Each of Her Pictures is a Poem to Me!

তার প্রতিটি ছবিই আমার কাছে এক একটি কবিতা!

——————————————- রমিত আজাদ

অপরিচিত একটি নাম্বার ভেসে উঠলো মোবাইলের স্ক্রীনে।

ব্যবসা করি, আননোন নাম্বার হলেও ধরতে হয়।

: হ্যালো, কে বলছেন?

ওপাশে সুরেলা নারীকন্ঠ!

: কেমন আছেন?

: আপনি কে বলছেন?

: আপনি রোমিন ভাই তো?

: হ্যাঁ, ঠিক আছে। আপনি কে?

: আমাকে চিনতে পারবেন। নাম বললেই চিনতে পারবেন।

: কি নাম?

: নিবেদিকা।

(মনে পড়লো। বহুকাল আগে, একই এলাকায় থাকতাম আমরা। মাঝে মাঝে এর-ওর বাসায়, অথবা পথে দেখা হতো ওর সাথে। ব্যাস, ঐটুকুই!)

আমি: ও আচ্ছা। নিবেদিকা। কেমন আছো?

নিবেদিকা: ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন?

আমি: ভালোই। আমার মোবাইল নাম্বার কোথায় পেলে?

নিবেদিকা: আজকাল এটা কোন ব্যাপার বলেন? নেট থেকেই পেয়েছি।

আমি: ও আচ্ছা।

নিবেদিকা: আমি কিন্তু আপনার ফেইসবুক ফ্রেন্ড ।

আমি: হুম! (আমার মনে নেই, তাও বললাম, যাতে ও মনে কষ্ট না পায়!)

নিবেদিকা: আপনার লেখা কবিতাগুলো আমি পড়ি।

আমি: তাই?

নিবেদিকা: হ্যাঁ। দারুণ লেখেন!

আমি: ও, থ্যাঙ্ক ইউ ফর কমপ্লিমেন্ট।

নিবেদিকা: আরও একটা ধন্যবাদ কিন্তু আমার পাওনা।

আমি: কেন, বলতো?

নিবেদিকা: বারে, জানেন না?

আমি: কি বিষয়?

নিবেদিকা: আপনি ভেবেছেন, আমি বুঝি না?

আমি: কি বিষয় বলতো?

নিবেদিকা: আপনি তো ফেইসবুকে আমার ছবিগুলো দেখেই অনেক অনেক কবিতা লেখেন।

আমি: আমি?

নিবেদিকা: বারে, আমি বুঝিনা ভেবেছেন?

বাক্যবাণ! কি বলবো বুঝতে পারলাম না। যদি বলি, “না”, তাহলে ও মনে কষ্ট পাবে। আর যদি বলি “হ্যাঁ” তাহলে ও ভুল জানবে! উভয় সংকট!

ওকে আমি কখনোই ঐ চোখে দেখিনি। কিন্তু এত দূর থেকে এত আবেগ আর উচ্ছলতা নিয়ে ফোন করলো। এই মুহূর্তে ওর মনে কষ্ট দিতে আমার মন চাইছে না।

আপাতত: চুপ থাকাই ভালো।

নিবেদিকা: আমি এক একটা ছবি আপলোড দেই, আর তাই দেখেই আপনি নতুন এক একটি কবিতা লেখেন!

মেয়েটি ম্যারেড কিনা তাও আমি জানি না। কিন্তু ও তো ভাবছে ফেইসবুকে ওর পেইজ আমি তন্ন তন্ন করে দেখি। তাই প্রশ্নটাও করা যাবে না, টেকনিকালি। আপাততঃ ওর মনে আমি সত্যিই কোন ব্যাথা দিতে চাচ্ছিনা।

নিবেদিকা: আপনি বিয়ে করেন নি, তাই না?

আমি: না।

নিবেদিকা: কেন করলেন না বলেন তো?

আমি: জানি না।

নিবেদিকা: জানেন। আমাকে বলতে চাচ্ছেনা না, এই তো?

আমি চুপচাপ।

নিবেদিকা: আচ্ছা, আমাকে ভালো লাগে এই কথাটা তখন কেন বলেননি, বলেন তো?

আমি: কি বলবো?

নিবেদিকা: বলতেন! আপনার চাউনি দেখেই তো আমি সব বুঝতাম। শুধু চাইতাম, আপনি নিজ মুখে বলেন। তা তো সংকোচে কিছু বলতেই পারলেন না।

আমি আবারো চুপচাপ। নিবেদিকা বলেই চলছে।

নিবেদিকা: তারপর তো বিদেশেই চলে গেলেন!

আমি: হ্যাঁ, পড়ালেখা করতে গিয়েছিলাম।

নিবেদিকা: জানি তো। মা বলেছে। এলাকার সবাই বলছিলো।

আমি: সবাই বলেছে?

নিবেদিকা: তাইতো। জানেন, আমি তারপরেও প্রতিদিন বিকালে তিনতলার জানালার পর্দার পিছনে লুকিয়ে দেখতাম, পথ দিয়ে আপনি যান কিনা?

আমি: মানে?

নিবেদিকা: মানে, আপনি দেশে থাকতেও তো আমি ওরকম করতাম। (লাজুক কন্ঠে)

আমি: তাই?

নিবেদিকা: হ্যাঁ, তাই। আপনি হয়তো খেয়াল করেননি কখনো।

আমি: ও আচ্ছা।

নিবেদিকা: আপনি চলে যাওয়ার পরও আমি অভ্যাসবশতঃ ওটা করতাম। মনে হতো এই বুঝি আপনি দেশে ফিরে এলেন।

আমি: আমি তো কয়েক বছর পরে একবার দেশে এসেছিলাম।

নিবেদিকা: তখন তো আমি আর ঐ বাড়ীতে ছিলাম না। আমার তো বিয়ে হয়ে গেল!

এবার আমি  বুঝলাম, নিবেদিকা বিবাহিতা।

নিবেদিকা: আপনি যখন জানলেন যে, আমার বিয়ে হয়ে গিয়েছে। মনে ভীষণ কষ্ট পেয়েছিলেন তাই না?

আমি যে ওকে কি উত্তর দেব, তাই বুঝলাম না। কি করে ওকে বলি যে, আমার হৃদয়ে ওর কোন স্থানই কোনকালে ছিলো না।

নিবেদিকা: এই কারণেই তো আর বিয়ে করলেন না। তাই না? কি করবেন বলেন? জীবনটাই এরকম! মা যখন আমার বিয়ে ঠিক করেছিলো, আমার তখন ভীষণ কষ্ট হয়েছিলো! বিয়ের আসরে বসেও বারবার আপনার কথা মনে হচ্ছিলো!

আপনি তো বিয়ে না করেই জীবনটা কাটিয়ে দিলেন। আপনাদের ছেলেদের পক্ষে সেটা করা সম্ভব। আমরা মেয়েরা তা পারি না। মনের মানুষকে না পেলেও, কাউকে না কাউকে বিয়ে করতেই হয়!

আমি চুপচাপ ওর কথাগুলো শুনে যাচ্ছি! আমার মধ্যে কোন তোলপাড় হচ্ছে না। কিছুটা বিস্ময় কাজ করছে। সামান্য একটা অনুভূতিও হচ্ছে, এটা সেতারের উত্থান-পতন সঙ্গিত নয়, অনেকটা সাঁনাইয়ের সুরের মতন স্টেরিওটাইপড!

নিবেদিকা: এতকাল পরে ফেইসবুকে আমাকে দেখে, শুধু আমাকে নিয়েই কবিতা লেখেন তাই তো?

আপনার মনে যে কি কষ্ট, তা আমি বুঝি! আপনার লেখা কবিতাগুলো পড়লেই সব বোঝা যায়! আমি নীরবে আপনার লেখা সব কবিতাই পড়ি। কোন কমেন্ট করি না, শুধু পড়ি। আজ আর সইতে না পেরে ফোন করলাম।

কন্ঠস্বর ভারী হয়ে এলো নিবেদিকার। বললো, “থাক আজ রাখি। আরেকদিন কথা হবে। আপনি কিন্তু আমাকে ফোন করবেন না কখনো। যখন মন চাইবে আমি ফোন করবো। আপনার ঘরে তো আর কেউ নাই, আপনি নির্দ্বিধায় ফোন ধরতে পারবেন। আমি সংসারের বাঁধনে আছি, চাইলেই সব কিছু পারি না। আজ রাখি।

নিবেদিকা ফোনটা রাখার পর এলোমেলো অনেক ভাবনা মাথায় এলো! আমি কি করবো? কি করে ওকে বোঝাই যে, আমার একটি কবিতাও ওকে নিয়ে লেখা নয়? আমি যাকে নিয়ে কবিতা লিখি তাকে নিবেদিকা চেনে না। চেনার কথাও না। আমার ভাঙা বুকের আর্তনাদ, মহাসাগরের ওপারের একটি রমণী-কে নিবেদিকা কি করে চিনবে?

তাহলে? পরের বার যখন ফোন করবে তখন কি ওর ভুল ভাঙিয়ে দেব? সত্যিটা খুলে বলবো? এতে কি ওর বুক আরেকবার ভাঙবে না? আমার দিক থেকে, এটা কি অহংকার করা হবে না?

না, আমি আর অহংকারী হতে চাই না।

যেদিন থেকে আমি একা হয়ে গেলাম। সেদিন থেকেই আমার সব অহংকার ভেঙে গিয়েছে!

———————–

এ কেমন স্বপ্ন তোমার ওগো বলতো?

আমার সোনার ছবি, তোমার চোখে ধরে রেখেছ!

এতকাল পরে যদি, ফিরিয়া আসিলো নদী,

মোহনায় তারে কিগো দেখেছ?

চন্দ্রবিলাসী রাতে, তোমার আঁখিরো পাতে,

কোন সে মরিচিকা এঁকেছো?

লায়লি খুঁজেছে কারে? শিরী কি পেয়েছে তারে?

মরুর ধুলায় ওগো, প্রেমিকের দেহখানি মিশেছে!

এ কেমন স্বপ্ন তোমার ওগো বলতো?

আমার সোনার ছবি, তোমার চোখে ধরে রেখেছ!

——————————— রমিত আজাদ

————————————————————————

রচনাতারিখ: ২৬শে জুলাই, ২০২১ সাল

রচনাসময়: রাত ১১টা ০৫ মিনিট

Each of Her Pictures is a Poem to Me!

————————— Ramit Azad

May be art of 1 person
(ছবি আকাশজাল থেকে নেয়া)

মন্তব্য করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.