Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা সাকি বিল্লাহ্ সৃজনশীল প্রকাশনা

হরিষে বিষাদ

হরিষে বিষাদ

–সাকি বিল্লাহ্

 

আজ হরিষে বিষাদ মনে, কেন?

যাতনা, কিসের এত বিষের পেয়ালা যেন;

জীবন সায়াহ্নে এত কন্টাকীর্ণ পথ,

যবে বিষাবনীল দেহভারে টানিছো সেই রথ ।

তোমার পথের পরে কন্টক বিছায়েছে কেহ,

কোন সে হৃদয়হীনা তোমারে বঁধেছে প্রিয় মোহ ।

তাই হরিষে বিষাদ নামে বক্ষে,

যখনই পড়ে মনে তাহারে এ অন্তরীক্ষে ।

মরুভূমির বক্ষে এসেছিলে হয়ে এক পসলা বৃষ্টি,

মৃত্তিকা ছেদিয়া অঙ্কুরিত এক নবকৃস্টি ।

প্রখর রৌদ্র খড়তা উপেক্ষিত ছিল সব,

তুমি এসে নামালে পূর্ণিমার বারিত রব ।

চিকচিক বালুকণা গুলোর বিরিরণ,

তুমি থামালে প্রশমিত করে ঘন বরষণ ।

 

যখন হঠাৎ করেই লুকালে অন্ধকারে,

অবিশ্বাসে উপহাস করে সব কিছুরে;

তখন আনন্দ হল বদ্ধ নীরেট প্রস্তরে,

কষ্টের এক সমাধির বক্ষ কুটিরে ।

তাই হরিষে বিষাদ নামে দু চোখে নিমিষে,

চোখের পাতা দুটি ভারি হয়ে আসে অবশেষে ।

পিছনে ফিরে দেখ একপলক, একবার,

কোন অনুশোচনা জাগ্রত হয় কিনা তোমার ।

কি করে হাসি, পর্বত সমান কষ্ট নিয়ে বুকে,

গীরি প্রস্তর অন্তরপূর্ণ অগ্নিকুন্ড গোলকে ।

তাই হরিষে বিষাদ নামে সকল বেদনায়,

ভুলি নাই আমি, ভুলিয়াছো তুমি অন্ধ মোহের নেশায় । ।

 

২১.১২.১৭ ঘটিকা, .৬.১২.১৭ খ্রিস্টাব্দ, কেমনিট্জ, জার্মানী ।

 

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা বিনোদন ভালবাসা/প্রণয়লীলা সাকি বিল্লাহ্ সৃজনশীল প্রকাশনা

কমলা সুন্দরীর স্নান

কমলা সুন্দরীর স্নান
–সাকি বিল্লাহ্
 
সাঁতার না জানলে কন্যা,
নাইমো না ঐ দরিয়ায়,
দরিয়ার পানি চিকচিক করে,
সূর্যের আলোর ঝলমলায় ।।
 
কন্যার বরণ কমলার মতন,
রাগলে হয় মহাগ্নী,
ও গো ময়না নাইমোনা জলে,
এই রাগিনীর স্রোতিস্বিনী ।।
 
রন্ধন শেষে স্নানে এসে,
পদ্মের ন্যায় ভাসো,
গায়ে মাখো চন্দন-তুলসী,
আর, আপন মনে হাসো ।।
 
দরিয়ার জল উজানে চলে,
ভাইসা যায়রে শরীর বসন,
বসন যদি না থাকে গায়,
কেমনে যাইব বাড়ীর চলন ।।
 
সাঁতার না জানলে কন্যা,
নাইয়ো না ঐ দরিয়ায়,
দরিয়ার জল নিঠুর যদি,
ভাসাইয়া নিব এই অবেলায় ।।
Categories
অনলাইন প্রকাশনা

আজ তোমাকে শাড়ীতে দেখেছি

আজ তোমাকে শাড়ীতে দেখেছি,
আর দহনে সিক্ত হয়ে নিজেই কিছুক্ষণ হেসেছি ।
হাতের চুড়ির শব্দে বা মিস্টি হাসির আড়াল,
কিভাবে পারো লুকাতে তোমার শত কস্টের বেড়াজাল ।
ঠোঁটের রংয়ে, বাঁকা হাসি আর চুলের কারুকাজ,
চোখের কাজলে মিশে একাকার সবখানি লাজ ।

সব ব্যাথা উপশম করে তোমার সুশ্রীবদনে,
তাই জড়াব্যধিতে পথ্য পাথেয় শুধু সে মুখ দর্শনে ।
খোঁপাতে তাই গুজে দেই এক শ্বেতশুভ্র ধুতুরা ফুল,
যাতে উৎসুকেরা জানুক তুমি বইছো আমার কুল !
ভুলের মাসুলে মাপিনি তো আমি তোমার ললাট,
তাই ভুলের সাগরে কুল হারা হয়ে খুঁজি চেনা সেই ঘাট ।
কত পথ পাড়ি দিলে বলো, কতটা কস্ট সইলে,
হব আমি তোমার প্রিয়দর্শন, হৃদয়ের মহাসাগর-এ ।

এ পথে তব হেটেছো অনেক, অনেক বেলা হয়েছে,
তাই পথের পাশে না হয় একটু জিরালে এই কুটির-এ ।
মান গেছে, ধান গেছে , বাকী ছিল সতত মননে,
সেটাও না হয় দিলাম সঁপে প্রেম-দেবীর মনোরঞ্জনে ।
কেউ কি ভাবে আমার মতন, এ জগতে আর কেহ?
জানি না তোমার ভাঙ্গবে কবে অহমিত এই মোহ !

অন্য সাজে জাগে না এতটা তুফান মনে,
শাড়ীতেই তাই ভাল লাগে, আবেগতাড়িত আখ্যানে ।
তাই পরতে পারো গোলাপী, বাসন্তী কিংবা নীল শাড়ী,
শুধু খোঁপাতে দিও সাদা ফুলের মঞ্জুরী ।
হাতে মেহেদী কিংবা পায়ে না হয় আলতা নাই দিলে,
তবুও জেনো, শাড়ীতেই তুমি অপ্সরী সাথে হাসতে পরো প্রান খুলে ।
আজ তোমাকে শাড়ীতে দেখে তাই হৃদয়ের সব ব্যথা ভুলি,
হৃদয় তোমার সিক্ত হোক নিয়ে ভালবাসার এ অঞ্জলি ।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা ভালবাসা/প্রণয়লীলা সৃজনশীল প্রকাশনা

অসম্পূর্ন ভালবাসা

image

তুমিতো আমায় কোন দিন ভালইবাসনি ……
করেছ শুধু ই ছলনা ।।।।।।
আমি তোমায় ভালবেসে দিয়েছিলাম পাঁচটি লাল গোলাপ ..
সেগুলো শুধু গোলাপ ছিলনা ,,, গোলাপের প্রতিটি পাপডি্তে আমার ভালবাসার স্পর্শ জডি্য়ে ছিল ।।।।।

গুনিজনরা বলে কাওকে ভালবাসা শেখাতে যেওনা তাহলে কস্ট পাবে ।। সে তোমার কাছ থেকে শিখে অন্যকে সেই ভালবাসা দিবে ।। তোমার পাওনা তুমি কখনোই পাবা না ।। আমি বুঝিনি এ ভুল আমিও করেছি ।। ন্বীশ্বার্থ ভাবে ভালবেসেছিলাম আমি তোমায় ।। তুমি আমায় ছলনা ছারা আর কিছুই দাও নি ।।।

আজও আমি তোমার অপেক্ষায় পথ চেয়ে থাকি ।।।।।।।
হয়ত আসবেনা কোন দিন ।।।।।।
তবুও থাকি ।।।।।।।
থাকতে ভাল লাগে ।।।।।
জানি তুমি খুব ভাল আছ আমাকে ছাড্া ।।।।।।
কামনা করি আরো ভাল থাক ।।।।।।।
তাই বলে ভেবনা আমি ভাল নেই ।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।
আমিও খুব ভাল আছি ।।।।।।।।।।।।
আমি জানি আমি তোমার চেয়ে বেশি ভাল আছি ,, কারন আমি ছলনা করিনি ,,, আমি সত্যিকারের ভালবাসা দিতে জানি ,,,, আমি ভালবাসতে জানি ।।।।।

আমার দেওয়া স্মৃতি গুলো যদি তুমি ভুলে যেতে পার তাহলে তুমি মানুষ না ফেরেস্তা ।। কারন আমি তোমায় ছোট করতে পারব না তাই ফেরেস্তা বললাম ।।।।।।….

তোমার দেওয়া পাঁচটি পদ্ম ফুল আমি রেখে দিয়েছি স্ব-যতনে ।।।।।।। কাওকে ছুঁতে পর্যন্ত দেই না ।।।।।।।
কারন তুমি আমার অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ আর সেখানে প্রবেশ করার অধীকার কারোর নেই ।।।।।।।।

জানি তুমি ফিরে আসবে কোন এক দিন ।।। আমি শুধু সেই অপেক্ষায় আছি ।।। তোমাকে ফিরে আসতেই হবে ।।।।।
কিন্তু ………..,,,,,,…….,,,,,,,,
সেদিন ?????????????
সেদিন তোমায় গ্রহন করার মত কোন পথ খোলা থাকবে না ।।। আর যদিওবা থাকল তবুও আমি তোমায় গ্রহন করব না ।।।। কারন যে ভালবাসার সন্মান দিতে জানেনা তার ভালবাসা পাবার কোন অধিকার নেই ।।।।।।।।।।।
তার প্রাপ্য শুধু করুনা ।।।।।।।
আর।।।।।…..
সেটুকুও আমি তোমায় দিব না ।।।।।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা বিনোদন ভালবাসা/প্রণয়লীলা

অবশেষে ফিরে এলাম

— সাকি বিল্লাহ্

 

অবশেষে ফিরে এলাম

সাত সমুদ্র আর তের নদী

আর এক বির্স্তীন মরুভূমি পার হয়ে_

কোথাও যেন কেউ নেই

অবশেষে ফিরে এলাম মনের গভীর থেকে

অদ্ভুদ এক চোখের ইশাঁরায়

হাতে একগুচ্ছ রজণীগন্ধা আর-

অবশেষে ফিরে এলাম।

 

তাকিয়ে থেকে থেকে চোখ পাথর হয়েছে আমার,

তোমারই হরিণী চোখের পানে ।

যখন হাতে নিয়ে ছিলাম

এক মুঠো মরুদ্দুর আর তখনই তুমি এলে,

যখন হাতে ছিল একরাশ ক্যামেলিয়া

তখন তুমি এলে

আর আমি _

অবশেষে ফিরে এলাম ক্লান্ত কোনো বিকেলে

হাজারো স্বপ্ন নিয়ে, পাথর চোখে,

নীল বারি স্পর্শ করে করে

আর হাতের কাঁকন রিনঝিন রিনঝিন

আওয়াজে তুমি এলে

তাই আমিও ফিরে এলাম

চৈত্রের দুপুরে কোকিলের কুহু গানে

 

অবশেষে ফিরে এলাম

শান্ত কোনো নদের পাশে

কাকতাড়ুয়ার মত দাড়িয়ে থেকে,

যখন তুমি বললে,

তখনই ফিরে এলাম

পাখি আর গানে, কবিতার তানে

তোমার কোমলতার কারনে

অবশেষে ফিরে এলাম

তোমারই কারনে।

 

আধ রাতে যখন চাঁদ ঝরে পড়ে

অথবা হাসনা হেনার সুবাস বয়

তখন তুমি নিঃস্ব হয়ে বসে

আর আমি ফিরে আসি অবশেষে।

হাতুরির শব্দে, হাপরের নিশ্বাঁসে

যখন বৈশাখের দুপুর হল

তখন অগ্নি স্ফুলিঙ্গে

আমি ফিরে এলাম।

 

তোমার অপেক্ষায় থেকে থেকে,

যখন অরণ্য সব মরুভুমি হল

পোকা মাকড়ে ভরে গেল ঘর

তখন তুমি এলে,

হাতে একটি সবুজ গোলাপ নিয়ে

কিণ্তু আমি আর ফিরে এলাম

নিস্প্রাণ সজীবতার উৎস হয়ে

ঝিরি ঝিরি বাতাসের ভেলায়

বর্ষার প্রথম দিকে, মেঘান্ন বিকেলে

অবশেষে ফিরে এলাম ।

 

ধুমকেতু হয়ে চলে ছিলাম যখন

ধোয়ার কুন্ডুলী পাকিয়ে

তখন বলেছিলাম তোমায় সাথী হতে আর তুমি_

তাই অবশেষে ফিরে এলাম

নিদারুণ এক কষ্ট আর

যন্ত্রণার ভিতর দিয়ে

অদৃশ্য কোনো অবস্থান নিয়ে

দৃশ্যপটে আঁকা তোমার সে ছবি

মিছি মিছি আমি ভাবছিলাম(হা..হা..)

 

তাই তোমার অপেক্ষায়

থেকে থেকে যখন ফিরে এলাম

তখন আমার আর কিছুই থাকল না

চোখের ভিতরে শুধু দুঃস্বপ্ন

মনের ভিতরে বাসা বেধেঁছে কেউ

চোখ নেই, দেখছি না কিছুই,

কঙ্কালসার এই দেহটাকে

নিয়ে ফিরে এলাম

অবিশ্বাস্য সব বিশ্বাস নিয়ে

ফিরে এসে তোমার হাতে

হাত রাখলাম,

তুমি ভাবলে জ্যোছনা

অথবা ভাবলে একপসলা বৃস্টি,

র্স্পশ করলে আমায় এক মুঠো রুদ্দুরে

কোকিলের কুহু গানে অথবা

ভাদ্রের ঝিরি বাতাসকে

র্স্পশ করে তুমি ভাবলে

আমি ফিরে এলাম ।

 

দিনের শুরুতে আর শেষে

সূর্যের উড়াউড়িতে

কার্তিকের ধান গুনে গুনে

বেদনার বিষাদময় পদচারনায়

তুমি ভাবলে, আমি এলাম

পৌঁষের রাতে, অথবা ছায়াবীথির তলে

জড়িয়ে ধরে আমার কঙ্কালটা

তুমি ভাবলে, আমি এলাম

ভাবলে, বিষন্ন চোখে তোমাকে দেখছি,

আর আমি-

অপলক চাহনির ফাঁকে ফাঁকে

তোমারই কারনে ভিজিয়েছি দুচোখ

তুমি জানলেও না

ঐ অজানার কারনে আজ আমি নিঃস্ব হলাম

বেদনার বিষাবনীল দেহ নিয়ে

তোমারই ফিরে আসার অপেক্ষাতে

কিণ্তু যখন তুমি এলে

দেখে গেলে আমায়

কোনো এক কবরে

দুর্বা ঘাসের নাচনীতে আর

শিশিরের ঝলমলতায়

হাতে নিয়ে কবিতার বই,

কিণ্তু আমি ফিরে এলাম রিক্ত হয়ে

কিছুই নেই আমার যেন

শুধু অস্পষ্ঠ চোখের চাহনি,

তোমায় দেখছিলাম

তুমি ভাবলে ধরবে আমায়

আমি হাত বাড়ালাম

আর তুমি?

 

তাই অবশেষে ফিরে এলাম

বিষাদময় কোনো বরবরতায়

হঠাৎ দেখি তোমায়

হাতে একটি লাল অথবা সাদা গোলাপ,

সুমিস্ট বাতাসে ভরে গেল দেহ

তবুও তুমি এলে যখন

ভাবলাম অবশেষে

ফিরে যাই, তোমায় বলি

তুমি কি আমার, হে প্রিয় ?

সাঁজ বেলায় যখন নিঁশুথিরা জাগে

তোমারই পাশে জেগে ছিলাম

তুমি  দেখনি,

তোমারই জন্য ভেবেছিলাম

তুমি ভাবনি,

তোমারই জন্য চেয়েছিলাম

তুমি চাওনি,

আর এখন_

তুমি অবশেষে এলে

ভাবলাম এবার তোমায় বলব

তুমি ভাবলে, আর আমি নেই,

শূন্যের বিশালতার গহীনে ,

তাই তোমার জন্য এ কবিতা

তোমার জন্য এ বিরহ

নাইবা র্স্পশতার মায়ায়

পেলে তুমি আমায়,

ক্ষনে ক্ষনে পেলে যখন সকল উণ্মাদনায়

তখন আমি বলব

অবশেষে ফিরে এলাম ।।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা আত্ম উন্নয়ন বিনোদন ভালবাসা/প্রণয়লীলা যৌন জ্ঞান ও সম্পর্ক সৃজনশীল প্রকাশনা

বাইরের সাহায্য ছাড়া যুবক-যুবতীদের প্রেম নিবেদন

যখন কোনও তরুণী তার হাবভাবে বা ব্যবহারে আর এক যুবকের প্রতি আসক্তি দেখায়, তখন ঐ যুবক আর কোনবও ঘটক বা মধ্যবর্ত্তী দূতের সাহায্য না নিয়ে নিজেই ঐ যুবতীকে লাভ করবার ব্যবস্থা করবে।
পাশা খেলা বা তাস খেলতে খেলতে ছলনা করে যুবক যুবতীর সঙ্গে ঝগড়া আরম্ভ করতে পারে। তখন যুবতী নিশ্চয়ই তার আকারে প্রকারে নানা রকম কামক্রিয়ার সূচনা করতে পারে।
অবসর পেলেই ঐ প্রেমিক যুবক যুবতীকে আল্‌গা আল্‌গা ভাবে অঙ্গ স্পর্শ করবে। তখন সে হয়তো এমন ছবি ঐ নায়িকাকে দেখাতে পারে যাতে দুটি মূর্ত্তি (একটি নারী একটি পুরুষ) পরস্পর আলিঙ্গন অবস্থায় অঙ্কত।
কোন মিলনের ছবি দেখিয়ে নায়িকাকে নায়ক তার মনের ইচ্ছা বোঝাতে পারে। অথবা নদীতে বা দীঘিতে দু’জনে স্নান করার সময় নায়ক একটু তফাতে ডুব মেরে একেবারে নারীর অঙ্গ ঘেঁসে উঠতে পারে। গা ঘেঁসে দূরে যেয়েও উঠতে পারে। এতে প্রেমাকর্ষণ বাড়ে।
বসন্ত উৎসবের সময় কোনও পাতায় তার মনের ইচ্ছার ছবি এঁকে তা ঐ প্রেমিকাকে দেখিয়ে তার মনের কথাটা জানাতে পারে।
ঐ যুবক তার প্রেমিকাকে বলতে পারে যে তাকে না পেলে বড় মন খারাপ হয়ে যায়। ঘুম আসে না, ঘুমোলে সে তাকে স্বপ্ন দেখে।
থিয়েটার বা যাত্রা দেখতে গিয়ে কোনও ছল করে সে ধীরে ধীরে তার অঙ্গ স্পর্শ করবে। খুব আসে- আসে- তার পায়ের বুড়ো আঙ্গুল নিজের আঙ্গুলে দিয়ে চেপে ধরবে। যে কোন নিশানাতেই নিজের মনের ভাব নায়িকাকে জানাবে-আমি তোমাকে ভুলতে পারি না। এসো দু’জনে একসঙ্গে থাকি।
যখন নায়ক বুঝবে-নায়িকা সত্যিই তার প্রতি আসক্ত তখন সে অসুখের ভান করবে। নায়িকাকে ডেকে পাঠাবে-নায়িকা হয়ত এসে মাথায় গায়ে হাত বুলাবে।
তখন নায়ক বলবে-উঃ কি আরাম। এত ওষুধ খাওয়া হলো, তাতে কিছুই হলো না। তোমার সামান্য স্পর্শে আমি খুব আনন্দ পেলাম, আমি অনেক সুস্থ।
তারপর সে নায়িকার অনেক প্রশংসা করবে। এইভাবে ধীরে ধীরে নায়িকা আকৃষ্ট হ’লে দু’জনে কোনও দিন নিভৃতে থাকাকালে নায়ন যৌন কার্যের কথা বলবে। এটি অন্ধকারে করা উচিত-কারণ অন্ধকারে নায়িকাদের প্রেম কামনা বৃদ্ধি পায়।
একান্ত কিছুতেই স্বীকৃতি না পেলে নায়িকার কোন সখী বা সাথীদের সাহায্য নেওয়া উচিত।
যখন কোনও তরুণী সাধারণ কোন জায়গায়, দেব মন্দির কিংবা উৎসবের জায়গায় কোনও তরুণের প্রতি ভালবাসা দেখায় (যমন চাউনি, হাসি খুশি ইত্যাদি) তখন বুঝতে হবে ঐ তরুণ ইচ্ছুক হলেই তরুণীটিকে সে লাভ করতে পারে। শুধু চাই ধৈর্য্য, কৌশল ও অধ্যবসায়।

ইচ্ছুক নারীদের কর্তব্য
যখন কোনও নারী তার মনের মত পুরুষ পেতে ইচ্ছুক হয়, তখন এমনও হতে পারে যে ঐ তরুণীকে সে কিছুতেই যোগাড় করতে পারে না।
এরূপ ঘটনা নিম্নলিখিত ক্ষেত্রগুলিতে ঘটতে পারে। যথা-
১। কোন সম্ভ্রান্ত কন্যা, সুন্দরী, গুণবতী কিন্তু আর্থিক অভাবগ্রস্ত।
২। নারী গুণবতী, সুন্দরী কিন্তু উচ্চবংশের নয়।
৩। পিতৃমাতৃহীন, মাতুলালয়ে প্রতিপালিত।
৪। স্বামী জোগাড় করে দেবার লোকের অভাব।
৫। বয়সে বিবাহ যোগ্যের হয়ে বেশি।
এইসব ক্ষেত্রে হলে নিজের চেষ্টা করে তার মনোমত প্রতি যোগাড় করে নেবে।
সে তখন একজন পরিশ্রমী, উদ্যমশীল ও সুশ্রী তরুণকে মনে মনে ঠিক করে নেবে।
হয়তো বাল্যকালে যে সব বালকের সঙ্গে সে খেলাধূলা করেছিল, তাদের একজনকে ঠিক করে নিতে পারে। অথবা এমন যুবককে মনে মনে ঠিক করবে-যে তার প্রতি কিছু কিছু ইশারায় আসক্ত হয়েছে।
সেই যুবক এমন চিহ্ন প্রকাশ করেছে যে, নায়িকার মত পেলে সে তাকে বাবা মার মতের বিরুদ্ধেই বিয়ে করতে পারে। তাকে পাবার জন্যে নিজের পৈতৃক ধন্তসম্পত্তিও বিসর্জন দিতে পারে। এমন কি সমাজের নিন্দা বা নিষেধাজ্ঞা সে অগ্রাহ্য করতে পারে।
মনে মনে এমনি পাত্র ঠিক করে সে সেই তরুণের সঙ্গে নিভৃতে দেখা করবে। হাব ভাব ইঙ্গিতে সে তাকে আকর্ষণ করতে চেষ্টা করবে।
সুযোগ পেলে সে গোপনে নায়ককে ফুলের মালা বা গন্ধ দ্রব্য উপহার দিতে পারে।
নায়িকা নিভৃতে নায়ককে মনের ভাব জানাবে-তার কাণের কাছে মুখ নিয়ে ফিস্‌ফিস্‌ করে গল্প করবে, দেখবে, নায়ক তাকে চায় কিনা।
যদি নায়ক তা চায় সে তখন নায়িকার দেহ স্পর্শ বা আলিঙ্গণ করবে।
নায়িকা আগে বুঝবে, নায়ক তাকে গ্রহণ করতে সত্যি রাজী কিনা। যদি দেখে নায়ক তাকে গভীর ভাবে ভালবাসে-তখন সে নায়কের চুম্বন বা আলিঙ্গনের উত্তর দেবে।
নায়ক যদি যৌন মিলনের প্রস্তাব করে নায়িকা তাতেও রাজী হবে।
তারপর দু’জনে চুম্বন, আলিঙ্গন করবে। নায়ক তার দেহ মর্দন করলে সে তা উপভোগ করবে। কিন্তু আগে দেখা উচিত নায়ক যেন বিশ্বাসী হয়-অর্থাৎ উপভোগ করে ত্যাগ করতে না পারে।
মিলনের সময় নায়ক চাইলে, নায়িকা তার বাম হাত দিয়ে নায়কের লিঙ্গ স্থানে চাপ দিতে পারে।
নায়িকার যোনিতে হাত দিয়ে নায়কের লিঙ্গ স্থানে চাপ দিতে পারে।
নায়িকার যোনিতে হাত দিয়ে চাইলে, সে মৃদু আপত্তি করবে, তাতে বাধা দেবে না।
কিন্তু প্রত্যক্ষ যৌন মিলনে রাজী হওয়া উচিত-যতক্ষণ অন্ততঃ গান্ধর্ব বিয়ে অনুষ্ঠিত না হচ্ছে।
এ বিষয়ে পরে বলা হবে।

নারী কিরূপ পুরুষ চায়
১। বলিষ্ঠ, স্বাস্থ্যবান ও যুবক।
২। সুন্দর গাত্রবর্ণ, সুদর্শন ও সুশ্রী।
৩। যার মধ্যে নিজস্ব স্বকীয়তা বা বিশেষ দৃঢ়তা আছে।
৪। যে কিছুটা অহঙ্কারী, গর্ব্বিত।
৫। যার প্রচণ্ড আত্নবিশ্বাস আছে।
৬। যার বিশেষ ব্যক্তিত্ব ও দৃঢ়তা আছে।
৭। যে পুরুষের নিজস্ব উপার্জন যথেষ্ট এবং সে তাকে প্রতিপালন করার যোগ্য।
৮। যে পুরুষের অন্য স্ত্রী নাই-বা অন্য নারীর প্রতি গভীর আসক্তি নাই।
৯। যে নির্ভরযোগ্য ও তাকে সারা জীবন আশ্রয় দিতে পারবে।
১০। নায়ক সুশিক্ষিত, মার্জিত ও রুচি সম্পন্ন হলে খুব ভাল হয়।
১১। খেয়ালী ও কল্পনা প্রবণ পুরুষকেও অনেক নারী পছন্দ করে থাকে।
১২। যে পুরুষের নানা গুণ আছে-যেমন,গান, বাজনা, শিশুসাহিত্য, কাব্য ইত্যাদি। কোনও বিশেষ গুণের অধিকারী যে পুরুষ।
১৩। যে পুরুষ উচ্চ বংশ উদ্ভুত।
১৪। বয়সে নারীর চেয়ে কিছুটা অন্ততঃ পাঁচ-ছয় বছরের বড়।
১৫। যে পুরুষ নারীকে সত্যিই গভীর ভাবে ভালবাসে।
১৬। খুব কামুক বা লম্পট পুরুষকে চায় না।
১৭। বয়স্ক বা অনাসক্ত পুরুষকে চায় না।
১৮। জুয়াড়ি বা বেশ্যাসক্ত পুরুষকে চায় না। এই ধরণের অন্যান্য গুণ থাকলেও তাকে নারী ঘৃনা করে।
১৯। যে পুরুষ হৃদয়হীন বা অত্যাচারী ও স্বেচ্ছাচারী হয় তাকে নারী চায় না।
২০। যে পুরুষ পৌরুষত্বহীন বা দৃঢ়তাহীন তাকেও নারী চায় না।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা আত্ম উন্নয়ন বিনোদন ভালবাসা/প্রণয়লীলা সৃজনশীল প্রকাশনা

আজিমের বউ

– কাজী আনোয়ার হোসেন

১.

আপন মনে গুনগুন সুর ভাঁজছে মিতা শাহনাজ, তৈরি হচ্ছে স্কুলের জন্য। কাল একটু রাত জেগে পরীক্ষার খাতাগুলো দেখে রাখায় সকালে কাজের চাপ একদম নেই। সদ্য পাটভাঙা, লালপেড়ে, সুন্দর একটা সুতির ছাপা শাড়ি পরেছে ও আজ; আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে এলোখোঁপায় গোটা কয়েক কাঁটা গুঁজে নিয়ে পাউডারের পাফ বুলাচ্ছে নাকে-মুখে। মর্নিং শিফটে বাচ্চাদের দুটো ক্লাস নিয়ে ফিরে আসবে, গোসল-খাওয়া সারবে বাসায়, তারপর আবার ডে শিফটে সেভেন-এইটের দুটো ক্লাস নেবে দুটো থেকে চারটে পর্যন্ত। ব্যস, ছুট্টি। খাতা-কলম, র‌্যাপিড রিডার, সবুজ সাথী, ড্রইংবক্স সব ওর বুটিক-ব্যাগে পুরে ওটা কাঁধে ঝুলাতে যাবে, এমনি সময় ঝনঝন শব্দে বাজল টেলিফোন। কেন জানি ওর মনটা আগাম গাইল: হয়তো খারাপ কোনও খবর। ভয়ে ভয়ে রিসিভার কানে তুলল ও। ‘কে কও? মিতা?’ নানীজির কাঁপা গলা। এই রসিক বৃদ্ধাকে ওর ভারি পছন্দ। এ-শহরে টিচার হয়ে এসে প্রথম ছয়টা মাস পেয়িং গেস্ট হিসেবে ছিল ও এঁদের পরিবারে, বিশেষ করে এঁর মধুর, ঘনিষ্ঠ সাহচর্যে। এখনও নানীজির বাড়িতে যখন-তখন ওর অবাধ যাতায়াত। ও-বাড়ির সবকিছুতে ওকে থাকতেই হবে, কোনও অনুষ্ঠানে যদি না যায়, নানীজি নিজে চলে আসেন নিতে। মিতার সাড়া পাওয়ামাত্র রেলগাড়ি ছুটালেন নানীজি। ‘কী বিয়াপার, মিতা, ভুইলা গেছো নিকি আমাগো? আহো না যে? অসুক-বিসুক অইল নিকি আবার? এক সাপ্তা গেল গা, পাত্তাই নাই!’ প্রথমে বাঁধা-ধরা অনুযোগ সেরে নিয়ে এইবার শুরু করলেন নানীজি পুরো খবর, ‘এইদিকের গটনা জানো না, মিতা? আজিম তো আইতাছে। সইন্ধ্যার গাড়িতে আইব, আগামী কাইল।’ একটু ইতস্তত করলেন তিনি, তারপর বলে ফেললেন আসল খবর, ‘বউ নিয়া আইতাছে আজিম।…কী কইলা?…হ, বউ নিয়া। ঢাকা থেইকা ফোন করছিল আমারে কাইল অনেক রাইতে। হাতে এক্কেরে সময় নাই। কও দেহি, তারাহুরা কইরা আমরা অহন কী ব্যবস্তা করি! বাড়ির হগলতে এক্কেরে পেরেশান হইয়া পড়ছে। আইজ বিকালে পারিবারিক মীটিন। তুমি আইজ ইসকুল থেইকা সিদা আমাগো এইহানে আইসা পড়ো। হগলতে মিলা বুদ্দি-পরামশ্য কইরা দেহি কী করা যায়।…কী কইলা?…হ, এই বাড়ির হগলতে তো থাকবই, কয়জন আপ্তীয়-স্বজনরেও ডাকুম।…কী কইলা?…পিট্টি লাগামু কইলাম! তুমি আপ্তীয়রও বেশি, তুমি একটুও দেরি করবা না, মিতা। একটা আয়োজন করতে হইলে…’ বলেই চললেন নানীজি। বাড়িঘর গোছগাছ করা, নাতি-নাতবৌয়ের জন্য সুন্দর করে একটা ঘর সাজানো, বাড়ির বাইরের আলোকসজ্জা, খানাপিনার ব্যবস্থা, ডেকোরেটরের সঙ্গে কথা বলা-হ্যাঁ, অনেক কাজ পড়ে রয়েছে, সময় কম। রিসিভার কানে ধরে জানালা দিয়ে বাইরে চেয়ে আছে মিতা। বাগানের লাল-নীল-হলুদ ফুলগুলো রঙ হারিয়ে কেমন মলিন হয়ে গেছে, এক রঙ অন্য রঙে মিলেমিশে ঝাপসা। ফোন ছেড়ে জানালার সিক ধরল মিতা। মনে হচ্ছে কণ্ঠনালীর কাছে এসে লাফাচ্ছে হৃৎপিণ্ডটা, চিন্তাগুলো অস্পষ্ট। ধীরে ধীরে কিছুটা রঙ ফিরে এলো ফুলে, মাতালের মত ঢলাঢলি কমল ওদের। মাথাটা একটু পরিষ্কার হয়ে আসতে নির্জলা, নিষ্ঠুর, বাস্তব সত্যটা স্পষ্ট হয়ে উঠল ওর কাছে: ব্যাপারটা ঘটল তা হলে, বিয়ে করে ফেলল আজিম। ভয় ছিল, এমনটা হতে পারে-কিন্তু সত্যি সত্যি ঘটেই গেল! আগে থেকে বলল না, মানসিক প্রস্তুতি নেওয়ার একটু সুযোগও দিল না ওকে! একটু ভাবল না ওর কথা! সঙ্গে-সঙ্গে উত্তর এলো নিজেরই মন থেকে। কেন ভাববে? বিরাট ব্যবসায়ীর একমাত্র পুত্র, নিজেও গতবছর এমবিএ পাশ করে নেমে পড়েছে ব্যবসায়, অল্পদিনের মধ্যেই দাঁড় করিয়ে ফেলেছে আলাদা নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান; উনত্রিশ বছরের তরতাজা, স্বাস্থ্যবান যুবক; যেমন দেখতে-শুনতে, তেমনি ছোট-বড় সবার সঙ্গে ভদ্র, স্বতঃস্ফূর্ত, মিষ্টি ব্যবহার; পরিবারের সবার আদরের ধন, চোখের মণি, কলজের টুকরো-সে কেন ওর মত সাধারণ এক স্কুল টিচারের কথা ভাবতে যাবে? কিন্তু তা হলে আগে যেখানে ঢাকা থেকে বছরে একবার বেড়াতে আসত, গত দেড়টা বছর প্রতিমাসেই ছুটে এসেছে কেন ও নানা-বাড়িতে? আর এসেই কেন হই-হই করে খোঁজ করেছে মিতার? ছুটির কটা দিন ওর সঙ্গে হাসি-গল্পে মহানন্দে কাটিয়ে দিয়ে কেন প্রতিবার মন খারাপ করে ফিরে গেছে ঢাকায়? এর উত্তর জানা নেই মিতার। ও অবশ্য বরাবর ভদ্র দূরত্ব বজায় রেখেছে, এরকম একটা ভয় ছিল বলেই তীক্ষ্ন উপস্থিতবুদ্ধির কাঁটাতার দিয়ে ঘিরে রেখেছে নিজেকে, সহজ বন্ধুত্ব হিসেবে হালকা করে দেখেছে সম্পর্কটাকে। বিকেলে হাঁটতে হাঁটতে চলে গেছে ওরা নদীর তীর ধরে অনেক, অনেকদূর-কিন্তু হাত ধরেনি কেউ কারও। মুখ ফুটে কেউ বলেনি কিছু। কিন্তু বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে মিতা, মনের গভীরে কোন আশাই দানা বাঁধেনি ওর? ফোঁস করে দীর্ঘশ্বাস পড়ল।-না, তা বলতে পারবে না। যাক, এখন কিছুতেই কিছু এসে যায় না। টেনিসনের লাইনটা মনে পড়ছে: ‘সুখের দিনগুলো স্মরণ করলে চরমে পৌঁছবে তোমার দুঃখ।’ ভুলে যাও, ভুলে যাও।

২.

স্কুলের ঘণ্টা পড়তেই সচকিত হলো মিতা। কর্তব্য যখন বেদনার কাঁধে হাত রেখে সান্ত্বনা দিয়ে বলে: ‘আরে, দূর, বাদ দাও তো! কাজ পড়ে আছে না তোমার!’ তখন সে-কথায় কান দেওয়াই ভালো। বেরিয়ে পড়ল ইতি। ইঁট বসানো সরু পথের ওপর ঘন হয়ে বিছিয়ে রয়েছে ইউক্যালিপ্টাসের শুকনো ঝরা পাতা। একটু এগিয়ে বামে বাঁক নিয়ে একশো গজ গেলেই স্কুল। দু’বছর হলো বিধবা মাকে গ্রামের বাড়িতে রেখে চাকরি নিয়ে এসেছে ও এখানে। এখন মনে হয় কত যুগ ধরে যেন আছে ও এই শহরে। ছোট্ট একটা মেয়ে ইউক্যালিপ্টাসের ফরসা গায়ে হেলান দিয়ে অপেক্ষা করছিল তার প্রিয় আপার জন্য, মিতা কাছে আসতেই দৌড়ে এসে ভেজা-ভেজা কচি হাত দিয়ে ধরল ওর হাত। ‘আচ্ছা, মিতাপা, ঘাসফড়িংগুলো লাফিয়ে লাফিয়ে কোথায় যায়?’ ‘আমি জানি না তো, বেনু সোনা।’ আনমনে জবাব দিল মিতা। অতীতে চলে গেছে ওর মন। বি.এ. পাশ করে চাকরি নিয়ে ও যখন পাকশিতে আসে, ওর তখন তেইশ, আজিমের সাতাশ। একমাসও হয়নি নানীজির বাড়িতে পেয়িং গেস্ট হিসেবে আছে, এমনি সময়ে ঢাকা থেকে এলো সবার প্রিয়, পরিবারের হিরো আজিম আহমেদ। এসেই সন্ধ্যায় দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে ‘ভউ’ করে ওকে ভয় দেখিয়ে নতুন মানুষ দেখে নিজেই ভয় পেয়ে গিয়েছিল। লজ্জায় লাল। দৃশ্যটা মনে পড়ায় হাসি এসে গেল ঠোঁটে। মিতার হাসি দেখে ছোট্ট মেয়েটা ওর হাতটা নিয়ে নিজের গালে ঠেকাল। ‘আচ্ছা, আপা, তুমি লাল রসগোলা বানাতে পারো?’ ‘না, সোনা।’ ছোটবেলায় মা হারিয়ে আজিম আর ওর বড় বোন শান্তা নানীবাড়িতে মানুষ হয়েছে সাত-আট বছর। তারপর ওদের বাবা এনাম আহমেদ দুজনকে ঢাকায় নিয়ে যান। শান্তার বিয়ে হয়ে যায় সেই বছরই, আজিম মন দেয় লেখাপড়ায়। কিন্তু নানীবাড়ির হাসিখুশি খোলামেলা পরিবেশের আকর্ষণে প্রতি বছরই গরমের ছুটিতে ছুটে চলে আসে ও এখানে। গত সতেরো বছর ধরে এর কোন হেরফের হয়নি। কিন্তু মিতার সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর থেকে প্রায় প্রতি মাসেই এসেছে ও পাকশিতে, হাসি-গল্পে মাতিয়ে দিয়ে গেছে সবাইকে। গল্প করতে গিয়ে দুজনেই আবিষ্কার করেছে অদ্ভুত মিল রয়েছে ওদের দুজনের রুচিতে, চিন্তায়, মন-মানসিকতায়। ‘মিতাপা, আমার জন্মদিন জুলাই নাকি জুনমাসে ভুলে গেছি।’ ‘ভাল করেছ, সোনা।’ গত বছর এমবিএ পাশ করে বাবার ব্যবসায় যোগ না দিয়ে নিজেই আলাদা ব্যবসায় নেমে এক বছরে অনেক উন্নতি করেছে আজিম। গত ছ’টা মাস প্রতিবার যখন এসেছে, ওর জন্য কিছু না কিছু উপহার নিয়ে এসেছে, ওর কাছে সেটা ভাল লাগলে মনে হয়েছে ধন্য হয়ে গেছে আজিম। নানাবাড়ির জমজমাট গল্পের আসরে ইদানীং মাঝেমাঝেই মামা-মামী-খালা-খালুরা ওর বিয়ের প্রসঙ্গ তুলেছেন, আজিম কোন জবাব দেয়নি, লাজুক হেসেছে, আর চোরা চোখে তাকিয়েছে মিতার দিকে। ‘আচ্ছা, আপা, এই শহরে কি বাঘ আছে?’ ‘না, সোনা।’ ‘ভালুক?’ ‘নাহ্!’ এই তো কদিন আগে হঠাৎ আজিমের একটা দীর্ঘ চিঠি এলো মিতার বাসার ঠিকানায়। ওতে নানান কথার শেষে লেখা ছিল কী যেন বলবে ও মিতাকে আগামীবার পাকশি এসে। এখন বোঝা গেল কী বলতে চেয়েছিল। অথচ ও ভেবেছিল, হয়তো…রাগ হচ্ছে মিতার নিজের ওপর, আঘাত লাগছে আত্মসম্মানে, কেন খুশি হয়ে উঠেছিল ওর গোটা অ¯স্তিত্ব? কী ভেবে? ভাগ্যিস কোন উত্তর লিখে নিজেকে খেলো করে ফেলেনি ও! ক্লাসে পৌঁছে রুটিন কাজের মধ্যে কিছুটা স্ব¯স্তি খুঁজে পেল মিতা। প্রথমেই ব্যাগটা ডেস্কের ওপর নামিয়ে বই-খাতা বের করে সাজিয়ে রাখল। গত কদিন ধরেই ছাত্র-ছাত্রীদের ‘কাজলা দিদি’ কবিতাটি মুখস্থ করাচ্ছে, বলল, ‘জাহাঙ্গির, যেটুকু শিখিয়েছি খাতা না দেখে বলো তো শুনি!’ সোৎসাহে শুরু করল জাহাঙ্গির: বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই, মাগো, আমার শোলক-বলা কাজলা দিদি কই? এটুকু বলতেই উঠে দাঁড়াল বেনু। ‘আপা, আমি বলি?’ ‘ওর বলা হয়ে যাক, বেনু, তারপর। কেমন?’ বেনুর আবৃত্তি শেষ হতেই ‘গুড’ বলে চক নিয়ে ব্যাকবোর্ডের সামনে গিয়ে দাঁড়াল ইতি। আজ আরও দুটো চরণ লিখল: ভুঁইচাঁপাতে ভরে গেছে শিউলি গাছের তল, মাড়াসনে মা, পুকুর থেকে আনবি যখন জল।

৩.

প্রায় সবাই হাজির। দোতলায় নানীজির শোবার ঘরে কেউ চেয়ারে, কেউ লম্বা বেঞ্চে, কেউ খাটে, কেউ টুলে-যে যেখানে পেরেছে বসেছে। মিতা পৌঁছতে ওকে ডেকে নিজের ইজিচেয়ারের পাশে একটা গদি আঁটা মোড়ায় বসালেন নানীজি। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে গেল আলোচনা। ছোটখালার ইচ্ছে সামনের আঙিনায় প্যান্ডেল টাঙানো হোক। মেজোখালার ইচ্ছে শহরের সবাইকে দাওয়াত করা হোক। মেজো মামা আপত্তি করলেন: ভোজ লাগানোর কোন দরকার নেই, বিয়ে হয়ে গেছে, এখন শুধু আত্মীয়-বন্ধুদের নিয়ে চা-বিস্কিটের একটা সম্বর্ধনা হলেই যথেষ্ট। নানীজি বললেন: মোরগ পোলাওয়ের লগে আর কী-কী থাকবো, হেইটা নিয়া চিন্তা করো। বড়খালা বললেন: টিকিয়া, বোরহানী আর খাসীর কালিয়া। আর মুরগীর রোস্ট-জিভ টেনে বলল ছোট্ট ইরিনা। এইবার ছোটরা কাঁইমাই শুরু করল। পুবের বড় বেডরূমটা সাজানো হবে আজিম ভাই আর ভাবীর জন্য। ফুলের দায়িত্ব থাকবে অলকের ওপর, কাগজ-কাটা সাজসজ্জার ভার নিতু ভাবীর ওপর। সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকবে ছোটখালু। কেনা-কাটা, প্যান্ডেল, বাবুর্চি-বেয়ারা এসবের ভার নিলেন বড়মামা। ‘ডিনার সেট, পেট, গাস এসব ভাড়া না করে নানুর আলমারি থেকে-’ এর বেশি আর বলতে পারল না মেজখালার মেয়ে নাসিমা; বাঙাল ভাষায় ফুঁসে উঠলেন নানীজি। ‘খবরদার! আমার কইলজা হাতরাইয়া কিছু যদি বাইর করবি, নলী বাইঙ্গা ফালামু কোলাম!’ ‘ধরতে পারলে তো!’ বলল অলক। ‘দৌড়ে তুমি পারবে আমাদের সঙ্গে?’ হাসলেন নানীজি, তারপর ভুরু কুঁচকে কপট রাগ দেখিয়ে বললেন, ‘আলমারিতে চোখ দিবি না, ব্যস, কোইয়া দিলাম!’ ‘আচ্ছা, চায়নিজ করলে কেমন হয়?’ নতুন এক প্রস্তাব তুলল বড়খালার ছোটমেয়ে রুবি। ‘হল ভাড়া নিয়ে-’ ‘খুব খারাপ হয়,’ জবাব এলো তারই মায়ের কাছ থেকে। ‘কেন?’ জানতে চাইল তাঁর আরেক মেয়ে। ‘আমি তো উপর-নিচ করতে-’ বলতে নিয়েছিলেন নানীজি, কিন্তু কথা শেষ করবার আগেই প্রস্তাব উইথড্র করে নিল রুবি। ‘আমি ভাবছিলাম, যদি ঢাকার পশ্ এলাকার আল্ট্রা মডার্ন মেয়ে হয়,’ ব্যাখ্যা দিল রুবি, ‘তা হলে আমরা ভাবীকে দেখিয়ে দিতে পারতাম, এখানে আমরাও খুব একটা পিছিয়ে নেই।’ নতুন আইডিয়া খেলল তরুণ ফটোগ্রাফার বাবলুর মাথায়: ‘গেটের ওপর আজিম ভাইয়ের একটা ছবি এনলার্জ করে টানিয়ে দিলে কেমন হয়?’ ‘খুব ভাল হয়,’ বলল মিতা। ‘কাবাবঘরের গেটে যেমন খাসীর ছবি টাঙানো থাকে, তাই না?’ সবাই হো-হো করে হেসে ওঠায় লজ্জা পেয়ে মিতা আপারই আঁচল তলায় লুকাল বাবলু। ওর পিঠে হাত বুলিয়ে দিল মিতা। চা-নাস্তার ফাঁকে-ফাঁকে ঘণ্টা দুয়েক আলোচনা, হাসি-তামাশা আর গল্প-গুজব চলল, সবার সঙ্গে সমান তালে আড্ডা দিল মিতাও। প্রত্যেককে যার-যার দায়িত্ব বেঁটে দিলেন নানীজি, এমন কি ছোট্ট ইরিনাও পেল একটা পান-সুপারী সাজানো থালার দায়িত্ব। মিতার ওপর পড়ল বাদাম-পেস্তা দেওয়া শরবত তৈরি করা এবং সবাই ঠিক মত পেল কিনা দেখবার দায়িত্ব। পরদিন দুপুরে আসবে কথা দিয়ে বাসায় ফিরে গেল ও।

৪.

পরদিন শুক্রবার। স্কুল নেই। সন্ধের আগেই নানীজির প্রশস্ত রান্নাঘরের কোণে টেবিলের উপর রাখা একটা কল লাগানো ড্রামে কুচি করা বাদাম-পেস্তা দেওয়া মিষ্টি দইয়ের শরবত বানিয়ে ফেলল মিতা। বড় দেখে তিনটে বরফের চাঁই ছাড়ল ওতে। বর-কনে পৌঁছে গেলেই গাসে-গাসে ঢালা হবে শরবত। তখনও ওর হাজির থাকতে হবে, কারণ কল খুলে ঢালার আগে বড় হাতা দিয়ে আচ্ছামত গুলাতে হবে, দেখতে হবে মিষ্টি ঠিক হয়েছে কি না। কাপড় পাল্টে আসছি বলে ঘরে ফিরে বিছানায় লুটিয়ে পড়ল মিতা। কিচ্ছু ভাল লাগছে না, উঠে দাঁড়াবারও শক্তি নেই শরীরে। বুক ভেঙে উঠে আসতে চাইছে কাঁপা-কাঁপা দীর্ঘশ্বাস। আধঘণ্টা শিথিল ভঙ্গিতে পড়ে থেকে, নিজেকে চোখ রাঙিয়ে অনেক কষ্টে তুলল ও বিছানা থেকে। শথ ভঙ্গিতে সাদামাঠা একটা শাড়ি পরল ও, কাজল দিল চোখে, মুখে হালকা পাউডার বুলিয়ে, কপালে ছোট্ট একটা লাল টিপ পরেই রওনা হলো আলো-ঝলমল বাড়িটার দিকে। অভ্যাগতরা আসতে শুরু করেছেন। দূর থেকে ট্রেনের সিটি কানে আসতেই ধক্ করে উঠল মিতার বুকের ভিতরটা। ওই, আসছে ওরা! বড় মামা গাড়ি নিয়ে গেছেন ওদের আনতে। ওর ইচ্ছে হলো ঝোপে-জঙ্গলে কোথাও লুকিয়ে পড়ে, এমন কোথাও, যেখান থেকে ওদেরকে দেখা যায়, কিন্তু ওকে কেউ দেখতে না পায়। মাথা নেড়ে বাজে চিন্তা দূর করে দিল মিতা। এখন ভেঙে পড়লে চলবে না, মনটাকে শক্ত করে নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তৈরি থাকতে হবে। কেউ যেন ঘুণাক্ষরেও টের না পায় ওর ভিতরে কী চলছে। গম্-গম্ করছে বাড়িটা ঠিক বিয়ে-বাড়ির মতই। সবাই চারদিকে এমন ভাবে ছুটোছুটি করছে, যেন পিঁপড়ের বাসায় খোঁচা দিয়েছে কেউ। ‘আরে, মিতা আপা! তুমি এতক্ষণে আসছ?’ নিচতলার বারান্দায় উঠতেই বলল ছোটখালার বড় মেয়ে ঝর্না, ‘সেই কখন থেকে পাগল হয়ে খুঁজছে নানু তোমাকে! জলদি ওপরে যাও, নইলে চেঁচিয়ে বাড়ি মাথায় করবে তোমার নানীজি!’

৫.

প্রাচীন বাড়িটাকে আর চেনাই যাচ্ছে না। ছোটরা সত্যিই সুন্দর করে সাজিয়েছে কাগজের ফুল আর নকশা দিয়ে। সিঁড়ির ধাপে আর ল্যান্ডিঙে আলপনা আঁকা হয়েছে। সুন্দর লাগছে। দোতলায় উঠে গেল মিতা। সিঁড়ি বেয়ে পিলপিল করে উঠছে-নামছে উৎসবের বাহারি সাজ-পোশাক পরা নানান বয়েসী চেনা-অচেনা অসংখ্য ছেলেমেয়ে। ওকে দেখে মিষ্টি করে হাসলেন ছোটখালা। ‘বাহ্! ভারি সুন্দর লাগছে তো তোমাকে আজ!’ মৃদু হেসে পাশ কাটাল মিতা। নানীজির কাছে যেতে হাত ধরে বসালেন তিনি পাশে। কেন খোঁজ করছেন জিজ্ঞেস করায় বললেন, ‘কী কইলা?’ ‘আমাকে খুঁজছিলেন বলে?’ ‘হ।’ ‘কেন?’ কেন খুঁজছিলেন মনে নেই নানীজির। নিজ দায়িত্বের কথা ভেবে সচকিত হলো মিতা। ‘আমার একটা টুল দরকার ছিল যে, নানীজি। ওর ওপর চড়ে শরবত ঘুঁটতে হবে ঢালার সময়।’ ‘ঠিক কইছ। তোমার বড়খালা আছে রান্নাঘরে, অরে কইলেই একটা টুলের ব্যবস্তা কইরা দিব।’ রান্নাঘরে চলে এলো মিতা। টেবিলের ধারে একটা টুল রাখা, তার ওপর বসেই অপেক্ষা করছেন বড়খালা ওর জন্য। ওকে দেখেই উজ্জ্বল হয়ে উঠল তাঁর চোখদুটো। ‘দারুণ লাগছে তোমাকে, মিতা!’ ওর চিবুক স্পর্শ করে আঙুলে চুমো খেলেন বড়খালা। ‘আজিমটা একটা আস্ত গাধা! কাছের মানুষটাকে মনে ধরল না, হুট করে বিয়ে করে বসল কোথাকার কোন্ মেয়েকে। অথচ আমরা সবাই জানি একমাত্র তোমাকেই সত্যি-সত্যি মানায় ওর পাশে।’ ‘শরবতটা এখন একবার ভাল করে ঘুঁটে বরফ দিয়ে রাখলে হতো না, খালা? মিষ্টি ঠিক হয়েছে কি না কে জানে!’ টুল ছেড়ে উঠে পড়লেন বড়খালা। ‘ঠিক বলেছ। তুমি নাড়ো, আমি একটা গাসে নিয়ে চেখে দেখি।’ টুলে উঠে দাঁড়াল মিতা ইয়া বড় এক কাঠের ঘুঁটনি নিয়ে। বড়-বড় আরও কয়েকটা বরফের চাকা ছাড়া হলো টবে। মিনিট পাঁচেক ঘাঁটাঘাঁটির পর চেখে দেখা গেল মিষ্টি বেশি লাগছে, তার মানে বরফ গললে একদম ঠিক হবে। আবার ঢাকনা বন্ধ করে রাখা হলো, সার্ভ করবার আগে আবার একবার ঘাঁটতে হবে, ব্যস। এবার দোতলার বারান্দায় চলে এলো মিতা বড়খালার সঙ্গে। এখান থেকে দেখা যাবে বর-কনেকে গেট দিয়ে ঢুকবার সময়। ফুলের তোড়া নিয়ে তিন-চারটে বাচ্চা মেয়ে দাঁড়িয়েছে গেটের দু’পাশে। বিরিয়ানী আর টিকিয়ার গন্ধ ভেসে আসছে নীচ থেকে।

৬.

বড়মামার গাড়ির টানা হর্ন শুনে বুক কাঁপতে শুরু করল মিতার। দোয়া-দরুদ পড়ে ফুঁ দিল বুকে, যাতে ভেঙে পড়ে সবার সামনে বেইজ্জত না হয়। গেটে এসে থামল গাড়ি। ওই তো, নামছে আজিম! সেই ঋজু, সুঠাম দেহ, চিতানো বুক, ব্যাকব্রাশ করা চুল; সেই স্বতঃস্ফূর্ত, উজ্জ্বল হাসি। আর পাশে-ওহ্, ভারী মিষ্টি তো মেয়েটা!-ঠিক যেন ফুটফুটে এক লালপরী। বয়সটা যদিও একটু কম-টেনেটুনে বড়জোর সতেরো হবে। কমনীয় চেহারাটা টুকটুকে লাল কাতান শাড়িতে কেবল সুন্দর না, অপূর্ব সুন্দর লাগছে দেখতে। ফোঁস করে একটা দীর্ঘশ্বাস পড়ল মিতার নিজেরই অজান্তে। চট্ করে ঘাড় ফিরিয়ে চাইলেন বড়খালা। মনটা শক্ত করল মিতা। দায়িত্বের কথা মনে পড়ল ওর। আজিম তখন মামা-খালুদের সালাম করে পরিচিতদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে। মিষ্টি হাসি মুখে নিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে ওর বউ। মুখ নাড়া দেখে কেন যেন মনে হলো আজিম জিজ্ঞেস করল: মিতা কই? মিতা আসেনি? তারপর হাতের ইশারায় এগোতে বলল বউকে। হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে গেছে মিতার, গরম ভাপ বেরোতে চাইছে দুই গাল আর কান দিয়ে। ও জানে না, ওর হিংসে করবার কোন কারণই নেই: ওর ফরসা গালের লালচে আভা, কোমর ছাড়িয়ে নেমে যাওয়া মেঘবরণ চুল, আর কাজল-কালো আয়ত চোখ এ-মুহূর্তে ওকে নববধূর চেয়ে অনেক-অনেক বেশি আকর্ষণীয় করে তুলেছে। এগিয়ে আসছে আজিম বউ নিয়ে। সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়তে চাইছে ওদের ওপর। কী যেন বলল আজিম, হো-হো করে হেসে উঠল সবাই। খালা-খালুরা হাসছে, হাসছে মামা-মামীরাও, হেসে গড়িয়ে পড়ছে ছোটদের দল। কে যেন বলল, ‘একদম মায়ের চেহারা!’ এখনি খোঁজ পড়বে শরবতের। রান্নাঘরের দিকে ছুটল মিতা। সাদামাঠা শাড়ি পরে চলে এসেছে ও, লজ্জায় কুঁকড়ে যাচ্ছে ভাবতে যে, একটু পরেই ওর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবে আজিম ওর বউকে। হাসবে মেয়েটা মেকাপবিহীন মিতার গ্রাম্যতা দেখে। হাসুক, সাধারণ এক স্কুল টিচার আর কত ভাল কাপড় পরবে। রান্নাঘরের দিকে যেতে যেতে আজিমের গমগমে গলা শুনতে পেল মিতা, ‘মিতা কোথায়? মিতাকে দেখছি না যে! মিতা গেল কোথায়?’ কে কী উত্তর দিল শোনার জন্য অপেক্ষা না করে হাঁটবার গতি বাড়িয়ে দিল মিতা। দৌড়ে পালিয়ে এলো রান্নাঘরের নিরাপদ আশ্রয়ে। ওখানে অলক আর রুবিকে দেখে বলল, ‘আমি শরবত গুলাচ্ছি, তোমরা কলটা ছেড়ে দিয়ে ট্রে-র গাসগুলো ভরে নিয়ে ছুট দাও, ঠিকাছে? দেখো, কেউ যেন বাদ না পড়ে।’ ছুটল ওরা ট্রে-ভর্তি শরবতের গাস নিয়ে। টুলের ওপর দাঁড়িয়ে শরবত গুলাতে গুলাতে আরও কয়েকবার আজিমের গলা শুনতে পেল মিতা। ‘মিতা গেল কই? কোথায় মিতা?’ ক্রমেই কাছে চলে আসছে গলাটা। কোথাও লুকাতে পারলে হতো, ভাবছে মিতা। কিন্তু তার আগেই দেখল নীল জিন্স পরা একজোড়া পা ব্যস্ত ভঙ্গিতে এগিয়ে আসছে রান্নাঘরের দিকে।

৭.

মাথা নিচু করে ঢুকল আজিম রান্নাঘরের মেয়েলি-সাইজ দরজা দিয়ে। টুলের ওপর দাঁড়ানো মিতাকে দেখল আপাদমস্তক। একগাল হেসে বলল, ‘কি ব্যাপার, মিতা? সারা বাড়ি খুঁজে কোত্থাও পাচ্ছি না তোমাকে! শেষে নানু বলল: দেখ্ গিয়ে, রান্নাঘরে থাকতে পারে। আমি এলাম, খুঁজে মরছি তোমাকে, আর এখানে লুকিয়ে রয়েছ তুমি?’ ‘লুকিয়ে কোথায়?’ বলল মিতা। ‘আমি তো সম্বর্ধনার কাজে ব্যস্ত!’ আরেক টুকরো বরফ ড্রামে ফেলবে কি না ভাবছিল ও, কথা বলতে গিয়ে হাত ফসকে পড়ে গেল ওটা ড্রামে। ‘এইয-যাহ্! আজিম ভাই, এতবড় বরফের চাঁই তো পানসে করে দেবে শরবত!’ বরফ তুলতে গিয়ে মিতার গায়ে ছিটকে এলো শরবত। হা-হা করে হেসে উঠল আজিম। ‘তোমার হাতের তৈরি শরবত, কিচ্ছু ভেবো না, মিষ্টিই থাকবে।’ এই বলে রুমাল বের করে সোৎসাহে মুছিয়ে দিল ও মিতার হাত, শাড়ি, কপাল। হঠাৎ মিতার চোখে চোখ পড়ল আজিমের। চট্ করে হাতটা ছেড়ে দিয়ে আড়ষ্ট ভঙ্গিতে হাসল ও। ‘তোমার চিঠি পেয়েছি,’ টুল থেকে নেমে বলল মিতা। ‘কী বলতে চেয়েছিলে বুঝতে পেরেছি। সত্যিই, দারুণ! অপূর্ব সুন্দরী মেয়েটা!’ ‘সত্যিই! তাই না?’ বলল আজিম। ‘যেমন দেখতে, তেমনি ওর ব্যবহার, চালচলন। ঠিক যেন মাঝবয়েসী গিন্নি একটা। আমি পাকশি আসছি শুনে কিছুতেই ছাড়ল না। এখন চুটিয়ে গল্প করছে নানীদের সঙ্গে। কিন্তু-হোয়াট ডু ইউ মীন বাই বুঝতে পেরেছি? কী বুঝতে পেরেছ? তুমি জানতে তোমার জন্যে কী নিয়ে ছুটে আসছি আমি ঢাকা থেকে?’ ‘ছুটে আসছ…আমার জন্যে! মানে?’ ‘অনেক ভেবে দেখলাম, মিতা। মাঝে হাসপাতালে ছিলাম বেশ কিছুদিন। এতদিন ভেবেছিলাম আমাদের সম্পর্কটা বুঝি শুধুই বন্ধুত্বের, কিন্তু হাসপাতালের বেডে শুয়ে-শুয়ে হঠাৎ বুঝতে পারলাম, তোমাকে আমার চাই-ই চাই। বুঝে গেছি, তোমাকে ছাড়া সত্যিই আমি বাঁচব না, মিতা।’ কিন্তু ততদিনে যা হবার হয়ে গেছে, বিয়ে করে বসেছে একটা কচি মেয়েকে। মিতা বুঝতে পারছে আজিমের মনের অবস্থাটা। যখন পরিষ্কার বুঝল সব, তখন দেরি হয়ে গেছে অনেক। আজিমের একটা হাত ধরল মিতা। নরম চোখে চাইল ওর চোখে। বলল, ‘এসব কথা থাক, আজিম ভাই। আর কখনও উচ্চারণ কোরো না একথা। আমিও কি ছাই জানতাম তুমি আমার কী ছিলে? এখন মন থেকে ঝেড়ে ফেলো সব স্মৃতি। সব এখন অতীত। ভুলেও ভেবো না আর, কী হতে পারত। তুমি-’ ‘এসব কী বলছ তুমি, মিতা?’ তাজ্জব হয়ে গেছে আজিম। ফ্যাকাসে হয়ে গেছে ওর হাসিখুশি মুখটা। ‘বলছি, বিয়ের পর এসব নিয়ে আর ভাবতে নেই।’ এতক্ষণে হাসিতে উদ্ভাসিত হয়ে উঠল আজিমের মুখ। বলল, ‘অ্যাঁ? বিয়ের পর মানে? কে বলেছে আমি বিয়ে করেছি? তুমিও বুঝি তাই বিশ্বাস করেছ?’ ‘কেন? করোনি বিয়ে?’ দিশেহারা মিতার চেহারা। হাসি আসছে, কিন্তু মিতার মনের অবস্থা বুঝতে পেরে মন খুলে হাসতেও পারছে না আজিম। বলল, ‘মউ? মউয়ের কথা বলছ? ও তো আমার আপন ভাগ্নী!’ ‘কী বললে?’ ‘তাই তো! সঙ্গে মউকে নিয়ে আসছি বলায় নানু শুনেছে বউকে নিয়ে আসছি। ও হলো শান্তা আপুর মেয়ে, এসএসসি দিয়ে বসে ছিল, চেপে ধরল মামার সঙ্গে ও-ও যাবে ওর মা’র নানীবাড়ি। গেটের কাছে সবার ভুল ভেঙে দেওয়ায় কি রকম হাসির হুলোড় উঠল-তুমি শোনোনি?’ শুনেছে, কিন্তু বুঝতে পারেনি মিতা। হঠাৎ করে বড্ডো দুর্বল বোধ করছে, অবশ লাগছে শরীরটা। আজিমের চোখে চোখ রেখেই নামিয়ে নিল দৃষ্টি। ওর চিবুক ধরে মুখটা উঁচু করল আজিম, কিন্তু চোখ তুলল না মিতা। নিচু গলায় জিজ্ঞেস করল, ‘কী এনেছ আমার জন্যে?’ পকেট থেকে ছোট্ট একটা বাক্স বের করল আজিম, লাজুক ভঙ্গিতে হাসছে। বাক্সটা খুলতেই বেরিয়ে পড়ল বড়সড় হীরে বসানো ঝকঝকে একটা সোনার আংটি। ওটা দেখেই কাঁপা শ্বাস টেনে দম আটকে ফেলল মিতা। ওর বামহাতটা তুলে নিল আজিম তার শক্ত, পুরুষালি হাতে। ‘দিই পরিয়ে?’ বলে অনুমতির অপেক্ষা না করেই পরিয়ে দিল ওটা মিতার অনামিকায়। দুটো দিনের অসহ্য মানসিক চাপ আর সামলাতে পারল না মিতা, ডুকরে কেঁদে উঠে মুখ লুকাল আজিমের বুকে।

৮.

এমনি সময়ে রান্নাঘরে ঢুকলেন নানীজি। ‘অই, ছ্যারা! কী করছত অরে? আমার মিতা কান্দে ক্যান?’ ‘আমি কিচ্ছু করিনি, নানু। বিশ্বাস করো। এইটা পরিয়ে দিতেই কেঁদে উঠল!’ মিতার হাতের দিকে চাইলেন নানীজি। ‘আংটি! কীয়ের আংটি?’ ভুরুজোড়া কপালে তুললেন নানীজি। তারপর একগাল হাসলেন। ‘আইচ্ছা! এই বিয়াপার? আমিও তো এরই লেইগা নিচে নামলাম। আমরা আইজই কামটা সাইরা ফালাইতে চাই।’ নানীজির পিছন থেকে কথা বলে উঠলেন মেজো মামা, ‘কিন্তু ওদের বাপ-মাকে না জানিয়ে…’ চমকে ঘাড় ফিরিয়ে দেখল ওরা পুরো ব্যাটেলিয়ান নানুর পিছনে খাড়া। চট্ করে সরে দাঁড়াল মিতা। ‘খলিল, তুই চুপ র্ক! অই, ফজল, তুই লৌরায়া গিয়া কাজী সাবেরে লইয়া আয়। শুব কামে জলি জলি! ঘর রেডি, সাজানি কমপিলিট, খানাপিনা তৈয়ার, আমরা হ¹লতে হাজির-তাইলে আর দেরি কীয়ের?’ মায়ের আদেশ পেয়ে ছুটলেন বড় মামা। ‘আর খলিল, যা তো, বাপ-বাবুর্চিগো কইয়া দে, অহনি জানি খাওনটি বাইরা না ফালায়।’ ছুটলেন মেজো মামাও। ছোটখালা বললেন, ‘কিন্তু, মা, এই কাপড়ে মিতার বিয়ে হবে কী করে? ফটো উঠলে কেমন দেখাবে?’ ‘আরে রাখ্! তগো বাবলু ক্যামেরাম্যান আর কী ফোটু তুলব! আর, এই কাপড়ে বিয়া হইব মাইনি? আমার বেনারসি পইরা বিয়া হইব মিতার। নাত-বৌয়ের লেইগা আলাদা কইরা গয়না রাইখা দিছি না-হেইটি পইরা বিয়া হইব।’ একটু চিন্তায় পড়লেন নানীজি, ‘অহন এই ছ্যারারে কী পরাই? মনে অইতাসে কইত্তে বাদাইম্যা একটারে দইরা আইনা আমোগো রাজকইন্যার লগে-’ ‘এক কাজ করলেই তো হয়,’ বুদ্ধি জোগাল রুবি। ‘নানার শেরোয়ানি আর পাগড়ি দেখেছিলাম না, নানু, তোমার স্টীলের আলমারিতে?’ ‘ঠিক কইছে তো ছেমরি!’ সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেল। নানীজি হুকুম করলেন, ‘এইবার পোলা আর মাইয়ার দল ফারাক যাও। পোলারা এই ছ্যারারে লইয়া যাওগা, ঠিকঠাক মথন রেডি কইরা আনবা। রাইত আটটায় বিয়া। আমরা আমাগো মাইয়া লইয়া দোতালায় গেলাম।’ হই-হই করে আজিমকে ঘিরে ধরল ছোটরা। ছোটমামার নেতৃত্বে চলল ওরা দহলিজঘরের দিকে। ঘাড় ফিরিয়ে মামা বললেন, ‘মা, হাতে বেশি সময় নেই; আমাদের আচকান-পাগড়ি পাঠিয়ে দিয়ো তাড়াতাড়ি।’ গলা নামিয়ে আজিমকে বললেন, ‘তোর বাপকে একটা খবর দেওয়া দরকার ছিল না?’ ‘বলেই এসেছি, মামা। বাবা বলল: তোর মামারা আছেন ওখানে, কোনও অসুবিধে হবে না; এই সুযোগে আমি আরও দুটো টাকা কামিয়ে নিই।’ ‘দুলাভাইয়ের খালি সবতেই ঠাট্টা!’ ‘আসলে মাইল্ড একটা স্ট্রোক হয়ে গেছে তো, বেশি নড়াচড়া নিষেধ।’

৯.

অবাক লাগছে মিতার, মনে হচ্ছে স্বপ্ন দেখছে জেগে-জেগে। সবাই মিলে সত্যিসত্যিই ওকে রাজকন্যে বানিয়ে দিল আধ ঘণ্টার মধ্যে। বড়খালা ওর চিবুক নেড়ে কপালে চুমু দিলেন। নানীজির বিয়ের বেনারসি একদম নতুন হয়ে আছে। দারুণ মানিয়েছে গহনাগুলোও। বিয়ের আসরে ওকে দেখে প্রথমে চিনতেই পারেনি আজিম, হাঁ করে চেয়ে ছিল বোকার মত। ঠিক আটটায় বিয়ে হয়ে গেল ওদের। সবাই তৃপ্তির সঙ্গে খেয়েদেয়ে ঢেকুর তুলে ইরিনার থালা থেকে পান তুলে নিয়ে যে-যার বাড়ি চলে গেল। সব শেষ হয়ে গেলে সন্তুষ্টচিত্তে হাসলেন নানীজি। ভাবলেন, তাঁকেও কি এই শাড়ি পরে এমনই সুন্দর লেগেছিল আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগে? বিড়বিড় করে আপনমনে বললেন, ‘কী কপাল! পাইয়া গেলাম মনের মথন নাত-বৌ! কিন্তুক, আসলেই কি ‘মউ’রে ‘বউ’ হুনছিলাম?’ দুষ্টু হাসি খেলে গেল তাঁর ঠোঁটে।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা আত্ম উন্নয়ন ভালবাসা/প্রণয়লীলা যৌন জ্ঞান ও সম্পর্ক সৃজনশীল প্রকাশনা

দাম্পত্য জীবনে রোমান্স বাড়াতে..

জীবনে আরেকটু রোমান্স চাচ্ছেন ? আরো কিছু সুন্দর মুহূর্ত যোগ করতে চান আপনার রঙ্গিন মাহিন্দ্র ক্ষণে ? তাহলে এই টিপসগুলো শুধুই আপনার জন্য
প্রতিদিনের সেই একই রুটিন ও অভ্যাস থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করুন। ঘরের পুরনো কক্ষটি রেখে এবার অন্তত এক রাত্রির জন্য হলেও মনোরম কোন স্থানে ভালো কোন হোটেলের একটি রুম ভাড়া করতে পারেন। তারপর সে কক্ষের লাইটটি বন্ধ রেখে, আপনি জ্বালাতে পারেন একটি মোমবাতি ! এরপর হেটেলের ওয়েটার, অথবা সঙ্গিনীকে বলুন, আলতো করে শরীরে তেল মালিশ করে দিতে।
একটু সচেতন হলেই এভাবে জীবনকে উপভোগ করতে পারেন আপনি। দাম্পত্য জীবনের যৌন সম্পর্কই কেবল আপনার সুখের একমাত্র উপাদান হতে পারে না। সুখ র্খুঁজে নিতে হবে ছোট্ট-ছোট্ট অনুষঙ্গ থেকে।
সুযোগ পেলে প্রশংসা করতে ভুল করবেন না আপনার জীবন সঙ্গি বা সঙ্গিনী। এরা আপনার কাছে কতখানি গুরুত্বপর্ণ, কতটা সুন্দর- এগুলো বলুন না এক সময়। দেখবেন, সময়গুলো কত মধুময় হয়ে উঠছে! চেষ্টা করবেন, সব অবস্থায় জীবনকে উপভোগ করতে।
বেডরুমে নতুন কিছু করার চেষ্টা করতে ভয় পাবেন না। একই খাবার যেহেতু আপনি প্রতিদিন খান না, সুতরাং বেডরুমে সেই পরনো ধারাটাই বা কেন রেখে চলবেন? এ রাজ্য নতুনত্ব চায়। তাই মজাদার নতুন পদ্ধতি গ্রহণ করুন। আর এমন কিছু করুন, যেটি আপনার সঙ্গি বা সঙ্গিনীকে মজা দেবার সাথে সাথে অবাক করে দিতে বাধ্য হয়।
এছাড়া, আপনার বেডরুম শয্যাশায়ী হওয়া ও সময় কাটানোর জন্য আরামদায়ক কিনা, আরেকবার দেখে নিন। মনে রাখবেন, রোমান্টিক পরিবেশই রোমান্স সৃষ্টিতে সহায়তা করে থাকে। তাই ঘরটিকে আরেকটু গুছিয়ে রাখা ভালো।
Categories
অনলাইন প্রকাশনা আত্ম উন্নয়ন ভালবাসা/প্রণয়লীলা যৌন জ্ঞান ও সম্পর্ক সৃজনশীল প্রকাশনা

দাম্পত্য জীবনে গোপনীয়তা ও বিশ্বস্ততা

সফল, সুখী ও সৌহার্দ্যপূর্ণ দাম্পত্য জীবনের জন্য অনেক কিছুকেই গুরুত্ব দিতে হয়।
এসবের মধ্যে সততা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয়। সে জন্যই হয়তো বলা হয়ে থাকে, দাম্পত্য জীবনে গোপনীয়তা ও বিশ্বস্ততা একসঙ্গে চলতে পারে না।
আবার অনেক সময় দেখা যায়, সামান্য একটু বিষয় ফাঁস হয়ে গেলেই দীর্ঘদিনের মধুময় বিবাহিত জীবন মুহূর্তের মধ্যেই বিষিয়ে ওঠে। তাই বিষয়টি নিয়ে সমাজবিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানীদের গবেষণার যেন অন্ত নেই। বিষয়টিকে বিভিন্নজন বিভিন্ন ব্যাখ্যা করেছেন।
লাইট হাউজ এরাবিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোচিকিৎসক সালিহা আফ্রিদি মনে করেন, স্বামী ও স্ত্রী নিজেদের মধ্যে স্বচ্ছতা বিধানের চেষ্টা করলেও কখনও কখনও গোপনীয়তার প্রয়োজন রয়েছে। যেমন কেউ যদি বিশ্বাস করে আপনাকে কোন গোপন কিছু বলে থাকে তাহলে তা আপনার জীবনসঙ্গী অথবা অন্য কাউকেই বলা ঠিক নয়। তেমনি নিজের অতীত সম্পর্কে মিথ্যা বলার চেয়ে সবকিছু শেয়ার না করাই ভাল।
গোপনীয়তার আরেকটি দিক হচ্ছে অর্থনৈতিক বিষয়াদি। স্ত্রী রোজগার করুক আর নাই করুক তার এ বিষয়ে জানার অধিকার রয়েছে।
অন্যদিকে, অনেককেই তাদের জীবনসঙ্গীর কাছে কিছু বিষয় গোপন রাখতে দেখা যায়। কারণ, তারা এসব বিষয় অন্যকে জানাতে লজ্জা পান। যদি তাদের এ গোপনীয়তা দাম্পত্য জীবনকে আঘাত করার মতো না হয় তবে তা দোষের কিছু নয়।
কোন সত্য যদি বিবাহিত জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো হয় তাহলে তা গোপন রাখা উচিত বলে মনে করেন ‘দ্য সিক্রেট লাইফ অব ওয়াইভস’ বইয়ের লেখক আইরিস ক্রাসনো।
তিনি এ বইয়ে দাম্পত্য জীবন সম্পর্কে প্রায় ২০০ মহিলার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। এতে তিনি বলেছেন, মিথ্যা এবং গোপনীয়তা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
সবারই কিছু গোপন বিষয় থাকে। আফ্রিদির মতে, কোন বিষয় গোপন করার আগে মানুষকে দাম্পত্য জীবনে ওই বিষয়টির নিরাপত্তাহীনতা অথবা গ্রহণযোগ্যতার অভাব রয়েছে কিনা তা ভেবে দেখতে হবে।
জোসেফ ফ্রিটল ও টাইগার উডসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মানুষকে তার দাম্পত্য জীবনে আমি, তুমি এবং আমরা- এ তিনটিকে সম্পূর্ণ আলাদা অস্তিত্ব হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এ বিষয়গুলোকে একাকার করে ফেলা উচিত নয় বলে তিনি মত দিয়েছেন।
Categories
অনলাইন প্রকাশনা ভালবাসা/প্রণয়লীলা যৌন জ্ঞান ও সম্পর্ক সৃজনশীল প্রকাশনা

স্বামী বশীভূতকরণ মন্ত্র

– নিশাত ইয়াসমিন

মানুষের জীবনে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হচ্ছে বিয়ে। আর বিয়ের পর সুখী দাম্পত্য জীবন কে না চায়? দাম্পত্য জীবনে ছোটখাটো অনেক ভুলভ্রান্তি হয়। ফলে দাম্পত্য জীবনে আসে অশান্তি। সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য এই ভুলগুলোকে আমাদের এড়িয়ে চলা উচিত। সুখী দাম্পত্য জীবন গড়তে মেয়েদের জন্য রইলো কিছু টিপস।

* স্বভাবতই আপনার স্বামী চান যে আপনি তাকে একটু বেশি ভালবাসবেন এবং যত্ন নিবেন। চেষ্টা করুন তাকে তার প্রতিদিনের টুকিটাকি কাজগুলোতে সাহায্য করতে। অফিস যাওয়ার আগে তার কাপড় ইস্ত্রী করে রাখলেন, অফিসে যাবার ব্যাগটা গুছিয়ে দিলেন ইত্যাদি। এতে আপনি ছোট হবেন না বরং আপনি যে তাকে ভালোবাসেন এবং তার প্রতি যত্নবান, সেটা তারই বহিঃপ্রকাশ ।

* স্বামীর চাওয়া পাওয়া বুঝতে চেষ্টা করুন। দেখবেন প্রথম প্রথম যদি বুঝতে কিছুটা সমস্যা হয় তাহলেও কিছু দিন পর পুরোপুরি বুঝে যাবেন তার পছন্দ অপছন্দ। এতে করে তার সাথে সবকিছু মানিয়ে নিতে বেশ সহজ হয়ে যাবে সময়ের ব্যবধানে।

* অনেক মেয়ের মধ্যেই একটি সাধারণ প্রবণতা দেখা যায়। সেটা হলো স্বামীকে আপাদমস্তক পাল্টে ফেলা। প্রথম প্রথম এসবে সে অনেক খুশি হলেও একসময় বিরক্ত হয়ে ওঠে। ফলে হিতে বিপরীত হয় প্রায় সবারই। সুতরাং তার টুকটাক খারাপ অভ্যাস ছাড়াতে চেষ্টা করলেও পুরো নতুন করে গড়বেন এরকম ভাবনা মাথায় না রাখাই ভালো। চেষ্টা করুন টুকটাক সমস্যাগুলো মানিয়ে নিতে।

* কারো প্রশংসা করতে পারা একটি বড়ো গুণ। সবাই সেটা পারে না। ছোটখাটো কাজের জন্যও তাকে ধন্যবাদ দিন। চা বানিয়ে খাওয়ালে, লন্ড্রি থেকে কাপড় নিয়ে আসলে বা রান্নার কাজে সাহায্য করলেও তাকে ধন্যবাদ দিন। দেখবেন তার কাজ করার আগ্রহ বেড়ে গেছে। পাশাপাশি তাকে খুশিও দেখাবে অনেকটা।

* ঘরের গীত বাইরে গাইবেন কেন? আপনাদের দুজনের ব্যাপার বাইরের কেউ জানবে কেন? বাইরে কারো সামনে কখনো স্বামীকে নিয়ে এমন কোন কথা বলবেন না যা শুনলে সে কষ্ট পাবে। অন্যের সামনে স্বামীকে নিয়ে আলোচনা করলেও সবসময় চেষ্টা করবেন তার ভালো দিকগুলো নিয়ে কথা বলার ।

* সুখী বৈবাহিক জীবনের সবচেয়ে বড় ভিত হলো বিশ্বাস। স্বামীকে বিশ্বাস করুন, সম্মান করুন, সহযোগিতা করুন তার কাজে, মন থেকে ভালবাসুন তাকে। দেখবেন বিনিময়ে আপনিও তার কাছ তাই পাচ্ছেন ।

* তিনি যেটা পছন্দ করেন সেটা করার চেষ্টা করুন আর যেটা তিনি অপছন্দ করেন সেটা না করার চেষ্টা করুন। তবে নেহাত তার মতের বিপরীতে যেতেই হলে যুক্তি দিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরুন। দেখবেন তিনিও আপনার মতামতের মূল্য দিচ্ছেন আস্তে আস্তে।

* যোগাযোগ সম্পর্কের অন্যতম মাধ্যম। দুজনের বন্ধুত্ব গাঢ় করুন। একে অন্যের সুখ দু:খের গল্প ভাগাভাগি করে নেবার চেষ্টা করুন। নিজের কথাই শুধু না বলে তার কথাও শুনুন। তাকে গুরুত্ব দিন।

* উপভোগ করতে শিখুন। যে কোনো বিশেষ দিনে তাকে ছোটোখাটো উপহার দিন। আবার তিনি যদি আপনার জন্য কোন বিশেষ উপহার নিয়ে আসেন তাহলে সেটা সাদরে গ্রহণ করুন। পছন্দ না হলেও কখনো সেটা বুঝতে দেয়া মোটেও উচিত নয়। এতে সঙ্গী মনে আঘাত পেতে পারেন।

* মানুষ মাত্রই ভুল করে। তাই আপনার সঙ্গী যদি কোন ভুল করেও বসে তাহলে চিৎকার করে রাজ্য মাথায় করবেন না। প্রথমে তার ভুলটা চিহ্নিত করুন। বুঝতে চেষ্টা করুন,ব্যাপারটিতে তার সম্পৃক্ততা কতটা। তারপর সেটা নিয়ে তার সাথে আলোচনা করুন। তাকে শান্তভাবে বোঝান। রেগে কখনো কোন সঠিক সিদ্ধান্তে আসা যায়না। সূত্র: ইন্টারনেট।

 

Categories
অনলাইন প্রকাশনা বিনোদন ভালবাসা/প্রণয়লীলা যৌন জ্ঞান ও সম্পর্ক সৃজনশীল প্রকাশনা

ব্যতিক্রমী-নির্লজ্জ উলঙ্গ বিয়ে !

 
“শুভ বিবাহ” শব্দটা শুনলেই যেনো সবার মনটা আনচান করে উঠে। বর-কণে, উৎসব-আনন্দ সহ অনেক কিছুই মিশে রয়েছে বিবাহ শব্দটির মধ্যে। বিয়ে একটি মানবিক বিষয়। মানুষ যখন প্রাপ্ত বয়স্ক হয়ে উঠে তখন সে তার জৈবিক চাহিদা মেটানো ও পারিবারিক কাঠামো তৈরি করার জন্য ধর্মীয় রীতি নীতি অনুযায়ী বিয়ে করে থাকে। মানুষের জন্ম লগ্ন থেকে শুরু করে আজ অবধি বিশ্বে বিয়ে প্রথা প্রচলিত আছে এবং থাকবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নিয়মে বিবাহ সম্পন্ন করা হয়। বিয়েকে ঘিরে উৎসব আমেজও বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকম। বিয়েতে সাধারণত বিয়ের দিন বর ও কণে উভয়ই ঐতিহ্যগত ও ধর্মীয়ভাবে ঝলমলে পোশাক পরিধান করে থাকে। বর্তমান আধুনিক সমাজে প্রত্যেকটা বিষয় পরিবর্তন হচ্ছে ঠিক তেমনি বিয়ের উৎসবেও এসেছে অনেক পরিবর্তন ও নতুনত্ব। আধুনিক এই বিশ্বে মানুষ সব কিছুতেই একটু ব্যতিক্রম খোজার চেষ্টা করে। ফলে পৃথিবী আধুনিক হচ্ছে নাকি অসভ্য হচ্ছে সেটাও একটি মূল্যবান প্রশ্ন। আপনারা হয়তো ভাবছেন বিয়ের অনুষ্ঠানে আবার সভ্য-অসভ্যের কথা আসছে কেন? আসছে এই কারণে যে, বিয়েতে ব্যতিক্রম আনার জন্য মানুষ সভ্যতার চূড়ান্ত সীমা লংঘন করে ফেলছে। আপনি কি কল্পনা করতে পারেন যে, একটি বিয়ে অনুষ্ঠান চলছে আর সেখানে বর কণে পুরো উলঙ্গ হয়ে বসে আছে। হয়তো এমন অবস্থা কল্পনাও করতে পারছেন না। কিন্তু এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে জ্যামাইকাতে। আর এই ঘটনাটি বেশ সমালোচনার জন্ম দিয়েছে বিশ্ব ব্যাপী।
২০১২ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারী তারিখে জ্যামাইকার সমুদ্র সৈকতে আয়োজন করা হয়েএক নগ্ন বিয়ের উৎসব। যে বিয়ের অনুষ্ঠানে বিয়ে পড়ানো হয় ৯ জোড়া বর কনেকে। যে অনুষ্ঠানটি ছিল খুবই রুচিহীন ও সমালোচনা মুখর। এ দিন বিয়ের অনুষ্ঠানে বর-কণের পায়ে দামি জুতা, হাতে রিস্টব্যান্ড এবং গলায় টাই আর নেকলেস থাকলেও তাদের শরীরে ছিল না কোনও পোশাক। শরীরে কোনও পোশাক না থাকলেও যথারীতি কনেদের অনেকের মাথায়ই ছিল ঘোমটা বা অবগুণ্ঠন! আবার দু-একজন কণে মুকুট বা হ্যাটও পরেছিলেন। উলঙ্গ বর-কনেরা যাতে সহজেই সবার চোখে পড়ে সেজন্য তাদের দেহে বাড়তি সৌন্দর্য ও উজ্জ্বলতা বাড়াতে তাদের শরীরে ব্যবহার করা হয়েছিল উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করার পেইন্ট! আর কনেদের হাতে লাগানো হয়েছিল লাল, সাদা আর হলুদ রংয়ের বাহারি ফুল।
নয়টি নগ্ন জুটির আলোচিত-সমালোচিত এ গণবিয়ে অনুষ্ঠিত হয় জামাইকার নেগ্রিল সমুদ্র সৈকতে উন্মুক্ত আকাশের নিচে। এমন নির্লজ্জ ও উদ্ভট নগ্ন বিয়ের আয়োজন করেছিল ‘দ্য হেডোনিজম টু রিসোর্ট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করার পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠানটি একই সঙ্গে বহন করেছে এই নয় জুটির নগ্ন হয়ে বিয়ে করার যাবতীয় খরচও।
নগ্ন বিয়ের এই অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে অংশগ্রহণকারীদের বাছাই করার জন্য ‘কেন তোমরা নগ্নতার মধ্য দিয়ে দাম্পত্য জীবন শুরু করতে চাও?’ এ প্রশ্নটিসহ আরও কয়েকটি প্রশ্ন করা হয়। এসব প্রশ্নের সঠিক উত্তরদাতার মধ্য থেকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয় ১০০ জুটিকে। পরে এদের মধ্য থেকে বাছাই করা হয় ভাগ্যবান সেরা ১০ জুটিকে। যাদের প্রদান করা হয় নগ্ন বিয়ের বিশেষ সুযোগ। আনন্দের বিষয় এই যে, অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার জন্য মোট ১০টি জুটি নির্বাচন করা হলেও পরে একটি জুটির শুভবুদ্ধির উদয় হলে তারা এই অনুষ্ঠান থেকে তাদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। ফলে অনুষ্ঠানটি নয়টি জুটিকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
নগ্ন বিয়েতে অংশ গ্রহণ করে এই নয় জুটি নিজেদেরকে সৌভাগ্যবান ভেবেছে। অবশ্য বিশ্বের বিবেকবান মানুষরা ভেবেছে তারাই সমাজের সবচেয়ে নিকৃষ্ট জীব। এই বিয়েকে ঘিরে জ্যামাইকা সহ সমগ্র বিশ্বে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিবেকবান মানুষেরা আশা করেন আধুনিকতা বা ব্যতিক্রমতার নামে ভবিষ্যতে কেউ যেনো আর কোনও দিন এই ধরনের নির্লজ্জ কাজে অংশ গ্রহণ বা আয়োজন না করে।
– (সুমন)
Categories
অনলাইন প্রকাশনা বিনোদন ভালবাসা/প্রণয়লীলা যৌন জ্ঞান ও সম্পর্ক সৃজনশীল প্রকাশনা

দাম্পত্য জীবন

– সৈয়দ মুজতবা আলী

কথায় কথায় বিবাহিত জীবন নিয়ে আলোচনা। সায়েব বললে, ‘লন্ডনে একবার স্বামীদের এক আড়াই মাইল লম্বা প্রসেশন হয়েছিল, স্ত্রীদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাবার জন্য। প্রসেশনের মাথায় ছিল এক পাঁচ ফুট লম্বা টিঙটিঙে হাড্ডি-সার ছোকরা। হঠাৎ বলা নেই, কওয়া নেই ছ’ফুট লম্বা ইয়া লাশ এক ঔরত্ দুমদুম করে তার দিকে এগিয়ে গিয়ে তার হাত ধরে এক হ্যাঁচকা টান দিয়ে বললে, “তুমি এখানে কেন, তুমি তো আমাকে ডরাও না। চলো বাড়ি।” সুড়সুড় করে ছোকরা চলে গেল সেই খাণ্ডার বউয়ের পিছনে পিছনে।’
আমার চীনা বন্ধুটি আদব-মাফিক মিষ্টি মৌরী হাসি হাসলেন। সায়েব খুশী হয়ে চলে গেল।
গুটিকয়েক শুকনো নিমপাতা টেবিলের ওপর ঝরে পড়ল। বন্ধু তাই দিয়ে টেবিলক্লথের উপর আল্পনা সাজাতে সাজাতে বললেন, ‘কী গল্প! শুনে হাসির চেয়ে কান্না পায় বেশী।’ তারপর চোখ বন্ধ করে বললেন—
‘চীনা গুণী আচার্য সু তাঁর প্রামাণিক শাস্ত্রগ্রন্থে লিখেছেন, একদা চীন দেশের পেপিং শহরে অত্যাচার-জর্জরিত স্বামীরা এক মহতী সভার আহ্বান করেন। সভার উদ্দেশ্য, কি প্রকারে নিপীড়িত স্বামী-কুলকে তাঁদের খাণ্ডার খাণ্ডার গৃহিণীদের হাত থেকে উদ্ধার করা যায়?
‘সভাপতির সম্মানিত আসনে বসানো হল সবচেয়ে জাঁদরেল দাড়িওলা অধ্যাপক মাওলীকে। ঝাড়া ষাটটি বছর তিনি তাঁর দজ্জাল গিন্নীর হাতে অশেষ অত্যাচারে ভুগেছেন সেকথা সকলেরই জানা ছিল।
‘ওজস্বিনী ভাষায় গম্ভীর কণ্ঠে বজ্রনির্ঘোষে বক্তার পর বক্তা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আপন আপন অভিজ্ঞতা বলে যেতে লাগলেন। স্ত্রীলোকের অত্যাচারে দেশ গেল, ঐতিহ্য গেল, ধর্ম গেল, সব গেল, চীন দেশ হটেনটটের মুল্লুকে পরিণত হতে চলল, এর একটা প্রতিকার করতেই হবে। ধন-প্রাণ সর্বস্ব দিয়ে এ অত্যাচার ঠেকাতে হবে। এস ভাই, এক জোট হয়ে—
‘এমন সময় বাড়ির দারোয়ান হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এসে বলল, “হুজুুররা এবার আসুন। আপনাদের গিন্নীরা কি করে এ সভার খবর পেয়ে ঝাঁটা, ছেঁড়া জুতো, ভাঙা ছাতা ইত্যাদি যাবতীয় মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এদিকে ধাওয়া করে আসছে।”
‘যেই না শোনা, আর যাবে কোথায়? জানলা দিয়ে, পেছনের দরজা দিয়ে, এমন কি ছাত ফুটো করে, দেয়াল কানা করে দে ছুট, দে ছুট! তিন সেকেণ্ডে মিটিঙ সাফ—বিলকুল ঠাণ্ডা!
‘কেবলমাত্র সভাপতি বসে আছেন সেই শান্ত গম্ভীর মুখ নিয়ে—তিনি বিন্দুমাত্র বিচলিত হন নি। দারোয়ান তাঁর কাছে ছুটে গিয়ে বারবার প্রণাম করে বলল, “হুজুর যে সাহস দেখাচ্ছেন তাঁর সামনে চেঙ্গিস খানও তসলীম ঠুকতেন, কিন্তু এ তো সাহস নয়, এ হচ্ছে আত্মহৎযার শামিল। গৃহিণীদের প্রসেশনে সক্কলের পয়লা রয়েছেন আপনারই স্ত্রী। এখনো সময় আছে। আমি আপনাকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাচ্ছি।” সভাপতি তবু চুপ। তখন দারোয়ান তাঁকে তুলে ধরতে গিয়ে দেখে তাঁর সর্বাঙ্গ ঠাণ্ডা। হার্ট ফেল করে মারা গিয়েছেন।’
আচার্য উ থামলেন। আমি উচ্ছ্বসিত হয়ে ‘সাধু সাধু’, ‘শাবাশ’, ‘শাবাশ’ বললুম। করতালি দিয়ে নিবেদন করলুম, ‘এ একটা গল্পের মত গল্প বটে।’ আচার্য উ বললেন, ‘এ বিষয়ে ভারতীয় আপ্তবাক্য কি?’
চোখ বন্ধ করে আল্লা রসুকলকে স্মরণ করলুম, পীর দরবেশ গুরু ধর্ম কেউই বাদ পড়লেন না। শেষটায় মৌলা আলীর দয়া হল।
হাত জোড় করে বরজলালের মত ক্ষীণ কণ্ঠে ইমন কল্যাণ ধরলুম।
শ্রীমন্মহারাজ রাজাধিরাজ দেবেন্দ্রবিজয় মুখ কালি করে একদিন বসে আছেন ঘরের অন্ধকার কোণে। খবর পেয়ে প্রধানমন্ত্রী এসে শুধালেন মহারাজের কুশল তো? মহারাজ নড়েন না। মন্ত্রী বিস্তর পীড়াপীড়ি করাতে হঠাৎ খ্যাঁক খ্যাঁক করে উঠলেন, ঐ রাণীটা—ওঃ কি দজ্জাল, কি খাণ্ডার! বাপরে বাপ! দেখলেই আমার বুকের রক্ত হিম হয়ে আসে।’
মন্ত্রীর যেন বুক থেকে হিমালয় নেমে গেল। বললেন, ‘ওঃ! আমি ভাবি আর কিছু। তাতে অতো বিচলিত হচ্ছেন কেন মহারাজ! বউকে তো সবাই ডরায়—আম্মো ডরাই। তাই বলে তো আর কেউ এ রকমধারা গুম হয়ে বসে থাকে না।’
রাজা বললেন, ‘ঐ তুমি ফের আরেকখানা গুল ছাড়লে।’ মন্ত্রী বললেন, ‘আমি প্রমাণ করতে পারি।’ রাজা বললেন, ‘ধর বাজি।’ ‘কত মহারাজ?’ ‘দশ লাখ?’ ‘দশ লাখ।’
পরদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরে ঢোল পেটানোর সঙ্গে সঙ্গে হুকুম জারি হল—বিষ্যুত্বার বেলা পাঁচটায় শহরের তাবত বিবাহিত পুরুষ যেন শহরের দেয়ালের বাইরে জমায়েত হয়; মহারাজ তাদের কাছ থেকে একটি বিষয় জানতে চান।
লোকে লোকারণ্য। মধ্যিখানে মাচাঙ—তার উপরে মহারাজ আর মন্ত্রী। মন্ত্রী চেঁচিয়ে বললেন, ‘মহারাজ জানতে চান তোমরা তোমাদের বউকে ডরাও কি না। তাই তাঁর হয়ে আমি হুকুম দিচ্ছি যারা বউকে ডরাও তারা পাহাড়ের দিকে সরে যাও আর যারা ডরাও না তারা যাও নদীর দিকে।’
যেই না বলা অমনি হুড়মুড় করে, বাঘের সামনে পড়লে গোরুর পালের মতো, কালবৈশাখীর সামনে শুকনো পলাশ পাতার মতো সবাই ধাওয়া করলে পাহাড়ের দিকে, একে অন্যকে পিষে, দলে, থেঁতলে—তিন সেকেণ্ডের ভিতর পাহাড়ের গা ভর্তি।
বউকে না-ডরানোর দিক বিলকুল ফর্সা। না, ভুল বললুম। মাত্র একটি রোগা টিঙটিঙে লোক সেই বিরাট মধ্যিখানে লিকলিক করছে।
রাজা তো অবাক। ব্যাপারটা যে এ-রকম দাঁড়াবে তিনি আর কল্পনাও করতে পারেননি। মন্ত্রীকে বললেন, ‘তুমি বাজি জিতলে। এই নাও দশ লখা হার।’ মন্ত্রী বললেন, ‘দাঁড়ান মহারাজ। ওই যে একটা লোক রয়ে গেছে।’ মন্ত্রী তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকলেন। কাছে এলে বললেন, ‘তুমি যে বড় ওদিকে দাঁড়িয়ে? বউকে ডরাও না বুঝি?’
লোকটা কাঁপতে কাঁপতে কাঁদো কাঁদো হয়ে বললে, “অতশত বুঝি নে, হুজুর। এখানে আসার সময় বউ আমাকে ধমকে দিয়ে বলেছিল, ‘যেদিকে ভিড় সেখানে যেয়ো না।’ তাই আমি ওদিকে যাই নি।”
আচার্য উ আমাকে আলিঙ্গন করে বললেন, ‘ভারতবর্ষেরই জিৎ। তোমার গল্প যেন বাঘিনী বউ। আমার গল্প ভয়ে পালাল।’
তবু আমার মনে সন্দ রয়ে গিয়েছে। রসিক পাঠক, তুমি বলতে পারো কোন গল্পটাকে শিরোপা দি।

সৈয়দ মুজতবা আলী: আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম রম্যরচয়িতা। তাঁর বিখ্যাত রম্যগ্রন্থ পঞ্চতন্ত্র ও ময়ূরকণ্ঠী। এ ছাড়া দেশে বিদেশে, শবনম, চাচা কাহিনীও পাঠকমহলে ব্যাপক জনপ্রিয়। জন্ম-১৯০৪, মৃত্যু-১৯৭৪।

সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, মে ০৩, ২০১০

Categories
অনলাইন প্রকাশনা গবেষণামূলক প্রকাশনা বিনোদন ভালবাসা/প্রণয়লীলা সৃজনশীল প্রকাশনা

যে জেলার মেয়ে বিয়ের জন্য ভালো

১) যশোর-খুলনার মেয়েরা অনেক সুন্দরী। যশোরের মেয়েরা কুটনামিতে খুব ওস্তাদ হয়, প্রচুর মিথ্যা কথা বলে। আর শ্বশুরবাড়ীর লোকজন সহ্যই করতে পারেনা। পরকিয়াতেও ওস্তাদ যশোরের মেয়েরা। (আংশিক ব্লগারদের মতামত।)
২) চট্টগ্রামের মেয়েরা বাইরের জেলাদের ছেলেদের ব্যাপারে আগ্রহী নয়। কিছুটা কনজারভেটিভ।

৩) সিলেটী মেয়েরা পর্দানশীল বেশী। সিলেটি মেয়েরা সাধারণত বাইরের জেলা তে বিয়ে করতে যায় না। আত্মীয়দের মধ্যে থাকতে পছন্দ করে। সিলেটী মেয়েরা ছ্যাচড়া। (আংশিক ব্লগারের মতামত।)

) পুরার ঢাকার মেয়েরা খুবই দিলখোশ। ঢাকার অন্য এলাকার মেয়েরা জগাখিচুরি

৫) খুলনার মেয়েরা স্বামী অন্ত প্রাণ। খুলনার মেয়েরা নাকি ফ্যামিলির ব্যাপারে একটু সিরিয়াস টাইপের হয় ৷(আংশিক ব্লগারের মতামত।)

৬) উত্তর বঙের মেয়েরা কোমলমতী হয় এবং বেকুব ও আনক্রিয়েটিভ ।(আংশিক ব্লগারের মতামত।)

৭) বরিশালের মেয়েরা একটু ঝগড়াটে, ভালো রাঁধুনী, ন্যাচালার সুন্দরী , সংসারী এবং স্বামীভক্ত। কিন্তু বরিশাল থেকে সাবধান, যতই সুন্দর হোক, জীবন বরবাদ করে দেবে। (ব্লগারদের মতামত।)

৮) ময়মনসিংহের মেয়েরা একটু বোকাসোকা, কেউবা বদমাইশ।কেউ কেউ স্মার্ট এবং ডেয়ারিং (আংশিক ব্লগারের মতামত।)

৯) সিরাজগন্জের মেয়েরা ভালো, যদি শান্তিতে ঘর করতে চান। (ব্লগারদের মতামত।)

১০) বগুড়ার মেয়েরা ঝাল। (ব্লগারদের মতামত।)

১১) কুষ্টিয়ার মেয়েরা অহংকারী, কিন্তু সেই তুলনায় গুনবতী নয়। মননশীল, রুচিসম্পন্ন। যাকে ভালবাসে সত্যিকারের ভালবাসে, কোন রাখঢাক নাই।

১২) বি বাড়িয়ার মেয়েরা পলটিবাজ কিন্তু পতিভক্ত ও সংসারী (ব্লগারদের মতামত।)

১৩)  রাজশাহীর মেয়েরা একটু লুজ । (ব্লগারদের মতামত।)

১৪) পাবনার মেয়েরা কুটনা হয়ে থাকে।(ব্লগারদের মতামত।)

১৫) জামালপুরের মেয়েরা বেশি স্মার্ট এবং ডেয়ারিং।এই জেলায় সুন্দরীদের ঘনত্ব বেশি।(ব্লগারদের মতামত।)

১৬) নোয়াখালী: বাবা-মা অথবা আত্মীয়-স্বজনদেরকে ভুলতে চাইলে নোয়াখালীর মেয়েদের তুলনা নেই । বেশির ভাগ মেয়ে কারো কথার নিছে থাকতে চায়না । এরা চরম কুটনা হয়। তবে তারা শশুড়বাড়ির জন্য করতে চাইলে নিজের সব দিয়ে করে, না করলে নাই!(ব্লগারদের মতামত।)

১৭) ফরিদপুরের মেয়েরা চোরা স্বভাবের।ওদের মত কুটিল প্যাচের মানুষ খুব কমই হয়।(ব্লগারদের মতামত।)

১৮) কুমিল্লার মেয়েরা শ্বশুরবাড়ির মানুষদের পছন্দ করেনা।কুমিল্লার মেয়েরা সুন্দরী, অনেক দায়িত্বশীল, তবে সংসারে প্রভাব বিস্তার করতে বেশি পছন্দ করে।(ব্লগারদের মতামত।)

১৯) টাংগাইলের মেয়েরা খুব ভাল হয়, বান্ধুবী হিসেবেতো বটেই, পাত্রী হিসেবেও। .এ অঞ্চলের মাইয়াগুলো দুনিয়ার বজ্জাত… তবে বান্ধবী হিসাবে ভালু..একটু দিলখোলা টাইপের (ব্লগারদের মতামত।)

২০) মাদারিপুরের মেয়েরা খুবই কিউট, খুব খরচে, জামাইয়ের পকেট ফাকা করতে উস্তাদ।(ব্লগারদের মতামত।)

২১) চাঁদপুরের মেয়েরা মানুষ হিসেবে খুবই ভালো, অথিতিপরায়াণ।তাদের সরল ভালবাসায় আপনি মুগ্ধ হবেন। আর শ্বশুরবাড়ী চাঁদপুর হলে ইলিশ নিয়ে চিন্তা করতে হবে না । আর আসল কথা হলো চাঁদপুরে লোকের মাথায় প্যাচ জিলাপীর থেকেও বেশী। চাদপুরের মেয়েরা ছেলে ঘুরাতে ওস্তাদ। (ব্লগারদের মতামত।)

২২) দিনাজপুরের মেয়েরা যে খুব সুন্দরী হয়।(ব্লগারদের মতামত।)

২৩) চাপাই নবাবগঞ্জের মানুষ সরল মনের অধিকারী। (ব্লগারদের মতামত।)

২৪) গাজীপুরের মেয়েরা খুব ই ভাল, মিশুক এবং রসিক ।এখাঙ্কার মেয়েরা জেদী, লাজুক ,মিডিয়াম সুন্দর, মিডিয়াম স্মার্ট এবং সংস্কৃতি মনা।(ব্লগারদের মতামত।)

২৫)  নরসিংদীর মেয়েরা উড়াল পঙ্খীর মতো তাদের মন আর চলার ঢং । (ব্লগারদের মতামত।)

২৬) কিশোরগঞ্জের মেয়েরা একটু বোকাসোকা আর ডেয়ারিং প্রকৃতির। মিশুক, বন্ধুপাগল বা বন্ধুপ্রেমী হয়। স্বামী ভক্ত হয় তবে এমনও হতে পারে যে সারাজীবন বউয়ের দ্বারা নিগৃহীত হওয়া; অসম্ভব কিছু না।

আপনাদের মতামত থাকলে কমেন্ট অপশনে লিখতে পারেন…

Categories
অনলাইন প্রকাশনা ভালবাসা/প্রণয়লীলা যৌন জ্ঞান ও সম্পর্ক

বিশ্বের কয়েকটি দেশের অদ্ভুত যৌন আইন

–Ramon

সেক্স অর্থাৎ কামজ বিষয়টি স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি বিষয়। যদিও কোনো কোনো দেশে এই জৈবিক চাহিদাকে সহজ ভাবে নেয়া হয়েছে আবার কোনো কোনো দেশে নেয়া হয়েছে ঠিক তার উল্টো। সেক্স নিয়ে যাতে বাড়াবাড়ি না হয় সে জন্য কঠোর আইন প্রনয়নও করা হয়েছে বেশ কয়েকটি দেশে। তাছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও এই জৈবিক চাহিদাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আলাদা আলাদা বিধি-নিষেধ জারী করা হয়েছে। এরপরও কোনো কোনো দেশের আইন প্রণেতাগণ, ভিনদেশের ধর্মীয় আলেম, চিন্তাবিদগণ কামজ বিষয়টি আরো বেশি নিয়ন্ত্রণ করার নামে যে সমস্ত উদ্ভট আইন ও বিধি প্রনয়ন করেছে যা রীতিমত হাস্যকর। বিশ্বের এমনি কয়েকটি দেশের আইন প্রনেতা ও ধর্মীয় আলেমদ্বারা সৃষ্টি বিরোধী ও অসঙ্গতিপূর্ণ কামজ আইন নিয়ে আজ সন্মানিত ব্লগারদের সাথে শেয়ার করছি ।

১। যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য নয় কিন্তু তার অধীনে, প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্হিত এমন একটি দ্বীপের নাম গুয়াম। এই গুয়াম দ্বীপটিতে আইনবলে কুমারী মেয়েদের বিয়ে নিষিদ্ধ। সেখানে কোনো কুমারী মেয়ে বিয়ের পিড়িতে বসতে চাইলে আইনুযায়ী অবস্যই তাকে কুমারীত্ব বিসর্জন দেয়ার জন্য কোনো পুরুষের কাছে যেতে হয়। এখানে এমন পেশাদার পুরুষ পাওয়া যায় যারা কুমারী মেয়েদের কুমারীত্ব নাশ করার বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করে থাকে।
২।যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের আইনে কুমারী মেয়েদের সাথে সহবাস নিষিদ্ধ। এমনকি বিয়ের পর বাসর রাতেও স্বামী তার কুমারী বধুর সাথে সহবাস করতে পারবে না। তবে কুমারী মেয়ে কিভাবে তার কুমারীত্ব বিসর্জন দিবে এ বিষয়ে কোনো আইনী ব্যাখ্যা দেয়া হয় নাই যেমনটি দেয়া হয়েছে গুয়ামের কুমারী মেয়েদের বেলায়।
৩। লেবাননের পুরুষদের গৃহপালিত প্রাণীর সাথে যৌন সর্ম্পক সৃষ্টি করতে আইনগত কোনো বাধা নাই। তবে শর্ত হচ্ছে যে প্রাণীর সাথে যৌন সর্ম্পক সৃষ্টি করবে সেটি অবস্যই মাদী প্রজাতির হতে হবে অন্যথায় আইন ভঙ্গের কারণে তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড হতে পারে।

৪।মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে মেষ বা ভেড়া সাথে যৌন সর্ম্পক স্হাপন করাকে বৈধতা দেয়া আছে। তবে যে ভেড়ার সাথে যৌন সর্ম্পক স্হাপন করা হবে কোনো অবস্হায় তার গোস্ত খাওয়া চলবে না। এই বিষয়ে ফতোয়ায় বলা হয়েছে ” ভেড়ার সাথে যৌন র্চ্চার পর তার গোস্তু ভোজন করা হবে মারাত্মক গুনাহ “।
৫।বাহরাইনের আইনে স্ত্রীরোগ বিষরদগণ স্ত্রীলোকদের যৌনাঙ্গ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারবে। কিন্তু উত্তেজনার বশত কোনো দুর্ঘটনা না ঘটতে পারে সে জন্য আইন প্রণেতাগণ ডাক্তাদের সরাসরি যৌনাঙ্গ দেখা নিষিদ্ধ করে দিয়ে সে ক্ষেত্রে আয়না ব্যবহার করে প্রতিবিম্বের মাধ্যমে রুগীর যৌনাঙ্গ দেখা ও পরীক্ষা করার অনুমতি দেয়।

৬। ইসলাম ধর্মে মৃত ব্যক্তির জননেন্দ্রিয় দেখা নিষেধ। এমনকি যারা মৃত ব্যাক্তির গোসল ও দাফন কার্যে অংশ নিবে তাদের বেলায়ও একই শর্ত থাকবে। আর এই কারণে গোসল দেয়ার সময় লাশের জননেন্দ্রিয় এর উপর ইটের টুকরা কিংবা কাঠের টুকরা রেখে গোসল দেয়া হয়।
৭।কলম্বিয়ার কালী অঞ্চলের আইনে মেয়েদের বিয়ের পর স্বামীর সাথে তার বাসর রাত মায়ের উপস্হিতিতেই যাপন করতে হয়।
৮। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় বৈদুতিক বাতি জ্বালিয়ে সহবাস করা আইনত দন্ডনীয়।
৯। যুক্তরাষ্ট্রের উতাহ রাজ্যে এম্বুলেন্স এর ভিতর মেয়েদের যৌন সম্ভোগ করা নিষিদ্ধ। যদি কোনো মেয়ে এ কাজ করতে গিয়ে ধরা পড়ে বা প্রমানিত হয় তাহলে আইনবলে সেই মেয়ের ছবিসহ সকল কুকীর্তি স্হানীয় পত্রিকায়
প্রকাশিত হয় পক্ষান্তরে পুরুষের বেলায় হচ্ছে “সাত খুন মাফ”।
১০। হংকং এ কামজ বিষয়ে ধর্মীয় বিধি-নিষেধ নাই । তবে কোনো স্ত্রী যদি মনে করে তার স্বামী তাকে প্রতারিত করেছে বা সে যদি প্রমান পায় তার স্বামী একজন ব্যভিচারী তখন সে কেবল তার নিজ হস্তে স্বামীকে খুন করতে পারবে পক্ষান্তরে একই অপরাধ যদি স্ত্রী করে থাকে তাহলে যে কোনো উপায়ে স্বামী তাকে খুন করতে পারবে।
১১। বলিভিয়ার সান্তা ক্রুজ এর আইনে একই সময়ে মেয়ে এবং তার মায়ের সাথে পুরুষের যৌন সম্ভোগ অবৈধ করা হয়েছে ।

১২ । কাপড়ের ভেতর দিয়ে লিঙ্গ খাড়া অবস্হায় দৃষ্টিগোচর হয় এ ধরনের পোষাক পরিধান যুক্তরাষ্টের আরিজোনা এবং উইসকনসিন এ নিষিদ্ধ করা হয়েছে ।
১৩। ইন্দোনেশিয়ায় হস্তমৈথুন করা একটি বিশাল অপরাধ এবং এই অপরাধ করার জন্য শাস্তি মৃত্যুদন্ড ।
১৪। যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় মাছের সাথে পুরুষের যৌন সম্পর্ক করা অবৈধ ।
১৫। সিঙ্গাপুরে ওরাল সেক্স সম্পূর্ণ অবৈধ যদি পরবর্তিতে সেটি যোনি পথে সঙ্গম না হয় ।

সূত্রঃ ইন্টারনেট

Categories
অনলাইন প্রকাশনা চিকিত্সাশাস্ত্র এবং বিজ্ঞান যৌন জ্ঞান ও সম্পর্ক

নিরাপদ যৌনজীবন ও আমরা

ডা. মোঃ জাহিদুল ইসলাম

এই সংসার রঙ্গমঞ্চে আবির্ভূত হয়ে মানুষ রচনা করতে চায় ছোট একটা সুখের নীড়। সুখের নীড় রচনায় যারা সার্থক, জীবনের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছা তাদের জন্য অনেক সহজ, সমান্তরাল এবং ছন্দময়। ছন্দময় জীবনে তাদের চলার পথে ছড়ানো থাকে রাশি রাশি গোলাপ। একই দৃষ্টিভঙ্গিতে যারা ব্যর্থ, তাদের জীবন চলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাস। নিয়তির এই নিষ্ঠুর পরিহাস দলিতা কালভূজঙ্গিনীর ন্যায় প্রবেশ করে মানুষের আজন্ম বাসনায় সাজানো নন্দন কাননে। এই ব্যর্থ মানুষগুলোর জীবনের পথচলা সংগ্রামী। এরা পরিণতির সমাপ্তে এসে, শোক বৃশ্চিক বিষে জর্জরিত ও ক্ষতবিক্ষত হয়ে দাঁড়ায় মরণ সমুদ্রের বেলাভূমিতে।

জীবনের এই পথচলার ভিন্নতর মূলে অনেক কারণের মধ্যে যৌনতাকে একটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে ধরা যায়। এবার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের মাধ্যমে সুখ নীড় রচনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে নিরাপদ, সার্থক ও সফল যৌন জীবনের গুরুত্ব কতটা সেদিকে দৃষ্টি প্রদান করি। প্রতিটি মানুষকে সৃষ্টিকর্তা প্রদান করেছেন যৌন ক্ষমতা। সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত এই ক্ষমতা সম্পর্কে সচেতনতা, জ্ঞান এবং এর ব্যবহার ও অপব্যবহারের ওপর নির্ভর করছে নিরাপদ, সার্থক ও সফল যৌন জীবন। কিভাবে একটা সুন্দর সাজানো আলোকবর্তিকাময় জীবন নষ্ট হয়, কেন একজন মানুষ সুখের বাসর সাজাতে গিয়ে উপবিষ্ট হয় মরণ সমুদ্রের বেলাভূমিতে, কেন স্বপ্নীল সাজানো জীবন এলোমেলো হয় এসব প্রশ্নের বাস্তবভিত্তিক কিছু যুক্তি এই লেখার মধ্যে খুঁজে পাবেন। ‘নিরাপদ যৌন জীবন ও আমরা’ হেডলাইনে এ লেখার মধ্যে আমরা চেষ্টা করব আপনার বিবেককে নাড়া দিতে এবং সাথে সংকলিত করব আপনার সমস্যার সমাধান দিতে, যে সমাধানের মধ্যে খুঁজে পাবেন চিকিৎসা বিজ্ঞানের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিগত নির্দেশনা।

যৌন অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ কৈশোর থেকেই শুরু হয়। কৈশোরের শুরু থেকে যৌবনে পদার্পণের পূর্বক্ষণ পর্যন্ত একটা সীমাহীন দুরন্তপনা ছেলেমেয়েদের হৃদয়কে উদ্বেলিত করে। এ সময় চারদিকে ছড়ানো যৌন অনুভূতিমূলক যা কিছু সামনে উপস্থিত হয়, তা অধীর আগ্রহে গ্রহণ করে ছেলেমেয়েরা। নগ্ন ছবি ও নগ্ন কাহিনীমূলক ম্যাগাজিন, ইন্টারনেটে নগ্ন ছবি উপভোগ করা থেকে শুরু করে বর্তমানে বিজ্ঞাপনগুলো পর্যন্ত যৌন অনুভূতিসম্পন্ন। ফলে কৈশোরের শুরু থেকেই যৌনতার মধ্যে নিজেকে জড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। ‘মৈথুন’ প্রক্রিয়ায় যৌন স্বাদ গ্রহণ শুরু হয় সেই সুদূর কৈশোর থেকে। কেউ ইচড়ে পাকা খারাপ বন্ধুর সহযোগিতায় অন্ধকার গলি পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এভাবে জীবনের পথচলা থেকে কৈশোরের সোনালী সূর্য পশ্চিম দিগন্তে ঢলে পড়ে, পূর্ব দিগন্তে উদিত হয় সম্ভাবনাময় যৌবন। কৈশোরের যৌন অনুভূতি থেকে যারা ভালো কিছু গ্রহণ করেছিল যৌবনে এসে তাদের পথভ্রষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে অনেক কম। প্রতিপক্ষরা যৌবনে পদার্পণের সাথে আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। নিরাপদ যৌন জীবনের পথ থেকে তারা নিক্ষিপ্ত হয়ে পৌঁছে যায় সেই অন্ধ গলিতে। আর যারা নিজেকে সংযত রাখতে সক্ষম হয়, তারা অন্তত ওই অন্ধ গলির সঙ্গী হয় না। যারা ওই অন্ধ গলিতে ডুব দেয়, তাদের অনেকেই সিফিলিস ও গনোরিয়ার মতো যৌন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে এবং কোনো এক সময় তারা যৌন অক্ষমতার শিকারও হয়।

যৌবনের প্রারম্ভ থেকে এমনকি কৈশোর থেকেও শুরু হয় কর্মজীবনের। তবে কর্মজীবনের শুরুটা নির্ভর করে পারিবারিক, অর্থনৈতিক সচ্ছলতার ওপর। যৌবনের প্রারম্ভ থেকে এবং কর্মজীবনের ঠিক উর্বর মুহূর্তে বিয়ের ঘণ্টা বেজে ওঠে। পুরুষের জীবনের অর্ধাঙ্গিনী হয়ে আসে এক নারী, আর বিয়ের মাধ্যমেই নারী খুঁজে পায় তার আরাধনার বস্তু, নারী জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পর্কটা। বিয়ের ঠিক পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত নিরাপদ যৌন জীবনভিত্তিক যতটুকু শিক্ষা একটা ছেলে বা মেয়ে গ্রহণ করে থাকে, ওই সময় পর্যন্ত যৌনভিত্তিক মূল্যবোধের অনুভূতি তাদের মধ্যে যেভাবে করায়ত্ত হয় তার বহিঃপ্রকাশ শুরু হয় বিয়ের দিন থেকে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের যৌন বিজ্ঞানীগণ মানব জীবনের বাসর রাতকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। অনেক আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন এই রাত। বাসর রাত থেকে তার পরবর্তী জীবন কেমন কাটবে, জীবন ধারা কোন গতিতে প্রবাহিত হবে- এ ধরনের অনেক বিষয় এই রাত থেকেই পরিবর্তিত রূপ নেয়। সুখের নীড় রচনার সূচনার রাত, এই বাসর রাত আবার মরণ সমুদ্রের বেলাভূমিতে উপনীত হওয়ার রাতও। তাই বিয়ে এবং বাসর রাত দুটি বিষয়ে প্রয়োজন পূর্ব প্রস্তুতি। নিরাপদ যৌন জীবন গঠনে এ দুটি বিষয়কে কোনোভাবেই ছোট করে দেখা ঠিক নয়। পাত্র-পাত্রী নির্বাচন থেকে বাসর রাত পর্যন্ত নানাবিধ পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ অত্যাবশ্যকীয়, যা পরবর্তী জীবনের স্বপ্নীল সম্ভাবনাগুলোর রূপায়নে এক অদৃশ্য শক্তির মতো কাজ করে। পাত্র-পাত্রী নির্বাচন থেকে বাসর রাত পর্যন্ত পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণে ব্যক্তিভেদে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে, তবে নিম্নলিখিত দিকগুলোর প্রতি গুরুত্বারোপে অবশ্যই কিছু সুফল পাওয়া যাবে পাত্র-পাত্রী নির্বাচন থেকে।

বাসর রাত পর্যন্ত করণীয় বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করুন এবং আপনার সমস্যাবলী অনুযায়ী প্রদেয় সমাধান আপনি নিজেই খুঁজে বের করুন এবং সমমুখে শক্তিশালী মানসিকতা এবং সচেতনতার সাথে অগ্রসর হোন।

পাত্র-পাত্রী নির্বাচন বিষয়ক
প্রেমঘটিত সম্পর্ক তৈরির মাধ্যমে যদি আপনি বিয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকেন, সেক্ষেত্রে আপনার প্রতি আমাদের অনুরোধ, আপনি আপনার সুদূরপ্রসারী চিন্তা-চেতনা এবং অনুভূতির প্রয়োগ করে, একে অপরকে যাচাই করবেন। যাচাই-বাছাইয়ের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে আপনার হাতে, যেহেতু আপনাদের সম্পর্ক প্রেমঘটিত। যদি আপনার বহুগামিতার অভ্যাস থাকে সেটাকে এক পর্যায়ে পরিহার করবেন। তবে উক্ত বহুগামিতায় অভ্যস্ত থাকাকালীন সময়ে সবচেয়ে পছন্দের অনুভূতিগুলো আপনি আপনার আপনজনের ওপর প্রয়োগ করবেন। ইতিবাচক ফলাফল আপনাকে পেতেই হবে, তাহলে পরবর্তীকাল বা জীবন নিঃসন্দেহে গোলাপ ছড়ানো পথের মতো মনে হবে। ইতিবাচক ফলাফল না পেলে খুব কৌশলে কেটে পড়ুন, প্রেম ভালোবাসার শেষ পর্বটা কিন্তু দৈহিক কামনা-বাসনার পর্ব। তাই সব ভালো তার শেষ ভালো যার। নিরাপদ যৌন জীবন গঠনে মনঃ দৈহিক উভয় বিষয়েই গুরুত্বপূর্ণ। তাই আপনি যদি বহুগামী হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার ঘুমন্ত অনুভূতিগুলো আপনাকে স্মরণ করাবে সঙ্গী-সঙ্গিনীর সাথে মিল-অমিলের দিকগুলো। অবশেষে সিদ্ধান্ত একান্তই আপনার ব্যক্তিগত। যৌন জীবনে আপনি যদি বাস্তব জ্ঞানহীন কোনো নতুন মানুষ হয়ে থাকেন। যদি আপনি সেই ভাগ্যবান/ভাগ্যবতী হয়ে থাকেন দুজনাই প্রথম। সেক্ষেত্রে আপনি আপনার সঙ্গিনীকে কতটুকু তৃপ্তি দিতে সক্ষম হয়েছেন সেটা সঠিকভাবে উপলব্ধি করার চেষ্টা করুন এবং সঙ্গিনী হিসেবে আপনার দেয়া আদর-সোহাগে আপনার সঙ্গীটি কতটুকু তৃপ্ত তা বিচার-বিশ্লেষণ করুন। একে অপরের এই আন্তরীণ বিশ্লেষণ থেকে আপনারা বুঝতে পারবেন আপনাদের ত্রুটিজনিত দিকগুলো সম্পর্কে এবং পরিশেষে প্রয়োজনে সমস্যার সমাধানমূলক ব্যবস্থাটি বেছে নিন। ধরে নিন আপনাদের বাসর রাতের অভিজ্ঞতার বিচার-বিশ্লেষণে আপনি একজন পুরুষ হিসেবে আপনার একান্ত আপন এবং জীবনের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত বস্তুটিকে যতটুকু তৃপ্তি দিয়েছেন, সেটা যথেষ্ট নয়। আপনি বাসর রাতে চরমভাবে পুলকিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন, ব্যর্থ হয়েছেন আপনি চরম আনন্দ দিতে। এক্ষেত্রে বাসর রাতের এই তিক্ত অভিজ্ঞতা আপনাকে ভেতরে যন্ত্রণা দেবে। প্লিজ ঘাবড়াবেন না। মনের যন্ত্রণা ঝেড়ে মুছে কয়েকদিন সঙ্গিনীর সাথে আরো নিবিড় হতে চেষ্টা করুন এবং তার সহযোগিতা আরো বেশি প্রার্থনা করুন। আপনার মানসিক শক্তি যদি সবল হয়, সেক্ষেত্রে ক্রমাগত উন্নতি নিজেই উপলব্ধি করবেন। যদি আপনি ভাবাবেগের মানুষ হয়ে থাকেন এবং দুর্বল মানসিকতা আপনাকে যদি বেশি করে ব্যথাতুর করে তোলে তাহলে অবস্থার ক্রম অবনতি দেখবেন। এ অবস্থায় চিকিৎসা শাস্ত্রের দিকে নিজেকে এগিয়ে দিন। আপনি নিঃসন্দেহে ভালো ফল লাভ করবেন।

নিম্নের সমস্যাগুলো বিচার-বিশ্লেষণ করলেই আপনার জন্য সমাধান গ্রহণ সঠিক হবে
(ক) আপনার লিঙ্গের আকার-আকৃতি নিয়ে বিশেষ ভাবনার কিছু নেই। কারণ আড়াই ইঞ্চির লিঙ্গের একজন পুরুষও ইচ্ছা করলে তার সঙ্গিনীকে চরম তৃপ্তি দিতে পারে।

(খ) আপনার লিঙ্গোত্থান হয় কি-না? যদি লিঙ্গোত্থানে সমস্যা থাকে এবং উত্থিত হলেও আবার লিঙ্গ ঢলে পড়ে এবং আপনার লিঙ্গ যদি মজবুত, শক্তিশালী আকার ধারণ না করে, তাহলে অবশ্যই আপনাকে ইরেকটাইল ডিসফাংশনজনিত চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। এতে আপনার সমস্যা দূর হবে এবং মনোবল সুদৃঢ় হবে। এছাড়া সঙ্গিনীর চরম তৃপ্তি দেয়ার পূর্বেই বীর্যপাত ঘটে যায়, কারো কারো যৌন আকাঙ্ক্ষা অত্যন্ত কম। অর্থাৎ মনের ভেতরে জাগ্রত ইচ্ছাশক্তিই আপনার দৈহিক উত্তেজনার উৎস। দুর্বল মানসিকতা এবং Hormonal insufficiency জনিত কারণে এই ইচ্ছাশক্তির অবনতি ঘটে থাকে। এক্ষেত্রেও যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ অত্যাবশ্যকীয়।

(গ) আপনি এমন একজন যৌন অক্ষম ব্যক্তি হতে পারেন, মূলত আপনার সবই ঠিক আছে কিন্তু কোনো অজানা আশঙ্কা, মানসিক ভীতি আপনার হার্টবিট বাড়িয়ে দেয়। মনস্তাত্ত্বিক এই অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে আপনার লিঙ্গোত্থানে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। এক্ষেত্রে আপনার চিকিৎসা প্রয়োজন।

(ঘ) কৈশোরে এবং যৌবনে হস্তমৈথুন, স্বপ্নদোষ এবং বিপথগামিতাজনিত অনুশোচনাবোধও আপনার বর্তমান নিরাপদ যৌন জীবনের অন্তরায় হিসেবে কাজ করতে পারে। এক্ষেত্রে উপদেশ হলো অতীত নিয়ে ভাবা যাবে না, অতীতে এ ধরনের ঘটনা সবার জীবনেই কমবেশি ঘটে থাকে। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তাই মন থেকে এগুলো ঝেড়ে-মুছে পবিত্র মনে নতুন যাত্রা শুরু করুন।