আর পড়েনি। চাকরীতে ঢুকে গেল।
আমিঃ হায়ার এডুকেশন নিলে ভালো হতোনা?
সাশাঃ আমি মনে করি ভালো হতো। ওতো মনে করেনা। চাকরীতে ঢুকে গেল। একটা মেয়ের সাথে প্রেম হয়েছে। বিয়ে করবে সামনের সামারে।
আমিঃ হায়ার এডুকেশন ছাড়া কি চাকরীতে ভালো বেতন হয়?
সাশাঃ তেমন পার্থক্য নেই। তুমিতো জানো, মাত্র সমাজতন্ত্রের খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসেছি আমরা। সমাজতান্ত্রিক সমাজে শিক্ষিত আর অল্পশিক্ষিতদের মধ্যে বেতনের পার্থক্য কম। তাই কেবল মাত্র অর্থনৈতিক কারণে হায়ার এডুকেশনের দিকে ঝোঁক নাই কারো।
আমিঃ এতে তো সমাজের ক্ষতি হয়।
সাশাঃ তা তো হয়েছেই। তুমি কি ভাবো, এদেশের সবাই সমাজতন্ত্রকে সমর্থন করতো?
আমিঃ করতো না?
সাশাঃ অবশ্যই না। যেমন আমার দাদা করতেন না। কম্যুনিস্টদের দ্বারা নির্যাতিতও হয়েছিলেন আমার দাদা। আমরা পুরো পরিবার তাই সমাজতন্ত্র বিরোধী ছিলাম।
আমিঃ আশেপাশের লোকে জানতো?
সাশাঃ ওরেব্বাস! সে কথা ওপেনলি বলার কি আর জোঁ ছিল! টিকটিকির কোন অভাব ছিলনা তখন। জানলে পরে সোজা চৌদ্দ শিকের ভিতর নিয়ে ঢোকাতো কম্যুনিস্ট সরকার।
আমিঃ এখন তোমরা খুশী?
সাশাঃ অবশ্যই খুশী। এট লিস্ট, মন খুলে কথা বলতে পারছি। যাহোক বাদ দাও। দেখি তোমার রূমটার পজিশন কেমন।
সাশা এগিয়ে গেল জানালার দিকে। বাহ্‌! এখান থেকে ভিউটা তো চমৎকার! আমার রূমটাও এই সাইডে, কিন্ত দোতলা বলে কোন সুন্দর ভিউ পাওয়া যায়না।
আমিঃ বসো, টেলিভিশন দেখো। আমি দ্রুত ফ্রেশ হয়ে নেই। তারপর চা-নাশতা খাব।
সাশাঃ ওকে।
আমি অল্প সময়েই ফ্রেশ হয়ে নিলাম। দ্রুত ব্রেকফাস্ট আর চা রেডী করলাম। ব্রেকফাস্ট বলতে ডিমভাজী, ব্রেড, বাটার, স্মিতানা আর চা।
আমিঃ আয়োজন সামান্য। স্টুডেন্টস ব্রেকফাস্ট ।
সাশাঃ রিমন! আমি তোমার রুমে এই প্রথম? যা আছে ভালোই আছে। আমি কি এর চাইতে ভালো খাই? (একটু লাজুক হেসে বললো) তবে পরিমানে একটু বেশী খাই, আরকি।
আমিঃ তোমার এই বিশাল শরীরে (আমার তিনগুন হবে) বেশী খাবার তো লাগবেই।
সাশাঃ হা হা হা, তাঠিক।
আমিঃ তোমাদের ফুড প্রোডাক্টগুলো কিন্তু খুবই ভালো। আমাদের দেশে সব ভেজাল।
সাশাঃ কি বলো? ট্রপিকাল কান্ট্রিতে তো ফ্রেশ খাবার-দাবার থাকার কথা।
আমিঃ থাকার কথা, কিন্তু আমাদের গুনধর রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের কারণে, আমরা ভেজালের যুগে বসবাস করি।
সাশাঃ নট গুড।
আমিঃ এই যে বাটারটা দেখছ। এটার পুস্টিগুন অনেক বেশী, তাই এর রং গাঢ় হলুদ এমনকি অনেকটা কমলা রঙের। আমাদের দেশে বাটার ফ্যকাশে। তারপর এই স্মিতানা, এটা আমাদের দেশে নাইই।
সাশাঃ নাই মানে?
আমিঃ নাই মানে, নাই। আমি এই দেশে এসে প্রথম দেখলাম। আমাদের দেশে দই নামে কাছাকাছি একটা কিছু আছে, সেটা স্বাদ চমৎকার হলেও পুস্টিগুন তোমাদের স্মিতানার ধারে কাছেও না।
অনেকটা মর্মাহত ভঙ্গিতে চায়ে চুমুক দিলো সাশা।

টুক টুক টুক। আবারো দরজায় আবারো আওয়াজ। কামিং (বললাম আমি) দরজা খুলে ঢুকলো প্যালেস্টাইনের খালেদ ।

আমিঃ ওহহো, ওয়েল কাম, ওয়েল কাম।
খালেদঃ কেমন লাগছে নতুন রূম? নাকি ভুত তোমার পিছু পিছু এখানেও চলে এসেছে?
সাশাঃ হাঃ হ্‌ হাঃ! রিমনের প্রেমে পড়লে ভুত এখানেও চলে আসবে।
আমিঃ আপাততঃ মনে হচ্ছে প্রেমে পড়েনি। রাতে সাউন্ড স্লীপ হয়েছে।
সাশাঃ প্রেমে পড়লেই ভালো হতো। ভুতের সাথে প্রেম তো আর সচরাচর হয়না। একটা কাহিনীই হতো বটে!
আমিঃ হাঃ হাঃ হাঃ! ভালো বলেছ। তোমার প্রেমের খবর কি? ছোট ভাই প্রেম করে বিয়ে-শাদি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, আর তোমার এখন পর্যন্ত কোন গার্ল ফ্রেন্ডই নেই।
খালেদঃ কি বলো! সাশা তোমার গার্ল ফ্রেন্ড নেই! রেয়ার, রেয়ার, রাশানদের মধ্যে ভেরি রেয়ার কেস।
সাশাঃ তোমারও তো নেই রিমন। তোমার সাথে আমার কিন্তু বেশ মিল আছে। আমি মদ্যপান করিনা, তুমিও করোনা, আমার গার্ল ফ্রেন্ড নেই, তোমারও গার্ল ফ্রেন্ড নেই।
খালেদঃ হ্যাঁ, দুজনেই সহজ-সরল, সাদা মনের মানুষ। আমি অবশ্য তোমাদের মত না। স্বাভাবিক মানুষ, মদ খাই, গার্ল ফ্রেন্ড আছে।
আমিঃ গার্ল ফ্রেন্ড আবার বানিয়েছ নাকি?
খালেদঃ (লজ্জ্বা পয়ে) না, মানে, গার্ল ফ্রেন্ড ছিল, সে এখন স্ত্রী হয়ে গিয়েছে।
সাশাঃ স্ত্রী-র অজান্তে গোপনে আবার গার্ল ফ্রেন্ড-ট্রেন্ড বানাও নাই তো?
খালেদঃ না ভাই! বিয়ের পর ঐ অভ্যাস পরিত্যগ করেছি। এখন একান্ত পত্নিনিষ্ঠ ভদ্রলোক।
আমিঃ বাহ্‌, বেশ। এটাই ভালো।
খালেদঃ ভাবলাম, বিয়ের আগে যা হয়েছে হয়েছে। বিয়ের পর ক্লীন থাকবো।
সাশাঃ চা খাওয়া শেষ। চলো বাইরে বের হই।
খালেদঃ কোথায়?
আমিঃ এই আশেপাশেই।
খালেদঃ সুন্দরীদের খোঁজে?
সাশাঃ না জাস্ট ঘোরাফেরা আরকি।
খালেদঃ আর কত একা একা ঘোরাফেরা করবে, এবার জালে দু একটা আটকাও।
আমিঃ সাশা জাল ফেলতে পারেনা। সবাই কি আর জেলে! (কপট হাসি হাসলাম)।
খালেদঃ হু, আমাকে কটাক্ষ করা হচ্ছে। তা একসময় জাল ফেলেছি অনেক। এখন স্টপ, একদম স্টপ। এবার তোমাদের পালা। জাল ফেলতে না পারলে প্র্যাকটিস করো। আস্তে আস্তে রপ্ত হয়ে যাবে।
সাশাঃ মাছ যদি ধরা না দেয়?
খালেদঃ তোমরা অভিজ্ঞতাহীন। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। মাছ কিন্তু ধরা পড়ার জন্যই সাঁতরে বেড়ায়।
হাঃ হাঃ হাঃ, সবাই কোরাসে হাসলাম। এরপর আমরা বাইরে বের হলাম। খালেদ আমাদের সাথে এলো না। আমরা দুজনে ঘুরতে বের হলাম।

খারকভ শহরটি অনেক বড়। ৩১০ বর্গকিলোমিটার ক্ষেত্রফলের শহরটিতে মোট জনসংখ্যা দেড় মিলিয়ন। শহরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৬৫৪ সালে। এক সময় এটি সোভিয়ত ইউক্রনের রাজধানী ছিল। এখানে মোট ৬০ টি বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, ৩০ টি বিশ্ববিদ্যালয়, ৬ টি যাদুঘর, ৭ টি থিয়েটার ও ৮০ টি লাইব্রেরী রয়েছে। এত বেশী সংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকার কারণে তরুণ-তরুণীদের সংখ্যাও এখানে অনেক, তাই একে তারুণ্যের শহরও বলা হয়। খারকভ শহরের আরেকটি খ্যাতি রয়েছে, বিশ্বের বৃহত্তম জেলখানা এখানে আছে।

সোভিয়েত শহরগুলোর রাস্তাগুলো অদ্ভুত সুন্দর। চওড়া রাস্তা তার দুপাশে গাছের চওড়া ফুটপাত। দুপাশের দুই ফুটপাতের পাশেই দুই সারিতে অর্থাৎ পুরো রাস্তায় মোট চার সারিতে গাছ। পথচারিরা নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে। ফলে পথও অত্যন্ত নিরাপদ। শহরের যোগাযোগের ব্যবস্থা সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্যান্য শহরের মতই চমৎকার। মাটির উপরে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট হিসাবে চলছে বাস, ট্রলিবাস (বিদ্যুৎ চালিত), ট্রাম, আর মাটির নীচে রয়েছে ৩৮ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো (সাবওয়ে), যার স্টেশন সংখ্যা ২৯ টি। যোগাযোগের খরচও খুব কম। কম্যুনিস্ট আমলে মাত্র তিন রুবল দিয়েই একটা মান্থলি কার্ড পাওয়া যেত, তাই দিয়ে আপার ও আন্ডারগ্রাউন্ড সকল পাবলিক ট্রান্সপোর্টে সারা মাস চলা যেত। এখন কিছুটা বেড়েছে তারপরেও খুবই কম। তাই আমরা মনের আনন্দে ঘুরতে পারি, যেখানে খুশী যেতে পারি।

আমি আর সাশা ঠিক করলাম আজকে মেট্রোতে চড়ে কয়েকটি স্টেশনে যাব, ঐ এলাকাগুলো ঘুরে ঘুরে দেখবো। সারাদিন ঘোরাঘুরি করলাম। বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনে নামলাম। আশেপাশে ঘুরলাম। লাঞ্চ টাইমে একটা ক্যাফেতে বসে মুরগীর গ্রীল খেলাম। ইদানিং ক্যাফেগুলো ভালো চলতে শুরু করেছে। মাঝখানে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙনের ঠিক পরপর করুণ অবস্থা হয়েছিলো। কোথাও কোন ক্যাফে বা ক্যন্টিন ঠিকমতো কাজ করছিলো না। যাহোক ঘোরাঘুরি বেশ হলো। সন্ধ্যার দিকে মেট্রোতে চড়ে ডরমিটরির দিকে রওয়ানা হলাম। যেতে যেতে আলাপ হচ্ছিলো
আমিঃ আজ বেশ ঘোরাঘুরি হলো।
সাশাঃ হ্যাঁ, আমিও বেশ এনজয় করেছি। সাইট সিয়িং ভালো লেগেছে।
আমিঃ তুমি তো এদেশেরই, তোমার জন্য তো নতুন কিছু না।
সাশাঃ না ঠিক তা না। আমি এদেশের হলেও খারকভের না। আমি গ্রামের ছেলে। তাই খারকভে যা দেখছি তা তো আমার কাছে নতুনই।
আমিঃ সব চাইতে বেশী কি এনজয় করেছো?
সাশাঃ বলবো?
আমিঃ বলো।
সাশাঃ মেয়েদেরকে দেখা।
আমিঃ হাঃ হাঃ।
সাশাঃ কেন তুমি এনজয় করো নাই?
আমিঃ কেন এনজয় করব না? আমি তো তোমার মতই পুরুষ মানুষ। তাছাড়া যা সুন্দরী তোমার দেশের মেয়েরা। তার উপরে স্মার্ট, পোষাক-আশাক ফ্যাশনেবল।
সাশাঃ তারও উপরে এখন, সামার। মেয়েরা বেশ শর্ট ড্রেসে চলাফেরা করে। বেশীরভাগই তো মিনি স্কার্ট পড়া।
আমিঃ হু।
সাশাঃ হু কি? লক্ষ্য করোনাই?
আমিঃ চোখ যেহেতু আছে লক্ষ্য তো করবোই।
সাশাঃ হাঃ হাঃ, চলো নেমে যাই, আমাদের স্টেশন চলে এসেছে।

ডরমিটরিতে ফিরতে ফিরতে অন্ধকার হয়ে এলো। রূমে ফিরে এসে দেখলাম আমার রূমের সামনে অপু আর কবীর ভাই দাঁড়িয়ে আছে।
এই অপু ছেলেটাকে আমি ভীষণ অপছন্দ করি। ছেলেটা খারকভে থাকে কিন্তু পড়ালেখা কিছু করেনা। ওর বড়ভাই কার্তিক সিভিল ইন্জিনিয়ারিং পড়ে। ছোট ভাইকে এখানে নিয়ে এসেছে। দেশে সম্ভবত বখে যাচ্ছিল, কোন গতি করার জন্য এখানে এনেছে। এখানেও পড়ালেখা ও করতে পারছে না, পারার কথাও না, বাংলাদেশেই পারলো না, আর এই উন্নত দেশের পড়ালেখা বোঝার যোগ্যতা ওর কোথায় ঘটে কিছু থাকতে হবে তো।ও টুকটাক কাজটাজ কিছু করে। জিজ্ঞেস করলে বলে, “বিজনেস করি”। কি বিজনেস যে করে কে জানে। কয়েক বছর যাবৎ খারকভে এই সমস্যা হচ্ছে। একসময় ভালো ছাত্র ছাড়া সোভিয়েত ইউনিয়নে স্কলারশীপ নিয়ে আসা সম্ভব ছিলনা। একেবারে ব্যতিক্রম কিছু যে ছিল না তা নয়। কম্যুনিস্ট পার্টি বা মিনিস্ট্রির মামা চাচার জোরেও দুএকজন এসেছিলো তারপরেও মিনিমাম একটা লেভেল ছিলো। এখন সেল্ফ ফাইনান্স বেসিসে পড়ালেখা চালু হওয়ায়, অনেক গরু-গাধাও প্রবেশ করছে। আবার কেউ কেউ দেশ থেকে শুধু এক বছরের টাকা নিয়ে এখানে আসে, আশা করে বাকী খরচ এখান থেকেই তুলতে পারে। যেটা আদতে সম্ভব হয়না। এবং ওদের শিক্ষা জীবনও ফার্স্ট ইয়ারেই শেষ হয়ে যায়।

কবীর ভাই বয়সে আমার বড়। কিন্তু পড়ালেখায় আমার জুনিয়র। দেশে থাকতে বাম রাজনীতি করতেন। রাজনীতিতে এতই বুদ হয়ে ছিলেন যে এইচ, এস, সি, পরীক্ষায় পেয়েছেন তৃতীয় বিভাগ। তারপর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ ছিল না। ইচ্ছাও ছিল বলে মনে হয়না। পড়ালেখা সব শিকেয় তুলে দিয়ে রাজনীতি করতেন। বাবার হোটেলে খেয়ে বনের মোষ তাড়াতেন। কোন এক নেতার দ্বারা সম্মোহিত হয়েছিলেন, যিনি তাদের বোঝাতে এইসব প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখা কিছুনা। আসল পড়ালেখা হয় আমাদের লাইব্রেরীতে। কম্যুনিস্ট বিপ্লবের উপর পড়ালেখা হয় এখানে। তোমরা বিপ্লব করবে, সমাজ পরিবর্তন করবে, সেই বিষয়ে মনযোগ দিয়ে পড়ালেখা করবে আমাদের লাইব্রেরীতে। চোখে রঙিন স্বপ্ন নিয়ে কবীর ভাই ও তার বন্ধুরা সেই পড়ালেখা করতেন। এদিকে তাদের পুরাতন ক্লাসমেটরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাচেলর ডিগ্রী কমপ্লিট করে, মাস্টার্স-এ ভর্তি হয়েছে। এসময় সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ঘটলো। সারা বিশ্বের বামপন্থীরা হতবাক হয়ে দেখলো, কেমন তাসের ঘরের মতো ভেঙে গেল তাদের আদর্শের প্রিয় রাস্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়ন। কবীর ভাইয়ের মত কর্মীরা মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লেন – তাহলে কি এতকাল তারা যা বিশ্বাস করে এসেছেন সব ভুল? তাদের নেতারা কি তাদের সব ভুল শিখিয়েছে? নাকি তারা ইচ্ছাকৃতভাবেই দাবার গুটির মত তাদের ব্যব হার করেছে? হায়রে যে বিপ্লবের জন্য আমরা সব কিছু বিসর্জন দিলাম, সেই বিপ্লবও হলোনা, আর নিজের তো কিছু হলোইনা।

অপু ও কবীর ভাই আমাকে দেখে উল্লসিত হয়ে উঠলো।
কবীর ভাইঃ কেমন আছেন?
অপুঃ অনেকক্ষণ যাবৎ অপেক্ষা করছি বস।
আমিঃ বাইরে গিয়েছিলাম। কেমন আছেন আপনারা?
কবীর ভাইঃ ভালো, আপনি কেমন আছেন?
অপুঃ আমি আছি কোনরকম। যে অবস্থা।
আমিঃ আসুন ভিতরে আসুন।

রূমের দরজা খুলে সবাই ভিতরে ঢুকলাম। উনারা ডিভানে বসলেন। আমি ইলেকট্রিক কেট্‌লে পানি চাপালাম, চা বানানোর জন্য।
স্রেফ আড্ডা দিতে উনারা এসেছেন, শুরু হলো নানা কথাবার্তা। আমরা বাংলাদেশীরা এক জায়গায় হলে রাজনীতির আলাপ না করে পারিনা।

কবীর ভাইঃ কি অবস্থা বলেন তো? এদেশের রাজনৈতিক অবস্থা কিরকম?
অপুঃ দুরো রাজনৈতিক অবস্থা! আপনি আছেন রাজনীতি নিয়ে। এদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ।
আমিঃ রাজনৈতিক অর্থনৈতিক দুটা অবস্থাই খারাপ।
কবীর ভাইঃ কম্যুনিস্টারা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পরিস্থিতি কেবল খারাপের দিকেই যাচ্ছে, তাইনা?
অপুঃ শুনেন কম্যুনিস্ট-ফমুনিস্ট না, অবস্থা এম্নিই খারাপ।
কবীর ভাই বিরক্ত দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকালো। আসলে অপু নির্জ্ঞান একটা ছেলে। লিটারারী আলাপে ওর অংশগ্রহন বেমানান। কিন্তু ও ওর লিমিটেশন বোঝেনা। বুদ্ধিমান মানুষ সেই যে নিজের লিমিটেশন বোঝে। অপু বোকা তাই নিজের লিমিটেশন বোঝনা, উপরন্তু বুদ্ধিমান সাজার চেষ্টা করে।

আমিঃ আপনি কম্যুনিস্ট মানুষ, কম্যুনিস্টদের প্রতি আপনার সফ্‌ট কর্ণার থাকারই কথা। আসলে বিষয়টা বোধহয় সেখানে না।
কবীর ভাইঃ তাহলে কোথায়?
আমিঃ এদেশে এখনঝাই করাপশন। লুটতরাজ বেশী হচ্ছে।
কবীর ভাইঃ কে করছে লুটতরাজ? কি করে করছে?
আমিঃ ক্ষমতাসীনরাই লুটতরাজ করছে। তাদেরই সুযোগটা বেশী থাকে।
কবীর ভাইঃ কিভাবে করছে?
আমিঃ নানা পথে করছে। ক্ষমতাসীনরা বুদ্ধিমান হয়, পথঘাট তাদের জানা থাকে, অনেক সময় নিজেরাই পথ তৈরী করে নেয়।
কবীর ভাইঃ ডিটেইলস বলতে পারবেন?
আমিঃ আমি একজন সাধারণ ছাত্র, তাও বিদেশী, কতটুকুই আর বুঝি বলেন।
অপুঃ আরে, বাঙালী যত ছাত্র আছে খারকভে, এদের মধ্যে আপনার মাথায়ই কিছু মাল-মশল্লা আছে।
আমিঃ অপু আবার বেশী বলে ফেলছে। যাহোক, আমি যা বুঝি, লুটতরাজের একটা উপায় হচ্ছে প্রাইভেটাইজেশন।
কবীর ভাইঃ কম্যুনিজম যেহেতু নাই প্রাইভেটাইজেশন তো হবেই।
আমিঃ হ্যাঁ, এখানেই লুটতরাজের একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষমতাসীনরা, একটা বিশেষ কৌশলে সবকিছু নিজেদের নামেই করে নিচ্ছে।
কবীর ভাইঃ কিন্তু সেটা করছে কি করে?
আমিঃ অনেকটা আমাদের দেশের এরশাদী স্টাইলে।
কবীর ভাইঃ কি রকম?
আমিঃ এরশাদ যেমন বিজাতীয়করণের নামে রাষ্ট্রায়ত্ত অনেক প্রতিষ্ঠান নাম মাত্র মূল্যে তার চামচাদের হাতে তুলে দিয়েছিলো, সেরকম আরকি।

কবীর ভাই একটু বিমর্ষ হলেন। কিছু বলতে যাবেন এই সময় অপু বললো,

অপুঃ হা হা হা এরশাদ! এই এরশাদ বুঝলেন, যা করছে! কবীর ভাই আবারো বিরক্ত চোখে ওর দিকে তাকালেন। তবে এবার মনে হলো তিনি আক্রমণাত্মক কিছু বলবেন।

কবীর ভাইঃ কি, এরশাদ আবার কি হলো?
অপুঃ আরে এরশাদকে নিয়ে কত কাহিনী!
কবীর ভাইঃ কিসের আবার কাহিনী?
অপুঃ না, মানে কত কিছু শোনা যায়না?
কবীর ভাইঃ কি শোনা যায়?
অপুঃ ঐ যে নারী ঘটিত কত কিছু।
কবীর ভাই মনে হলো মনে মনে একটু ক্ষেপেই গিয়েছেন। কারণ অপু নিজেই ঐ চরিত্রের। সোভিয়েত ইউনিয়নে আসার পর থেকে, যত সব বাজারের মেয়েমানুষ নিয়ে ওর কেচ্ছা-কাহিনী। তার মুখেই আবার সমালোচনা শুনে কবীর ভাইয়ের মেজাজ তিরিক্ষি হয়ে গেল।
কবীর ভাইঃ তা এরকম মানুষ কি কম আছে নাকি? (সরাসরি অপুকে আক্রমণ না করে ইনডায়েরেক্টলি বললেন)
অপুঃ না মানে অনেক কিছু সোনা যায় এরশাদ সম্পর্কে।
কবীর ভাইঃ তা এরকম মানুষ কি কম আছে?
অপুঃ কিন্তু এরকম করা তো ঠিক না।
(ভুতের মুখে রামনাম শুন মনে মনে আমিও বেশ কৌতুক অনুভব করলাম। এবং নীরবে শুনতে লাগলাম, তাদের কথপোকথন কোনদিকে যায়।)

কবীর ভাইঃ শুনেন অপু। এরশাদের কাছে মেয়েরা যাবেনা কেন বলুন? প্রথমতঃ এরশাদ অত্যন্ত ক্ষমতাবান একজন ব্যক্তি। দ্বিতীয়তঃ তিনি সুদর্শন। তৃতীয়তঃ তিনি অসম্ভব ধনী। সুতরাং তার কাছে মেয়েরা যাবেই। এই নিয়ে আপনার দুশ্চিন্তা না করলেও চলবে।
কবীর ভাইয়ের এরকম ঝটিকা আক্রমণে, অপু একেবারে হাবুগবু হয়ে গেল। তবু ওর ক্ষুদ্র মস্তিস্কে কবীর ভাইয়ের মিশ্রির ছুড়ি ধরতে পেরেছে কিনা সেটা হলো কথা।

পাঁচতলার ৮৮ নং রূমটা ভালোই লাগছে। এক সপ্তাহের মত হয়ে এলো ভুতের ভয় এতদিনে দূর হয়ে গেছে। সামার ভ্যাকেশন চলছে ক্লাস-ট্লাস কিছু নাই। দিনের বেলা বাইরে ঘোরাঘুরি করি। রাতে কিছু সময় টেলিভিশনে ফিল্ম দেখে আর বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে কাটে। সাশা আসে, খালেদ আসে, ইউরা আসে, মেক্সিকোর খোসে আসে, এঙ্গোলার দানিয়েল আসে, পেরুর মারিতা আর কলাম্বিয়ার খোরকে (ওরা দম্পতি) আসে। এরকম অনেকেই আসে। সবার সাথে বসে চা-টা খাই গল্প-গুজব করি, টেলিভিশন দেখি। আমার রুমটা একটা ক্লাবের মতই হয়ে গিয়েছে।

একদিন খুব ভোরে ছাদে কিসের যেন আওয়াজ শুনলাম। ঘুম ভেঙে গেল। প্রথম ধাক্কায় ভড়কে গিয়েছিলাম। আবারো ভুত নয়তো? ঘুমটা ভালোভাবে ভাঙার পর বুঝলাম, না ভুত-টুত না। সম্ভবত উপরে কেউ কিছু করছে। ছাদে তো ওঠা নিষেধ। তাছাড়া ছাদে ওঠার এক্সিটটা সবসময় বন্ধই থাকে। তাহলে বোধহয় কোন কাজটাজ চলছে। সামারে ডরমিটরিতে অনেক রকম মেরামতের কাজ চলে। কৌতুহল চেপে না রাখতে পেরে, হাতমুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে সিঁড়িঘরের দিকে গেলাম।

ডরমিটরির যে দুটো সিঁড়ি আমরা ব্যবহার করি সেগুলো পাঁচতলা পর্যন্ত। সিঁড়ি দুইটি ছাদ পর্যন্ত যায়নি। ইচ্ছাকৃতভাবেই করা হয়েছে, কারণ আইনতঃ ছাদে ওঠা নিষেধ। তাহলে কি ছাদে ওঠার কোন ব্যবস্থাই নেই? না, আছে। তার শেষ মাথায় একটা এক্সিট আছে। স্কয়ার সাইজ একটি দরজা এক্সিটটিকে আটকে রাখে। সবসময়ই দরজাটা তালাবদ্ধ থাকে। আজ আমি ঐ দিকে তাকিয়ে দেখলাম, কোন তালা নেই বরং দরজাটি খোলা, আর সেই ফাক গলে অঝোর ধারায় সোনালী রোদ ঝরে ঝরে পরে সিঁড়িঘরের আলো কয়েকগুন বাড়িয়ে দিয়েছে।খুব সিডাকটিভ মনে হলো। ভাবলাম উঠে যাই ছাদে। ছাদে ওঠা অনিয়ম, আইনে নাই, দুরো গুল্লি মারি আইনের। উঠব ছাদে, দেখবো, ডরমিটরির ছাদ থেকে চারপাশের দৃশ্যটা কেমন সুন্দর দেখা যায়। যেই ভাবা সেই কাজ। ঝটপট মই বেয়ে উঠে এক্সিটের ফাঁক গলে বেরিয়ে এলাম ছাদে।

বাহ্‌ বেশ সুন্দর তো! সামনে ছবির মত দৃশ্য। ডরমিটরির উত্তর দিকে অর্থাৎ ফ্রন্ট সাইডের একপাশে আছে একঝাক গাছপালা যার প্রথম দ্বিতীয় সারিতে আছে ঐ বিরিওজা গাছগুলো। তার পিছনে আছে আরো কিছু পাঁচতলা ডরমিটরি ও এ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিং। তারও পিছনে হালকা দেখা যাচ্ছে লেকের দৃশ্য। ঐ লেকেই কয়েকদিন আগে বেড়াতে গিয়েছিলাম। আমার কাছে মনে হয় ওটাই খারকভের সব চাইতে মনোরম জায়গা। উঁচু-নীচু ছোট-ছোট টিলায় ভরা খারকভ শহর। লেকের পিছনে টিলার পিছনে হালকা বনের দৃশ্য চোখে পড়ে কেমন স্বপ্নিল মনে হয় দিগন্তকে। দক্ষিণ দিক অর্থাৎ যেদিকটায় আমার বর্তমান রূম, সেখানে ডরমিটরির ঠিক পিছন দিকটা খালি। আসলে ওখানে একটা আন্ডারগ্রাউন্ড গ্যারেজ রয়েছে। খারকভ শহরের পশ লোকজন ওখানে তাদের গাড়ী রাখেন। তার পিছনে সারি সারি এ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিং। তবে দালান গুলো পর্যাপ্ত পরিমানে জায়গার ব্যবধান রেখে করা, ঢাকার মত গায়ের উপর গা এসে পরা দালানের মত না। দালানগুলোর ফাকে ফাকে রয়েছে বিভিন্ন রকম গাছের সারি। পূর্ব দিকেও অনুরূপ দৃশ্য, আর ঐ দিকটায় শহর অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত আমি জানি। পশ্চিম দিকে দেখা যাচ্ছে একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত গীর্জা, কম্যুনিস্ট শাসনামলে এই গীর্জা ধ্বংস করা হয়েছে। নাস্তিক শাসক ইউজেফ স্তালিন (যোসেফ স্ট্যালিন)-এর নির্দেশে এটা করা হয়েছিল। ধর্মের প্রতি কি প্রবল আক্রোশ ছিল এই কম্যুনিস্টদের। আমি মাঝে মাঝে ভাবি এই কম্যুনিস্টরা বাক স্বাধীনতার পূর্ণ সুযোগ গ্রহন করে কিন্তু ক্ষমতার আসনে বসার সাথে সাথে প্রথম সুযোগেই তারা বাক স্বাধীনতাকে হরণ করে। এত আঘাতের পরেও মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে অপূর্ব কারুকাজ করা গীর্জার চূড়াটা।

আমি আগে কখনো কবীর ভাইয়ের ডরমিটরিতে আসিনি। উনি অনেকবার বলেছিলেন। ঠিকানা দিয়েছেন কয়েকবার। আজ ঠিক করলাম কবীর ভাইয়ের ডরমিটরিতে যাবো। যেই ভাবা সেই কাজ। আতাকারা ইয়ারোশা থেকে ট্রলিবাসে উঠে গেলাম। শহর ও গাছপালার মনোরোম দৃশ্য দেখতে দেখতে দশটি স্টপেজ পর পৌঁছে গেলাম আলেকসিয়েভ্‌সকায়ার স্টুডেন্টস্‌ টাউনে। উনাদের ডরমিটরিটা হাই রাইজ। ১১ তলা। অনেকগুলো ব্লক। লিফটে করে আটতলায় উঠে গেলাম। আটটি রুমের মাঝখানে একটি কমন কিচেন আছে। ওখানে দেখলাম কবীর রান্না করছেন। আমাকে দেখে ছুটে এলেন তিনি।

কবীর ভাইঃ আরে রিমন ভাই দেখছি!
আমিঃ চলে এলাম।
কবীর ভাইঃ এযে মেঘ না চাইতে জল! কি সৌভাগ্য আমার!
আমিঃ আরে কি যে বলেন! আমরা সবাই সাধারণ মানুষ। কোনটা আপনার রুম?
কবীর ভাইঃ এই তো ডান পাশে চলুন।
রূমের ভিতরে ঢুকে দেখলাম, আশরাফ ভাই বসা। তিনিও এই ডরমিটরিতেই থাকেন। কবীর ভাইয়ের বন্ধু, একসাথেই পড়েন। আমাকে দেখে বললেন
আশরাফ ভাইঃ কি আস্চর্য্য!
আমিঃ আস্চর্য্যের কি হলো?
আশরাফ ভাইঃ ভাবছিলাম আজ একফাকে আপনার রুমে একটু যাব।
আমিঃ যাওয়া আর হলোনা, আমি নিজেই চলে এলাম।
আশরাফ ভাইঃ তাই তো দেখছি, আমাদের সৌভাগ্য!
কবীর ভাইঃ আমি ভাবতেই পারিনি যে, আপনি কখনো আমাদের রুমে আসবেন!
আমিঃ এটা বেশী হয়ে গেল কবীর ভাই। আমি কি মানুষ নই? বাহ্‌ আপনার জানালা দিয়ে বাইরের ভিউ খুব সুন্দরতো। বিল্ডিং-টিল্ডিং কিছুই তো নেই। শুধু বন আর টিলা। বেশতো!
কবীর ভাইঃ হ্যাঁ, এদিক থেকে এটাই খারকভের শেষ মাথা।
আমিঃ আমি জানতাম, এখন নিজের চোখে দেখলাম।
কবীর ভাইঃ আজ না খেয়ে যেতে পারবেন না। আপনার রুমে আমরা অনেক বার খেয়েছি। আজ আমাদের একটু খেদমত করার সুযোগ দিন।
আমিঃ আরে ওটা কিছু না। ঠিক আছে খেয়েই যাবো। আপনার রুমটা আমার ভালো লেগেছে।
কবীর ভাইঃ এভাবে একা একটা রুম আমার পাওয়ার কথা ছিল না। একা রুম পাওয়ার বুদ্ধিটা আপনিই কিন্তু আমাকে শিখিয়ে দিয়েছিলেন।
আমিঃ হু আমার মনে আছে।
আশরাফ ভাইঃ সুখে-দুঃখে আপনার পরামর্শই তো আমরা বরাবর পেয়েছি।
আমিঃ থাক, সেটা কিছুনা। এই বিদেশ বিভুঁয়ে আমরা যদি একে অপরের হাত ধরে হাত ধরে চলতে না পারি, তাহলে বাঁচবো কি করে।

রান্না-বান্নার আয়োজন শুরু হয়ে গেল। উপর তলায় শিশির ভাইকেও দাওয়াত দেয়া হলো। কবীর ভাইয়ের রূমে জমিয়ে আড্ডা বসালাম আমরা।
একটু পরে মিনহাজ ভাই এসে উপস্থিত। খারকভ কালচারাল ইনস্টিটিউটে পি, এইচ, ডি করেন। তিনি সোভিয়েতে আন্ডারগ্র্যাড করেননি। দেশে পড়ালেখা করেছেন চিটাগাং ইউনিভার্সিটিতে, এখানে পি, এইচ, ডি করতে এসেছেন, লাইব্রেরী সায়েন্সে। যারা সোভিয়েতে আন্ডারগ্রেড করেনি বাংলাদেশে করেছে, ইনাদের নিয়ে বেশ সমস্যা হয়। দেশে লেখাপড়ার মান নীচু হওয়ায়, এখানে এসে খাবি খায়। তিন বছরের জায়গায় ছয়-সাত বছর লাগে পি, এইচ, ডি করতে। মিনহাজ ভাইয়েরও একই অবস্থা, সাত বছর হয়ে গেল এখনো শেষ করতে পারছেন না। স্কলারশীপটাও জোগার করেছিলেন মিনিস্ট্রিতে কোন এক আত্মীয় ধরে। ঘুষ দিয়েছেন বলেও সোনা যায়। তবে কথা বলেন খুব বড় বড়। বাকপটুতায় ওস্তাদ। তার সাথে বসলে দুয়েক মিনিট পরেই রাজনীতির আলাপ জুড়ে দেন। চিটাগাং ইউনিভার্সিটিতে থাকাকালীন সময়ে কি কি রাজনীতি করে দেশোদ্ধার করেছেন। কোন হরতালের সময় কয়টা গাড়ী ভেঙেছেন, কোন নেতার সাথে তার কত পেয়ারের সম্পর্ক ইত্যাদি, ইত্যাদি। তথাকথিত প্রগতিশীলতার একটা ভান ধরেন।

আমাদের গল্পগুজব চলা কালে প্রিন্স ভাই এলো। বেশ ভদ্র। দাড়িওয়ালা পরহেজগার মানুষ। আমরা ঠাট্টা করে বলি, “বাবা নাম রেখেছে প্রিন্স আর আপনি হয়ে গেলেন মোল্লা। আবার খোঁজ নিলে হয়তো দেখা যাবে কারো বাবা হয়তো নাম রেখেছে মোল্লা, কিন্তু সে হয়ে গেছে প্রিন্স “। প্রিন্স ভাই হাসেন, কিছু বলে না। বুঝতে পারেন, আমরা ঠাট্টা করছি। প্রিন্স ভাই বয়সে মিনহাজ ভাইয়ের সমানই হবে। সেও দেশে পড়ালেখা করেছে । দু বছর হয় এখানে এসেছেন, তবে পড়তে আসেননি। কোন একটা ইনস্টিটিউটে নামমাত্র ভর্তি হয়ে আছেন, ভিসা ঠিক রাখার জন্যে। মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেনকে ট্রান্‌জিট হিসাবে ব্যবহার করে জার্মানী বা ওয়েস্ট ইউরোপের কোন দেশে যাবেন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হওয়ায়, স্রেফ ভাগ্যের অন্বেষণে, আজকাল অনেকেই এটা করছে। খারকভ শহরেই বিশ-পচিশজন এরকম বাংলাদেশী পাওয়া যাবে।

আমরা নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলাম। ছেলেরা একসাথে গল্প-গুজবে বসলে সাধারণতঃ দুটো টপিক সেখানে প্রাধান্য পায়, মেয়ে আর রাজনীতি। আমাদের এই আড্ডায় সিনিয়র-জুনিয়র একসাথে আছি তাই মেয়েমানুষ নিয়ে আলাপ করা সম্ভব না। সেকারণে রাজনীতিই প্রাধান্য পাচ্ছিলো।
মিনহাজ ভাই কথায় কথায় প্রগতিশিলতার ভাব দেখানোর জন্য ধর্মকে আক্রমণ করে কথা বলে উঠলেন। এতে পরহেজগার প্রিন্স ভাই একটু বিরক্ত হলেন
প্রিন্স ভাইঃ এভাবে কথা বলা তো ঠিক না। মানুষের আবেগ অনুভূতিকে সম্মান করা উচিৎ।
মিনহাজ ভাইঃ ফ্রীডম দরকার, ফ্রীডম
প্রিন্স ভাইঃ ফ্রীডম বলতে আপনি কি বোঝেন?
মিনহাজ ভাইঃ ফ্রীডম, আমার খুশী মত কাজ করতে পারা।
প্রিন্স ভাইঃ তাই? মনে করেন আপনি দাঁড়িয়ে আছেন, আমি আপনার পায়ের উপর একটা পারা দিলাম। আপনি প্রশ্ন করলেন, পায়ে পারা দিলেন কেন? আমি বললাম এটা আমার ফ্রীডম, আপনি কি মনে করেন যে আমি কাজটা ঠিক করেছি
মিনহাজ ভাইঃ (একটু আমতা আমতা করে) না না। ব্যপারটাতো ফিজিকাল। এখানে পুরোপরি ফ্রীডম দেয়া যায়না।
প্রিন্স ভাইঃ ও আচ্ছা এখন আপনি ফ্রীডমকে কনফাইনড্‌ করতে চাচ্ছেন। তাহলে কোন ফ্রীডম আপনি চান।
মিনহাজ ভাইঃ আমি ফ্রীডম অব স্পীচের কথা বলছি।
প্রিন্স ভাইঃ ফ্রীডম অব স্পীচ মানে কি? যা খুশী তাই বলতে পারা?
মিনহাজ ভাইঃ হ্যাঁ তাইতো।
প্রিন্স ভাইঃ যা খুশী তাই বলা কি ঠিক?
মিনহাজ ভাইঃ হ্যাঁ ঠিক
এবার প্রিন্স ভাই একটু আক্রমণাত্মক হয়ে বললো।
প্রিন্স ভাইঃ মাফ করবেন, আমি যদি বলি, আপনার বাবা একটা কুত্তার বাচ্চা ছিল, আর আপনার দাদা ছিল একটা শুয়োরের বাচ্চা, আর আপনার বৌ কি করতে জানেন?…………।
প্রিন্স ভাইকে মিনহাজ ভাই আর কথা শেষ করতে দিলেন না। চোখ-মুখ লাল করে ভীষণ ক্ষিপ্ত হয়ে বললেন,
ঃ কি যাতা বলছেন?
প্রিন্স ভাইঃ বাহ্‌, আপনিইতো এলাউ করেছেন, ‘ফ্রীডম অব স্পীচ’!
উভয়ের এরকম আক্রমণাত্মক আচরণে আমরাও একটু হকচকিয়ে গেলাম, আবার না হাতাহাতি বেধে যায়। এরপর আমি একটু নরম সুরে বললাম।
আমিঃ শুনুন, মিনহাজ ভাই কালজয়ী লেখক লেভ তলস্তয় বলেছেন, ‘লিভিং ইন দ্যা সোসাইটি, উই কান্ট এনজয় এ্যাবসোলুট ফ্রীডম’।
এবার মিনহাজ ভাই উঠে দরজা খুলে গটগট করে বেরিয়ে গেলেন।

এরমধ্যে একদিন স্টুডেন্ট টাউনে অনেক নতুন ছেলেমেয়েদের দেখতে পেলাম। প্রতি বছরই এটা ঘটে। ইউক্রেণের বিভিন্ন জায়গা থেকে ছেলেমেয়েরা ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসে। আমাদের ডরমিটরিতেও অনেককে দেখলাম। সামারে বেশীরভাগ সময় ডরমিটরি খালিই থাকে যেহেতু ছুটি কাটাতে সবাই বাড়ী চলে যায়। কিন্তু দুতিনটা দিন ভর্তিচ্ছুদের কলকাকলীতে মুখর থাকে ডরমিটরি । এদের মধ্যে থেকে যারা কোয়ালিফাই করবে তাদেরকেই এখানে দেখা যাবে সেপ্টেম্বর থেকে।

সাশা এরমধ্যে সাতদিনের জন্য গ্রামের বাড়িতে গেল। আমাকে বললো, “যাবে নাকি আমার সাথে, চলো দেখে আসি আমাদের গ্রাম”। আমি বললাম এবার থাক, ” পরে যাব কোন একসময়”। ও ঘুরে এলো। আমার জন্য নিয়ে এলে এক ব্যাগ ফল, চেরি, ভিশনা, পেরসিক, স্লিভা, ইত্যাদি। চেরি ফলটা আমি খুব বেশী পছন্দ করি। সাশা শ অন্যান্য বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে বেশ মজা করে খেলাম। দেখতে দেখতে সামার ভ্যাকেশন শেষ হয়ে গেল।

এখানে ক্লাশ শুরু হয় পহেলা সেপ্টেম্বর। সারা ইউক্রেণ জুড়ে, স্কুল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। দিনটিকে নাম দিয়েছে ‘নলেজ ডে’। আমি এই দিনটাতে ক্লাশ মিস দেইনা। খুব এনজয় করি আমি দিনটা। সবচাইতে বেশী এনজয় করে যারা নতুন ভর্তি হয়েছে তারা। সদ্য স্কুল সমাপ্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রেখেছে, বড় হয়ে গিয়েছে, সেই আনন্দ। নতুন জগত দেখার আনন্দ। সবচাইতে বেশী আনন্দ ঝিকিমিক করে ওঠে চোখের নতুন স্বপ্নে।

আমাদের ডরমিটরিতে স্টুডেন্ট সব ছুটি শেষে চলে এসেছে। আরও এসেছে নতুন ছাত্র-ছাত্রীরা। এই সময়টায় অনেক সিনিয়র ছাত্র বেশ তৎপর হয়ে ওঠে নতুন মেয়েদের সাথে খাতির জমাতে। রাফ ল্যগুয়েজে ওরা বলে ফ্রেশ গার্লস। ওদের মধ্যে উদ্যম থাকে কম না। ওরাও ছুটোছুটি শুরু করে ডিসকোতে যায়। এর ওর সাথে পরিচিত হয়। ধীরে ধীরে রূমে যাতায়াত শুরু হয়।

আমার উল্টা দিকের রুমে থাকে এ্যঙ্গোলার দানিয়েল। ছেলেটি খুব ভদ্র, তবে আলুর দোষ আছে। প্রায় সময়ই ওর রূমে নতুন নতুন মেয়ে দেখতে পাই। পহেলা সেপ্টেম্বরের পর প্রথম উইক এন্ড। বিকালের দিকে আমার রূমে কোন গেস্ট ছিলনা। বোরিং ফীল করছিলাম। ভাবলাম যাই একটু দানিয়েলের রূমে। দরজা নক করতেই ও দরজা খুলে আমাকে দেখেই বললো, “ওয়েলকাম, ওয়েলকাম”। আমি ভিতরে ঢুকে দেখলাম, নতুন একটি মেয়ে ওকে আগে কখনো দেখিনি। ভাবলাম এ আর এমন কি? দানিয়েলের রুমে তো প্রায়ই নতুন মেয়ে দেখা যায়। পরক্ষণেই মনে হলো। ময়েটা সেরকম নয়। খুব অল্প বয়স, এবং বেশ ভদ্র। নতুন ছাত্রী হবে বোধহয়। যা ভেবেছিলাম তাই। দানিয়েল আমাকে পরিচয় করিয়ে দিলো, “তাতিয়ানা ও রিমন, রিমন ও তাতিয়ানা। নতুন ছাত্রী ফার্স্ট ইয়ারে ভর্তি হয়েছে, আমাদের ডরমিটরিতেই রূম পেয়েছে “। ইউক্রেনীয় ললনা তাতিয়ানা ডাগর দুটি চোখ মেলে আমার দিকে তাকালো। পরক্ষণেই ও চোখ দুটি নামিয়ে নিল। একটি চঞ্চল হরিনী যেন হঠাৎ লজ্জ্বাবিধুর জড়োসড় হয়ে গেল। এদেশের মেয়েরা বেশ স্মার্ট, সাধারণত এমন করেনা। প্রথম দেখায়ই ও হঠাৎ কেন এমন লাজুকলতা হয়ে গেল? হঠাৎ কাব্য চলে এলো আমার মনে। ভাবলাম মেয়েটার একটা নাম দেয়া যাক। কি নাম দেয়া যায়? মেয়েটি বসেছিলো দানিয়েলের রূমের জানালার পাশে। ঠিক ওর পিছনেই ছিল এক সারি বিরিওজা গাছ। ইংরেজীতে এই গাছগুলোকে বার্চ গাছ বলে। সদ্য যৌবনা বালিকা বসে আছে, তার পিছনে বার্চ তরুর সারি, দৃশ্যটা খুব অপরূপ মনে হচ্ছিলো, তার সাথে মিল রেখে ওর নাম দিয়ে ফেললাম – বার্চ বনের প্রণরেনী।

বাকি পর্বগুলো (৫, ৬,৭,৮ ও ৯) পড়তে এখানে ক্লিক করুন

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কৌতুক বিনোদন ব্যঙ্গকৌতুক ভালবাসা/প্রণয়লীলা সৃজনশীল প্রকাশনা

বাংলা কৌতুক সমগ্রঃ ২০১ থেকে ৩৩০(১৮+)

২০১)

চারটি ইনসিওরেন্স কোম্পানির মধ্যে তুমুল প্রতিযোগিতা চলছে। প্রথমটা তাদের স্লোগান ঠিক করলো – “Coverage from the cradle to the grave.”

দ্বিতীয়টি ঠিক এক কাঠি এগিয়ে বলল – “Coverage from the womb to the tomb.”

তৃতীয়টি আরেক কাঠি সরেস, বলল – “Coverage from the sperm to the worm.”

চতুর্থ কোম্পানিটি অনেক ভাবলো। ভেবে ভেবে কিছু না পেয়ে এক সময় ক্ষান্ত দিতে চাইলো। কিন্তু শেষ মুহুর্তে তারা একটা স্লোগান পেয়ে গেল – “Coverage from the erection to the resurrection.”

২০২)

চারজন লোক একটি বার এ বসে গল্প করছিলেন। হঠাৎ করে একজন উঠে ওয়াশরুম এ চলে গেল, অন্য তিনজন তখনও গল্প করতে ব্যস্ত ছিল। একসময় তারা তাদের ছেলেদের সম্বন্ধে কথা বলা শুরু করল, “সত্যি বলতে কি, আমি একটু চিন্তায়ই ছিলাম যখন আমার ছেলে বলল সে একটা গাড়ির দোকানে গাড়ি ধোয়ার কাজ করবে। কিন্তু জলদি সে সেলসম্যান হিসেবে প্রোমোশন পেল এবং এত টাকার মালিক হল যে পুরো দোকানটাই কিনে ফেলল। এখন সে অনেক ধনী এবং তার বন্ধুকে জন্মদিনে একটি মার্সিডিজ গিফট করেছে।”

দ্বিতীয় জন মাথা দোলাল তারপর বলল, “আমি আমার ছেলের ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে কখনই নিশ্চিত ছিলাম না এমনকি যখন সে তার নিজস্ব রিয়াল এস্টেট কোম্পানি খুলে। কিন্তু এখন তার ভাগ্য খুলে গেছে। এইতো কিছুদিন আগে সে তার বন্ধুর জন্মদিনে একটা ভিলা তাকে গিফট করল।”

তৃতীয় ব্যাক্তি বলল, “আমার ছেলে শেয়ার বাজারে তার সবকিছু ইনভেস্ট করে আর ভাগ্যগুনে ত্রিশ কোটি টাকার মালিক হয়ে যায়। এখন সে কারিবিয়ানে নিজের দ্বীপ কিনে সেখানেই থাকে। এইতো সেদিন সে তার বন্ধুকে পনের লাখ টাকার শেয়ার গিফট করল।”

ইতোমধ্যে চতুর্থ লোক ওয়াশরুম থেকে ফিরে এসে শুনল অনন্যারা তাদের ছেলেদের সম্বন্ধে গল্প করছে। তখন সেও বলতে শুরু করল, “আমার স্বীকার করতেই হবে আমার ছেলে একটা অপদার্থ। সে পনের বছর আগে একটা জিমে কাজ শুরু করে আর এখন পর্যন্ত সেখানেই আছে। কিছুদিন আগে জানতে পারলাম যে আমার ছেলে সমকামী আর তার অনেকগুলো ছেলেবন্ধু (!) ও আছে।”

এটুকু শুনে বাকিরা তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে তার দিকে তাকাল। কিন্তু সে বলতে থাকল, “ভালোর মধ্যে শুধু এই যে কিছুদিন আগে তার জন্মদিন ছিল আর সে একটি মার্সিডিজ, একটা ভিলা আর পনের লাখ টাকার শেয়ার গিফট পেয়েছে।”

২০৩)

দুপুরে বাসায় কেউ নেই। এক ভদ্র মহিলা কাপড় চোপড় খুলে গোসল করছেন। এমন সময় বাসার কলিং বেল বাজল। মহিলা ভাবলো, এমন দুপুর বেলায় কারও আসার কথা নয়। নিশ্চয় ফকির এসেছে। শরীর ভিজিয়েছি আবার কাপড় পড়বো? আচ্ছা কাপড় ছাড়াই লুকিং গ্লাস দিয়ে দেখি কে? যদি ফকির হয় তাহলে ভিতর থেকেই না করে দিবো ভিক্ষা দেওয়া যাবেনা। মহিলা দরজার ফুটা দিয়ে দেখেন, ফকির নয়, এসেছে পাশের বাসার অন্ধ ছেলে রাজু। মহিলা ভাবলেন, কাপড় গায়ে নেই, অন্ধ রাজুর সাথে দরজা খুলে কথা বললেও সমস্যা কি? ও তো আর দেখবেনা আমি ….। দরজা খুলে-

মহিলাঃ কি ব্যাপার রাজু তুমি এই দুপুর বেলায়, আবার তোমার হাতে মিষ্টিও দেখছি?

অন্ধ রাজুঃ জী খালাম্মা, এই মিষ্টিগুলো রাখেন, আম্মা পাঠিয়েছে।

মহিলাঃ কি কারণে মিষ্টি রাজু?

অন্ধ রাজুঃ খালাম্মা, আমি আজ সকাল থেকে দেখতে পাচ্ছি।

২০৪)

চার কাউবয় একসাথে আগুনের পাশে গোল হয়ে বসে আলোচনা করছে, সবচে’ দ্রুত কোন জিনিস।

প্রথমজন বলছে, ‘চিন্তা, বুঝলে? হাতে কাঁটার খোঁচা খেলে, কিংবা তামাকের ছ্যাঁকা খেলে কী হয়? সেটা চিন্তা হয়ে সাথে সাথে মাথায় ঘা দ্যায়!’

দ্বিতীয়জন বলছে, ‘আরে না। চোখের পাতা ফেলা হচ্ছে সবচে দ্রুত। চোখের পলক ফেলতে না ফেলতেই আবার সব আগের মতো দেখা যায়।’

তৃতীয়জন বলছে, ‘উঁহু, আলো। দ্যাখো না, সুইচ টিপতেই ঘর থেকে কিভাবে অন্ধকার সরে যায়?’

চতুর্থজন বলছে, ‘ঘেঁচু। সবচে দ্রুত হচ্ছে ডায়রিয়া।’

বাকিরা ঘাবড়ে গেলো, ‘কিভাবে, কিভাবে?’

‘গেলোবার মেক্সিকোতে গরু বিক্রির সময় ওদের তরকারি খেয়েছিলাম, বুঝলে? ব্যাটারা এতো ঝাল খায়! রাতের বেলা হোটেলের বিছানায় শুয়ে আছি, হঠাৎ পেটটা কেমন যেন করে উঠলো। তারপর আমি কোন চিন্তাও করতে পারলাম না, চোখের পাতিও ফেলতে পারলাম না, এমনকি ঘরের সুইচও টিপতে পারলাম না, তার আগেই …।’

২০৫)

এক শহুরে ভদ্রলোক একটি ফার্মহাউজ কেনার জন্য গেলো। মালিকের সাথে ফার্মহাউজ দেখতে দেখতে হঠাৎ তার নজরে পড়লো একটা বড় মৌচাক। মৌমাছিকে সে কতটা ভয় পায় তা সে মালিককে জানালো। মালিক বললো, এগুলো একটুও কামড়ায় না। কিন্তু তাতে শহুরে ভদ্রলোকের মন ভরলো না।

শেষমেষ মালিক তাকে প্রস্তাব দিলো, আপনি সব কাপড় খুলে এই গাছের সাথে দাঁড়াবেন আর আমি আপনাকে বেঁধে দিবো। এক ঘন্টার মধ্যে যদি কোন মৌমাছি আপনাকে কামড়ায় তাহলে এই ফার্মহাউজ আপনার জন্য ফ্রি। আর না কামড়ালে আপনি কিনবেন।

প্রস্তাবটা ক্রেতা ভদ্রলোকের পছন্দ হলো। ফ্রি ফার্মহাউজ পাবার জন্য রিস্কটা নেয়া যায়। শর্তমতো তাকে মৌমাছির চাকের নিচে গাছে বেঁধে মালিক চলে গেলো।

এক ঘন্টা পর মালিক ভয়ে ভয়ে ফিরে এলো, না জানি কোন মৌমাছি ক্রেতা ভদ্রলোককে কামড়ে দেয়।

ভদ্রলোক যেমন ছিলেন তেমনই বাঁধা ছিলো। মালিক তাকে জিজ্ঞেস করলো, কোন মৌমাছি কি আপনাকে কামড়েছে?

ভদ্রলোক বললো, না, কোন মৌমাছি আমাকে স্পর্শও করেনি। কিন্তু ঐ বাছুরটার কি কোন মা নেই?

২০৬)

একটা কথা বলা টিয়া পাখি প্রতিদিন টিনা’কে দেখলেই ডাকাডাকি শুরু করে দিত, “আপা, আপা, আপা”। টিনাতো খুশিতে গদগদ হয়ে যেই পাখিটার কাছে যেত, অমনি পাখিটা সুর পাল্টিয়ে বলতে শুরু করতো, “বিশ্রী, বিশ্রী”। টিনাতো রাগে ফেটে পড়লো। দোকানদারকে বেশ হুমকি দিয়ে আসলো। বেচারা নতজানু হয়ে মাফ চাইলো। পরদিন, একি ঘটনা। এবার টিনা আরো রেগে গেলো। বল্লো, এই টিয়া পাখিটার কোন ব্যাবস্থা না করতে পারলে পাড়া থেকে দোকানদারকে বিদায় করবে। তো তার পরদিন, টিনা আবারো হেটে যাচ্ছে। যথারীতি পাখিটা ডাক দিলো, “আপা, আপা”। কি জানি কি মনে করে আরেকবার টিনা কাছে এলো। পাখিটা আর কিছু বলেনা। টিনা জিজ্ঞেস করলো, “কি?”। তখন পাখিটা বল্লো, “বুঝতেই তো পারছেন!”

২০৭)

আরাম খান এর শাশুড়ি একবার ঠিক করলো, তার দুই জামাই এর কে তাকে বেশি ভালোবাসে সেটা পরীক্ষা করবে।

১ম দিন সে ১ম জামাই এর সামনে নদীতে লাফ দিলো, আর ডুবে যেতে লাগলো,দেখতে জামাই তাকে বাঁচায় কিনা।

১ম জামাই নদীতে লাফ দিয়ে তাকে বাঁচালো

শাশুড়ি তাকে খুশি হয়ে ১ম জামাই কে Karizma বাইক গিফট করলো।

পরের দিন সে ২য় জামাই(আরাম খান) এর সামনে নদীতে লাফ দিলো, একি পরীক্ষা করার জন্য।

কিন্তু এই জামাই শাশুড়ি কে দেখতে পারতো না, তাই সে বাঁচালো না। শাশুড়ি মারা গেলো।

কিন্তু পরের দিন দেখা গেলো ২য় জামাই BMW গাড়ি নিয়ে ঘুরছে।

১ম জামাই অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো, এটা কোথায় পেলে?

আরাম খান হেসে জবাব দিলো, “আমার শ্বশুর খুশি হয়ে এটা গিফট করেছে”

২০৮)

এক লোক সুইস ব্যাঙ্কে প্রতিদিন হাজার হাজার ডলার জমা দেয়…

মানেজারের একদিন সন্দেহ হল, ভদ্রলোককে ডেকে পাঠালেন…

ম্যানেজার – আপনি প্রতিদিন এত টাকা জমা করেন, আপনার আয়ের উতস কী,

লোকটি – ভাই আমি একজন জুয়াড়ী, আমি বাজী ধরে টাকা রোজগার করি…

ম্যানেজার – কী বলেন! বাজী ধরে এত টাকা… এ অসম্ভব! নিশ্চই আপনার কোনো দুই নম্বরী ব্যবসা আছে…

লোকটি – নারে ভাই আমি সত্য বলছি। আচ্ছা চলেন আপনার সাথেই একটা বাজী হয়ে যাক…

ম্যানেজার – কী বাজী…??!!!

লোকটি – এক সপ্তাহ পরে আমি যখন আসব তখন আপনার একটা বিচী থাকবে আরেকটা নাই, ১০,০০০ ডলার বাজী…

ম্যানেজার একটু ভয় পেলো, কী জানি জুয়াড়ী মানুষ, রাস্তায় বের হলে যদি বিচী কেটে নেয়… তারপর কী একটু ভেবে সে রাজী হল…

লোকটি চলে যাবার পর ম্যানেজার তার সিকিউরিটি ডাবল করল, বাসায় ফোন করে বলল এক সপ্তাহের জন্য বাইরে যাচ্ছে, বাসায় ফিরবে না… এক সপ্তাহ সে ব্যাঙ্কেই কাটিয়ে দিলো…

এক সপ্তাহ পর … সেই লোকটি এল সাথে এক চীনা ভদ্রলোক, ম্যানেজার পকেটে হাত ঢুকিয়ে একবার দেখে নিলো… নাহ ঠিক আছে…লোকটি বলল

লোকটি – সব ঠিক আছে?

ম্যানেজার – হ্যা দুইটাই তো আছে…

লোকটি – আচ্ছা (চীনা লোককে দেখিয়ে) ইনি পরীক্ষা করে দেখবেন… আপনারা দুজন বাথরুমে যান…

বাথরুমে গিয়ে চীনা লোক ম্যানেজারের বিচী ধরে পরীক্ষা করে ফিরে এসে জানালো দুইটা বিচী আছে…

তো সেই লোক মানেজারকে ১০,০০০ ডলার দিয়ে বিদায় হল।

আধা ঘন্টা পর সেই লোক ১০,০০০ ডলার জমা দিতে এলো…!! ম্যানেজার তাকে ডেকে বললেন

ম্যানেজার – কী ব্যপার আপনি না এই মাত্র আমার কাছে বাজীতে হারলেন…!!

লোকটি – হুম তা ঠিক আছে, কিন্তু আমি ঐ চীনা ভদ্রলোকের সাথে বাজী ধরেছিলাম যে সুইস ব্যাঙ্কের ম্যানেজারের বিচী হাতানোর ব্যবস্থা করে দিব ২০,০০০ ডলার…!!

২০৯)

এক ৬০ বছর মহিলা তার বেড রুম এ অদ্ভুত শব্দ শুনতে পেলেন। তিনি দরজা খুলে ঢুকে দেখেন তার ৪০ বছর বয়সী মেয়ে vibrator ব্যবহার করছে।

“কি করছো মা?” মহিলা জিজ্ঞাস করলেন।

মেয়ে কাদো কাদো হয়ে বললঃ “মা, আমার বয়স ৪০ বছর হয়ে পড়ছে এবং আমি এতই কুৎসিত যে আমাকে কোন ছেলেই বিয়ে করতে চায় না। আমি একজন স্বামীর অভাব বোধ করছি। তাই এটাকে দিয়েই স্বামীর শূন্যতা পূরন করছি।“

মা তখন মাথা নিচু করে রুম থেকে বেড় হয়ে গেল।

পরদিন বাবা অদ্ভুত শব্দ শুনে রুম এ ঢুকে দেখেন তার ৪০ বছর বয়সী মেয়ে vibrator ব্যবহার করছে।

“কি করছো মা?” লোকটা জিজ্ঞাস করলেন।

এবারো মেয়ে কাদো কাদো হয়ে বললঃ “বাবা, আমার বয়স ৪০ বছর হয়ে পড়ছে এবং আমি এতই কুৎসিত যে আমাকে কোন ছেলেই বিয়ে করতে চায় না। আমি একজন স্বামীর অভাব বোধ করছি। তাই এটাকে দিয়েই স্বামীর শূন্যতা পূরন করছি।“

বাবা তখন মাথা নিচু করে রুম থেকে বেড় হয়ে গেল।

পরদিন মহিলা দেখতে পেল তার স্বামী এক হাতে বিয়ার আর এক হাতে vibrator নিয়ে টিভি দেখছে। মহিলা জিজ্ঞাসা করলো কি করছো?

লোকটা বললঃ আমি বিয়ার খাচ্ছি আর আমার মেয়ে জামাইকে নিয়ে টিভি দেখছি।

২১০)

দুই গর্ভবতী মহিলা সকালে হাঁটতে বেরিয়েছে। হাঁটতে হাঁটতে তারা গল্প করছে কার কি বাচ্চা হতে পারে। তো এক মহিলা বলছে জানো আমি না গর্ভবতী হবার পর খুব শুকিয়ে গেছি, কিছুই খেতে পারছি না। এসব দেখে আমার শ্বাশুড়ি বলেছেন আমার নাকি ছেলে হবে।

অন্যজন বললো তার লক্ষণ দেখে নাকি সবাই বলছে মেয়ে হবে।

তো অনেক ক্ষণ ধরেই তাদের পাশে দিয়ে ছোট্ট বল্টু মিয়া দৌড়াচ্ছিলো।

হঠাৎ সে বলে উঠলো, আন্টি আন্টি আমার না হাতি হবে।

মহিলা দুজন থমকে দাঁড়ালেন।

তারা জিজ্ঞেস করলো কিভাবে বুঝলে?

ছোট্ট বল্টু মিয়া তখন প্যান্ট খুলে দেখিয়ে বললো ………দেখেন না শুঁড়টা বেরিয়ে আছে!!!

২১১)

ক্রিসমাস পার্টিতে অনেক মাস্তি আর হুল্লোড় করার পরদিন জন প্রচন্ড মাথাব্যথা নিয়ে জাগলো। গতরাতের কথা তার কিছুই মনে ছিলো না। নিচে গিয়ে সে দেখলো তার স্ত্রী কফি বানাচ্ছে।

– গত রাতে আমি খারাপ কিছু করিনি তো? জানতে চাইলো জন।

– তেমন কিছু না, তবে তোমার বসকে সবার সামনে গালিগালাজ করেছো।

– ওই ব্যাটার মুখে আমি পেশাব করি, শয়তান একটা! জন গালি দিয়ে উঠলো।

– তুমি তাই করেছো, ফলস্বরূপ তোমাকে চাকরি থেকে বের করে দিয়েছে। স্ত্রী বললো।

– ফাক হিম! আবারো গালি দিলো জন।

– আমি তাই করেছি, ফলস্বরূপ সোমবার থেকে তুমি আবার চাকরিতে জয়েন করছো।

২১২)

রিয়াদ সাহেবের কান দুটি কাটা পড়েছে বহু আগে। তিনি একটা টিভি চ্যানেল চালান। টিভিতে খবরের জন্যে একজন রিপোর্টার খুঁজছেন তিনি।

ইন্টারভিউ বোর্ডে প্রথম প্রার্থীকে জিজ্ঞেস করলেন তিনি, ‘দেখুন, এ পেশায় খুব মনোযোগী হতে হয়, অনেক সূক্ষ্ম ব্যাপার খেয়ালে রাখতে হয়। আপনি কি আমার সম্পর্কে এমন কিছু খেয়াল করতে পারছেন?’

প্রার্থী একগাল হেসে বললো, ‘নিশ্চয়ই স্যার। আপনার তো দুটা কানই কাটা!’

রিয়াদ সাহেব গর্জে উঠলেন, ‘বেরো এখান থেকে, ব্যাটা নচ্ছাড়!’

দ্বিতীয় প্রার্থীকেও একই প্রশ্ন করলেন তিনি। ‘দেখুন, এ পেশায় খুব মনোযোগী হতে হয়, অনেক সূক্ষ্ম ব্যাপার খেয়ালে রাখতে হয়। তা, আপনি কি আমার সম্পর্কে এমন কিছু খেয়াল করতে পারছেন?’

দ্বিতীয় প্রার্থী খানিকক্ষণ চেয়ে থেকে বললো, ‘জ্বি স্যার। আপনার তো দুটা কানই কাটা!’

রিয়াদ সাহেব গর্জে উঠলেন, ‘বেরো এখান থেকে, ব্যাটা ফাজিল!’

তৃতীয় প্রার্থীকেও একই প্রশ্ন করলেন তিনি। ‘দেখুন, এ পেশায় খুব মনোযোগী হতে হয়, অনেক সূক্ষ্ম ব্যাপার খেয়ালে রাখতে হয়। আপনি কি আমার সম্পর্কে এমন কিছু খেয়াল করতে পারছেন?’

এবার প্রার্থী বললো, ‘জ্বি স্যার। আপনি কন্ট্যাক্ট লেন্স পরে আছেন।’

রিয়াদ সাহেব খুশি হয়ে বললেন, ‘বাহ, আপনি তো বেশ — তা কিভাবে বুঝলেন?’

‘সোজা। আপনি চশমা পরবেন কিভাবে, আপনার তো দুটা কানই কাটা!’

২১৩)

এক লোক ক্যালিফোর্নিয়া উপকূল ধরে সাইকেল চালাচ্ছিল। এমন সময় হঠাৎ সে ঈশ্বরের কন্ঠ শুনতে পেল। ঈশ্বর তাকে বলল তুমি এই মুহূর্তে একটি ইচ্ছার কথা বল, আমি তা পূরণ করব। সাইকেল চালক কিছুক্ষণ ভেবে বলল, আমার বাড়ি হাওয়াইতে। তুমি যদি আমেরিকা থেকে হাওয়াই পর্যন্ত একটি ব্রিজ করে দাও তাহলে আমার খুব উপকার হয়। ঈশ্বর এই কথা শুনে বলল, দেখ, আমি তোমাকে ব্রিজ তৈরী করে দিতে পারি। কিন্তু তুমিই ভেবে দেখ, এতবড় একটি ব্রিজ হবে সাগরের উপর, পিলার উঠে আসবে সাগরের তলদেশ থেকে, পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে, আর মানুষ একদিনে এতবড় ব্রিজ দেখে আশ্চর্য হয়ে যাবে। তার চাইতে তুমি এমন কিছু চাও যা তোমার ব্যক্তিগত উপকারে আসবে। লোকটি আরও কিছুক্ষণ ভেবে বলল, ঠিক আছে, তুমি আমাকে আমার স্ত্রীর মন বোঝার ব্যবস্থা করে দাও। এই কথা শুনে ঈশ্বর বলল, ” ইয়ে মানে ব্রিজটা তোমার কতক্ষণের ভিতর লাগবে? “

২১৪)

জজ কোর্ট। জজ আসামীর দিকে তাকিয়ে রায়ের আদেশ পড়ছেন। “তুমি বউকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মারার অভিযোগে অভিযুক্ত।”

দর্শকদের ভিতর থেকে আরাম খান চিৎকার করে বলল, “হারামজাদা!”

জজ রায় পড়ে যাচ্ছেন, “তুমি তোমার শাশুড়িকেও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মেরেছো”

দর্শকদের ভিতর থেকে আরাম খান আবার বলে উঠল “হারামজাদা!!”

এইবার জজ আরাম খানকে বললেন, “আমি আপনার রাগের কারন বুঝতে পারছি। কিন্তু এটা কোর্টরুম। আর একবার আপনি এই রকম চিৎকার করলে আপনাকে বিচারে বাধা দেয়ার জন্য গ্রেফতার করা হবে। বুঝছেন?”

এইবার আরাম খান দাঁড়িয়ে বলল, “আমি গত পনের বছর ধরে ওই বদমাশ হারামজাদার প্রতিবেশি। যতবারই আমি তার কাছে একটা হাতুড়ির ধারের জন্য গেছি, সে বলছে তার কাছে হাতুড়ি নাই।”

২১৫)

বৃদ্ধ রহিম মিয়া অন্ধ মানুষ। একদিন সকাল বেলায় তিনি মার্কেটে যাচ্ছিলেন কিছু রুটি কিনতে। রুটি কেনা শেষ, তিনি বাসায় ফিরবেন, হুট করে কোথা থেকে এক কুকুর এসে রহিম মিয়ার পায়ে মুত্র বিসর্জন করলো। রহিম মিয়া ছিটকে দূরে সরে গেলেন … তারপর আহ আহ আহ করে রুটিটা ঝুলিয়ে কুকুরটার দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করতে লাগলেন … … সবাই তো তাজ্জব!!! যে লোকের গায়ে কুকুর পেশাব করে দিল, সে কিনা কুকুরটাকে তার রুটি খাওয়াতে চাচ্ছে!

একজন গিয়ে তাকে বলল, ‘রহিম মিয়া, আপনি কি মহান! ওই খারাপ কুকুরটা আপনার গায়ে পিশাব করে দিল, অথচ আপনি তাকে রুটি খাওয়াতে চাচ্ছেন!!!”

রহিম মিয়া উত্তর দিলেন, “আরে ভাই, আমি তো ওকে রুটি দিয়ে ওর পাছার অবস্থান বুঝার চেষ্টা করছি, যাতে যুতসই একটা লাথি বসাতে পারি!”

২১৬)

একদিন আরাম খান এক বারে গিয়ে দেখলো এক লোক হাঁসের নাচের খেলা দেখাচ্ছে। হাঁসটা তার নির্দেশমতো একটা পটের উপর ট্যাপ ড্যান্স করছে। দেখে তো সে দারুণ মুগ্ধ। হাঁসটা কেনার প্রস্তাব দিলো তার মালিককে। অনেক আলোচনা শেষে হাঁসটার মূল্য ১০০০০ ডলার ধার্য হলো।

দু’দিন পরেই আরাম হাস টা নিয়ে আবার সেই বারে ফিরে এলো। হাঁসের পুরোনো মালিককে বললো, তোমার ভূয়া হাঁস ফেরত নাও। আমার সামনে ওকে পটে বসিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু একটা পা-ও নাচেনি।

মালিক উত্তর দিলো, তুমি কি ওর পটের নিচে মোমবাতি জ্বালিয়ে দিয়েছিলে?

২১৭)

ময়দানে সৈন্যদের খোঁজ নিতে গিয়ে জেনারেল বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করলেন একজন সৈন্যও উপস্থিত নেই। কিছুক্ষণ পর হাঁপাতে হাঁপাতে এক সৈন্যে এসে হাজির।

– কি কারণে দেরি হলো? জেনারেল জানতে চাইলো।

– স্যার, ডেট- এ গিয়ে দেরি হয়ে গেছে। আসার পথে শেষ বাসটাও ধরতে পারলাম না, ট্যাক্সি ক্যাবকে থামতে বললাম, থামলো না, একটা ফার্মে গিয়ে একটা ঘোড়া কিনে রওনা দিলাম, মাঝপথে সেটা মারা গেলো। এরপর বাকি ১০ কিলোমিটার দৌড়াতে দৌড়াতে এসেছি।

অজুহাতটা জেনারেলের মনো:পুত হলো না। তারপরও যেহেতু সে এসেছে তাই তাকে ছেড়ে দিলেন।

এরপর আরো আটজন সৈন্য হাঁপাতে হাঁপাতে এলো।

– কি কারণে দেরি হলো? জেনারেল জানতে চাইলো।

– স্যার, ডেট- এ গিয়ে দেরি হয়ে গেছে। আসার পথে শেষ বাসটাও ধরতে পারলাম না, ট্যাক্সি ক্যাবকে থামতে বললাম, থামলো না, একটা ফার্মে গিয়ে একটা ঘোড়া কিনে রওনা দিলাম, মাঝপথে সেটা মারা গেলো। এরপর বাকি ১০ কিলোমিটার দৌড়াতে দৌড়াতে এসেছি। সবাই এই অজুহাত দিলো।

জেনারেল তাদের অজুহাতে ভারি সন্দিহান হয়ে পড়লেন। কিন্তু যেহেতু এই অজুহাতের কারণে প্রথম জনকে ছেড়ে দিয়েছেন তাই তিনি তাদেরকেও ছেড়ে দিলেন।

একটু পর আরেক সৈন্য হাঁপাতে হাঁপাতে এলো।

– কি কারণে দেরি হলো? জেনারেল জানতে চাইলো।

– স্যার, ডেট- এ গিয়ে দেরি হয়ে গেছে। আসার পথে শেষ বাসটাও ধরতে পারলাম না, ট্যাক্সি ক্যাবকে থামতে বললা …

– বাকিটা আমি বলি। তুমি ট্যাক্সিকে থামতে বললে, সেটা থামলো না। তারপর তুমি একটা ঘোড়া কিনলে….।

– না স্যার, আমি ট্যাক্সি পেয়েছি ঠিকই। কিন্তু একটু দূরে গিয়ে দেখি রাস্তায় অনেক মরা ঘোড়া পড়ে আছে। সেগুলোকে পাশ কাটিয়ে আসতে আসতেই দেরি হয়ে গেলো।

২১৮)

এক লোক মরুভূমিতে পথ হারিয়ে হাঁটছিলো। তৃষ্ণায় তার প্রাণ যায় যায় অবস্থা। এমন সময় সে ব্যাগ নিয়ে এক লোককে গাছের নিচে বসে থাকতে দেখলো।

– আমাকে একটু পানির সন্ধান দিতে পারবে? জানতে চাইল লোকটি।

– হ্যাঁ, যদি তুমি আমার কাছ থেকে একটা টাই কেনো যার দাম ৫০ ডলার।

রেগেমেগে তৃষ্ণার্ত লোকটি বললো, তোমার অমন উল্টাপাল্টা দামের টাই আমার দরকার নেই। পানির খবর বলো নইলে তোমার খবর আছে।

টাইওয়ালা বললো, ঠিক আছে। বলছি। এখান থেকে পাঁচ কিলোমিটার পশ্চিমে গেলে সুন্দর একটা হোটেল দেখতে পাবে। সেখানে ঠান্ডা পানি পাওয়া যায়। আমার ভাই ওই জায়গার মালিক।

লোকটি পশ্চিমে রওনা হবার পর কয়েক ঘন্টা কেটে গেলো। এরপর আবার টাইওয়ালার কাছে ফিরে এলো সে।

– হোটেলের মালিক তোর ভাই আরেক হারামজাদা, টাই ছাড়া নাকি আমাকে ওখানে ঢুকতে দিবে না!

২১৯)

বব আর জো প্রতিবেশী। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মাঝে ঝগড়া। বব জো-কে শিক্ষা দেয়ার জন্য একটা কুকুর কিনে আনলো আর তাকে ট্রেনিং দিলো কিভাবে জো-এর বাড়িতে গিয়ে বাথরুম করতে হবে। এমনটা এক বছর চললো কিন্তু জো টুঁ শব্দটি করলো না।

বব এবার একটা গরু কিনে আনলো আর তাকে ট্রেনিং দিলো কিভাবে জো-এর বাড়িতে আর উঠানে বাথরুম করতে হবে। এমনটা এক বছর চললো, গরুটা জো-এর বাড়িঘর দুর্গন্ধময় করে দিলো। কিন্তু জো টুঁ শব্দটি করলো না।

একদিন সকালে আওয়াজ শুনে বব বাইরে এসে দেখলো একটা ১৮ চাকার ট্রাক তার উঠানের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে।

– কি হচ্ছে এসব? জানতে চাইলো বব।

– ট্রাক এ আমার নতুন পোষা হাতি। জো উত্তর দিলো।

২২০)

এক আর্টিস্ট গ্যালারির মালিকের কাছে জানতে চাইলো তার কোন ছবি বিক্রি হয়েছে কী না। মালিক একটু ইতস্তত করে বললো, একটা ভালো খবর আছে আরেকটা খারাপ খবর আছে।

– ভালো খবরটা হলো, এক ব্যক্তি তোমার ছবিগুলো সম্পর্কে জানতে চাইছিলেন, তোমার মৃত্যুর পর সেগুলোর মূল্য বাড়বে কী না। আমি বলেছি হ্যাঁ। তখন তিনি সবগুলো ছবি কিনে নিয়েছেন।

– আর খারাপ খবর কী? আর্টিস্ট জানতে চাইলো।

– যে তোমার ছবিগুলো কিনেছে সে তোমার ডাক্তার।

২২১)

ভ্যালেন্টাইন ডে’তে এক তরুণী গেল আর্চি শপে।

আমাকে একটা ভালো কার্ড দেখান তো।

নিশ্চয়ই বয়ফ্রেন্ডের জন্য?

ঠিক ধরেছেন।

এটা দেখুন তো।

তরুণীটি কার্ডটি হাতে নিয়ে দেখে তাতে লেখা- ‘প্রিয়তম, এই দিনে আমার এ হৃদয় সবটাই তোমার জন্য’ কার্ডটা তরুণীটির খুব পছন্দ হলো।

হ্যা, এটাই দিন।

দোকানদার একটা কার্ড সুন্দর করে প্যাকেট করে বাড়িয়ে দিল তরুণীটির দিকে। এবার তরুণীটি বিরক্ত হয়ে বলল, একটা না, এক ডজন কার্ড দিন।

২২২)

কিছু অত্যন্ত ধনী লোকের জীবনযাপন কে আমরা শৈখিনতা বলি। আসলে তা যে কি বিরক্তিকর তাই দেখুন।

প্রশ্নঃ কি পান করবেন? ফলের জুস, চা, কফি, মিল্ক সেক, সোডা, কোল্ড ড্রিংক?

উত্তরঃ না ধন্যবাদ, শুধু চা।

প্রশ্নঃ সিলন চা, লাল চা, গ্রীন টি, হারবাল টি, আইস টি, নাকি হানি টি?

উত্তরঃ সিলন চা।

প্রশ্নঃ কোনটা? ব্লাক না হোয়াইট?

উত্তরঃ হোয়াইট

প্রশ্নঃ দুধ, কন্ডেন্স মিল্ক নাকি হোয়াইটনার?

উত্তরঃ দুধ।

প্রশ্নঃ ছাগলের, গরুর নাকি ঊটের?

উত্তরঃ গরুর দুধ দেন।

প্রশ্নঃ আফ্রিকান গরু নাকি দেশি গরুর?

উত্তরঃ দেশি।

প্রশ্নঃ ঠান্ডা নাকি গরম?

উত্তরঃ গরম।

প্রশ্নঃ ফুল ক্রিম, লো ফ্যাট নাকি ফ্যাট ফ্রি?

উত্তরঃ থাক লাগবে না, আপনি বরং হোয়াইট টি ই দিন।

প্রশ্নঃ মিষ্টি হিসেবে কি খাবেন, চিনি, সুইটনার নাকি মধু?

উত্তরঃ চিনি দিন।

প্রশ্নঃ আখের চিনি নাকি বিট সুগার?

উত্তরঃ আখের চিনি।

প্রশ্নঃ চিকন দানার নাকি মোটা দানার?

উত্তরঃ আচ্ছা বাদ দেন আমার কিছু লাগবে না। শুধু এক গ্লাস পানি দেন।

প্রশ্নঃ মিনারেল নাকি নরমাল?

উত্তরঃ মিনারেল

প্রশ্নঃ বোতলের নাকি ক্যান এর?

উত্তরঃ থাক কিছুই লাগবে না। আমি যাই।

২২৩)

নতুন দম্পতি হানিমুনে গেছে। বাথটাবে গোসল করতে করতে স্বামী ভাবছে, আমার পায়ে তো খুব দুর্গন্ধ হয়। মোজাগুলোর গন্ধ শুঁকলে অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। বিয়ের আগের দিনগুলোতে নাহয় কোনভাবে ব্যাপারটা চাপা দিয়ে রেখেছি। কিন্তু এখন কি হবে?

ওদিকে বিছানায় শুয়ে স্ত্রী ভাবছে, আমার মুখে তো বিশ্রী দুর্গন্ধ। বিয়ের আগে নাহয় কোনভাবে এটাকে লুকিয়ে রেখেছি। এখন কি হবে?

স্বামী গোসল সেরে মনস্থির করলো যে সে তার খারাপ দিকটা স্ত্রীর কাছে স্বীকার করেই ফেলবে। এই ভেবে সে বিছানায় উঠে স্ত্রীকে এক হাতে জড়িয়ে ধরলো। বললো, জানু, তোমাকে আমার একটা খারাপ দিকের কথা বলবো বলে ভাবছি।

স্ত্রী বললো, আমারও একটা কথা বলার আছে।

স্বামী বললো, তোমারটা আমি জানি, আমার মোজা খেয়ে ফেলেছো তুমি, তাই না?

২২৪)

এক সরকারি অফিসে দারুণ কাজের চাপ। দুই সহকর্মী ছুটি তো দূরে থাক, সারাদিন দম ফেলার সুযোগ পায় না।

একদিন একজন আরেকজনকে বললো, আমি জানি কিভাবে ছুটি আদায় করতে হয়।

অন্যজন জানতে চাইলো, কিভাবে?

প্রথমজন এদিক ওদিক তাকালো। দেখলো তাদের ডিপার্টমেন্টের প্রধানের কোন দেখা নেই। সে টেবিলে লাফ দিয়ে উঠে ছাদের কয়েকটা টাইলস খুলে ফেললো। সামান্য সিমেন্ট খুড়তেই সিমেন্ট আর রড দেখা গেলো। বারান্দায় ডিপার্টমেন্ট প্রধানের আওয়াজ শুনে সে রড ধরে ঝুলে পড়লো।

রুমে ঢুকে প্রধান তো অবাক। তিনি জানতে চাইলেন, এখানে কি হচ্ছে?

ঝুলতে থাকা কর্মচারী জবাব দিলো, আমি একটা বাল্ব।

প্রধান বললো, আমার মনে হয় তোমার ছুটি নেয়া উচিত। তোমাকে এখন থেকে ছুটি দেয়া হলো, ২ দিনের আগে যেন তোমার ছায়া দেখা না যায়…. এটা আমার অর্ডার।

ইয়েস স্যার –  বলে ছাদ থেকে নেমে বাইরে চলে গেলো প্রথম কর্মচারী।

দ্বিতীয়জনও বাইরে হাঁটা ধরলো। প্রধান তাকে থামালো, তুমি কোথায় যাচ্ছো শুনি?

দ্বিতীয়জন বললো, বাড়িতে। বাল্ব ছাড়া অন্ধকারে কিভাবে কাজ করবো?

২২৫)

একবার এক বাংলাদেশী সৌদি আরবে এনার্জি ড্রিংকের ব্যবসা শুরু করল।তো এনার্জি ড্রিংক খুব একটা চলছে না।কি আর করা তিনি পরামর্শ করতে গেলেন এক বিজ্ঞাপন নির্মাতার কাছে।তো বিজ্ঞাপন নির্মাতা পরামর্শ দিলেন একটা বিজ্ঞাপন তৈরী করে শহরের বিল বোর্ডে লাগিয়ে দিতে।যেই ভাবা সেই কাজ।পরদিন শহরের সব গুরুত্বপূর্ণ যায়গায় দেখা গেল এনার্জি ড্রিঙ্কের বিজ্ঞাপণ।বিজ্ঞাপনের প্রথম দৃশ্যে দেখা গেল এক লোক ঘেমে নেয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে…দ্বিতীয় দৃশ্যঃ লোকটা এনার্জি ড্রিংক খাচ্ছে…তৃতীয় দৃশ্যঃ লোকটাকে বেশ ফ্রেশ এবং মোটাতাজা লাগছে…

এই বিজ্ঞাপন দেয়ার পরদিন থেকে ওই এনার্জি ড্রিংকের বিকি-কিনি পুরাই বন্ধ হয়ে গেল…

কারণ আর কিছুই না সৌদি আরবের লোকজন পড়া শুরু করে ডানদিক থেকে……

২২৬)

এক লোক বারে মদ খেতে ঢুকলো। দীর্ঘক্ষণ ধরে মদ খেলো সে। সেই সাথে অনেকক্ষণ ধরে সে খেয়াল করলো পুরো বারে একটা মাত্র মেয়ে তার দিকে পিছন ফিরে একটা টেবিলে বসে আছে। সে উঠে গিয়ে মেয়েটাকে ধরে দিলো এক চুমু।

মেয়েটা তো রাগে চেঁচিয়ে উঠলো- এসব কি হচ্ছে?

মাতাল লোকটি বললো, মাফ করবেন, আপনাকে পেছন থেকে দেখে আমার স্ত্রী মনে করেছিলাম।

মেয়েটা এতে শান্ত তো হলোই না বরং আরো জোরে চেঁচিয়ে উঠলো, হারামজাদা, ইতর, লম্পট, বদমাশ…..

মাতালটি বললো, আরে, আপনি তো আমার স্ত্রীর মতোই চেঁচান।

২২৭)

বিদায়ের মুহূর্তে পুরাতন সিইও নতুন সিইওকে তিনটি খাম দিয়ে বললো, এই খাম তিনটা রাখুন। কোম্পানিতে সমস্যা দেখা দিলে ১, ২ তারপর ৩ নম্বর খাম খুলবেন। আশা করি আপনার সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।

দায়িত্ব নেবার ছয়মাস পর্যন্ত নতুন সিইও খামগুলো ব্যবহারের কথা ভাবলোই না। তারপর একদিন শেয়ার মার্কেটে ব্যাপক দরপতন হলো। পেরেশান হয়ে নতুন সিইও প্রথম খামটা খুললো। তাতে লেখা ছিলো, আগের সিইওর ওপর সব দোষ চাপিয়ে দাও।

পরামর্শমতো নতুন সিইও এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে আগের সিইওর খুব বদনাম করলো। এতে কাজ হলো। মার্কেট আবার চাঙ্গা হয়ে উঠলো।

এর এক বছর পর আবার কোম্পানির বিক্রিতে ধ্বস নামলো। এবার সিইও দ্বিতীয় খামটা খুললো। তাতে লেখা ছিলো, পুরাতনদের ছাঁটাই করে নতুন কর্মী নাও।

এবার পরামর্শ মতো কাজ করার ফলে সমস্যা থেকে কোম্পানি বেরিয়ে এলো।

এর এক বছর পর কোম্পানিতে আবার সমস্যা দেখা দিলো। এবার সিইও তিন নম্বর খাম খুললো। তাতে লেখা ছিলো, তিনটা খাম তৈরি করো।

২২৮)

সৈনিকদের ক্লাস চলছে, মেজর পড়াচ্ছেন বিজ্ঞান।

– পানি বাস্পে পরিণত হয় নব্বুই ডিগ্রী তাপমাত্রা।

একজন উঠে দাঁড়িয়ে বললো – নব্বুই না স্যার, একশোতে।

– যাদের মাথায় গোবরও নেই তাদের জন্য বলছি, পানি বাষ্পে পরিণত হয় নব্বুই ডিগ্রী তাপমাত্রায়।

– কিন্তু স্যার, বইতে যে লেখা আছে একশো ডিগ্রীর কথা!

অবাধ্য সৈনিকের বক্তব্যের সত্যতা বই ঘেঁটে পরীক্ষা করে দেখলেন মেজর। তারপর বললেন:

– সত্যিই তো! আমি আসলে সমকোণের সাথে গুলিয়ে ফেলেছিলাম।

২২৯)

উপায়ান্তর না দেখে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিলো আমেরিকান স্পাই। গেল সে কেজিবি অফিসের এক নম্বর কক্ষে। বললো:  আমি এসেছি অকপটে নিজের দোষ স্বীকার করতে!

– অকপট স্বীকারোক্তি ১৩৮ নম্বর ঘরে।

১৩৮ নং কক্ষে গিয়ে বললো:  আমাকে গোয়েন্দা হিসেবে পাঠানো হয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়নে।

– গোয়েন্দা বিষয়ে কথা থাকলে যান ২২৭ নম্বর ঘরে।

২২৭ নং কক্ষে গিয়ে বললো:  আমাকে এদেশে পাঠানো হয়েছিল স্পাই হিসেবে।

– কিসে চড়ে এসেছিলেন?

– জাহাজে।

– জলভাগ ডিল করে ৩৬৮ নম্বর ঘর।

৩৬৮ নং কক্ষে গিয়ে বললো: আমাকে এদেশে পাঠানো হয়েছিল জাহাজে করে।

– সাধারণ জাহাজ নাকি ডুবো জাহাজ?

– ডুবোজাহাজ।

– ডুবোজাহাজ বিষয়ক কথাবার্তা ৭৯৪ নং ঘরে।

৭৯৪ নং কক্ষে গিয়ে বললো: আমাকে ডুবো জাহাজে করে পাঠানো হয়েছিল এদেশে।

– সরাসরি বলুন, আপনাকে কোনো দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল নাকি দেয়া হয়নি এখনও?

– হ্যাঁ আমাকে একটি বিশেষ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

– তাহলে আর খামোখা জ্বালাতন করছেন কেন সবাইকে? দায়িত্ব দেয়া হয়েছে পালন করুন!

২৩০)

একবার প্রেসিডেন্স ক্রুশ্চেভ গেলেন আমেরিকা সফরে। সেখানে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট তাকে শ্রমিকদের সাথে এক মত বিনিময় সভায় নিয়ে গেলেন এবং ক্রুশ্চেভের সামনে ঘোষনা দিলেন, “আজ থেকে তোমাদের বেতন দ্বিগুণ করা হলো”। শ্রমিকরা খুব খুশি। তখন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট বললেন, “দেখলেন আমাদের শ্রমিকরা কত খুশি!”

আমেরিকান সেই প্রেসিডেন্টকে রাশিয়ায় দাওয়াত দিলেন ক্রুশ্চেভ, এবার তিনি শ্রমিকদের সাথে একটি সভায় নিয়ে গেলেন আমেরিকান প্রেসিডেন্টকে এবং বললেন, “দেখবেন আমাদের শ্রমিকরা কত খুশি এখানে।”

তিনি শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বললেন, “আজ থেকে সবার বেতন কমিয়ে অর্ধেক করা হলো।”

প্রচন্ড করতালি।

তিনি বললেন, “আজ থেকে প্রতি ১০ জনের একজনকে শ্রমশিবিরে পাঠানো হবে।”

প্রচন্ড করতালি।

তিনি এবার বললেন, “আজ থেকে প্রতি ২০ জনের একজনকে ফাঁসিতে ঝুলানো হবে।”

এবারো প্রচন্ড করতালি। হঠাৎ একজন দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো, “ফাঁসির দড়ি কি আমরা নিয়ে আসবো না ট্রেড ইউনিয়ন সরবরাহ করবে?”

২৩১)

এক মহিলা প্রতিদিন তার বাড়ির বারান্দায় দাঁড়িয়ে চিৎকার করে- সকল প্রশংসা আল্লাহর।

পাশের বাড়ির এক নাস্তিক তাই শুনে জবাব দেয়- আল্লাহ বলতে কিছু নেই।

একদিন মহিলা বারান্দায় দাঁড়িয়ে চিৎকার করলো- আল্লাহ, আমার বাজারটা করে দাও।

একটু পরে সে দেখলো তার বাড়ির বাইরে ব্যাগ ভর্তি তরকারি-মাছ ইত্যাদি পড়ে আছে।

সে তা দেখে চিৎকার করে বললো- সকল প্রশংসা আল্লাহর।

পাশের বাড়ির নাস্তিকটি বললো, আল্লাহ বলে কিছুই নেই। আমি ওই বাজার করে দিয়েছি।

মহিলা বললো- সকল প্রশংসা আল্লাহর। তিনি শুধু আমার বাজারই করে দেননি, শয়তানকে দিয়ে তার দামও পরিশোধ করিয়েছেন।

২৩২)

ক্যাপ্টেন সৈনিকদের ক্লাশ নিচ্ছিলেন, একজন সৈনিক দাঁড়িয়ে বললো, স্যার কুমির কি উড়তে পারে?

ক্যাপ্টেন বললেন, না, কুমির উড়তে পারেনা।

ক্যাপ্টেন ক্লাশের পড়ানোয় মন দিলেন। সৈনিকটি দাঁড়িয়েই রইলো। কিছুক্ষণ পর আবার বললো, স্যার কুমির কি উড়তে পারে?

ক্যাপ্টেন একটু বিরক্ত হয়ে বললেন, যাদের বুদ্ধি হাটুতে তাদের জন্য বলছি, কুমির উড়তে পারে না।

যথারীতি ক্যাপ্টেন পড়াচ্ছেন আর সৈনিক দাঁড়িযেই আছে। আবার একটু পর সৈনিক বললো, স্যার কুমির কি উড়তে পারে?

ক্যাপ্টেন এবার রেগে গিয়ে বললেন, যাদের মাথায় গোবর ভরা তাদের জন্য বলছি, কুমির উড়তে পারে না।

এবার সৈনিকটি বললো, কিন্তু স্যার, জেনারেল স্যার যে বলছিলেন, কুমির উড়তে পারে!

ক্যাপ্টেন এবার কয়েক মূহুর্ত ভেবে বললেন, ও জেনারেল স্যার বলেছেন নাকি? তাহলে কুমির উড়তে পারে তবে খুব নিচ দিয়ে!

২৩৩)

পোস্ট অফিসের লোকের প্রাপকের ঠিকানা ছাড়া একটি চিঠি পেল। চিঠি খোলার পর দেখা গেল এক লোক ঈশ্বরের কাছে ১০০০ টাকা চেয়ে চিঠি লিখেছে। পোস্ট অফিসের লোকদের মনে দয়া হল। তারা নিজেদের মধ্যে চাঁদা উঠিয়ে ঐ লোকের ঠিকানায় ১০০ টাকা পাঠিয়ে দিল।

এর কয়েক দিন পর ঠিকানা বিহীন আবার একটি চিঠি পাওয়া গেল। প্রাপক পূর্বের সেই লোক। খোলার পর দেখা গেল সেই লোক ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে-

আপনার পাঠানো টাকা আমি পেয়েছি। তবে এর পর থেকে টাকা পাঠালে দয়া করে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠাবেন। আমাদের দেশের পোস্ট অফিসের অবস্থাতো আপনি জানেন। আমার ধারণা আপনার পূর্বের পাঠানো ১০০০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা পোস্ট অফিসের লোকেরা মেরে দিয়েছে। আমি শুধু ১০০ টাকা পেয়েছি।

২৩৪)

একটা মা উট আর বাচ্চার মধ্যে কথা হচ্ছে।

বাচ্চা উটঃ মা আমাদের পা এত লম্বা কেন?

মা উটঃ মরুভুমিতে ভালমত দৌড়ানোর সুবিধার জন্য আমাদের পা এত লম্বা।

বাচ্চা উটঃ মা আমাদের চোখের পাপড়ি এত বড় বড় কেন?

মা উটঃ মরুভুমির বালু যেন আমাদের চোখের মধ্যে না ঢুকে সেই জন্যে আমাদের চোখের পাপড়ি এত বড় বড়।

বাচ্চা উটঃ মা আমাদের পিঠের উপর এত বড় কুজ কেন?

মা উটঃ আমাদের এই কুজের মধ্যে পানি জমা থাকে। যেন আমরা মরুভুমিতে অনেকদিল পানি ছাড়া চলাফেরা করতে পারি।

বাচ্চা উটঃ মা, আমাদের মরুভুমিতে চলাফেরা করার জন্য এত কিছু আছে, কিন্তু মা……

মা উটঃ কি বাবা?

বাচ্চা উটঃ এত কিছু থাকার পরও আমরা ঢাকা চিড়িয়াখানায় কেন?

২৩৫)

এক হিন্দু পুরোহিত, এক হুজুর আর এক রাজনীতিবিদ গাড়িতে করে যাচ্ছিলো। পথে তাদের গাড়ি নষ্ট হয়ে গেলো। ভাগ্য ভালো কাছেই একটা ফার্মহাউজ ছিলো। মালিক তাদেরকে জায়গা দিলো রাতটা থাকার জন্য। তবে মাত্র একটা ঘর তারা পেলো যেখানে মাত্র ২টা বিছানা ছিলো। ফলে কাউকে না কাউকে খোঁয়াড়ে শুতে যেতেই হতো।

হিন্দু পুরোহিত স্বেচ্ছায় খোঁয়াড়ে শুতে গেলো। একটু পর দরজায় টোকা পড়লো। দেখা গেলো হিন্দু পুরোহিত ফিরে এসেছে। সে বললো, খোঁয়াড়ে একটা গরু আছে। গরু যেহেতু পবিত্র তাই এক সাথে থাকা তার পক্ষে সম্ভব না।

অত:পর হুজুর খোঁয়াড়ে থাকতে রাজি হলো। কিন্তু একটু পরেই দরজায় টোকা দিলো সে। জানালো, খোঁয়াড়ে একটা শুয়োর আছে। ধর্মে যেহেতু শুয়োর অপবিত্র, তাই ওটার সাথে খোঁয়াড়ে থাকা তার পক্ষে সম্ভব না।

অগত্যা রাজনীতিবিদ খোঁয়াড়ে থাকতে গেলো। একটু পরে দরজায় টোকা পড়লো। এবার গরু আর শুয়োরটা এসেছে।

২৩৬)

এক বিজ্ঞানী জঙ্গলে দীর্ঘদিন যাবত যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়া গবেষনায় মত্ত। অবশেষে তিনি একটা ইঞ্জেকশন আবিস্কার কইরা ফালাইলেন। এখন টেষ্ট করানোর জন্য কেউরে পাইতেছে না।

শেষমেষ নিজের পোষা বিড়ালের উপর সেইটা প্রয়োগ কইরা দিলেন। বিলাই যৌন উন্মাদনায় উত্তেজিত হইয়া যেইখানেই ফুটা পায় সেখানেই করা শুরু করে। বিজ্ঞানী সফল হইলে ও বিলাই লইয়া বিপদে পইড়া গেলেন। বিলাইয়ের সেক্স কিছুতেই কমে না। যখন যা পায় সেইটার লগেই সেক্স করবার যায়। শেষে বিজ্ঞানী বিলাইরে ধইরা ডীপ ফ্রীজে ঢুকাইয়া রাখল যাতে মইরা গেলে সকালে ফালাইয়া দিতে পারে।

সকালে বিজ্ঞানী ফ্রীজ খুইলা তাজ্জব হইয়া গেল, দেখল বিলাই খালি ঘামাইতেছে আর ঘাম মুছতেছে।

বিজ্ঞানী জিগাইল কিরে তুই মরস নাই ? বিলাই চিল্লাইয়া কইলঃ শালা, কাচা মুরগির লগে করা যে কি কষ্ট সেইটা তুই কি কইরা বুঝবি ?

২৩৭)

সে এক আদ্যিকালের কথা।এক রাজ্যে ছিল এক বুড়ি। বুড়ির খুব দু্ঃখ। তার স্বামী মারা গেছে বহু আগে, কোন ছেলেপেলেও নেই। আছে শুধু একটা ছাগল। ভিক্ষা করে কোনরকমে নিজের আর ছাগলের পেট চলে। তো একদিন বুড়ি ভিক্ষা করছে। এক বাড়িতে তাকে ভিক্ষা দিল একটা প্রদীপ। বুড়ি ভাবল এটা দিয়ে কী করা যায়? যা থাকে কপালে ভেবে ঘষা দিল প্রদীপে।

তারপর যা হয় আর কি। এক জ্বিন এসে হাজির। বলল, হুকুম করুন। আপনার তিনটা ইচ্ছা পূরণ করব।

বুড়ি তার প্রথম ইচ্ছা জানাল, আমাকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর রাজপ্রাসাদের মালিক বানিয়ে দাও।

“জো হুকুম”। বুড়ি রাজপ্রাসাদে এসে গেল।

আপনার দ্বিতীয় ইচ্ছা কি?

আমাকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর রাজকন্যা বানিয়ে দাও।

তাই হল।

তৃতীয় ইচ্ছা কি?

আমার পোষা ছাগলটাকে পৃথিবীর সবচেয়ে যৌনআবেদনময় পুরুষ বানিয়ে দাও।

বুড়ির এই ইচ্ছাও পূরণ হল।

আমি এখন মুক্ত। এই বলে জ্বীন অদৃশ্য হল।

সুদর্শন যুবক (যে কিনা আগে ছাগল ছিল) এগিয়ে এল বুড়ির (যে এখন সুন্দরী রাজকন্যা) দিকে। বুড়ির নিঃশ্বাস ভারী হয়ে এল। বুড়ির কানে কানে সে বলল, আপনার কি মনে আছে শৈশবে আপনি আমাকে ছাগল থেকে খাসী করে দিয়েছিলেন???

২৩৮)

লুইসদের বাসায় গরুর খামার আছে। অনেক গরু। তো প্রতিদিন সকালে গরুর দুধ দুইতে দুইতে ওর বাবার হাত ব্যথা হয়ে যায়। তো একদিন লুইসের বাবা বাজার থেকে একদিন একটা মেশিন নিয়ে আসলো। ওইটা গাভীর স্তনে লাগিয়ে বোতাম চাপলে অটো দুধ বের হতে থাকে।

লুইস তখন কিছুটা বড় হইছে। তো ওর মাথায় একটা দুষ্টু বুদ্ধি আসলো। কেমন আরাম লাগে দেখার জন্য সে দুধ দোওয়ার মেশিনটা জায়গামত লাগিয়ে সে আরামে উপভোগ করতে লাগলো। তো কিছুক্ষণ পর লুইসের হয়ে গেলো। কিন্তু মেশিন থামে না। সে তন্ন তন্ন করে খুঁজেও মেশিনের আর কোনো বোতাম পায়না। ইতিমধ্যে তার আরো একবার হয়ে গেলো। কিন্তু মেশিন থামে না। চলছেই। লুইস দেখে যে মাত্র একটাই বোতাম মেশিনে, বার বার সে ওইটাই চেপে চলে কিন্তু মেশিন থামে না। ইতিমধ্যে আর একবার হয়ে গেলো। লুইস পাগল হয়ে গিয়ে ক্যাটালগ খুজে দেখে সেখানে লিখা…………

This machine will stop automatically after minimum one liter discharge.

২৩৯)

প্রেমিকার বিয়ে হয়ে যাবে। সে এসেছে শেষ বারের জন্য প্রেমিক এর সাথে দেখা করতে। তো প্রেমিক বলছে, তোমার তো বিয়েই হয়ে যাবে, তার আগে তোমাকে আমি আদর করতে চাই। তো প্রমিকা রাজী হইছে। প্রেমিক বলছে, তোমাকে তো মাত্র একদিনই আদর করতে পারবো, তো একটা ব্যবস্থা করি যেন অনেকবার আদর করা যায়। আমার কাছে একটা কবিরাজি ঔষধ আছে। আমি সেইটা খাই। প্রেমিকা কইছে ঠিক আছে। তো প্রেমিক, নাম হইলো আবুল, লাইট নিভায়ে দিয়ে আদর করা শুরু করছে।

একবার, দুইবার, তিনবার…….. আদর করতেছে তো করতেছেই। অনেকক্ষন পর প্রেমিকা কয়, আবুল আর কত আদর করবে, আমারতো ব্যাথা করতেছে?

:আবুল কে? ও বুঝেছি যেই লোকটা বাইরে টিকিট বিক্রি করতেছে।

২৪০)

এক পাগলের অভ্যাস ছিল গুলতি দিয়ে যে কোন কাঁচের জানালা ভাঙ্গার। তাকে ধরে মানসিক চিকিৎসালয়ে নিয়ে আসা হল। এক বছর চিকিৎসার পর ডাক্তারের ধারনা হল রোগ মুক্তি হয়েছে, তাকে ছেড়ে দেয়া যায়। ছাড়বার আগে শেষ পরীক্ষা করার জন্য ডাক্তারের চেম্বারে তাকে ডাকা হল।

ডাক্তার : স্যার, আমাদের ধারণা আপনি সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করেছেন। তাই আপনাকে ছেড়ে দেয়া হবে। এবার আপনি বলুন, এখান থেকে ছেড়ে দেয়ার পর আপনি কী করবেন?

পাগল : আমি! সত্যি বলব?

ডাক্তার : বলুন।

পাগল : প্রথমে ভালো একটা স্যুট কিনব। তারপর সেটা পরে আমি রূপসী বাংলা হোটেলে যাবো ডিনার খেতে।

ডাক্তার : গুড, নর্মাল ব্যাপার, তারপর?

পাগল : তারপর সেখানে সুন্দরী এক সোসাইটি গার্লকে বলব যে, মে আই হ্যাভ এ ড্যান্স উইথ ইউ?

ডাক্তার : গুড, নর্মাল, তারপর?

পাগল : তারপর তাকে ডিনার খাওয়াবো। মদ খাওয়াবো।

ডাক্তার : ঠিক আছে, তারপর?

পাগল : তারপর তাকে হোটেলের একটা রুমে নিয়ে আসব। নীল আলো জ্বালিয়ে দেবো। স্লো মিউজিক চালিয়ে দেব।

ডাক্তার : নর্মাল সবকিছু, তারপর?

পাগল : তারপর ধীরে ধীরে শাড়ী খুলব, ব্লাউজ খুলব, পেটিকোটটা খুলে ধীরে ধীরে নামিয়ে আনব পা থেকে।

ডাক্তার : নাথিং রং, তারপর?

পাগল : এবার মেয়েটির শরীরে বাকী আছে তার আন্ডারওয়ার। এখন ধীরে ধীরে সেই আন্ডারওয়ারটি খুলে নেব আমি।

ডাক্তার : তারপর?

পাগল : তারপর আন্ডারওয়ার থেকে ইলাস্টিকের দড়িটা খুলে নেব আমি। এই ইলস্টিক দিয়ে নতুন গুলতি বানাবো। আর সেই গুলতি দিয়ে শহরের যত কাঁচের জানালা আছে সব ভেঙে চুরমার করে দিব আমি!!!

২৪১)

জনি বেশ কিছুদিন চীন ঘুরে ফিরে দেশে ফিরেছে। তো চীনে থাকা কালীন সময়ে সে ভালই মউজ মাস্তি করেছে। চীনা খাবার-দাবার থেকে শুরু করে চীনা মেয়ে-মানুষ কোনটাই তার মেন্যু থেকে বাদ যায়নি। ফলাফল স্বরূপ দেশে ফেরার এক সপ্তাহের মাথায় তার পুরুষাঙ্গ কেমন একধরনের সবুজ সবুজ গোটায় ভরে গেল। প্রচন্ড ভয়ে জনি তখনি ডাক্তারের কাছে ছুটলো। ডাক্তার সব দেখে শুনে চিন্তিত মুখে এদিক ওদিক মাথা নাড়লেন। তারপর এটা ওটা অনেক টেস্ট দিলেন। সেসব টেস্টের রেজাল্ট দেখে তার মুখ আরো গম্ভির হলো। তিনি জনিকে বললেন – মি: জনি আমি খুব দুঃখিত হয়ে জানাচ্ছি যে, আপনার যে রোগ হয়েছে তাতে আপনার ইয়েটা যদি এখনি অপারেশন করে কেটে ফেলা না হয়, তবে আপনার জীবন বাঁচানোই দায় হয়ে যাবে। জনি এ কথা শুনে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো – বলছেন কি ডাক্তার সাহেব?! ওটা ছাড়া এ জীবন রেখে কি হবে? সে কাঁদতে কাঁদতেই গেল তার সবচেয়ে কাছের বন্ধুর কাছে দুঃখের কথা বলবে বলে। তার বন্ধু সব শুনে বলল – শোন দোস্ত, যেহেতু তুই চীনে গিয়ে এই রোগ বাধিয়েছিস সেহেতু এই রোগের চিকিৎসা চীনা কোন ডাক্তারই ভালো জানবে। আমার পরিচিত এক চীনা ভেষজ ডাক্তার আছে। চল তার কাছে যাই। জনি যেন কিছুটা আশা ফিরে পেল, বলল – চল তবে এক্ষুনি যাই।

চীনা ডাক্তার সব দেখে শুনে ভীষন বিরক্তিতে চোখ মুখ কুঁচকে বললেন – তোমাদের দেশের এই সব ছাই পাশ ডাক্তার কি যে সব বলে না! সুযোগ পেলেই খালি ধর মার কাট কাট!! কেন বাপু, কি এমন হয়েছে যে তোমার ওটা অপারেশন করে কেটে ফেলতে হবে?! জনির চোখে আশার আলো ঝিলিক দিয়ে উঠলো – সত্যি বলছেন ডাক্তার সাহেব? আমার তাহলে অপারেশন লাগবে না? ওটা কেটে ফেলতে হবে না?

ডাক্তার বললেন – আরে না বোকা! কোন অপারেশন লাগবে না। তুমি আর এক সপ্তাহ অপেক্ষা করো। ওটার যা অবস্থা, তাতে ওটা আপনা আপনিই খসে পড়বে।

২৪২)

ছোট বোন নতুন প্রমে করতেছে, এখন ডেটিংএ যাবে। তো বড় বোন শেখায়ে দিয়েছে, যত ভাল ছেলেই হোক দেখবি শুধু সেক্স করতে চাইবে। তবে একটা বুদ্ধি বলে দেই, তাহলে আর কোন অসুবিধা হবে না। যখনই দেখবি তোর কাপড়ে হাত দিচ্ছে, বলবি, যদি আমাদের একটা বাবু হয় তাহলে কি নাম রাখবে? দেখবে ছেলেটা আর আগাবে না।

তো মেয়েটা এই কথা কয়েকবার বলেছে। সত্যি সত্যি ছেলেটা আর আগায় নাই।

তারপর একদিন, ছেলেটা যেই আদর করতে শুরু করেছে …

“আমাদের বাবু হলে কি নাম রাখবে?”

ছেলেটা পকেট থেকে একটা কনডম বের করে দেখায়া বলছে যদি এর ভিতর থেকে ও বের হতে পারে …

২৪৩)

বউ সন্দেহ করছে যে তার স্বামীর সাথে কাজের মেয়ের অবৈধ স্বম্পর্ক আছে। শিওর হওয়ার জন্য সে কাজের মেয়েকে ১ দিন ছুটি দিল কিন্তু স্বামীকে এটা বলল না।

রাতে স্বামী বাসায় এসে ঘুমোতে যাওয়ার সময় স্ত্রী আদর পেতে চাইলে স্বামী বললঃ আমার শরীর টা ভালো না। আজ থাক। এই বলে সে ঘুমিয়ে পড়লো।

স্ত্রী ঘুমের ভান করে জেগে থাকলো। মাঝ রাতে স্বামী উঠে পাশের রুমে টয়লেট এ গেল।

স্ত্রী তখন কাজের মেয়ের ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়লো এবং লাইট বন্ধ করে দিল।

একটু পর স্ত্রী কিছু একটা অনুভব করলো। কাজ শেষ হওয়ার পর স্ত্রী লাইট জ্বালিয়ে বললোঃ তুমি নিশ্চয় আমাকে এই বিছানায় আশা করোনি !!

“অবশ্যই না ম্যাডাম”, বললো ড্রাইভার !!

২৪৪)

Batman এবং Spiderman ছুটিতে যাওয়ায় সুপারম্যান বেচারা একা হয়ে পড়লো। সে একা একা উড়ে বেড়ায়। একদিন সে সাগরের পারে উড়ছে, হঠাৎ দেখতে পেল wonder woman, কাপড় ছাড়া পা ছড়িয়ে শুয়ে আছে, সুপারম্যান ভাবলো সে রোদ পোহাচ্ছে, এইতো সুযোগ, এই ফাকে কাজটা সেরে ফেলা যাক। সুপারম্যান প্ল্যান নিল অতি দ্রুত কাজটা করা হবে। wonder woman কিছু বোঝার আগেই she will be fucked!!!!

সুপারম্যান প্রায় বিশ মাইল উপর থেকে ১০০০ মাইল বেগে নিচে নেমে এল, সরাসরি wonder woman এর জায়গা মত এ্যাটাক। ২ সকেন্ডের মধ্যে কাজ সেরে আবার উড়ে চলে গেলো। wonder woman সাথে সাথে উঠে বসে বললো!!

কি হলো!! কি হলো!!???

Wonder woman এর উপর যৌনরত Invisible man বললো , কিছুইতো বুঝলাম না, শুধু এইটুকু বলতে পারি, আমার পাছা জ্বলে যাচ্ছে !!!

২৪৫)

”exam” দেয়ার পর একটি মেয়ের চিন্তাঃ

*কত্ত লম্বা ছিল, ইস্! যদি আরেকটু সময় পেতাম।

*প্রথমে কত ভয় লাগতেছিলো,কিন্তু পরে যে কীভাবে হয়ে গেলো বুঝলাম না।

*আমি তো অজ্ঞানই হয়ে গেছিলাম, ৩ ঘন্টা পর জ্ঞান ফিরছে।

*রাতে তো একটুও শুতে পারি নাই,কেমন যেনো অদ্ভূত লাগতেছিলো।

*এরপর থেকে সব কাজ বুঝে শুনে করব।

সেক্স এর পরও মেয়েদের এই একই চিন্তা থাকে।

২৪৬)

এক মহিলার গর্ভে একসাথে তিন সন্তান। তিনি একদিন হাঁটছিলেন, এমন সময় আশেপাশের কোথাও ডাকাত পড়লো। মুহুর্মুহু গোলাগুলির আওয়াজ আসতে লাগলো কানে। হঠাৎ গুনে গুনে তিনটা গুলি এসে লাগলো মহিলার নিন্মদেশে। তিনি মূর্ছা গেলেন।

ভাগ্যের অতিমাত্র্যে মহিলা রক্ষা পেলেন। ডাক্তাররা সিদ্ধান্ত নিল বুলেটগুলো ভিতরেই রেখে দিতে, কারণ তারা দেখলো অপারেশন করাটা ঝুঁকিপূর্ণ।

ষোল বছর পরের কাহিনী। তাঁর বাচ্চাগুলো খুব ভালোমতই বড় হয়েছে এতদিন। হঠাৎ একদিন এক মেয়ে এসে কাঁদো কাঁদো হয়ে বললো, “মা মা, আমার খুব ভয় লাগছে।”

“কি মা, কি হয়েছে তোমার। আম্মুকে সব খুলে বলো।”, বললেন মহিলা।

“আজ হিসু করার সময়, আমার শরীর থেকে একটা টাটকা বুলেট বেরিয়েছে। ঠুস করে গুলি করার মত শব্দও হয়েছে।”, বললো মেয়েটি।

মহিলা ব্যাপারটা বুঝতে পারলেন। তিনি ষোল বছর আগে ঘটে যাওয়া সে রোমহর্ষক ঘটনাটি মেয়েকে খুলে বললেন।

কিছুদিন বাদে এল দ্বিতীয় মেয়েটি। সেও ভীষণ উদ্বিগ্ন, কারণ সেও তার বোনের মত পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছে কিছু আগেই। মা সবকিছু শোনার পর তাকেও ষোল বছর আগের ঘটনাটা খুলে বললেন। সেও আশ্বস্ত হলো।

আরো কিছুদিন গেছে। হঠাৎ মহিলাটা একদিন দেখলেন তাঁর তিন যমজ সন্তানের মধ্যে একমাত্র ছেলেটি ভয়ার্ত মুখে হাঁপাতে হাঁপাতে এল।

“কি হয়েছে, খোকা? এমন করছ কেন?”, বললো মহিলাটা।

সদ্যপ্রাপ্ত ভরাট কন্ঠে ছেলেটা ভয়ার্ত স্বরে বললো, “আম্মা, কিছুক্ষণ আগে মারাত্মক একটা ব্যাপার ঘটেছে।”

মহিলাটা আঁচ করতে পারলেন। “ও বুঝেছি। নিশ্চয়ই তুমি প্রস্রাব করতে গিয়েছিলে, আর একটা বুলেট বেরিয়েছে…তাইতো?”

“না মা, ঠিক প্রস্রাব করতে নয়।”

“তাহলে?” আশ্চর্য স্বরে বললেন মহিলা।

“যাই হোকনা কেন, ভয়ানক ব্যাপারটা হচ্ছে , আমি আমাদের কাজের বুয়াকে মেরে ফেলেছি।”

২৪৭)

এক ভদ্রলোকের বিরূদ্দ্বে তার সদ্যমৃতা বৌ এর সাথে Sex করার অভিযোগ আনা হলো।

বিচারক: আমি আমার চাকুরী জীবনে এমন জঘন্য মামলা ইতিপূর্বে আর কখোনোই পরিচালনা করিনি, কেন আপনি এটা করলেন, নিদেননপক্ষে একটি কারন কি আপনি বলতে পারবেন?

ভদ্রলোক: অবশ্যই, একটি নয়, আমি তিনটি কারণ বলতে পারবো, আপনি এখানে মোটেও নাক গলাতে পারেন না, কারণ সে আমার বৌ, আমি একদম বুঝতেই পারিনি সে মরে গেছে এবং আমাদের দাম্পত্য-জীবনে বিছানায় সবসময় তাকে আমি এ অভিনয়ই করতে দেখেছি !!!

২৪৮)

এক লোক গেল সিনেমা দেখতে। সেই সিনেমায় যৌন উত্তেজক দৃশ্যের ছড়াছড়ি। আশপাশ তাকিয়ে হঠাৎ সে দেখলো এক মহিলা তার পাজামার বাঁধন একটু আলগা করে ভিতরে মুহুর্মুহু হস্তচালনা করছেন। দেখে সুযোগসন্ধানী লোকটা নিজের আসন ছেড়ে ঠিক সে মহিলার পাশে গিয়ে বসলো। তারপর মহিলাকে বললো, “ম্যাডাম, আপনি যা করছেন সে ব্যাপারে আমি কি আপনাকে সাহায্য করতে পারি?”

মহিলাটা লোকটার দিকে বোকার মত তাকিয়ে বললো, “জ্বী পারেন।”

এত সহজে সুযোগ পেয়ে লোকটা তৎক্ষণাৎ কাজে লেগে পড়লো। বহুক্ষণ পর কর্মসিদ্ধ লোকটা যখন দেখলো যে ক্রমসঞ্চালনে তার হাত ব্যথা-ব্যথা হয়ে উঠেছে তখন সে আপনাতেই সেটা সরিয়ে নিল। হাত সরানোর পর সে দেখলো মহিলা তার সেজায়গায় এবার দুহাত ঢুকিয়েই দ্বিগুণ কম্পনাঙ্কে ঝাঁকাচ্ছে।

“কী হলো, এতক্ষণ ধরে মজা দিলাম তবুও কী আপনার খায়েশ মেটেনি?” বললো লোকটা।

মহিলা বললো, “কিন্তু দাদগুলোয় (eczema) তো এখনো চুলকোচ্ছে।”

২৪৯)

স্ত্রী মারা যাওয়ায় হক সাহেব ভয়ানক কাদতে লাগলেন। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পুরো সময়টা তিনি কাঁদলেন। কারো সান্ত্বনায় কাজ হলো না। এমনকি বাসায় ফেরার সময় গাড়ীতেও কাঁদতে লাগলেন। পাশে বসে থাকা তার এক বন্ধু সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, “কেন দুঃখ করছো? যা হবার হয়েছে, এটা ভাগ্যের ব্যপার। তা এখন থেকে যদি মনকে শক্ত করার চেষ্টা কর তাহলে মাস ছয়েকের মধ্যে আর একটা বিয়ে করতে পারবে।”

হক সাহেব উত্তেজিত হয়ে বললো, “৬ মাস??? তাহলে আজ রাতে কি করবো?”

২৫০)

মলি আন্টি সাথে তার দু বান্ধবী জলি ও পলি আন্টি ব্যালকনিতে বসে বৈকালিক খোশগল্প করছেন। পলি আন্টি ভীষণ মুখরা আর যাচ্ছেতাই স্বভাবের। চা এ মুখ দিতে দিতে তিনি বললেন, “আমার হাজব্যান্ড মকবুলকে যখন আমি কষে একটা ব্লো- দেইনা, আহাহাহা…মনে হয় তার ইয়েটা যেন ঠাণ্ডা আইসক্রিম।”

“হুম”, চায়ের কাপটা মুখ থেকে নামিয়ে তাল ধরলেন জলি আন্টি। “একই ব্যাপারটা আমার জামাই, মানে তোমাদের মজনু ভাইয়ের ক্ষেত্রেও আমার মনে হয়, একেবারে ঠান্ডা।”

পলি আন্টি পাশে তাকিয়ে বললেন, “কী হে মলি, তোমার বেলায় ঘটনা কেমন?”

মলি আন্টি অপ্রস্তুত হয়ে গেলেন যেন। “ছিঃ, বলছ কি! আমি মোতালেবের ওটা মুখে নেবার কথা চিন্তাই করিনা।”

কথাটা শুনে জলি আর পলি আন্টি পরস্পরের দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকালেন। “বলে কী মহিলা।” বললেন জলি আন্টি। “এত ইন্টেরেস্টিং একটা বিষয় তুমি মিস করো!!”

“শোনো মলি” পলি আন্টি বললেন। “শুনেছি মোতালেব ভাই প্রায়ই তোমার সাথে খ্যাটখ্যাট করে। এবার কারণটা বুঝেছি। কারণ তুমি ওনাকে ব্লো- দাওনা। সকল পুরুষই আসলে তাদের স্ত্রীর কাছ থেকে মৌখিক আদর আশা করে। একবার শুধু করে দেখো, দেখবে ভাইসাহেবও তোমাকে কেমনটা না আদর করেন।”

পরের দিন বিকেলে, মলি-পলি-জলি আন্টি আবারও ব্যালকনিতে ফের জমায়েত হয়েছেন। মলি আন্টির ডান চোখ ঘিরে লালচে দাগ। পলি আন্টি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “কী হে, তোমার চোখের চারপাশটায় এরকম দাগ কেন?”

“তোমার কথামত কাজটা করতে গিয়ে মোতালেবের ঘুষি খেয়েছি।”

“ড্যাম ইট!!” চেয়ার চাপড়ে বললেন জলি আন্টি। “উনি কি পাগল নাকি? শুধু শুধু তিনি ঘুষি মারতে গেলেন কেন? নাকি তুমি কোনো কামড়ে দিয়েছিলে?”

“আরে ধুর না।” বললেন মলি আন্টি “আমি শুধু জিপারটা নামিয়ে ওটাকে মুঠ করে ধরে বললাম, ‘মকবুল ভাই আর মজনু ভাইয়েরটা তো ঠান্ডা, তোমারটা এতো গরম কেন?”

২৫১)

এক লোক নগ্নতাবাদীদের দলে গিয়ে জুটলো। সে নিজের অনেক দিনের আবাস ছেড়ে তাদের সাথে গিয়ে বসবাস করতে থাকলো। একদিন তার দাদিমা তাকে চিঠি দিলেন। চিঠিতে তিনি বললেন, নাতি যেন তার বর্তমান হাল হকিকত সম্পর্কে তাঁকে লিখে জানায়, সাথে একটা ছবিও যেন জুড়ে দেয়।

লোকটা ভেবে পেল না কী করবে। সে যে একপাল ন্যাংটো মানুষের সাথে দিনে দুপুরে দিগম্বর হয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, এ ধরণের ছবি দাদিকে পাঠালে ভীষণ কেলো লাগবে। তাই সে বুদ্ধি করে তার নিজের বর্তমান অবস্থার এক ছবি অর্ধেক কেটে দাদিকে পাঠিয়ে দিল। কিন্তু ভুলবশত উপরের অর্ধাংশের বদলে নিচের অর্ধাংশ পাঠালো সে। ফলে তার চিন্তার অন্ত নেই। কিন্তু তার আবার মনে পড়লো যে দাদিমা চোখে খাটো। তিনি ছবি দেখে কিছুই ভালো করে বুঝবেন না। ফলে সে কিছুটা আশ্বস্ত হলো।

কিছুদিন পর দাদিমা চিঠি লিখে জানালেন, ‘তোমার চিঠি আর ছবির জন্য তোমাকে অশেষ ধন্যবাদ। তবে আমার মনে হয় তোমার চুলের কাটিংটা একটু বদলানো উচিত। চুলগুলোর কারণে তোমার নাককে অনেক ছোট মনে হয়।’

২৫২)

তিন বান্ধবী বারে গিয়ে ঠিক করলো আজকে তারা মদ খেয়ে পাড় মাতাল হবে। তারপর বার থেকে বের হয়ে যে যার পথে বাড়ির দিকে যাবে। পরদিন সবাই আবার বারে দেখা করবে এবং কে কি মাতলামো করলো তা শেয়ার করবে। যে সবচেয়ে বেশি মাতলামি করছে বলে প্রমানিত হবে, সে বিজয়ী হবে আর অন্য দুজন তাকে একমাস ফ্রি মদ খাওয়াবে।

পরদিন তিন জন বারে এসে তাদের মাতলামির কাহিনী এক এক করে বর্ণনা করলো।

১ম জন বলল,”আর বলিস না, গতকাল বাড়ি ফেরার সময় আমি বেখেয়াল হয়ে গাড়ি রাস্তার পাশের খালে নামিয়ে দিসি। লোকজন যখন আমাকে উদ্ধার করলো, ততক্ষণ আমার পেট থেকে ৩ টা পুটি মাছ বের হইসে।”

২য় জন বলল, “এটা কিছু হইল নাকি! তুই আমার কাহিনী শুন, গতকাল বাড়ি গিয়ে আমি টনিরে ব্লো জব দিসি!”

৩য় জন বলল,”আমার মনে হয় আমি জিতব। কারণ আমি তো গতকাল বাসায় গিয়ে চুলা জ্বালাতে গিয়ে পুরো বাড়িতে আগুন ধরে দিসি। কি মজা একমাস তোদের টাকায় ফাউ মদ খাব!”

এবার ২য় জন বলল, “তুমি মনে হয় বুঝনি যে টনি আমার হাসবেন্ড না, ও আমার পোষা কুকুর!”

২৫৩)

আরাম খান কে  নিয়ে একবার এক টিভি এক অনুষ্ঠান এর আয়োজন করলেন। যেখানে আরাম খান এর চোখ বাধা থাকবে এবং দেশের বিভিন্ন নায়িকার চুমো খাবেন। তাকে বলতে হবে কে চুমো খেলেন।

১ম বার বাংলাদেশের নায়িকা অঞ্জুঘোষ চুপে চুপে চুমো খেয়ে গেলেন। আরাম খান চোখ বাধা অবস্থায় তিন সেকেন্ডের ভেতর বলে দিলেন, এটা অঞ্জু।

সবাই খুব অবাক হলেন!!! ২য় নাম্বারে এলেন সাবানা, সবাই জানে সাবানা ভালো মেয়ে, কোন ঘটনা নেই, আরাম খান হয়তো ধরতে পারবে না। কিন্তু বিধি বাম। আরাম খান ৪ সেকেন্ডর মাথায় বলে দিলেন এটা সাবানা।

একে একে শাবনুর, ময়ূরী সবাই ফেল মারলেন। আরাম খান সবার নাম বলে দিচ্ছেন।

পাশে মমতাজ দাঁড়ানো ছিলো। তিনি নায়িকা নন। কিন্তু আরাম খান এর এই ক্ষমতা দেখে তার মাথায় রক্ত উঠে গেল। তিনি বললেন , “দাঁড়া তোকে মজা দেখাই”

তিনি তাঁর শাড়িটা তুলে তার বিশেষ জায়গাটা দিয়ে আরাম খান এর ঠোটে একটি চুমো দিলেন। আরাম খান প্রায় দুই মিনিট চোখ বন্ধ করে বসে রইলেন। তারপর বললেন। “এটা আসাদুজ্জামান নূর”।

২৫৪)

৭০ বছরের এক বৃদ্ধ আরেক বৃদ্ধের বাড়িতে দাওয়াত খেতে গেলো।

সে খুবই impressed হলো যখন তার বন্ধু তার বৃদ্ধা স্ত্রীকে ‘জান’…’ময়না’ …’কলিজার টুকরা’ বলে ডাকছিল। যাওয়ার সময় সে তার বন্ধুকে বলল, “এটা অনেক সুন্দর, বিয়ের ৪০ বছর পরেও তুমি স্ত্রীকে নাম আদর করে এত সুন্দর করে ডাকো”

বৃদ্ধ নিচু গলায় বলল, “তার নাম আমি ১০ বছর আগেই ভুলে গেছি! আমি ভয়ে তার নাম টা জিজ্ঞেস করতে পারি নি, তাই এসব বলেই ডাকি …”

২৫৫)

এক লোক গেছে ডাক্তারের কাছে। তার থাই (উরু) পুড়ে গেছে। তো, ডাক্তার প্রেস্ক্রিপশন লিখলো,

(১) বার্নল।

(২) ভায়াগ্রা।

লোকটা প্রেস্ক্রিপশন দেখে তো অবাক!! জিজ্ঞেস করলো,

বার্নল তো বুঝলাম কিন্তু ভায়াগ্রা কেন? আমার তো …ইয়ে মানে…আমার তো তেমন কোন সমস্যা নাই!!

ডাক্তার : এইটা আপনার লুংগিকে আপনার পোড়া জায়গাটা থেকে দুরে রাখতে সাহায্য করবে।

২৫৬)

কমল আর তার বউ কমলা নিদারুণ অর্থকষ্টে আছে। অনোন্যপায় হয়ে এই অর্থকষ্ট লাঘবের জন্য কমলা সিদ্ধান্ত নিল সে পতিতাবৃত্তি করবে। তো, রাতের বারোটার সময় হতভাগিনী কমলা তার ঊনপাঁজুরে স্বামী কমলকে দালাল বানিয়ে হাজির হল শাহবাগের মোড়ের দিকে। কমল বললো, “শোনো, আমি সামনে থাকবো না, আমার শরম লাগে। আমি এই খাম্বার আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকবো। মুলোমুলির ব্যাপারে কোন সমস্যা হলে তুমি আমার সাথে এসে মোলাকাত করবে। আমি সবকিছু বাতলে দেব।”

কমলা বিজন রাতে, সস্তা মেকআপ নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল রাস্তার ধারে। এমন সময় তার পাশে একটা ভ্যানঅলা এসে থামলো। জিজ্ঞেস করলো, “দর কত?”

কমলা বললো, “এক রেট, একশো টাকা।

ভ্যানঅলা বললো, “ধুর! আমার আছে মোটে তিরিশ ট্যাহা।”

কমলা কী যেন ভাবলো। তারপর দৌড়ে খাম্বার আড়ালে লুকিয়ে থাকা কমলের কাছে গিয়ে বললো, “ঐ ভ্যানঅলা ব্যাটার তিরিশ টাকা আছে। এটা দিয়ে ওকে কি করা যায়।”

কমল কিছুক্ষণ ভেবে বললো, “ওই, হাত দিয়ে একটু ঘষে-মেজে দিতে পারো আর কি।”

কমলা ফের ছুটে গেলো ভ্যানঅলার কাছে, “শোনেন, তিরিশ টাকা দিয়ে আমি আপনাকে হাত দিয়ে কিছুটা সুখ দিতে পারবো, এর বেশি না।”

গোবেচারা ভ্যানঅলা তাতেই রাজি হয়ে গেল। তারপর সে কমলার কাছে এগিয়ে গিয়ে তার লুঙ্গিটা অভদ্র পরিমাণ উচ্চতায় উঠিয়ে নিল। আর আড়াল থেকে বেরিয়ে এল যা, তা দেখে কমলা স্রেফ ভিরমি খেয়ে গেল। সে কিছুক্ষণ কী যেন ভেবে, ভ্যানঅলাকে অপেক্ষা করতে বলে কমলের কাছে ছুটে গেল পুনর্বার।

“কী বউ! তোমাকে এমন উত্তেজিত দেখাচ্ছে যে” বিস্মায়পন্ন হয়ে বললো কমল।

“কমল, জান আমার!” আপ্লুত কণ্ঠে বললো কমলা। “তুমি কি ওই লোকটাকে সত্তুরটা টাকা ধার দিতে পারবে?”

২৫৭)

পিচ্চি বল্টু মিয়া ঢাকা-চট্টগ্রামগামী বাসের সিটে বসে আছে। তার পাশের সিটে এসে বসলেন এক বৃদ্ধ লোক। বাস ছাড়ার কিছু পর তিনি বল্টু মিয়া কে বললেন, “শোন পিচ্চি। যদি পুরোটা পথে আমরা দুজন যদি এরকম মুখ গোমড়া করে বসে থাকি তাহলে সময়টা অনেক বিরক্তিকর মনে হবে। কিন্তু যদি খোশ গল্প করতে করতে যাই, তাহলে দেখবে, মনে হবে আমাদের গন্তব্যের দূরত্ব যেন অনেক কমে গেছে।”

পিচ্চি বল্টু মিয়া একটা কার্টুনের বই সবেমাত্র খুলেছিল। সে মুখে বিরক্তি নিয়ে বুড়োটার দিকে তাকালো। “ঠিক আছে।”, বললো বল্টু মিয়া । “কিন্তু আমরা কি নিয়ে আলাপ করতে পারি বলুন?”

“উমম, ঠিক বুঝতে পারছিনা।”, চশমায় আঙুল ঠেকিয়ে বললো বুড়ো। “তবে, নিউক্লীয় শক্তি নিয়ে আলোচনা করলে কেমন হয়?” পরক্ষণেই সচকিত প্রস্তাব রাখলেন তিনি।

পিচ্চি বল্টু মিয়া আবারো বুড়োটার দিকে বক্রদৃষ্টি হানলো। “আচ্ছা, তবে আমাকে একটা ব্যাপার বলুন।” বললো বল্টু । “একটু বয়েস হলেতো আমাদের কুঁচকি সংলগ্ন অংশে অনেক সুন্দর একগোছা চুল ওঠে, তাইনা।”

বুড়োটা একটু ভড়কে গেলো। তবুও আলোচনা চালিয়ে যাবার খাতিরে বললো, “হ্যাঁ, তা ওঠে।”

“কিন্তু এক বড়ভাই আমাকে বলেছেন, একটু বেড়ে উঠলে সে চুলের আগা নাকি অনেকের কুঁকড়ে যায়, আবার কারোটার আগা নাকি চিরে যায়। কিন্তু কেন?”

বুড়োটা হতভম্ব হয়ে জবাব দিল, “জানিনা তো!!”

তখন বল্টু মিয়া বললো, “আচ্ছা বলেন দেখি, যে লোক বালের আগাটাও জানেনা সে নিউক্লীয় শক্তি নিয়ে কী আলোচনা করবে??”

২৫৮)

মিয়ামি থেকে বস্টনে উড়ে যাবার সময় একবার আটলান্টিক কোস্টলাইনে ভয়াবহ এক বিমান দুর্ঘটনা ঘটলো। বিমানের প্রায় সব মানুষ মারা পড়লো। অনুসন্ধানকার্যে ঝানুতম- মার্কিন গোয়েন্দাব্যুরো এফবিয়াই, তটসীমা ধরে দুর্ঘটনাস্থল আঁতিপাঁতি করে চষে ফেললো। তবুও তারা ব্ল্যাকবক্সের একরত্তি টুকরোটাও পেলনা, যা থেকে অন্তত বোঝা যেতে পারতো, ঘটনা কীভাবে ঘটেছে। পাওয়ার বেলায় পেল কেবল একটা বাঁদর, যেটা সেই সময়ে ওই বিমানেই অবস্থান করছিল। কোন এক হতভাগা যাত্রীরই পোষা ছিল সেটা। মনিব মশায় অক্কা পেলেও, সৌভাগ্যের অতিশয্যে, বিমানের একমাত্র প্রাণী হিসেবে বেঁচে ছিল শুধুমাত্র মুখপোড়া বাঁদরটাই।

এফবিয়াই-এর প্রাণী প্রশিক্ষণ বিভাগ সপ্তাহকালের অক্লান্ত চেষ্টায় বাঁদরটাকে বিভিন্ন আকার-ইঙ্গিত শেখালো, যাতে তার কাছ থেকে দুর্ঘটনার কোন হেতু বের করে আনা যায়। ট্রেনিং সম্পন্ন হবার পর বাঁদরটা মুখোমুখি হলো তদন্ত বিভাগের। তদন্তকর্মে নিয়োজিত হলো সাতিশয় অভিজ্ঞ এক অফিসার।

“দুর্ঘটনার সময় বিমানের পাইলট কি করছিল?” বাঁদরে শুধালেন অফিসার।

জানোয়ারটা তার বাঁদরপনা লিঙ্গটা উম্মুখ করে দিয়ে, তার কটিদেশ সংলগ্ন অঞ্চল আগপিছ দুলিয়ে, মুখে শব্দ করলো, “ওহ ওহ ওহ…”

দুর্ঘটনার জটটা যেন আস্তে আস্তে খুলতে লাগলো। অফিসার সাহেব ভুরু-টুরু কুঁচকে ফের জিজ্ঞেস করলেন, “তখন, সহকারি বৈমানিক করছিলটা কি?”

এবার বাঁদরটা তার নির্দিষ্ট অঙ্গটাতে হস্তস্থাপন করলো। হাতকে আগপিছ ঝাঁকিয়ে, মুখটা প্রসৃত করে শব্দ করলো, “এহ এহ এহ…”

এবার অফিসার মহাশয় আরও অস্থির হলেন। তিনি সন্ধিগ্ধ নয়নে জিজ্ঞেস করলেন। “এয়ার হোস্টেস গুলা কি করছিল বলতে পারো?”

বাঁদরটা এবার তার ডবকা নিতম্বাংশ দুটো দুহাতে পাকড়ে সামনের দিকে ঝুঁকে গেল। মুখটা ভীষণ রকম কেলিয়ে শব্দ করলো, “ইহ ইহ ইহ….” ।

অফিসার সাহেব রিলাক্স করে বসলেন। তার কাছে সবকিছু জলের মত পরিষ্কার। আয়েসী ভাবেই হঠাৎ তিনি বাঁদরটাকে জিজ্ঞেস করলেন, “এমন ভয়ানক সময়টাতে তোমার কেমন লাগছিল? কি করছিলে তুমি তখন?”

এবার বাঁদরটা একটা কাল্পনিক স্টিয়ারিং ধরে বলে, “ভ্রুম্‌ম্‌… ভ্রুম্‌ম্‌…”

২৫৯)

আরাম খান কসমেটিকসের দোকানে এসে দোকানদারকে বললেন, “আমাকে একটা লতা হারবালের ডিওডোরেন্ট দিন তো।”

“কি ধরণের” জিজ্ঞেস করলো দোকানদার। “বগলের ডিওডোরেন্ট নাকি মুখের গন্ধনাশক ডিওডোরেন্ট।”

আরাম খান সপাটে বললেন, “ধুর ওসব না। পাছার ডিওডোরেন্ট।”

দোকানি ভ্যাবচেকা খেলো। “অ্যাঁ, এইসব কি বলেন। এই ধরণের ডিওডোরেন্ট আবার হয় নাকি?”

“আরে কি দোকানদারি করেন এখনো ডিওডোরেন্টের রকম সকম জানেন না।” রেগে বললেন আরাম খান। “গত দু বছর যাবৎ আমি এই ধরণের ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করে আসছি, আর আপনি এসে বলছেন এইগুলার অস্তিত্বই নেই। যত্তোসব।”

দোকানি আকাশ থেকে পড়লো যেন। “ঠিকাছে মানছি” বললো সে। “আপনি কি আপনার পুরোনো ব্যবহার্য একটা নমুনা এনে দেখাতে পারবেন? তাহলে হয়তো আমি নিজের ভুলটা বুঝতে পারবো।”

“ঠিকাছে।” বলে আরাম খান বেরিয়ে গেলেন।

পরের দিন একটা খালি ডিওডোরেন্ট স্টিক হাতে করে আবার সেই দোকানে এলেন তিনি। দোকানি সেটা দেখে বললো, “আরে এটাতো একটা নর্মাল ডিওডোরেন্ট।”

“কী যা তা বলছেন।” বললেন আরাম খান। “ভালো করে পড়ে দেখুন, ‘ব্যবহারবিধি’ তে কি লেখা আছে।” তারপর জিনিসটার গায়ে ‘ব্যবহারবিধি’ অংশটা নির্দেশ করে বললেন, “লেখা আছে, ‘এই গন্ধনাশকটি ব্যবহার করিতে হইলে পিছন দিকে ধরুন, তারপর আলতো করিয়া চাপ দিন…”

২৬০)

অফিসের কাজে একবার আরাম খান এক শহরে গেলেন। কিন্তু রাতে থাকার জন্য হোটেল খুজতে গিয়ে পড়লেন বিশাল এক ঝামেলায়, কারণ কোনো হোটেলে রুম পাওয়া যাচ্ছেনা! ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে শহরের শেষ প্রান্তের শেষ হোটেলে গিয়ে হাজির হলেন।

হোটেলের ম্যানেজার বলল, “খালি রুম তো নাই, কিন্তু দোতলায় একটা ডাবল রুমের একটা বেড খালি আছে। কিন্তু একটা সমস্যা আছে! পাশের বেডের লোকটি প্রচন্ড জোরে নাক ডাকে সারারাত। বেশ কয়েকজন চেষ্টা করেও রাতে ঘুমাতে পারেনি। তাই মনে হয় আপনিও পারবেন না!”

আরাম খান বললেন,”ভাই আমি থাকতে পারব, সমস্যা হবে না!”

কি আর করা, হোটেলের ম্যানেজার তাকে ওই রুমে থাকার ব্যবস্থা করে দিলেন। পরদিন সকালে আরাম খান বেশ সতেজ ও ফুরফুরে মেজাজে নিচতলায় সকালের নাস্তা করতে এলেন। হোটেলের ম্যানেজার তাকে দেখে জিগ্যেস করলেন ঘুম কেমন হয়েছে?

আরাম খান বললেন যে তিনি খুব এরচেয়ে ভালো ঘুম আর কোনদিন ঘুমাননি!

হোটেলের ম্যানেজার অবাক হয়ে বললেন, “কিভাবে সম্ভব হলো?”

জবাবে আরাম খান হাসতে হাসতে বললেন,”রাতে রুমে ঢুকেই আমি তার গালে একটা চুমু দিয়ে বললাম যে সে খুব সুন্দর! এরপর নিজের বেডে গিয়ে ঘুমিয়ে পরলাম। আর ও সারারাত বেডে বসে থাকলো!”

২৬১)

শুঁড়াইখানায় এসে আরাম খান তার মাতাল ইয়ার দোস্তদের সাথে মাতলামিতে ব্যস্ত। পানপাত্রে খানিকটুক বাংলামদ ঢেলে হুট করে একজন বলে উঠলেন, “আজকের রাতটা খুবই পয়মন্ত রাত। চল আমরা কিছু একটা উইশ করি।”

আরাম খান কলকল করে মদ ঢাললেন তার গ্লাসে। তারপর সেটা উঁচিয়ে ধরে বলতে থাকলেন, “আমি আমার সুন্দরী বউয়ের দুই পায়ের ফাঁকে বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে চাই, হাহাহাহাহা।” এই বলে কয়েক ঢোক গিলে ফেললেন তিনি।

তার এই কামনাবাক্য সবার পছন্দ হলো। শুঁড়িঘর জুড়ে বেশ একটা রো রো শব্দ পড়ে গেল।

বাসায় ফিরে বউকে গিয়ে আরাম খান বললেন, “বুঝলে গিন্নী, আজ একটা পার্টিতে তোমাকে স্মরণ করে এমন এক সুন্দর উইশ করেছি না, আমার বন্ধুসকল তো আমার প্রশংসায় একেবারে পঞ্চমুখ।”

“অ্যাঁ! কি উইশ করলে? কোথাকার পার্টি?”

আরাম খান সম্বিত ফেরে পেলেন। তিনি জানেন, এসব মদখাওয়াখাওয়ি তার স্ত্রীর পছন্দ না, তারপর আবার তার কামনাবাক্যটাও খুব একটা শ্লীল কিছু ছিল না। আরাম খান খানিক সবর করে বললেন, “মানে বলেছিলাম কি, ওরা তো সবাই জানে যে আমরা কক্সবাজারে বাড়ি কেনার প্লান করছি। তো উদাত্ত স্বরে উইশ করলাম- তোমাকে নিয়ে আমি সুন্দর সমুদ্র সৈকতে, আবেগঘন পরিবেশে, বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে চাই।”

স্ত্রী শুনে খুব লাজুক একটা হাসি দিলেন।

পরের দিন আরাম খানের স্ত্রী গেছে সদাইপাতি কিনতে। পথে তার সাথে দেখা হলো, সেদিনকার সেই শুঁড়িখানায় উপস্থিত থাকা আরাম খানের এক বন্ধুর।

“কী ভাবি, আরাম খান তো দেখি আপনাকে খুব ভালোবাসে। সেদিনতো তিনি কী উইশটাই না করেলন!” এইবার একটু বাঁকা হেসে তিনি বললেন, “তো, এ পর্যন্ত কবার যাওয়া হয়েছে ওজায়গায়…?”

মহিলা লাজুক হেসে বললেন, “বেশি না, মাত্র দুবার। প্রথম বার তো সে ঘুমিয়েই কাটিয়েছে সারাটা সময়, তাই আমিও তেমন মজা করার সুযোগই পাইনি। আর দ্বিতীয়বার ওখানটায় গিয়ে তার ইয়ে করতে করতেই টাইম গেছে, মানে বুঝলেন তো…” আবারো লাজুক হাসলেন তিনি, “সেসময় তার বহুমূত্র রোগটা একটু বেড়েছিল কিনা….”

২৬২)

মাদক সেবনের দায়ে দুজন ছেলেকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসলো পুলিশ। কিছুদিন কারাভোগের পর জজসাহেবের হাতে সোপর্দ করে দিল। জজসাহেব তাদের খুব করে দেখে বললেন, “দেখো। তোমাদের দেখে মনে হচ্ছে তোমাদের মধ্যে তারুণ্যের শক্তি এখনো ক্ষয়ে যায়নি। তোমাদের যদি এখুনিই পাকাপাকিভাবে জেলে পুরে ফেলার ফরমান জারি করি, তাহলে দু দুটো তরুণ সম্পদ বিফলে যাবে। তাই আমি তোমাদের ঠিকানা টুকে নিলাম, আর তোমাদের একবার সু্যোগ দিচ্ছি আবার লোকালয়ে ফিরে যাওয়ার। তোমরা যদি মাদকবিরোধী ব্যাপক প্রচারণা চালাতে পারো, আর বেশ কিছু মাদকাসক্তকে মাদকমুক্ত করতে পারো, তাহলে তোমাদের শাস্তি মওকুফের ব্যবস্থা আমি নিজেই করবো।”

এক সপ্তা পর সেই ছেলেদুটোকে আবার আদালতে হাজির করা হল। জজসাহেব প্রথমজনকে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কতজনকে মাদকবিমুখ করতে পেরেছ?”

সে বললো, “সতেরো জনকে, ইওর অনার। তাদেরকে এমনভাবে প্রণোদিত করেছি যে তারা আর বাকি জীবন মাদক ছুঁয়েও দেখবে না।”

“বেশ তো”, বললেন জজসাহেব, “কীভাবে করলে?”

ছেলেটা চটপট একটা কাগজ আর একটা কলম তুলে নিয়ে দুটো বৃত্ত আকলো এভাবেঃ O o । অর্থাৎ একটা বড় আর পাশেরটা ছোট। তারপর সে বড়টার উপর আঙুল ধরে বললো, “আমি তাদেরকে বলেছি, মাদক নেয়ার আগে এটা হলো তোমাদের মস্তিষ্কের আকার।” তারপর ছোটটার দিকে আঙুল সরিয়ে বললো, “মাদক নেয়া শুরু করলে তোমাদের মস্তিষ্কের আকার ছোট হয়ে দাঁড়ায় ঠিক এমন।”

“বাহ, প্রশংসনীয় কাজ!” বললেন জজসাহেব। এবার দ্বিতীয়জনকে বললেন, “তুমি কজনকে মাদকের গ্রাস থেকে ফেরাতে পেরেছ?”

সে গম্ভীর গলায় বললো, “দুশো জনকে।”

জজসাহেব বলিহারী গেলেন। “এরমধ্যেই এত্তজন, চমৎকার! কিন্তু কীভাবে?”

প্রথমজনের আঁকা বৃত্তদুটোর ছোটটার উপর আঙুল রাখলো সে। “আমি সবাইকে বললাম, জেলে ঢোকার আগে এটা হলো তোমাদের পায়ুছিদ্রের আকার….”

২৬৩)

বিয়ে নিয়ে কথা হচ্ছে—

মার্কিন: জানো, আমাদের দেশে বিয়ে ই-মেইলে হয়।

ভারতীয়: বাহ্, খুব ভালো তো। কিন্তু আমাদের দেশে বিয়েটা শুধু ফিমেলের (নারী) সঙ্গেই হয়।

২৬৪)

অনেক আগের কাহিনী, যখন পাল তোলা জাহাজ চলাচল করতো সাগরে। তো, শুভেচ্ছা মিশনে পাঠানো ৪০০ জন সৈন্য সহ তাদের কমান্ডার ইংল্যান্ড থেকে নিউইয়র্কে ফিরছে। পালতোলা জাহাজ, তাতে আবার ইঞ্জিনও নেই, আর সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে এই জাহাজে কোন নারী সৈনিক বা ক্রু ও নেই। যেহেতু পালতোলা জাহাজ যাত্রায় প্রচুর শারীরিক পরিশ্রমের দরকার হয়, তাই সৈন্যরা যাতে দুর্বল না হয়ে পড়ে, সেজন্য কমান্ডার তাদের উপর কড়া আদেশ দিলো যে, জাহাজ নিউইওর্কে না পৌছা পর্যন্ত কেউ হাত মারতে পারবেনা। সে নিজেও মারবেনা, সেটাও গলা উচু করে বললো। তো, এইভাবে তাদের জাহাজ যাত্রা চলছে। ১ম সপ্তাহ গেলো, ২য় সপ্তাহ গেলো, ৩য় সপ্তাহ যাবার পর বেটা কমান্ডার নিজেই অস্থির হয়ে গেলো, হাত না মেরে যে আর পারা যাচ্ছেনা! অবশেষে, সে সব সৈন্যদের ডেকে বললো, জাহাজ অর্ধেক পথ চলে এসেছে, এখন সবাই হাত মারতে পারবে। তারপর সে নিজে একটা ড্রামের মাঝে হাত মেরে ইয়ে ফেললো। তার পরে বাকি সৈন্যরাও হৈ হৈ করে মনের আনন্দে হাত মেরে ঐ ড্রামে ইয়ে ফেলে অনেক দিনের কষ্ট লাঘব করলো। তো, ৪০১ জনের ইয়ে, তাই ড্রাম একেবারে ভর্তি হয়ে গেলো। তারপর, সবাই আবার নিজেদের কাজে মনোযোগ দিলো, ড্রামের দিকে আর কোনো খেয়াল রাখলো না। তার আরো ৩ সপ্তাহ পর জাহাজ যখন নিউইয়র্ক বন্দরে পৌছালো, ততোদিনে ড্রামের ইয়ে শুকিয়ে মোমের মতো হয়ে গেছে। সেটা দেখে কমান্ডারের মাথায় একটা আইডিয়া আসলো। ঐ সময় নিউইয়র্কে মোমের প্রচুর চাহিদা ছিলো, সে ড্রামের ইয়ে দিয়ে অনেক গুলো মোমবাতি বানিয়ে নিলো এবং বন্দরেই পাইকারি দোকানে চালান দিয়ে দিলো। দৈবক্রমে, সেই মোমবাতির চালানটা নিউইয়র্কের এক গার্ল কলেজ কিনে নিল। কলেজের সায়েন্স ল্যাব এর কাজে মোমবাতির প্রয়োজন ছিল।

তারপর বেশ কিছুদিন, প্রায় ৩ মাস কেঁটে গেলো, একদিন কলেজের ৫০ জন মেয়ে একসাথে উধাও! ঘটনা কি!

কিছুদিন পর জানা গেলো তারা সবাই নাকি একসাথে প্রেগন্যান্ট !!!

২৬৫)

বল্টু তার বউ-কে কুমিল্লা থেকে ফোন করল.ফোনটা এক চাকর ধরল-

চাকর : হ্যালো.

বল্টু : ম্যাম সাহেবকে ফোনটা দে.

চাকর : কিন্তু ম্যাম সাহেব তো সাহেবের সাথে বেড রুমে ঘুমাচ্ছে.

বল্টু : মানে?? সাহেব তো আমি.

চাকর : আমি এখন কি করব??

বল্টু : দুইজনকে-ই গুলি করে মেরে ফেল.

চাকর দুইজন-কে গুলি করে মারার পর,

চাকর : সাহেব, লাশ ২টা এখন কি করব??

বল্টু : লাশ ২টা বাড়ির পিছনের swimming poolএ ফেলে দে.

চাকর : কিন্তু সাহেব, বাড়ির পিছনে তো কোন swimming pool নেই.

বল্টু : নেই??? ওহ sorryতাহলে wrong number!!!!!!

২৬৬)

মেয়ে : আমি আমাদের এই প্রতিদিনের ঝগড়ায় খুবই বিরক্ত। আমাদের মধ্যে এখন understandingএর বড় অভাব। তাই আমার মতে আমাদের break up হয়ে যাওয়া-টা উচিৎ।

ছেলে : ঠিক আছে। প্রথমে চকলেট খাও।

মেয়ে : ওয়াও!!!! তুমি আমায় চকলেট দিলে, তার মানে তুমি আমাদের relationটা continueকরতে চাও???

ছেলে : না. মা বলেছে কোন শুভ কাজ করার আগে মিষ্টি মুখ করতে …

২৬৭)

ছেলে :কাল তোমায় কখন callদেব?

মেয়ে:তোমার যখন ইচ্ছা তখন

ছেলে:সকালে callদেই?

মেয়ে:ok. কিন্তু এত সকালে আমি ঘুম থেকে উঠি না.

ছেলে:তাহলে ১০টায় দেই?

মেয়ে:না,তখন বাবা বাসায় থাকে.

ছেলে:তাহলে ২টায় দেই?

মেয়ে:২টায় তো আমি lunchকরি.

ছেলে:ঠিক আছে,তাহলে ৫টায় দেই?

মেয়ে:তখন তো আমি আমার ফেভারিট সিরিয়াল দেখি.

ছেলে:তবে সন্ধ্যায়?

মেয়ে:সামনে xam,সন্ধ্যায় একটু পড়তে হবে.

ছেলে:তাহলে রাতে দেই?

মেয়ে: না না, রাতে সবাই বাসায় থাকে তখন কথা বলতে পারব না.

ছেলে:তাহলে কখন call দেব?

মেয়ে:তোমার যখন ইচ্ছা তখন!!

২৬৮)

এক লোক তার বন্ধুর বাসায় গেল। কলিং বেল টিপল। বল্টু দরজা খুলল।

লোক : তোমার বাবাকে একটু ডাক তো।

বল্টু : বাবা বাসায় নেই, বাজারে গেছে।

লোক : তাহলে তোমার বড় ভাইকে ডাক।

বল্টু : বড় ভাই তার বন্ধুদের সাথে ক্রিকেট খেলতে মাঠে গেছে।

লোক : তোমার মাকে ডাক, তিনি তো বাসায় আছে???

বল্টু : না। মা বিউটি পার্লারে গেছে.

লোক : (বিরক্ত হয়ে বলল) সবাই যখন বাইরে গেছে তখন তুমি ও কোথাও চলে যাও।

বল্টু : জ্বি, তাই তো আমি আমার বন্ধুর বাসায় চলে এসেছি…

২৬৯)

এক মেয়ে তার বান্ধবী কে বলছে, জানিস,গত কাল রাতে আমি স্বপ্নে দেখেছি, এক লোক আমাকে গুলি করে মেরে ফেলেছে.আমার এখন খুব ভয় লাগতেছে যদি সত্যি এমন হয় !!!

বান্ধবী : আরে এত চিন্তা করিস কেন? স্বপ্ন যদি সত্য হতো, তাহলে আমি প্রত্যেক দিনই Pregnant হতাম!!!!!

২৭০)

বল্টু তার গার্লফ্রেন্ডকে SMS করছে-

বল্টু : জানু কি কর???

বল্টুর গার্লফ্রেন্ড : শরীরটা ভাল লাগতেছে না, তাই শুয়ে আছি. তুমি কি কর???

বল্টু : শালি, তুই যে সিনেমা হলে বসে মুভি দেখতেছস সে সিনেমা হলে তোর পিছনে বসে বসে পপ কর্ন খাচ্ছি !!!

২৭১)

এক হাসপাতালের ওয়েটিং রুমে তিনজন লোক তাদের প্রথম সন্তানের জন্ম নেয়ার অপেক্ষা করছিলো। নার্স বেরিয়ে এসে প্রথমজনকে বললো, অভিনন্দন, আপনার যমজ বাচ্চা হয়েছে।

লোকটি খুশি হয়ে বললো, আরে, আমি তো মিনোসেটা টুইনস (মিনোসেটা যমজ)- প্রতিষ্ঠানে কাজ করি।

একটু পর নার্স বেরিয়ে এসে দ্বিতীয়জনকে বললো, অভিনন্দন, আপনার ৩টি বাচ্চা একসাথে হয়েছে।

লোকটি খুশি হয়ে বললো, আরে আমি তো থ্রি-এম -এ কাজ করি।

এ কথা শুনে তৃতীয়জন খোলা জানালা দিয়ে বাইরে লাফ দিলো। নার্স বেরিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলো বাচ্চার বাবা কোথায়। অন্য দু’জন উত্তর দিলো, জানালা দিয়ে লাফ দিয়ে নিচে পড়ে গেছে।

– কেন? নার্স অবাক।

– ও সেভেন-আপে কাজ করে। একজনের উত্তর।

২৭২)

তখন ছাত্র, সাথে অনেক নেপালী-শ্রীলঙ্কানও আছে। ওয়ার্ডে নতুন নতুন প্লেসমেন্ট। এইসময় একটাই কাজ, রোগীর হিস্ট্রি নিতে শেখা। সহপাঠী নেপালীরা ততদিনে ভাঙা ভাঙা বাংলা শিখে গেছে। এক নেপালী বন্ধু এক ডিসেন্ট্রি রোগীর হিস্ট্রি নিচ্ছিলঃ

বন্ধুঃ “আপনার কি সোমোসা?”

রোগীঃ “ফ্যাড বিষ গরার, জ্বর, দুর্বল্লাগের, ফাহানার লগে আম যার” [পেটে ব্যাথা, জ্বর, দুর্বলতা, মলের সথে বিকার যাচ্ছে]

বন্ধুটি ঝটপট লিখে ফেলেঃ Abdominal pain with fever and weakness. Also complaints of mango passing through stool.

২৭৩)

[নোটঃ ডাক্তারী ভাষায় হাতের আর পায়ের আঙুলকে বলা হয় ডিজিট।]
আল আমীন ক্লিনিকে ইমার্জেন্সীতে ডিউটি করছিলাম। তখন আওয়ামী সরকার মাত্র ক্ষমতা গ্রহণ করেছে। শেখ হাসিনা এবং তাঁর উক্তি তখন ব্যাপক আলোচিত। এক লোক আসে, সড়ক দুর্ঘটনায় তার ডান হাতের বুড়ো আঙুল থেঁতলে গেছে, সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে নখ। ভাল করে পরীক্ষা করে দেখে বুঝলাম, নখ ফেলে দিতেই হবে। রোগীকে সে কথা জানাতেই আঁৎকে ওঠে। তাঁকে অভয় দেয়ার জন্য বলি, “ভয়ের কিছু নাই, আপনি ব্যাথা পাবেন না, ডিজিটাল এনেস্থেশিয়া দিয়ে, আপনার আঙুল অবশ করে তারপর নখ ফেলব।” লোকটা বলে, “দেশ তো দেশ, এখন এনেস্থেশিয়াও ডিজিটাল হই গেসে???”

২৭৪)

নোয়াখালীতে রয়্যাল হাসপাতালে আর এম ও হিসেবে কর্মরত ছিলাম। সেখানে এক রোগী আসে Infected sebaceous cyst নিয়ে। [আমাদেরত্বকে দুই রকম গ্রন্থি থাকে, একটি ঘর্মগ্রন্থি, আরেকটি তৈলগ্রন্থি, দ্বিতীয়টিকে বলা হয় সিবেশাস গ্ল্যান্ড। কোন কারণে এর মুখ বন্ধ হয়ে গেলেভেতরে গ্রন্থির নিঃসরণ জমতে থাকে। ওখানে জীবাণুর সংক্রমণ হলে এই অবস্থারউদ্ভব হয়।] পরীক্ষা নিরীক্ষার পর জানালাম, একটা ছোট্ট অপারেশন করে ওটা কেটে ফেলতে হবে। স্বাভাবিকভাবেই অপারেশনের কথা শুনে লোকটি ঘাবড়ে যায়। তখন তাকে আশ্বস্ত করার জন্য বলি, ” ভয় পাবেন না, এটা আহামরী বিরাট কোন অপারেশন না। এমনকি এই অপারেশনের জন্য আপনাকে হাসপাতালেও ভর্তি হতে হবে না। শুধু এই ফোঁড়াটা এবং এর চারপাশটা লোকাল এনেস্থেশিয়া দিয়ে অবশ করে, টুক করে ফোঁড়াটা কেটে ফেলব, আপনি ব্যাথা দূরে থাক, একদম টেরই পাবেন না।” একটু ইতস্তত করে তিনি বলেন, “স্যার, অপারেশন করবেন যখন, ভাল জিনিস দিয়ে করেন। লোকাল কেন দিবেন, বিদেশী নাই?”

২৭৫)

ফদ্দানা মানে …

এক ফার্মেসীতে গিয়েছিলাম আম্মুর জন্য ঔষধ কিনতে। দোকানে দুই কর্মচারী। একজন আমার জন্য ঔষধ খুঁজছিল। অন্যজনের সাথে আমি কথা বলছিলাম। জানতে পারি, ইনি বগুড়া থেকে এসেছেন দুই সপ্তা হয়, এখন চাচার দোকানে কাজ শিখছেন। তখন আরেক ক্রেতা এসে দ্বিতীয় দোকানীকে বলে, “ফদ্দানা আসে না?” [‘ফদ্দানা’ আছে?] দ্বিতীয়জন অবাক, “ফদ্দানা?” লোকটা বলে, “অ, ফদ্দানা এরি। আসে না?” [হ্যাঁ, ‘ফদ্দানা’, আছে?]
দোকানীঃ “নাই”
ক্রেতাঃ “ইবা হন্ডইল্ল্যা অষূদর দোয়ান, ফদ্দানা ন বেসে!” [এইটা কিরকম ওষুধের দোকান, ‘ফদ্দানা’ বেচে না!]
ততক্ষণে প্রথম দোকানী আমার জন্য ঔষধ নিয়ে এসেছেন। তিনি জানতে চান ব্যাপার কি।
ক্রেতা আবার বলে, “ফদ্দানা নাই?”
“আসে তো।” প্রথমজনের ত্বরিত জবাব, এবং পালটা প্রশ্ন, “হন্ন্যুয়া লাইবু?” [কোনটা লাগবে?]
“বাগর ইবা, এক ফেকেট দিও” [বাঘেরটা, এক প্যাকেট দিও]
প্রথম দোকানী এবার তাঁকে এক প্যাকেট “প্যান্থার কনডম” দিয়ে দেন।

২৭৬)

এক মামার কাছে একটা জরুরী কাজে তাঁর গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীতে গিয়েছিলাম, তিনি বায়ারদের সাথে মিটিং এ ব্যস্ত থাকায় বাইরে অপেক্ষা করার সময় শুনলাম, কোন একজন উর্ধ্বতন কেউ, তাঁর অধস্তনকে ঝাড়ি দিচ্ছে, “ইউ লিস্টেন, ইউ নু টক হুন আই টক। আই গট কমপেলেন ইউ নট কামিং টাইমলি। ইউ ডু আড্ডাবাজী ইন অফিস, ইউ নু ওয়ার্ক রাইট, ইউ মিসটেক ভেরি মাচ। … শেটাপ! খবদ্দার, ইউ নু টক হুন আই টক। এম ডি সার টেল মি, হি উইল খাট ইউর বেতন। আই রিখোয়েস সার নো বেতন কাট, গিভ ওয়ান চান্স। … শেটাপ, নু টক! মাউত ক্লুস! ইউ হুদা লিস্টেন … … …

২৭৭)

স্ত্রী: এতক্ষণ ধরে ওই কাগজটিতে কী দেখছ তুমি?
স্বামী: কই, কিছু না তো!
স্ত্রী: আরে, এ যে দেখি ডাহা মিথ্যে কথা বলছ। তুমি প্রায় চার ঘণ্টা ধরে আমাদের কাবিননামা এত খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছটা কী, শুনি?
স্বামী: না, তেমন কিছু নয়। অনেকক্ষণ ধরে খুঁজেও কেন জানি কাবিননামার মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখটা বের করতে পারলাম না।

২৭৮)

“ম্যায়নে তুঝে দিল দিয়া নাদান সামাঝকে,
তুনে উসে খা লিয়া বাদাম সামাঝকে!”

২৭৯)

এক বাসায় একটা রোবট ছিল , কেউ মিথ্যা বললে থাপ্পর মারত। এক দিন……

ছেলেঃ আমি আজ স্কুলে যাব না,আমার পেটে ব্যথা ।

রোবটঃ মারল এক থাপ্পড়।

বাবাঃ তোমার মত থাকতে কখনও মিথ্যে বলতাম না ।

রোবটঃ বাবাকে মারল এক থাপ্পড় ।

মাঃ কি হইসে?

বাবাঃ তোমার ছেলে মিথ্যা বলসে ।

মাঃ বলবে না? তোমার ই তো ছেলে ,

রোবটঃ মাকে মারল এক থাপ্পড় ।

২৮০)

রাতে শোওয়ার আগে স্ত্রীর মনে পড়ল আজ বিকেলে ছেলেকে বারান্দায় দাঁড়িয়ে পাশের বাড়ির টুনির সঙ্গে কী যেন ফিসফিস করতে দেখেছেন।

তিনি স্বামীকে ডেকে বললেন, ‘হ্যা গো শুনছ, আমাদের ছেলে বড় হচ্ছে। তোমার কি মনে হয় না ওকে কিছু ব্যাপার বুঝিয়ে বলা উচিত? তুমি বরং আজকেই ওকে সেক্সের ব্যাপারে সবকিছু বুঝিয়ে বল। তবে একবারেই সব বলে দিও না যেন, ফুল কিংবা মৌমাছি থেকে শুরু কর।’

অনিচ্ছা সত্ত্বেও স্বামী বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। ছেলেকে আড়ালে ডেকে নিয়ে গেল। ‘হ্যা রে বাবু, তোর কি মনে আছে, গত হপ্তায় টুনির সঙ্গে তুই আর আমি কী করেছিলাম?’

‘হ্যাঁ বাবা।’

‘মৌমাছিরাও ওগুলোই করে।’

২৮১)

এক ফরাসি তরুণী হারিয়ে গেছে।

ঘোড়ায় চড়ে এক রেড ইন্ডিয়ান এসে তাকে প্রস্তাব দিলো কাছের শহরে পৌঁছে দেয়ার।

রাজি হয়ে তরুণী তার ঘোড়ার পেছনে চড়ে বসলো। ঘোড়া ছুটতে লাগলো।

কিন্তু কোন এক বিচিত্র কারণে একটু পরপর রেড ইন্ডিয়ান লোকটি “আআআআআহহ” করে বিকট চিৎকার দিতে লাগলো।

শহরে পৌঁছে বাস স্টেশনের সামনে লোকটি নামিয়ে দিলো তরুণীকে, তারপর আরেকটা বিকট ইয়াহু চিৎকার দিয়ে উল্টোপথে ছুটে গেলো।

বাস স্টেশনের অ্যাটেন্ড্যান্ট বললো, ‘কী ব্যাপার, কী করেছেন আপনি, লোকটা অমন ক্ষেপে গেলো কেন?’

ঘাবড়ে গিয়ে তরুণী বললো, ‘কিছুই না। আমি তো ওর পেছনে ঘোড়ায় চড়ে বসেছিলাম, আর ওর হাত বাড়িয়ে ওর স্যাডলের সামনের দিকে হ্যান্ডেলটা শক্ত করে চেপে ধরে রেখেছিলাম শুধু।’

অ্যাটেন্ড্যান্ট বললো, ‘মিস, রেড ইন্ডিয়ানদের ঘোড়ায় স্যাডল থাকে না।’

২৮২)

একটা বারে এক বুড়ো কাউবয় বসে আছে, পুরো কাউবয় সাজে। এক তরুণী এসে তার পাশে বসলো।

‘তুমি কী সত্যিই একজন কাউবয়?’ জিজ্ঞেস করলো সে।

কাউবয় বললো, ‘আসলে, আমি আমার সারাজীবন কাটিয়েছি খামারে। গরু পেলে বড় করেছি, বুনো ঘোড়া পোষ মানিয়েছি, ভাঙা বেড়া সারিয়েছি … মনে হয় আমি একজন কাউবয়।’ একটু থেমে জিজ্ঞেস করলো সে, ‘তা, তুমি কী করো?’

তরুণী উত্তর দিলো, ‘আমি একজন লেসবিয়ান। সারাদিন আমি মেয়েদের চিন্তা করি। ঘুম থেকে উঠেই আমি মেয়েদের নিয়ে ভাবি। আমি যখন খাই, টিভি দেখি, ব্যায়াম করি, তখনও আমি মেয়েদের কথা ভাবি।’ এ কথা বলে মেয়েটা ড্রিঙ্ক শেষ করে উঠে চলে গেলো।

একটু পর আরেকটা মেয়ে এসে বসলো কাউবয়ের পাশে।

‘হাই, তুমি কি সত্যিই একজন কাউবয়?’ জিজ্ঞেস করলো মেয়েটা।

কাউবয় বিষণ্ন মুখে বললো, ‘আমি তো সারাটা জীবন তা-ই জানতাম, কিন্তু একটু আগে টের পেয়েছি, আমি আসলে একজন লেসবিয়ান।’

২৮৩)

এক বেদুঈন উটে চড়ে মরুভূমি পার হচ্ছে। দিনের পর দিন মরুভূমিতে চলতে চলতে হাঁপিয়ে উঠেছে সে, সেক্সের জন্যে আনচান করছে মন। একদিন সে ঠিক করলো, উটটাকেই ব্যবহার করবে সে। যে-ই ভাবা সে-ই কাজ, উটের পিঠ থেকে নেমে সে উটের পেছনে গিয়ে দাঁড়ালো। কিন্তু উট তার মতলব বুঝতে পেরে দিলো ছুট। খানিকটা ছুটে হাঁপাতে হাঁপাতে উটটাকে পাকড়াও করে আবার মরুভূমি পাড়ি দিতে লাগলো বেদুঈন। কিন্তু পরদিন ভোরে আবার তার খায়েশ হলো। আবারও সে উটের পেছনে গিয়ে দাঁড়ালো। উটও আগের মতো ছুট দিলো। বেদুঈন গালি দিতে দিতে আবার উটটাকে পাকড়াও করে পথ চলতে লাগলো।

এমনি করে একদিন সে এক হাইওয়ের পাশে এসে দাঁড়ালো। সেখানে একটা গাড়ি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে, আর গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে স্বল্পবসনা অপরূপ রূপসী তিন তরুণী। উট থেকে নেমে এগিয়ে গেলো সে।

‘আপনাদের কিভাবে হেল্প করতে পারি?’ জানতে চাইলো সে।

তরুণীদের একজন, সবচেয়ে আবেদনময়ী যে, লাস্যময়ী ভঙ্গিতে বললো, ‘দেখুন না, গাড়িটা নষ্ট হয়ে আছে। এখন যে কী হবে! কেউ যদি গাড়িটা ঠিক করে দিতো, তাহলে সে যা চাইতো তা-ই দিতাম আমরা।’

বেদুঈন এগিয়ে গিয়ে বনেট খুলে তিন মিনিট ঘাঁটাঘাঁটি করতেই গাড়ি আবার জ্যান্ত হয়ে উঠলো। তিন রূপসী এবার ঘিরে ধরলো তাকে। ‘বলুন কিভাবে আপনার এই উপকারের প্রতিদান দিতে পারি?’ মোহনীয় হাসি ঠোঁটে নিয়ে জানতে চাইলো তারা।

বেদুঈন খানিকটা ভেবে বললো, ‘পাঁচ মিনিটের জন্যে আমার উটটাকে একটু শক্ত করে ধরে রাখতে পারবেন?’

২৮৪)

বনের রাজা টারজান তিরিশ বছর ধরে জঙ্গলে বাস করছে, সেখানে নানারকম পশুপাখি থাকলেও কোন মানুষ নেই। উদ্ভাবনী মস্তিষ্কের অধিকারী টারজান তাই বিভিন্ন গাছের গায়ে ফুটো করে নিয়েছে, প্রথম রিপুকে মোকাবেলা করার জন্যে। মহিলা সাংবাদিক জেন একদিন জঙ্গলে গিয়ে দেখলো, টারজান মহা উল্লাসে একটি গাছের সাথে প্রেম করে চলছে।
এই দৃশ্য দেখে জেন খানিকটা ভালোবাসা, খানিকটা অনুকম্পা বোধ করলো টারজানের জন্যে, সে জামাকাপড় খুলে আড়াল ছেড়ে বেরিয়ে এসে টারজানের উদ্দেশ্যে নিজেকে নিবেদন করলো।
টারজান তখন গাছ ফেলে ছুটে এসে জেনকে অবাক চোখে কিছুক্ষণ দেখলো, তারপর জেনের পেটে কষে একটা লাথি মারলো।
পেট চেপে ধরে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো জেন। ‘জংলি ভূত, আমি তোমাকে প্রেম নিবেদন করলাম, আর তুমি কি না আমাকে লাথি মারলে?’ চেঁচিয়ে উঠলো সে।
টারজান এগিয়ে এসে জেনকে জাপটে ধরে বললো, ‘সবসময় চেক করে দেখি, মৌমাছি আছে কি না।’

২৮৫)

বিক্রেতা: এই নিন আপনার টয়লেট পেপার। রসিদ লাগবে?

ক্রেতা: আপনি কি চান আমি এটা ব্যবহার করার পর আবার ফেরত দিতে আসি?

২৮৬)

স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা আরম্ভ হলো। পরীক্ষার হলে এক ছাত্রী জোরে জোরে কাঁদছে।

শিক্ষকঃ তুমি কাঁদছ কেন?

ছাত্রীঃ আমার রচনা কমন পড়েনি।

শিক্ষকঃ কেন? কী এসেছে?

ছাত্রীঃ এসেছে ‘ছাত্রজীবন’। স্যার, আমি তো ছাত্রী। ‘ছাত্রজীবন’ লিখব কীভাবে?

২৮৭)

পৃথিবীর সবচে’ ছোট্ট রুপকথার গল্পটা জানেন? না জানলে পড়ুনঃ

বহু বহু বছর আগের কথা। এক দেশে ছিল এক ছেলে আর এক মেয়ে। একদিন ছেলেটি মেয়েটিকে জিজ্ঞাসা করিল, ‘তুমি কি আমাকে বিয়ে করবে?’

মেয়েটি উত্তর দিল, ‘না।’

অতঃপর ছেলেটি সুখে-শান্তিতে বসবাস করিতে লাগিল।

২৮৮)

বস বলছেন কর্মচারীকে, ‘আপনি কি মৃত্যুর পরের জনমে বিশ্বাস করেন?’

কর্মচারী: জি স্যার।

বস: হুমম্, করারই কথা। গতকাল আপনি মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীর কথা বলে অফিস থেকে ছুটি নেওয়ার পর আপনার মা অফিসে এসেছিলেন, আপনার সঙ্গে দেখা করতে!

২৮৯)

এক ভদ্রলোক গেছেন বাজারে, ডিম কিনতে।

ভদ্রলোক : এগুলো কার ডিম?

বিক্রেতা : আমার ডিম।

ভদ্রলোক : আমি মনে করেছিলাম মুরগির ডিম।

২৯০)

চার তরুণী নান এক কনভেন্টে যোগ দিতে চাইছে।

মাদার সুপিরিয়র বললেন, ‘তার আগে তোমাদের পরীক্ষা নেওয়া হবে। সবাই এক লাইনে দাঁড়াও।’

সবাই লাইনে দাঁড়ানোর পর তিনি প্রথম নানকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘বাছা, তুমি কি কখনও কোনও পুরুষের সেই প্রত্যঙ্গ স্পর্শ করেছ? করে থাকলে নিজের শরীরের কোন অঙ্গ দিয়ে স্পর্শ করেছ?’

লজ্জিত মুখে প্রথম নান বলল, ‘আঙুল দিয়ে, মাদার।’

মাদার সুপিরিয়র পবিত্র পানির একটি বাটি এগিয়ে দিলেন। ‘তোমার আঙুল এ পানিতে ডোবাও, সব পাপ ধুয়ে ফেল, পবিত্র হয়ে এসো আমাদের কনভেন্টে।’

প্রথম নান আঙুল পানিতে ডুবিয়ে কনভেন্টে ঢুকে গেল।

এবার মাদার সুপিরিয়র দ্বিতীয় নানকে বললেন, ‘কি বাছা, তুমিও স্পর্শ করেছ নাকি? স্পর্শ করে থাকলে নিজের শরীরের কোন অঙ্গ দিয়ে স্পর্শ করেছ?’

লজ্জিত মুখে দ্বিতীয় নান বললো, ‘হাত দিয়ে, মাদার।’

যথারীতি মাদার সুপিরিয়র পবিত্র পানির বাটি এগিয়ে দিলেন, হাত ধুয়ে পাপমুক্ত হয়ে দ্বিতীয় নান কনভেন্টে প্রবেশ করল।

এমন সময় চতুর্থ নান তৃতীয় নানকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে সামনে এগিয়ে এল। মাদার অবাক হয়ে বললেন, ‘ও কি, বাছা, ঈশ্বরের পথে অত তাড়া কিসের?’

চতুর্থ নান বলল, ‘উঁহু, মাদার, ও এই পানিতে বসে পড়ার আগেই আমি কুলি করতে চাই।’

২৯১)

: বলোতো মুরগির ব্রেস্ট নেই কেন ?

: মোরগের হাত নেই বলে।

২৯২)

ডান্স পার্টি হচ্ছে। এক স্মার্ট যুবক তার চেয়েও লম্বা সুন্দরী এক তরুনীকে তার সাথে নাচার আমন্ত্রন জানাল।
: ধন্যবাদ। কোনো বাচ্চাকে নিয়ে আমি নাচি না।
: সরি! মিস, আপনার যে বাচ্চা হবে তা আমি জানতাম না।

২৯৩)

প্রশ্নঃ পাত্রী দুইখান, ১ম জন পরমা সুন্দরী, যৌবনবতী কিন্ত পুরা চরিত্রহীনা আর পরের জন মহা সতী-সাধ্বী, চরিত্রবতী কিন্ত চেহারা কুৎসিত- কারে বিয়া করবেন?
উত্তরঃ সারাজীবন একা একা বিষ্ঠা খাওয়ার চাইতে- সবাই মিলে মিষ্টি খাওয়া ভালো।

২৯৪)

ছেলেঃ বাবা, বড়ভাইয়া তো দরজা খুলছে না!

বাবাঃ খুলবে খুলবে, কাল রাতে তোমার ভাইয়ার বাসর রাত ছিল তো, ক্লান্ত তাই এখনও দরজা খুলছে না।

ছেলেঃ ঠিক আছে বাবা, কিন্তু রাতে ভাই আমার কাছে কোল্ড ক্রিম চাইলে আমি তো ভুলে ফেবিকল (সুপার গ্লু) দিয়েছি। সেই জন্য চিন্তা করছি।

২৯৫)

জামাই বউ এসেছে ডাক্তার কাছে।

ডাক্তার বলল, কি হইছে?

বউ জামাইকে দেখিয়ে রাগী রাগী মুখে কয়, সে ত ৩০০% অক্ষম হয়ে পড়ছে।

-৩০০%? বুঝলাম না…

-১০০% অক্ষম কিভাবে সেটা ত আইডিয়া করতেই পারছেন, তাই না? এরপর শুনেন। সে তার জিহবা পুড়ে ফেলছে আর আঙ্গুল ভেঙ্গে বসে আছে।

২৯৬)

এক ছেলে দাদাকে বই পড়তে দেখে জানতে চাইলো, দাদু তুমি কি পড়ছো?

– ইতিহাসের বই।

– মিথ্যা কথা, তুমি সেক্সের বই পড়ছো।

– ওটা তো আমার জন্য ইতিহাসই।

২৯৭)

এক লোক সবাইকে ধাঁধাঁ জিজ্ঞেস করছে। প্রথম প্রশ্নের সঠিক জবাব দিতে পারলে ৫০০ টাকা, ২য়টা পারলে ৫০০০ টাকা। তো, একটি মেয়ে এলো। তাকে প্রথম প্রশ্ন – প্রথম মানব-মানবি কে?

মেয়ে ঃ আদম এবং ইভ।

জবাব সঠিক।

২য় প্রশ্ন – প্রথম দেখার পর ইভ আদমকে কি বলেছিল?

মেয়েটি এবার চিন্তায় পড়লো।মেয়েটি দেরি করছে দেখের লোকটি তাকে তাড়া দিলো। মেয়েটা ইতোস্ততঃ করে বল্লো – এটা তো বেশ শক্ত…’

লোকটি চেঁচিয়ে উঠলো – জবাব সঠিক, এই নিন ৫০০০ টাকা।

২৯৮)

এক বারবণিতাকে শেখ সাহেবের মনোরন্জনের জন্য মনোনিত করা হলো।

তো শেখ সাহেব প্যান্ট খুলতেই – বারবণিতাটি “ওয়াও” বলে উঠলো।

শেখ সাহেব বল্লেন, ইটস নট “ওয়াও” ইটস আ “আলিফ” !

২৯৯)

স্ত্রী স্বামীকে ই-মেইল খোলা শেখাচ্ছিলো। এক পর্যায়ে পাসওয়ার্ড সেট করার জায়গায় স্ত্রী বলে দিলো এখানে পাসওয়ার্ড সেট করো।

স্ত্রীর সাথে মজা করার জন্য স্বামী স্ত্রীকে দেখিয়ে দেখিয়ে আস্তে আস্তে টাইপ করলো- P… E…N….I….S.

কম্পিউটার উত্তর দিলো, Password denied…. Not long enough.

৩০০)

‘সুপারম্যান’ কেন স্টুপিড?!?

>>>কারণ ব্যাটা প্যান্টের উপ্রে আণ্ডারওয়্যার পড়ে

¤’ব্যাটম্যান’ কেন আরো বড় স্টুপিড?!?

>>>কারণ এই ব্যাটা প্যান্টের উপ্রে আণ্ডারওয়্যার তো পড়েই; সেই আণ্ডারওয়্যার আবার বেল্ট দিয়া আটকাইয়া রাখে

‘স্পাইডারম্যান’ কেন এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্টুপিড?!?

>>>কারণ এই উজবুক তার আণ্ডারওয়্যার মাথার উপরে পড়ে…

৩০১)

আমেরিকা প্রবাসী এক ইটালীয় ফ্যামিলির মেয়ে যাচ্ছে জীবনের প্রথম ডেটে। তার দাদী তাকে ডেকে বলল, শুনো। ছেলেটা তোমার হাত ধরতে চাইবে- তুমি কিন্তু সহজে হাত ধরতে দিবে না। তোমার এই কাজে আমাদের পরিবারের অসম্মান হবে।

-আচ্ছা দাদী।

-ছেলেটা হয়ত তোমাকে চুমু খেতে চাইবে- খবরদার রাজি হবে না। আমাদের পরিবারের এতে অসম্মান হবে।

-ঠিক আছে।

-ছেলেটা হয়ত তোমার বুকে হাত দিতে চাইবে- খবরদার সুযোগ দিবে না।

-হুমম। দিব না সুযোগ।

-ছেলেটা হয়ত তোমার উপর শুতে চাইতে পারে- খবরদার রাজি হবে না। আমাদের পরিবারের চরম অসম্মান হবে এতে…

মেয়ে ডেট শেষ করে বাসায় এসেছে।

-ও দাদী তুমি ত সত্য বলছিলে। সে আমার হাত ধরছে।

-অপমান!!! তারপর?

-চুমুও দিয়েছে।

-হায় খোদা!!! বুকে হাত দিয়েছে?

-হুমম।

-এরপর?

-সে যখন আমার উপর শুতে চেয়েছে- আমি রাজি হই নি।

-সাবাস!

-হ্যাঁ! আমি আমার পরিবারের অনেক অসম্মান সহ্য করেছি। শেষে নিলাম শোধ। আমি তার উপর চড়ে বসে তার ফ্যামিলির চরম অপমান করে এসেছি।

৩০২)

কোন একদিন প্রেমিক তার প্রেমিকারে রক্ত দিয়ে জীবন বাচিয়েছে। যখন তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল প্রেমিক তার দেয়া রক্ত ফেরৎ চাইলো। প্রেমিকা তার সেনেটারী ন্যাপকিন খুলে প্রেমিকের হাতে দিয়ে বলল, “ মাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করবো”

৩০৩)

স্বামী(বাসর রাতে)- তুমি কি কখনো সেক্স মুভি দেখেছো ?

স্ত্রী – একবার দেখেছি

স্বামী – এখন আমরা তাই করব,যা ঐ মুভিতে হয়েছে।

স্ত্রী(চিন্তা করে)- তাইলে বাকী দুজন কই থেকে আনবে?

৩০৪)

দুই বান্ধবীর কথোপকথন
১ম জন- এক ছেলেকে আমি আজ বোকা বানাইছি
২য় জন- কেমনে ?
১ম জন-ওর কাভহ থেকে ৫০০ টাকা নিয়ে সেন্ডেলের ফাকে লুকিয়ে রেখেছিলাম,আর গাধা আমার ব্রার মধ্যে আধা ঘন্টায়ও খুজে পায় নাই!

৩০৫)

এক বাচ্চা ছেলে এক কলগার্লকে প্রশ্ন করলো, “আপনার এত টাকা,গাড়ী আছে,আপনি কি ব্যাবসা করেন?”
কলগার্ল কিছুক্ষন ভেবে বলল, আমার HOLE SALE এর ব্যাবসা আছে”

৩০৬)

বাসর রাতে স্বামী বউয়ের চোখে বারবার চুমু দিচ্ছে

বউ বলল, “ বারবার চোখে চুমু দিচ্ছ কেন?”

স্বাম , “ তোমার চোখ হলো আমার কাছে ভালোবাসার বই,শুধু পাঠ করতে মন চায়”

বউ , “ নিচে লাইব্রেরীতে আগুন জ্বলছে,আর তুমি বই নিয়ে ব্যাস্ত”

৩০৭)

এক লোক ডিভোর্স এক মহিলাকে বিয়ে করেছে।
বিয়ের পরদিন তার বন্ধু তাকে জিগাইলো-সেকেন্ড হ্যান্ড বউ কেমন।
উত্তর- খারাপ না,প্রথম ৩ ইঞ্চির পড় ব্র্যান্ড নিউ!

৩০৮)

রক্ত পরীক্ষার পর নার্স আবুলের আঙ্গুল মুখে নিয়ে চুষে দিচ্ছে (রক্ত বন্ধের জন্য)।

তা দেখে আবুলের খুশীতে লম্ফ দেয়া শুরু।

নার্সঃ কি হইছে,এত খুশী কেন?

আবুলঃ পরেরটা ইউরিন টেস্ট !! তাই !!

৩০৯)

বিছানায় এক রাউন্ড প্রেম পর্বের পর সদ্য কুমারিত্ব বিসর্জনকারিনী প্রেমিকা চিন্তা করছে, “ ঢুকলো ৭ ইঞ্চি,বেরুলো ৩ ইঞ্চি,বাকী ৪ ইঞ্চি কি ভিতরেই থেকে গেল???”

৩১০)

বউ, “ বইয়ে পড়েছি একটী পুরুষ কুকুর সারা বছর কমপক্ষে ৩০০ বার সেক্স করে,আর তুমি ১০০ বারও করো না!”

স্বামী, “ একই কুকুর একই মেয়ে কুকুরের সাথে ৩০০ বার করে এইডা কোন বইয়ে লেখা আছে?”

৩১১)

১ম জন >> এ দেশের শিক্ষাব্যবস্হা নারীজাতিকে একদম রাস্তায় বসিয়ে দিয়েছে।

২য় চন >> মানে?

১ম জন >> মানে , দেখিস না, প্রতিটি স্কুলের সামনে মা’য়েরা কেমন রাস্তায় বসে থাকে।

৩১২)

হালিমঃ কিরে মালাই, আয়নার সামনে চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে আছিস কেন?

মালাইঃ ঘুমিয়ে থাকলে চেহারাটা কেমন দেখায় একটু দেখছি, এই যা!

৩১৩)

এক লোক ফুরফুরে মনে গাড়ী নিয়ে হাওয়া খাইতে বের হৈসে। সুন্দর দিন, মৃদু মন্দ হাওয়া।

মনের সুখে সে দু এক কলি বেসুরে গলা গেয়েও ফেল্লো । হঠাৎ প্যাঁপু প্যাঁপু সাইরেন — রিয়ার ভিউ মিররে দেখে সে একটা পুলিশ কার। হাওয়া খাওয়া চাংগে তুলে সে প্রাণপণে এক্সিলেটর চেপে ধরে।

অবশেষে ১০ কিমি মুরগী-শিয়াল ধাওয়া খাওয়া শেষে সে রাস্তার পাশে গাড়ী থামায়। ক্ষিপ্ত পুলিশ অফিসার এসে জিগ্গেস করলো “ঘটনা কি ?? তুমাকে বিশাল জরিমানা করা হবে এখন, পুলিশ দেখে স্পিড বাড়ানোর মজা দেখাচ্ছি”

লোকটা বল্লো “প্লিজ, প্লিজ অফিসার আমি বিশাল ভ্রান্ত ধারমার কারনে স্পিড বাড়াইসি — গতবছর আমার বউ এক পুলিশ অফিসারের সাথে ভেগে গেসে — আমি ভাবসি ঐ ব্যাটা খন্ডারনীকে ফেরত নিয়ে আসছে”

৩১৪)

এক ফোরম্যান — বসে বসে টুলে সিগারেট খাচ্ছে –

আর শ্রমিকরা — বস্তা নাড়িয়ে ক্লান্ত হয়েযাচ্ছে

একদিন এক শ্রমিক গজগজ করতে করতে কইলো , “এই ব্যাটা ফোরম্যান টাকাও পায় আমাদের চে বেশী –আবার সারাদিন বসে বসে ঝিমায় — আমি মানি না”

সে ফোরম্যানরে গিয়া বল্লো, “কেন তুমি আমাদের লগে কাজ করো না আর মোটা টাকা বেতন পাও”

তুমি জানতে চাও — ফোরম্যান কইলো !

শ্রমিক : হ

আচ্ছা ঠিক আছে , তাহলে এই যে দেয়ালের উপরে আমি হাত রাখলাম এইখানে যদি ঘুসি দিতে পারো — তাইলে তোমার কথা আমি মেনে নিবো

শ্রমিক ব্যাটা সর্বশক্তিতে ঘুষি মেরে বসলো — আর ফোরম্যান হাত সরায় নিসে,

শ্রমিক ওরে বাবারে মারে বলে শেষ কোকাতে কোকাতে শেষ !

ফোরম্যান বল্লো , আচ্ছা এইবার বুঝছো আমি কেন বেতন বেশী পাই – এখন নিজের কাজে যাও॥

তো শ্রমিক ফিরে গেলো কাজে

২য় শ্রমিক জিগায় — কি ব্যাপার — কি হৈলো ওরে সাইজ করতে পারলি না ?

১ম শ্রমিক: না পারি নাই — দেখ তুই আমারে ঘুসি মারতে পারোস নাকি — তাইলে বুঝবো তোর বুদ্ধি বেশী

এই বলে – ১ ম শ্রমিক নাকের সামনে হাতের তালু রাখলো ।

আর ২য় শ্রমিক ঘুষি মেরে বসলো !

৩১৫)

চট্টগ্রাম শহরে ‘সাব জিরো’ নামে একটা আইসক্রিম পার্লার আছে।কালকে জিইসি মোড়ে হাটতে হাটতে ওটার সামনে যেতেই অনেক স্মৃতি মনে পড়ে গেল।ওখানকার একটা ঘটনা মনে পড়তেই নিজে নিজেই হেসে ফেললাম।আমার এক বন্ধু যে কিনা ডাউট দেয়াকে মোটামুটি শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে তাকে নিয়ে স্মৃতি।প্রতিটি‍ কাজেই তার অফুরন্ত ডাউট।কোন এক বিকেলে আমার বন্ধু গেল সাব জিরো আইসক্রিম পার্লারে।সাথে আরও কয়েকজন।যখন সেলস ম্যান জানতে চাইল কে কোন ফ্লেভার নিবে,তখন আমার বন্ধুবর তার অবিস্মরণীয় ডাউট টা দিল।সে খুব মুড নিয়ে সেলস ম্যান কে জিজ্ঞেস করল “ভাই আইসক্রিম ঠাণ্ডা হবে তো?” সাথে থাকা বন্ধুরা হতবাক আর সেলস ম্যান বাকরুদ্ধ।এইরকম কথা সে বোধহয় বাপের জন্মেও শুনে নাই।

৩১৬)

সুর্যস্নান:

মারিয়ানা ঠিক করলো এবারের ছুটিটা সে হোটেলের ছাদে সুর্যস্নান করেই কাটাবে। প্রথমদিন সে শুধু প্যান্টি পরে ছাদে শুয়ে রইলো। সে খেয়াল করলো সারাদিনে কেউ ছাদে এলো না। তাই পরেরদিন সে গায়ে অবশিষ্ট কাপড়টুকুও রাখলো না যাতে পুরো শরীরে সূর্যের তাপ লাগে।

কিছুক্ষণ পর সে ছাদের সিঁড়িতে কারো পায়ের শব্দ শুনে উপুড় হয়ে শুলো আর নিচের দিকে একটা তয়লা টেনে নিলো। একটু পর ম্যানেজারের মুখ দেখা গেলো।

– ম্যাডাম, আপনি সুর্যস্নান করেন আপত্তি নেই, কিন্তু দয়া করে গতকাল যতটুকু কাপড় পরেছিলেন, পরে নিন। ম্যানেজার বললো।

– কেন? ছাদে তো কেউ আসছে না। পাশের বিল্ডিংগুলোও সব নিচু। তাহলে সমস্যা কি?

– আসলে ম্যাডাম, আপনি রোদ আসার জন্য বানানো ছাদের কাঁচের অংশটুকুতে শুয়ে আছেন।

৩১৭)

এক ছেলে রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছে। হঠাৎ দেখল এক উলঙ্গ পাগল রাস্তার পাশে উপুর হয়ে শুয়ে আছে। উলঙ্গ পাগলটাকে দেখা মাত্র তার মনে একটা ইচ্ছা জাগল। ইচ্ছাটা পূরন করার জন্য সে পাগলটার পাশে বসে পড়ল। আর বেশ কিছুক্ষণ পাগলটার পাছায় তবলা বাজাল।

তবলা বাজানো শেষ হলে যখন সে উঠে চলে যেতে লাগল তখন পাগলটা ঘুরে তাকে বলল,

” ভাই তবলা তো ভালই বাজাইলেন, এবার বাঁশিটাও বাজায় দিয়া যান।

৩১৮)

লং ড্রাইভে সারারাত কাটিয়ে সকাল বেলা রাস্তার ধারে গাড়ী থামালেন আহসান সাহেব। ঘুমুবেন ঠিক করলেন। গাড়ী লক করে শুয়ে পড়েছেন, ঠিক এমন সময় গাড়ীর দরজায় ধাক্কা। দরজাটা খুলতেই একজন জিজ্ঞেস করলেন ” আচ্ছা ভাই, কয়টা বাজে বলতে পারেন?” আহসান সাহেব বিরক্ত হলেও ভদ্রভাবেই জানালেন যে, আটটা পাঁচ বাজে।

কিছুক্ষণ পরেই আবার দরজায় ধাক্কা। দরজা খুলতেই ছোট ছেলেটা বলল, আংকেল, কয়টা বাজে,বলবেন একটু? খুবই বিরক্তির সাথে আহসান সাহেব জানালেন, আটটা বিশ বাজে। ছেলেটি বিদায় নেয়ার পর আহসান সাহেব একটা কাগজের উপর বড় করে লিখলেন “এখন কয়টা বাজে আমি জানিনা।”লেখাটি টাঙ্গিয়ে দিয়ে তিনি আবার ঘুমাতে গেলেন। ঘুমিয়েই পড়েছেন প্রায়, এমন সময় আবার দরজায় ধাক্কা। “কী চাই?” দরজা না খুলেই খেঁকিয়ে উঠলেন এবার আহসান সাহেব।

“এখন পৌনে নয়টা বাজে” গম্ভীর উত্তর এলো বাইরে থেকে!

৩১৯)

এক লোক কিছু কাগজ ফটোকপি করে খুব মন দিয়ে অরিজিনাল কাগজগুলোর সাথে মিলিয়ে দেখতে লাগল। আরেকজন প্রশ্ন করল, “এত মনোযোগ দিয়ে কি দেখছেন?”

লোকটি বলল, ” দেখছি ফটোকপিতে কোন ভুল হয়েছে কি না।”

৩২০)

থানায় গিয়ে ভদ্রমহিলা ইন্সপেক্টরকে বলছেন, “আমার স্বামী গতকাল আলু কিনতে বাজারে গেছে, এখনো ফেরেনি।”

ইন্সপেক্টর : আলুই যে রান্না করতে হবে এমন কোন কথা নেই, অন্য সবজি রান্না করুন।

৩২১)

ডাক্তার : আপনার স্বামীর বিশ্রাম দরকার। তাই কিছু ঘুমের ওষুধ প্রেসক্রাইব করলাম।

ভদ্রমহিলা : এগুলো আমার স্বামীকে কখন খাওয়াবো?

ডাক্তার : এগুলো আপনার স্বামীর জন্য নয়, আপনার জন্য।

৩২২)

বাইরে থেকে দরজা নক করছে।

ভেতর থেকে : কে?

বাইরে থেকে : আমি।

ভেতর থেকে : আমি কে?

বাইরে থেকে : আরে, আপনি কে আমি কি করে বলব?

৩২৩)

এক মেয়ে জ্বর হয়েছে বলে ডাক্তারের কাছে গেল। ডাক্তার বললেন, ‘তোমার ডেঙ্গু জ্বর হয়েছে।’

মেয়েটি বলল, ‘না ডাক্তার সাহেব, ডেঙ্গু হবে কীভাবে। জ্বর হওয়ার পর এতো কাঁপছি যে, ডেঙ্গু মশা কামড় দেয়ার সুযোগই পায়নি।’

৩২৪)

উকিল : মহাশয়, আমি জানি যে আপনি একজন বুদ্ধিমান ও সাধুলোক।

স্বাক্ষী : ধন্যবাদ আমি একটু আগে সত্যি বলার শপথ নিয়েছি, নইলে এই প্রশংসা আপনাকেও করতাম।

৩২৫)

লোক: মুরগী কতো করে ???

বিক্রেতা: স্যার, ১ম খাঁচার মুরগীর দাম ২০ টাকা করে আর ২য় খাঁচার মুরগীর দাম ২০০ টাকা করে

লোক: (অবাক হয়ে) ১ম খাঁচার মুরগীর দাম এতো কম কেন??

বিক্রেতা: স্যার, এই মুরগী গুলাতে AIDS আছে !

লোক : (কিছুক্ষণ চিন্তা করে………………… )

ঠিক আছে, আমাকে তাহলে ১ম খাঁচার মুরগীই দাও

বিক্রেতা: স্যার, আপনে AIDS ওয়ালা মুরগী কেন নিবেন ??

লোক: আমি তো খাওয়ার জন্য মুরগী নিবো !!

৩২৬)

এলাকায় নতুন একটা দোকান করেছে রফিক। কেবল দুটো জিনিসই বিক্রি হয় সেখানে—ঢোল আর বন্দুক।

একদিন তার বন্ধু বেড়াতে এসে খুব অবাক হয়। বলে, কিরে রফিক, কেমন অদ্ভুত দোকান খুলে বসে আছিস, আর কিছু নেই, শুধু ঢোল আর বন্দুক?

রফিক জবাব দেয়, তা-ই তো বেচে কুল করতে পারি না। একজন একটা ঢোল কিনে নিয়ে গেলেই হলো, পরদিন তার বউ আসে বন্দুক কিনতে ।

৩২৭)

‘নিউটন’ পড়তেন ল্যাম্পপোস্টের আলোয়, ‘ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর’ পড়তেন মোমের আলোয় আর ‘শেক্সপিয়ার’ পড়তেন মশালের আলোয়।

কিন্তু আমার প্রশ্ন হইল, উনারা দিনের আলোয় তাইলে করতেনটা কি ??

৩২৮)

এক ডাক্তার রেস্তোঁরায় ঢুকে বয় কে কোমর চুলকাতে দেখে বললেন, একজিমা আছে নাকি?

বয়: না স্যার, ওসব স্পেশাল অর্ডার এখন হবে না।

৩২৯)

সবচেয়ে অলস লোককে আমি পুরস্কার দেবো। কে সবচেয়ে অলস,হাত তোল।

একজন বাদে সবাই হাত তুলল।

>কি ব্যাপার তুমি হাত তুললেনা কেনো?

> কে আবার অত কষ্ট করে।

৩৩০)

জামাতে ইসলামী, বিএনপি আর ঐক্যজোটের তিন কর্মী মদ্যপান করা অবস্থায় সৌদী আরবে ধরা পড়। সৌদী আরবে যেহেতু প্রকাশ্যে মদ্যপানের অপরাধ অত্যন্ত গুরুতর, তাই সেখানে এর শাস্তি হচ্ছে চাবুকের বিশ দোররা বাড়ি। আরবের শেখ যখন এই তিন কর্মীকে শাস্তির জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছিলেন, তখন শেখ বললেন, “আজ আমার প্রথম বউয়ের জন্মদিন, তাই আমি তোমাদের প্রত্যকেকে চাবুক মারার আগে একটা করে আর্জি জানাবার অনুমতি দিলাম এবং তোমাদরে আর্জি মঞ্জুর করা হবে।

লাইনের প্রথমে দাঁড়ানো ঐক্যজোটের কর্মী বলল, “শেখ তুমি যদি চাবুক মারার আগে পিঠের সাথে একটা বালিশ বেঁধে দিতে। তার আর্জি মোতাবকে বালিশ বেঁধে চাবুক মারা শুরু হলো। বালিশ চাবুকের বাড়ি ১০ টা র্পযন্ত নিল, তারপর বালিশ গেল ফেটে। ব্যথায় কুঁচকে রক্তাত্ব অবস্থায় তাকে সরানো হলো বিশ দোররার পর।

এর পরে লাইনে ছিল বিএনপির র্কমী। সে ঐক্যজোটের কর্মীর বেহাল অবস্থা দেখে আর্জি জানাল দু’টো বালিশ বাঁধার। তার আর্জি মোতাবকে ২টা বালিশ বেঁধে চাবুক মারা শুরু হলো। বালিশ চাবুকের বাড়ি ১৫ টা র্পযন্ত নিতে পারল, তার পর বালিশ গেল ফেটে। ব্যথায় কুঁচকে গোঙ্গানো অবস্থায় বিএনপি’র র্কমীকে সরানো হলো বিশ দোররার পর।

সবার শেষে লাইনে ছিল জামাত কর্মী। সে কোন কিছু বলার আগেই শেখ জামাত র্কমীকে বলল, “তুমি হচ্ছো গোলাম আযমের দলের লোক। তাই তুমি ২টা আর্জি রাখতে পার”। জামাতী কর্মী খুশীতে গদগদ হয়ে বলল, “হুযুর, আমি নাদানের মতো কাজ করেছি, তাই তুমি আমাকে চাবুকের ২০ দোররা না, ১০০ দোররা মার। শেখের চোখ আনন্দে জ্বলজল করে উঠল। বলল, “তার পরের আর্জি”? জামাত কর্মী ব্যথায় কুঁকড়ানো বিএনপি কর্মীকে আঙ্গুলের ইশারায় দেখিয়ে বলল, “বালিশ টালিশ না, তুমি ঐ ব্যাটারে (বিএনপি’র কর্মী) আমার পিঠের পেছনে বাইন্ধা দাও”।

 

(বোনাস)

একদিন এক বিশাল শপিংমলে হঠাৎ আগুন লাগলো।
লোক জন দিক বিদিক ছুটাছুটি আরম্ভ করলো। কিছু লোক শপিংমলের ভিতর আটকা পরলো।
ফায়ার সার্ভিস এর লোকজন এসে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে মাইকে সর্ব প্রথম যে ঘোষণাটি দিল তা হল…
“মলে আগুন লেগেছে। সবাই দ্রুত মলত্যাগ করুন!!!”

০০০০০০০

বাংলা কৌতুক সমগ্রঃ ০ থেকে ১০০(১৮+)

১০১-২০০ হাসির কৌতুক (প্রাপ্তবয়স্ক ছাড়া পড়বেন না ১৮+)

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কৌতুক বিনোদন ব্যঙ্গকৌতুক ভালবাসা/প্রণয়লীলা যৌন জ্ঞান ও সম্পর্ক সৃজনশীল প্রকাশনা

১০১-২০০ হাসির কৌতুক (প্রাপ্তবয়স্ক ছাড়া পড়বেন না ১৮+)

১০১)

প্রথম দিন ডেট সেরে বান্ধবীকে রাতের বেলা বাড়ি পৌঁছে দিতে এসেছে বাবু। দরজার পাশে দেয়ালে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে বললো সে, ‘সোনা, একটা চুমো খেতে দাও আমাকে।’

“না না না! কী? তুমি পাগল হলে? এখানে দাঁড়িয়ে?”

“আরে কেউ দেখবে না। এসো, একটা চুমো।”

“না না, খুব ঝামেলা হবে কেউ দেখে ফেললে।”

“আরে জলদি করে খাবো, কে দেখবে?”

“না না, কক্ষণো এভাবে আমি চুমো খেতে পারবো না।”

“আরে এসো তো, আমি জানি তুমিও চাইছো — খামোকা এমন করে না লক্ষ্মী!”

এমন সময় দরজা খুলে গেলো, বান্ধবীর ছোট বোন ঘুম ঘুম চোখে দাঁড়িয়ে। চোখ ডলতে ডলতে সে বললো, ‘আপু, বাবা বলেছে, হয় তুমি চুমো খাও, নয়তো আমি চুমো খাই, নয়তো বাবা নিজেই নিচে নেমে এসে লোকটাকে চুমো খাবে — কিন্তু তোমার বন্ধু যাতে আল্লার ওয়াস্তে কলিংবেল থেকে হাতটা সরায়।’

 

১০২)

মার্কেটে গিয়ে আরাম খান তার বউকে হারিয়ে ফেললো। হন্তদন্ত হয়ে হাঁঠতে গিয়ে ধাক্কা খেলো আরেক জনের সাথে।

আরাম খান বললো, আমি দু:খিত, আমার স্ত্রীকে খুঁজে পাচ্ছি না। ওর চিন্তায় কোথায় যাচ্ছি খেয়াল করতে পারিনি।

দ্বিতীয় জন বললো, আমিও তো আমার স্ত্রীকে হারিয়ে ফেলেছি।

আরাম খান বললো, তোমার স্ত্রী দেখতে কেমন? তাহলে হয়তো আমি খুঁজতে সাহায্য করতে পারবো।

দ্বিতীয় জন বললো, আমার স্ত্রী লাল চুলের, সবুজ চোখ, লম্বা সুগঠিত পা আর শর্ট স্কার্ট পরে আছে। তোমার স্ত্রী দেখতে কেমন?

আরাম খান বললো, আমারটার কথা বাদ দাও। চলো তোমার স্ত্রীকে খুঁজি।

 

১০৩)

মানসিক রোগীর রোরশাখ ইঙ্কব্লট টেস্ট নিচ্ছেন মনোচিকিৎসক। হিজিবিজি কিছু কালির ছোপ রোগীকে দেখানো হয় এ টেস্টে।

প্রথম কার্ডটা এগিয়ে দিলেন তিনি। ‘বলুন তো এটা কিসের ছবি?’

‘একটা ছেলে একটা মেয়েকে জাপটে ধরে চুমু খাচ্ছে।’

দ্বিতীয় ছবিটা এগিয়ে দিলেন ডাক্তার। ‘এটা কিসের ছবি বলুন তো?’

‘ঐ ছেলেটা এবার মেয়েটার জামাকাপড় খুলে ফেলছে, আর মেয়েটা চেঁচাচ্ছে হাঁ করে।’

আরেকটা ছবি এগিয়ে দিলেন ডাক্তার। ‘এটা কিসের ছবি বলুন তো?’

‘ছেলেটা মেয়েটার চুল টেনে ধরে ঘাড়ে কামড় দিচ্ছে, আর মেয়েটা খিখি করে হাসছে।’

ডাক্তার আর পারলেন না। ‘দেখুন, দবির সাহেব আপনার রোগ খুব জটিল পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। আপনার মনটা খুবই নোঙরা, আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি।’

দবির সাহেব চটে আগুন। ‘নিজে যত রাজ্যের নোঙরা ছবি এগিয়ে দিচ্ছেন আমাকে, আর বলছেন আমার মন নোঙরা?’

 

১০৪)

এক লিফটম্যান ছিল চাকুরিতে একেবারে নতুন। কখনো ভাল ভাবে লিফট চালাতে শেখে নি। ১৭ তলায় এক লোক লিফট এ চড়ে তাকে বললো এক তলায় নিয়ে যেতে। লিফটম্যানটি এক তলায় এসে ভূলবশত প্রচন্ডভাবে ব্রেক কষলো। হটাৎ থেমে যাওয়ার কারনে সমস্ত লিফট ভয়ানক ঝাকি খেয়ে উঠলো। লিফটম্যানটি দুঃক্ষিত গলায় বললো, “আমি দুঃক্ষিত স্যার, আমি কি খুব জোরে লিফট থামিয়েছি?”

লোকটি রাগতস্বরে বললো, “না না তা কেন? আমি সব সময় আমার প্যান্ট খুলে গোড়ালীর কাছে ফেলে রাখি।”

 

১০৫)

জরিনার বাবা জরিনার জন্য পাত্র ঠিক করেছে। এদিকে জরিনার সাথে পাভেলের ৫ বছরের অফেয়ার। এটা বাবাকে জানাতেই জরিনার সুইট বাবা নিমিষেই টিপিক্যালি #বাবা কেন ভিলেন?# টাইপ আচরণ শুরু করল। এটা নিয়ে বাবা মেয়েতে তুমুল ঝগড়া। খাওয়া বন্ধ, মুখ দেখাদেখি বন্ধ ইত্যাদি মোটামুটি শেষ হবার পর অবশেষে তারা একটা ঐক্যমতে পৌছাল। ঠিক হল নদীর অপরপাড় থেকে পাভেল ও বাবার ঠিক করা পাত্র দুজনেই সাঁতার কেটে এপারে আসবে। যে আগে আসতে পারবে জরিনা তারই হবে।

যথাসময়ে প্রতিযোগিতা শুরু হল। শুরুতে দেখা গেল বাবার ঠিক করা পাত্রটি এগিয়ে গেছে। জরিনা তো ভয়ে আধমরা কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে পাভেল তাকে ধরে ফেলল। জরিনা খুশিতে হাততালি দিচ্ছে আর চিৎকার করে উৎসাহ দিচ্ছে পাভেলকে। একপর্যায়ে প্রেমিকের শক্তি আরো বাড়ানো এবং উৎসাহ দেওয়ার জন্য একপর্যায়ে নদীর তীরে দাঁড়িয়ে তার সব কাপড়চোপড় খুলে ফেলল।এরপর হঠাৎ করে পাভেলের সাঁতারের গতি বেড়ে গেলেও তা আস্তে আস্তে কমে পাড়ের কাছাকাছি এসে একেবারেই থেমে গেল।বাবার ঠিক করা পাত্রটি জিতে গেল প্রতিযোগিতায়। পরে আনেক কষ্টে পাভেল পাড়ে ওঠার পর জরিনা রেগেমেগে বলল, তোমাকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য এতকিছু করলাম তাও জিততে পারলে না। ছিঃ, কাপুরুষ কোথাকার।

পাভের ও সমান তেজে জবাব দিল সব দোষ তোমার, কে বলেছিল তোমাকে কাপড় খুলতে ? তুমি কাপড় খোলার পরপরইতো আমার প্রাইভেট পার্ট নদীর তলদেশের লতাগুল্মের সাথে আটকে যেতে লাগল।

 

১০৬)

এক লোক নতুন বিয়ে করছে তাই বিয়ের পরদিন বৌকে নিয়ে শ্বশুর বাড়ি গেছে । কিন্তু বৌ হল মা মরা মেয়ে, তাই শ্বশুরের মাত্র একটি ঘর এবং একটি খাট। তাই তিনজনে মিলে এক বিছানায় ঘুমাল। প্রথমে মেয়ে তারপর মেয়ে জামাই এবং সবশেষে শ্বশুর ঘুমাল। মাঝরাতে জামাই মেয়েকে বলছেঃ বৌ লোকালে দিব না ডাইরেকে দিব। ( পাঠক এখানে লোকালে =আস্তে এবং ডাইরেকে= জোরে)। মেয়ে বললঃ বাবা পাশে, লোকালেই দাও।

জামাই লোকালে দিতে লাগল। কিন্তু লোকালে সুখ আসার পর আর সামলাতে না পেরে  ডাইরেকে দিতে লাগল। তাই খাট নড়তে লাগল। একটু পরে হাই স্পীডে করার কারনে খাট নড়তে নড়তে শ্বশুর মাটিতে পরে গেল। এখন শ্বশুর বলছেঃ বাবা গাড়ি চালাবা গাড়ি চালাও, লোকালে চালাও বা ডাইরেকে চালাও, কিন্তু পেছেঞ্জার পরবো কেন ?

 

১০৭)

এক চার্চে পাদ্রি নির্বাচন করা হচ্ছে । মিস্টার জন নির্বাচক , তিনি ঠিক করলেন যে সবচেয়ে পার্থিব ভোগের উর্ধে তাকেই নেয়া হবে । ৩জন পার্থি আবেদন করল । এখন ৩ জনেরই বিশেষ অঙ্গে ঘন্টা লাগানো হল যাতে ওই জিনিস দাড়ালে ঘন্টা বেজে উঠে । এইবার তিনজনের সামনে এক সুন্দরীকে এনে প্রথমে বুকের কাপড় খুলে ফেলা হল , একজনের ঘন্টা বেজে উঠল এবং সে বাদ পড়ল , এইবার সুন্দরীর নিচের কাপড় খুলে ফেলা হল । আরেকজনের ঘন্টা বেজে উঠল এবং বাদ পড়ল , রইল বাকী এক , নির্বাচক মিস্টার জন বললেন তার মানে আমরা আমাদের পাদ্রি পেয়ে গেছি , তুমি সমস্ত ভোগ-কাম-লালসা এর উর্ধে …… এইসব বলতে বলতে তাকে জড়িয়ে ধরলেন , সাথে সাথে ঘন্টা বেজে উঠল ।

 

১০৮)

দ্বিতীয বিশ্বযুদ্ধের সময় সৈনিক সংকট দেখা দিলে কতৃপক্ষ নিয়ম করে দেয় প্রতি পরিবার থেকে একজন তরুণকে যুদ্ধে অংশ নিতে হবে। জর্জ কোন ভাবেই যুদ্ধে যাবে না। মেডিকেল ফিটনেস পরীক্ষার জন্য যখন তার ডাক পড়ল তখন সে তার গার্লফ্রেন্ড এর ইউরিন স্যাম্পল নিজের ইউরিন স্যাম্পল বলে আর্মি হাসপাতালে জমা দিয়ে দিল। তার বান্ধবীর ছিল ডায়বেটিস । ডায়বেটিস ধরা পড়লে সে আনফিট ঘোষিত হবে এবং তাকে যুদ্ধে যেতে হবে না।

পরদিনই ঐ তরুণ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে চিঠি পেল।

কংগ্রেচুলেশ! আপনি অবিলম্বে আমাদের গাইনি বিভাগে যোগাযোগ করুন। কারণ আপনি মা হতে যাচ্ছেন।

 

১০৯)

আরাম খান আর তার স্ত্রী গেছেন চিড়িয়াখানায়, ঘুরতে ঘুরতে তারা গিয়ে দাঁড়ালেন এক গরিলার খাচার সামনে, চারিদিকে নির্জনতা দেখে কি মনে করে যেন আরাম খান তার স্ত্রীকে বললেন, তুমি আমাকে যেভাবে উত্তেজিত কর, গরিলাটাকে ওভাবে করো না।

আরাম খান এর স্ত্রী আস্তে আস্তে তার টপস খুলে ফেললেন। গরিলা উত্তেজিত হয়ে পড়লো।

আরাম খান বললেন, আরও উত্তেজিত কর তারপর দেখো কি হয়। স্ত্রী এবার নিচেরটাও খুলে ফেললেন। গরিলা এবার উত্তেজিত হয়ে কাপতে লাগলো।

আরাম খান জানতেন যে খাচার দরজায় তালা ছিল না। আরাম খান দরজা খুলে তার স্ত্রীকে খাচার ভিতরে ঢুকিয়ে দিলেন আর স্ত্রীর উদ্দেশ্যে বললেনঃ “এবার গরিলাটাকে বল যে তোমার মাথা ব্যথা করছে। তোমার এখন মুড নাই” !!!

 

১১০)

আরাম খানের ছোটবেলার কাহিনী। পোলাডা একদিন দেখে এক বড় ভাই একটা মেয়েরে চুমু দিচ্ছে। বাসায় এসে আরাম খান মারে কয়, “আম্মা! চুমা দিলে কি হয়?”

ওর মা ত খুব কড়া। সে চায় পোলা ভালা থাকুক। এইসব পাপ যাতে না করে তাই ডর দেখানের লাইগ্যা আরাম খানরে কইল, “ চুমা দেয়ার পর পোলাগুলার শরীর আস্তে আস্তে পাথর হইয়া যায়, পরে মাটিত পইরা মইরা যায়।”

আরাম খান কয়, “সত্যি?”

“হ”

আরাম খান আস্তে আস্তে বড় হয়। যুবক হইলে একদিন এক মাইয়ার সাথে কথা হয়। কথায় কথায় সম্পর্ক হয়। মেয়েটা একদিন আরাম খানরে চুমা দিতে চায়। আরাম মানা করে, “আমার আম্মা কইছে মেয়েদের চুমা দিলে আমি মারা যামু।”

“বোকা! আসো।” বলে মেয়েটা এগিয়ে একটা চুমা দিল। চুমা শেষ না করতেই করতেই আরাম খান, “আম্মা ঠিকই কইছিল” বলে মাটিতে শুয়ে গড়াগড়ি দেয়া শুরু করছে।

“কি হইছে?”

“আল্লাহ রে। আমি পাত্থর হইয়া মইরা যামু। তোমারে চুমা দিতে না দিতেই আমার শরীরের একটা অংশ শক্ত হওয়া শুরু করছে!”

 

১১১)

এক দম্পতি এসেছে ডাক্তারের কাছে। স্বামীটা বেশ বয়স্ক কিন্তু স্ত্রী তরুনী। তাদের সমস্যা হলো বাচ্চা হচ্ছে না। ডাক্তার স্ত্রীর কিছু পরীক্ষা করলেন। স্বামীটিকে বললেন আপনার স্পার্ম টেস্ট করতে হবে। তাকে একটা specimen cup দেয়া হলো। বলা হলো কাপটাতে স্পার্ম নিয়ে আসবেন।

পরদিন লোকটা খালি কাপ নিয়ে এসেছে।

ডাক্তার বলল, কাপ খালি কেনো?

-বাসায় গিয়ে বাম হাতে অনেক চেষ্টা করলাম। পারলাম না। পরে মনে হলো ডান হাতে চেষ্টা করি। সেই হাতেও হলো না।

-এটা হতে পারে…আপনার বয়স ত আর কম হয় নাই। তা সাহায্য করার জন্য বউকে ডাকতে পারতেন।

-বউকে ডাকছি ত। সে হাত দিয়ে চেষ্টা করল …হলো না…মুখ দিয়ে চেষ্টা করল …হলো না…

– হয়। মাঝে মাঝে এমন হয়। তা অন্য কাউকে ডাকতে পারতেন।

-ডাকছি ত। বউয়ের বান্ধবীকে ডাকছি।

-বউয়ের বান্ধবী????

-সেও চেষ্টা করে পারল না।

-পারল না?? ডাক্তারের ভ্রু কুচকে গেছে।

-এরপর বউয়ের বন্ধু এলো। সেও চেষ্টা করল… পারল না।

ডাক্তার অবাক- বলেন কি? আপনার বউয়ের দোস্ত??একটা ছেলে??

-তবে আর বলছি কি?যাক, সারা রাতে পারলাম না। সকালে হাসপাতালে এলাম। হাসপাতালে এসে নার্সকে বললাম সাহায্য করতে।

– আমার নার্সকে?

-হ্যা। সেও চেষ্টা করল। পারে নাই।

-আপনি ত দেখি সবাইকে দিয়ে চেষ্টা করছেন।

-তা করছি। তবে আপনি বাকি আছেন।

-আআআআমি??? ডাক্তার তোতলাচ্ছে…

-হ্যা। দেখেন ত চেষ্টা করে কাপটার ঢাকনাটা খুলতে পারেন কিনা?

 

১১২)

এক বৃদ্ধ লোকের একটি বড় ফার্মহাউজ ছিলো। ফার্মহাউজের পেছনে একটা বড় পুকুর ছিলো। সে সেটাকে কেটে গভীর করলো, কিছু পিকনিক টেবিল বসালো এবং কিছু গাছপালা লাগালো যাতে এটাকে একটা পিকনিক স্পট বানানো যায়।

একদিন বিকালে লোকটি পুকুরের অবস্থা দেখার জন্য চললো। তার হাতে ছিলো একটা বালতি।

পুকুরের কাছে আসতেই তার নজরে পড়লো কিছু নারীকণ্ঠ। আরেকটু এগোতেই সে দেখলো স্বল্প বসনা কিছু মেয়ে পুকুরের পাশে হাসি-আনন্দ করছে। বৃদ্ধ ভাবলো, হয়তো তারা পাশের কোন বাড়ি থেকে এসেছে। নিজের উপস্থিতি জানানোর জন্য সে গলা খাঁকারি দিলো। তার আওয়াজ শুনে মেয়েরা সবাই গলা পানিতে নেমে গেলো। একজন বললো, চাচা, আপনি এখান থেকে না গেলে আমরা উঠবো না।

বৃদ্ধ বললো, আমি তোমাদের শরীর দেখার জন্য এখানে আসিনি। আমি পুকুরের কুমিরগুলোর জন্য খাবার এনেছি।

 

১১৩)

১ম বন্ধু: কিরে তোর মুখে ব্যান্ডেজ বাধা কেন? তোর ডান চোখটাতো অল্পের জন্য বেঁচে গেছে। কে তোর এই দশা করল?

২য় বন্ধু: আর বলিস না সকাল বেলায় অফিসে বেরোবার আগে প্যান্টের সামনের একাট বোতাম ছিড়ে গেল। আমি ব্যাচেলর মানুষ। তাই পাশের অ্যাপার্টমেন্টের মিসেস ললার সাহায্য চাইলাম।

১ম বন্ধু: বুঝতে পারছি। প্যান্টের ঐ জায়গায় বোতাম লাগাতে বলায় ভদ্রমহিলা নিশ্চয়ই ভাবলেন তুই কোন অসভ্য ইঙ্গিত করছিস। তারপর তোকে জুতা পেটা করলেন।

২য় বন্ধু: না না, তা নয়। মিসেস লরা একজন সমাজ সেবিকা। তিনি আমার সমস্যা বুঝতে পারলেন। দ্রুত সুঁই-সুতা নিয়ে আমার প্যান্টের বোতাম লাগিয়ে দিলেন।

১ম বন্ধু: তাহলে সমস্যাটা কি?

২য় বন্ধু: বোতামটা লাগানো শেষ করে মিসেস লরা যখন মাথা নিচু করে দাঁত দিয়ে সুতোটা কেটে দিচ্ছিলেন তখনই‌ উনার হাজব্যান্ড এসে উপস্থিত। তারপরতো বুঝতেই পারছিস।

 

১১৪)

এক ভদ্রলোক বীয়ার ছাড়া কিছু বোঝেন না। সন্ধ্যা হলেই তার বীয়ার চাই। তার মাসের অর্ধেক বেতন চলে যায় পাবে বীয়ারের পেছনে। তার স্ত্রী বেচারা সন্ধ্যায় একা একা থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে যান, তাই তিনি প্রার্থনা করলেন তার স্বামীকে তার কাছে ফিরিয়ে দিতে। ঈশ্বর প্রার্থনা শুনলেন, তাই একদিন স্বামীর কাছে দেবদূত এল। তাকে বললেন, তোমার একটি ইচ্ছা আমি পূরণ করব। অনেক চিন্তা ভাবনার পর, লোকটি বলল, আমার খালি বীয়ার খাওয়ার শখ, মাসের বেতনের অনেকটাই চলে যায় বীয়ারের পেছনে। এ থেকে আমি বাঁচতে চাই, তাই আমার এমন ব্যবস্থা করে দিন যাতে আমার মূত্রই যেন খুব ভাল বীয়ার হয়ে বের হয়! দেবদূত তার ইচ্ছা মঞ্জুর করলেন। লোকটি সাথে সাথে একটা গ্লাস এনে পরীক্ষা করে দেখলেন। সন্তুষ্ট হয়ে খুশিতে সে সন্ধায় আগে আগে ঘরে ফিরে গেল। স্ত্রী খুবই আনন্দিত হয়ে স্বামীকে সঙ্গ দিতে চাইলেন। স্বামীতো আরও খুশি, তিনি স্ত্রীকে একটা বীয়ারের গ্লাস নিয়ে আসতে বললেন। স্ত্রী দৌড়ে গ্লাস এনে দেখেন স্বামী নগ্ন হয়ে বসে আছেন। স্ত্রী বুঝলেন আজ কিছু একটা হবে, তাই স্বামীকে আরো উত্তেজিত করার জন্য বললেন, তিনিও আজ বীয়ার খেতে চান, আরেকটা গ্লাস নিয়ে আসছেন। স্বামী বললেন, অসুবিধা নেই, ডারলিং, গ্লাস আনতে হবেনা! আজ তুমি সরাসরি ট্যাপ থেকে খাবে!

 

১১৫)

ইদানিং জনের মধ্যে সেই নার্ভাস ভাবটা নেই। মেয়েদের সাথে সাচ্ছ্যন্দে কথা বলতে পারে।তাই রাস্তায় একদিন একটা অপরুপ পরীকে দেখে এগিয়ে গেলো কথা বলতে।

“এক্সকিউজ মি, আপনাকে যদি আমি এক মিলিওন ডলার দেই, তো আপনি কি আমার সাথে শোবেন?” স্ট্রেইটকাট কথাবার্তা জনের।

অলমাইটি ডলারস! তো এখানেও মেয়েটি একটু ভেবে রাজী হয়ে গ্যালো।

“হ্যাঁ, শোব”

“আর যদি দশ ডলার দেই?”

“হোয়াট! কি বলছেন আপনি! আমাকে আপনি কি ধরণের মেয়ে মনে করেন??” পরী পুরো ক্ষেপে গ্যাছে।

“কি ধরনের মেয়ে, সেটাতো আগেই বুঝেছি। এখন একটু দরাদরি করছি আর কি!” মিটমিটিয়ে হেসে বলল জন।

 

১১৬)

পার্কে একটা বিরাট কুকুর নিয়ে বসে আছে বাবু। এক তরুণী যাচ্ছিলো পাশ দিয়ে, দাঁড়িয়ে বললো, ‘বাহ, বেশ তো কুকুরটা!’

বাবু হাসলো। ‘হ্যাঁ। খুব রোমান্টিক ও। আর মেয়েরা তো ওকে খুব পছন্দ করে, দারুণ আদর করতে পারে কি না।”

তরুণীর চোখে আগ্রহ ফুটলো। ‘তাই?’ ফিসফিস করে জানতে চাইলো সে। বাবু বললো, ‘হ্যাঁ, দেখতে চান? চলুন আমার বাসায়।’

বাড়ি ফিরে মেয়েটাকে সাথে নিয়ে নিজের ঘরে এলো সে। মেয়েটাকে জামাকাপড় খুলতে বলে সে কুকুরটার দিকে ফিরলো, ‘কালু, এই আপুটাকে আদর করো তো!’

কালুর কোন ভাবান্তর হলো না। বাবু আবার হুকুম দিলো, তবুও সে গ্যাঁট হয়ে বসে রইলো।

এবার বাবু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে প্যান্ট খুলতে খুলতে বললো, ‘ঠিক আছে, কালু, তোমাকে দেখিয়ে দিচ্ছি কিভাবে কী করতে হবে, কিন্তু এ-ই শেষবার, বলে দিচ্ছি!’

 

১১৭)

কোনো এক পশ্চিমী দেশে এক ভদ্রমহিলার তিন-তিনটি অবিবাহিতা মেয়ে। অনেকদিন চেষ্টা করেও কিছু না হওয়ার পরে হঠাৎ করেই তিন মেয়ের খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিয়ের ঠিক হয়ে গেলো। ভদ্রমহিলা মেয়েদের দাম্পত্যজীবন (?) নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেলেন। তো তিনি মেয়েদের বললেন যে প্রত্যেকে যেনো হানিমুন থেকে অল্প কথায় কিছু লিখে তাকে পোস্টকার্ড পাঠায়। যাতে তিনি বুঝতে পারেন যে মেয়েদের হানিমুন কেমন চলছে।

বিয়ের দু’দিন পরে প্রথম মেয়ে হাওয়াই থেকে পোস্টকার্ড পাঠাল। তাতে শুধু লেখা – “Nescafe”!!!!

প্রথমে বেশ অবাক হলেও, কিছুক্ষন বাদে তিনি কিচেনে গিয়ে Nescafe – এর জার বের করলেন। দেখলেন তার গায়ে লেখা – “Good till the last drop”….

তিনি একটু লজ্জা পেলেও, মেয়ের খবরে আনন্দ পেলেন।

বিয়ের এক হপ্তা পরে পরের মেয়েটি ভারমন্ট থেকে পোস্টকার্ড পাঠাল। তাতে লেখা – “Rothmans”!!!! এবার তিনি আর ঘাবড়ালেন না। একটা Rothmans এর প্যাকেট নিয়ে দেখলেন তাতে লেখা – “Extra Long. King Size”….। আবার তিনি একটু লজ্জা পেলেও, আনন্দিত হলেন।

সবচেয়ে ছোটো মেয়েটি গেছিল কেপ-টাউন। তার চিঠি কিছুতেই আসে না। এক মাসের শেষে তার চিঠি এল। তাতে খুব কাঁপা-কাঁপা হাতে লেখা – “South African Airways”!!!!

ভদ্রমহিলা জল্দী লেটেস্ট একটা ম্যাগাজিন বের করে South African Airways -এর এডটা দেখলেন। দেখামাত্র তিনি সেন্সলেস হয়ে পড়লেন।

এডটার নিচে লেখা – “Ten times a day, seven days a week, both ways”!!!!!!!!

 

১১৮)

ছুটির একদিনে আরাম খান ও তার বউ জন্মদিনের ড্রেসে বাথটাবে জলকেলী করতেছে। গায়ে ফেনা লাগায়া আবার ধোয়াধুয়িও চলতেছে। এমন সময় বাসার কলিং বেল বাইজা উঠলো। আরাম খান আইলসামি কইরা কইলো “জান, তোয়ালে প্যাচাইয়া যাওনা, দেখো কে আইসে?”

আরাম খান এর বউ তাই করে। একটা তোয়ালেতে শরীর ঢাইকা দরজা খুইলা দেখে পাশের বাড়ীর আনিস ভাই। জিগাইলো কি দরকার, আরাম গোছলে আছে। আনিস একটু ভাইবা কইলো “আইছিলাম এমনিতেই, থাক পরেই আমু আবার। তয় আপনে চাইলে একটা ব্যবসা করতে পারেন। ইন্সট্যান্ট এখানেই।”

আরাম খান এর বউ উৎসাহী হয়, কয় “কিরাম ব্যবসা?”

আনিস ব্যবসার প্রস্তাব দিলো তখন, “যদি আপনে তোয়ালের উপরের অংশ খুইলা দেখান, তাইলে আমি আপনেরে ৫০০০ টাকা দিমু।”। আরাম খান এর বউ ভাবলো, শুধু তো দেখবো, ৫০০০ টাকা তো কম না। সে খুইলা দেখাইলো। আনিস চোখ ভইরা দেখলো আর দিলো ৫০০০ টাকা।

নেশা চাপসে দুইজনেরই। আনিস এইবার কইলো “যদি পুরাটাই খুইলা ফেলেন তাইলে দিমু আরো ৫০০০।”

আরাম খান এর বউ ভাবলো একি কথা, দেখবোই তো। দিলো খুইলা। আনিস দেইখা আরো ৫০০০ দিয়া গেলো গা।

আরাম খান এর বউ খুব খুশী, ১০০০০ টাকা এত সহজে ইনকাম হইলো, খুশীতে গেলো স্বামীরে জানাইতে। স্বামী রে কইলো “পাশের বাসার আনিস ভাই আইছিলো..।”

আরাম খান কথা কাইরা নিয়া কয় ” আনিসে টাকা দিছে নি, ১০০০০ টাকা পাইতাম, ধার নিছিলো।

 

১১৯)

একদিন হঠাৎ এক স্পার্ম ব্যাংকে মুখোশ দিয়ে মুখ ঢাকা এক লোক উদ্দোত পিস্তল হাতে প্রবেশ করল। কাউন্টারে এক মহিলা ছিল, তাকে পিস্তল দেখিয়ে ভয় দেখিয়ে দাঁড়া করাল। মহিলা বলল ‘এটা ব্যাংক না, এটা একটা স্পার্ম ব্যাংক, এখানে কোন টাকা-পয়সা নেই, থাকেনা’

লোকটা বলল, ‘একটা বোতল নাও, এখনই! নাও, বোতলের ছিপি খুলে সবটা এখনই খেয়ে নাও!’

মহিলা পিস্তলের মুখে সবটা খেয়ে নিল তারপর লোকটা মুখোশ খুলে ফেলল, দেখা গেল সে ঐ মহিলারই হাসবেন্ড! লোকটা তখন তার বউকে বলল,

‘দেখেছ বেবি? এটা খাওয়া মোটেই কোন কঠিন কাজ না!

 

১২০)

ডিক একটি বারে ঢুকলো ড্রিংস্ করার জন্য। একটি মার্টিনি অর্ডার করলো সে। এবং বারটেন্ডারের কাছে তার দামও জানতে চাইলো। বারটেন্ডার বললো এর দাম ২ ডলার। এটা শুনে ডিক চমকে উঠলো। কারণ অন্যবারে এর দাম কমপক্ষে ২০ ডলার হবে। খুশি মনে সে মার্টিনি শেষ করে রেড ওয়াইনের দাম জানতে চাইলো। এক বোতল রেড ওয়াইন অন্য জায়গায় ৫০ ডলারের কমে পাওয়া যায় না। কিন্তু বারটেন্ডার জানালো এক বোতল রেড ওয়াইনের দাম এখানে ৫ ডলার!

শুনে ডিক বলে উঠলো, “বলো কি! এত্ত কমে? বারের মালিক কোথায়?”

বারটেন্ডার: “সে উপরের তলায় আমার বৌ এর সাথে আছে।”

ডিক: “বারের মালিক তোমার বৌ এর সাথে কি করে?”

বারটেন্ডার: “আমি ওর ব্যাবসার সাথে যা করতেছি, তাই করে!”

 

১২১)

মাঝরাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল স্ত্রীর। চোখ পিটপিট করে তাকিয়ে দেখলেন, স্বামী বিছানায় নেই। বিছানা থেকে নেমে গায়ে গাউন চাপালেন তিনি। তারপর স্বামীকে খুঁজতে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে এলেন। বেশি খুঁজতে হলো না। রান্নাঘরের টেবিলেই বসে থাকতে দেখা গেল স্বামীপ্রবরকে। হাতে গরম এক কাপ কফি নিয়ে দেয়ালের দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি। দেখেই বোঝা যাচ্ছে, গভীর কোনো চিন্তায় মগ্ন। মাঝেমধ্যে অবশ্য হাতের রুমাল দিয়ে চোখ থেকে পানি মুছে নিচ্ছেন, তারপর কফি খাচ্ছেন।

‘কী হয়েছে তোমার?’ রান্নাঘরে ঢুকতে ঢুকতে চিন্তিতভাবে বললেন স্ত্রী। ‘এত রাতে রান্নাঘরে কেন?’

স্বামী তাঁর স্ত্রীর দিকে তাকালেন। তারপর গম্ভীর হয়ে বললেন, ‘হঠাৎ ২০ বছর আগের কথা মনে পড়ল। খেয়াল আছে তোমার, যেদিন আমাদের প্রথম দেখা হয়েছিল। আর তার পর থেকেই তো আমরা ডেট করতে শুরু করেছিলাম। তোমার বয়স ছিল ষোলো। তোমার কি মনে পড়ে সেসব?’

স্ত্রী তাঁর স্বামীর চোখের পানি মুছে দিতে দিতে জবাব দিলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই মনে আছে।’

স্বামী একটু থেমে বললেন, ‘তোমার কি মনে আছে, পার্কে তোমার বাবা আমাদের হাতেনাতে ধরে ফেলেছিলেন?’

‘হ্যাঁ, আমার মনে আছে।’ একটা চেয়ার নিয়ে স্বামীর কাছে বসতে বসতে বললেন স্ত্রী।

স্বামী আবার বললেন, ‘মনে আছে, তোমার বাবা তখন রেগে গিয়ে আমার মুখে শটগান ধরে বলেছিলেন, ‘এক্ষুনি আমার মেয়েকে বিয়ে করো, নয়তো তোমাকে ২০ বছর জেল খাটাব আমি।’

স্ত্রী নরম সুরে বললেন, ‘আমার সবই মনে আছে।’

স্বামী আবার তাঁর গাল থেকে চোখের পানি মুছতে মুছতে বললেন, ‘আজকে আমি জেল থেকে ছাড়া পেতাম।’

 

১২২)

মিস্টার অন্ড মিসেস রবিনসন ক্রুসো জাহাজডুবি হয়ে কয়েক বছর ধরে একটা দ্বীপে আটকা পড়ে আছে। একদিন ভোরে তারা দেখতে পেলো, সৈকতে এক সুদর্শন যুবক অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে, গায়ে নাবিকের পোশাক। সুস্থ হয়ে উঠে যুবক জানালো, তারও জাহাজডুবি হয়েছে। ওদিকে মিসেস ক্রুসো প্রথম দর্শনেই এই যুবকের প্রেমে পড়ে গেছে। কয়েকদিন পর সুযোগ বুঝে ঐ যুবককে প্রেম নিবেদন করলো সে। কিন্তু রবিনসন আশেপাশে যতক্ষণ আছে, কোন কিছু করবার সুযোগ তাদের নেই।

এর কিছুদিন পর নাবিক যুবক রবিনসনকে পরামর্শ দিলো, সৈকতে একটা ওয়াচ টাওয়ার তৈরি করা হোক। সে আর ক্রুসো ওতে চড়ে পাহারা দেবে, জাহাজ দেখতে পেলে পতাকা দিয়ে সংকেত দেবে। ক্রুসোর বেশ মনে ধরলো বুদ্ধিটা। বাঁশ দিয়ে একটা উঁচু ওয়াচ টাওয়ার তৈরি করলো তারা।

পরদিন প্রথমে পাহারা দেয়ার পালা নাবিকের। সে টাওয়ারে চড়লো, নিচে ক্রুসো আর তার বউ গেরস্থালি কাজ করতে লাগলো। কিছুক্ষণ পরই যুবক চেঁচিয়ে উঠলো, ‘ছি, ক্রুসো ভাই! দিনে দুপুরেই ভাবীর ওপর এভাবে চড়াও হয়েছেন। ছি ছি ছি।’ ক্রুসো নারকেল কুড়োচ্ছিলো, সে বিব্রত হয়ে ওপরে তাকিয়ে বললো, ‘কী যে বলো, আমি কোথায়, আর ও কোথায়!’

যুবক চোখ কচলে বললো, ‘ওহহো, দুঃখিত, আমার যেন মনে হলো … সরি ভাই।’ কিন্তু ঘন্টাখানেক পর আবার চেঁচিয়ে উঠলো সে, ‘না, এবার আর কোন ভুল নেই। কী ভাই, একটু অন্ধকার হতে দিন না! এভাবে জঙলিদের মতো সক্কলের সামনে … ছি ছি ছি।’

ক্রুসো আগুন ধরাচ্ছিলো, সে চটেমটে বললো, ‘চোখের মাথা খেয়েছো নাকি ছোকরা, কী দেখতে কী দেখছো!’

যুবক খানিকক্ষণ চেয়ে থেকে মাথা নেড়ে লজ্জিতভাবে হাসলো। ‘ইয়ে, দুঃখিত, কিন্তু মনে হলো পষ্ট দেখলাম …।’

কিছুক্ষণ বাদে যুবকের পাহারা দেয়ার পালা শেষ হলো, এবার ক্রুসো চড়লো টাওয়ারে। কিছুক্ষণ টাওয়ারে পায়চারি করে ক্রুসোর চোখ পড়লো নিচে। সে খানিকক্ষণ চেয়ে থেকে আপনমনে বললো, ‘আরে, কী তামশা, ওপর থেকে দেখলে তো মনে হয়, সত্যি সত্যি নিচে ওরা ওসব কিছু করছে!’

 

১২৩)

মেয়দের ব্রেস্ট স্ট্রোক সাতার প্রতিযোগিতা চলছে। সেখানে বিশাল বক্ষা এক তরুনী অংশ নিচ্ছে। হুইসেল দেয়ার পর সবাই ঝাপিয়ে পড়েছে পানিতে।

সুইমিং পুলের এক মাথা থেকে আরেক মাথায় গিয়ে সবাই চলে এসেছে। শুধু বিশাল বক্ষা তরুনী ডুবে আর ভেসে ভেসে অনেক কষ্টে সাতরিয়ে যাচ্ছে। সে আগাচ্ছে একটু একটু করে। বাকি প্রতিযোগিরা সাতার শেষ করে তোয়ালে দিয়ে পানি শুকিয়ে নিচ্ছে। আর তরুনীটি সাতরিয়েই যাচ্ছে। বলা বাহুল্য টিভি ক্যামেরা নিয়ে সাংবাদিকরা চলে এসেছে। এরা চায় ত ফানি জিনিস। আর এই মেয়ে মাত্র (!) আধাঘন্টা দেরি করে ফেলছে সাতার শেষ করতে।

যাই হোক এক সময় সে সাতার শেষ করে। সাংবাদিক খুব আগ্রহ নিয়ে তার দিকে মাইক্রোফোন বাড়িয়ে দিয়ে প্রশ্ন করে- মিস। ব্রেস্ট স্ট্রোক সাতারের এই আইটেমে প্রথম প্রতিযোগি তিনমিনিটে সাতার শেষ করেছেন। আপনার পয়ত্রিশ মিনিট লাগার কারণ কি?

তরুনী হাপাতে হাপাতে উত্তর দিল, আমি সেই রকম মানুষ না যারা হেরে গিয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে চিটিং এর অভিযোগ আনে। কিন্তু আমি শিওর , আমি বাদে বাকি সবাই সাতারের সময় হাত ব্যবহার করেছে।

 

১২৪)

একদিন এক বাসার গৃহকর্তা আর তার বৌ গলা ফাটিয়ে চেঁচিয়ে ঝগড়া করছে। একপর্যায়ে লোকটা তার বউকে বলল Whore আর শুনে মহিলা লোকটাকে বলল Pimp।

তাদের ছোট ছেলে ছিল একটা, সে শুনে বাপ মাকে বলল, ‘Whore আর Pimp মানে কি?’ বাবা মা বলল, ‘এটা কিছু না ভদ্রমহোদয় আর ভদ্রমহোদয়া, আইমিন লেডিস এন্ড জেন্টেলম্যান’

২দিন পরে এক রাতে ভালবাসার একপর্যায়ে মহিলা লোকটাকে বলে বসল ‘ফিল মাই বুবস’ আর লোকটা ৫ মিট পরে বলল ‘ফিল মাই ডিকি’ ছেলেটা এবারও ঘন্টা খানেক পরে বাবা মাকে জিজ্ঞেস করল ‘বুবস আর ডিকি মানে কি?’ উত্তর এল ‘হ্যাট আর কোট!’

তার পরেরদিন লোকটা শেভ করতে যেয়ে গাল কেটে ফেলে বলে বসল ‘শিট’! ছেলে জানতে চাইল মানে কি, বাবা বলল ‘এটা শেভিং ক্রিমের ব্যান্ড নেম!’ আরেকদিন ছেলের মা টার্কি রেডি করতে যেয়ে কি একটা ভুল করে ফেলে বলল ‘Fuck!’ ছেলে জানতে চাইলে বলল ‘এটার মানে টার্কি রেডি করা!’

বাচ্চাদের সাথে মিথ্যা বলার সমস্যাটা টের পাওয়া গেল মাসখানেক পরে। একদিন বাসায় এক মহিলা তার হাসবেন্ডকে নিয়ে যখন এসে ছেলেটার কাছে জানতে চাইল তার বাবা মা কোথায়, ছেলেটা উত্তর দিল, “ডিয়ার Whore আর Pimp, আপনারা প্লিজ আপনাদের বুবস আর ডিকি এই হ্যাঙ্গারে রাখুন। আমার বাবা মুখ থেকে শিট ধুয়ে ধুয়ে পরিস্কার করছে আর মা উপরতলায় একটা টার্কি-কে খুবই দ্রুততার সাথে Fuck করছে!”

 

১২৫)

অরিত্র বাবু কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে গেছেন প্রাকৃতিক অপূর্ব সৌন্দর্য উপভোগ করতে। সমুদ্রের কাছে গিয়ে নামতে ইচ্ছে হলো পানিতে। ড্রেস শর্ট করে সমুদ্রে নামতে যাবেন, কাছেই ২/৩ জন ষোড়শীর শর্ট ড্রেস দেখে অরিত্র বাবুর শরীরে ঘাম দেখা দিলো। তিনি একটু বেশিই সেনসেটিভ। দৃশগুলো সইতে পারেন না। আর তাই শর্টপ্যান্টের সামন দিক উঁচু হতে থাকলো। ভয়, লজ্জা আর হীনমন্যতা নিয়ে এদিক সেদিক তাকালেন  কেউ দেখছে না তো? সামনে পেছনে ডানে বামে দেখতে গিয়ে ডানে দেখলেন এক পিচ্চি মেয়ে চোখ বড় বড় করে অরিত্র বাবুর দেহের বিশেষ দিকে তাকিয়ে আছে। পুচকা মেয়েটি হয়তো বুঝতে পারছে না কেন ওখানটা উঠানামা করছে।

মহা ফ্যাসাদে অরিত্র বাবু।

তিনি স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করলেন একটু কুঁজো হয়ে দাঁড়িয়ে।সেয়ানা পিচ্চিটি অরিত্র বাবুর আর একটু সামনে এগিয়ে এলো।

আংকেল, এটা কী?

পাখি… যাও যাও ডিস্টার্ব করোনা!

পিচ্চিটি গেলো না। তবে অরিত্র বাবুর তাড়া খেয়ে অদূরে দাঁড়িয়ে রইলো। অরিত্র বাবুর মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেলো। তিনি পানিতে দ্রুত ঝাপিয়ে পড়লেন। ঝাপাঝাপি করে এসে সৈকতে শুয়ে পড়লেন। বিকালের সোনালী রোদ গায়ে লেগে একটা আরাম আরাম ভাব চলে এলো। কখন যে অরিত্র বাবু ঘুমিয়ে পড়েছেন, খেয়ালই করেন নি।

ঘুম ভেঙে দেখেন তিনি হাসপাতালে।

ঘটনা কী?

অন্য সবাইও জানতে চাইলেন ঘটনা কী?

অরিত্র বাবু ফ্যাল ফ্যাল করে এদিক ওদিক তাকাতে গিয়ে হঠাৎ অনুভব করলেন উনার বিষেশ অঙ্গে ব্যান্ডেজ।

খাইছে!

ডাক্তারের প্রশ্নে অরিত্র বাবু জানালেন, কিছুই জানি না। তবে শেষ মনে পরে সৈকতে একটা পিচ্চি মেয়ে আমার চারপাশে ঘুর ঘুর করছিলো। ডাক্তার লোক পাঠালেন পিচ্চিকে ধরে আনার জন্য। পিচ্চি এসে বলে, আংকেল ঘুমিয়ে যাবার পর আমি আংকেলের পাখি আর পাখির দুইটা ডিম নিয়া খেলতে ছিলাম। হঠাৎ দেখি পাখি রাগে ফুইসা উঠছে। তাই আমি ধাক্কা দিছি। অমনি পাখি আমারে থুতু দিছে, আর তাই আমিও পাখির ডিম ভাঙার জন্য ইটের টুকরা দিয়া মারছি!

 

১২৬)

একজন স্ট্রীট ম্যাজিশিয়ান ম্যাজিক দেখাচ্ছেন কোন এক আবাসিক এলাকার এক রাস্তার উপরে। সবাই সাগ্রহে তাকে ঘিরে আছে। মূল আকর্ষণ হচ্ছে নাকি তার ম্যাজিক স্পেল আউড়ানোর সাথে সাথে কোথাও নাকি কিছু দাঁড়িয়ে যাবে আর সবাই মিলে যদি ফুঁ দেয় তবে তা বসে পড়বে।

প্রথম বারঃ হ্রিঙ্গা ত্রিঙ্গা ছট্টে… সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বাচ্চাটির পকেট থেকে পেন্সিলটি উঠে দাঁড়িয়ে গেলো। সবাই মিলে একযোগে ফুঁ… বসে পড়লো পেন্সিলটি তার জায়গায়।

দ্বিতীয় বারঃ ম্যাজিশিয়ানের মন্ত্র… মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা একজন ভদ্রমহিলার মাথা থেকে তার হেয়ার পিনটি উঠে দাঁড়ালো। সবাই আবারো ফুঁ… বসে পড়লো হেয়ার পিন।

শেষ বারঃ মন্ত্র পড়া শেষ… সবাই ফুঁ দেবার অপেক্ষায়… কিন্তু কেউ বুঝতে পারছে না কোথায় কি দাঁড়ালো…!! আকস্মিক ভাবেই পাশের এক বাড়ীর দরজা খুলে একজন ৮৫ বছরের বৃদ্ধ বেরিয়ে এসে হাঁক ছাড়লেন, “এই পাঁজির দল, নচ্ছার গুলো, খবর্দার বলে দিচ্ছি, কেউ কিন্তু ফুঁ দিবি না হতচ্ছাড়ারা”…!!

 

১২৭)

মিস মিলি ঠিক করল, ১৯ বছর বয়সেই তাকে কোটিপতি হতে হবে। কাজেই এক কোটিপতি ৯০ বছরের বুড়োকে বিয়ে করে বসলো সে। তার মতলব খুব পরিষ্কার, বুড়োকে এমন প্রেম ভালোবাসা উপহার দেবে সে, যাতে ব্যাটা হার্টফেল করে মরে। তারপর ব্যাটার সব সম্পত্তি উত্তরাধিকার সূত্রে হাতিয়ে নেবে সে। বাসর রাতে বুড়ো এসে হাজির। কিন্তু জামাকাপড় খোলার পর দ্যাখা গেল, বুড়ো হলেও সে যথেষ্ঠ সক্ষম এখনও। বুড়ো বর ড্রয়ার থেকে কন্ডম আর দু’জোড়া ছিপি বার করে এগিয়ে এলো মিলির দিকে। মিলি ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করল, “ওগুলো কিসের জন্য?”

বুড়ো প্যাকেটখানা খুলতে খুলতে বলল, “দ্যাখো এ ব্যাপারে দুটো জিনিস আমার একদম পছন্দ নয়। এক হচ্ছে, মেয়েরা যে চিৎকারটা করে, সেটা।” এই বলে সে একজোড়া ছিপি কানে গুঁজল। তারপর দ্বিতীয় জোড়া ছিপি নাকে গুঁজতে গুঁজতে বলল, “আর দ্বিতীয়ত, কন্ডম পোড়া গন্ধটাও আমার আদৌ পছন্দ নয়।”

 

১২৮)

হলিউডের একজন উঁচুদরের অভিনেতা তার অভিনীত একটা ছবি দেখার জন্য স্ত্রীকে সিনেমা হলে গিয়ে ছবি দেখার জন্য বসলেন । সিনেমার মাঝামাঝি জায়গায় নায়ক নায়িকার চুমু খাওয়ার একটা দৃশ্য দেখে অভিনেতার স্ত্রী অভিযোগ করলেন যে, আমি এতদিন তোমার সঙ্গে বিবাহিত জীবন যাপন করছি, অথচ কখনো আমাকে তুমি অমন করে চুমো খাওনি। অভিনেতা বললেন, তুমি যদি জানতে যে এই একটি চুমু খাওয়ার জন্য তারা আমায় কত টাকা পারিশ্রমিক দিয়েছে তাহলে আর অমন অভিযোগ করতে না।

 

১২৯)

এক খামার মালিক শখ করে একটা জেব্রা কিনে এনেছে আফ্রিকা থেকে।

এক ভোরে জেব্রাটা বেরিয়ে এলো তার আস্তাবল থেকে। খামারের ভেতরে ঘুরতে লাগলো সে, আর ভাবতে লাগলো, এখানে তার কাজ কী হতে পারে।

প্রথমে তার দেখা হলো একটা মুরগির সাথে। সুপ্রভাত। বললো জেব্রা। তুমি এখানে কী করো? মুরগি জবাব দিলো, সুপ্রভাত। আমি আমাদের মালিকের খাবারের জন্যে ডিম পাড়ি।

এরপর তার দেখা হলো একটা গরুর সাথে। সুপ্রভাত। বললো জেব্রা। তুমি এখানে কী করো? গরু জবাব দিলো, সুপ্রভাত। আমি আমাদের মালিকের খাবারের জন্যে দুধ দিই।

তার দেখা হলো একটা ছাগলের সাথে। সুপ্রভাত। বললো জেব্রা। তুমি এখানে কী করো? ছাগল জবাব দিলো, সুপ্রভাত। মালিক আমাকে মেরে আমার মাংস খায়।

জেব্রা কিছুটা ঘাবড়ে গিয়ে সামনে এগোলো।

এবার তার দেখা হলো একটা ষাঁড়ের। সুপ্রভাত। বললো জেব্রা। তুমি এখানে কী করো?

ষাঁড় জেব্রাকে আপাদমস্তক দেখে মুচকি হেসে জবাব দিলো, সুপ্রভাত। তুমি তোমার পাজামাটা খোলো, আমি তোমাকে দেখাচ্ছি আমি এখানে কী করি।

 

১৩০)

ফরেনসিক মেডিসিন এর ক্লাসে প্রফেসর নতুন ছাত্রদের ক্লাস নিচ্ছেন।

“ফরেনসিক মেডিসিন পড়তে তোমাদের দুইটা জিনিসের দিকে ভালো খেয়াল রাখতে হবে। প্রথমত, তোমাদের কারো কোনো রকম শুচিবাই বা ঘৃণা থাকতে পারবেনা …” এই বলে তিনি তার সামনে রাখা মৃতদেহের পাছার ভিতরে আঙ্গুল ঢুকিয়ে দিলেন এবং তা চুষতে লাগলেন। “সুতরাং, তোমরাও তা কর” তিনি সবাইকে নির্দেশ দিলেন ।

পুরো ক্লাসরুম তো থ !!!!!! কি আর করা, সবাই প্রফেসর এর কথামত আঙ্গুল ঢুকিয়ে চুষতে শুরু করলো।

“দ্বিতীয় জিনিসটি হলো, তীক্ষ্ণ নজর থাকতে হবে তোমাদের” বললেন প্রফেসর, “তোমাদের মাঝে কয় জন খেয়াল করেছ যে আমি লাশটির পাছায় তর্জনী ঢুকিয়েছি, কিন্তু চুষেছি আমার মধ্যম আঙ্গুল ???”

 

১৩১)

বাচ্চাদের স্কুলের টিচার মিস তানিয়া একদিন ছুটির পর ছোট্ট বাবুকে দাঁড় করালেন।

‘এক মিনিট দাঁড়াও ছোট্ট বাবু।’ চশমার ওপর দিয়ে চাইলেন তিনি। ‘তোমার হোমওয়র্ক তো খুব খারাপ হচ্ছে ক’দিন ধরে। তোমার কি কোন সমস্যা হচ্ছে?’

ছোট্ট বাবু মাথা ঝোঁকালো। ‘জ্বি টিচার। আমি প্রেমে পড়েছি।’ মিস তানিয়া মিষ্টি হাসলেন। ‘কার প্রেমে পড়েছো?’

‘আপনার, মিস তানিয়া। আমি আপনাকে বিয়ে করতে চাই।’

‘কিন্তু ছোট্ট বাবু,’ নরম গলায় বললেন মিস তানিয়া, ‘ভেবে দ্যাখো ব্যাপারটা কেমন বোকাটে হবে? নিশ্চয়ই আমি একদিন কাউকে স্বামী হিসেবে চাইবো … কিন্তু আমি তো কোন বাচ্চা চাই না।’

‘ভয় পাবেন না মিস।’ আশ্বাস দিলো বাবু। ‘সেক্ষেত্রে আমি প্রটেকশন ব্যবহার করবো।’

 

১৩২)

এক ব্যারাকে , এক সৈনিক বাজি ধরার জন্য বিখ্যাত হয়ে গেল রাতারাতি। কারণ তারে কেউ বাজিতে হারাতে পারেনা। তাই দেখে আরেক সৈনিক ব্যরাকের দায়িত্বে থাকা ক্যাপ্টেন কে জানালো ঘটনা।

ক্যাপ্টেন কি করবে না বুঝে জানালো তার বস্‌ মেজর কে। সব শুনে মেজর বললো, আচ্ছা, ডাকো তাকে, দেখায় দেই কেমন করে হারাতে হয় বাজিতে। তো সেই বাজিকর সৈনিকের ডাক পড়লো মেজরের চেম্বারে। বাজিকর সৈনিক মেজরের চেম্বারে ঢুকেই স্যলুট দিয়ে বলে ” স্যার আপনার পাইলস্‌ আছে।”

মেজরঃ কে বললো পাইলস্‌ আছে?

বাজিকর সৈনিকঃ স্যার বাজি ধরেন , না থাকলে।

মেজরঃ ও কে, ৫০০ টাকা বাজি। প্রমাণ করো।

প্রমান করার জন্য মেজর প্যান্ট খুলে তার পশ্চাদ্দেশ দেখালো, বাজিকর সৈনিক পশ্চদ্দেশের ভিতর আঙ্গুল ঢুকিয়ে, তারপর বের করে এনে বললো, না স্যার, পাইলস নাই, আমি হেরে গেলাম”

মেজর কে ৫০০ টাকা দিয়ে সৈনিক বের হয়ে এল চেম্বার থেকে।

মেজর পরে ফোন করে ক্যাপ্টেন কে বলে, “কই, ও তো আমার কাছে বাজি তে ৫০০ টাকা হেরে গেল।”

ক্যাপ্টেনঃ “স্যার, ও যাবার আগে আমার সাথে বাজি ধরে গেছে, আপনার পাছায় আঙ্গুল দিতে পারলে ও ৫০,০০০ টাকা জিতবে। এখন তো আমারে সেই টাকা দেয়া লাগবে”

 

১৩৩)

কিন্ডারগার্টেনে তরুনী টিচার ক্লাসে খেয়াল করলেন যে এক ছাত্র বেশ অমনোযোগী। তাকে দাড় করিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “ বলো একটি ডালে তিনটি পাখি বসে আছে। তুমি একটি বন্দুক দিয়ে একটি পাখিকে গুলি করলে সেখানে আর কয়টি পাখি থাকবে?”

ছাত্রঃ একটিও না।

ম্যাডামঃ কেন?

ছাত্রঃ ম্যাডাম আমি যদি বন্দুক দিয়ে গুলি করি তাহলে গুলির শব্দে সবগুলো পাখি উড়ে যাবে।

ম্যাডামঃ তুমি যেভাবে চিন্তা করেছো তা আমার পছন্দ হয়েছে। কিন্তু সঠিক উত্তর হবে আর দুইটি পাখি থাকবে।

ছাত্রঃ আচ্ছা ম্যাডাম একটি আইস্ক্রীম পারলার থেকে তিনজন যুবতী হাতে আইস্ক্রীম নিয়ে বের হল। তাদের একজন হাল্কা কামড় দিয়ে দিয়ে আইস্ক্রীম খাচ্ছিল। আর একজন চেটে চেটে খাচ্ছিল। আর শেষজন পুরো আইস্ক্রীম মুখে পুরে চুষছিলো। বলুন দেখি তাদের মধ্যে কে বিবাহিত?

ম্যাডাম কিঞ্চিত বিব্রত হয়ে বললেন, যে পুরো আইস্ক্রীম মুখে পুরে চুষছিলো সেই বিবাহিত।

ছাত্রঃ আপনি যেভাবে চিন্তা করেছেন তা আমার পছন্দ হয়েছে। কিন্তু সঠিক উত্তর হবে যার হাতে ওয়েডিং রিং ছিল সেই বিবাহিত।

 

১৩৪)

মুখোশ পার্টিতে যাবে রোমেল আর তার বউ। রোমেলের বউ শেষ মিনিটে বললো, সে যাবে না, তার মাথা ধরেছে। রোমেল একটা স্পাইডারম্যানের মুখোশ পরে বেরিয়ে গেলো একাই। ঘন্টাখানেক পর রোমেলের বউ যাওয়ার মত পাল্টে একটা মুখোশ পরে নিয়ে পার্টিতে গেলো, একা একা রোমেল কী করে বেড়ায় দেখতে।

পার্টিতে গিয়ে সে দেখলো স্পাইডারম্যানের মুখোশের চারপাশে অনেক মহিলা, জমিয়ে আড্ডা মারছে রোমেল। চটে মটে রোমেলের বউও সেই ভিড়ে গিয়ে জুটলো, তারপর এক এক করে মহিলাকে হটিয়ে দিয়ে রোমেলকে দখল করলো সে। নির্জনে রোমেল তার কানে কানে কুপ্রস্তাব দিলো। মনে মনে চটে গিয়ে রাজি হলো রোমেলের বউ। ঘন্টাখানেক আদরসোহাগের পর রোমেলকে পার্টিতে রেখেই বাড়িতে ফিরে এলো সে। গভীর রাতে ক্লান্ত রোমেল বাড়িতে ফিরলো। তার বউ চিবিয়ে চিবিয়ে জানতে চাইলো, পার্টি কেমন হয়েছে। রোমেল বললো, ‘আরে ধ্যুৎ, খুব বোরিং। আমি আর আমার কয়েকজন বন্ধু কোণার ঘরে বসে তাস খেলেছি।’

‘তাই? কোন মজা হয়নি পার্টিতে?’

‘একদম না। তবে যে ব্যাটাকে আমার মুখোশটা ধার দিয়েছিলাম, ঐ শালা খুব মজা লুটেছে।’

 

১৩৫)

আরব মুল্লুকে বেড়াতে গেছে তিন ট্যুরিস্ট।

মরুভূমিতে পথ হারিয়ে দিন তিনেক ঘোরাঘুরি পর একদিন এক মরূদ্যানের সামনে হাজির হলো তারা। সেখানে শুধু মেয়ে আর মেয়ে, সবাই স্বল্পবসনা এবং সুন্দরী। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই গোবদাগাবদা চেহারার কয়েকজন মহিলা এসে তাদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেলো আলিশান এক প্রাসাদের ভেতর। সেখানে জোব্বাপরা এক আরব শেখ বসে গড়গড়ায় তামাক খাচ্ছে, তাকে ঘিরে আছে অপরূপ সুন্দরী কিছু যুবতী।

গড়গড়া নামিয়ে শেখ বললো, ‘আমি শেখ অমুক। এটা আমার মুল্লুক, এখানে যারা ভুল করে ঢুকে পড়ে, তাদের আমি কঠিন শাস্তি দিই।’ প্রথমজনকে জিজ্ঞেস করলো সে, ‘বলো, কী করো তুমি?’

প্রথম ট্যুরিস্ট জবাব দিলো, ‘আমি একজন পুলিশ।’

শেখ হাততালি দিলো। দুই রূপসী সামনে এসে দাঁড়ালো। শেখ হুকুম করলো, ‘যাও, এর যন্ত্রটাকে গুলি করে ঝাঁঝরা করে দাও।’ তারপর দ্বিতীয়জনকে জিজ্ঞেস করলো সে, ‘বলো, তুমি কী করো?’

দ্বিতীয় ট্যুরিস্ট জবাব দিলো, ‘আমি একজন দমকলকর্মী।’

শেখ হাততালি দিলো। আরো দুই রূপসী সামনে এসে দাঁড়ালো। শেখ হুকুম করলো, ‘যাও, এর যন্ত্রটাকে পুড়িয়ে ছাই করে দাও।’ তারপর শেষজনকে জিজ্ঞেস করলো সে, ‘বলো, কী করো তুমি?’

শেষ ট্যুরিস্ট দাঁত বের করে জবাব দিলো, ‘আমি একজন ললিপপ বিক্রেতা।

 

১৩৬)

আরাম সাহেবের বউ খুব গোপনে হাসপাতালের ইমারজেন্সীতে গাইনোকোলজিস্টের সাথে দেখা করতে চাইলেন। গাইনোকোলজিস্ট এসে জিজ্ঞেস করতেই, তিনি খুব লজ্জিতভাবে বললেন, তার ভাইব্রেটরটা গোপনাঙ্গের ভেতরে পুরোপুরি ঢুকে আটকে গেছে। ডাক্তার সব দেখে বললেন, এটা বের করতে খুব লম্বা এবং বিপদজনক অপারেশন করতে হবে। অপারেশনের টাকা তিনি দিতে পারবেন কিনা। মিসেস আরাম আরও লজ্জিতভাবে বললেন, হ্যাঁ পারবেন। কিন্তু তিনি সেই অপারেশন আপাতত করতে চাননা। বরঞ্চ ডাক্তার সাহেব যদি কষ্ট করে, ব্যাটারীটা একটু পালটে দিতেন…

 

১৩৭)

দবির আর সাবেত অনেক দিন থেকেই এক সাঠে গলফ খেলে, অনেক দিন পরে দবিরের মনে হইল সাবেত আসলে কি কাম করে?

দবিরঃ কাজ কাম কি করেন ভাই?

সাবেতঃ আমি আসলে একজন হিটম্যান, ভাড়ায় কাম করি, প্রতি হিট ১০,০০০ টাকা। মানে প্রতি বুলেট ১০,০০০ টাকা আর আমার বুলেট মিস হয় না।

দবির মনে মনে ভাবে আরে শালা! আমি তো এমনই একজন লোক খুজতাছি! এইবার বিবির জান শেষ!

দবিরঃ দোস্ত আমার একটা কাম কইরা দিবা? না না দুইটা!!?

সাবেতঃ আরে তুমি মাল দিবা আর আমি কাম করুম না! দুইটার জন্য ২০,০০০ টাকা লাগবো।

দবিরঃ ঠিক আছে তুমি আমার বিবির মুখের মধ্যে একটা গুলি করবা, শালী খালি আমার লগে চিল্লায়, খালি প্যান প্যান করে।

আর এক কুত্তার বাচ্চা আছে ওর বয় ফ্রেন্ড, ওর অই জায়গাতে একটা গুলি করে ঐটা উরায় দিবা, ঐযে মাঠের পাশেই আমার বাসা।

সাবেত তার গলফ ব্যাগ থাইকা টেলিস্কোপিক রেমিংটন পয়েন্ট ২২ রাইফেলটা বাইর কইরা অনেকক্ষন লাগাইয়া দেইখা কইল “আমি তোমার পয়সা বাঁচায়া দেই। গূল্লি একটা লাগবো”

 

১৩৮)

একটি লোকের স্ত্রী অন্তসত্তা। হাজবেন্ড ওয়াইফ দু‘জন মিলে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেনা যে তাদের সন্তানের নাম কি হবে। এটা সবার ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। অনেক তর্ক বিতের্কর পর স্ত্রী তার স্বামীকে বলল, “তুমি বাবার কাছে যাও। তাকে জিজ্ঞেস করে আসো যে বাচ্চাদের নাম কি করে রাখতে হয়”। স্বামীটি তৎক্ষনাৎ তার বাবা কাছে গেলে এবং বাচ্চাদের নাম কি করে রাখতে হয় তা জিজ্ঞেস করলো। বাবা মুচকী হেসে একটু নস্টালজিক হয়ে গেলেন। আনমনা ভাবে মৃত স্ত্রীর ছবির দিকে তাকিয়ে বললেন, তোর বড় ভাইয়া যখন তোর মার পেটে এলো তখন আমার পোস্টিং হিলে, চারদিকে পাহাড় আর পাহাড়। পাহাড়ের বুকে জন্মালো তাই ওর নাম রাখলাম “হিমালয়”। তোর মেঝো আপা যখন হলো তখন আমরা নৌ-বিহারে ছিলাম তাই ওর নাম রেখেছিলাম “নদী”। এসব জেনে তুই কি করবি “ফুটো কন্ডোম”

 

১৩৯)

জর্জ আর জেনী খুব ভাল বন্ধু। এরা দুই জন দুই শহরে কাজ করে। একজনের ছুটি শনিবার আরেকজনের রবিবার। ফলে দুই জনের এক সাথে দেখা হওয়া খুব দুস্কর। এবার পহেলা মে তে দুই জনের এক সাথে ছুটি। জর্জ তার গাড়ী নিয়ে জেনীকে আনতে চলে গেল। গাড়ীতে দুইজনের মনে ভালবাসার উদয় হল। যেহেতু মাত্র একদিনের ছুটি তাই তারা ঠিক করল এক মুহূর্তও নষ্ট করা ঠিক হবে না। কিছু অন্তরঙ্গ মুহূর্ত কাটানো যাক। কিন্তু গাড়ীটা ছিল খুবই ছোট। দুই জনে মিলে ঠিক করল গাড়ীর নীচের ফাঁকা জায়গায় ঢুকে পড়া যাক। নীচে বেশ জায়গা আছে আর কেউ বিরক্ত ও করবে না।

অনেকক্ষণ পর জর্জের খেয়াল হল কে যেন তাকে ডাকছে। লোকটি ছিল ট্রাফিক সার্জেন্ট।

লোকটি বলছে- ভাই আপনি কি করছেন।

জর্জ তার দিকে না তাকিয়েই উত্তর দেয়-গাড়ী ঠিক করছি।

সার্জেন্ট কিছুক্ষণ কি যেন চিন্তা করেন। তারপর গম্ভীর মুখে বলে উঠেন-দুই টা কারণে আমি আপনার কথা বিশ্বাস করতে পারছি না। প্রথমত গাড়ী ঠিক করতে হলে আপনাকে চিৎ হযে থাকতে হবে। কিন্তু আপনি উপুর হয়ে আছেন।

দ্বিতীয়ত আমি এখানে কোন গাড়ী দেখতে পাচ্ছি না। খুব সম্ভবত আপনাদের গাড়ীটি চুরি হয়ে গেছে।

 

১৪০)

স্বামী বেশ কয়দিন ধরে কোমায়। বউ বেচারা সারাক্ষণ স্বামীর বিছানার পাশে আহার-নিদ্রাহীন জীবনযাপন করছেন। হঠাৎ স্বামী কোমা থেকে ফিরে আসলেন। ডাক্তাররা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বউকে স্বামীর কাছে যেতে দিলেন। স্বামী পরম আবেগে সজল চক্ষে স্ত্রীর হাত ধরে বললেনঃ ওগো, আমি আজ বুঝতে পেরেছি আমার কেন এই অবস্থা! তুমি সারাটা জীবন আমার দুঃখের সময়ে পাশে থেকেছ। যখন আমার চাকরী চলে গেল, তুমি পাশে ছিলে। আমার যখন ব্যবসায় বিশাল লোকসান হল, তুমি পাশে ছিলে। যখন আমাদের বাড়িটাও ব্যাংক নিলামে উঠাল, সেখানেও তুমি ছিলে আমাকে সান্ত্বনা দেয়ার জন্য। যখন ডাকাতরা আমায় গুলি করল, তুমি ছিলে আমার সেবা করার জন্য। আমার এমন কোন দুঃসময় নেই যখন তুমি আমার সাথে ছিলেনা।

স্বামীর এমন আবেগী কথায় স্ত্রীর চোখ বেয়ে জলের ধারা নামে। স্ত্রী বলেঃ ওগো এমন করে বলোনা, আমিতো তোমার পাশেই থাকব…তুমি ছাড়া আমার আর কে আছে!

স্বামীঃ হুমম! সেজন্যেই বুঝেছি…তুমিই আমার ব্যাড লাক!

 

১৪১)

ডেন্টিস্টের সাথে ইলিয়াস সাহেবের বউয়ের ভীষণ মাখামাখি চলছে। প্রায় প্রতি সপ্তাহেই মিসেস ইলিয়াস ডেন্টিস্টের চেম্বারে গিয়ে শারীরিক চাহিদা মিটিয়ে আসেন। একপর্যায়ে মিসেস ইলিয়াস আবগের আতিশয্যে বললেন, ওগো আমার প্রেমিক, আমি প্রতিদিনই তোমার কাছে আসতে চাই। ডাক্তার বললেন, হ্যাঁগো আমিও তোমায় চাই। কিন্তু তুমি যদি আর এখানে আস ইলিয়াস তো বুঝে ফেলবে।

মিসেস ইলিয়াস বললেন, আরে না…ব্যাটা গর্দভ একটা। এইযে দেখ এতবার তোমার কাছে এলাম, কিছুই বোঝেনি। ডাক্তার বললেন, কিন্তু হানি, তুমি আর আসবে কিভাবে, প্রতিদিন তোমার একটা করে দাঁত তুলতে তুলতে আজকে শেষ দাঁতটাও তুলে ফেললাম!

 

১৪২)

মিলিটারিদের সাহস পরীক্ষা করছে তাদের প্রধান। এক মিলিটারিকে দুরে দাঁড় করিয়ে রেখে মাথায় লেবু রেখে বন্দুক দিয়ে সেই লেবুটিকে গুলি করল। মিলিটারিটি একদম নড়ল না। লেবুটি ফেঁটে গিয়ে তার শার্টটিকে নষ্ট করে দিল।

তাদের প্রধান তাকে ৫০ টাকা দিয়ে বলছে- ‘সাবাস, এই টাকা দিয়ে সাবান কিনে শার্টটি ধুঁয়ে নিও’।

মিলিটারিটি বলল – ‘তাহলে আরোও ৫০ টাকা দিন, প্যান্টটিও ধুঁতে হবে।

 

১৪৩)

হাসপাতালে এক মেয়ের বাচ্চা হয়েছে। বাচ্চাকে মা থেকে পৃথক রুমে রেখে নার্স তাকে খবর দিলো, “আপনার ছেলে হয়েছে। আপনার স্বামীকে দেখছিনা যে?”

মেয়ে, “ইয়ে মানে, আমার বিয়ে হয় নি।”

নার্স, “তাহলে আপনার বয়ফেন্ড/পার্টনার কোথায়?”

মেয়ে, “আমি একা।”

নার্স, “ও আচ্ছা। আপনার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্য দুঃখিত। কিন্তু আপনার জানা জরুরী যে আপনার ছেলেটি কিন্তু কালো হয়েছে!”

মেয়ে, “আসলে হয়েছে কি জানেন, গত বছর আমি খুব টাকার অভাবে ছিলাম। টিউশন ফি দিতে পরছিলাম না। তাই বাধ্য হয়ে একটি পর্ন মুভিতে কাজ করতে হয়েছিলো! আর ওখানে এক নিগ্রো ছিল!”

নার্স, “আমি আসলেই দুঃখিতো। আপনার মতো অবস্থায় পড়লে যে কেউ এই কাজ করতো। আরেকটি কথা হলো আপনার ছেলেটি ব্লন্ড চুল পেয়েছে!”

মেয়ে, “না মানে ঐ মুভিতে এক সুইডিস লোকও ছিলো!”

নার্স, “ও! আমি দুঃখিত যে আমার জন্য আপনাকে ঐ সব স্মৃতি মনে করতে হচ্ছে। তবে আপনার ছেলের চোখ কিন্তু খুব ছোট ছোট!”

মেয়ে, “ইয়ে মানে ওখানে একজন জাপানি লোকও ছিলো! আপনার কি আরো কিছু বলার আছে?”

নার্স, “না না আর কিছু না!”

মেয়ে, “আমি কি আমার ছেলেকে দেখতে পারি?”

নার্স, “জি অবশ্যই পারেন। আমি নিয়ে আসছি।”

নার্স ছেলেটিকে এনে মেয়েটির কোলে দিলো। মেয়েটি বাচ্চা টিকে কোলে নিয়েই গালে জোরে একটা চড় বসিয়ে দিলো এবং বাচ্চাটি চড় খেয়ে জোরে কেঁদে উঠলো!

নার্স হতবম্ভ হয়ে ছেলেটিকে মেয়ের কাছ থেকে নিয়ে নিলো এবং বললো, “এ আপনি কি করছেন?”

মেয়েটি তখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বললো, “উফফ! বাঁচা গেলো! আমি তো ভেবেছিলাম কুকুরের মতো ঘেউ ঘেউ করে উঠবে!!”

 

১৪৪)

অনেক আগে একবার পোপ হুকুম দিলেন, ইহুদিদের রোম ছেড়ে চলে যেতে হবে। ইহুদিরা আদেশ শুনে বিক্ষোভে ফেটে পড়ল। অবস্থা যখন খারাপের দিকে, তখন পোপ বললেন, ‘ঠিক আছে, ওদের একটা সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। আমার সঙ্গে তাদের কোনও প্রতিনিধি ধর্ম নিয়ে বিতর্ক করুক। যদি আমি হেরে যাই, ইহুদিরা থাকতে পারবে। আর যদি আমি জিতে যাই, ব্যাটাদের পেঁদিয়ে বিদায় করা হবে।’

ইহুদিরা এ প্রস্তাবে রাজি হয়ে তাদের এক প্রবীণ র‌্যাবাই, মি. মোশেকে নির্বাচন করল বিতার্কিক হিশেবে। কিন্তু ঝামেলা হল, মোশে ল্যাটিন জানেন না, আর পোপ ইড্ডিশ বলতে পারেন না। কাজেই নির্বাক বিতর্ক করাই স্থির হল।নির্দিষ্ট দিনে দুজন মুখোমুখি বসলেন।

পোপ প্রথমে স্থির দৃষ্টিতে মোশের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ তিনটি আঙুল তুলে দেখালেন। জবাবে মোশে খানিক ভেবে মধ্যমা তুলে পোপকে দেখালেন।

পোপ থতমত খেয়ে খানিক চিন্তা করে আঙুল তুলে মাথার চারপাশে ঘোরালেন। জবাবে মোশে একটা আঙুল তুলে দুজনের মাঝখানে মাটির দিকে ইঙ্গিত করলেন।

পোপ বিব্রত হয়ে এবার পবিত্র রুটি আর মদের বোতল বের করলেন। জবাবে মোশে হাসিমুখে বের করলেন একটি আপেল।

পোপ উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘আমি হার স্বীকার করছি।’

সবাই পোপকে ঘিরে ধরল, ‘কী হল, মহামান্য পোপ? আমরা তো কিছুই বুঝতে পারলাম না!’

পোপ বললেন, ‘আমি প্রথমে পবিত্র ত্রিত্বর প্রতীক হিশেবে তিনটি আঙুল তুলে দেখালাম। তখন এই র‌্যাবাই একটি আঙুল তুলে দেখাতে চাইল যে অন্তত একক ঈশ্বরের প্রশ্নে খ্রিস্টান-ইহুদি একমত। তারপর আমি একটা আঙুল মাথার চারপাশে ঘুরিয়ে বলতে চাইলাম যে ঈশ্বর সর্বময়। জবাবে ইহুদি ব্যাটা আমাদের মাঝে আঙুল দেখিয়ে বলল, তিনি এই বিতর্কের স্থানেও আছেন। আমি তখন এই পবিত্র রুটি আর মদ বের করে বলতে চাইলাম যে ঈশ্বর আমাদের পাপ স্খালনের সুযোগ দেন। তখন ব্যাটা ফাজিল আপেল বের মনে করিয়ে দিল, আদমের সেই আদিম পাপের কথা। … তোমরাই বল, এর সঙ্গে তর্ক চালিয়ে যাওয়া যায়? সবকিছুর জন্যেই ওর কাছে জবাব আছে, তাই আরও নাকাল হওয়ার আগেই হার স্বীকার করে নিলাম।’

ওদিকে উল্লসিত ইহুদিরা ধরল মোশেকে। ‘কী হল? আমরা তো কিছুই বুঝলাম না … !’

মোশে বলল, ‘আমিও না। … প্রথমে ব্যাটা কিছুক্ষণ জুলজুল করে আমার দিকে তাকিয়ে থেকে ফট করে তিনটা আঙুল তুলে দেখাল, মানে হচ্ছে ইহুদিদের চলে যাওয়ার জন্যে তিনদিন সময় দিচ্ছে সে। আমার মেজাজ গেল খারাপ হয়ে, একটা আঙুল তুলে দেখালাম, যে তিনদিন সময় তোমার ইয়ে দিয়ে প্রবেশ করানো হবে। এরপর ব্যাটা আবার মাথার ওপর আঙুল তুলে ঘুরিয়ে বলতে চাইল, এই শহরের সব ইহুদিকে চলে যেতে হবে। তখন আমি মাটি দেখিয়ে বললাম, এইখানে, জনাব পোপ, আমরা এইখানে থাকব!’

‘তারপর?’

‘তারপর কী হল বুঝলাম না, ব্যাটা দুপুরের খাওয়ার বিরতি প্রস্তাব দিল!’

 

১৪৫)

এক বাংলাদেশী, এক ভারতীয় আর একজন পাকিস্তানী ঘুরতে বের হয়েছে আমাজনে।এরা ধরা পড়েছে জংলীদের হাতে। জংলীরা তিনজনকে একটা কুড়েঘরে আটকিয়ে রেখেছে। খুব চমৎকার একটা ফল খেতে দিচ্ছে তাদের। এই ফল খেয়ে তাদের চামড়া খুব মসৃন হয়ে যাচ্ছে। যেন তাদের যৌবন ফিরে আসছে। এরা তিনজনেই খুশী। এই সুখ অবশ্য বেশীদিন সইল না। একদিন সকালে জংলী সর্দার এল। এসে প্রথম ধরেছে পাকি-টাকে।

-তুমি কিভাবে মরতে চাও?

পাকিটা বলল তোমারা যে ফলটা খেতে দাও, সেই রকম মিষ্টি কোন ফল নিয়ে আস যেটা বিষাক্ত। ওটা খেয়েই আমি মরব। তার ইচ্ছা অনুযায়ী লাল একটা ফল নিয়ে আসা হল। পাকিটা “পাকিস্তান জিন্দাবাদ” বলে ফলটা খেয়ে ফেলল। তার এসে গেলো গভীর ঘুম যা আর ভাঙ্গে না। বাংগালী আর ভারতীয় দুইজন এরপর দেখল ভয়াবহ ব্যাপারগুলা।

জংলীরা পাকিটার মাথা আলাদা করে সেটাকে মমি করে রাখল । বাকি শরীরের চামড়া ছাড়াল। এরপর সেটা দিয়ে বানাল ছোট একটা ক্যানু(canoe)। এইসব দেখে ভারতীয় আর বাঙ্গালীর অবস্থা খারাপ। পনের দিন পর জংলী সর্দার আবার এল। এইবার ভারতীয়টার পালা। ভারতীয়টাও “জয় হিন্দ” বলে ফল খেয়ে মারা গেল। তার মাথার মমি করা হল, চামড়াটা দিয়ে বানানো হলো ক্যানু। কিছুদিন পরে বাঙ্গালীর পালা।

তাকে জিজ্ঞেস করা হলো কিভাবে মরবে? সে চাইলো একটা কাটা চামচ। এরপর কাটা চামচটা দিয়ে নিজের শরীরের নানা জায়গায় আঘাত করতে করতে বলল,”হারামজাদা! পারলে এইবার নৌকা বানা”

 

১৪৬)

একদা এক বিবাহিত রমনী হাটতে হাটতে ফাঁদে আটকানো এক ব্যাঙ কে দেখে উদ্ধার করল।ব্যাঙ খুশী হয়ে রমনীকে তিনটা ইচ্ছা প্রকাশ করতে বলল,যা সে পূরন করবে কিন্তু শর্ত হলো রমনীর পুরনকৃত ইচ্ছার চেয়ে ৫ গুন স্বামীকে প্রদান করবে।

রমনী খুশী হয়ে ১ম ইচ্ছা বলল,” আমি বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দরী মহিলা হতে চাই”

ব্যাঙ,” চিন্তা করে দেখ, তোমার স্বামী কিন্তু তোমার ৫ গুন সুন্দর হবে”

রমনী,” সে আমার স্বামী,আমি তাকে সুন্দর দেখতে চাই”

ব্যাঙ রমনীর স্বামীর প্রতি প্রেম দেখে খুশী হয়ে ১ম ইচ্ছা পূরন করলো।

রমনী এবার তার ২য় ইচ্ছা বলল,” আমি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী মহিলা হতে চাই”

ব্যাঙ,” চিন্তা করে দেখ, তোমার স্বামী কিন্তু তোমার ৫ গুন ধনী হবে”

রমনী,” সে আমার স্বামী,তার সম্পদ আমার,আমার সম্পদ তার”

ব্যাঙ খুশী হয়ে ২য় ইচ্ছা পূরন করলো।

রমনী এবার ভেবে-চিন্তে তার ৩য় ইচ্ছা বলল,” আমি চাই আমার মাঝারী ধরনের হার্ট এটাক হোক”

ব্যাঙ অবাক আর কষ্ট পেয়ে বলল,” চিন্তা করে দেখ, তোমার স্বামী কিন্তু মারা যাবে”

রমনী,”তা নিয়ে চিন্তা নাই, আরেকটা পাবো”

 

১৪৭)

এক ব্যাংকার ভদ্রলোকের এক হেবি সুন্দরী মাইয়া আছিল। ব্যাংকার ভাবল, মাইয়াডারে যদি কোন রাজার সাথে বিয়া দিয়া যাইতো, তাইলে টাকার চিন্তা আর থাকতো না।

কিছুদিন পরেই আফ্রিকান নিগরো এক রাজা আইল ব্যাংকারের কাছে, একাউন্ট খোলার জন্য। ব্যাংকার মাইয়ারে ডাইকা রাজার সাথে বেড়াতে পাঠাল, আর মাইয়ারে কইয়া দিল, যেকোন কায়দায় জামাই বানাইতে। মেয়ে তো মোটেই রাজি না, কিন্তু কি আর করা, বাপরে তো অসন্তুস্ট করা যায় না।

বেড়াইতে যাইয়া মাইয়া রাজারে কইল, আমি যার সাথে বিয়া করবো, তারে আমার তিনডা ইচ্ছা পুরোন করা লাগবো।

সাগ্রহে রাজা কইল কি?

নং ১ – ১২৪ ক্যারেট হিরা দিয়া আমারে আংটি দিতে হবে।

এইডা কোন ব্যাপার না, আমার আছে আমি দিব।

নং ২ – আমেরিকায় আমারে ১০০ কামরার একখান বাড়ী বানাইয়া দিতে হবে।

ঐডাও পারুম। আনন্দের সাথে কইয়া ফালাইল, রাজা।

চিন্তায় পড়ে গেল মাইয়া, তাইলে কি করা যায়, এই ব্যাডারেই কি বিয়া করতে হবে?

অনেক ভাইবা চিন্তা মেয়ে বলল, পুরা ১৪ ইঞ্চি থাকন লাগব।

শুনে রাজা রাজা কাঁদতে শুরু করল, অনেক্ষণ পরে কইল, কেটে ১৪ ইঞ্ঝি করতে যদিও কষ্টে বুকটা ফাইটা যাবে, তবুও আমি রাজি!

 

১৪৮)

– ডাক্তার, আমার ছেলের মনে হয় গনোরিয়া হয়েছে। ফোনে এক রোগী তার ডাক্তারকে ফোন করলো। বাড়ির কাজের মেয়ের সাথেই সে একমাত্র আকামটি করেছে।

– ঠিক আছে, ও তো একটা বাচ্চা। ওর সাথে খারাপ আচরণ কোরো না। ডাক্তার বললো। ওকে চেম্বারে নিয়ে এসো। সব ঠিক হয়ে যাবে।

– কিন্তু ডাক্তার। আমিও তো ওই কাজের মেয়ের সাথে উল্টাপাল্টা করেছি। আমারও মনে হয় গনোরিয়া হয়েছে।

– তাহলে তুমিও চলে এসো। দু’জনের চিকিৎসা এক সাথে করে দেই।

– ডাক্তার, আমার স্ত্রীর-ও যে গনোরিয়া আছে।

– শয়তানের বাচ্চা। আগে বলবি না। ডাক্তার চেঁচিয়ে উঠলো। তার মানে আমারও গনোরিয়া হয়েছে।

 

১৪৯)

সি. আই. এ অফিসে নতুন এজেন্ট দরকার। প্রার্থী দুইজন পুরুষ, একজন মহিলা।

এদের নার্ভ কেমন শক্ত তা পরীক্ষা করতে কর্তৃপক্ষ তাদের প্রত্যেককে একটি করে পিস্তল দিল। এদের কাজ হবে পাশের রুমে এদের একজন প্রিয় মানুষ আছে। তাকে গুলি করতে হবে। তবে এদের জানানো হয়নি পিস্তলে আসলে কোন গুলি নেই।

প্রথম প্রাথী রুমে প্রবেশ করে দেখল একটি চেয়ারে হাত মুখ বাধা অবস্থায় তার স্ত্রী। প্রিয় জনকে দেখে তার চোখ দিয়ে পানি পড়তে শুরু করে। গুলি করার বদলে ছুটে গিয়ে সে তার স্ত্রীকে মুক্ত করল । ফলে এই পরীক্ষায় সে ফেল মারল।

দ্বিতীয় প্রার্থীর বেলায়ও একই ব্যাপার ঘটল।

তৃতীয় মহিলা প্রার্থী ভেতরে প্রবেশ করে তার স্বামীকে হাত বাধা অবস্থায় পেল। অনেকক্ষণ পর সেই মেয়ে হাপাতে হাপাতে বেরিয়ে আসল। রেগে মেগে বলতে লাগল আপনারা কি পিস্তল দিয়েছেন গুলিই বের হয় না। শেষ পর্যন্ত পিস্তলের বাট দিয়ে পিটিয়ে আমার স্বামীকে মারতে হয়েছে।

 

১৫০)

রমিজের মেজাজ খুব খারাপ আজকাল। ডান হাতের ব্যথা আর সারেই না। রমিজের বন্ধু জমির বলল, “ডাক্তার দেখায়া কি করবি, অনেক তো দেখাইলি, হুদাই টাকা নষ্ট। সামনের একটা মার্কেট এ ১০ টাকা দিয়া একটা কম্পিউটারে পেশাব সেম্পল দিলে এক্কেবারে ঠিক ডায়াগনোসিস আর ঠিক ওষুধ দিয়া দেয়। আমার লগে ল।”

রমিজ ভাবলো, “ঠিক ই তো!” গেল ওই কম্পিউটারের কাছে। গিয়ে তার পেশাবের সেম্পল দিল। ৫ মিনিট পরে স্লিপ বের হয়ে এলো, যাতে লিখা আছে, “তোমার টেনিস এলবো হয়েছে , প্রতিদিন ডান হাতে গরম সেঁক দিলে ১০ দিনে ঠিক হয়ে যাবে।”

রমিজ তো তাজ্জব! যাই হোক, বাসায় গিয়ে ওই অনুযায়ী সেঁক দিয়ে দেখলো, ব্যথা কমছে।

হঠাৎ রমিজ ভাবল , কম্পিউটাররে তো বোকা বানানো যায়। তাই সে করলো কি, তার বীর্য, কুকুরের মল, তার স্ত্রীর আর তার মেয়ের পেশাব টয়লেটে গিয়ে কালেক্ট করে একটা মিক্সচার বানিয়ে ওই কম্পিউটারে জমা দিল আর অপেক্ষা করতে থাকলো রেসাল্টের জন্য। ৫ মিনিট পর স্লিপ আসল, তাতে লিখা আছে , “তোমার কুকুরের উকুন হয়েছে, এন্টি ফাঙ্গাল ওষুধ খাওয়াও; তোমার মেয়ে আবার প্রেগন্যান্ট, তোমার দারোয়ানকে বের করে দাও;  তোমার বউ গতকাল এবরশন করিয়েছে , বাচ্চাটা তোমার ছিলনা। আর তুমি যদি তোমার ডান হাতে হাত মারা বন্ধ না কর, তবে তোমার টেনিস এলবো কখনই ভালো হবেনা।” ধন্যবাদ।”

 

১৫১)
মানসিক রোগীদের হাসপাতাল।

জুমনের ঘরে ঢুকলো নার্স। জুমন খাটের ওপর শুয়ে হাত দুটো সামনে বাড়িয়ে গুনগুন শব্দ করছে।

“জুমন, কী হচ্ছে এসব?”

জুমন বললো, “আমি গাড়ি চালাচ্ছি, চট্টগ্রাম যাবো।”

পরদিন রাতে নার্স দেখলো, জুমন বসে বসে ঝিমোচ্ছে। “জুমন, কী হচ্ছে এসব?”

“মাত্র পৌঁছালাম চট্টগ্রামে, বিরক্ত কোরো না।” হেঁকে বললো জুমন।

এবার পাশের ঘরে সুমনের ঘরে গেলো নার্স। দেখলো, সেখানে সুমন বিছানায় শুয়ে আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গি করছে।

“সুমন, কী হচ্ছে এসব?” প্রশ্ন করলো নার্স।

“আহ! জ্বালাতন কোরো না। দেখতে পাও না, জুমনের বউয়ের সাথে প্রেম করছি? ঐ শালা তো গেছে চট্টগ্রাম!”

 

১৫২)

ইংরেজ শাসন আমলের রাজস্থানের মরুভুমিতে একটা দুর্গ। সেইখানে সেনাপতি হয়ে এসেছে জাত্যাভিমানী এক ইংরেজ যুবক। এসেই শুরু করছে হম্বি-তম্বি। এরে ধমকায় ত ওরে মারে। কোনো কিছু তার পছন্দ হয় না। ইন্ডিয়ানদের রুচি নাই। চোর-বাটপার সব কয়টা। প্রথম দিনেই দুর্গ পরিদর্শনের সময় সেনাপতি দেখে একটা উট বাধা। ” ওই হারামজাদা। উট এইটা কিসের জন্য? ” একজন কাচুমাচুভাবে বলল ” আমরা তিন-চার মাস একটানা দুর্গে থাকি। এইখানে কোনো মেয়ে নাই। সৈনিকরা মাঝে মাঝে খুব একা বোধ করলে এই উট ব্যাবহার করে। ” সেনাপতি ত bloody indian দের কথা শুনে থ। শুয়োরের বাচ্চারা উটকে “কামে” লাগায়…ছি ছি ছি। সে কড়া নির্দেশ দিলো যে এরপর কোনো নেটিভ হারামজাদা উট ব্যাবহার করলে তাকে ঝুলিয়ে পিটানো হবে। যাই হোক তার কড়া শাসনে দুর্গে নিয়ম-শৃংখলা ফিরে আসলো। সবাই সোজা। সব কিছু ঠিকমত চলছে। মাসের পর মাস যাচ্ছে।

এক সময় সেনাপতির একা একা লাগা শুরু করল। শালার একটা মাইয়া দেখি নাই গত চার মাস। আরো এক মাস গেলো। একদিন সকালে সে হুকুম দিলো, শুয়োরের বাচ্চারা, উটটা নিয়ে আয় আমার তাবুতে। কিছুক্ষন ধস্তা-ধস্তি হল। উটের চিৎকার শুনা গেল। এরপর সেনাপতি প্যান্টের চেইন লাগাতে লাগাতে বের হয়ে আসল। বড় বড় চোখ করে bloody indian গুলো তাকিয়ে আছে। এদের দিকে তাকিয়ে সেনাপতি বলল, খারাপ না, তোরাও কি এইভাবেই ব্যাবহার করিস?

– না হুজুর। আমরা এইটাতে চড়ে মাইলদুয়েক দূরের একটা শহরে যাই।

 

১৫৩)

বব আর লিসার বিয়ের ত্রিশতম বার্ষিকী। দুইজনেরই বয়স হয়েছে। দীর্ঘ বিবাহিত জীবনে নানা ঝামেলা এসেছে, সেই ঝামেলা পাড়িও দিয়েছে। আজ তারা চারটি ছেলে সন্তানের বাবা-মা। সুখের জীবন।

অনুষ্টান শেষে, রাতের বেলা লিসা ববকে বলল, আজকে রাতে তুমি আমাকে একটা সত্য কথা বলবে?

বলব।

তুমি বিবাহিত জীবনে আমি ছাড়া আর কয়টা মেয়ের সাথে শুয়েছো?

বব উত্তর দিতে একটু দেরি করছে। লিসা তাই বলল, দেখো, আমরা এমন বয়সে চলে এসেছি যে একজনকে ছাড়া আরেকজন চলতে পারব না। সুতরাং সত্যি কথা বললেও সমস্যা হবে না।

বব মাথা ঝাকিয়ে বলল, শুয়েছি তিনজনের সাথে…

দুইজনেও চুপ-চাপ। গলা খাকাড়ি দিয়ে বব বলল, আমারো একটা প্রশ্ন ছিল।

কি?

দেখো, আমি আমার সবকয়টা ছেলেকেই সমান চোখে দেখেছি। কোনদিন অবিচার করিনি। আজকে তোমাকে বলি , আমার ভিতর সন্দেহ ছিল জনিকে নিয়ে। সে তার বড় তিনভাইয়ের মত না। তার শারীরিক গঠনও আলাদা। সে চিকন এবং বাকি ভাইদের তুলনায় অনেক বেশি মেধাবি। যে কেউ মাথা খাটালেই বুঝবে, জনির বাপ আর বাকিদের বাপ এক পুরুষ না। আমার খুব সন্দেহ তাকে নিয়ে। তুমি সত্যি করে বলো ত, জনির বাপ আর অন্যদের বাপ কি আলাদা ব্যক্তি?

হ্যাঁ।

জনির বাপ কে?

লিসা কিছুক্ষন মাথা নিচু করে থাকে, এরপর লাজুক মুখে বলে, তুমি।

 

১৫৪)

পঞ্চাশোর্ধ এক ব্যবসায়ী, সুন্দরী এক কল গার্লের সেবা গ্রহণ করলেন এবং তাকে নগদ টাকা না দিয়ে তার অফিসে একটি বিল পাঠাতে বললেন। বিলতো আর গৃহিত সেবার নামে করা যাবে না তাই ব্যবসায়ী গার্লকে পরামর্শ দিলেন তুমি এমন একটা বিল আমার অফিসে পাঠাবে যেন আমি তোমার কাছ থেকে একটি এপার্টমেন্ট ভাড়া নিয়েছিলাম। যথারীতি গার্ল পরের সপ্তাহে ব্যবসায়ীর অফিসে একটি বিল পাঠালেন – এপার্টমেন্ট ভাড়া বাবদ ৫০০০ টাকা ।

ব্যবসায়ী স্বভাব সুলভ কারনে সেই বিলও কাটলেন। ২৫০০ টাকা কেটে বাকী আড়াই হাজার টাকা পাঠালেন গার্ল এর কাছে। বিল কাটার কারণ হিসেবে তিনি লিখলেন :

১) আমি ভেবেছিলাম এপার্টমেন্টটি (?) একদম নতুন আগে কেউ ব্যবহার করেনি, কিন্তু ভাড়া নেয়ার পর দেখলাম এটি আগেও ভাড়া হয়েছে।

২) ভাড়া নেবার সময় আমি ভেবেছিলাম এপার্টমেন্টটি (?) অনেক ছোট এবং সুন্দর, কিন্তু ভাড়া নেবার পর দেখলাম অনেকে এই এপার্টমেন্ট ব্যবহার করায় এর আকার অনেক বড়। এত বড় এপার্টমেন্ট আমার পছন্দ নয়।

৩) ভাড়া নেবার সময় আমি ভেবেছিলাম এপার্টমেন্টটি (?) অনেক গরম হবে, কিন্তু ভাড়া নেবার পর দেখলাম এটি একেবারেই ঠান্ডা।

কলগার্ল ব্যবসায়ীর এই কারণ সহ অর্ধেক পেমেন্ট পেয়ে রেগে গেলেন এবং আড়াই হাজার টাকা ফেরত পাঠিয়ে দিয়ে পুরো ৫০০০ টাকা দেবার অনুরোধ করলেন এবং ব্যবসায়ীর কারণ গুলোর বিপরীতে লিখলেন:

১) তুমি কি করে ভাবলে এত সুন্দর এপার্টমেন্টটি (?) ভাড়া না হয়ে এতদিন পরে থাকবে?

২) এপার্টমেন্টটি (?) আসলে সুন্দর এবং ছোটই ছিল, কিন্তু তোমার যদি এই এপার্টমেন্টটি ভর্তি করার মত ফার্নিচার (??) না থাকে তাহলে আমার কি করার আছে?

৩) এপার্টমেন্টটিতে (??) আসলে অনেক গরমই ছিল কিন্তু তুমিতো জানই না এটা কি ভাবে অন করতে হয়।

তাই আমার পুরো পাওনা ৫০০০ টাকাই দিতে হবে।

 

১৫৫)

আরাম খান ফাদারের কাছে গিয়ে বলল, “ফাদার , আমার দুইটা মেয়ে তোতা আছে,কিন্তু ওরা একটা কথা ছাড়া আর কিছুই বলেনা।”

ফাদার বললেন, “কি বলে ওরা?”

আরাম খান বললেন, “ওরা খালি বলে, হেই, আমরা দুই নষ্টা, আসো, স্ফূর্তি করি।”

ফাদার বললেন, “খুব খারাপ কথা ….. তবে আমার আরো দুইটা পুরুষ তোতা আছে, ওরা সারাদিন প্রভুর নাম জপ করে … ওদের সাথে রাখলে তোমার মেয়ে তোতাগুলো আর খারাপ কথা বলবেনা, ভালো হয়ে যাবে।” এই বলে ফাদার ওই মেয়ে তোতা দুইটা কে পুরুষ তোতা দুইটার খাচায় ঢুকিয়ে দিলেন। তখনও পুরুষ তোতা দুইটা চোখ বন্ধ করে অন্যদিনের মতই জপ করছিল। ঢুকিয়ে দেওয়ার পরপরই অন্যদিনের মতই মেয়ে তোতা দুইটা পুরুষ তোতা দুইটার দিকে চোখ মেরে বলল, “হেই, আমরা দুই নষ্টা, আস স্ফূর্তি করি!”

সাথে সাথে একটা পুরুষ তোতা তার চোখ খুলে অন্য তোতা কে বলল, “দোস্ত , এইবার জপ করা বন্ধ করতে পারস , আমাগো দীর্ঘদিনের আশা পূর্ণ হইসে।”

 

১৫৬)

এক ভদ্রমহিলা প্রচণ্ড জোরে কাঁদছেন শুনে একজন জিজ্ঞেস করলো, ম্যাডাম আপনি কাঁদছেন কেন?

-কী বলবো! গতকাল ডাকাত পড়েছিল আমার ঘরে,সমস্ত গয়না ডাকাতি করে নিয়ে গেছে।

-যাক! ইজ্জতটা তো বেঁচেগেছে!

– ওটা বেচেইতো গয়না কিনেছিলাম!

 

১৫৭)

এক দম্পতির বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। কিন্তু একমাত্র বাচ্চা কার কাছে থাকবে এটা নিয়ে কোর্টের দ্বারস্থ হলো তার।বিচারক প্রথমে মহিলাকে বলল, ” বাচ্চা আপনার কাছে রাখার যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিন।”

স্ত্রী, “আমি ১০ মাস পেটে ধারণ করেছি এবং জন্ম দেবার সময় কষ্ট ভোগ করেছি, অতএব আমার সন্তান আমার প্রাপ্য!”

বিচারক এবার স্বামীর কাছে শুনতে চাইলেন তার যুক্তি।

স্বামী, “হুজুর আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দিন। একটি কয়েন, কফি মেশিনে ফেলার পরে কফি বের হয়ে আসলো, এই কফির মালিক কে আমি না কফি মেশিন?”

 

১৫৮)

রাতে ঘুমানোর সময় বয়ফ্রেন্ড মেয়ের ঘাড়ে টোকা দিলো, মেয়ে বিরক্ত হয়ে বললো আজ না, কাল আমার গাইনোকলজিস্টের সাথে অপোইন্টমেন্ট আছে এবং আই ওয়ান্ট টু স্মেল নাইস অন্ড ফ্রেশ দেয়্যর। বয়ফ্রেন্ড মনঃক্ষুন্ন হয়ে ঘুড়ে শুলো। একটু পর আবার টোকা, এবার গার্লফ্রেন্ড বল, “বুঝেছি, কিন্তু আমার ডায়রিয়া!” মনক্ষুণ্ণ হয় বয়ফ্রেন্ড।

কিছুক্ষণ বয়ফ্রেন্ড বললো, “বাই দ্য ওয়ে, আশা করি কাল তোমার ডেন্টিস্টের সাথে অপোইন্টমেন্ট নেই, না কি?”

 

১৫৯)

বিয়ের পর মেয়ের হাত ছেলের হাতে দেওয়া হয় কারন ছেলেটি তার হাত ব্যবহার করতে করতে ক্লান্ত…

 

১৬০)

কোন এক সিনেমা হলের টিকেট চেকারের একটা মেয়ে টিয়া পাখি ছিল। টিয়াটা কথা বলতে পারতো। মুলত: চেকারকে সাহায্য করার জন্য টিয়াটি কথা বলতো। হলের প্রতিটি শো এর আগে দর্শকরা টিকেট কেটে যখন হলে ঢুকতো তখন টিয়াটি বলত –” একে একে আয়! লাইন ধরে আয়!”

তো একদিন হঠাৎ করে টিয়াটি হারিয়ে গেল। বেচারা টিকিট চেকার অনেক খুজেও টিয়ার সন্ধান না পেয়ে আশা ছেড়ে দিল।

একদিন সকাল বেলা হাসপাতাল থেকে টিয়ার খবর এলো। চেকার হন্তদন্ত হয়ে হাসপাতালে গেলেন এবং টিয়াকে জিজ্ঞাস করলেন এতদিন তুই কোথায় ছিলি?? টিয়া বলল, আর বলিস না। তোর এখান থেকে গিয়েছিলাম জঙ্গলে। অনেক ছেলে টিয়া দেখে অভ্যাসবসত ওখানেও বলে ফেললাম “একে একে আয়! লাইন ধরে আয়”, তারপর আমি এখানে!!

 

১৬১)

এক পুলিশ হাইয়েতে যাচ্ছে। পথের মধ্যে দেখে এক লোককে ন্যাংটা করে কেউ গাছে সাথে বেধে রেখেছে। লোকটা কাদছে। পুলিশ গাড়ি থামাল। লোকটার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, আপনার কি হইছে?

আজকে আমার দিনটাই খারাপ।

সকালে বউয়ের সাথে ঝগড়া হল।

গাড়ি নিয়ে বের হলাম,ওভার স্পীডের জন্য জরিমানা দিলাম।

পথের মাঝে একলোককে লিফট দিলাম। অই ব্যাটা গাড়িতে উঠে আমার আমার বুকে বন্দুক ধরল। সে আমার সব টাকা পয়সা নিয়ে গেছে। আমার জামা কাপড় নিয়ে গেছে। আমার গাড়িটাও নিয়ে গিয়ে আমাকে গাছের সাথে বেধে রেখে গেছে।

পুলিস সব শুনে একটু চিন্তা করল। এরপর নিজের প্যান্ট খুলা শুরু করল। লোকটা বলল, কি করছেন আপনি?

পুলিশ মুচকি হেসে বলল, “ হ! আজকে আপনার দিনটাই খারাপ”

 

১৬২)

সেক্স এজুকেশন কোর্সে তিন পিচ্চি বাজে গ্রেড পেয়েছে। একজন সি, একজন ডি আর একজন এফ।

যে সি পেয়েছে, সে চটে গিয়ে বলছে, “ম্যাডাম এটা একটা কাজ করলো? চল বেটিকে শায়েস্তা করি!”

যে ডি পেয়েছে, সে বলছে, “হ্যাঁ, চল! স্কুল ছুটি হয়ে গেলে যখন কেউ থাকবে না, তখন বেটিকে পাকড়াও করবো …!”

যে এফ পেয়েছে, সে বলছে, “হ্যাঁ, তারপর পাকড়াও করে ম্যাডামের অন্ডকোষে অ্যায়সা জোরসে একটা লাত্থি মারবো না!”

 

১৬৩)

এক লোক ডাক্তার দেখাতে গেছে কারণ তার ইয়ে দাঁড়ায় না। ডাক্তার শুনে বললেন, বিয়ে করছেন?

: না।

: প্রেমিকা আছে ?

: না।

: পরকীয়া করেন ?

: না…

: টানবাজার যান ?

: না।

: মাস্টারবেট করেন?

: না।

ডাক্তার ক্ষেপে বললেন, “ওই মিয়া, তাহলে দাড়া করায়ে কি করবেন? ক্যালেন্ডার টাঙ্গাইবেন!!!”

 

১৬৪)

ক্লাস টু-তে এক পিচ্চি মেয়ে উঠে দাঁড়িয়ে বলছে, ‘টিচার টিচার, আমার আম্মু কি প্রেগন্যান্ট হতে পারবে?’

টিচার বললেন, ‘তোমার আম্মুর বয়স কত সোনা?’

পিচ্চি বললো, ‘চল্লিশ।’

টিচার বললেন, ‘হ্যাঁ, তোমার আম্মু প্রেগন্যান্ট হতে পারবেন।’

পিচ্চি এবার বললো, ‘আমার আপু কি প্রেগন্যান্ট হতে পারবে?’

টিচার বললেন, ‘তোমার আপুর বয়স কত সোনা?’

পিচ্চি বললো, ‘আঠারো।’

টিচার বললেন, ‘হ্যাঁ, তোমার আপু প্রেগন্যান্ট হতে পারবে।’

পিচ্চি এবার বললো, ‘আমি কি প্রেগন্যান্ট হতে পারবো?’

টিচার হেসে বললেন, ‘তোমার বয়স কত সোনা?’

পিচ্চি বললো, ‘আট।’

টিচার বললেন, ‘না সোনা, তুমি প্রেগন্যান্ট হতে পারবে না।’

এ কথা শোনার পর পেছন থেকে ছোট্ট বাবু পিচ্চিকে খোঁচা দিয়ে বললো, ‘শুনলে তো? আমি তো তখনই বলেছি, আমাদের চিন্তা করার কিছু নেই।’

 

১৬৫)

চার তরুণী নান এক কনভেন্টে যোগ দিতে চাইছে।

মাদার সুপিরিয়র বললেন, ‘তার আগে তোমাদের পরীক্ষা নেওয়া হবে। সবাই এক লাইনে দাঁড়াও।’

সবাই লাইনে দাঁড়ানোর পর তিনি প্রথম নানকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘বাছা, তুমি কি কখনও কোনও পুরুষের সেই প্রত্যঙ্গ স্পর্শ করেছ? করে থাকলে নিজের শরীরের কোন অঙ্গ দিয়ে স্পর্শ করেছ?’

লজ্জিত মুখে প্রথম নান বলল, ‘আঙুল দিয়ে, মাদার।’

মাদার সুপিরিয়র পবিত্র পানির একটি বাটি এগিয়ে দিলেন। ‘তোমার আঙুল এ পানিতে ডোবাও, সব পাপ ধুয়ে ফেল, পবিত্র হয়ে এসো আমাদের কনভেন্টে।’

প্রথম নান আঙুল পানিতে ডুবিয়ে কনভেন্টে ঢুকে গেল।

এবার মাদার সুপিরিয়র দ্বিতীয় নানকে বললেন, ‘কি বাছা, তুমিও স্পর্শ করেছ নাকি? স্পর্শ করে থাকলে নিজের শরীরের কোন অঙ্গ দিয়ে স্পর্শ করেছ?’

লজ্জিত মুখে দ্বিতীয় নান বললো, ‘হাত দিয়ে, মাদার।’

যথারীতি মাদার সুপিরিয়র পবিত্র পানির বাটি এগিয়ে দিলেন, হাত ধুয়ে পাপমুক্ত হয়ে দ্বিতীয় নান কনভেন্টে প্রবেশ করল।

এমন সময় চতুর্থ নান তৃতীয় নানকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে সামনে এগিয়ে এল। মাদার অবাক হয়ে বললেন, ‘ও কি, বাছা, ঈশ্বরের পথে অত তাড়া কিসের?’

চতুর্থ নান বলল, ‘উঁহু, মাদার, ও এই পানিতে বসে পড়ার আগেই আমি কুলি করতে চাই।’

 

১৬৬)

আবুল: মফিজ, তোর জীবনটা খুব একঘেয়ে হয়ে যাচ্ছে সেটা কখন টের পাবি, বলতো?

মফিজ: কখন?

আবুল: যখন তুই তোর লিঙ্গের সাইজ মাপতে যাবি। আর এই একঘেয়েমির সাথে প্রতিবার নতুন একটা উপসর্গ যোগ হবে।

মফিজ: সেটা কী?

আবুল: হতাশা!

 

১৬৭)

আবুল: কাল রাতে ঘরে চোর এসেছিল।

মফিজ: বলিস কী!

আবুল: ঘুম ভেঙে গেলে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, সে কী করছে? বলল, টাকা-পয়সা খুঁজছে।

মফিজ: তুই চোরটাকে ধরে পুলিশে দিস নাই?

আবুল: না…

মফিজ: তবে?

আবুল: আমিও তার সাথে টাকা-পয়সা খুঁজতে শুরু করছিলাম।

 

১৬৮)

মেয়েরা যখন বলে, সব পুরুষরাই সমান, তখন বুঝতে হবে মেয়েটির স্বামী বা বয়ফ্রেণ্ড চাইনীজ এবং চায়নাতে বেড়াতে যাওয়ার পর মেয়েটি তার স্বামী বা বয়ফ্রেণ্ডকে হারিয়ে ফেলে রাস্তায় রাস্তায় খুঁজে বেড়াচ্ছে।

 

১৬৯)

গ্রামে চাচার খামারে বেড়াতে গেছে ছোট্ট বাবু। কয়েকজন অতিথির সাথে চাচা গল্প করছে, এমন সময় সে ছুটতে ছুটতে এলো।

‘চাচা, চাচা, জলদি দেখে যাও! তোমার ষাঁড় একটা গরুকে লাগাচ্ছে !’

বিড়ম্বিত চাচা অতিথিদের কাছে ক্ষমা চেয়ে ছোট্ট বাবুকে কানে ধরে বাইরে নিয়ে এলেন। ‘শোন, এখন থেকে বলবে, “ষাঁড়টা গরুটাকে চমকে দিয়েছে”, বুঝলে? ‘

পরদিন আরো কয়েকজন অতিথির উপস্থিতিতে ছোট্ট বাবু ছুটতে ছুটতে এলো। ‘চাচা, চাচা, জলদি দেখে যাও! তোমার ষাঁড় গরুগুলোকে চমকে দিয়েছে!’

অতিথিরা সমঝদারের মতো মুচকি হাসলেন। চাচা বললেন, ‘ঠিক আছে, ছোট্ট বাবু। কিন্তু তুমি নিশ্চয়ই বলতে চাইছো যে ষাঁড়টা একটা গরুকে চমকে দিয়েছে, গরুগুলোকে নয়?’

ছোট্ট বাবু বললো, ‘না, সব গরুকেই ব্যাটা চমকে দিয়েছে, কারণ সে এখন মাদী ঘোড়াটাকে লাগাচ্ছে!’

 

১৭০)

ডন ঘরে ঢুকতেই দেখলো তার স্ত্রী জিমির সাথে শুয়ে আছে ।  সে জিমিকে বললো, বাস্টার্ড সাহস থাকে তো আয় দুটো পিস্তল নিয়ে ডুয়েল লড়ি ।  যে জিতবে লিন্ডা তার হবে ।  বলে জিমিকে নিয়ে পাশের ঘরে চলে গেল ।  পাশের ঘরে ডুয়েল যাবার সময় জিমি বললো, ডন কেন মিছিমিছি আমাদের মাঝে একজন মরবো, তারচেয়ে বরং দুজনেই মরার ভান করে শুয়ে থাকি, লিন্ডা যাকে নিয়ে কাদঁবে, লিন্ডা তার হবে ।  বলে দুজনে মটকা মেরে শুয়ে পরল এবং দুটি গুলির আওয়াজ করল ।  ডনের স্ত্রী ঘরে ঢুকে দেখল দুজনেই মরে পড়ে আছে ।  সে তখন খাটের তলা থেকে তার আরেক প্রেমিক মাইকেলকে ডেকে বললো মাইকেল চলো এসো, এরা দুজনেই মরেছে, আর কোনো বাঁধা নেই ।

 

১৭১)

গলফ খেলতে গেছে টিনা। সাঁই করে ব্যাট চালালো সে। তারপর দেখতে পেলো, তার টার্গেটের কিছুটা দূরে এক লোক হঠাৎ কোমরের নিচটা চেপে ধরে শুয়ে পড়লো।

‘নিশ্চয়ই আমার বলটা ওর ওখানটায় গিয়ে লেগেছে!’ আঁতকে উঠলো সে। তারপর ছুটে গেলো সেখানে। দেখা গেলো, লোকটা কোঁকাচ্ছে সমানে, কোমরের নিচটায় হাত চেপে রেখেছে সে। টিনা বললো, ‘ভয় পাবেন না, আমি জানি কী করতে হবে। খুব ব্যথা করছে?’

লোকটা কোনমতে বললো, ‘হ্যাঁ।’

টিনা তখন এগিয়ে গিয়ে, বেচারার প্যান্ট খুলে, মিনিট দশেক ম্যাসেজ করে দিলো। তারপর বললো, ‘এখন কেমন বোধ করছেন?’

লোকটা বললো, ‘দারুণ, কিন্তু বুড়ো আঙুলটায় এসে বল লেগেছে তো, সাংঘাতিক ব্যথা করছে।’

 

১৭২)

এক লোক বাজারে গেছে মুরগী কিনতে। সে মুরগিওয়ালাকে বলল একটা রাজশাহীর মুরগী দেও। মুরগিওয়ালা একটা মুরগি দিয়া বলল এই নেন রাজশাহীর মুরগি। লোকটা মুরগীর পাছা দেখে কইলো। অই মিয়া এইডা তো রাজশাহীর মুরগী না। এটা যশোর এর মুরগী।

মুরগিওয়ালা অনেক খুজে আরেকটা মুরগি দিয়া কইলো এই নেন রাজশাহীর মুরগি। লোকটা আবার মুরগীর পাছা দেখে কইলো, ধুর মিয়া এইডাও তো রাজশাহীর মুরগি না। এটা ফরিদপুরের এর মুরগী।

মুরগিওয়ালা এবার অনেকক্ষণ খুঁজে আরেকটা মুরগি দিয়া কইলো এই নেন এইটাতো রাজশাহীর মুরগি হইবোই।

লোকটা এবার রাইগা কইলো। কি মিয়া? কি ব্যবসা কর একটা মুরগিও চিনো না। তোমার বাড়ি কই?

এইবার মুরগিওয়ালা পিছন ফিরে লুঙ্গি উপরে তুইলা কইলো আপনেই দেইখা কয়া দেন আমার বাড়ী কই?

 

১৭৩)

পরীক্ষার আগে রাজিব ভাইয়ের পাশের বাড়ির মেয়ে সকিনা আইসা রাজিন ভাইকে বই থেকে কিছু প্রশ্ন করছে।

রাজিব ভাই মুখস্ত বিদ্ধ্যা তো, ফটা ফট উত্তর দিয়া দিছেন।

সকিনা বলছেঃ ওম্মা! তোমার তো দেখছি মাথায় মেলা জ্ঞান আছে। আমাকে একটু দিবে?

রাজিব ভাইঃ ঠিক আছে, ঠিক আছে! আমার পাশে এসে বসো।

মেয়ে পাশে এসে বসলো।

রাজিব ভাইঃ এতো দূরে কেন? আরো কাছে আসো।

মেয়ে আরেকটু কাছে আসলো।

রাজিব ভাইঃ আরে, আরো কাছে আসতে হবে।

মেয়েঃ না বাবা না! আমি আর কাছে আসতে পারব না।

রাজিব ভাইঃ ওম্মা তোমারও তো দেখছি ব্যাপক জ্ঞান আছে।

 

১৭৪)

এক হাসপাতালের করিডরে এক মহিলা আর এক পুরুষ দানকেন্দ্রের সামনে বসে অপেক্ষা করছিল। পুরুষটি মহিলা কে জিজ্ঞেস করলো, “আপনি কী দান করতে এসেছেন?”

মহিলা বলল, “আমি রক্ত দান করতে এসেছি, এর জন্য আমি ৫ ডলার পাব”

পুরুষটি বলল, “ওহ … আমি স্পার্ম দান করতে এসেছি, এর জন্য তারা আমাকে ২৫ ডলার দেবে”

মহিলাটিকে কিছুক্ষণের জন্য চিন্তিত মনে হলো, তারপর তারা খানিকক্ষণ গল্প করে নিজ নিজ বাসায় চলে গেল।

কয়েকমাস পর তাদের আবার ওই হাসপাতালের করিডরে দানকেন্দ্রের সামনে দেখা হলো। পুরুষটি মহিলাকে বলল, “এবার আমি রক্ত দিতে এসেছি, আপনি?”

মহিলাটির মুখ বন্ধ থাকায় কোনো মতে সে মাথা ঝাকিয়ে উত্তর দিল, “উমমমম মমম…”

 

১৭৫)

এক গৃহকর্মী তার মালিক গৃহকত্রীর কাছে বায়না ধরেছে তার বেতন বাড়াতে হবে।

গৃহকত্রীঃ তোমার বেতন বাড়ানো হয়েছে ছয় মাসও হয় নি। এখনি আবার বেতন বাড়ানোর আবদার কেন?

গৃহকর্মীঃ এই সময়ের মধ্যে আমি তিনটি সার্টিফিকেট পেয়েছি…। তাই বেতন বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছি।

গৃহকত্রীঃ কি কি সার্টিফিকেট?

গৃহকর্মীঃ আমি আপনার চেয়ে ভাল কাপড় আয়রন করতে পারি।

গৃহকত্রীঃ কে দিয়েছে এই সার্টিফিকেট?

গৃহকর্মীঃ জ্বী, স্যার মানে… আপনার স্বামী……

গৃহকর্মীঃ হুম, আর কি সার্টিফিকেট পেয়েছো……

গৃহকর্মীঃ আমি আপনার চেয়ে ভাল রান্না করতে পারি…

গৃহকত্রীঃ কে বলেছে তুমি আমার চেয়ে ভাল রান্না কর? (বেশ রাগত স্বরে…)

গৃহকর্মীঃ জ্বী, আপনার স্বামী বলেছেন…

গৃহকত্রীঃ আচ্ছা ঠিক আছে, হতে পারে তুমি আমার চেয়ে ভাল রান্না কর……আমি কি চাকরানী নাকি যে ভাল রান্না জানতে হবে? বলো আরেকটি কি সার্টিফিকেট পেয়েছ?

গৃহকর্মীঃ আমি আপনার চেয়ে বিছানায় ভাল পারফর্ম করতে পারি।

কত্রী তো এবার রেগে আগুন। আমার স্বামী বলেছে এই কথা?? ওর সাথে তোমার তাহলে এইসবও হয়??

গৃহকর্মীঃ জ্বী না, আপনার স্বামী বলেনি……বলেছে আপনার গাড়ির ড্রাইভার!

গৃহকত্রীঃ (কত্রী এবার চুপ…) ঠিক আছে তোমার বেতন বাড়ায়ে দেয়া হবে…এসব নিয়ে কথা বলার দরকার নাই।

 

১৭৬)

এক তরুণী মেয়ে আর এক বুড়ো দাদু গিয়েছে ওজন মাপতে। প্রথমে মেয়েটা ওজন মাপাবার যন্ত্রে উঠলো, যন্ত্রের ভিতরে কয়েন ফেলল, টিকেট বেরিয়ে এল, ওজন ৬৪কেজি।

এবার মেয়েটা নামলো, কাধ থেকে ব্যাগটা নামাল, আবার যন্ত্রের উপর উঠলো, যন্ত্রের ভিতরে কয়েন ফেলল, টিকেট বের হয়ে এল, ওজন ৬৩কেজি।

আবার মেয়েটা নামলো, জ্যাকেটটাকে খুলল, যন্ত্রের উপর উঠলো, যন্ত্রের ভিতরে কয়েন ফেলল, টিকেট বের হয়ে এল, ওজন ৬২কেজি।

আবার মেয়েটা নামলো, ট্রাউজার খুলল, যন্ত্রের উপরে উঠলো, কয়েন শেষ।

এতক্ষণ ধরে বুড়ো দাদু সবকিছু দেখছিল। এবার সে কেশে বলল, “খুকী, চালিয়ে যাও। কয়েন লাগলে আমি দেব।”

 

১৭৭)

শফিকের খুব মাথাব্যথা থাকে আজকাল। এর জন্য অনেক ডাক্তার দেখিয়েছে … কিন্তু  কিছুই হয়নি। এর মাঝে কিছুদিন আগেই সে নতুন বিয়ে করেছে। কিন্তু ওই হারামজাদা মাথা ব্যথার জন্য সে ঠিক মত বাসরটাও উপভোগ করতে পারেনি। তাই সে এবার শেষ চিকিত্সা মনে করে এক কবিরাজের কাছে গেল।

কবিরাজ তাকে বলল, “বাবা, তোমার এই মাথা ব্যথার কারনটা আমি বের করতে পেরেছি … এটা খুব খারাপ কিন্তু বিরল একটা রোগ … … তোমার অন্ডকোষটা বড় হয়ে তোমার স্পাইনাল কর্ডের নিচে চাপ দিচ্ছে … তারই ফলস্বরূপ তোমার খুব খারাপ মাথাব্যথা হয় … যার জন্য তুমি অনেক সময় চোখে দেখতেও পাওনা!

শফিক দেখল, “তাই তো! ওই রকমই মাথাব্যথা হয় সে কবিরাজকে জিজ্ঞেস করলো, “আমার চিকিত্সা কি?”

কবিরাজ বলল, “এর একটাই চিকিত্সা … তোমার অন্ডকোষটা ফেলে দিতে হবে!”

শফিক ভাবলো, “শালার দুনিয়া, কিছুদিন আগেই বিয়া করলাম; এখন যদি অন্ডকোষ ফালায়া দিতে হয় …! হায়রে কপাল!!”

কিন্তু পরক্ষণে সে ঠিক করলো, “নাহ … এই মাথাব্যথার হাত থেকে মুক্তি চাই।”

অন্ডকোষটা ফেলে দেওয়ার পর শফিকের মনে হতে লাগলো, সে একটা নতুন মানুষ … তার মাথাব্যথাটাও আসলেই একবারেই নাই!! তাই সে একটা কাপড়ের দোকানে ঢুকলো … একটা শার্ট বানাবে। দোকানে ঢুকে শার্টের কথা বলতেই দর্জি তাকে বলল, “দেখি, … হুমমমম … কলার সাইজ ১৬”। দেখে বলে দিল দর্জি। তারপর একটা শার্ট পরালো শফিক কে। শফিক দেখল খুব সুন্দর ফিট হয়েছে। তাই সে দর্জিকে বলল, “কিভাবে নিখুঁতভাবে বললেন?” দর্জি বলল, “বাবা … ৬০ বছরের অভিজ্ঞতা … এখন একটা প্যান্টও বানাবে?”

শফিক বলল “ঠিকাছে”

দর্জি বলল “হুমমম … তোমার কোমর হবে ৩২, লম্বায় হবে ৪০”

তারপর একটা প্যান্ট পড়তে দিল। শফিক দেখল, খুব সুন্দর ফিট করেছে। সে বলল, “কিভাবে নিখুঁতভাবে বললেন?”

দর্জি বলল, “বাবা, ৬০ বছরের অভিজ্ঞতা! তো, এখন একটা জাঙ্গিয়া নিবে না?”

শফিক বলল, “আপনি বলেন, কী সাইজ হবে?”

দর্জি বলল, “হুমমমম … সাইজ হবে ৩৪”

শফিক হাসতে হাসতে বলল, “নাহ, এবার হয়নাই … আমি ১৮ বছর বয়স থেকে ২৮ সাইজ পরি … ঐটাই আমার নিখুঁত ফিট হয়।”

দর্জি বলল, “অসম্ভব, ২৮ সাইজের জাঙ্গিয়া পড়লে তোমার অন্ডকোষটা তোমার স্পাইনাল কর্ডের নিচে চাপ দিবে, তখন তোমার খুব মাথাব্যথা হবে, যার জন্য তুমি অনেক সময় চোখে দেখতেও পাবেনা।”

 

১৭৮)

১ম বন্ধু: আরে দোস্ত, আমার বউ একদম আমার কথা শুনেনা। খালি উল্টা-পাল্টা করে। কি করা যায়?

২য় বন্ধু: এইরকম মেয়ে লোকের জন্য আমার কাছে একটা ফাস্টক্লাস তরিকা আছে।

১ম বন্ধু: কি সেইটা?

২য় বন্ধু: যেইদিন তোর কথা শুনবেনা সেইদিন সামনে থেকে দুইবার, পিছন থেকে দুইবার, দাড়িয়ে দুইবার লাগাবি দেখবি সব ঠিক হয়ে যাবে।

১ম বন্ধু: এইটা কি আমার বউকে শাস্তি দেয়া না আমাকে শাস্তি দেয়া?

২য় বন্ধু: আরে না তুই এতবার করার পর এতো টায়ার্ড হয়ে যাবি যে বউয়ে উল্টা-পাল্টা করলে আর নজরে পরবেনা।

 

১৭৯)

দুই বন্ধু জমির আর নানক গলফ খেলছে। হঠাৎ নানকের একটা ফোন করার দরকার পড়ল, “কিরে জমির, তর কাছে ফোনে আছে? একটা ফোন করতাম।”

জমির বলল, “ঠিকাছে, এই নে ফোন” এই বলে সে ১২ ইঞ্চি লম্বা একটা ফোন বের করলো। ফোন দেখে তো নানক ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো। জমিরকে জিজ্ঞেস করলো, “কিরে, এই ফোন তুই পাইলি কই?”

জমির বলল, “আমার একটা দৈত্য আছে, ইচ্ছাপূরণকারী দৈত্য, ওই বেটা এই ফোন দিছে।”

নানক বলল, “দেখি তো তোর দৈত্যটা।” জমির গলফ ব্যাগ থেকে দৈত্যটা কে বের করলো। দৈত্যকে দেখেই নানক বলল, “তুমি তো ইচ্ছাপূরণকারী দৈত্য, আমি তোমার মনিবের বন্ধু, তো আমার একটা ইচ্ছা পূরণ কর।” দৈত্য বলল ,” হুকুম করেন জাহাপনা ”

নানক বলল, “আমাকে গাড়ি, বাড়ি আর নারী দাও।”

দৈত্য বলল, “জো হুকুম!” এই বলে সে ভ্যানিস হয়ে গেল। নানক তো অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছে, কখন তার বাড়ি, গাড়ি আর নারী আসে। অপেক্ষা করতে করতে সে যখন মেজাজ খারাপের চূড়ান্ত পর্যায়ে, তখন হঠাৎ করে আকাশ থেকে একটা চুড়ি, একটা হাঁড়ি আর একটা শাড়ি পড়ল! নানকের মেজাজ তো খুব খারাপ, বলল, “কিরে ব্যাটা! চাইলাম নারী গাড়ি বাড়ি … আর ও দিল কিনা চুড়ি হাড়ি আর শাড়ি !!!”

জমির নির্লিপ্ত কন্ঠে বলল, “দোস্ত, বলতে ভুইলা গেছিলাম … আমার দৈত্যটা কানে কম শুনে … … তোর কি মনে হয়, আমি কি ১২ ইঞ্চি লম্বা ফোন চাইছিলাম?”

 

১৮০)

এক ছেলে বাবাকে এসে বলছে, “আমি পাশের বাড়ির আলোর সাথে প্রেম করতে পারি?”

বাবাঃ “বাবা একটা গোপন কথা বলি, আলো আমার মেয়ে, সে তোমার বোন হয়, তুমি অন্য মেয়ে দেখ”

কয়েকদিন পর ছেলে আবার এসে বলল “আমি কি ওই পাড়ার আঁখির সাথে প্রেম করতে পারি?”

বাবা “সেও তোমার বোন, সুতরাং অসম্ভব”

এর কয়েকদিন পর ছেলে এসে আবার বলল, “তোমার বন্ধুর মেয়ে রাখীর সাথে প্রেম করলে কোন সমস্যা?”

বাবাঃ “দুঃখজনক হলেও সেও তোমার বোন হয়”

এরপর ছেলে রেগে গিয়ে মায়ের কাছে গিয়ে বলল, “আমি যে মেয়ের সাথে প্রেম করতে চাই, সেই নাকি আমার বোন হয়। আমি কী করবো?”

মা হেসে বলল, “বাবা, তুমি যে কারো সাথে প্রেম করতে পার, কারন উনি তোমার বাবা না”

 

১৮১)

এক জাপানি ভদ্রলোক এসেছেন বাংলাদেশ ভ্রমনে। এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে সামনে অপেক্ষারত একটা ট্যাক্সিতে চড়ে বসলেন হোটেলে যাওয়ার জন্য। একটু পরে একটা মোটরবাইক পাশ কাটাতেই জাপানিটা সোল্লাসে বলে উঠল, হোন্ডা, মেড ইন জাপান, ভেরী ফাস্ট!! ড্রাইভার কিছু বলল না।

একটু পরে ওভারটেক করল একটা কার, আবার জাপানির চিৎকার, টয়োটা, হাহা, মেড ইন জাপান, ভেরী ফাস্ট!! ট্যাক্সি ড্রাইভার চুপচাপ শুনল, কিছু বলল না।

এরপর একটার পর একটা গাড়ি পেছন থেকে উঠে যাচ্ছে আর জাপানি লোকটার উৎসাহ বেড়ে যাচ্ছে, কখনও মিৎসুবিশি, কখনও হোন্ডা, কখনও টয়োটা বলে লাফাচ্ছে আর মনের আনন্দে গুনকীর্তন করছে, মেড ইন জাপান, ভেরী ফাস্ট!! ভেরী ফাস্ট!!

অবশেষে, হোটেলে পৌছল তারা। ক্যাব থেকে নেমে ভাড়া দিতে গিয়ে টাসকি, এইট হান্ড্রেড টাকা? হাউ কাম?

এতক্ষণ চুপ থাকার পর কথা বলার চান্স পেয়েছে ট্যাক্সি ড্রাইভার, হাহা, ইয়ে মিটার, মেড ইন বাংলাদেশ, ভেরী ফাস্ট! ভেরী ফাস্ট!!

 

১৮২)

বাবা: আমি চাই তুমি আমার পছন্দ মত মাইয়ারে বিয়া করবা!

পোলা: নাহ, আমি নিজে পছন্দ কইরা বিয়া করুম!

বাবা: মাইয়া কিন্তুক বিল গেটসের কন্যা, খিয়াল কইরা!

পোলা: তাইলে আমি রাজি!

পরের ঘটনা, বাবা বিল গেট্সরে প্রস্তাব করতেছে~

বাবা: আমি তোমার মাইয়ার লাইগা একটা ভালা রর খুইজা বাইর করছি!

বিল গেটস: কিন্তুক আমার মাইয়াত অনেক ছুড! বিয়ার বয়স হয় নাই!

বাবা: বুঝলাম, তয় এই যুবকে কিন্তুক ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট!

বিল গেটস: আহ! আগে কয়বা ত, তাইলে আমি রাজি!

শেষে বাবা গেল ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের প্রেসিডেন্টের কাছে।

বাবা: আমি একটা পুলারে রিকমেন্ড করতাসি হেরে তুমি তোমার ভাইস প্রেসিডেন্ট কইরা নাও!

প্রেসিডেন্ট: কিন্তুক আমার প্রয়োজনের থেইকা বেশী ভাইস প্রেসিডেন্ট আসে! আর লাগব না!

বাবা: বুজলাম! কিন্তুক এই পুলাডা বিল গেট্সের মাইয়ার বাগদত্তা!

প্রেসিডেন্ট: আহ! আগে কই বা তো, তাইলে আমি রাজি!

 

১৮৩)

আমেরিকায় তখন ভয়ানক মন্দা চলছে। একদিন এক বারে এক লোক ঢুকে বারটেন্ডারকে বললো, ‘আজকে এই বারের সবাইকে আমার তরফ থেকে এক পেগ।’

বারটেন্ডার বললো, ‘তা ঠিক আছে। কিন্তু এই মন্দার সময় তোমার কাছে এতো টাকা আছে তো…?’

লোকটি একতাড়া ডলার বের করে দেখালো। বারটেন্ডার অবাক হয়ে গেলো, ‘তুমি এতো টাকা কোথায় পেলে?’

লোকটি উত্তর দিলো, ‘বাজি ধরা আমার পেশা।’

বারটেন্ডার বললো, ‘ কিন্তু বাজি মানেই তো ৫০:৫০ চান্স। তাহলে?’

লোকটি বললো, ‘ঠিক আছে, চলো ৫০ ডলার বাজি ধরি, আমি আমার ডান চোখে কামড় দিবো।’

বারটেন্ডার রাজি হলো। বাজিকর তখন তার নকল ডান চোখ খুলো কামড়ে দিলো।

বারটেন্ডার বাজিতে হেরে ৫০ ডলার দিয়ে দিলো।

বাজিকর বললো, ‘হেরে তোমার মন খুব খারাপ হয়েছে বুঝতে পারছি। চলো তোমাকে আরেকটা চান্স দেই টাকা ফেরত নেবার। এসো বাজি ধরি, আমি আমার বাম চোখে কামড় দিবো।’

বারটেন্ডার খুশি হয়ে উঠলো, ‘তোমার ডান চোখ নকল, আবার বারে তুমি দেখে দেখেই ঢুকেছো, তোমার বাম চোখটা তাহলে নকল না। আমি বাজিতে রাজি।’

বাজিকর তখন তার নকল দাঁত খোলে বাম চোখে কামড় দিলো।

‘ধুত’ – বারটেন্ডার বিরক্ত হয়ে বললো।

‘দেখলে, এভাবেই আমি আমার বাজিগুলো জিতি। এবারের ৫০ ডলার আমি তোমার কাছ থেকে নিলাম না। তার বদলে এক বোতল হুইস্কি দাও।’

এক বোতল হুইস্কি নিয়ে বাজিকর চলে গেলো জুয়ার রুমে। প্রায় সারারাত ধরে সে জুয়া খেললো আর হুইস্কির বোতলটা প্রায় খালি করে ফেললো। ভোরের দিকে সে বারটেন্ডারের কাছে এগিয়ে এলো। সে নেশার কারণে ঠিকমতো পা ফেলতে পারছিলো না।

কোনমতে বারের উপর ভর রেখে বাজিকর জড়ানো কণ্ঠে বললো, ‘আমি তোমার সাথে শেষ বাজি ধরতে এসেছি। আমি তোমার এই টেবিলের উপর দাঁড়িয়ে তোমার পেছনের একটা খালি হুইস্কির বোতলে প্রস্রাব করে দেখাবো। বাজি ১,০০০ ডলার।’

বারটেন্ডার বাজিকরকে সারারাতই হুইস্কি খেতে দেখেছে। সে নিশ্চিত সে কোনভাবেই এই বাজিতে জিততে পারবে না। তাই সে খুশি মনে রাজি হয়ে গেলো।

বাজিকর টেবিলের উপর উঠে পেছনের একটা হুইস্কির খালি বোতলে পেশাব ফেলার অনেক চেষ্টা করলো কিন্তু সে এমনভাবে কাঁপছিলো যে সে বোতল বাদে আর সব জায়গাতেই পেশাব দিয়ে ভরিয়ে দিলো।

শেষমেষ লজ্জিত কণ্ঠে বললো, ‘বারটেন্ডার, আমি পারলাম না।’

বারটেন্ডার খুশিতে লাফ দিয়ে বললে, ‘ইয়েস, আমি ১,০০০ ডলার জিতেছি।’

বাজিকর খুশিমনে তাকে ১,০০০ ডলার দিয়ে দিলো। বারটেন্ডার অবাক হয়ে বললো, ‘কি ব্যাপার! তুমি এতো সহজে হার স্বীকার করে নিলে?’

বাজিকর বললো, ‘জুয়ার রুমের লোকগুলোর সাথে আমার বাজি রয়েছে যে আমি তোমার পুরো বারে প্রস্রাব করবো কিন্তু তুমি হাসবে আর আমাকে মারবে না। ওদের সাথে আমি ৫,০০০ ডলার জিতেছি।’

 

১৮৪)

এক লোক একটা লেডিস কাপড়ের দোকান দিলো। একদিন এক সুন্দরী আসলো। দেখে লোকটার খুশী যেনো আর ধরেনা। চিন্তা করলো যে ভাবে হোক মেয়েকে পটাতে হবে। সুন্দরী দুইটা কাপড় নিলো।

লোকটাকে বললো: আচ্ছা এই কামিজের দাম কতো।

লোকটা বিগলিত হাসি দিয়ে বলে: আপনার জন্য মাত্র ১০টা কিস। মানে আমাকে দশটা কিস দিলেই হবে।

সুন্দরী: তাহলে এই জিনসের দাম কতো?

লোকটা: এইটা? আমাকে জড়ায়ে ধরে একটু আদর কইরা দিলেই হবে।

সুন্দরী বলে: ঠিক আছে। এই দুইটা আমি নিলাম। গাড়িতে আমার কাজের বুয়া আছে, সে এসে দাম দিয়ে যাবে।

 

১৮৫)

দুই চাপাবাজ, একজন ঢাকাইয়া আরেকজন কোলকাতাইয়া। দীর্ঘদিন বাদে দেখা। ঢাকাইয়া জিজ্ঞেস করলো, কি দোস্ত কেমুন আছো?

কোলকাতাইয়া: আর দাদা বোলো না। আছি বেশ। দু’আঙুলে কোলকাতাকে নাচাচ্ছি।

ঢাকাইয়া: কউ কি দোস্ত! খাড়াও তোমার এউগা পরীক্ষা লই। পাশ করলে বুঝমু কেমুন তুমি শেঠ।

কোলকাতাইয়া: ঠিক আছে, হয়ে যাক। বলো কি করতে হবে?

ঢাকাইয়া দোস্ত: ওই যে দেখবার লাগছো কাউয়্যাঠুটির গাছ, এউগা কাউয়ার বাসা ভি দেহা যাইতাছে। ওইহানে এউগা কাউয়া বয়া রইছে, ওর পেটের নিচে আন্ডা ভি আছে। এউগা আন্ডা গাছে উইঠা লয়া আইবা মাগার কাউয়া উড়বো না, পারবা?

কোলকাতাইয়া দোস্ত তর তর করে গাছে উঠে গেলো এবং কাকের পেটের তলা থেকে কাকের ডিমও নিয়ে এলো অথচ কাক টেরও পেলো না।

নেমে তৃপ্তির স্বরে সে বললো: এই নাও বন্ধু, কাকের পেটের তলা থেকে ডিম নিয়ে এলুম অথচ কাক ঠিকই বসে আছে (বাহাদুরি দেখিয়ে)।

ঢাকাইয়া: হ, তুমি কোলকাতারে দুই আঙুলে ঘুরাও ঠিকই। গাছে উইঠা কাউয়া না উড়ায়া কাউয়ার পেটের তলা থেইকা আন্ডা ভি লিয়া আইছো ঠিকই। মগর উঠোনের টাইমে যে দুই আঙুলে তোর ধুতি আমি খুইলা রাইখা দিছি দাদা, তুমি হালায় টেরই পাইলা না। নিচে চায়া দেহো পুরা কোলকাতা দেহা যাইবার লাগছে।

 

১৮৬)

একগ্রামে বন্য হাতি ঢুকে সব লন্ড ভন্ড করে ঘর বাড়ি ভেঙ্গে তছনছ করে কলাগাছ সব খাওয়া শুরু করলো । গ্রামের সবাই হাতি তাড়াতে ব্যস্ত এই ফাকে এক কিশোরি বালিকা দৌড়ে চেয়ারম্যানের কাছে খবর দিতে গেল । কিন্তু বিপদের কথা হলো এই কিশোরী আগে কখনো হাতি দেখে নাই । সে গিয়ে চেয়ারম্যান কে উত্তেজিত গলায় বলছে –  চেয়ারম্যান সাব , সর্বনাশ হইছে !! বন থেকে এক অদ্ভুত ইয়া বড় জন্তু গ্রামে ঢুকে গেছে ।

– তাই নাকি !! কিরকম দেখতে জন্তুটা ?/

– ইয়া উঁচা … আর একটা ইয়া মোটা লেজ সেই লেজ দিয়ে সে সব কলা গাছ উপড়ে ফেলছে…

– তারপর !!!

কিশোরি এবার মুখ কান লাল করে লাজুক ভঙ্গিতে বললো –  যাহ !.. তারপর সেই কলাগাছ দিয়ে কি করছে সেটা বলতে আমার লজ্জা করছে !

 

১৮৭)

এক প্রচুর ধনী মহিলা সিদ্ধান্ত নিলেন যে বিয়ে করবেন। ভাল পাত্রের জন্য প্রত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিলেন এবং তিনটি শর্ত জুড়ে দিলেনঃ

১. মহিলার গায়ে হাত তোলা যাবে না।

২. মহিলাকে ফেলে কোথাও যেতে পারবে না।

৩. মহিলাকে বিছানায় সন্তুষ্ট রাখতে হবে।

নির্ধারিত দিনে অনেকেই ভাইভা দিতে আসলো। কেউ প্রথম দুটি শর্ত পূরন করতে পারে তো ৩য় টা পারে না, কেউ ৩য় টা পূরনে সক্ষম তো ২য় টি পূরনে সক্ষম নয়। এভাবে সারা দিন চলে গেল কিন্তু কেউ ই মহিলার মন মতো হল না। মহিলা হতাশ হয়ে বসে রইলেন। তার বুঝি আর বিয়ে করা হয় না। এমন সময় সন্ধ্যার দিকে হটাৎ কলিং বেল বেজে উঠলো। মহিলা নিজেই গিয়ে দরজা খুলে দিলেন। দরজা খুলে দেখেন হাত পা নেই এমন এক ভিক্ষুক দরজার সামনে শুয়ে আছে।

মহিলাঃ তুমি কি চাও?

ভিক্ষুকঃ আমি ভাইভা দিতে আইছি।

মহিলাঃ কিন্তু সেটা কি করে সম্ভব? তুমি কি পারবে আমার তিনটা শর্ত পূরণ করতে?

ভিক্ষুকঃ জে পারমু। দেখেন আমার একটাও হাত নাই, তাই আমি আপনার গায়ে হাত তুলতে পারুম না। আমার একটাও পা নাই। আমি আপনারে রাইখা কুথাও যাইতে পারুম না।

মহিলাঃ আচ্ছা বুঝলাম, কিন্তু তিন নম্বর শর্ত টা? সেটা কি ভাবে পূরণ করবে?

ভিক্ষুকঃ ক্যান? আপনে কি আমার দেয়া কলিং বেল এর আওয়াজ শুনেন নাই?

 

১৮৮)

মেয়েদের একজন পুরুষ সঙ্গীর যে সব গুন থাকা প্রয়োজন:

১. এটা জরুরি যে পুরুষ সঙ্গীটি তোমাকে বাড়ির কাজে সাহায্য করে এবং কোন একটা জব করে।

২. এটা জরুরি যে পুরুষ সঙ্গীটি তোমাকে হাসাতে পারে।

৩. এটা জরুরি যে পুরুষ সঙ্গীটি নির্ভরযোগ্য এবং তোমাকে মিথ্যা বলে না।

৪. এটা জরুরি যে পুরুষ সঙ্গীটি তোমাকে ভালোবাসে এবং তোমাকে আদর করে।

৫. সবচেয়ে জরুরি হলো, এই চারজন ব্যক্তি যেন একজন আরেকজনকে না চেনে।

 

১৮৯)

এক অন্ধ লোক টেক্সাসে বেড়াতে গেছে। ট্রেনে সিটটাকে অনুভব করে পাশের যাত্রীকে সে বললো, ট্রেনের সিটটা তো নরমাল ট্রেনের চেয়ে বড়!

পাশেরজন জবাব দিলো, টেক্সাসে সবকিছুই বড়।

হোটেলে ওঠার পর লোকটি বারে গেলো কিছু পান করতে। অনুভব করে বুঝলো গ্লাসটা অনেক বড়। সে বললো, গ্লাস তো আসলেই বড়!

বারটেন্ডার জবাব দিলো, টেক্সাসে সবকিছুই বড়।

একটু পর লোকটির বাথরুমে যাবার প্রয়োজন হলো। বারটেন্ডারকে জিজ্ঞেস করতেই সে টয়লেটে যাবার দিকনির্দেশনা দিয়ে দিলো।

অন্ধ লোকটি কিছুদূর ঠিকমতো গিয়ে এক জায়গায় ভুল মোড় নিয়ে নিলো আর সোজা গিয়ে পড়লো হোটেলের সুইমিং পুলে। ভয়ে আতঙ্কে চেঁচিয়ে উঠলো সে, ‘কেউ ফ্লাশ কোরো না, ফ্লাশ কোরো না।’

 

১৯০)

এক ভদ্রলোকের স্ত্রী মারা গেলো। ভদ্রলোক খুব কাঁদছে। পাশের বাড়ির এক ভাবি এসে সান্ত্বনা দিচ্ছে – কাঁদবেন না ভাই। কেঁদে আর কী হবে। মানুষতো আর চিরদিন বেঁচে থাকে না।

ভদ্রলোক বললো: ভাবি, যখন আমার মা মারা গেলো, তখন আশেপাশের বয়স্ক মহিলা প্রতিবেশীরা এসে বললো, কেঁদো না, তোমার মা নেই তো কি হয়েছে আজ থেকে আমরাই তোমার মা।

যখন আমার বোন মারা গেলো, তখন আশেপাশের মধ্যবয়স্ক মহিলারা এসে সান্ত্বনা দিয়ে বললো, কেঁদো না, তোমার বোন নেই তো কি হয়েছে, আজ থেকে আমরা তোমার বোন।

কিন্তু আমার বৌ মারা যাবার পর কেউ তো ওরকম সান্ত্বনা দিতে এলো না।

 

১৯১)

ক্লাস সিক্সে অল্পবয়স্ক এক ম্যাডাম এসাইনমেন্ট দিচ্ছিলেন। এসাইনমেন্টের টাইটেলটা অনেক বড় হওয়ায় তিনি বোর্ডের অনেক উপর থেকে লেখা শুরু করলেন। এমন সময় পেছন থেকে এক ছেলের খিখি হাসি শোনা গেল। ফিরে তিনি দেখলেন রকিব হাসছে।

– তুমি কেন হাসলে?

– ম্যাডাম, আপনার অন্তর্বাস দেখা যাচ্ছিলো তাই।

– ক্লাস থেকে বেরিয়ে যাও। আগামী ৩ দিন আমার সামনে আসবে না।

রকিব বেরিয়ে গেলো মাথা নিচু করে।

ম্যাডাম আবার লেখা শুরু করলেন। এবার কালাম এর কণ্ঠে আরো জোরে হাসি শোনা গেলো। ম্যাডাম রেগেমেগে জানতে চাইলেন, কেন হাসলে?

– ম্যাডাম আপনার অন্তর্বাস পুরোটাই দেখা যাচ্ছিলো তাই।

– ক্লাস থেকে বেরিয়ে যাও। আগামী ৩ সপ্তাহ আমার সামনে আসবে না।

কালাম মাথা নিচু করে ক্লাস থেকে বেরিয়ে গেলো।

ম্যাডাম এবার লিখতে গিয়ে হাত থেকে মার্কার পড়ে গেলো। সেটা তুলতেই এক ছাত্রের হাসি শুনতে পেলেন। ফিরে তিনি দেখলেন বল্টু মিয়া ক্লাস থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে।

– তুমি কোথাও যাচ্ছো?

– ম্যাডাম, আমি যা দেখেছি তা যদি বলি তাহলে বাকি জীবন আমার আর ক্লাস করা হবে বলে মনে হয় না।

 

১৯২)

এক সিলেটি ভদ্রলোকের সাথে আরেক সিলেটি ভদ্রলোকের দেখা।

১ম জন: এবা গতবছর যে মারা গেছিলাইন, আফনে না আফনের বাই?

২য় জন: আমার বাই।

১ম জন: ইয়ার লেগাইতো খই। তেনারে দেখি, আফনারে দেখিনা খ্যান? ক্যামবাই মারা গেছিলাইন?

২য় জন: সাফে খামরাইছে।

১ম জন: খোনো?

২য় জন: খফালে।

১ম জন : আল্লায় ভাচাইছে। চক্ষু দুইটা ভাইচা গেছে। খনোৎ কবর দিছাইন?

২য় জন: ভাড়ির পেছন, ফুকুর ফাড়ে, গাছতলায়।

১ম জন: বালা খরচাইন, ছায়া ফাইবো, টান্ডা লাগবো। আল্লায় তেনারে বাঁচায়া রাখুক।

 

১৯৩)

এক সদ্য বিবাহিত দম্পতি হাওড়া ষ্টেশান থেকে দক্ষিনভারতগামী একটি ট্রেনে উঠেছে। উদ্দেশ্য মধুচন্দ্রিমা। দুজনের চোখে-মুখেই খুশীর ঝিলিক। ট্রেন চলতে শুরু করলো। এমনিতেই এ সি টু টায়ার্স কামরা, তার উপর প্যাসেঞ্জার্সও অনেক কম। স্বামী-স্ত্রী দুজনে সন্ধ্যে নাগাদ রাতের খাবার খেয়ে নিয়ে নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লো।

স্বামী: জান্, কালকে বাজারের ব্যাগটা …রাখতে গিয়ে হাতের কব্জীটায় একটা জোর মচকা লেগেছে, খুব ব্যাথা করছে!

স্ত্রী পাশেই বসা ছিল, স্বামীর হাতটা দু-হাতে আদর করে নিজের মুখের কাছে নিয়ে এসে চকাস করে একটা চুমু খেয়ে বললো এই নাও পেইন কীলার!

মেঘ না চাইতে জল পেয়ে স্বামী উত্তেজিত হয়ে পড়লো। মনে মনে একটা ফন্দি এঁটে বললো না না! ব্যাথাটা তো এখন আর কব্জীতে হচ্ছে না। এ কাঁধে হচ্ছে।

যেমনটা হবার ছিল তেমনই হল স্ত্রী স্বামীর আরো ঘনিষ্ঠ হয়ে বসে কাঁধে একটা চকাস, চুমু জি, এই নিন আপনার পেইন কীলার।

এরপর স্বামী নিজের ঠোঁট-এর দিকে ইঙ্গিত করতেই স্ত্রী ব্যাথা কমাতে তৎপর হয়ে উঠলো…..

এখন হয়েছে কি, আপার বার্থ-এ এক দাদু অনেক্ষণ ধরে যন্ত্রনায় ছটফট করছিলো, ঘুমোতে পারছিলো না। নীচে বারবার পেইন কীলার পেইন কীলার বলা হচ্ছে শুনে কাতর হয়ে বললেন মামনি, আমার পাইলস এর যন্ত্রনাটা বেড়েছে, একটা পেইন কীলার পাওয়া যাবে, প্লিজ্?

 

১৯৪)

একটি আন্তর্মহাদেশীয় ট্রেনে এক ব্যক্তি আর এক মহিলা একই কম্পার্টমেন্টে শোওয়ার জায়গা পেয়েছেন। প্রথমে কিছুক্ষণ উসখুস করলেও দুজনেই খুব ক্লান্ত থাকায় অল্পক্ষণের মধ্যেই তারা ঘুমিয়ে পড়লেন। ভদ্রলোক উপরের বার্থে আর ভদ্রমহিলা নীচের বার্থে।

মাঝরাতে হঠাৎ ভদ্রলোকের ঘুম ভাঙল। তিনি একটু ইতস্তত করে ভদ্রমহিলাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে বললেন দেখুন কিছু মনে করবেন না, “আমার এত ঠান্ডা লাগছে, আপনি কি দয়া করে আমার সুটকেস থেকে একটা কম্বল বার করে আমায় দেবেন?”

ভদ্রমহিলা উত্তরে বললেন “আমার আরো একটা ভালো আইডিয়া আছে। আজকের রাতের জন্য মনে করি না আমরা স্বামী আর স্ত্রী?”

ভদ্রলোক খুব অবাক আর মনে মনে খুব খুশি হয়ে বললেন “ওয়াও!!! দারুণ আইডিয়া!! তাহলে এখন আমার কি করা উচিত?”

“উঠে নিজের কম্বল নিজে নিয়া নাও, আর প্যানপ্যান কইরা আমার মাথা খারাপ কইর না তো!”

 

১৯৫)

টম আর জন, ২ বন্ধুর দেখা। ২ জনেই মোটা।

টমঃ কিরে দোস্ত ১ দিনেই তুই অমন স্লিম হলি কি করে?

জনঃ একটা স্লিমিং সেনটারে গিয়েছিলাম, তারা বলল, ১ ঘণ্টায় আমরা আপনার ৩ কে জি ওজন কমিয়ে দেব। তার জন্য আপনাকে পে করতে হবে ১০০ ডলার।

তো আমি পে করার পর তারা আমাকে উচু প্রাচির ঘেরা এক বাগানের মধ্যের এক ঘরে নিয়ে গেল। ঘরের দরজা খুলে ভিতরে গিয়ে দেখি অপূর্ব এক সুন্দরী খাটে বসে আছে । সুন্দরী আমাকে বলল ,তুমি যদি আমাকে দৌড়িয়ে ধরতে পার তাহলে আজ রাতের জন্য আমি তোমার। এই বলেই দিল দৌড়।

আমিও ছুটলাম তার পিছু পিছু। দৌড়াতে, দৌড়াতে ‌দৌড়াতে, কিছুতেই ধরতে পারলাম না।

একজন এসে বলল আপনার ১ ঘণ্টা সময় শেষ। আসুন ওয়েট মাপি।

দেখা গেল সত্যি আমার ওজন ৩ কে জি কমে গেছে ।

তবে আপসোস, মেয়েটাকে ধরতে পারলাম না।

জনের কাছ থেকে ঠিকানা নিয়ে পরের দিন ওই স্লিমিং সেন্টারে টম গিয়ে হাজির। এবং, ১০০ ডলারের প্যাকেজটি নিতে চাইলো ।

ম্যানেজার টমকে বলল, দেখুন আমাদের নতুন ১ টা প্যাকেজ এসেছে, ১ ঘণ্টায় ওজন কমবে ৬ কেজি। তার জন্য আপনাকে পে করতে হবে ২০০ ডলার।

টম ভাবল এই প্যাকেজ এর মেয়েটা নিশ্চয় আরও সুন্দরী হবে, সে ২০০ ডলার পে করল।

তাকে নিয়ে গাইড বাগানের দিকে রওয়ানা হল। টম ভাবছিল যেভাবেই হোক মেয়েটাকে আমি ধরে ফেলবোই।

নির্দিষ্ট ঘর দেখিয়ে গাইড চলে গেল।

টম দরজা ঠেলে দেখে সুন্দরী মেয়ের পরিবর্তে খাটে বসে আছে এক বিকট দর্শন নিগ্রো।

নিগ্রো বলল, যদি আমি তোমাকে দৌড়িয়ে ধরতে পারি তা হলে তোমাকে আমার সাথে আজকের রাত কাটাতে হবে এই ঘরে আর আমাকে সন্তুষ্ট করতে হবে।

 

১৯৬)

ছোট্ট জনি আর জেনি দু’জনের বয়সই ১০ বছর, কিন্তু তারা জানে তারা একে অপরকে ভালোবাসে। একদিন তারা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিলো। জনি জেনির বাবার কাছে গেলো বিয়ের কথা বলতে।

সাহসের সাথে জনি জেনির বাবার কাছে গিয়ে বললো, মি. স্মিথ, আমি আর জেনি পরস্পরকে ভালোবাসি। এজন্য আপনার কাছে জেনিকে বিয়ে করার অনুমতি চাইতে এসেছি।

মি. স্মিথ বাচ্চার মুখে এমন কথা শুনে মজা পেলেন। বললেন, জনি, তোমার বয়স তো মাত্র ১০ বছর। তোমরা দু’জন কোথায় থাকবে?

জনি কোন রকম চিন্তা না করেই বললো, জেনির রুমে থাকবো। আমার রুমের চেয়ে ওরটা বড়। দু’জনের বেশ জায়গা হয়ে যাবে।

মি. স্মিথ তার কথায় আরো মজা পেলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি তো অনেক ছোট। কোন কাজই তো করতে পারবে না। তাহলে জেনিকে খাওয়াবে কি?

জনি কোনরকম দ্বিধা না করে উত্তর দিলো, আমি প্রতি সপ্তাহে ১০ ডলার হাতখরচ পাই, জেনিও ৫ ডলার পায়। মাসে ৬০ ডলারে দু’জনের বেশ ভালোভাবেই চলে যাবে।

এবার মি. স্মিথ একটু অবাক হলেন। কারণ জনি সব উত্তর আগে থেকেই ভেবে রেখেছে। তাই তিনি এবার এমন প্রশ্ন করলেন যেটার উত্তর তৈরি করে রাখা জনির পক্ষে সম্ভব না।

মি. স্মিথ জানতে চাইলেন, তুমি তো সব বিষয়েই চিন্তা করে রেখেছো। আরেকটা উত্তর দাও তো। যদি তোমাদের ঘরে কোন বাচ্চা জন্ম নেয়, তোমরা তখন কি করবে?

জনি বললো, এখন পর্যন্ত আমরা ভাগ্যবান যে এমন কিছুই হয়নি…

 

১৯৭)

ছোট্ট বল্টু যোগ করতে শিখেছে। একদিন তার ছোট চাচু তাদের বাসায় বেড়াতে এলে বল্টু তার চাচুকে বলে, চাচু আমি না যোগ অংক করতে পারি। তুমি আমাকে ধরো তো?

: তাই নাকি ! বেশ ভাল। বলো তো দুই আর তিনে কত হয়?

বল্টু দুই হাতের আঙ্গুল গুনে বলল পাঁচ।

: আরে তুমি তো সত্যিই যোগ করতে শিখে গেছ। ভেরি গুড। কিন্তু চাচ্চু ওভাবে হাত বের করে গুনলে তো তোমার টিচার তোমাকে বকা দেবেন। এক কাজ কর তুমি তোমার দুই হাত প্যান্টের পকেটে ঢুকাও। তারপর বলো, চারে আর চারে কত হয়?

এবার বল্টু পকেটে দুই হাত নেড়েচেড়ে বলল, “নয়”।

 

১৯৮)

এক মহিলা তার ডাক্তার বন্ধুর সাথে প্রেম চালাচ্ছিল, কিন্তু বেশিদিন হওয়ার আগেই সে গর্ভবতী হয়ে গেল । তো, নয় মাসের সময় ডেলিভারির জন্য সে যখন হাসপাতালে ভর্তি হল অপারেশনের জন্য , তখনি এক পাদ্রিও তার প্রস্টেট (Prostate) অপারেশনের জন্য ভর্তি হলো। ডাক্তার তখন তার বান্ধবীকে বলল , ”আমরা পাদ্রীর অপারেশনের পর বলব যে এই বাচ্চাটা আপনার !! ‘

বান্ধবী বলল , ”কি বল এইসব , সে কি বিশ্বাস করবে ?? ”

ডাক্তার বলল , ”করতেই হবে, কারণ তাকে বলব , এটা একটা মিরাকল”

তো, নির্দিষ্ট দিনে পাদ্রীর প্রস্টেট অপারেশন হয়ে গেল … তার পরই বান্ধবীর ডেলিভারিও হলো, ডাক্তার বাচ্চাটা পাদ্রীর কাছে নিয়ে গিয়ে বলল , ”ফাদার , এই নিন আপনার বাচ্চা ”

পাদ্রী তো খুব আশ্চর্য হলেন, বললেন ”এ কিভাবে সম্ভব ?? ”

ডাক্তার বলল, ” ফাদার , আশ্চর্য আমরাও হয়েছি , এটা একটা মিরাকল … খুব কমই ঘটে ”

পাদ্রী আর কিছু বললেন না।

প্রায় ১৫ বছর হয়ে গিয়েছে এর মাঝেই , বাচ্চাটাও বড় হয়ে গেছে . একদিন পাদ্রী বাচ্চাটাকে ডাকলেন , বললেন ”তোমাকে কিছু গোপনীয় কথা বলার আছে …আমি আসলে তোমার বাবা নই ” !!

বাচ্চাটা খুব অবাক হয়ে বলল, ”মানে? তুমি আমার বাবা না ??? ”

পাদ্রী গম্ভীর স্বরে বললেন , “না। আমি তোমার মা , আর্চবিশপ তোমার আসল বাবা।

 

১৯৯)

এক দেশ এ এক রাজা ছিল। তার ছিল বিশাল বড় রাজ্য। তার হাতিশালে হাতি, ঘোড়াশালে ঘোড়া, ধন-সম্পদ কোন কিছুরই অভাব ছিল না। কিন্তু এত কিছুর পরেও রাজার মনে শান্তি ছিল না। তার কারন রাজ্যের জনসংখ্যা স্বল্পতা। তো রাজা উজির-নাজির সবাইকে খবর দিলেন জনসংখ্যা স্বল্পতার কারন বের করতে। তারা অনেক বিচার-বিশ্লেষণ করে রাজাকে বললেন এর কারন হচ্ছে রাজ্যের লোকেরা সেক্সের নিয়ম-কানুন জানে না এবং এটাতে তাদের প্রচন্ড অনিহা। রাজা পড়লেন আরেক দুঃশ্চিন্তায়, এখন রাজ্যের লোকদের তো আর ঢাক-ডোল পিটিয়ে সেক্স শেখানো যায় না। শেষে অনেক ভেবে-চিন্তে একটা উপায় বের করলেন যে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে উলঙ্গ মেয়ের পুতুল বসানো হবে, যা দেখতে আসল মেয়ের মত। তো মেয়ে পুতুলটির সামনে দিয়ে যদি কেউ সেক্স করে পুতুলের পিছন দিয়ে চকলেট বের হবে আর পিছন দিয়ে কেউ সেক্স করলে সামনে দিয়ে আইসক্রীম বের হবে। তো রাজ্যের মানুষ চকলেট আর আইসক্রীমের লোভে পুতুলের সাথে সেক্স করতে করতে নিয়ম শিখে গেল।

কিছুদিন পরে ঘটল সমস্যাটা। লোকে এখন আর পুতুলের সাথে সেক্স করে মজা পায় না। তারা এখন সত্যিকার মেয়ে চায়। সেরকমই দুজন সৈনিক একটা মেয়েকে ধরার জন্য তার পিছন পিছন ছুটতে লাগল। একসময় মেয়েটি উপায় না দেখে জামাকাপড় খুলে মোড়ের মেয়ের পুতুলের পাশে দাড়িয়ে গেল। তো সৈনিক দুজন মেয়েটাকে আশেপাশে খুঁজে না পেয়ে ১ম সৈনিক ২য় সৈনিককে বলে, মেয়েটাকে তো পেলাম না, দৌড়াদৌড়ি করে পিপাসাও লেগেছে, আয় আইসক্রীম খেয়ে চলে যাই। তো তারা গিয়ে ঐ মেয়েটাকেই পুতুল মনে করে পিছন থেকে সেক্স করতে লাগল।

আইসক্রীম এর জন্য অপেক্ষা করতে করতে ২য় সৈনিক ১ম সৈনিককে বলল, কি ব্যপার বলত। সামনে দিয়ে আইসক্রিম বের না হয়ে এসব কি বেড় হচ্ছে?

২য় সৈনিক, গাধা এটাও বুঝস নাই? গরমে আইসক্রীম গলে গেছে।

 

২০০)

একজন ব্যাক্তি সেক্স এ ব্যাস্ত, সাথে পরে আছেন প্রোটেকশন। বহুক্ষণ পরে শুক্রাণুরা হাজির হল। হাজির হয়েই মহা বিরক্ত।

শুক্রাণুদের নেতা বলল, “দেখো বন্ধুরা, আমাদের বস কিভাবে মজা পাচ্ছে, আর আমাদের বেলুনে আটকে রেখেছে, আমাদের ডিম্বানুর সাথে মিলিত হতে দিচ্ছেনা, এইটা কি ঠিক? এসো আমরাও ডিম্বানুর কাছে যাই।”

সব শুক্রাণু চিৎকার করে বলল, “চল যাই, চল যাই!”

তারা সবাই মিলে কন্ডমের গায়ে জোরে ধাক্কা দিতে শুরু করলো, কয়েকবার ধাক্কা দিতেই, ফুটো হয়ে গেলো, নেতা চিৎকার করে বলল, “আগাও! আগাও!”

সবাই হুড়োহুড়ি করে এগুতে লাগল।

হঠাৎ দেখলো, তাদের নেতা উলটো পালাচ্ছে বলছে, “পিছাও, পিছাও!”

সবাই শুধালো, “কেনো, কেনো?”

নেতা বলল, “সামনে হাগু, সামনে হাগু!!!”

০০০০০০০

বাংলা কৌতুক সমগ্রঃ ০ থেকে ১০০(১৮+)

বাংলা কৌতুক সমগ্রঃ ২০১ থেকে ৩৩০(১৮+)

Categories
অনলাইন প্রকাশনা আনিসুল হক খেলাধুলা জীবনী ও স্মৃতিকথা বিনোদন সৃজনশীল প্রকাশনা

ক-য়ে ক্রিকেট খ-য়ে খেলা

---আনিসুল হক

 

স্ত্রী সন্তানসম্ভবা। হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। স্বামী আছেন আরেক শহরে। তিনি হাসপাতালে ফোন করলেন। ‘আমি ৭ নম্বর কেবিনের পেসেন্টের হাজব্যান্ড। কী অবস্থা বলেন তো এখন?’

যিনি ফোন ধরেছেন তিনি তখন বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলা দেখছেন টেলিভিশনে। শুধু তিনি একা দেখছেন তা-ই নয়, হাসপাতালের আরও অনেক দর্শনার্থী, কর্মচারীও ভিড় করে টেলিভিশন দেখছেন। তাই তিনি অবস্থার বর্ণনা দিলেন, ‘খুব ভালো অবস্থা। আমরা দুজনকে আউট করেছি। এরই মধ্যে একজন ডাক। লাঞ্চের আগেই আরেকজনকে আউট করা যাবে, চিন্তা করবেন না।’

স্বামী বেচারা ডাকের মানে যদি হাঁস বুঝে থাকেন, তাহলে তাঁর জ্ঞান হারানো ছাড়া আর কী-ই বা করার থাকবে?

এবার শুনুন একটা সত্যিকারের হাসপাতালের গল্প। বাংলাদেশ-ভারত খেলা হচ্ছে। ঢাকার একটা বড় বেসরকারি হাসপাতালের লবিতে বড় একটা টেলিভিশন স্থাপন করা হয়েছে। রাত বাড়ছে। এই লবিতে বসে যাঁরা খেলা দেখছেন তাঁরা সবাই গুরুতর রোগীদের আত্মীয়স্বজন। কারও বাবাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে, কারও ছেলের অ্যাপেন্ডিসাইটিস অপারেশন হয়েছে, কারও বা স্বামীর ক্যানসার। এঁদের সবারই মন খারাপ করার জন্য বাস্তব পরিস্থিতি আর কারণ রয়েছে। কিন্তু সেই বাস্তবতা ভুলে তাঁরা হাততালি দিয়ে উঠছেন। একটু আগেও তাঁদের মন বড়ো খারাপ ছিল। ভারত ৩৭০ করেছে। রানটা ডিঙোনো প্রায় অসম্ভব। কিন্তু ব্যাট করতে নেমে ইমরুল কায়েস দারুণ পেটাচ্ছেন। রানের গড় খুব ভালো। একটা করে চার হচ্ছে আর তাঁরা সোল্লাসে চিৎকার করে উঠছেন। একটু পরে ইমরুল কায়েস আউট হয়ে গেলেন। খেলার গতি থিতিয়ে এল। সাকিব আল হাসান আউট হওয়ার পরে বোঝা গেল, আর আশা নেই। এই দর্শকদের মধ্যে নেমে এল চরম হতাশা। ‘আমরা আপনার বাবার ভেন্টিলেটর খুলে নিতে যাচ্ছি,’ ডাক্তার বললেন এক দর্শনার্থী তরুণকে। বাবার যে বাঁচার আশা আর নেই, ছেলে সেটা আগে থেকেই জানে। নেই, তবুও তো এখনো আছেন। একটু পরে বাবা থাকবেন না। এরপরে বলতে হবে, ছিলেন। বাবা অতীতকাল হয়ে যাবেন। ‘ভেন্টিলেটর খুলে নিতে যাচ্ছি’—এ কথা শোনার পরও তরুণটির আফসোস তার বাবার জন্য নয়, বাংলাদেশের আরেকটা খেলোয়াড়ের আউট হওয়া নিয়ে। ইস, নাইম যদি থাকত! ও তো ছক্কা মারতে জানে। ওর নামই না ছক্কা-নাইম!

সত্যিকারের এই গল্প শুনে আমার নিজের চোখটাও ছলছল করে ওঠে। এটা কি ক্রিকেটের জন্য আমাদের ভালোবাসা, নাকি দেশের জন্য?

কেমন অদ্ভুত না ব্যাপারটা! ক্রিকেট তো একটা খেলাই। খেলায় জয়-পরাজয় থাকবে। সেটা বড় নয়, আসল লক্ষ্য হলো আনন্দ। কিন্তু সেই খেলা আমাদের কীভাবে এ রকম ঘোরতর নিমজ্জনের মধ্যে নিয়ে যায়! আপন-পর ভুলিয়ে দেয়। প্রিয়জনের মৃত্যুর ব্যথা ভুলিয়ে দেয় প্রিয় দলের সাফল্য বা ব্যর্থতা। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল না হয় নিজের দেশের দল, আমাদের বহু ব্যর্থতার দেশে একটুখানি সাফল্যের আশ্বাস, জীবনের নানা মাঠে মার খেতে খেতে একটুখানি বিজয়ের সম্ভাবনা, কিন্তু বিশ্বকাপ ফুটবলে যে আমরা মেতে উঠি ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনাকে নিয়ে, প্রিয় দল হেরে গেলে এই দেশে অন্তত চার-পাঁচজন মারা যান হূদ্যন্ত্র বন্ধ হয়ে, তার কী মানে?

মনটা একটু আর্দ্র হয়ে উঠল কি? আচ্ছা আচ্ছা, এবার তাহলে একটা কৌতুক। ২০০৭ সাল। বাংলাদেশের সঙ্গে হেরে গেছে শিরোপা-প্রত্যাশী ভারত। তারপর শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে বিশ্বকাপ থেকেই। ধোনি আর বাইরে বেরোতে পারছেন না। তিনি একটা পারলারে গিয়ে মাথায় লম্বা চুল লাগালেন। কপালে টিপ, ঠোঁটে রঞ্জিনী বুলিয়ে, ওড়না দিয়ে মাথা ঢেকে মেয়ে সেজে তিনি উঠেছেন ট্রেনে। এ সময় তাঁর পাশে আরেকজন তরুণী এসে বসল। সে তাঁকে ফিসফিসিয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘তুমি কি ধোনি?’ ধোনি আঁতকে উঠলেন, ‘কী করে টের পেলেন?’

‘আরে, টের পাব না? আমি তো শেবাগ।’

ক্রিকেট নিয়ে বিখ্যাত সাহিত্যিকেরা কী কী লিখেছেন? এ কথা বললে আমার বন্ধু ক্রীড়ালেখক উৎপল শুভ্র নিশ্চয়ই আমাকে মারতে আসবেন। বলবেন, ক্রিকেট নিজেই সাহিত্য, সাহিত্যিকদের লেখার অপেক্ষায় ক্রিকেট বসে নেই! কথা সত্য, ক্রিকেট নিয়ে লেখা হয়েছে লাখ লাখ পাতা, সেসব ক্রিকেট-সাহিত্য বলেই গণ্য। কাজেই ক্রিকেট-লেখকেরা নিজেরাই সাহিত্যিক। কথাটা যে সত্য, তা তো শুভ্রর নিজের লেখা পড়লেই বোঝা যায়। রবীন্দ্রনাথ ক্রিকেট নিয়ে কি কিছু লিখেছিলেন? শুভ্র বলেছেন, বল নিয়ে রবীন্দ্রনাথের কিছু উক্তি পাওয়া যায়, যেমন, ‘বল দাও মোরে বল দাও।’ কিন্তু সেটা ফুটবল না ক্রিকেট নিয়ে সে বিষয়ে পণ্ডিতেরা এখনো স্থিরমত হতে পারেননি। কিন্তু বাঙালির জীবনে রবীন্দ্রনাথ ছাড়া কি কিছু কল্পনা করা যায়? ২০১১ সালের বিশ্বকাপ শুরু হয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত দিয়ে। আমরা প্রাণভরে গেয়েছি, ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।’ ফলে এখানেও রবীন্দ্রনাথ। তবে বাংলা ক্রিকেট-সাহিত্য কিংবা ক্রিকেট-সাংবাদিকতায় রবীন্দ্রনাথের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে একটা কাহিনি অন্তত পাওয়া যাচ্ছে ইন্টারনেটে। বরিয়া মজুমদার নামে একজন লিখেছেন আনন্দবাজার পত্রিকায় ক্রিকেট-সাংবাদিকতা শুরুর দিনগুলোর কথা। বাংলা ক্রিকেট-সাংবাদিকতার পথিকৃৎ ব্রজরঞ্জন রায় আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদকদের রাজি করালেন ক্রিকেটের জন্য স্থান বরাদ্দ করতে। ব্রজরঞ্জন লিখবেন বিনিপয়সায়, বলাইবাহুল্য। পত্রিকার উদ্যোক্তারা রাজি হলেন। কিন্তু ব্রজরঞ্জন পড়লেন মুশকিলে। এই ক্রিকেটীয় পরিভাষাগুলোর তর্জমা কী হবে? উপায়ান্তর না দেখে তিনি দেখা করতে গেলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে। রবীন্দ্রনাথ নাকি তাঁকে প্রচণ্ড উৎসাহ দিয়েছিলেন, অভয় দিয়েছিলেন। ‘তুমি বাংলা করতে আরম্ভ করে দাও, পরিভাষা আবিষ্কার করতে থাকো, আজকে তুমি যা লিখতে শুরু করবে, একদিন তা-ই প্রমিত বলে চালু হয়ে যাবে।’ রবীন্দ্রনাথ এই কনসালটেন্সির জন্য কোনো পয়সা নেননি, বরিয়া মজুমদার আমাদের জানাচ্ছেন। রবীন্দ্রনাথের এই আশ্বাসের পরও যে কেন ব্রজরঞ্জন আমাদের এলবিডব্লিউর একটা বাংলা প্রতিশব্দ উপহার দিলেন না! হয়তো সেটা হতে পারত ‘উপূপা’ (উইকেটের পূর্বেই পা)। কট বিহাইন্ডের বাংলা হতে পারত ‘পাছে ধরা’ বা ‘পিছে ধরা’। স্লিপের বাংলা কি হতে পারত পিচ্ছিল বা পিছলা? কিন্তু তা হয়নি, অগত্যা আমাদের ইংরেজি দিয়েই চালাতে হচ্ছে।

বাংলা ভাষার হাল জমানার লেখক-কবিরা ক্রিকেট নিয়ে প্রচুর লিখছেন। সম্ভবত লিখতে বাধ্য হচ্ছেন। শামসুর রাহমান ক্রিকেটানুরাগী ছিলেন, নির্মলেন্দু গুণ তো এখন প্রায় পেশাদার ক্রিকেট (ও ফুটবল) লেখক। ওই বাংলায় শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় প্রমুখের ক্রিকেট-লেখার খ্যাতি আছে।

অন্তত একজন নোবেল বিজয়ী লেখকের ক্রিকেটপ্রীতি বহুল প্রচারিত। তিনি হ্যারল্ড পিন্টার (১৯৩০-২০০৮)। নাট্যকার, চিত্রনাট্যকার, নির্দেশক, অভিনেতা, কবি। ব্রিটিশ নাটকের সবচেয়ে অগ্রগণ্য প্রতিনিধি হিসেবে ২০০৫ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তিনি ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেট খেলেছেন, গেইটি ক্রিকেট ক্লাবের সভাপতি ছিলেন, ছিলেন ইয়র্কশায়ার ক্রিকেট ক্লাবের আজীবন সমর্থক। তিনি বলেছিলেন, ‘ক্রিকেট আমার জীবনের প্রধান অবসেশনগুলোর একটা। আমি সারাক্ষণই ক্রিকেট খেলি, দেখি, পড়ি।’ ক্রিকেট নিয়ে তাঁর সবচেয়ে মূল্যবান উক্তিটা হলো, ‘আমি এ রকম ভাবতে চাই যে ঈশ্বর এই পৃথিবীতে যা কিছু সৃজন করেছেন, তার মধ্যে সবচেয়ে মহান সৃষ্টি হলো ক্রিকেট। এটা সেক্সের চেয়ে মহত্তর, যদিও সেক্স জিনিসটাও কম ভালো নয়।’ কথাটা ভাবার মতো। একই কথা আমিও বলতে পারতাম, কিন্তু সেটা ক্রিকেট নিয়ে নয়, ফুটবল নিয়ে। ফুটবলের সঙ্গে ওই ব্যাপারটার বেশি মিল, কিন্তু ক্রিকেটের সঙ্গে যদি তাকে তুলনা করতে হয়, তাহলে বলতে হয়, তাতে কেবল শরীরী আশ্লেষ জড়িত নয়, আছে হূদয়পুরের জটিলতাও, ফুটবল হয়তো নিছকই কামনার ব্যাপার, ক্রিকেট হয়তো প্রেমপূর্ণ কামনা। নাটকের লোক পিন্টার বলেছেন, ‘ক্রিকেট আর নাটকের মধ্যে অনেক মিল। যখন কেউ স্লিপে একটা ক্যাচ মিস করে, যখন আম্পায়ার একটা এলবিডব্লিউর আবেদন নাকচ করে দেন, তখন যে উত্তেজনাটা তৈরি হয় সেটা ঠিক যেন মঞ্চনাটকেরই উত্তেজনা।’ পিন্টারের কাছে দুই প্লেই এক, খেলা অর্থে প্লে আর নাটক অর্থে প্লে। তাই তো, ব্যাপারটা তো আগে খেয়াল করিনি। আমিও তো তাহলে খেলোয়াড়, কারণ আমিও তো প্লে লিখেছি। সেটা ছোটবেলা থেকেই। কিন্তু ছোটবেলায় ক্রিকেট খেলিনি। টেনিস বল দিয়ে ছয় চারা বা আমরা বলতাম কিংকং, সেটা খেলেছি প্রচুর। আর খেলতাম ফুটবল। এর কারণটা অর্থনৈতিক। ৩৫ টাকা দিয়ে একটা ৩ নম্বর ফুটবলই আমাদের পাড়ার ছেলেদের পক্ষে কেনা বড় কঠিন ছিল। ফুটবল তো জাম্বুরা দিয়েও খেলা যায়, কচুরিপানার শুকনো বৃন্ত দিয়ে পোঁটলা বানালেও খুব ভালো ফুটবল হতো আমাদের সময়। কিন্তু ক্রিকেট খেলতে আয়োজনটা করতে হতো বেশি। কাঠের তক্তা কাটো, উইকেট বানাও, পিচ বানাও। না, আমরা ক্রিকেট খেলিনি তেমন। তখন জানতাম, রাজার খেলা ক্রিকেট, খেলার রাজা ক্রিকেট। আমাদের ছোটবেলার খেলার মাঠের সঙ্গীসাথিদের কেউই তো রাজার ছেলে ছিল না। সেই ক্রিকেট কি এখন প্রজার খেলা হয়ে উঠেছে? বাংলাদেশে ক্রিকেট বিশ্বকাপ নিয়ে পথে পথে মানুষের হুল্লোড় দেখে ক্রিকইনফো লিখেছে, এটা হলো পিপলস ওয়ার্ল্ড কাপ। মানুষের বিশ্বকাপ। লিখেছে, বাংলাদেশ বিশ্বকাপকে তার আত্মা ফিরিয়ে দিয়েছে। শুনতে ভালোই লাগছে। ক্রিকেট এই উপমহাদেশে এনেছিল ব্রিটিশ প্রভুরা, প্রথমে তারা এটা খেলত একঘেঁয়েমি কাটাতে, তারপর— উত্তর-ঔপনিবেশিক তাত্ত্বিকরা যেমন বলছেন—তারা খেলত, ন্যাটিভদের আলাদা হিসেবে চিহ্নিত করার সুবিধার জন্যে, তারপর তারা স্থানীয়দেরকেও খেলাটা শেখাতে লাগল, তখন উদ্দেশ্যটা ছিল ‘বাদামি সাহেব’ তৈরি করা। এখন উত্তর-ঔপনিবেশিক কালে, সাহেবদের ‘জেন্টলমেন’স গেম্স’-কে বস্তিতে নামিয়ে এনেছে প্রাক্তন অনেক কলোনি, আর বনেদি ক্রিকেটের বিশ্বকাপকে বাংলাদেশ করে তুলেছে সকলের বিশ্বকাপ, গণমানুষের সার্বজনীন উৎসব। বাংলাদেশের মাধ্যমেই শুরু হোক গণতন্ত্রের পথে ক্রিকেটের যাত্রা, রাজার খেলা হয়ে উঠুক সবার খেলা, সাধারণের, নিম্নবর্গেরও।

সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১১

Categories
অনলাইন প্রকাশনা আনিসুল হক গল্প বিনোদন ভালবাসা/প্রণয়লীলা সৃজনশীল প্রকাশনা

অসমাপ্ত চুম্বনের ১৯ বছর পর

----আনিসুল হক

 

‘মা, বাবাকে তুমি প্রথম কিস্ করেছ কখন?’ পরশ জিজ্ঞেস করে। হাইস্কুলে যাচ্ছে পরশ (১৭), এখনো যে মাকে এই সব প্রশ্ন করছে, তার মানে ছেলেটা এখনো সরল আছে—সুমি আড়চোখে দেখে নেয় ছেলেটাকে। কত বড় হাত-পা হয়ে গেছে ছেলের, খালেদের চেয়েও মনে হয় লম্বা হয়েছে সে। মনে মনে মাশাল্লাহ বলে দুবার, মায়ের নজর না আবার লাগে ছেলের গায়ে।

সুমির মনের মধ্যে গুঞ্জরিত হতে থাকে রবীন্দ্রসংগীত, এত দিন যে বসে ছিলেম পথ চেয়ে আর কাল গুনে, দেখা পেলেম ফাল্গুনে। বাংলাদেশের বসন্ত! ফাল্গুনে বিকশিত কাঞ্চন ফুল, গাছে গাছে পুঞ্জিত আম্রমুকুল। আমগাছে কালচে পাতা, তার ওপরে লালচে মুকুল, মাছি ভনভন করছে আর কেমন একটা মাদকতাভরা গন্ধ!

‘এই মা, কী ভাবছ?’ পরশের প্রশ্নে বর্তমানে ফিরে আসে সুমি। কত দূরে বাংলাদেশ, জামালপুরে বাড়ির চাতালে হেলে পড়া সিঁদুরে আমের গাছ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সারি সারি আমগাছ! কত দূরে তার ছাত্রবেলা! এখানে, এই নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের লাল ইটের ফ্ল্যাটে পাঁচতলায় লিভিং রুমে বসে তারা মায়ে-পুতে গল্প করছে। কোয়ালিটি টাইম কাটাচ্ছে। কাঠের মেঝে, কার্পেটে মোড়ানো, বড় বড় সোফা, একপাশে একটা ৭২ ইঞ্চি টেলিভিশন, তাতে এটিএন বাংলা চলছে, বিজ্ঞাপনই দেখানো হচ্ছে বিরতিহীন। বাংলাদেশে এখন চৈত্র মাস, নিউইয়র্কে এখনো ঘোরতর শীত, ঘরের ভেতরে হিটার অন বলে অবশ্য টের পাওয়া যাচ্ছে না।

খালেদ ওয়াশরুমে ছিল, এসে বসে পড়ে মা আর ছেলের ঠিক মাঝখানে। সোফাটা দেবে যায় খানিকটা। হাতে টিভির রিমোটটা নিয়ে খালেদ চ্যানেল পাল্টায়। চ্যানেল আইতে কী একটা টকশো হচ্ছে।

সুমি বলে, ‘দেখলি, তোর বাবা কী রকম জেলাস? এসে ঠিক মাঝখানে বসল।’

খালেদ বলে, ‘আচ্ছা আচ্ছা, আয় পরশ, তুই মাঝখানে বস, কেয়ারটেকার সরকার। কী নিয়ে কথা হচ্ছে?’

পরশ—তার গলা পুরুষালি হয়েছে, নাকের নিচে গোঁফের অর্ধস্ফুট রেখা—বাবা-মায়ের মধ্যখানে বসে বলে, ‘মাকে জিজ্ঞেস করলাম, তোমার সাথে মায়ের প্রথম দেখা হয়েছিল কীভাবে?’

খালেদ গলা খাদে নামিয়ে বলে, ‘কঠিন প্রশ্ন।’

পরশ কাঁধ নাড়ে, ‘এইটা কী করে হার্ড কোশ্চেন হয়? এটা তো তোমাদের দুজনারই জানা।’

সুমি তখন খিকখিক করে হেসে ওঠে। ওর শরীর কাঁপছে। পুরো সোফাটাই দুলছে নৌকার মতো।

পরশ বিস্মিত, ‘কী হলো, হাসো কেন?’

সুমি বলে, ‘খালেদ, বলব?’

খালেদ বলে, ‘ওমা! বলো। দাঁড়াও। দুই কাপ চা বানায়া আনি। নাকি তিন কাপ? পরশ, তুইও খাবি?’

‘খাব।’

খালেদ ওঠে। ওদের কিচেন এই রুমের সঙ্গেই লাগোয়া। সে তিন কাপের মতো পানি চুলায় বসায়। পানি টগবগিয়ে ওঠে অচিরেই। শব্দ হয়। নিউইয়র্কে থাকলেও ওরা চা খায় বাংলাদেশের ইস্পাহানি। একেবারে দুধ-চিনি দিয়ে ঘন কড়া চা বানিয়ে খায়।

‘শোন, তোর বাবার সাথে আমার দেখা হলো প্রথম ঢাকায়। জুনিয়র রেডক্রসের ক্যাম্পিং হয়েছিল আজিমপুর গার্লস স্কুলে। সেখানে। আমি গেছি জামালপুর থেকে। আর ও গেছে ময়মনসিংহ থেকে। আমি তখন পড়ি সিক্স গ্রেডে। আর তোর বাবা পড়ে টেন গ্রেডে।’

‘সেই প্রথম দেখা?’ পরশের কণ্ঠে কৌতূহল।

‘হ্যাঁ।’ সুমি বলে, ‘শোনো, আমাকে চিনি একটু কম দিয়ো, খালেদ। তোর বাবা আমাকে এসে বলল, মামু, মামু, আমারে চিনছ?’

‘মানে কী?’ পরশ ভুরু কোঁচকায়।

‘মানে হলো, তোর বাবার এক ক্লাসমেট আমার মামা। তোর জয়নাল নানাকে মনে আছে?’

‘নাই। বাদ দাও।’ পরশ গল্প এগিয়ে নিতে চায়।

‘এর আগে নাকি জয়নাল মামা আর তোর বাবা জামালপুরে আমাদের বাসায় এসেছিল। আমাকে আগেই দেখেছে। আমার মনেটনে নাই। তার মনে আছে। এসে বলছে, আমারে চিনছ? আমি তোমার খালেদ মামু।’

‘হি হি হি,’ পরশ হাসে। হাসলে ছেলেটাকে যা সুন্দর দেখায়! সুমি আবার বিড়বিড় করে ‘মাশাল্লাহ’ বলে। ‘তারপর কী হলো?’ খালেদের চোখেমুখে সত্যিকারের জিজ্ঞাসা।

‘আমি বলি, চিনি নাই। তোর বাবা বলে, আমি খালেদ মামু। জয়নালের ক্লাসমেট। তোমাদের বাড়িতে গেছি না? শোনো মামু, এই খামটা একটু ওই যে লম্বা করে মেয়েটা আছে না, রানী, ওকে একটু দিতে পারবা?’ সুমি হেসে সোফার মধ্যে গড়াগড়ি খেতে থাকে।

ওপাশ থেকে তিন কাপ চা ট্রেতে সাজিয়ে নিয়ে এই দিকে আসতে আসতে খালেদ চেঁচায়, ‘এই, এই, বানিয়ে কথা বোলো না।’

‘বানাচ্ছি না। বানাচ্ছি না।’ সুমি বলে, ‘মানে বুঝলি? রানী নামের একটা মেয়েকে তোর বাবার পছন্দ হয়েছে। তাকে সে চিঠি লিখেছে। আমাকে বলে সেই চিঠি রানীকে পৌঁছে দিতে।’

‘হা হা হা,’ পরশ এবার গলা ফাটিয়ে হাসে। ‘তারপর? তুমি পৌঁছায় দিলা চিঠিটা?’

‘দেব না! আমার খালেদ মামু আমারে দিতে বলছে! হি হি হি।’

‘তারপর? রানীকে লাইক করে বাবা, তাকে তুমি কেন বিয়ে করলা?’ পরশ চা হাতে নিয়ে গলায় গাম্ভীর্য ফুটিয়ে বলে।

‘আরে আগে শোন। খালি তোর বাবা রানীকে পছন্দ করে তাই না, আমার জন্যও একটা ছেলে জোগাড় করে আনে।’

‘এই, এই সব কী বলো? বানায়া বইলো না, সুমি।’ খালেদ চায়ের কাপে ফুঁ দিয়ে হাসিমুখে বলে।

‘শোন, শোন, বাবা। পুরাটা শোন। তার নাম ছিল ডায়মন্ড। সেই জন্যে আমার মনে আছে,’ সুমির কণ্ঠে হাসি।

‘ডায়মন্ড তো মেয়েরা ভুলতে পারে না,’ পরশ হাসে।

‘এই, পুরুষবাদী কথা বলবি না।’ সুমি গলায় কৃত্রিম রাগ ফোটায়।

‘না না। তোর মা আসলেই ডায়মন্ড ভাইকে ভুলতে পারে নাই। এর সঙ্গে হিরার কোনো সম্পর্ক নাই।’ এক হাতে চায়ের কাপ, আরেক হাতে টেলিভিশনের রিমোট, খালেদের চোখ টিভিতে।

সুমি বলে, ‘ডায়মন্ড ভাই ছিলেন ময়মনসিংহের রেডক্রসের বড় ভাই। বড় লিডার। তিনি তখন ইন্টারমিডিয়েট পাস করেছেন। মানে হাইস্কুল শেষ। তাঁর নাকি আমাকে পছন্দ হয়েছে।’

পরশ বলে, ‘তুমি না বললা, তুমি সিক্স গ্রেডে? আর ডায়মন্ড হাইস্কুল কমপ্লিট করেছে। তাইলে তো অনেক সিনিয়র। এজ গ্যাপ তো বেশি হয়ে গেল।’

‘তোর বাপকে বল। তারই বুদ্ধি। সে ডায়মন্ডকে নিয়ে এল আমার কাছে। রেডক্রসের ক্যাম্পিং মানে মাঠের মধ্যে টেন্ট। সাদা সাদা সব তাঁবু। তারই একটা ধরে আছি আমি। ক্লাস সিক্সে পড়ি। দুই বেণী মাথায়। সেই বুড়া হাবড়াকে ধরে এনে তোর বাবা বলে, মামু মামু, এনার নাম ডায়মন্ড। এনার সাথে গল্প করো। বলে তোর বাবা উধাও। আমি বলি, জি, মামা, বলেন। উনি বলেন, আমাকে মামা বইলো না। আমি বলি, কী বলব? উনি আর কথা বলতে পারেন না। হি হি হি।’

সুমির হাতের কাপ থেকে চা ছলকে পড়ে। পরশ টিসু পেপার এগিয়ে দেয়। ‘উফ! মাকে বোধ হয় আজকে হাসিরোগে পেয়েছে।’

‘বাবা, তুমি ডায়মন্ডকে রেখে কই গেছিলা?’ পরশ প্রশ্ন করলে সুমির হাসি পুরো বাড়ি কাঁপিয়ে দেয়।

খালেদ বলে, ‘আরে, তোর মা বানিয়ে বলছে।’

‘তারপর কী হলো?’ পরশ জানতে চায়।

‘তারপর তো আমি জামালপুরে ফিরে গেলাম। ওই লোক রেগুলার আমাকে চিঠি লেখে। আমি জবাব দেই না। একদিন তোর বাবা সেই ডায়মন্ডকে নিয়ে আমাদের জামালপুরের বাড়িতে হাজির।’

‘আরে না। কাজে গেছলাম জামালপুরে। তাই তোমাদের বাসায় গেছলাম। ডায়মন্ড ভাইকে নিয়ে যাইনি।’ খালেদ প্রতিবাদ করে।

সুমি বলে, ‘আব্বা টের পেয়ে যান। তখন জয়নাল মামাকে ডেকে ঝাড়ি দেন। এই, তোর বন্ধুবান্ধবগুলান এই রকম কেন? তোর বন্ধু খালেদ তার ডায়মন্ড ভাইকে নিয়ে এসে আমার মেয়েকে জ্বালাতন করে কেন?’

‘তারপর?’ পরশ শুধায়।

‘তারপর তোর বাবা আর ডায়মন্ডকে নিয়ে জ্বালাতন করতে আসেনি। আমি জামালপুর কলেজ থেকে আইএসসি পাস করে ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হই। তোর বাবা তখন ইউনিভার্সিটির টিচার হয়ে গেছে। আমি হলে সিট পাই নাই। রেবেকা খালার বাসায় থেকে বহুত কষ্ট করে ক্লাস করি। কী আর করা। গেলাম আমার খালেদ মামুর কাছে। মামু, আমাকে হলের সিট জোগাড় করে দেন। মামু বলে, হলে থাকবে? তোমার তো কষ্ট হবে। আচ্ছা, সোমবার এসো। দেখি কী করতে পারি। যাই সোমবারে। উনি আমাকে বলেন, চা খাবে? আমাকে চা বানিয়ে খাওয়ান। এইভাবে সোমবারে যাই, বুধবারে যাই। শনিবারে যাই।’

খালেদ বলে, ‘তারপর রবিবারে যাই, সোমবারে যাই, মঙ্গলবারে যাই, বুধবারে যাই।’

পরশ লজ্জা পায়, ‘বুঝসি বুঝসি, রোজ যাও। তারপর?’

‘তারপর আর কী? মামু বলে, শোনো, তোমার এত কষ্ট করে হলে ওঠার দরকার কী? আমার তো বাসা আছে। তুমি তো আমার বাসাতেই উঠতে পার। তখন আমি বলি, প্রোপোজাল ছেলের বাসা থেকে পাঠাতে হয়। তুমি প্রোপোজাল পাঠাও।’

‘এর আগে না আপনি করে বলতে? এরপর তুমি করে বলা শুরু করলা?’ পরশের প্রশ্ন।

খালেদ বলে, ‘মিলিয়ন ডলার কোশ্চেন করেছিস, বাবা। বাংলা ভাষায় সিনেমায়, নাটকে এই আপনি থেকে তুমিতে আসতে যে কত পৃষ্ঠা আর কত রিল খরচ করতে হয়!’

পরশ বলে, ‘তারপর কী হলো?’

সুমি বলে, ‘আমাদের বিয়ে হয়ে গেল। ইউনিভার্সিটির ক্লাবে রিসেপশন পার্টি হলো।’

‘আর ডায়মন্ড মামু?’ পরশ হাসে।

‘তোর বাবাকে জিজ্ঞেস কর। আমি কি তার খবর জানি নাকি?’

পরশ বলে, ‘আর রানী। বাবা, তোমার রানী কই?’

‘জানি না।’

সুমি চেঁচায়, ‘জানে জানে। তোর বাবা বলবে না। তোর বাবার কবিতার খাতায় দেখবি, তাকে নিয়ে কত কবিতা লেখা।’

‘আমি তো বাংলা পড়তে পারি না, মা।’

‘আচ্ছা, তোকে আমি ইংলিশে ট্রান্সলেট করে দেব।’ খালেদ বলে, ‘পড়ে দেখিস। তোর মা কী রকম লায়ার। আর তোর মা যে খালি ডায়মন্ড কেনে, মার্কেটে গেলেই একটা করে ডায়মন্ড কিনে আনে, কেন আনে এখন বোঝ।’

‘চিন্তা কর! কী বলে তোর বাবা। এই, তুমি তো একটা কমপ্লেক্স ক্যারাক্টার। এইভাবে কেউ ভাবে?’

পরশ মধ্যস্থতা করে। সে তখন কিচেনের সিংকে, কাপ-পিরিচগুলো ধুচ্ছে। গলা উঁচিয়ে বলে, ‘কিন্তু মা, তুমি কিন্তু আমার আসল প্রশ্নটাই এড়িয়ে যাচ্ছ। তোমরা প্রথম কিস করলে কখন? বিয়ের কত দিন আগে? কোথায়?’

খালেদ আর সুমি পরস্পরের মুখের দিকে লাজুক ভঙ্গিতে তাকায়।

‘মনে নাই রে।’ খালেদ বলে।

পরশ বলে, ‘মনে নাই? এটা হতে পারে? ফার্স্ট কিস কেউ ভোলে?’

‘মনে থাকলেও এটা তোকে বলতে পারব না, বাবা।’ সুমি বলে, ‘আমাদের কালচারে এই সব কথা কেউ ছেলেমেয়ের সঙ্গে শেয়ার করে না।’

‘বিয়ের কত দিন আগে, সেটা বললে কী হয়?’

‘ধর, দুই মাস।’ সুমি বলে।

‘কোথায়? মানে ডেটিং প্লেস কোনটা ছিল?’ পরশ জানতে চায়।

সুমি বলে, ‘বাবা, আমরা তো ঠিক ডেটিং করি নাই। ওই শব্দটাই তো আমাদের কালচারে নাই। তবে প্লেসটা আমি তোকে বলি। রিকশায়। বসন্তকালে। আমাদের ইউনিভার্সিটির রাস্তা ভরা আমগাছ। আমের মুকুলের গন্ধ আসছিল। আর একটা কোকিল ডেকে উঠেছিল। এই সময় তোর বাবাকে বললাম, আমাকে একটা চুমু খাও। ও বলল, বলো কী, চারদিকে আমার ছাত্রছাত্রী। আমি বললাম, না, চুমু তোমাকে খেতেই হবে। সে আমার হাতটা ধরে একটা চুমু দিল।’

‘ধ্যাৎ! হাতে কিস খেলে সেটাকে কিস বলে নাকি?’ পরশ হতাশ।

‘আমাদের সময়ে সেটাই অনেক বড় ব্যাপার ছিল, বাবা। পরশ, যাও, শাওয়ার সেরে নাও। আমি খাবার গরম করি। লাঞ্চ করব।’

পরশ ওঠে। বাথরুমে যায়। সুমি খালেদের হাত ধরে বলে, ‘খালেদ, এবার দেশে গেলে আমরা একটা রিকশায় করে ঘুরব দুজনে, আচ্ছা? ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে যাব। ওই আমগাছগুলোর নিচ দিয়ে রিকশা চলবে। এবার তুমি আমাকে একটা চুমু খেয়ো। এখন তো আর চারপাশে তোমার ছাত্রছাত্রীরা থাকবে না। নিয়ে যাবে, বলো, খালেদ?’

‘অবশ্যই নিয়ে যাব। অবশ্যই।’ সুমিকে বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরে খালেদ বলে। সুমির চোখ ছলছল করে। সুমির গ্রিনকার্ডে ঝামেলা হচ্ছে। একবার বাইরে গেলে আর ফিরতে পারবে না আমেরিকায়। ১৫টা বছর সুমি দেশের বাইরে। এর মধ্যে আব্বা মারা গেছেন। আম্মা জামালপুর ছেড়ে ঢাকায় এসে ছোট ভাই সুজনের বাসায় থাকেন। তাঁদের জামালপুরের বাড়ির সামনের খুলিতে সেই হেলে পড়া সিঁদুরে আমের গাছটা কি এখনো আছে? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার আমগাছগুলো?

‘আমের মুকুলের গন্ধওয়ালা পারফিউম কিনতে পাওয়া যায় না, খালেদ? ফাল্গুনের শেষে হঠাৎ বৃষ্টি। ঢাকায়। ময়মনসিংহে। জামালপুরে। আমাদের উঠোনে। টিনের চালে। তারপর বৃষ্টি উধাও। রংধনু উঠল আকাশে। মাটিতে সোঁদা গন্ধ। আর আমগাছতলায় বিন্দু বিন্দু মুকুলের আল্পনা। আমি খুব মিস করি, খালেদ। আমি খুব মিস করি। আর কী মিস করি জানো? রিকশা। ওয়ার্ল্ড কাপের ওপেনিংয়ে রিকশায় ক্যাপ্টেনদের চড়িয়ে খুব ভালো করেছে বাংলাদেশ।’

‘আর আমি মিস করি রিকশায় খাওয়া আমাদের অসমাপ্ত প্রথম চুম্বন।’ সুমির ঠোঁটে ঠোঁট রেখে দ্রুত একটা চুমু খেয়ে নিয়ে খালেদ বলে। ক্যাচ করে শব্দ ওঠে। পরশ বাথরুম থেকে বেরোল। ওরা নিজেদের পরস্পরের কাছ থেকে সরিয়ে নেয়।

টেবিলে প্লেট সাজায় পরশ। ন্যাপকিন দেয় খালেদ। সুমি গরম করা খাবারগুলো টেবিলে রাখে। খালেদ বলে, ‘থ্যাংক ইউ, পরশ, তোর মাকে ওই কোশ্চেনটা করার জন্যে।’

‘কোন কোশ্চেনটা, বাবা?’

‘এই পরশ, তুই ভাত খাবি না একটু? কয়বেলা বার্গার খেয়ে থাকবি?’ ছেলের দৃষ্টি সরিয়ে নিতে সুমি তাড়াতাড়ি বলে। সুমির মাথার মধ্যে রিকশার ঘণ্টাধ্বনি বাজছে। আশ্চর্য, সেই বেলের আওয়াজে সুরও ফুটছে—মধুর বসন্ত এসেছে, আমাদের মধুর মিলন ঘটাতে…তার এই দুপুরটায় কী যে ভালো লাগছে!

সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, এপ্রিল ০৮, ২০১১

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা বিনোদন ভালবাসা/প্রণয়লীলা সৃজনশীল প্রকাশনা

আমি একবার দুঃখ ভুলে বসন্তের ফুল পেতে চাই

আমি একবার দুঃখ ভুলে বসন্তের ফুল পেতে চাই
——————- ডঃ রমিত আজাদ

কাল ছিল শীতের শেষ রাত,
আলোহারা রজনীর নিঝুম নিস্তদ্ধতা,
আজ বসন্তের প্রথম দিন,
ফুলের সৌরভের মাতামাতি, কোকিলের গান।
সৌভাগ্যক্রমে এটিই তোমার জন্মদিন।

কেমন আছ তুমি?
খুব জানতে ইচ্ছা করে আমার।
তুমি কি সুখে আছ?
নাকি আমার মতোই কষ্টে কাটে দিন?
নিঃসঙ্গতায় ভোগো?
না, বোধহয়, তোমার তো স্বামী রয়েছে।
অবশ্য আমারও রয়েছে স্ত্রী,
তারপরেও কিন্তু আমি নিঃসঙ্গতায় ভুগী,
কি অদ্ভুত তাইনা?
সঙ্গ আছে তবু নিঃসঙ্গ
আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে, তুমিও কি
সঙ্গ থেকেও নিঃসঙ্গ?

আমার অংশিদার যেদিন আমাকে ঠকিয়ে ব্যবসা নিয়ে গেল,
অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম,
আমার বাবার উপহার একমাত্র জমিটি যেদিন দখল করে নিল,
অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম,
টাকার জন্য যেদিন আপন ভাই দুর্ব্যবহার করলো,
অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম,
কিন্তু তোমাকে যেদিন হারালাম,
সেদিনের মত কষ্ট আর কোনদিনও পাইনি,
ঐসব টাকা-পয়সা, জমি-জমার দুঃখ কবেই ভুলে গিয়েছি।
কিন্ত তোমার সাথে বিচ্ছেদের কষ্ট,
এখনও ক্ষত হয়ে জ্বলছে,
ভালোবাসা যে এত দুঃখ, কষ্ট, জ্বালা আর যন্ত্রণা
দিতে পারে তা কে জানত!

তোমাকে ভালোবেসে,
পৃথিবীর সব কিছুই আমার কাছে
মেঘের মত রঙিন মনে হতো।
মনে হতো পৃথিবীতে কষ্ট বলে কিছু নেই,
সিদ্ধার্থ মিছেই বলেছেন, ‘জগৎ দুঃখময়!’
জগৎ সুন্দর, সুন্দর, অদ্ভুত সুন্দর,
আমার পাশের রমণীটির মতই সুন্দর!
আর এখন, আমার চারপাশে শুধুই যন্ত্রণা,
সিদ্ধার্থ যথার্থই বলেছেন, ‘জীবন মানেই দুঃখ!’

গতরাত ছিল শীতের শেষ রাত,
আমার অতৃপ্ত মনের প্রতীক,
আজ বসন্তের প্রথম দিন,
হাজার হাজার ফুলে ফুটে আছে তোমার ভালোবাসা ।
তোমার মধুর জন্মদিনে,
আমি একবার দুঃখ ভুলে বসন্তের ফুল পেতে চাই।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা বিনোদন ভালবাসা/প্রণয়লীলা সৃজনশীল প্রকাশনা

একরাশ ভালোবাসার কবিতা

অনিয়মের ভালো লাগা
ডঃ রমিত আজাদ

তোমাকে আমার ভালো লেগেছে,
কিন্তু কি করে বলি বলতো?
আর তুমিই বা কিভাবে নেবে?
আমার কি আর সে বয়স এখন আছে?
যৌবন পেরিয়ে চলে এসেছি অনেকটা দূর,
আর তোমার তো মাত্র শুরু,
তদুপরি আমার পাশে রয়েছে ভিন্ন এক রমণী।

যদি আমি সাহস করে বলেই ফেলি,
যদি তুমি ফুঁসে ওঠো,
যদি এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে শহরময়,
আমি কি ধিক্কৃত হব না?
তোমাকে কেমন করে বোঝাই,
আমার বুক জুড়ে চলছে,
উত্তপ্ত আগ্নেয় লাভার তীব্র তোলপাড়।

তোমার ঘুরে দাঁড়ানোর ছন্দময় স্নিগ্ধতা,
আমার অতৃপ্ত আত্মার মরুময়তা,
বিন্দু বিন্দু করে জমা হওয়া নিস্পেষণ ,
আমার আবেগের আল্পনায় স্নিগ্ধ অনুরণন,
তোমার মমতা খেলে আমার কবিতা হয়ে,
এই গুমোট নগরীর জমাট আঁধার কেটে দিয়ে,

ঐ যে শুনেছিলাম ভালোবাসার কোন বয়স নেই,
তখন বুঝিনি, আর এখন বুঝতে পারছি বেশ,
আমার না বলা কথা ভবঘুরের মত ঘোরে,
নীরব বিবেকের অলিগলিতে,
নিয়ম মেনে চলাই যেখানে রীতি,
সেখানে অনিয়ম চলেনা,
আমি তো নিতে পারব না, জন্ম নতুন এক।
তাই আর হয়না বলা,
কেবল স্বগতোক্তির মত নিজের কথা নিজেকেই বলি,
সেকথা তোমাকে বলা হবে না হয়ত কোনদিনও,
কিণ্তু তোমাকে আমার সত্যিই ভালো লেগেছে।

আজ তাকে শাড়ীতে দেখেছি
—————————ডঃ রমিত আজাদ

মেয়েটিকে প্রায়ই দেখি,
অসম্ভব সুন্দর, নিস্পাপ একটি মুখ,
বৃষ্টির পরে সবুজ সতেজ ঘাস যেমন,
কখনো তুলনা করি বন ছেয়ে যাওয়া পিংক কাসিয়ার সাথে,
ঐ সৌন্দর্য থেকে চোখ সরানো যায়না।
তার অনুপস্থিতি আমার মাঝে শূণ্যতার সৃষ্টি করে।
আবার কখনো কখনো তাকে দেখি,
অনেক মানুষের ভীড়ে হঠাৎ হঠাৎ দেখা দেয়,
অনেকটা দক্ষিণা হাওয়ার দিনে,
গাছের পাতা আর সুর্যের আলোর লুকোচুরির মত
আর আমার চোখ ফিরে ফিরে আসে নতুন মুগ্ধতা নিয়ে।

ব্যাতিক্রম কেবল তার পোশাক,
আধুনিক যুগে সব মেয়ে আর অস্টপ্রহর বাঙালী পোশাক পড়েনা,
সালোয়ার-কামিসের পাশাপাশি
প্যান্ট-শার্ট, স্কার্ট-টপস চলছে বেশ,
একসময় এগুলো ছিল নিতান্তই অপ্রচলিত,
ইন্টারনেট আর আকাশ সংস্কৃতির যুগে,
এখন এটাই হয়ত রীতি।

বাঙালী নারীর আজন্ম লালিত পরিচ্ছদ
শাড়ীটা এখন একেবারেই আনুষ্ঠানিক হয়ে গিয়েছে,
খুব ইচ্ছে হতো চপলমতি ইনোসেন্ট ঐ মেয়েটিকে
একবার শুধু শাড়ীতে দেখতে।

অবশেষে দেখলাম,
অপ্রত্যাশিত একটি জায়গায়, হঠাৎ করেই সে,
ফিরোজা রঙের চমৎকার কারুকাজ করা শাড়ী পড়া,
আমি থমকে গেলাম,
অপ্সরী দেখিনি সত্যি,
কিন্তু ঠিক ঐ মুহুর্তে মনে হলো,
সেই তো অপ্সরী ।

চপলমতি হেটে গেল বাতাসে ঢেউ তুলে,
যেন পাহাড়ী ঝর্নার গায়ে ঝরে ঝরে পরছে সোনালী ফুল,
তখনো নামেনি সন্ধ্যা এই ব্যাস্ত নগরীতে,
বসন্ত এলো এলো বলে ঐ আকাশটাও পুরোপুরি নীল।
শাড়ী? হ্যাঁ শাড়ীই তাকে এতটা সুন্দর করেছে,
শাড়ীই তাকে দিয়েছে রমণীর রূপ,
আচ্ছা এই সুন্দর বসনটি কি চিরস্থায়ী হতে পারেনা?
চিরস্থায়ী সৌন্দর্য হয়ে তুলুক ঢেউ দক্ষিণা হাওয়ায়,
নন্দনের প্রসুন হয়ে বসন্ত বাগানে ফুটুক কামিনী,
তোমাকে আমি বারবার শাড়ীতে দেখতে চাই রমণী।

নীল সিকোরী

মূল: মারিনা রাতনের
ভাবানুবাদ: ড: রমিত আজাদ

স্মৃতির রং – নীল সিকোরী,
অপার্থিব নিসর্গের সৌন্দর্যে প্রস্ফুটিত।
ত্সিকোরীর নীল রঙে ভরা স্মৃতিবিধুর দিনগুলোতে,
প্রিয়তম আমার, তুমি কি অস্টপ্রহর কেবল আমাকেই ভাবছ?

আর ফুলগুলো পরম আকুলতায়
অনুরাগ ভরা উদ্ভাসিত হৃদয়ে
জড়িয়ে ধরেছে পেটিওলিট বিথীর
প্রলোভিত ভাগ্যের কান্ড।

এখনো উঠেনি চাঁদ নীলান্ত আকাশে,
স্বচ্ছ প্রস্ফুটিত প্রভাতের উষ্ণতা কেবল ছুঁয়েছে
সিভেরস্কি দোন্ত্স হ্রদের গভীর নির্বাক জল।

এই অধর ছুঁয়েছে স্মৃতির নীল রং,
বেদনার রং গায়ে মেখে নিয়ে বলি,
উল্লসিত নীল ত্সিকোরী ফুটে ‘যদি’,
বিস্ময়বিহ্বল আলো ‘আসবে কি’?

(নীল ত্সিকোরী – গ্রীস্মের উজ্জ্বল দিনগুলোতে ইউক্রেনের প্রকৃতিতে ফুটে থাকা অদ্ভুত সুন্দর ফুল।)

আমি একবার দুঃখ ভুলে বসন্তের ফুল পেতে চাই
——————- ডঃ রমিত আজাদ

কাল ছিল শীতের শেষ রাত,
আলোহারা রজনীর নিঝুম নিস্তদ্ধতা,
আজ বসন্তের প্রথম দিন,
ফুলের সৌরভের মাতামাতি, কোকিলের গান।
সৌভাগ্যক্রমে এটিই তোমার জন্মদিন।

কেমন আছ তুমি?
খুব জানতে ইচ্ছা করে আমার।
তুমি কি সুখে আছ?
নাকি আমার মতোই কষ্টে কাটে দিন?
নিঃসঙ্গতায় ভোগো?
না, বোধহয়, তোমার তো স্বামী রয়েছে।
অবশ্য আমারও রয়েছে স্ত্রী,
তারপরেও কিন্তু আমি নিঃসঙ্গতায় ভুগী,
কি অদ্ভুত তাইনা?
সঙ্গ আছে তবু নিঃসঙ্গ
আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে, তুমিও কি
সঙ্গ থেকেও নিঃসঙ্গ?

আমার অংশিদার যেদিন আমাকে ঠকিয়ে ব্যবসা নিয়ে গেল,
অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম,
আমার বাবার উপহার একমাত্র জমিটি যেদিন দখল করে নিল,
অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম,
টাকার জন্য যেদিন আপন ভাই দুর্ব্যবহার করলো,
অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম,
কিন্তু তোমাকে যেদিন হারালাম,
সেদিনের মত কষ্ট আর কোনদিনও পাইনি,
ঐসব টাকা-পয়সা, জমি-জমার দুঃখ কবেই ভুলে গিয়েছি।
কিন্ত তোমার সাথে বিচ্ছেদের কষ্ট,
এখনও ক্ষত হয়ে জ্বলছে,
ভালোবাসা যে এত দুঃখ, কষ্ট, জ্বালা আর যন্ত্রণা
দিতে পারে তা কে জানত!

তোমাকে ভালোবেসে,
পৃথিবীর সব কিছুই আমার কাছে
মেঘের মত রঙিন মনে হতো।
মনে হতো পৃথিবীতে কষ্ট বলে কিছু নেই,
সিদ্ধার্থ মিছেই বলেছেন, ‘জগৎ দুঃখময়!’
জগৎ সুন্দর, সুন্দর, অদ্ভুত সুন্দর,
আমার পাশের রমণীটির মতই সুন্দর!
আর এখন, আমার চারপাশে শুধুই যন্ত্রণা,
সিদ্ধার্থ যথার্থই বলেছেন, ‘জীবন মানেই দুঃখ!’

গতরাত ছিল শীতের শেষ রাত,
আমার অতৃপ্ত মনের প্রতীক,
আজ বসন্তের প্রথম দিন,
হাজার হাজার ফুলে ফুটে আছে তোমার ভালোবাসা ।
তোমার মধুর জন্মদিনে,
আমি একবার দুঃখ ভুলে বসন্তের ফুল পেতে চাই।


তোমার কথা প্রায়ই মনে পড়ে, তুমি কেমন আছো?

———————————— ডঃ রমিত আজাদ

আমার মন যে কতটা খারাপ তুমি বুঝবে না,
রৌদ্র কেড়ে নেয়া কালো মেঘের থমথমে নীরবতা দেখেছ?
অথবা তুহীন শীতে জমে বরফ হয়ে যাওয়া কোন নদী?
তোমার ঐ পেলব হাতটি দাও,
স্পর্শ করতো আমার হৃদয়,
টের পাও কিছু?
তবে আমার বুকের ক্ষত গলে হৃদয়ের ভিতরে ঢুকে যাও,
এবার কি দেখতে পাও,
সব বেদনা জমাট বেধে কেমন পাথর হয়ে আছে?

আচমকা এলে, আচমকা গেলে,
এ যেন সুরের বীণা বেজেই থেমে গেল,
এ কেমন প্রেম বলতো?
তার চাইতে না এলেই পারতে।

এটি একটি অপূর্ণ কবিতা, একটি অসম্পূর্ণ গান।
না কিছুই নয়, স্রেফ তোমার জন্য
নির্মল সাদা কাগজে কলমের ধাতব নিবের নিষ্ঠুর আঁচড়

অনেকটা দেরী করেই পরিচয় হয়েছিলো আমাদের,
হয়তো তোমার জন্ম হয়েছে অনেক পরে,
অথবা আমি পৃথিবীতে এসেছি অনেক আগে,
এমনটা না হয়ে যদি সব কিছু সময়মতো হতো,
তবে কি ভিন্ন জীবন হতো আমাদের?

বাতাসে দোল খাওয়া মাধবীলতা,
কার্নিশ ছেয়ে হেসে ওঠা বাগানবিলাস,
বাগান ভরা সুহাসিনী ডালিয়া ফুলের উজ্জ্বল বর্ণচ্ছটা,
সারাটা বিকেল জুড়ে তোমার প্রতিক্ষা,
তোমার কি মনে পড়ে?

আমার কিন্তু বেশ মনে পড়ে,
তোমার চুলে রৌদ্রের খেলা,
তোমার ওড়নার ঝালর, তোমার শাড়ীর আঁচল
তোমার কপোলের লাল আভা
তোমার ভীরু চোখে উপচে পড়া হাসি,
জাপানী কিমানোর মত পরিপাটি তুমি,
অনেক কৌতুহলী চোখ এড়িয়ে,
অথবা সবগুলো চোখের সামনেই,
আমাদের নিষিদ্ধ অভিসার,
অস্হির এই পৃথিবীতে একমুঠো সুখ।

তুমি কি জানো, আমি এখনো তোমাকে খুঁজি?
ঢাকার পথে পথে খুঁজি,
ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে খুঁজি,
মোবাইলের স্ক্রীনে খুঁজি,
ফেইসবুকের পাতায় পাতায় খুঁজি,
কেন?
দু’টি প্রশ্ন করব,
তোমার কথা প্রায়ই মনে পড়ে,
তুমি কেমন আছো?
আমার কথা ভেবে,
তোমার মনও কি উন্মনা হয়না?

সেই থেকে আমি আর কবিতা পড়িনা
—————————— ডঃ রমিত আজাদ

সেই থেকে আমি আর কবিতা পড়িনা,
কেবলই শুনি গান,
সুরের মূর্ছনার আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হই,
যেমনটি হয় কোঁচবিদ্ধ ছটফটে মাছ ।

হৃদয়টাকে টেনে ছিঁড়ে বুকের মাঝখানে একটা গহবর তৈরী করেছ,
তাই আমি আজ একেবারেই হৃদয়হীন,
সুদুর সাইবেরিয়ার হীমশীতলে নির্বাসিত।
কালাপানির আন্দামান হলে ভালো হত,
অন্ততপক্ষে মহাসাগরের গর্জন শুনতে পেতাম।

একদিন তুমি তো আমারই ছিলে,
তোমার সুমিষ্ট নারীকন্ঠের ডাক,
এই কানে ঢেলেছে সুধা মৃন্ময়ী বসন্ত হয়ে,
স্বপ্নে তো নয়, বাস্তবেই তোমাকে চুমু খেয়েছি সহস্রবার,
একেবারে বুকে জড়িয়ে, নিস্পেষিত করেছি,
অজস্র আকুলতা নিয়ে।
আবেগঘন মুহুর্তগুলোতে ঘনঘন দীর্ঘশ্বাসের সাথে
ছিল ফিসফাস কথপোকথন,
এই আঙুলের সব উষ্ণতা দিয়ে তোমাকে ছুঁয়েছি।
হ্যাঁ, নিশ্চিত তোমাকে ছুঁয়েছি বাধাহীন, বারংবার,
দেখিয়েছি তোমাকে, আমি কতটুকু উত্তাল হতে পারি,
মনে হয়েছে যেন আমিই তোমার স্বামী।

সদ্য পঠিত কবিতা রেখে, ছুঁয়েছি তোমার অধর,
তোমার দেহবল্লরীকে মনে হয়েছে খরস্রোতা নদী যেন
তোমার সজল আঁখী,
তোমার পেলব ঠোট,
তোমার গোপন তিল
একসময় এই সবকিছুর অধিকার শুধুই আমার ছিল।

আমার আকাশ বিদ্ধ করেছে ডাকিনীর তীর,
পূর্ণিমার চাঁদ গিয়েছে নিভে ,
নিঃশব্দে নেমেছে ঘোর অমাবশ্যা ,
আজ তোমার গায়ে পরপুরুষের ঘ্রান
পেচিয়ে আছে সম্মোহিত সাপ হয়ে।
ক্লান্তিকর খেলা শেষে,
আমার হতাশা আর নিরুত্তাপ তুমি ।

আমি ডানা ঝাপটানো একটি নিঃসঙ্গ বিহঙ্গ যেন,
টর্নেডো ভেঙেছে কপাট,
ভূমিকম্প গুড়িয়ে ঘর,
সুনামীর তীব্র স্রোতে উঠেছে ভয়াল ঝড়।
মনের গভীরে চোখের জল ঝড়ে ঝড়ে হয়ে গেল যেই নদী,
ধীরে ধীরে বাড়ছে সে নদীর জল, এই প্লাবন এলো বলে,
আমাকে কি ধুর্ত প্রেমিক বলবে?
কিংবা প্রতারক যুবক?

কোন মায়াবী খাঁচায় তো তোমাকে পুরে রাখিনি,
তুমি মুক্ত বিহঙ্গ, উড়ে যাও যেখানে চাও।
আমি বড়জোড় লিখতে পারি একঝাক চিঠি।
প্রেমের অনন্তলোক ছুঁয়ে,
আমার চিঠিগুলো কাগজের পতঙ্গ হয়ে,
একের পর এক ঢুকে পড়বে তোমার জানালা গলে
দুর্নিবার পূর্ণিমার আকাশ ছেঁয়ে দেবে তমশায়,
নিশি জাগা তুমি আর তোমার স্বামী
নিশ্চিত বঞ্চিত হবে জোছনার মাধুরী থেকে।

আমার আকাশেও এখন আর চাঁদ ওঠেনা,
তবু সিদ্ধার্থের মত গৃহত্যাগী হতে চাই,
পাশে শুয়ে থাকা বধু আর শিশু ইচ্ছেটাকে অবদমিত করে

এই ভয়ার্ত আঁধারে কার কাছে যাব আমি, তোমাকে ছাড়া?
সেই তুমিই রয়েছ ফিরে, হয়েছ বৈরী,
অসহায় আমি আজ আকাশের মত একলা।
আমাদের বিচ্ছেদে অনেক কেঁদেছি আমি,
তুমিতো দেখনি সে কান্না!
আমি একাই সে অশ্রুবারির দর্শক।
তোমার কাছে ফিরে যাবার আর কোন পথ নেই তো খোলা।

এখন হাতড়ে বেড়াই,
কেবলই স্মৃতি, কেবলই স্মৃতি, কেবলই স্মৃতি,
বারবার মনে পড়ে একটি মায়াবী মেয়ের মুখ!

নারী ও সমুদ্র
——– ডঃ রমিত আজাদ

চুলগুলি অযত্ন বিন্যস্ত,
এলোমেলো উড়ছে মোলায়েম কেশগুচ্ছ ,
উচ্ছাসী সাগরের হাওয়ায়
সমুদ্রের ছায়া পড়ে তার চোখে,
সমুদ্রের ঐ আশ্চর্য্য নীলের মত
তার চোখও ঠিকরে দিচ্ছে তীব্র রঙের ছটা।

খুব দূরে দূরে একেবারে দিগন্ত ঘেসে
সাগরের ঢেউ ছুঁয়ে ছুঁয়ে, এক টুকরো মেঘে
ক্ষণে ক্ষণে জাগে বিদ্যুতের চমকানি,
আর আমি থেমে থেমে দেখি তার রূপ-ঝলকানি

মনে হয় সে এত কাছে, যেন
তার হৃদস্পন্দন শুনতে পাই।
কেমন উদগত আবেগে,
তার লাবণ্য, দীপ্তি সৌরভে
সুগন্ধী নিশ্বাসের মদিরায়,
মনে জেগে ওঠে নেশা।
এইতো প্রথম এমন করে নারী ও সমুদ্র দেখা ।

কোন কালে কোন কবি যেন
তুলনা করেছিলেন নারী ও ফুলের,
আরো হয়েছে তুলনা নারী ও নদীর।
আর এই ক্ষণে বলে ওঠে আমার উন্মত্ত মন-রুদ্র
উদ্বেলিত নারীর একমাত্র তুলনা ঐ উচ্ছসিত সমুদ্র।

তুমি কি চোখের ভাষা পড়তে পার?
– ডঃ রমিত আজাদ

তুমি একদিন জানতে চেয়েছিলে,
আমি তোমাকে কতটুকু ভালোবাসি।
প্রিয়তমা আমার,
সমুদ্রের গভীরতা, সেও তো মেপে ফেলা যায়।
ভালোবাসার গভীরতা আমি কোন ফিতায় মাপব?
বুঝিয়ে বলতে বল?
আমাদের জানা কোন ভাষায় বলতে গেলেও
তা কেমন যেন দুর্বোধ্য হয়ে ওঠে।
আমি বরং শ্বাশত ভাষাতেই বলি।
কোন সে ভাষা?
শব্দের পিঠে শব্দ জুড়ে দিয়ে নয়,
ধ্বনির পর ধ্বনি উচ্চারিত করে নয়,
চোখে চোখ রেখে নির্বাক সে ভাষা।
কোমল প্রাণ আমার,
তুমি কি চোখের ভাষা পড়তে পার?
তোমার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিয়ে,
আমার চোখ ভেদ করে হৃদয় ছুঁয়ে দেখ,
মহাসাগরের সুনীল স্বচ্ছ জলের মতই
আমার ভালোবাসা সত্য।
মহাকাশের ঝকঝকে তারাগুলোর মতই
আমার ভালোবাসা পবিত্র।

(বিদেশী কবিতার ছায়া অবলম্বনে রচিত)

বিচিত্র মন

হৃদয়ের রজনীগন্ধা তুমি, তুমি নীল অপরাজিতা
বলেছিলে হেসে, “আমায় নিয়ে লেখনা একটি কবিতা”।
আমি কবি নই তবু, লিখব আজ কিছু পংক্তিমালা,
বাতায়ন খুলে সাজিয়ে দেব হাজার তারার মেলা।
শব্দের ঝড় উঠবে ফুঁসে নন্দিত কোন অরণ্যে,
কবিতার তার তুলবে সুর, তোমাকে স্পন্দিত করার জন্যে।

যদিও প্রথম প্রেম নয়,
তবুও শীতের কুয়াশায়,
তোমার শ্যামল ছবি রহস্যময়,
আমার বুকে তুলেছিল ক্ষুদ্ধ আলোড়ন,
সাগরের গর্জনের মত অশান্ত, উদ্দাম।

তোমার মনের কথা আমার দুহাত ছুঁয়ে যাওয়া,
কি জানতে চাও বল? কেন আমি এতই বেপরোয়া?
অমিত তৃষ্ণা আমার, তাই আমি হয়েছি অবাধ,
নিষেধের বেড়াজাল ভেঙ্গে, নিয়েছি প্রেমের সাধ।
দুরন্ত স্রোতের মত, দিগন্ত রেখার টানে,
ছুটে গিয়েছি নিঃসীম শূণ্যের পানে।

সুহাসীনি শীতের ডালিয়া অথবা সুর্যমূখী, বৈকালের টলটলে জল সেচে,
তোমার হৃদয়ের সকল উষ্ণতা আমাকে দিয়েছ তুমি অতি নিঃসংকোচে।
ময়ুরাক্ষী নদীটির কলহাস্য যেন গানের আসরে তুলেছে বীণার ঝংকার,
মানস সরোবরে সদ্য প্রস্ফুটিত নীলপদ্ম সেজে হয়েছে অলিক উপহার।

যদি জানতে চাও, এই কাহিনীর ইতি ডাকবে কবে ?
আমি বলব, শেষ নেই, এ গল্প অবিরাম চলেই যাবে।
সেই জমি, কাজ, রাজনীতি আর মেয়ে মানুষের গল্পের মত,
জাহাজের ডেকে, রেলের বগিতে, বাসের সিটে, মানুষের মুখে যত,
কাহিনী বদলায় না, গল্প বদলায় না, বদলায় শুধু পাত্র,
তুমি আমি তো মহাকালের স্রোতে দুটি ক্ষুদ্র বিন্দু মাত্র।

কি উদ্দেশ্য? দোহাই তোমার, এমন প্রশ্ন করনা।
উদ্দেশ্যহীনভাবে কি ভালোবাসা যায়না?
জানি তুমি আমার অন্তরঙ্গতায়,
আবেগঘন স্পর্শকাতরতায়,
বিন্দুমাত্রও কুন্ঠিত নও,
বরং তুমি বারংবার কেবল স্পন্দিতই হও।

তবুও অতটা অশান্ত হবনা,
দূরেই থাকি, অত কাছে যাবনা,
ভয় হয়, আমার উত্তপ্ত স্পর্শে ,
যদি তুমি ছাই হও শেষে।

তুমি আমায় ভালোবেসেছিলে
– ড: রমিত আজাদ

তুমি আমায় ভালোবেসেছিলে,
আমি তোমায় ভালোবাসিনি।
তুমিও জানতে তা,
তবু তুমি এসেছিলে,
পাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে উদ্ভাসিত হৃদয়ে।

তোমার ভাষাহীন নির্বাক চোখ,
তমসায় ছেয়েছিল।
তোমার অভিমানি মন,
এ মনে পায়নি ঠাঁই।
পরাজিত প্রেম আকুল হয়ে ছুটেছে নিরুদ্দেশ,
বেদনার রং গায়ে মেখে নিয়ে বলেছিলে,
“আপনি মিথ্যে করে হলেও বলুন, ভালোবাসি”।
আমি মিথ্যে করে হলেও বলেছিলাম, “ভালোবাসি”।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা গল্প বিনোদন ভালবাসা/প্রণয়লীলা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হিন্দুধর্মীয়

হৈমন্তী

—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কন্যার বাপ সবুর করিতে পারিতেন, কিন্তু বরের বাপ সবুর করিতে চাহিলেন না। তিনি দেখিলেন , মেয়েটির বিবাহের বয়স পার হইয়া গেছে , কিন্তু আর কিছুদিন গেলে সেটাকে ভদ্র বা অভদ্র কোনো রকমে চাপা দিবার সময়টাও পার হইয়া যাইবে । মেয়ের বয়স অবৈধ রকমে বাড়িয়া গেছে বটে , কিন্তু পণের টাকার আপেক্ষিক গুরুত্ব এখনো তাহার চেয়ে কিঞ্চিৎ উপরে আছে , সেইজন্যই তাড়া।

আমি ছিলাম বর, সুতরাং বিবাহসম্বন্ধে আমার মত যাচাই করা অনাবশ্যক ছিল। আমার কাজ আমি করিয়াছি , এফ.এ. পাস করিয়া বৃত্তি পাইয়াছি। তাই প্রজাপতির দুই পক্ষ , কন্যাপক্ষ ও বরপক্ষ, ঘন ঘন বিচলিত হইয়া উঠিল।

আমাদের দেশে যে মানুষ একবার বিবাহ করিয়াছে বিবাহ সম্বন্ধে তাহার মনে আর কোনো উদ্‌বেগ থাকে না। নরমাংসের স্বাদ পাইলে মানুষের সম্বন্ধে বাঘের যে দশা হয়, স্ত্রীর সম্বন্ধে তাহার ভাবটা সেইরূপ হইয়া উঠে । অবস্থা যেমনি ও বয়স যতই হউক, স্ত্রীর অভাব ঘটিবামাত্র তাহা পূরণ করিয়া লইতে তাহার কোনো দ্বিধা থাকে না। যত দ্বিধা ও দুশ্চিন্তা সে দেখি আমাদের নবীন ছাত্রদের । বিবাহের পৌনঃপুনিক প্রস্তাবে তাহাদের পিতৃপক্ষের পাকা চুল কলপের আশীর্বাদে পুনঃপুনঃ কাঁচা হইয়া উঠে , আর প্রথম ঘটকালির আঁচেই ইহাদের কাঁচা চুল ভাবনায় একরাত্রে পাকিবার উপক্রম হয়।

সত্য বলিতেছি , আমার মনে এমন বিষম উদ্‌বেগ জন্মে নাই । বরঞ্চ বিবাহের কথায় আমার মনের মধ্যে যেন দক্ষিনে হাওয়া দিতে লাগিল। কৌতূহলী কল্পনার কিশলয়গুলির মধ্যে একটা যেন কানাকানি পড়িয়া গেল । যাহাকে বার্কের ফ্রেঞ্চ্ রেভোল্যুশনের নোট পাঁচ-সাত খাতা মুখস্থ করিতে হইবে , তাহার পক্ষে এ ভাবটা দোষের । আমার এ লেখা যদি টেক‌্স‌্ট‌্‌‌বুক্‌‌-কমিটির অনুমোদিত হইবার কোনো আশঙ্কা থাকিত তবে সাবধান হইতাম।

কিন্তু , এ কী করিতেছি । এ কি একটি গল্প যে উপন্যাস লিখিতে বসিলাম । এমন সুরে আমার লেখা শুরু হইবে এ আমি কি জানিতাম। মনে ছিল , কয় বৎসরের বেদনার যে মেঘ কালো হইয়া জমিয়া উঠিয়াছে , তাহাকে বৈশাখসন্ধ্যার ঝোড়ো বৃষ্টির মতো প্রবল বর্ষণে নিঃশেষ করিয়া দিব । কিন্তু , না পারিলাম বাংলায় শিশুপাঠ্য বই লিখিতে , কারণ, সংস্কৃত মুগ্ধবোধ ব্যাকরণ আমার পড়া নাই; আর, না পারিলাম কাব্য রচনা করিতে , কারণ মাতৃভাষা আমার জীবনের মধ্যে এমন পুষ্পিত হইয়া উঠে নাই যাহাতে নিজের অন্তরকে বাহিরে টানিয়া আনিতে পারি । সেইজন্যেই দেখিতেছি , আমার ভিতরকার শ্মশানচারী সন্ন্যাসীটা অট্টহাস্যে আপনাকে আপনি পরিহাস করিতে বসিয়াছে। না করিয়া করিবে কী। তাহার যে অশ্রু শুকাইয়া গেছে। জ্যৈষ্ঠের খররৌদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূন্য রোদন।

আমার সঙ্গে যাহার বিবাহ হইয়াছিল তাহার সত্য নামটা দিব না। কারণ , পৃথিবীর ইতিহাসে তাহার নামটি লইয়া প্রত্নতাত্ত্বিকদের মধ্যে বিবাদের কোনো আশঙ্কা নাই। যে তাম্রশাসনে তাহার নাম খোদাই করা আছে সেটা আমার হৃদয়পট । কোনোকালে সে পট এবং সে নাম বিলুপ্ত হইবে , এমন কথা আমি মনে করিতে পারি না । কিন্তু , যে অমৃতলোকে তাহা অক্ষয় হইয়া রহিল সেখানে ঐতিহাসিকের আনাগোনা নাই।

আমার এ লেখায় তাহার যেমন হউক একটা নাম চাই। আচ্ছা , তাহার নাম দিলাম শিশির। কেননা, শিশিরে কান্নাহাসি একেবারে এক হইয়া আছে , আর শিশিরে ভোরবেলাটুকুর কথা সকালবেলায় আসিয়া ফুরাইয়া যায়।

শিশির আমার চেয়ে কেবল দুই বছরের ছোটো ছিল । অথচ , আমার পিতা যে গৌরীদানের পক্ষপাতী ছিলেন না তাহা নহে। তাঁহার পিতা ছিলেন উগ্রভাবে সমাজবিদ্রোহী, দেশের প্রচলিত ধর্মকর্ম কিছুতে তাঁহার আস্থা ছিল না; তিনি কষিয়া ইংরাজি পড়িয়াছিলেন। আমার পিতা উগ্রভাবে সমাজের অনুগামী ; মানিতে তাঁহার বাধে এমন জিনিস আমাদের সমাজে , সদরে বা অন্দরে , দেউড়ি বা খিড়কির পথে খুঁজিয়া পাওয়া দায়, কারণ, ইনিও কষিয়া ইংরাজি পড়িয়াছিলেন। পিতামহ এবং পিতা উভয়েরই মতামত বিদ্রোহের দুই বিভিন্ন মূর্তি। কোনোটাই সরল স্বাভাবিক নহে। তবুও বড়ো বয়সের মেয়ের সঙ্গে বাবা যে আমার বিবাহ দিলেন তাহার কারণ, মেয়ের বয়স বড়ো বলিয়াই পণের অঙ্কটাও বড়ো। শিশির আমার শ্বশুরের একমাত্র মেয়ে। বাবার বিশ্বাস ছিল , কন্যার পিতার সমস্ত টাকা ভাবী জামাতার ভবিষ্যতের গর্ভ পূরণ করিয়া তুলিতেছে।

আমার শ্বশুরের বিশেষ কোনো-একটা মতের বালাই ছিল না। তিনি পশ্চিমের এক পাহাড়ের কোনো রাজার অধীনে বড়ো কাজ করিতেন। শিশির যখন কোলে তখন তাহার মার মৃত্যু হয়। মেয়ে বৎসর-অন্তে এক-এক বছর করিয়া বড়ো হইতেছে , তাহা আমার শ্বশুরের চোখেই পড়ে নাই। সেখানে তাঁহার সমাজের লোক এমন কেহই ছিল না যে তাঁহাকে চোখে আঙুল দিয়া দেখাইয়া দিবে।

শিশিরের বয়স যথাসময়ে ষোলো হইল; কিন্তু সেটা স্বভাবের ষোলো, সমাজের ষোলো নহে। কেহ তাহাকে আপন বয়সের জন্য সতর্ক হইতে পরামর্শ দেয় নাই, সেও আপন বয়সটার দিকে ফিরিয়াও তাকাইত না।

কলেজে তৃতীয় বৎসরে পা দিয়াছি, আমার বয়স উনিশ, এমন সময় আমার বিবাহ হইল। বয়সটা সমাজের মতে বা সমাজসংস্কারকের মতে উপযুক্ত কি না তাহা লইয়া তাহারা দুই পক্ষ লড়াই করিয়া রক্তারক্তি করিয়া মরুক, কিন্তু আমি বলিতেছি, সে বয়সটা পরীক্ষা পাস করিবার পক্ষে যত ভালো হউক বিবাহের সম্বন্ধ আসিবার পক্ষে কিছুমাত্র কম ভালো নয়।

বিবাহের অরুণোদয় হইল একখানি ফোটোগ্রাফের আভাসে। পড়া মুখস্থ করিতেছিলাম। একজন ঠাট্টার সম্পর্কের আত্মীয়া আমার টেবিলের উপরে শিশিরের ছবিখানি রাখিয়া বলিলেন, “এইবার সত্যিকার পড়া পড়ো — একেবারে ঘাড়মোড় ভাঙিয়া।”

কোনো একজন আনাড়ি কারিগরের তোলা ছবি। মা ছিল না, সুতরাং কেহ তাহার চুল টানিয়া বাঁধিয়া, খোঁপায় জরি জড়াইয়া, সাহা বা মল্লিক কোম্পানির জবড়জঙ জ্যাকেট পরাইয়া, বরপক্ষের চোখ ভুলাইবার জন্য জালিয়াতির চেষ্টা করে নাই। ভারি একখানি সাদাসিধা মুখ, সাদাসিধা দুটি চোখ, এবং সাদাসিধা একটি শাড়ি । কিন্তু , সমস্তটি লইয়া কী যে মহিমা সে আমি বলিতে পারি না। যেমন-তেমন একখানি চৌকিতে বসিয়া, পিছনে একখানা ডোরা-দাগ-কাটা শতরঞ্চ ঝোলানো, পাশে একটা টিপাইয়ের উপরে ফুলদানিতে ফুলের তোড়া। আর, গালিচার উপরে শাড়ির বাঁকা পাড়টির নীচে দুখানি খালি পা।

পটের ছবিটির উপর আমার মনের সোনার কাঠি লাগিতেই সে আমার জীবনের মধ্যে জাগিয়া উঠিল। সেই কালো দুটি চোখ আমার সমস্ত ভাবনার মাঝখানে কেমন করিয়া চাহিয়া রহিল। আর , সেই বাঁকা পাড়ের নীচেকার দুখানি খালি পা আমার হৃদয়কে আপন পদ্মাসন করিয়া লইল।

পঞ্জিকার পাতা উল্ টাইতে থাকিল; দুটা-তিনটা বিবাহের লগ্ন পিছাইয়া যায়, শ্বশুরের ছুটি আর মেলে না। ও দিকে সামনে একটা অকাল চার-পাঁচটা মাস জুড়িয়া আমার আইবড় বয়সের সীমানাটাকে উনিশ বছর হইতে অনর্থক বিশ বছরের দিকে ঠেলিয়া দিবার চক্রান্ত করিতেছে। শ্বশুরের এবং তাঁহার মনিবের উপর রাগ হইতে লাগিল।

যা হউক, অকালের ঠিক পূর্বলগ্নটাতে আসিয়া বিবাহের দিন ঠেকিল। সেদিনকার সানাইয়ের প্রত্যেক তানটি যে আমার মনে পড়িতেছে। সেদিনকার প্রত্যেক মুহূর্তটি আমি আমার সমস্ত চৈতন্য দিয়া স্পর্শ করিয়াছি। আমার সেই উনিশ বছরের বয়সটি আমার জীবনে অক্ষয় হইয়া থাক্‌।

বিবাহসভায় চারি দিকে হট্টগোল ; তাহারই মাঝখানে কন্যার কোমল হাতখানি আমার হাতের উপর পড়িল। এমন আশ্চর্য আর কী আছে। আমার মন বারবার করিয়া বলিতে লাগিল, ‘ আমি পাইলাম , আমি ইহাকে পাইলাম। ‘

কাহাকে পাইলাম। এ যে দুর্লভ, এ যে মানবী, ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে।

আমার শ্বশুরের নাম গৌরীশংকর। যে হিমালয়ে বাস করিতেন সেই হিমালয়ের তিনি যেন মিতা। তাঁহার গাম্ভীর্যের শিখরদেশে একটি স্থির হাস্য শুভ্র হইয়াছিল। আর, তাঁহার হৃদয়ের ভিতরটিতে স্নেহের যে-একটি প্রস্রবণ ছিল তাহার সন্ধান যাহারা জানিত তাহারা তাঁহাকে ছাড়িতে চাহিত না।

কর্মক্ষেত্রে ফিরিবার পূর্বে আমার শ্বশুর আমাকে ডাকিয়া বলিলেন, “ বাবা , আমার মেয়েটিকে আমি সতেরো বছর ধরিয়া জানি , আর তোমাকে এই ক ‘ টি দিন মাত্র জানিলাম , তবু তোমার হাতেই ও রহিল । যে ধন দিলাম, তাহার মূল্য যেন বুঝিতে পার , ইহার বেশি আশীর্বাদ আর নাই। ”

তাঁহার বেহাই বেহান সকলেই তাঁহাকে বার বার করিয়া আশ্বাস দিয়া বলিলেন, “ বেহাই , মনে কোনো চিন্তা রাখিয়ো না। তোমার মেয়েটি যেমন বাপকে ছাড়িয়া আসিয়াছে এখানে তেমনি বাপ মা উভয়কেই পাইল। ”

তাহার পরে শ্বশুরমশায় মেয়ের কাছে বিদায় লইবার বেলা হাসিলেন; বলিলেন , “ বুড়ি, চলিলাম। তোর একখানি মাত্র এই বাপ , আজ হইতে ইহার যদি কিছু খোওয়া যায় বা চুরি যায় বা নষ্ট হয় আমি তাহার জন্য দায়ী নই। ”

মেয়ে বলিল, “ তাই বৈকি । কোথাও একটু যদি লোকসান হয় তোমাকে তার ক্ষতিপূরণ করিতে হইবে। ”

অবশেষে নিত্য তাঁহার যে-সব বিষয়ে বিভ্রাট ঘটে বাপকে সে সম্বন্ধে সে বার বার সতর্ক করিয়া দিল। আহারসম্বন্ধে আমার শ্বশুরের যথেষ্ট সংযম ছিল না, গুটিকয়েক অপথ্য ছিল , তাহার প্রতি তাঁহার বিশেষ আসক্তি — বাপকে সেই-সমস্ত প্রলোভন হইতে যথাসম্ভব ঠেকাইয়া রাখা মেয়ের এক কাজ ছিল। তাই আজ সে বাপের হাত ধরিয়া উদ্‌বেগের সহিত বলিল, “ বাবা , তুমি আমার কথা রেখো — রাখবে ?”

বাবা হাসিয়া কহিলেন, “ মানুষ পণ করে পণ ভাঙিয়া ফেলিয়া হাঁফ ছাড়িবার জন্য, অতএব কথা না-দেওয়াই সব চেয়ে নিরাপদ। ”

তাহার পরে বাপ চলিয়া আসিলে ঘরে কপাট পড়িল। তাহার পরে কী হইল কেহ জানে না।

বাপ ও মেয়ের অশ্রুহীন বিদায়ব্যাপার পাশের ঘর হইতে কৌতূহলী অন্তঃপুরিকার দল দেখিল ও শুনিল । অবাক কাণ্ড! খোট্টার দেশে থাকিয়া খোট্টা হইয়া গেছে! মায়ামমতা একেবারে নাই!

আমার শ্বশুরের বন্ধু বনমালীবাবুই আবাদের বিবাহের ঘটকালি করিয়াছিলেন । তিনি আমাদের পরিবারেরও পরিচিত । তিনি আমার শ্বশুরকে বলিয়াছিলেন , “ সংসারে তোমার তো ঐ একটি মেয়ে । এখন ইহাদেরই পাশে বাড়ি লইয়া এইখানেই জীবনটা কাটাও।”

তিনি বলিলেন, “ যাহা দিলাম তাহা উজাড় করিয়াই দিলাম । এখন ফিরিয়া তাকাইতে গেলে দুঃখ পাইতে হইবে । অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই।”

সব-শেষে আমাকে নিভৃতে লইয়া গিয়া অপরাধীর মতো সসংকোচে বলিলেন, “ আমার মেয়েটির বই পড়িবার শখ , এবং লোকজনকে খাওয়াইতে ও বড়ো ভালোবাসে । এজন্য বেহাইকে বিরক্ত করিতে ইচ্ছা করি না । আমি মাঝে মাঝে তোমাকে টাকা পাঠাইব । তোমার বাবা জানিতে পারিলে কি রাগ করিবেন।”

প্রশ্ন শুনিয়া কিছু আশ্চর্য হইলাম । সংসারে কোনো-একটা দিক হইতে অর্থসমাগম হইলে বাবা রাগ করিবেন , তাঁহার মেজাজ এত খারাপ তো দেখি নাই।

যেন ঘুষ দিতেছেন, এমনিভাবে আমার হাতে একখানা একশো টাকার নোট গুঁজিয়া দিয়াই আমার শ্বশুর দ্রুত প্রস্থান করিলেন; আমার প্রণাম লইবার জন্য সবুর করিলেন না। পিছন হইতে দেখিতে পাইলাম , এইবার পকেট হইতে রুমাল বাহির হইল ।

আমি স্তব্ধ হইয়া বসিয়া ভাবিতে লাগিলাম । মনে বুঝিলাম , ইহারা অন্য জাতের মানুষ।

বন্ধুদের অনেককেই তো বিবাহ করিতে দেখিলাম । মন্ত্র পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্ত্রীটিকে একেবারে এক গ্রাসে গলাধঃকরণ করা হয় । পাকযন্ত্রে পৌঁছিয়া কিছুক্ষণ বাদে এই পদার্থটির নানা গুণাগুণ প্রকাশ হইতে পারে এবং ক্ষণে ক্ষণে আভ্যন্তরিক উদ্‌বেগ উপস্থিত হইয়াও থাকে , কিন্তু রাস্তাটুকুতে কোথাও কিছুমাত্র বাধে না । আমি কিন্তু বিবাহসভাতেই বুঝিয়াছিলাম , দানের মন্ত্রে স্ত্রীকে যেটুকু পাওয়া যায় তাহাতে সংসার চলে , কিন্তু পনেরো-আনা বাকি থাকিয়া যায় । আমার সন্দেহ হয় , অধিকাংশ লোকে স্ত্রীকে বিবাহমাত্র করে , পায় না, এবং জানেও না যে পায় নাই ; তাহাদের স্ত্রীর কাছেও আমৃত্যুকাল এ খবর ধরা পড়ে না । কিন্তু , সে যে আমার সাধনার ধন ছিল ; সে আমার সম্পত্তি নয় , সে আমার সম্পদ ।

শিশির — না , এ নামটা আর ব্যবহার করা চলিল না । একে তো এটা তাহার নাম নয় , তাহাতে এটা তাহার পরিচয়ও নহে । সে সূর্যের মতো ধ্রুব ; সে ক্ষণজীবিনী উষার বিদায়ের অশ্রুবিন্দুটি নয় । কী হইবে গোপনে রাখিয়া। তাহার আসল নাম হৈমন্তী।

দেখিলাম , এই সতেরো বছরের মেয়েটির উপরে যৌবনের সমস্ত আলো আসিয়া পড়িয়াছে , কিন্তু এখনো কৈশোরের কোল হইতে সে জাগিয়া উঠে নাই । ঠিক যেন শৈলচূড়ার বরফের উপর সকালের আলো ঠিকরিয়া পড়িয়াছে , কিন্তু বরফ এখনো গলিল না । আমি জানি , কী অকলঙ্ক শুভ্র সে , কী নিবিড় পবিত্র ।

আমার মনে একটা ভাবনা ছিল যে , লেখাপড়া-জানা বড়ো মেয়ে , কী জানি কেমন করিয়া তাহার মন পাইতে হইবে । কিন্তু, অতি অল্পদিনেই দেখিলাম , মনের রাস্তার সঙ্গে বইয়ের দোকানের রাস্তার কোনো জায়গায় কোনো কাটাকাটি নাই । কবে যে তাহার সাদা মনটির উপরে একটু রঙ ধরিল , চোখে একটু ঘোর লাগিল, কবে যে তাহার সমস্ত শরীর মন যেন উৎসুক হইয়া উঠিল, তাহা ঠিক করিয়া বলিতে পারিব না।

এ তো গেল এক দিকের কথা । আবার অন্য দিকও আছে , সেটা বিস্তারিত বলিবার সময় আসিয়াছে ।

রাজসংসারে আমার শ্বশুরের চাকরি । ব্যাঙ্কে যে তাঁহার কত টাকা জমিল সে সম্বন্ধে জনশ্রুতি নানাপ্রকার অঙ্কপাত করিয়াছে , কিন্তু কোনো অঙ্কটাই লাখের নীচে নামে নাই । ইহার ফল হইয়াছিল এই যে , তাহার পিতার দর যেমন-যেমন বাড়িল হৈমর আদরও তেমনি বাড়িতে থাকিল । আমাদের ঘরের কাজকর্ম রীতিপদ্ধতি শিখিয়া লইবার জন্য সে ব্যগ্র , কিন্তু মা তাহাকে অত্যন্ত স্নেহে কিছুতেই হাত দিতে দিলেন না । এমন-কি , হৈমর সঙ্গে পাহাড় হইতে যে দাসী আসিয়াছিল যদিও তাহাকে নিজেদের ঘরে ঢুকিতে দিতেন না তবু তাহার জাত সম্বন্ধে প্রশ্নমাত্র করিলেন না , পাছে বিশ্রী একটা উত্তর শুনিতে হয় ।

এমনিভাবেই দিন চলিয়া যাইতে পরিত , কিন্তু হঠাৎ একদিন বাবার মুখ ঘোর অন্ধকার দেখা গেল । ব্যাপারখানা এই — আমার বিবাহে আমার শ্বশুর পনেরো হাজার টাকা নগদ এবং পাঁচ হাজার টাকার গহনা দিয়াছিলেন । বাবা তাঁহার এক দালাল বন্ধুর কাছে খবর পাইয়াছেন , ইহার মধ্যে পনেরো হাজার টাকাই ধার করিয়া সংগ্রহ করিতে হইয়াছে, তাহার সুদও নিতান্ত সামান্য নহে । লাখ টাকার গুজব তো একেবার