Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা যতীন্দ্রমোহন বাগচী সৃজনশীল প্রকাশনা

কাজলা দিদি

কাজলা দিদি

যতীন্দ্রমোহন বাগচী

বাঁশ বাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই,
মাগো আমার শোলক-বলা কাজলা দিদি কই?
পুকুর ধারে লেবুর তলে থোকায় থোকায় জোনাক জ্বলে
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না একলা জেগে রই-
মাগো আমার কোলের কাছে কাজলা দিদি কই?
সেদিন হতে কেন মা আর দিদিরে না ডাকো;-
দিদির কথায় আঁচল দিয়ে মুখটি কেন ঢাকো?
খাবার খেতে আসি যখন, দিদি বলে ডাকি তখন,
ওঘর থেকে কেন মা আর দিদি আসে নাকো?
আমি ডাকি তুমি কেন চুপটি করে থাকো?
বল মা দিদি কোথায় গেছে, আসবে আবার কবে?
কাল যে আমার নতুন ঘরে পুতুল-বিয়ে হবে!
দিদির মত ফাঁকি দিয়ে, আমিও যদি লুকাই গিয়ে
তুমি তখন একলা ঘরে কেমন করে রবে,
আমিও নাই-দিদিও নাই- কেমন মজা হবে।
ভুঁই চাপাতে ভরে গেছে শিউলি গাছের তল,
মাড়াস্ নে মা পুকুর থেকে আনবি যখন জল।
ডালিম গাছের ফাঁকে ফাঁকে বুলবুলিটি লুকিয়ে থাকে,
উড়িয়ে তুমি দিও না মা, ছিঁড়তে গিয়ে ফল,-
দিদি এসে শুনবে যখন, বলবি কি মা বল!
বাঁশ বাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই-
এমন সময় মাগো আমার কাজলা দিদি কই?
লেবুর ধারে পুকুর পাড়ে ঝিঁঝিঁ ডাকে ঝোপে ঝাড়ে’
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, তাইতে জেগে রই
রাত্রি হলো মাগো আমার কাজলা দিদি কই?

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা সুকান্ত ভট্টাচার্য সৃজনশীল প্রকাশনা

লেনিন

-সুকান্ত ভট্টাচার্য

লেনিন ভেঙেছে রুশে জনস্রোতে অন্যায়ের বাঁধ,
অন্যায়ের মুখোমুখি লেনিন প্রথম প্রতিবাদ।
আজকেও রুশিয়ার গ্রামে ও নগরে
হাজার লেনিন যুদ্ধ করে,
মুক্তির সীমান্ত ঘিরে বিস্তীর্ণ প্রান্তরে।
বিদ্যুৎ-ইশারা চোখে, আজকেও অযুত লেনিন
ক্রমশ সংক্ষিপ্ত করে বিশ্বব্যাপী প্রতীক্ষিত দিন,
বিপর্যস্ত ধনতন্ত্র, কণ্ঠরুদ্ধ, বুকে আর্তনাদ;
– আসে শত্রুজয়ের সংবাদ।

সযত্ন মুখোশধরী ধনিকেরও বন্ধ আস্ফালন,
কাঁপে হৃৎযন্ত্র তার, চোখে মুখে চিহ্নিত মরণ।
বিপ্লব হয়েছে শুরু, পদানত জনতার ব্যগ্র গাত্রোত্থানে,
দেশে দেশে বিস্ফোরণ অতর্কিতে অগ্ন্যুৎপাত হানে।
দিকে দিকে কোণে কোণে লেনিনের পদধ্বনি
আজো যায় শোনা,
দলিত হাজার কণ্ঠে বিপ্লবের আজো সম্বর্ধনা।
পৃথিবীর প্রতি ঘরে ঘরে,
লেনিন সমৃদ্ধ হয় সম্ভাবিত উর্বর জঠরে।
আশ্চর্য উদ্দাম বেগে বিপ্লবের প্রত্যেক আকাশে
লেনিনের সূর্যদীপ্তি রক্তের তরঙ্গে ভেসে আসে;
ইতালী, জার্মান, জাপান, ইংলন্ড, আমেরিকা, চীন,
যেখানে মুক্তির যুদ্ধ সেখানেই কমরেড লেনিন।
অন্ধকার ভারতবর্ষ: বুভুক্ষায় পথে মৃতদেহ
অনৈক্যের চোরাবালি; পরস্পর অযথা সন্দেহ;
দরজায় চিহ্নিত নিত্য শত্রুর উদ্ধত পদাঘাত,
অদৃষ্ট র্ভৎসনা-ক্লান্ত কাটে দিন, বিমর্ষ রাত
বিদেশী শৃঙ্খলে পিষ্ট, শ্বাস তার ক্রমাগত ক্ষীণ-
এখানেও আয়োজন পূর্ণ করে নিঃশব্দে লেনিন।
লেনিন ভেঙেছে বিশ্বে জনস্রোতে অন্যায়ের বাঁধ,
অন্যায়ের মুখোমুখি লেনিন জানায় প্রতিবাদ।
মৃত্যুর সমুদ্র শেষ; পালে লাগে উদ্দাম বাতাস
মুক্তির শ্যামল তীর চোখে পড়ে, আন্দোলিত ঘাস।
লেনিন ভুমিষ্ঠ রক্তে, ক্লীবতার কাছে নেই ঋণ,
বিপ্লব স্পন্দিত বুকে, মনে হয় আমিই লেনিন।।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা সৃজনশীল প্রকাশনা

আবার আসিব ফিরে

আবার আসিব ফিরে

জীবনানন্দ দাশ

 

আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে – এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয় – হয়তো বা শাঁখচিল শালিকের বেশে,
হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিঁকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব কাঁঠাল ছায়ায়।
হয়তো বা হাঁস হবো – কিশোরীর – ঘুঙুর রহিবে লাল পায়
সারাদিন কেটে যাবে কলমীর গন্ধভরা জলে ভেসে ভেসে।
আবার আসিব আমি বাংলার নদী মাঠ ক্ষেত ভালোবেসে
জলঙ্গীর ঢেউ এ ভেজা বাংলারি সবুজ করুণ ডাঙ্গায়।

হয়তো দেখিবে চেয়ে সুদর্শন উড়িতেছে সন্ধ্যার বাতাসে।
হয়তো শুনিবে এক লক্ষীপেঁচা ডাকিতেছে শিমুলের ডালে।
হয়তো খৈয়ের ধান সরাতেছে শিশু এক উঠানের ঘাসে।
রূপসার ঘোলা জলে হয়তো কিশোর এক সাদা ছেঁড়া পালে
ডিঙ্গা বায় – রাঙ্গা মেঘে সাঁতরায়ে অন্ধকারে আসিতেছে নীড়ে,
দেখিবে ধবল বক; আমারে পাবে তুমি ইহাদের ভীড়ে।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা সৃজনশীল প্রকাশনা

আট বছর আগের এক দিন

আট বছর আগের এক দিন

জীবনানন্দ দাশ
 
শোনা গেল লাশকাটা ঘরে
নিয়ে গেছে তারে;
কাল রাতে – ফাল্গুনের রাতের আধাঁরে

যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ
মরিবার হল তার সাধ। বধূ শুয়ে ছিল পাশে – শিশুটিও ছিল;
প্রেম ছিল,আশা ছিল-জোৎসনায়,-তবে সে দেখিল
কোন ভূত? ঘুম কেন ভেঙে গেলো তার?
অথবা হয়নি ঘুম বহুকাল – লাশকাটা ঘরে শুয়ে ঘুমায় এবার।
এই ঘুম চেয়েছিলো বুঝি!

রক্তফেনা-মাখা মুখে মড়কের ইদুঁরের মত ঘাড় গুজি
আধার ঘুজির বুকে ঘুমায় এবার;
কোনোদিন জাগিবেনা আর।

কোনোদিন জাগিবেনা আর।
জাগিবার গাঢ় বেদনার
অবিরাম – অবিরাম ভার
সহিবেনা আর –
এই কথা বলেছিলো তারে
চাঁদডুবে চ’লে গেলে – অদ্ভুদ আঁধারে
যেন তার জানালার ধারে
উটের গ্রীবার মতো কোন এক নিস্তব্ধতা এসে।

তবুও তো পেঁচা জাগে;
গলিত স্থবির ব্যাঙ আরো দুই মুহূর্তের ভিক্ষা মাগে।
আরেকটি প্রভাতের ইশারায় – অনুমেয় উষ্ণ অনুরাগে
টের পাই যুথচারী আঁধারের গাঢ় নিরুদ্দেশে
চারদিকে মশারির ক্ষমাহীন বিরুদ্ধতা
মশা তার অন্ধকার সংগ্রামে জেগে থেকে জীবনের স্রোত ভালোবাসে

রক্ত ক্লেদ বসা থেকে রোদ্রে ফের উড়ে যায় মাছি;
সোনালি রোদের ঢেউয়ে উড়ন্ত কীটের খেলা কতো দেখিয়াছি।
ঘনিষ্ঠ আকাশ যেন – যেন কোন বির্কীন জীবন
অধিকার ক’রে আছে ইহাদের মন;
চাঁদ ডুবে গেলে পর প্রধান আঁধারে তুমি অশ্বথের কাছে
একগাছা দড়ি হাতে গিয়েছিলে তবু একা – একা,
যে জীবন ফড়িঙের,দোয়েলের-মানুষের সাথে তার হয়নাকো দেখা
এই জেনে।

অশ্বথের শাখা
করেনি কি প্রতিবাদ ? জোনাকির ভিড় এসে
সোনালী ফুলের স্নিগ্ধ ঝাঁকে
করেনি কি মাখামাখি?
থুরথুরে অন্ধ পেঁচা এসে
বলেনি কি; ‘বুড়ি চাঁদ গেছে বুঝি বেনোজলে ভেসে
চমৎকার !
ধরা যাক দু-একটা ইঁদুর এবার!’
জানায়নি পেঁচা এসে এ-তুমুল গাড় সমাচার ?

জীবনের এই স্বাদ-সুপক্ক যবের ঘ্রান হেমন্তের বিকেলের-
তোমার অসহ্য বোধ হ’লো;
মর্গে কি হৃদয় জুড়ালো
মর্গে – গুমোটে-
থ্যাঁতা ইঁদুরের মতো রক্তমাখা ঠোঁটে।
শোনো
তবু এ মৃতের গল্প; কোনো
নারীর প্রণয়ে ব্যর্থ হয় নাই;
বিবাহিত জীবনের সাধ
কোথাও রাখেনি কোন খাদ,
সময়ের উদ্বর্তনে উঠে এসে বধু
মধু-আর মননের মধু
দিয়েছে জানিতে;
হাড়হাবাতের গ্লানি বেদনার শীতে
এ-জীবন কোনদিন কেঁপে ওঠে নাই;
তাই
লাশকাটা ঘরে
চিৎ হ’য়ে শুয়ে আছে টেবিলের পরে।

জানি – তবু জানি
নারীর হৃদয়-প্রেম-শিশু-গৃহ-নয় সবখানি;
অর্থ নয়, কীর্তি নয়, সচ্ছলতা নয় –
আর এক বিপন্ন বিষ্ময়
আমাদের অন্তর্গত রক্তের ভিতরে
খেলা করে;
আমাদের ক্লান্ত করে,
ক্লান্ত – ক্লান্ত করে;
লাশকাটা ঘরে
সেই ক্লান্তি নাই;
তাই
লাশকাটা ঘরে
চিৎ হ’য়ে শুয়ে আছে টেবিলের পরে।

তবু রোজ রাতে আমি চেয়ে দেখি,আহা,
থুরথুরে অন্ধ পেঁচা অশ্বত্থের ডালে বসে এসে,
চোখ পাল্টায়ে কয়: ‘বুড়ি চাঁদ গেছে বুঝি বেনোজলে ভেসে ?’
চমৎকার !
ধরা যাক দু-একটা ইঁদুর এবার-

হে প্রগাঢ় পিতামহী,আজো চমৎকার ?
আমিও তোমার মতো বুড়ো হবো-বুড়ি চাঁদটারে আমি
ক’রে দিবো কালীদহে বেনোজলে পার;
আমরা দুজনে মিলে শূন্য ক’রে চ’লে যাবো জীবনের প্রচুর ভাঁড়ার।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা সৃজনশীল প্রকাশনা

তোমার কথা প্রায়ই মনে পড়ে, তুমি কেমন আছো?

তোমার কথা প্রায়ই মনে পড়ে, তুমি কেমন আছো?
———————————— ডঃ রমিত আজাদ

আমার মন যে কতটা খারাপ তুমি বুঝবে না,
রৌদ্র কেড়ে নেয়া কালো মেঘের থমথমে নীরবতা দেখেছ?
অথবা তুহীন শীতে জমে বরফ হয়ে যাওয়া কোন নদী?
তোমার ঐ পেলব হাতটি দাও,
স্পর্শ করতো আমার হৃদয়,
টের পাও কিছু?
তবে আমার বুকের ক্ষত গলে হৃদয়ের ভিতরে ঢুকে যাও,
এবার কি দেখতে পাও,
সব বেদনা জমাট বেধে কেমন পাথর হয়ে আছে?

আচমকা এলে, আচমকা গেলে,
এ যেন সুরের বীণা বেজেই থেমে গেল,
এ কেমন প্রেম বলতো?
তার চাইতে না এলেই পারতে।

এটি একটি অপূর্ণ কবিতা, একটি অসম্পূর্ণ গান।
না কিছুই নয়, স্রেফ তোমার জন্য
নির্মল সাদা কাগজে কলমের ধাতব নিবের নিষ্ঠুর আঁচড়

অনেকটা দেরী করেই পরিচয় হয়েছিলো আমাদের,
হয়তো তোমার জন্ম হয়েছে অনেক পরে,
অথবা আমি পৃথিবীতে এসেছি অনেক আগে,
এমনটা না হয়ে যদি সব কিছু সময়মতো হতো,
তবে কি ভিন্ন জীবন হতো আমাদের?

বাতাসে দোল খাওয়া মাধবীলতা,
কার্নিশ ছেয়ে হেসে ওঠা বাগানবিলাস,
বাগান ভরা সুহাসিনী ডালিয়া ফুলের উজ্জ্বল বর্ণচ্ছটা,
সারাটা বিকেল জুড়ে তোমার প্রতিক্ষা,
তোমার কি মনে পড়ে?

আমার কিন্তু বেশ মনে পড়ে,
তোমার চুলে রৌদ্রের খেলা,
তোমার ওড়নার ঝালর, তোমার শাড়ীর আঁচল
তোমার কপোলের লাল আভা
তোমার ভীরু চোখে উপচে পড়া হাসি,
জাপানী কিমানোর মত পরিপাটি তুমি,
অনেক কৌতুহলী চোখ এড়িয়ে,
অথবা সবগুলো চোখের সামনেই,
আমাদের নিষিদ্ধ অভিসার,
অস্হির এই পৃথিবীতে একমুঠো সুখ।

তুমি কি জানো, আমি এখনো তোমাকে খুঁজি?
ঢাকার পথে পথে খুঁজি,
ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে খুঁজি,
মোবাইলের স্ক্রীনে খুঁজি,
ফেইসবুকের পাতায় পাতায় খুঁজি,
কেন?
দু’টি প্রশ্ন করব,
তোমার কথা প্রায়ই মনে পড়ে,
তুমি কেমন আছো?
আমার কথা ভেবে,
তোমার মনও কি উন্মনা হয়না?

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা

বিষাদ

বিষাদ
————- রমিত আজাদ

সব মেঘ শরতের রূপ সুধা দেখেনা,
সব নদী মিলনের মোহনায় মেশেনা।
সব আলো জোৎস্নার শোভা হয়ে ভরেনা,
সব জল বরষার বারি হয়ে ঝরে না।

সব দিন বর্ণিল নানা রঙে রাঙেনা,
সব ঢেউ ফুঁসে উঠে সৈকতে ভাঙেনা।
সব ছবি নয়নের শোভা স্মৃতি রয়না,
সব রোদ বিকেলের সোনা রোদ হয়না।

সব মন আনমনে হিয়া হয়ে ছোটেনা,
সব দাগ আঁক হয়ে মন জুড়ে কাটেনা।
সব কুঁড়ি কলি থেকে ফুল হয়ে ফোটেনা,
সব প্রেমে মিলনের চন্দ্রিকা ওঠেনা।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা দুঃসাহসিক রহস্য ও অপরাধ সৃজনশীল প্রকাশনা

প্রেমে দ্রোহে গর্জে ওঠা সৈনিক আজ নিথর নীরব

প্রেমে দ্রোহে গর্জে ওঠা সৈনিক আজ নিথর নীরব
——————————- ডঃ রমিত আজাদ

প্রেমে দ্রোহে গর্জে ওঠা সৈনিক আজ নিথর নীরব,
ঘুমাও সৈনিক, ঘুমাও নীরবে, ঘুমাও,
আমি জেগে রব অবিরত নির্ঘুম,
আর অভিশাপ দেব ঐ সব পশুদের,
যাদের গভীর ষড়যন্ত্র
অকালে ঝরিয়েছে তোমাদের প্রাণ
মাথার খুলিতে মদ পান করেছে, যেসব নষ্ট মাতাল পশু,
হন্তারক কো্ন্‌ নতুন মীর্জাফর।

তোমার নির্ভীক নিশঙ্ক কন্ঠ আজ রুদ্ধ কেন সৈনিক?
তোমাদের জীবন্ত চোখে অনেক স্বপ্ন ছিলো,
তোমাদের অন্তিম বাসনাগুলো এক এক করে সাজালে,
বসন্তের ফুল হয়ে ফুটবে।
এমন বসন্তের আগুন রাঙা রঙ, মানুষের রক্তে রঙিন হলো!
আর মানুষের আলখেল্লার পিছনে দাঁড়িয়ে উল্লাস করেছে
হিংস্র পশুর রূপ, ভয়াবহ এক ষড়যন্ত্রের কোপানলে,
একি ষড়যন্ত্র না অঘোষিত কোন যুদ্ধ?

যে রমনী অলস অবসরে তোমার বাহুডোরে বন্দী হয়ে সুখ খুঁজে পেত,
সে আজ কলঙ্কের টিপ কপালে ধারন করে শিউরে উঠেছে
প্রিয় রমণীর তপ্তশ্বাসের উষ্ণতা আর নেই,
তোমার জন্য কাঁদে মেঘবতী নারী,
বৃষ্টি ঝরে ডাগর কালো চোখে!

হাহাকার করে উঠেছে,
ফুটপাতবাসী শীতার্ত কিশোর,
বয়সের ভারে ন্যুজ হয়ে যাওয়া বৃদ্ধ রহীম,
বুড়িগঙ্গার মাঝি ইয়াকুব মোল্লা,
মাদ্রাসার পরহেজগার শিক্ষক আবদুল করিম
শ্রমে ও ঘামে ঠেলে নেয়া জীবন,
বিপন্ন, বিদ্ধস্ত, জননী ও জন্মভূমি,
পৃথিবীর সব অস্ত্রাগার নিশ্চুপ রইলো,
সৈনিকের দক্ষ হাতে, কেবলই ছিলো শূণ্যতা,
হে কাপুরুষ, তুই নিরস্ত্রের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরলি!

এক অন্তর্ভেদী চিৎকারে
আকাশ বাতাস প্রকম্পিত করে বলতে চাই,
তুমি কি আর জাগবে না সৈনিক?
দেখনা চেষ্টা করে,
যদি লিখতে পারো আরেকটি নির্মম কবিতা,
শিরায় শিরায় ধমনিতে ধমনিতে,
প্রবাহিত লাল রক্তে আর একবার জেগে উঠুক দ্রোহ!

আমার কন্ঠস্বর রুদ্ধ নয়,
কেবল চেপে ধরে আছে কে যেন!
দেখবি একদিন প্রবল শক্তিতে
সেই হাত ছাড়িয়ে নেব,
যদি শক্তি থাকে কারো
সেদিন আমাকে ফেরাস্‌।

(রক্তাক্ত বিডিআর বিদ্রোহের (পিলখানা হত্যাকাণ্ড) চতুর্থ বার্ষিকী আজ ২৫ ফেব্রুয়ারী, সেই নির্মম হত্যাকান্ডে নিহত সকল শহীদদের আমার এই কবিতাটি উৎসর্গ করলাম)

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা বিনোদন ভালবাসা/প্রণয়লীলা সৃজনশীল প্রকাশনা

আমি একবার দুঃখ ভুলে বসন্তের ফুল পেতে চাই

আমি একবার দুঃখ ভুলে বসন্তের ফুল পেতে চাই
——————- ডঃ রমিত আজাদ

কাল ছিল শীতের শেষ রাত,
আলোহারা রজনীর নিঝুম নিস্তদ্ধতা,
আজ বসন্তের প্রথম দিন,
ফুলের সৌরভের মাতামাতি, কোকিলের গান।
সৌভাগ্যক্রমে এটিই তোমার জন্মদিন।

কেমন আছ তুমি?
খুব জানতে ইচ্ছা করে আমার।
তুমি কি সুখে আছ?
নাকি আমার মতোই কষ্টে কাটে দিন?
নিঃসঙ্গতায় ভোগো?
না, বোধহয়, তোমার তো স্বামী রয়েছে।
অবশ্য আমারও রয়েছে স্ত্রী,
তারপরেও কিন্তু আমি নিঃসঙ্গতায় ভুগী,
কি অদ্ভুত তাইনা?
সঙ্গ আছে তবু নিঃসঙ্গ
আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে, তুমিও কি
সঙ্গ থেকেও নিঃসঙ্গ?

আমার অংশিদার যেদিন আমাকে ঠকিয়ে ব্যবসা নিয়ে গেল,
অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম,
আমার বাবার উপহার একমাত্র জমিটি যেদিন দখল করে নিল,
অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম,
টাকার জন্য যেদিন আপন ভাই দুর্ব্যবহার করলো,
অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম,
কিন্তু তোমাকে যেদিন হারালাম,
সেদিনের মত কষ্ট আর কোনদিনও পাইনি,
ঐসব টাকা-পয়সা, জমি-জমার দুঃখ কবেই ভুলে গিয়েছি।
কিন্ত তোমার সাথে বিচ্ছেদের কষ্ট,
এখনও ক্ষত হয়ে জ্বলছে,
ভালোবাসা যে এত দুঃখ, কষ্ট, জ্বালা আর যন্ত্রণা
দিতে পারে তা কে জানত!

তোমাকে ভালোবেসে,
পৃথিবীর সব কিছুই আমার কাছে
মেঘের মত রঙিন মনে হতো।
মনে হতো পৃথিবীতে কষ্ট বলে কিছু নেই,
সিদ্ধার্থ মিছেই বলেছেন, ‘জগৎ দুঃখময়!’
জগৎ সুন্দর, সুন্দর, অদ্ভুত সুন্দর,
আমার পাশের রমণীটির মতই সুন্দর!
আর এখন, আমার চারপাশে শুধুই যন্ত্রণা,
সিদ্ধার্থ যথার্থই বলেছেন, ‘জীবন মানেই দুঃখ!’

গতরাত ছিল শীতের শেষ রাত,
আমার অতৃপ্ত মনের প্রতীক,
আজ বসন্তের প্রথম দিন,
হাজার হাজার ফুলে ফুটে আছে তোমার ভালোবাসা ।
তোমার মধুর জন্মদিনে,
আমি একবার দুঃখ ভুলে বসন্তের ফুল পেতে চাই।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা বিনোদন ভালবাসা/প্রণয়লীলা সৃজনশীল প্রকাশনা

একরাশ ভালোবাসার কবিতা

অনিয়মের ভালো লাগা
ডঃ রমিত আজাদ

তোমাকে আমার ভালো লেগেছে,
কিন্তু কি করে বলি বলতো?
আর তুমিই বা কিভাবে নেবে?
আমার কি আর সে বয়স এখন আছে?
যৌবন পেরিয়ে চলে এসেছি অনেকটা দূর,
আর তোমার তো মাত্র শুরু,
তদুপরি আমার পাশে রয়েছে ভিন্ন এক রমণী।

যদি আমি সাহস করে বলেই ফেলি,
যদি তুমি ফুঁসে ওঠো,
যদি এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে শহরময়,
আমি কি ধিক্কৃত হব না?
তোমাকে কেমন করে বোঝাই,
আমার বুক জুড়ে চলছে,
উত্তপ্ত আগ্নেয় লাভার তীব্র তোলপাড়।

তোমার ঘুরে দাঁড়ানোর ছন্দময় স্নিগ্ধতা,
আমার অতৃপ্ত আত্মার মরুময়তা,
বিন্দু বিন্দু করে জমা হওয়া নিস্পেষণ ,
আমার আবেগের আল্পনায় স্নিগ্ধ অনুরণন,
তোমার মমতা খেলে আমার কবিতা হয়ে,
এই গুমোট নগরীর জমাট আঁধার কেটে দিয়ে,

ঐ যে শুনেছিলাম ভালোবাসার কোন বয়স নেই,
তখন বুঝিনি, আর এখন বুঝতে পারছি বেশ,
আমার না বলা কথা ভবঘুরের মত ঘোরে,
নীরব বিবেকের অলিগলিতে,
নিয়ম মেনে চলাই যেখানে রীতি,
সেখানে অনিয়ম চলেনা,
আমি তো নিতে পারব না, জন্ম নতুন এক।
তাই আর হয়না বলা,
কেবল স্বগতোক্তির মত নিজের কথা নিজেকেই বলি,
সেকথা তোমাকে বলা হবে না হয়ত কোনদিনও,
কিণ্তু তোমাকে আমার সত্যিই ভালো লেগেছে।

আজ তাকে শাড়ীতে দেখেছি
—————————ডঃ রমিত আজাদ

মেয়েটিকে প্রায়ই দেখি,
অসম্ভব সুন্দর, নিস্পাপ একটি মুখ,
বৃষ্টির পরে সবুজ সতেজ ঘাস যেমন,
কখনো তুলনা করি বন ছেয়ে যাওয়া পিংক কাসিয়ার সাথে,
ঐ সৌন্দর্য থেকে চোখ সরানো যায়না।
তার অনুপস্থিতি আমার মাঝে শূণ্যতার সৃষ্টি করে।
আবার কখনো কখনো তাকে দেখি,
অনেক মানুষের ভীড়ে হঠাৎ হঠাৎ দেখা দেয়,
অনেকটা দক্ষিণা হাওয়ার দিনে,
গাছের পাতা আর সুর্যের আলোর লুকোচুরির মত
আর আমার চোখ ফিরে ফিরে আসে নতুন মুগ্ধতা নিয়ে।

ব্যাতিক্রম কেবল তার পোশাক,
আধুনিক যুগে সব মেয়ে আর অস্টপ্রহর বাঙালী পোশাক পড়েনা,
সালোয়ার-কামিসের পাশাপাশি
প্যান্ট-শার্ট, স্কার্ট-টপস চলছে বেশ,
একসময় এগুলো ছিল নিতান্তই অপ্রচলিত,
ইন্টারনেট আর আকাশ সংস্কৃতির যুগে,
এখন এটাই হয়ত রীতি।

বাঙালী নারীর আজন্ম লালিত পরিচ্ছদ
শাড়ীটা এখন একেবারেই আনুষ্ঠানিক হয়ে গিয়েছে,
খুব ইচ্ছে হতো চপলমতি ইনোসেন্ট ঐ মেয়েটিকে
একবার শুধু শাড়ীতে দেখতে।

অবশেষে দেখলাম,
অপ্রত্যাশিত একটি জায়গায়, হঠাৎ করেই সে,
ফিরোজা রঙের চমৎকার কারুকাজ করা শাড়ী পড়া,
আমি থমকে গেলাম,
অপ্সরী দেখিনি সত্যি,
কিন্তু ঠিক ঐ মুহুর্তে মনে হলো,
সেই তো অপ্সরী ।

চপলমতি হেটে গেল বাতাসে ঢেউ তুলে,
যেন পাহাড়ী ঝর্নার গায়ে ঝরে ঝরে পরছে সোনালী ফুল,
তখনো নামেনি সন্ধ্যা এই ব্যাস্ত নগরীতে,
বসন্ত এলো এলো বলে ঐ আকাশটাও পুরোপুরি নীল।
শাড়ী? হ্যাঁ শাড়ীই তাকে এতটা সুন্দর করেছে,
শাড়ীই তাকে দিয়েছে রমণীর রূপ,
আচ্ছা এই সুন্দর বসনটি কি চিরস্থায়ী হতে পারেনা?
চিরস্থায়ী সৌন্দর্য হয়ে তুলুক ঢেউ দক্ষিণা হাওয়ায়,
নন্দনের প্রসুন হয়ে বসন্ত বাগানে ফুটুক কামিনী,
তোমাকে আমি বারবার শাড়ীতে দেখতে চাই রমণী।

নীল সিকোরী

মূল: মারিনা রাতনের
ভাবানুবাদ: ড: রমিত আজাদ

স্মৃতির রং – নীল সিকোরী,
অপার্থিব নিসর্গের সৌন্দর্যে প্রস্ফুটিত।
ত্সিকোরীর নীল রঙে ভরা স্মৃতিবিধুর দিনগুলোতে,
প্রিয়তম আমার, তুমি কি অস্টপ্রহর কেবল আমাকেই ভাবছ?

আর ফুলগুলো পরম আকুলতায়
অনুরাগ ভরা উদ্ভাসিত হৃদয়ে
জড়িয়ে ধরেছে পেটিওলিট বিথীর
প্রলোভিত ভাগ্যের কান্ড।

এখনো উঠেনি চাঁদ নীলান্ত আকাশে,
স্বচ্ছ প্রস্ফুটিত প্রভাতের উষ্ণতা কেবল ছুঁয়েছে
সিভেরস্কি দোন্ত্স হ্রদের গভীর নির্বাক জল।

এই অধর ছুঁয়েছে স্মৃতির নীল রং,
বেদনার রং গায়ে মেখে নিয়ে বলি,
উল্লসিত নীল ত্সিকোরী ফুটে ‘যদি’,
বিস্ময়বিহ্বল আলো ‘আসবে কি’?

(নীল ত্সিকোরী – গ্রীস্মের উজ্জ্বল দিনগুলোতে ইউক্রেনের প্রকৃতিতে ফুটে থাকা অদ্ভুত সুন্দর ফুল।)

আমি একবার দুঃখ ভুলে বসন্তের ফুল পেতে চাই
——————- ডঃ রমিত আজাদ

কাল ছিল শীতের শেষ রাত,
আলোহারা রজনীর নিঝুম নিস্তদ্ধতা,
আজ বসন্তের প্রথম দিন,
ফুলের সৌরভের মাতামাতি, কোকিলের গান।
সৌভাগ্যক্রমে এটিই তোমার জন্মদিন।

কেমন আছ তুমি?
খুব জানতে ইচ্ছা করে আমার।
তুমি কি সুখে আছ?
নাকি আমার মতোই কষ্টে কাটে দিন?
নিঃসঙ্গতায় ভোগো?
না, বোধহয়, তোমার তো স্বামী রয়েছে।
অবশ্য আমারও রয়েছে স্ত্রী,
তারপরেও কিন্তু আমি নিঃসঙ্গতায় ভুগী,
কি অদ্ভুত তাইনা?
সঙ্গ আছে তবু নিঃসঙ্গ
আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে, তুমিও কি
সঙ্গ থেকেও নিঃসঙ্গ?

আমার অংশিদার যেদিন আমাকে ঠকিয়ে ব্যবসা নিয়ে গেল,
অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম,
আমার বাবার উপহার একমাত্র জমিটি যেদিন দখল করে নিল,
অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম,
টাকার জন্য যেদিন আপন ভাই দুর্ব্যবহার করলো,
অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম,
কিন্তু তোমাকে যেদিন হারালাম,
সেদিনের মত কষ্ট আর কোনদিনও পাইনি,
ঐসব টাকা-পয়সা, জমি-জমার দুঃখ কবেই ভুলে গিয়েছি।
কিন্ত তোমার সাথে বিচ্ছেদের কষ্ট,
এখনও ক্ষত হয়ে জ্বলছে,
ভালোবাসা যে এত দুঃখ, কষ্ট, জ্বালা আর যন্ত্রণা
দিতে পারে তা কে জানত!

তোমাকে ভালোবেসে,
পৃথিবীর সব কিছুই আমার কাছে
মেঘের মত রঙিন মনে হতো।
মনে হতো পৃথিবীতে কষ্ট বলে কিছু নেই,
সিদ্ধার্থ মিছেই বলেছেন, ‘জগৎ দুঃখময়!’
জগৎ সুন্দর, সুন্দর, অদ্ভুত সুন্দর,
আমার পাশের রমণীটির মতই সুন্দর!
আর এখন, আমার চারপাশে শুধুই যন্ত্রণা,
সিদ্ধার্থ যথার্থই বলেছেন, ‘জীবন মানেই দুঃখ!’

গতরাত ছিল শীতের শেষ রাত,
আমার অতৃপ্ত মনের প্রতীক,
আজ বসন্তের প্রথম দিন,
হাজার হাজার ফুলে ফুটে আছে তোমার ভালোবাসা ।
তোমার মধুর জন্মদিনে,
আমি একবার দুঃখ ভুলে বসন্তের ফুল পেতে চাই।


তোমার কথা প্রায়ই মনে পড়ে, তুমি কেমন আছো?

———————————— ডঃ রমিত আজাদ

আমার মন যে কতটা খারাপ তুমি বুঝবে না,
রৌদ্র কেড়ে নেয়া কালো মেঘের থমথমে নীরবতা দেখেছ?
অথবা তুহীন শীতে জমে বরফ হয়ে যাওয়া কোন নদী?
তোমার ঐ পেলব হাতটি দাও,
স্পর্শ করতো আমার হৃদয়,
টের পাও কিছু?
তবে আমার বুকের ক্ষত গলে হৃদয়ের ভিতরে ঢুকে যাও,
এবার কি দেখতে পাও,
সব বেদনা জমাট বেধে কেমন পাথর হয়ে আছে?

আচমকা এলে, আচমকা গেলে,
এ যেন সুরের বীণা বেজেই থেমে গেল,
এ কেমন প্রেম বলতো?
তার চাইতে না এলেই পারতে।

এটি একটি অপূর্ণ কবিতা, একটি অসম্পূর্ণ গান।
না কিছুই নয়, স্রেফ তোমার জন্য
নির্মল সাদা কাগজে কলমের ধাতব নিবের নিষ্ঠুর আঁচড়

অনেকটা দেরী করেই পরিচয় হয়েছিলো আমাদের,
হয়তো তোমার জন্ম হয়েছে অনেক পরে,
অথবা আমি পৃথিবীতে এসেছি অনেক আগে,
এমনটা না হয়ে যদি সব কিছু সময়মতো হতো,
তবে কি ভিন্ন জীবন হতো আমাদের?

বাতাসে দোল খাওয়া মাধবীলতা,
কার্নিশ ছেয়ে হেসে ওঠা বাগানবিলাস,
বাগান ভরা সুহাসিনী ডালিয়া ফুলের উজ্জ্বল বর্ণচ্ছটা,
সারাটা বিকেল জুড়ে তোমার প্রতিক্ষা,
তোমার কি মনে পড়ে?

আমার কিন্তু বেশ মনে পড়ে,
তোমার চুলে রৌদ্রের খেলা,
তোমার ওড়নার ঝালর, তোমার শাড়ীর আঁচল
তোমার কপোলের লাল আভা
তোমার ভীরু চোখে উপচে পড়া হাসি,
জাপানী কিমানোর মত পরিপাটি তুমি,
অনেক কৌতুহলী চোখ এড়িয়ে,
অথবা সবগুলো চোখের সামনেই,
আমাদের নিষিদ্ধ অভিসার,
অস্হির এই পৃথিবীতে একমুঠো সুখ।

তুমি কি জানো, আমি এখনো তোমাকে খুঁজি?
ঢাকার পথে পথে খুঁজি,
ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে খুঁজি,
মোবাইলের স্ক্রীনে খুঁজি,
ফেইসবুকের পাতায় পাতায় খুঁজি,
কেন?
দু’টি প্রশ্ন করব,
তোমার কথা প্রায়ই মনে পড়ে,
তুমি কেমন আছো?
আমার কথা ভেবে,
তোমার মনও কি উন্মনা হয়না?

সেই থেকে আমি আর কবিতা পড়িনা
—————————— ডঃ রমিত আজাদ

সেই থেকে আমি আর কবিতা পড়িনা,
কেবলই শুনি গান,
সুরের মূর্ছনার আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হই,
যেমনটি হয় কোঁচবিদ্ধ ছটফটে মাছ ।

হৃদয়টাকে টেনে ছিঁড়ে বুকের মাঝখানে একটা গহবর তৈরী করেছ,
তাই আমি আজ একেবারেই হৃদয়হীন,
সুদুর সাইবেরিয়ার হীমশীতলে নির্বাসিত।
কালাপানির আন্দামান হলে ভালো হত,
অন্ততপক্ষে মহাসাগরের গর্জন শুনতে পেতাম।

একদিন তুমি তো আমারই ছিলে,
তোমার সুমিষ্ট নারীকন্ঠের ডাক,
এই কানে ঢেলেছে সুধা মৃন্ময়ী বসন্ত হয়ে,
স্বপ্নে তো নয়, বাস্তবেই তোমাকে চুমু খেয়েছি সহস্রবার,
একেবারে বুকে জড়িয়ে, নিস্পেষিত করেছি,
অজস্র আকুলতা নিয়ে।
আবেগঘন মুহুর্তগুলোতে ঘনঘন দীর্ঘশ্বাসের সাথে
ছিল ফিসফাস কথপোকথন,
এই আঙুলের সব উষ্ণতা দিয়ে তোমাকে ছুঁয়েছি।
হ্যাঁ, নিশ্চিত তোমাকে ছুঁয়েছি বাধাহীন, বারংবার,
দেখিয়েছি তোমাকে, আমি কতটুকু উত্তাল হতে পারি,
মনে হয়েছে যেন আমিই তোমার স্বামী।

সদ্য পঠিত কবিতা রেখে, ছুঁয়েছি তোমার অধর,
তোমার দেহবল্লরীকে মনে হয়েছে খরস্রোতা নদী যেন
তোমার সজল আঁখী,
তোমার পেলব ঠোট,
তোমার গোপন তিল
একসময় এই সবকিছুর অধিকার শুধুই আমার ছিল।

আমার আকাশ বিদ্ধ করেছে ডাকিনীর তীর,
পূর্ণিমার চাঁদ গিয়েছে নিভে ,
নিঃশব্দে নেমেছে ঘোর অমাবশ্যা ,
আজ তোমার গায়ে পরপুরুষের ঘ্রান
পেচিয়ে আছে সম্মোহিত সাপ হয়ে।
ক্লান্তিকর খেলা শেষে,
আমার হতাশা আর নিরুত্তাপ তুমি ।

আমি ডানা ঝাপটানো একটি নিঃসঙ্গ বিহঙ্গ যেন,
টর্নেডো ভেঙেছে কপাট,
ভূমিকম্প গুড়িয়ে ঘর,
সুনামীর তীব্র স্রোতে উঠেছে ভয়াল ঝড়।
মনের গভীরে চোখের জল ঝড়ে ঝড়ে হয়ে গেল যেই নদী,
ধীরে ধীরে বাড়ছে সে নদীর জল, এই প্লাবন এলো বলে,
আমাকে কি ধুর্ত প্রেমিক বলবে?
কিংবা প্রতারক যুবক?

কোন মায়াবী খাঁচায় তো তোমাকে পুরে রাখিনি,
তুমি মুক্ত বিহঙ্গ, উড়ে যাও যেখানে চাও।
আমি বড়জোড় লিখতে পারি একঝাক চিঠি।
প্রেমের অনন্তলোক ছুঁয়ে,
আমার চিঠিগুলো কাগজের পতঙ্গ হয়ে,
একের পর এক ঢুকে পড়বে তোমার জানালা গলে
দুর্নিবার পূর্ণিমার আকাশ ছেঁয়ে দেবে তমশায়,
নিশি জাগা তুমি আর তোমার স্বামী
নিশ্চিত বঞ্চিত হবে জোছনার মাধুরী থেকে।

আমার আকাশেও এখন আর চাঁদ ওঠেনা,
তবু সিদ্ধার্থের মত গৃহত্যাগী হতে চাই,
পাশে শুয়ে থাকা বধু আর শিশু ইচ্ছেটাকে অবদমিত করে

এই ভয়ার্ত আঁধারে কার কাছে যাব আমি, তোমাকে ছাড়া?
সেই তুমিই রয়েছ ফিরে, হয়েছ বৈরী,
অসহায় আমি আজ আকাশের মত একলা।
আমাদের বিচ্ছেদে অনেক কেঁদেছি আমি,
তুমিতো দেখনি সে কান্না!
আমি একাই সে অশ্রুবারির দর্শক।
তোমার কাছে ফিরে যাবার আর কোন পথ নেই তো খোলা।

এখন হাতড়ে বেড়াই,
কেবলই স্মৃতি, কেবলই স্মৃতি, কেবলই স্মৃতি,
বারবার মনে পড়ে একটি মায়াবী মেয়ের মুখ!

নারী ও সমুদ্র
——– ডঃ রমিত আজাদ

চুলগুলি অযত্ন বিন্যস্ত,
এলোমেলো উড়ছে মোলায়েম কেশগুচ্ছ ,
উচ্ছাসী সাগরের হাওয়ায়
সমুদ্রের ছায়া পড়ে তার চোখে,
সমুদ্রের ঐ আশ্চর্য্য নীলের মত
তার চোখও ঠিকরে দিচ্ছে তীব্র রঙের ছটা।

খুব দূরে দূরে একেবারে দিগন্ত ঘেসে
সাগরের ঢেউ ছুঁয়ে ছুঁয়ে, এক টুকরো মেঘে
ক্ষণে ক্ষণে জাগে বিদ্যুতের চমকানি,
আর আমি থেমে থেমে দেখি তার রূপ-ঝলকানি

মনে হয় সে এত কাছে, যেন
তার হৃদস্পন্দন শুনতে পাই।
কেমন উদগত আবেগে,
তার লাবণ্য, দীপ্তি সৌরভে
সুগন্ধী নিশ্বাসের মদিরায়,
মনে জেগে ওঠে নেশা।
এইতো প্রথম এমন করে নারী ও সমুদ্র দেখা ।

কোন কালে কোন কবি যেন
তুলনা করেছিলেন নারী ও ফুলের,
আরো হয়েছে তুলনা নারী ও নদীর।
আর এই ক্ষণে বলে ওঠে আমার উন্মত্ত মন-রুদ্র
উদ্বেলিত নারীর একমাত্র তুলনা ঐ উচ্ছসিত সমুদ্র।

তুমি কি চোখের ভাষা পড়তে পার?
– ডঃ রমিত আজাদ

তুমি একদিন জানতে চেয়েছিলে,
আমি তোমাকে কতটুকু ভালোবাসি।
প্রিয়তমা আমার,
সমুদ্রের গভীরতা, সেও তো মেপে ফেলা যায়।
ভালোবাসার গভীরতা আমি কোন ফিতায় মাপব?
বুঝিয়ে বলতে বল?
আমাদের জানা কোন ভাষায় বলতে গেলেও
তা কেমন যেন দুর্বোধ্য হয়ে ওঠে।
আমি বরং শ্বাশত ভাষাতেই বলি।
কোন সে ভাষা?
শব্দের পিঠে শব্দ জুড়ে দিয়ে নয়,
ধ্বনির পর ধ্বনি উচ্চারিত করে নয়,
চোখে চোখ রেখে নির্বাক সে ভাষা।
কোমল প্রাণ আমার,
তুমি কি চোখের ভাষা পড়তে পার?
তোমার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিয়ে,
আমার চোখ ভেদ করে হৃদয় ছুঁয়ে দেখ,
মহাসাগরের সুনীল স্বচ্ছ জলের মতই
আমার ভালোবাসা সত্য।
মহাকাশের ঝকঝকে তারাগুলোর মতই
আমার ভালোবাসা পবিত্র।

(বিদেশী কবিতার ছায়া অবলম্বনে রচিত)

বিচিত্র মন

হৃদয়ের রজনীগন্ধা তুমি, তুমি নীল অপরাজিতা
বলেছিলে হেসে, “আমায় নিয়ে লেখনা একটি কবিতা”।
আমি কবি নই তবু, লিখব আজ কিছু পংক্তিমালা,
বাতায়ন খুলে সাজিয়ে দেব হাজার তারার মেলা।
শব্দের ঝড় উঠবে ফুঁসে নন্দিত কোন অরণ্যে,
কবিতার তার তুলবে সুর, তোমাকে স্পন্দিত করার জন্যে।

যদিও প্রথম প্রেম নয়,
তবুও শীতের কুয়াশায়,
তোমার শ্যামল ছবি রহস্যময়,
আমার বুকে তুলেছিল ক্ষুদ্ধ আলোড়ন,
সাগরের গর্জনের মত অশান্ত, উদ্দাম।

তোমার মনের কথা আমার দুহাত ছুঁয়ে যাওয়া,
কি জানতে চাও বল? কেন আমি এতই বেপরোয়া?
অমিত তৃষ্ণা আমার, তাই আমি হয়েছি অবাধ,
নিষেধের বেড়াজাল ভেঙ্গে, নিয়েছি প্রেমের সাধ।
দুরন্ত স্রোতের মত, দিগন্ত রেখার টানে,
ছুটে গিয়েছি নিঃসীম শূণ্যের পানে।

সুহাসীনি শীতের ডালিয়া অথবা সুর্যমূখী, বৈকালের টলটলে জল সেচে,
তোমার হৃদয়ের সকল উষ্ণতা আমাকে দিয়েছ তুমি অতি নিঃসংকোচে।
ময়ুরাক্ষী নদীটির কলহাস্য যেন গানের আসরে তুলেছে বীণার ঝংকার,
মানস সরোবরে সদ্য প্রস্ফুটিত নীলপদ্ম সেজে হয়েছে অলিক উপহার।

যদি জানতে চাও, এই কাহিনীর ইতি ডাকবে কবে ?
আমি বলব, শেষ নেই, এ গল্প অবিরাম চলেই যাবে।
সেই জমি, কাজ, রাজনীতি আর মেয়ে মানুষের গল্পের মত,
জাহাজের ডেকে, রেলের বগিতে, বাসের সিটে, মানুষের মুখে যত,
কাহিনী বদলায় না, গল্প বদলায় না, বদলায় শুধু পাত্র,
তুমি আমি তো মহাকালের স্রোতে দুটি ক্ষুদ্র বিন্দু মাত্র।

কি উদ্দেশ্য? দোহাই তোমার, এমন প্রশ্ন করনা।
উদ্দেশ্যহীনভাবে কি ভালোবাসা যায়না?
জানি তুমি আমার অন্তরঙ্গতায়,
আবেগঘন স্পর্শকাতরতায়,
বিন্দুমাত্রও কুন্ঠিত নও,
বরং তুমি বারংবার কেবল স্পন্দিতই হও।

তবুও অতটা অশান্ত হবনা,
দূরেই থাকি, অত কাছে যাবনা,
ভয় হয়, আমার উত্তপ্ত স্পর্শে ,
যদি তুমি ছাই হও শেষে।

তুমি আমায় ভালোবেসেছিলে
– ড: রমিত আজাদ

তুমি আমায় ভালোবেসেছিলে,
আমি তোমায় ভালোবাসিনি।
তুমিও জানতে তা,
তবু তুমি এসেছিলে,
পাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে উদ্ভাসিত হৃদয়ে।

তোমার ভাষাহীন নির্বাক চোখ,
তমসায় ছেয়েছিল।
তোমার অভিমানি মন,
এ মনে পায়নি ঠাঁই।
পরাজিত প্রেম আকুল হয়ে ছুটেছে নিরুদ্দেশ,
বেদনার রং গায়ে মেখে নিয়ে বলেছিলে,
“আপনি মিথ্যে করে হলেও বলুন, ভালোবাসি”।
আমি মিথ্যে করে হলেও বলেছিলাম, “ভালোবাসি”।