Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা সাকি বিল্লাহ্ সৃজনশীল প্রকাশনা

হরিষে বিষাদ

হরিষে বিষাদ

–সাকি বিল্লাহ্

 

আজ হরিষে বিষাদ মনে, কেন?

যাতনা, কিসের এত বিষের পেয়ালা যেন;

জীবন সায়াহ্নে এত কন্টাকীর্ণ পথ,

যবে বিষাবনীল দেহভারে টানিছো সেই রথ ।

তোমার পথের পরে কন্টক বিছায়েছে কেহ,

কোন সে হৃদয়হীনা তোমারে বঁধেছে প্রিয় মোহ ।

তাই হরিষে বিষাদ নামে বক্ষে,

যখনই পড়ে মনে তাহারে এ অন্তরীক্ষে ।

মরুভূমির বক্ষে এসেছিলে হয়ে এক পসলা বৃষ্টি,

মৃত্তিকা ছেদিয়া অঙ্কুরিত এক নবকৃস্টি ।

প্রখর রৌদ্র খড়তা উপেক্ষিত ছিল সব,

তুমি এসে নামালে পূর্ণিমার বারিত রব ।

চিকচিক বালুকণা গুলোর বিরিরণ,

তুমি থামালে প্রশমিত করে ঘন বরষণ ।

 

যখন হঠাৎ করেই লুকালে অন্ধকারে,

অবিশ্বাসে উপহাস করে সব কিছুরে;

তখন আনন্দ হল বদ্ধ নীরেট প্রস্তরে,

কষ্টের এক সমাধির বক্ষ কুটিরে ।

তাই হরিষে বিষাদ নামে দু চোখে নিমিষে,

চোখের পাতা দুটি ভারি হয়ে আসে অবশেষে ।

পিছনে ফিরে দেখ একপলক, একবার,

কোন অনুশোচনা জাগ্রত হয় কিনা তোমার ।

কি করে হাসি, পর্বত সমান কষ্ট নিয়ে বুকে,

গীরি প্রস্তর অন্তরপূর্ণ অগ্নিকুন্ড গোলকে ।

তাই হরিষে বিষাদ নামে সকল বেদনায়,

ভুলি নাই আমি, ভুলিয়াছো তুমি অন্ধ মোহের নেশায় । ।

 

২১.১২.১৭ ঘটিকা, .৬.১২.১৭ খ্রিস্টাব্দ, কেমনিট্জ, জার্মানী ।

 

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা সাকি বিল্লাহ্ সৃজনশীল প্রকাশনা

অন্দর মহল

অন্দর মহল

–সাকি বিল্লাহ্

তোমার অন্দর মহলে ডেকে এনে,

সর্বনাশ করেছো আমার,

অন্তর অথবা অন্দর যা-ই বলো না কেন,

একই মোহে আকৃষ্ট করেছো,

এই রূপ মাধুর্যের ছলনায়;

ডেকেছো গহীনে গভীরে..

বাঁকা ঠোঁটের চমৎকার হাসিতে,

খুন হয়ে যাই বার বার,

অতপর সেই ঠোঁটের স্পর্শেই হয় পূনর্জনম,

রূপখানা কালের মহাস্রোতে হারালেও,

থেকে যাবে তোমার বাঁকা হাসি ।।

 

এই যে ঘন কালো চুলের ঘ্রানে,

মোহিত করেছো আমায়,

তারপর হঠাৎ জাগিয়ে দিয়েছো,

কোমল কন্ঠের সুরেলা স্রোতে ।।

 

রাগে অভিমানে কখনও বন্ধ করেছো সব,

তারপর অভিমান ভেঙ্গে,

হাতে হাত রেখে, চোখে ছলছল জল নিয়ে,

তাকিয়ে রয়েছো অনেক্ষণ,

সেই মৌন ইশারার চাহনির ভাষা,

আমি ছাড়া আর কে বোঝে !

 

তারপর হঠাৎ একদিন,

নীল আকাশটা হয়ে গেল ফ্যাকাশে,

সবুজ পাতাগুলো শুকিয়ে ধূসর হয়ে গেল,

ধীরে ধীরে মূমূর্ষু হয়ে গেল কৃষ্ণচূড়াটা,

তারপরও পাখিরা গাছটার ডালে বসে,

বসে আনন্দে গান ধরে;

সেই গান শুনে নতুন করে প্রান ফিরে পায়,

মৃতপ্রায় কৃষ্ণচূড়া গাছটা,

নতুন করে কুঁড়ি গজিয়ে উঠে সুউচ্চে,

নতুন করে স্বপ্ন দেখে তোমাকে নিয়ে,

কিন্তু এতদিন পরে আজ আর,

নেই কোমলতা তোমার,

নেই সুরেলা কন্ঠ অথবা সুশ্রীবদন,

একরাশ কালো মেঘে ঢাকা,

তোমার বাঁকা হাসি,

তবুতো তুমি আছো এই হৃদয়ে,

শতশত স্বপ্ন আর অভিমানে,

অথবা হারিয়ে যাওয়া সকল সুখ স্মৃতিতে ।।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা সাকি বিল্লাহ্ সৃজনশীল প্রকাশনা

A Wicked Lizard

A Wicked Lizard

–Saki Billah

 

You are a Wicked Lizard,

Like a dwarf husked Sun,

Like a Shadow from a Sunbeam,

In an ancient meadow.

I am wicked by you,

But I am not weak at all,

I know how to survive,

How to grow like a green stalk;

And becoming as long, as it could be,

Climbing in a long tree.

Dear God, forgive her,

For what she did to me,

For how she black spelled me,

As I forgave her,

You have no rights to proceed.

 

But you can make me strong,

Like a Blacksmith’s hammer,

Like a blowing wind,

So I can wicked her too;

But not like a monster,

I will flourish like a sprinkle,

I will blow besides her,

So she can smelled me,

But cannot see,

I will fly in the Sky,

Like a free Bird,

So I can see her,

But she cannot noticed.

You are a beautiful Species,

But not more than a ‘Wicked Lizard’.

Time of writing: 04.01.2018 7:31 am

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা

সু-সন্তান

সু-সন্তান

–সাকি বিল্লাহ্

 

এমন সন্তান জন্ম দিও-গো মা-জননী,

কাঁপিবে বিশ্ব সত্যসম্ভারে, লুটাবে পায়ে ধরণী ।

অজুত গুনিয়া এমন সন্তান, না হয় ঘরে ঘরে,

তবু দিগ্বীজয়ে শুনি তারই জয় জয়কারে ।

সর্পিল জাত জন্ম দেয় বহু কিংবা কুক্করী,

জন্ম দিয়া সাপের বংশ বিলাপে মর্মবিদারী ।

 

এমন শিশু গড়ে তোলো হে পিতা,

অন্যায় রোধে দৃঢ় চিত্তে, কর্মে সদা সততা ।

দেশ ও দশের সেবায় যেন জীবন করে উৎসর্গ,

অন্যায় রোধিয়া নরককে বানাবে পূণ্য-ভূস্বর্গ ।

কোথায় আছে সে পিতৃকুল এ জগতে,

ছড়াবে আলোর কণা সুসন্তান যার কোলেতে ।

 

হে সন্তান তুমি বড় হও, দীর্ঘ হও, হও মহাশক্তিমান,

দেশ ও জাতির সকল কল্যাণে নিবেদিত করো আত্মপ্রাণ ।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা বিনোদন ভালবাসা/প্রণয়লীলা সাকি বিল্লাহ্ সৃজনশীল প্রকাশনা

কমলা সুন্দরীর স্নান

কমলা সুন্দরীর স্নান
–সাকি বিল্লাহ্
 
সাঁতার না জানলে কন্যা,
নাইমো না ঐ দরিয়ায়,
দরিয়ার পানি চিকচিক করে,
সূর্যের আলোর ঝলমলায় ।।
 
কন্যার বরণ কমলার মতন,
রাগলে হয় মহাগ্নী,
ও গো ময়না নাইমোনা জলে,
এই রাগিনীর স্রোতিস্বিনী ।।
 
রন্ধন শেষে স্নানে এসে,
পদ্মের ন্যায় ভাসো,
গায়ে মাখো চন্দন-তুলসী,
আর, আপন মনে হাসো ।।
 
দরিয়ার জল উজানে চলে,
ভাইসা যায়রে শরীর বসন,
বসন যদি না থাকে গায়,
কেমনে যাইব বাড়ীর চলন ।।
 
সাঁতার না জানলে কন্যা,
নাইয়ো না ঐ দরিয়ায়,
দরিয়ার জল নিঠুর যদি,
ভাসাইয়া নিব এই অবেলায় ।।
Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা সাকি বিল্লাহ্

জেগে উঠো হে বাঙ্গালী

-সাকি বিল্লাহ্

 

হে নির্বাসিত মন, অর্বাচিন বাঙ্গালী,

জেগে উঠো আজ ঘোর অমানিষায় জ্বেলে দ্বীপালী ।

হেয় করো সকল কুণ্ঠা আর জরা যত,

শক্তিতে হও আগুয়ান হটিয়ে হিংস্র পশু শত শত ।

 

কে বলে তুমি ধারক কোন বিশ্বাসের,

বলো চীরদিন ধরনীর বুকে বীরসন্তান এই দেশের ।

হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ অথবা খ্রিস্টান,

সকলে এক বাংলা বীরের জাত সন্তান ।

ধ্বংস করে যারা এই সৌর্হাদ্রপ্রিয় বাঙ্গালী জাত,

পিছু না হটে দাও ফিরিয়ে তারে সকল প্রতিঘাত ।

 

শতশত নদীর কলকল তাল,

ডাকে দেখো দূর সমুদ্রের ঢেউ উত্তাল ।

শান্ত নদী মোহনায় হয় মাতন্ড প্রায়,

শেষ হওয়ার আগে জানিয়ে শেষ অভিপ্রায় ।

এই বঙ্গদেশের সকল সম্ভার,

রোষানলে হয়েছে পিশাচ আর শকুনের ভাগার ।

বিবেকের দংসনে তাড়ায় মন সারাক্ষণ,

তাই, ক্ষয় হোক তবুও করে যাব দেশের কল্যাণ ।

 

সবুজের মাঝে লাল সূর্যের এই পতাকা,

শতকোটি মানুষের দিগ্বীজয়ী আলোক-বর্তীকা ।

তাই জেগে উঠো কালবৈশাখীর মত,

ছিন্নবিদীর্ণ করে দাও সকল পিশাচের অন্তর যত ।

ছিনিয়ে আনো এই লাল সবুজের নিশানা,

মুক্ত করে দাও সকল শিকলে বাঁধা বিহঙ্গনা ।

বীর বাঙ্গালীর সকল বীরত্বকথন,

জাগিয়ে ধরনী করো  চীর অমলিন । ।

 

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা

শান্তশিষ্ট বালক

–সাকি বিল্লাহ্

হে সকল শান্ত শিষ্ট বালক,
বালিকাদের চেয়ে এখনো তুমি ঢের নাবালক !
ডিজিটাল এই যুগের অবাস্তব জগতে,
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পরতে পরতে,
ফটোশপ আর ক্যামেরার কারসাজিতে,
কাককে বক আর ময়ূরকে দেখায় কাকতাড়ুয়াতে ।।

সুন্দরকে অসুন্দর আর অসুন্দরকে সুন্দর করে,
আমরাই দেখাই মহাবিশ্বের সকল বিস্মৃতিরে ।
সম্যক জ্ঞানে রুদ্ধ করি সব অযাচিত রাগ,
আর ভস্ম করি পুড়িয়ে শত ভাগ ।
তবু তার দ্বারে রহি পড়ে সজ্ঞানে,
শয়নে নিদ্রায় জাগি তার-ই স্মরণে;
কবে যেন কোথায় দেখেছিলাম হঠাৎ,
সেই থেকে কাল হল সকল বিস্বাদ ।

জ্ঞানের পিপাসায় কাতর মস্তিষ্কে,
দিয়েছি শুধু জ্ঞানালোক মর্ত্যকে;
শুধু দেইনি একফোটা প্রনয়ের জল,
হৃদয়ের শত আকুতিরে করে নিস্ফল ।
তবু সবের মুখে শুনি অবারিত বারি,
দিয়েছো যা, তোমারই কল্যাণে তা নিমগ্ন করি ।

হয়ত কোন এক পড়ন্ত সাঁঝবেলায়,
পাখিদের ডানা ক্লান্ত তবু ব্যস্ত পথচলায়;
ভোরের আলো পড়ে চোখের পাতায়,
হয়ত বা জাগাবে না আর তোমায় ।
তাই শান্ত হয়ে, ক্ষান্ত করে দাও সকল অশান্তরে,
প্রকাশ্য দিনালোকে এই সকল নীরেট অন্তরে ।
তুমি হবে মহাপুষ্পীর মান্যবর কোন এক,
তবু সকলের হৃদয় জয়ে তুমি রবে সম্যক ।
কেউ তো তবু বলবে ছিলে এক শান্তবালকে ,
জয় হবে সবার তরে এই মর্ত্যলোকে ।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা

শুনতে চাই না

শুনতে চাই না আমি কবিতা আর গান,

তোমার কণ্ঠে

দেখতে চাই না চাঁদ আর হাসি

তোমার মুখে

তুমি নর পশুর চাইতেও অধম

আমার মনে হচ্ছে

তুমি একটা ভয়ঙ্কর নর পিশাচিনী

তোমায় দেখতে চাই না ।

 

¯পর্শ চাই না শিশির বিন্দু মাখা

দূর্বা ঘাসের মত,

তোমার হাতের,

কারণ তোমার হাতের ¯পর্শে

আমি বিষাক্ত

তুমি বর্বর হায়েনা

কিংবা নরমাংশী পাকিস্তানী সেনা ।

 

তোমার সান্নিধ্য আমি চাই না

তুমি পাষণ্ড, অশিক্ষিত কুলাঙ্গার

তোমার কোন ভয়ঙ্কর রূপ

আমি দেখতে চাই না,

শুনতে চাই না আমি তোমার মুখ থেকে

“ভালোবাসি” শব্দটা

শুনতে চাই না..না….না….না ..।

তোমার সব কথাই আমি আজ

শুনতে চাই না,

কারণ তুমি রাক্ষুসী, অনেকটা

রাক্ষুসী নদীর মত

বুকের ভেতরের সব কুল ভেঙ্গে নিয়েছো তুমি ।

 

তোমার পুলকিত হওয়ার কোনো কারণ নেই

তোমায় ভালোবাসি না আমি

অভিশপ্ত কাউকে ভালোবাসা যায় না

আমি জানি ।

 

হিংস্র পশুর চাইতে অধম তুমি

আমি জানি

কারণ তোমার লোভ আকাশ সীমা পেরিয়েছে

অনেক আগে

অন্ধ হয়েছো তুমি লোভে

শত শত শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা যাচ্ছে না

তোমার সে লোভাতুর মনটাকে ।

 

বন্ধ কর সব পাখির গান কিচিরমিচির শব্দগুলো

শুনতে চাই না এসব , দেখতে চাইনা

তোমার অবয়ব

তোমার অবয়বে মনে পড়ে, কি নিদারুণ

কষ্টের অতীত

আহা ! সে কষ্টে আড়ষ্ঠ দিনগুলি

কত কষ্ট হয়েছিল আমার সে মুহূর্তগুলো

প্রতিটি সেকেন্ড পাড়ি দিতে

এক একটা সেকেন্ড

এর চাইতে ভালো হতো যদি কোনো

রাস্তার কুকুরকে ভালোবাসতাম

কোনো পাগলা কুকুরকে

সবাইকে কামড়ালেও আমাকে কামড়াতে দ্বিধা করতো

অথবা কোনো হায়েনাকে ভালোবাসতাম

ছিন্ন বিদীর্ণ করে আমাকে শেষ করলেও

ক্ষুধা মেটানোর পর

তার দুচোখ বেয়ে এক ফোঁটা

অশ্র“ ঝরতো অন্তত

কারণ সে ক্ষুধার তাড়নায় পশুত্ব গ্রহণ করেছিল

আর তুমি (হা..হা…হা..)

আমার ক্ষতের উপর বরঞ্চও

কিছু লবণ ছিটিয়ে দিতেও দ্বিধা বোধ করোনি ।

 

ভালোবাসার প্রতিদান শুধু ভালোবাসা জানতাম

কিন্তু তুমিই শেখালে প্রথম,

ভালোবাসার প্রতিদান ভালোবাসা নয়

কুৎসিত মনের প্রকাশ হল তোমার

চাঁদের মত তোমার মুখ আর

ভিতরকার তুমি,

কিছুতেই আমি মেলাতে পারছিলাম না

যাই হোক-

একটা পশুকে ভালোবাসলেও

সে বুঝতে পারতো আমার সে

অর্বুদ ভালোবাসা

 

কিন্তু আমি হতবাক হলাম

তোমার পশুর চাইতেও নিকৃষ্ট রূপ দেখে

হঠাৎ তুমি বদলে গেলে

বিচিত্র সে রূপ তোমার

আমার মনে পড়লে এখনও

আঁতকে উঠি

কি অদ্ভুত তোমার সে পরিবর্তন

তোমায় নিয়ে কবিতা লিখছি

ভেবোনা, এটা তোমার জন্য কবিতা,

হ্যাঁ এটা আমার জন্য কবিতা

সবার জন্য কবিতা শুধু

তোমার জন্য একটা দুঃস্বপ্ন বাণী,

 

তোমার ধ্বংসই এখন আমার কাম্য

আমি বলিনি ।

আমি তো তোমার মতো

বিবেকহীন কোনো যন্ত্রমানব নই

তবে তুমি যা করেছো তার শাস্তি

তুমিই পাবে, অন্য কেউ নয়

তোমার ছলনার নাটক এর সমাপ্তি

তোমার রক্তের হলি খেলাতেই

শেষকৃত্য হবে ।

 

ভেবো না , স্রষ্টা কারও প্রতি

অসম বিচার করেন না

তোমার শাস্তি তুমি পাবেই

শীঘ্রই পাবে ।

 

 

নতুন করে তোমার মুখে শুনতে চাই না

আমি সুমধুর ভালোবাসার ডাক

খুবই বিরক্ত লাগছে তোমার সে আকুলতা

বন্ধ কর এসব

নতুবা চিরতরে বন্ধ করে দেব তোমার বাকযন্ত্র,

 

তাই আমি আর শুনতে চাই না

না…না….না….

শুনতে চাই না, দেখতে চাই না

পর্শ চাই না

ভাবতে চাই না তোমায়,

এ কবিতাই তোমায় নিয়ে শেষ ভাবনা

তারপর ভাববো না আর কোন দিনও

তোমায় নিয়ে ।।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

আজ তোমাকে শাড়ীতে দেখেছি

আজ তোমাকে শাড়ীতে দেখেছি,
আর দহনে সিক্ত হয়ে নিজেই কিছুক্ষণ হেসেছি ।
হাতের চুড়ির শব্দে বা মিস্টি হাসির আড়াল,
কিভাবে পারো লুকাতে তোমার শত কস্টের বেড়াজাল ।
ঠোঁটের রংয়ে, বাঁকা হাসি আর চুলের কারুকাজ,
চোখের কাজলে মিশে একাকার সবখানি লাজ ।

সব ব্যাথা উপশম করে তোমার সুশ্রীবদনে,
তাই জড়াব্যধিতে পথ্য পাথেয় শুধু সে মুখ দর্শনে ।
খোঁপাতে তাই গুজে দেই এক শ্বেতশুভ্র ধুতুরা ফুল,
যাতে উৎসুকেরা জানুক তুমি বইছো আমার কুল !
ভুলের মাসুলে মাপিনি তো আমি তোমার ললাট,
তাই ভুলের সাগরে কুল হারা হয়ে খুঁজি চেনা সেই ঘাট ।
কত পথ পাড়ি দিলে বলো, কতটা কস্ট সইলে,
হব আমি তোমার প্রিয়দর্শন, হৃদয়ের মহাসাগর-এ ।

এ পথে তব হেটেছো অনেক, অনেক বেলা হয়েছে,
তাই পথের পাশে না হয় একটু জিরালে এই কুটির-এ ।
মান গেছে, ধান গেছে , বাকী ছিল সতত মননে,
সেটাও না হয় দিলাম সঁপে প্রেম-দেবীর মনোরঞ্জনে ।
কেউ কি ভাবে আমার মতন, এ জগতে আর কেহ?
জানি না তোমার ভাঙ্গবে কবে অহমিত এই মোহ !

অন্য সাজে জাগে না এতটা তুফান মনে,
শাড়ীতেই তাই ভাল লাগে, আবেগতাড়িত আখ্যানে ।
তাই পরতে পারো গোলাপী, বাসন্তী কিংবা নীল শাড়ী,
শুধু খোঁপাতে দিও সাদা ফুলের মঞ্জুরী ।
হাতে মেহেদী কিংবা পায়ে না হয় আলতা নাই দিলে,
তবুও জেনো, শাড়ীতেই তুমি অপ্সরী সাথে হাসতে পরো প্রান খুলে ।
আজ তোমাকে শাড়ীতে দেখে তাই হৃদয়ের সব ব্যথা ভুলি,
হৃদয় তোমার সিক্ত হোক নিয়ে ভালবাসার এ অঞ্জলি ।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা সাকি বিল্লাহ্ সৃজনশীল প্রকাশনা

একটি বটবৃক্ষের আত্মকাহিনী

নরেন্দ্র নারায়ণ যে জমিদার ছিলেন….

-হ্যাঁ তোমাকেই বলছি হে পথিক

আমি একজন বটগাছ

একটি বটগাছ নই, আমারও যে প্রাণ আছে

আছে ভালোবাসার অধিকার

শুধু আমি চলতে পারি না

আর সব কিছুই করতে পারি

তাই আমি একজন বটবৃক্ষ, “একটি নয়” ।

 

তুমি পথিক, কোথাও যাচ্ছ বুঝি ?

খুব ক্লান্ত মনে হচ্ছে তোমাকে

একটু জিরিয়ে নিতে পার

আমার সুশীতল ছায়ায়

এসো, কাছে এসে উঁচু শিকড়টায় হেলান দিয়ে বসো

আমি তোমাকে হাজারো পাতার

পাখায় বাতাস দিয়ে জুড়িয়ে দেব

যদি কিঞ্চিৎ সময় থাকে তাহলে

দু-তিনটে কথা বলতে চাই তোমার সাথে

জানি তুমি ব্যস্ত,

গাছেদের কথা শোনার সময় কোথায় তোমার

মানুষ বড়ই ব্যস্ত, তার জাতি ভাইদের

কথা শোনবার সময় নেই এক বিরাম ।

 

 

একি ঘুমিয়ে পড়লে দেখি

ঠিক আছে, তুমি ঘুমিয়ে থাক

আমি নিরবিচ্ছিন্ন পাতার পাখায়

তোমাকে সুশীতল বাতাসে শীতল করে তুলি আর

তোমার স্বপ্ন ঘোরে এসে

দু-চারটে কথা বলে মনের ভিতরের কষ্টগুলো ভাগ করে নিবো,

 

হ্যাঁ যা বলছিলাম

নরেন্দ্র নারায়ণ, তিনি ছিলেন একজন জমিদার

এ অঞ্চলের সবচাইতে প্রভাবশালী

ইতিহাসে পাবে কিনা জানি না

তা প্রায় ৫০০ বছর তো হবেই

ঠিক ৫০০ বছর পূর্বেকার কথা

আমার ঠিক মনে আছে

গাছেরা কোন কিছু ভুলতে পারে না

এই তো সেদিন

সকালে জমিদার বাবু এ পথ দিয়ে হেঁটে যেতেন আর

হাত বুলিয়ে দিতেন আমার গায়ে পরম আদরে

আমার তখন শৈশব,

 

হা……হা…..

কি বললে ? আমার বয়স কত ?

আমার বয়স আসলে কত হবে

সঠিক বলতে পারবো না

তবে আমার মগডালে বসে থাকা শুকুনীর চাইতেও ঢের বেশি

তোমার দাদার দাদাও আমাকে ঠিক এরকমই দেখেছে

ঠিক এখন যেমন আছি,

মহাকালের সাক্ষী বলতে পারো

তবে অনুমান করে বলতে পারি

আমার বয়স ৬০০ বছর পেরিয়েছে অনেক আগেই ।

 

পথিক, তুমি বিরক্ত হচ্ছ না তো ?

অবশ্য বিরক্ত হওয়ারই কথা

তুমি শান্তিতে ঘুমুচ্ছো আর

আমি বকবক করে তোমার ঘুমকে হালকা করে দিচ্ছি

কি? সমস্যা নেই , শুনতে চাচ্ছ আমার ইতিহাস

তাহলে শোন, সন্ধ্যা হওয়ার আগেই

তোমাকে ডেকে দেব আমি, ভেবো না ।

 

শত শত বছরে আমি শুধু মানুষকে দিয়েছি

আর কত কি যে দেখেছি এ পোড়া চোখে,

 

অভাব আর অত্যাচারিত হয়ে

আÍহত্যা করেছিল জয়নাব

তাও দেখতে হয়েছিল আর

না দেখে কি উপায় ছিল বল

আমারই ডালে দড়ি ঝুলিয়ে

আÍহত্যা করেছিল

স্বামীটা তার এত পাষণ্ড ছিল যে

সরলা রূপবতী মেয়েটাকে

যৌতুকের জন্য বেধড়ক মারধর করতো

চোখের সামনে ছটফট করতে করতে

শেষ নিশ্বাস বাতাসে মিলিয়ে গেল

 

আমি তার পাশে থেকেও বাঁচাতে পারলাম না,

(দীর্ঘশ্বাস……)

শুধুমাত্র কালের সাক্ষী হয়ে থাকলাম ।

 

এই তো সেদিন, ৭১ এর সময়

মুক্তিযোদ্ধা কিছু তরুণ

আমার এ গুড়ির পেছনে আশ্রয় নিয়েছিল

পাক সেনাদের সাথে তাদের সামনাসামনি যুদ্ধ হয়

রমিজ উদ্দিন নামে একজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়

তার বুকে এসে গুলি লাগে,

পাক বাহিনী পরাজিত হয় ঠিকই

কিন্তু রমিজ শহীদ হয়

তার কলকল করে রক্ত পরা আমি

বন্ধ করতে পারিনি

শুধু পাতার আর গুড়ির আশ্রয় দিয়েছি মাত্র

পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা আরজ আলীর পা আর ফেরত দিতে পারিনি

কি পেয়েছে এই মুক্তিযোদ্ধারা তোমাদের কাছে ?

এখনও মাঝে মাঝে আরজ আলী আমার শরীরে

পরম আদরে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে

অতীত স্মরণ করে দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে

তার সেই দীর্ঘ নিশ্বাস আমার হৃদয়কে

ক্ষতবিক্ষত করে..

বিশ্বাস করছো না ?

এই দেখ আমার শরীরে এখনও বুলেটের চিহ্ন বর্তমান

কি, এখন বিশ্বাস হল তো

আমরা গাছ, গাছেরা কখনও মিথ্যা বলে না ।

 

কত রাখাল এসে এখানে গরু চড়ায়

কত পাখি এসে গান গায়

কত শিশুরা এসে খেলা করে

আমি শুধু তাদের আশ্রয় দেই

দেই ছায়া আর ভালোবাসা

মানুষের দুঃখ দেখে ব্যথিত হই

মানুষের সুখ দেখে আনন্দিত হই

কালবৈশাখীর ঝড়ে সে বছর অনেক মানুষ মারা গেল

তোমরা তার নাম দিলে সিডর

 

হাজার ঘরবাড়ি ধ্বংস হল

অনেক মানুষ মারা গেল

অনেক গাছও মারা গেল

আমি কোনরকমে বেঁচে ছিলাম

কিন্তু আমার দুটি ডাল ভেঙ্গে গেল

এই যে দেখ এখনও তার ক্ষত আছে

মানুষদের আমার খুব ভালো লাগে

কারণ এত ঝড়ের পরেও

তারা আবার বাঁচার স্বপ্ন দেখে

নতুন করে ঘর বাঁধে ।

 

কিন্তু মানুষ অনেক স্বার্থপর

তোমাদের এত উপকার করেও

কোন প্রতিদান পাইনি

বরং এখন আমাকে আগুনে পোড়ানো বাকি

হ্যাঁ সত্যিই বলছি

সামনের সপ্তাহে হয়ত আমাকে কেটে ফেলা হবে

কেটে টুকরো টুকরো করে ইটের ভাটায় পোড়ানো হবে

আমিও সেদিনের অপেক্ষায় আছি, ভাবলাম

তোমাদের মাঝে বেঁচে কি লাভ ?

এত উপকার করেও যখন তোমাদের মন যোগাতে পারলাম না

তখন আর হিংস্র স্বার্থপর পৃথিবীতে বেঁচে থেকে লাভ কি, বল ?

 

একি উঠে পড়লে যে,

ঘুম ভেঙ্গে গেল সন্ধ্যার আযানে

আজ চলে গেলেও আরেক দিন এসো

বাকি গল্পটুকু শোনাবো

যদি ততদিনে আমাকে কেটে ইটের ভাটায় পোড়ানো না হয়

শীঘ্রই এসো, ৬০০ বছরের ইতিহাস তো আর

ঘন্টা খানেকে শেষ হবে না

একদিন সময় নিয়ে এসো

তবে শীঘ্রই,

ঐ শানিত কুঠার আমার বুক চিরে ফেলার আগেই।

 

বিদায় পথিক, বিদায়  ।।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা

এপাড় ওপাড়

সাকি বিল্লাহ্

 

আমাকে একটু ওপাড়ে পাঠাতে পারবে, ওপাড়ে,

যেখান থেকে কেউ কখনো না ফিরে,

লম্বা ছুটি, নিরন্তর অবকাশ,

ধ্র“ব সত্য, অদৃশ্য নীল আকাশ ।

 

মাঝি নিশ্চুপ, বৈঠা হাতে এপারে,

তুমি বড়ই দুখী, যদি চাও চলো ওপাড়ে ।

 

হাতের প্রদীপ আমার নিভু নিভু করে, ক্ষণে,

ঝিরি ঝিরি বাতাসে, আর শেষবিন্দু কেরোসিনে,

সলতে পুড়ে পুড়ে শেষ হচ্ছে আমার,

সময় ঘনিয়ে আসছে ওপাড়ে যাবার ।

 

তবুও মাঝি নিশ্চুপ, বৈঠা চলছে না,

থেমে থেমে ঝিঁ ঝিঁঁ’র নিরলস বন্দনা ।

নিকষ কালো অন্ধকার রাতে,

দাড়িয়ে থেকে থেকে পায়ে খিল লেগেছে তাতে ।

 

বিদায় বেলায়, স্বজনের মেলায়,

ভেসে যাচ্ছি অজানার ভেলায় ।

তবুও মাঝি বলছে না কিছুই,

“তোমার সময় শেষে জানবে সবই” ।

 

হঠাৎ বুকের পাঁজরে লাগল কি যেনো,

ভয়ঙ্কর শীতল, শূন্যতায় ভরা অনুভূতি এক কোনো

মুহূর্তে সব ওলট পালট লাগছে আমার,

মৃত্যু ভয়ে জর্জরিত সারা শরীর

শিশু থেকে মৃত্যু অবধি যত কিছু আছে,

চিত্রিত সব কল্পনা আমার কাছে

রং তুলির ছবির মত কত কি যে,

সারাটা জীবন, দৃশ্যপটে, আঁকছে কেউ নিজে ।

 

বুকের সে ব্যথা অনুভূত হচ্ছে না আর,

মাঝি নীরবতা ভেঙ্গে “সময় হয়েছে যাবার”

যাবার জন্য ব্যকুল ছিল হৃদয়,

সমন শুনে মনটা যেন কাঁদে সে যন্ত্রণায় ।

 

কলমের কালি শেষ হলে যখন তাই,

ছুড়ে ফেলে দেয় দুরে সবাই

আমার সে পাড়ে, এমনই কি ছিলো?

আমাকে নয়, আমার সম্পদকে বাসতো ভালো?

আমি এখন মহাকালের ঊর্ধ্বে,

মহাবিশ্বের মহাকালের সান্নিধ্যে ।

 

মাঝি: “তোমার যাবার অনুমতি মিলেছে”

স্রস্টা কিছু চাইছেন তোমার কাছে

আমি অবুঝ দৃষ্টিতে তাকিয়ে,

অন্তরের সব মরুভূমি হচ্ছে শুকিয়ে ।

কেউ কিছুই বলছে না আমাকে,

কিছুই তো নেই, যে, দেখাব স্রস্টাকে

হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা ছাড়া আর,

সাথে তাকে দেখাব কিছুই নেই আমার ।

 

সত্যের পথে, অজানাকে জানতে,

পাড়ি দিয়েছি সারা জীবন øাতে

আমাকে যেতে দাও ওপাড়ে,

ভিড়তে দাও সকল রহস্যের দ্বারে

আমার যাবার অনুমতি নাকি মিলেছে,

তুমিই তো মাঝি পথ চিনেছো ।

 

মাঝি: “আমি আর বেয়ে যেতে পারছিনা,

দুহাত আমার অবশ কোনো পাখির ডানা”

কিন্তু, তুমি তো আদেশ প্রাপ্তা,

তুমি ছাড়া আমার অজানা রাস্তা,

 

মাঝি, তুমি কি শুনতে পাচ্ছ?

আমাকে মাঝ পথে রেখে কোথায় যাচ্ছ?

 

আমি এখন মধ্য পথে,

ভাসমান এক কাল্পনিক রথে

আমি একা, বড় একা, সেই রথে,

কেউ টানছে এপারে কেউ ওপারের পথে

স্রস্টা আর মানুষের ভালোবাসার –

টানাটানি পড়েছে, আমি কার?

তাই আমি এখন মধ্যিখানে,

আমার ইচ্ছায় যেতে পারি, এখানে বা ওখানে ।

 

যখন মানুষের ভালোবাসা শেষ হবে,

অফুরন্ত ভালোবাসা স্রস্টার পড়ে রবে

আমি তখন পাড়ি দেবো উন্মুক্ত ভেলায়,

ভালোবাসি বলে, “হে স্রস্টা তোমায়” ।

 

মঙ্গল তব মঙ্গল হোক হে সৃজিত সৃষ্টি,

মরণ যেন যবনিকা ধারা, সীমাবদ্ধতার কৃষ্টি,

তাই উজাড় করো মনটা তোমার ঊর্ধ্ব করো দৃষ্টি,

মানুষের উপকারে ঝরাও তোমার ভালোবাসার বৃষ্টি।।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা সাকি বিল্লাহ্

মন্ত্রজালে

মন্ত্রজালে
সাকি বিল্লাহ্

শ্যামনগরের রাজপুত্র মাহাতাপ সিং
রাজকর্ম বাদ দিয়া বাউন্ডুলে কাটিত দিন ।
রাজ্য ও সিংহাসন নিয়া তাই রাজা প্রতাপ,
দুঃশ্চিন্তায় ব্যথিত সারাদিন বিলাপ ।

নদীর ধারে বসিয়া ক্ষণকালে মাহাতাপ,
মনোযোগে পশুপাখি মৎস্য হত্যায় মহাপাপ ।
এ কাজে তাহার বাধা হইল এক দরবেশ,
কহিল বাছা, অকারনে কেন ধ্বংসের রেশ?
রাজপুত্রকে কেহ প্রশ্নের ধৃস্টতায়,
সাহস তাহার বড়ই চমক বরদাস্ত করে প্রায় ।

তুমি মূর্খ দরবেশ ! জীবন সুখের পেয়ালা,
তুমি কিভাবে জানিবে কিসে সুখ এই বেলা !
মাহাতাপ তাহার ক্রোধখানি ছুড়ে ধনুকের বানে,
দরবেশ নিপাট বিশ্মিত ঠায়, দাড়ায়ে চাহি তারপানে ।
“ঠিক আছে তবে, তুমি হয়ে যাও এক মৎস্য রুহিত”,
দরবেশ অভিশাপ যাচে, “কর তাহলে এ প্রায়ঃশ্চিত” ।
“আজ থেকে তুমি এক মৎস্য রুহিত এ নদীর কুলায়,
কেহ যদি ভালবাসিয়া তুলে নেয় আপন আলয়,
তথা মৎস্য হইতে মনুষ্য হইবে আবার,
না পারিবে কোন রুহিত ভোজনে আর” ।

অভিশাপে রাজপুত্র নদীর জলে মৎস্য রুপে,
বিচক্ষণ অভাবে জীবন ধ্বংস মহাপাপে ।
দিন যায়, মাস যায়, কেহ না আসে তীরে,
মৎস্য হয়েই জীবন কাটে আহারে !

শুভক্ষণে রাজকন্যা মায়াবতী স্নানে আসে সখীসহ,
বাক জানা মৎস্য দেখে জাগে প্রেমের মোহ ।
জানে, সে এক রাজপুত্র, রইনু পড়ে হয়ে মৎস্য,
নিগাঢ় ভালোবাসা-ই পারে ফিরে যেতে রুপে মনুষ্য ।
প্রণয়ে মাছের জীবন ত্যাগে হয় মনুষ্য আবার,
মায়াবতী মাহাতাপ শুভপরিণয়ে জীবন কাটে এবার ।

কিন্তু সে কথা, মনে থাকে, মৎস্য ভোজনে,
ফিরিয়া পাইবে মৎস্যরুপ পূর্ণ জীবনে ।
মায়াবতী ভুলিলেও মাহাতাপ নাহি ভোলে,
তাই কোন ভোজনে মাছ তাহার পাতে নাহি তোলে ।

একদা এক মধ্যভোজনে মহা-মস্ত আয়োজন,
রাজকন্যা নিজ হাতে করিল রুহিত মাছের রন্ধন ।
ভুলিয়া সে রাজপুত্রকে অনুযোগে বলে বিশ্ময়,
সব রাখিয়া মাছখানা দেখ কেমন স্বাদময় !
মাহাতাপ বলে, “তুমি জানো মৎস্যকূলেরা জাতি ভাই,
আমার পরিনতি ভাইয়ের মাংস ভক্ষণে যাচাই ?” ।
হাসিয়া মায়াবতী, রুপ কথার গল্প না বিশাসে,
বলে, “তুমি মানুষ কিভাবে রুপবদলাও মৎস্য গ্রাসে” ।
এত কস্ট করিয়া রাঁধিলাম এই হল তার উপহাস,
কাঁদিয়া ভাসাইল অভিমানী রাজকন্যা করে উপ-বাস ।

রাজকন্যার মন করিতে খুশি রাজপুত্র মাহাতাপ,
পাতে একখানা রুহিত মাছ মনে বিশদ পরিতাপ ।
জাতি ভাইয়ের মাংস ভক্ষণে দ্বিধা সংকোচ মনে,
নিশ্বাস বন্ধ হইয়া আসে তাহার এক লোকমা ঘ্রানে ।
ছুটিয়া চলে উদ্ভ্রান্তের ন্যায় সেই নদীর তীরে,
পিছনে তাহার প্রিয়তমা আসে ডাকিয়া স্বমস্বরে ।

ভালোবাসার পরীক্ষায় তব পাশ করিলে,
বুকের জ্বালা নিবারনে প্রাণ বাঁচে তার নদীর জলে ।
নদীর বক্ষে রাজপুত্র হয় মৎস্য আবার,
এ জীবন মৎস্য হয়েই থাকবে পড়ে তাহার ।

সকাল থেকে সন্ধ্যা নাওয়া খাওয়া নিবারনে,
মায়াবতী বসে থাকে রুহিত মাছের প্রয়াণে ।
এ জগতে হায়, ভালোবাসার আড়ালে,
নারীদের ছলনা এক অভিলাষী মন্দ্রজালে ।।

০৭.০৬.২০১৭
৫:৩০ ঘটিকা সকাল, কেমনিট্জ, জার্মাানী ।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

কবিতা □ মানবিকতা আজ নির্বাসনে

হায়েনার ছোবলে বিবেক কাঁদে
আজ নিশ্চুপ নিরালায়,
পাশবিক নির্যাতনে উল্লাসিত হয়
মানুষরূপী কিছু অমানুষের দল।

অসহায় শিশুর কান্না, বাচাঁর আকুতি
কিছুই পৌঁছায় না নরপশুদের কানে
মানবিকতা আজ চলে গেছে নির্বাসনে
তাই কেউ আজ এগিয়ে আসে না
আশার প্রদীপ হয়ে।

নোটন,রাজন ঝরে যায় অকালে
নির্মম, নিষ্ঠুর অমানবিক বর্ববতায়।

□ 25 july 2015
● উৎসর্গ – রাজন,নোটন

Categories
কবিতা

কবিতা::::::: নীলাচল

অনেক উপরে আমি, বান্দরবনের
সুউচ্চ নীলাচল টিলায়
নিচে বহমান নদীর মতো
আকাঁবাকা হয়ে নেমে গেছে
সরু র্কাপেটের উচু-নিচু রাস্তা।

শহরের বুকে বড় বড় ইমারত
কিংবা খুঁড়ে ঘরগুলোকে মনে হচ্ছে
তরে তরে সাজানো ঠিক বাচ্চাদের খেলাঘর
সৃষ্টি সেরা মানুষগুলোকে উপর থেকে
দেখায় তখন পিঁপড়ার মতো।

যতদুর চোখ যায়, বিস্থীর্ণ প্রান্তর
জুড়ে সবুজের মিলন মেলা
বাতাশের শীতল ঝাপটা আর মেঘের
আলো-ছায়ার মুগ্ধতায় হৃদয়ের
বদ্ধ বাতায়ন খোলে যায়।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা দুঃসাহসিক সৃজনশীল প্রকাশনা

ফাঁসি

——-সাকি বিল্লাহ্

কি কারন কি জানি কি হল
মনের গহীনে অভিশম্পাত ঝরিল
দূর মেঘের গর্জনে
আত্মাহুতি দিল হৃদয় বিসর্জনে
কেন এ ভোগান্তি কেন বিরহ
বুকের আগুন মিটাল তাই আত্মাহুতি সহ
রাতের বেলায়, নিঝুম রাতের বেলায় তাই
কমলা করে তার জীবন উৎসর্গ কেন ?
কেহ জানে নাই ।

কি কারন কেন ফাঁসিরে আসন দিলো
কেহ জানে না তবে অভাগীর বিবেক মানিল
ফাঁসি হয়ে ঝুলে ছিলে কমলা
সহজ সরলা গ্রাম্য মেয়ে এক চঞ্চলা
রাতের নিভূতে যখন সব ঘুমে
জেগেছিলে বিদায় দিতে এই ধরনী সমে
হাতে নিয়েছিলে লম্বা দড়ি
গলে পড়বে বলে
মৃত্যুর দুয়ারে দাড়ায়ে মন কি
কাঁপিল দুর্বলে?

গলায় পড়বে বলে জানি কত অপেক্ষা
কেন এই অভিমান আসলে কিসের অভীক্ষা
ফাঁসির সিংহাসনে তাই কমলা
কমলা গ্রামের মেয়ে সহজ সরলা
ফাঁসি,ফাঁসি, চোখে তার ঘৃনার হাসি
কিসের সে ব্যথা, আর অপমানের রাশি
কিসের সে ক্ষোভ ? না জানি
কেন এ ফাঁসি ?
না মানি ।

হাতের দড়ি সাথে লয়ে তাই
হাটিছে কমলা নীরব রাতে সেই
স্কুলের পাশে বিশাল বটবৃক্ষের কাছে
কমলা হাতে দড়ি, থামিল নীচে
কাঁদিল কমলা, কাঁদিল ভুবন আর
কাঁদিল ঝিঁঝিঁ পোকারা
চোখের পানি শুন্য করে কাঁদিল সব মেঘেরা
হেরিল বাতাস বৃটবৃক্ষের পাতায় মৃত্যুর সমন
শুনশান নীরবতায় হল ছন্দপতন

লক্ষ্মী পেঁচা হুতোম বারণ করেছিল বুঝি
বাদুড়েরা ছিল কাল স্বাক্ষী কমলার ফাঁসি
ঝটপট গাছে উঠি পড়ি
শক্ত করে বেধেঁছে দড়ি
কমলা বুঝি বিদায় নিতে রাজি
কেন এই ফাঁসি, কেন জীবন বাজি
পাতার শব্দে যোগ হল নতুন শব্দ
ধস্তাধস্তি আর নিশ্বাসের শত অব্দ
কতকাল এভাবে কমলা জানে না
ঝুলে ছিল বটডালে
বিদায় নিল কমলা সেই রাতে
যেতে হবে না আর স্কুলে

মা ডাকিছে, বাবা ডাকিছে, চোখ নাহি মেলে
কমলা সবেরে অন্ধ করে দূরে গেল সরে চলে
কি জানি কেন ফাঁসি দিল সে জানতে
পারলাম পরে
রাস্তার ধারে বখাটেদের অতীব অত্যাচারে ।

স্কুলে যেতে হতো তাকে উপদ্রব শুনে শুনে
রাস্তার ধারে মানুষ গুলো মজা দেখে সর্বক্ষণে
বখাটেরা তাই সাহস যোগাল দিনে দিনে
কমলা কে করিল বধ্ আদিমতা বিধানে
কেহ না জানিল কি করিল ক্ষতি সাধন
কমলা সহজ সরলা দান করিল নিজ জীবন
কি কারন ফাঁসি, সবে জানিল ক্ষণে
বখাটেরা কি পাবে শাস্তি সমনে
ধূর্ত সমাজ ধ্বংস করে সব সাদামন
শাসকের আসনে বসায়ে তোরে করেছি জাতিরে অপমান

কমলার ঋণ শোধরানো গেছে
বখাটেদের শাস্তি হয়েছে
কিন্তু হাজার কমলা যারা এই সমাজে আছে
তাদের সবার ঋণ কি শুধরানো গেছে
যদি তা না হয়
তবে কিসের এত ভয়
হাতটি তোমার কলমের জোড়
তুলে নাও তোল সমুদ্রসম ঝড় ।।