Categories
অনলাইন প্রকাশনা কৌতুক বিনোদন ব্যঙ্গকৌতুক ভালবাসা/প্রণয়লীলা যৌন জ্ঞান ও সম্পর্ক সৃজনশীল প্রকাশনা

১০১-২০০ হাসির কৌতুক (প্রাপ্তবয়স্ক ছাড়া পড়বেন না ১৮+)

১০১)

প্রথম দিন ডেট সেরে বান্ধবীকে রাতের বেলা বাড়ি পৌঁছে দিতে এসেছে বাবু। দরজার পাশে দেয়ালে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে বললো সে, ‘সোনা, একটা চুমো খেতে দাও আমাকে।’

“না না না! কী? তুমি পাগল হলে? এখানে দাঁড়িয়ে?”

“আরে কেউ দেখবে না। এসো, একটা চুমো।”

“না না, খুব ঝামেলা হবে কেউ দেখে ফেললে।”

“আরে জলদি করে খাবো, কে দেখবে?”

“না না, কক্ষণো এভাবে আমি চুমো খেতে পারবো না।”

“আরে এসো তো, আমি জানি তুমিও চাইছো — খামোকা এমন করে না লক্ষ্মী!”

এমন সময় দরজা খুলে গেলো, বান্ধবীর ছোট বোন ঘুম ঘুম চোখে দাঁড়িয়ে। চোখ ডলতে ডলতে সে বললো, ‘আপু, বাবা বলেছে, হয় তুমি চুমো খাও, নয়তো আমি চুমো খাই, নয়তো বাবা নিজেই নিচে নেমে এসে লোকটাকে চুমো খাবে — কিন্তু তোমার বন্ধু যাতে আল্লার ওয়াস্তে কলিংবেল থেকে হাতটা সরায়।’

 

১০২)

মার্কেটে গিয়ে আরাম খান তার বউকে হারিয়ে ফেললো। হন্তদন্ত হয়ে হাঁঠতে গিয়ে ধাক্কা খেলো আরেক জনের সাথে।

আরাম খান বললো, আমি দু:খিত, আমার স্ত্রীকে খুঁজে পাচ্ছি না। ওর চিন্তায় কোথায় যাচ্ছি খেয়াল করতে পারিনি।

দ্বিতীয় জন বললো, আমিও তো আমার স্ত্রীকে হারিয়ে ফেলেছি।

আরাম খান বললো, তোমার স্ত্রী দেখতে কেমন? তাহলে হয়তো আমি খুঁজতে সাহায্য করতে পারবো।

দ্বিতীয় জন বললো, আমার স্ত্রী লাল চুলের, সবুজ চোখ, লম্বা সুগঠিত পা আর শর্ট স্কার্ট পরে আছে। তোমার স্ত্রী দেখতে কেমন?

আরাম খান বললো, আমারটার কথা বাদ দাও। চলো তোমার স্ত্রীকে খুঁজি।

 

১০৩)

মানসিক রোগীর রোরশাখ ইঙ্কব্লট টেস্ট নিচ্ছেন মনোচিকিৎসক। হিজিবিজি কিছু কালির ছোপ রোগীকে দেখানো হয় এ টেস্টে।

প্রথম কার্ডটা এগিয়ে দিলেন তিনি। ‘বলুন তো এটা কিসের ছবি?’

‘একটা ছেলে একটা মেয়েকে জাপটে ধরে চুমু খাচ্ছে।’

দ্বিতীয় ছবিটা এগিয়ে দিলেন ডাক্তার। ‘এটা কিসের ছবি বলুন তো?’

‘ঐ ছেলেটা এবার মেয়েটার জামাকাপড় খুলে ফেলছে, আর মেয়েটা চেঁচাচ্ছে হাঁ করে।’

আরেকটা ছবি এগিয়ে দিলেন ডাক্তার। ‘এটা কিসের ছবি বলুন তো?’

‘ছেলেটা মেয়েটার চুল টেনে ধরে ঘাড়ে কামড় দিচ্ছে, আর মেয়েটা খিখি করে হাসছে।’

ডাক্তার আর পারলেন না। ‘দেখুন, দবির সাহেব আপনার রোগ খুব জটিল পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। আপনার মনটা খুবই নোঙরা, আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি।’

দবির সাহেব চটে আগুন। ‘নিজে যত রাজ্যের নোঙরা ছবি এগিয়ে দিচ্ছেন আমাকে, আর বলছেন আমার মন নোঙরা?’

 

১০৪)

এক লিফটম্যান ছিল চাকুরিতে একেবারে নতুন। কখনো ভাল ভাবে লিফট চালাতে শেখে নি। ১৭ তলায় এক লোক লিফট এ চড়ে তাকে বললো এক তলায় নিয়ে যেতে। লিফটম্যানটি এক তলায় এসে ভূলবশত প্রচন্ডভাবে ব্রেক কষলো। হটাৎ থেমে যাওয়ার কারনে সমস্ত লিফট ভয়ানক ঝাকি খেয়ে উঠলো। লিফটম্যানটি দুঃক্ষিত গলায় বললো, “আমি দুঃক্ষিত স্যার, আমি কি খুব জোরে লিফট থামিয়েছি?”

লোকটি রাগতস্বরে বললো, “না না তা কেন? আমি সব সময় আমার প্যান্ট খুলে গোড়ালীর কাছে ফেলে রাখি।”

 

১০৫)

জরিনার বাবা জরিনার জন্য পাত্র ঠিক করেছে। এদিকে জরিনার সাথে পাভেলের ৫ বছরের অফেয়ার। এটা বাবাকে জানাতেই জরিনার সুইট বাবা নিমিষেই টিপিক্যালি #বাবা কেন ভিলেন?# টাইপ আচরণ শুরু করল। এটা নিয়ে বাবা মেয়েতে তুমুল ঝগড়া। খাওয়া বন্ধ, মুখ দেখাদেখি বন্ধ ইত্যাদি মোটামুটি শেষ হবার পর অবশেষে তারা একটা ঐক্যমতে পৌছাল। ঠিক হল নদীর অপরপাড় থেকে পাভেল ও বাবার ঠিক করা পাত্র দুজনেই সাঁতার কেটে এপারে আসবে। যে আগে আসতে পারবে জরিনা তারই হবে।

যথাসময়ে প্রতিযোগিতা শুরু হল। শুরুতে দেখা গেল বাবার ঠিক করা পাত্রটি এগিয়ে গেছে। জরিনা তো ভয়ে আধমরা কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে পাভেল তাকে ধরে ফেলল। জরিনা খুশিতে হাততালি দিচ্ছে আর চিৎকার করে উৎসাহ দিচ্ছে পাভেলকে। একপর্যায়ে প্রেমিকের শক্তি আরো বাড়ানো এবং উৎসাহ দেওয়ার জন্য একপর্যায়ে নদীর তীরে দাঁড়িয়ে তার সব কাপড়চোপড় খুলে ফেলল।এরপর হঠাৎ করে পাভেলের সাঁতারের গতি বেড়ে গেলেও তা আস্তে আস্তে কমে পাড়ের কাছাকাছি এসে একেবারেই থেমে গেল।বাবার ঠিক করা পাত্রটি জিতে গেল প্রতিযোগিতায়। পরে আনেক কষ্টে পাভেল পাড়ে ওঠার পর জরিনা রেগেমেগে বলল, তোমাকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য এতকিছু করলাম তাও জিততে পারলে না। ছিঃ, কাপুরুষ কোথাকার।

পাভের ও সমান তেজে জবাব দিল সব দোষ তোমার, কে বলেছিল তোমাকে কাপড় খুলতে ? তুমি কাপড় খোলার পরপরইতো আমার প্রাইভেট পার্ট নদীর তলদেশের লতাগুল্মের সাথে আটকে যেতে লাগল।

 

১০৬)

এক লোক নতুন বিয়ে করছে তাই বিয়ের পরদিন বৌকে নিয়ে শ্বশুর বাড়ি গেছে । কিন্তু বৌ হল মা মরা মেয়ে, তাই শ্বশুরের মাত্র একটি ঘর এবং একটি খাট। তাই তিনজনে মিলে এক বিছানায় ঘুমাল। প্রথমে মেয়ে তারপর মেয়ে জামাই এবং সবশেষে শ্বশুর ঘুমাল। মাঝরাতে জামাই মেয়েকে বলছেঃ বৌ লোকালে দিব না ডাইরেকে দিব। ( পাঠক এখানে লোকালে =আস্তে এবং ডাইরেকে= জোরে)। মেয়ে বললঃ বাবা পাশে, লোকালেই দাও।

জামাই লোকালে দিতে লাগল। কিন্তু লোকালে সুখ আসার পর আর সামলাতে না পেরে  ডাইরেকে দিতে লাগল। তাই খাট নড়তে লাগল। একটু পরে হাই স্পীডে করার কারনে খাট নড়তে নড়তে শ্বশুর মাটিতে পরে গেল। এখন শ্বশুর বলছেঃ বাবা গাড়ি চালাবা গাড়ি চালাও, লোকালে চালাও বা ডাইরেকে চালাও, কিন্তু পেছেঞ্জার পরবো কেন ?

 

১০৭)

এক চার্চে পাদ্রি নির্বাচন করা হচ্ছে । মিস্টার জন নির্বাচক , তিনি ঠিক করলেন যে সবচেয়ে পার্থিব ভোগের উর্ধে তাকেই নেয়া হবে । ৩জন পার্থি আবেদন করল । এখন ৩ জনেরই বিশেষ অঙ্গে ঘন্টা লাগানো হল যাতে ওই জিনিস দাড়ালে ঘন্টা বেজে উঠে । এইবার তিনজনের সামনে এক সুন্দরীকে এনে প্রথমে বুকের কাপড় খুলে ফেলা হল , একজনের ঘন্টা বেজে উঠল এবং সে বাদ পড়ল , এইবার সুন্দরীর নিচের কাপড় খুলে ফেলা হল । আরেকজনের ঘন্টা বেজে উঠল এবং বাদ পড়ল , রইল বাকী এক , নির্বাচক মিস্টার জন বললেন তার মানে আমরা আমাদের পাদ্রি পেয়ে গেছি , তুমি সমস্ত ভোগ-কাম-লালসা এর উর্ধে …… এইসব বলতে বলতে তাকে জড়িয়ে ধরলেন , সাথে সাথে ঘন্টা বেজে উঠল ।

 

১০৮)

দ্বিতীয বিশ্বযুদ্ধের সময় সৈনিক সংকট দেখা দিলে কতৃপক্ষ নিয়ম করে দেয় প্রতি পরিবার থেকে একজন তরুণকে যুদ্ধে অংশ নিতে হবে। জর্জ কোন ভাবেই যুদ্ধে যাবে না। মেডিকেল ফিটনেস পরীক্ষার জন্য যখন তার ডাক পড়ল তখন সে তার গার্লফ্রেন্ড এর ইউরিন স্যাম্পল নিজের ইউরিন স্যাম্পল বলে আর্মি হাসপাতালে জমা দিয়ে দিল। তার বান্ধবীর ছিল ডায়বেটিস । ডায়বেটিস ধরা পড়লে সে আনফিট ঘোষিত হবে এবং তাকে যুদ্ধে যেতে হবে না।

পরদিনই ঐ তরুণ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে চিঠি পেল।

কংগ্রেচুলেশ! আপনি অবিলম্বে আমাদের গাইনি বিভাগে যোগাযোগ করুন। কারণ আপনি মা হতে যাচ্ছেন।

 

১০৯)

আরাম খান আর তার স্ত্রী গেছেন চিড়িয়াখানায়, ঘুরতে ঘুরতে তারা গিয়ে দাঁড়ালেন এক গরিলার খাচার সামনে, চারিদিকে নির্জনতা দেখে কি মনে করে যেন আরাম খান তার স্ত্রীকে বললেন, তুমি আমাকে যেভাবে উত্তেজিত কর, গরিলাটাকে ওভাবে করো না।

আরাম খান এর স্ত্রী আস্তে আস্তে তার টপস খুলে ফেললেন। গরিলা উত্তেজিত হয়ে পড়লো।

আরাম খান বললেন, আরও উত্তেজিত কর তারপর দেখো কি হয়। স্ত্রী এবার নিচেরটাও খুলে ফেললেন। গরিলা এবার উত্তেজিত হয়ে কাপতে লাগলো।

আরাম খান জানতেন যে খাচার দরজায় তালা ছিল না। আরাম খান দরজা খুলে তার স্ত্রীকে খাচার ভিতরে ঢুকিয়ে দিলেন আর স্ত্রীর উদ্দেশ্যে বললেনঃ “এবার গরিলাটাকে বল যে তোমার মাথা ব্যথা করছে। তোমার এখন মুড নাই” !!!

 

১১০)

আরাম খানের ছোটবেলার কাহিনী। পোলাডা একদিন দেখে এক বড় ভাই একটা মেয়েরে চুমু দিচ্ছে। বাসায় এসে আরাম খান মারে কয়, “আম্মা! চুমা দিলে কি হয়?”

ওর মা ত খুব কড়া। সে চায় পোলা ভালা থাকুক। এইসব পাপ যাতে না করে তাই ডর দেখানের লাইগ্যা আরাম খানরে কইল, “ চুমা দেয়ার পর পোলাগুলার শরীর আস্তে আস্তে পাথর হইয়া যায়, পরে মাটিত পইরা মইরা যায়।”

আরাম খান কয়, “সত্যি?”

“হ”

আরাম খান আস্তে আস্তে বড় হয়। যুবক হইলে একদিন এক মাইয়ার সাথে কথা হয়। কথায় কথায় সম্পর্ক হয়। মেয়েটা একদিন আরাম খানরে চুমা দিতে চায়। আরাম মানা করে, “আমার আম্মা কইছে মেয়েদের চুমা দিলে আমি মারা যামু।”

“বোকা! আসো।” বলে মেয়েটা এগিয়ে একটা চুমা দিল। চুমা শেষ না করতেই করতেই আরাম খান, “আম্মা ঠিকই কইছিল” বলে মাটিতে শুয়ে গড়াগড়ি দেয়া শুরু করছে।

“কি হইছে?”

“আল্লাহ রে। আমি পাত্থর হইয়া মইরা যামু। তোমারে চুমা দিতে না দিতেই আমার শরীরের একটা অংশ শক্ত হওয়া শুরু করছে!”

 

১১১)

এক দম্পতি এসেছে ডাক্তারের কাছে। স্বামীটা বেশ বয়স্ক কিন্তু স্ত্রী তরুনী। তাদের সমস্যা হলো বাচ্চা হচ্ছে না। ডাক্তার স্ত্রীর কিছু পরীক্ষা করলেন। স্বামীটিকে বললেন আপনার স্পার্ম টেস্ট করতে হবে। তাকে একটা specimen cup দেয়া হলো। বলা হলো কাপটাতে স্পার্ম নিয়ে আসবেন।

পরদিন লোকটা খালি কাপ নিয়ে এসেছে।

ডাক্তার বলল, কাপ খালি কেনো?

-বাসায় গিয়ে বাম হাতে অনেক চেষ্টা করলাম। পারলাম না। পরে মনে হলো ডান হাতে চেষ্টা করি। সেই হাতেও হলো না।

-এটা হতে পারে…আপনার বয়স ত আর কম হয় নাই। তা সাহায্য করার জন্য বউকে ডাকতে পারতেন।

-বউকে ডাকছি ত। সে হাত দিয়ে চেষ্টা করল …হলো না…মুখ দিয়ে চেষ্টা করল …হলো না…

– হয়। মাঝে মাঝে এমন হয়। তা অন্য কাউকে ডাকতে পারতেন।

-ডাকছি ত। বউয়ের বান্ধবীকে ডাকছি।

-বউয়ের বান্ধবী????

-সেও চেষ্টা করে পারল না।

-পারল না?? ডাক্তারের ভ্রু কুচকে গেছে।

-এরপর বউয়ের বন্ধু এলো। সেও চেষ্টা করল… পারল না।

ডাক্তার অবাক- বলেন কি? আপনার বউয়ের দোস্ত??একটা ছেলে??

-তবে আর বলছি কি?যাক, সারা রাতে পারলাম না। সকালে হাসপাতালে এলাম। হাসপাতালে এসে নার্সকে বললাম সাহায্য করতে।

– আমার নার্সকে?

-হ্যা। সেও চেষ্টা করল। পারে নাই।

-আপনি ত দেখি সবাইকে দিয়ে চেষ্টা করছেন।

-তা করছি। তবে আপনি বাকি আছেন।

-আআআআমি??? ডাক্তার তোতলাচ্ছে…

-হ্যা। দেখেন ত চেষ্টা করে কাপটার ঢাকনাটা খুলতে পারেন কিনা?

 

১১২)

এক বৃদ্ধ লোকের একটি বড় ফার্মহাউজ ছিলো। ফার্মহাউজের পেছনে একটা বড় পুকুর ছিলো। সে সেটাকে কেটে গভীর করলো, কিছু পিকনিক টেবিল বসালো এবং কিছু গাছপালা লাগালো যাতে এটাকে একটা পিকনিক স্পট বানানো যায়।

একদিন বিকালে লোকটি পুকুরের অবস্থা দেখার জন্য চললো। তার হাতে ছিলো একটা বালতি।

পুকুরের কাছে আসতেই তার নজরে পড়লো কিছু নারীকণ্ঠ। আরেকটু এগোতেই সে দেখলো স্বল্প বসনা কিছু মেয়ে পুকুরের পাশে হাসি-আনন্দ করছে। বৃদ্ধ ভাবলো, হয়তো তারা পাশের কোন বাড়ি থেকে এসেছে। নিজের উপস্থিতি জানানোর জন্য সে গলা খাঁকারি দিলো। তার আওয়াজ শুনে মেয়েরা সবাই গলা পানিতে নেমে গেলো। একজন বললো, চাচা, আপনি এখান থেকে না গেলে আমরা উঠবো না।

বৃদ্ধ বললো, আমি তোমাদের শরীর দেখার জন্য এখানে আসিনি। আমি পুকুরের কুমিরগুলোর জন্য খাবার এনেছি।

 

১১৩)

১ম বন্ধু: কিরে তোর মুখে ব্যান্ডেজ বাধা কেন? তোর ডান চোখটাতো অল্পের জন্য বেঁচে গেছে। কে তোর এই দশা করল?

২য় বন্ধু: আর বলিস না সকাল বেলায় অফিসে বেরোবার আগে প্যান্টের সামনের একাট বোতাম ছিড়ে গেল। আমি ব্যাচেলর মানুষ। তাই পাশের অ্যাপার্টমেন্টের মিসেস ললার সাহায্য চাইলাম।

১ম বন্ধু: বুঝতে পারছি। প্যান্টের ঐ জায়গায় বোতাম লাগাতে বলায় ভদ্রমহিলা নিশ্চয়ই ভাবলেন তুই কোন অসভ্য ইঙ্গিত করছিস। তারপর তোকে জুতা পেটা করলেন।

২য় বন্ধু: না না, তা নয়। মিসেস লরা একজন সমাজ সেবিকা। তিনি আমার সমস্যা বুঝতে পারলেন। দ্রুত সুঁই-সুতা নিয়ে আমার প্যান্টের বোতাম লাগিয়ে দিলেন।

১ম বন্ধু: তাহলে সমস্যাটা কি?

২য় বন্ধু: বোতামটা লাগানো শেষ করে মিসেস লরা যখন মাথা নিচু করে দাঁত দিয়ে সুতোটা কেটে দিচ্ছিলেন তখনই‌ উনার হাজব্যান্ড এসে উপস্থিত। তারপরতো বুঝতেই পারছিস।

 

১১৪)

এক ভদ্রলোক বীয়ার ছাড়া কিছু বোঝেন না। সন্ধ্যা হলেই তার বীয়ার চাই। তার মাসের অর্ধেক বেতন চলে যায় পাবে বীয়ারের পেছনে। তার স্ত্রী বেচারা সন্ধ্যায় একা একা থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে যান, তাই তিনি প্রার্থনা করলেন তার স্বামীকে তার কাছে ফিরিয়ে দিতে। ঈশ্বর প্রার্থনা শুনলেন, তাই একদিন স্বামীর কাছে দেবদূত এল। তাকে বললেন, তোমার একটি ইচ্ছা আমি পূরণ করব। অনেক চিন্তা ভাবনার পর, লোকটি বলল, আমার খালি বীয়ার খাওয়ার শখ, মাসের বেতনের অনেকটাই চলে যায় বীয়ারের পেছনে। এ থেকে আমি বাঁচতে চাই, তাই আমার এমন ব্যবস্থা করে দিন যাতে আমার মূত্রই যেন খুব ভাল বীয়ার হয়ে বের হয়! দেবদূত তার ইচ্ছা মঞ্জুর করলেন। লোকটি সাথে সাথে একটা গ্লাস এনে পরীক্ষা করে দেখলেন। সন্তুষ্ট হয়ে খুশিতে সে সন্ধায় আগে আগে ঘরে ফিরে গেল। স্ত্রী খুবই আনন্দিত হয়ে স্বামীকে সঙ্গ দিতে চাইলেন। স্বামীতো আরও খুশি, তিনি স্ত্রীকে একটা বীয়ারের গ্লাস নিয়ে আসতে বললেন। স্ত্রী দৌড়ে গ্লাস এনে দেখেন স্বামী নগ্ন হয়ে বসে আছেন। স্ত্রী বুঝলেন আজ কিছু একটা হবে, তাই স্বামীকে আরো উত্তেজিত করার জন্য বললেন, তিনিও আজ বীয়ার খেতে চান, আরেকটা গ্লাস নিয়ে আসছেন। স্বামী বললেন, অসুবিধা নেই, ডারলিং, গ্লাস আনতে হবেনা! আজ তুমি সরাসরি ট্যাপ থেকে খাবে!

 

১১৫)

ইদানিং জনের মধ্যে সেই নার্ভাস ভাবটা নেই। মেয়েদের সাথে সাচ্ছ্যন্দে কথা বলতে পারে।তাই রাস্তায় একদিন একটা অপরুপ পরীকে দেখে এগিয়ে গেলো কথা বলতে।

“এক্সকিউজ মি, আপনাকে যদি আমি এক মিলিওন ডলার দেই, তো আপনি কি আমার সাথে শোবেন?” স্ট্রেইটকাট কথাবার্তা জনের।

অলমাইটি ডলারস! তো এখানেও মেয়েটি একটু ভেবে রাজী হয়ে গ্যালো।

“হ্যাঁ, শোব”

“আর যদি দশ ডলার দেই?”

“হোয়াট! কি বলছেন আপনি! আমাকে আপনি কি ধরণের মেয়ে মনে করেন??” পরী পুরো ক্ষেপে গ্যাছে।

“কি ধরনের মেয়ে, সেটাতো আগেই বুঝেছি। এখন একটু দরাদরি করছি আর কি!” মিটমিটিয়ে হেসে বলল জন।

 

১১৬)

পার্কে একটা বিরাট কুকুর নিয়ে বসে আছে বাবু। এক তরুণী যাচ্ছিলো পাশ দিয়ে, দাঁড়িয়ে বললো, ‘বাহ, বেশ তো কুকুরটা!’

বাবু হাসলো। ‘হ্যাঁ। খুব রোমান্টিক ও। আর মেয়েরা তো ওকে খুব পছন্দ করে, দারুণ আদর করতে পারে কি না।”

তরুণীর চোখে আগ্রহ ফুটলো। ‘তাই?’ ফিসফিস করে জানতে চাইলো সে। বাবু বললো, ‘হ্যাঁ, দেখতে চান? চলুন আমার বাসায়।’

বাড়ি ফিরে মেয়েটাকে সাথে নিয়ে নিজের ঘরে এলো সে। মেয়েটাকে জামাকাপড় খুলতে বলে সে কুকুরটার দিকে ফিরলো, ‘কালু, এই আপুটাকে আদর করো তো!’

কালুর কোন ভাবান্তর হলো না। বাবু আবার হুকুম দিলো, তবুও সে গ্যাঁট হয়ে বসে রইলো।

এবার বাবু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে প্যান্ট খুলতে খুলতে বললো, ‘ঠিক আছে, কালু, তোমাকে দেখিয়ে দিচ্ছি কিভাবে কী করতে হবে, কিন্তু এ-ই শেষবার, বলে দিচ্ছি!’

 

১১৭)

কোনো এক পশ্চিমী দেশে এক ভদ্রমহিলার তিন-তিনটি অবিবাহিতা মেয়ে। অনেকদিন চেষ্টা করেও কিছু না হওয়ার পরে হঠাৎ করেই তিন মেয়ের খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিয়ের ঠিক হয়ে গেলো। ভদ্রমহিলা মেয়েদের দাম্পত্যজীবন (?) নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেলেন। তো তিনি মেয়েদের বললেন যে প্রত্যেকে যেনো হানিমুন থেকে অল্প কথায় কিছু লিখে তাকে পোস্টকার্ড পাঠায়। যাতে তিনি বুঝতে পারেন যে মেয়েদের হানিমুন কেমন চলছে।

বিয়ের দু’দিন পরে প্রথম মেয়ে হাওয়াই থেকে পোস্টকার্ড পাঠাল। তাতে শুধু লেখা – “Nescafe”!!!!

প্রথমে বেশ অবাক হলেও, কিছুক্ষন বাদে তিনি কিচেনে গিয়ে Nescafe – এর জার বের করলেন। দেখলেন তার গায়ে লেখা – “Good till the last drop”….

তিনি একটু লজ্জা পেলেও, মেয়ের খবরে আনন্দ পেলেন।

বিয়ের এক হপ্তা পরে পরের মেয়েটি ভারমন্ট থেকে পোস্টকার্ড পাঠাল। তাতে লেখা – “Rothmans”!!!! এবার তিনি আর ঘাবড়ালেন না। একটা Rothmans এর প্যাকেট নিয়ে দেখলেন তাতে লেখা – “Extra Long. King Size”….। আবার তিনি একটু লজ্জা পেলেও, আনন্দিত হলেন।

সবচেয়ে ছোটো মেয়েটি গেছিল কেপ-টাউন। তার চিঠি কিছুতেই আসে না। এক মাসের শেষে তার চিঠি এল। তাতে খুব কাঁপা-কাঁপা হাতে লেখা – “South African Airways”!!!!

ভদ্রমহিলা জল্দী লেটেস্ট একটা ম্যাগাজিন বের করে South African Airways -এর এডটা দেখলেন। দেখামাত্র তিনি সেন্সলেস হয়ে পড়লেন।

এডটার নিচে লেখা – “Ten times a day, seven days a week, both ways”!!!!!!!!

 

১১৮)

ছুটির একদিনে আরাম খান ও তার বউ জন্মদিনের ড্রেসে বাথটাবে জলকেলী করতেছে। গায়ে ফেনা লাগায়া আবার ধোয়াধুয়িও চলতেছে। এমন সময় বাসার কলিং বেল বাইজা উঠলো। আরাম খান আইলসামি কইরা কইলো “জান, তোয়ালে প্যাচাইয়া যাওনা, দেখো কে আইসে?”

আরাম খান এর বউ তাই করে। একটা তোয়ালেতে শরীর ঢাইকা দরজা খুইলা দেখে পাশের বাড়ীর আনিস ভাই। জিগাইলো কি দরকার, আরাম গোছলে আছে। আনিস একটু ভাইবা কইলো “আইছিলাম এমনিতেই, থাক পরেই আমু আবার। তয় আপনে চাইলে একটা ব্যবসা করতে পারেন। ইন্সট্যান্ট এখানেই।”

আরাম খান এর বউ উৎসাহী হয়, কয় “কিরাম ব্যবসা?”

আনিস ব্যবসার প্রস্তাব দিলো তখন, “যদি আপনে তোয়ালের উপরের অংশ খুইলা দেখান, তাইলে আমি আপনেরে ৫০০০ টাকা দিমু।”। আরাম খান এর বউ ভাবলো, শুধু তো দেখবো, ৫০০০ টাকা তো কম না। সে খুইলা দেখাইলো। আনিস চোখ ভইরা দেখলো আর দিলো ৫০০০ টাকা।

নেশা চাপসে দুইজনেরই। আনিস এইবার কইলো “যদি পুরাটাই খুইলা ফেলেন তাইলে দিমু আরো ৫০০০।”

আরাম খান এর বউ ভাবলো একি কথা, দেখবোই তো। দিলো খুইলা। আনিস দেইখা আরো ৫০০০ দিয়া গেলো গা।

আরাম খান এর বউ খুব খুশী, ১০০০০ টাকা এত সহজে ইনকাম হইলো, খুশীতে গেলো স্বামীরে জানাইতে। স্বামী রে কইলো “পাশের বাসার আনিস ভাই আইছিলো..।”

আরাম খান কথা কাইরা নিয়া কয় ” আনিসে টাকা দিছে নি, ১০০০০ টাকা পাইতাম, ধার নিছিলো।

 

১১৯)

একদিন হঠাৎ এক স্পার্ম ব্যাংকে মুখোশ দিয়ে মুখ ঢাকা এক লোক উদ্দোত পিস্তল হাতে প্রবেশ করল। কাউন্টারে এক মহিলা ছিল, তাকে পিস্তল দেখিয়ে ভয় দেখিয়ে দাঁড়া করাল। মহিলা বলল ‘এটা ব্যাংক না, এটা একটা স্পার্ম ব্যাংক, এখানে কোন টাকা-পয়সা নেই, থাকেনা’

লোকটা বলল, ‘একটা বোতল নাও, এখনই! নাও, বোতলের ছিপি খুলে সবটা এখনই খেয়ে নাও!’

মহিলা পিস্তলের মুখে সবটা খেয়ে নিল তারপর লোকটা মুখোশ খুলে ফেলল, দেখা গেল সে ঐ মহিলারই হাসবেন্ড! লোকটা তখন তার বউকে বলল,

‘দেখেছ বেবি? এটা খাওয়া মোটেই কোন কঠিন কাজ না!

 

১২০)

ডিক একটি বারে ঢুকলো ড্রিংস্ করার জন্য। একটি মার্টিনি অর্ডার করলো সে। এবং বারটেন্ডারের কাছে তার দামও জানতে চাইলো। বারটেন্ডার বললো এর দাম ২ ডলার। এটা শুনে ডিক চমকে উঠলো। কারণ অন্যবারে এর দাম কমপক্ষে ২০ ডলার হবে। খুশি মনে সে মার্টিনি শেষ করে রেড ওয়াইনের দাম জানতে চাইলো। এক বোতল রেড ওয়াইন অন্য জায়গায় ৫০ ডলারের কমে পাওয়া যায় না। কিন্তু বারটেন্ডার জানালো এক বোতল রেড ওয়াইনের দাম এখানে ৫ ডলার!

শুনে ডিক বলে উঠলো, “বলো কি! এত্ত কমে? বারের মালিক কোথায়?”

বারটেন্ডার: “সে উপরের তলায় আমার বৌ এর সাথে আছে।”

ডিক: “বারের মালিক তোমার বৌ এর সাথে কি করে?”

বারটেন্ডার: “আমি ওর ব্যাবসার সাথে যা করতেছি, তাই করে!”

 

১২১)

মাঝরাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল স্ত্রীর। চোখ পিটপিট করে তাকিয়ে দেখলেন, স্বামী বিছানায় নেই। বিছানা থেকে নেমে গায়ে গাউন চাপালেন তিনি। তারপর স্বামীকে খুঁজতে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে এলেন। বেশি খুঁজতে হলো না। রান্নাঘরের টেবিলেই বসে থাকতে দেখা গেল স্বামীপ্রবরকে। হাতে গরম এক কাপ কফি নিয়ে দেয়ালের দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি। দেখেই বোঝা যাচ্ছে, গভীর কোনো চিন্তায় মগ্ন। মাঝেমধ্যে অবশ্য হাতের রুমাল দিয়ে চোখ থেকে পানি মুছে নিচ্ছেন, তারপর কফি খাচ্ছেন।

‘কী হয়েছে তোমার?’ রান্নাঘরে ঢুকতে ঢুকতে চিন্তিতভাবে বললেন স্ত্রী। ‘এত রাতে রান্নাঘরে কেন?’

স্বামী তাঁর স্ত্রীর দিকে তাকালেন। তারপর গম্ভীর হয়ে বললেন, ‘হঠাৎ ২০ বছর আগের কথা মনে পড়ল। খেয়াল আছে তোমার, যেদিন আমাদের প্রথম দেখা হয়েছিল। আর তার পর থেকেই তো আমরা ডেট করতে শুরু করেছিলাম। তোমার বয়স ছিল ষোলো। তোমার কি মনে পড়ে সেসব?’

স্ত্রী তাঁর স্বামীর চোখের পানি মুছে দিতে দিতে জবাব দিলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই মনে আছে।’

স্বামী একটু থেমে বললেন, ‘তোমার কি মনে আছে, পার্কে তোমার বাবা আমাদের হাতেনাতে ধরে ফেলেছিলেন?’

‘হ্যাঁ, আমার মনে আছে।’ একটা চেয়ার নিয়ে স্বামীর কাছে বসতে বসতে বললেন স্ত্রী।

স্বামী আবার বললেন, ‘মনে আছে, তোমার বাবা তখন রেগে গিয়ে আমার মুখে শটগান ধরে বলেছিলেন, ‘এক্ষুনি আমার মেয়েকে বিয়ে করো, নয়তো তোমাকে ২০ বছর জেল খাটাব আমি।’

স্ত্রী নরম সুরে বললেন, ‘আমার সবই মনে আছে।’

স্বামী আবার তাঁর গাল থেকে চোখের পানি মুছতে মুছতে বললেন, ‘আজকে আমি জেল থেকে ছাড়া পেতাম।’

 

১২২)

মিস্টার অন্ড মিসেস রবিনসন ক্রুসো জাহাজডুবি হয়ে কয়েক বছর ধরে একটা দ্বীপে আটকা পড়ে আছে। একদিন ভোরে তারা দেখতে পেলো, সৈকতে এক সুদর্শন যুবক অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে, গায়ে নাবিকের পোশাক। সুস্থ হয়ে উঠে যুবক জানালো, তারও জাহাজডুবি হয়েছে। ওদিকে মিসেস ক্রুসো প্রথম দর্শনেই এই যুবকের প্রেমে পড়ে গেছে। কয়েকদিন পর সুযোগ বুঝে ঐ যুবককে প্রেম নিবেদন করলো সে। কিন্তু রবিনসন আশেপাশে যতক্ষণ আছে, কোন কিছু করবার সুযোগ তাদের নেই।

এর কিছুদিন পর নাবিক যুবক রবিনসনকে পরামর্শ দিলো, সৈকতে একটা ওয়াচ টাওয়ার তৈরি করা হোক। সে আর ক্রুসো ওতে চড়ে পাহারা দেবে, জাহাজ দেখতে পেলে পতাকা দিয়ে সংকেত দেবে। ক্রুসোর বেশ মনে ধরলো বুদ্ধিটা। বাঁশ দিয়ে একটা উঁচু ওয়াচ টাওয়ার তৈরি করলো তারা।

পরদিন প্রথমে পাহারা দেয়ার পালা নাবিকের। সে টাওয়ারে চড়লো, নিচে ক্রুসো আর তার বউ গেরস্থালি কাজ করতে লাগলো। কিছুক্ষণ পরই যুবক চেঁচিয়ে উঠলো, ‘ছি, ক্রুসো ভাই! দিনে দুপুরেই ভাবীর ওপর এভাবে চড়াও হয়েছেন। ছি ছি ছি।’ ক্রুসো নারকেল কুড়োচ্ছিলো, সে বিব্রত হয়ে ওপরে তাকিয়ে বললো, ‘কী যে বলো, আমি কোথায়, আর ও কোথায়!’

যুবক চোখ কচলে বললো, ‘ওহহো, দুঃখিত, আমার যেন মনে হলো … সরি ভাই।’ কিন্তু ঘন্টাখানেক পর আবার চেঁচিয়ে উঠলো সে, ‘না, এবার আর কোন ভুল নেই। কী ভাই, একটু অন্ধকার হতে দিন না! এভাবে জঙলিদের মতো সক্কলের সামনে … ছি ছি ছি।’

ক্রুসো আগুন ধরাচ্ছিলো, সে চটেমটে বললো, ‘চোখের মাথা খেয়েছো নাকি ছোকরা, কী দেখতে কী দেখছো!’

যুবক খানিকক্ষণ চেয়ে থেকে মাথা নেড়ে লজ্জিতভাবে হাসলো। ‘ইয়ে, দুঃখিত, কিন্তু মনে হলো পষ্ট দেখলাম …।’

কিছুক্ষণ বাদে যুবকের পাহারা দেয়ার পালা শেষ হলো, এবার ক্রুসো চড়লো টাওয়ারে। কিছুক্ষণ টাওয়ারে পায়চারি করে ক্রুসোর চোখ পড়লো নিচে। সে খানিকক্ষণ চেয়ে থেকে আপনমনে বললো, ‘আরে, কী তামশা, ওপর থেকে দেখলে তো মনে হয়, সত্যি সত্যি নিচে ওরা ওসব কিছু করছে!’

 

১২৩)

মেয়দের ব্রেস্ট স্ট্রোক সাতার প্রতিযোগিতা চলছে। সেখানে বিশাল বক্ষা এক তরুনী অংশ নিচ্ছে। হুইসেল দেয়ার পর সবাই ঝাপিয়ে পড়েছে পানিতে।

সুইমিং পুলের এক মাথা থেকে আরেক মাথায় গিয়ে সবাই চলে এসেছে। শুধু বিশাল বক্ষা তরুনী ডুবে আর ভেসে ভেসে অনেক কষ্টে সাতরিয়ে যাচ্ছে। সে আগাচ্ছে একটু একটু করে। বাকি প্রতিযোগিরা সাতার শেষ করে তোয়ালে দিয়ে পানি শুকিয়ে নিচ্ছে। আর তরুনীটি সাতরিয়েই যাচ্ছে। বলা বাহুল্য টিভি ক্যামেরা নিয়ে সাংবাদিকরা চলে এসেছে। এরা চায় ত ফানি জিনিস। আর এই মেয়ে মাত্র (!) আধাঘন্টা দেরি করে ফেলছে সাতার শেষ করতে।

যাই হোক এক সময় সে সাতার শেষ করে। সাংবাদিক খুব আগ্রহ নিয়ে তার দিকে মাইক্রোফোন বাড়িয়ে দিয়ে প্রশ্ন করে- মিস। ব্রেস্ট স্ট্রোক সাতারের এই আইটেমে প্রথম প্রতিযোগি তিনমিনিটে সাতার শেষ করেছেন। আপনার পয়ত্রিশ মিনিট লাগার কারণ কি?

তরুনী হাপাতে হাপাতে উত্তর দিল, আমি সেই রকম মানুষ না যারা হেরে গিয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে চিটিং এর অভিযোগ আনে। কিন্তু আমি শিওর , আমি বাদে বাকি সবাই সাতারের সময় হাত ব্যবহার করেছে।

 

১২৪)

একদিন এক বাসার গৃহকর্তা আর তার বৌ গলা ফাটিয়ে চেঁচিয়ে ঝগড়া করছে। একপর্যায়ে লোকটা তার বউকে বলল Whore আর শুনে মহিলা লোকটাকে বলল Pimp।

তাদের ছোট ছেলে ছিল একটা, সে শুনে বাপ মাকে বলল, ‘Whore আর Pimp মানে কি?’ বাবা মা বলল, ‘এটা কিছু না ভদ্রমহোদয় আর ভদ্রমহোদয়া, আইমিন লেডিস এন্ড জেন্টেলম্যান’

২দিন পরে এক রাতে ভালবাসার একপর্যায়ে মহিলা লোকটাকে বলে বসল ‘ফিল মাই বুবস’ আর লোকটা ৫ মিট পরে বলল ‘ফিল মাই ডিকি’ ছেলেটা এবারও ঘন্টা খানেক পরে বাবা মাকে জিজ্ঞেস করল ‘বুবস আর ডিকি মানে কি?’ উত্তর এল ‘হ্যাট আর কোট!’

তার পরেরদিন লোকটা শেভ করতে যেয়ে গাল কেটে ফেলে বলে বসল ‘শিট’! ছেলে জানতে চাইল মানে কি, বাবা বলল ‘এটা শেভিং ক্রিমের ব্যান্ড নেম!’ আরেকদিন ছেলের মা টার্কি রেডি করতে যেয়ে কি একটা ভুল করে ফেলে বলল ‘Fuck!’ ছেলে জানতে চাইলে বলল ‘এটার মানে টার্কি রেডি করা!’

বাচ্চাদের সাথে মিথ্যা বলার সমস্যাটা টের পাওয়া গেল মাসখানেক পরে। একদিন বাসায় এক মহিলা তার হাসবেন্ডকে নিয়ে যখন এসে ছেলেটার কাছে জানতে চাইল তার বাবা মা কোথায়, ছেলেটা উত্তর দিল, “ডিয়ার Whore আর Pimp, আপনারা প্লিজ আপনাদের বুবস আর ডিকি এই হ্যাঙ্গারে রাখুন। আমার বাবা মুখ থেকে শিট ধুয়ে ধুয়ে পরিস্কার করছে আর মা উপরতলায় একটা টার্কি-কে খুবই দ্রুততার সাথে Fuck করছে!”

 

১২৫)

অরিত্র বাবু কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে গেছেন প্রাকৃতিক অপূর্ব সৌন্দর্য উপভোগ করতে। সমুদ্রের কাছে গিয়ে নামতে ইচ্ছে হলো পানিতে। ড্রেস শর্ট করে সমুদ্রে নামতে যাবেন, কাছেই ২/৩ জন ষোড়শীর শর্ট ড্রেস দেখে অরিত্র বাবুর শরীরে ঘাম দেখা দিলো। তিনি একটু বেশিই সেনসেটিভ। দৃশগুলো সইতে পারেন না। আর তাই শর্টপ্যান্টের সামন দিক উঁচু হতে থাকলো। ভয়, লজ্জা আর হীনমন্যতা নিয়ে এদিক সেদিক তাকালেন  কেউ দেখছে না তো? সামনে পেছনে ডানে বামে দেখতে গিয়ে ডানে দেখলেন এক পিচ্চি মেয়ে চোখ বড় বড় করে অরিত্র বাবুর দেহের বিশেষ দিকে তাকিয়ে আছে। পুচকা মেয়েটি হয়তো বুঝতে পারছে না কেন ওখানটা উঠানামা করছে।

মহা ফ্যাসাদে অরিত্র বাবু।

তিনি স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করলেন একটু কুঁজো হয়ে দাঁড়িয়ে।সেয়ানা পিচ্চিটি অরিত্র বাবুর আর একটু সামনে এগিয়ে এলো।

আংকেল, এটা কী?

পাখি… যাও যাও ডিস্টার্ব করোনা!

পিচ্চিটি গেলো না। তবে অরিত্র বাবুর তাড়া খেয়ে অদূরে দাঁড়িয়ে রইলো। অরিত্র বাবুর মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেলো। তিনি পানিতে দ্রুত ঝাপিয়ে পড়লেন। ঝাপাঝাপি করে এসে সৈকতে শুয়ে পড়লেন। বিকালের সোনালী রোদ গায়ে লেগে একটা আরাম আরাম ভাব চলে এলো। কখন যে অরিত্র বাবু ঘুমিয়ে পড়েছেন, খেয়ালই করেন নি।

ঘুম ভেঙে দেখেন তিনি হাসপাতালে।

ঘটনা কী?

অন্য সবাইও জানতে চাইলেন ঘটনা কী?

অরিত্র বাবু ফ্যাল ফ্যাল করে এদিক ওদিক তাকাতে গিয়ে হঠাৎ অনুভব করলেন উনার বিষেশ অঙ্গে ব্যান্ডেজ।

খাইছে!

ডাক্তারের প্রশ্নে অরিত্র বাবু জানালেন, কিছুই জানি না। তবে শেষ মনে পরে সৈকতে একটা পিচ্চি মেয়ে আমার চারপাশে ঘুর ঘুর করছিলো। ডাক্তার লোক পাঠালেন পিচ্চিকে ধরে আনার জন্য। পিচ্চি এসে বলে, আংকেল ঘুমিয়ে যাবার পর আমি আংকেলের পাখি আর পাখির দুইটা ডিম নিয়া খেলতে ছিলাম। হঠাৎ দেখি পাখি রাগে ফুইসা উঠছে। তাই আমি ধাক্কা দিছি। অমনি পাখি আমারে থুতু দিছে, আর তাই আমিও পাখির ডিম ভাঙার জন্য ইটের টুকরা দিয়া মারছি!

 

১২৬)

একজন স্ট্রীট ম্যাজিশিয়ান ম্যাজিক দেখাচ্ছেন কোন এক আবাসিক এলাকার এক রাস্তার উপরে। সবাই সাগ্রহে তাকে ঘিরে আছে। মূল আকর্ষণ হচ্ছে নাকি তার ম্যাজিক স্পেল আউড়ানোর সাথে সাথে কোথাও নাকি কিছু দাঁড়িয়ে যাবে আর সবাই মিলে যদি ফুঁ দেয় তবে তা বসে পড়বে।

প্রথম বারঃ হ্রিঙ্গা ত্রিঙ্গা ছট্টে… সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বাচ্চাটির পকেট থেকে পেন্সিলটি উঠে দাঁড়িয়ে গেলো। সবাই মিলে একযোগে ফুঁ… বসে পড়লো পেন্সিলটি তার জায়গায়।

দ্বিতীয় বারঃ ম্যাজিশিয়ানের মন্ত্র… মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা একজন ভদ্রমহিলার মাথা থেকে তার হেয়ার পিনটি উঠে দাঁড়ালো। সবাই আবারো ফুঁ… বসে পড়লো হেয়ার পিন।

শেষ বারঃ মন্ত্র পড়া শেষ… সবাই ফুঁ দেবার অপেক্ষায়… কিন্তু কেউ বুঝতে পারছে না কোথায় কি দাঁড়ালো…!! আকস্মিক ভাবেই পাশের এক বাড়ীর দরজা খুলে একজন ৮৫ বছরের বৃদ্ধ বেরিয়ে এসে হাঁক ছাড়লেন, “এই পাঁজির দল, নচ্ছার গুলো, খবর্দার বলে দিচ্ছি, কেউ কিন্তু ফুঁ দিবি না হতচ্ছাড়ারা”…!!

 

১২৭)

মিস মিলি ঠিক করল, ১৯ বছর বয়সেই তাকে কোটিপতি হতে হবে। কাজেই এক কোটিপতি ৯০ বছরের বুড়োকে বিয়ে করে বসলো সে। তার মতলব খুব পরিষ্কার, বুড়োকে এমন প্রেম ভালোবাসা উপহার দেবে সে, যাতে ব্যাটা হার্টফেল করে মরে। তারপর ব্যাটার সব সম্পত্তি উত্তরাধিকার সূত্রে হাতিয়ে নেবে সে। বাসর রাতে বুড়ো এসে হাজির। কিন্তু জামাকাপড় খোলার পর দ্যাখা গেল, বুড়ো হলেও সে যথেষ্ঠ সক্ষম এখনও। বুড়ো বর ড্রয়ার থেকে কন্ডম আর দু’জোড়া ছিপি বার করে এগিয়ে এলো মিলির দিকে। মিলি ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করল, “ওগুলো কিসের জন্য?”

বুড়ো প্যাকেটখানা খুলতে খুলতে বলল, “দ্যাখো এ ব্যাপারে দুটো জিনিস আমার একদম পছন্দ নয়। এক হচ্ছে, মেয়েরা যে চিৎকারটা করে, সেটা।” এই বলে সে একজোড়া ছিপি কানে গুঁজল। তারপর দ্বিতীয় জোড়া ছিপি নাকে গুঁজতে গুঁজতে বলল, “আর দ্বিতীয়ত, কন্ডম পোড়া গন্ধটাও আমার আদৌ পছন্দ নয়।”

 

১২৮)

হলিউডের একজন উঁচুদরের অভিনেতা তার অভিনীত একটা ছবি দেখার জন্য স্ত্রীকে সিনেমা হলে গিয়ে ছবি দেখার জন্য বসলেন । সিনেমার মাঝামাঝি জায়গায় নায়ক নায়িকার চুমু খাওয়ার একটা দৃশ্য দেখে অভিনেতার স্ত্রী অভিযোগ করলেন যে, আমি এতদিন তোমার সঙ্গে বিবাহিত জীবন যাপন করছি, অথচ কখনো আমাকে তুমি অমন করে চুমো খাওনি। অভিনেতা বললেন, তুমি যদি জানতে যে এই একটি চুমু খাওয়ার জন্য তারা আমায় কত টাকা পারিশ্রমিক দিয়েছে তাহলে আর অমন অভিযোগ করতে না।

 

১২৯)

এক খামার মালিক শখ করে একটা জেব্রা কিনে এনেছে আফ্রিকা থেকে।

এক ভোরে জেব্রাটা বেরিয়ে এলো তার আস্তাবল থেকে। খামারের ভেতরে ঘুরতে লাগলো সে, আর ভাবতে লাগলো, এখানে তার কাজ কী হতে পারে।

প্রথমে তার দেখা হলো একটা মুরগির সাথে। সুপ্রভাত। বললো জেব্রা। তুমি এখানে কী করো? মুরগি জবাব দিলো, সুপ্রভাত। আমি আমাদের মালিকের খাবারের জন্যে ডিম পাড়ি।

এরপর তার দেখা হলো একটা গরুর সাথে। সুপ্রভাত। বললো জেব্রা। তুমি এখানে কী করো? গরু জবাব দিলো, সুপ্রভাত। আমি আমাদের মালিকের খাবারের জন্যে দুধ দিই।

তার দেখা হলো একটা ছাগলের সাথে। সুপ্রভাত। বললো জেব্রা। তুমি এখানে কী করো? ছাগল জবাব দিলো, সুপ্রভাত। মালিক আমাকে মেরে আমার মাংস খায়।

জেব্রা কিছুটা ঘাবড়ে গিয়ে সামনে এগোলো।

এবার তার দেখা হলো একটা ষাঁড়ের। সুপ্রভাত। বললো জেব্রা। তুমি এখানে কী করো?

ষাঁড় জেব্রাকে আপাদমস্তক দেখে মুচকি হেসে জবাব দিলো, সুপ্রভাত। তুমি তোমার পাজামাটা খোলো, আমি তোমাকে দেখাচ্ছি আমি এখানে কী করি।

 

১৩০)

ফরেনসিক মেডিসিন এর ক্লাসে প্রফেসর নতুন ছাত্রদের ক্লাস নিচ্ছেন।

“ফরেনসিক মেডিসিন পড়তে তোমাদের দুইটা জিনিসের দিকে ভালো খেয়াল রাখতে হবে। প্রথমত, তোমাদের কারো কোনো রকম শুচিবাই বা ঘৃণা থাকতে পারবেনা …” এই বলে তিনি তার সামনে রাখা মৃতদেহের পাছার ভিতরে আঙ্গুল ঢুকিয়ে দিলেন এবং তা চুষতে লাগলেন। “সুতরাং, তোমরাও তা কর” তিনি সবাইকে নির্দেশ দিলেন ।

পুরো ক্লাসরুম তো থ !!!!!! কি আর করা, সবাই প্রফেসর এর কথামত আঙ্গুল ঢুকিয়ে চুষতে শুরু করলো।

“দ্বিতীয় জিনিসটি হলো, তীক্ষ্ণ নজর থাকতে হবে তোমাদের” বললেন প্রফেসর, “তোমাদের মাঝে কয় জন খেয়াল করেছ যে আমি লাশটির পাছায় তর্জনী ঢুকিয়েছি, কিন্তু চুষেছি আমার মধ্যম আঙ্গুল ???”

 

১৩১)

বাচ্চাদের স্কুলের টিচার মিস তানিয়া একদিন ছুটির পর ছোট্ট বাবুকে দাঁড় করালেন।

‘এক মিনিট দাঁড়াও ছোট্ট বাবু।’ চশমার ওপর দিয়ে চাইলেন তিনি। ‘তোমার হোমওয়র্ক তো খুব খারাপ হচ্ছে ক’দিন ধরে। তোমার কি কোন সমস্যা হচ্ছে?’

ছোট্ট বাবু মাথা ঝোঁকালো। ‘জ্বি টিচার। আমি প্রেমে পড়েছি।’ মিস তানিয়া মিষ্টি হাসলেন। ‘কার প্রেমে পড়েছো?’

‘আপনার, মিস তানিয়া। আমি আপনাকে বিয়ে করতে চাই।’

‘কিন্তু ছোট্ট বাবু,’ নরম গলায় বললেন মিস তানিয়া, ‘ভেবে দ্যাখো ব্যাপারটা কেমন বোকাটে হবে? নিশ্চয়ই আমি একদিন কাউকে স্বামী হিসেবে চাইবো … কিন্তু আমি তো কোন বাচ্চা চাই না।’

‘ভয় পাবেন না মিস।’ আশ্বাস দিলো বাবু। ‘সেক্ষেত্রে আমি প্রটেকশন ব্যবহার করবো।’

 

১৩২)

এক ব্যারাকে , এক সৈনিক বাজি ধরার জন্য বিখ্যাত হয়ে গেল রাতারাতি। কারণ তারে কেউ বাজিতে হারাতে পারেনা। তাই দেখে আরেক সৈনিক ব্যরাকের দায়িত্বে থাকা ক্যাপ্টেন কে জানালো ঘটনা।

ক্যাপ্টেন কি করবে না বুঝে জানালো তার বস্‌ মেজর কে। সব শুনে মেজর বললো, আচ্ছা, ডাকো তাকে, দেখায় দেই কেমন করে হারাতে হয় বাজিতে। তো সেই বাজিকর সৈনিকের ডাক পড়লো মেজরের চেম্বারে। বাজিকর সৈনিক মেজরের চেম্বারে ঢুকেই স্যলুট দিয়ে বলে ” স্যার আপনার পাইলস্‌ আছে।”

মেজরঃ কে বললো পাইলস্‌ আছে?

বাজিকর সৈনিকঃ স্যার বাজি ধরেন , না থাকলে।

মেজরঃ ও কে, ৫০০ টাকা বাজি। প্রমাণ করো।

প্রমান করার জন্য মেজর প্যান্ট খুলে তার পশ্চাদ্দেশ দেখালো, বাজিকর সৈনিক পশ্চদ্দেশের ভিতর আঙ্গুল ঢুকিয়ে, তারপর বের করে এনে বললো, না স্যার, পাইলস নাই, আমি হেরে গেলাম”

মেজর কে ৫০০ টাকা দিয়ে সৈনিক বের হয়ে এল চেম্বার থেকে।

মেজর পরে ফোন করে ক্যাপ্টেন কে বলে, “কই, ও তো আমার কাছে বাজি তে ৫০০ টাকা হেরে গেল।”

ক্যাপ্টেনঃ “স্যার, ও যাবার আগে আমার সাথে বাজি ধরে গেছে, আপনার পাছায় আঙ্গুল দিতে পারলে ও ৫০,০০০ টাকা জিতবে। এখন তো আমারে সেই টাকা দেয়া লাগবে”

 

১৩৩)

কিন্ডারগার্টেনে তরুনী টিচার ক্লাসে খেয়াল করলেন যে এক ছাত্র বেশ অমনোযোগী। তাকে দাড় করিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “ বলো একটি ডালে তিনটি পাখি বসে আছে। তুমি একটি বন্দুক দিয়ে একটি পাখিকে গুলি করলে সেখানে আর কয়টি পাখি থাকবে?”

ছাত্রঃ একটিও না।

ম্যাডামঃ কেন?

ছাত্রঃ ম্যাডাম আমি যদি বন্দুক দিয়ে গুলি করি তাহলে গুলির শব্দে সবগুলো পাখি উড়ে যাবে।

ম্যাডামঃ তুমি যেভাবে চিন্তা করেছো তা আমার পছন্দ হয়েছে। কিন্তু সঠিক উত্তর হবে আর দুইটি পাখি থাকবে।

ছাত্রঃ আচ্ছা ম্যাডাম একটি আইস্ক্রীম পারলার থেকে তিনজন যুবতী হাতে আইস্ক্রীম নিয়ে বের হল। তাদের একজন হাল্কা কামড় দিয়ে দিয়ে আইস্ক্রীম খাচ্ছিল। আর একজন চেটে চেটে খাচ্ছিল। আর শেষজন পুরো আইস্ক্রীম মুখে পুরে চুষছিলো। বলুন দেখি তাদের মধ্যে কে বিবাহিত?

ম্যাডাম কিঞ্চিত বিব্রত হয়ে বললেন, যে পুরো আইস্ক্রীম মুখে পুরে চুষছিলো সেই বিবাহিত।

ছাত্রঃ আপনি যেভাবে চিন্তা করেছেন তা আমার পছন্দ হয়েছে। কিন্তু সঠিক উত্তর হবে যার হাতে ওয়েডিং রিং ছিল সেই বিবাহিত।

 

১৩৪)

মুখোশ পার্টিতে যাবে রোমেল আর তার বউ। রোমেলের বউ শেষ মিনিটে বললো, সে যাবে না, তার মাথা ধরেছে। রোমেল একটা স্পাইডারম্যানের মুখোশ পরে বেরিয়ে গেলো একাই। ঘন্টাখানেক পর রোমেলের বউ যাওয়ার মত পাল্টে একটা মুখোশ পরে নিয়ে পার্টিতে গেলো, একা একা রোমেল কী করে বেড়ায় দেখতে।

পার্টিতে গিয়ে সে দেখলো স্পাইডারম্যানের মুখোশের চারপাশে অনেক মহিলা, জমিয়ে আড্ডা মারছে রোমেল। চটে মটে রোমেলের বউও সেই ভিড়ে গিয়ে জুটলো, তারপর এক এক করে মহিলাকে হটিয়ে দিয়ে রোমেলকে দখল করলো সে। নির্জনে রোমেল তার কানে কানে কুপ্রস্তাব দিলো। মনে মনে চটে গিয়ে রাজি হলো রোমেলের বউ। ঘন্টাখানেক আদরসোহাগের পর রোমেলকে পার্টিতে রেখেই বাড়িতে ফিরে এলো সে। গভীর রাতে ক্লান্ত রোমেল বাড়িতে ফিরলো। তার বউ চিবিয়ে চিবিয়ে জানতে চাইলো, পার্টি কেমন হয়েছে। রোমেল বললো, ‘আরে ধ্যুৎ, খুব বোরিং। আমি আর আমার কয়েকজন বন্ধু কোণার ঘরে বসে তাস খেলেছি।’

‘তাই? কোন মজা হয়নি পার্টিতে?’

‘একদম না। তবে যে ব্যাটাকে আমার মুখোশটা ধার দিয়েছিলাম, ঐ শালা খুব মজা লুটেছে।’

 

১৩৫)

আরব মুল্লুকে বেড়াতে গেছে তিন ট্যুরিস্ট।

মরুভূমিতে পথ হারিয়ে দিন তিনেক ঘোরাঘুরি পর একদিন এক মরূদ্যানের সামনে হাজির হলো তারা। সেখানে শুধু মেয়ে আর মেয়ে, সবাই স্বল্পবসনা এবং সুন্দরী। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই গোবদাগাবদা চেহারার কয়েকজন মহিলা এসে তাদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেলো আলিশান এক প্রাসাদের ভেতর। সেখানে জোব্বাপরা এক আরব শেখ বসে গড়গড়ায় তামাক খাচ্ছে, তাকে ঘিরে আছে অপরূপ সুন্দরী কিছু যুবতী।

গড়গড়া নামিয়ে শেখ বললো, ‘আমি শেখ অমুক। এটা আমার মুল্লুক, এখানে যারা ভুল করে ঢুকে পড়ে, তাদের আমি কঠিন শাস্তি দিই।’ প্রথমজনকে জিজ্ঞেস করলো সে, ‘বলো, কী করো তুমি?’

প্রথম ট্যুরিস্ট জবাব দিলো, ‘আমি একজন পুলিশ।’

শেখ হাততালি দিলো। দুই রূপসী সামনে এসে দাঁড়ালো। শেখ হুকুম করলো, ‘যাও, এর যন্ত্রটাকে গুলি করে ঝাঁঝরা করে দাও।’ তারপর দ্বিতীয়জনকে জিজ্ঞেস করলো সে, ‘বলো, তুমি কী করো?’

দ্বিতীয় ট্যুরিস্ট জবাব দিলো, ‘আমি একজন দমকলকর্মী।’

শেখ হাততালি দিলো। আরো দুই রূপসী সামনে এসে দাঁড়ালো। শেখ হুকুম করলো, ‘যাও, এর যন্ত্রটাকে পুড়িয়ে ছাই করে দাও।’ তারপর শেষজনকে জিজ্ঞেস করলো সে, ‘বলো, কী করো তুমি?’

শেষ ট্যুরিস্ট দাঁত বের করে জবাব দিলো, ‘আমি একজন ললিপপ বিক্রেতা।

 

১৩৬)

আরাম সাহেবের বউ খুব গোপনে হাসপাতালের ইমারজেন্সীতে গাইনোকোলজিস্টের সাথে দেখা করতে চাইলেন। গাইনোকোলজিস্ট এসে জিজ্ঞেস করতেই, তিনি খুব লজ্জিতভাবে বললেন, তার ভাইব্রেটরটা গোপনাঙ্গের ভেতরে পুরোপুরি ঢুকে আটকে গেছে। ডাক্তার সব দেখে বললেন, এটা বের করতে খুব লম্বা এবং বিপদজনক অপারেশন করতে হবে। অপারেশনের টাকা তিনি দিতে পারবেন কিনা। মিসেস আরাম আরও লজ্জিতভাবে বললেন, হ্যাঁ পারবেন। কিন্তু তিনি সেই অপারেশন আপাতত করতে চাননা। বরঞ্চ ডাক্তার সাহেব যদি কষ্ট করে, ব্যাটারীটা একটু পালটে দিতেন…

 

১৩৭)

দবির আর সাবেত অনেক দিন থেকেই এক সাঠে গলফ খেলে, অনেক দিন পরে দবিরের মনে হইল সাবেত আসলে কি কাম করে?

দবিরঃ কাজ কাম কি করেন ভাই?

সাবেতঃ আমি আসলে একজন হিটম্যান, ভাড়ায় কাম করি, প্রতি হিট ১০,০০০ টাকা। মানে প্রতি বুলেট ১০,০০০ টাকা আর আমার বুলেট মিস হয় না।

দবির মনে মনে ভাবে আরে শালা! আমি তো এমনই একজন লোক খুজতাছি! এইবার বিবির জান শেষ!

দবিরঃ দোস্ত আমার একটা কাম কইরা দিবা? না না দুইটা!!?

সাবেতঃ আরে তুমি মাল দিবা আর আমি কাম করুম না! দুইটার জন্য ২০,০০০ টাকা লাগবো।

দবিরঃ ঠিক আছে তুমি আমার বিবির মুখের মধ্যে একটা গুলি করবা, শালী খালি আমার লগে চিল্লায়, খালি প্যান প্যান করে।

আর এক কুত্তার বাচ্চা আছে ওর বয় ফ্রেন্ড, ওর অই জায়গাতে একটা গুলি করে ঐটা উরায় দিবা, ঐযে মাঠের পাশেই আমার বাসা।

সাবেত তার গলফ ব্যাগ থাইকা টেলিস্কোপিক রেমিংটন পয়েন্ট ২২ রাইফেলটা বাইর কইরা অনেকক্ষন লাগাইয়া দেইখা কইল “আমি তোমার পয়সা বাঁচায়া দেই। গূল্লি একটা লাগবো”

 

১৩৮)

একটি লোকের স্ত্রী অন্তসত্তা। হাজবেন্ড ওয়াইফ দু‘জন মিলে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেনা যে তাদের সন্তানের নাম কি হবে। এটা সবার ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। অনেক তর্ক বিতের্কর পর স্ত্রী তার স্বামীকে বলল, “তুমি বাবার কাছে যাও। তাকে জিজ্ঞেস করে আসো যে বাচ্চাদের নাম কি করে রাখতে হয়”। স্বামীটি তৎক্ষনাৎ তার বাবা কাছে গেলে এবং বাচ্চাদের নাম কি করে রাখতে হয় তা জিজ্ঞেস করলো। বাবা মুচকী হেসে একটু নস্টালজিক হয়ে গেলেন। আনমনা ভাবে মৃত স্ত্রীর ছবির দিকে তাকিয়ে বললেন, তোর বড় ভাইয়া যখন তোর মার পেটে এলো তখন আমার পোস্টিং হিলে, চারদিকে পাহাড় আর পাহাড়। পাহাড়ের বুকে জন্মালো তাই ওর নাম রাখলাম “হিমালয়”। তোর মেঝো আপা যখন হলো তখন আমরা নৌ-বিহারে ছিলাম তাই ওর নাম রেখেছিলাম “নদী”। এসব জেনে তুই কি করবি “ফুটো কন্ডোম”

 

১৩৯)

জর্জ আর জেনী খুব ভাল বন্ধু। এরা দুই জন দুই শহরে কাজ করে। একজনের ছুটি শনিবার আরেকজনের রবিবার। ফলে দুই জনের এক সাথে দেখা হওয়া খুব দুস্কর। এবার পহেলা মে তে দুই জনের এক সাথে ছুটি। জর্জ তার গাড়ী নিয়ে জেনীকে আনতে চলে গেল। গাড়ীতে দুইজনের মনে ভালবাসার উদয় হল। যেহেতু মাত্র একদিনের ছুটি তাই তারা ঠিক করল এক মুহূর্তও নষ্ট করা ঠিক হবে না। কিছু অন্তরঙ্গ মুহূর্ত কাটানো যাক। কিন্তু গাড়ীটা ছিল খুবই ছোট। দুই জনে মিলে ঠিক করল গাড়ীর নীচের ফাঁকা জায়গায় ঢুকে পড়া যাক। নীচে বেশ জায়গা আছে আর কেউ বিরক্ত ও করবে না।

অনেকক্ষণ পর জর্জের খেয়াল হল কে যেন তাকে ডাকছে। লোকটি ছিল ট্রাফিক সার্জেন্ট।

লোকটি বলছে- ভাই আপনি কি করছেন।

জর্জ তার দিকে না তাকিয়েই উত্তর দেয়-গাড়ী ঠিক করছি।

সার্জেন্ট কিছুক্ষণ কি যেন চিন্তা করেন। তারপর গম্ভীর মুখে বলে উঠেন-দুই টা কারণে আমি আপনার কথা বিশ্বাস করতে পারছি না। প্রথমত গাড়ী ঠিক করতে হলে আপনাকে চিৎ হযে থাকতে হবে। কিন্তু আপনি উপুর হয়ে আছেন।

দ্বিতীয়ত আমি এখানে কোন গাড়ী দেখতে পাচ্ছি না। খুব সম্ভবত আপনাদের গাড়ীটি চুরি হয়ে গেছে।

 

১৪০)

স্বামী বেশ কয়দিন ধরে কোমায়। বউ বেচারা সারাক্ষণ স্বামীর বিছানার পাশে আহার-নিদ্রাহীন জীবনযাপন করছেন। হঠাৎ স্বামী কোমা থেকে ফিরে আসলেন। ডাক্তাররা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বউকে স্বামীর কাছে যেতে দিলেন। স্বামী পরম আবেগে সজল চক্ষে স্ত্রীর হাত ধরে বললেনঃ ওগো, আমি আজ বুঝতে পেরেছি আমার কেন এই অবস্থা! তুমি সারাটা জীবন আমার দুঃখের সময়ে পাশে থেকেছ। যখন আমার চাকরী চলে গেল, তুমি পাশে ছিলে। আমার যখন ব্যবসায় বিশাল লোকসান হল, তুমি পাশে ছিলে। যখন আমাদের বাড়িটাও ব্যাংক নিলামে উঠাল, সেখানেও তুমি ছিলে আমাকে সান্ত্বনা দেয়ার জন্য। যখন ডাকাতরা আমায় গুলি করল, তুমি ছিলে আমার সেবা করার জন্য। আমার এমন কোন দুঃসময় নেই যখন তুমি আমার সাথে ছিলেনা।

স্বামীর এমন আবেগী কথায় স্ত্রীর চোখ বেয়ে জলের ধারা নামে। স্ত্রী বলেঃ ওগো এমন করে বলোনা, আমিতো তোমার পাশেই থাকব…তুমি ছাড়া আমার আর কে আছে!

স্বামীঃ হুমম! সেজন্যেই বুঝেছি…তুমিই আমার ব্যাড লাক!

 

১৪১)

ডেন্টিস্টের সাথে ইলিয়াস সাহেবের বউয়ের ভীষণ মাখামাখি চলছে। প্রায় প্রতি সপ্তাহেই মিসেস ইলিয়াস ডেন্টিস্টের চেম্বারে গিয়ে শারীরিক চাহিদা মিটিয়ে আসেন। একপর্যায়ে মিসেস ইলিয়াস আবগের আতিশয্যে বললেন, ওগো আমার প্রেমিক, আমি প্রতিদিনই তোমার কাছে আসতে চাই। ডাক্তার বললেন, হ্যাঁগো আমিও তোমায় চাই। কিন্তু তুমি যদি আর এখানে আস ইলিয়াস তো বুঝে ফেলবে।

মিসেস ইলিয়াস বললেন, আরে না…ব্যাটা গর্দভ একটা। এইযে দেখ এতবার তোমার কাছে এলাম, কিছুই বোঝেনি। ডাক্তার বললেন, কিন্তু হানি, তুমি আর আসবে কিভাবে, প্রতিদিন তোমার একটা করে দাঁত তুলতে তুলতে আজকে শেষ দাঁতটাও তুলে ফেললাম!

 

১৪২)

মিলিটারিদের সাহস পরীক্ষা করছে তাদের প্রধান। এক মিলিটারিকে দুরে দাঁড় করিয়ে রেখে মাথায় লেবু রেখে বন্দুক দিয়ে সেই লেবুটিকে গুলি করল। মিলিটারিটি একদম নড়ল না। লেবুটি ফেঁটে গিয়ে তার শার্টটিকে নষ্ট করে দিল।

তাদের প্রধান তাকে ৫০ টাকা দিয়ে বলছে- ‘সাবাস, এই টাকা দিয়ে সাবান কিনে শার্টটি ধুঁয়ে নিও’।

মিলিটারিটি বলল – ‘তাহলে আরোও ৫০ টাকা দিন, প্যান্টটিও ধুঁতে হবে।

 

১৪৩)

হাসপাতালে এক মেয়ের বাচ্চা হয়েছে। বাচ্চাকে মা থেকে পৃথক রুমে রেখে নার্স তাকে খবর দিলো, “আপনার ছেলে হয়েছে। আপনার স্বামীকে দেখছিনা যে?”

মেয়ে, “ইয়ে মানে, আমার বিয়ে হয় নি।”

নার্স, “তাহলে আপনার বয়ফেন্ড/পার্টনার কোথায়?”

মেয়ে, “আমি একা।”

নার্স, “ও আচ্ছা। আপনার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্য দুঃখিত। কিন্তু আপনার জানা জরুরী যে আপনার ছেলেটি কিন্তু কালো হয়েছে!”

মেয়ে, “আসলে হয়েছে কি জানেন, গত বছর আমি খুব টাকার অভাবে ছিলাম। টিউশন ফি দিতে পরছিলাম না। তাই বাধ্য হয়ে একটি পর্ন মুভিতে কাজ করতে হয়েছিলো! আর ওখানে এক নিগ্রো ছিল!”

নার্স, “আমি আসলেই দুঃখিতো। আপনার মতো অবস্থায় পড়লে যে কেউ এই কাজ করতো। আরেকটি কথা হলো আপনার ছেলেটি ব্লন্ড চুল পেয়েছে!”

মেয়ে, “না মানে ঐ মুভিতে এক সুইডিস লোকও ছিলো!”

নার্স, “ও! আমি দুঃখিত যে আমার জন্য আপনাকে ঐ সব স্মৃতি মনে করতে হচ্ছে। তবে আপনার ছেলের চোখ কিন্তু খুব ছোট ছোট!”

মেয়ে, “ইয়ে মানে ওখানে একজন জাপানি লোকও ছিলো! আপনার কি আরো কিছু বলার আছে?”

নার্স, “না না আর কিছু না!”

মেয়ে, “আমি কি আমার ছেলেকে দেখতে পারি?”

নার্স, “জি অবশ্যই পারেন। আমি নিয়ে আসছি।”

নার্স ছেলেটিকে এনে মেয়েটির কোলে দিলো। মেয়েটি বাচ্চা টিকে কোলে নিয়েই গালে জোরে একটা চড় বসিয়ে দিলো এবং বাচ্চাটি চড় খেয়ে জোরে কেঁদে উঠলো!

নার্স হতবম্ভ হয়ে ছেলেটিকে মেয়ের কাছ থেকে নিয়ে নিলো এবং বললো, “এ আপনি কি করছেন?”

মেয়েটি তখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বললো, “উফফ! বাঁচা গেলো! আমি তো ভেবেছিলাম কুকুরের মতো ঘেউ ঘেউ করে উঠবে!!”

 

১৪৪)

অনেক আগে একবার পোপ হুকুম দিলেন, ইহুদিদের রোম ছেড়ে চলে যেতে হবে। ইহুদিরা আদেশ শুনে বিক্ষোভে ফেটে পড়ল। অবস্থা যখন খারাপের দিকে, তখন পোপ বললেন, ‘ঠিক আছে, ওদের একটা সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। আমার সঙ্গে তাদের কোনও প্রতিনিধি ধর্ম নিয়ে বিতর্ক করুক। যদি আমি হেরে যাই, ইহুদিরা থাকতে পারবে। আর যদি আমি জিতে যাই, ব্যাটাদের পেঁদিয়ে বিদায় করা হবে।’

ইহুদিরা এ প্রস্তাবে রাজি হয়ে তাদের এক প্রবীণ র‌্যাবাই, মি. মোশেকে নির্বাচন করল বিতার্কিক হিশেবে। কিন্তু ঝামেলা হল, মোশে ল্যাটিন জানেন না, আর পোপ ইড্ডিশ বলতে পারেন না। কাজেই নির্বাক বিতর্ক করাই স্থির হল।নির্দিষ্ট দিনে দুজন মুখোমুখি বসলেন।

পোপ প্রথমে স্থির দৃষ্টিতে মোশের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ তিনটি আঙুল তুলে দেখালেন। জবাবে মোশে খানিক ভেবে মধ্যমা তুলে পোপকে দেখালেন।

পোপ থতমত খেয়ে খানিক চিন্তা করে আঙুল তুলে মাথার চারপাশে ঘোরালেন। জবাবে মোশে একটা আঙুল তুলে দুজনের মাঝখানে মাটির দিকে ইঙ্গিত করলেন।

পোপ বিব্রত হয়ে এবার পবিত্র রুটি আর মদের বোতল বের করলেন। জবাবে মোশে হাসিমুখে বের করলেন একটি আপেল।

পোপ উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘আমি হার স্বীকার করছি।’

সবাই পোপকে ঘিরে ধরল, ‘কী হল, মহামান্য পোপ? আমরা তো কিছুই বুঝতে পারলাম না!’

পোপ বললেন, ‘আমি প্রথমে পবিত্র ত্রিত্বর প্রতীক হিশেবে তিনটি আঙুল তুলে দেখালাম। তখন এই র‌্যাবাই একটি আঙুল তুলে দেখাতে চাইল যে অন্তত একক ঈশ্বরের প্রশ্নে খ্রিস্টান-ইহুদি একমত। তারপর আমি একটা আঙুল মাথার চারপাশে ঘুরিয়ে বলতে চাইলাম যে ঈশ্বর সর্বময়। জবাবে ইহুদি ব্যাটা আমাদের মাঝে আঙুল দেখিয়ে বলল, তিনি এই বিতর্কের স্থানেও আছেন। আমি তখন এই পবিত্র রুটি আর মদ বের করে বলতে চাইলাম যে ঈশ্বর আমাদের পাপ স্খালনের সুযোগ দেন। তখন ব্যাটা ফাজিল আপেল বের মনে করিয়ে দিল, আদমের সেই আদিম পাপের কথা। … তোমরাই বল, এর সঙ্গে তর্ক চালিয়ে যাওয়া যায়? সবকিছুর জন্যেই ওর কাছে জবাব আছে, তাই আরও নাকাল হওয়ার আগেই হার স্বীকার করে নিলাম।’

ওদিকে উল্লসিত ইহুদিরা ধরল মোশেকে। ‘কী হল? আমরা তো কিছুই বুঝলাম না … !’

মোশে বলল, ‘আমিও না। … প্রথমে ব্যাটা কিছুক্ষণ জুলজুল করে আমার দিকে তাকিয়ে থেকে ফট করে তিনটা আঙুল তুলে দেখাল, মানে হচ্ছে ইহুদিদের চলে যাওয়ার জন্যে তিনদিন সময় দিচ্ছে সে। আমার মেজাজ গেল খারাপ হয়ে, একটা আঙুল তুলে দেখালাম, যে তিনদিন সময় তোমার ইয়ে দিয়ে প্রবেশ করানো হবে। এরপর ব্যাটা আবার মাথার ওপর আঙুল তুলে ঘুরিয়ে বলতে চাইল, এই শহরের সব ইহুদিকে চলে যেতে হবে। তখন আমি মাটি দেখিয়ে বললাম, এইখানে, জনাব পোপ, আমরা এইখানে থাকব!’

‘তারপর?’

‘তারপর কী হল বুঝলাম না, ব্যাটা দুপুরের খাওয়ার বিরতি প্রস্তাব দিল!’

 

১৪৫)

এক বাংলাদেশী, এক ভারতীয় আর একজন পাকিস্তানী ঘুরতে বের হয়েছে আমাজনে।এরা ধরা পড়েছে জংলীদের হাতে। জংলীরা তিনজনকে একটা কুড়েঘরে আটকিয়ে রেখেছে। খুব চমৎকার একটা ফল খেতে দিচ্ছে তাদের। এই ফল খেয়ে তাদের চামড়া খুব মসৃন হয়ে যাচ্ছে। যেন তাদের যৌবন ফিরে আসছে। এরা তিনজনেই খুশী। এই সুখ অবশ্য বেশীদিন সইল না। একদিন সকালে জংলী সর্দার এল। এসে প্রথম ধরেছে পাকি-টাকে।

-তুমি কিভাবে মরতে চাও?

পাকিটা বলল তোমারা যে ফলটা খেতে দাও, সেই রকম মিষ্টি কোন ফল নিয়ে আস যেটা বিষাক্ত। ওটা খেয়েই আমি মরব। তার ইচ্ছা অনুযায়ী লাল একটা ফল নিয়ে আসা হল। পাকিটা “পাকিস্তান জিন্দাবাদ” বলে ফলটা খেয়ে ফেলল। তার এসে গেলো গভীর ঘুম যা আর ভাঙ্গে না। বাংগালী আর ভারতীয় দুইজন এরপর দেখল ভয়াবহ ব্যাপারগুলা।

জংলীরা পাকিটার মাথা আলাদা করে সেটাকে মমি করে রাখল । বাকি শরীরের চামড়া ছাড়াল। এরপর সেটা দিয়ে বানাল ছোট একটা ক্যানু(canoe)। এইসব দেখে ভারতীয় আর বাঙ্গালীর অবস্থা খারাপ। পনের দিন পর জংলী সর্দার আবার এল। এইবার ভারতীয়টার পালা। ভারতীয়টাও “জয় হিন্দ” বলে ফল খেয়ে মারা গেল। তার মাথার মমি করা হল, চামড়াটা দিয়ে বানানো হলো ক্যানু। কিছুদিন পরে বাঙ্গালীর পালা।

তাকে জিজ্ঞেস করা হলো কিভাবে মরবে? সে চাইলো একটা কাটা চামচ। এরপর কাটা চামচটা দিয়ে নিজের শরীরের নানা জায়গায় আঘাত করতে করতে বলল,”হারামজাদা! পারলে এইবার নৌকা বানা”

 

১৪৬)

একদা এক বিবাহিত রমনী হাটতে হাটতে ফাঁদে আটকানো এক ব্যাঙ কে দেখে উদ্ধার করল।ব্যাঙ খুশী হয়ে রমনীকে তিনটা ইচ্ছা প্রকাশ করতে বলল,যা সে পূরন করবে কিন্তু শর্ত হলো রমনীর পুরনকৃত ইচ্ছার চেয়ে ৫ গুন স্বামীকে প্রদান করবে।

রমনী খুশী হয়ে ১ম ইচ্ছা বলল,” আমি বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দরী মহিলা হতে চাই”

ব্যাঙ,” চিন্তা করে দেখ, তোমার স্বামী কিন্তু তোমার ৫ গুন সুন্দর হবে”

রমনী,” সে আমার স্বামী,আমি তাকে সুন্দর দেখতে চাই”

ব্যাঙ রমনীর স্বামীর প্রতি প্রেম দেখে খুশী হয়ে ১ম ইচ্ছা পূরন করলো।

রমনী এবার তার ২য় ইচ্ছা বলল,” আমি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী মহিলা হতে চাই”

ব্যাঙ,” চিন্তা করে দেখ, তোমার স্বামী কিন্তু তোমার ৫ গুন ধনী হবে”

রমনী,” সে আমার স্বামী,তার সম্পদ আমার,আমার সম্পদ তার”

ব্যাঙ খুশী হয়ে ২য় ইচ্ছা পূরন করলো।

রমনী এবার ভেবে-চিন্তে তার ৩য় ইচ্ছা বলল,” আমি চাই আমার মাঝারী ধরনের হার্ট এটাক হোক”

ব্যাঙ অবাক আর কষ্ট পেয়ে বলল,” চিন্তা করে দেখ, তোমার স্বামী কিন্তু মারা যাবে”

রমনী,”তা নিয়ে চিন্তা নাই, আরেকটা পাবো”

 

১৪৭)

এক ব্যাংকার ভদ্রলোকের এক হেবি সুন্দরী মাইয়া আছিল। ব্যাংকার ভাবল, মাইয়াডারে যদি কোন রাজার সাথে বিয়া দিয়া যাইতো, তাইলে টাকার চিন্তা আর থাকতো না।

কিছুদিন পরেই আফ্রিকান নিগরো এক রাজা আইল ব্যাংকারের কাছে, একাউন্ট খোলার জন্য। ব্যাংকার মাইয়ারে ডাইকা রাজার সাথে বেড়াতে পাঠাল, আর মাইয়ারে কইয়া দিল, যেকোন কায়দায় জামাই বানাইতে। মেয়ে তো মোটেই রাজি না, কিন্তু কি আর করা, বাপরে তো অসন্তুস্ট করা যায় না।

বেড়াইতে যাইয়া মাইয়া রাজারে কইল, আমি যার সাথে বিয়া করবো, তারে আমার তিনডা ইচ্ছা পুরোন করা লাগবো।

সাগ্রহে রাজা কইল কি?

নং ১ – ১২৪ ক্যারেট হিরা দিয়া আমারে আংটি দিতে হবে।

এইডা কোন ব্যাপার না, আমার আছে আমি দিব।

নং ২ – আমেরিকায় আমারে ১০০ কামরার একখান বাড়ী বানাইয়া দিতে হবে।

ঐডাও পারুম। আনন্দের সাথে কইয়া ফালাইল, রাজা।

চিন্তায় পড়ে গেল মাইয়া, তাইলে কি করা যায়, এই ব্যাডারেই কি বিয়া করতে হবে?

অনেক ভাইবা চিন্তা মেয়ে বলল, পুরা ১৪ ইঞ্চি থাকন লাগব।

শুনে রাজা রাজা কাঁদতে শুরু করল, অনেক্ষণ পরে কইল, কেটে ১৪ ইঞ্ঝি করতে যদিও কষ্টে বুকটা ফাইটা যাবে, তবুও আমি রাজি!

 

১৪৮)

– ডাক্তার, আমার ছেলের মনে হয় গনোরিয়া হয়েছে। ফোনে এক রোগী তার ডাক্তারকে ফোন করলো। বাড়ির কাজের মেয়ের সাথেই সে একমাত্র আকামটি করেছে।

– ঠিক আছে, ও তো একটা বাচ্চা। ওর সাথে খারাপ আচরণ কোরো না। ডাক্তার বললো। ওকে চেম্বারে নিয়ে এসো। সব ঠিক হয়ে যাবে।

– কিন্তু ডাক্তার। আমিও তো ওই কাজের মেয়ের সাথে উল্টাপাল্টা করেছি। আমারও মনে হয় গনোরিয়া হয়েছে।

– তাহলে তুমিও চলে এসো। দু’জনের চিকিৎসা এক সাথে করে দেই।

– ডাক্তার, আমার স্ত্রীর-ও যে গনোরিয়া আছে।

– শয়তানের বাচ্চা। আগে বলবি না। ডাক্তার চেঁচিয়ে উঠলো। তার মানে আমারও গনোরিয়া হয়েছে।

 

১৪৯)

সি. আই. এ অফিসে নতুন এজেন্ট দরকার। প্রার্থী দুইজন পুরুষ, একজন মহিলা।

এদের নার্ভ কেমন শক্ত তা পরীক্ষা করতে কর্তৃপক্ষ তাদের প্রত্যেককে একটি করে পিস্তল দিল। এদের কাজ হবে পাশের রুমে এদের একজন প্রিয় মানুষ আছে। তাকে গুলি করতে হবে। তবে এদের জানানো হয়নি পিস্তলে আসলে কোন গুলি নেই।

প্রথম প্রাথী রুমে প্রবেশ করে দেখল একটি চেয়ারে হাত মুখ বাধা অবস্থায় তার স্ত্রী। প্রিয় জনকে দেখে তার চোখ দিয়ে পানি পড়তে শুরু করে। গুলি করার বদলে ছুটে গিয়ে সে তার স্ত্রীকে মুক্ত করল । ফলে এই পরীক্ষায় সে ফেল মারল।

দ্বিতীয় প্রার্থীর বেলায়ও একই ব্যাপার ঘটল।

তৃতীয় মহিলা প্রার্থী ভেতরে প্রবেশ করে তার স্বামীকে হাত বাধা অবস্থায় পেল। অনেকক্ষণ পর সেই মেয়ে হাপাতে হাপাতে বেরিয়ে আসল। রেগে মেগে বলতে লাগল আপনারা কি পিস্তল দিয়েছেন গুলিই বের হয় না। শেষ পর্যন্ত পিস্তলের বাট দিয়ে পিটিয়ে আমার স্বামীকে মারতে হয়েছে।

 

১৫০)

রমিজের মেজাজ খুব খারাপ আজকাল। ডান হাতের ব্যথা আর সারেই না। রমিজের বন্ধু জমির বলল, “ডাক্তার দেখায়া কি করবি, অনেক তো দেখাইলি, হুদাই টাকা নষ্ট। সামনের একটা মার্কেট এ ১০ টাকা দিয়া একটা কম্পিউটারে পেশাব সেম্পল দিলে এক্কেবারে ঠিক ডায়াগনোসিস আর ঠিক ওষুধ দিয়া দেয়। আমার লগে ল।”

রমিজ ভাবলো, “ঠিক ই তো!” গেল ওই কম্পিউটারের কাছে। গিয়ে তার পেশাবের সেম্পল দিল। ৫ মিনিট পরে স্লিপ বের হয়ে এলো, যাতে লিখা আছে, “তোমার টেনিস এলবো হয়েছে , প্রতিদিন ডান হাতে গরম সেঁক দিলে ১০ দিনে ঠিক হয়ে যাবে।”

রমিজ তো তাজ্জব! যাই হোক, বাসায় গিয়ে ওই অনুযায়ী সেঁক দিয়ে দেখলো, ব্যথা কমছে।

হঠাৎ রমিজ ভাবল , কম্পিউটাররে তো বোকা বানানো যায়। তাই সে করলো কি, তার বীর্য, কুকুরের মল, তার স্ত্রীর আর তার মেয়ের পেশাব টয়লেটে গিয়ে কালেক্ট করে একটা মিক্সচার বানিয়ে ওই কম্পিউটারে জমা দিল আর অপেক্ষা করতে থাকলো রেসাল্টের জন্য। ৫ মিনিট পর স্লিপ আসল, তাতে লিখা আছে , “তোমার কুকুরের উকুন হয়েছে, এন্টি ফাঙ্গাল ওষুধ খাওয়াও; তোমার মেয়ে আবার প্রেগন্যান্ট, তোমার দারোয়ানকে বের করে দাও;  তোমার বউ গতকাল এবরশন করিয়েছে , বাচ্চাটা তোমার ছিলনা। আর তুমি যদি তোমার ডান হাতে হাত মারা বন্ধ না কর, তবে তোমার টেনিস এলবো কখনই ভালো হবেনা।” ধন্যবাদ।”

 

১৫১)
মানসিক রোগীদের হাসপাতাল।

জুমনের ঘরে ঢুকলো নার্স। জুমন খাটের ওপর শুয়ে হাত দুটো সামনে বাড়িয়ে গুনগুন শব্দ করছে।

“জুমন, কী হচ্ছে এসব?”

জুমন বললো, “আমি গাড়ি চালাচ্ছি, চট্টগ্রাম যাবো।”

পরদিন রাতে নার্স দেখলো, জুমন বসে বসে ঝিমোচ্ছে। “জুমন, কী হচ্ছে এসব?”

“মাত্র পৌঁছালাম চট্টগ্রামে, বিরক্ত কোরো না।” হেঁকে বললো জুমন।

এবার পাশের ঘরে সুমনের ঘরে গেলো নার্স। দেখলো, সেখানে সুমন বিছানায় শুয়ে আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গি করছে।

“সুমন, কী হচ্ছে এসব?” প্রশ্ন করলো নার্স।

“আহ! জ্বালাতন কোরো না। দেখতে পাও না, জুমনের বউয়ের সাথে প্রেম করছি? ঐ শালা তো গেছে চট্টগ্রাম!”

 

১৫২)

ইংরেজ শাসন আমলের রাজস্থানের মরুভুমিতে একটা দুর্গ। সেইখানে সেনাপতি হয়ে এসেছে জাত্যাভিমানী এক ইংরেজ যুবক। এসেই শুরু করছে হম্বি-তম্বি। এরে ধমকায় ত ওরে মারে। কোনো কিছু তার পছন্দ হয় না। ইন্ডিয়ানদের রুচি নাই। চোর-বাটপার সব কয়টা। প্রথম দিনেই দুর্গ পরিদর্শনের সময় সেনাপতি দেখে একটা উট বাধা। ” ওই হারামজাদা। উট এইটা কিসের জন্য? ” একজন কাচুমাচুভাবে বলল ” আমরা তিন-চার মাস একটানা দুর্গে থাকি। এইখানে কোনো মেয়ে নাই। সৈনিকরা মাঝে মাঝে খুব একা বোধ করলে এই উট ব্যাবহার করে। ” সেনাপতি ত bloody indian দের কথা শুনে থ। শুয়োরের বাচ্চারা উটকে “কামে” লাগায়…ছি ছি ছি। সে কড়া নির্দেশ দিলো যে এরপর কোনো নেটিভ হারামজাদা উট ব্যাবহার করলে তাকে ঝুলিয়ে পিটানো হবে। যাই হোক তার কড়া শাসনে দুর্গে নিয়ম-শৃংখলা ফিরে আসলো। সবাই সোজা। সব কিছু ঠিকমত চলছে। মাসের পর মাস যাচ্ছে।

এক সময় সেনাপতির একা একা লাগা শুরু করল। শালার একটা মাইয়া দেখি নাই গত চার মাস। আরো এক মাস গেলো। একদিন সকালে সে হুকুম দিলো, শুয়োরের বাচ্চারা, উটটা নিয়ে আয় আমার তাবুতে। কিছুক্ষন ধস্তা-ধস্তি হল। উটের চিৎকার শুনা গেল। এরপর সেনাপতি প্যান্টের চেইন লাগাতে লাগাতে বের হয়ে আসল। বড় বড় চোখ করে bloody indian গুলো তাকিয়ে আছে। এদের দিকে তাকিয়ে সেনাপতি বলল, খারাপ না, তোরাও কি এইভাবেই ব্যাবহার করিস?

– না হুজুর। আমরা এইটাতে চড়ে মাইলদুয়েক দূরের একটা শহরে যাই।

 

১৫৩)

বব আর লিসার বিয়ের ত্রিশতম বার্ষিকী। দুইজনেরই বয়স হয়েছে। দীর্ঘ বিবাহিত জীবনে নানা ঝামেলা এসেছে, সেই ঝামেলা পাড়িও দিয়েছে। আজ তারা চারটি ছেলে সন্তানের বাবা-মা। সুখের জীবন।

অনুষ্টান শেষে, রাতের বেলা লিসা ববকে বলল, আজকে রাতে তুমি আমাকে একটা সত্য কথা বলবে?

বলব।

তুমি বিবাহিত জীবনে আমি ছাড়া আর কয়টা মেয়ের সাথে শুয়েছো?

বব উত্তর দিতে একটু দেরি করছে। লিসা তাই বলল, দেখো, আমরা এমন বয়সে চলে এসেছি যে একজনকে ছাড়া আরেকজন চলতে পারব না। সুতরাং সত্যি কথা বললেও সমস্যা হবে না।

বব মাথা ঝাকিয়ে বলল, শুয়েছি তিনজনের সাথে…

দুইজনেও চুপ-চাপ। গলা খাকাড়ি দিয়ে বব বলল, আমারো একটা প্রশ্ন ছিল।

কি?

দেখো, আমি আমার সবকয়টা ছেলেকেই সমান চোখে দেখেছি। কোনদিন অবিচার করিনি। আজকে তোমাকে বলি , আমার ভিতর সন্দেহ ছিল জনিকে নিয়ে। সে তার বড় তিনভাইয়ের মত না। তার শারীরিক গঠনও আলাদা। সে চিকন এবং বাকি ভাইদের তুলনায় অনেক বেশি মেধাবি। যে কেউ মাথা খাটালেই বুঝবে, জনির বাপ আর বাকিদের বাপ এক পুরুষ না। আমার খুব সন্দেহ তাকে নিয়ে। তুমি সত্যি করে বলো ত, জনির বাপ আর অন্যদের বাপ কি আলাদা ব্যক্তি?

হ্যাঁ।

জনির বাপ কে?

লিসা কিছুক্ষন মাথা নিচু করে থাকে, এরপর লাজুক মুখে বলে, তুমি।

 

১৫৪)

পঞ্চাশোর্ধ এক ব্যবসায়ী, সুন্দরী এক কল গার্লের সেবা গ্রহণ করলেন এবং তাকে নগদ টাকা না দিয়ে তার অফিসে একটি বিল পাঠাতে বললেন। বিলতো আর গৃহিত সেবার নামে করা যাবে না তাই ব্যবসায়ী গার্লকে পরামর্শ দিলেন তুমি এমন একটা বিল আমার অফিসে পাঠাবে যেন আমি তোমার কাছ থেকে একটি এপার্টমেন্ট ভাড়া নিয়েছিলাম। যথারীতি গার্ল পরের সপ্তাহে ব্যবসায়ীর অফিসে একটি বিল পাঠালেন – এপার্টমেন্ট ভাড়া বাবদ ৫০০০ টাকা ।

ব্যবসায়ী স্বভাব সুলভ কারনে সেই বিলও কাটলেন। ২৫০০ টাকা কেটে বাকী আড়াই হাজার টাকা পাঠালেন গার্ল এর কাছে। বিল কাটার কারণ হিসেবে তিনি লিখলেন :

১) আমি ভেবেছিলাম এপার্টমেন্টটি (?) একদম নতুন আগে কেউ ব্যবহার করেনি, কিন্তু ভাড়া নেয়ার পর দেখলাম এটি আগেও ভাড়া হয়েছে।

২) ভাড়া নেবার সময় আমি ভেবেছিলাম এপার্টমেন্টটি (?) অনেক ছোট এবং সুন্দর, কিন্তু ভাড়া নেবার পর দেখলাম অনেকে এই এপার্টমেন্ট ব্যবহার করায় এর আকার অনেক বড়। এত বড় এপার্টমেন্ট আমার পছন্দ নয়।

৩) ভাড়া নেবার সময় আমি ভেবেছিলাম এপার্টমেন্টটি (?) অনেক গরম হবে, কিন্তু ভাড়া নেবার পর দেখলাম এটি একেবারেই ঠান্ডা।

কলগার্ল ব্যবসায়ীর এই কারণ সহ অর্ধেক পেমেন্ট পেয়ে রেগে গেলেন এবং আড়াই হাজার টাকা ফেরত পাঠিয়ে দিয়ে পুরো ৫০০০ টাকা দেবার অনুরোধ করলেন এবং ব্যবসায়ীর কারণ গুলোর বিপরীতে লিখলেন:

১) তুমি কি করে ভাবলে এত সুন্দর এপার্টমেন্টটি (?) ভাড়া না হয়ে এতদিন পরে থাকবে?

২) এপার্টমেন্টটি (?) আসলে সুন্দর এবং ছোটই ছিল, কিন্তু তোমার যদি এই এপার্টমেন্টটি ভর্তি করার মত ফার্নিচার (??) না থাকে তাহলে আমার কি করার আছে?

৩) এপার্টমেন্টটিতে (??) আসলে অনেক গরমই ছিল কিন্তু তুমিতো জানই না এটা কি ভাবে অন করতে হয়।

তাই আমার পুরো পাওনা ৫০০০ টাকাই দিতে হবে।

 

১৫৫)

আরাম খান ফাদারের কাছে গিয়ে বলল, “ফাদার , আমার দুইটা মেয়ে তোতা আছে,কিন্তু ওরা একটা কথা ছাড়া আর কিছুই বলেনা।”

ফাদার বললেন, “কি বলে ওরা?”

আরাম খান বললেন, “ওরা খালি বলে, হেই, আমরা দুই নষ্টা, আসো, স্ফূর্তি করি।”

ফাদার বললেন, “খুব খারাপ কথা ….. তবে আমার আরো দুইটা পুরুষ তোতা আছে, ওরা সারাদিন প্রভুর নাম জপ করে … ওদের সাথে রাখলে তোমার মেয়ে তোতাগুলো আর খারাপ কথা বলবেনা, ভালো হয়ে যাবে।” এই বলে ফাদার ওই মেয়ে তোতা দুইটা কে পুরুষ তোতা দুইটার খাচায় ঢুকিয়ে দিলেন। তখনও পুরুষ তোতা দুইটা চোখ বন্ধ করে অন্যদিনের মতই জপ করছিল। ঢুকিয়ে দেওয়ার পরপরই অন্যদিনের মতই মেয়ে তোতা দুইটা পুরুষ তোতা দুইটার দিকে চোখ মেরে বলল, “হেই, আমরা দুই নষ্টা, আস স্ফূর্তি করি!”

সাথে সাথে একটা পুরুষ তোতা তার চোখ খুলে অন্য তোতা কে বলল, “দোস্ত , এইবার জপ করা বন্ধ করতে পারস , আমাগো দীর্ঘদিনের আশা পূর্ণ হইসে।”

 

১৫৬)

এক ভদ্রমহিলা প্রচণ্ড জোরে কাঁদছেন শুনে একজন জিজ্ঞেস করলো, ম্যাডাম আপনি কাঁদছেন কেন?

-কী বলবো! গতকাল ডাকাত পড়েছিল আমার ঘরে,সমস্ত গয়না ডাকাতি করে নিয়ে গেছে।

-যাক! ইজ্জতটা তো বেঁচেগেছে!

– ওটা বেচেইতো গয়না কিনেছিলাম!

 

১৫৭)

এক দম্পতির বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। কিন্তু একমাত্র বাচ্চা কার কাছে থাকবে এটা নিয়ে কোর্টের দ্বারস্থ হলো তার।বিচারক প্রথমে মহিলাকে বলল, ” বাচ্চা আপনার কাছে রাখার যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিন।”

স্ত্রী, “আমি ১০ মাস পেটে ধারণ করেছি এবং জন্ম দেবার সময় কষ্ট ভোগ করেছি, অতএব আমার সন্তান আমার প্রাপ্য!”

বিচারক এবার স্বামীর কাছে শুনতে চাইলেন তার যুক্তি।

স্বামী, “হুজুর আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দিন। একটি কয়েন, কফি মেশিনে ফেলার পরে কফি বের হয়ে আসলো, এই কফির মালিক কে আমি না কফি মেশিন?”

 

১৫৮)

রাতে ঘুমানোর সময় বয়ফ্রেন্ড মেয়ের ঘাড়ে টোকা দিলো, মেয়ে বিরক্ত হয়ে বললো আজ না, কাল আমার গাইনোকলজিস্টের সাথে অপোইন্টমেন্ট আছে এবং আই ওয়ান্ট টু স্মেল নাইস অন্ড ফ্রেশ দেয়্যর। বয়ফ্রেন্ড মনঃক্ষুন্ন হয়ে ঘুড়ে শুলো। একটু পর আবার টোকা, এবার গার্লফ্রেন্ড বল, “বুঝেছি, কিন্তু আমার ডায়রিয়া!” মনক্ষুণ্ণ হয় বয়ফ্রেন্ড।

কিছুক্ষণ বয়ফ্রেন্ড বললো, “বাই দ্য ওয়ে, আশা করি কাল তোমার ডেন্টিস্টের সাথে অপোইন্টমেন্ট নেই, না কি?”

 

১৫৯)

বিয়ের পর মেয়ের হাত ছেলের হাতে দেওয়া হয় কারন ছেলেটি তার হাত ব্যবহার করতে করতে ক্লান্ত…

 

১৬০)

কোন এক সিনেমা হলের টিকেট চেকারের একটা মেয়ে টিয়া পাখি ছিল। টিয়াটা কথা বলতে পারতো। মুলত: চেকারকে সাহায্য করার জন্য টিয়াটি কথা বলতো। হলের প্রতিটি শো এর আগে দর্শকরা টিকেট কেটে যখন হলে ঢুকতো তখন টিয়াটি বলত –” একে একে আয়! লাইন ধরে আয়!”

তো একদিন হঠাৎ করে টিয়াটি হারিয়ে গেল। বেচারা টিকিট চেকার অনেক খুজেও টিয়ার সন্ধান না পেয়ে আশা ছেড়ে দিল।

একদিন সকাল বেলা হাসপাতাল থেকে টিয়ার খবর এলো। চেকার হন্তদন্ত হয়ে হাসপাতালে গেলেন এবং টিয়াকে জিজ্ঞাস করলেন এতদিন তুই কোথায় ছিলি?? টিয়া বলল, আর বলিস না। তোর এখান থেকে গিয়েছিলাম জঙ্গলে। অনেক ছেলে টিয়া দেখে অভ্যাসবসত ওখানেও বলে ফেললাম “একে একে আয়! লাইন ধরে আয়”, তারপর আমি এখানে!!

 

১৬১)

এক পুলিশ হাইয়েতে যাচ্ছে। পথের মধ্যে দেখে এক লোককে ন্যাংটা করে কেউ গাছে সাথে বেধে রেখেছে। লোকটা কাদছে। পুলিশ গাড়ি থামাল। লোকটার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, আপনার কি হইছে?

আজকে আমার দিনটাই খারাপ।

সকালে বউয়ের সাথে ঝগড়া হল।

গাড়ি নিয়ে বের হলাম,ওভার স্পীডের জন্য জরিমানা দিলাম।

পথের মাঝে একলোককে লিফট দিলাম। অই ব্যাটা গাড়িতে উঠে আমার আমার বুকে বন্দুক ধরল। সে আমার সব টাকা পয়সা নিয়ে গেছে। আমার জামা কাপড় নিয়ে গেছে। আমার গাড়িটাও নিয়ে গিয়ে আমাকে গাছের সাথে বেধে রেখে গেছে।

পুলিস সব শুনে একটু চিন্তা করল। এরপর নিজের প্যান্ট খুলা শুরু করল। লোকটা বলল, কি করছেন আপনি?

পুলিশ মুচকি হেসে বলল, “ হ! আজকে আপনার দিনটাই খারাপ”

 

১৬২)

সেক্স এজুকেশন কোর্সে তিন পিচ্চি বাজে গ্রেড পেয়েছে। একজন সি, একজন ডি আর একজন এফ।

যে সি পেয়েছে, সে চটে গিয়ে বলছে, “ম্যাডাম এটা একটা কাজ করলো? চল বেটিকে শায়েস্তা করি!”

যে ডি পেয়েছে, সে বলছে, “হ্যাঁ, চল! স্কুল ছুটি হয়ে গেলে যখন কেউ থাকবে না, তখন বেটিকে পাকড়াও করবো …!”

যে এফ পেয়েছে, সে বলছে, “হ্যাঁ, তারপর পাকড়াও করে ম্যাডামের অন্ডকোষে অ্যায়সা জোরসে একটা লাত্থি মারবো না!”

 

১৬৩)

এক লোক ডাক্তার দেখাতে গেছে কারণ তার ইয়ে দাঁড়ায় না। ডাক্তার শুনে বললেন, বিয়ে করছেন?

: না।

: প্রেমিকা আছে ?

: না।

: পরকীয়া করেন ?

: না…

: টানবাজার যান ?

: না।

: মাস্টারবেট করেন?

: না।

ডাক্তার ক্ষেপে বললেন, “ওই মিয়া, তাহলে দাড়া করায়ে কি করবেন? ক্যালেন্ডার টাঙ্গাইবেন!!!”

 

১৬৪)

ক্লাস টু-তে এক পিচ্চি মেয়ে উঠে দাঁড়িয়ে বলছে, ‘টিচার টিচার, আমার আম্মু কি প্রেগন্যান্ট হতে পারবে?’

টিচার বললেন, ‘তোমার আম্মুর বয়স কত সোনা?’

পিচ্চি বললো, ‘চল্লিশ।’

টিচার বললেন, ‘হ্যাঁ, তোমার আম্মু প্রেগন্যান্ট হতে পারবেন।’

পিচ্চি এবার বললো, ‘আমার আপু কি প্রেগন্যান্ট হতে পারবে?’

টিচার বললেন, ‘তোমার আপুর বয়স কত সোনা?’

পিচ্চি বললো, ‘আঠারো।’

টিচার বললেন, ‘হ্যাঁ, তোমার আপু প্রেগন্যান্ট হতে পারবে।’

পিচ্চি এবার বললো, ‘আমি কি প্রেগন্যান্ট হতে পারবো?’

টিচার হেসে বললেন, ‘তোমার বয়স কত সোনা?’

পিচ্চি বললো, ‘আট।’

টিচার বললেন, ‘না সোনা, তুমি প্রেগন্যান্ট হতে পারবে না।’

এ কথা শোনার পর পেছন থেকে ছোট্ট বাবু পিচ্চিকে খোঁচা দিয়ে বললো, ‘শুনলে তো? আমি তো তখনই বলেছি, আমাদের চিন্তা করার কিছু নেই।’

 

১৬৫)

চার তরুণী নান এক কনভেন্টে যোগ দিতে চাইছে।

মাদার সুপিরিয়র বললেন, ‘তার আগে তোমাদের পরীক্ষা নেওয়া হবে। সবাই এক লাইনে দাঁড়াও।’

সবাই লাইনে দাঁড়ানোর পর তিনি প্রথম নানকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘বাছা, তুমি কি কখনও কোনও পুরুষের সেই প্রত্যঙ্গ স্পর্শ করেছ? করে থাকলে নিজের শরীরের কোন অঙ্গ দিয়ে স্পর্শ করেছ?’

লজ্জিত মুখে প্রথম নান বলল, ‘আঙুল দিয়ে, মাদার।’

মাদার সুপিরিয়র পবিত্র পানির একটি বাটি এগিয়ে দিলেন। ‘তোমার আঙুল এ পানিতে ডোবাও, সব পাপ ধুয়ে ফেল, পবিত্র হয়ে এসো আমাদের কনভেন্টে।’

প্রথম নান আঙুল পানিতে ডুবিয়ে কনভেন্টে ঢুকে গেল।

এবার মাদার সুপিরিয়র দ্বিতীয় নানকে বললেন, ‘কি বাছা, তুমিও স্পর্শ করেছ নাকি? স্পর্শ করে থাকলে নিজের শরীরের কোন অঙ্গ দিয়ে স্পর্শ করেছ?’

লজ্জিত মুখে দ্বিতীয় নান বললো, ‘হাত দিয়ে, মাদার।’

যথারীতি মাদার সুপিরিয়র পবিত্র পানির বাটি এগিয়ে দিলেন, হাত ধুয়ে পাপমুক্ত হয়ে দ্বিতীয় নান কনভেন্টে প্রবেশ করল।

এমন সময় চতুর্থ নান তৃতীয় নানকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে সামনে এগিয়ে এল। মাদার অবাক হয়ে বললেন, ‘ও কি, বাছা, ঈশ্বরের পথে অত তাড়া কিসের?’

চতুর্থ নান বলল, ‘উঁহু, মাদার, ও এই পানিতে বসে পড়ার আগেই আমি কুলি করতে চাই।’

 

১৬৬)

আবুল: মফিজ, তোর জীবনটা খুব একঘেয়ে হয়ে যাচ্ছে সেটা কখন টের পাবি, বলতো?

মফিজ: কখন?

আবুল: যখন তুই তোর লিঙ্গের সাইজ মাপতে যাবি। আর এই একঘেয়েমির সাথে প্রতিবার নতুন একটা উপসর্গ যোগ হবে।

মফিজ: সেটা কী?

আবুল: হতাশা!

 

১৬৭)

আবুল: কাল রাতে ঘরে চোর এসেছিল।

মফিজ: বলিস কী!

আবুল: ঘুম ভেঙে গেলে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, সে কী করছে? বলল, টাকা-পয়সা খুঁজছে।

মফিজ: তুই চোরটাকে ধরে পুলিশে দিস নাই?

আবুল: না…

মফিজ: তবে?

আবুল: আমিও তার সাথে টাকা-পয়সা খুঁজতে শুরু করছিলাম।

 

১৬৮)

মেয়েরা যখন বলে, সব পুরুষরাই সমান, তখন বুঝতে হবে মেয়েটির স্বামী বা বয়ফ্রেণ্ড চাইনীজ এবং চায়নাতে বেড়াতে যাওয়ার পর মেয়েটি তার স্বামী বা বয়ফ্রেণ্ডকে হারিয়ে ফেলে রাস্তায় রাস্তায় খুঁজে বেড়াচ্ছে।

 

১৬৯)

গ্রামে চাচার খামারে বেড়াতে গেছে ছোট্ট বাবু। কয়েকজন অতিথির সাথে চাচা গল্প করছে, এমন সময় সে ছুটতে ছুটতে এলো।

‘চাচা, চাচা, জলদি দেখে যাও! তোমার ষাঁড় একটা গরুকে লাগাচ্ছে !’

বিড়ম্বিত চাচা অতিথিদের কাছে ক্ষমা চেয়ে ছোট্ট বাবুকে কানে ধরে বাইরে নিয়ে এলেন। ‘শোন, এখন থেকে বলবে, “ষাঁড়টা গরুটাকে চমকে দিয়েছে”, বুঝলে? ‘

পরদিন আরো কয়েকজন অতিথির উপস্থিতিতে ছোট্ট বাবু ছুটতে ছুটতে এলো। ‘চাচা, চাচা, জলদি দেখে যাও! তোমার ষাঁড় গরুগুলোকে চমকে দিয়েছে!’

অতিথিরা সমঝদারের মতো মুচকি হাসলেন। চাচা বললেন, ‘ঠিক আছে, ছোট্ট বাবু। কিন্তু তুমি নিশ্চয়ই বলতে চাইছো যে ষাঁড়টা একটা গরুকে চমকে দিয়েছে, গরুগুলোকে নয়?’

ছোট্ট বাবু বললো, ‘না, সব গরুকেই ব্যাটা চমকে দিয়েছে, কারণ সে এখন মাদী ঘোড়াটাকে লাগাচ্ছে!’

 

১৭০)

ডন ঘরে ঢুকতেই দেখলো তার স্ত্রী জিমির সাথে শুয়ে আছে ।  সে জিমিকে বললো, বাস্টার্ড সাহস থাকে তো আয় দুটো পিস্তল নিয়ে ডুয়েল লড়ি ।  যে জিতবে লিন্ডা তার হবে ।  বলে জিমিকে নিয়ে পাশের ঘরে চলে গেল ।  পাশের ঘরে ডুয়েল যাবার সময় জিমি বললো, ডন কেন মিছিমিছি আমাদের মাঝে একজন মরবো, তারচেয়ে বরং দুজনেই মরার ভান করে শুয়ে থাকি, লিন্ডা যাকে নিয়ে কাদঁবে, লিন্ডা তার হবে ।  বলে দুজনে মটকা মেরে শুয়ে পরল এবং দুটি গুলির আওয়াজ করল ।  ডনের স্ত্রী ঘরে ঢুকে দেখল দুজনেই মরে পড়ে আছে ।  সে তখন খাটের তলা থেকে তার আরেক প্রেমিক মাইকেলকে ডেকে বললো মাইকেল চলো এসো, এরা দুজনেই মরেছে, আর কোনো বাঁধা নেই ।

 

১৭১)

গলফ খেলতে গেছে টিনা। সাঁই করে ব্যাট চালালো সে। তারপর দেখতে পেলো, তার টার্গেটের কিছুটা দূরে এক লোক হঠাৎ কোমরের নিচটা চেপে ধরে শুয়ে পড়লো।

‘নিশ্চয়ই আমার বলটা ওর ওখানটায় গিয়ে লেগেছে!’ আঁতকে উঠলো সে। তারপর ছুটে গেলো সেখানে। দেখা গেলো, লোকটা কোঁকাচ্ছে সমানে, কোমরের নিচটায় হাত চেপে রেখেছে সে। টিনা বললো, ‘ভয় পাবেন না, আমি জানি কী করতে হবে। খুব ব্যথা করছে?’

লোকটা কোনমতে বললো, ‘হ্যাঁ।’

টিনা তখন এগিয়ে গিয়ে, বেচারার প্যান্ট খুলে, মিনিট দশেক ম্যাসেজ করে দিলো। তারপর বললো, ‘এখন কেমন বোধ করছেন?’

লোকটা বললো, ‘দারুণ, কিন্তু বুড়ো আঙুলটায় এসে বল লেগেছে তো, সাংঘাতিক ব্যথা করছে।’

 

১৭২)

এক লোক বাজারে গেছে মুরগী কিনতে। সে মুরগিওয়ালাকে বলল একটা রাজশাহীর মুরগী দেও। মুরগিওয়ালা একটা মুরগি দিয়া বলল এই নেন রাজশাহীর মুরগি। লোকটা মুরগীর পাছা দেখে কইলো। অই মিয়া এইডা তো রাজশাহীর মুরগী না। এটা যশোর এর মুরগী।

মুরগিওয়ালা অনেক খুজে আরেকটা মুরগি দিয়া কইলো এই নেন রাজশাহীর মুরগি। লোকটা আবার মুরগীর পাছা দেখে কইলো, ধুর মিয়া এইডাও তো রাজশাহীর মুরগি না। এটা ফরিদপুরের এর মুরগী।

মুরগিওয়ালা এবার অনেকক্ষণ খুঁজে আরেকটা মুরগি দিয়া কইলো এই নেন এইটাতো রাজশাহীর মুরগি হইবোই।

লোকটা এবার রাইগা কইলো। কি মিয়া? কি ব্যবসা কর একটা মুরগিও চিনো না। তোমার বাড়ি কই?

এইবার মুরগিওয়ালা পিছন ফিরে লুঙ্গি উপরে তুইলা কইলো আপনেই দেইখা কয়া দেন আমার বাড়ী কই?

 

১৭৩)

পরীক্ষার আগে রাজিব ভাইয়ের পাশের বাড়ির মেয়ে সকিনা আইসা রাজিন ভাইকে বই থেকে কিছু প্রশ্ন করছে।

রাজিব ভাই মুখস্ত বিদ্ধ্যা তো, ফটা ফট উত্তর দিয়া দিছেন।

সকিনা বলছেঃ ওম্মা! তোমার তো দেখছি মাথায় মেলা জ্ঞান আছে। আমাকে একটু দিবে?

রাজিব ভাইঃ ঠিক আছে, ঠিক আছে! আমার পাশে এসে বসো।

মেয়ে পাশে এসে বসলো।

রাজিব ভাইঃ এতো দূরে কেন? আরো কাছে আসো।

মেয়ে আরেকটু কাছে আসলো।

রাজিব ভাইঃ আরে, আরো কাছে আসতে হবে।

মেয়েঃ না বাবা না! আমি আর কাছে আসতে পারব না।

রাজিব ভাইঃ ওম্মা তোমারও তো দেখছি ব্যাপক জ্ঞান আছে।

 

১৭৪)

এক হাসপাতালের করিডরে এক মহিলা আর এক পুরুষ দানকেন্দ্রের সামনে বসে অপেক্ষা করছিল। পুরুষটি মহিলা কে জিজ্ঞেস করলো, “আপনি কী দান করতে এসেছেন?”

মহিলা বলল, “আমি রক্ত দান করতে এসেছি, এর জন্য আমি ৫ ডলার পাব”

পুরুষটি বলল, “ওহ … আমি স্পার্ম দান করতে এসেছি, এর জন্য তারা আমাকে ২৫ ডলার দেবে”

মহিলাটিকে কিছুক্ষণের জন্য চিন্তিত মনে হলো, তারপর তারা খানিকক্ষণ গল্প করে নিজ নিজ বাসায় চলে গেল।

কয়েকমাস পর তাদের আবার ওই হাসপাতালের করিডরে দানকেন্দ্রের সামনে দেখা হলো। পুরুষটি মহিলাকে বলল, “এবার আমি রক্ত দিতে এসেছি, আপনি?”

মহিলাটির মুখ বন্ধ থাকায় কোনো মতে সে মাথা ঝাকিয়ে উত্তর দিল, “উমমমম মমম…”

 

১৭৫)

এক গৃহকর্মী তার মালিক গৃহকত্রীর কাছে বায়না ধরেছে তার বেতন বাড়াতে হবে।

গৃহকত্রীঃ তোমার বেতন বাড়ানো হয়েছে ছয় মাসও হয় নি। এখনি আবার বেতন বাড়ানোর আবদার কেন?

গৃহকর্মীঃ এই সময়ের মধ্যে আমি তিনটি সার্টিফিকেট পেয়েছি…। তাই বেতন বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছি।

গৃহকত্রীঃ কি কি সার্টিফিকেট?

গৃহকর্মীঃ আমি আপনার চেয়ে ভাল কাপড় আয়রন করতে পারি।

গৃহকত্রীঃ কে দিয়েছে এই সার্টিফিকেট?

গৃহকর্মীঃ জ্বী, স্যার মানে… আপনার স্বামী……

গৃহকর্মীঃ হুম, আর কি সার্টিফিকেট পেয়েছো……

গৃহকর্মীঃ আমি আপনার চেয়ে ভাল রান্না করতে পারি…

গৃহকত্রীঃ কে বলেছে তুমি আমার চেয়ে ভাল রান্না কর? (বেশ রাগত স্বরে…)

গৃহকর্মীঃ জ্বী, আপনার স্বামী বলেছেন…

গৃহকত্রীঃ আচ্ছা ঠিক আছে, হতে পারে তুমি আমার চেয়ে ভাল রান্না কর……আমি কি চাকরানী নাকি যে ভাল রান্না জানতে হবে? বলো আরেকটি কি সার্টিফিকেট পেয়েছ?

গৃহকর্মীঃ আমি আপনার চেয়ে বিছানায় ভাল পারফর্ম করতে পারি।

কত্রী তো এবার রেগে আগুন। আমার স্বামী বলেছে এই কথা?? ওর সাথে তোমার তাহলে এইসবও হয়??

গৃহকর্মীঃ জ্বী না, আপনার স্বামী বলেনি……বলেছে আপনার গাড়ির ড্রাইভার!

গৃহকত্রীঃ (কত্রী এবার চুপ…) ঠিক আছে তোমার বেতন বাড়ায়ে দেয়া হবে…এসব নিয়ে কথা বলার দরকার নাই।

 

১৭৬)

এক তরুণী মেয়ে আর এক বুড়ো দাদু গিয়েছে ওজন মাপতে। প্রথমে মেয়েটা ওজন মাপাবার যন্ত্রে উঠলো, যন্ত্রের ভিতরে কয়েন ফেলল, টিকেট বেরিয়ে এল, ওজন ৬৪কেজি।

এবার মেয়েটা নামলো, কাধ থেকে ব্যাগটা নামাল, আবার যন্ত্রের উপর উঠলো, যন্ত্রের ভিতরে কয়েন ফেলল, টিকেট বের হয়ে এল, ওজন ৬৩কেজি।

আবার মেয়েটা নামলো, জ্যাকেটটাকে খুলল, যন্ত্রের উপর উঠলো, যন্ত্রের ভিতরে কয়েন ফেলল, টিকেট বের হয়ে এল, ওজন ৬২কেজি।

আবার মেয়েটা নামলো, ট্রাউজার খুলল, যন্ত্রের উপরে উঠলো, কয়েন শেষ।

এতক্ষণ ধরে বুড়ো দাদু সবকিছু দেখছিল। এবার সে কেশে বলল, “খুকী, চালিয়ে যাও। কয়েন লাগলে আমি দেব।”

 

১৭৭)

শফিকের খুব মাথাব্যথা থাকে আজকাল। এর জন্য অনেক ডাক্তার দেখিয়েছে … কিন্তু  কিছুই হয়নি। এর মাঝে কিছুদিন আগেই সে নতুন বিয়ে করেছে। কিন্তু ওই হারামজাদা মাথা ব্যথার জন্য সে ঠিক মত বাসরটাও উপভোগ করতে পারেনি। তাই সে এবার শেষ চিকিত্সা মনে করে এক কবিরাজের কাছে গেল।

কবিরাজ তাকে বলল, “বাবা, তোমার এই মাথা ব্যথার কারনটা আমি বের করতে পেরেছি … এটা খুব খারাপ কিন্তু বিরল একটা রোগ … … তোমার অন্ডকোষটা বড় হয়ে তোমার স্পাইনাল কর্ডের নিচে চাপ দিচ্ছে … তারই ফলস্বরূপ তোমার খুব খারাপ মাথাব্যথা হয় … যার জন্য তুমি অনেক সময় চোখে দেখতেও পাওনা!

শফিক দেখল, “তাই তো! ওই রকমই মাথাব্যথা হয় সে কবিরাজকে জিজ্ঞেস করলো, “আমার চিকিত্সা কি?”

কবিরাজ বলল, “এর একটাই চিকিত্সা … তোমার অন্ডকোষটা ফেলে দিতে হবে!”

শফিক ভাবলো, “শালার দুনিয়া, কিছুদিন আগেই বিয়া করলাম; এখন যদি অন্ডকোষ ফালায়া দিতে হয় …! হায়রে কপাল!!”

কিন্তু পরক্ষণে সে ঠিক করলো, “নাহ … এই মাথাব্যথার হাত থেকে মুক্তি চাই।”

অন্ডকোষটা ফেলে দেওয়ার পর শফিকের মনে হতে লাগলো, সে একটা নতুন মানুষ … তার মাথাব্যথাটাও আসলেই একবারেই নাই!! তাই সে একটা কাপড়ের দোকানে ঢুকলো … একটা শার্ট বানাবে। দোকানে ঢুকে শার্টের কথা বলতেই দর্জি তাকে বলল, “দেখি, … হুমমমম … কলার সাইজ ১৬”। দেখে বলে দিল দর্জি। তারপর একটা শার্ট পরালো শফিক কে। শফিক দেখল খুব সুন্দর ফিট হয়েছে। তাই সে দর্জিকে বলল, “কিভাবে নিখুঁতভাবে বললেন?” দর্জি বলল, “বাবা … ৬০ বছরের অভিজ্ঞতা … এখন একটা প্যান্টও বানাবে?”

শফিক বলল “ঠিকাছে”

দর্জি বলল “হুমমম … তোমার কোমর হবে ৩২, লম্বায় হবে ৪০”

তারপর একটা প্যান্ট পড়তে দিল। শফিক দেখল, খুব সুন্দর ফিট করেছে। সে বলল, “কিভাবে নিখুঁতভাবে বললেন?”

দর্জি বলল, “বাবা, ৬০ বছরের অভিজ্ঞতা! তো, এখন একটা জাঙ্গিয়া নিবে না?”

শফিক বলল, “আপনি বলেন, কী সাইজ হবে?”

দর্জি বলল, “হুমমমম … সাইজ হবে ৩৪”

শফিক হাসতে হাসতে বলল, “নাহ, এবার হয়নাই … আমি ১৮ বছর বয়স থেকে ২৮ সাইজ পরি … ঐটাই আমার নিখুঁত ফিট হয়।”

দর্জি বলল, “অসম্ভব, ২৮ সাইজের জাঙ্গিয়া পড়লে তোমার অন্ডকোষটা তোমার স্পাইনাল কর্ডের নিচে চাপ দিবে, তখন তোমার খুব মাথাব্যথা হবে, যার জন্য তুমি অনেক সময় চোখে দেখতেও পাবেনা।”

 

১৭৮)

১ম বন্ধু: আরে দোস্ত, আমার বউ একদম আমার কথা শুনেনা। খালি উল্টা-পাল্টা করে। কি করা যায়?

২য় বন্ধু: এইরকম মেয়ে লোকের জন্য আমার কাছে একটা ফাস্টক্লাস তরিকা আছে।

১ম বন্ধু: কি সেইটা?

২য় বন্ধু: যেইদিন তোর কথা শুনবেনা সেইদিন সামনে থেকে দুইবার, পিছন থেকে দুইবার, দাড়িয়ে দুইবার লাগাবি দেখবি সব ঠিক হয়ে যাবে।

১ম বন্ধু: এইটা কি আমার বউকে শাস্তি দেয়া না আমাকে শাস্তি দেয়া?

২য় বন্ধু: আরে না তুই এতবার করার পর এতো টায়ার্ড হয়ে যাবি যে বউয়ে উল্টা-পাল্টা করলে আর নজরে পরবেনা।

 

১৭৯)

দুই বন্ধু জমির আর নানক গলফ খেলছে। হঠাৎ নানকের একটা ফোন করার দরকার পড়ল, “কিরে জমির, তর কাছে ফোনে আছে? একটা ফোন করতাম।”

জমির বলল, “ঠিকাছে, এই নে ফোন” এই বলে সে ১২ ইঞ্চি লম্বা একটা ফোন বের করলো। ফোন দেখে তো নানক ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো। জমিরকে জিজ্ঞেস করলো, “কিরে, এই ফোন তুই পাইলি কই?”

জমির বলল, “আমার একটা দৈত্য আছে, ইচ্ছাপূরণকারী দৈত্য, ওই বেটা এই ফোন দিছে।”

নানক বলল, “দেখি তো তোর দৈত্যটা।” জমির গলফ ব্যাগ থেকে দৈত্যটা কে বের করলো। দৈত্যকে দেখেই নানক বলল, “তুমি তো ইচ্ছাপূরণকারী দৈত্য, আমি তোমার মনিবের বন্ধু, তো আমার একটা ইচ্ছা পূরণ কর।” দৈত্য বলল ,” হুকুম করেন জাহাপনা ”

নানক বলল, “আমাকে গাড়ি, বাড়ি আর নারী দাও।”

দৈত্য বলল, “জো হুকুম!” এই বলে সে ভ্যানিস হয়ে গেল। নানক তো অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছে, কখন তার বাড়ি, গাড়ি আর নারী আসে। অপেক্ষা করতে করতে সে যখন মেজাজ খারাপের চূড়ান্ত পর্যায়ে, তখন হঠাৎ করে আকাশ থেকে একটা চুড়ি, একটা হাঁড়ি আর একটা শাড়ি পড়ল! নানকের মেজাজ তো খুব খারাপ, বলল, “কিরে ব্যাটা! চাইলাম নারী গাড়ি বাড়ি … আর ও দিল কিনা চুড়ি হাড়ি আর শাড়ি !!!”

জমির নির্লিপ্ত কন্ঠে বলল, “দোস্ত, বলতে ভুইলা গেছিলাম … আমার দৈত্যটা কানে কম শুনে … … তোর কি মনে হয়, আমি কি ১২ ইঞ্চি লম্বা ফোন চাইছিলাম?”

 

১৮০)

এক ছেলে বাবাকে এসে বলছে, “আমি পাশের বাড়ির আলোর সাথে প্রেম করতে পারি?”

বাবাঃ “বাবা একটা গোপন কথা বলি, আলো আমার মেয়ে, সে তোমার বোন হয়, তুমি অন্য মেয়ে দেখ”

কয়েকদিন পর ছেলে আবার এসে বলল “আমি কি ওই পাড়ার আঁখির সাথে প্রেম করতে পারি?”

বাবা “সেও তোমার বোন, সুতরাং অসম্ভব”

এর কয়েকদিন পর ছেলে এসে আবার বলল, “তোমার বন্ধুর মেয়ে রাখীর সাথে প্রেম করলে কোন সমস্যা?”

বাবাঃ “দুঃখজনক হলেও সেও তোমার বোন হয়”

এরপর ছেলে রেগে গিয়ে মায়ের কাছে গিয়ে বলল, “আমি যে মেয়ের সাথে প্রেম করতে চাই, সেই নাকি আমার বোন হয়। আমি কী করবো?”

মা হেসে বলল, “বাবা, তুমি যে কারো সাথে প্রেম করতে পার, কারন উনি তোমার বাবা না”

 

১৮১)

এক জাপানি ভদ্রলোক এসেছেন বাংলাদেশ ভ্রমনে। এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে সামনে অপেক্ষারত একটা ট্যাক্সিতে চড়ে বসলেন হোটেলে যাওয়ার জন্য। একটু পরে একটা মোটরবাইক পাশ কাটাতেই জাপানিটা সোল্লাসে বলে উঠল, হোন্ডা, মেড ইন জাপান, ভেরী ফাস্ট!! ড্রাইভার কিছু বলল না।

একটু পরে ওভারটেক করল একটা কার, আবার জাপানির চিৎকার, টয়োটা, হাহা, মেড ইন জাপান, ভেরী ফাস্ট!! ট্যাক্সি ড্রাইভার চুপচাপ শুনল, কিছু বলল না।

এরপর একটার পর একটা গাড়ি পেছন থেকে উঠে যাচ্ছে আর জাপানি লোকটার উৎসাহ বেড়ে যাচ্ছে, কখনও মিৎসুবিশি, কখনও হোন্ডা, কখনও টয়োটা বলে লাফাচ্ছে আর মনের আনন্দে গুনকীর্তন করছে, মেড ইন জাপান, ভেরী ফাস্ট!! ভেরী ফাস্ট!!

অবশেষে, হোটেলে পৌছল তারা। ক্যাব থেকে নেমে ভাড়া দিতে গিয়ে টাসকি, এইট হান্ড্রেড টাকা? হাউ কাম?

এতক্ষণ চুপ থাকার পর কথা বলার চান্স পেয়েছে ট্যাক্সি ড্রাইভার, হাহা, ইয়ে মিটার, মেড ইন বাংলাদেশ, ভেরী ফাস্ট! ভেরী ফাস্ট!!

 

১৮২)

বাবা: আমি চাই তুমি আমার পছন্দ মত মাইয়ারে বিয়া করবা!

পোলা: নাহ, আমি নিজে পছন্দ কইরা বিয়া করুম!

বাবা: মাইয়া কিন্তুক বিল গেটসের কন্যা, খিয়াল কইরা!

পোলা: তাইলে আমি রাজি!

পরের ঘটনা, বাবা বিল গেট্সরে প্রস্তাব করতেছে~

বাবা: আমি তোমার মাইয়ার লাইগা একটা ভালা রর খুইজা বাইর করছি!

বিল গেটস: কিন্তুক আমার মাইয়াত অনেক ছুড! বিয়ার বয়স হয় নাই!

বাবা: বুঝলাম, তয় এই যুবকে কিন্তুক ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট!

বিল গেটস: আহ! আগে কয়বা ত, তাইলে আমি রাজি!

শেষে বাবা গেল ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের প্রেসিডেন্টের কাছে।

বাবা: আমি একটা পুলারে রিকমেন্ড করতাসি হেরে তুমি তোমার ভাইস প্রেসিডেন্ট কইরা নাও!

প্রেসিডেন্ট: কিন্তুক আমার প্রয়োজনের থেইকা বেশী ভাইস প্রেসিডেন্ট আসে! আর লাগব না!

বাবা: বুজলাম! কিন্তুক এই পুলাডা বিল গেট্সের মাইয়ার বাগদত্তা!

প্রেসিডেন্ট: আহ! আগে কই বা তো, তাইলে আমি রাজি!

 

১৮৩)

আমেরিকায় তখন ভয়ানক মন্দা চলছে। একদিন এক বারে এক লোক ঢুকে বারটেন্ডারকে বললো, ‘আজকে এই বারের সবাইকে আমার তরফ থেকে এক পেগ।’

বারটেন্ডার বললো, ‘তা ঠিক আছে। কিন্তু এই মন্দার সময় তোমার কাছে এতো টাকা আছে তো…?’

লোকটি একতাড়া ডলার বের করে দেখালো। বারটেন্ডার অবাক হয়ে গেলো, ‘তুমি এতো টাকা কোথায় পেলে?’

লোকটি উত্তর দিলো, ‘বাজি ধরা আমার পেশা।’

বারটেন্ডার বললো, ‘ কিন্তু বাজি মানেই তো ৫০:৫০ চান্স। তাহলে?’

লোকটি বললো, ‘ঠিক আছে, চলো ৫০ ডলার বাজি ধরি, আমি আমার ডান চোখে কামড় দিবো।’

বারটেন্ডার রাজি হলো। বাজিকর তখন তার নকল ডান চোখ খুলো কামড়ে দিলো।

বারটেন্ডার বাজিতে হেরে ৫০ ডলার দিয়ে দিলো।

বাজিকর বললো, ‘হেরে তোমার মন খুব খারাপ হয়েছে বুঝতে পারছি। চলো তোমাকে আরেকটা চান্স দেই টাকা ফেরত নেবার। এসো বাজি ধরি, আমি আমার বাম চোখে কামড় দিবো।’

বারটেন্ডার খুশি হয়ে উঠলো, ‘তোমার ডান চোখ নকল, আবার বারে তুমি দেখে দেখেই ঢুকেছো, তোমার বাম চোখটা তাহলে নকল না। আমি বাজিতে রাজি।’

বাজিকর তখন তার নকল দাঁত খোলে বাম চোখে কামড় দিলো।

‘ধুত’ – বারটেন্ডার বিরক্ত হয়ে বললো।

‘দেখলে, এভাবেই আমি আমার বাজিগুলো জিতি। এবারের ৫০ ডলার আমি তোমার কাছ থেকে নিলাম না। তার বদলে এক বোতল হুইস্কি দাও।’

এক বোতল হুইস্কি নিয়ে বাজিকর চলে গেলো জুয়ার রুমে। প্রায় সারারাত ধরে সে জুয়া খেললো আর হুইস্কির বোতলটা প্রায় খালি করে ফেললো। ভোরের দিকে সে বারটেন্ডারের কাছে এগিয়ে এলো। সে নেশার কারণে ঠিকমতো পা ফেলতে পারছিলো না।

কোনমতে বারের উপর ভর রেখে বাজিকর জড়ানো কণ্ঠে বললো, ‘আমি তোমার সাথে শেষ বাজি ধরতে এসেছি। আমি তোমার এই টেবিলের উপর দাঁড়িয়ে তোমার পেছনের একটা খালি হুইস্কির বোতলে প্রস্রাব করে দেখাবো। বাজি ১,০০০ ডলার।’

বারটেন্ডার বাজিকরকে সারারাতই হুইস্কি খেতে দেখেছে। সে নিশ্চিত সে কোনভাবেই এই বাজিতে জিততে পারবে না। তাই সে খুশি মনে রাজি হয়ে গেলো।

বাজিকর টেবিলের উপর উঠে পেছনের একটা হুইস্কির খালি বোতলে পেশাব ফেলার অনেক চেষ্টা করলো কিন্তু সে এমনভাবে কাঁপছিলো যে সে বোতল বাদে আর সব জায়গাতেই পেশাব দিয়ে ভরিয়ে দিলো।

শেষমেষ লজ্জিত কণ্ঠে বললো, ‘বারটেন্ডার, আমি পারলাম না।’

বারটেন্ডার খুশিতে লাফ দিয়ে বললে, ‘ইয়েস, আমি ১,০০০ ডলার জিতেছি।’

বাজিকর খুশিমনে তাকে ১,০০০ ডলার দিয়ে দিলো। বারটেন্ডার অবাক হয়ে বললো, ‘কি ব্যাপার! তুমি এতো সহজে হার স্বীকার করে নিলে?’

বাজিকর বললো, ‘জুয়ার রুমের লোকগুলোর সাথে আমার বাজি রয়েছে যে আমি তোমার পুরো বারে প্রস্রাব করবো কিন্তু তুমি হাসবে আর আমাকে মারবে না। ওদের সাথে আমি ৫,০০০ ডলার জিতেছি।’

 

১৮৪)

এক লোক একটা লেডিস কাপড়ের দোকান দিলো। একদিন এক সুন্দরী আসলো। দেখে লোকটার খুশী যেনো আর ধরেনা। চিন্তা করলো যে ভাবে হোক মেয়েকে পটাতে হবে। সুন্দরী দুইটা কাপড় নিলো।

লোকটাকে বললো: আচ্ছা এই কামিজের দাম কতো।

লোকটা বিগলিত হাসি দিয়ে বলে: আপনার জন্য মাত্র ১০টা কিস। মানে আমাকে দশটা কিস দিলেই হবে।

সুন্দরী: তাহলে এই জিনসের দাম কতো?

লোকটা: এইটা? আমাকে জড়ায়ে ধরে একটু আদর কইরা দিলেই হবে।

সুন্দরী বলে: ঠিক আছে। এই দুইটা আমি নিলাম। গাড়িতে আমার কাজের বুয়া আছে, সে এসে দাম দিয়ে যাবে।

 

১৮৫)

দুই চাপাবাজ, একজন ঢাকাইয়া আরেকজন কোলকাতাইয়া। দীর্ঘদিন বাদে দেখা। ঢাকাইয়া জিজ্ঞেস করলো, কি দোস্ত কেমুন আছো?

কোলকাতাইয়া: আর দাদা বোলো না। আছি বেশ। দু’আঙুলে কোলকাতাকে নাচাচ্ছি।

ঢাকাইয়া: কউ কি দোস্ত! খাড়াও তোমার এউগা পরীক্ষা লই। পাশ করলে বুঝমু কেমুন তুমি শেঠ।

কোলকাতাইয়া: ঠিক আছে, হয়ে যাক। বলো কি করতে হবে?

ঢাকাইয়া দোস্ত: ওই যে দেখবার লাগছো কাউয়্যাঠুটির গাছ, এউগা কাউয়ার বাসা ভি দেহা যাইতাছে। ওইহানে এউগা কাউয়া বয়া রইছে, ওর পেটের নিচে আন্ডা ভি আছে। এউগা আন্ডা গাছে উইঠা লয়া আইবা মাগার কাউয়া উড়বো না, পারবা?

কোলকাতাইয়া দোস্ত তর তর করে গাছে উঠে গেলো এবং কাকের পেটের তলা থেকে কাকের ডিমও নিয়ে এলো অথচ কাক টেরও পেলো না।

নেমে তৃপ্তির স্বরে সে বললো: এই নাও বন্ধু, কাকের পেটের তলা থেকে ডিম নিয়ে এলুম অথচ কাক ঠিকই বসে আছে (বাহাদুরি দেখিয়ে)।

ঢাকাইয়া: হ, তুমি কোলকাতারে দুই আঙুলে ঘুরাও ঠিকই। গাছে উইঠা কাউয়া না উড়ায়া কাউয়ার পেটের তলা থেইকা আন্ডা ভি লিয়া আইছো ঠিকই। মগর উঠোনের টাইমে যে দুই আঙুলে তোর ধুতি আমি খুইলা রাইখা দিছি দাদা, তুমি হালায় টেরই পাইলা না। নিচে চায়া দেহো পুরা কোলকাতা দেহা যাইবার লাগছে।

 

১৮৬)

একগ্রামে বন্য হাতি ঢুকে সব লন্ড ভন্ড করে ঘর বাড়ি ভেঙ্গে তছনছ করে কলাগাছ সব খাওয়া শুরু করলো । গ্রামের সবাই হাতি তাড়াতে ব্যস্ত এই ফাকে এক কিশোরি বালিকা দৌড়ে চেয়ারম্যানের কাছে খবর দিতে গেল । কিন্তু বিপদের কথা হলো এই কিশোরী আগে কখনো হাতি দেখে নাই । সে গিয়ে চেয়ারম্যান কে উত্তেজিত গলায় বলছে –  চেয়ারম্যান সাব , সর্বনাশ হইছে !! বন থেকে এক অদ্ভুত ইয়া বড় জন্তু গ্রামে ঢুকে গেছে ।

– তাই নাকি !! কিরকম দেখতে জন্তুটা ?/

– ইয়া উঁচা … আর একটা ইয়া মোটা লেজ সেই লেজ দিয়ে সে সব কলা গাছ উপড়ে ফেলছে…

– তারপর !!!

কিশোরি এবার মুখ কান লাল করে লাজুক ভঙ্গিতে বললো –  যাহ !.. তারপর সেই কলাগাছ দিয়ে কি করছে সেটা বলতে আমার লজ্জা করছে !

 

১৮৭)

এক প্রচুর ধনী মহিলা সিদ্ধান্ত নিলেন যে বিয়ে করবেন। ভাল পাত্রের জন্য প্রত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিলেন এবং তিনটি শর্ত জুড়ে দিলেনঃ

১. মহিলার গায়ে হাত তোলা যাবে না।

২. মহিলাকে ফেলে কোথাও যেতে পারবে না।

৩. মহিলাকে বিছানায় সন্তুষ্ট রাখতে হবে।

নির্ধারিত দিনে অনেকেই ভাইভা দিতে আসলো। কেউ প্রথম দুটি শর্ত পূরন করতে পারে তো ৩য় টা পারে না, কেউ ৩য় টা পূরনে সক্ষম তো ২য় টি পূরনে সক্ষম নয়। এভাবে সারা দিন চলে গেল কিন্তু কেউ ই মহিলার মন মতো হল না। মহিলা হতাশ হয়ে বসে রইলেন। তার বুঝি আর বিয়ে করা হয় না। এমন সময় সন্ধ্যার দিকে হটাৎ কলিং বেল বেজে উঠলো। মহিলা নিজেই গিয়ে দরজা খুলে দিলেন। দরজা খুলে দেখেন হাত পা নেই এমন এক ভিক্ষুক দরজার সামনে শুয়ে আছে।

মহিলাঃ তুমি কি চাও?

ভিক্ষুকঃ আমি ভাইভা দিতে আইছি।

মহিলাঃ কিন্তু সেটা কি করে সম্ভব? তুমি কি পারবে আমার তিনটা শর্ত পূরণ করতে?

ভিক্ষুকঃ জে পারমু। দেখেন আমার একটাও হাত নাই, তাই আমি আপনার গায়ে হাত তুলতে পারুম না। আমার একটাও পা নাই। আমি আপনারে রাইখা কুথাও যাইতে পারুম না।

মহিলাঃ আচ্ছা বুঝলাম, কিন্তু তিন নম্বর শর্ত টা? সেটা কি ভাবে পূরণ করবে?

ভিক্ষুকঃ ক্যান? আপনে কি আমার দেয়া কলিং বেল এর আওয়াজ শুনেন নাই?

 

১৮৮)

মেয়েদের একজন পুরুষ সঙ্গীর যে সব গুন থাকা প্রয়োজন:

১. এটা জরুরি যে পুরুষ সঙ্গীটি তোমাকে বাড়ির কাজে সাহায্য করে এবং কোন একটা জব করে।

২. এটা জরুরি যে পুরুষ সঙ্গীটি তোমাকে হাসাতে পারে।

৩. এটা জরুরি যে পুরুষ সঙ্গীটি নির্ভরযোগ্য এবং তোমাকে মিথ্যা বলে না।

৪. এটা জরুরি যে পুরুষ সঙ্গীটি তোমাকে ভালোবাসে এবং তোমাকে আদর করে।

৫. সবচেয়ে জরুরি হলো, এই চারজন ব্যক্তি যেন একজন আরেকজনকে না চেনে।

 

১৮৯)

এক অন্ধ লোক টেক্সাসে বেড়াতে গেছে। ট্রেনে সিটটাকে অনুভব করে পাশের যাত্রীকে সে বললো, ট্রেনের সিটটা তো নরমাল ট্রেনের চেয়ে বড়!

পাশেরজন জবাব দিলো, টেক্সাসে সবকিছুই বড়।

হোটেলে ওঠার পর লোকটি বারে গেলো কিছু পান করতে। অনুভব করে বুঝলো গ্লাসটা অনেক বড়। সে বললো, গ্লাস তো আসলেই বড়!

বারটেন্ডার জবাব দিলো, টেক্সাসে সবকিছুই বড়।

একটু পর লোকটির বাথরুমে যাবার প্রয়োজন হলো। বারটেন্ডারকে জিজ্ঞেস করতেই সে টয়লেটে যাবার দিকনির্দেশনা দিয়ে দিলো।

অন্ধ লোকটি কিছুদূর ঠিকমতো গিয়ে এক জায়গায় ভুল মোড় নিয়ে নিলো আর সোজা গিয়ে পড়লো হোটেলের সুইমিং পুলে। ভয়ে আতঙ্কে চেঁচিয়ে উঠলো সে, ‘কেউ ফ্লাশ কোরো না, ফ্লাশ কোরো না।’

 

১৯০)

এক ভদ্রলোকের স্ত্রী মারা গেলো। ভদ্রলোক খুব কাঁদছে। পাশের বাড়ির এক ভাবি এসে সান্ত্বনা দিচ্ছে – কাঁদবেন না ভাই। কেঁদে আর কী হবে। মানুষতো আর চিরদিন বেঁচে থাকে না।

ভদ্রলোক বললো: ভাবি, যখন আমার মা মারা গেলো, তখন আশেপাশের বয়স্ক মহিলা প্রতিবেশীরা এসে বললো, কেঁদো না, তোমার মা নেই তো কি হয়েছে আজ থেকে আমরাই তোমার মা।

যখন আমার বোন মারা গেলো, তখন আশেপাশের মধ্যবয়স্ক মহিলারা এসে সান্ত্বনা দিয়ে বললো, কেঁদো না, তোমার বোন নেই তো কি হয়েছে, আজ থেকে আমরা তোমার বোন।

কিন্তু আমার বৌ মারা যাবার পর কেউ তো ওরকম সান্ত্বনা দিতে এলো না।

 

১৯১)

ক্লাস সিক্সে অল্পবয়স্ক এক ম্যাডাম এসাইনমেন্ট দিচ্ছিলেন। এসাইনমেন্টের টাইটেলটা অনেক বড় হওয়ায় তিনি বোর্ডের অনেক উপর থেকে লেখা শুরু করলেন। এমন সময় পেছন থেকে এক ছেলের খিখি হাসি শোনা গেল। ফিরে তিনি দেখলেন রকিব হাসছে।

– তুমি কেন হাসলে?

– ম্যাডাম, আপনার অন্তর্বাস দেখা যাচ্ছিলো তাই।

– ক্লাস থেকে বেরিয়ে যাও। আগামী ৩ দিন আমার সামনে আসবে না।

রকিব বেরিয়ে গেলো মাথা নিচু করে।

ম্যাডাম আবার লেখা শুরু করলেন। এবার কালাম এর কণ্ঠে আরো জোরে হাসি শোনা গেলো। ম্যাডাম রেগেমেগে জানতে চাইলেন, কেন হাসলে?

– ম্যাডাম আপনার অন্তর্বাস পুরোটাই দেখা যাচ্ছিলো তাই।

– ক্লাস থেকে বেরিয়ে যাও। আগামী ৩ সপ্তাহ আমার সামনে আসবে না।

কালাম মাথা নিচু করে ক্লাস থেকে বেরিয়ে গেলো।

ম্যাডাম এবার লিখতে গিয়ে হাত থেকে মার্কার পড়ে গেলো। সেটা তুলতেই এক ছাত্রের হাসি শুনতে পেলেন। ফিরে তিনি দেখলেন বল্টু মিয়া ক্লাস থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে।

– তুমি কোথাও যাচ্ছো?

– ম্যাডাম, আমি যা দেখেছি তা যদি বলি তাহলে বাকি জীবন আমার আর ক্লাস করা হবে বলে মনে হয় না।

 

১৯২)

এক সিলেটি ভদ্রলোকের সাথে আরেক সিলেটি ভদ্রলোকের দেখা।

১ম জন: এবা গতবছর যে মারা গেছিলাইন, আফনে না আফনের বাই?

২য় জন: আমার বাই।

১ম জন: ইয়ার লেগাইতো খই। তেনারে দেখি, আফনারে দেখিনা খ্যান? ক্যামবাই মারা গেছিলাইন?

২য় জন: সাফে খামরাইছে।

১ম জন: খোনো?

২য় জন: খফালে।

১ম জন : আল্লায় ভাচাইছে। চক্ষু দুইটা ভাইচা গেছে। খনোৎ কবর দিছাইন?

২য় জন: ভাড়ির পেছন, ফুকুর ফাড়ে, গাছতলায়।

১ম জন: বালা খরচাইন, ছায়া ফাইবো, টান্ডা লাগবো। আল্লায় তেনারে বাঁচায়া রাখুক।

 

১৯৩)

এক সদ্য বিবাহিত দম্পতি হাওড়া ষ্টেশান থেকে দক্ষিনভারতগামী একটি ট্রেনে উঠেছে। উদ্দেশ্য মধুচন্দ্রিমা। দুজনের চোখে-মুখেই খুশীর ঝিলিক। ট্রেন চলতে শুরু করলো। এমনিতেই এ সি টু টায়ার্স কামরা, তার উপর প্যাসেঞ্জার্সও অনেক কম। স্বামী-স্ত্রী দুজনে সন্ধ্যে নাগাদ রাতের খাবার খেয়ে নিয়ে নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লো।

স্বামী: জান্, কালকে বাজারের ব্যাগটা …রাখতে গিয়ে হাতের কব্জীটায় একটা জোর মচকা লেগেছে, খুব ব্যাথা করছে!

স্ত্রী পাশেই বসা ছিল, স্বামীর হাতটা দু-হাতে আদর করে নিজের মুখের কাছে নিয়ে এসে চকাস করে একটা চুমু খেয়ে বললো এই নাও পেইন কীলার!

মেঘ না চাইতে জল পেয়ে স্বামী উত্তেজিত হয়ে পড়লো। মনে মনে একটা ফন্দি এঁটে বললো না না! ব্যাথাটা তো এখন আর কব্জীতে হচ্ছে না। এ কাঁধে হচ্ছে।

যেমনটা হবার ছিল তেমনই হল স্ত্রী স্বামীর আরো ঘনিষ্ঠ হয়ে বসে কাঁধে একটা চকাস, চুমু জি, এই নিন আপনার পেইন কীলার।

এরপর স্বামী নিজের ঠোঁট-এর দিকে ইঙ্গিত করতেই স্ত্রী ব্যাথা কমাতে তৎপর হয়ে উঠলো…..

এখন হয়েছে কি, আপার বার্থ-এ এক দাদু অনেক্ষণ ধরে যন্ত্রনায় ছটফট করছিলো, ঘুমোতে পারছিলো না। নীচে বারবার পেইন কীলার পেইন কীলার বলা হচ্ছে শুনে কাতর হয়ে বললেন মামনি, আমার পাইলস এর যন্ত্রনাটা বেড়েছে, একটা পেইন কীলার পাওয়া যাবে, প্লিজ্?

 

১৯৪)

একটি আন্তর্মহাদেশীয় ট্রেনে এক ব্যক্তি আর এক মহিলা একই কম্পার্টমেন্টে শোওয়ার জায়গা পেয়েছেন। প্রথমে কিছুক্ষণ উসখুস করলেও দুজনেই খুব ক্লান্ত থাকায় অল্পক্ষণের মধ্যেই তারা ঘুমিয়ে পড়লেন। ভদ্রলোক উপরের বার্থে আর ভদ্রমহিলা নীচের বার্থে।

মাঝরাতে হঠাৎ ভদ্রলোকের ঘুম ভাঙল। তিনি একটু ইতস্তত করে ভদ্রমহিলাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে বললেন দেখুন কিছু মনে করবেন না, “আমার এত ঠান্ডা লাগছে, আপনি কি দয়া করে আমার সুটকেস থেকে একটা কম্বল বার করে আমায় দেবেন?”

ভদ্রমহিলা উত্তরে বললেন “আমার আরো একটা ভালো আইডিয়া আছে। আজকের রাতের জন্য মনে করি না আমরা স্বামী আর স্ত্রী?”

ভদ্রলোক খুব অবাক আর মনে মনে খুব খুশি হয়ে বললেন “ওয়াও!!! দারুণ আইডিয়া!! তাহলে এখন আমার কি করা উচিত?”

“উঠে নিজের কম্বল নিজে নিয়া নাও, আর প্যানপ্যান কইরা আমার মাথা খারাপ কইর না তো!”

 

১৯৫)

টম আর জন, ২ বন্ধুর দেখা। ২ জনেই মোটা।

টমঃ কিরে দোস্ত ১ দিনেই তুই অমন স্লিম হলি কি করে?

জনঃ একটা স্লিমিং সেনটারে গিয়েছিলাম, তারা বলল, ১ ঘণ্টায় আমরা আপনার ৩ কে জি ওজন কমিয়ে দেব। তার জন্য আপনাকে পে করতে হবে ১০০ ডলার।

তো আমি পে করার পর তারা আমাকে উচু প্রাচির ঘেরা এক বাগানের মধ্যের এক ঘরে নিয়ে গেল। ঘরের দরজা খুলে ভিতরে গিয়ে দেখি অপূর্ব এক সুন্দরী খাটে বসে আছে । সুন্দরী আমাকে বলল ,তুমি যদি আমাকে দৌড়িয়ে ধরতে পার তাহলে আজ রাতের জন্য আমি তোমার। এই বলেই দিল দৌড়।

আমিও ছুটলাম তার পিছু পিছু। দৌড়াতে, দৌড়াতে ‌দৌড়াতে, কিছুতেই ধরতে পারলাম না।

একজন এসে বলল আপনার ১ ঘণ্টা সময় শেষ। আসুন ওয়েট মাপি।

দেখা গেল সত্যি আমার ওজন ৩ কে জি কমে গেছে ।

তবে আপসোস, মেয়েটাকে ধরতে পারলাম না।

জনের কাছ থেকে ঠিকানা নিয়ে পরের দিন ওই স্লিমিং সেন্টারে টম গিয়ে হাজির। এবং, ১০০ ডলারের প্যাকেজটি নিতে চাইলো ।

ম্যানেজার টমকে বলল, দেখুন আমাদের নতুন ১ টা প্যাকেজ এসেছে, ১ ঘণ্টায় ওজন কমবে ৬ কেজি। তার জন্য আপনাকে পে করতে হবে ২০০ ডলার।

টম ভাবল এই প্যাকেজ এর মেয়েটা নিশ্চয় আরও সুন্দরী হবে, সে ২০০ ডলার পে করল।

তাকে নিয়ে গাইড বাগানের দিকে রওয়ানা হল। টম ভাবছিল যেভাবেই হোক মেয়েটাকে আমি ধরে ফেলবোই।

নির্দিষ্ট ঘর দেখিয়ে গাইড চলে গেল।

টম দরজা ঠেলে দেখে সুন্দরী মেয়ের পরিবর্তে খাটে বসে আছে এক বিকট দর্শন নিগ্রো।

নিগ্রো বলল, যদি আমি তোমাকে দৌড়িয়ে ধরতে পারি তা হলে তোমাকে আমার সাথে আজকের রাত কাটাতে হবে এই ঘরে আর আমাকে সন্তুষ্ট করতে হবে।

 

১৯৬)

ছোট্ট জনি আর জেনি দু’জনের বয়সই ১০ বছর, কিন্তু তারা জানে তারা একে অপরকে ভালোবাসে। একদিন তারা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিলো। জনি জেনির বাবার কাছে গেলো বিয়ের কথা বলতে।

সাহসের সাথে জনি জেনির বাবার কাছে গিয়ে বললো, মি. স্মিথ, আমি আর জেনি পরস্পরকে ভালোবাসি। এজন্য আপনার কাছে জেনিকে বিয়ে করার অনুমতি চাইতে এসেছি।

মি. স্মিথ বাচ্চার মুখে এমন কথা শুনে মজা পেলেন। বললেন, জনি, তোমার বয়স তো মাত্র ১০ বছর। তোমরা দু’জন কোথায় থাকবে?

জনি কোন রকম চিন্তা না করেই বললো, জেনির রুমে থাকবো। আমার রুমের চেয়ে ওরটা বড়। দু’জনের বেশ জায়গা হয়ে যাবে।

মি. স্মিথ তার কথায় আরো মজা পেলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি তো অনেক ছোট। কোন কাজই তো করতে পারবে না। তাহলে জেনিকে খাওয়াবে কি?

জনি কোনরকম দ্বিধা না করে উত্তর দিলো, আমি প্রতি সপ্তাহে ১০ ডলার হাতখরচ পাই, জেনিও ৫ ডলার পায়। মাসে ৬০ ডলারে দু’জনের বেশ ভালোভাবেই চলে যাবে।

এবার মি. স্মিথ একটু অবাক হলেন। কারণ জনি সব উত্তর আগে থেকেই ভেবে রেখেছে। তাই তিনি এবার এমন প্রশ্ন করলেন যেটার উত্তর তৈরি করে রাখা জনির পক্ষে সম্ভব না।

মি. স্মিথ জানতে চাইলেন, তুমি তো সব বিষয়েই চিন্তা করে রেখেছো। আরেকটা উত্তর দাও তো। যদি তোমাদের ঘরে কোন বাচ্চা জন্ম নেয়, তোমরা তখন কি করবে?

জনি বললো, এখন পর্যন্ত আমরা ভাগ্যবান যে এমন কিছুই হয়নি…

 

১৯৭)

ছোট্ট বল্টু যোগ করতে শিখেছে। একদিন তার ছোট চাচু তাদের বাসায় বেড়াতে এলে বল্টু তার চাচুকে বলে, চাচু আমি না যোগ অংক করতে পারি। তুমি আমাকে ধরো তো?

: তাই নাকি ! বেশ ভাল। বলো তো দুই আর তিনে কত হয়?

বল্টু দুই হাতের আঙ্গুল গুনে বলল পাঁচ।

: আরে তুমি তো সত্যিই যোগ করতে শিখে গেছ। ভেরি গুড। কিন্তু চাচ্চু ওভাবে হাত বের করে গুনলে তো তোমার টিচার তোমাকে বকা দেবেন। এক কাজ কর তুমি তোমার দুই হাত প্যান্টের পকেটে ঢুকাও। তারপর বলো, চারে আর চারে কত হয়?

এবার বল্টু পকেটে দুই হাত নেড়েচেড়ে বলল, “নয়”।

 

১৯৮)

এক মহিলা তার ডাক্তার বন্ধুর সাথে প্রেম চালাচ্ছিল, কিন্তু বেশিদিন হওয়ার আগেই সে গর্ভবতী হয়ে গেল । তো, নয় মাসের সময় ডেলিভারির জন্য সে যখন হাসপাতালে ভর্তি হল অপারেশনের জন্য , তখনি এক পাদ্রিও তার প্রস্টেট (Prostate) অপারেশনের জন্য ভর্তি হলো। ডাক্তার তখন তার বান্ধবীকে বলল , ”আমরা পাদ্রীর অপারেশনের পর বলব যে এই বাচ্চাটা আপনার !! ‘

বান্ধবী বলল , ”কি বল এইসব , সে কি বিশ্বাস করবে ?? ”

ডাক্তার বলল , ”করতেই হবে, কারণ তাকে বলব , এটা একটা মিরাকল”

তো, নির্দিষ্ট দিনে পাদ্রীর প্রস্টেট অপারেশন হয়ে গেল … তার পরই বান্ধবীর ডেলিভারিও হলো, ডাক্তার বাচ্চাটা পাদ্রীর কাছে নিয়ে গিয়ে বলল , ”ফাদার , এই নিন আপনার বাচ্চা ”

পাদ্রী তো খুব আশ্চর্য হলেন, বললেন ”এ কিভাবে সম্ভব ?? ”

ডাক্তার বলল, ” ফাদার , আশ্চর্য আমরাও হয়েছি , এটা একটা মিরাকল … খুব কমই ঘটে ”

পাদ্রী আর কিছু বললেন না।

প্রায় ১৫ বছর হয়ে গিয়েছে এর মাঝেই , বাচ্চাটাও বড় হয়ে গেছে . একদিন পাদ্রী বাচ্চাটাকে ডাকলেন , বললেন ”তোমাকে কিছু গোপনীয় কথা বলার আছে …আমি আসলে তোমার বাবা নই ” !!

বাচ্চাটা খুব অবাক হয়ে বলল, ”মানে? তুমি আমার বাবা না ??? ”

পাদ্রী গম্ভীর স্বরে বললেন , “না। আমি তোমার মা , আর্চবিশপ তোমার আসল বাবা।

 

১৯৯)

এক দেশ এ এক রাজা ছিল। তার ছিল বিশাল বড় রাজ্য। তার হাতিশালে হাতি, ঘোড়াশালে ঘোড়া, ধন-সম্পদ কোন কিছুরই অভাব ছিল না। কিন্তু এত কিছুর পরেও রাজার মনে শান্তি ছিল না। তার কারন রাজ্যের জনসংখ্যা স্বল্পতা। তো রাজা উজির-নাজির সবাইকে খবর দিলেন জনসংখ্যা স্বল্পতার কারন বের করতে। তারা অনেক বিচার-বিশ্লেষণ করে রাজাকে বললেন এর কারন হচ্ছে রাজ্যের লোকেরা সেক্সের নিয়ম-কানুন জানে না এবং এটাতে তাদের প্রচন্ড অনিহা। রাজা পড়লেন আরেক দুঃশ্চিন্তায়, এখন রাজ্যের লোকদের তো আর ঢাক-ডোল পিটিয়ে সেক্স শেখানো যায় না। শেষে অনেক ভেবে-চিন্তে একটা উপায় বের করলেন যে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে উলঙ্গ মেয়ের পুতুল বসানো হবে, যা দেখতে আসল মেয়ের মত। তো মেয়ে পুতুলটির সামনে দিয়ে যদি কেউ সেক্স করে পুতুলের পিছন দিয়ে চকলেট বের হবে আর পিছন দিয়ে কেউ সেক্স করলে সামনে দিয়ে আইসক্রীম বের হবে। তো রাজ্যের মানুষ চকলেট আর আইসক্রীমের লোভে পুতুলের সাথে সেক্স করতে করতে নিয়ম শিখে গেল।

কিছুদিন পরে ঘটল সমস্যাটা। লোকে এখন আর পুতুলের সাথে সেক্স করে মজা পায় না। তারা এখন সত্যিকার মেয়ে চায়। সেরকমই দুজন সৈনিক একটা মেয়েকে ধরার জন্য তার পিছন পিছন ছুটতে লাগল। একসময় মেয়েটি উপায় না দেখে জামাকাপড় খুলে মোড়ের মেয়ের পুতুলের পাশে দাড়িয়ে গেল। তো সৈনিক দুজন মেয়েটাকে আশেপাশে খুঁজে না পেয়ে ১ম সৈনিক ২য় সৈনিককে বলে, মেয়েটাকে তো পেলাম না, দৌড়াদৌড়ি করে পিপাসাও লেগেছে, আয় আইসক্রীম খেয়ে চলে যাই। তো তারা গিয়ে ঐ মেয়েটাকেই পুতুল মনে করে পিছন থেকে সেক্স করতে লাগল।

আইসক্রীম এর জন্য অপেক্ষা করতে করতে ২য় সৈনিক ১ম সৈনিককে বলল, কি ব্যপার বলত। সামনে দিয়ে আইসক্রিম বের না হয়ে এসব কি বেড় হচ্ছে?

২য় সৈনিক, গাধা এটাও বুঝস নাই? গরমে আইসক্রীম গলে গেছে।

 

২০০)

একজন ব্যাক্তি সেক্স এ ব্যাস্ত, সাথে পরে আছেন প্রোটেকশন। বহুক্ষণ পরে শুক্রাণুরা হাজির হল। হাজির হয়েই মহা বিরক্ত।

শুক্রাণুদের নেতা বলল, “দেখো বন্ধুরা, আমাদের বস কিভাবে মজা পাচ্ছে, আর আমাদের বেলুনে আটকে রেখেছে, আমাদের ডিম্বানুর সাথে মিলিত হতে দিচ্ছেনা, এইটা কি ঠিক? এসো আমরাও ডিম্বানুর কাছে যাই।”

সব শুক্রাণু চিৎকার করে বলল, “চল যাই, চল যাই!”

তারা সবাই মিলে কন্ডমের গায়ে জোরে ধাক্কা দিতে শুরু করলো, কয়েকবার ধাক্কা দিতেই, ফুটো হয়ে গেলো, নেতা চিৎকার করে বলল, “আগাও! আগাও!”

সবাই হুড়োহুড়ি করে এগুতে লাগল।

হঠাৎ দেখলো, তাদের নেতা উলটো পালাচ্ছে বলছে, “পিছাও, পিছাও!”

সবাই শুধালো, “কেনো, কেনো?”

নেতা বলল, “সামনে হাগু, সামনে হাগু!!!”

০০০০০০০

বাংলা কৌতুক সমগ্রঃ ০ থেকে ১০০(১৮+)

বাংলা কৌতুক সমগ্রঃ ২০১ থেকে ৩৩০(১৮+)

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা দুঃসাহসিক রহস্য ও অপরাধ সৃজনশীল প্রকাশনা

প্রেমে দ্রোহে গর্জে ওঠা সৈনিক আজ নিথর নীরব

প্রেমে দ্রোহে গর্জে ওঠা সৈনিক আজ নিথর নীরব
——————————- ডঃ রমিত আজাদ

প্রেমে দ্রোহে গর্জে ওঠা সৈনিক আজ নিথর নীরব,
ঘুমাও সৈনিক, ঘুমাও নীরবে, ঘুমাও,
আমি জেগে রব অবিরত নির্ঘুম,
আর অভিশাপ দেব ঐ সব পশুদের,
যাদের গভীর ষড়যন্ত্র
অকালে ঝরিয়েছে তোমাদের প্রাণ
মাথার খুলিতে মদ পান করেছে, যেসব নষ্ট মাতাল পশু,
হন্তারক কো্ন্‌ নতুন মীর্জাফর।

তোমার নির্ভীক নিশঙ্ক কন্ঠ আজ রুদ্ধ কেন সৈনিক?
তোমাদের জীবন্ত চোখে অনেক স্বপ্ন ছিলো,
তোমাদের অন্তিম বাসনাগুলো এক এক করে সাজালে,
বসন্তের ফুল হয়ে ফুটবে।
এমন বসন্তের আগুন রাঙা রঙ, মানুষের রক্তে রঙিন হলো!
আর মানুষের আলখেল্লার পিছনে দাঁড়িয়ে উল্লাস করেছে
হিংস্র পশুর রূপ, ভয়াবহ এক ষড়যন্ত্রের কোপানলে,
একি ষড়যন্ত্র না অঘোষিত কোন যুদ্ধ?

যে রমনী অলস অবসরে তোমার বাহুডোরে বন্দী হয়ে সুখ খুঁজে পেত,
সে আজ কলঙ্কের টিপ কপালে ধারন করে শিউরে উঠেছে
প্রিয় রমণীর তপ্তশ্বাসের উষ্ণতা আর নেই,
তোমার জন্য কাঁদে মেঘবতী নারী,
বৃষ্টি ঝরে ডাগর কালো চোখে!

হাহাকার করে উঠেছে,
ফুটপাতবাসী শীতার্ত কিশোর,
বয়সের ভারে ন্যুজ হয়ে যাওয়া বৃদ্ধ রহীম,
বুড়িগঙ্গার মাঝি ইয়াকুব মোল্লা,
মাদ্রাসার পরহেজগার শিক্ষক আবদুল করিম
শ্রমে ও ঘামে ঠেলে নেয়া জীবন,
বিপন্ন, বিদ্ধস্ত, জননী ও জন্মভূমি,
পৃথিবীর সব অস্ত্রাগার নিশ্চুপ রইলো,
সৈনিকের দক্ষ হাতে, কেবলই ছিলো শূণ্যতা,
হে কাপুরুষ, তুই নিরস্ত্রের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরলি!

এক অন্তর্ভেদী চিৎকারে
আকাশ বাতাস প্রকম্পিত করে বলতে চাই,
তুমি কি আর জাগবে না সৈনিক?
দেখনা চেষ্টা করে,
যদি লিখতে পারো আরেকটি নির্মম কবিতা,
শিরায় শিরায় ধমনিতে ধমনিতে,
প্রবাহিত লাল রক্তে আর একবার জেগে উঠুক দ্রোহ!

আমার কন্ঠস্বর রুদ্ধ নয়,
কেবল চেপে ধরে আছে কে যেন!
দেখবি একদিন প্রবল শক্তিতে
সেই হাত ছাড়িয়ে নেব,
যদি শক্তি থাকে কারো
সেদিন আমাকে ফেরাস্‌।

(রক্তাক্ত বিডিআর বিদ্রোহের (পিলখানা হত্যাকাণ্ড) চতুর্থ বার্ষিকী আজ ২৫ ফেব্রুয়ারী, সেই নির্মম হত্যাকান্ডে নিহত সকল শহীদদের আমার এই কবিতাটি উৎসর্গ করলাম)

Categories
অনলাইন প্রকাশনা আনিসুল হক খেলাধুলা জীবনী ও স্মৃতিকথা বিনোদন সৃজনশীল প্রকাশনা

ক-য়ে ক্রিকেট খ-য়ে খেলা

---আনিসুল হক

 

স্ত্রী সন্তানসম্ভবা। হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। স্বামী আছেন আরেক শহরে। তিনি হাসপাতালে ফোন করলেন। ‘আমি ৭ নম্বর কেবিনের পেসেন্টের হাজব্যান্ড। কী অবস্থা বলেন তো এখন?’

যিনি ফোন ধরেছেন তিনি তখন বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলা দেখছেন টেলিভিশনে। শুধু তিনি একা দেখছেন তা-ই নয়, হাসপাতালের আরও অনেক দর্শনার্থী, কর্মচারীও ভিড় করে টেলিভিশন দেখছেন। তাই তিনি অবস্থার বর্ণনা দিলেন, ‘খুব ভালো অবস্থা। আমরা দুজনকে আউট করেছি। এরই মধ্যে একজন ডাক। লাঞ্চের আগেই আরেকজনকে আউট করা যাবে, চিন্তা করবেন না।’

স্বামী বেচারা ডাকের মানে যদি হাঁস বুঝে থাকেন, তাহলে তাঁর জ্ঞান হারানো ছাড়া আর কী-ই বা করার থাকবে?

এবার শুনুন একটা সত্যিকারের হাসপাতালের গল্প। বাংলাদেশ-ভারত খেলা হচ্ছে। ঢাকার একটা বড় বেসরকারি হাসপাতালের লবিতে বড় একটা টেলিভিশন স্থাপন করা হয়েছে। রাত বাড়ছে। এই লবিতে বসে যাঁরা খেলা দেখছেন তাঁরা সবাই গুরুতর রোগীদের আত্মীয়স্বজন। কারও বাবাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে, কারও ছেলের অ্যাপেন্ডিসাইটিস অপারেশন হয়েছে, কারও বা স্বামীর ক্যানসার। এঁদের সবারই মন খারাপ করার জন্য বাস্তব পরিস্থিতি আর কারণ রয়েছে। কিন্তু সেই বাস্তবতা ভুলে তাঁরা হাততালি দিয়ে উঠছেন। একটু আগেও তাঁদের মন বড়ো খারাপ ছিল। ভারত ৩৭০ করেছে। রানটা ডিঙোনো প্রায় অসম্ভব। কিন্তু ব্যাট করতে নেমে ইমরুল কায়েস দারুণ পেটাচ্ছেন। রানের গড় খুব ভালো। একটা করে চার হচ্ছে আর তাঁরা সোল্লাসে চিৎকার করে উঠছেন। একটু পরে ইমরুল কায়েস আউট হয়ে গেলেন। খেলার গতি থিতিয়ে এল। সাকিব আল হাসান আউট হওয়ার পরে বোঝা গেল, আর আশা নেই। এই দর্শকদের মধ্যে নেমে এল চরম হতাশা। ‘আমরা আপনার বাবার ভেন্টিলেটর খুলে নিতে যাচ্ছি,’ ডাক্তার বললেন এক দর্শনার্থী তরুণকে। বাবার যে বাঁচার আশা আর নেই, ছেলে সেটা আগে থেকেই জানে। নেই, তবুও তো এখনো আছেন। একটু পরে বাবা থাকবেন না। এরপরে বলতে হবে, ছিলেন। বাবা অতীতকাল হয়ে যাবেন। ‘ভেন্টিলেটর খুলে নিতে যাচ্ছি’—এ কথা শোনার পরও তরুণটির আফসোস তার বাবার জন্য নয়, বাংলাদেশের আরেকটা খেলোয়াড়ের আউট হওয়া নিয়ে। ইস, নাইম যদি থাকত! ও তো ছক্কা মারতে জানে। ওর নামই না ছক্কা-নাইম!

সত্যিকারের এই গল্প শুনে আমার নিজের চোখটাও ছলছল করে ওঠে। এটা কি ক্রিকেটের জন্য আমাদের ভালোবাসা, নাকি দেশের জন্য?

কেমন অদ্ভুত না ব্যাপারটা! ক্রিকেট তো একটা খেলাই। খেলায় জয়-পরাজয় থাকবে। সেটা বড় নয়, আসল লক্ষ্য হলো আনন্দ। কিন্তু সেই খেলা আমাদের কীভাবে এ রকম ঘোরতর নিমজ্জনের মধ্যে নিয়ে যায়! আপন-পর ভুলিয়ে দেয়। প্রিয়জনের মৃত্যুর ব্যথা ভুলিয়ে দেয় প্রিয় দলের সাফল্য বা ব্যর্থতা। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল না হয় নিজের দেশের দল, আমাদের বহু ব্যর্থতার দেশে একটুখানি সাফল্যের আশ্বাস, জীবনের নানা মাঠে মার খেতে খেতে একটুখানি বিজয়ের সম্ভাবনা, কিন্তু বিশ্বকাপ ফুটবলে যে আমরা মেতে উঠি ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনাকে নিয়ে, প্রিয় দল হেরে গেলে এই দেশে অন্তত চার-পাঁচজন মারা যান হূদ্যন্ত্র বন্ধ হয়ে, তার কী মানে?

মনটা একটু আর্দ্র হয়ে উঠল কি? আচ্ছা আচ্ছা, এবার তাহলে একটা কৌতুক। ২০০৭ সাল। বাংলাদেশের সঙ্গে হেরে গেছে শিরোপা-প্রত্যাশী ভারত। তারপর শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে বিশ্বকাপ থেকেই। ধোনি আর বাইরে বেরোতে পারছেন না। তিনি একটা পারলারে গিয়ে মাথায় লম্বা চুল লাগালেন। কপালে টিপ, ঠোঁটে রঞ্জিনী বুলিয়ে, ওড়না দিয়ে মাথা ঢেকে মেয়ে সেজে তিনি উঠেছেন ট্রেনে। এ সময় তাঁর পাশে আরেকজন তরুণী এসে বসল। সে তাঁকে ফিসফিসিয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘তুমি কি ধোনি?’ ধোনি আঁতকে উঠলেন, ‘কী করে টের পেলেন?’

‘আরে, টের পাব না? আমি তো শেবাগ।’

ক্রিকেট নিয়ে বিখ্যাত সাহিত্যিকেরা কী কী লিখেছেন? এ কথা বললে আমার বন্ধু ক্রীড়ালেখক উৎপল শুভ্র নিশ্চয়ই আমাকে মারতে আসবেন। বলবেন, ক্রিকেট নিজেই সাহিত্য, সাহিত্যিকদের লেখার অপেক্ষায় ক্রিকেট বসে নেই! কথা সত্য, ক্রিকেট নিয়ে লেখা হয়েছে লাখ লাখ পাতা, সেসব ক্রিকেট-সাহিত্য বলেই গণ্য। কাজেই ক্রিকেট-লেখকেরা নিজেরাই সাহিত্যিক। কথাটা যে সত্য, তা তো শুভ্রর নিজের লেখা পড়লেই বোঝা যায়। রবীন্দ্রনাথ ক্রিকেট নিয়ে কি কিছু লিখেছিলেন? শুভ্র বলেছেন, বল নিয়ে রবীন্দ্রনাথের কিছু উক্তি পাওয়া যায়, যেমন, ‘বল দাও মোরে বল দাও।’ কিন্তু সেটা ফুটবল না ক্রিকেট নিয়ে সে বিষয়ে পণ্ডিতেরা এখনো স্থিরমত হতে পারেননি। কিন্তু বাঙালির জীবনে রবীন্দ্রনাথ ছাড়া কি কিছু কল্পনা করা যায়? ২০১১ সালের বিশ্বকাপ শুরু হয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত দিয়ে। আমরা প্রাণভরে গেয়েছি, ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।’ ফলে এখানেও রবীন্দ্রনাথ। তবে বাংলা ক্রিকেট-সাহিত্য কিংবা ক্রিকেট-সাংবাদিকতায় রবীন্দ্রনাথের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে একটা কাহিনি অন্তত পাওয়া যাচ্ছে ইন্টারনেটে। বরিয়া মজুমদার নামে একজন লিখেছেন আনন্দবাজার পত্রিকায় ক্রিকেট-সাংবাদিকতা শুরুর দিনগুলোর কথা। বাংলা ক্রিকেট-সাংবাদিকতার পথিকৃৎ ব্রজরঞ্জন রায় আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদকদের রাজি করালেন ক্রিকেটের জন্য স্থান বরাদ্দ করতে। ব্রজরঞ্জন লিখবেন বিনিপয়সায়, বলাইবাহুল্য। পত্রিকার উদ্যোক্তারা রাজি হলেন। কিন্তু ব্রজরঞ্জন পড়লেন মুশকিলে। এই ক্রিকেটীয় পরিভাষাগুলোর তর্জমা কী হবে? উপায়ান্তর না দেখে তিনি দেখা করতে গেলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে। রবীন্দ্রনাথ নাকি তাঁকে প্রচণ্ড উৎসাহ দিয়েছিলেন, অভয় দিয়েছিলেন। ‘তুমি বাংলা করতে আরম্ভ করে দাও, পরিভাষা আবিষ্কার করতে থাকো, আজকে তুমি যা লিখতে শুরু করবে, একদিন তা-ই প্রমিত বলে চালু হয়ে যাবে।’ রবীন্দ্রনাথ এই কনসালটেন্সির জন্য কোনো পয়সা নেননি, বরিয়া মজুমদার আমাদের জানাচ্ছেন। রবীন্দ্রনাথের এই আশ্বাসের পরও যে কেন ব্রজরঞ্জন আমাদের এলবিডব্লিউর একটা বাংলা প্রতিশব্দ উপহার দিলেন না! হয়তো সেটা হতে পারত ‘উপূপা’ (উইকেটের পূর্বেই পা)। কট বিহাইন্ডের বাংলা হতে পারত ‘পাছে ধরা’ বা ‘পিছে ধরা’। স্লিপের বাংলা কি হতে পারত পিচ্ছিল বা পিছলা? কিন্তু তা হয়নি, অগত্যা আমাদের ইংরেজি দিয়েই চালাতে হচ্ছে।

বাংলা ভাষার হাল জমানার লেখক-কবিরা ক্রিকেট নিয়ে প্রচুর লিখছেন। সম্ভবত লিখতে বাধ্য হচ্ছেন। শামসুর রাহমান ক্রিকেটানুরাগী ছিলেন, নির্মলেন্দু গুণ তো এখন প্রায় পেশাদার ক্রিকেট (ও ফুটবল) লেখক। ওই বাংলায় শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় প্রমুখের ক্রিকেট-লেখার খ্যাতি আছে।

অন্তত একজন নোবেল বিজয়ী লেখকের ক্রিকেটপ্রীতি বহুল প্রচারিত। তিনি হ্যারল্ড পিন্টার (১৯৩০-২০০৮)। নাট্যকার, চিত্রনাট্যকার, নির্দেশক, অভিনেতা, কবি। ব্রিটিশ নাটকের সবচেয়ে অগ্রগণ্য প্রতিনিধি হিসেবে ২০০৫ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তিনি ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেট খেলেছেন, গেইটি ক্রিকেট ক্লাবের সভাপতি ছিলেন, ছিলেন ইয়র্কশায়ার ক্রিকেট ক্লাবের আজীবন সমর্থক। তিনি বলেছিলেন, ‘ক্রিকেট আমার জীবনের প্রধান অবসেশনগুলোর একটা। আমি সারাক্ষণই ক্রিকেট খেলি, দেখি, পড়ি।’ ক্রিকেট নিয়ে তাঁর সবচেয়ে মূল্যবান উক্তিটা হলো, ‘আমি এ রকম ভাবতে চাই যে ঈশ্বর এই পৃথিবীতে যা কিছু সৃজন করেছেন, তার মধ্যে সবচেয়ে মহান সৃষ্টি হলো ক্রিকেট। এটা সেক্সের চেয়ে মহত্তর, যদিও সেক্স জিনিসটাও কম ভালো নয়।’ কথাটা ভাবার মতো। একই কথা আমিও বলতে পারতাম, কিন্তু সেটা ক্রিকেট নিয়ে নয়, ফুটবল নিয়ে। ফুটবলের সঙ্গে ওই ব্যাপারটার বেশি মিল, কিন্তু ক্রিকেটের সঙ্গে যদি তাকে তুলনা করতে হয়, তাহলে বলতে হয়, তাতে কেবল শরীরী আশ্লেষ জড়িত নয়, আছে হূদয়পুরের জটিলতাও, ফুটবল হয়তো নিছকই কামনার ব্যাপার, ক্রিকেট হয়তো প্রেমপূর্ণ কামনা। নাটকের লোক পিন্টার বলেছেন, ‘ক্রিকেট আর নাটকের মধ্যে অনেক মিল। যখন কেউ স্লিপে একটা ক্যাচ মিস করে, যখন আম্পায়ার একটা এলবিডব্লিউর আবেদন নাকচ করে দেন, তখন যে উত্তেজনাটা তৈরি হয় সেটা ঠিক যেন মঞ্চনাটকেরই উত্তেজনা।’ পিন্টারের কাছে দুই প্লেই এক, খেলা অর্থে প্লে আর নাটক অর্থে প্লে। তাই তো, ব্যাপারটা তো আগে খেয়াল করিনি। আমিও তো তাহলে খেলোয়াড়, কারণ আমিও তো প্লে লিখেছি। সেটা ছোটবেলা থেকেই। কিন্তু ছোটবেলায় ক্রিকেট খেলিনি। টেনিস বল দিয়ে ছয় চারা বা আমরা বলতাম কিংকং, সেটা খেলেছি প্রচুর। আর খেলতাম ফুটবল। এর কারণটা অর্থনৈতিক। ৩৫ টাকা দিয়ে একটা ৩ নম্বর ফুটবলই আমাদের পাড়ার ছেলেদের পক্ষে কেনা বড় কঠিন ছিল। ফুটবল তো জাম্বুরা দিয়েও খেলা যায়, কচুরিপানার শুকনো বৃন্ত দিয়ে পোঁটলা বানালেও খুব ভালো ফুটবল হতো আমাদের সময়। কিন্তু ক্রিকেট খেলতে আয়োজনটা করতে হতো বেশি। কাঠের তক্তা কাটো, উইকেট বানাও, পিচ বানাও। না, আমরা ক্রিকেট খেলিনি তেমন। তখন জানতাম, রাজার খেলা ক্রিকেট, খেলার রাজা ক্রিকেট। আমাদের ছোটবেলার খেলার মাঠের সঙ্গীসাথিদের কেউই তো রাজার ছেলে ছিল না। সেই ক্রিকেট কি এখন প্রজার খেলা হয়ে উঠেছে? বাংলাদেশে ক্রিকেট বিশ্বকাপ নিয়ে পথে পথে মানুষের হুল্লোড় দেখে ক্রিকইনফো লিখেছে, এটা হলো পিপলস ওয়ার্ল্ড কাপ। মানুষের বিশ্বকাপ। লিখেছে, বাংলাদেশ বিশ্বকাপকে তার আত্মা ফিরিয়ে দিয়েছে। শুনতে ভালোই লাগছে। ক্রিকেট এই উপমহাদেশে এনেছিল ব্রিটিশ প্রভুরা, প্রথমে তারা এটা খেলত একঘেঁয়েমি কাটাতে, তারপর— উত্তর-ঔপনিবেশিক তাত্ত্বিকরা যেমন বলছেন—তারা খেলত, ন্যাটিভদের আলাদা হিসেবে চিহ্নিত করার সুবিধার জন্যে, তারপর তারা স্থানীয়দেরকেও খেলাটা শেখাতে লাগল, তখন উদ্দেশ্যটা ছিল ‘বাদামি সাহেব’ তৈরি করা। এখন উত্তর-ঔপনিবেশিক কালে, সাহেবদের ‘জেন্টলমেন’স গেম্স’-কে বস্তিতে নামিয়ে এনেছে প্রাক্তন অনেক কলোনি, আর বনেদি ক্রিকেটের বিশ্বকাপকে বাংলাদেশ করে তুলেছে সকলের বিশ্বকাপ, গণমানুষের সার্বজনীন উৎসব। বাংলাদেশের মাধ্যমেই শুরু হোক গণতন্ত্রের পথে ক্রিকেটের যাত্রা, রাজার খেলা হয়ে উঠুক সবার খেলা, সাধারণের, নিম্নবর্গেরও।

সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১১

Categories
অনলাইন প্রকাশনা আনিসুল হক গল্প বিনোদন ভালবাসা/প্রণয়লীলা সৃজনশীল প্রকাশনা

অসমাপ্ত চুম্বনের ১৯ বছর পর

----আনিসুল হক

 

‘মা, বাবাকে তুমি প্রথম কিস্ করেছ কখন?’ পরশ জিজ্ঞেস করে। হাইস্কুলে যাচ্ছে পরশ (১৭), এখনো যে মাকে এই সব প্রশ্ন করছে, তার মানে ছেলেটা এখনো সরল আছে—সুমি আড়চোখে দেখে নেয় ছেলেটাকে। কত বড় হাত-পা হয়ে গেছে ছেলের, খালেদের চেয়েও মনে হয় লম্বা হয়েছে সে। মনে মনে মাশাল্লাহ বলে দুবার, মায়ের নজর না আবার লাগে ছেলের গায়ে।

সুমির মনের মধ্যে গুঞ্জরিত হতে থাকে রবীন্দ্রসংগীত, এত দিন যে বসে ছিলেম পথ চেয়ে আর কাল গুনে, দেখা পেলেম ফাল্গুনে। বাংলাদেশের বসন্ত! ফাল্গুনে বিকশিত কাঞ্চন ফুল, গাছে গাছে পুঞ্জিত আম্রমুকুল। আমগাছে কালচে পাতা, তার ওপরে লালচে মুকুল, মাছি ভনভন করছে আর কেমন একটা মাদকতাভরা গন্ধ!

‘এই মা, কী ভাবছ?’ পরশের প্রশ্নে বর্তমানে ফিরে আসে সুমি। কত দূরে বাংলাদেশ, জামালপুরে বাড়ির চাতালে হেলে পড়া সিঁদুরে আমের গাছ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সারি সারি আমগাছ! কত দূরে তার ছাত্রবেলা! এখানে, এই নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের লাল ইটের ফ্ল্যাটে পাঁচতলায় লিভিং রুমে বসে তারা মায়ে-পুতে গল্প করছে। কোয়ালিটি টাইম কাটাচ্ছে। কাঠের মেঝে, কার্পেটে মোড়ানো, বড় বড় সোফা, একপাশে একটা ৭২ ইঞ্চি টেলিভিশন, তাতে এটিএন বাংলা চলছে, বিজ্ঞাপনই দেখানো হচ্ছে বিরতিহীন। বাংলাদেশে এখন চৈত্র মাস, নিউইয়র্কে এখনো ঘোরতর শীত, ঘরের ভেতরে হিটার অন বলে অবশ্য টের পাওয়া যাচ্ছে না।

খালেদ ওয়াশরুমে ছিল, এসে বসে পড়ে মা আর ছেলের ঠিক মাঝখানে। সোফাটা দেবে যায় খানিকটা। হাতে টিভির রিমোটটা নিয়ে খালেদ চ্যানেল পাল্টায়। চ্যানেল আইতে কী একটা টকশো হচ্ছে।

সুমি বলে, ‘দেখলি, তোর বাবা কী রকম জেলাস? এসে ঠিক মাঝখানে বসল।’

খালেদ বলে, ‘আচ্ছা আচ্ছা, আয় পরশ, তুই মাঝখানে বস, কেয়ারটেকার সরকার। কী নিয়ে কথা হচ্ছে?’

পরশ—তার গলা পুরুষালি হয়েছে, নাকের নিচে গোঁফের অর্ধস্ফুট রেখা—বাবা-মায়ের মধ্যখানে বসে বলে, ‘মাকে জিজ্ঞেস করলাম, তোমার সাথে মায়ের প্রথম দেখা হয়েছিল কীভাবে?’

খালেদ গলা খাদে নামিয়ে বলে, ‘কঠিন প্রশ্ন।’

পরশ কাঁধ নাড়ে, ‘এইটা কী করে হার্ড কোশ্চেন হয়? এটা তো তোমাদের দুজনারই জানা।’

সুমি তখন খিকখিক করে হেসে ওঠে। ওর শরীর কাঁপছে। পুরো সোফাটাই দুলছে নৌকার মতো।

পরশ বিস্মিত, ‘কী হলো, হাসো কেন?’

সুমি বলে, ‘খালেদ, বলব?’

খালেদ বলে, ‘ওমা! বলো। দাঁড়াও। দুই কাপ চা বানায়া আনি। নাকি তিন কাপ? পরশ, তুইও খাবি?’

‘খাব।’

খালেদ ওঠে। ওদের কিচেন এই রুমের সঙ্গেই লাগোয়া। সে তিন কাপের মতো পানি চুলায় বসায়। পানি টগবগিয়ে ওঠে অচিরেই। শব্দ হয়। নিউইয়র্কে থাকলেও ওরা চা খায় বাংলাদেশের ইস্পাহানি। একেবারে দুধ-চিনি দিয়ে ঘন কড়া চা বানিয়ে খায়।

‘শোন, তোর বাবার সাথে আমার দেখা হলো প্রথম ঢাকায়। জুনিয়র রেডক্রসের ক্যাম্পিং হয়েছিল আজিমপুর গার্লস স্কুলে। সেখানে। আমি গেছি জামালপুর থেকে। আর ও গেছে ময়মনসিংহ থেকে। আমি তখন পড়ি সিক্স গ্রেডে। আর তোর বাবা পড়ে টেন গ্রেডে।’

‘সেই প্রথম দেখা?’ পরশের কণ্ঠে কৌতূহল।

‘হ্যাঁ।’ সুমি বলে, ‘শোনো, আমাকে চিনি একটু কম দিয়ো, খালেদ। তোর বাবা আমাকে এসে বলল, মামু, মামু, আমারে চিনছ?’

‘মানে কী?’ পরশ ভুরু কোঁচকায়।

‘মানে হলো, তোর বাবার এক ক্লাসমেট আমার মামা। তোর জয়নাল নানাকে মনে আছে?’

‘নাই। বাদ দাও।’ পরশ গল্প এগিয়ে নিতে চায়।

‘এর আগে নাকি জয়নাল মামা আর তোর বাবা জামালপুরে আমাদের বাসায় এসেছিল। আমাকে আগেই দেখেছে। আমার মনেটনে নাই। তার মনে আছে। এসে বলছে, আমারে চিনছ? আমি তোমার খালেদ মামু।’

‘হি হি হি,’ পরশ হাসে। হাসলে ছেলেটাকে যা সুন্দর দেখায়! সুমি আবার বিড়বিড় করে ‘মাশাল্লাহ’ বলে। ‘তারপর কী হলো?’ খালেদের চোখেমুখে সত্যিকারের জিজ্ঞাসা।

‘আমি বলি, চিনি নাই। তোর বাবা বলে, আমি খালেদ মামু। জয়নালের ক্লাসমেট। তোমাদের বাড়িতে গেছি না? শোনো মামু, এই খামটা একটু ওই যে লম্বা করে মেয়েটা আছে না, রানী, ওকে একটু দিতে পারবা?’ সুমি হেসে সোফার মধ্যে গড়াগড়ি খেতে থাকে।

ওপাশ থেকে তিন কাপ চা ট্রেতে সাজিয়ে নিয়ে এই দিকে আসতে আসতে খালেদ চেঁচায়, ‘এই, এই, বানিয়ে কথা বোলো না।’

‘বানাচ্ছি না। বানাচ্ছি না।’ সুমি বলে, ‘মানে বুঝলি? রানী নামের একটা মেয়েকে তোর বাবার পছন্দ হয়েছে। তাকে সে চিঠি লিখেছে। আমাকে বলে সেই চিঠি রানীকে পৌঁছে দিতে।’

‘হা হা হা,’ পরশ এবার গলা ফাটিয়ে হাসে। ‘তারপর? তুমি পৌঁছায় দিলা চিঠিটা?’

‘দেব না! আমার খালেদ মামু আমারে দিতে বলছে! হি হি হি।’

‘তারপর? রানীকে লাইক করে বাবা, তাকে তুমি কেন বিয়ে করলা?’ পরশ চা হাতে নিয়ে গলায় গাম্ভীর্য ফুটিয়ে বলে।

‘আরে আগে শোন। খালি তোর বাবা রানীকে পছন্দ করে তাই না, আমার জন্যও একটা ছেলে জোগাড় করে আনে।’

‘এই, এই সব কী বলো? বানায়া বইলো না, সুমি।’ খালেদ চায়ের কাপে ফুঁ দিয়ে হাসিমুখে বলে।

‘শোন, শোন, বাবা। পুরাটা শোন। তার নাম ছিল ডায়মন্ড। সেই জন্যে আমার মনে আছে,’ সুমির কণ্ঠে হাসি।

‘ডায়মন্ড তো মেয়েরা ভুলতে পারে না,’ পরশ হাসে।

‘এই, পুরুষবাদী কথা বলবি না।’ সুমি গলায় কৃত্রিম রাগ ফোটায়।

‘না না। তোর মা আসলেই ডায়মন্ড ভাইকে ভুলতে পারে নাই। এর সঙ্গে হিরার কোনো সম্পর্ক নাই।’ এক হাতে চায়ের কাপ, আরেক হাতে টেলিভিশনের রিমোট, খালেদের চোখ টিভিতে।

সুমি বলে, ‘ডায়মন্ড ভাই ছিলেন ময়মনসিংহের রেডক্রসের বড় ভাই। বড় লিডার। তিনি তখন ইন্টারমিডিয়েট পাস করেছেন। মানে হাইস্কুল শেষ। তাঁর নাকি আমাকে পছন্দ হয়েছে।’

পরশ বলে, ‘তুমি না বললা, তুমি সিক্স গ্রেডে? আর ডায়মন্ড হাইস্কুল কমপ্লিট করেছে। তাইলে তো অনেক সিনিয়র। এজ গ্যাপ তো বেশি হয়ে গেল।’

‘তোর বাপকে বল। তারই বুদ্ধি। সে ডায়মন্ডকে নিয়ে এল আমার কাছে। রেডক্রসের ক্যাম্পিং মানে মাঠের মধ্যে টেন্ট। সাদা সাদা সব তাঁবু। তারই একটা ধরে আছি আমি। ক্লাস সিক্সে পড়ি। দুই বেণী মাথায়। সেই বুড়া হাবড়াকে ধরে এনে তোর বাবা বলে, মামু মামু, এনার নাম ডায়মন্ড। এনার সাথে গল্প করো। বলে তোর বাবা উধাও। আমি বলি, জি, মামা, বলেন। উনি বলেন, আমাকে মামা বইলো না। আমি বলি, কী বলব? উনি আর কথা বলতে পারেন না। হি হি হি।’

সুমির হাতের কাপ থেকে চা ছলকে পড়ে। পরশ টিসু পেপার এগিয়ে দেয়। ‘উফ! মাকে বোধ হয় আজকে হাসিরোগে পেয়েছে।’

‘বাবা, তুমি ডায়মন্ডকে রেখে কই গেছিলা?’ পরশ প্রশ্ন করলে সুমির হাসি পুরো বাড়ি কাঁপিয়ে দেয়।

খালেদ বলে, ‘আরে, তোর মা বানিয়ে বলছে।’

‘তারপর কী হলো?’ পরশ জানতে চায়।

‘তারপর তো আমি জামালপুরে ফিরে গেলাম। ওই লোক রেগুলার আমাকে চিঠি লেখে। আমি জবাব দেই না। একদিন তোর বাবা সেই ডায়মন্ডকে নিয়ে আমাদের জামালপুরের বাড়িতে হাজির।’

‘আরে না। কাজে গেছলাম জামালপুরে। তাই তোমাদের বাসায় গেছলাম। ডায়মন্ড ভাইকে নিয়ে যাইনি।’ খালেদ প্রতিবাদ করে।

সুমি বলে, ‘আব্বা টের পেয়ে যান। তখন জয়নাল মামাকে ডেকে ঝাড়ি দেন। এই, তোর বন্ধুবান্ধবগুলান এই রকম কেন? তোর বন্ধু খালেদ তার ডায়মন্ড ভাইকে নিয়ে এসে আমার মেয়েকে জ্বালাতন করে কেন?’

‘তারপর?’ পরশ শুধায়।

‘তারপর তোর বাবা আর ডায়মন্ডকে নিয়ে জ্বালাতন করতে আসেনি। আমি জামালপুর কলেজ থেকে আইএসসি পাস করে ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হই। তোর বাবা তখন ইউনিভার্সিটির টিচার হয়ে গেছে। আমি হলে সিট পাই নাই। রেবেকা খালার বাসায় থেকে বহুত কষ্ট করে ক্লাস করি। কী আর করা। গেলাম আমার খালেদ মামুর কাছে। মামু, আমাকে হলের সিট জোগাড় করে দেন। মামু বলে, হলে থাকবে? তোমার তো কষ্ট হবে। আচ্ছা, সোমবার এসো। দেখি কী করতে পারি। যাই সোমবারে। উনি আমাকে বলেন, চা খাবে? আমাকে চা বানিয়ে খাওয়ান। এইভাবে সোমবারে যাই, বুধবারে যাই। শনিবারে যাই।’

খালেদ বলে, ‘তারপর রবিবারে যাই, সোমবারে যাই, মঙ্গলবারে যাই, বুধবারে যাই।’

পরশ লজ্জা পায়, ‘বুঝসি বুঝসি, রোজ যাও। তারপর?’

‘তারপর আর কী? মামু বলে, শোনো, তোমার এত কষ্ট করে হলে ওঠার দরকার কী? আমার তো বাসা আছে। তুমি তো আমার বাসাতেই উঠতে পার। তখন আমি বলি, প্রোপোজাল ছেলের বাসা থেকে পাঠাতে হয়। তুমি প্রোপোজাল পাঠাও।’

‘এর আগে না আপনি করে বলতে? এরপর তুমি করে বলা শুরু করলা?’ পরশের প্রশ্ন।

খালেদ বলে, ‘মিলিয়ন ডলার কোশ্চেন করেছিস, বাবা। বাংলা ভাষায় সিনেমায়, নাটকে এই আপনি থেকে তুমিতে আসতে যে কত পৃষ্ঠা আর কত রিল খরচ করতে হয়!’

পরশ বলে, ‘তারপর কী হলো?’

সুমি বলে, ‘আমাদের বিয়ে হয়ে গেল। ইউনিভার্সিটির ক্লাবে রিসেপশন পার্টি হলো।’

‘আর ডায়মন্ড মামু?’ পরশ হাসে।

‘তোর বাবাকে জিজ্ঞেস কর। আমি কি তার খবর জানি নাকি?’

পরশ বলে, ‘আর রানী। বাবা, তোমার রানী কই?’

‘জানি না।’

সুমি চেঁচায়, ‘জানে জানে। তোর বাবা বলবে না। তোর বাবার কবিতার খাতায় দেখবি, তাকে নিয়ে কত কবিতা লেখা।’

‘আমি তো বাংলা পড়তে পারি না, মা।’

‘আচ্ছা, তোকে আমি ইংলিশে ট্রান্সলেট করে দেব।’ খালেদ বলে, ‘পড়ে দেখিস। তোর মা কী রকম লায়ার। আর তোর মা যে খালি ডায়মন্ড কেনে, মার্কেটে গেলেই একটা করে ডায়মন্ড কিনে আনে, কেন আনে এখন বোঝ।’

‘চিন্তা কর! কী বলে তোর বাবা। এই, তুমি তো একটা কমপ্লেক্স ক্যারাক্টার। এইভাবে কেউ ভাবে?’

পরশ মধ্যস্থতা করে। সে তখন কিচেনের সিংকে, কাপ-পিরিচগুলো ধুচ্ছে। গলা উঁচিয়ে বলে, ‘কিন্তু মা, তুমি কিন্তু আমার আসল প্রশ্নটাই এড়িয়ে যাচ্ছ। তোমরা প্রথম কিস করলে কখন? বিয়ের কত দিন আগে? কোথায়?’

খালেদ আর সুমি পরস্পরের মুখের দিকে লাজুক ভঙ্গিতে তাকায়।

‘মনে নাই রে।’ খালেদ বলে।

পরশ বলে, ‘মনে নাই? এটা হতে পারে? ফার্স্ট কিস কেউ ভোলে?’

‘মনে থাকলেও এটা তোকে বলতে পারব না, বাবা।’ সুমি বলে, ‘আমাদের কালচারে এই সব কথা কেউ ছেলেমেয়ের সঙ্গে শেয়ার করে না।’

‘বিয়ের কত দিন আগে, সেটা বললে কী হয়?’

‘ধর, দুই মাস।’ সুমি বলে।

‘কোথায়? মানে ডেটিং প্লেস কোনটা ছিল?’ পরশ জানতে চায়।

সুমি বলে, ‘বাবা, আমরা তো ঠিক ডেটিং করি নাই। ওই শব্দটাই তো আমাদের কালচারে নাই। তবে প্লেসটা আমি তোকে বলি। রিকশায়। বসন্তকালে। আমাদের ইউনিভার্সিটির রাস্তা ভরা আমগাছ। আমের মুকুলের গন্ধ আসছিল। আর একটা কোকিল ডেকে উঠেছিল। এই সময় তোর বাবাকে বললাম, আমাকে একটা চুমু খাও। ও বলল, বলো কী, চারদিকে আমার ছাত্রছাত্রী। আমি বললাম, না, চুমু তোমাকে খেতেই হবে। সে আমার হাতটা ধরে একটা চুমু দিল।’

‘ধ্যাৎ! হাতে কিস খেলে সেটাকে কিস বলে নাকি?’ পরশ হতাশ।

‘আমাদের সময়ে সেটাই অনেক বড় ব্যাপার ছিল, বাবা। পরশ, যাও, শাওয়ার সেরে নাও। আমি খাবার গরম করি। লাঞ্চ করব।’

পরশ ওঠে। বাথরুমে যায়। সুমি খালেদের হাত ধরে বলে, ‘খালেদ, এবার দেশে গেলে আমরা একটা রিকশায় করে ঘুরব দুজনে, আচ্ছা? ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে যাব। ওই আমগাছগুলোর নিচ দিয়ে রিকশা চলবে। এবার তুমি আমাকে একটা চুমু খেয়ো। এখন তো আর চারপাশে তোমার ছাত্রছাত্রীরা থাকবে না। নিয়ে যাবে, বলো, খালেদ?’

‘অবশ্যই নিয়ে যাব। অবশ্যই।’ সুমিকে বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরে খালেদ বলে। সুমির চোখ ছলছল করে। সুমির গ্রিনকার্ডে ঝামেলা হচ্ছে। একবার বাইরে গেলে আর ফিরতে পারবে না আমেরিকায়। ১৫টা বছর সুমি দেশের বাইরে। এর মধ্যে আব্বা মারা গেছেন। আম্মা জামালপুর ছেড়ে ঢাকায় এসে ছোট ভাই সুজনের বাসায় থাকেন। তাঁদের জামালপুরের বাড়ির সামনের খুলিতে সেই হেলে পড়া সিঁদুরে আমের গাছটা কি এখনো আছে? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার আমগাছগুলো?

‘আমের মুকুলের গন্ধওয়ালা পারফিউম কিনতে পাওয়া যায় না, খালেদ? ফাল্গুনের শেষে হঠাৎ বৃষ্টি। ঢাকায়। ময়মনসিংহে। জামালপুরে। আমাদের উঠোনে। টিনের চালে। তারপর বৃষ্টি উধাও। রংধনু উঠল আকাশে। মাটিতে সোঁদা গন্ধ। আর আমগাছতলায় বিন্দু বিন্দু মুকুলের আল্পনা। আমি খুব মিস করি, খালেদ। আমি খুব মিস করি। আর কী মিস করি জানো? রিকশা। ওয়ার্ল্ড কাপের ওপেনিংয়ে রিকশায় ক্যাপ্টেনদের চড়িয়ে খুব ভালো করেছে বাংলাদেশ।’

‘আর আমি মিস করি রিকশায় খাওয়া আমাদের অসমাপ্ত প্রথম চুম্বন।’ সুমির ঠোঁটে ঠোঁট রেখে দ্রুত একটা চুমু খেয়ে নিয়ে খালেদ বলে। ক্যাচ করে শব্দ ওঠে। পরশ বাথরুম থেকে বেরোল। ওরা নিজেদের পরস্পরের কাছ থেকে সরিয়ে নেয়।

টেবিলে প্লেট সাজায় পরশ। ন্যাপকিন দেয় খালেদ। সুমি গরম করা খাবারগুলো টেবিলে রাখে। খালেদ বলে, ‘থ্যাংক ইউ, পরশ, তোর মাকে ওই কোশ্চেনটা করার জন্যে।’

‘কোন কোশ্চেনটা, বাবা?’

‘এই পরশ, তুই ভাত খাবি না একটু? কয়বেলা বার্গার খেয়ে থাকবি?’ ছেলের দৃষ্টি সরিয়ে নিতে সুমি তাড়াতাড়ি বলে। সুমির মাথার মধ্যে রিকশার ঘণ্টাধ্বনি বাজছে। আশ্চর্য, সেই বেলের আওয়াজে সুরও ফুটছে—মধুর বসন্ত এসেছে, আমাদের মধুর মিলন ঘটাতে…তার এই দুপুরটায় কী যে ভালো লাগছে!

সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, এপ্রিল ০৮, ২০১১

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা বিনোদন ভালবাসা/প্রণয়লীলা সৃজনশীল প্রকাশনা

আমি একবার দুঃখ ভুলে বসন্তের ফুল পেতে চাই

আমি একবার দুঃখ ভুলে বসন্তের ফুল পেতে চাই
——————- ডঃ রমিত আজাদ

কাল ছিল শীতের শেষ রাত,
আলোহারা রজনীর নিঝুম নিস্তদ্ধতা,
আজ বসন্তের প্রথম দিন,
ফুলের সৌরভের মাতামাতি, কোকিলের গান।
সৌভাগ্যক্রমে এটিই তোমার জন্মদিন।

কেমন আছ তুমি?
খুব জানতে ইচ্ছা করে আমার।
তুমি কি সুখে আছ?
নাকি আমার মতোই কষ্টে কাটে দিন?
নিঃসঙ্গতায় ভোগো?
না, বোধহয়, তোমার তো স্বামী রয়েছে।
অবশ্য আমারও রয়েছে স্ত্রী,
তারপরেও কিন্তু আমি নিঃসঙ্গতায় ভুগী,
কি অদ্ভুত তাইনা?
সঙ্গ আছে তবু নিঃসঙ্গ
আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে, তুমিও কি
সঙ্গ থেকেও নিঃসঙ্গ?

আমার অংশিদার যেদিন আমাকে ঠকিয়ে ব্যবসা নিয়ে গেল,
অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম,
আমার বাবার উপহার একমাত্র জমিটি যেদিন দখল করে নিল,
অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম,
টাকার জন্য যেদিন আপন ভাই দুর্ব্যবহার করলো,
অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম,
কিন্তু তোমাকে যেদিন হারালাম,
সেদিনের মত কষ্ট আর কোনদিনও পাইনি,
ঐসব টাকা-পয়সা, জমি-জমার দুঃখ কবেই ভুলে গিয়েছি।
কিন্ত তোমার সাথে বিচ্ছেদের কষ্ট,
এখনও ক্ষত হয়ে জ্বলছে,
ভালোবাসা যে এত দুঃখ, কষ্ট, জ্বালা আর যন্ত্রণা
দিতে পারে তা কে জানত!

তোমাকে ভালোবেসে,
পৃথিবীর সব কিছুই আমার কাছে
মেঘের মত রঙিন মনে হতো।
মনে হতো পৃথিবীতে কষ্ট বলে কিছু নেই,
সিদ্ধার্থ মিছেই বলেছেন, ‘জগৎ দুঃখময়!’
জগৎ সুন্দর, সুন্দর, অদ্ভুত সুন্দর,
আমার পাশের রমণীটির মতই সুন্দর!
আর এখন, আমার চারপাশে শুধুই যন্ত্রণা,
সিদ্ধার্থ যথার্থই বলেছেন, ‘জীবন মানেই দুঃখ!’

গতরাত ছিল শীতের শেষ রাত,
আমার অতৃপ্ত মনের প্রতীক,
আজ বসন্তের প্রথম দিন,
হাজার হাজার ফুলে ফুটে আছে তোমার ভালোবাসা ।
তোমার মধুর জন্মদিনে,
আমি একবার দুঃখ ভুলে বসন্তের ফুল পেতে চাই।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা বিনোদন ভালবাসা/প্রণয়লীলা সৃজনশীল প্রকাশনা

একরাশ ভালোবাসার কবিতা

অনিয়মের ভালো লাগা
ডঃ রমিত আজাদ

তোমাকে আমার ভালো লেগেছে,
কিন্তু কি করে বলি বলতো?
আর তুমিই বা কিভাবে নেবে?
আমার কি আর সে বয়স এখন আছে?
যৌবন পেরিয়ে চলে এসেছি অনেকটা দূর,
আর তোমার তো মাত্র শুরু,
তদুপরি আমার পাশে রয়েছে ভিন্ন এক রমণী।

যদি আমি সাহস করে বলেই ফেলি,
যদি তুমি ফুঁসে ওঠো,
যদি এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে শহরময়,
আমি কি ধিক্কৃত হব না?
তোমাকে কেমন করে বোঝাই,
আমার বুক জুড়ে চলছে,
উত্তপ্ত আগ্নেয় লাভার তীব্র তোলপাড়।

তোমার ঘুরে দাঁড়ানোর ছন্দময় স্নিগ্ধতা,
আমার অতৃপ্ত আত্মার মরুময়তা,
বিন্দু বিন্দু করে জমা হওয়া নিস্পেষণ ,
আমার আবেগের আল্পনায় স্নিগ্ধ অনুরণন,
তোমার মমতা খেলে আমার কবিতা হয়ে,
এই গুমোট নগরীর জমাট আঁধার কেটে দিয়ে,

ঐ যে শুনেছিলাম ভালোবাসার কোন বয়স নেই,
তখন বুঝিনি, আর এখন বুঝতে পারছি বেশ,
আমার না বলা কথা ভবঘুরের মত ঘোরে,
নীরব বিবেকের অলিগলিতে,
নিয়ম মেনে চলাই যেখানে রীতি,
সেখানে অনিয়ম চলেনা,
আমি তো নিতে পারব না, জন্ম নতুন এক।
তাই আর হয়না বলা,
কেবল স্বগতোক্তির মত নিজের কথা নিজেকেই বলি,
সেকথা তোমাকে বলা হবে না হয়ত কোনদিনও,
কিণ্তু তোমাকে আমার সত্যিই ভালো লেগেছে।

আজ তাকে শাড়ীতে দেখেছি
—————————ডঃ রমিত আজাদ

মেয়েটিকে প্রায়ই দেখি,
অসম্ভব সুন্দর, নিস্পাপ একটি মুখ,
বৃষ্টির পরে সবুজ সতেজ ঘাস যেমন,
কখনো তুলনা করি বন ছেয়ে যাওয়া পিংক কাসিয়ার সাথে,
ঐ সৌন্দর্য থেকে চোখ সরানো যায়না।
তার অনুপস্থিতি আমার মাঝে শূণ্যতার সৃষ্টি করে।
আবার কখনো কখনো তাকে দেখি,
অনেক মানুষের ভীড়ে হঠাৎ হঠাৎ দেখা দেয়,
অনেকটা দক্ষিণা হাওয়ার দিনে,
গাছের পাতা আর সুর্যের আলোর লুকোচুরির মত
আর আমার চোখ ফিরে ফিরে আসে নতুন মুগ্ধতা নিয়ে।

ব্যাতিক্রম কেবল তার পোশাক,
আধুনিক যুগে সব মেয়ে আর অস্টপ্রহর বাঙালী পোশাক পড়েনা,
সালোয়ার-কামিসের পাশাপাশি
প্যান্ট-শার্ট, স্কার্ট-টপস চলছে বেশ,
একসময় এগুলো ছিল নিতান্তই অপ্রচলিত,
ইন্টারনেট আর আকাশ সংস্কৃতির যুগে,
এখন এটাই হয়ত রীতি।

বাঙালী নারীর আজন্ম লালিত পরিচ্ছদ
শাড়ীটা এখন একেবারেই আনুষ্ঠানিক হয়ে গিয়েছে,
খুব ইচ্ছে হতো চপলমতি ইনোসেন্ট ঐ মেয়েটিকে
একবার শুধু শাড়ীতে দেখতে।

অবশেষে দেখলাম,
অপ্রত্যাশিত একটি জায়গায়, হঠাৎ করেই সে,
ফিরোজা রঙের চমৎকার কারুকাজ করা শাড়ী পড়া,
আমি থমকে গেলাম,
অপ্সরী দেখিনি সত্যি,
কিন্তু ঠিক ঐ মুহুর্তে মনে হলো,
সেই তো অপ্সরী ।

চপলমতি হেটে গেল বাতাসে ঢেউ তুলে,
যেন পাহাড়ী ঝর্নার গায়ে ঝরে ঝরে পরছে সোনালী ফুল,
তখনো নামেনি সন্ধ্যা এই ব্যাস্ত নগরীতে,
বসন্ত এলো এলো বলে ঐ আকাশটাও পুরোপুরি নীল।
শাড়ী? হ্যাঁ শাড়ীই তাকে এতটা সুন্দর করেছে,
শাড়ীই তাকে দিয়েছে রমণীর রূপ,
আচ্ছা এই সুন্দর বসনটি কি চিরস্থায়ী হতে পারেনা?
চিরস্থায়ী সৌন্দর্য হয়ে তুলুক ঢেউ দক্ষিণা হাওয়ায়,
নন্দনের প্রসুন হয়ে বসন্ত বাগানে ফুটুক কামিনী,
তোমাকে আমি বারবার শাড়ীতে দেখতে চাই রমণী।

নীল সিকোরী

মূল: মারিনা রাতনের
ভাবানুবাদ: ড: রমিত আজাদ

স্মৃতির রং – নীল সিকোরী,
অপার্থিব নিসর্গের সৌন্দর্যে প্রস্ফুটিত।
ত্সিকোরীর নীল রঙে ভরা স্মৃতিবিধুর দিনগুলোতে,
প্রিয়তম আমার, তুমি কি অস্টপ্রহর কেবল আমাকেই ভাবছ?

আর ফুলগুলো পরম আকুলতায়
অনুরাগ ভরা উদ্ভাসিত হৃদয়ে
জড়িয়ে ধরেছে পেটিওলিট বিথীর
প্রলোভিত ভাগ্যের কান্ড।

এখনো উঠেনি চাঁদ নীলান্ত আকাশে,
স্বচ্ছ প্রস্ফুটিত প্রভাতের উষ্ণতা কেবল ছুঁয়েছে
সিভেরস্কি দোন্ত্স হ্রদের গভীর নির্বাক জল।

এই অধর ছুঁয়েছে স্মৃতির নীল রং,
বেদনার রং গায়ে মেখে নিয়ে বলি,
উল্লসিত নীল ত্সিকোরী ফুটে ‘যদি’,
বিস্ময়বিহ্বল আলো ‘আসবে কি’?

(নীল ত্সিকোরী – গ্রীস্মের উজ্জ্বল দিনগুলোতে ইউক্রেনের প্রকৃতিতে ফুটে থাকা অদ্ভুত সুন্দর ফুল।)

আমি একবার দুঃখ ভুলে বসন্তের ফুল পেতে চাই
——————- ডঃ রমিত আজাদ

কাল ছিল শীতের শেষ রাত,
আলোহারা রজনীর নিঝুম নিস্তদ্ধতা,
আজ বসন্তের প্রথম দিন,
ফুলের সৌরভের মাতামাতি, কোকিলের গান।
সৌভাগ্যক্রমে এটিই তোমার জন্মদিন।

কেমন আছ তুমি?
খুব জানতে ইচ্ছা করে আমার।
তুমি কি সুখে আছ?
নাকি আমার মতোই কষ্টে কাটে দিন?
নিঃসঙ্গতায় ভোগো?
না, বোধহয়, তোমার তো স্বামী রয়েছে।
অবশ্য আমারও রয়েছে স্ত্রী,
তারপরেও কিন্তু আমি নিঃসঙ্গতায় ভুগী,
কি অদ্ভুত তাইনা?
সঙ্গ আছে তবু নিঃসঙ্গ
আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে, তুমিও কি
সঙ্গ থেকেও নিঃসঙ্গ?

আমার অংশিদার যেদিন আমাকে ঠকিয়ে ব্যবসা নিয়ে গেল,
অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম,
আমার বাবার উপহার একমাত্র জমিটি যেদিন দখল করে নিল,
অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম,
টাকার জন্য যেদিন আপন ভাই দুর্ব্যবহার করলো,
অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম,
কিন্তু তোমাকে যেদিন হারালাম,
সেদিনের মত কষ্ট আর কোনদিনও পাইনি,
ঐসব টাকা-পয়সা, জমি-জমার দুঃখ কবেই ভুলে গিয়েছি।
কিন্ত তোমার সাথে বিচ্ছেদের কষ্ট,
এখনও ক্ষত হয়ে জ্বলছে,
ভালোবাসা যে এত দুঃখ, কষ্ট, জ্বালা আর যন্ত্রণা
দিতে পারে তা কে জানত!

তোমাকে ভালোবেসে,
পৃথিবীর সব কিছুই আমার কাছে
মেঘের মত রঙিন মনে হতো।
মনে হতো পৃথিবীতে কষ্ট বলে কিছু নেই,
সিদ্ধার্থ মিছেই বলেছেন, ‘জগৎ দুঃখময়!’
জগৎ সুন্দর, সুন্দর, অদ্ভুত সুন্দর,
আমার পাশের রমণীটির মতই সুন্দর!
আর এখন, আমার চারপাশে শুধুই যন্ত্রণা,
সিদ্ধার্থ যথার্থই বলেছেন, ‘জীবন মানেই দুঃখ!’

গতরাত ছিল শীতের শেষ রাত,
আমার অতৃপ্ত মনের প্রতীক,
আজ বসন্তের প্রথম দিন,
হাজার হাজার ফুলে ফুটে আছে তোমার ভালোবাসা ।
তোমার মধুর জন্মদিনে,
আমি একবার দুঃখ ভুলে বসন্তের ফুল পেতে চাই।


তোমার কথা প্রায়ই মনে পড়ে, তুমি কেমন আছো?

———————————— ডঃ রমিত আজাদ

আমার মন যে কতটা খারাপ তুমি বুঝবে না,
রৌদ্র কেড়ে নেয়া কালো মেঘের থমথমে নীরবতা দেখেছ?
অথবা তুহীন শীতে জমে বরফ হয়ে যাওয়া কোন নদী?
তোমার ঐ পেলব হাতটি দাও,
স্পর্শ করতো আমার হৃদয়,
টের পাও কিছু?
তবে আমার বুকের ক্ষত গলে হৃদয়ের ভিতরে ঢুকে যাও,
এবার কি দেখতে পাও,
সব বেদনা জমাট বেধে কেমন পাথর হয়ে আছে?

আচমকা এলে, আচমকা গেলে,
এ যেন সুরের বীণা বেজেই থেমে গেল,
এ কেমন প্রেম বলতো?
তার চাইতে না এলেই পারতে।

এটি একটি অপূর্ণ কবিতা, একটি অসম্পূর্ণ গান।
না কিছুই নয়, স্রেফ তোমার জন্য
নির্মল সাদা কাগজে কলমের ধাতব নিবের নিষ্ঠুর আঁচড়

অনেকটা দেরী করেই পরিচয় হয়েছিলো আমাদের,
হয়তো তোমার জন্ম হয়েছে অনেক পরে,
অথবা আমি পৃথিবীতে এসেছি অনেক আগে,
এমনটা না হয়ে যদি সব কিছু সময়মতো হতো,
তবে কি ভিন্ন জীবন হতো আমাদের?

বাতাসে দোল খাওয়া মাধবীলতা,
কার্নিশ ছেয়ে হেসে ওঠা বাগানবিলাস,
বাগান ভরা সুহাসিনী ডালিয়া ফুলের উজ্জ্বল বর্ণচ্ছটা,
সারাটা বিকেল জুড়ে তোমার প্রতিক্ষা,
তোমার কি মনে পড়ে?

আমার কিন্তু বেশ মনে পড়ে,
তোমার চুলে রৌদ্রের খেলা,
তোমার ওড়নার ঝালর, তোমার শাড়ীর আঁচল
তোমার কপোলের লাল আভা
তোমার ভীরু চোখে উপচে পড়া হাসি,
জাপানী কিমানোর মত পরিপাটি তুমি,
অনেক কৌতুহলী চোখ এড়িয়ে,
অথবা সবগুলো চোখের সামনেই,
আমাদের নিষিদ্ধ অভিসার,
অস্হির এই পৃথিবীতে একমুঠো সুখ।

তুমি কি জানো, আমি এখনো তোমাকে খুঁজি?
ঢাকার পথে পথে খুঁজি,
ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে খুঁজি,
মোবাইলের স্ক্রীনে খুঁজি,
ফেইসবুকের পাতায় পাতায় খুঁজি,
কেন?
দু’টি প্রশ্ন করব,
তোমার কথা প্রায়ই মনে পড়ে,
তুমি কেমন আছো?
আমার কথা ভেবে,
তোমার মনও কি উন্মনা হয়না?

সেই থেকে আমি আর কবিতা পড়িনা
—————————— ডঃ রমিত আজাদ

সেই থেকে আমি আর কবিতা পড়িনা,
কেবলই শুনি গান,
সুরের মূর্ছনার আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হই,
যেমনটি হয় কোঁচবিদ্ধ ছটফটে মাছ ।

হৃদয়টাকে টেনে ছিঁড়ে বুকের মাঝখানে একটা গহবর তৈরী করেছ,
তাই আমি আজ একেবারেই হৃদয়হীন,
সুদুর সাইবেরিয়ার হীমশীতলে নির্বাসিত।
কালাপানির আন্দামান হলে ভালো হত,
অন্ততপক্ষে মহাসাগরের গর্জন শুনতে পেতাম।

একদিন তুমি তো আমারই ছিলে,
তোমার সুমিষ্ট নারীকন্ঠের ডাক,
এই কানে ঢেলেছে সুধা মৃন্ময়ী বসন্ত হয়ে,
স্বপ্নে তো নয়, বাস্তবেই তোমাকে চুমু খেয়েছি সহস্রবার,
একেবারে বুকে জড়িয়ে, নিস্পেষিত করেছি,
অজস্র আকুলতা নিয়ে।
আবেগঘন মুহুর্তগুলোতে ঘনঘন দীর্ঘশ্বাসের সাথে
ছিল ফিসফাস কথপোকথন,
এই আঙুলের সব উষ্ণতা দিয়ে তোমাকে ছুঁয়েছি।
হ্যাঁ, নিশ্চিত তোমাকে ছুঁয়েছি বাধাহীন, বারংবার,
দেখিয়েছি তোমাকে, আমি কতটুকু উত্তাল হতে পারি,
মনে হয়েছে যেন আমিই তোমার স্বামী।

সদ্য পঠিত কবিতা রেখে, ছুঁয়েছি তোমার অধর,
তোমার দেহবল্লরীকে মনে হয়েছে খরস্রোতা নদী যেন
তোমার সজল আঁখী,
তোমার পেলব ঠোট,
তোমার গোপন তিল
একসময় এই সবকিছুর অধিকার শুধুই আমার ছিল।

আমার আকাশ বিদ্ধ করেছে ডাকিনীর তীর,
পূর্ণিমার চাঁদ গিয়েছে নিভে ,
নিঃশব্দে নেমেছে ঘোর অমাবশ্যা ,
আজ তোমার গায়ে পরপুরুষের ঘ্রান
পেচিয়ে আছে সম্মোহিত সাপ হয়ে।
ক্লান্তিকর খেলা শেষে,
আমার হতাশা আর নিরুত্তাপ তুমি ।

আমি ডানা ঝাপটানো একটি নিঃসঙ্গ বিহঙ্গ যেন,
টর্নেডো ভেঙেছে কপাট,
ভূমিকম্প গুড়িয়ে ঘর,
সুনামীর তীব্র স্রোতে উঠেছে ভয়াল ঝড়।
মনের গভীরে চোখের জল ঝড়ে ঝড়ে হয়ে গেল যেই নদী,
ধীরে ধীরে বাড়ছে সে নদীর জল, এই প্লাবন এলো বলে,
আমাকে কি ধুর্ত প্রেমিক বলবে?
কিংবা প্রতারক যুবক?

কোন মায়াবী খাঁচায় তো তোমাকে পুরে রাখিনি,
তুমি মুক্ত বিহঙ্গ, উড়ে যাও যেখানে চাও।
আমি বড়জোড় লিখতে পারি একঝাক চিঠি।
প্রেমের অনন্তলোক ছুঁয়ে,
আমার চিঠিগুলো কাগজের পতঙ্গ হয়ে,
একের পর এক ঢুকে পড়বে তোমার জানালা গলে
দুর্নিবার পূর্ণিমার আকাশ ছেঁয়ে দেবে তমশায়,
নিশি জাগা তুমি আর তোমার স্বামী
নিশ্চিত বঞ্চিত হবে জোছনার মাধুরী থেকে।

আমার আকাশেও এখন আর চাঁদ ওঠেনা,
তবু সিদ্ধার্থের মত গৃহত্যাগী হতে চাই,
পাশে শুয়ে থাকা বধু আর শিশু ইচ্ছেটাকে অবদমিত করে

এই ভয়ার্ত আঁধারে কার কাছে যাব আমি, তোমাকে ছাড়া?
সেই তুমিই রয়েছ ফিরে, হয়েছ বৈরী,
অসহায় আমি আজ আকাশের মত একলা।
আমাদের বিচ্ছেদে অনেক কেঁদেছি আমি,
তুমিতো দেখনি সে কান্না!
আমি একাই সে অশ্রুবারির দর্শক।
তোমার কাছে ফিরে যাবার আর কোন পথ নেই তো খোলা।

এখন হাতড়ে বেড়াই,
কেবলই স্মৃতি, কেবলই স্মৃতি, কেবলই স্মৃতি,
বারবার মনে পড়ে একটি মায়াবী মেয়ের মুখ!

নারী ও সমুদ্র
——– ডঃ রমিত আজাদ

চুলগুলি অযত্ন বিন্যস্ত,
এলোমেলো উড়ছে মোলায়েম কেশগুচ্ছ ,
উচ্ছাসী সাগরের হাওয়ায়
সমুদ্রের ছায়া পড়ে তার চোখে,
সমুদ্রের ঐ আশ্চর্য্য নীলের মত
তার চোখও ঠিকরে দিচ্ছে তীব্র রঙের ছটা।

খুব দূরে দূরে একেবারে দিগন্ত ঘেসে
সাগরের ঢেউ ছুঁয়ে ছুঁয়ে, এক টুকরো মেঘে
ক্ষণে ক্ষণে জাগে বিদ্যুতের চমকানি,
আর আমি থেমে থেমে দেখি তার রূপ-ঝলকানি

মনে হয় সে এত কাছে, যেন
তার হৃদস্পন্দন শুনতে পাই।
কেমন উদগত আবেগে,
তার লাবণ্য, দীপ্তি সৌরভে
সুগন্ধী নিশ্বাসের মদিরায়,
মনে জেগে ওঠে নেশা।
এইতো প্রথম এমন করে নারী ও সমুদ্র দেখা ।

কোন কালে কোন কবি যেন
তুলনা করেছিলেন নারী ও ফুলের,
আরো হয়েছে তুলনা নারী ও নদীর।
আর এই ক্ষণে বলে ওঠে আমার উন্মত্ত মন-রুদ্র
উদ্বেলিত নারীর একমাত্র তুলনা ঐ উচ্ছসিত সমুদ্র।

তুমি কি চোখের ভাষা পড়তে পার?
– ডঃ রমিত আজাদ

তুমি একদিন জানতে চেয়েছিলে,
আমি তোমাকে কতটুকু ভালোবাসি।
প্রিয়তমা আমার,
সমুদ্রের গভীরতা, সেও তো মেপে ফেলা যায়।
ভালোবাসার গভীরতা আমি কোন ফিতায় মাপব?
বুঝিয়ে বলতে বল?
আমাদের জানা কোন ভাষায় বলতে গেলেও
তা কেমন যেন দুর্বোধ্য হয়ে ওঠে।
আমি বরং শ্বাশত ভাষাতেই বলি।
কোন সে ভাষা?
শব্দের পিঠে শব্দ জুড়ে দিয়ে নয়,
ধ্বনির পর ধ্বনি উচ্চারিত করে নয়,
চোখে চোখ রেখে নির্বাক সে ভাষা।
কোমল প্রাণ আমার,
তুমি কি চোখের ভাষা পড়তে পার?
তোমার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিয়ে,
আমার চোখ ভেদ করে হৃদয় ছুঁয়ে দেখ,
মহাসাগরের সুনীল স্বচ্ছ জলের মতই
আমার ভালোবাসা সত্য।
মহাকাশের ঝকঝকে তারাগুলোর মতই
আমার ভালোবাসা পবিত্র।

(বিদেশী কবিতার ছায়া অবলম্বনে রচিত)

বিচিত্র মন

হৃদয়ের রজনীগন্ধা তুমি, তুমি নীল অপরাজিতা
বলেছিলে হেসে, “আমায় নিয়ে লেখনা একটি কবিতা”।
আমি কবি নই তবু, লিখব আজ কিছু পংক্তিমালা,
বাতায়ন খুলে সাজিয়ে দেব হাজার তারার মেলা।
শব্দের ঝড় উঠবে ফুঁসে নন্দিত কোন অরণ্যে,
কবিতার তার তুলবে সুর, তোমাকে স্পন্দিত করার জন্যে।

যদিও প্রথম প্রেম নয়,
তবুও শীতের কুয়াশায়,
তোমার শ্যামল ছবি রহস্যময়,
আমার বুকে তুলেছিল ক্ষুদ্ধ আলোড়ন,
সাগরের গর্জনের মত অশান্ত, উদ্দাম।

তোমার মনের কথা আমার দুহাত ছুঁয়ে যাওয়া,
কি জানতে চাও বল? কেন আমি এতই বেপরোয়া?
অমিত তৃষ্ণা আমার, তাই আমি হয়েছি অবাধ,
নিষেধের বেড়াজাল ভেঙ্গে, নিয়েছি প্রেমের সাধ।
দুরন্ত স্রোতের মত, দিগন্ত রেখার টানে,
ছুটে গিয়েছি নিঃসীম শূণ্যের পানে।

সুহাসীনি শীতের ডালিয়া অথবা সুর্যমূখী, বৈকালের টলটলে জল সেচে,
তোমার হৃদয়ের সকল উষ্ণতা আমাকে দিয়েছ তুমি অতি নিঃসংকোচে।
ময়ুরাক্ষী নদীটির কলহাস্য যেন গানের আসরে তুলেছে বীণার ঝংকার,
মানস সরোবরে সদ্য প্রস্ফুটিত নীলপদ্ম সেজে হয়েছে অলিক উপহার।

যদি জানতে চাও, এই কাহিনীর ইতি ডাকবে কবে ?
আমি বলব, শেষ নেই, এ গল্প অবিরাম চলেই যাবে।
সেই জমি, কাজ, রাজনীতি আর মেয়ে মানুষের গল্পের মত,
জাহাজের ডেকে, রেলের বগিতে, বাসের সিটে, মানুষের মুখে যত,
কাহিনী বদলায় না, গল্প বদলায় না, বদলায় শুধু পাত্র,
তুমি আমি তো মহাকালের স্রোতে দুটি ক্ষুদ্র বিন্দু মাত্র।

কি উদ্দেশ্য? দোহাই তোমার, এমন প্রশ্ন করনা।
উদ্দেশ্যহীনভাবে কি ভালোবাসা যায়না?
জানি তুমি আমার অন্তরঙ্গতায়,
আবেগঘন স্পর্শকাতরতায়,
বিন্দুমাত্রও কুন্ঠিত নও,
বরং তুমি বারংবার কেবল স্পন্দিতই হও।

তবুও অতটা অশান্ত হবনা,
দূরেই থাকি, অত কাছে যাবনা,
ভয় হয়, আমার উত্তপ্ত স্পর্শে ,
যদি তুমি ছাই হও শেষে।

তুমি আমায় ভালোবেসেছিলে
– ড: রমিত আজাদ

তুমি আমায় ভালোবেসেছিলে,
আমি তোমায় ভালোবাসিনি।
তুমিও জানতে তা,
তবু তুমি এসেছিলে,
পাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে উদ্ভাসিত হৃদয়ে।

তোমার ভাষাহীন নির্বাক চোখ,
তমসায় ছেয়েছিল।
তোমার অভিমানি মন,
এ মনে পায়নি ঠাঁই।
পরাজিত প্রেম আকুল হয়ে ছুটেছে নিরুদ্দেশ,
বেদনার রং গায়ে মেখে নিয়ে বলেছিলে,
“আপনি মিথ্যে করে হলেও বলুন, ভালোবাসি”।
আমি মিথ্যে করে হলেও বলেছিলাম, “ভালোবাসি”।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা গবেষণামূলক প্রকাশনা জীবনী ও স্মৃতিকথা শিল্প ও ফটোগ্রাফি সৃজনশীল প্রকাশনা

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন

জয়নুল আবেদিনের যেমন ছিলেন একজন শিল্পী তেমনি ছিলেন এদেশের আধুনিক শিল্পকলা আন্দোলনের পথিকৃৎ। তাঁর মানবিক গুণাবলির জন্যেও তিনি বিখ্যাত ছিলেন। প্রচণ্ড শক্তিশালী এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল এক শিল্পী জয়নুল আবেদিন। শিল্পকলাকে কখনই তিনি সাধারণ জীবনের বাইরের কোন বিষয় বলে গণ্য করেননি। “শিল্পের জন্য শিল্প” এমন আদর্শের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলেন না জয়নুল আবেদিন। আবার প্রপাগন্ডা আর্টেও তিনি বিশ্বাস করতেন না। শিল্প জীবনেরই অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ, এটাই ছিল তাঁর দর্শন। তাঁর কাছে শিল্প হচ্ছে জীবনেরই এক প্রকাশ আর এর উদ্দেশ্য হলো মানব সমাজকে সমৃদ্ধ ও সুন্দর করে তোলা। সমাজে সুন্দরের প্রতিষ্ঠার আগেই অবশ্য সেখান থেকে সব ধরনের কদর্যতা অপসারণ আবশ্যক। এসব কদর্যতার মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও দৃশ্যমান অসমতা। জয়নুল তাঁর চার দশকের সুদীর্ঘ শৈল্পিক জীবনে একাগ্রভাবে শুধু সেই সামগ্রিক ও সমন্বিত পরিবেশটিরই প্রতিষ্ঠায় নিবিষ্ট ছিলেন যার মাধ্যমে সম্ভব হয় অথপূর্ণ নন্দনচর্চার অব্যাহত প্রয়াস। তাঁর শিল্প সব সময়েই সাধারণ মানুষের কথা বলেছে। তিনি নিজেও উঠে এসেছেন তাদের মধ্য থেকেই। তাদের জীবন, তাদের অন্তহীন সংগ্রাম, তাদের আশা ও আকাঙ্ক্ষা সব কিছুই তিনি অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে তাঁর কাজের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। গ্রামীণ দরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষ ও বাংলার নিসর্গ ছিল তাঁর অতি প্রিয় বিষয়।

জন্ম ও বংশ পরিচয়

জয়নুল আবেদিন ১৯১৪ সনের ২৯শে ডিসেম্বর বর্তমান বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার কিশোরগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। (সরকারি নথিপত্রে তাঁর জন্ম তারিখ অবশ্য ১৮ই নভেম্বর, ১৯১৪)। বাবার নাম তমিজউদ্দিন আহমেদ এবং মা জয়নাবুন্নেছা। বাবা ছিলেন পুলিশের সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর। তিনি ছিলেন পিতামাতার দ্বিতীয় সন্তান এবং জ্যেষ্ঠ পুত্র।

 

শিক্ষা জীবন ও শৈশব

ময়মনসিংহে তাঁর জীবনের শুরুতেই তিনি শৈল্পিক প্রতিভার পরিচয় দিয়েছিলেন। তবে বহু দূরের সেই শহর কলকাতায় গিয়ে শিল্পকলা শেখার দীর্ঘ এবং কঠিন ছাত্রজীবন শুরু না করা পযর্ন্ত স্বস্তি পাচ্ছিলেন না জয়নুল আবেদিন। ১৯৩০ সালে বাড়ি থেকে পালিয়ে বন্ধুদের সাথে কলকাতা গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টস দেখতে যান। ১৯৩৩ থেকে ১৯৩৮ সন পযর্ন্ত তিনি কলাকাতার সরকারি আর্ট স্কুলের ছাত্র ছিলেন। ১৯৩৩ সালে ম্যাট্রিক পরীক্ষার আগেই স্কুলের সাধারণ পড়ালেখার পাট চুকিয়ে কলকাতায় চলে যান এবং সেখানে গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টস-এ ভর্তি হন। ১৯৩৮ সালে কলকাতার গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টসের ড্রইং এ্যান্ড পেইন্টিং ডিপার্টমেন্ট থেকে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

ব্রহ্মপুত্র নদের প্লাবন অববাহিকার অত্যন্ত শান্ত সুনিবিড় ও রোমান্টিক পরিবেশে তিনি বেড়ে উঠেছেন। তাঁর শৈশব এবং তারুণ্যের প্রধানতম অর্জন ছিল বলতে গেলে এই প্রাকৃতিক ঐশ্বর্যের অভিজ্ঞতা। তাঁর শৈল্পিক মানসিকতা নির্মাণে প্রকৃতির প্রভাব ছিল অসামান্য ও সুদূরপ্রসারী। তিনি বলতে ভালোবাসতেন, “নদীই আমার শ্রেষ্ঠতম শিক্ষক”।

শৈশবে তাঁর ওপর প্রকৃতির প্রভাব এবং কলকাতায় আর্ট স্কুলে ইউরোপীয় একাডেমিক বাস্তববাদী ধারার শিল্পাঙ্কন পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ তরুণ জয়নুল আবেদিনকে গ্রামীণ নিসর্গশিল্পী হিসেবে গড়ে তোলে। একাডেমিক ধারার সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকেও তিনি বিহারের সাঁওতাল পরগনা ও ময়মনসিংহের নিসর্গ দৃশ্যের ওপর বেশ কিছু স্মরণীয় স্কেচ এবং জলরং চিত্র এঁকেছেন।

 

কর্মজীবন

১৯৩৮ সালে শেষ বর্ষের ছাত্র থাকাকালীন সময়েই কলকাতার গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টসের শিক্ষক হিসেবে নিযুক্তি পান। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর তৎকালীন পাকিস্তানের প্রদেশ পূর্ববঙ্গের রাজধানী ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকার আরমানিটোলায় অবস্থিত নর্মাল স্কুলে আর্ট শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন এবং শ্বশুরালয় ১২ নম্বর আবদুল হাদী লেনে বসবাস করতে থাকেন।

১৯৪৮ সালে ঢাকাতে প্রদেশের প্রথম আর্ট স্কুল, গভর্নমেন্ট ইন্সটিটিউট অব আর্টস প্রতিষ্ঠার যাবতীয় পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন। এতে তাঁর কয়েকজন শিল্পী সহযোগীও উদ্যোগী ভূমিকা রাখেন। জয়নুল আবেদিন ইন্সটিটিউটের প্রথম ‘প্রিন্সিপাল ডেজিগনেট’ হন এবং পাকিস্তানের রাজধানী করাচীতে কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য ও প্রকাশনা বিভাগের মুখ্য নকশাবিদ হিসেবে যোগদানের জন্যে ৩রা আগস্ট, ১৯৪৮, করাচীর পথে ঢাকা ত্যাগ করেন। করাচী থাকাকালীন সময়ের উল্লেখযোগ্য কাজ, “কায়েদে আজমের মাজারের পথে।”

শিল্পী হিসেবে তাঁর খ্যাতি, অসাধারণ সাংগঠনিক মেধা, তৎকালীন শিল্পী সহকর্মী ও বন্ধুদের সহযোগিতা এবং কতিপয় বাঙালী সরকারী কর্মকর্তার সাহায্য ইত্যাদি সব কিছু মিলিয়েই সম্ভব হয়েছিল ১৯৪৮ সনে দেশের প্রথম আর্ট স্কুলের প্রতিষ্ঠা।তখন এর নাম ছিল ‘গভর্মেন্ট ইনস্টিটিউট অফ আর্ট’ পুরাতন ঢাকার জনসন রোডে অবস্থিত ন্যাশনাল মেডিকেল স্কুল ভবনে দুটো কক্ষে গভর্নমেন্ট ইন্সটিটিউট অব আর্টস-এর ক্লাস শুরু হয় নভেম্বর মাসে। শিল্পী আনোয়ারুল হক অস্থায়ী প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪৯ সালে ২৮শে ফেব্রুয়ারি তারিখে জয়নুল করাচী থেকে ঢাকায় ফেরেন এবং ১লা মার্চ ইন্সটিটিউটের প্রথম স্থায়ী প্রিন্সিপাল হিসেবে কার্যভার গ্রহণ করেন। ১৯৭২ সালে বাংলা একাডেমীর সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ১৯৭৪ সন পর্যন্ত এই পদে বহাল থাকেন। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর অন্যতম উপদেষ্টা মনোনীত হন। যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়াস্থ ‘কংগ্রেস ফর ওয়ার্ল্ড ইউনিটি’র সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় অধ্যাপক নিযুক্ত হন এবং আমৃত্যু এই পদে অধিষ্ঠিত থাকেন।

 

পারিবারিক জীবন

১৯৪৬ সালে জয়নুল আবেদিন ঢাকা নিবাসী তৈয়ব উদ্দিন আহমদের কন্যা জাহানারা বেগমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। জয়নুল আবেদিন তিন পুত্রের জনক। তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র সাইফুল আবেদিন (টুটুল) স্থপতি। বর্তমানে তিনি আমেরিকা প্রবাসী। দ্বিতীয় পুত্র খায়রুল আবেদিন (টুকুন), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূগোল বিষয়ে এম.এ এবং কনিষ্ঠ পুত্র মঈনুল আবেদিন (মিতু) প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পানি-সম্পদ প্রকৌশল বিদ্যায় স্নাতক।

 

১৯৪৩-এর বাংলার দুর্ভিক্ষ ও জয়নুল আবেদিন

images cover13

তিনি ১৯৩৮ সনে নিখিল ভারত চিত্র প্রদর্শনীতে গভর্নরের স্বর্ণপদক লাভ করেন। এ পুরস্কার ছিল ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদ নিয়ে আঁকা তাঁর একগুচ্ছ জলরং ছবির জন্যে। এরপর আরো কিছুকাল পর্যন্ত জয়নুল আবেদিন প্রাকৃতিক পরিবেশেরই এক রোমান্টিক রূপকার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি তখন ছিলেন এক অরাজনৈতিক ব্যক্তি, একজন বিশ্বস্ত নিসর্গশিল্পী। কিন্তু ১৯৪৩-এর বাংলার দুর্ভিক্ষ জয়নুল আবেদিনকে একেবারে বদলে দেয়। গ্রাম-বাংলার রোমান্টিক নিসর্গশিল্পীকে রূপান্তরিত করে ফেলে এক দুর্দান্ত বিদ্রোহী ব্যক্তিত্বে। অতঃপর সারাটি জীবনই বিক্ষুব্ধ থেকে গেছেন তিনি।

দুর্ভিক্ষ শুরু হওয়ার পরপরই জয়নুল তাঁদের ময়মনসিংহের বাড়িতে ফিরে যান। সেখানেও দুর্ভিক্ষের যে মর্মান্তিক দৃশ্যাবলি দেখতে পান তাতে তিনি ভীষণভাবে ব্যথিত হন এবং আবার কলকাতায় ফিরে আসেন। কিন্তু দুর্ভিক্ষপীড়িত দুস্থ মানবতা যেন সে যাত্রায় তাঁর সঙ্গী হয়ে আসে। তেতাল্লিশের কলকাতা মহানগরে ঘটেছে মানবতার চরম অবমাননা। ডাস্টবিনের উচ্ছিষ্ট থেকে খাদ্যান্বেষণে তীব্র প্রতিযোগিতা চলেছে মানুষ আর কুকুরের মধ্যে। ঊনত্রিশ বছর বয়স্ক জয়নুল এ রকম অমানবিক দৃশ্যে প্রচণ্ডভাবে মর্মাহত হন, আতঙ্কে শিউরে ওঠেন, আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কিন্তু সে আবেগ তিনি কাজে লাগান সেসব দৃশ্যাবলির শিল্পরূপ দিতে। অন্যভাবে বলা যায় সেই আবেগই তাঁকে তাড়িত করে, বাধ্য করে অমানবিক পরিস্থিতির এক মানবিক নির্মাণে। তিনি রাতদিন শুধু কলকাতার দুর্ভিক্ষের সেসব নারকীয় দৃশ্যাবলির স্কেচ করতে থাকেন।

জয়নুল তখন আর্ট স্কুলের একজন শিক্ষক, তাঁর আয় সামান্য। দুর্ভিক্ষের বাজারে উন্নতমানের শিল্পসামগ্রী তখন যেমন ছিল দুর্লভ তেমনি দুর্মূল্য। সে কারণে তিনি বেছে নেন শুধু কালো কালি আর তুলি। শুকনো তুলিতে কালো চীনা কালির টানে স্কেচ করতে থাকেন অতি সাধারণ সস্তা কাগজের ওপর। ব্যবহার করেছেন কার্টিজ পেপার। এসব কাগজ ছিল ঈষৎ পীত বর্ণের। এমনকি তিনি প্যাকেজিং কাগজও ব্যবহার করেছেন। সাধারণ স্বল্পমূল্যের এসব অঙ্কন সামগ্রী ব্যবহার করে তিনি যে শিল্প সৃষ্টি করলেন তাই পরিণত হলো অমূল্য সম্পদে। এমন এক অসাধারণ শক্তিশালী অঙ্কন শৈলীর মাধ্যমে তিনি দুর্ভিক্ষের করুণ বাস্তব দৃশ্যাবলি চিত্রায়িত করলেন, যার কোন পূর্ব দৃষ্টান্ত উপমহাদেশের চিত্রঐতিহ্যে ছিল না। জয়নুলের দুর্ভিক্ষের স্কেচগুলো দেখার পর “ভারতের নাইটিঙ্গেল” শ্রীমতি সরোজিনি নাইডু মন্তব্য করেছিলেন, “সব চাইতে মর্মস্পর্শী ও আবেগময় বর্ণনার চাইতেও তাঁর এসব ছবির আবেদন অধিকতর”। সমসাময়িক এক শ্রদ্ধাভাজন শিল্পসমালোচক ছিলেন ও.সি. গাঙ্গুলী। ১৯৪৪ সনে তিনি জয়নুলের দুর্ভিক্ষের ড্রইং সম্পর্কে লিখেছেন, “তাঁর এসব নির্মম তুলির টানের দুঃসাহসিকতার মধ্যে একাধারে ছিল স্বতঃস্ফূর্ততা ও সততা এবং তার সাথে আবার যুক্ত হয়েছিল আপোসহীন বাস্তবতা, যা কিনা বাংলার আধুনিক শিল্পীদের কাজে একেবারেই বিরল এক বৈশিষ্ট্য। তাঁর এই অসাধারণ কাজের মাধ্যমে তিনি আধুনিক চিত্রকালার এক নতুন অধ্যায় উন্মোচন করলেন। জয়নুলের ড্রইংগুলো ১৯৪৩-এর বাংলার ইতিহাসের ক্ষেত্রে এক অমূল্য বিশ্বস্ত দলিল হয়ে থাকলো। মানব জীবনের শোচনীয় পরিণতির মধ্যেও সৌন্দর্যের পূজারী হিসেবে এই শিল্পী বাংলার বিদ্যমান সস্তা ভাবপ্রবণ নিম্ন পর্যায়ের চিত্রধারাকে উন্নীত করলেন এক সম্মানজনক স্তরে”। জয়নুল আবেদিনের দুর্ভিক্ষের স্কেচগুলো শুধুমাত্র সমাজ বাস্তবতার স্মারক হিসেবেই নয়; বরং যুগপৎভাবে এগুলোর শৈল্পিক উৎকর্ষতার জন্যেও গুরুত্বপূর্ণ। ও.সি. গাঙ্গুলির বস্তনিষ্ঠ মূল্যায়নের সাথে আমরা আরো যোগ করতে পারি ১৯৫২ সনে প্রদত্ত প্রখ্যাত বৃটিশ শিল্পসমালোচক স্যার এরিখ নিউটনের মন্তব্য, “এগুলো অত্যন্ত চমৎকার ড্রইং, এগুলোর মধ্যে সেই অসম্ভব ব্যাপরটিই ঘটেছে, এক অভূতপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের”।

Shilparcho_Joynul_Abedin_bathingRebelCowAbedin

তাঁর দুর্ভিক্ষের চিত্রমালার মাধ্যমেই জয়নুল আবেদিন চিহ্নিত হলেন বাংলার শিল্পকলার প্রথম সমাজ বাস্তবতার শিল্পী হিসেবে। এটা অবশ্যই এক আশ্চর্য ঘটনা যে জয়নুলের আরেক সমকালীন মুসলমান, কাজী নজরুল ইসলামও মাত্র দু’দশক আগে ধূমকেতুর মতো আবির্ভূত হয়েছিলেন শোষিত নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠ হিসেবে তাঁর বিখ্যাত “বিদ্রোহী” কবিতার মাধ্যমে। নজরুল ইসলাম বিদ্রোহী ছিলেন, রাজনৈতিক চেতনায় এবং তাঁর কাব্যে। তিনি বৃটিশ রাজের বিরুদ্ধে তাঁর কণ্ঠ উচ্চকিত করেছেন আবার অন্যদিকে তৎকালীন কবিতায় প্রভাবশালী রাবীন্দ্রিক বলয় ভেঙেছেন। জয়নুল আবেদিনও তাঁর সমসাময়িক প্রতিপত্তিশালী ভারতীয় নব্য ধ্রুপদী ধারার চিত্র ধারার বাইরে অবস্থান করতে প্রয়াসী হয়েছিলেন। এই ধারাটির প্রবর্তন করেছিলেন আবার ঠাকুর পরিবারের আরেক ব্যক্তিত্ব, রবীন্দ্রনাথের ভ্রাতুষ্পুত্র অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর। অবনীন্দ্রনাথের অত্যন্ত শীতল ও রীতিবদ্ধ নব্য ধ্রুপদী ধারা কিংবা “বেঙ্গল স্কুলের” চিত্রধারার চাইতে পাশ্চাত্যের বাস্তবতাভিত্তিক চিত্রধারাই প্রথম থেকে জয়নুল আবেদিনের অধিকতর পছন্দ ছিল। এরই ফলশ্রুতিতে দুর্ভিক্ষ নিয়ে চিত্রমালার শক্তিশালী বাস্তববাদী-প্রতীকী স্কেচগুলো বেরিয়ে এসেছে বলে মনে হয়।

বিদ্রোহী কবির মতোই জয়নুল আবেদিনও মানবতাবাদ ও সমাজতন্ত্রের পক্ষে ভূমিকা রেখেছেন। ১৯৪৩-এর দুর্ভিক্ষ নিয়ে সে বছরই কলকাতায় যে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল তাতে জয়নুল তাঁর দুর্ভিক্ষ নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। কম্যুনিস্ট পার্টির মুখপত্র The People’s War পত্রিকায় ১৯৪৫ সনের ২১শে জানুয়ারি সংখ্যায় জয়নুলের ওপর একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। এতে জয়নুলকে “এক তরুণ বাঙালি মুসলমান” হিসেবে পরিচয় করানো হয়। সাথে ছিল তাঁর একটি ফটোগ্রাফ এবং দুর্ভিক্ষ চিত্রমালার তিনটি ছবির প্রতিলিপি। কাগজটি তাঁর সম্বন্ধে লিখেছিল, “বাঙলার ফ্যাসিবাদবিরোধী লেখক ও শিল্পীসংঘের একজন সদস্য জয়নুল। এই সংঘটি সমগ্র বাংলার সকল শিল্পী ও লেখকের এ রকম একটি প্রতিষ্ঠান যার প্রধান কর্তব্যই ছিল সমস্যাতাড়িত জনগণকে সাহায্য করা। আর এতে কোন সন্দেহ নেই যে, সে সকল সময়েই এঁদেরই একজন অগ্রণী সদস্য থাকবে।” জয়নুল সম্পর্কে পত্রিকাটির মূল্যায়ন বস্তুতই অত্যন্ত সঠিক ছিল একথা পরবর্তীকালে প্রমাণিত হয়েছে।

 

শিল্প আন্দোলনের কর্ণধার

১৯৪৭ সনে উপমহাদেশে দুটো স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হলো, তারপর জয়নুল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র পাকিস্তানের অন্যতম প্রদেশ পূর্ব বাংলার রাজধানী ঢাকায় চলে আসেন। তিনি কলকাতা আর্ট স্কুলে তাঁর চাকরিটি ছেড়ে ঢাকায় এসে নর্মাল স্কুলের অঙ্কন শিক্ষকের কাজ পান। কিন্তু তখন থেকেই তিনি এদেশে শিল্প আন্দোলন শুরুর গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করেন। তখনকার সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবায় তাঁর এই উদ্যোগটি ছিল রীতিমতো বিপ্লবাত্মক ঘটনা। তাঁর শিল্পী হিসেবে খ্যাতি, অসাধারণ সাংগঠনিক মেধা, তৎকালীন শিল্পী সহকর্মী ও বন্ধুদের সহযোগিতা এবং কতিপয় বাঙালি সরকারি কর্মকর্তার সাহায্য ইত্যাদি সব কিছু মিলিয়েই সম্ভব হয়েছিল ১৯৪৮ সনে এদেশের প্রথম আর্ট স্কুলের প্রতিষ্ঠা। তখন এর নাম ছিল “গভর্নমেন্ট ইনস্টিটিউট অব আর্টস”। এই ইনস্টিটিউটকে গড়ে তোলার গুরুদায়িত্ব তিনি গ্রহণ করেন এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষরূপে। মাত্র দু’কামরার সেই ইনস্টিটিউটটিকে ১৯৫৬ সনের মধ্যেই তিনি এক অতি চমৎকার আধুনিক প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করেন। পরবর্তীকালে এটি পূর্ব পাকিস্তান চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয় এবং স্বাধীনতার পরে বাংলাদেশ চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। (আরো পরে মহাবিদ্যালয়টি সরকারি নিয়ন্ত্রণ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হস্তান্তরিত হয় এবং এর বর্তমান পরিচয় চারুকলা ইনস্টিটিউট নামে)। কলেজ ক্যাম্পাসের নকশা নির্মাণে জয়নুল আবেদিন বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ স্থপতি মাজহারুল ইসলামকেই দায়িত্ব দিয়েছিলেন। চারুকলা কলেজ/ইনস্টিটিউটের ক্যাম্পাসের যে নান্দনিকতা তা এদেশের ক্যাম্পাস স্থাপত্যের এক মানদণ্ড হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে।

ইতিমধ্যে ১৯৫১-৫২তে জয়নুল আবেদিন সরকারি বৃত্তি নিয়ে এক বছরের জন্যে ইংল্যান্ডে যান। সেখানে অবস্থানকালে তিনি বিভিন্ন চারুকলা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। তিনি তাঁর নিজের শিল্পকর্মের প্রদর্শনীও করেন। তাঁর কাজ ইংল্যান্ডের বিদগ্ধজনের অকুণ্ঠ প্রশংসা অর্জন করে। তাঁর এই ইংল্যান্ড ভ্রমণটি শুধুমাত্র যে তাঁকে পাশ্চাত্য জগতে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল তাই নয়, এতে করে তাঁর দৃষ্টি আরো প্রসারিত হয় এবং সম্ভবত এর মাধ্যমেই বাংলাদেশের চারুকলা চর্চা শুরু থেকেই এক প্রাণবন্ত আধুনিকতার চরিত্র গ্রহণ করতে পেরেছিল। আবেদিনের এই ইউরোপ ভ্রমণ তাঁকে বাংলার সমৃদ্ধ লোকশিল্পের মর্যাদা ও গুরুত্ব সম্পর্কেও বিশেষভাবে সচেতন করে তোলে। জয়নুল তাঁর ছাত্রাবস্থায় ও তারুণ্যে যদিও অবনীন্দ্রনাথের নব্য-ধ্রুপদী ধারা কিংবা যামিনী রায়ের বাংলার লোক-ঐতিহ্যসমৃদ্ধ শিল্পশৈলীর প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন না, তবে ‘৫২তে বিলেত থেকে ফিরে এসে তিনি এদেশের স্থানীয় শিল্প-ঐতিহ্যের সাথে পাশ্চাত্যের আধুনিক শিল্প-আন্দোলন ও কৌশলাদির সমন্বয় সাধনে ব্রতী হন। ইতিমধ্যে তিনি নানান অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন। তৎকালীন বিদ্যমান রাজনৈতিক আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি থেকেই তিনি বাঙালি সংস্কৃতির ওপর বৈরী পশ্চিম পাকিস্তানি আধিপত্যবাদী মনোভাব সম্পর্কে সচেতন হন। তিনি তখন থেকেই চিত্রকলায় এক ধরনের আধুনিক বাঙালিত্ব ফুটিয়ে তোলার পক্ষে সুস্পষ্ট ও জোরালো মত ব্যক্ত করতে থাকেন। তাঁর এই মানসিকতা তাঁর নিজের কাজের মধ্যেও প্রতিফলিত হয়েছে। ১৯৫১ সনে এবং এর অব্যবহিত পরে আঁকা তাঁর ছবিতে একটি অসাধারণ আঙ্গিকের পরিচয় পাওয়া যায়। এই আঙ্গিকের প্রাথমিক পর্যায়ে দেখা যায়, জয়নুল গ্রাম বাংলার অতি সাধারণ প্রাত্যহিক অথচ অত্যন্ত প্রতীকী গুরুত্বসম্পন্ন দৃশ্যাবলি এঁকেছেন। ১৯৪৩-এর দুর্ভিক্ষ চিত্রমালার সেই তুলির বলিষ্ঠতা ও সাবলীলতা আবার প্রাণ পেয়েছে এ সময়ের কাজে। অধিকাংশ কাজ জলরং বা গোয়াশে করা। ব্যবহৃত জলরংঙের বৈশিষ্ট্য হালকা এবং অনুজ্জ্বল, তুলির টান এবং কম্পোজিশন বা স্পেস ব্যবহার অত্যন্ত প্রাচ্যধর্মী। অন্যদিকে বিষয় উপস্থাপনা ও ড্রইং পাশ্চাত্য-বাস্তবধর্মী। এভাবে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের এক অপরূপ সমন্বয় ঘটেছে তাঁর শিল্পকর্মে। তাঁর “ঝড়” শীর্ষক ছবিটি এক অসাধারণ কাজ। এতে বাংলাদেশের কালবৈশাখীর আকস্মিকতা ও উদ্দামতা ধরা পড়েছে অতি চমৎকারভাবে। বিন্যাসের সংক্ষিপ্ততায় ছবিটি আকর্ষণীয়। একইভাবে আরেকটি সুন্দর জলরং ছবি “মই দেয়া”। তবে এই সিরিজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সম্ভবত মাঝারি সাইজের একটি জলরং, যার শিরোনাম “বিদ্রোহী”। পরবর্তী সময়ে এটি একটি প্রতীকে রূপান্তরিত হয়েছে। একটি অবাধ্য গাভী ষাড়ের মতো প্রচণ্ড শক্তিতে তার বাঁধন ছিঁড়ে ছুটে যাচ্ছে। তুলির টানের শক্তি ও সাবলীলতা অসাধারণ। ক্ষিপ্রতার সাথে আঁকা হলেও ছবিতে বিভিন্ন অংশের সূক্ষ উপস্থাপনায় চরম মুন্সিয়ানা ধরা পড়ে। পাকানো দড়ি কিংবা গরুটির পায়ের খুর, এসবের ডিটেলস লক্ষণীয়। এই আঙ্গিকে তিনি ছবি এঁকেছনে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে। সুগঠিত সুন্দর সাঁওতাল নরনারীকে বিষয় করে চিত্তাকর্ষক ছবিও এঁকেছেন।

এর পরপরই ‘৫২-৫৩তে জয়নুল গড়ে তোলেন এক চমৎকার নতুন ঢং, যাকে “আধুনিক বাঙালি ঢং” বলা চলে। এই ঢঙের কাজের সাথে যামিনী রায়ের ছবির ঢঙের সামঞ্জস্য দেখা যায়। জয়নুলের এই ঢঙের কাজে বাংলার লোক-শিল্পের নানা মটিফ এবং রং বিন্যাসের প্রভাবও লক্ষণীয়। তাঁর এ সময়ের কাজগুলোকে রোমান্টিক মেজাজের বলে চিহ্নিত করা যায়। বছর কয়েক আগে জয়নুল বিয়ে করেছেন, তাঁর সন্তানদের জন্ম হয়েছে এরই মাঝে। তাঁর ঢঙের ছবি সবই অবয়বভিত্তিক, তবে তাঁর এই ঢঙের ছবি সবই অবয়বভিত্তিক, তবে তাঁর নিজস্ব নতুন আঙ্গিকেই উপস্থাপিত। আধাবিমূর্ত, জ্যামিতিক ফর্মে নির্মিত হয়েছে মানব-মানবীর শরীর। অনেক ক্ষেত্রে প্রথাগত পারসপেকটিভের শর্ত মানা হয়নি। জলরং, গোয়াশ এবং তেলরং, নানা মাধ্যমে আঁকা ছবির এক সাধারণ বৈশিষ্ট্য উজ্জ্বল প্রাথমিক রঙের ব্যবহার। ছবিগুলো আকারে আয়তনে ছোট বা মাঝারি। অধিকাংশ ছবি মহিলাদের জীবনযাপন নিয়ে, এসব ছবিতে পল্লী-রমণীগণ নদীর ঘাটে যাচ্ছে জল আনতে বা স্নান করতে। অনাবিল প্রশান্তিতে প্রসাধানে নিযুক্ত, একক, যুগল কিংবা ত্রয়ী মহিলার চিত্র। মা ও শিশুও রয়েছে। গ্রামীণ কর্মী পুরুষের জীবনও ধরা পড়েছে এই সময়কার কাজে। একটি গোটা সিরিজ গড়ে উঠেছে এসব ছবি নিয়ে। এগুলোর মধ্যে কিছু স্মরণীয় কাজ হলো ‘নৌকোর গুণটানা’, ‘পল্লী-রমণী’, ‘আয়না নিয়ে বধূ’, ‘একাকী বনে’, ‘পাইন্যার মা’, ‘মা ও শিশু’, ‘তিন পল্লী রমণী’, ‘মুখ চতুষ্টয়’ ইত্যাদি।

জয়নুলের এই ‘আধুনিক বাঙালি’ রীতির কাজগুলো দেখে একজন বৃটিশ শিল্পসমালোচক, রিচার্ড উইলসন, ১৯৫৫ সনে লিখেছেন, “এক হিসেবে বলতে হয় তাঁর এসব কাজ পাক-ভারতীয় চিত্রকলার আধুনিক যুগে উত্তরণের সূচনা করেছে। ভারত ও পাকিস্তানের তিনিই প্রথম শিল্পী যিনি অত্যন্ত সফলতার সাথে বিমূর্ত চিত্রকালার টেকনিক ও স্থানীয় ঐতিহ্যের সমন্বয় ঘটাতে পেরেছেন, অনুকরণের ওপর মোটেও গুরুত্ব দেননি।”

 

সংগ্রামী জয়নুল

জয়নুল আবেদিন অবশ্য তাঁর এই শিল্প আঙ্গিকটি খুব বেশি দিন ধরে রাখেননি। পঞ্চাশ দশকের শেষ ভাগেই তিনি বরং ফিরে যান তাঁর প্রথম পযার্য়ের বাস্তবধর্মী আঙ্গিকে যার বৈশিষ্ট্য ছিল গতিময় ও শক্তিশালী রেখা। মাঝে মধ্যে তিনি বিমূর্ত প্রকাশবাদী আঙ্গিকে কিছু ছবি এঁকেছেন তবে তাঁর স্বাচ্ছন্দ্য ছিল বাংলার খেটে খাওয়া কর্মীমানুষের জীবন সংগ্রামের ছবি আঁকাতেই। ১৯৫৯ সনে আঁকা “সংগ্রাম” শিরোনামে তাঁর বিশাল তেলরঙের একটি কাজ এই ধারারই প্রতীক। এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে গরুর গাড়ির এক চালককে প্রাণপণ শক্তিতে কাদার মধ্যে আটকে পড়া তার গাড়িটিকে ঠেলে তুলতে। চালকের এই সংগ্রাম, এক নিঃসঙ্গ একক মানুষের সংগ্রাম। এ যেনো সিসিফাসের সংগ্রাম। এ সংগ্রামের কোন শেষ নেই।

১৯৬৯ সনের গণ-আন্দোলন তৎকালীন স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিল। স্বৈরশাসনের শুরু ১৯৫৮ সনের সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে। বাংলাদেশে (অর্থাৎ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে) বাঙালির রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির দাবিই ছিল গণ-আন্দোলনের মূল কথা। তখন এদেশের চিত্রশিল্পীরাও জয়নুল আবেদিনের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ হন এবং ১৯৭০ সনের ফেব্রুয়ারি মাসে আর্ট কলেজে “নবান্ন” শীর্ষক এক বিশাল প্রদর্শনীর আয়োজন করেন। আপাদমস্তক এক বাঙালি জাতীয়তাবাদী, জয়নুল, বাংলার মানুষের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। শহীদ মিনারের সামনে প্রদর্শনের জন্যে তিনি ব্যানার এঁকেছেন, ২১শে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে প্রকাশিত লিটল ম্যাগাজিনগুলোর জন্যে প্রচ্ছদ এঁকে দিয়েছেন, লিখেছেনও এগুলোতে, আর মিছিলেও তিনি অংশ নিয়েছেন। এমনকি তিনি জননেতা মাওলানা ভাসানীর সাথে ১৯৭১-এর ফেব্রুয়ারি মাসে ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত বিশাল জনসভায় ভাষণও দিয়েছেন। এভাবে দেখা যায় জয়নুল ছিলেন তাঁর সমকালীন মেক্সিকোর শিল্পী ডেভিড সিকিওরসের ভাষার সেই “বিপ্লবী সমাজবাদী শিল্পী”। উল্লেখ্য, সিকিওরসের সাথে জয়নুলের দেখা হয়েছিল সিকিওরসের দেশ মেক্সিকোতে। জয়নুল ১৯৫৬-৫৭ সালে বিশ্ব ভ্রমণের এক পর্যায়ে মেক্সিকো বেড়াতে গিয়ে সিকিওরসের সাথে দেখা করেন।

১৯৬৮ সনের ‘নবান্ন’ প্রদর্শনীতে এরই জন্যে বিশেষভাবে আঁকা ৬৫ ফুট দীর্ঘ একটি স্ক্রল চিত্র নিয়ে নেতৃত্ব দেন জয়নুল আবেদিন। স্ক্রলের কাগজের প্রস্থ ছিল ৪ফুট। কালো চীনা কালি, জলরং আর মোম ব্যবহার করেছেন স্ক্রলটি আঁকতে। এই চিত্রমালায় তিনি তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের হাজার বছরের ইতিহাস। “সোনার বাংলা”-র সুখ ও শান্তির দিনের চিত্র দিয়ে শুরু, তারপর ঔপনিবেশিক শাসনের যাঁতাকলে নিষ্পেষিত বাংলার ক্রম-নিঃস্বতার পরিণতি, চরম দারিদ্র্যাবস্থা, দুর্ভিক্ষ এবং অবধারিতভাবে দুঃখী দরিদ্র মানুষের গ্রামত্যাগী হয়ে শহরমুখী যাত্রা। এ এক মহা আলেখ্য।

স্পর্শকাতর দৃশ্যাবলি, হৃদয় স্পর্শী উপস্থাপনা, অত্যন্ত সহজ সরল আঙ্গিক ও ঢং অথচ অসাধারণ তার আবেদন। হাজার হাজার মানুষ ‘নবান্ন’ প্রদর্শনীতে এসে এই ছবি দেখেছে। পরে তাঁর শান্তিনগরের বাড়িতে গিয়েও অনেকে দেখেছে। তাঁর বাড়ি ছিল যেনো এক খোলামেলা জাদুঘর। সবার ছিল অবারিত প্রবেশাধিকার। তিনি দর্শকদের উৎসাহ দিতেন ‘নবান্ন’ দীর্ঘচিত্রের এক প্রান্তে তাঁদের নিজের নাম সই করতে। অসংখ্য দর্শক তাদের নামের স্বাক্ষর রেখেছে ছবিটিতে। এভাবে তিনি মানুষকে তাঁর শিল্পকলার সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। এদের মধ্যে যেমন ছিলেন দেশ ও বিদেশের নামিদামি মানুষ, তেমনি ছিল বাংলার সাধারণ মানুষ।

জয়নুল আবেদিন ছিলেন মুক্তিকামী মানুষ। স্বাধীনতা ও মুক্তির জন্যে যাঁরা সংগ্রাম করেন তাঁদের সবার সাথেই একাত্মতা জানাতে উৎসাহী ছিলেন তিনি। ১৯৭০ সনে যখন তাঁর বয়স প্রায় ৫৬, তিনি আরব লীগের আমন্ত্রণে ছুটে যান মধ্যপ্রাচ্যের সমর ক্ষেত্রে। আল-ফাতাহ গেরিলাদের সাথে চলে যান যুদ্ধফ্রন্টে। সেখানে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের ছবি আঁকেন, তাঁর সেসব ছবির প্রদর্শনী হয় একাধিক আরব দেশে। মুক্তিযোদ্ধারা তাতে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন।

প্যালেস্টাইন থেকে দেশে ফিরতে না ফিরতে জয়নুলের নিজের দেশেই এক প্রলয়ঙ্করী ঝড় আঘাত হানে দেশের উপকূলীয় এলাকায়। তিন লক্ষাধিক মানুষ এই ঝড় ও সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসে প্রাণ হারায়। প্রচণ্ড মানসিক ধাক্কা খান জয়নুল আবেদিন। কিন্তু বসে না থেকে একটি রিলিফ টিমের সাথে ছুটে যান দুর্যোগাক্রান্ত এলাকায়। দুঃখী জনগণের পাশে গিয়ে দাঁড়ান। পরে তিনি সেখানকার মর্মস্পর্শী দৃশ্যাবলির কিছু কিছু তুলে ধরেন তাঁর তুলিতে, কালিতে। ‘নবান্ন’ আঙ্গিকেই আকেঁন আবার একটি দীর্ঘচিত্র বা স্ক্রল। ‘মনপুরা ৭০’ শীর্ষক এই স্ক্রলটি ছিল ৩০ ফুট দীর্ঘ। কালো কালি এবং মোম সহযোগে আঁকা হয়েছে স্ক্রলের ছবি। এতে দেখানো হয়েছে স্তূপীকৃত লাশের দৃশ্য। এ ছবির সামনে দাঁড়িয়ে জয়নুল দুঃখ ভারাক্রান্ত হয়ে বলতেন “আমরা শুধু মৃত্যুতেই একতাবদ্ধ হই” । তবে স্ক্রলটির একেবারে শেষ প্রান্তে শিল্পী স্থাপন করেন এক বলিষ্ঠ পুরুষকে। এখনো জীবিত এবং মাথা নিচু করে বসে আছে ধ্বংসস্তূপ থেকে বাঙালির সম্ভাব্য পুনরুত্থানের প্রতীক হিসেবে।

সত্তরের ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত সেরে উঠতে না উঠতেই শুরু হলো মুক্তিযুদ্ধ। নিজ দেশে বন্দি জীবন কাটাতে বাধ্য হলেন জয়নুল। পালিয়ে পালিয়ে বেড়ালেন কিন্তু সবর্ক্ষণই তাঁর দুর্ভিক্ষ চিত্রমালা আঁকড়ে ধরে রাখলেন।

মুক্তিযুদ্ধ জয়নুলের মনে প্রচণ্ড আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিজয় অর্জনের পর পরই তিনি পুর্ণোদ্যমে লেগে যান শিল্পচর্চা সংগঠনের কাজে। এবারে লোকশিল্প তাঁর কাছে প্রাধান্য পেতে থাকে। স্বাধীনতার অব্যবহিত পরেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার জয়নুল আবেদিনকে দায়িত্ব দেন বাংলাদেশের সংবিধানটির অঙ্গ সজ্জার জন্যে। তিনি প্রবল উৎসাহের সাথে কাজটি সমাধা করেন। তাঁকে সাহায্য সহযোগিতা করেন আরো কয়েকজন শিল্পী। কিন্তু পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক সংকট তাঁকে অত্যন্ত ব্যথিত করে। তাঁর কর্মচাঞ্চল্যে কিছুটা ভাটা পড়তে থাকে। তাঁর মন খারাপ হতে থাকে। সুপুরুষ স্বাস্থ্যবান দীর্ঘদেহী জয়নুলের স্বাস্থ্য দ্রুত ভেঙে পড়তে থাকে। তিনি যেন বুঝতে পেরেছিলেন, তাঁর সময় দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। তিনি ছুটলেন তাঁর আজীবন লালিত স্বপ্ন “লোকশিল্প জাদুঘর” প্রতিষ্ঠার কাজে। তাঁর ইচ্ছে ছিল এই জাদুঘরে সংরক্ষিত হবে দেশের মূল্যবান লোকশিল্প, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এখান থেকেই নতুন প্রেরণা পাবে। জয়নুল তাঁর নিজের শিল্পকর্ম সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের জন্যেও একটি চিত্রশালা প্রতিষ্ঠার কথা ভেবেছেন। এসব কাজের মন্যে সরকার সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেছিলেন। প্রয়োজনীয় কিছু অর্থ মঞ্জুরিও দিয়েছিলেন। কঠোর পরিশ্রম করে এ দুটো প্রতিষ্ঠানেরই বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার শুরুটা তিনি তাঁর মৃত্যুর আগেই দেখে যেতে পেরেছেন।

দীর্ঘ ছ’মাস ফুসফুসের ক্যান্সারে ভুগে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। সরকার দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ শিল্পীর চিকিৎসার জন্যে সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন। কিন্তু মাত্র ৬২ বছর বয়সেই তাঁর জীবনাবসান হলো। অবশ্য জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি আঁকার কাজ অব্যাহত রাখেন। ১৯৭৬ সনের ২৮শে মে তারিখে তাঁর মৃত্যুর মাত্র ক’দিন আগে হাসপাতালে শুয়ে তিনি তাঁর নিজস্ব ঢঙে শেষ ছবিটি আঁকেন, দুটো মুখ, বলিষ্ঠ মোটা রেখায়, কালো কালি আর মোম ব্যবহার করে।

Abedin1971painting200px-The_struggle

সোনারগাঁও-এ লোকশিল্প জাদুঘর প্রতিষ্ঠা

জয়নুল আবেদিনের ঐকান্তিক প্রচেস্টায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে লোকশিল্প জাদুঘর স্থাপিত হয়। এর ঐতিহাসিক তাৎপর্য ও গুরুত্ব রয়েছে। ঢাকা থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত সোনারগাঁও একসময়ে বাংলার অন্যতম রাজধানী শহর ছিল। মোঘল আমলে এই অঞ্চল প্রসিদ্ধ ছিল মসলিম কাপড় তৈরির কেন্দ্র হিসেবে। এখনো এ অঞ্চলে সুন্দর সুন্দর হাতের কাজ হয়, তাঁতের কাপড় তৈরি হয়।

 

নিজস্ব সংগ্রহশালা

জয়নুল আবেদিনের জন্ম সাধারণ পরিবারে। তিনি জীবনযাপনও করেছেন সাধারণ বাঙালির মতোই। সরল কিন্তু আত্মবিশ্বাসী জয়নুল সমাজের শক্তিধর ব্যক্তিত্ব এবং দরিদ্র চাষী সবার সাথেই অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দে মেলামেশা করতে পারতেন। তারাও যেনো তাঁকে আপন মানুষ মনে করতেন। তিনি ছিলেন এক অসাধারণ মজলিশি মানুষ, অক্লান্ত আড্ডা দিতে পারতেন। তাঁর কথা বলার ভঙ্গিটি ছিল একেবারেই নিজস্ব ও অননুকরণীয়। ময়মনসিংহের আঞ্চলিকতার টান ছিল ভাষায়। তিনি ছিলেন যেমন আমুদে, তেমনি রসিক। তিনি ভালোবাসতেন শিশুদের, ভালোবাসতেন ভালো খাবার, বিশেষ করে গ্রামবাংলার খাবার। তিনি ছিলেন চা প্রেমিক এবং ধূমপানে আসক্ত। নিরবচ্ছিন্নভাবে সিগারেট খেতেন। এই অভ্যাসই হয়তো শেষে তাঁর কাল হয়েছিল। তিনি প্রকৃতির সবকিছুই ভালোবাসতেন, শুধু কাক পছন্দ করতেন না। অথচ কাকের ছবিই বার বার তাঁর হাতের তুলির পরশে কী জীবন্ত রূপ পেয়েছে। তাঁর কাছে কাক ছিল “সুযোগ সন্ধানী চালাকদের প্রতীক।”

জয়নুল তাঁর নিজের ছবির গ্যালারির স্থান নির্বাচন করেন ময়মনসিংহে তাঁর অতি প্রিয় ব্রহ্মপুত্র নদের তীরের একটি পুরাতন ভবনে। এটাই তাঁর জন্যে স্বাভাবিক ছিল। ময়মনসিংহ তাঁর নিজের জেলা।১৯৭৫ সালে ময়মনসিংহে জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালাটি প্রতিষ্ঠা করেন। এখানকার নৈসর্গিক পরিবেশই গড়ে তুলেছিল তাঁর শিল্প মানস, এখানকার জেলা বোর্ডই কলকাতায় তাঁর শিল্পকলা শিক্ষাকালের প্রথম পর্যায়ের অতি জরুরি বৃত্তিটি দিয়ে তাঁকে উৎসাহিত করেছিল। তাঁর মা নিজের গলার হার বিক্রি করে সেই দূরের অচেনা শহর কলকাতায় ছেলেকে আর্ট স্কুলে পড়তে যেতে সাহায্য করেছেন। তাঁর বাবা ছিলেন ময়মনসিংহে কর্মরত ছোট দারোগা। অনেক কষ্টে তিনি ছেলের জন্যে মাসে মাত্র দশটি টাকা পাঠাতে পারতেন। সেই তিরিশের দশকেও এটা খুব সামান্য পরিমাণ টাকাই ছিল। তখন ময়মনসিংহ জেলা বোর্ড আর্থিক সাহায্য না করলে প্রায় অসম্ভব হতো জয়নুলের শিল্প-শিক্ষা গ্রহণ। কলেজের অধ্যক্ষ মুকুল দে-র জোর সুপারিশে কাজ হয়েছিল। জেলা বোর্ড জয়নুলকে মাসিক পনেরো টাকা করে বৃত্তি অনুমোদন করেছিল। এতে করে আর্ট স্কুলের জীবনটা তাঁর কিছুটা হলেও দুশ্চিন্তামুক্ত হয়েছিল।

জয়নুল আবেদিন তাঁর এসব ঋণের কথা ভোলেননি কখনও। সুযোগ পেলেই ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করেছেন। তিনি যখন তৃতীয় বর্ষের ছাত্র তখন থেকেই জয়নুল পত্র-পত্রিকার অঙ্গসজ্জা করে যে সামান্য আয় করতেন তা দিয়েই তাঁর পিতার অস্বচ্ছল পরিবারে আর্থিক অবদান রেখেছেন। তাঁর মাকে দিয়েছেন শুধু ভালোবাসা। তাঁর জন্মস্থান ময়মনসিংহকে উপহার দিয়েছেন একটি আর্ট গ্যালারি আর বাংলাদেশের জনগণকে দিয়েছেন তাঁর সারা জীবনের শিল্পকর্মের বৃহৎ সম্ভার। এসবের মধ্যে মহামূল্যবান দুর্ভিক্ষ চিত্রমালার অধিকাংশ স্কেচও রয়েছে। তাঁর এই শিল্পসম্ভার বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের জয়নুল গ্যালারিতে সংরক্ষিত।

 

পুরস্কার ও সম্মাননা

১৯৫১ সালে পাকিস্তান সরকারের বৃত্তি নিয়ে ইংল্যান্ড, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্য ভ্রমণ করেন। লন্ডনের স্লেড স্কুল অব আর্টস-এ কাজ করেন এবং তখন রয়েল ইন্ডিয়া, পাকিস্তান এ্যান্ড সিলোন সোসাইটির উদ্যোগে তাঁর পেইন্টিং এবং ড্রইং-এর এক প্রদর্শনী হয় (৩-৮ ডিসেম্বর, ১৯৫১)। লন্ডনের বার্কলী গ্যালারিতে পেইন্টিং এবং ড্রইং-এর প্রদর্শনী (১৪-২৬) জানুয়ারি, ১৯৫২)। এই প্রদর্শনীর আয়োজক ছিলেন লন্ডনস্থ পাকিস্তান হাইকমিশনার। এরিখ নিউটন প্রমুখের প্রশংসা। বেলজিয়াম, প্যারিস, আঙ্কারা ও ইস্তাম্বুলে ভ্রাম্যমাণ প্রদর্শনী। ইউনেস্কো আয়োজিত ও ভেনিসে আর্ট কনফারেন্সে যোগদান করেন। ১৯৫৩ সালে পাকিস্তানের লাহোর শহরের আলহামরায় (১৪-২১ সেপ্টেম্বর) প্রদর্শনী, আয়োজক ছিল লাহোরের মেয়ো স্কুল অব আর্ট এবং পাকিস্তান আর্ট কাউন্সিল।

১৯৫৫ সালে পাকিস্তান আর্ট কাউন্সিলে আয়োজিত করাচীতে তাঁর চিত্রকলার প্রদর্শনী। জাপানের টোকিও শহরে দামারু গ্যালারিতে সপ্তাহব্যাপী প্রদর্শনী (অক্টোবর)। আয়োজক জাপানিজ ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন এবং মাইনিচি পাবলিকেশন্স। ১৯৫৬ সালে রকফেলার ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে বর্ষব্যাপী বিশ্ব ভ্রমণে যান এবং জাপান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং ইউরোপ ভ্রমণ করেন। ১৯৫৭ সালের ৮-২৯ এপ্রিল ওয়াশিংটন ডিসি’র স্মিথরোনিয়ান ইন্সটিটিউশনে তাঁর ৫২টি চিত্রকর্মের প্রদর্শনী করেন। ১৯৫৯ সালে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট কর্তৃক সৃজনশীল কাজের জন্যে দেশের সর্বোচ্চ পদক “প্রাইড অব পারফরমেন্স” লাভ করেন। পাকিস্তান সরকার কর্তৃক “হিলাল-ই-ইমতিয়াজ” শীর্ষক বেসামরিক উপাধিতে ভূষিত হন। ১৯৬১ সালে সোভিয়েত সরকার কর্তৃক আমন্ত্রিত সোভিয়েত ইউনিয়ন ভ্রমণ করেন এবং সেখানে তাঁকে স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। ১৯৬৫ সালে পেশোয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি চারুকলা বিভাগ খোলার জন্যে সে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আমন্ত্রিত হয়ে সেখানে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে সাতমাস কাটান এবং বিভাগটি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৬৬ সালে ইরানের তেহরানে আরসিডি দেশসমূহের (পাকিস্তান, ইরান ও তুরস্ক) দ্বিবার্ষিক চিত্র প্রদর্শনীতে বিচারকর্মগুলীর সদস্য হিসেবে কাজ করেন।

১৯৭০ সালে আরব লীগের আমন্ত্রণে মধ্যপ্রাচ্য সফরে যান এবং ফাত্তাহ গেরিলা মুক্তি যোদ্ধাদের সাথে যুদ্ধক্ষেত্রে যান। মুক্তিযোদ্ধাদের উৎসাহিত করার জন্যে গেরিলা যোদ্ধাদের ওপর আঁকা তাঁর ছবির প্রদর্শনী করেন বিভিন্ন আরব শহরে। ১৯৭১ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে জননেতা মাওলানা ভাসানী আয়োজিত ময়মনসিংহের এক জনসভায় জয়নুল ভাষণ দেন। জেনারেল ইয়াহিয়া খানের সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সংগঠিত বাঙালিদের অসহযোগ আন্দোলনের সাথে একাত্মতা ঘোষণার প্রতীক হিসেবে “হিলাল-ই-ইমতিয়াজ” উপাধি বর্জন করেন।

১৯৭৩ সালে ভারতে বাংলাদেশের চিত্রকলার প্রদর্শনী উপলক্ষে শিল্পীদলের নেতৃত্ব দান করেন। ১৯৭৪ সালে ভারত সরকারের রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে ভারত পরিভ্রমণ করেন। এবছরই তিনি ভারতের দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সম্মানজনক ডি লিট ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭৫ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে সে দেশ ভ্রমণ করেন। বাংলাদেশে চারুকলার উন্নয়নে জয়নুল আবেদিন তাঁর অবদানের যথার্থ স্বীকৃতি পেয়েছেন “শিল্পাচার্য” সম্বোধনে। এ শিরোপা তাঁকে উপহার দিয়েছে তাঁরই দেশের গুণমুগ্ধ ও কৃতজ্ঞ জনগণ।

আজীবন জয়নুল আবেদিন ছিলেন জনগণের শিল্পী এবং জনগণেরেই মানুষ। আবার তাঁকেই দেশ-বিদেশের রাষ্ট্রনায়ক এবং পণ্ডিতগণ অতি উঁচু দৃষ্টিতে দেখতেন। তাঁর অসাধারণ শিল্প-প্রতিভা এবং তাঁর মহৎ মানবিক গুণাবলির জন্যে তিনি বহু পুরস্কারে পুরস্কৃত হয়েছেন, সরকার এবং জনগণের কাছ থেকে পেয়েছেন সম্মান। রাষ্ট্রীয় আমন্ত্রণে তিনি অনেক দেশ ভ্রমণ করেছেন।

তথ্য ও ছবি সূত্র – আর্ট অব বাংলাদেশ সিরিজ; জয়নুল আবেদিন, প্রকাশ-১৯৯৭-জুন। লেখক-নজরুল ইসলাম। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা ইতিহাস জীবনী ও স্মৃতিকথা শিক্ষা এবং ভাষা

ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার। বর্তমানে যেটি ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরী বিভাগ সেটিই বিশ্ববিদ্যালয় শুরুর দিকে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল গ্রন্থাগার হিসেবে। সেই গ্রন্থাগারে একজন বইপাগল, শান্ত, সৌম্য, শুভ্র-শ্মশ্রুমণ্ডিত ব্যক্তি মোটা ফ্রেমের চশমা পরে ধ্যানমগ্ন ঋষির মতো ডুবে আছেন মোটা মোটা বইয়ের গুরুগম্ভীর লেখার জ্ঞান সমুদ্রে। দুপুর গড়িয়ে পড়ন্ত বিকেলে পশ্চিমের রক্তিম সূর্য যখন তার লাল আভা মিলিয়ে দিয়েছে নীলিমায়, তখনও তিনি পড়েই চলেছেন। আর ততক্ষণে গ্রন্থাগারের দারোয়ান তালা লাগিয়ে চলে গেছে।

ঢাকার চকবাজারের লাগোয়া বেগমবাজার। বেগমবাজারের দক্ষিণ উপপ্রান্তে জনাকীর্ণ পথের কোণাকুণি জায়গাটায় একখানি দ্বিতল পাকাবাড়ি, নাম ‘পেয়ারা ভবন’। বাড়িটির মাঝখান দিয়ে একটা সরু করিডর। করিডর দিয়ে সামনের দিকে এগুলে সিঁড়ি বেয়ে সোজা দোতালায় ওঠা যায়। নিচ তলায় একটি পড়ার ঘর এবং লাইব্রেরী। সেখানে বিভিন্ন ভাষার হরেক রকমের অসংখ্য বই। বাংলা, ইংরেজী, জার্মান, ফরাসী, ল্যাটিন, হিব্র, আরবী, ফার্সী, উর্দূ, হিন্দী, আসামীয়, উড়িয়া, মারাঠি, তামিল, গুজরাটি, সিংহলীসহ দেশী-বিদেশী নানা ভাষার লক্ষ লক্ষ শব্দ বন্দী হয়ে আছে সেই বইগুলিতে। আর বইগুলি থরে থরে সাজানো আছে আলমারীতে ও শেলফে এবং প্রত্যেকটি বই আচার্যের বহু বিনিদ্র রজনীর পড়াশুনার সাক্ষর বহন করছে। যিনি হামেশা বলতেন ‘দেখো, ব্যক্তিগত গ্রন্থাগার না হলে কেউ লেখক হতে পারে না। হতে পারে না গবেষক ও পণ্ডিত। লেখক ও সাহিত্যিক হওয়ার পূর্বশর্ত হলো মূল্যবান গ্রন্থের সংগ্রহশালা।’

এতক্ষণ যাঁর কথা বলছি তিনি এশিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষাতত্ত্ববিদ, জ্ঞানতাপস ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। তিনি ছিলেন একাধারে ভাষাবিদ, গবেষক, লোকবিজ্ঞানী, অনুবাদক, পাঠসমালোচক, সৃষ্টিধর্মী সাহিত্যিক, কবি, ভাষাসৈনিক এবং একজন খাঁটি বাঙালি মুসলিম ও দেশপ্রেমিক। জ্ঞানপ্রদীপ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন বাংলা ভাষার গবেষণায় অদ্বিতীয়। তিনি ছিলেন একটি কাল, একটি শতাব্দী, একটি জাতি, একটি সংস্কৃতি; অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক, ধর্মবেত্তা ও সূফীসাধক।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন । তিনি ছিলেন বাবা-মার পঞ্চম সন্তান। তাঁর বাবা মফিজ উদ্দিন আহমদ ছিলেন ইংরেজ আমলে সরকারি জরিপ বিভাগের একজন কর্মকর্তা। শহীদুল্লাহ মাতা হরুন্নেছা খাতুনের শিক্ষার প্রতি ছিল প্রচণ্ড আগ্রহ। তিনি বাড়িতে তাঁর পরিবার ও পেয়ারা গ্রামের অন্যান্য মহিলাদের শিক্ষা দিতেন। প্রথম দিকে মুহম্মদ শহীদুল্লাহর নাম রাখা হয় মুহম্মদ ইব্রাহীম। কিন্তু পরবর্তীকালে পিতার পছন্দে আকিকা করে তাঁর নাম পুনরায় রাখা হয় মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। পরিবারে তিন বোন ও চার ভাইয়ের মধ্যে শহীদুল্লাহ ছোটবেলায় ছিলেন দারুণ আমুদে ও আত্মভোলা। বাড়ীর সবাই আদর করে তাঁকে ডাকত ‘সদানন্দ’ বলে। গ্রামের পাঠশালায় পণ্ডিত মশাইরা তাঁকে ডাকতেন ‘সিরাজ দৌল্লাহ’ নামে। কিন্তু তিনি নিজের নাম রেখেছিলেন ‘জ্ঞানানন্দ সংগ্রামী’।

ছোটবেলায় ঘরোয়া পরিবেশে শহীদুল্লাহ উর্দু, ফার্সী ও আরবি শেখেন এবং গ্রামের পাঠশালায় সংস্কৃত পড়েন। পাঠশালার পড়া শেষ করে ভর্তি হন হাওড়া জেলা স্কুলে। স্কুলের ছাত্র থাকতেই বই পড়ার এবং নানা বিষয়ে জানার প্রতি ছিল তাঁর দারুণ নেশা। হাওড়া স্কুলের স্বনামখ্যাত ভাষাবিদ আচার্য হরিনাথ দের সংস্পর্শে এসে শহীদুল্লাহ ভাষা শেখার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেন। স্কুলজীবন থেকেই তিনি আরবী-ফার্সী-উর্দুর পাশাপাশি হিন্দি ও উড়িয়া ভাষা পড়তে শিখেছিলেন। ১৯০৪ সালে হাওড়া জেলা স্কুল থেকে তিনি কৃতিত্ত্বের সাথে সংস্কৃতসহ প্রবেশিকা পাশ করেন। এরপর কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে থেকে ১৯০৬ সালে এফ.এ পাশ করেন। অসুস্থতার কারণে অধ্যয়নে সাময়িক বিরতির পর তিনি কলকাতা সিটি কলেজ থেকে সংস্কৃতে অনার্সসহ বিএ পাস করেন ১৯১০ সালে। বাঙালি মুসলমান ছেলেদের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম অনার্স নিয়ে পাস করেন।

সংস্কৃতিতে অনার্স পাস করার পর সংস্কৃত নিয়ে উচ্চতর পড়াশুনা করতে চাইলে তৎকালীন হিন্দু পণ্ডিতগণ তাঁকে পড়াতে অস্বীকার করেন। ফলে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্ব বিভাগে ভর্তি হন এবং ১৯১২ সালে এ বিভাগের প্রথম ছাত্র হিসেবে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। এর দু বছর পর ১৯১৪ সালে তিনি আইনশাস্ত্রে বিএল ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯২৬ সালে তিনি উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ইউরোপ গমন করেন। বাংলা ভাষার প্রাচীন নিদর্শণ চর্যাপদাবলি বিষয়ে গবেষণা করে ১৯২৮ সালে তিনি প্যারিসের সোরবন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে প্রথম ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। এ বছরই ধ্বনিতত্ত্বে মৌলিক গবেষণার জন্যে প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপ্লোমা লাভ করেন।

আঠারো শতকের মুসলিম সমাজ, পারিবারিক ঐতিহ্য ও পৈত্রিক পেশা থেকে বেরিয়ে ব্যতিক্রমী মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ভাষা ও জ্ঞানচর্চায় ব্রতী হন। ভাষাবিজ্ঞানের প্রায় সকল ক্ষেত্রেই তিনি সচ্ছন্দে বিচরণ করেছেন, আয়ত্ত করেছিলেন বাইশটি ভাষা। তিনি বাংলা, উর্দু, ইংরেজী, হিন্দী, সংস্কৃত, পালি, আসাম, উড়িয়া, আরবী, ফার্সী, হিব্র, আবেস্তান, ল্যাটিন,তিব্বর্তী, জার্মান, ফরাসী, প্রাচীন সিংহলী, পশতু, মুন্ডা, সিন্ধী, মারহাটী, মৈথালী ইত্যাদি ভাষা জানলেও ভাষার ব্যাপারে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি সানন্দে বলতেন, আমি বাংলা ভাষাই জানি।

মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ১৯১৪ থেকে ১৯১৫ সাল পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে সিতাকুন্ডু উচ্চ বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি কিছুদিন ওকালতি প্র্যাকটিস করেন। তিনি বশিরহাট মিউনিসিপ্যালিটির ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর দিনেশ চন্দ্র সেনের অধীনে শরৎচন্দ্র লাহিরী রিসার্চ ফেলো হিসেবে কাজ করেন। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে সে বছরের ২ জুন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত ও বাংলা বিভাগে প্রভাষক পদে স্থায়ী চাকুরিতে যোগদান করেন। একইসঙ্গে নিখরচে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষক নিযুক্ত হন। ১৯২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সভাপতি নিযুক্ত হন। পিএইচডি ডিগ্রি নিয়ে ১৯২৮ সালে দেশে ফিরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে প্রভাষকের এবং সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষকের পূর্বপদে যোগদান করেন। ১৯৩৪ সালে তিনি রীডার পদে পদোন্নতি লাভ করেন। একই বছর তিনি সংস্কৃত ও বাংলা বিভাগের অধ্যক্ষ এবং পরে ১৯৩৭ সালে স্বতন্ত্র বাংলা বিভাগের অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন। ১৯৪৪ সালের ৩০ জুন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে রীডার ও অধ্যক্ষ হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। অবসর গ্রহণের পর তিনি বগুড়া আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৪৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন এবং একইসাথে উক্ত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও ছয় বছর কলা অনুষদের ডীন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগে বাংলা সাহিত্য ও বাংলা ভাষা গড়ে তোলার জন্য মুহম্মদ শহীদুল্লাহকে আমন্ত্রণ জানানো হলে তিনি সেখানে যোগদান করেন। ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন শেষে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে (ফরাসি ভাষার) খণ্ডকালীন অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের অস্থায়ী প্রাধ্যক্ষের এবং ফজলুল হক হলের প্রাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেসর ইমেরিটাস নিযুক্ত হন। অধ্যাপনার বাইরে তিনি করাচির উর্দু উন্নয়ন সংস্থার উর্দু অভিধান প্রকল্প, ঢাকায় বাংলা একাডেমীর ‘পূর্ব পাকিস্তান ভাষার আদর্শ অভিধান প্রকল্প’ এবং ইসলামি বিশ্বকোষ প্রকল্পে সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে কমিশনের সদস্য, ইসলামিক একাডেমীর কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, বাংলা একাডেমীর বাংলা পঞ্জিকার তারিখ বিন্যাস কমিটির সভাপতি, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার ও দাউদ সাহিত্য পুরস্কার কমিটির স্থায়ী চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়া তিনি বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির সম্পাদক ছিলেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সভা ও সম্মলনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। মাদ্রাজে Seminar on Traditional Culture in South-East Asia -তে তিনি UNESCO -র প্রতিনিধিত্ব করেন এবং এর চেয়ারম্যান মনোনীত হন।

১৯৪৭ সালের জুলাই মাসে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ উর্দূকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার সুপারিশ করেন। এর প্রতিবাদে প্রথম লেখনী ধারণ করে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই আজাদ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা সমস্যা’ প্রবন্ধে বলেন, ‘পাকিস্তান ডোমিনিয়নের বিভিন্ন অঞ্চলের অধিবাসীদের মাতৃভাষা বিভিন্ন, যেমন পশতু, বেলুচি, পাঞ্জাবী, সিন্ধী এবং বাংলা; কিন্তু উর্দূ পাকিস্তানের কোন অঞ্চলেই মাতৃভাষা রূপে চালু নয়। … যদি বিদেশী ভাষা বলিয়া ইংরেজী ভাষা পরিত্যক্ত হয়,তবে বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষারূপে গ্রহণ না করার পক্ষে কোন যুক্তি নাই। যদি বাংলা ভাষার অতিরিক্ত কোন দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা গ্রহণ করিতে হয়, তবে উর্দূ ভাষার দাবী বিবেচনা করা কর্তব্য। … বাংলাদেশের কোর্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষার পরিবর্তে উর্দূ বা হিন্দী ভাষা গ্রহণ করা হইলে, ইহা রাজনৈতিক পরাধীনতারই নামান্তর হইবে। ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ পাকিস্তানের প্রদেশসমূহের বিদ্যালয়ে শিক্ষার বাহনরূপে প্রাদেশিক ভাষার পরিবর্তে উর্দূ ভাষার স্বপক্ষে যে অভিমত প্রকাশ করিয়াছেন আমি একজন শিক্ষাবিদরূপে উহার তীব্র প্রতিবাদ জানাইতেছি।’

এই প্রতিবাদ অচিরেই ছড়িয়ে পড়ে শুরু করেছিল রাষ্ট্রভাষা-আন্দোলনের। শহীদুল্লাহ রয়ে গেলেন বিতর্কের কেন্দ্রে। ১৯৪৮ সালে পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্য সম্মেলনে সভাপতির অভিভাষণে তিনি বলেন, ‘আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশী সত্য আমরা বাঙালি। এটি কোন আদর্শের কথা নয়; এটি একটি বাস্তব কথা। মা প্রকৃতি নিজের হাতে আমাদের চেহারায় ও ভাষায় বাঙ্গালীত্বের এমন ছাপ রেখে দিয়েছেন যে মালল-তিলক-টিকিতে কিংবা টুপি-লুঙ্গি দাড়িতে ঢাকবার কোন জো-টি নেই।’ ১৯৪৮ সালের ১১ই মার্চ ঐতিহাসিক রাষ্ট্রভাষা দিবসে বগুড়ার আজিজুল হক কলেজের ছাত্রদের আহ্বানে তিনি হাসিমুখে এগিয়ে এসে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারী ছাত্রজনতার মাঝে সশরীরে উপস্থিত থেকে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করেছেন তিনি; এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে পুলিশী হামলায় টিয়ার গ্যাসে নিগৃহীত হয়েছেন।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর জীবন-দর্শনের ভিত্তি ছিল ইসলামী বিশ্বাস। তিনি যেমন পারিবারিকভাবে ইসলামিক পরিমণ্ডলে বেড়ে উঠেছেন, ঠিক তেমনি তাঁর সাংসারিক জীবন এবং কর্মক্ষেত্রের সর্বত্র ইসলামের প্রতিফলন ঘটেছিল। তিনি কখনো ধর্মীয় রাজনীতি, সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা এবং ধর্মের অপব্যবহারকে প্রশ্রয় দেননি। স্বধর্মে নিষ্ঠাবান থেকে তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রচেষ্টা করে গেছেন আজীবন। ১৯৫০ সালে ঢাকায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হলে তা প্রতিরোধ করার আহ্বান জানিয়ে সুধীজনেরা যে বিবৃতি দিয়েছিলেন তার খসড়া ছিল তাঁরই রচনা। বছরের শেষ দিকে ‘আঞ্জুমান-ই-ইশা আৎ-ই-ইসলাম’ নামে ইসলাম প্রচার সমিতি গঠন করেন তিনি।

বাঙালি মুসলমান সমাজে নারীর ধর্মসম্মত অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি অত্যন্ত উদযোগী ছিলেন। তাঁর মতে, পর্দা দুরকম এক রকম হলো- ইসলামিক পর্দা, সেটি হচ্ছে মুখ হাত-পা ছাড়া সর্বাঙ্গ ঢেকে রাখা, আর এক রকম হলো- অনৈসলামিক পর্দা, সেটি মেয়েদের চার দেয়ালের মধ্যে চিরজীবনের জন্যে কয়েদ করে রাখে। ইসলামি পর্দায় বাইরের খোলা হাওয়ায় বেরুনো কিংবা অন্যের সঙ্গে দরকারি কথাবার্তা বলা মানা নয়; তবে অনৈসলামী পর্দায় এসব হবার জো নেই। সবার প্রাণপণ চেষ্টা করতে হবে এই অনৈসলামীক পর্দা সরিয়ে দিতে। তা না হলে সবার নারীহত্যার মতো মহাপাপ হবে। নারী যে মসজিদে যেতে পারে, পুরুষের ইমামতিতে নামাজ আদায় করতে পারে এবং শুধু প্রাচীন আরবে নয়, মুসলিম আমলের বাংলাদেশেও যে এ প্রথা প্রচলিত ছিল-তিনি তার প্রমাণ সংগ্রহ করেছিলেন এবং ঢাকায় মেয়েদের জামাতে তিনিই প্রথম ইমামতি করেছিলেন।

তাঁর দীর্ঘ জীবনে তৎকালীন পরিবর্তনশীল সামাজিক রুচির যে ধারা চলছিল তার সাথে তিনি সহ-অবস্থান নীতি গ্রহণ করেছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষক থাকাকালীন তিনি ছাত্রদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতেন। আবার Traditional culture of east Pakistan গ্রন্থে তিনি Folk Dance, Folk Music I Folk Arts সম্পের্ক প্রবন্ধ লিখেছেন; শুধু তাই নয়, একটি প্রবন্ধে তিনি লিখেছেন, “Educated and talented dancers of our country can draw profitable on this indeginous dances and add new colour and life to the art of dancing.”

স্বদেশী আন্দোলনের সময় চারদিকে যখন বিদেশী পণ্য বর্জনের ডাক শুরু হয়ে গেছে। ঠিক তখন থেকেই তিনি সাহেবী প্যান্ট-কোর্ট ছেড়ে দিয়ে খদ্দর কাপড়ের আচকান, পায়জামা ও পাঞ্জাবী পরিধান শুরু করে দিলেন। তিনি মনে করতেন, দেশী জিনিষ ব্যবহার করলে দেশে পয়সাটা থাকে আর বিদেশী জিনিস ব্যবহারে দেশের পয়সাটা বিদেশে চলে যাবে।

জ্ঞানতাপস এই শিক্ষাবিদ নিজে যেমন আজীবন জ্ঞান সাধনা করেছেন, তেমনি শিক্ষাব্যবস্থা এবং শিক্ষার প্রচার ও প্রসারে নিজকে আত্মনিয়োগ করেছেন। আমাদের দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার একজন কঠোর সমালোচক ছিলেন তিনি। তৎকালীন সরকারের অনুমোদিত নিউস্কীম মাদ্রাসা, ওল্ডস্কীম মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষা এই তিন ধরনের শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর মতে, এই ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষাক্ষেত্রে কেবল গণ্ডগোলই সৃষ্টি করেছে এবং মুসলমান সমাজে অনৈক্য এনেছে। এই শিক্ষাব্যবস্থায় মুষ্টিমেয় মানুষের অধিকার তিনি কখনো মেনে নিতে পারেননি। তাই শিক্ষার কথা যখনই বলেছেন তখনই তিনি সার্বজনীন শিক্ষার অপরিহার্য প্রয়োজনীয়তা ঘোষণা করেছেন। দেশের প্রতিটি নাগরিকের ষোলো বৎসর বয়স পর্যন্ত অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা সরকারের আশু কর্তব্য বলে তিনি বিবেচনা করতেন। মাদ্রাসা শিক্ষার বর্তমান প্রণালীকে তিনি সময় ও শক্তির অপচয় বলে মনে করতেন। শিক্ষাক্ষেত্রে যে একটিমাত্র ব্যবস্থার পরিকল্পনা তাঁর ছিল, সেখানে ধর্মশিক্ষার একটা বিশিষ্ট স্থান ছিল।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর একটি নিজস্ব আসন আছে। এই দুই ক্ষেত্রেই তিনি কিছু মৌলিক ধারণার পরিচয় দিয়েছেন। ১৯২০ সাল থেকে নানা প্রবন্ধ লিখে তিনি নিজের যে বক্তব্য তুলে ধরতে থাকেন তার চূড়ান্ত ও ধারাবহিক রূপ দেখা যায় তাঁর ‘বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত’ (১৯৫৬) গ্রন্থে।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এক স্বতন্ত্র ধর্মী গবেষক ছিলেন। তাঁর গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল জটিল দিকের গ্রন্থিমোচন এবং নবতর ব্যাখ্যা। বাংলা লোকসাহিত্যের প্রতিও তিনি বিশেষ অনুরাগী ছিলেন। গবেষণাগ্রন্থের পাশাপাশি তিনি সাহিত্য এবং শিশু সাহিত্যের অনেক মৌলিক গ্রন্থও রচনা করেন। তিনি বেশ কয়েকটি গ্রন্থ অনুবাদ ও সম্পাদনা করেন। বাংলার গঠন অনুসারে তিনিই প্রথম ১৯৪৩ সালে বাংলা ব্যাকরণ রচনায় হাত দেন । তাঁর অবিস্মরণীর কৃতিত্ত্ব হলো বাংলা একাডেমী থেকে দু খণ্ডে প্রকাশিত ‘বাংলা ভাষার আঞ্চলিক অভিধান’ সম্পাদনা। তিনিই প্রথম ১৯৪০ সালে ভারতের মুসলিম শিক্ষা কংগ্রেসে পূর্ব বাংলায় ভাষা চর্চা উন্নয়ন ও গবেষণার জন্য একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপনের প্রস্তাব করেন। ১৯৪৮ সালে ঢাকার কার্জন হলে অনুষ্ঠিত পূর্ববঙ্গ সম্মেলনে তিনি সেই প্রতিষ্ঠানের নাম ‘বাংলা একাডেমী’ রাখার প্রস্তাব করেন।

ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পদনা করেছেন। তিনি আল এসলাম পাত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক (১৯২৫) ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক (১৯২৮-২১) হিসেবে যোগ্যতার প্রমাণ দেন। তাঁরই সম্পদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশু পত্রিকা আঙ্গুর (১৯২০) আত্মপ্রকাশ করে। এছাড়াও তিনি ইংরেজী মাসিক পত্রিকা দি পীস (১৯২৩), বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি (১৯৩৭) এবং পাক্ষিক তকবীর (১৯৪৭) সম্পাদনা করেন। ১৯২২ সাল থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলা ও ইংরেজী ভাষায় প্রকাশিত পাক্ষিক ও মাসিক জার্নাল সম্পাদনা করেন।

ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর স্ত্রীর নাম মরগুবা খাতুন। তিনি সাত পুত্র ও দুই কন্যার জনক। মাহযূযা খাতুন, আবুল ফযল মুহম্মদ সফীয়্যুল্লাহ, মাসব্দরা খাতুন, আবুল কালাম মোস্তফা ওলিয়্যুল্লাহ, আবুল করম মাহমুদ যকীয়্যুল্লাহ, আবুল জামার মহামেদ তকীয়্যুল্লাহ, আবুল বয়ান মুজতাবা নকীয়্যুল্লাহ, আবুল ফসল মুতাওয়াক্কিল ববীয়্যুল্লাহ, আবুল খায়ের মুর্তজা বশীরুল্লাহ।

তিনি ছিলেন আজীবন ছাত্র এবং আজীবন শিক্ষক। সারাটি জীবন শুধু জ্ঞানের পিছু ছুটেছেন এবং জ্ঞান বিলিয়ে দিয়েছেন সবার মাঝে। অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খাঁ ও আবুল কাশেম সাহেবকে সঙ্গে নিয়ে তিনি মিরপুরে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলা কলেজ। মানুষের প্রতি ভালোবাসার কারণেই শিক্ষক তিনি; একই কারণে দেশপ্রেমিক এবং মনেপ্রাণে বাঙালী।

জীবনভর ভাষা ও সাহিত্য সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ এই জ্ঞানতাপস পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘প্রাইড অফ পারফরম্যান’ এবং ১৯৬৭ সালে ফরাসী সরকার তাঁকে ‘নাইট অফ দি অর্ডারস অফ আর্ট লেটার্স’ পদকে ভূষিত করেন। ১৯৭০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারী সরকার তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করেন।

আজীবন উদ্যমী এই মানুষটি সর্বদা ছিলেন কর্মচঞ্চল। ১৯৬৭ সালে ২৭ ডিসেম্বর প্রথম সেরিব্রাল থ্রম্বোসিসে আক্রান্ত হন এই জ্ঞানানন্দ প্রবাদপুরুষ। জীবন সায়াহ্নে যখন হাসপাতালের বিছানায়, তখন ডান হাতের লেখার শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। খুব দুঃখিত হয়ে বললেন, ‘ভাল হয়ে নিই, আমার বাম হাতে লেখার অভ্যাস করবো।’ ১৯৬৯ সালের ১৩ জুলাই সুদীর্ঘ কর্মজীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে তাঁর। ঐতিহাসিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল সংলগ্ন মূসা খাঁন মসজিদের পশ্চিম পাশে র্তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন।

সংক্ষিপ্ত জীবনীঃ

নাম: মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

পিতা: মফিজ উদ্দিন আহমদ

মাতা: হুরুন্নেছা খাতুন

স্ত্রী: মরগুবা খাতুন

সন্তান-সন্ততি: সাত পুত্র ও দুই কন্যার জনক। শিক্ষা: ১৯০৪ সালে হাওড়া জেলা স্কুল থেকে তিনি কৃতিত্ত্বের সাথে সংস্কৃতসহ প্রবেশিকা পরীক্ষা পাশ করেন। এরপর ১৯০৬ সালে কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে থেকে এফ.এ পাশ করেন। তিনি কলকাতা সিটি কলেজ থেকে সংস্কৃতে অনার্সসহ বিএ পাস করেন ১৯১০ সালে। এরপর তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালেয় তুলনামূলক ভাষাতত্ত্ব বিভাগে ভর্তি হন এবং ১৯১২ সালে এ বিভাগের প্রথম ছাত্র হিসেবে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। এর দু বছর পর ১৯১৪ সালে তিনি আইনশাস্ত্রে বিএল ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯২৬ সালে তিনি উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ইউরোপ গমন করেন। বাংলা ভাষার প্রাচীন নিদর্শণ চর্যাপদাবলি বিষয়ে গবেষণা করে ১৯২৮ সালে তিনি প্যারিসের সোরবন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে প্রথম ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন।

পত্রিকা ও সম্পাদনা: ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পদনা করেন। তিনি আল এসলাম পাত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক (১৯২৫)ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক (১৯২৮-২১)হিসেবে যোগ্যতার প্রমাণ দেন। তাঁরই সম্পদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশু পত্রিকা আঙ্গুর (১৯২০)আত্মপ্রকাশ করে। এছাড়াও তিনি ইংরেজী মাসিক পত্রিকা দি পীস (১৯২৩),বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি (১৯৩৭)এবং পাক্ষিক তকবীর (১৯৪৭)সম্পাদনা করেন। ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি বাংলা ও ইংরেজী ভাষায় প্রকাশিত পাক্ষিক ও মাসিক জার্নাল সম্পাদনা করেন।

তাঁর প্রকাশনা গুলি হলো:

গবেষণাগ্রন্থ: সিদ্ধা কানুপার গীত ও দোহা (১৯২৬), বাংলা সাহিত্যের কথা (১ম খণ্ড ১৯৫৩, ২য় খণ্ড ১৯৬৫), বৌদ্ধ মর্মবাদীর গান (১৯৬০) ।

ভাষাতত্ত্ব: ভাষা ও সাহিত্য (১৯৩১), বাংলা ব্যাকরণ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত (১৯৬৫) । প্রবন্ধ-পুস্তক: ইকবাল (১৯৪৫), আমাদের সমস্যা (১৯৪৯), বাংলা আদব কি তারিখ (১৯৫৭), Essay on Islam (1945), Traditional culture in East Pakistan (মুহম্মদ আবদুল হাই-এর সঙ্গে তাঁর যুগ্ম-সম্পাদনায় রচিত; ১৯৬১) ।

গল্পগ্রন্থ: রকমারী (১৯৩১) ।

শিশুতোষ গ্রন্থ: শেষ নবীর সন্ধানে, ছোটদের রাসূলুল−াহ (১৯৬২), সেকেলের রূপকথা (১৯৬৫) ।

অনুবাদ গ্রন্থ: দাওয়ানে হাফিজ (১৯৩৮), অমিয়শতক (১৯৪০),রুবাইয়াত-ই-ওমর খয়্যাম (১৯৪২),শিকওয়াহ ও জাওয়াব-ই-শিকওয়াহ (১৯৪২),বিদ্যাপতিশতক (১৯৪৫), মহানবী (১৯৪৬), বাই অতনা মা (১৯৪৮), কুরআন প্রসঙ্গ (১৯৬২),মহররম শরীফ (১৯৬২),অমর কাব্য (১৯৬৩), ইসলাম প্রসঙ্গ (১৯৬৩), Hundred Sayings of the Holly Prophet (1945), Buddist Mystic Songs (1960)।

সংকলন: পদ্মাবতী (১৯৫০), প্রাচীন ধর্মগ্রন্থে শেষ নবী (১৯৫২), গল্প সংকলন (১৯৫৩), তাঁর গবেষণামূলক গ্রন্থ ও প্রবন্ধের সংখ্যা প্রায় ৪০টি। এছাড়া তিনি ৪১টি পাঠ্যবই লিখেছেন, ২০টি বই সম্পাদনা করেছেন। বাংলা সাহিত্যের উপর তাঁর লিখিত প্রবন্ধের সংখ্যা ৬০টিরও বেশি। ভাষাতত্ত্বের উপর রয়েছে তার ৩৭টি রচনা। অন্যান্য বিষয়ে বাংলা ইংরেজী মিলিয়ে সংখ্যা দাঁড়ায় ২৮০টি। এ ছাড়া তিনি তিনটি ছোটগল্প এবং ২৯টি কবিতা ও লিখেছেন।

সম্মাননা: জীবনভর ভাষা ও সাহিত্য সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ এই জ্ঞানতাপস পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘প্রাইড অফ পারফরম্যান’। ১৯৬৭ সালে ফরাসী সরকার তাঁকে ‘নাইট অফ দি অর্ডারস অফ আর্ট লেটার্স’ পদকে ভূষিত করেন।১৯৭০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারী সরকার তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করেন। এছাড়া তিনি আদমজী ও দাউদ সাহিত্য পুরস্কার কমিটির স্থায়ী সভাপতিরূপে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন।

কর্মজীবন: মুহম্মদ শহীদুল্লাহর কর্মজীবন বহুধা বিভাজিত। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে সে বছরের ২ জুন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত ও বাংলা বিভাগে প্রভাষক পদে স্থায়ী চাকুরিতে যোগদান করেন। একইসঙ্গে নিখরচে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষক বা হাউজ টিউটর নিযুক্ত হন। ১৯৪৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন এবং বিভাগীয় প্রধান ও কলা অনুষদের ডীন হিসেবে ছয় বছর দায়িত্ব পালন করেন।

১৯২৩ সালের গ্রীষ্মকালে ‘মালাকান’ রাজপুতদের মধ্যে ইসলাম প্রচারের জন্য রাজপুতনা গমন করেন। বছরের শেষ দিকে ‘আঞ্জুমান-ই-ইশা আৎ-ই-ইসলাম’ নামে ইসলাম প্রচার সমিতি গঠন করেন। ১৯২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সভাপতি নিযুক্ত হন। ১৯২৬ সনের সেপ্টেম্বরে তিনি ইউরোপে উচ্চ শিক্ষার জন্য গমন করেন। দু বছর অধ্যয়নের পর উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে ১৯২৮ সনে ঢাকায় ফিরে এসে তিনি বাংলা ও সংস্কৃতের প্রভাষকের পূর্ব পদে যোগদান করেন এবং সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষকের দায়িত্ব পুনর্বার গ্রহণ করেন। ১৯৩২ সালে তিনি সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের অস্থায়ী প্রাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৩৪ সালে তিনি রীডার পদে পদোন্নতি লাভ করেন এবং সংস্কৃত ও বাংলা বিভাগের অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত থাকেন। ১৯৩৭ সালে সংস্কৃত ও বাংলা বিভাগ স্বতন্ত্র দুই বিভাগে পরিণত হয়। মুহম্মদ শহীদুল্লাহকে বাংলা বিভাগের অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। ১৯৪০ সালে তিনি ফজলুল হক হলের প্রাধ্যক্ষ নিযুক্ত হন। ১৯৪৪ সালের ৩০ জুন শহীদুল্লাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগ থেকে রীডার ও অধ্যক্ষ হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে (ফরাসি ভাষার)খণ্ডকালীন অধ্যাপক (১৯৫৩-৫৫) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপরে তিনি খণ্ডকালীন হিসেবে ১৯৪৮ সালে ও ১৯৫৫ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। ১৯৫৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হলে ১৯৫৫ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কলা বিভাগ চালু হয়। এখানে বাংলা সাহিত্য ও বাংলা ভাষা গড়ে তোলার জন্য মুহম্মদ শহীদুল্লাহকে আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং এ বছরই তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন।কিছুদিন পরেই তিনি কলা বিভাগের ডীন হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন শেষে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি বগুড়া আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রফেসর ইমেরিটাস নিযুক্ত হন। অধ্যাপনার বাইরে তিনি করাচির উর্দু উন্নয়ন সংস্থার উর্দু অভিধান প্রকল্প (১৯৫৯-৬০), ঢাকায় বাংলা একাডেমীর ‘পূর্ব পাকিস্তান ভাষার আদর্শ অভিধান প্রকল্প’ (১৯৬০) এবং ইসলামি বিশ্বকোষ প্রকল্প-এ (১৯৬১-৬৪) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে কমিশনের সদস্য (১৯৬৩-৬৪), ইসলামিক একাডেমীর কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য (১৯৬৩-৬৪), বাংলা একাডেমীর বাংলা পঞ্জিকার তারিখ বিন্যাস কমিটির সভাপতি, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার ও দাউদ সাহিত্য পুরস্কার কমিটির স্থায়ী চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়াও তিনি বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির সম্পাদক (১৯১১) ছিলেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সভা ও সম্মলনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। সেগুলির মধ্যে উলে−খযোগ্য দ্বিতীয় বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সম্মেলন (১৯১৭), ঢাকায় মুসালিম সাহিত্য সমাজ সম্মেলন (১৯২৬), কলকাতায় নিখিল বঙ্গ মুসলিম যুবক সম্মেলন (১৯২৮), হায়াদ্রাবাদে নিখিল ভারত প্রাচ্যবিদ্যা সম্মেলন (ভাষাতত্ত্ব শাখা,১৯৪১) এবং পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্য সম্মেলন (১৯৪৮)। মাদ্রাজে Seminar on Traditional Culture in South-East Asia-তে তিনি UNESCO-র প্রতিনিধিত্ব করেন এবং এর চেয়ারম্যান মনোনীত হন।

তথ্যসূত্র:

১. সংসদ বাঙালা চরিতাবিধান; সাহিত্য সংসদ;

২. আচার্য সুনীত কুমার চট্টোপাধ্যায়; বাংলা সাহিত্যে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ.বাংলাপিডিয়া, এশিয়াটিক সোসাইটি;

৩.চরিতাবিধান, বাংলা একাডেমি;

৪. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও আমি; মাহযূযা হক, ২০০০ প্রকাশিত।

গবেষক:হোসাইন মোঃ আল-জুনায়েদ

Categories
অনলাইন প্রকাশনা গল্প বিনোদন ভালবাসা/প্রণয়লীলা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হিন্দুধর্মীয়

হৈমন্তী

—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কন্যার বাপ সবুর করিতে পারিতেন, কিন্তু বরের বাপ সবুর করিতে চাহিলেন না। তিনি দেখিলেন , মেয়েটির বিবাহের বয়স পার হইয়া গেছে , কিন্তু আর কিছুদিন গেলে সেটাকে ভদ্র বা অভদ্র কোনো রকমে চাপা দিবার সময়টাও পার হইয়া যাইবে । মেয়ের বয়স অবৈধ রকমে বাড়িয়া গেছে বটে , কিন্তু পণের টাকার আপেক্ষিক গুরুত্ব এখনো তাহার চেয়ে কিঞ্চিৎ উপরে আছে , সেইজন্যই তাড়া।

আমি ছিলাম বর, সুতরাং বিবাহসম্বন্ধে আমার মত যাচাই করা অনাবশ্যক ছিল। আমার কাজ আমি করিয়াছি , এফ.এ. পাস করিয়া বৃত্তি পাইয়াছি। তাই প্রজাপতির দুই পক্ষ , কন্যাপক্ষ ও বরপক্ষ, ঘন ঘন বিচলিত হইয়া উঠিল।

আমাদের দেশে যে মানুষ একবার বিবাহ করিয়াছে বিবাহ সম্বন্ধে তাহার মনে আর কোনো উদ্‌বেগ থাকে না। নরমাংসের স্বাদ পাইলে মানুষের সম্বন্ধে বাঘের যে দশা হয়, স্ত্রীর সম্বন্ধে তাহার ভাবটা সেইরূপ হইয়া উঠে । অবস্থা যেমনি ও বয়স যতই হউক, স্ত্রীর অভাব ঘটিবামাত্র তাহা পূরণ করিয়া লইতে তাহার কোনো দ্বিধা থাকে না। যত দ্বিধা ও দুশ্চিন্তা সে দেখি আমাদের নবীন ছাত্রদের । বিবাহের পৌনঃপুনিক প্রস্তাবে তাহাদের পিতৃপক্ষের পাকা চুল কলপের আশীর্বাদে পুনঃপুনঃ কাঁচা হইয়া উঠে , আর প্রথম ঘটকালির আঁচেই ইহাদের কাঁচা চুল ভাবনায় একরাত্রে পাকিবার উপক্রম হয়।

সত্য বলিতেছি , আমার মনে এমন বিষম উদ্‌বেগ জন্মে নাই । বরঞ্চ বিবাহের কথায় আমার মনের মধ্যে যেন দক্ষিনে হাওয়া দিতে লাগিল। কৌতূহলী কল্পনার কিশলয়গুলির মধ্যে একটা যেন কানাকানি পড়িয়া গেল । যাহাকে বার্কের ফ্রেঞ্চ্ রেভোল্যুশনের নোট পাঁচ-সাত খাতা মুখস্থ করিতে হইবে , তাহার পক্ষে এ ভাবটা দোষের । আমার এ লেখা যদি টেক‌্স‌্ট‌্‌‌বুক্‌‌-কমিটির অনুমোদিত হইবার কোনো আশঙ্কা থাকিত তবে সাবধান হইতাম।

কিন্তু , এ কী করিতেছি । এ কি একটি গল্প যে উপন্যাস লিখিতে বসিলাম । এমন সুরে আমার লেখা শুরু হইবে এ আমি কি জানিতাম। মনে ছিল , কয় বৎসরের বেদনার যে মেঘ কালো হইয়া জমিয়া উঠিয়াছে , তাহাকে বৈশাখসন্ধ্যার ঝোড়ো বৃষ্টির মতো প্রবল বর্ষণে নিঃশেষ করিয়া দিব । কিন্তু , না পারিলাম বাংলায় শিশুপাঠ্য বই লিখিতে , কারণ, সংস্কৃত মুগ্ধবোধ ব্যাকরণ আমার পড়া নাই; আর, না পারিলাম কাব্য রচনা করিতে , কারণ মাতৃভাষা আমার জীবনের মধ্যে এমন পুষ্পিত হইয়া উঠে নাই যাহাতে নিজের অন্তরকে বাহিরে টানিয়া আনিতে পারি । সেইজন্যেই দেখিতেছি , আমার ভিতরকার শ্মশানচারী সন্ন্যাসীটা অট্টহাস্যে আপনাকে আপনি পরিহাস করিতে বসিয়াছে। না করিয়া করিবে কী। তাহার যে অশ্রু শুকাইয়া গেছে। জ্যৈষ্ঠের খররৌদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূন্য রোদন।

আমার সঙ্গে যাহার বিবাহ হইয়াছিল তাহার সত্য নামটা দিব না। কারণ , পৃথিবীর ইতিহাসে তাহার নামটি লইয়া প্রত্নতাত্ত্বিকদের মধ্যে বিবাদের কোনো আশঙ্কা নাই। যে তাম্রশাসনে তাহার নাম খোদাই করা আছে সেটা আমার হৃদয়পট । কোনোকালে সে পট এবং সে নাম বিলুপ্ত হইবে , এমন কথা আমি মনে করিতে পারি না । কিন্তু , যে অমৃতলোকে তাহা অক্ষয় হইয়া রহিল সেখানে ঐতিহাসিকের আনাগোনা নাই।

আমার এ লেখায় তাহার যেমন হউক একটা নাম চাই। আচ্ছা , তাহার নাম দিলাম শিশির। কেননা, শিশিরে কান্নাহাসি একেবারে এক হইয়া আছে , আর শিশিরে ভোরবেলাটুকুর কথা সকালবেলায় আসিয়া ফুরাইয়া যায়।

শিশির আমার চেয়ে কেবল দুই বছরের ছোটো ছিল । অথচ , আমার পিতা যে গৌরীদানের পক্ষপাতী ছিলেন না তাহা নহে। তাঁহার পিতা ছিলেন উগ্রভাবে সমাজবিদ্রোহী, দেশের প্রচলিত ধর্মকর্ম কিছুতে তাঁহার আস্থা ছিল না; তিনি কষিয়া ইংরাজি পড়িয়াছিলেন। আমার পিতা উগ্রভাবে সমাজের অনুগামী ; মানিতে তাঁহার বাধে এমন জিনিস আমাদের সমাজে , সদরে বা অন্দরে , দেউড়ি বা খিড়কির পথে খুঁজিয়া পাওয়া দায়, কারণ, ইনিও কষিয়া ইংরাজি পড়িয়াছিলেন। পিতামহ এবং পিতা উভয়েরই মতামত বিদ্রোহের দুই বিভিন্ন মূর্তি। কোনোটাই সরল স্বাভাবিক নহে। তবুও বড়ো বয়সের মেয়ের সঙ্গে বাবা যে আমার বিবাহ দিলেন তাহার কারণ, মেয়ের বয়স বড়ো বলিয়াই পণের অঙ্কটাও বড়ো। শিশির আমার শ্বশুরের একমাত্র মেয়ে। বাবার বিশ্বাস ছিল , কন্যার পিতার সমস্ত টাকা ভাবী জামাতার ভবিষ্যতের গর্ভ পূরণ করিয়া তুলিতেছে।

আমার শ্বশুরের বিশেষ কোনো-একটা মতের বালাই ছিল না। তিনি পশ্চিমের এক পাহাড়ের কোনো রাজার অধীনে বড়ো কাজ করিতেন। শিশির যখন কোলে তখন তাহার মার মৃত্যু হয়। মেয়ে বৎসর-অন্তে এক-এক বছর করিয়া বড়ো হইতেছে , তাহা আমার শ্বশুরের চোখেই পড়ে নাই। সেখানে তাঁহার সমাজের লোক এমন কেহই ছিল না যে তাঁহাকে চোখে আঙুল দিয়া দেখাইয়া দিবে।

শিশিরের বয়স যথাসময়ে ষোলো হইল; কিন্তু সেটা স্বভাবের ষোলো, সমাজের ষোলো নহে। কেহ তাহাকে আপন বয়সের জন্য সতর্ক হইতে পরামর্শ দেয় নাই, সেও আপন বয়সটার দিকে ফিরিয়াও তাকাইত না।

কলেজে তৃতীয় বৎসরে পা দিয়াছি, আমার বয়স উনিশ, এমন সময় আমার বিবাহ হইল। বয়সটা সমাজের মতে বা সমাজসংস্কারকের মতে উপযুক্ত কি না তাহা লইয়া তাহারা দুই পক্ষ লড়াই করিয়া রক্তারক্তি করিয়া মরুক, কিন্তু আমি বলিতেছি, সে বয়সটা পরীক্ষা পাস করিবার পক্ষে যত ভালো হউক বিবাহের সম্বন্ধ আসিবার পক্ষে কিছুমাত্র কম ভালো নয়।

বিবাহের অরুণোদয় হইল একখানি ফোটোগ্রাফের আভাসে। পড়া মুখস্থ করিতেছিলাম। একজন ঠাট্টার সম্পর্কের আত্মীয়া আমার টেবিলের উপরে শিশিরের ছবিখানি রাখিয়া বলিলেন, “এইবার সত্যিকার পড়া পড়ো — একেবারে ঘাড়মোড় ভাঙিয়া।”

কোনো একজন আনাড়ি কারিগরের তোলা ছবি। মা ছিল না, সুতরাং কেহ তাহার চুল টানিয়া বাঁধিয়া, খোঁপায় জরি জড়াইয়া, সাহা বা মল্লিক কোম্পানির জবড়জঙ জ্যাকেট পরাইয়া, বরপক্ষের চোখ ভুলাইবার জন্য জালিয়াতির চেষ্টা করে নাই। ভারি একখানি সাদাসিধা মুখ, সাদাসিধা দুটি চোখ, এবং সাদাসিধা একটি শাড়ি । কিন্তু , সমস্তটি লইয়া কী যে মহিমা সে আমি বলিতে পারি না। যেমন-তেমন একখানি চৌকিতে বসিয়া, পিছনে একখানা ডোরা-দাগ-কাটা শতরঞ্চ ঝোলানো, পাশে একটা টিপাইয়ের উপরে ফুলদানিতে ফুলের তোড়া। আর, গালিচার উপরে শাড়ির বাঁকা পাড়টির নীচে দুখানি খালি পা।

পটের ছবিটির উপর আমার মনের সোনার কাঠি লাগিতেই সে আমার জীবনের মধ্যে জাগিয়া উঠিল। সেই কালো দুটি চোখ আমার সমস্ত ভাবনার মাঝখানে কেমন করিয়া চাহিয়া রহিল। আর , সেই বাঁকা পাড়ের নীচেকার দুখানি খালি পা আমার হৃদয়কে আপন পদ্মাসন করিয়া লইল।

পঞ্জিকার পাতা উল্ টাইতে থাকিল; দুটা-তিনটা বিবাহের লগ্ন পিছাইয়া যায়, শ্বশুরের ছুটি আর মেলে না। ও দিকে সামনে একটা অকাল চার-পাঁচটা মাস জুড়িয়া আমার আইবড় বয়সের সীমানাটাকে উনিশ বছর হইতে অনর্থক বিশ বছরের দিকে ঠেলিয়া দিবার চক্রান্ত করিতেছে। শ্বশুরের এবং তাঁহার মনিবের উপর রাগ হইতে লাগিল।

যা হউক, অকালের ঠিক পূর্বলগ্নটাতে আসিয়া বিবাহের দিন ঠেকিল। সেদিনকার সানাইয়ের প্রত্যেক তানটি যে আমার মনে পড়িতেছে। সেদিনকার প্রত্যেক মুহূর্তটি আমি আমার সমস্ত চৈতন্য দিয়া স্পর্শ করিয়াছি। আমার সেই উনিশ বছরের বয়সটি আমার জীবনে অক্ষয় হইয়া থাক্‌।

বিবাহসভায় চারি দিকে হট্টগোল ; তাহারই মাঝখানে কন্যার কোমল হাতখানি আমার হাতের উপর পড়িল। এমন আশ্চর্য আর কী আছে। আমার মন বারবার করিয়া বলিতে লাগিল, ‘ আমি পাইলাম , আমি ইহাকে পাইলাম। ‘

কাহাকে পাইলাম। এ যে দুর্লভ, এ যে মানবী, ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে।

আমার শ্বশুরের নাম গৌরীশংকর। যে হিমালয়ে বাস করিতেন সেই হিমালয়ের তিনি যেন মিতা। তাঁহার গাম্ভীর্যের শিখরদেশে একটি স্থির হাস্য শুভ্র হইয়াছিল। আর, তাঁহার হৃদয়ের ভিতরটিতে স্নেহের যে-একটি প্রস্রবণ ছিল তাহার সন্ধান যাহারা জানিত তাহারা তাঁহাকে ছাড়িতে চাহিত না।

কর্মক্ষেত্রে ফিরিবার পূর্বে আমার শ্বশুর আমাকে ডাকিয়া বলিলেন, “ বাবা , আমার মেয়েটিকে আমি সতেরো বছর ধরিয়া জানি , আর তোমাকে এই ক ‘ টি দিন মাত্র জানিলাম , তবু তোমার হাতেই ও রহিল । যে ধন দিলাম, তাহার মূল্য যেন বুঝিতে পার , ইহার বেশি আশীর্বাদ আর নাই। ”

তাঁহার বেহাই বেহান সকলেই তাঁহাকে বার বার করিয়া আশ্বাস দিয়া বলিলেন, “ বেহাই , মনে কোনো চিন্তা রাখিয়ো না। তোমার মেয়েটি যেমন বাপকে ছাড়িয়া আসিয়াছে এখানে তেমনি বাপ মা উভয়কেই পাইল। ”

তাহার পরে শ্বশুরমশায় মেয়ের কাছে বিদায় লইবার বেলা হাসিলেন; বলিলেন , “ বুড়ি, চলিলাম। তোর একখানি মাত্র এই বাপ , আজ হইতে ইহার যদি কিছু খোওয়া যায় বা চুরি যায় বা নষ্ট হয় আমি তাহার জন্য দায়ী নই। ”

মেয়ে বলিল, “ তাই বৈকি । কোথাও একটু যদি লোকসান হয় তোমাকে তার ক্ষতিপূরণ করিতে হইবে। ”

অবশেষে নিত্য তাঁহার যে-সব বিষয়ে বিভ্রাট ঘটে বাপকে সে সম্বন্ধে সে বার বার সতর্ক করিয়া দিল। আহারসম্বন্ধে আমার শ্বশুরের যথেষ্ট সংযম ছিল না, গুটিকয়েক অপথ্য ছিল , তাহার প্রতি তাঁহার বিশেষ আসক্তি — বাপকে সেই-সমস্ত প্রলোভন হইতে যথাসম্ভব ঠেকাইয়া রাখা মেয়ের এক কাজ ছিল। তাই আজ সে বাপের হাত ধরিয়া উদ্‌বেগের সহিত বলিল, “ বাবা , তুমি আমার কথা রেখো — রাখবে ?”

বাবা হাসিয়া কহিলেন, “ মানুষ পণ করে পণ ভাঙিয়া ফেলিয়া হাঁফ ছাড়িবার জন্য, অতএব কথা না-দেওয়াই সব চেয়ে নিরাপদ। ”

তাহার পরে বাপ চলিয়া আসিলে ঘরে কপাট পড়িল। তাহার পরে কী হইল কেহ জানে না।

বাপ ও মেয়ের অশ্রুহীন বিদায়ব্যাপার পাশের ঘর হইতে কৌতূহলী অন্তঃপুরিকার দল দেখিল ও শুনিল । অবাক কাণ্ড! খোট্টার দেশে থাকিয়া খোট্টা হইয়া গেছে! মায়ামমতা একেবারে নাই!

আমার শ্বশুরের বন্ধু বনমালীবাবুই আবাদের বিবাহের ঘটকালি করিয়াছিলেন । তিনি আমাদের পরিবারেরও পরিচিত । তিনি আমার শ্বশুরকে বলিয়াছিলেন , “ সংসারে তোমার তো ঐ একটি মেয়ে । এখন ইহাদেরই পাশে বাড়ি লইয়া এইখানেই জীবনটা কাটাও।”

তিনি বলিলেন, “ যাহা দিলাম তাহা উজাড় করিয়াই দিলাম । এখন ফিরিয়া তাকাইতে গেলে দুঃখ পাইতে হইবে । অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই।”

সব-শেষে আমাকে নিভৃতে লইয়া গিয়া অপরাধীর মতো সসংকোচে বলিলেন, “ আমার মেয়েটির বই পড়িবার শখ , এবং লোকজনকে খাওয়াইতে ও বড়ো ভালোবাসে । এজন্য বেহাইকে বিরক্ত করিতে ইচ্ছা করি না । আমি মাঝে মাঝে তোমাকে টাকা পাঠাইব । তোমার বাবা জানিতে পারিলে কি রাগ করিবেন।”

প্রশ্ন শুনিয়া কিছু আশ্চর্য হইলাম । সংসারে কোনো-একটা দিক হইতে অর্থসমাগম হইলে বাবা রাগ করিবেন , তাঁহার মেজাজ এত খারাপ তো দেখি নাই।

যেন ঘুষ দিতেছেন, এমনিভাবে আমার হাতে একখানা একশো টাকার নোট গুঁজিয়া দিয়াই আমার শ্বশুর দ্রুত প্রস্থান করিলেন; আমার প্রণাম লইবার জন্য সবুর করিলেন না। পিছন হইতে দেখিতে পাইলাম , এইবার পকেট হইতে রুমাল বাহির হইল ।

আমি স্তব্ধ হইয়া বসিয়া ভাবিতে লাগিলাম । মনে বুঝিলাম , ইহারা অন্য জাতের মানুষ।

বন্ধুদের অনেককেই তো বিবাহ করিতে দেখিলাম । মন্ত্র পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্ত্রীটিকে একেবারে এক গ্রাসে গলাধঃকরণ করা হয় । পাকযন্ত্রে পৌঁছিয়া কিছুক্ষণ বাদে এই পদার্থটির নানা গুণাগুণ প্রকাশ হইতে পারে এবং ক্ষণে ক্ষণে আভ্যন্তরিক উদ্‌বেগ উপস্থিত হইয়াও থাকে , কিন্তু রাস্তাটুকুতে কোথাও কিছুমাত্র বাধে না । আমি কিন্তু বিবাহসভাতেই বুঝিয়াছিলাম , দানের মন্ত্রে স্ত্রীকে যেটুকু পাওয়া যায় তাহাতে সংসার চলে , কিন্তু পনেরো-আনা বাকি থাকিয়া যায় । আমার সন্দেহ হয় , অধিকাংশ লোকে স্ত্রীকে বিবাহমাত্র করে , পায় না, এবং জানেও না যে পায় নাই ; তাহাদের স্ত্রীর কাছেও আমৃত্যুকাল এ খবর ধরা পড়ে না । কিন্তু , সে যে আমার সাধনার ধন ছিল ; সে আমার সম্পত্তি নয় , সে আমার সম্পদ ।

শিশির — না , এ নামটা আর ব্যবহার করা চলিল না । একে তো এটা তাহার নাম নয় , তাহাতে এটা তাহার পরিচয়ও নহে । সে সূর্যের মতো ধ্রুব ; সে ক্ষণজীবিনী উষার বিদায়ের অশ্রুবিন্দুটি নয় । কী হইবে গোপনে রাখিয়া। তাহার আসল নাম হৈমন্তী।

দেখিলাম , এই সতেরো বছরের মেয়েটির উপরে যৌবনের সমস্ত আলো আসিয়া পড়িয়াছে , কিন্তু এখনো কৈশোরের কোল হইতে সে জাগিয়া উঠে নাই । ঠিক যেন শৈলচূড়ার বরফের উপর সকালের আলো ঠিকরিয়া পড়িয়াছে , কিন্তু বরফ এখনো গলিল না । আমি জানি , কী অকলঙ্ক শুভ্র সে , কী নিবিড় পবিত্র ।

আমার মনে একটা ভাবনা ছিল যে , লেখাপড়া-জানা বড়ো মেয়ে , কী জানি কেমন করিয়া তাহার মন পাইতে হইবে । কিন্তু, অতি অল্পদিনেই দেখিলাম , মনের রাস্তার সঙ্গে বইয়ের দোকানের রাস্তার কোনো জায়গায় কোনো কাটাকাটি নাই । কবে যে তাহার সাদা মনটির উপরে একটু রঙ ধরিল , চোখে একটু ঘোর লাগিল, কবে যে তাহার সমস্ত শরীর মন যেন উৎসুক হইয়া উঠিল, তাহা ঠিক করিয়া বলিতে পারিব না।

এ তো গেল এক দিকের কথা । আবার অন্য দিকও আছে , সেটা বিস্তারিত বলিবার সময় আসিয়াছে ।

রাজসংসারে আমার শ্বশুরের চাকরি । ব্যাঙ্কে যে তাঁহার কত টাকা জমিল সে সম্বন্ধে জনশ্রুতি নানাপ্রকার অঙ্কপাত করিয়াছে , কিন্তু কোনো অঙ্কটাই লাখের নীচে নামে নাই । ইহার ফল হইয়াছিল এই যে , তাহার পিতার দর যেমন-যেমন বাড়িল হৈমর আদরও তেমনি বাড়িতে থাকিল । আমাদের ঘরের কাজকর্ম রীতিপদ্ধতি শিখিয়া লইবার জন্য সে ব্যগ্র , কিন্তু মা তাহাকে অত্যন্ত স্নেহে কিছুতেই হাত দিতে দিলেন না । এমন-কি , হৈমর সঙ্গে পাহাড় হইতে যে দাসী আসিয়াছিল যদিও তাহাকে নিজেদের ঘরে ঢুকিতে দিতেন না তবু তাহার জাত সম্বন্ধে প্রশ্নমাত্র করিলেন না , পাছে বিশ্রী একটা উত্তর শুনিতে হয় ।

এমনিভাবেই দিন চলিয়া যাইতে পরিত , কিন্তু হঠাৎ একদিন বাবার মুখ ঘোর অন্ধকার দেখা গেল । ব্যাপারখানা এই — আমার বিবাহে আমার শ্বশুর পনেরো হাজার টাকা নগদ এবং পাঁচ হাজার টাকার গহনা দিয়াছিলেন । বাবা তাঁহার এক দালাল বন্ধুর কাছে খবর পাইয়াছেন , ইহার মধ্যে পনেরো হাজার টাকাই ধার করিয়া সংগ্রহ করিতে হইয়াছে, তাহার সুদও নিতান্ত সামান্য নহে । লাখ টাকার গুজব তো একেবারেই ফাঁকি ।

যদিও আমার শ্বশুরের সম্পত্তির পরিমাণ সম্বন্ধে আমার বাবার সঙ্গে তাঁহার কোনোদিন কোনো আলোচনাই হয় নাই , তবু বাবা জানি না, কোন্‌ যুক্তিতে ঠিক করিলেন , তাঁহার বেহাই তাঁহাকে ইচ্ছাপূর্বক প্রবঞ্চনা করিয়াছেন।

তার পরে , বাবার একটা ধারণা ছিল , আমার শ্বশুর রাজার প্রধান মন্ত্রী-গোছের একটা-কিছু । খবর লইয়া জানিলেন , তিনি সেখানকার শিক্ষাবিভাগের অধ্যক্ষ। বাবা বলিলেন , অর্থাৎ ইস্কুলের হেড্ মাস্টার — সংসারে ভদ্র পদ যতগুলো আছে তাহার মধ্যে সব চেয়ে ওঁচা। বাবার বড়ো আশা ছিল , শ্বশুর আজ বাদে কাল যখন কাজে অবসর লইবেন তখন আমিই রাজমন্ত্রী হইব।

এমন সময়ে রাস-উপলক্ষে দেশের কুটুম্বরা আমাদের কলিকাতার বাড়িতে আসিয়া জমা হইলেন। কন্যাকে দেখিয়া তাঁহাদের মধ্যে একটা কানাকানি পড়িয়া গেল । কানাকানি ক্রমে অস্ফুট হইতে স্ফুট হইয়া উঠিল। দূর সম্পর্কের কোনো-এক দিদিমা বলিয়া উঠিলেন, “পোড়া কপাল আমার! নাতবউ যে বয়সে আমাকেও হার মানাইল। ”

আর-এক দিদিমাশ্রেণীয়া বলিলেন, “ আমাদেরই যদি হার না মানাইবে তবে অপু বাহির হইতে বউ আনিতে যাইবে কেন। ”

আমার মা খুব জোরের সঙ্গে বলিয়া উঠিলেন, “ ওমা , সে কি কথা । বউমার বয়স সবে এগারো বৈ তো নয় , এই আসছে ফাল্গুনে বারোয় পা দিবে । খোট্টার দেশে ডালরুটি খাইয়া মানুষ, তাই অমন বাড়ন্ত হইয়া উঠিয়াছে। ”

দিদিমারা বলিলেন, “ বাছা , এখনো চোখে এত কম তো দেখি না। কন্যাপক্ষ নিশ্চয়ই তোমাদের কাছে বয়স ভাঁড়াইয়াছে।”

মা বলিলেন, “ আমরা যে কুষ্ঠি দেখিলাম। ”

কথাটা সত্য। কিন্তু কোষ্ঠীতেই প্রমাণ আছে , মেয়ের বয়স সতেরো।

প্রবীণারা বলিলেন , “ কুষ্ঠিতে কি আর ফাঁকি চলে না। ”

এই লইয়া ঘোর তর্ক , এমন-কি বিবাদ হইয়া গেল।

এমন সময়ে সেখানে হৈম আসিয়া উপস্থিত । কোনো-এক দিদিমা জিজ্ঞাসা করিলেন , “ নাতবউ , তোমার বয়স কত বলো তো। ”

মা তাহাকে চোখ টিপিয়া ইশারা করিলেন । হৈম তাহার অর্থ বুঝিল না ; বলিল , “ সতেরো। ”

মা ব্যস্ত হইয়া বলিয়া উঠিলেন, “ তুমি জান না। ”

হৈম কহিল , “ আমি জানি , আমার বয়স সতেরো। ”

দিদিমারা পরস্পর গা-টেপাটেপি করিলেন।

বধূর নির্বুদ্ধিতায় রাগিয়া উঠিয়া মা বলিলেন, “ তুমি তো সব জান! তোমার বাবা যে বলিলেন , তোমার বয়স এগারো । ”

হৈম চমকিয়া কহিল, “ বাবা বলিয়াছেন ? কখনো না। ”

মা কহিলেন , “ অবাক করিল । বেহাই আমার সামনে নিজের মুখে বলিলেন , আর মেয়ে বলে ‘ কখনো না ‘ ! ” এই বলিয়া আর-একবার চোখ টিপিলেন।

এবার হৈম ইশারার মানে বুঝিল; স্বর আরো দৃঢ় করিয়া বলিল, “ বাবা এমন কথা কখনোই বলিতে পারেন না। ”

মা গলা চড়াইয়া বলিলেন, “ তুই আমাকে মিথ্যাবাদী বলিতে চাস? ”

হৈম বলিল, “ আমার বাবা তো কখনোই মিথ্যা বলেন না। ”

ইহার পরে মা যতই গালি দিতে লাগিলেন কথাটার কালি ততই গড়াইয়া ছড়াইয়া চারি দিকে লেপিয়া গেল।

মা রাগ করিয়া বাবার কাছে তাঁহার বধূর মূঢ়তা এবং ততোধিক একগুঁয়েমির কথা বলিয়া দিলেন। বাবা হৈমকে ডাকিয়া বলিলেন, “ আইবড় মেয়ের মেয়ের বয়স সতেরো, এটা কি খুব একটা গৌরবের কথা, তাই ঢাক পিটিয়া বেড়াইতে হইবে? আমাদের এখানে এ-সব চলিবে না, বলিয়া রাখিতেছি। ”

হায় রে, তাঁহার বউমার প্রতি বাবার সেই মধুমাখা পঞ্চম স্বর আজ একেবারে এমন বাজখাঁই খাদে নাবিল কেমন করিয়া।

হৈম ব্যথিত হইয়া প্রশ্ন করিল, “ কেহ যদি বয়স জিজ্ঞাসা করে কী বলিব। ”

বাবা বলিলেন, “ মিথ্যা বলিবার দরকার নাই , তুমি বলিয়ো, ‘ আমি জানি না; আমার শাশুড়ি জানেন ‘ । ”

কেমন করিয়া মিথ্যা বলিতে না হয় সেই উপদেশ শুনিয়া হৈম এমন ভাবে চুপ করিয়া রহিল যে বাবা বুঝিলেন, তাঁহার সদুপদেশটা একেবারে বাজে খরচ হইল।

হৈমর দুর্গতিতে দুঃখ করিব কী, তাহার কাছে আমার মাথা হেঁট হইয়া গেল। সেদিন দেখিলাম, শরৎপ্রভাতের আকাশের মতো তাহার চোখের সেই সরল উদার দৃষ্টি একটা কী সংশয়ে ম্লান হইয়া গেছে । ভীত হরিণীর মতো সে আমার মুখের দিকে চাহিল। ভাবিল, ‘ আমি ইহাদিগকে চিনি না। ‘

সেদিন একখানা শৌখিন-বাঁধাই-করা ইংরাজি কবিতার বই তাহার জন্য কিনিয়া আনিয়াছিলাম। বইখানি সে হাতে করিয়া লইল এবং আস্তে আস্তে কোলের উপর রাখিয়া দিল, একবার খুলিয়া দেখিল না।

আমি তাহার হাতখানি তুলিয়া ধরিয়া বলিলাম, “ হৈম , আমার উপর রাগ করিয়ো না। আমি তোমার সত্যে কখনো আঘাত করিব না। আমি যে তোমার সত্যের বাঁধনে বাঁধা। ”

হৈম কিছু না বলিয়া একটুখানি হাসিল। সে হাসি বিধাতা যাহাকে দিয়াছেন তাহার কোনো কথা বলিবার দরকার নাই।

পিতার আর্থিক উন্নতির পর হইতে দেবতার অনুগ্রহকে স্থায়ী করিবার জন্য নূতন উৎসাহে আমাদের বাড়িতে পূজার্চনা চলিতেছে। এ-পর্যন্ত সে-সমস্ত ক্রিয়াকর্মে বাড়ির বধূকে ডাক পড়ে নাই। নূতন বধূর প্রতি একদিন পূজা সাজাইবার আদেশ হইল ; সে বলিল, “ মা , বলিয়া দাও কী করিতে হইবে। ”

ইহাতে কাহারো মাথায় আকাশ ভাঙিয়া পড়িবার কথা নয়, কারণ সকলেরই জানা ছিল মাতৃহীন প্রবাসে কন্যা মানুষ । কিন্তু, কেবলমাত্র হৈমকে লজ্জিত করাই এই আদেশের হেতু। সকলেই গালে হাত দিয়া বলিল , “ ওমা , এ কী কাণ্ড। এ কোন্‌ নাস্তিকের ঘরের মেয়ে । এবার এ সংসার হইতে লক্ষ্মী ছাড়িল, আর দেরি নাই। ”

এই উপলক্ষে হৈমর বাপের উদ্দেশে যাহা-না-বলিবার তাহা বলা হইল। যখন হইতে কটু কথার হাওয়া দিয়াছে হৈম একেবারে চুপ করিয়া সমস্ত সহ্য করিয়াছে। এক দিনের জন্য কাহারো সামনে সে চোখের জলও ফেলে নাই। আজ তাহার বড়ো বড়ো দুই চোখ ভাসাইয়া দিয়া জল পড়িতে লাগিল। সে উঠিয়া দাঁড়াইয়া বলিল, “ আপনারা জানেন- সে দেশে আমার বাবাকে সকলে ঋষি বলে ? ”

ঋষি বলে! ভরি একটা হাসি পড়িয়া গেল। ইহার পরে তাহার পিতার উল্লেখ করিতে হইলে প্রায়ই বলা হইত তোমার ঋষিবাবা! এই মেয়েটির সকলের চেয়ে দরদের জায়গাটি যে কোথায় তাহা আমাদের সংসার বুঝিয়া লইয়াছিল।

বস্তুত , আমার শ্বশুর ব্রাক্ষ্মও নন, খৃস্টানও নন , হয়তো বা নাস্তিকও না হইবেন। দেবার্চনার কথা কোনোদিন তিনি চিন্তাও করেন নাই। মেয়েকে তিনি অনেক পড়াইয়াছেন-শুনাইয়াছেন , কিন্তু কোনোদিনের জন্য দেবতা সম্বন্ধে তিনি তাহাকে কোনো উপদেশ দেন নাই । বনমালীবাবু এ লইয়া তাঁহাকে একবার প্রশ্ন করিয়াছিলেন। তিনি বলিয়াছিলেন, “ আমি যাহা বুঝি না তাহা শিখাইতে গেলে কেবল কপটতা শেখানো হইবে। ”

অন্তঃপুরে হৈমর একটি প্রকৃত ভক্ত ছিল, সে আমার ছোটো বোন নারানী। বউদিদিকে ভালোবাসে বলিয়া তাহাকে অনেক গঞ্জনা সহিতে হইয়াছিল। সংসারযাত্রায় হৈমর সমস্ত অপমানের পালা আমি তাহার কাছেই শুনিতে পাইতাম। এক দিনের জন্যও আমি হৈমর কাছে শুনি নাই। এ-সব কথা সংকোচে সে মুখে আনিতে পারিত না। সে সংকোচ নিজের জন্য নহে।

হৈম তাহার বাপের কাছ হইতে যত চিঠি পাইত সমস্ত আমাকে পড়িতে দিত। চিঠিগুলি ছোটো কিন্তু রসে ভরা। সেও বাপকে যত চিঠি লিখিত সমস্ত আমাকে দেখাইত। বাপের সঙ্গে তাহার সম্বন্ধটি আমার সঙ্গে ভাগ করিয়া না লইলে তাহার দাম্পত্য যে পূর্ণ হইতে পারিত না। তাহার চিঠিতে শ্বশুরবাড়ি সম্বন্ধে কোনো নালিশের ইশারাটুকুও ছিল না। থাকিলে বিপদ ঘটিতে পারিত। নারানীর কাছে শুনিয়াছি , শ্বশুরবাড়ির কথা কী লেখে জানিবার জন্য মাঝে মাঝে তাহার চিঠি খোলা হইত।

চিঠির মধ্যে অপরাধের কোনো প্রমাণ না পাইয়া উপরওয়ালাদের মন যে শান্ত হইয়াছিল তাহা নহে। বোধ করি তাহাতে তাঁহারা আশাভঙ্গের দুঃখই পাইয়াছিলেন । বিষম বিরক্ত হইয়া তাঁহারা বলিতে লাগিলেন, “ এত ঘন ঘন চিঠিই বা কিসের জন্য। বাপই যেন সব , আমরা কি কেহ নই। ” এই লইয়া অনেক অপ্রিয় কথা চলিতে লাগিল। আমি ক্ষুব্ধ হইয়া হৈমকে বলিলাম , “ তোমার বাবার চিঠি আর-কাহাকেও না দিয়া আমাকেই দিয়ো। কলেজে যাইবার সময় আমি পোস্ট করিয়া দিব। ”

হৈম বিস্মিত হইয়া জিজ্ঞাসা করিল, “ কেন ? ”

আমি লজ্জায় তাহার উত্তর দিলাম না।

বাড়িতে এখন সকলে বলিতে আরম্ভ করিল, “ এইবার অপুর মাথা খাওয়া হইল। বি.এ. ডিগ্রি শিকায় তোলা রহিল। ছেলেরই বা দোষ কী। ”

সে তো বটেই । দোষ সমস্তই হৈমর। তাহার দোষ যে তাহার বয়স সতেরো ; তাহার দোষ যে আমি তাহাকে ভালোবাসি ; তাহার দোষ যে বিধাতার এই বিধি , তাই আমার হৃদয়ের রন্ধ্রে রন্ধ্রে সমস্ত আকাশ আজ বাঁশি বাজাইতেছে।

বি.এ.ডিগ্রি অকাতরচিত্তে আমি চুলায় দিতে পারিতাম কিন্তু হৈমর কল্যাণে পণ করিলাম, পাস করিবই এবং ভালো করিয়াই পাস করিব। এ পণ রক্ষা করা আমার সে অবস্থায় যে সম্ভবপর বোধ হইয়াছিল তাহার দুইটি কারণ ছিল — এক তো হৈমর ভালোবাসার মধ্যে এমন একটি আকাশের বিস্তার ছিল যে , সংকীর্ণ আসক্তির মধ্যে সে মনকে জড়াইয়া রাখিত না, সেই ভালোবাসার চারি দিকে ভারি একটি স্বাস্থ্যকর হাওয়া বহিত। দ্বিতীয় , পরীক্ষার জন্য যে বইগুলি পড়ার প্রয়োজন তাহা হৈমর সঙ্গে একত্রে মিলিয়া পড়া অসম্ভব ছিল না।

পরীক্ষা পাসের উদ্‌যোগে কোমর বাঁধিয়া লাগিলাম। একদিন রবিবার মধ্যাহ্নে বাহিরের ঘরে বসিয়া মার্টিনোর চরিত্রতত্ত্ব বইখানার বিশেষ বিশেষ লাইনের মধ্যপথগুলা ফাড়িয়া ফেলিয়া নীল পেন্সিলের লাঙল চালাইতেছিলাম, এমন সময় বাহিরের দিকে হঠাৎ আমার চোখ পড়িল।

আমার ঘরের সমুখে আঙিনার উত্তর দিকে অন্তঃপুরে উঠিবার একটা সিঁড়ি। তাহারই গায়ে গায়ে মাঝে মাঝে গরাদে-দেওয়া এক-একটা জানলা। দেখি, তাহারই একটি জানলায় হৈম চুপ করিয়া বসিয়া পশ্চিমের দিকে চাহিয়া। সে দিকে মল্লিকদের বাগানে কাঞ্চনগাছ গোলাপি ফুলে আচ্ছন্ন।

আমার বুকে ধক্‌ করিয়া একটা ধাক্কা দিল; মনের মধ্যে একটা অনবধানতার আবরণ ছিঁড়িয়া পড়িয়া গেল। এই নিঃশব্দ গভীর বেদনার রূপটি আমি এতদিন এমন স্পষ্ট করিয়া দেখি নাই।

কিছু না , আমি কেবল তাহার বসিবার ভঙ্গিটুকু দেখিতে পাইতেছিলাম। কোলের উপরে একটি হাতের উপর আর-একটি হাত স্থির পড়িয়া আছে , মাথাটি দেয়ালের উপরে হেলানো , খোলা চুল বাম কাঁধের উপর দিয়া বুকের উপর ঝুলিয়া পড়িয়াছে । আমার বুকের ভিতরটা হুহু করিয়া উঠিল।

আমার নিজের জীবনটা এমনি কানায় কানায় ভরিয়াছে যে , আমি কোথাও কোনো শূন্যতা লক্ষ করিতে পারি নাই। আজ হঠাৎ আমার অত্যন্ত নিকটে অতি বৃহৎ একটা নৈরাশ্যের গহ্বর দেখিতে পাইলাম। কেমন করিয়া কী দিয়া আমি তাহা পূরণ করিব।

আমাকে তো কিছুই ছাড়িতে হয় নাই। না আত্মীয়, না অভ্যাস, না কিছু। হৈম যে সমস্ত ফেলিয়া আমার কাছে আসিয়াছে। সেটা কতখানি তাহা আমি ভালো করিয়া ভাবি নাই। আমাদের সংসারে অপমানের কণ্টকশয়নে সে বসিয়া; সে শয়ন আমিও তাহার সঙ্গে ভাগ করিয়া লইয়াছি। সেই দুঃখে হৈমর সঙ্গে আমার যোগ ছিল, তাহাতে আমাদিগকে পৃথক করে নাই। কিন্তু , এই গিরিনন্দিনী সতেরো-বৎসর-কাল অন্তরে বাহিরে কত বড়ো একটা মুক্তির মধ্যে মানুষ হইয়াছে। কী নির্মল সত্যে এবং উদার আলোকে তাহার প্রকৃতি এমন ঋজু শুভ্র ও সবল হইয়া উঠিয়াছে। তাহা হইতে হৈম যে কিরূপ নিরতিশয় ও নিষ্ঠুররূপে বিচ্ছিন্ন হইয়াছে এতদিন তাহা আমি সম্পূর্ণ অনুভব করিতে পারি নাই , কেননা সেখানে তাহার সঙ্গে আমার সমান আসন ছিল না।

হৈম যে অন্তরে অন্তরে মুহূর্তে মুহূর্তে মরিতেছিল। তাহাকে আমি সব দিতে পারি কিন্তু মুক্তি দিতে পারি না — তাহা আমার নিজের মধ্যে কোথায়? সেইজন্যই কলিকাতার গলিতে ঐ গরাদের ফাঁক দিয়া নির্বাক্‌ আকাশের সঙ্গে তাহার নির্বাক্‌ মনের কথা হয়; এবং এক-একদিন রাত্রে হঠাৎ জাগিয়া উঠিয়া দেখি সে বিছানায় নাই, হাতের উপর মাথা রাখিয়া আকাশ-ভরা তারার দিকে মুখ তুলিয়া ছাতে শুইয়া আছে।

মার্টিনো পড়িয়া রহিল। ভাবিতে লাগিলাম, কী করি। শিশুকাল হইতে বাবার কাছে আমার সংকোচের অন্ত ছিল না— কখনো মুখোমুখি তাঁহার কাছে দরবার করিবার সাহস বা অভ্যাস আমার ছিল না। সেদিন থাকিতে পারিলাম না। লজ্জার মাথা খাইয়া তাঁহাকে বলিয়া বসিলাম, “ বউয়ের শরীর ভালো নয় , তাহাকে একবার বাপের কাছে পাঠাইলে হয়।”

বাবা তো একেবারে হতবুদ্ধি। মনে লেশমাত্র সন্দেহ রহিল না যে, হৈমই এরূপ অভূতপূর্ব স্পর্ধায় আমাকে প্রবর্তিত করিয়াছে। তখনই তিনি উঠিয়া অন্তঃপুরে গিয়া হৈমকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “ বলি বউমা , তোমার অসুখটা কিসের। ”

হৈম বলিল, “ অসুখ তো নাই। ”

বাবা ভাবিলেন, এ উত্তরটা তেজ দেখাইবার জন্য।

কিন্তু , হৈমর শরীরও যে দিনে দিনে শুকাইয়া যাইতেছিল তাহা আমরা প্রতিদিনের অভ্যাসবশতই বুঝি নাই। একদিন বনমালীবাবু তাহাকে দেখিয়া চমকিয়া উঠিলেন, “ অ্যাঁ , এ কী। হৈমী , এ কেমন চেহারা তোর! অসুখ করে নাই তো ?”

হৈম কহিল, “ না। ”

এই ঘটনার দিন-দশেক পরেই , বলা নাই , কহা নাই , হঠাৎ আমার শ্বশুর আসিয়া উপস্থিত। হৈমর শরীরের কথাটা নিশ্চয় বনমালীবাবু তাঁহাকে লিখিয়াছিলেন।

বিবাহের পর বাপের কাছে বিদায় লইবার সময় মেয়ে আপনার অশ্রু চাপিয়া নিয়াছিল। এবার মিলনের দিন বাপ যেমনি তাহার চিবুক ধরিয়া মুখটি তুলিয়া ধরিলেন অমনি হৈমর চোখের জল আর মানা মানিল না। বাপ একটি কথা বলিতে পারিলেন না; জিজ্ঞাসা পর্যন্ত করিলেন না ‘ কেমন আছিস ‘। আমার শ্বশুর তাঁহার মেয়ের মুখে এমন-একটা কিছু দেখিয়াছিলেন যাহাতে তাঁহার বুক ফাটিয়া গেল।

হৈম বাবার হাত ধরিয়া তাঁহাকে শোবার ঘরে লইয়া গেল । অনেক কথা যে জিজ্ঞাসা করিবার আছে । তাহার বাবারও যে শরীর ভালো দেখাইতেছে না।

বাবা জিজ্ঞাসা করিলেন , “ বুড়ি , আমার সঙ্গে যাবি ? ”

হৈম কাঙালের মতো বলিয়া উঠিল , “ যাব। ”

বাপ বলিলেন , “ আচ্ছা , সব ঠিক করিতেছি। ”

শ্বশুর যদি অত্যন্ত উদ্‌বিগ্ন হইয়া না থাকিতেন তাহা হইলে এ বাড়িতে ঢুকিয়াই বুঝিতে পারিতেন, এখানে তাঁহার আর সেদিন নাই। হঠাৎ তাঁহার আবির্ভাবকে উপদ্রব মনে করিয়া বাবা তো ভালো করিয়া কথাই কহিলেন না। আমার শ্বশুরের মনে ছিল তাঁহার বেহাই একদা তাঁহাকে বার বার করিয়া আশ্বাস দিয়াছিলেন যে, যখন তাঁহার খুশি মেয়েকে তিনি বাড়ি লইয়া যাইতে পারিবেন। এ সত্যের অন্যথা হইতে পারে সে কথা তিনি মনেও আনিতে পারেন নাই।

বাবা তামাক টানিতে টানিতে বলিলেন, “ বেহাই , আমি তো কিছু বলিতে পারি না, একবার তা হলে বাড়ির মধ্যে — ”

বাড়ির-মধ্যের উপর বরাত দেওয়ার অর্থ কী আমার জানা ছিল। বুঝিলাম, কিছু হইবে না। কিছু হইলও না।

বউমার শরীর ভালো নাই! এত বড়ো অন্যায় অপবাদ!

শ্বশুরমশায় স্বয়ং একজন ভালো ডাক্তার আনিয়া পরীক্ষা করাইলেন। ডাক্তার বলিলেন, “ বায়ু-পরিবর্তন আবশ্যক, নহিলে হঠাৎ একটা শক্ত ব্যামো হইতে পারে। ”

বাবা হাসিয়া কহিলেন, “ হঠাৎ একটা শক্ত ব্যামো তো সকলেরই হইতে পারে। এটা কি আবার একটা কথা। ”

আমার শ্বশুর কহিলেন, “ জানেন তো , উনি একজন প্রসিদ্ধ ডাক্তার, উহার কথাটা কি —”

বাবা কহিলেন, “ অমন ঢের ডাক্তার দেখিয়াছি। দক্ষিণার জোরে সকল পণ্ডিতেরই কাছে সব বিধান মেলে এবং সকল ডাক্তারেরই কাছে সব রোগের সার্টিফিকেট পাওয়া যায়! ”

এই কথাটা শুনিয়া আমার শ্বশুর একেবারে স্তব্ধ হইয়া গেলেন। হৈম বুঝিল তাহার বাবার প্রস্তাব অপমানের সহিত অগ্রাহ্য হইয়াছে। তাহার মন একেবারে কাঠ হইয়া গেল।

আমি আর সহিতে পরিলাম না। বাবার কাছে গিয়া বলিলাম, “ হৈমকে আমি লইয়া যাইব। ”

বাবা গর্জিয়া উঠিলেন, “ বটে রে — ” ইত্যাদি ইত্যাদি।

বন্ধুরা কেহ কেহ আমাকে জিজ্ঞাসা করিয়াছেন, যাহা বলিলাম তাহা করিলাম না কেন। স্ত্রীকে লইয়া জোর করিয়া বাহির হইয়া গেলেই তো হইত। গেলাম না কেন? কেন! যদি লোকধর্মের কাছে সত্যধর্মকে না ঠেলিব যদি ঘরের কাছে ঘরের মানুষকে বলি দিতে না পারিব, তবে আমার রক্তের মধ্যে বহুযুগের যে শিক্ষা তাহা কী করিতে আছে। জান তোমরা? যেদিন অযোধ্যার লোকেরা সীতাকে বিসর্জন দিবার দাবি করিয়াছিল তাহার মধ্যে আমিও যে ছিলাম। আর সেই বিসর্জনের গৌরবের কথা যুগে যুগে যাহারা গান করিয়া আসিয়াছে আমিও যে তাহাদের মধ্যে একজন। আর , আমিই তো সেদিন লোকরঞ্জনের জন্য স্ত্রীপরিত্যাগের গুণবর্ণনা করিয়া মাসিকপত্রে প্রবন্ধ লিখিয়াছি। বুকের রক্ত দিয়া আমাকে যে একদিন দ্বিতীয় সীতাবিসর্জনের কাহিনী লিখিতে হইবে , সে কথা কে জানিত।

পিতায় কন্যায় আর-একবার বিদায়ের ক্ষণ উপস্থিত হইল। এইবারেও দুইজনেরই মুখে হাসি। কন্যা হাসিতে হাসিতেই ভর্ৎসনা করিয়া বলিল, “ বাবা, আর যদি কখনো তুমি আমাকে দেখিবার জন্য এমন ছুটাছুটি করিয়া এ বাড়িতে আস তবে আমি ঘরে কপাট দিব। ”

বাপ হাসিতে হাসিতেই বলিলেন, “ ফের যদি আসি তবে সিঁধকাটি সঙ্গে করিয়াই আসিব। ”

ইহার পরে হৈমর মুখে তাহার চিরদিনের সেই স্নিগ্ধ হাসিটুকু আর একদিনের জন্যও দেখি নাই।

তাহারও পরে কী হইল সে কথা আর বলিতে পারিব না।

শুনিতেছি, মা পাত্রী সন্ধান করিতেছেন । হয়তো একদিন মার অনুরোধ অগ্রাহ্য করিতে পারিব না , ইহাও সম্ভব হইতে পারে। কারণ — থাক্‌, আর কাজ কী!

Categories
অনলাইন প্রকাশনা ইতিহাস গবেষণামূলক প্রকাশনা বিজ্ঞান

পৃথিবীর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস – ১

পৃথিবীর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস – ১
—————— ডঃ রমিত আজাদ

ভূমিকাংশ
লক্ষ লক্ষ বৎসর আগে মানুষ এই পৃথিবীতে এসেছে এবং আদিম মানুষ সম্ভবত পশু-পাখীর মতই প্রকৃতির দেয়া খাদ্য ও আশ্রয় অবলম্বন করে যাযাবরের জীবন যাপন করে বহুকাল ধরে জীবন সংগ্রাম করেছে। তারপর একসময় সে আগুনের ব্যবহার শিখে সৃষ্টিশীল হয়েছে, কৃষি আবিস্কার করে স্থায়ী বাসভুমি গড়ে তুলেছে। কালের স্রোতে উন্নততর জীবন ধারনের ঊপায়ই কেবল আবিষ্কার করে নাই, পাশাপাশি তার বুদ্ধি শ্রম ও বিবেক খাটিয়ে চারপাশের জগৎটিকে জানতে ও বুঝতে চেষ্টা করেছে। তার নিজের প্রয়োজনে অনেক কিছুকে বদলে দেবারও চেষ্টা করেছে। এই বিশাল বিশ্বব্রহ্মান্ডের অতি ক্ষুদ্র একটি গ্রহ পৃথিবীর পরে ঠিক কবে কোন ক্ষণে কিভাবে মানুষের আগমণ ঘটেছিল তা এখনো চুলচেরাভাবে নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি সত্য কিন্তু সে চেষ্টায় ভাটাও পরেনি কখনো। অতীতে মানুষ কেমন ছিল, তাদের জীবন কেমন কাটত, বর্তমানে প্রাপ্ত নানাবিধ তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তার যুক্তিপূর্ণ অনুসন্ধানই ইতিহাস।

ইতিহাসের নানা দিক আছে – ভৌগলিক ইতিহাস, জীব-বৈচিত্রের ইতিহাস, নৃতাত্ত্বিক ইতিহাস, রাজনৈতিক ইতিহাস, দর্শনের ইতিহাস, ধর্মীয় ইতিহাস, সাহিত্যের ইতিহাস, সামাজিক ইতিহাস, বিজ্ঞানের ইতিহাস অর্থনৈতিক ইতিহাস, আবার পৃথিবী জুড়ে নানাবিধ সামাজিক পরিবর্তনের পিছনে রয়েছে নানাবিধ দর্শনের প্রভাবের ইতিহাস, ইত্যাদি। এরা সকলে ইতিহাসের এক একটি অংশ হলেও সামগ্রিকভাবেও পৃথিবীর ইতিহাসকে দেখা প্রয়োজন। এই সিরিজে এই সব কিছুকে সংক্ষেপে তুলে ধরার চেষ্টা করব। পাঠকদের গঠনমূলক সমালোচনা আশা করছি।

শুরু করছি প্রাগৈতিহাসিক যুগ দিয়েঃ

প্রাগৈতিহাসিক যুগ
বিশ্বের ইতিহাস মুলতঃ হোমো স্যাপিয়েন্সের অতীত অভিজ্ঞতার স্মৃতি। ইতিহাস লিখতে গেলে লিখতে-পড়তে জানতে হবে। তাই লিখিত ইতিহাস সংরক্ষিত হয়েছে মানুষ লিখতে শেখার পর থেকে। কিন্তু তার আগেও তো মানবজাতি এই পৃথিবীতে বিচরণ করেছে কয়েক লক্ষ বছর, সেই সময়ের অভিজ্ঞতা জানব কেমন করে? এই যুগটিকে বলা হয় প্রাগৈতিহাসিক অর্থাৎ ইতিহাসেরও আগের যুগ। নিঃসন্দেহে এই যুগের কোন লিখিত রেকর্ড নেই। সেই সময়ের প্রাপ্ত বিভিন্ন পেন্টিং, অঙ্কন, ভাস্কর্য, এবং অন্যান্য হস্তনির্মিত নিদর্শন পাঠ করে অনেক তথ্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। বিংশ শতাব্দি থেকে প্রাগৈতিহাসিক যুগের গবেষণা অপরিহার্য বিবেচনা করা হয়েছে, কেননা একদিকে তা যেমন সেই সময়ের আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে জানার জন্য অত্যাবশ্যকীয় অন্যদিকে তা না করলে সাব সাহারান আফ্রিকা, পূর্ব এবং কলম্বিয়ান আমেরিকার মত গুরুত্বপূর্ণ সভ্যতাগুলোও বাদ পরে যাওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। কোন এক কালে পশ্চিমা ঐতিহাসিকরা কেবলমাত্র পশ্চিমী বিশ্বের উপরই মনোযোগ নিবদ্ধ করেছিলেন এবং যা কিছু শুরু করতেন শুরু করতেন প্রাচীন গ্রীস থেকে। কিন্তু সময়ের বিচারে গ্রীক সভ্যতা সিন্ধু ও ব্যাবিলনীয় সভ্যতা থেকে অনেক নবীন। এমনকি অস্ট্রেলিয়ান অ্যাবোরিজিনরা এবং নিউজিল্যান্ডের মাওরিরা তাদের ইতিহাস মৌখিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করে রেখেছিলো ইউরোপীয়দের সাথে তাদের যোগাযোগ হওয়ার অনেক আগে থেকেই।

বৃটিশ ইতিহাসবিদ E. H. Carr বলেছেন, ‘প্রাগৈতিহাসিক এবং ঐতিহাসিক এর মধ্যে প্রভেদ রেখা আমরা অতিক্রম করেছি যখন মানুষ শুধুমাত্র বর্তমানে বাস করা বন্ধ করেছে, এবং সচেতনভাবে তাদের অতীত এবং তাদের ভবিষ্যতের উভয়েই আগ্রহী হয়ে উঠেছে। ইতিহাস আরম্ভ হয় ঐতিহ্যের হস্তান্তরের মধ্যে দিয়ে; আর ঐতিহ্য মানে অতীত অভ্যাস ও অনুশীলনগুলোকে পরিবহণ করে ভবিষ্যতের মধ্যে ঠেলে দেয়া। অতীতের রেকর্ড ভবিষ্যত প্রজন্মের সুবিধার জন্যই সংরক্ষণ করে রাখা প্রয়োজন।’

(চলবে)

Categories
অনলাইন প্রকাশনা ইতিহাস শিশু

শিশুদের জিয়া

শিশুদের জিয়া
————– ডঃ রমিত আজাদ

দিনটি ছিল মহান একুশে ফেব্রুয়ারী। শহীদ মিনারের ঠিক উল্টা দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা বাগানে, একটি আড়াই বছরের শিশুকে মালি বা পিওন ধমকা ধমকি করছে, ফুল ধরেছে বলে। বাবা-মা মালিকে বোঝাতে পারছে না। তারপর আমি এগিয়ে গেলাম, “কি হয়েছে, আপনি বাচ্চাটাকে ধমকাচ্ছেন কেন?” বলল, “বাচ্চাটা ফুল ছিড়ছে তাই”। আমি বললাম, “ফুল তো ছিড়ে নাই, ধরেছে মাত্র”। ছোট শিশুটির বাবা বলল, “ওর তো মাত্র আড়াই বছর বয়স, একটু ফুল ধরে দেখতে চেয়েছে”। সেই মালি/পিওন বলল, “না, এখানে ফুলে হাত দেয়া নিষেধ, ফুল থাকবে সবাই দেখবে”। আমি বললাম, “ছোট বাচ্চা, এগুলো তো আর বুড়োদের জন্য না। বাচ্চারা দেখবে, হাসবে, খেলবে। ওদের জন্যই তো সবকিছু। পিওনটা গজগজ করতে করতে চলে গেল। এই হলো আমাদের দেশের সামগ্রিক অবস্থা, শিশুদের প্রতি আবেগ, নজর, ভালোবাসার অনেক অভাব।

কিন্তু এই আমাদের দেশেই এমন একজন রাষ্ট্রপতি ছিলেন, যিনি বুঝতে পেরেছিলেন, শিশুদের ভালো না বসলে দেশ বা জাতিকে ভালোবাসা হয়না। যেকোন জাতি গঠনের শুরু করতে হবে শিশুদেরকে দিয়ে। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

১৯৭৬ সালে রাষ্ট্রপতি হলেন জিয়াউর রহমান। তিনি অনুধাবন করতে পেরেছিলেন যে, জাতির ভবিষ্যৎ হলো শিশুরা। যে কোন জাতি গঠন শিশুদেরকে দিয়েই শুরু করতে হবে। সেই উদ্দেশ্যেই তিনি বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নেন।
১। শিশুদের সাংস্কৃতিক ও নানা জাতীয় মেধা চর্চার জন্য শিশু এ্যকাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন,
২। দেশের প্রতিটি বৃহত্তর জেলায় এ্যকাডেমির শাখা স্থাপন করেন,
৩। শিশুদের সাংস্কৃতিক প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে নতুন কুঁড়ি নামে একটি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন, যা বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার হতো। পরবর্তিকালে অনেক সুখ্যাত শিল্পি ঐ নতুন কুঁড়িরই প্রডাক্ট,
৪। সারাদেশে মেধাবী শিশু ছাত্রদের অনুপ্রেরণা দেয়ার লক্ষ্যে তাদের জন্য একটি সম্মেলনের আয়োজন করেন এবং সশরীরে সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা করেন। সেই সম্মেলনে অংশগ্রহনকারী মেধাবী শিশুদের জন্য দিনটি ছিল স্মরণীয়,
৫। মেধাবী শিশুদের (ধনী হোক দরিদ্র হোক) লালণের নিমিত্তে নির্মিত সামরিক মেরিট স্কুল ক্যাডেট কলেজের সংখ্যা চারটি থেকে আটটিতে উন্নিত করেন,
৬। সুস্থ অর্থবহ ও উন্নত চলচিত্রের নির্মানের লক্ষ্যে তিনি রাষ্ট্রীয় অনুদানের ব্যবস্থা করেন। এই সময়ে বেশ কিছু ভালো ভালো শিশু চলচিত্র নির্মিত হয়, যেমন- ছুটির ঘন্টা, ডুমুরের ফুল, ডানপিটে ছেলেটি, অশিক্ষিত, এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী, ইত্যাদি,
সেই সময় বিটিভিতেও খুব সুন্দর সুন্দর শিশুতোষ অনুষ্ঠান হতো। এরমধ্যে একটি ধারাবাহিক নাটক ছিল, ‘রোজ রোজ’।
৭। জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালকে বাংলাদেশ শিশু বর্ষ ঘোষণা করেন। পুরো বছর জুড়ে সারাদেশে নানা রকম কর্মকান্ড হয়।
৮। শিশু পার্ক – সেনাবাহিনীর চাকুরী জীবনে তিনি জার্মানীতে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি নিশ্চয়ই সেখানকার অত্যাধুনিক শিশু পার্কগুলো দেখেছিলেন। তাছাড়া রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন সময়েও তিনি একাধিক দেশ সফর করেছিলেন এবং সেসব দেশের শিশুপ্রেম ভালোভাবে প্রত্যক্ষ করেছিলেন। তিনি তাই ঢাকাতে একটি অত্যাধুনিক শিশু পার্ক প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিলেন। যেই চাওয়া সেই কাজ, খুব দ্রুতই কাজ শেষ করে ১৯৭৯ সালে উদ্ধোধন করলেন ‘ঢাকা শিশু পার্ক’। হুমড়ি খেয়ে পড়ল শুধু শিশুরা নয় পুরো ঢাকা শহর। শিশু, কিশোর, যুবা এমনকি প্রৌঢ়-বৃদ্ধরাও বাদ যায়নি। আমাদের কল্পনাতেই ছিলনা এমন কিছু একেবারে বাস্তব রূপে ধরা দিল। এই পার্ক দেখে প্রতিটি শিশুরই মনে হয়েছিল, এ যেন এক রূপকথার জগৎ।
এই পার্ক নিয়ে বাংলাদেশের প্রথম বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনাও আছে।
এক পাগলাটে যুবক, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী একটি আভ্যন্তরীণ বিমান হাইজ্যাক করে খেলনা পিস্তল দিয়ে। তারপর পাইলটকে বাধ্য করে বিমানটি কলকাতায় নিয়ে যেতে। কি আর করা? পাইলট তো আর বুঝতে পারেনি যে, সেটা খেলনা পিস্তল। যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ছিনতাইকারীর কথাই শোনে। ছিনতাইকারীর কাছে তার দাবী শুনতে চাইলে সে বলে, “ঢাকার শিশু পার্কটি চরম বিলাসিতা, বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশে এমন পার্কের প্রয়োজন নেই। আমি পার্কটি বন্ধ করার দাবী জানাচ্ছি”। এত সুন্দর একটা পার্ক, যা দেখে শিশুরা আনন্দে ভাসছে সেটা সে বন্ধ করার দাবী জানালো! এই একটা সমস্যা। আমরা কোন ভালো কিছুকে খুব সহজে গ্রহন করতে পারিনা।
৯। শিশুদের অধ্যায়নের সুবিধার্থে শাহবাগের পাবলিক লাইব্রেরীর পাশেই তিনি একটি শিশু গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করেন।

জিয়াউর রহমান যখন রাষ্ট্রক্ষমতায় এলেন তখন আমি পাঁচ পেরিয়ে ছয় বছরে পা রেখেছি। পত্রিকায় উনার বড় মাপের একটা ছবি দেখলাম, এটা মনে আছে। তার কিছুকাল পরে শুনলাম, তিনি ঢাকার মগবাজার, মধুবাগে আসবেন। ব্যাস প্রবল উৎসাহ পড়ে গেল। নির্দিষ্ট দিনে পথের পাশে দাঁড়িয়ে গেলাম। কিছু সময় অপেক্ষা করার পর দেখলাম, খোলা জীপে সামরিক পোষাকে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি, ধীরে ধীরে আমাকে অতিক্রম গেল জিপটি । এই প্রথম চোখের সামনে দেখলাম, সুদর্শন, সুপুরুষ, জনপ্রিয় এই রাষ্ট্রপতিকে। সেই ভালোলাগার অনুভূতি আমি কোনদিন ভুলব না। সম্ভবতঃ আরো একবছর পর তিনি আরেকবার এলেন
ঢাকার মগবাজার, মধুবাগে। আমি তখন মগবাজার টি এন্ড টি স্কুলের ছাত্র। স্কুলটির অবস্থা শোচনীয় ছিল। হেডমাস্টার দেখলেন এই তো সুযোগ, তিনি এক ফন্দি আটলেন। রাষ্ট্রপতি যাওয়ার পথে স্কুলের ছাত্র শিক্ষক মিলে তাঁর পথ আটকাবে যাতে কিছু অনুদান পাওয়া যায়। করলেনও তাই। রাষ্ট্রপতির গাড়ি বহরের সামনে ছিল মটর সাইকেল আরোহী গার্ডরা। তারা মৃদু হেসে থেমে গেলেন। একটু পর একটা জীপ এসে থামলো। তার পিছনে বাকী গাড়ীগুলোও থামলো। এর মধ্যে একটি ছিল রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গাড়ী। এসময় জিয়াউর রহমান বুঝতে পেরেছিলেন যে, শিশুদের অনেকেই উদগ্রীব হয়ে অপেক্ষা করছে উনার সাথে হ্যান্ডশেক করার জন্য। তিনি তার ডান হাতটি জানালার বাইরে বের করে দিলেন। বেশ কয়েকজন ছুটে গেল উনার সাথে হাত মিলানোর জন্য। আমিও ছুটে গিয়ে উনার সাথে হাত মিলিয়েছিলাম। সেই অনুভূতি আমি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মনে রাখবো।

খোলা জীপ থেকে একজন সুঠামদেহী সেনা কর্মকর্তা নেমে এসে কিছুটা বিরক্ত হয়ে বললেন, “এভাবে রাষ্ট্রপতির গতি রোধ করা যায়না, আপনারা সরে দাঁড়ান”। পায়ে পায়ে সরে গেল সবাই। কিন্তু জিয়াউর রহমান ঘটনাটি মনে রেখেছিলেন, এবং পরে তিনি আমদের স্কুলের জন্য অনুদান পাঠিয়েছিলেন।

তৃতীয়বার উনাকে দেখেছিলাম, বাংলাদেশ শিশু বর্ষ ১৯৭৯ সালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে, ঢাকা স্টেডিয়ামে। অনুষ্ঠানটি বর্নাঢ্য হয়েছিল, এবং স্বয়ং রাষ্ট্রপতির উপস্থিতি তাকে আরো প্রানবন্ত করেছিল।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শিশুপ্রেমের আরেকটি ঘটনা আমি শুনেছিলাম আরেকজনার কাছ থেকে। তিনি বর্তমানে একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য্য। সে সময় জিয়াউর রহমান রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন না। ছিলেন সেনা উপ-প্রধান ও বাংলাদেশ ক্যাডেট কলেজ সমূহের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান। ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজে কি একটা মনমালিন্য হলো সিনিয়র জুনিয়রদের মধ্যে। মোটামুটি সিরিয়াস পর্যায়েই দাঁড়ালো। প্রিন্সিপাল বললেন আগামীকাল এর বিহিত করবেন। সবাই বুঝতে পারছিল, সিভিয়ার এ্যকশন নেবেন প্রিন্সিপাল, দু’য়েকজনকে কলেজ থেকে উইথড্রও করতে পারেন। প্রমাদ গুনছিল অনেকেই।

পরদিন সকালে হাউজের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল ক্যাডেটরা, এরকম সময় তারা বিস্মিত হয়ে দেখলো, ‘চোখের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন, সারা বাংলাদেশের উপ-সেনাপ্রধান ও ক্যাডেট কলেজ সমূহের দন্ডমুন্ডের কর্তা জিয়াউর রহমান। সংবাদ পেয়ে তিনি নিজেই চলে এসেছেন। তিনি কিছুক্ষণ প্রিন্সিপালের সাথে কথা বললেন, তারপর জুনির ক্লাসের (ক্লাস এইট অথবা নাইন) এই গোলযোগের রিং লিডারদের ডেকে সামনে দাঁড় করালেন। উনার হাতে ছিল একটা কেইন, আপন পিতার মত শাসনের সুরে তাদের তিরষ্কার করলেন এবং তাদের প্রত্যেকের পিঠে মৃদু চালালেন তার কেইন। আর সিনিয়রদেরও বাদ দিলেন না। তাদের আলাদা করে ডেকে নিয়ে গেলেন প্রিন্সিপালের রূমে, এবং সেখানে তাদেরকেও তিরষ্কার ও সাবধান করে দিলেন।

নিজের সন্তানদেরও কোন প্রশ্রয় দেননি তিনি। পত্রিকায় পড়েছিলাম, একবার তারেক রহমান বায়না ধরেছিল, বাবার সাথে বিদেশ সফরে যাবে। পিতা জিয়া সরাসরি নিষেধ করে দিয়েছিলেন। এরকম নিয়ম নেই, সুতরাং এটা কখনোই সম্ভব নয়। তারেক তখন বলল যে, নেপালের রাজা যখন বাংলাদেশ সফরে এলেন, তখন তাঁর সাথে তো তার ছেলে ছিল। ভীষণ রাগান্বিত হয়ে জিয়াউর রহমান বলেছিলেন, “তোমরা কোন রাজা-বাদশার ছেলে নও”।

‘এমন একটি পৃথিবী কল্পনা করুন যেখানে কোন শিশু নেই, সেই পৃথিবীতে কি অফিস-আদালত কাজ করবে? ট্রেন চলবে? বিমান উড়বে? পেটের দায়ে সবই হবে হয়তো। কিন্তু এই সব কিছুর কোন অর্থ থাকবে না। কারণ আমরা যা কিছু করি, সবই ভবিষ্যতের জন্য করি, আর ভবিষ্যত মানেই শিশুরা।’

আমি শিশু হিসাবে তাঁকে যেমন দেখেছি। তাতে মনে হয়েছে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, উপরের কথাগুলোর মর্মার্থ বুঝতে পেরেছিলেন। আর তাই শিশুদের জন্য তিনি যতদূর সম্ভব অবদান রাখার চেস্টা করেছেন।

শিশু জিয়ার নাম ছিল কমল। আজ সেই কমলের জন্মদিন। আসুন আমরা সবাই মিলে তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।

যেদিন তুমি এসেছিলে ভবে
কেঁদেছিলে তুমি আর হেসেছিল সবে
এমন জীবন ভবে করিবে গঠন
মরনে হাসিবে তুমি কাঁদিবে ভুবন ।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা গবেষণামূলক প্রকাশনা প্রকৌশল ও বিজ্ঞান বিজ্ঞান

The uncertainty Principle

The uncertainty Principle

–Dr. Ramit Azad
Atomic phenomenon ব্যাখ্যা করতে গিয়ে যখন আমরা Classical Mechanics ও Electrodynamics ব্যবহার করি তা আমাদের এমন তাত্ত্বিক ফলাফল দেয় যা পরীক্ষালদ্ধ ফলাফলের সাথে বিরোধিতা করে। ফলে তত্ত্ব ও বাস্তবের মধ্যে পরস্পর বিরোধিতার সৃস্টি হয়। এই বিরোধিতা স্পষ্ট দেখা যায় যখন atom-এর model এ (যেখানে নিউক্লিয়াসের চতুর্দিকে electron-সমূহ classical orbit-এ ঘূর্ণায়মান) electrodynamics ব্যবহার করি। electromagnetic-এর আইন অনুযায়ী যে কোন ত্বরান্বিত charge অবিরাম electromagnetic wave emit করবে। এই জাতীয় emission যদি হতো তাহলে electron তার সমস্ত শক্তি হারিয়ে অনিবার্যভাবে nucleus-এর উপর পতিত হতো। এভাবে Classical Mechanics অনুযায়ী atom হতো unstable যা বাস্তবের সাথে কোন ক্রমেই মেলে না ।

তত্ত্ব ও পরীক্ষণের মধ্যে সৃষ্ট এই উল্লেখযোগ্য contradiction-টি এই নির্দেশ করে যে atomic phenomena-এ প্রয়োগযোগ্য একটি নতুন তত্ত্বের প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন। Atomic phenomena হলো সেই phenomenon-সমূহ যা সংঘটিত হয় অতি ক্ষুদ্রকণিকাসমূহের মধ্যে । অতি ক্ষুদ্রকণিকাসমূহের তত্ত্বে থাকতে হবে physical concept- এর মৌলিক সংস্কার।

এই মৌলিক সংস্কারের investigation-এর সূচনা বিন্দু হিসাবে electron diffraction কে বিবেচনা করা সুবিধাজনক। এটি একটি পরীক্ষার দ্বারা পর্যবেক্ষণকৃত phenomenon । (যদিও electron diffraction আবিস্কৃত হয়েছে Quantum Mechanics-এর উদ্ভাবনার পরে তবে ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় না গিয়ে, আমাদের আলোচনায় বিষয়টি বিবেচনার উদ্দেশ্য তত্ত্ব ও পরীক্ষার দ্বারা পর্যবেক্ষিত-এর মধ্যে স্পষ্ট সম্পর্ক প্রদর্শণ করা। এটা দেখা গিয়েছে একটি homogeneous electron beam যদি crystal-এর মধ্যে দিয়ে pass করে, তাহলে emergent beam প্রদর্শন করে এমন একটি pattern যেখানে alternate maxima ও minima intensity আছে যা কিনা সম্প–র্র্ণভাবে electromagnetic wave-এর diffraction pattern-এর অনুরূপ। এভাবে কিছু নির্দিষ্ট condition-এ material particle সমূহের আচরণ এমন feature দেখায় যা wave process-এ বিদ্যমান।
Electron diffraction phenomena চলতি classical idea-কে কতটুকু contradict করে, একটি কাল্পনিক পরীক্ষার সাহায্যে তা দেখানো যেতে পারে। ইলেকট্রনের জন্য ভেদনযোগ্য নয় এমন একটি পর্দা কল্পনা করি। পর্দাটিতে দুইটি slit কাটি। এবার মনে করি নীচের slit-টি ঢাকা, উপরের slit-টি দিয়ে electron diffraction হয়ে পিছনের পর্দায় একটি intensity distribution pattern দেখা যাবে। আবার, উপরের slit-টি ঢেকে নীচের slit-টির মধ্যে দিয়ে diffraction করি। এবারেও পিছনের পর্দায় একটি pattern দেখা যাবে। এবার দু’টি slit-ই খুলে দেই। classical idea অনুযায়ী আমরা এমন আশা করতে পারি যে এবারের প্রাপ্ত pattern-টি হবে, পূর্ববর্তী দু’টি pattern-এর superposition: প্রতিটি electron তার চলার পথে একটি slit-এর মধ্যে দিয়ে pass করে এবং অন্য slit- টির মধ্যে দিয়ে pass কারী electron-টিকে প্রভাবিত করে না। কিন্তু বাস্তবে electron diffraction-এর phenomenon আমাদের এই দেখায় যে interference জনিত যে diffraction pattern-টি আমরা পাই তা কোনক্রমেই প্রতিটি slit-এর মধ্যে দিয়ে পৃথক পৃথক ভাবে প্রাপ্ত diffraction pattern-এর superposition না। এটা স্পষ্ট যে প্রাপ্ত ফলাফল আমাদের এই বোঝায় যে electron একটি নির্দিস্ট পথে ভ্রমণ করে এমন ধারণা সঠিক নয়। এইভাবে যে Mechanics atomnic phenomenon-গুলো নিয়ে কাজ করে (Quantum Mechanics অথবা wave Mechanics) তা এমন ভাবনা (idea)র উপর ভিত্তি করে হবে যা Classical mechanics-এর ধারণা থেকে মৌলিক ভাবেই ভিন্ন। Quantum Mechanics-এ path of particle-এর কোন ধারণাই (concept) নাই। এটাই uncertainty principle-এর ধারণাই (concept) গঠন করে। এই uncertainty principle হলো Quantum Mechanics-এর একটি মৌলিক নীতি যা আবিষ্কার করেছেন Warren Heisenberg, ১৯২৭ সালে।

এইভাবে Quantum Mechanics, Classical Mechanics-এর সাধারণ ভাবণাগুলোকে প্রত্যাখ্যান করে, এভাবে uncertainty principle-কে বলা যায় negative in content. অবশ্যই এই principle-টি particle-সমূহের একটি নতুন Mechanics তৈরীর জন্য যথেষ্ট না । অবশ্যই এই জাতীয় তত্ত্ব কোন ধনাত্মক দৃঢ় উক্তির উপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত, যা নিয়ে আমরা নীচে আলোচনা করব।

যাহোক, এই জাতীয় দৃঢ় উক্তি (assertion)-গুলোর সূত্রায়নের জন্য আমরা প্রথমে স্থির করব Quatum Mechanics-কে confront করে সই জাতীয় সমস্যাগুলোর statement । এটা করতে গিয়ে আমরা প্রথমে Quatum Mechanics ও Classical Mechanics-এর মধ্যেকার interrelation-এর special nature-গুলোকে পরীক্ষা করব। একটি অধিকতর সাধারণ তত্ত্ব যৌক্তিক ভাবে formulate করা যায়। একটি অল্পতর সাধারণ তত্ত্ব যা তৈরী করে একটি limiting case, কোন কিছ–র ঊপর নির্ভর করেনা ।এইভাবে fundamental principle-গুলোর উপর ভিত্তি করে Relativistic Mechanics গঠন করা যায়, এরজন্য Classical (Newtonian)
Mechanics-এর reference-এর কোন প্রয়োজন পড়ে না কিন্ত Quatum Mechanics-এর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন, Classical Mechanics-কে ব্যবহার না করে Quantum Mechanics-এর basic concept তৈরী করা অসম্ভব। Electron- এর কোন নির্দিষ্ট path নাই বাস্তবতাটি এই বলে যে তার কোন dynamical characteristics -ও নাই । এভাবে এটা স্পষ্ট যে quantum object দ্বারা সৃষ্ট কোন একটি system-এর জন্য logically independent mechanics তৈরী করা সম্ভব না।

একটি electron-এর motion-এর quantum description এমন physical object-এর উপস্থিতি দাবী করে যা যথেষ্ট পরিমাণে Classical Mechanics মেনে চলে। যদি electron এই রকম কোন classical object-এর সাথে interact করে, তাহলে ঐ classical object-টি altered হয়। এই পরিবর্তনের nature এবং magnitude নির্ভরশীল হবে electron-টির state-এর উপর এবং এইভাবে তাকে quantitatively characterize করা যাবে।

এই সম্পর্কে classical object-টিকে বলা হয় apparatus, এবং electron-এর সাথে তার interaction-কে বলা হচ্ছে measurement। তবে একথাও জোর দিয়ে বলা প্রয়োজন যে আলোচনার এই পর্যায়ে আমরা এই বিষয়টি আলোচনার অন্তর্ভূক্ত করছি না যে আমাদের measurement process-এ physicist observer অংশগ্রহণ করছে।

Quantum Mechanics-এ আমরা measurement বলতে এই বুঝি যে classical ও quantum object-এর মধ্যে interaction-এর যে কোন process, যা observer-এর উপরে নির্ভরশীল নয়। Quantum Mechanics-এ concept of measurement-এর গুরুত্বের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ (elucidate) করেছিলেন Niels Bohr.

Apparatus বলতে আমরাএমন physical object-কে বোঝাব যা classical mechanics অনুযায়ী যথেষ্ট accuracy দ্বারা ঠিক করা হয়। যেমন একটি body যার অনেক ভর আছে। আবার, এটা মনে করাও ঠিক হবেনা যে apparatus-টিকে macroscopic-ই হতে হবে। এই পরিস্থিতিতে কোন একটি apparatus-এর কোন অংশ microscopic-ও হতে পারে। যেহেতু with sufficient accuracy-র ধারণাটি actual proposed problem-টির উপর নির্ভরশীল এইভাবে wilson chamber-এ কোন electro-এর motion-কে observe করা হয়। Electron-টি যে cloudy track-টি রেখে যায় তার দ্বারা এবং তার পুরুত্ব খুব বড় এবং atomic dimension-এর সাথে তুলনীয়; যখন path-টি এত low accuracy দ্বারা নির্ণিত, তখন electron-টি সম্পূর্ণরূপে classical object

এইভাবে physical theory সমূহের মধ্যে Quantum mechanics একটি unusual স্থান দখল করে Quantum mechanics limiting case হিসাবে classical mechanics-কে ধারণ করে আবার একই সাথে তার নিজের formulation-এর জন্যই তার এই limiting case-টির প্রয়োজন।

এখন আমরা Quantum Mechanics-এর কিছু সমস্যা (অংক) formulate করতে পারি। একটি typical সমস্যা হলো কোন একটি previous measurement-এর জ্ঞাত ফলাফল থেকে subsequent measurement-কে predict করা উপরন্ত পরবর্তিতে আমরা দেখব যে, Classical Mechanics-এর তুলনায় Quantum Mechanics, restrict the range of value যা কিনা বিভিন্ন physical quantuty ধারণ করতে পারে (যেমন energy): অর্থাত্ সেই মানগুলো যা কোন পরিমাপের ফলাফল হিসাবে পাওয়া যাবে। Quantum Mechanics-এর metrhod সমূহ এই সকল admissible ( অনুজ্ঞেয় ) value নির্ণয় করতে সাহায্য করে।

Quantum Mechanics-এ Measuring process-টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ তা সবসময়ই electron-টিকে affect করে এবং নীতিগতভাবেই এই effect টাকে ছোট করা অসম্ভব। Measurement যত বেশী exact হবে effect তত strong হবে এবং কেবলমাত্র খুবই low accuracy measurement-এ effect on measurement ছোট হবে। Measurement-এর ধর্ম যুক্তিসংগতভাবে এই fact-এর সাথে সম্পর্কিত যে electron-এর dynamical characteristic কেবলমাত্র measurement-এর ফলাফল হিসাবেই appear করে। এটা পরিস্কার যে, যদি object-এর উপর Measuring process-এর effect যদি arbitrarily ছোট করা যায়, এটা এই অর্থ বহন করবে যে পরিমিত রাশির একটি নিজস্ব মান আছে যা এর measurement-এর উপর নির্ভর করে না।

ভিন্ন ধরণের measurement-এর মধ্যে, electron-এর coordinate-এর measurement-টি fundamental ভূমিকা পালন করে। Quantum Mechanics-এর applicability-র limit-এর মধ্যে electron-এর coordinate-এর measurement যে কোন desired accuracy দ্বারা সম্পন্ন করা যাবে।

মনে করি, একটি নির্দিষ্ট time interval ∆t-তে, একটি electron-এর coordinate-এর কিছু successive measurement করলাম। ফলাফলসমূহ একটি smooth curve-এর উপর থাকবে না। বরং, যত accurately measure করা হবে প্রাপ্ত ফলাফলগুলোর variable হবে তত বেশী discontinuous ও disorderly, যেহেতু electron-এর কোন path নাই। একটা smooth path পাওয়া যেতে পারে যদি electron-এর coordinate low degree of accuracy-তে মাপা হয়। যেমন Wilson chamber-এর vapour droplet-এর condensation থেকে যে পরিমাপ করা হয়

আবার যদি accuracy of measurement অপরিবর্তনীয় রেখে interval ∆t-কে যদি diminish করা হয় তাহলে adjacent measurement, coordinate-এর মান দেয়। however, series of successive measurement সমূহের ফলাফলগুলো একটি region -এ বর্ণিত হবে পুরোপুরি irregular manner-এ তারা কোন smooth curve-এর উপর থাকবে না। যখন ∆t tends to zero তখন ফলাফল কোন ক্রমেই একটি সরলরেখার উপর থাকে না।

এই পরিস্থিতি এই দেখায় যে Quatum Mechanics-এ Classical Mechanics-এর sense-এ velocity of particle-এর কোন concept নাই। অর্থ্যাৎ limit যেখানে coordinate-এর difference দু’টি instant-এ ∆t interval দ্বারা ভাগ করলে, তা (সেই limit) tends যেহেতু ∆t tends to zero যাহোক পরবর্তিতে আমরা দেখাব যে Quantum Mechanics-এ কোন একটি given instant-এ একটি particle-এর velocity-কে কোনরূপেই যৌক্তিক সংজ্ঞায়ন করা সম্ভব না। কিন্ত যেখানে Classical Mechanics-এ একটি particle-এর একই সাথে velocity ও coordinate নির্ণয় করা যায় সেখানে Quantum Mechanics-এ situation সম্পূর্ণ ভিন্ন। যদি কোন পরিমাপের ফলাফল হিসাবে electron-এর নির্দিষ্ট একটি coordinate পাওয়া যায়, তাহলে তার নির্দিষ্ট কোন velocity পাওয়াই যাবে না । উল্টোভাবে, electron-এর নির্দিষ্ট velocity পাওয়া গেলে নির্দিষ্ট coordinate পাওয়া যাবে না। coordinate ও velocity-র যুগপৎ অস্তিত্ত্ব এই বোঝাবে যে particle-টির একটি নির্দিষ্ট path আছে। এভাবে Quantum Mechanics-এ coordinate এবং velocity এমন দু’টা quantuty যা একই সাথে নির্ণয় করা সম্ভব না। এখান থেকে এই বোঝা যায় যে আমরা এমন quantitative realation-কে derive করব যা নির্ণয় করে possibility of an exact measurement of the coordinate and velocity at the same instant. Classical Mechanics-এ কোন physical system-এর state-এর বর্ণনা নির্ভর করে একই ক্ষণে তার coordinate ও velocity- র উপর।

References:
1. Quantum Mechanics, Landau L. & Evgeni Lifshits
2. Physics for All, Landau L., Kitaigorodski, Perelman

Categories
অনলাইন প্রকাশনা আত্ম উন্নয়ন সৃজনশীল প্রকাশনা

চেতনার সংকট

চেতনার সংকট
——-ডঃ রমিত আজাদ

আধুনিক রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস বেশি দিনের নয়। ইতিপূর্বে ছিল ‘রাজ্য’। রাজ্যের প্রতিষ্ঠা জনসমর্থনে হতো না। রাজ্যের প্রধান বাহুবলে রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে সিংহাসনে আরোহন করতেন। রাজ্যে জনগণনের ইচ্ছা অনিচ্ছার কোন মূল্য ছিল না। রাজার ইচ্ছাই ছিল আইন। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রে তিনি সভাসদদের পরামর্শ নিতেন। সেখানে জনগণের কোন অংশগ্রহণ থাকতো না। ঐতিহ্যগত কারণে জনতা রাজা ও সিংহাসনকে সম্মান করত।

এক সময় এই মূল্যবোধের পরিবর্তন ঘটল। জনগণ বুঝতে শুরু করলো তাদেরই অর্থপুষ্ট প্রতিষ্ঠানে তাদের অধিকার নেই। এই অসন্তোষ যতই বাড়তে থাকে, সিংহাসনের প্রতি সম্মান ততই কমতে থাকে। মানব সভ্যতার বিকাশে এই রকম একটি পর্যায়ে, নির্যাতিত ও নিগৃহিত প্রজাদের মধ্যে দানা বেঁধে ওঠা অপরিসীম গণ অসন্তোষ থেকে সৃষ্ট বিপ্লবের মাধ্যমে পতন হয়েছিল প্রবল প্রতাপশালী রোম সাম্রাজ্যের।

এই পতনের পেছনে কাজ করেছিল একটি চেতনা। যীশু খ্রীষ্টের প্রচারিত খ্রীষ্ট ধর্মীয় ‘চেতনা’। হ্যাঁ চেতনাই মানুষকে পশুকূল থেকে পৃথক করে। চেতনা জীবনকে অর্থবহ করে। বেঁচে থাকার প্রেরণা যোগায়। মানব সভ্যতার বিকাশের এক একটি যুগের সূচনায় কাজ করেছিল এক একটি চেতনা।

খ্রীষ্ট ধর্মীয় চেতনা এক সময় ইউরোপবাসীকে রোমক নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করেছিল। আবার এই চেতনাকে পূঁজি করেই কিছুকাল পরে একদল মানুষ সৃষ্টি করল নির্যাতনের নতুন অধ্যায়। চার্চ হয়ে উঠল প্রধান সামন্ত। ধর্মীয় অনুশাসন মানুষকে বেঁধে ফেলল আষ্টেপৃষ্ঠে। এ পর্যায়ে প্রয়োজন হল নতুন চেতনার।

এই নতুন চেতনাটির ভিত রচিত হয়েছিল ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্যকার শতর্বষব্যপি যুদ্ধে (১৩৩৭-১৪৫৩)। এর দার্শনিক রূপ দিয়েছিলেন নিকোলো দি ভের্নাদো মেকিয়েভেলি (১৪৬৯-১৫২৭)। চার্চের অনুশাসন মুক্ত হয়ে জনতা কেন্দ্রিক সেক্যুলার রাষ্ট্র গঠনের দর্শন প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। পরবর্তীতে বডেন (১৫৩০-১৫৯৬) ‘সার্বভৌমত্বে’র ধারণা প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি আরো বলেন, ‘রাষ্ট্র হলো জনতার ক্ষমতা’। এই দর্শনগুলোই এক সময় ‘জাতীয়তাবাদী চেতনা’র উন্মেষ ঘটায় যার প্রবল বিকাশ ঘটে ফরাসী বিপ্লবের (১৭৮৯) মধ্য দিয়ে। তখন থেকেই প্রতিষ্ঠা হতে শুরু করে জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ আধুনিক রাষ্ট্রসমূহ।

জাতীয়তাবাদ সংক্রান্ত আলোচনার গভীরে যাওয়ার আগে জাতির সংজ্ঞাটি দেয়া প্রয়োজন। এই সংজ্ঞা দিতে গিয়ে অনেক সমাজ বিজ্ঞানী থমকে দাঁড়িয়েছেন। কার্ল মার্কস সম্ভবত কোন সংজ্ঞাই দেননি। যা হোক, তার পরেও মোটামুটিভবে গৃহিত একটি সংজ্ঞা আছে। তা হলো, ‘যে বৃহৎ জনগোষ্ঠী একটি নির্দিষ্ট ভাষায় কথা বলে, যাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য আছে, যারা একটি নির্দিষ্ট ভূÑখন্ডের অধিবাসী এবং যাদের মধ্যে আবেগগত ঐক্য রয়েছে, সেই বৃহৎ জনগোষ্ঠী একটি জাতি।’

জাতি ও জাতিসত্তা বিষয়ক পার্থক্যমূলক আলোচনায় না গিয়ে উপরের সংজ্ঞাটিকে যথাযথ ধরে আমি পরবর্তী আলোচনায় প্রবেশ করছি।

‘জাতীয়তাবাদ’ জাতি ভিত্তিক একটি চেতনা। আদিম সমাজের গোত্র চেতনার নতুন রূপ। আধুনিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যুগের ঊষালগ্নে সামন্ততান্ত্রিক খন্ড-বিখন্ডতা থেকে উঠে এসে অখন্ড রাষ্ট্র গঠনে এবং চার্চের অনুশাসন মুক্ত সেক্যুলার রাষ্ট্র গঠনে, সর্বপোরি সিংহাসনের প্রভাব খর্ব করে জনতাকেন্দ্রিক পার্লামেন্ট ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে এই চেতনা বিশেষ ভুমিকা রাখে।

পরবর্তীতে এই চেতনাই উগ্র রূপ নিয়ে সাম্রাজ্যবাদে পরিণত হয়। এই উগ্রতার নাম হয় ‘শোভিনিজম।’ শোভিনিজমের উপর ভিত্তি করে ইউরোপের কয়েকটি রাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী উপনিবেশ গড়ে তোলা শুরু করে। এমন একটি পর্যায়ে বাংলা ইংরেজদের উপনিবেশে পরিণত হয়। উল্লেখ্য যে, এ সময় বাংলায় কোন জাতীয়তাবাদী চেতনা ছিল না। তাই ইংরেজদের দূরভিসন্ধি বোঝা সবার পক্ষে সম্ভব হয়নি। যদিও বিচক্ষণ নবাব আলীবর্দী খান পৌত্র নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে ইংরেজদের মতি-গতি সম্পর্কে সাবধান করে দিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু মসনদ দখলের লড়াইয়ে অন্ধ হয়ে নবাবের বেশীর ভাগ সদস্যই পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজের পক্ষ নিয়েছিল। জাতীয়তাবাদী চেতনা থাকলে সেদিন এই ভুল নাও হতে পারত।

পলাশীর পাপ মোচনের উদ্দেশ্যে মীরজাফর একবার এবং মীর কাসিম একবার ইংরেজের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ইংরেজ তখন এমনভাবে জাল বিস্তার করেছে, যে তা আর কাটা সম্ভব হয়নি। এই পর্যায়ে বাংলার বুদ্ধিজীবীরা বুঝতে শুরু করেন জাতীয়তাবাদী চেতনা প্রতিষ্ঠা করে গণজাগরণ সৃষ্টি না করে উপনিবেশিকতা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। এভাবেই নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে স্বাধীনতার প্রতীক করে সৃষ্টি করা হয় বাংলার প্রথম জাতীয়তাবাদী চেতনা। এই চেতনার মূল মন্ত্র ছিল ‘ইংরেজ, তুমি বাংলা ছাড়’।

ধীরে ধীরে ভারতের অন্যান্য জাতিগুলোও এই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ইংরেজ হটাও আন্দোলনে নামে। কিন্তু চতুর ইংরেজও কম যায় না। কখনও অস্ত্রের জোরে, কখনও সমান্তরাল চেতনার সৃষ্টি করে বিভেদ সৃষ্টি করে তারা আন্দোলনকে ভোঁতা করতে থাকে। ভারতবাসীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির মূল অস্ত্র হিসাবে তারা ব্যবহার করে ‘ধর্মীয় সা¤প্রদায়িক চেতনা।’

ভারত ছাড় আন্দোলনের চরম পর্যায়ে গঠিত হয় রাজনৈতিক দল ‘কংগ্রেস’। রোম সাম্রাজ্যের একটি সভার নাম ছিল কংগ্রেস। আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়েছিল ভারতের স্বাধীনতাকামীদের সৃষ্ট এই দল। আসলে কংগ্রেস ছিল ইংরেজদেরই সমর্থনপুষ্ট একটি দল। এর প্রতিষ্ঠার পেছনে হাত ছিল লর্ড ডাফরিনের। পরবর্তীকালে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আগত এম. করমচাঁদ গান্ধির নেতৃত্বে দলীয় রাজনীতি নতুন স্রোত পায়। তদুপরি কংগ্রেস তার বিশেষ উদ্দেশ্য অর্থাৎ উচ্চ বর্ণের হিন্দুদের স্বার্থ রক্ষার ব্রত থেকে বিচ্যুত হয়নি। কংগ্রেসের নেতৃত্বে ভারত ¯¦াধীন হলে তা উচ্চ বর্ণের হিন্দুদের শাসনাধীণ হয়ে যেতে পারে এবং তফসীলি স¤প্রদায় ও মুসলমানরা ইংরেজ আমলের মতই নির্যাতিত থেকে যাবে। দূরদৃষ্টি সম্পন্ন মুসলমান এলিট স¤প্রদায় এই কূটকৌশল টের পেয়ে নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে গঠন করেন ‘মুসলীম লীগ’। মুসলীম লীগ ছিল কংগ্রেসের কাউন্টার। ঢাকার শাহবাগে নবাব সলিমুল্লাহর এক ভবনে এই লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। নবাব সলিমুল্লাহর মৃত্যুর পর, শেরে বাংলা মুসলীম লীগের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে এই দায়িত্ব পালন করতে থাকেন। উল্লেখ্য, মুসলীম লীগের প্রতিষ্ঠার সাথে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর কোন সম্পর্ক ছিল না। মুসলীম লীগে জিন্নাহর প্রবেশ অনেক পরে।

কংগ্রেস ও মুসলীম লীগের নেতৃত্বে ভারতবর্ষে দু’টি ভিন্ন চেতনার বিকাশ হতে থাকে। বাংলায় তখন দুইটি স¤প্রদায়ের বসবাস। একটির সংখ্যাধিক্য পশ্চিমে ও অপরটি পূর্বে। তাঁদের ভাষা এক কিন্তু ধর্ম ভিন্ন। তাই সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যগত পার্থক্যও আছে। এই পার্থক্যই চেতনাগত পার্থক্য এনে দেয়। ভৌগলিক ভাগাভাগির প্রশ্নও তুলে ধরে। ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদী চেতনাকে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন বাঙালীর রাজনীতির কথা বলেছিলেন কিন্তু তাকে প্রতিষ্ঠা করতে পারেন নি। কারণ যুগটি ছিল ধর্মীয় চেতনার যুগ। পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে ভাষাগত মিল ছিল কিন্তু চেতনাগত পার্থক্য ছিল। প্রবন্ধের শূরুতেই বলেছিলাম জাতি গঠনে আবেগগত ঐক্যের কথা। পূর্ব ও পশ্চিম বঙ্গের মধ্যে ছিল আবেগগত অনৈক্য। তাই অখন্ড জাতি হিসাবে তাদের আত্মপ্রকাশ করা সম্ভব ছিল না।

ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের পর ভৌগলিক ভাগাভাগি নিশ্চিত হয়ে পড়ে। পূর্ব বাংলায় শক্তিশালী রূপ ধারণ করে একটি চেতনা— ইসলাম ধর্ম। সেই সময়ের রাজনীতির সব উজ্জ্বল তারকা শেরে বাংলা ফজলুল হক, মওলানা ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, খাজা নাজিমুদ্দিন, ছাত্রনেতা বঙ্গবন্ধ– শেখ মুজিবুর রহমান সবাই ছিলেন এই চেতনায় উদ্বূদ্ধ। তাঁরা যেখানেই গিয়েছিলেন তাঁদের পেছনে জনতার ঢল নেমেছে। হিন্দু জমিদারদের অত্যাচারে ক্লান্ত, নিঃশেষিত বাঙালী মুসলমানরা ইংরেজ মুক্ত, হিন্দু জমিদারদের শাসনমুক্ত একটি নতুন রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিল।

অবশেষে ধর্মীয় চেতনার উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয় দু’টি পৃথক রাষ্ট্র, ভারত ও পাকিস্তান। ৮৭২ টি ভাষাভাষি সম্পন্ন বহুজাতিক রাষ্ট্র ভারতে ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদী কোন চেতনা থাকার কথা নয়, ধর্মীয় চেতনাই তাদের মধ্যে আবেগগত ঐক্যের সৃষ্টি করেছে। অনুরুপভাবে বহুজাতিক রাষ্ট্র পাকিস্তানেও ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদী চেতনার অবকাশ ছিল না। সেখানেও ইসলাম ধর্মই ছিল ঐ রাষ্ট্রের চেতনা। তদানিন্তন রাষ্ট্রপ্রধানরা বক্তৃতা-বিবৃতিতে হামেশাই বলতেন যে, পাকিস্তান একটি চেতনাভিত্তিক রাষ্ট্র।

১৯৪৭ সালে পূর্ব বাংলার ইতিহাসে একটি গুরত্বপূর্ণ অধ্যায়- একটি নতুন চেতনার জয়, একদল জালিমের উৎখাত। কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতেই দেখা গেল সংগ্রামের অবসান হয়নি। একদল জালিমকে রিপ্লেস করেছে আরেক দল জালিম। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় বাংলার মানুষের ভূমিকা ছিল মুখ্য, মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ঢাকায়, লাহোর প্রস্তাব শেরে বাংলার উপরন্তু পাকিস্তানের পক্ষে অত ভোট ব্রিটিশ ভারতের অন্য কোন প্রদেশে পড়েনি। অথচ কেন্দ্রীয় রাজধানী ঢাকায় হয়নি, কেন্দ্রীয় ক্ষমতা থেকে বাঙ্গালীদের দূরে সরিয়ে রাখা হয়। বাংলা ভাষার অবমাননা মূলক জিন্নাহর ঘোষণায়, ১৯৪৭ এর চেতনার পরাজয় ঘটল। সারা পূর্ব বাংলায় প্রতিবাদের ঝড় উঠল, বোঝা গেল ৪৭এর চেতনা নিয়ে বেশী দূর আগানো যাবে না। প্রয়োজন দেখা গেল নতুন চেতনার। উল্লেখ্য যে ভারতে হিন্দীকে রাষ্ট্রভাষা করা জনিত গান্ধীর ঘোষণায় পশ্চিম বঙ্গে কোন প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়নি।

’৪৭-এর চেতনা অকেজো হয়ে পড়ে ’৫২-এর ভাষা আন্দোলনে। যে রাজনৈতিক তারকারা ’৪৭-এ পাকিস্তান গঠন করেছিলেন তারা সবাই-ই (খাজা নাজিমুদ্দিন বাদে) প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ভাষা আন্দোলনের সাথে জড়িত ছিলেন। ২১ শে ফেব্র“য়ারী পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে পূর্ব বাংলার স্পষ্ট সীমারেখা টেনে দেয় (প্রথমে মানসিক, পরে ভৌগলিক)। ২১ হয়ে উঠে আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। ইতিহাসের সমষ্টি ঐতিহ্য কিন্তু ইতিহাসের সবটাই ঐতিহ্য নয়। ইতিহাসের ঐ অংশই ঐতিহ্য হয়ে যায় যা অন্তর্গত হয়ে পড়ে চেতনার, দৃষ্টিভঙ্গির ও আচার আচরণের যা সতত প্রবাহমান। হ্যাঁ, ঐ চেতনার কারণে ২১ ঐতিহ্য হয়ে যায়। একুশ জন্ম দেয় নতুন চেতনার। চেতনাটি হলো ‘আমরা বাংলায় কথা বলি’।

এই চেতনাভিত্তিক পাকিস্তান বিরোধী আন্দোলন একসময় রুপ নেয় মহান মুক্তিযুদ্ধে। পরিশেষে প্রতিষ্ঠিত হয় পূর্ব বাংলার বাঙালীদের নিজস্ব রাষ্ট্র- ‘বাংলাদেশ’। আমাদের ইতিহাসে আরও একটি গুরত্বপূর্ণ সন- ‘১৯৭১। একাত্তুরে ’৪৭ এর চেতনার পুরোপুরি মৃত্যু ঘটে কিন্তু একুশের চেতনা আরও জীবন্ত হয়ে ওঠে। একাত্তুরে আমরা শুরু করি নতুন যাত্রা। এই যাত্রার তো একটি চেতনা থাকবে। কি সেই চেতনা?

বাংলাদেশ নতুন রাষ্ট্র। নতুন রাষ্ট্রের থাকবে নতুন চেতনা। নতুন চেতনা নিয়ে হয়েছে সংকট- চেতনার সংকট। চেতনার প্রশ্নে দেশের দু’টি প্রধান দল দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়েছে, আওয়ামী লীগ এই চেতনাকে বলেছে ‘বাঙালী জাতীয়তাবাদ’, বি,এন,পি বলেছে ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে চেতনা ছিল, ’৪৭-এ চেতনা ছিল, ’৫২-তে চেতনা ছিল অথচ স্বাধীন বাংলাদেশে রয়েছে চেতনার সংকট। এটা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। নতুন একটি চেতনার জন্ম পুরাতন একটি চেতনার মৃত্যু ঘটায়। কিন্তু একটি চেতনার মৃত্যু হলো, অথচ নতুন কোন চেতনার জন্ম হলো না, এতে চেতনাহীন এই সময়টিতে জাতি সম্মুখীন হয় চরম সংকটের। যতক্ষণ পর্যন্ত না বিশ্ববিক্ষণজনিত এই সমস্যাটির সমাধান না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত অন্য কোন জাতীয় সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

‘বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ’-এর প্রসঙ্গে আসা যাক। এই জাতীয়তাবাদ বলতে বুঝি, বাংলা ভাষাভাষীদের সংস্কৃত ও ঐতিহ্য ভিত্তিক জাতীয়তাবাদ। প্রথমতঃ বাংলা ভাষীরা শুধু বাংলাদেশেই নয়, পশ্চিমবঙ্গ সহ ভারতের আরো কয়েকটি প্রদেশে বসবাস করে। তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু। এক সময় তারা ধর্মীয় চেতনার প্রশ্নে সোহরাওয়ার্দীর প্রস্তাবিত ‘অখন্ড স্বাধীন বাংলা’ প্রতিষ্ঠা হতে দেয়নি। দ্বিতীয়তঃ তাদের সাথে আমাদের যেমন ধর্মে তেমনি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যগত পার্থক্য আছে। আমাদের হৃদয়ে আছে একুশ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। একুশ ও মুক্তিযুদ্ধের অস্তিত্ব বাংলাদেশের বাইরের কোন বাঙ্গালীর মধ্যে নেই।

ভারতের বাঙ্গালীরা ভাষা আন্দোলন করেনি। লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে যে ভাষা ভিত্তিক রাষ্ট্র বাংলাদেশের বাঙ্গালীরা সৃষ্টি করেছে তার সাথে বাংলাদেশের বাইরের বাঙ্গালীরা একাত্মতা ঘোষণা করেনি। তাদের আর আমাদের চেতনা এক হতে পারে না।

মুসলিম লীগের নামের সাথে ‘আওয়ামী’ শব্দটা জুড়ে দিয়ে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন করেছিলেন সোহরাওয়ার্দী যার অর্থ জনতার মুসলিম লীগ, বাঙ্গালীর মুসলিম লীগ নয়। পরবর্তীতে ‘মুসলিম’ কথাটি বাদ দিয়ে শুধুই ‘আওয়ামী লীগ’ করা হয়। এই পরিবর্তন যথাযথ। ব্রিটিশ শাসন আমলের মত বিশেষত্ব প্রদর্শন করার উদেশ্যে ‘মুসলিম’ কথাটির ব্যবহার করার আর প্রয়োজন ছিল না। কারণ পাকিস্তানে মুসলমানরাই ছিল সংখ্যা গরিষ্ঠ। কিন্তু নতুন নাম করণেও বাঙ্গালী কথাটি আসেনি, ‘আওয়ামী লীগ’ অর্থ ‘জনতার দল’ । স্বাধীনতার ঘোষণা ছিল, বাংলাদেশের (পূর্ব বাংলার), অখন্ড বাংলার নয় ।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় চেতনার প্রয়োজন অপরির্হায। এই চেতনার দু’টি প্রধান উপাদান- এক. সংখ্যা গরিষ্ঠের ধর্ম- ইসলাম; দুই. সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষা-বাংলা। এছাড়া রয়েছে জাতীয় আবেগ সঞ্চারকারী উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট- দুই শতক দীর্ঘ ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন এবং একাত্তরের মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম।

অনেক বামপন্থী দল আত্মিক চাহিদা উপেক্ষা করে ভূ-গোলের উপর বেশী জোর দিয়ে ফেলেন। বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে অনেক দূরে। ইসলাম ধর্মের উৎপত্তি যেহেতু মধ্য প্রাচ্যে তাই বাংলাদেশে তা অকেজো এমন কথা তারা প্রচার করেন। কিন্তু তারা ভুলে যান নীতি বা আদর্শ ভূ-গোলের বাধা মানে না। বাংলাদেশের খুব কাছাকাছি উদ্ভূত বৌদ্ধ দর্শন গৃহীত হয়েছে সুদূর জাপানেও, আর জার্মানীতে সৃষ্ট কম্যুনিজমকে বাংলাদেশের বামপন্থীরা আঁকড়ে ধরেছেন। তাই অতিমুসলমান হতে গিয়ে অবাঙ্গালী হয়ে যাওয়া যেমন ঠিক নয়, তেমনি অতি বাঙ্গালী হতে গিয়ে অমুসলমান হয়ে যাওয়াও গ্রহণযোগ্য নয়। বঙ্গবন্ধু– শেখ মুজিবুর রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর ১০ই জানুয়ারী ১৯৭২-এর ভাষণে বলেছিলেন, “.. ..আমি বাঙ্গালী, আমি মুসলমান, . . . .” তিনি দু’টো বিষয়ের উপরই সমান গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

প্রসঙ্গত অনেকে উল্লেখ করে থাকে পার্বত্য চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ক্ষুদ্র জাতিসত্তাগুলোর কথা। তাদের চেতনা কি হবে? তাদের ভাষা বাংলা নয়, ধর্মও ইসলাম নয়। কিন্তু কয়েক শতক যাবৎ পূর্ব বাংলার অধিবাসী। এ দীর্ঘ সময়ে তাদের ও আমাদের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে অভিন্নতা এসেছে। তারাও আমাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন করেছে, একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নিয়েছে। এই আবেগের উপর ভিত্তি করে কি একটি ঐক্য প্রতিষ্ঠা হতে পারে না?

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রায় চার দশক পার হয়ে গেছে। কিন্তু এই সময়ে আমরা খুব বেশী দূর এগুতে পারিনি। তুলনামূলক বিচারে পিছিয়েই পড়েছি। ধীরে ধীরে আমদের অতিক্রম করে গিয়েছে থাইল্যান্ড, কোরিয়া, মালয়েশিয়া, আর মধ্য প্রাচ্যের কথা বাদই দিলাম। এর মূল কারণ- চেতনার সংকট। চেতনার প্রশ্নে আমরা দ্বিধা বিভক্ত হয়ে আছি। এই দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারলেই দেশ গতিশীলতা পাবে।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা জীবনী ও স্মৃতিকথা

আমার ক্যাডেট কলেজ

আমার ক্যাডেট কলেজ
ডঃ রমিত আজাদ (৭ম ব্যাচ)

আমার বয়স যখন পাঁচ বছর হলো, সকলে ঠিক করলেন আমাকে স্কুলে দিতে হবে। আমরা তখন থাকতাম ঢাকার মগবাজারে মধুবাগে। কাছাকাছি স্কুল ছিল। মগবাজার টি এন্ড টি স্কুল। বড় বোন রীনা আপার হাত ধরে একদিন ঐ স্কুলে গেলাম। তখনকার ভর্তি পদ্ধতি আজকের মত এত জটিল ছিল না। স্কুলের একজন শিক্ষককে আমার বড় বোন বললেন “স্যার আমার ছোট ভাই, ওকে ভর্তি করতে চাই। ও সবকিছু খুব সুন্দর করে পড়তে পারে”। স্যার তার হাতের বইটি খুলে আমাকে বললেন, “পড়”। আমি খুব দ্রুত পড়লাম, “বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র…………….”। স্যার চমৎকৃত হয়ে বললেন, “বেশ বেশ আর পড়তে হবে না”। চল তোমাকে ভর্তি করিয়ে দেই। সব ফর্মালিটিস শেষ হওয়ার পর আমার আপা বললেন “তুমি ভর্তি হয়ে গিয়েছ, কাল থেকে এই স্কুলে পড়বে”। স্কুলের দিকে তাকিয়ে আমার মন খারাপ হয়ে গেল। আমি বললাম, “বেড়ার স্কুল!”। আপারও বোধ হয় মন খারাপ হয়ে গেল, বললেন, “এখন তুমি ছোট তো, যখন বড় হবে, তখন অনেক বড় স্কুলে পড়বে”। মনে আকাঙ্খা রয়ে গেল, অনেক বড় স্কুলে পড়ার। এরপর যখন তৃতীয় বা চর্তুথ শ্রেণীর ছাত্র, একদিন আমার মাতৃতুল্য ফুপু আমাকে বললেন, “রমিত, পত্রিকায় তোমার নাম উঠেছে দেখবে এসো”। আমি অবাক হয়ে গেলাম, পত্রিকায় আমার নাম। এরপর তিনি খবরের কাগজ খুলে একটি বিজ্ঞপ্তি দেখালেন, ক্যাডেট কলেজে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি। আমি প্রশ্ন করলাম, “কোথায় আমার নাম?” ফুপু হেসে বললেন, তোমার নাম না, এটা ক্যাডেট কলেজের ভর্তির বিজ্ঞপ্তি। খুব ভালো স্কুল। তোমাকে এখানে ভর্তি হতে হবে”। সেই প্রথম জানতে পারলাম, ক্যাডেট কলেজের নাম । এদিকে আমার এক ফুপাতো বোনের ছেলে, ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হয়েছে। তার বাবা মা খুব খুশি। একদিন তাকে দেখতে গেলাম। তিনি আমাকে তার ইউনিফর্ম দেখালেন। আমার মনকে আলোকিত করল ঐ ঝকঝকে ইউনিফর্ম । এবার ক্যাডেট কলেজে ভর্তির বাসনা আরো তীব্র হলো। ১৯৮১ সালে আমার বড় দুই বোনের মধ্যে যিনি দ্বিতীয় (রিতা আপা), তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন আমাকে ক্যাডেট কলেজে ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করতে হবে। নিয়ে গেলেন একটি কোচিং সেন্টারে। আমার সৌভাগ্য, সেই কোচিং সেন্টারে পড়েছিলাম যার পরিচালক ও শিক্ষক ছিলেন আশরাফুল হক স্যার। তিনি বর্তমানে হলি চাইল্ড স্কুলের অধ্যক্ষ ও প্রতিষ্টাতা। খুব মনযোগ দিয়ে স্যার পড়িয়েছিলেন। উনার প্রশিক্ষন পেয়ে আমরা অনেকেই ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হতে পেরেছিলাম। আমার আজও মনে আছে যেদিন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার সংবাদ পেয়েছিলাম সেদিন কি খুশীই না হয়েছিলাম। আমার গৃহশিক্ষক স্বপন ভাই আমাকে খুব যত্ন করে পড়িয়েছিলেন । উনাকে সালাম করে খুশীর সংবাদটা দিলাম। উনি হেসে বললেন, “তুমি যে এ্যালাউ হবে তা আমি জানতাম”।

আশরাফুল হক স্যার বললেন “রিটেন পরীক্ষায় এ্যালাউ হয়ে উচ্ছসিত হওয়ার কিছু নাই। ১৫০ জন এ্যালাউ হয়েছে কিন্ত মৌখিক পরীক্ষার পর রাখা হবে মাত্র ৫০ জন। সুতরাং তোমাদের আরো অনেক পড়তে হবে।

স্যারের প্রশিক্ষন নিয়ে কাটলো বাকী দিনগুলো। অবশেষে এলো মৌখিক পরীক্ষার দিন। পরীক্ষা হলো ঢাকার টিচার্স ট্রেনিং কলেজে। সারাদিন অপেক্ষা করার পর বিকালের দিকে আমাদের কলেজের স্বপন ভাই (যিনি এখনো কর্মরত) ডেকে নিলেন ভিতরে। রুমে ঢুকে দেখলাম, চেয়ার আলো করে বসে আছেন কলেজের অধ্যক্ষ শ্রদ্ধেয় বাকিয়াতুল্লাহ স্যার। তার পাশে বসে আছেন উপাধ্যক্ষ আল-আমিন স্যার। অনেক প্রশ্ন করলেন, অনেক কিছু জানতে চাইলেন, কিন্তু একটুও ঘাবড়ালাম না। অবাক হয়ে শুধু ভাবছিলাম, এত চমৎকার শিক্ষক হয়! একই মন্তব্য করেছিল আমাদের ব্যাচের কালাম সারোয়ার, “দু’জনই এত ভালো!” ভাইভায় নানা প্রশ্ন করলেন। মোটামুটি সবকিছুরই ভালো উত্তর দিলাম। এরপর অনেকদিন অপেক্ষা করলাম। তারপর আবারো চিঠি পেলাম। চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার সংবাদ। এত খুশি আর জীবনে কোনদিন হইনি। চিঠিতে লেখা ছিল ৬ই জুন জয়িেনং ডেট এরপর কেবল অপেক্ষা, কবে ৬ ই জুন আসবে। যথারীতি ৫ই জুন এলো। ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। আমার জীবনের অনেক আনন্দের দিন। বেশ কয়েকটি আনন্দ একদিনে, জীবনে প্রথম ট্রেনে চড়ার আনন্দ, স্কুলের বই-পত্রে, গল্পে সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য, চা-বাগান, হজরত শাহ্জালাল (র) এর মাজার ইত্যাদির গল্প অনেক পড়েছি সেই সিলেট দেখার আনন্দ, সর্বপোরী ক্যাডেট কলেজে ভর্তির আনন্দ। ৬ই জুন সিলেট পৌঁছে রেল ষ্টেশনেই দু’একজন ব্যাচ মেটের সাথে দেখা হলো, যারা আমার সাথেই ভাইভা পরীক্ষা দিয়েছিল। বিকালের দিকে একটি জীপে চড়ে কলেজের দিকে রওয়ানা হলাম। সিলেট শহর ছাড়িয়ে বাইরে নামতেই অপরূপ প্রাকৃতিক শোভা। মালিনীছড়া আর লাক্কাতুরা চা বাগানের অপূর্ব দৃশ্যে মন জুড়িয়ে গেল। সেই দৃশ্য শেষ হতে হতেই ঝকঝক করে উঠল সিলেট ক্যাডেট কলেজে-এর ক্যাম্পাস।

এয়ারপোর্ট রোড বরাবর কলেজের দেয়াল ঘেঁষে চলে একেবারে শেষ মাথায় থাকা প্রধান ফটক দিকে চট করে জীপ ঢুকে গেল কলেজ ক্যাম্পাসের ভিতর। কিছুদুর যেতেই খাঁকি পোষাকের উপর লাল শ্যাষ পরা দু’জন ক্যাডেট লাঠি উচিয়ে থামতে নির্দেশ দিল জীপটেিক। দেখে খুব ভালো লাগলো, মনে মনে বললাম, বাহ্! বেশ স্মার্ট তো!’ জীপ থেকে নামিয়ে আমাকে নিয়ে যাওয়া হলো তৎকালীন কলেজ প্রিফেক্ট মহিউদ্দিন ভাই এর কাছে। খুঁজে দেখলেন আমি শাহ্জালাল হাউজের। এলেন হাউজ লিডার ওয়ালীউলল্লাহ ভাই। তালিকা খুঁজে বললেন, “মশিউর তোমার রুমমেট। এগিয়ে এলেন আমার এক ব্যাচ সিনিয়র মশিউর ভাই। আমার সাথের কালো ট্রাংকটির একদিকে তিনি ধরে আমাকে বললেন, “তুমি অন্যদিকে ধর”। দু’জনে ট্রাংকের দু’দিকে ধরে এগিয়ে চললাম শাহ্জালাল হাউজের ৩৪ নং রুমের দিকে। ট্রাংকের একদিকে পুরাতন ক্যাডেট অন্যদিকে নতুন ক্যাডেট। মুগ্ধ হলাম এই রীতি দেখে। ট্রাংকের বন্ধনের মধ্যে দিয়ে হৃদয়ের যে বন্ধন তৈরী হলো তা চিরস্থায়ী হয়ে গেল। কিছুক্ষনের মধ্যে আমার অপর দু’জন রুমমেট আসিফ ও মঈনুলকে পেয়ে গেলাম। কিছুক্ষন পর পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক শ্রদ্ধেয় দেলোয়ার হোসেন স্যার এলেন। প্রাণবন্ত আলোচনা জমালেন আমাদের তিনজনার অভিভাবকদের সাথে। ৬ ই জুন ক্যাডেট কলেজে প্রথম দিন, প্রীতিকর অভজ্ঞিতার মধ্যে দিয়ে যাত্রা শুরু হলো আমার ক্যাডেট জীবনের।

ছয় ছয়টি বছারের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা একটি ছোট প্রবন্ধে সীমাবদ্ধ করা যায় না। সিলেট ক্যাডেট কলজে প্রানের কলেজ, কলেজের প্রতিটি গাছ, প্রতিটি ইট, হয়তো প্রতিটি ঘাঁসের সাথেও আছে আমাদরে হৃদয়ের সম্পর্ক। সেই হৃদয়ের কিছু কথা আজ বলব। কলেজের কথা বলতে গেলে প্রথমে আসে আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের কথা। আমরা প্রথম অধ্যক্ষ হিসাবে যাকে পেয়েছি সেই বাকিয়াতুল্লাহ্ স্যারের কথা। স্যারের শান্ত-সৌম্য অবয়বে ছিল আভিজাত্যের ছাপ। প্রথম দিন পারেডে এসে আমাকে বললেন, “এত স্বাস্থ্য খারাপ কনে? থাক স্বাস্থ্য ভালো হয়ে যাবে। এখানে তো তোমাদের বাবা-মা-রা নেই, এখানে আমরাই বাবা-মা।” আমাদেরকে এভাবেই স্যার আপন করে নিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন ক্যাডেট কলেজ সমূহের প্রথম সিভিলিয়ান প্রিন্সিপাল। সেরা শিক্ষক হিসাবে এ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলেন, ফৌজদার ক্যাডেট কলেজে কর্মরত অবস্থায়। তারপর তদানিন্তন সরকার তাকে ইংল্যান্ডে পাঠিয়েছিল প্রশিক্ষন নিয়ে আসতে। যথাযথই প্রশিক্ষন নিয়েছিলেন। তার হাতে গড়ে উঠেছে এদেশের অনেক বড় বড় মানুষ। আমি মস্কোতে এক বাংলাদেশীর সাথে পরিচিত হয়েছিলাম। বৃটিশ এক সুখ্যাত কোম্পানীর মস্কো শাখার কর্নধার। কথায় কথায় জানলাম তিনি ফৌজদারহাটের থার্ড ব্যাচের এক্স-ক্যাডেট। বাকিয়াতুল্লাহ্ স্যারের ভূয়সী প্রশংসা করলেন তিনি। সেই বাকিয়াতল্লাহ্ স্যার আজ আর আমাদের মধ্যে নেই। পরম করুনাময় তাকে জান্নাতবাসী করুন।

ক্যাডেট কলেজে ভর্তির আগে ঢাকায় একটি সাধারণ স্কুলে পড়তাম আমি। মুখস্থ বিদ্যা ছাড়া আর কিছুই সেখানে শেখানো হতো না। আমাদের সমাজবিদ্যার শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন স্যার এসে প্রথম দিনই বললেন, “তোমরা তো সবাই ভালো ছাত্র। আর্টস নিয়ে তো কেউই পড়বে না জানি। কিন্তু মানুষ হিসবে বিজ্ঞানের পাশাপাশি আর্টসেরও অনেক কিছু জানা থাকা প্রয়োজন। তাই এই বোর্ডের বইটা থাক। আমি তোমাদের এই বইয়ের বাইরে অনেক কিছু পড়াব, যা তোমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন”। তিনি শুরু করলেন সক্রেটিস থেকে। তারপর প্লেটো, এ্যারিষ্টটল, মেকিয়েভেলি হয়ে বিশ্ববিক্ষনের অনেক শাখা পেরিয়ে শেষ করলেন বাংলাদেশ ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত । তিনি আমাদের প্রথম আলো দেখালেন দর্শনের, আলো দেখালেন সমাজবিদ্যার, প্রবল আগ্রহ জাগিয়ে তুললেন রাজনীতি বিষয়ে।

মনে পড়ে মরহুম মাজহারুল হক স্যারের কথা। সুদর্শন মাজহার স্যার বরাবরই ছিলেন পরিপাটি, সৌন্দর্য্যপ্রীয়। আমাদের মধ্যেও এই সৌন্দর্য্য সচেতনতা তিনি তৈরী করে দিয়েছিলেন। হাউজ মাষ্টার হিসাবে সুরমা হাউজকে করেছিলেন নানা ভাবে শোভিত। ইতিহাস পড়াতেন। সাধারণ স্কুলে পড়াকালীন ইতিহাসে কোন আনন্দ পেতাম না। মনে হতো দিনক্ষণ মুখস্থ করার একটা কাঠখোট্টা সারজেক্ট্। মাজহার শুরু করলেন সিন্ধু সভ্যতা থেকে। স্যারের কাছ থেকে জানলাম আলেকজান্ডারের কাহিনী। জানলাম ১৮৫৭ সালে যা ঘটেছিল তাকে ইংরেজরা উদ্দেশ্যমূলকভাবে সিপাহী বিপ্লব নাম দিয়েছিল, আসলে সেটা ছিল আমাদের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ। জেনেছি গৌতম বুদ্ধের কথা, মহাবীরের কথা। আরো কত কি! মাজহার স্যারই শেখালেন, ইতিহাস কত তাৎপর্যপূর্ণ!

বাংলার শিক্ষক রকিবুল হাসান স্যার। কোমলে কঠোরে মিশ্রিত। যেমনি ভালোবাসতেন, তেমনি শাসনে রাখতেন। পড়ালেখার পাশাপাশি জীবনে প্রয়োজন হবে এমন অনেক কিছুই শেখাতেন বন্ধুর মতো। ক্লাসে সুবোধ বালকটির মত বসে থাকলে স্যার ভৎর্সনা করতেন। বলতেন, শিশু কিশোররা হবে চঞ্চল উচ্ছল। হৈ চৈ আর দুরন্তপনাকে তিনি উৎসাহই দিতেন। আমার এখানো মনে আছে আমাদের ব্যাচের পাস-আউটের সকল অনুষ্ঠানের আয়োজন স্যারই করেছিলেন। আমাদের কোন আবদারই ফিরিয়ে দেননি।

বক্তৃতা, নাটক, আবৃত্তি ইত্যাদি নানা সাংস্কৃতিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ পেয়েছিলাম শফিকুল আজম স্যার এবং সাইফুল ইসলাম স্যারের কাছে। একবার মনে আছে আন্ত:ভবন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার সময় শাহ্জালাল হাউজের প্রতিযোগিদের একটার পর একটা দুর্ঘটনা ঘটে যাচ্ছিল। গায়ক ঠান্ডা লাগিয়ে গলা ভেঙে ফেলেছে। তবলা বাদক হসপিটালাইজড। শেষ দু:সংবাদ এলো, অভিনেতাদের একজন হাত ভেঙেছে। আমরা সবাই হায় হায়! হাউজ এবার ডুবল! শফিকুল আজম স্যার ঠান্ডা মাথায় সব ট্যাকল করলেন। নতুন গান সিলেক্ট করলেন, নতুন অভিনেতা নিলেন, আমাকে আনাড়ি হাতে দিলেন তবলা বাজাতে। অনুষ্ঠানের ফলাফল ঘোষিত হলো, শাহজালাল হাউজ প্রথম হয়েছে। আনন্দের আতিশয্যে স্যারকে কাঁধে তুলে নিয়েছিলাম।

ইংরেজীর শিক্ষক শফিকুল ইসলাম স্যার নিজেই এক্স ক্যাডেট। তার উপর একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। চমৎকার পড়াতেন। ইংরেজীর ভয় কেটে গেল স্যারের ক্লাশ পেয়ে। অংকের ভয় বোধ হয় সবার মধ্যেই থাকে , কুদ্দুস স্যার এলেন রাজশাহী থেকে। এক ফুৎকারে উড়িয়ে দিলেন সেই ভয়। কনফিডেন্স, ব্যাক্তি জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেই কনফিডেন্স আমাদের মনে এনে দিয়েছিলেন নজরুল ইসলাম স্যার। তখন তীতুমীর হাউজ সব কিছুতে তৃতীয় স্থান পেত। তারা নিজেরাও ধরে নিয়েছিল যে, ঐ অবস্থান থেকে তাদের উঠে আসা সম্ভব নয়। রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ থেকে এসে তীতুমীর হাউজের হাউজ মাষ্টার হিসাবে দায়িত্ব নিলেন নজরুল ইসলাম স্যার । যাদুকরের মতো হাউজকে টেনে তুললেন। এরপর আমরা বুঝে গিয়েছিলাম নজরুল ইসলাম স্যার যতদিন আছেন ততদিন তীতুমীর হাউজ শক্ত ভীতের উপর দাঁড়িয়ে থাকবে।

হাসান স্যার ছিলেন ভূগোলের শিক্ষক। ম্যাপ আঁকতে ভয় পেতাম সবাই। সেই ম্যাপ আঁকা শিখিয়েই ছাড়লেন। শাহজালাল হাউজের হাউজ মাষ্টারের দায়িত্ব পালন করেছেন। সৎ নিষ্ঠাবান একজন মানুষ। নিজের সন্তানের মত স্নেহ করতেন আমাদের। স্যার যেমন ছিলেন মেজাজী তেমনি আবার হাস্য রসিকতায় মন ভরিয়ে দিতেন। একবার ক্রস-কান্ট্রি প্রতিযোগিতার আগে বললাম, “স্যার ছোট ছোট ক্যাডেটদের দৌড়াতে কষ্ট হয়”। স্যার উত্তরে বললেন, “ছোট পোলাপানে দৌড়াইবে বান্দরের মত”।

পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক হিসাবে যোগ দিলেন অমিতাভ বিশ্বাস স্যার। সিলেট ক্যাডেট কলেজই স্যারের প্রথম ক্যাডেট কলেজ। কলেজে এসেই স্যার সকলকে আপন করে নিলেন। স্যারের ধ্যান-জ্ঞান সবই হয়ে গেল ক্যাডেটরা। ক্লাশে তিনি ডুবে যেতেন শিক্ষকতায়। জটিল সব বিষয়, সূত্র, নীতি, আইন জলবৎ তরলং করে দিতেন। তখনই বুঝতে পেরেছিলাম স্যারের প্রভাব মুক্ত হতে পারব না। হলোও তাই, কেবল আমাদের ক্লাশ থেকেই পাঁচ-পাঁচজন পরবর্তিতে পদার্থবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা নিলাম। এদের মধ্যে তিনজন আমি, তানভীর ও সাজ্জাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক। ইউরোপে লেখাপড়া করেছি, পি.এইচ.ডি. ডিগ্রী নিয়েছি। আমার লেখা তিনটি বই ইউরোপ থেকে প্রকাশিত। এর সবকিছুর পিছনে স্যারেরই অবদান।

টেকনিকাল ড্রইং-য়ের শিক্ষক ছিলেন বজলুর রহমান স্যার। আমরা যখন ক্লাশ নাইনে, স্যার তখন জয়েন করলেন। কলেজে সাবজেক্টটি মাত্র চালু করা হয়েছে। আমরা দ্বিধা দ্বন্দের মধ্যে ছিলাম। সাবজেক্টটি নেব কি নেব না ৷ নজরুল ইসলাম স্যার এলেন। সায়েন্সের ষ্টুডেন্টদের জীবনে এই সাবজেক্টের গুরুত্ব সম্পর্ক ছোটখাট বক্তৃতা দিলেন। এর পর পেলাম বজলুর রহমান স্যারের ক্লাশ। অত্যন্ত শান্ত ও নম্র মানুষ। অসীম ধৈর্য্য নিয়ে আমাদের সবকিছু বুঝাতেন। অল্প দিনের মধ্যেই স্যার এবং সাবজেক্ট উভয়ই আমাদের কাছে প্রীয় হয়ে গেল। এই সাবজেক্টে যা কিছু শিখেছি তা সবই আমার সারা জীবন কাজে লেগেছে, এখনো লাগছে।

ভাইস প্রিন্সিপাল হয়ে এলেন মাসুদ হাসান স্যার। তার আগের বছর এস.এস.সি পরীক্ষার ফল ভাল হয় নি। মাসুদ হাসান স্যার এসে যাদু করলেন। পরের বছর চমৎকার ফলাফল। তার পরের বছর তাক লাগিয়ে দিলেন, বোর্ডে সবচাইতে ভাল ফলাফল সিলেট ক্যাডেট কলেজের। ফলাফল যখন স্যারের হাতে এলো, স্যার টেবিল চাপড়ে বলছিলেন, “আমি ফৌজদারহাটকে হারিয়েছি”।

জসিবুর রহমান স্যার ছিলেন প্রাণীবিজ্ঞানের শিক্ষক। কথায় কথায় বলতেন “আমি তোমাদের বড় বড় ডাক্তার বানাতে চাই”। হয়ে ছিলও তাই স্যারের কল্যাণেই অনেকেই বড় ডাক্তার হলো। শাকিল ভাই এবং আমাদের ব্যাচের ডাঃ হাবিব এদরে মধ্যে উল্লখেযোগ্য। স্যার ছিলেন আমাদের ফর্ম মাষ্টার। আমাদের নিয়ে এক্সর্কাসনে যেতেন। পরিচিত করে দিতেন নানা রকম উদ্ভিদ ও প্রাণীদের সাথে। অবাক হয়ে শুনতাম স্যারের কথা। সেই স্যারের ছেলে এখন আমারই ছাত্র। উপরওয়ালার কি খেয়াল। এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্ম র্পযন্ত জ্ঞান সঞ্চালিত করে দিচ্ছেন।

লেখক রফিক কায়সারের নাম শুনেছি অনেক। তিনি যখন আমাদের শিক্ষক হয়ে এলেন, আমাদের আনন্দ আর ধরে না। সাহিত্যের কত গভির বিষয় যে উনার কাছ থেকে শিখেছিলাম। মাঝে মাঝে পত্র পত্রিকায় স্যারের নাম দেখে খুব গর্ব হতো, যে উনার ছাত্র আমরা।

আবদুর রব স্যার ছিলেন ইসলামিয়াতের শিক্ষক। ধর্মীয় শিক্ষায় তিনি আমাদের শিক্ষিত করেছিলেন। আমাদের চেতনায় গেঁথে দিয়েছিলেন ইসলামের শিক্ষাকে। কলেজের এ্যাডজুটেন্ট ছিলেন খন্দকার ওবায়দুল আনোয়ার স্যার। এডুকেশন কোরের অফিসার ছিলেন। তাই হয়তো একটু নমনীয় ছিলেন। উনার গানের গলা চমৎকার আমরা মুগ্ধ হয়ে শুনতাম, সামরিক অফিসারের কন্ঠে গান। ক্যাডেটদের খুব ভালবাসতেন, বিদায়ের দিন ডাইনিং হলের সামনে দাঁড়িয়ে আন অফিসিয়াল একটি বক্তৃতা দিয়েছিলেন। দেশপ্রেম কি, কোন পথ ধরে বাংলাদেশকে এগোতে হবে, কি হবে আমাদের দায়িত্ব , খুব সুন্দরভাবে আমাদের বুঝেিয় বলেছিলেন। তখনই বুঝতে পারলাম যে, ক্যাডেট কলেজের সাথে স্যারের গভির সম্পর্ক হবে। হয়েছিলও তাই, স্যার পরে সি.সি. আর এর প্রিন্সিপাল হয়েছিলনে। তারও পরে এ.এ.জি হয়ে ক্যাডেট কলেজগুলো খুব ভাল ভাবে পরিচালনা করেছিলেন । সেই স্যারের সাথে দেখা গত বৎসর । প্রায় বিশ বৎসর পর। আমি সানগ্লাস পরা অবস্থায় ছিলাম। স্যারকে সালাম করে বললাম, “স্যার চিনতে পেরেছেন?” স্যার আমাকে অবাক করে বললেন, তুমি রমতি আজাদ । ছয় বৎসরে দীর্ঘ শিক্ষাজীবনে অনেক শিক্ষকদের সহচর্যে এসেছি ৷পিছনে ফিরে তাকালে মনে পরে, এক একটি উজ্জল নাম, আবদুল বারী স্যার, জায়েদুল আলম স্যার, মেজর আমীন স্যার, আলতাফুর রহমান স্যার, রয়িাজউদ্দনি প্রামানকি স্যার, কলেজের প্রথম শিক্ষয়ত্রী মুনিরা পারভীন, ওয়াহিদুর রহমান স্যার, চৌধুরী আনিসুর রহমান স্যার, বেলাল হোসেন স্যার, কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম স্যার, উপাধ্যক্ষ আবুল আশরাফ নূর । আমাদের সকলের জীবনে গভীর ছাপ রয়েছে প্রতিটি শিক্ষকের। তাঁরাই গড়ে তুলেছেন আমাদের জীবন। তাঁদের কল্যানে আমরা আজ সমাজে প্রতিষ্ঠিত।

আমাদের দেশের যে সামান্য কয়েটি জায়গায় মেধার মূল্যায়ন হয়, এর মধ্যে একটি হলো ক্যাডেট কলেজ । যে শিশুরা মেধা যাচাইয়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়, এখানে তাদের খতেে দয়ো হয়, কাপড় পরতে দেয়া হয়, সু-চিকিৎসা দেয়া হয়, পড়া লেখাতো শেখানো হয়ই, তার পাশপাশি আরো অনেক প্রশিক্ষনই এখানে দেয় হয়। অথচ তথাকথিত বুদ্ধিজীবিদের অনেকেই ক্যাডেট কলেজের বিরোধী। ক্যাডেট কলেজ বন্ধ করে দিলেই তারা খুশি হবে।

আমাকে একবার এক কম্যূনিষ্ট বলেছিল, যে ক্যাডেট কলেজ বন্ধ করে দেওয়াটাই উচিৎ, কেননা এখানে বিশেষ একটি শ্রেণী খুব ভাল আছে। আমি প্রশ্ন করেছিলাম, “বিশেষ একটি শ্রেণী মানে কি? ” “কম্যুনিজদের দৃষ্টিকোন থেকে শ্রেণী দু’টো, শ্রমিক শ্রেণী ও মালিক শ্রেণী, ক্যাডেট কলেজে এ জাতীয় কোন শ্রেণী ভেদ নেই। ক্যাডেট কলেজের দরজা সকলের জন্যই উম্মুক্ত। ”

ক্যাডেট কলেজ একটি মেরিট স্কুল । দেশের সেরা ছাত্রদের বাছাই করে, যথাযথ প্রশিক্ষন দিয়ে পটেনশিয়াল বিশেষজ্ঞ তৈরি করা হয় । এতে দেশের সামরিক ও বেসামরিক দুটি ক্ষেত্রই লাভবান হয় । অথচ এই ক্যাডেট কলেজের বিরোধীতা করছে একদল তথাকথিত বুদ্ধিজীবি । অবশ্য আমি ভিন্নমতের মানুষও দেখেছি ৷

বিদেশে অধ্যায়নরত সময়ে এক বাংলাদেশীর সাথে পরিচয় হয়েছিল, কট্টর কম্যূনিষ্ট, ক্যাডেট কলেজের ঘোর বিরোধী । ক্যাডেট কলেজ সর্ম্পকে তার ধারনা ছিল এটি একটি র্বুজোয়া প্রতিষ্ঠান ৷ আমার সাথে কিছুদিন চলাফেরার পর দেখলাম, হি ইজ ইমপ্রেস্ড। একদিন আমাকে প্রশ্ন করলেন, ক্যাডেট কলেজে ভর্তির নিয়ম কি ? আমি জানতে চাইলাম, “কেন?” বললেন, “ দেশে ভাতিজা-ভাতিঝি আছে ওদেরকে র্ভতি করাতে চাই ” । আর একদিন প্রশ্ন করলেন, “বাংলাদেশে ক্যাডেট কলেজ কয়টি ?” বললাম, “দশটি ” । উনি বললেন, “এর সংখ্যা বাড়ানো যায়না? ” আমি বললাম, “ক্যাডেট কলেজ ব্যায়বহুল প্রতিষ্ঠান, “ক্যাডেট কলেজ চালাতে যা খরচ হয় এই টাকা দিয়ে ছোটখাটো নদীর উপরে সেতু তৈরী করা যায় ” । তিনি বললেন, “সেতুর দরকার নাই, নৌকা চলবে , তাও ক্যাডেট কলেজের সংখ্যা বাড়ুক ” ।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা গবেষণামূলক প্রকাশনা প্রকৌশল ও বিজ্ঞান বিজ্ঞান

Use of Mathematics in Business in the ancient and mediaeval Bangladesh

Use of Mathematics in Business in the ancient and mediaeval Bangladesh

Dr. Ramit Azad

Excavations at Mainamoti, Mohasthangar, Paharpur, Naogaon and other sites of Bengal civilization have uncovered evidence of the use of practical mathematics in Bangladesh. The people of Bangladesh of that period manufactured bricks whose dimensions were in a correct proportion. In these constructions they used regular geometrical shapes included hexahedra, cones, cylinders, etc. thereby demonstrating knowledge of basic geometry. The “Somapuri Vihara” at Paharpur site is said to have been the biggest Buddhist monastery in south of the Himalayas. The site consists of a large quadrangle of some 170 monastic cells set in a high wall/earthwork and looking inward to a 3 level Stupa now largely ruined but originally containing, presumably, Buddha statues in shrines set deep into each face of the structure. There are also various other structures within the quadrangle. A visit is likely to consist of a walk around the outer wall and then round each of the 3 levels of the stupa whilst taking in some of the other structures. Around the Stupa itself we can see examples of the terracotta “tiles” which decorated the walls of each level. These types of decorations are also found at “Salban Vihara” at Mainamoti.
From ancient to medieval period important contributions to mathematics were made by Bangladeshi mathematicians. Unfortunately original works of many of our mathematicians are lost. It is because of the almost 200 years’ repression of the British rule. However history keeps some of the names immortal. One of them is Sridhara
Sridhara is now believed to have lived in Bangladesh in the ninth and tenth centuries. However, there has been much dispute over his date and in different works the dates of the life of Sridhara have been placed from the seventh century to the eleventh century. The best present estimate is that he wrote around 900 AD, a date which is deduced from seeing which other pieces of mathematics he was familiar with and also seeing which later mathematicians were familiar with his work.
Sridhara is known as the author of two mathematical treatises, namely the Trisatika (sometimes called the Patiganitasara ) and the Patiganita. However at least three other works have been attributed to him, namely the Bijaganita, Navasati, and Brhatpati. Information about these books was given the works of Bhaskara II (writing around 1150), Makkibhatta (writing in 1377), and Raghavabhatta (writing in 1493). We give details below of Sridhara’s rule for solving quadratic equations as given by Bhaskara II.
There is another mathematical treatise Ganitapancavimsi which some historians believe was written by Sridhara. Hayashi in, however, argues that Sridhara is unlikely to have been the author of this work in its present form.
The Patiganita is written in verse form. The book begins by giving tables of monetary and metrological units. Following this algorithms are given for carrying out the elementary arithmetical operations, squaring, cubing, and square and cube root extraction, carried out with natural numbers. Through the whole book Sridhara gives methods to solve problems in terse rules in verse form which was the typical style of Indian sub-continental texts at this time. All the algorithms to carry out arithmetical operations are presented in this way and no proofs are given. Indeed there is no suggestion that Sridhara realised that proofs are in any way necessary. Often after stating a rule Sridhara gives one or more numerical examples, but he does not give solutions to these example nor does he even give answers in this work. In his book Pati Ganita Shridhara gave a good rule for finding the volume of a sphere. He dealt with various operations like elementary operations, extracting square and cube roots, fractions, eight rules given for operations involving zero, methods of summation of different arithmetic and geometric series.

After giving the rules for computing with natural numbers, Sridhara gives rules for operating with rational fractions. He gives a wide variety of applications including problems involving ratios, barter, simple interest, mixtures, purchase and sale, rates of travel, wages, and filling of cisterns. Some of the examples are decidedly non-trivial and one has to consider this as a really advanced work. Other topics covered by the author include the rule for calculating the number of combinations of n things taken m at a time. There are sections of the book devoted to arithmetic and geometric progressions, including progressions with a fractional numbers of terms, and formulae for the sum of certain finite series are given.
The book ends by giving rules, some of which are only approximate, for the areas of a some plane polygons. In fact the text breaks off at this point but it certainly was not the end of the book which is missing in the only copy of the work which has survived. We do know something of the missing part, however, for the Patiganitasara is a summary of the Patiganita including the missing portion.
In Shukla examines Sridhara’s method for finding rational solutions of Nx2 ± 1 = y2, 1 – Nx2 = y2, Nx2 ± C = y2, and C – Nx2 = y2 which Sridhara gives in the Patiganita. Shukla states that the rules given there are different from those given by other Hindu mathematicians.
Sridhara wrote on practical applications on algebra.
Babylonian mathematicians, as early as 2000 BC could solve a pair of simultaneous equations of the form
x + y = p, xy = q
Which are equivalent to the equation
X2 + q = px
Sridhara was one of the first mathematicians to give a rule to solve a quadratic equation. Unfortunately, as we indicated above, the original is lost and we have to rely on a quotation of Sridhara’s rule from Bhaskara II:-
Multiply both sides of the equation by a known quantity equal to four times the coefficient of the square of the unknown; add to both sides a known quantity equal to the square of the coefficient of the unknown; then take the square root.
To see what this means take
ax2 + bx = c.
Multiply both sides by 4a to get
4a2x2 + 4abx = 4ac
then add b2 to both sides to get
4a2x2 + 4abx + b2= 4ac + b2
and, taking the square root
2ax + b = √(4ac + b2).
There is no suggestion that Sridhara took two values when he took the square root.
Usually it is told that there is no original work on mathematics in Indian sub-continent in the 2nd millennium. But basically in that period the development of mathematics in this region occurred to some other directions namely computational mathematics and mathematical logic. Some Bengali mathematicians worked on mathematical logic.
Bengali mathematician Raghunatha Siromoni (1477-1547) was a philosopher and logician He was born at Navadvipa in present day Nadia district of West Bengal. He was the grandson of Śulapāṇi (c. 14th century CE), a noted writer on Smṛti from his mother’s side. He brought the new school of Nyaya, Navya Nyāya, representing the final development of Indian formal logic, to its zenith of analytic power.
Raghunatha’s analysis of relations revealed the true nature of number, inseparable from the abstraction of natural phenomena, and his studies of metaphysics dealt with the negation or nonexistence of a complex reality. His most famous work in logic was the Tattvacintāmaṇidīdhiti, a commentary on the Tattvacintāmaṇi of Gangeśa Upādhyāya, founder of the Navya Nyāya school.

Mathuranath Tarkavagish (c 1550) scholar of navya nyaya (new logic), was born at Navadwip, son of Sriram Tarkalankar, also a famous logician. Mathuranath studied logic under Rambhadra Sarvabhauma. Jagadish Tarkalankar, a renowned logician of the time, was his classmate and Harihar Tarkalankar, another renowned logician, was his pupil.
Mathuranath’s commentaries on new logic expanded the study of logic in Bengal. By virtue of his extraordinary wisdom and writing skill he won a distinguished place in learned society. Mathuri, his commentary on Chintamani, was very famous and regarded as an essential text for the study of logic. It is held in high esteem all over India. He also wrote commentaries and explanatory notes on a number of books by Raghunath Shiromoni, Udayan and Bardhamanopadhyay, among them Anumanadidhitimathuri, Gunadidhitimathuri, Dravyakiranavalitika, Dravyaprakashatika, and Gunaprakashavivrti. One of his original books was named Siddhantarahasya.
Jagadish Tarkalankar Nyaya philosopher and Sanskrit scholar from Navadwip in the 16th century. Jagadish Tarkalankar’s ancestors were originally from Sylhet, Bangladesh. His father, Jadavchandra Vidyavagish, was a nyaya scholar at Navadwip and his great-grandfather, Sanatan Mishra, was the father-in-law of Sri Chaitanya. Jagadish was taught nyaya scriptures at Bhavananda’s chatuspathi (religious school), where he became well-versed in nyaya philosophy and was awarded the title of ‘Tarklankar’.
Jagadish Tarkalankar was a college teacher. Mayukh, Jagadish’s annotation of Raghunath Shiromani’s Tattvachintamanididhiti is a four volume discourse: Pratyaksamayukh, Anumanmayukh, Upamanmukh and Shabdamayukh. He also wrote Anumandidhititika, Pratyaksadidhititika and Lilavatididhititika, annotations on Shiromani’s didhiti.
Jagadish’s Shabdashaktiprakashika was once taught as a textbook at all chatuspathi in Bengal. Two of his other books are Tarkamrta and Nyayadarshan. He was awarded the title of ‘Jagadguru’ for his scholarship.

Few words on business and mathematics:
Though the mathematization of economics began in earnest in the 19th century. Most of the economic analysis of the time was what would later be called classical economics. Subjects were discussed and dispensed with through algebraic means, but calculus was not used. One of the earliest use of mathematics was in trading.
Algebra is widely used in business. Since Sridhara was the first mathematician who made practical application of algebra, so it can be guessed that the use of algebra in business started then.
Muslin was bought by the pharaohs of Egypt. Weaving muslin cloth needed a good knowledge of measurement, where use of mathematics is vital.
First century B.C. to first century A.D. Kushan and Gupta era the trade became more developed. Use of currency spread over. The money-goods-money relation became a practice. The use of mathematics became important in this case.
The merchant fleet floated in the Bay of Bengal. They had their business in Sindh, Koromandal and Bengal. Trade items were silk, precious stones, spices, metal goods, clothes etc. The Bengalese had their sea trade with Ceylon, Malabar, Koromandal, Pegu, etc. during Mughal period. On the land way they had the business from Persia to Volga river. During the reign of Emperor Akbar there was a professional group called kusid who used to give money on interest. Mathematics played a role in calculation of this type of business. The Emperor Akbar also introduced ‘common system of measurement’ and ‘currency unit’.

Conclusion
So we see that the use of mathematics in business and trade was wide in ancient and medieval Bengal. The Bengali mathematicians made enormous contribution in world mathematics as well.

References

1. D Pingree, Biography in Dictionary of Scientific Biography (New York 1970-1990).
Books:
2. G G Joseph, The crest of the peacock (London, 1991).
Articles:
3. K Shankar Shukla, The Patiganita of Sridharacarya (Lucknow, 1959).
4. B Datta, On the relation of Mahavira to Sridhara, Isis 17 (1932), 25-33.
5. Ganitanand, On the date of Sridhara, Ganita Bharati 9 (1-4) (1987), 54-56.
6. T Hayashi, Sridhara’s authorship of the mathematical treatise Ganitapancavimsi, Historia Sci. (2) 4 (3) (1995), 233-250.
7. K Shankar Shukla, On Sridhara’s rational solution of Nx^2+1=y^2, Ganita 1 (1950), 1-12.
8. A I Volodarskii, Mathematical treatise Patiganita by Sridhara (Russian), in 1966 Phys. Math. Sci. in the East (Russian) ‘Nauka’ (Moscow, 1966), 141-159
9. A I Volodarskii, Notes on the treatise Patiganita by Sridhara (Russian), in 1966 Phys. Math. Sci. in the East (Russian) ‘Nauka’ (Moscow, 1966), 182-246.
10. A I Volodarskii, Outlines of the history of medieval Indian Mathematics (Russian), ‘Nauka’ (Moscow, 2009).
11. Bongard Levin, Antonova, Kotovski, History of India, Progress Publisher, Moscow,1982