Categories
অনলাইন প্রকাশনা আত্ম উন্নয়ন ইসলামধর্মীয় খ্রীষ্টধর্মীয় গবেষণামূলক প্রকাশনা ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতা বৌদ্ধধর্মীয় হিন্দুধর্মীয়

আমাদের ধর্ম ও সৌহার্দতা

— সাকি বিল্লাহ্

 

ইদানিং কালে একটা ব্যাপার লক্ষ্যনীয়, কিছু অতি উচ্চমর্গীয় বা উচ্চবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ বলছে, জীব হত্যা বা ভক্ষণ করা যাবে না, গো হত্যা বন্ধ করতে হবে ইত্যাদি । যারা বলেন তারা জীব হত্যার বিপক্ষে অথবা নিরামিষভোজী বলা যেতে পারে ।

ভাল কথা ।

তবে বিষয়টা নিয়ে বাংলাদেশী বিজ্ঞানী (আমাদের গৌরব) জগদীশ চন্দ্র বসু স্যারের কথা মনে পড়ে গেল । গাছের প্রাণ আছে এবং তারাও মানুষ বা অন্যান্য প্রাণীর মত সকল জৈবিক কাজ করতে পারে এটা তিনি-ই প্রথম প্রমাণ করেছেন । বলা বাহুল্য তিনি একজন হিন্দু (বেদান্ত) ছিলেন ।

 

ডা. জাকির নায়েকের মত তাহলে বলতে হয় গাছের তো প্রাণ আছে তাহলে তাদেরও তো খাওয়া যাবে না । মনুষ্য জাতি তাহলে কি খাবে? বরং জীব হত্যার চাইতে গাছ হত্যা আরো বেশি শাস্তিযোগ্য অপরাধ । জীবের চাইতে গাছ বেশি কস্ট সহ্য করে যেমন, সে কথা বা শব্দ অথবা নড়াচড়া করতে পারে না, ধরুন আপনার দুইজন ভাই আছে, একজনের শারীরিক কোন সমস্যা নাই আর অন্য জনের শরীর পক্ষাঘাতগ্রস্ত বা বিকলাঙ্গ, কথা বলতে পারে না, চলতে পারে না, খাবার দিতে হয় সেলাইনের মাধ্যমে, কানে শোনে না; এই দুই ভাই এর ভিতর যদি সুস্থ ভাইকে কোন খুনী হত্যা করে তাহলে আপনি যতটুকু কষ্ট পাবেন তার চাইতে অসুস্থ বোবা ভাইকে হত্যা করলে অনেক বেশি কষ্ট পাবেন এটাই স্বাভাবিক বরং আদালতে গিয়ে আপনি বিচারকের কাছে বলবেন, আমার অসহায় প্রতিবন্ধী ভাইকে বিনা কারনে হত্যা করা হয়েছে তাই এর দৃস্টান্ত মূলক শাস্তি চাই ।

 

গাছের বেলায়ও তাই, পশু হত্যার চাইতে গাছ হত্যা করা আরো বড় অপরাধ(নিরামিষভোজীদের মতে যেহেতু জীব হত্যা পাপ) । তাহলে জীবন রক্ষার জন্য আমরা জীব হত্যা করবো নাকি গাছ হত্যা করবো সেটা একটা বিবেচ্য বিষয় ।

 

জ্ঞানীরা চুপ থাকে আর মূর্খরা তর্ক করে ।

বাঘ কখনও ঘাস বা লতাপাতা খেয়ে জীবন ধারণ করতে পারবে না, অন্যদিকে হরিণ তৃনভোজী প্রাণী । বাঘকে বেঁচে থাকতে হলে মাংস খেতে হবে আর হরিণ খাবে তৃণজাতীয় উদ্ভিদ এটাই প্রাকৃতিক নিয়ম । তেলাপোকা সর্বভূক প্রাণী মানে সে সব কিছু খেতে পারে অনেকটা মানুষের মত । যেসকল প্রাণী সব কিছু খেতে পারে তাদের পৃথিবীতে টিকে থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে ।

ছোটবেলায় বই পুস্তকে সবাই পড়েছেন খাদ্য শৃঙ্খল বা খাদ্য চক্র । কে কাকে খাবে সেটা প্রাকৃতিক ভাবে নিয়ন্ত্রিত আরো স্পষ্টভাবে বলতে গেলে স্রস্টার দ্বারা নির্ধারিত ।

 

স্রস্টা যদি বাঘের উপর সুবিচার করে তাহলে হরিণকে জীবন দিয়ে বাঘের ক্ষুধা তথা জীবন বাঁচাতে হবে আর যদি হরিণের উপর দয়া করে তাহলে হরিণের জীবন বাঁচে কিন্তু বাঘের জীবন বিপন্ন হবে । তাই স্রস্টা একটি খাদ্যচক্র তৈরী করে দিয়েছেন আর সে চক্রে মানুষও একটি জীব । সে মাংশ খাবে অথবা গাছ খাবে এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার বা ধর্মীয় ব্যাপার । তবে বিজ্ঞানীদের মতে মানুষের বুদ্ধির বিকাশ হয় আগুনে ঝলসে যাওয়া মাংস খাওয়ার পর থেকে । মাংসে বেশ কিছু ভিটামিন ও অন্যান্য উপকারী উপদান আছে যেগুলো উদ্ভিদ থেকে পাওয়া যায় না, যেমন ভিটামিন বি-১২, ক্রিয়েটিন, কারনোসাইন, ওমেগা-৩( DHA & EPA), বিশেষ কিছু এমাইনো এসিড(প্রোটিন) ইত্যাদি ।

অনেক সময় নিরামিষভোজীদের শরীরে উপরোক্ত খাদ্য উপাদানগুলোর অভাব দেখা দেয় আর তখন তারা স্বরনাপন্ন হয় ডাক্তারের কাছে, ডাক্তার তাদের কৃত্তিম যে ভিটামিন বা খনিজ উপাদানের বড়ি বা ট্যাবলেট দিয়ে থাকে তা আসলে তৈরী হয় এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার গাঁজন প্রক্রিয়ায় আর কিছু আসে মাছ ও পশু থেকে । আর এই ভিটামিন বড়ি গুলো তৈরী করা হয় বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান দ্বারা; যেহেতু আপনার মস্তিষ্ক ও শরীর ঠিক রাখতে হলে এই ভিটামিন গুলো প্রয়োজন, তাই হয় সরাসরি প্রাণীর মাংস খেয়ে বা কৃত্তিম ভিটামিন খেয়ে (যা ব্যাকটেরিয়া ও প্রাণী হতে আসে) আপনাকে সুস্থ থাকতে হবে । যদি কৃত্তিম ভিটামিন বড়ি খান তাহলে ক্যানসার, কিডনির সমস্যা, স্নায়ুবিক দুর্বলতাসহ নানা ধরনের প্রদাহ দেখা দিতে বাধ্য । আবার উভয় ক্ষেত্রেই কিন্তু পশু হত্যা হচ্ছে ।

 

মূল প্রসঙ্গে ফেরা যাক, কে কি খাবে না খাবে এটা যার যার ব্যাক্তিগত বিষয় তবে অন্যেরা কি খাবে না খাবে তা নিয়েও হাস্যকর কাজ বা মন্তব্য করা উচিত নয় ।

 

হাজার বছর ধরে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানদের নিয়ে একসাথে বসবাস করা আমাদের এই বাংলাদেশ আর বাঙ্গালী সংস্কৃতি ।

এখানে কিছু কুচক্রী ধর্মীয় সৌহার্দ নস্ট করার অপচেস্টা করছে, আমাদের উচিত ঐসকল মানুষদের এড়িয়ে চলা । ১৯৪৭ সনে যখন দেশ ভাগ হয় তখন, পাকিস্তানী ও ভারতীয় কিছু স্বার্থাণ্বেষী রাজনীতিবিদ আমাদের দেশটাকে চিরে টুকরো টুকরো করে দিয়েছিল ধর্মীয় দাঙ্গা লাগিয়ে । হাজার হাজার বছরের বাংলাদেশকে, ছিন্নভিন্ন করে দেয়া হল । সেভেন সিস্টার নামে যে অংশগুলো বাংলার সাথে ছিল সেগুলো সমেত যদি দেশ হয় তাহলে তা পাকিস্তান কিংবা ভারতের চাইতে আকারে অনেক বড় হয়ে যায় তাই ব্যাপারটা গান্ধী কিংবা জিন্নাহ কেউই মেনে নিতে পারেনি । শেরে বাংলা অবিভক্ত বাংলাদেশ এর কথা উপস্থাপন করলেও তা ধোপে টেকেনি ।

 

ভারতে কিছুদিন পর পরই হিন্দু মুসলিম দাঙ্গায় নিরীহ মানুষ প্রাণ হারায় । দুস্ট রাজনীতিবিদদের হিংসাকে চরিতার্থ করতে ধর্মযুদ্ধ একটি হাতিয়ার মাত্র ।

বাংলাদেশে সকল ধর্মের মানুষ একসাথে কোন ধরনের সমস্যা ছাড়াই ভালভাবে থাকছে, চাকুরী করছে, ব্যাবসা করছে এটা কিছু হিংসুকের বিশেষত প্রতিবেশী দেশগুলোর সহ্য হচ্ছে না । আমাদের কিছু দালালদের মাথা কিনে তাদের দিয়ে দেশের মানুষের ভাই ভাই সম্পর্ক নস্ট করার অপচেস্টা চালানো হচ্ছে । সে অপচেস্টাকে কিছুতেই সমর্থন করা যায় না ।

বাংলাদেশের মানুষ শান্তি প্রিয় এবং সকল ধর্মের মানুষ আমরা সবাই বাংলাদেশী এটাই হোক আমাদের প্রথম পরিচয় । আর সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, যার যার ধর্ম তার তার কাছে । নিজের ধর্মকে সবাই বড় মনে করে তাতে দোষের কিছু না কিন্তু অন্যের ধর্মকে ছোট করা ক্ষমাহীন অপরাধ ।

যে অন্যের ধর্মকে শ্রদ্ধা করতে জানে না সে নিজের ধর্মকেও শ্রদ্ধা করতে শেখেনি ।

 

তাই সকল ধর্মের বাঙ্গালীদের বলছি, অন্যের ধর্মকে শ্রদ্ধা করুন তাহলে সে বা তারাও আপনার ধর্মকে শ্রদ্ধা করতে শিখবে আর মনুষ্যরূপী শয়তান হতে সাবধান থাকবেন যারা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করে কারণ ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করা হয়েছে প্রায় সকল ধর্মেই । ইসলাম ধর্মেও আছে তোমরা কখনও ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না বা অবিশ্বাসীদের সাথে কুতর্কে লিপ্ত হইও না ।

 

পরিশেষে কোরআ’নের আলোকে ধর্ম ও আমাদের সৌহার্দতা নিয়ে কিছু আয়াত উপস্থাপন করছি যাতে বিষয়টা আরো সুস্পস্ট হয়ঃ

সূরা আল বাক্বারাহ এর ২৫৬ নাম্বার আয়াতে উল্লেখ আছে,

“দ্বীনের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি বা বাধ্য-বাধকতা নেই। নিঃসন্দেহে হেদায়াত গোমরাহী থেকে পৃথক হয়ে গেছে। এখন যারা গোমরাহকারী ‘তাগুত’দেরকে মানবে না এবং আল্লাহ‘তে বিশ্বাস স্থাপন করবে, সে ধারণ করে নিয়েছে সুদৃঢ় হাতল যা ভাংবার নয় । আর আল্লাহ সবই শুনেন এবং জানেন।” ।

এ ছাড়াও কোরআ’নের বিভিন্ন আয়াতে উল্লেখ আছে,

“আহবান করো সকলকে তোমার বিধাতা প্রতিপালকের পথে- পান্ডিত্যপূর্ণ সুন্দরতম বাগ্মীতার সাথে। আর যুক্তি প্রমাণ দিয়ে আলোচনা করো তাদের সাথে এমনভাবে, যা সর্বোত্তম (এবং সে আহবান হতে হবে এমন হৃদ্যতাপূর্ণ যেন কোন পাষাণ হৃদয়ের কাছেও তা গ্রহণযোগ্য হয়)।” আল কুর’আন (১৬:১২৫)

“…যারা ধর্ম সম্পর্কে নানা মতের সৃষ্টি করেছে ও বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে তাদের কোন কাজের দায়িত্ব তোমার নেই, তাদের বিষয় আল্লাহর এখতিয়ারভুক্ত।…” –আল কোরআন (সুরা আনআমঃ১৫৯)

“…হে কিতাবিগণ! তোমরা তোমাদের ধর্ম নিয়ে অন্যায় ভাবে বাড়াবাড়ি করোনা…” –আল কোরআন (সুরা মায়িদাঃ৭৭)

“…(ধর্ম সম্পর্কে) বিদ্রূপকারীদের বিরুদ্ধে আমিই (আল্লাহ) আপনার জন্য
যথেষ্ট…” –আল কোরআন (সুরা হিজরঃ৯৫)

“…যদি তারা আত্মসমর্পণ (আল্লাহর কাছে) করে তবে নিশ্চয়ই তারা পথ পাবে। আর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তোমার কাজ তো কেবল প্রচার করা। আল্লাহর দৃষ্টিতে রয়েছে সকল বান্দা।”–আল কোরআন
(সুরা আল ইমরানঃ২০)

“…তারপর ওরা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তোমার কর্তব্য তো শুধুমাত্র স্পষ্ট বাণী পৌঁছে দেয়া…”–আল কোরআন (সুরা নাহলঃ৮২)

“…তুমি মানুষকে হিকমত ও সৎ উপদেশ দিয়ে তোমার প্রতিপালকের (আল্লাহর)পথে ডাক এবং তাদের সাথে ভালভাবে আলোচনা কর। তাঁর (আল্লাহর) পথ ছেড়ে যে বিপথে যায় তার সম্পর্কে আল্লাহ্ই ভাল জানেন, আর যে সৎ পথে আছে তা-ও তিনিই ভাল করে জানেন”
– আল কোরআন (সুরা নাহলঃ১২৫)

“…তোমাদের কাজ তো কেবল প্রচার করা, আর হিসাব-নিকাশ তো আমার কাজ…” –আল কোরআন (সুরা রাদঃ৪০)

“…আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য এবাদতের নিয়ম কানুন নির্ধারিত করে দিয়েছি যা ওরা পালন করে… তুমি ওদেরকে তোমার প্রতিপালকের দিকে ডাক… ওরা যদি তোমার সাথে তর্ক করে তবে বল, ‘তোমরা যা কর সে সম্পর্কে আল্লাহ্ ভাল করেই জানেন। তোমরা যে বিষয়ে মতভেদ করছ আল্লাহ্ কিয়ামতের দিন সে বিষয়ে তোমাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেবেন…” –আল কোরআন (সুরা হজঃ৬৭-৬৯)

 

সুতরাং দেখা যাচ্ছে, কোরআ’নে কঠোরভাবে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং কাউকে ইসলাম সম্পর্কে বোঝাতে হলে বিনয়ী হতে বলা হয়েছে । যদি কেউ ইসলামকে বিদ্রুপ করে, বিমুখ হয় বা কেউ নাস্তিকতা প্রদর্শন করে তাহলে তার ব্যাপারে আল্লাহ নিজে ব্যাবস্থা নিবেন বলে হুঁশিয়ারী করে দিয়েছেন তথাপি আমাদের ভিতর কিছু অতি উৎসাহী কট্টর পন্থী আছে যারা কোরআ’ন তথা আল্লাহর বানীকে মানতে নারাজ । যদিও আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন অন্য ধর্মের মানুষদের সাথে বিনয়ী হতে তবুও তারা তাদের প্রতি কঠোর ।

পাঠকগণ নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিবেন কোনটা ভাল আর কোনটা খারাপ আমি শুধু সবাইকে স্বরণ করিয়ে দিলাম যে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি কোন সুফল বয়ে আনতে পারে না ।

Categories
গবেষণামূলক প্রকাশনা প্রকৌশল ও বিজ্ঞান বিনোদন

বেনারসি শাড়ি ও জন্মনিরোধক বেলুন পর্ব ১

জন্ম নিরোধক বেলুন ‘ডিলাক্স নিরোধ’-এর বিজ্ঞাপন ভারতের শহরে ও গ্রামে- পেয়ার হুয়া, একরারহুয়া, পেয়ার সে ফের কোই ডরতা হ্যায় দিল (প্রেম হয়েছে, সম্মতিও দিয়েছে, তাহলে অন্তরে আর ভয় কিসের?)। সুতরাং পঞ্চাশ পয়সায় তিনটি কিনে এখনই মাঠে নেমে পড়ুন।

মূল্য যত কম, অভাব তত বেশি- অর্থনীতির মূল সূত্রে আঘাত করছে অতি সস্তা জন্মনিরোধক কনডম। এই লক্ষণ কেবল ভারতে নয়, অন্যান্য দেশেও, বাংলাদেশেও।

 

কনডমের বিচিত্র চাহিদা। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ও শিল্পের চাকা ঘোরাতে। জন্মনিরোধক কনডম প্রচলনের প্রথম পর্যায়ে এর অন্যতম ব্যবহার দেখা যেত বেলুন হয়ে আকাশে ওড়ার মধ্য দিয়ে।

পশ্চিম থেকে অনুদান হিসাবে আসা কনডমকেও এক সময় সন্দেহের চোখে দেখা হত- আমাদের জনবল কমিয়ে দেওয়ার পশ্চিমা ষড়যন্ত্র হিসাবে। নিরোধকবিরোধী ধর্মীয় অনুশাসনও ছিল- ক্যাথলিক ‘আপত্তি’ এখনও রয়েই গেছে। সুতরাং মূল কাজকে পাশ কাটিয়ে অন্য কাজে লাগাতে সমস্যা কী? ভর্তুকি দিয়ে সরবরাহ করা এই বেলুনের ‘বেলুন হিসাবে’ ব্যবহার রোধ করা খুব একটা সহজ কাজ ছিল না। ছেলেমেয়ে ঘিয়ে রঙের বেলুন ফুলিয়ে সুতোয় বেঁধে আকাশে ওড়াচ্ছে, আর বাবা-মা ও বিবাহযোগ্য ভাইবোন বিব্রত হচ্ছে- এটা ছিল গত শতকের ষাট ও সত্তর দশকের একটি সাধারণ চিত্র। ভর্তুকির বেলুন কিংবা বিনামূল্যে পাওয়া বেলুন দু-চার পয়সায় বিক্রি করতে পারলেও মন্দ কী- সুতরাং মুদি দোকানদারও একটি বাড়তি বাজার পেয়ে যায়। বেলুনটা টেকসই, দামটা কম এবং দোকানদারও বেচতে রাজি- সুতরাং শখ করে প্রাইমারি স্কুলের ছাত্রও দু-একটা কিনে নিয়েছে।

 

একবার ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের কাছে ভাওয়াল বনাঞ্চলে আবিষ্কৃত হয় বিপুল পরিমাণ কনডম। বিতরণের ঝামেলা এড়াতেই পরিবার পরিকল্পনা কর্মী জঙ্গলে ফেলে এসেছে। আর নিশ্চয় পূর্ণ বিতরণ ও ব্যবহারের প্রতিবেদন সরকারের কাছে দাখিল করা হয়েছে। পুরুষ প্রাণী এসবের সঠিক ব্যবহার জানলে অরণ্যে অনেক আগেই প্রাণীর জন্য হাহাকার পড়ে যেত।

এই নিবন্ধটি জন্ম-শাসন কিংবা ঘাতক ব্যাধি এইডস প্রতিরোধে কনডমের ভূমিকা নিয়ে নয়- কনডমের অপব্যবহার ও বিচিত্র ব্যবহার নিয়ে।

বেনারসি উপাখ্যান

ভারতের সিল্ক রাজধানী বারানসি শহরে কনডমের চাহিদা সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। চাহিদা বিবাহিত সক্ষম দম্পতি এবং অবিবাহিত জোড়ের মোট চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি। কেবল বেনারসি শাড়ির পেছনে প্রতিদিন ব্যবহার করা হচ্ছে ৬ লাখ কনডম। তাঁতে মাকুর চলাচল অবাধ করতে গিয়ে তাঁতিরা ব্যবহার করছে কনডমের পিচ্ছিল লুব্রিক্যান্ট। প্রতিটি তাঁতের প্রতিদিনের চাহিদা চার থেকে পাঁচটি কনডম। পিচ্ছিলকারক এই তরলের একটি বিশেষ গুণ হচ্ছে দামি শাড়িতে এটা কোনও ধরনের দাগ রেখে যায় না।

 

প্রথম দিকে কনডমের ব্যবহার চুপিসারে হলেও এখন তা প্রকাশ্য চর্চা হিসাবে স্বীকৃত হয়েছে। একটি শাড়িতে, একজন দক্ষ তাঁতি মনে করেন, চৌদ্দটির বেশি কনডম লাগা উচিত নয়।

 

ভারতীয় বেনারসি শাড়িতে শরীর পেঁচানো একজন বাংলাদেশি সুন্দরী রমণী একবার কি ভেবে দেখবেন তার শাড়িতে রয়েছে চৌদ্দটি কনডমের স্পর্শ।

 

বেনারসির চাহিদা কমার কোনও লক্ষণ নেই। তাঁতের সংখ্যাও বাড়ছে। কেবল ভারানাস শহরে তাঁতের সংখ্যা দুই লক্ষ। তাঁতিদের মতে এমন সসত্মা ও নিদাগ লুব্রিক্যান্ট আর নেই। বিবিসি কনডম ও বেনারসি শাড়ি নিয়ে একটি দীর্ঘ প্রামাণ্য চিত্রও প্রদর্শন করেছে। চিত্রটির নাম কনডম ঘোরায় শিল্পের চাকা। এক সময় বাংলাদেশ থেকেও ভারতে কনডম চোরাচালান হয়েছে। তাঁতিরা বরাবরই আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসাবে বড় ধরনের মজুদ নিশ্চিত করে। সরকার আইনি হস্তক্ষেপও তেমন কাজে আসছে না।

 

বারানসির তাঁতি বাঁচাও আন্দোলনের একজন অন্যতম আহ্বায়ক মাহফুজ আলম বলেছেন- সরকারের অফিসাররা সতর্ক হলে শাড়িতে কনডমের ব্যবহার কমবে। তারাই পরিবার পরিকল্পনা কর্মীদের বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে সরাবরাহ করে থাকে কিন’ মনিটর করে না।

 

কর্মীরা এনে দোকানে বিক্রি করে দেয় আর তাঁতিরা দশ টাকায় এক ডজন রেটে দোকান থেকে কিনে নেয়। কাজেই পুলিশ দিয়ে তাঁতিদের হয়রানি করার কোনও মানে নেই।

 

পুরনো প্রজন্মের তাঁতিরা অবশ্য কনডম হাতে নিতে চায় না। কিন্তু নতুন প্রজন্মের কাছে এ নিয়ে কোনও সংস্কার নেই। লাভ হলেই হলো। তাঁতিদের কেউ কেউ অবশ্য মনে করেন রমণীরা কনডমের ব্যবহারটা জেনে গেলে হয়তো শাড়ির বাজার ধসে যেতে পারে। বাস্তবতা হচ্ছে ভারতের শিক্ষিত মহিলারা ব্যাপারটা জেনে গেছে। কিন্তু বাজার সঙ্কুচিত হয়নি।

 

বাহারি ব্যবহার

কনডম গবেষকদের ধারণা হাজার বছর আগেই কনডম ব্যবহার হয়েছে কিন্তু ভিন্ন উদ্দেশ্যে। অরণ্যচারী মানুষ বনে-বাদাড়ে ঘুমিয়ে পড়লে বিষাক্ত কীট-পতঙ্গ যাতে এই নাজুক অঙ্গটির ক্ষতি সাধন না করতে পারে সে জন্য শিশ্ন-পেঁচানো ছাল-বাকল ব্যবহার করত। নদী পারাপারের প্রয়োজনে কিংবা মাছ ধরার সময় জোঁকের হাত থেকে এই অঙ্গটি রক্ষার প্রয়োজনে এ ধরনের পোশাকের ব্যবহার হতো।

 

চারশ বছর আগেও ছাগলের অন্ত্র থেকে তৈরি কনডম যৌন প্রয়োজনেই ব্যবহার করা হতো বলে মনে করা হয়। গ্যাব্রিয়েল ফ্যালোপ্পিওর লেখা সিফিলিস বিষয়ক একটি অভিসন্দর্ভে উল্লেখ করা হয়েছে লিলেনের খাপ একটি বিশেষ রাসায়নিক দ্রবণে চুবিয়ে যৌনকর্মের সময় তা ব্যবহার করলে সিফিলিসের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। এই খাপটি ওপরে একটি রিবন দিয়ে বাঁধা হতো। চীনে তৈলাক্ত সিল্ক পেপারে কনডম তৈরি হতো।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা আত্ম উন্নয়ন খাদ্য ও স্বাস্থ্য গবেষণামূলক প্রকাশনা চিকিত্সাশাস্ত্র এবং বিজ্ঞান

কি খাচ্ছি? ফল, খাবার নাকি বিষ? পর্ব-১ (একটি গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ)

কি খাচ্ছি? ফল, খাবার নাকি বিষ? পর্ব-১ (একটি গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ)

–সাকি বিল্লাহ্

আসলে একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে এটা বোঝা খুবই কঠিন বিষয় যে কোন ফলে বা খাবারে বিষ আছে আর কোনটাতে নেই ।

ধারাবাহিক এ পর্বে আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান দিয়ে আলোচনা করব বিভিন্ন খাবার ও ফল নিয়ে; কোন কোন খাবার বা ফলে কি কি বিষাক্ত রং বা কেমিক্যাল মেশানো হচ্ছে আর এর প্রতিকার কি?

আজকের আলোচ্য বিষয় “তরমুজ”:

তরমুজ সবারই প্রিয় সবজী জাতীয় ফল । প্রচন্ড এই গরমে আমরা তরমুজ খাব এটাই স্বাভাবিক কিন্তু এক শ্রেনীর অসাধু ব্যাবসায়ী তরমুজ পরিপক্ক না হওয়ার আগেই বাজারজাত করছে আর অপরিপক্ক তরমুজের রং সাদা হতে লাল করার জন্য বা স্বাদে মিস্টি করার জন্য ইনজেকশন বা ঔষধসুচেঁর মাধ্যমে দিচ্ছে বিভিন্ন কেমিক্যাল ।

তরমুজের রং লাল করার জন্য দেয়া হচ্ছে কৃত্রিম রং বাইক্সিন বা রেড ডাই -২(bixin dye or red dye-2) এবং মিস্টি করার জন্য দেয়া হচ্ছে সোডিয়াম সাইক্লোমেট(sodium cyclamate) ও স্যাকারিন ( Sacharin) ১০:১ হারে । যা সাধারণ চিনির চাইতে ৩০-৫০ গুন বেশি মিস্টি আর শুধু স্যাকারিনের ক্ষেত্রে যা ৫০০-৭০০ গুন । আজকাল বেশির ভাগ ভোগ্য পন্যেও দেয়া হচ্ছে এ কেমিক্যাল যা এক দীর্ঘ মেয়াদী বিষ বা স্লো পয়জন ।

এবার চলুন দেখি এ বাইক্সিন ডাই, রেড ডাই-২, স্যাকারিন বা সোডিয়াম সাইক্লোমেট খেলে কি কি ক্ষতি হতে পারে মানব শরীরে ।

#সোডিয়াম সাইক্লোমেটঃ দীর্ঘদিন এ বিষ খেলে মানুষের নিম্নোক্ত প্রদাহ হতে বাধ্য,

১. ব্লাডার(মুত্রথলি) ক্যান্সার

২. টিউমার

৩. পুরুষ্ত্ব বিনস্ট হওয়া(Male fertility System or Sperm Problem)

৪. উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধি পাবে

৫. মহিলাদের ব্রেস্ট ক্যান্সার হতে পারে

ইত্যাদি ।

#স্যাকারিনঃ দীর্ঘদিন স্যাকারিন খেলে যা যা ক্ষতি হতে বাধ্য,

১. অস্থিরতাঃ বিশেষত হাত ও পা কাঁপা যা ইংরেজীতে restless leg or hand syndrome বলে

২. মাথা ও পেশীতে ব্যাথা অনুভূত হওয়া

৩. পার্কিনসন্স ডিজিজ (Parkinson’s disease)

পার্কিনসনের অসুখের লক্ষণ:

– মাসল শক্ত হয়ে যাওয়া।
– হাত-পা কাঁপা।
– চলা-ফেরার গতি স্লথ যাওয়া।
– হাঁটা-চলার ধরণ পাল্টে যাওয়া।
– ব্যালেন্সের অভাব – ফলে মাঝে মাঝে মাটিতে পড়ে যাওয়া, ইত্যাদি।

৪. জয়েন্ট পেইন বা অস্থিসংযোগ স্থলে ব্যাথা

৫. বিষন্নতা বা depression ইত্যাদি

সর্বশেষে আসা যাক কৃত্রিম রং বাইক্সিন ডাই বা রেড ডাই-২ বা bixin dye or red dye-2

#বাইক্সিন ডাইঃ

১. কিডনী প্রদাহ বাড়বে এবং কিডনী নস্ট হয়ে যেতে পারে

২. ব্লাডার বা মুত্রথলিতে পাথর হতে পারে

৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পাবে

৪. অনিদ্রা বা insomnia হতে পারে

৫. শরীরের বিভিন্ন অংশে এলার্জি দেখা দিতে পারে

এবার আসুন আমরা কিভাবে এ ধরনের কেমিক্যাল দেয়া তরমুজ থেকে বেঁচে থাকতে পারব,

১. তরমুজ কৃষকের ক্ষেত থেকে সরাসরি আহরন করা যেতে পারেঃ এ ক্ষেত্রে কৃষকের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ রাখতে পারেন আর ১০-১৫ দিনের তরমুজ একসাথে কিনে নিয়ে আসতে পারেন নিজেই অথবা কয়েকজন বন্ধু ও আত্মীয় একসাথে; দামও অনেক কম পড়বে (গড়ে ১০০ তরমুজ এর দাম পড়বে ১০০০/- থেকে ১৫০০/- টাকা) প্রতিটি ১০ থেকে ১৫ টাকার মধ্যে আর পাঠিয়ে দিতে পারেন কোন মালবাহী বাস বা ট্রাকে, এক্ষেত্রে অনেকে এসএ পরিবহনের সাহায্য নিয়ে থাকেন ।

২. সরকারকে আরো কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে

৩. সাধারণ মানুষদের কাছে স্বল্পমূল্যে পরীক্ষন যন্ত্র, পরীক্ষা করার কেমিক্যাল বা উপাদান ও তাদের প্রসিক্ষণ দেয়া যেতে পারে যাতে করে বাজারে যেকোন পন্য কেনার আগে নিজেই তা যাচাই করে নিতে পারেন ।

৪.  এ ক্ষেত্রে সাইখ সিরাজ ভাই বা তৃতীয়কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অর্গানিক কোন ফার্ম খুলতে পারেন যেখানে প্রাকৃতিকভাবে সব ফসল উৎপাদিত হবে । আর ঘোষণা করা হবে কেউ কোন ধরনের কৃত্রিম কেমিক্যাল এর প্রমান পেলে তাকে ১ কোটি টাকা পুরষ্কার দেয়া হবে ।

এবং ৫. সকল ব্যাবসায়ী ভাইবোন ও সাধারণ মানুষদের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং সর্বোপরি ব্যাবসায়ীদের সততা বোধ জাগ্রত করতে হবে বিভিন্ন টিভি এডের মাধ্যমে ।

এ বছর আমি তরমুজ খাওয়া বাদ দিয়েছি । সামনের বছর উপরের ১ নং উপদেশ গ্রহন করব বলে মনস্থির করেছি । কেমিক্যাল মুক্ত ফল ও খাবার খান, সবাই ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন ।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা আত্ম উন্নয়ন গবেষণামূলক প্রকাশনা বিজ্ঞান সৃজনশীল প্রকাশনা

জ্ঞানদীপন (Enlightenment) কি? এই প্রশ্নের উত্তর (পর্ব – ২)

—————— মূলঃ ইমানুয়েল কান্ট
(কোনিগ্সবার্গ, প্রুশিয়া, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ১৭৮৪ সাল)

——————অনুবাদঃ ডঃ রমিত আজাদ

(পূর্ব প্রকাশিতের পর থেকে)

১ম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন ।

কোন একটি বিশেষ পদক্ষেপ আইন হিসাবে গৃহিত হবে কি না তা পরীক্ষা করতে চাইলে, আমাদের শুধু জনতাকে (বা কোন জাতিকে) প্রশ্ন করতে হবে তারা ঐ আইনটি নিজের উপর প্রয়োগ করতে পারবে কিনা? ঐ আইনটিকে একটি সংক্ষিপ্ত সময়কালের জন্য চালু করা যেতে পারে, যতক্ষণ পর্যন্ত না শ্রেয়তর শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত না হয়। এর মানে, প্রত্যেক নাগরিককে, প্রথমতঃ ধর্মযাজকদেরকে স্বাধীনতা দিতে হবে যাতে তারা সর্বসমক্ষে মন্তব্য করতে পারেন, অর্থাৎ নিজের লেখায় তারা যেন প্রচলিত প্রতিষ্ঠানগুলির সমালোচনা করতে পারেন। এদিকে নব্য প্রতিষ্ঠিত শৃঙ্খলাগুলো (আইনগুলো) ভাল থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত, যতক্ষণ না জনতার দৃষ্টিভঙ্গির উন্নয়ন হয় ও প্রমাণ করে, যেখানে সর্বসম্মতিক্রমে রাজমুকুটের কাছে কোন প্রস্তাব দেবে। এই ঘটনা সেই ধর্মসভাকে নিরাপদ রাখার পথ খুঁজবে যারা একমতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে বদলাতে চায়, তাদেরকে যারা পুরাতণকে ধরে রাখতে চায়, তাদের বাধা না দিয়ে। কিন্তু কোন একটি স্থায়ী ধর্মীয় সংবিধানের বিষয়ে সম্মত হওয়া একেবারেই অসম্ভব (এমনকি একটি ব্যক্তির একক জীবনকালের জন্যও) যাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যায়না। কারণ তা মানব জাতির উর্ধ্বঃমুখী প্রগতিকে থমকে দেবে, এবং তা হবে নিষ্ফল ও পরবর্তি প্রজন্মগুলির জন্য ক্ষতিকারক। একজন মানুষ যে বিষয় সম্পর্কে জানা তার কর্তব্য সে বিষয় সম্পর্কে নিজেকে জ্ঞানদীপ্ত করা থেকে সাময়ীকভাবে বিরত রাখতে পারে। কিন্তু জ্ঞানদীপন সম্পুর্ণরূপে বন্ধ রাখা তা সে নিজের জন্যই হোক বা পরবর্তি প্রজন্মের জন্যই হোক, এর অর্থ হবে মানবজাতির পবিত্র অধিকার পদদলিত করা।

কিন্তু কোন জাতি যা নিজের জন্য গ্রহন বা আরোপ করতে পারেনি রাজা তা আরোপ করার অধিকার আরো কম রাখে। যেহেতু তার বিধান কর্তৃত্ব নির্ভর করে জনতার সমন্বিত অভিলাষের উপর। যখন পর্যন্ত রাজা দেখবেন যে সকল সত্য অথবা কল্পিত উন্নয়ন রাজ-আইনের সাথে অসঙ্গতিপুর্ণ নয়, ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি তার প্রজাদের তাদের মুক্তির জন্যে যা যা করতে হয় তাই করতে দেবেন, কারণ এতে তার কিছু যায় আসে না।

উনার দায়িত্ব হলো কেউ যেন অন্যের কাজে (মুক্তির জন্য) বাধা দিতে না পারে সেই দিকে লক্ষ্য রাখা। তিনি তার Highness-কেই ক্ষতিগ্রস্ত করবেন যদি তিনি ঐ সকল কাজে নাক গলান, যেখানে তিনি তার রাজসভা (সরকার)-কেই পূর্ণ বিশ্বস্ততার সাথেই এই দায়িত্ব দিয়েছেন। আর যখন তিনি এটা তার নিজস্ব উচ্চ বিবেচনার ভিত্তিতে করেন তখন তিনি ভর্ৎসনা কামাই করেনঃ Caesar non est supra Grammaticos (Caesar is not superior to the grammarian)। এবং নিজের Highness-এর ক্ষতি আরো বেশী হবে তখনই যখন নিজের দেশে জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রীয় আধ্যাত্মিক স্বৈরতন্ত্র’-কে প্রতিষ্ঠা (সমর্থন) করবেন (সেই স্বৈরতন্ত্র যদি হয় কতিপয় নিপীড়কের)।

যদি প্রশ্ন করা হয় যে, “বর্তমানে কি আমরা জ্ঞানদীপ্ত যুগে বসবাস করছি?” উত্তর হবে, “না, তবে আমরা জ্ঞানদীপনের যুগে বসবাস করছি।” এখন যেমন আছে তাতে আমাদের আরো অনেক পথ পারি দিতে হবে, সেই সময় পর্যন্ত পৌঁছাতে যখন মানুষ তার উপলদ্ধিকে আত্মবিশ্বাসের সাথে ব্যবহার করতে পারবে, এবং বাইরের অভিভাবকত্ব (নির্দেশনা) ছাড়াই ধর্মীয় বিষয়ও খুব ভালো বুঝবে। তবে আমাদের কাছে এখন স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে যে, ঐ অভিমুখে মুক্তভাবে কাজ করার পথ এখন পরিষ্কার আছে, এবং স্ব-প্রসূত অপরিপক্কতা থেকে বেরিয়ে এসে জ্ঞানদীপ্ত হওয়ার বাধাগুলো ধীরে ধীরে কমে আসছে। এই হিসাবে বর্তমান যুগ জ্ঞানদীপনের যুগ, ফ্রেডরিকের শতাব্দী।

যে যুবরাজ জানেনা যে ধর্মীয় বিষয়ে জনতার প্রতি তার কর্তব্য কি, কিন্তু জনতাকে সে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে, এইরূপে সেই যুবরাজ যদি গৌরাবান্বিত ধর্মীয় সহনশীলতার খেতাব ফিরিয়ে দেয়, সেই যুবরাজই জ্ঞানদীপ্ত। সেই যুবরাজই বর্তমান জনতা ও তাদের ভবিষ্যৎ বংশধরদের কৃতজ্ঞতা পাওয়ার যোগ্য, কারণ তিনিই মানবজাতিকে অপরিপক্কতা থেকে মুক্তি দিয়েছেন। এবং তিনিই সকল মানুষকে স্বাধীনতা ও সুযোগ দিয়েছেন তাদের নিজ নিজ বুদ্ধিকে (যুক্তিকে) স্ববিবেকে ব্যবহার করার। এমন রাষ্ট্রনায়কের দেশে ধর্মযাজকরা নিজ ধর্মীয় কর্তব্যের কোন ক্ষতিসাধন না করেই শিক্ষিত মানুষের মত নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গী ও মতামত প্রকাশ্যে ব্যক্ত করতে পারেন, যদি সেটা কোন না কোন ভাবে অর্থডক্স ডকট্রাইন থেকে পৃথক পৃথক হয়েও থাকে। এবং একইভাবে অন্যেরাও মত প্রকাশ করতে পারে, যারা কোন প্রকার পেশাগত কর্তব্যের দ্বারা শৃঙ্খলিত নয়। স্বাধীনতা (Freedom)-র এই স্পিরিট বাইরের দেশগুলোতেও কাজ করতে শুরু করেছে, এমনকি সে সমস্ত দেশেও যেখানে তাদের বহিঃবাধাসমূহের সাথে সংগ্রাম করতে হচ্ছে (এই বাধাসমুহ সেই দেশগুলোর সরকার কর্তৃকই আরোপিত)। ঐ সরকারকে বুঝতে হবে যে, তাদের সামনেই এমন উদাহরণ আছে যে, ঐ জাতীয় ফ্রীডমে জনতার ঐক্য বা নিরাপত্তা বিপন্ন হওয়া কোন কারণই নেই। জনতা নিজেরাই অজ্ঞতা থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষমতা রাখে, যদিনা কেউ জোরপূর্বক (বা কৌশলে) তাদেরকে ঐ অজ্ঞতায় ধরে রাখে।

আমি জ্ঞানদীপনের ফোকাল পয়েন্ট (Focal point) হিসাবে ধর্মের বিষয়গুলোকে চিত্রিত করেছি, অর্থাৎ স্ব-প্রসুত অপরিপক্কতা থেকে মানুষের বেরিয়ে আসা। এটা প্রথমত এই কারণে যে, শিল্পকলা ও বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে আমাদের শাসকদের তাদের প্রজাদের উপর অভিভাবকত্বের ভূমিকার উপর কিছু অনুমান করার আগ্রহ নেই। দ্বিতীয়তঃ ধর্মের ক্ষেত্রে অপরিপক্কতা শুধু অনিষ্টকারীই নয়, আবমাননাকরও। কিন্তু যে রাষ্ট্রপ্রধান ফ্রীডমকে আনুকুল্য দিলেন শিল্পকলায়, বিজ্ঞানে এমনকি আরো অন্যান্য বিষয়ে, যেহেতু তিনি বুঝতে পারলেন যে এতে কোন ক্ষতি নাই। এমনকি তার (রাষ্ট্রপ্রধানের) ব্যবস্থাপনায়ও কোন ক্ষতি হবেনা, যদি তিনিতার প্রজাদের নিজস্ব যুক্তি জনসমক্ষে প্রকাশ করার সুযোগ দেন, এবং জনগণ যদি আইন ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের বিষয়ে খোলাখুলি চিন্তাভাবনা করতে শুরু করেন এবং বর্তমান চলমান আইনব্যবস্থাপনার প্রকাশ্য সমালোচনাও করেন। আমাদের সামনে এমন চমৎকার উদাহরণ রয়েছে, যেখানে একজন রাজাও আমরা যাকে সশ্রদ্ধ প্রশংসা করতে পারবো এমন গুনাগুন অর্জন করতে পারেননি। কিন্তু একজন শাসক যিনি নিজেই জ্ঞানদীপ্ত এবং যার কোন জুজুর (ভুতের) ভয় নাই, এবং যার হাতে রয়েছে একটি সুশৃঙ্খল সেনাবাহিনী যারা জনতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে, এবং তাই বলতে পারবে যা বলার সাহস কোন প্রজাতন্ত্রের হয়নিঃ “তর্ক করো, যে কোন বিষয়ে, যত খুশি পারো, কিন্তু মান্য করো।’

এটি মানব কর্মের একটি অপ্রত্যাশিত প্যটার্ন আমাদের সামনে উন্মোচিত করে (এবং আমরা যখন তাদেরকে সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করবো) তখন মনে হবে যে তারা কূটাভাসিক (paradoxical)। উচ্চ মাত্রার নাগরিক স্বাধীনতা (civil freedom) অধিকতর সুবিধাজনক বুদ্ধিগত স্বাধীনতা (intellectual freedom)-র চাইতে, যদিও তা অনতিক্রম্য বাধা সৃষ্টি করে। বিপরীতক্রমে নিম্নমাত্রার নাগরিক স্বাধীনতা বুদ্ধিগত স্বাধীনতাকে পূর্ণমাত্রায় বিকশিত হওয়ার জন্য যথেষ্ট প্রসস্ত জায়গা করে দেয়। যেহেতু প্রকৃতি একটি শক্ত খোলসের মধ্যে একটি ভ্রূণ সৃষ্টি করেছে, যার যত্ন সে নিজেই নিচ্ছে, ‘চিন্তার স্বাধীনতার দিকে ঝোঁক ও ডাক’ এই ভ্রূণটিই ক্রিয়া করছে জনতার মানসিকতার উপর, যার গুনে জনতা ধীরে ধীরে তার কর্মের স্বাধীনতায় আরো সক্ষম হয়ে উঠছে। এমনকি এটা সরকারের নীতিমালায়ও প্রভাব ফেলছে, যারা অবশেষে নিজের লাভের জন্যই বুঝতে পেরেছে যে, মানুষকে যন্ত্রের চাইতেও বড় কিছু মনে করে মানুষ হিসাবেই মর্যাদা দিতে হবে।

(সমাপ্ত)

(ইমানুয়েল কান্ট-এর সংক্ষিপ্ত জীবনীঃ প্রখ্যাত জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট ১৭২৪ খ্রিস্টাব্দের ২২ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন। কান্টের জন্মস্থান পূর্ব প্রুসিয়ার কোনিগসবের্গে, যা বর্তমানে রাশিয়ার অন্তর্গত ও কালিনিনগ্রাদ নামে পরিচিত। ইউরোপের আলোকিত যুগের শেষ গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক হিসেবে স্বীকৃত তিনি। তার যুক্তি ছিল প্রাকৃতিক বিধির সমন্বয়েই মানুষের উপলব্ধি বিগঠিত, যা নৈতিকতারও উত্স। সমসাময়িক চিন্তাধারায় তার অপরিসীম প্রভাব ছিল, বিশেষ করে অধিবিদ্যা, নীতিশাস্ত্র, রাজনৈতিক দর্শন এবং কান্তিবিদ্যায়। কান্টের একটি প্রধান সৃষ্টি ক্রিটিক অব পিওর রিজনের উদ্দেশ্য ছিল যুক্তিকে অভিজ্ঞতার সঙ্গে একত্রিত করে তার দৃষ্টিতে গতানুগতিক দর্শন এবং অধিবিদ্যার ব্যর্থতাগুলো অতিক্রম করা। বস্তুর বাহ্যিক অভিজ্ঞতার বিষয়টি তিনি অন্তঃসারশূন্য তত্ত্ব হিসেবে দেখতেন এবং এ ধরনের পর্যবেক্ষণের যুগের অবসান আশা করতেন।
কান্টের জন্ম একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারে। তার বাবা ছিলেন ঘোড়ার জিনের ব্যবসায়ী।
কান্ট প্রথম একটি পাইটিস্ট স্কুলে লেখাপড়া করেন। ১৭৪০ খ্রিস্টাব্দে তিনি কনিসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। স্কুল জীবনেই তার নিয়মানুবর্তিতা, সময়নিষ্ঠা, মিতব্যয়িতা ও কঠোর পরিশ্রমের অভ্যাস গড়ে ওঠে। ল্যাতিন ও গ্রিক ভাষায় দখলসহ গণিত, ভূগোল ও পদার্থবিদ্যায় ব্যাপক ব্যুত্পত্তি অর্জন করেন। ১৮০৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রুশিয়ার কনিসবার্গে পরলোকগমন করেন তিনি।)

Categories
অনলাইন প্রকাশনা আত্ম উন্নয়ন গবেষণামূলক প্রকাশনা বিজ্ঞান সৃজনশীল প্রকাশনা

জ্ঞানদীপন (Enlightenment) কি? এই প্রশ্নের উত্তর (পর্ব – ১)

—————— মূলঃ ইমানুয়েল কান্ট
(কোনিগ্সবার্গ, প্রুশিয়া, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ১৭৮৪ সাল)

——————অনুবাদঃ ডঃ রমিত আজাদ

(খ্যাতিমান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট লিখেছিলেন জার্মান ভাষায়, আমি পড়েছি ইংরেজীতে, সেখান থেকে আবার বাংলায় অনুবাদ করেছি, অর্থাৎ এটি অনুবাদের অনুবাদ। অনুবাদের কাজটা খুব কঠিন, আমি নিজে ভাষাবিদ্যা বা দর্শন কোনটারই এক্সপার্ট নই, তাই নিজেকে এই অনুবাদের যোগ্য মনে করিনা। তারপরেও কাজটি করলাম। মনে হলো অনুবাদটি হওয়া উচিৎ। ইংরেজী Enlightenment শব্দটির অর্থ আলোকায়ন বা জ্ঞানদীপন দুটোই হতে পারে, আমি জ্ঞানদীপনটিই ব্যবহার করলাম। পাঠকদের অনুরোধ করবো অনুবাদের ত্রুটি বা দুর্বলতা পেলে, তা নিজ গুনে ক্ষমা করে সঠিকটি আমাকে জানাবেন আমি সংশোধন করে নেবো।)

(আরেকটি কথাঃ এখানে আমি নিজস্ব কোন মতামত প্রকাশ করিনি, কান্টের লেখাটির অনুবাদ করেছি মাত্র।)

জ্ঞানদীপন হলো মানুষের স্ব-প্রসুত (Self-incurred) অপরিপক্কতা (Immaturity) থেকে বাইরে বেরিয়ে আসা (Emergence), আর অপরিপক্কতা হলো অন্যের অভিভাবকত্ব ছাড়া নিজের উপলদ্ধি (Understanding)-কে ব্যবহার করতে না পারার অক্ষমতা। এই অপরিপক্কতা স্ব-প্রসুত হবে যদি এর কারণ উপলদ্ধির অভাব না হয়ে অন্যের অভিভাবকত্ব ছাড়া তা ব্যবহার করার সমাধান-ক্ষমতা বা সাহসের অভাব থাকে। এইরূপে জ্ঞানদীপনের ব্রত হলো Sapere aude! – নিজের উপলদ্ধিকে ব্যবহার করার পৌরুষ রাখো।

যদিও প্রকৃতি দীর্ঘকাল মানবজাতিকে বহিস্থঃ (Alien) অভিভাবকত্ব থেকে মুক্ত রেখেছিলো, তৎসত্তেও ভীরুতা ও কাপুরুষতার কারণে এক বিশাল সংখ্যক মানুষের দল সানন্দেই অপরিপক্ক থেকে গেলো। ঠিক একই কারণে কোন একটি পক্ষের (গোষ্ঠি, দল, চক্র) পক্ষে অন্যের উপর অভিভাবকত্ব করা খুব সহজ হয়ে গিয়েছে। অপরিপক্ক হওয়া এতই সহজ!

একটি পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেখুনঃ আমার জায়গায় আমার উপলদ্ধির জন্য যদি একটি বই থাকে, আমার বিবেক জাগ্রত করার জন্য যদি একজন আধ্যাত্মিক উপদেষ্টা থাকেন, আমার দৈনন্দিন খাদ্য তালিকা বেধে দেয়ার জন্যে যদি একজন ডাক্তার থাকেন, ইত্যাদি, ইত্যাদি, তাহলে আমাকে আর কোন কষ্টই করতে হবে না। আমার আর চিন্তা করার কোন প্রয়োজন থাকবে না, যতদিন পর্যন্ত আমি তাদের পারিশ্রমিক দেয়ার সামর্থ্য রাখবো, ততদিন পর্যন্ত আমার পক্ষ হয়ে এই ক্লান্তিকর কাজগুলি তারাই করে যাবেন।

যে সকল অভিভাবকরা দয়াপরবশ হয়ে সুপারভিসনের দায়িত্ব নিয়েছেন, তারা খুব শীগগীরই দেখতে পাবেন যে, মানবজাতির বিশাল অংশটিই (স্ত্রীলোকগণ সহ) পরিপক্ক হওয়াটাকে কেবল কঠিনই মনে করে না, উপরন্তু তাকে অতিমাত্রায় বিপজ্জনকও মনে করে।

এখন এই বিপদ আসলে তত বড় নয়, আদতে কয়েকবার পতনের পর তারা ঠিকই হাটতে শিখবে। কিন্তু এই জাতীয় উদাহরণ সাধারণতঃ ভীতিকর যা তাদের পরবর্তি প্রয়াসগুলো নিতে ভীতির সঞ্চার করবে।

এভাবে প্রত্যেক পৃথক ব্যক্তিসত্তার জন্যে অপরিপক্কতা থেকে বাইরে বেরিয়ে আসা কঠিন হয়ে পড়ে, যা তার দ্বিতীয় প্রকৃতি (second nature)-তে পরিণত হয়েছে। এবং সে এই প্রকৃতি নিয়ে এমনভাবে বড় হয়েছে যে, সাময়িকভাবে সেখান থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষমতা তার নেই, অর্থাৎ নিজের উপলদ্ধি সে কাজে লাগাতে পারছে না, কারণ এই প্রচেষ্টা করার অনুমতি তাকে কখনোই দেয়া হয়নি।

Dogma ও formula ইত্যাদিই হলো যৌক্তিক ব্যবহারের mechanical instrument, অথবা নিজের প্রকৃতি প্রদত্ত ক্ষমতার ক্ষতিকর অপব্যবহার – যা হলো স্থায়ী অপরিক্কতার বল ও চেইন। যদি কেউ তা ছুঁড়ে ফেলেও দেয়, তারপরেও তার পক্ষে একটি সরু পরিখার উপর দিয়ে লম্ফ দেয়াও খুব অনিশ্চিত হবে, যেহেতু সে এই জাতীয় মুক্ত চলাচলে একেবারেই অনভ্যস্ত। এভাবে খুব অল্প সংখ্যক মানুষই আছেন যারা নিজেদের মস্তিষ্ককে কর্ষণ করে অপরিপক্কতা থেকে নিজেদেরকে মুক্ত করতে পেরেছেন, এবং সাহসিকতার সাথে ঐ পথে নিরন্তর চলতে পেরেছেন।

এই সম্ভাবনা বেশি, এমনকি প্রায় অনিবার্য্য যে জনতা নিজেই নিজেকে জ্ঞানদীপ্ত করবে, যদি তাকে স্বাধীনতা (freedom) দেয়া হয়। সব সময়ই জনতার মধ্য থেকে কিছু সংখ্যক অভিভাবক পাওয়া যাবে যারা মুক্তচিন্তা করেন, যারা অপরিপক্কতার জোয়াল কাঁধ থেকে ফেলে দিয়েছেন এবং তারা ব্যক্তি মূল্যায়নের ও তাদের প্রতি সকল মানবের কর্তব্যবোধ সম্পর্কে যৌক্তিক শ্রদ্ধাবোধ-এর স্পিরিটের গুরুত্ব সম্পর্কে প্রচারণা চালাবে এবং জনতাকে মুক্ত চিন্তা করার ডাক দেবে। এটা উল্লেখ্য যে এই জনতা যাদের কাধে একদিন জোয়াল চেপেছিলো তারা ঐ অভিভাবকদেরই কারো কারো দ্বারা (যারা জ্ঞানদীপ্ত হয়নি) প্রয়োজনানুরুপভাবে আন্দোলিত হবে। কুসংস্কার সঞ্চালিত করে দেয়া অত্যন্ত ক্ষতিকর কেননা যারা এটা চালু করেছিলো একসময় এটা তাদের (অথবা তাদের উত্তরপুরুষদের) দিকে প্রতিশোধ হয়ে ফিরে আসতে পারে। এভাবে একটি জনতা জ্ঞানদীপ্ত হতে পারে ধীরে ধীরে। কোন স্বেচ্ছাচারী স্বৈরতন্ত্র ও জুলুমবাজ ক্ষমতালোভী শাসকের দমন-পীড়নের যুগের ইতি টানতে পারে একটি বিপ্লব। তবে বিপ্লবের মাধ্যমে মানুষের চিন্তাধারায় একটা সত্যিকারের সংস্কার আসবে না। বরং তা জনতার যে বিশাল অংশটি চিন্তাভাবনা করেনা তাদের নিয়ন্ত্রণের জন্যে প্রতিস্থাপিত কিছু নতুন কুসংস্কারের জন্ম দেবে।

জ্ঞানদীপনের জন্য মূলত যা দরকার তা হলো স্বাধীনতা (freedom)। এবং কারো বুদ্ধিকে (যুক্তিকে) সর্বজনের ব্যবহারযোগ্য করে তোলার স্বাধীনতাটি হলো সবচাইতে অক্ষতিকর স্বাধীনতা। কিন্তু আমার চতুর্দিকে আমি কেবলই চিৎকার শুনতে পাইঃ ” তর্ক করোনা! সেনাপতি বলেন, “তর্ক করোনা, প্যারেডে মিলো”, কর-কর্মকর্তা বলেন, “তর্ক করোনা, কর দাও”, ধর্মযাজক বলেন, “তর্ক করোনা, বিশ্বাস করো!” (কেবল একজন শাসক আছেন, যিনি বলেন, তর্ক করো যত খুশি, যা নিয়ে খুশি, কিন্তু মান্য করো!)

এই সব কিছুর মানে হলো সর্বক্ষেত্রে স্বাধীনতার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কোন ধরণের নিষেধাজ্ঞা জ্ঞানদীপনকে প্রতিরোধ করে, কোন ধরণের নিষেধাজ্ঞা জ্ঞানদীপনকে নিবারণ না করে তাকে উত্তরণ করে? আমি উত্তর দিচ্ছিঃ সর্বজনের মধ্যে মানুষের বুদ্ধির (যুক্তির) ব্যবহার (public use of reason) উন্মুক্ত হওয়া উচিৎ, এবং সেটাই মানুষকে জ্ঞানদীপ্ত করতে পারবে। কিন্তু বুদ্ধির (যুক্তির) ব্যক্তিগত ব্যবহার (private use of reason) প্রায়শঃই নিষিদ্ধ হওয়া উচিৎ। যাতে জ্ঞানদীপনের উন্নয়ন বাধাপ্রাপ্ত না হয়। সর্বজনের মধ্যে মানুষের বুদ্ধির (যুক্তির) ব্যবহার (public use of reason) বলতে আমি বুঝি যা যেকোন শিক্ষিত ব্যক্তি তৈরী করতে পারে যেকোন পাঠক মানবের জন্য। আর বুদ্ধির (যুক্তির) ব্যক্তিগত ব্যবহার (private use of reason) মানে হলো যা কোন একজন ব্যক্তি বাস্তবায়ন করে থাকেন কোন একটি দফতর বা মহলের স্বার্থে কারণ তিনি ঐ মহলের বিশ্বস্ত।

এখন কিছু বিষয় আছে যা জনরাষ্ট্রের (commonwealth)-এর স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, সেখানে আমাদের এমন কোন মেকানিজম খুঁজে বের করতে হবে যেখানে কমনওয়েলথ-এর কিছু সদস্যের আচরণ হবে নিষ্ক্রিয়, যেন, কোন কৃত্রিম কমন চুক্তির দ্বারা তারা সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হতে পারে জনতার স্বার্থে (অথবা নিদেনপক্ষে তাদের অকার্যকর করা থেকে নিরস্ত করতে পারবে)

এটা নিঃসন্দেহে অনুমোদনযোগ্য নয় কতগুলি বিষয়ে তর্ক করা যেমনঃ আনুগত্য আবশ্যক। যে পর্যন্ত কোন স্বতন্ত্র ব্যক্তি যে ঐ মেশিনের অংশ হিসাবে ক্রিয়ারত এবং নিজেকে ঐ কমনওয়েলথ-এর একজন পূর্ণাঙ্গ সদস্য বলে মনে করে এমনকি নিজেকে বিশ্বজনীন (Cosmopolitan) সদস্য মনে করে এবং একজন শিক্ষিত মানুষ (A man of learning) হিসাবে তিনি তার লেখার মাধ্যমে জনতাকে উদ্দেশ্য করে, সত্যিকার অর্থে, তিনি পারবেন তার নিয়োগ কর্তার ক্ষতি না করেও তার সাথে দ্বিমত পোষণ করতে। কিন্তু ঐ অফিসার যদি নিয়োগ কর্তার কাছ থেকে আদেশ পাওয়ার পরও ঐ আদেশের যথাযোগ্যতা বা সঙ্গতি সম্পর্কে খোলামেলা বিতর্কে উপনিত হয়, এটা হবে ক্ষতিকর। তাকে আনুগত্যই প্রকাশ করতে হবে। কিন্ত একজন শিক্ষিত মানুষ হিসাবে সামরিক পেশার ত্রুটিগুলি সম্পর্কে মন্তব্য করা থেকে তিনি বিরত থাকতে পারেন না। আর সেই ত্রুটিগুলো বিচারের জন্য জনসমক্ষে তুলে ধরাও বন্ধ করতে পারেনা।

একজন নাগরিক তার উপর আরোপিত কর দিতে অস্বীকার করতে পারেন না। এই জাতীয় কর আরোপের স্ব-অনুমেয় সমালোচনা যিনি করবেন, জুলুম হিসাবে তার শাস্তি হতে পারে, যা আবার গণ-অবাধ্যতার জন্ম দেবে। আবার সেই নাগরিক তার নাগরিক দায়িত্ব লঙ্ঘন করে না যদি, একজন শিক্ষিত মানুষ হিসাবে তিনি এই অর্থনৈতিক অবিচারের বিরুদ্ধে তার মতামত জনসমক্ষে উপস্থাপন করেন। একইভাবে একজন গীর্জার পাদ্রী তার ধর্মসভা ও ছাত্রদেরকে ঐ চার্চের ডকট্রাইন অনুযায়ী পথপ্রদর্শনা দিতেই বাধ্য থাকেন, যেহেতু ঐ শর্ত অনুযায়ীই তাকে চাকুরীতে নিয়োগ দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু একজন পন্ডিত ব্যক্তি হিসাবে ডকট্রাইনগুলোর ত্রুটি সম্পর্কে তার নিজস্ব চিন্তাধারা জনসমক্ষে তুলে ধরতে ধর্মীয় ও যাজকীয় বিষয়ে অপেক্ষাকৃত ভালো ব্যবস্থার প্রস্তাব করতে একদিকে বাধ্য আরেকদিকে সম্পূর্ণ স্বাধীন। আর এতে বিবেকের দংশনে দংশিত হওয়ার কিছু নাই। আমি; অথবা তিনি গীর্জার একজন সাধক হিসাবে যা শিখান তা হলো অন্য কেউ তাকে যা শিখানোর জন্য প্রেসক্রাইব করে দিয়েছে। তিনি নিজ বিবেচনায় যা বোঝেন তা শিখানোর ক্ষমতা বা স্বাধীনতা তাকে দেয়া হয়নি। তিনি বলবেন আমাদের গীর্জা এই এই বিষয় শিক্ষা দেয়, এবং এর পিছনে এই হলো আমাদের যুক্তি। তারপর তিনি তার ধর্মসভার জন্য এক্সট্রাক্ট করেন যতদূর সম্ভব ব্যবহারিক অর্ঘ ঐ অবস্থান থেকে যাকে সে দন্ডাজ্ঞা দেবেনা, কিন্তু তা প্রচার করতে সে বাধ্য, যেহেতু একথা কেউ হলপ করে বলতে পারবে না যে তার মধ্যে সত্য নিহিত নাই। যে কোন অবস্থায়ই ধর্মের সারমর্মের বিরোধীতা করে এমন কিছু ঐ ডকট্রাইনগুলোতে উপস্থিত নাই। যদি তিনি তেমন মনেই করতেন তবে তিনি তার বিবেকের দংশনে ঐ দায়িত্ব পালন করতে পারতেন না ও অচিরেই ইস্তফা দিতেন। এইভাবে কোন ধর্মযাজকের জ্ঞানবুদ্ধি যা ধর্মসভার সামনে ব্যবহৃত হয় তা স্বকীয় (private), যেহেতু ধর্মসভা সে যত বড়ই হোক না কেন, একটি ঘরোয়া সমাবেশের বেশি কিছু নয়। এই দৃষ্টিকোন থেকে দেখলে, একজন ধর্মযাজক হিসাবে তিনি মোটেও স্বাধীন নন, বিপরীতপক্ষে একজন জ্ঞানী ব্যক্তি হিসাবে যিনি জনতাকে সম্ভাষণ করে লেখা লিখছেন এমন ধর্মযাজক তার যুক্তির Public use করছেন, এবং নিজের মনের কথা বলছেন। আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রে তিনি সমাজের অভিভাবক হবেন, তিনি অপরিপক্ক (immature) হবেন এটা একেবারেই এ্যাবসার্ড।

যাজকদের একটি সমাজ, উদাহরণস্বরূপ যাজকীয় সন্মেলন (Synod ) অথবা পূজনীয় প্রেসবিটরী (Presbytery), (ডাচরা যেমন বলে থাকে) সদস্যদের উপর সর্বকালীন অভিভাবকত্ব পেতে এবং তাদের মাধ্যমে পুরো জনগণের উপর অভিভাবকত্ব পেতে, কিছু অসংশোধনীয় ডকট্রাইন পালন করতে বাধ্য থাকবেন কি?

আমার উত্তরঃ এটা অসম্ভব, এই জাতীয় চুক্তি স্বাক্ষর মানবজাতিকে পরবর্তিকালীন জ্ঞানদীপন থেকে বিরত রাখে, যা একেবারেই অকার্যকর, যদি তা সর্বচ্চো ক্ষমতার দ্বারা ও অনুমোদিত হয় বা কোন জাঁকজমকপূর্ণ শান্তিচুক্তির মাধ্যমেও গৃহিত হয়। একটি যুগ আরেকটি যুগকে এমন অবস্থানে নিতে বাধ্য করতে পারেনা যে, সে তার জ্ঞানকে সংশোধন ও প্রসারিত করতে পারবে না, বিশেষ করে সেই বিষয়ে যেখানে জ্ঞানদীপনের পথে অগ্রসর হওয়া যাবেনা। এটা হবে মানব প্রকৃতির বিরুদ্ধে একটা অপরাধ, যার মূল প্রথমত নিহিত রয়েছে এই প্রগতীতে। পরবর্তি প্রজন্মের পূর্ণ অধিকার রয়েছে এই জাতীয় সিদ্ধান্তগুলোকে খারিজ করার ও অবৈধ ঘোষণা করার।

(চলবে)

(ইমানুয়েল কান্ট-এর সংক্ষিপ্ত জীবনীঃ প্রখ্যাত জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট ১৭২৪ খ্রিস্টাব্দের ২২ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন। কান্টের জন্মস্থান পূর্ব প্রুসিয়ার কোনিগসবের্গে, যা বর্তমানে রাশিয়ার অন্তর্গত ও কালিনিনগ্রাদ নামে পরিচিত। ইউরোপের জ্ঞানদীপনের যুগের শেষ গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক হিসেবে স্বীকৃত তিনি। তার যুক্তি ছিল প্রাকৃতিক বিধির সমন্বয়েই মানুষের উপলব্ধি বিগঠিত, যা নৈতিকতারও উৎস। সমসাময়িক চিন্তাধারায় তার অপরিসীম প্রভাব ছিল, বিশেষ করে অধিবিদ্যা, নীতিশাস্ত্র, রাজনৈতিক দর্শন এবং কান্তিবিদ্যায়। কান্টের একটি প্রধান সৃষ্টি ‘ক্রিটিক অব পিওর রিজন’-এর উদ্দেশ্য ছিল যুক্তিকে অভিজ্ঞতার সঙ্গে একত্রিত করে তার দৃষ্টিতে গতানুগতিক দর্শন এবং অধিবিদ্যার ব্যর্থতাগুলো অতিক্রম করা। বস্তুর বাহ্যিক অভিজ্ঞতার বিষয়টি তিনি অন্তঃসারশূন্য তত্ত্ব হিসেবে দেখতেন এবং এ ধরনের পর্যবেক্ষণের যুগের অবসান আশা করতেন। কান্টের জন্ম একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারে। তার বাবা ছিলেন ঘোড়ার জিনের ব্যবসায়ী। কান্ট প্রথম একটি পাইটিস্ট স্কুলে লেখাপড়া করেন। ১৭৪০ খ্রিস্টাব্দে তিনি কনিসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। স্কুল জীবনেই তার নিয়মানুবর্তিতা, সময়নিষ্ঠা, মিতব্যয়িতা ও কঠোর পরিশ্রমের অভ্যাস গড়ে ওঠে। ল্যাতিন ও গ্রিক ভাষায় দখলসহ গণিত, ভূগোল ও পদার্থবিদ্যায় ব্যাপক ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। ১৮০৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রুশিয়ার কনিসবার্গে পরলোকগমন করেন তিনি।)

২য় পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন ।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা গবেষণামূলক প্রকাশনা বিনোদন ভালবাসা/প্রণয়লীলা সৃজনশীল প্রকাশনা

যে জেলার মেয়ে বিয়ের জন্য ভালো

১) যশোর-খুলনার মেয়েরা অনেক সুন্দরী। যশোরের মেয়েরা কুটনামিতে খুব ওস্তাদ হয়, প্রচুর মিথ্যা কথা বলে। আর শ্বশুরবাড়ীর লোকজন সহ্যই করতে পারেনা। পরকিয়াতেও ওস্তাদ যশোরের মেয়েরা। (আংশিক ব্লগারদের মতামত।)
২) চট্টগ্রামের মেয়েরা বাইরের জেলাদের ছেলেদের ব্যাপারে আগ্রহী নয়। কিছুটা কনজারভেটিভ।

৩) সিলেটী মেয়েরা পর্দানশীল বেশী। সিলেটি মেয়েরা সাধারণত বাইরের জেলা তে বিয়ে করতে যায় না। আত্মীয়দের মধ্যে থাকতে পছন্দ করে। সিলেটী মেয়েরা ছ্যাচড়া। (আংশিক ব্লগারের মতামত।)

) পুরার ঢাকার মেয়েরা খুবই দিলখোশ। ঢাকার অন্য এলাকার মেয়েরা জগাখিচুরি

৫) খুলনার মেয়েরা স্বামী অন্ত প্রাণ। খুলনার মেয়েরা নাকি ফ্যামিলির ব্যাপারে একটু সিরিয়াস টাইপের হয় ৷(আংশিক ব্লগারের মতামত।)

৬) উত্তর বঙের মেয়েরা কোমলমতী হয় এবং বেকুব ও আনক্রিয়েটিভ ।(আংশিক ব্লগারের মতামত।)

৭) বরিশালের মেয়েরা একটু ঝগড়াটে, ভালো রাঁধুনী, ন্যাচালার সুন্দরী , সংসারী এবং স্বামীভক্ত। কিন্তু বরিশাল থেকে সাবধান, যতই সুন্দর হোক, জীবন বরবাদ করে দেবে। (ব্লগারদের মতামত।)

৮) ময়মনসিংহের মেয়েরা একটু বোকাসোকা, কেউবা বদমাইশ।কেউ কেউ স্মার্ট এবং ডেয়ারিং (আংশিক ব্লগারের মতামত।)

৯) সিরাজগন্জের মেয়েরা ভালো, যদি শান্তিতে ঘর করতে চান। (ব্লগারদের মতামত।)

১০) বগুড়ার মেয়েরা ঝাল। (ব্লগারদের মতামত।)

১১) কুষ্টিয়ার মেয়েরা অহংকারী, কিন্তু সেই তুলনায় গুনবতী নয়। মননশীল, রুচিসম্পন্ন। যাকে ভালবাসে সত্যিকারের ভালবাসে, কোন রাখঢাক নাই।

১২) বি বাড়িয়ার মেয়েরা পলটিবাজ কিন্তু পতিভক্ত ও সংসারী (ব্লগারদের মতামত।)

১৩)  রাজশাহীর মেয়েরা একটু লুজ । (ব্লগারদের মতামত।)

১৪) পাবনার মেয়েরা কুটনা হয়ে থাকে।(ব্লগারদের মতামত।)

১৫) জামালপুরের মেয়েরা বেশি স্মার্ট এবং ডেয়ারিং।এই জেলায় সুন্দরীদের ঘনত্ব বেশি।(ব্লগারদের মতামত।)

১৬) নোয়াখালী: বাবা-মা অথবা আত্মীয়-স্বজনদেরকে ভুলতে চাইলে নোয়াখালীর মেয়েদের তুলনা নেই । বেশির ভাগ মেয়ে কারো কথার নিছে থাকতে চায়না । এরা চরম কুটনা হয়। তবে তারা শশুড়বাড়ির জন্য করতে চাইলে নিজের সব দিয়ে করে, না করলে নাই!(ব্লগারদের মতামত।)

১৭) ফরিদপুরের মেয়েরা চোরা স্বভাবের।ওদের মত কুটিল প্যাচের মানুষ খুব কমই হয়।(ব্লগারদের মতামত।)

১৮) কুমিল্লার মেয়েরা শ্বশুরবাড়ির মানুষদের পছন্দ করেনা।কুমিল্লার মেয়েরা সুন্দরী, অনেক দায়িত্বশীল, তবে সংসারে প্রভাব বিস্তার করতে বেশি পছন্দ করে।(ব্লগারদের মতামত।)

১৯) টাংগাইলের মেয়েরা খুব ভাল হয়, বান্ধুবী হিসেবেতো বটেই, পাত্রী হিসেবেও। .এ অঞ্চলের মাইয়াগুলো দুনিয়ার বজ্জাত… তবে বান্ধবী হিসাবে ভালু..একটু দিলখোলা টাইপের (ব্লগারদের মতামত।)

২০) মাদারিপুরের মেয়েরা খুবই কিউট, খুব খরচে, জামাইয়ের পকেট ফাকা করতে উস্তাদ।(ব্লগারদের মতামত।)

২১) চাঁদপুরের মেয়েরা মানুষ হিসেবে খুবই ভালো, অথিতিপরায়াণ।তাদের সরল ভালবাসায় আপনি মুগ্ধ হবেন। আর শ্বশুরবাড়ী চাঁদপুর হলে ইলিশ নিয়ে চিন্তা করতে হবে না । আর আসল কথা হলো চাঁদপুরে লোকের মাথায় প্যাচ জিলাপীর থেকেও বেশী। চাদপুরের মেয়েরা ছেলে ঘুরাতে ওস্তাদ। (ব্লগারদের মতামত।)

২২) দিনাজপুরের মেয়েরা যে খুব সুন্দরী হয়।(ব্লগারদের মতামত।)

২৩) চাপাই নবাবগঞ্জের মানুষ সরল মনের অধিকারী। (ব্লগারদের মতামত।)

২৪) গাজীপুরের মেয়েরা খুব ই ভাল, মিশুক এবং রসিক ।এখাঙ্কার মেয়েরা জেদী, লাজুক ,মিডিয়াম সুন্দর, মিডিয়াম স্মার্ট এবং সংস্কৃতি মনা।(ব্লগারদের মতামত।)

২৫)  নরসিংদীর মেয়েরা উড়াল পঙ্খীর মতো তাদের মন আর চলার ঢং । (ব্লগারদের মতামত।)

২৬) কিশোরগঞ্জের মেয়েরা একটু বোকাসোকা আর ডেয়ারিং প্রকৃতির। মিশুক, বন্ধুপাগল বা বন্ধুপ্রেমী হয়। স্বামী ভক্ত হয় তবে এমনও হতে পারে যে সারাজীবন বউয়ের দ্বারা নিগৃহীত হওয়া; অসম্ভব কিছু না।

আপনাদের মতামত থাকলে কমেন্ট অপশনে লিখতে পারেন…

Categories
অনলাইন প্রকাশনা গবেষণামূলক প্রকাশনা পরিবেশ ও বন

বিলুপ্তির পথে বাংলাদেশের হাতি

বাংলাদেশ বিশ্বের ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম। আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যা অনেক বেশি। তার পরও ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টিকে আছে আমাদের বন্য প্রাণী। যদিও সরকারিভাবে বলা হয়, আমাদের বনের পরিমাণ মোট আয়তনের ১৬ শতাংশ; কিন্তু গবেষণা গ্রন্থ ‘স্টোলেন ফরেস্ট’ থেকে জানা যায়, আসলে মাত্র ৬ শতাংশ বন কার্যকরভাবে টিকে আছে। তাও আবার বছরে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ হারে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। বনের যখন এ করুণ অবস্থা, সে তুলনায় বন্য প্রাণীর সংখ্যা এখনো আশাব্যঞ্জক। বাংলাদেশের আবহাওয়া, বিশেষ করে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুর চাপ, ঋতুচক্র, পানি ও মাটির উপাদান বন্য প্রাণীর জন্য উপযোগী হওয়ায় ৫৬ হাজার বর্গমাইল আয়তনের ছোট এ দেশটি জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। জীববৈচিত্র্যের তালিকায় স্তন্যপায়ী হাতির উপস্থিতি বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে বিশেষ স্থান করে দিয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য, জলবায়ু পরিবর্তন ও মানবসৃষ্ট নানা কারণে সারা পৃথিবীর মতো বাংলাদেশেও জীববৈচিত্র্য এখন হুমকির মুখে। বাড়তে থাকা জনসংখ্যার চাপ, ব্যাপক হারে বন উজাড়, বন্য প্রাণী শিকার, নদীর নাব্যতা এবং ভারসাম্যহীন পরিবেশই বন্য প্রাণীকে বিপন্নতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আর এসব কারণে অন্য বহু প্রাণীর মতো বাংলাদেশে বিলুপ্ত হতে যাচ্ছে হাতি। বাংলাদেশের বনাঞ্চলে হাতির সংখ্যা মাত্র ১৯৬ থেকে ২২৭টি। আর এদের বিচরণ দেশের ১১টি বন বিভাগে। একসময় ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রামে হাতি দেখতে পাওয়া যেত; কিন্তু হাতির সেই বিস্তীর্ণ বিচরণস্থল ক্রমেই সংকুচিত হয়ে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য জেলায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। আইইউসিএনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বন বিভাগের চট্টগ্রাম দক্ষিণ অঞ্চলে হাতি আছে ৩০ থেকে ৩৫টি, কক্সবাজার উত্তর ও দক্ষিণ বিভাগ মিলিয়ে আছে ৮২ থেকে ৯৩টি, বান্দরবানে আছে ১২ থেকে ১৫টি এবং লামা বিভাগে আছে ৩৫ থেকে ৪০টি। এ ছাড়া কক্সবাজার উত্তর বিভাগে আরো ৭ থেকে ৯টি এবং দক্ষিণ বিভাগে ৩০ থেকে ৩৫টি হাতি রয়েছে। আর অভিবাসী হাতির সংখ্যা ৮৪ থেকে ১০০টি। হাতি কমে যাওয়ার ৯টি কারণও আইইউসিএনের গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। বনভূমি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া, খাদ্যাভাব, চলাচলের রাস্তা কমে যাওয়াসহ নানা কারণে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের হাতি। হাতি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার বড় কারণ হচ্ছে চোরা শিকারিদের অপতৎপরতা। ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত শুধু পার্বত্য বান্দরবান ও কক্সবাজারের ছয়টি উপজেলার সংরক্ষিত বনাঞ্চলে দাঁত ও হাড়গোড়ের জন্য ৩২টি হাতি হত্যা করা হয়। ২০১০ সাল পর্যন্ত এই হত্যার তালিকা আরো দীর্ঘ হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। গহিন অরণ্যে ফাঁদ পেতে, বিষ খাইয়ে সংঘবদ্ধ চোরাকারবারিরা হাতির দাঁত ও হাড় সংগ্রহ করে তা উচ্চমূল্যে বিদেশে পাচার করছে। বাংলাদেশের অনেক বন্য প্রাণী হারিয়ে গেছে। হারিয়ে যেতে বসেছে অনেক প্রাণী। হাতি এসব প্রাণীর মধ্যে প্রধানতম। আর নির্বিচার শিকার হাতি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার মূল কারণ। বাংলাদেশ হাতিসহ অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং অনুকূল বিচরণ এলাকা হলেও বর্তমানে প্রাকৃতিক বনের এ প্রাণীগুলোর সবই দেশ থেকে নিদারুণভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে শুরু করেছে। স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের এই সর্বনাশা বিলুপ্তি আমাদের পরিবেশ-প্রতিবেশ ব্যবস্থায় সৃষ্টি হতে চলেছে বিপর্যয়কর পরিস্থিতির।
আজিজুর রহমান (কালেরকণ্ঠ)

Categories
অনলাইন প্রকাশনা গবেষণামূলক প্রকাশনা বিজ্ঞান বিনোদন বিবর্তন

যদি বানর সদৃশ জীব থেকে একসময় মানুষের বিবর্তন ঘটে থাকে তাহলে এখন কেনো তা আর ঘটছে না?

যদি বানর সদৃশ জীব থেকে একসময়  মানুষের বিবর্তন ঘটে থাকে তাহলে এখন  কেনো তা আর ঘটছে না?

 

অনেক বিবর্তনই মিউটেশনের মত আকষ্মিক প্রক্রিয়ার উপর নির্ভরশীল। আবার শুধু মিউটেশন বা জেনেটিক রিকম্বিনেশনের মত ব্যাপারগুলো তো ঘটলেই হবে না, তাকে আবার নির্দিষ্ট কোন সময়ের পরিবেশে সেই জীবকে টিকে থাকার জন্য বাড়তি সুবিধা যোগাতে হবে যার ফলে তা সমস্ত জিন পুল বা জনসমষ্টিতে ছড়িয়ে পড়তে পারবে। যেমন, প্রায় ৬০-৮০ লক্ষ বছর আগে আমাদের পূর্বপুরুষের মধ্যে যে মিউটেশন বা পরিব্যক্তিগুলো ঘটেছিল এবং তার ফলে সেই সময়ের পরিবেশের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের যেভাবে বিবর্তন হয়েছিলো তা আবার একইভাবে ঘটা এবং তার সাথে সাথে পারিপার্শ্বিকতাসহ অন্যান্য সবগুলো ফ্যাক্টরের সংযোগ বা সমন্বয় আবার একই রকমভাবে হওয়া প্রায় অসম্ভব। এজন্যই বিখ্যাত বিবর্তনবিদ বিজ্ঞানী জে. গুলড তার ‘ওয়ান্ডারফুল লাইফ’ বই তে বলেছিলেন যে, বিবর্তনের টেপটি যদি রিওয়াইন্ড করে আবার নতুন করে চালানো হয় তাহলে ফলাফল কখনই এক হবে না।  অনেকেই জানেন, বিজ্ঞানী ল্যাপ্লাস সেই আঠারো শতকের শেষ দিকে আস্থার সাথে ডিটারমিনিজম বা নিশ্চয়তাবাদের পক্ষে প্রচার চালিয়েছিলেন; তিনি বলেছিলেন, প্রতিটি কণার অবস্থান ও গতি সংক্রান্ত তথ্য যদি  জানা যায়, তবে ভবিষ্যতের দশা সম্বন্ধে আগেভাগেই ভবিষ্যদ্বাণী করা যাবে। কিন্তু বৈশ্বিক জটিলতার প্রকৃতি (nature of universal complexity) তাঁর সে উচ্চাভিলাসী স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে দেয়। ইতিহাসের পরতে পরতে লুকিয়ে আছে অনাকাংক্ষিত বিশৃংখলা আর অভূতপূর্ব জটিলতা যার ফলশ্রুতিতে প্রতি মিনিটেই জন্ম নেয় নানা ধরনের নাটকীয় অনিশ্চয়তা।  কোটি কোটি বছর ধরে পৃথিবীর প্রকৃতি পরিবেশ যে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে তার চিহ্ন আমরা পরিষ্কারভাবে দেখতে পাই প্রকৃতির এবং জীবের বিবর্তনের ইতিহাসে, এটি সত্য, কিন্তু এই প্রাকৃতিক পরিবর্তনগুলো যদি অন্যভাবে ঘটতো তাহলে জীবের বিবর্তনের ধারাও যে অন্যরকম হত তাতে কোন সন্দেহই নেই।  মানুষের উৎপত্তির ব্যাপারটাই ধরা যাক। এটি সৌভাগ্যপ্রসূত হাজার খানেক ঘটনার সমন্বয় ছাড়া কখনই ঘটতে পারতো না। ঘটনাগুলো যদি অন্যরকম ভাবে ঘটতো, তাহলে হয়তো শেষ পর্যন্ত এ পৃথিবীতে কোন ‘মানবীয় সত্ত্বা’র উন্মেষ ঘটতো না। এ প্রসঙ্গে কয়েকটি ঘটনা পর্যালোচনা করা যাক:

 

(ক) আমাদের পূর্বসূরী বহুকোষী জীবগুলো যদি ৫৩ কোটি বছর আগে ক্যাম্বরিয়ান বিস্ফোরণের সময় উত্তপ্ততা আর তেজস্ক্রিয়তাসহ নানা উৎপাত সহ্য করে টিকে না থাকতো,  তবে হয়তো পরবর্তীতে কোন মেরুদন্ডী প্রাণীর জন্ম হত না।

 

(খ)  সেই লোব ফিন বিশিষ্ট মাছগুলো যারা দেহের কেন্দ্রীয় অক্ষ বরাবর নিজস্ব ওজনকে বহন করার ক্ষমতা রাখে, সেগুলোর বিবর্তন এবং বিকাশ না ঘটলে মেরুদন্ডী প্রাণীগুলোর ডাঙ্গায় উঠে আসা সম্ভব হতো না। আবার সেই সময়ে যদি তাপমাত্রার ওঠানামার এবং বরফ যুগ শুরু হওয়ার ফলে পানির উচ্চতা কমে না যেত তাহলে হয়তো ডাঙ্গার প্রাণীগুলোর বিকাশ এভাবে ঘটতে পারতো না।

 

(গ)  সাড়ে ছয় কোটি বছর আগে এক বিশাল উল্কাপিন্ড পৃথিবীতে আছড়ে পরে বিশালাকার ডায়নোসরগুলোর অবলুপ্তির কারণ না ঘটাতো, তাহলে হয়ত সেই সময়ের নগন্য স্তন্যপায়ী জীবগুলো আর বিকশিত হওয়ার সুযোগ পেত না, বরং ডায়নোসরদের প্রবল প্রতাপের সাথে প্রতিযোগিতা করে বিকশিত হবার সুযোগ পেত না।

 

(ঘ) যদি আফ্রিকার গহীন অরণ্যে বিশ থেকে চল্লিশ লক্ষ বছর আগে আমাদের পুর্বপুরুষের দেহের ভিতরে পরিবর্তন না ঘটতো এবং সেই পরিবর্তনগুলোকে টিকিয়ে রাখার জন্য তারা তখনকার সেই পরিবেশগত সুবিধাগুলো না পেত, তাহলে হয়তো তারা দু’পায়ের উপর ভর করে দাঁড়াবার আর চলবার মত সুগঠিত হতে পারত না,  আজকে মানুষের বিবর্তনও ঘটতো না, আমরাও আজকে আর এখানে থাকতাম না।

 

কাজেই দেখা যাছে পুরো মানব বিবর্তনটিই দাড়িয়ে আছে অনেকগুলো আকষ্মিক ঘটনার সমন্নয়ে।  বিবর্তনের পুরো প্রক্রিয়াটা আবার প্রথম থেকে চালানো গেলেও সে ‘দৈবাৎ ঘটে যাওয়া’ ঘটনাগুলো একের পর এক ঘটবেই, এমন নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারেনা।

Sources:

# Stephen Jay Gould, Wonderful Life: The Burgess Shale and the Nature of History, W. W. Norton & Company, 1990

# Gould, SJ, 1994, The evolution of life on earth, Scientific American, October issue.

# বন্যা আহমেদ, বিবর্তনের পথ ধরে, অবসর, ২০০৭ (পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত ২০০৮), পৃষ্ঠা ২৩৩

Categories
অনলাইন প্রকাশনা গবেষণামূলক প্রকাশনা চিকিত্সাশাস্ত্র এবং বিজ্ঞান প্রকৌশল ও বিজ্ঞান বিজ্ঞান বিনোদন বিবর্তন

তেজস্ক্রিয় ডেটিং দিয়ে কীভাবে ফসিলের সঠিক বয়স নির্ধারণ করা যায়?

তেজস্ক্রিয় ডেটিং দিয়ে কীভাবে ফসিলের সঠিক বয়স নির্ধারণ করা যায়?  

 

 

সুনির্দিষ্টভাবে সময় নির্ধারণের জন্য প্রয়োজন একধরণের ভূতাত্ত্বিক ঘড়ির, যা আমাদেরকে বলে দিবে পৃথিবীর বিভিন্ন শিলাস্তরের কবে তৈরি হয়েছিলো আর কোন প্রাণী বা উদ্ভিদের ফসিলটির বয়সই বা কত। আর বিজ্ঞানীরা সেটাই খুঁজে পেলেন বিভিন্ন ধরণের তেজস্ক্রিয় (Radioactive) পদার্থের মধ্যে, এই ভূতাত্ত্বিক ঘড়িগুলোকে বলা হয় রেডিওমেট্রিক ঘড়ি। কারণ, তারা প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তার মাপ থেকে আমাদেরকে সময়ের হিসেব বলে দেয়। পদার্থের তেজস্ক্রিয়তার ব্যাপারটা ঠিকমত বুঝতে হলে আমাদেরকে একটু জীববিদ্যার আঙিনা পেরিয়ে পদার্থবিদ্যা ও রসায়নবিদ্যার উঠোনে পা রাখতে হবে। আধুনিক বিজ্ঞান আজকে এমনি এক অবস্থায় চলে এসেছে যে, তার এক শাখা আরেক শাখার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে, কোন এক শাখার মধ্যে গণ্ডিবদ্ধ থেকে পুরোটা বোঝা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে যাই হোক, চলুন দেখা যাক, এত যে আমরা অহরহ তেজস্ক্রিয়তা, তেজস্ক্রিয় ক্ষয় (Radioactive decay) অথবা রাসায়নিক বা নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার কথা শুনি তার মুলে আসলে কি রয়েছে। চট করে, খুব সংক্ষেপে, একবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক অণু পরমাণুর গঠন এবং তাদের মধ্যে ঘটা বিভিন্ন বিক্রিয়া এবং তেজস্ক্রিয়তার মূল বিষয়টির উপর।

 

উনবিংশ শতাব্দীর শেষ পর্যন্তও কিন্তু আমরা ভেবে এসেছি যে, কোন পদার্থের পরমাণু অবিভাজ্য, তাকে আর কোন মৌলিক অংশে ভাগ করা যায় না। একশোটির মত মৌলিক পদার্থ রয়েছে – লোহা, সোনা, অক্সিজেন, ক্লোরিন বা হাইড্রোজেনের মত মৌলিক পদার্থগুলোর পরমাণুই হচ্ছে তার সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম অংশ, একে আর ছোট অংশে ভেঙ্গে ফেলা সম্ভব নয়। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান আমাদেরকে নিয়ে গেছে জ্ঞানের এক নতুন দিগন্তে। আমরা এখন জানি যে, প্রত্যেকটি মৌলিক পদার্থের পরমাণুই ইলেকট্রন, প্রোটন এবং নিউট্রনের সমন্বয়ে তৈরি। পরমাণুর মাঝখানে কেন্দ্রে রয়েছে নিউক্লিয়াস যা প্রোটন এবং নিউট্রনের সমন্বয়ে তৈরি আর তার চারপাশের অক্ষে ঘুরছে ইলেকট্রনগুলো। নিউট্রনের কোন চার্জ নেই, সে নিরপেক্ষ, ইলেকট্রন ঋণাত্মক আর প্রোটন ধনাত্মক চার্জবিশিষ্ট। সাধারণতঃ একটি পরমাণুতে ইলেকট্রন, প্রোটনের সংখ্যা  সমান থাকে বলে তাদের ধনাত্মক এবং ঋণাত্মক চার্জ কাটাকাটি হয়ে তার মধ্যে নিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। মৌলিক পদার্থগুলোর বৈশিষ্ট্যের মধ্যে আমরা যে  আকাশ পাতাল পার্থক্য দেখি তার কারণ আর কিছুই নয়, তাদের পরমাণুর ভিতরে  ইলেকট্রন, প্রোটন এবং নিউট্রনের সংখ্যার তারতম্য। অর্থাৎ সোনার পরমাণু বা নিউক্লিয়াস কিন্তু সোনা দিয়ে তৈরি নয়, তাদের মধ্যে সোনার কোন নাম গন্ধও নেই। অক্সিজেন বা হাইড্রোজেন বলুন, সোনা বলুন, রূপা বলুন, হেলাফেলা করা তামা বা সীসাই বলুন সব মৌলিক পদার্থই এই তিনটি মুল কণা, ইলেকট্রন, প্রোটন এবং নিউট্রনের সমন্বয়েই গঠিত। লোহার সাথে সোনার পার্থক্যের কারণ এই নয় যে তার নিউক্লিয়াস সোনার মত দামী বা চকচকে কণা দিয়ে তৈরি! এর কারণ তাদের পরমাণুর ভিতরে এই মুল কণাগুলোর সংখ্যার পার্থক্য- সোনার নিউক্লিয়াসে রয়েছে ৭৯টি প্রোটন এবং ১১৮টি নিউট্রন; আর ওদিকে লোহার নিউক্লিয়াসে রয়েছে ২৬টি প্রোটন এবং ৩০টি নিউট্রন। একই ধরণের ব্যাপার দেখা যায় আমাদের ডিএনএ-এর গঠনের ক্ষেত্রেও। মানুষ, ঘোড়া, ফুলকপি বা আরশোলার জিনের উপাদানে তাদের আলাদা আলাদা কোন বিশেষ বৈশিষ্ট্য খুঁজে পাওয়া যাবে না, তারা সবাই ডিএনএ-এর সেই চারটি নিউক্লিওটাইডের (A=adenine, G= guanine, C=cytosine T=thymine) বিভিন্ন  রকমফেরে তৈরি।

চিত্র : পরমাণুর গঠন

আমাদের চারদিকে আমরা যে সব পদার্থ দেখি তার বেশীরভাগই যৌগিক পদার্থ, সাধারণভাবে বলতে গেলে বিভিন্ন মৌলিক পদার্থগুলোর মধ্যে ইলেকট্রন বিনিময়ের ফলে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমেই এই যৌগিক পদার্থগুলোর উৎপত্তি হয়। একটা ইলেকট্রন কণা শুষে নিয়ে একটা প্রোটন কণা  নিউট্রনে পরিণত হয়ে যেতে পারে, আবার ঠিক উলটোভাবে একটা নিউট্রন তার ভিতরের একটি ঋণাত্মক চার্জ বের করে দিয়ে পরিণত হতে পারে প্রোটন কণায়। কিন্তু  শুনতে যতটা সোজা সাÌটা শোনাচ্ছে  ব্যাপারটা আসলে কিন্তু ঠিক সেরকম নয়। এ ধরণের পরিবর্তন সম্ভব শুধুমাত্র নিউক্লিয়ার বা পারমাণবিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে। এর জন্য প্রয়োজন হয় বিশাল পরিমাণ শক্তির, আর তাই যে কোন পারমাণবিক বিক্রিয়া থেকে যে শক্তি নির্গত হয় তার সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়ার কোন তুলনাই করা সম্ভব নয়। সাধারণ বোমার চেয়ে নিউক্লিয়ার বোমা বহুগুণ শক্তিশালী। হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের ভয়াবহতা তাই আমাদেরকে স্তম্ভিত করে দেয়। নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার ফলে পরমাণুর নিউক্লিয়াসের গঠন বদলে যায়, কিন্তু রাসায়নিক বিক্রিয়ায় নিউক্লিয়াসের কোন পরিবর্তন ঘটে না। আর ঠিক এ কারণেই সেই আরবীয় আ্যলকেমিষ্টরা বহু শতকের চেষ্টায়ও অন্য ধাতুকে সোনায় পরিণত করতে পারেননি, কারণ এর জন্য প্রয়োজন ছিলো নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার। প্রায় হাজার বছর আগে, সে সময়ে পরমাণুর গঠন বা পারমাণবিক বিক্রিয়ার কথা জানা না থাকায় তারা রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমেই মৌলিক ধাতুর পরিবর্তনের ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিলেন যুগ যুগ ধরে ।

 

 

প্রত্যেকটি মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াসেই নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রোটন কণা থাকে, আর নিউক্লিয়াসে প্রোটনের এই সংখ্যাকে বলে পারমাণবিক সংখ্যা (atomic number) যা দিয়ে মুলতঃ মৌলিক পদার্থের বেশীরভাগ রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য নির্ধারিত হয় (পরোক্ষভাবে একে ইলেকট্রনের সংখ্যাও বলা যেতে পারে কারণ  সাধারণভাবে পরামাণুর কক্ষ পথে বিপরীত চার্জবিশিষ্ট ইলেকট্রনের সংখ্যাও সমান থাকে)।  ইলেকট্রনের তুলনায় প্রোটন এবং নিউট্রনের ভার অপেক্ষাকৃত অনেক বেশী, তাই কোন পদার্থের ভর সংখ্যা (mass number) মাপা হয় তার প্রোটন এবং নিউট্রনের সংখ্যা দিয়ে। যেমন ধরুন, সাধারণত কার্বনের নিউক্লিউয়াসে ৬টি প্রোটন এবং ৬টি নিউট্রন থাকে, তাই তার ভর সংখ্যা  হচ্ছে ১২, একে বলে কার্বন-১২। সাধারণভাবে নিউক্লিউয়াসে নিউট্রনের সংখ্যা প্রোটনের সংখ্যার সমান বা কয়েকটা বেশী থাকে।  কিন্তু আবার কখনও কখনও কোন কোন পদার্থের নিউক্লিয়াসে সমান সংখ্যক প্রোটন থাকলেও তাদের বিভিন্ন ভার্শনের মধ্যে নিউট্রনের সংখ্যায় ভিন্নতা দেখা যায়। যেমন, কার্বন-১৩ এ রয়েছে ৭টি নিউট্রন আর কার্বন-১৪এ থাকে ৮টি নিউট্রন, যদিও তাদের প্রত্যেকেরই প্রোটনের সংখ্যা সেই ৬টিই। আর মৌলিক পদার্থগুলোর মধ্যে যখন প্রোটনের সংখ্যা সমান থাকে কিন্তু নিউট্রনের সংখ্যায় তারতম্য দেখা যায় তখন তাদেরকে বলা হয় আইসোটোপ (Isotope)।  তেজস্ক্রিয় ক্ষয় এবং তেজস্ক্রিয় ডেটিং বুঝতে হলে এই আইসোটোপের ব্যাপারটা ভালো করে বোঝা দরকার। এই আইসোটোপগুলোরই কোন কোনটা প্রকৃতিতে অস্থিত অবস্থায় থাকে এবং তারা ধীরে ধীরে ক্ষয়ের মাধ্যমে  নিজেদের নিউক্লিয়াসের গঠনের পরিবর্তনের মাধ্যমে আরেক মৌলিক পদার্থে রূপান্তরিত হয়। আইসোটোপের এই অস্থিরতারই আরেক নাম হচ্ছে ‘রেডিওআ্যকটিভিটি’ বা ’তেজস্ক্রিয়তা’। আর যে পদ্ধতিতে ক্ষয় হতে হতে তারা আরেক পদার্থে পরিণত হয় তাকেই বলে ‘তেজস্ক্রিয় ক্ষয়’।  যেমন ধরুন, সীসার ৪টি সুস্থিত,  কিন্তু ২৫টি অস্থিত আইসোটোপ আছে, আর এই ২৫টি অস্থিত আইসোটোপই হচ্ছে তেজস্ক্রিয় পদার্থ। আবার ইউরেনিয়ামের সবগুলো আইসোটোপই অস্থিত এবং তেজস্ক্রিয়। আর আমাদের এই পরম ডেটিং পদ্ধতির মুল চাবিকাঠিই হচ্ছে পদার্থের এই তেজস্ক্রিয় বৈশিষ্ট্য এবং তার ফলশ্রুতিতে ঘটা তেজস্ক্রিয় ক্ষয়।

 

 

এই তেজস্ক্রিয় ক্ষয় ঘটতে পারে বিভিন্নভাবে। আলফা এবং বেটা ক্ষয়ের কথা অনেক শুনি আমরা।   আলফা ক্ষয়ের সময় আইসোটোপটি একটা আলফা কণা (দু’টো প্রোটন এবং দু’টো নিউট্রনের সমন্বয়ে তৈরি এই আলফা কণা) হারায় তার নিউক্লিয়াস থেকে। অর্থাৎ তার ভরসংখ্যা ৪ একক কমে গেলেও  পারমাণবিক সংখ্যা বা প্রোটনের সংখ্যা কমছে মাত্র ২ একক। কিন্তু এর ফলাফল কি দাঁড়াচ্ছে? আর কিছুই নয়, নিউক্লিয়াসের গঠনের পরিবর্তন হয়ে আইসোটোপটি এক মৌলিক পদার্থ থেকে আরেক মৌলিক পদার্থে পরিণত হয়ে যাচ্ছে।

 

একটা উদাহরণ দিলে বোধ হয় ব্যাপারটা আরেকটু খোলাসা হবে – আলফা ক্ষয়ের ফলে ইউরেনিয়াম ২৩৮ (৯২ টি প্রোটন এবং ১৪৬ নিউট্রনের সমন্বয়ে তৈরি এই মৌলিক পদার্থটি) পরিণত হচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন এক মৌলিক পদার্থ থোরিয়াম ২৩৪-এ (৯০ টি প্রোটন এবং ১৪৪ নিউট্রনের সমন্বয়ে তৈরি)। ওদিকে আবার বেটা ক্ষয়ের ক্ষেত্রে কিন্তু ঘটে আরেক ঘটনা। আইসোটোপের পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন বের করে দিয়ে নিউক্লিয়াসের ভিতরের একটি নিউট্রন প্রোটনে পরিণত হয়ে যায়। আরও বিভিন্ন ধরণের প্রক্রিয়ায় তেজস্ক্রিয় ক্ষয় ঘটতে পারে। তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের মুলে রয়েছে বিভিন্ন আইসোটোপের ভিতরের নিউক্লিয়াসের গঠনের পরিবর্তন বা পারমাণবিক পরিবর্তন এবং তার ফলশ্রুতিতেই এক মৌলিক পদার্থ থেকে আরেক নতুন মৌলিক পদার্থে রূপান্তরিত হয় – এই ব্যাপারটা বোধ হয় এতক্ষণে আমাদের কাছে বেশ পরিষ্কার হয়ে উঠেছে। আর যেহেতু ভূত্বকের বিভিন্ন শিলাস্তরে বিভিন্ন ধরনের আইসোটোপ পাওয়া যায় তাই এই তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের বৈশিষ্ট্যকে কাজে লাগিয়ে শিলা বা ফসিলের বয়স নির্ধারণ করা হয়। চলুন তাহলে দেখা যাক কিভাবে এই তেজস্ক্রিয় আইসোটোপগুলোকে ভূতাত্ত্বিক ঘড়ি হিসেবে ব্যবহার করে পৃথিবী এবং তার প্রাণের বিবর্তনের ধারাবাহিক ইতিহাসের চিত্রটিকে বিজ্ঞানীরা কালি কলমে পরিষ্কারভাবে ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন।

 

বিভিন্ন শিলার মধ্যে বিভিন্ন ধরণের খনিজ পদার্থ বিদ্যমান থাকে, আর এই খনিজ পদার্থের মধ্যেই থাকে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপগুলো। আধুনিক তেজস্ক্রিয় ডেটিং পদ্ধতিগুলোর মধ্যে ইউরেনিয়াম-সিরিজ ডেটিং বহুলভাবে ব্যবহৃত। তেজস্ক্রিয় ইউরেনিয়াম-২৩৮ ক্ষয় হতে হতে সীসা-২০৬ এ পরিণত হয় সুদীর্ঘ সাড়ে চারশো কোটি বছরে। এক এক করে, পূর্বনির্ধারিত একটি নির্দিষ্ট হারে এই তেজস্ক্রিয় আইসোটোপগুলো নতুন এক স্থিত এবং অতেজস্ক্রিয় পদার্থে পরিণত হয়ে যেতে থাকে। দীর্ঘ সময়ের বিস্তৃতিতে ঘটতে থাকলেও এই ক্ষয় কিন্তু ঘটে একটি সুনির্দিষ্ট হারে, আর সেখানেই লুকিয়ে রয়েছে আমাদের রেডিওমেট্রিক বা তেজস্ক্রিয় ডেটিং পদ্ধতির জীয়নকাঠি। অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য এই ক্ষয়ের হার মাপার জন্য আইসোটোপের হাফ-লাইফ বা অর্ধ-জীবন -এর হিসাবটি ব্যবহার করা হয়।  বিজ্ঞানীরা প্রথমে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে, কোন এক আইসোটোপের নমুনার পরমাণুর অর্ধেকাংশের ক্ষয় হয়ে যেতে কত সময় লাগবে তার হিসেবটা বের করে ফেলেন। আইসোটোপের অর্ধ-জীবনের ব্যাপারটা একটা উদাহরণের মধ্যমে ব্যাখ্যা করে দেখা যাক: ধরুন, কোন একটি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ’ক’ -এর অর্ধ-জীবন এক লাখ বছর, সে ধীরে ধীরে তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের মাধ্যমে মৌলিক পদার্থ ‘ক‘ থেকে ‘খ’ এ পরিণত হয় এবং এক লাখ বছরের শুরুতে পরমাণুর সংখ্যা ছিলো ১০০০। এখন প্রথম এক লাখ বছর বা এক অর্ধ-জীবন পার করে দেওয়ার পর আমরা আইসোটোপটিকে কি অবস্থায় দেখতে পাবো? আইসোটোপ ‘ক’ -এর ১০০০ পরমাণুর অর্ধেক ৫০০ পরমাণু এখনও সেই আগের অবস্থা ‘ক’ তেই রয়ে গেছে আর বাকী অর্ধেক বা ৫০০ পরমাণু ’খ’তে পরিণত হয়ে গেছে।  তাহলে কি ২ লাখ বছর ’ক’ -এর সবটাই ‘খ’ তে পরিণত হয়ে যাবে? না, অর্ধ-জীবনের হিসেবের কায়দাটা বেশ সোজা হলেও ঠিক এরকম সরলরৈখিক নয়। দুই লাখ বছর পরে দেখা যাবে যে, ‘ক’ -এর অবশিষ্ট ৫০০ পরমাণুর অর্ধেক অর্থাৎ আরও ২৫০টি ‘খ’ তে পরিণত হয়ে ’খ’ -এর পরমাণুর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫০ এ, আর তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের ফলশ্রুতিতে ‘ক’ তে এখন অবশিষ্ট রয়েছে ২৫০টি পরমাণু। তারপর তিন লাখ বছর পর ‘খ’ -এর পরমাণুর সংখ্যা এসে দাঁড়াবে ৮৭৫ এ। এখন ধরুন, তিন লাখ বছর পর আজকে এখানে দাঁড়িয়ে একজন বিজ্ঞানী খুব সহজেই বের করে ফেলতে পারবেন এই আইসোপটিসহ শিলাটির বয়স কত। আর তার জন্য তাকে জানতে হবে দু’টো তথ্য: আইসোটোপ ’ক’ -এর অর্ধ-জীবন কত (বিজ্ঞানীরা ইতোমধ্যেই তার বিস্তারিত তালিকা তৈরি করে রেখেছেন), আর  ওই শিলায় ‘ক’ এবং ‘খ’ -এর পরিমাণের আনুপাতিক হার কত।

 

 

ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরি ইত্যাদির ফলশ্রুতিতে ভূপৃষ্ঠে লাভা নির্গত হয়। লাভা যে মুহূর্তে ঠাণ্ডা এবং শক্ত হয়ে কেলাসিত হতে শুরু করে,  তখন থেকেই ঘুরতে শুরু করে এই তেজস্ক্রিয় ঘড়ির কাঁটা। তখন থেকেই ক্রমাগতভাবে নির্দিষ্ট হারে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ এবং ক্ষয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এই তেজস্ক্রিয় মৌলিক পদার্থগুলো রূপান্তরিত হতে শুরু করে আরও সুস্থিত অন্য কোন মৌলিক পদার্থে। কিন্তু এই প্রক্রিয়া যখন চলতে থাকে তখন আংশিকভাবে রূপান্তরিত পদার্থটির অংশটিও শিলাস্তরে ভিতরেই রয়ে যায়। তাই এদের দু’টোর পরিমাণের আনুপাতিক হার নির্ধারণ করা কোন কঠিন কাজ নয়। যেমন ধরুন, পটাসিয়াম-৪০ যখন সুস্থিত আর্গন-৪০ এ পরিণত হতে থাকে, তখন আর্গন-৪০ লাভার কেলাসের মধ্যে গ্যাসের আকারে আটকে থাকে। বিভিন্ন শিলার মধ্যে বহুল পরিমাণে পটাসিয়াম-আর্গন পাওয়া যায় বলে বিজ্ঞানীরা বহুলভাবে পটাসিয়াম-আর্গন ডেটিং পদ্ধতি ব্যবহার করেন। ইউরেনিয়াম সিরিজের ডেটিং -এর কথা আগেই উল্লেখ করেছিলাম। ইউরেনিয়াম ২৩৮ -এর অর্ধ-জীবন সাড়ে চারশো কোটি বছর, পটাসিয়াম ৪০ -এর হচ্ছে  ১৩০ কোটি বছর, ইউরেনিয়াম ২৩৫ -এর ৭৫ কোটি বছর, ওদিকে আবার কার্বন ১৫ -এর অর্ধ-জীবন হচ্ছে মাত্র ২.৪ সেকেন্ড। এত বিশাল সময়ের পরিসরে বিস্তৃত অর্ধ- জীবন সম্পন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থগুলো রয়েছে বলেই বিজ্ঞানীরা আজকে একটি দু’টি নয়, বহু রকমের তেজস্ক্রিয় ডেটিং বা অন্যান্য ডেটিং -এর সাহায্য নিতে পারেন কোন ফসিলের বয়স নির্ধারণের জন্য। ফসিলের আপেক্ষিক বয়স সম্পর্কে একটা ধারণা করতে পারলে সেই অনুযায়ী প্রযোজ্য ডেটিং পদ্ধতিটা ব্যবহার করেন তারা।  বিভিন্ন পদ্ধতিতে ক্রস-নিরীক্ষণ করে তবেই তারা নিশ্চিত হন ফলাফল সম্পর্কে। আর তার ফলেই সম্ভব হয়ে ওঠে এত সুনির্দিষ্টভাবে এত প্রাচীন সব ফসিলের বয়স নির্ধারণ করা।  চলুন দেখা যাক বিভিন্ন ধরণের ডেটিং পদ্ধতি ব্যবহার করে কি করে ফসিলের বয়স বের করা হয়।

 

 

অনেক শিলাস্তরে বিশেষ করে আগ্নেয় শিলাস্তরে প্রচুর পরিমাণে ইউরেনিয়াম, পটাসিয়াম জাতীয় তেজস্ক্রিয় পদার্থ পাওয়া যায়। আবার পাললিক শিলার মধ্যে তেমন কোন তেজস্ক্রিয় পদার্থের অস্তিত্বই থাকে না। কিন্তু আমরা জানি যে, আগ্নেয় শিলায় ফসিল সংরক্ষিত হয় না, ফসিল পাওয়া যায় শুধু পাললিক শিলাস্তরে। তাহলে পাললিক শিলাস্তরের এই ফসিলগুলোর বয়স কিভাবে নির্ধারণ করা হয়? এক্ষেত্রে আপেক্ষিক এবং পরম দু’টো পদ্ধতিই ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রথমে পাললিক শিলা স্তরের উপরে এবং নীচে যে আগ্নেয় শিলাস্তর দু’টো তাকে স্যান্ডুইচের মত আটকে রেখেছে, তাদের বয়স নির্ধারণ করা হয়। এখান থেকে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন যে মধ্যবর্তী পাললিক শিলাস্তরে সংরক্ষিত ফসিলের বয়স এই দুই আগ্নেয় শিলাস্তরের বয়সের মাঝামাঝিই হবে। এখন যদি দেখা যায় যে, ফসিলটির নিজের মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণে তেজস্ক্রিয় পদার্থ আটকে গেছে তাহলে তেজস্ক্রিয় ডেটিং -এর মাধ্যমে ফসিলটির বয়স সরাসরিই নির্ধারণ করা যেতে পারে। সরাসরি ফসিলের বয়স হিসেব করার জন্য তেজস্ক্রিয় ডেটিং পদ্ধতিগুলোর মধ্যে রেডিও-কার্বন ডেটিং হচ্ছে অত্যন্ত বহুলভাবে ব্যবহৃত আরেকটি পদ্ধতি। এই পদ্ধতি দিয়ে শিলাস্তরের বয়স নয়, ফসিলের মধ্যে মৃত টিস্যুরই বয়স সরাসরি নির্ধারণ করে ফেলা যায়। কয়েক হাজার বছরের অর্থাৎ ভূতাত্ত্বিক সময়ের বিচারে অপেক্ষাকৃত সাম্প্রতিক কালের ইতিহাস জানার জন্য এই পদ্ধতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে মানুষ এবং তার পূর্বপুরুষদের ফসিলের বয়স নির্ধারণে ব্যাপকভাবে রেডিও কার্বন ডেটিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

 

 

সাধারণত আমরা প্রকৃতিতে যে কার্বনের কথা শুনি তার প্রায় সবটাই সুস্থিত আইসোটোপ কার্বন ১২। তবে খুবই সামান্য পরিমাণে হলেও অস্থিত কার্বন-১৪ -এর অস্তিত্বও দেখতে পাওয়া যায় প্রকৃতিতে। কসমিক রেডিয়েশন বা বিচ্ছুরণের ফলে বায়ুমণ্ডলে অনবরতই একটি নির্দিষ্ট হারে সুস্থিত নাইট্রোজেন ১৪ থেকে এই কার্বন-১৪ তৈরি হতে থাকে। এই কার্বন-১৪ -এর অর্ধ-জীবন  হচ্ছে ৫,৭৩০ বছর, অর্থাৎ প্রতি ৫৭৩০ বছরে কার্বন-১৪ -এর অর্ধেকাংশ তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের মাধ্যমে নাইট্রোজেন-১৪ এ রূপান্তরিত হয়। কার্বন-১৪ -এর অর্ধ-জীবন এত ছোট যে, খুবই অল্প পরিমাণে হলেও ক্রমাগতভাবে নাইট্রোজেন ১৪ থেকে কার্বন ১৪ তৈরি হতে না থাকলে প্রকৃতিতে এর অস্তিত্ব বেশীদিন টিকে থাকতে পারতো না। যাই হোক, এর উৎপত্তি এবং ক্ষয়ের হার ধ্রুব হওয়ার কারণে প্রকৃতিতে কার্বন-১২ আর কার্বন-১৪ -এর আনুপাতিক হার সব সময় সমান থাকে। এই দুই রকমের কার্বন আইসোটোপই বায়ুমণ্ডলে রাসায়নিক-ভাবে অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে কার্বন ডাই অক্সাইডে পরিণত হয়ে যায়। উদ্ভিদ তার খাদ্য তৈরির জন্য এই কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে, আর ওদিকে প্রাণীকুল গ্রহণ করে উদ্ভিদকে তার খাদ্য হিসেবে, আবার তারাই হয়তো পরিণত হয় অন্য কোন প্রাণীর খাদ্যে। উদ্ভিদ যেহেতু কার্বন-১২ আর কার্বন-১৪ দিয়ে তৈরি উভয় কার্বন ডাই অক্সাইডই গ্রহণ করে তাই সমগ্র ফুড চেইন বা খাদ্য শৃঙ্খল জুড়েই এই দুই কার্বন আনুপাতিক হারে সমানভাবেই বিরাজ করে। বায়ুমন্ডল থেকে উদ্ভিদে, উদ্ভিদ থেকে প্রাণীর দেহে সঞ্চারিত হয় এই কার্বন ১২ এবং কার্বন ১৪। কিন্তু এই চক্রের সব কিছুই বদলে যায় যেই মাত্র প্রাণী বা উদ্ভিদের মৃত্যু ঘটে, সে আর নতুন কোন কার্বন ১৪ গ্রহণ করতে পারে না, তখন তার দেহে বিদ্যমান কার্বন-১৪ একটি নির্দিষ্ট হারে নাইট্রোজেন ১৪ এ রূপান্তরিত হতে থাকে। সুতরাং একটা মৃত জীবের দেহে কার্বন-১২ -এর তুলনায় কার্বন ১৪ -এর পরিমাণ আনুপাতিক হারে কমে যেতে শুরু করে। আর সে কারণেই ফসিলের দেহে বিদ্যমান কার্বন-১২ এবং কার্বন-১৪ -এর এই আনুপাতিক হার হিসেব করে সহজেই তার বয়স নির্ধারণ করে ফেলা যায়। তবে রেডিও কার্বন ডেটিং পদ্ধতি দিয়ে শুধুমাত্র অপেক্ষাকৃত সাম্প্রতিক  কালের ফসিলের বয়স নির্ধারণ করা সম্ভব, ৩০ হাজার থেকে খুব বেশী হলে ৫০ হাজার বছরের পুরনো ফসিলের বয়স বের করা সম্ভব এই পদ্ধতিতে। আমরা আগেই দেখেছি, কার্বন-১৪ -এর অর্ধ-জীবন ভূতাত্ত্বিক সময়ের অনুপাতে খুবই ক্ষুদ্র, মাত্র ৫৭৩০ বছর ৬। তাই, ৩০-৫০ হাজার বছরের চেয়েও পুরনো ফসিলে যে অতি সামান্য পরিমাণে কার্বন ১৪ বিদ্যমান থাকে তা দিয়ে আর যাই হোক সঠিকভাবে তার বয়স নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তবে কয়েক হাজার বছরের ফসিলের ডেটিং -এর জন্য এই পদ্ধতির জুড়ি মেলা ভার।

 

তাহলে দেখা যাছে যে, তেজস্ক্রিয় পদার্থগুলোর এই সুনির্দিষ্ট অর্ধ-জীবনের ব্যাপারটি আমাদের সামনে শিলাস্তরের এবং ফসিলের বয়স বের করার এই অনবদ্য সুযোগের দরজাটি খুলে দিয়েছে। বহু আগে থেকেই ধারণা করে আসলেও ১৯২০ সালের দিকেই প্রথম তেজস্ক্রিয় ডেটিং পদ্ধতি ব্যবহার করে দেখানো হয়েছিলো যে, পৃথিবীর বয়স কয়েকশো কোটি বছর। তারপর থেকে বিজ্ঞানীরা নানাভাবেই নানা রকমের তেজস্ক্রিয় পদ্ধতিতে ভূতাত্ত্বিক বয়স নির্ধারণের উপায় বের করেছেন। আর শুধু তেজস্ক্রিয় ডেটিং ই তো নয়, এর সাথে সাথে আরও বিভিন্ন ধরণের আধুনিক পদ্ধতিও আবিষ্কার করা হয়েছে পৃথিবীর এই মহাযাত্রার সময়কাল নির্ধারণের জন্য। যেমন ধরুন, বিজ্ঞানীরা এখন জানেন যে, পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র প্রায়শই তার দিক পরিবর্তন করে। ‘প্রায়শ’ বলতে আমাদের সাধারণ হিসেবে নয়, ভূতাত্ত্বিক বিশাল সময়ের তুলনায় ‘প্রায়শই’ বোঝানো হচ্ছে এখানে। গত এক কোটি বছরে পৃথিবী নাকি মোট ২৮২ বার উত্তর থেকে দক্ষিণে এবং দক্ষিণ থেকে উত্তরে তার চৌম্বক ক্ষেত্রের দিক পরিবর্তন করেছে। আর তার সাথে সাথে আমাদের পৃথিবীর অভ্যন্তরের আগ্নেয়গিরির গলিত শিলার ভিতরের খনিজ পদার্থগুলোও কম্পাসের মতই দিক পরিবর্তন করে এবং তার একটা সুনির্দিষ্ট রেকর্ড রেখে দেয়। তারপর যখন এই লাভাগুলো শক্ত হয়ে শিলাস্তরে পরিণত হয় তখন এই রেকর্ডগুলো অবিকৃত অবস্থায় ওইভাবেই থেকে যায়। এ থেকেও ভূতত্ত্ববিদেরা অনেক শিলাস্তরেরই আপেক্ষিক বয়স নির্ধারণ করতে পারেন। এছাড়া আরও মজার মজার ধরণের কিছু ডেটিং পদ্ধতি রয়েছে, যেমন ধরুন, বড় বড় গাছের কাণ্ডে যে রিং বা বৃত্ত তৈরি হয় তার মাধ্যমেও উদ্ভিদের ফসিলের বা কাঠের বয়স বের করে ফেলা সম্ভব। বাৎসরিক বৃদ্ধির ফলে গাছের গোঁড়ায় যে স্তর বা বৃক্ষ-বৃত্তের সৃষ্টি হয় তা এক ধরণের প্রাকৃতিক নিয়ম মেনেই ঘটে, আর  এর থেকেই বিজ্ঞানীরা হিসেব করে বের করতে পারেন তার বয়স। এরকম আরও বহু ধরণের ডেটিং পদ্ধতি রয়েছে, নীচের ছবিটিতে (চিত্র ৭.৫) এরকম বিভিন্ন ধরণের ডেটিং পদ্ধতি এবং তাদের দিয়ে কোন কোন সময়ের সীমা নির্ধারণ করা যায় তার একটা সংক্ষিপ্ত তালিকা দেওয়া হল। এখন আর আমাদের একটি বা দু’টি ডেটিং পদ্ধতির উপর নির্ভর করে শিলাস্তর বা ফসিলের বয়স নির্ধারণ করার প্রয়োজন হয় না।

চিত্র: পরমাণুর গঠন বিভিন্ন রেঞ্জের সময়ের জন্য বিভিন্ন ধরণের ডেটিং পদ্ধতি

 

আমাদের হাতে আছে বহু রকমের পদ্ধতি যা দিয়ে কোন একটা ফলাফলকে বারবার বিভিন্নভাবে ক্রস চেক বা নিরীক্ষণ করে নিতে পারি। পদ্ধতিগুলো শুধু যে বৈজ্ঞানিক তাইই নয়, প্রয়োজন এবং গুরুত্ব অনুযায়ী বিজ্ঞানীরা এত রকমের পদ্ধতি ব্যবহার করেন যে, এর ফলাফলের সঠিকত্ব নিয়ে আর দ্বিমত বা সন্দেহ প্রকাশ করার তেমন অবকাশ থাকে না। খ্রিষ্টীয় ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন রক্ষণশীল দলগুলো এখনও যখন বাইবেলের সেই ছয় হাজার বছরের পৃথিবীর সৃষ্টির ইতিহাস নিয়ে হইচই করেন এবং এই ডেটিং পদ্ধতিগুলোকে ভুল বলে চালিয়ে দেওয়ার প্রচারণায় লিপ্ত হন তখন তাদের অজ্ঞতা দেখে স্তম্ভিত হয়ে যাওয়া ছাড়া আর কি বা করার থাকে? উট পাখীর মত বালিতে মাথা গুঁজে পড়ে থাকলেই তো আর বাস্তবতাকে অস্বীকার করা যাবে না। সত্যকে মেনে নিয়ে জ্ঞানের সীমাকে প্রসারিত করাই হচ্ছে মানব সভ্যতার রীতি, এভাবেই আমরা এগিয়েছি।

 

 

# উত্তরটি বন্যা আহমেদ, বিবর্তনের পথ ধরে (পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত ২০০৮) হতে সংগৃহীত


# Dawkins, R, 2004, The Ancestor’s tale, Houghton Miffin Company, NY, Boston: USA, pp 516-523.

# TM Berra, 1990, Evolution and the Myth of Creationism, Stanford,University Press, Stanford, California, pp 36-37.

# C Stringer and Andrews P, The Complete Wrold of Human Evolution,  Thames and Hudson Ltd, London, p 32, 2005,

Categories
অনলাইন প্রকাশনা আত্ম উন্নয়ন গবেষণামূলক প্রকাশনা চিকিত্সাশাস্ত্র এবং বিজ্ঞান ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতা বিজ্ঞান বিবর্তন ভালবাসা/প্রণয়লীলা

বিবর্তন যৌনতা বা সেক্সের উদ্ভবকে ব্যাখ্যা করতে পারে না

বেশ কয়েকটি বিষয়কে ‘সেক্স’ এর উদ্ভবের কারণ হিসবে ধরা যেতে পারে। 

১) যদি অযৌনপ্রজনের মাধ্যমে বংশ বৃদ্ধি হতে থাকে, তাহলে জনপুঞ্জে কোন ভ্যারিয়েশন থাকে না। ফলে কোন এক সময় বাজে মিউটেশনের ফসল হিসেবে কোন একটায় মড়ক লাগলে পুরো প্রজাতিতে তা ছড়িয়ে পড়বে আর প্রজাতি ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। পরীক্ষায় দেখা গেছে যে এই ব্যাপারটা অনেক ক্ষেত্রেই সত্য। 

২) যৌন প্রজনন জীবজগতে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে জেনেটিক প্রকরণ বা ভিন্নতা তৈরি করে বলে মনে করা হয়, যা বিবর্তনের অন্যতম চালিকাশক্তি। এর ফলে জনপুঞ্জে উন্নত বৈশিষ্ট্যের বিস্তার ঘটে। 

৩) যৌন প্রজনন প্রজন্মে খারাপ মিউটেশনেরর লোড কমিয়ে আনে। 

৪) বিভিন্ন প্যারাসাইটিক আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

যৌনতার উপত্তি হয়েছে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন বছর আগে। এর উপত্তির কারণ নিয়ে নানা মুনির নানা মত আছে। এর মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী একটি অনুকল্প হল  রেড কুইন প্রকল্প। অনুকল্পটি নিয়ে অল্প কথায় বলতে গেলে বলা যায় – যৌনসঙ্গমের মাধ্যমে যে সন্তানটি শেষপর্যন্ত উপন্ন হয়, ব্যক্তিগত স্তরে তার জিনের গঠণ তার বাবা-মার জিনের গঠণের মিশ্রণ হয়। এতে করে কোন জীবাণু তার বাবা-মাকে আক্রান্ত করতে পারলেও তাকে আক্রান্ত করতে বেগ পেতে হয়। একটা অনেকটা ব্যাংক ভল্টের পাসওয়ার্ডের মতো। পাসওয়ার্ড সবসময় অপরিবর্তিত রাখলে যেকোন চোর কোন এক সময় পাসওয়ার্ডটি হ্যাক করে ফেলতে পারে। কিন্তু পাসওয়ার্ড সবসময় পরিবর্তন করলে তস্করের পক্ষে পাসওয়ার্ড হ্যাক করা কঠিন হয়ে পড়ে। সেক্স ব্যাপারটিও যৌনপ্রজ প্রাণীদেরও একই ধরণের নিরাপত্তা প্রদান করে। যৌনতার কারণে জিনমিশ্রণের ফলশ্রুতি হিসেবে আমাদের (অর্থা যৌনপ্রজ প্রাণীদের) শরীরের পাসওয়ার্ড বারংবার পরিবর্তিত হতে থাকে, একারণে জীবাণুর পক্ষে আমাদের শরীরের প্রতিরোধ হ্যাক করা কঠিন হয়ে পড়ে। ক্যালিফোর্নিয়া বার্কলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হ্যান্স ব্রিমারম্যান তার গবেষণায় দেখিয়েছেন যে, যৌনতার উদ্ভব ছাড়া দেহের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে পারতো না। রেডকুইন তত্ত্ব অনুযায়ী যৌনতার উদ্ভবের কারণ ওটাই, এবং তা বিবর্তন তত্ত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। 

 

Sources:

# Wuethrich, Bernice, 1998. Why sex? Putting theory to the test. Science 281: 1980-1982.

# Davies, E. K., A. D. Peters and P. D. Keightley, 1999. High frequency of cryptic deleterious mutations in Caenorhabditis elegans. Science 285: 1748-1751.

# Sá Martins, J. S., 2000. Simulated coevolution in a mutating ecology. Physical Review E 61(3): R2212-R2215.

# Barton, N. H. and B. Charlesworth, 1998. Why sex and recombination? Science 281: 1986-1990.

# Matt Ridley, The Red Queen: Sex and the Evolution of Human Nature, Harper Perennial, 2003

# Bremermann HJ, The adaptive significance of sexuality. In: The evolution of sex and its conse- quences (Stearns SC, ed). Basel: Birkhauser; 135-161, 1987.

Categories
অনলাইন প্রকাশনা ইতিহাস গবেষণামূলক প্রকাশনা বিজ্ঞান

পৃথিবীর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস – ১

পৃথিবীর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস – ১
—————— ডঃ রমিত আজাদ

ভূমিকাংশ
লক্ষ লক্ষ বৎসর আগে মানুষ এই পৃথিবীতে এসেছে এবং আদিম মানুষ সম্ভবত পশু-পাখীর মতই প্রকৃতির দেয়া খাদ্য ও আশ্রয় অবলম্বন করে যাযাবরের জীবন যাপন করে বহুকাল ধরে জীবন সংগ্রাম করেছে। তারপর একসময় সে আগুনের ব্যবহার শিখে সৃষ্টিশীল হয়েছে, কৃষি আবিস্কার করে স্থায়ী বাসভুমি গড়ে তুলেছে। কালের স্রোতে উন্নততর জীবন ধারনের ঊপায়ই কেবল আবিষ্কার করে নাই, পাশাপাশি তার বুদ্ধি শ্রম ও বিবেক খাটিয়ে চারপাশের জগৎটিকে জানতে ও বুঝতে চেষ্টা করেছে। তার নিজের প্রয়োজনে অনেক কিছুকে বদলে দেবারও চেষ্টা করেছে। এই বিশাল বিশ্বব্রহ্মান্ডের অতি ক্ষুদ্র একটি গ্রহ পৃথিবীর পরে ঠিক কবে কোন ক্ষণে কিভাবে মানুষের আগমণ ঘটেছিল তা এখনো চুলচেরাভাবে নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি সত্য কিন্তু সে চেষ্টায় ভাটাও পরেনি কখনো। অতীতে মানুষ কেমন ছিল, তাদের জীবন কেমন কাটত, বর্তমানে প্রাপ্ত নানাবিধ তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তার যুক্তিপূর্ণ অনুসন্ধানই ইতিহাস।

ইতিহাসের নানা দিক আছে – ভৌগলিক ইতিহাস, জীব-বৈচিত্রের ইতিহাস, নৃতাত্ত্বিক ইতিহাস, রাজনৈতিক ইতিহাস, দর্শনের ইতিহাস, ধর্মীয় ইতিহাস, সাহিত্যের ইতিহাস, সামাজিক ইতিহাস, বিজ্ঞানের ইতিহাস অর্থনৈতিক ইতিহাস, আবার পৃথিবী জুড়ে নানাবিধ সামাজিক পরিবর্তনের পিছনে রয়েছে নানাবিধ দর্শনের প্রভাবের ইতিহাস, ইত্যাদি। এরা সকলে ইতিহাসের এক একটি অংশ হলেও সামগ্রিকভাবেও পৃথিবীর ইতিহাসকে দেখা প্রয়োজন। এই সিরিজে এই সব কিছুকে সংক্ষেপে তুলে ধরার চেষ্টা করব। পাঠকদের গঠনমূলক সমালোচনা আশা করছি।

শুরু করছি প্রাগৈতিহাসিক যুগ দিয়েঃ

প্রাগৈতিহাসিক যুগ
বিশ্বের ইতিহাস মুলতঃ হোমো স্যাপিয়েন্সের অতীত অভিজ্ঞতার স্মৃতি। ইতিহাস লিখতে গেলে লিখতে-পড়তে জানতে হবে। তাই লিখিত ইতিহাস সংরক্ষিত হয়েছে মানুষ লিখতে শেখার পর থেকে। কিন্তু তার আগেও তো মানবজাতি এই পৃথিবীতে বিচরণ করেছে কয়েক লক্ষ বছর, সেই সময়ের অভিজ্ঞতা জানব কেমন করে? এই যুগটিকে বলা হয় প্রাগৈতিহাসিক অর্থাৎ ইতিহাসেরও আগের যুগ। নিঃসন্দেহে এই যুগের কোন লিখিত রেকর্ড নেই। সেই সময়ের প্রাপ্ত বিভিন্ন পেন্টিং, অঙ্কন, ভাস্কর্য, এবং অন্যান্য হস্তনির্মিত নিদর্শন পাঠ করে অনেক তথ্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। বিংশ শতাব্দি থেকে প্রাগৈতিহাসিক যুগের গবেষণা অপরিহার্য বিবেচনা করা হয়েছে, কেননা একদিকে তা যেমন সেই সময়ের আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে জানার জন্য অত্যাবশ্যকীয় অন্যদিকে তা না করলে সাব সাহারান আফ্রিকা, পূর্ব এবং কলম্বিয়ান আমেরিকার মত গুরুত্বপূর্ণ সভ্যতাগুলোও বাদ পরে যাওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। কোন এক কালে পশ্চিমা ঐতিহাসিকরা কেবলমাত্র পশ্চিমী বিশ্বের উপরই মনোযোগ নিবদ্ধ করেছিলেন এবং যা কিছু শুরু করতেন শুরু করতেন প্রাচীন গ্রীস থেকে। কিন্তু সময়ের বিচারে গ্রীক সভ্যতা সিন্ধু ও ব্যাবিলনীয় সভ্যতা থেকে অনেক নবীন। এমনকি অস্ট্রেলিয়ান অ্যাবোরিজিনরা এবং নিউজিল্যান্ডের মাওরিরা তাদের ইতিহাস মৌখিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করে রেখেছিলো ইউরোপীয়দের সাথে তাদের যোগাযোগ হওয়ার অনেক আগে থেকেই।

বৃটিশ ইতিহাসবিদ E. H. Carr বলেছেন, ‘প্রাগৈতিহাসিক এবং ঐতিহাসিক এর মধ্যে প্রভেদ রেখা আমরা অতিক্রম করেছি যখন মানুষ শুধুমাত্র বর্তমানে বাস করা বন্ধ করেছে, এবং সচেতনভাবে তাদের অতীত এবং তাদের ভবিষ্যতের উভয়েই আগ্রহী হয়ে উঠেছে। ইতিহাস আরম্ভ হয় ঐতিহ্যের হস্তান্তরের মধ্যে দিয়ে; আর ঐতিহ্য মানে অতীত অভ্যাস ও অনুশীলনগুলোকে পরিবহণ করে ভবিষ্যতের মধ্যে ঠেলে দেয়া। অতীতের রেকর্ড ভবিষ্যত প্রজন্মের সুবিধার জন্যই সংরক্ষণ করে রাখা প্রয়োজন।’

(চলবে)

Categories
অনলাইন প্রকাশনা গবেষণামূলক প্রকাশনা প্রকৌশল ও বিজ্ঞান বিজ্ঞান

Use of Mathematics in Business in the ancient and mediaeval Bangladesh

Use of Mathematics in Business in the ancient and mediaeval Bangladesh

Dr. Ramit Azad

Excavations at Mainamoti, Mohasthangar, Paharpur, Naogaon and other sites of Bengal civilization have uncovered evidence of the use of practical mathematics in Bangladesh. The people of Bangladesh of that period manufactured bricks whose dimensions were in a correct proportion. In these constructions they used regular geometrical shapes included hexahedra, cones, cylinders, etc. thereby demonstrating knowledge of basic geometry. The “Somapuri Vihara” at Paharpur site is said to have been the biggest Buddhist monastery in south of the Himalayas. The site consists of a large quadrangle of some 170 monastic cells set in a high wall/earthwork and looking inward to a 3 level Stupa now largely ruined but originally containing, presumably, Buddha statues in shrines set deep into each face of the structure. There are also various other structures within the quadrangle. A visit is likely to consist of a walk around the outer wall and then round each of the 3 levels of the stupa whilst taking in some of the other structures. Around the Stupa itself we can see examples of the terracotta “tiles” which decorated the walls of each level. These types of decorations are also found at “Salban Vihara” at Mainamoti.
From ancient to medieval period important contributions to mathematics were made by Bangladeshi mathematicians. Unfortunately original works of many of our mathematicians are lost. It is because of the almost 200 years’ repression of the British rule. However history keeps some of the names immortal. One of them is Sridhara
Sridhara is now believed to have lived in Bangladesh in the ninth and tenth centuries. However, there has been much dispute over his date and in different works the dates of the life of Sridhara have been placed from the seventh century to the eleventh century. The best present estimate is that he wrote around 900 AD, a date which is deduced from seeing which other pieces of mathematics he was familiar with and also seeing which later mathematicians were familiar with his work.
Sridhara is known as the author of two mathematical treatises, namely the Trisatika (sometimes called the Patiganitasara ) and the Patiganita. However at least three other works have been attributed to him, namely the Bijaganita, Navasati, and Brhatpati. Information about these books was given the works of Bhaskara II (writing around 1150), Makkibhatta (writing in 1377), and Raghavabhatta (writing in 1493). We give details below of Sridhara’s rule for solving quadratic equations as given by Bhaskara II.
There is another mathematical treatise Ganitapancavimsi which some historians believe was written by Sridhara. Hayashi in, however, argues that Sridhara is unlikely to have been the author of this work in its present form.
The Patiganita is written in verse form. The book begins by giving tables of monetary and metrological units. Following this algorithms are given for carrying out the elementary arithmetical operations, squaring, cubing, and square and cube root extraction, carried out with natural numbers. Through the whole book Sridhara gives methods to solve problems in terse rules in verse form which was the typical style of Indian sub-continental texts at this time. All the algorithms to carry out arithmetical operations are presented in this way and no proofs are given. Indeed there is no suggestion that Sridhara realised that proofs are in any way necessary. Often after stating a rule Sridhara gives one or more numerical examples, but he does not give solutions to these example nor does he even give answers in this work. In his book Pati Ganita Shridhara gave a good rule for finding the volume of a sphere. He dealt with various operations like elementary operations, extracting square and cube roots, fractions, eight rules given for operations involving zero, methods of summation of different arithmetic and geometric series.

After giving the rules for computing with natural numbers, Sridhara gives rules for operating with rational fractions. He gives a wide variety of applications including problems involving ratios, barter, simple interest, mixtures, purchase and sale, rates of travel, wages, and filling of cisterns. Some of the examples are decidedly non-trivial and one has to consider this as a really advanced work. Other topics covered by the author include the rule for calculating the number of combinations of n things taken m at a time. There are sections of the book devoted to arithmetic and geometric progressions, including progressions with a fractional numbers of terms, and formulae for the sum of certain finite series are given.
The book ends by giving rules, some of which are only approximate, for the areas of a some plane polygons. In fact the text breaks off at this point but it certainly was not the end of the book which is missing in the only copy of the work which has survived. We do know something of the missing part, however, for the Patiganitasara is a summary of the Patiganita including the missing portion.
In Shukla examines Sridhara’s method for finding rational solutions of Nx2 ± 1 = y2, 1 – Nx2 = y2, Nx2 ± C = y2, and C – Nx2 = y2 which Sridhara gives in the Patiganita. Shukla states that the rules given there are different from those given by other Hindu mathematicians.
Sridhara wrote on practical applications on algebra.
Babylonian mathematicians, as early as 2000 BC could solve a pair of simultaneous equations of the form
x + y = p, xy = q
Which are equivalent to the equation
X2 + q = px
Sridhara was one of the first mathematicians to give a rule to solve a quadratic equation. Unfortunately, as we indicated above, the original is lost and we have to rely on a quotation of Sridhara’s rule from Bhaskara II:-
Multiply both sides of the equation by a known quantity equal to four times the coefficient of the square of the unknown; add to both sides a known quantity equal to the square of the coefficient of the unknown; then take the square root.
To see what this means take
ax2 + bx = c.
Multiply both sides by 4a to get
4a2x2 + 4abx = 4ac
then add b2 to both sides to get
4a2x2 + 4abx + b2= 4ac + b2
and, taking the square root
2ax + b = √(4ac + b2).
There is no suggestion that Sridhara took two values when he took the square root.
Usually it is told that there is no original work on mathematics in Indian sub-continent in the 2nd millennium. But basically in that period the development of mathematics in this region occurred to some other directions namely computational mathematics and mathematical logic. Some Bengali mathematicians worked on mathematical logic.
Bengali mathematician Raghunatha Siromoni (1477-1547) was a philosopher and logician He was born at Navadvipa in present day Nadia district of West Bengal. He was the grandson of Śulapāṇi (c. 14th century CE), a noted writer on Smṛti from his mother’s side. He brought the new school of Nyaya, Navya Nyāya, representing the final development of Indian formal logic, to its zenith of analytic power.
Raghunatha’s analysis of relations revealed the true nature of number, inseparable from the abstraction of natural phenomena, and his studies of metaphysics dealt with the negation or nonexistence of a complex reality. His most famous work in logic was the Tattvacintāmaṇidīdhiti, a commentary on the Tattvacintāmaṇi of Gangeśa Upādhyāya, founder of the Navya Nyāya school.

Mathuranath Tarkavagish (c 1550) scholar of navya nyaya (new logic), was born at Navadwip, son of Sriram Tarkalankar, also a famous logician. Mathuranath studied logic under Rambhadra Sarvabhauma. Jagadish Tarkalankar, a renowned logician of the time, was his classmate and Harihar Tarkalankar, another renowned logician, was his pupil.
Mathuranath’s commentaries on new logic expanded the study of logic in Bengal. By virtue of his extraordinary wisdom and writing skill he won a distinguished place in learned society. Mathuri, his commentary on Chintamani, was very famous and regarded as an essential text for the study of logic. It is held in high esteem all over India. He also wrote commentaries and explanatory notes on a number of books by Raghunath Shiromoni, Udayan and Bardhamanopadhyay, among them Anumanadidhitimathuri, Gunadidhitimathuri, Dravyakiranavalitika, Dravyaprakashatika, and Gunaprakashavivrti. One of his original books was named Siddhantarahasya.
Jagadish Tarkalankar Nyaya philosopher and Sanskrit scholar from Navadwip in the 16th century. Jagadish Tarkalankar’s ancestors were originally from Sylhet, Bangladesh. His father, Jadavchandra Vidyavagish, was a nyaya scholar at Navadwip and his great-grandfather, Sanatan Mishra, was the father-in-law of Sri Chaitanya. Jagadish was taught nyaya scriptures at Bhavananda’s chatuspathi (religious school), where he became well-versed in nyaya philosophy and was awarded the title of ‘Tarklankar’.
Jagadish Tarkalankar was a college teacher. Mayukh, Jagadish’s annotation of Raghunath Shiromani’s Tattvachintamanididhiti is a four volume discourse: Pratyaksamayukh, Anumanmayukh, Upamanmukh and Shabdamayukh. He also wrote Anumandidhititika, Pratyaksadidhititika and Lilavatididhititika, annotations on Shiromani’s didhiti.
Jagadish’s Shabdashaktiprakashika was once taught as a textbook at all chatuspathi in Bengal. Two of his other books are Tarkamrta and Nyayadarshan. He was awarded the title of ‘Jagadguru’ for his scholarship.

Few words on business and mathematics:
Though the mathematization of economics began in earnest in the 19th century. Most of the economic analysis of the time was what would later be called classical economics. Subjects were discussed and dispensed with through algebraic means, but calculus was not used. One of the earliest use of mathematics was in trading.
Algebra is widely used in business. Since Sridhara was the first mathematician who made practical application of algebra, so it can be guessed that the use of algebra in business started then.
Muslin was bought by the pharaohs of Egypt. Weaving muslin cloth needed a good knowledge of measurement, where use of mathematics is vital.
First century B.C. to first century A.D. Kushan and Gupta era the trade became more developed. Use of currency spread over. The money-goods-money relation became a practice. The use of mathematics became important in this case.
The merchant fleet floated in the Bay of Bengal. They had their business in Sindh, Koromandal and Bengal. Trade items were silk, precious stones, spices, metal goods, clothes etc. The Bengalese had their sea trade with Ceylon, Malabar, Koromandal, Pegu, etc. during Mughal period. On the land way they had the business from Persia to Volga river. During the reign of Emperor Akbar there was a professional group called kusid who used to give money on interest. Mathematics played a role in calculation of this type of business. The Emperor Akbar also introduced ‘common system of measurement’ and ‘currency unit’.

Conclusion
So we see that the use of mathematics in business and trade was wide in ancient and medieval Bengal. The Bengali mathematicians made enormous contribution in world mathematics as well.

References

1. D Pingree, Biography in Dictionary of Scientific Biography (New York 1970-1990).
Books:
2. G G Joseph, The crest of the peacock (London, 1991).
Articles:
3. K Shankar Shukla, The Patiganita of Sridharacarya (Lucknow, 1959).
4. B Datta, On the relation of Mahavira to Sridhara, Isis 17 (1932), 25-33.
5. Ganitanand, On the date of Sridhara, Ganita Bharati 9 (1-4) (1987), 54-56.
6. T Hayashi, Sridhara’s authorship of the mathematical treatise Ganitapancavimsi, Historia Sci. (2) 4 (3) (1995), 233-250.
7. K Shankar Shukla, On Sridhara’s rational solution of Nx^2+1=y^2, Ganita 1 (1950), 1-12.
8. A I Volodarskii, Mathematical treatise Patiganita by Sridhara (Russian), in 1966 Phys. Math. Sci. in the East (Russian) ‘Nauka’ (Moscow, 1966), 141-159
9. A I Volodarskii, Notes on the treatise Patiganita by Sridhara (Russian), in 1966 Phys. Math. Sci. in the East (Russian) ‘Nauka’ (Moscow, 1966), 182-246.
10. A I Volodarskii, Outlines of the history of medieval Indian Mathematics (Russian), ‘Nauka’ (Moscow, 2009).
11. Bongard Levin, Antonova, Kotovski, History of India, Progress Publisher, Moscow,1982